Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – সৌভিক চক্রবর্তী

    সৌভিক চক্রবর্তী এক পাতা গল্প667 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    লাপিস লাজুলি – ১৫

    ॥ পনেরো ॥

    ফেব্রুয়ারি, বর্তমান কাল

    রিসেপশন থেকে ফোন করার ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই চলে এলেন তাকি আল তুসি। সমাদর করে তাঁকে নিজেদের ঘরে নিয়ে এল অপালা আর সঞ্জয়। চা, কফি ইত্যাদি প্রত্যাখ্যান করে সোফায় বসতে বসতে তিনি বললেন, ‘কেন আমি এত দ্রুত তোমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম সেটা পরে বলছি। তার আগে বলো, তোমরা কেউ আরবি পড়তে পারো?’

    অপালা বলল, ‘আমি পারি স্যার।’

    প্রশংসার চোখে অপালার দিকে তাকালেন তাকি সাহেব। সুদৃশ্য চামড়ার ব্যাগ থেকে একটা ফাইল বার করে এগিয়ে দিলেন, ‘এটা পড়ো।’

    ফাইলটা হাতে নিয়ে অপালা বলল, ‘এটা কী স্যার?’

    ‘গিয়াসুদ্দিন আল তুসির নাম শুনেছ?’

    সঞ্জয় নেতিবাচক মাথা নাড়ার আগেই অপালা বলল, ‘গিয়াসুদ্দিন আল তুসি মানে থার্টিন্থ সেঞ্চুরির বিখ্যাত দার্শনিক, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, গণিতবিদ? যিনি বায়তুল হিকমাহ-র প্রধান গ্রন্থাগারিক ছিলেন?’

    ‘রাইট,’ মাথা নাড়লেন তাকি সাহেব, ‘যেটা পড়তে দিলাম সেটা গিয়াসুদ্দিন আল তুসির লেখা দিনলিপির কিছুটা অংশ। আমি ছবি তুলে স্ক্যান করে রেখেছি। এটা পড়তে পড়তে তুমি বার বার চমকে উঠবে। শিউরে উঠবে। অনেক প্রশ্ন ভিড় করে আসবে তোমার মাথায়। কিন্তু পড়া শেষ হলে তবেই আমি তোমার প্রশ্নগুলোর উত্তর দেব। তার আগে নয়। কেমন?’

    ঘাড় নাড়ল অপালা। সঞ্জয় বলল, ‘তুমি একটু অনুবাদ করে করে পড়ো প্লিজ। আমিও শুনতে চাই।’

    মাথা নেড়ে ফাইলের পাতা ওলটাল অপালা। পড়তে শুরু করল।

    ‘খবর পেলাম গতকাল হালাকু খাঁ মারা গেছে। কারও মৃত্যুসংবাদে আনন্দ পাওয়া অনুচিত আমি জানি। কিন্তু আমার আনন্দ হচ্ছে। আর শুধু তাই নয়, কী ভাবে এই আনন্দ প্রকাশ করব আমি বুঝতে পারছি না। হালাকু খাঁ-র মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে আমার প্রতিশোধের আগুনও নিভে গেল। প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসা শুধু ধ্বংসই ডেকে আনে এ কথা আমিও বিশ্বাস করি। কিন্তু কিছু কিছু সময় প্রতিহিংসাই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। যেমন আমাকে রেখেছিল। আমার কাজ শেষ। এ বার আমি নিশ্চিন্তে মরতে পারব।

    ‘মরণোত্তর ভাগ্য সবার হয় না। মানুষ আমাকে ভুলে যাবে কিন্তু ইতিহাস হালাকু খাঁ-কে মনে রাখবে। দুনিয়ার সমস্ত শুভবুদ্ধিশীল মানুষ তাকে ঘৃণা করবে। যে ভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ মেরেছিল হালাকু আর যে ভাবে পুড়িয়ে দিয়েছিল বাইত আল হিকমাহ তাতে তার ঘৃণাই প্রাপ্য, তবে একটা কথা আমিও স্বীকার করি, হালাকু খাঁ-র বিশালতাকে কিছুতেই অগ্রাহ্য করা যায় না। তার ভয়াবহতা নর্ডিকদের লোকি, গ্রিকদের এরিস বা ভারতের রাবণের থেকে কোনও অংশে কম নয়।

    ‘শেষ অবধি হালাকু বুঝতে পেরেছিল কি না জানি না তবে তার মৃত্যুর জন্য আমি দায়ী। সে কথা লিখে রাখা দরকার বলে আমি মনে করি। চিরকাল ইতিহাসকে সংরক্ষণ করেছি। তাই নিজে যে ইতিহাস রচনার অংশ হলাম তা লিখে না রাখলে আল্লাহ আমায় ক্ষমা করবেন না। তবে এই লেখা আমি লুকিয়ে রেখে যাব। পরম করুণাময় আল্লাহ যদি কখনো চান এই লেখা কারও হাতে পড়ুক, তা হলে সেও এই ইতিহাসের অংশীদার হবে।

    ‘বাইত আল হিকমাহ জ্বালিয়ে দেওয়ার পরে আমাকে, খলিফা আল মুস্তাসিনের মেজো ছেলে আবদুল রহমানকে আর কারা সোঙ্কোরের ছেলে মনসুরকে আল রুসাফা-র সমাধিক্ষেত্রে পুঁতে দিয়ে মহামূল্যবান, মহাশক্তিধর আয়ুধটি নিয়ে হালাকু চলে যায়। ভেবেছিলাম মরেই যাব। ভেবেছিলাম, এত দিন ধরে যা আগলে রাখলাম তাই দিয়ে হালাকু বাগদাদের মতো বাকি দুনিয়াও ধ্বংস করে দেবে কিন্তু আমাদের বাঁচিয়ে দিল হালাকুর বাহিনীরই এক সৈন্য। তার নাম তোগো বেগ। তোগো বেগের সঙ্গে আমি, আবদুল আর মনসুর পারস্যে চলে যাই। সেখানে গিয়ে আত্মগোপন করি। তখন আমার জীবনের দু’টি মাত্র উদ্দেশ্য। হালাকুর সর্বনাশ করা এবং তার কাছ থেকে মহাশক্তিধর আয়ুধটি উদ্ধার করা।’

    অপালা চোখ তুলে তাকাল তাকি সাহেবের দিকে। সঞ্জয় বলে উঠল, ‘স্যার এই মহাশক্তিধর আয়ুধ বলতে কি উনি…’

    কথা কেটে তাকি সাহেব বললেন, ‘আমি আগেই বলেছি, পুরোটা পড়া শেষ হলেই আমি তোমাদের প্রশ্নের উত্তর দেব। অপালা, পড়ো।’

    ‘হুম,’ আবার পড়তে শুরু করল অপালা।

    ‘বাগদাদ দখল করার পর হালাকু রওনা দেয় দামেস্ক-এর উদ্দেশে।’

    ‘সঞ্জয়, দামেস্ক মানে এখনকার সিরিয়া,’ পড়া থামিয়ে বলল অপালা। পদার্থবিদ্যার ছাত্রটির ইতিহাসের এত খুঁটিনাটি জানা সম্ভব না সেটা সব সময় মনে রাখে সে। তার পরে আবার শুরু করল।

    ‘এই সময় হালাকু হাত মেলায় মুসলমানদের আর এক শত্রু খ্রিস্টান ক্রুসেডারসের সঙ্গে। ১২৬০ সালে মোঙ্গোল আর খ্রিস্টান ক্রুসেডারদের মিলিত বাহিনী দামেস্ক আক্রমণ করে। দামেস্ককেও শেষ করে দেয় হালাকু খাঁ। দামেস্ক-এর শাসক নাসির ইউসুফকে হত্যা করে সে। এর পরে সে এগোতে থাকে কায়রোর দিকে। প্যালেস্টাইন হয়ে কায়রো যাওয়ার পথেই হালাকু তার ভাই মোংকে খাঁ-র মৃত্যুসংবাদ পায়। বিশ হাজার সৈন্য রেখে বাকি সৈন্য নিয়ে হালাকু তখনই দেশের দিকে রওনা দেয় আর আমার কাছে এসে যায় বহু প্রতীক্ষিত সুযোগটা। সময় নষ্ট না করে আমি কায়রোর উদ্দেশে রওনা দিই। কায়রোর সুলতান কুতুজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। তাঁকে বোঝাতে সক্ষম হই যে হালাকুকে আটকাতে গেলে খ্রিস্টানদের সঙ্গে সন্ধি করা ছাড়া উপায় নেই। দফায় দফায় বৈঠক করি খ্রিস্টানদের সঙ্গেও। খ্রিস্টানরা বরাবরের বুদ্ধিমান। ওরা বুঝতে পেরেছিল, মোঙ্গোলরা বিশ্বজয়ের নেশায় বুঁদ হয়ে আছে। এর পরে ওরা ইউরোপের দিকেই আসবে। তাই শত্রুতা থাকলেও মুসলমানদের সঙ্গে সন্ধি করতে রাজি হয় তারা। হালাকু খাঁ যে বিশ হাজার সৈন্য রেখে দেশে ফিরে গেছিল তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মুসলমান আর খ্রিস্টানদের যৌথ বাহিনী। এই প্রথম মোঙ্গোলরা পরাজিত হয়। ইতিমধ্যে আর একটা কাজ করি আমি। ইয়োচির ছেলে বিরকাই খাঁ-র সঙ্গে দেখা করি।’

    ‘সরি, একটু ইন্টারাপ্ট করলাম,’ বলে উঠল সঞ্জয়, ‘এই ইয়োচি আর বিরকাই খাঁ কে?’

    অপালা বলল, ‘চেঙ্গিজ খাঁ-র চার ছেলে। ইয়োচি, ওগেদেই, চাঘতাই আর তলুই। বিরকাই বা বেরকে যেমন ইয়োচি খাঁ-র ছেলে তেমনই তলুইয়ের এক ছেলে হল হালাকু। হিসেব মতো হালাকু আর বিরকাই খুড়তুতো ভাই। বুঝেছ?’

    ঘাড় নাড়ল সঞ্জয়। অপালা ফের পড়া শুরু করল গিয়াসুদ্দিনের দিনলিপি।

    ‘এই মোঙ্গোলদের মধ্যে বিরকাই ছিল একটু আলাদা ধরনের। লেখাপড়ার সমঝদার ছিল। ইসলামের সম্প্রীতির বাণী তাকে আকৃষ্ট করেছিল। ১২৫০ নাগাদ সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। স্বভাবতই তার সেনাবাহিনীর বেশির ভাগই ছিল মুসলমান। আমি বিরকাই খাঁ-কে গিয়ে বলি, পারলে একমাত্র আপনিই মুসলমানদের রক্ষা করতে পারবেন। আমি সুলতান কুতুজের সঙ্গে বিরকাই খাঁ-র দেখা করাই। সুলতান কুতুজও তার সাহায্য চান। বিরকাই খাঁ আমাদের কথা দেয়, বাগদাদের বদলা নেবে।

    ‘এই করতে করতে পাঁচ পাঁচটা বছর কেটে যায়। এসে পড়ে ১২৬৩। এর মধ্যে আমি আরও দুটো কাজ করে ফেলেছি। মহাশক্তিধর আয়ুধটিকে কী ভাবে ব্যবহার করতে হয় তা জানার জন্য শুরু করেছি তন্ত্রচর্চা আর আত্মস্থ করে ফেলেছি সুশ্রুত। সুশ্রুত ভারতের এক প্রাতঃস্মরণীয় চিকিৎসক। তবে চিকিৎসক না বলে আমি তাঁকে জাদুকর বলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করব। তিনি অদ্ভুত এক পদ্ধতিতে মানুষের ছিন্ন, কর্তিত অঙ্গ জুড়ে দিতে পারতেন। এমনকী বদলে দিতে পারতেন মুখাবয়বও। এক মানুষকে অন্য মানুষের রূপ দিতে পারতেন। আমি মনসুরের ওপরে এই বিদ্যা প্রয়োগ করি এবং তাকে এক মোঙ্গোল যুবকে রূপান্তরিত করি। দেলবে বেগ নাম নিয়ে সে হালাকু খাঁ-র সেনাবাহিনীতে যোগ দেয় এবং কর্মনৈপুণ্য দেখিয়ে অচিরেই হালাকুর প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠে।

    ‘ইতিমধ্যে ঘনিয়ে উঠেছিল যুদ্ধের মেঘ। বিরকাই খাঁ হালাকু খাঁ-র বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং ১২৬৩-তে বিরকাইয়ের হাতে হালাকুর পরাজয় হয়। এই প্রথম বার মোঙ্গোলদের নিজেদের মধ্যে বিরোধ হল। যুদ্ধে হেরে হালাকু খ্রিস্টানদের কাছে ছুটে যায়। সন্ধি করে নতুন জোট বানাতে চায়। কিন্তু খ্রিস্টানরা তাকে প্রত্যাখ্যান করে। সেটা ওরা করতই কারণ ওদের চেয়ে ধুরন্ধর জাত আর দুনিয়ায় দুটো হয় না। আমি হয়তো বেঁচে থাকব না কিন্তু আজ ভবিষ্যৎবাণী করে যাচ্ছি, এক দিন এই খ্রিস্টানরাই গোটা দুনিয়ার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠবে। যাই হোক, খ্রিস্টানদের কাছে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরে পারস্যে এসে থিতু হয় হালাকু খাঁ। কিন্তু আর সে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। প্রথমত: কারা সোঙ্কোরের তলোয়ারের আঘাত তার কাঁধে তৈরি করেছিল এক অচিরাক্য ক্ষত আর দ্বিতীয়ত: যুদ্ধে হেরে যাওয়াটা হালাকু মেনেই নিতে পারেনি। চিরকাল জিতে আসা হালাকু একেবারে মুষড়ে পড়েছিল। এই সময় হালাকু নিজের সবটুকু নিয়োজিত করে দিয়েছিল তন্ত্রবিদ্যা চর্চায়। এক আরব বেদুইনকে সে গুরু ধরেছিল। ইতিমধ্যে মহাশক্তিশালী আয়ুধটির পরিচয় পেয়ে গিয়েছিল সে। সে বুঝতে পেরেছিল, আয়ুধটি ব্যবহার করতে পারলেই গোটা দুনিয়া তার পদানত হবে। কিন্তু সেই সুযোগ আমি তাকে দিইনি। শিক্ষা সমাপ্ত হওয়ার আগেই মনসুর ওরফে দেলবে বেগ আয়ুধটি চুরি করে আমার কাছে নিয়ে আসে। সেটা ৪ ফেব্রুয়ারি ১২৬৫। এই শোক হালাকু সহ্য করতে পারেনি। চার দিন পরে ৮ ফেব্রুয়ারি অবশেষে তার মৃত্যু হল।

    ‘মনসুর আমাকে প্রশ্ন করেছিল, ‘যে বেদুইনকে হালাকু গুরু ধরেছিল সে তো আয়ুধের প্রয়োগ জানত। তা হলে হালাকু আয়ুধটিকে কাজে লাগাল না কেন?’

    ‘আমি বলেছিলাম, ‘যার অভীষ্ট তাকেই পূরণ করতে হয়। বিশ্বজয় করতে গেলে হালাকুকেই আয়ুধটি ব্যবহার করতে হতো। ওর গুরু করলে ওর গুরুর অভীষ্ট পূরণ হত। হালাকুর তাতে কোনও লাভ হতো না।’

    ‘তবে এই ক’বছরে আমি শিখে ফেলেছিলাম আয়ুধটি ব্যবহারের গুপ্তবিদ্যা। আয়ত্ত করেছিলাম প্রাচীন এক তন্ত্র। যাতে দেবী ইনান্নাকে জাগিয়ে তোলা যায়। ইযুজ্জু ইনান্না। লোভ হয়েছিল আমার। মনে হয়েছিল, আবার বাইত আল হিকমাহ গড়ে তুলি। তার পর নিজেকে সংযত করেছিলাম। নিয়তিকে বদলানো যায় না। যা হওয়ার সেটাই হবে। যা রবার সেটাই রবে। নিজেকে প্রশ্ন করেছিলাম, এ বার এই মহাশক্তিধর আয়ুধটি নিয়ে আমি কী করব? অন্তর থেকে আমার আল্লাহ আমায় উত্তর দিয়েছিলেন। আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম, এত দিন ধরে যেমন ভাবে একে লুকিয়ে রেখেছিলাম, সে ভাবেই আবার লুকিয়ে রাখব। তবে হ্যাঁ, ইতিহাসকে মুছে ফেলা পাপ। তাই আমি সূত্র রেখে যাব। কিন্তু এই সূত্র উদ্ধারের একমাত্র চাবি বুদ্ধিমত্তা। তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর মেধা ছাড়া এই সূত্র অর্থহীন প্রলাপ ছাড়া আর কিচ্ছু নয়। যে বোঝার সে ঠিক বুঝবে।

    ৯ ফেব্রুয়ারি, ১২৬৫
    মারাগেহ মানমন্দির, পারস্য।’

    .

    এখানেই লেখা শেষ। পড়া শেষ করে অবাক হয়ে তাকি সাহেবের দিকে তাকিয়ে রইল অপালা। সঞ্জয়ও হতবাক। দু’জনের কারওরই বাক্যস্ফুর্তি হল না কিছুক্ষণ। নিস্তব্ধতা ভেঙে তাকি সাহেব বলে উঠলেন, ‘তোমাদের মনে যে অজস্র প্রশ্ন ভিড় করছে আমি বুঝতে পারছি। আমি মোটামুটি আন্দাজ করতে পারছি প্রশ্নগুলো কী হতে পারে। তোমাদের প্রথম দুটো প্রশ্ন, এক, লেখাটা কি সত্যি আর দুই, সূত্রটা কী? ঠিক তো?’

    দু’জনেই একসঙ্গে ঘাড় নাড়ল। তাকি সাহেব বললেন, ‘দ্বিতীয় উত্তরটা পরে দিচ্ছি। আগে প্রথম থেকে শুরু করি। আমি কয়েকটা কথা বলে নিলে আশা করি তোমরা তোমাদের আরও বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবে। প্রথম কথা হল, লেখাটা সত্যি। কারণ আসল লেখাটার আমি কার্বন ডেটিং টেস্ট করিয়েছিলাম। এই লেখাটা আমি খুঁজে পাই মসুল লাইব্রেরির ধ্বংসাবশেষ থেকে। আইসিস মসুল লাইব্রেরি পুড়িয়ে দিয়েছিল। ২০১৫ সালের শেষে আমি লাইব্রেরির ধ্বংসাবশেষ ঘাঁটতে ঘাঁটতে মাটির নীচের এক গোপন কক্ষ খুঁজে পাই। যেখানে অনেক প্রাচীন দস্তাবেজের মধ্যে আচমকাই পেয়ে যাই গিয়াসুদ্দিনের এই দিনলিপি। এ বার ওটা কী করে মসুল লাইব্রেরিতে এল তা আমি বলতে পারব না। তবে আমার ধারণা, নানা মানুষের হাত ঘুরেই ওটা ওখানে এসেছিল। এখন কথা হচ্ছে, আমি প্রথমে তোমাদের এই কথাগুলো বলিনি কেন? কারণ আমি তোমাদের বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। পরে মিস্টার বেকের কাছ থেকে যখন মিস্টার ভাদুড়ির কথা শুনলাম তখন মনে হল তোমাদের বিশ্বাস করা যায়। আমি যতটা জানি তোমাদের আমি জানাতেই পারি। তবে এই দিনলিপির কথা মিস্টার বেকও জানেন না। আশা করি তোমরাও ওঁকে কিছু বলবে না। এ আমার একান্ত ব্যক্তিগত কালেকশন। তোমাদের বন্ধু বিপদে না পড়লে এ আমি কখনোই তোমাদের দেখাতাম না।’

    একটানা কথাগুলো বলে দম নিলেন তাকি সাহেব। অপালা বলল, ‘ওই মহাশক্তিধর আয়ুধ তো দেবী ইনান্নার দণ্ড। স্যার, তার মানে ইনান্নার দণ্ড সত্যি ছিল?’

    ‘ছিল নয়। এখনও কেউ নিয়ে না নিলে গিয়াসুদ্দিন যেখানে লুকিয়ে রেখে গিয়েছেন সেখানেই আছে।’

    ‘এখনও কেউ নিয়ে না নিলে মানে’, চমকে উঠল অপালা, ‘এ কথা কেন বললেন স্যার?’

    একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাকি সাহেব বললেন, ‘কারণ আসল লেখাটা চুরি গেছে।’

    ‘কী,’ আর্তনাদ করে উঠল দু’জনেই।

    ‘হ্যাঁ। আমার পোর্টার ছিল একটি লোক, তার নাম মুস্তাফা। একমাত্র সেই এই দিনলিপির কথা জানত। এক দিন আসল লেখাটা নিয়ে সে চম্পট দেয়। ভাগ্যিস আমি কপি করে রেখেছিলাম।’

    ‘আপনি পুলিশে জানাননি,’ প্রশ্ন করল সঞ্জয়।

    ‘নাহ। হিসেব মতো এ তো সরকারি সম্পত্তি। নিজের কাছে রাখার অভিযোগে আমারও জেল হতে পারত। আসলে ইতিহাসের লোক তো আমি। অমন একটা জিনিস নিজে আবিষ্কার করার লোভ সামলাতে পারিনি। মুস্তাফার থেকে সাবধান হওয়ার দরকার ছিল কিন্তু সেটা আমি শুরুতে বুঝিনি। পরে অবশ্য আমি অনেক খুঁজেছি তাকে। কিন্তু সে যেন স্রেফ ভ্যানিশ হয়ে গেছে। তবে আশার কথা একটাই, সূত্রটা যখন আমি এখনও উদ্ধার করতে পারিনি, আশা করি সেও পারেনি। মুস্তাফা চুরি বিদ্যেয় পারদর্শী হলেও অন্য বিদ্যে তার তেমন ছিল না।’

    আশার আলো জ্বলে উঠল দু’জনের মুখেই। সঞ্জয় বলল, ‘আপনার কাছে সূত্রটা আছে স্যার?’

    ‘আছে,’ ব্যাগ থেকে আর একটা ফাইল বার করলেন তাকি সাহেব। এগিয়ে দিলেন অপালার দিকে, ‘দেখো।’

    আবার আরবিতে লেখা দিনলিপির একটি পাতা। অপালা জোরে জোরে পড়ল।

    ‘সূত্রটিকে তিন ভাগে ভাঙলাম। প্রথম সূত্রটি রাখলাম উরুকের ইনান্না মন্দিরে। দেবীর দণ্ড উদ্ধার করতে গেলে প্রথমে দেবীর কাছেই আসতে হবে। সূত্রটি খুঁজে পাওয়াটাই এই ধাঁধার প্রথম ধাপ। দ্বিতীয় ধাপে সূত্রটির অর্থ উদ্ধার করতে পারলে তবেই তৃতীয় ধাপের সন্ধান পাওয়া যাবে। আবার বলি, সূত্র উদ্ধারের একমাত্র চাবিকাঠি বুদ্ধিমত্তা।’

    কাগজটা ফেরত দিয়ে অপালা বলল, ‘উরুকের ইনান্না মন্দির তো সেই কবেই ধ্বংস হয়ে গেছে। তা হলে প্রথম সূত্রটা?’

    একটু চুপ করে থেকে তাকি সাহেব বললেন, ‘প্রথম ধাপটা আমি পার করতে পেরেছি।’

    বিস্ময় ঝরে পড়ল অপালার গলা থেকে, ‘কী ভাবে স্যার? সূত্রটা কী?’

    এই লেখা পড়ার পরে আমার মনেও তোমার মতো একই প্রশ্ন জেগেছিল, ‘উরুকের ইনান্না মন্দির তো কবেই ধ্বংস হয়ে গেছে। উরুকের এখনকার নাম ওয়ারকা। ইনান্না মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ ওখানকার বিখ্যাত আর্কিওলজিক্যাল সাইট। তা হলে? কী ভাবে পাব প্রথম সূত্রের হদিশ? ভাবতে শুরু করলাম। মনে পড়ল, ১৯১২ সালে একটা জার্মান আর্কিওলজিক্যাল এজেন্সি উরুকে খননকার্য শুরু করে। কিউনিফর্ম লিপিতে লেখা প্রচুর ট্যাবলেট মানে মাটির টালি পাওয়া যায় সেখান থেকে। কিছু নতুন, বেশিরভাগই পুরনো। পুরোনোগুলো খ্রিস্টের জন্মের প্রায় ৩২০০ বছর আগের। সেই সব ট্যাবলেটের বেশিরভাগই চলে যায় ইউরোপের মিউজিয়ামগুলোতে। খুব অল্প কিছুই পড়ে আছে মধ্যপ্রাচ্যে। যাই হোক, ইনান্না মন্দির থেকে উদ্ধার হওয়া তুলনামূলক নতুন ট্যাবলেটগুলোর একটা তালিকা বানাতে শুরু করি আর এই ট্যাবলেটগুলো যে যে মিউজিয়ামে আছে সেখানে গিয়ে হাজির হই। এই করতে করতেই ব্রিটিশ মিউজিয়ামে আমি একটা অদ্ভুত ট্যাবলেটের সন্ধান পাই যেটা বাকি সব ক’টার থেকে আলাদা। কিউনিফর্ম লিপিতেই লেখা কিন্তু কার্বন ডেটিং বলছে ওটার সময়কাল ১৩০০ থেকে ১৪০০ খ্রিস্টাব্দ এবং একমাত্র ট্যাবলেট যেটা হালাকু খাঁ-কে নিয়ে লেখা।’

    ‘কী বলছেন স্যার!’

    ‘হ্যাঁ অপালা। আসলে সবাই প্রাচীন মেসোপটেমিয়া নিয়ে এত ব্যস্ত যে এই তুলনামূলক নবীন ট্যাবলেটটায় আর আলাদা করে নজর দেয়নি। আর দেবেই বা কী করে? ওদের কাছে তো আর গিয়াসুদ্দিনের দিনলিপি নেই। উনি লিখে গিয়েছেন, সূত্রটাকে খুঁজে বার করাই একটা চ্যালেঞ্জ। আসলে উনি জানতেন অনেক ট্যাবলেটের ভিড়ে এই ট্যাবলেটটা হারিয়ে যাবে। ভূয়োদর্শী মানুষ ছিলেন তো।’

    ‘তার মানে তো এটা দাঁড়াচ্ছে যে অনেক আগেই গিয়াসুদ্দিন উরুকের ইনান্না মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছিলেন!’

    ‘পেয়েছিলেন তো বটেই আর আমার বিশ্বাস এটাই গিয়াসুদ্দিনের দেওয়া সূত্রের প্রথম ধাপ। প্রথম চ্যালেঞ্জটা আমরা জিতেছি।’

    অধীর গলায় অপালা বলল, ‘ট্যাবলেটটার ছবি আছে আপনার কাছে?’

    ‘আছে। এই ফাইলেই আছে। পাতা ওলটাও।’

    পাতা ওলটাতেই একটা মাটির ট্যাবলেটের ছবি। সঞ্জয়ও ঝুঁকে পড়ল। ছোটোবেলায় ইতিহাস বইতে পড়েছিল কিউনিফর্ম বা কীলকাকৃতি লিপি। মেসোপটেমিয়ার মানুষরা এই লিপিতে লিখত। ঠিক তেমনই খোঁচা খোঁচা কীসব লেখা। তাকি সাহেব অপালার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘কিউনিফর্ম লিপির পাঠোদ্ধার করতে পারো?’

    অপালা মাথা নাড়ল, ‘একটু-একটু।’

    সঞ্জয় চুপ করে থাকতে পারল না। অবাক গলায় বলে ফেলল, ‘তুমি এটাও পারো!’

    সঞ্জয়ের চোখে মুগ্ধতা ঝরে পড়ছে। সেটা তাকি সাহেবরও চোখ এড়াল না। মৃদু হেসে তিনি বললেন, ‘অপালা, সঞ্জয় শুধু তোমার প্রেমিক নয় ফ্যানও বটে।’

    লজ্জা পাওয়াটা সঞ্জয়ের একচেটিয়া কিন্তু এবার উলটোটা হল। অপালাই বরং একটু লজ্জা পেয়ে বলল, ‘ওর কথা ছাড়ুন স্যার। আমার তো প্রাচীন সাহিত্য নিয়েই কাজ। ইলিনয় ইউনিভার্সিটিতে অ্যানশিয়েন্ট ল্যাঙ্গুয়েজের একটা কোর্স হয়। আমি সেখানেই কয়েকটা পুরোনো ভাষা আর লিপি নিয়ে একটু-আধটু চর্চা করেছি। আর সঞ্জয়ের স্বভাব আমাকে মাথায় তোলা। ও নিজেও কিন্তু মারাত্মক ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট। ফিজিক্সে ডক্টরেট। আইআইটি-র নাম শুনেছেন কি না জানি না, আমাদের দেশের উজ্জ্বলতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। ও ওখানকার ফ্যাকাল্টি।’

    উজ্জ্বল হয়ে উঠল তাকি সাহেবের চোখ দুটো, ‘আমি বুঝেছি তোমরা দু’জনেই খুব ব্রিলিয়ান্ট আর সেই জন্যই তো তোমাদের কাছে ছুটে এসেছি। আল্লাহ চান দেবীর দণ্ড খুঁজে পাওয়া যাক আর তাই জন্যই তোমাদের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। দেবীর দণ্ড হারিয়ে যাওয়াটাও যেমন নিয়তি ছিল, এটাও নিয়তি। সব আগে থেকে ঠিক হয়ে আছে। সত্যি বলতে আমি আজ তোমাদের কাছে সাহায্য চাইতেই এসেছি। দেখো একজন হিস্টোরিয়ান হিসেবে আমি চাই এই প্রাচীন আর্টিফ্যাক্টটা খুঁজে পাওয়া যাক আর সেটা খোঁজার কৃতিত্ব আমারই হোক। তাই আমি গিয়াসুদ্দিনের ডায়েরির কথা এত দিন কাউকে বলিনি। আর তোমরা তোমাদের বন্ধুকে বাঁচানোর জন্য দণ্ডটা পেতে চাও। মোট কথা, আমাদের ইন্টেনশন সেম। কিন্তু এই ট্যাবলেটের পাঠোদ্ধার করতে পারলেও এর মর্মোদ্ধার করতে আমি এখনও পারিনি। পাঁচ বছর ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে যে ভাবে গিয়াসুদ্দিন বার বার বলছেন, সূত্র উদ্ধারের একমাত্র চাবিকাঠি বুদ্ধিমত্তা তাতে মনে হচ্ছে পারলে তোমরাই পারবে।’

    সঞ্জয় বলল, ‘আপনি আমাদের ওপর এতটা ভরসা কী করে করছেন স্যার?’

    ‘দুটো কারণে। প্রথমটা আগেই বললাম, নিয়তি। নয়তো এত বছর পরে আমিই কেন গিয়াসুদ্দিনের লেখা খুঁজে পাব আর তোমরাই বা এত লোক থাকতে আমার কাছে আসবে কেন? দ্বিতীয় কারণটা আরও জোরালো। এত দিন ধরে যারাই এই দণ্ড খুঁজেছে তাদের উদ্দেশ্য ছিল হয় ক্ষমতা পাওয়া ব্ল্যাকপাল নিবেদন

    নয়তো অ্যাকাডেমিক কৌতূহল চরিতার্থ করা। যেমন হালাকু খাঁ-র প্রথমটা। দ্বিতীয়টা আমার। কিন্তু আমার মনে হয় এই প্রথম বার কেউ এই দণ্ড খুঁজছে কারও জীবন বাঁচানোর জন্য। এই খোঁজের জোরটাই যে আলাদা।’

    দীর্ঘশ্বাস ফেলে অপালা বলল, ‘তাই যেন হয় স্যার, আমরা যেন সফল হই। বলুন স্যার, কী লেখা আছে এতে?’

    ব্যাগ থেকে ল্যামিনেট করা আর একটা কাগজ বার করলেন তাকি সাহেব, ‘দেখো। আমি কিউনিফর্ম থেকে আরবিতে ট্রান্সলেট করে লিখেছি।’

    মন দিয়ে কাগজটা দেখতে লাগল অপালা আর সঞ্জয় দু’জনেই। অপালা মানে বলে দিতে লাগল, ‘একদম ওপরে লেখা আছে হালাকু খাঁ। তার পরে এক-এক করে হালাকু খাঁ সম্পর্কে ন’টা বিশেষণ। বিশেষণ না বলে গালাগালি বলাই ভালো। প্রথমে ‘হিরছুন’ অর্থাৎ লোভী। দু’নম্বরে ‘গোনাহগার’ অর্থাৎ পাপী। তিন নম্বরে ‘ঘেইউর’ অর্থাৎ ঈর্ষাকাতর। চার নম্বরে ‘মুতাতিশুন লিলদিমা’ অর্থাৎ রক্তপিপাসু। পাঁচ নম্বরে ‘আশয়তানু’ অর্থাৎ শয়তান। ছয়ে আবার ‘ঘেইউর’। সাতে ‘আলকুইয়ামা’ অর্থাৎ সর্বনাশা। আট নম্বরে ‘তামসিক’ অর্থাৎ তামসিক আর নয়ে ‘মুমিত’ অর্থাৎ মারাত্মক।’

    বলা শেষ করে তাকি সাহেবের দিকে তাকাল অপালা। তাকি সাহেব বললেন, ‘বুঝলে কিছু?’

    মাথা নাড়ল অপালা। দাড়িতে হাত বুলিয়ে তাকি সাহেব বললেন, ‘পাঁচ বছর ধরে নানারকম পারমুটেশন-কম্বিনেশন করেও আমি এর অর্থ উদ্ধার করতে পারিনি। কিন্তু আমার স্থির বিশ্বাস এর মধ্যেই গিয়াসুদ্দিনের সূত্রের দ্বিতীয় ধাপটা লুকিয়ে আছে। এই কাগজটা আমি তোমাদের কাছেই রেখে যাচ্ছি। খুব সাবধানে রেখো। রাতারাতি তো এর অর্থ বোঝা সম্ভব নয়। সময় দিয়ে দেখো যদি কিছু পাও। কিছু পেলেই আমাকে ফোন কোরো। আমার নম্বরটা আশা করি রিসেপশন থেকে নিয়ে নিয়েছ?’

    সঞ্জয় মাথা নাড়ল। বলল, ‘চলুন স্যার। আপনাকে এগিয়ে দিয়ে আসি।’

    ‘চলো,’ এগোতে যাবেন তাকি সাহেব তার আগেই অপালা বলে উঠল, ‘স্যার, একটা কথা ছিল।’

    ঘুরে তাকালেন তাকি সাহেব। অপালা বলল, ‘এত দ্রুত যে এতটা অ্যাচিভ করব এ আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। আপনি ঠিক বলেছেন স্যার, সবটাই নিয়তি। সবটাই প্রিডেস্টিন্ড। তার আরও একটা প্রমাণ আছে যেটা আপনি ইচ্ছে করে অ্যাভয়েড করে গেছেন।’

    মৃদু হাসি ফুটল তাকি সাহেবের মুখে, ‘ধরে ফেলেছ সেটা?’

    ‘হ্যাঁ স্যার।’

    সঞ্জয় ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে রইল। অপালা যে কী ধরে ফেলেছে কে জানে! এই হিউম্যানিটিজ-এর লোকগুলো খুব গোলমেলে। হেঁয়ালি ছাড়া কথা বলতে পারে না। তার চেয়ে সায়েন্স অনেক সহজ। সরল। ডিরেক্ট। যা বলার মুখের ওপরে বলে দেয়। সে বলল, ‘কী ধরে ফেলেছ অপালা?’

    তাকি সাহেবের দিকে তাকিয়েই অপালা বলল, ‘এক আল তুসি লুকিয়ে রেখেছিলেন। আর এক আল তুসিই খুঁজে বার করলেন সূত্রের প্রথম ধাপ। আপনি গিয়াসুদ্দিনের বংশধর তাই না?’

    উত্তেজিত গলায় সঞ্জয় বলে উঠল, ‘দেখেছেন তো স্যার আমি কেন অপালাকে জিনিয়াস বলি? এটা তো এক বারও আমার মাথায় আসেনি। মাই গুডনেস! আমার কেমন একটা হচ্ছে!’

    তাকি সাহেব বললেন, ‘তুমি যেমন নতুন একটা প্রমাণ পেলে এটা নিয়তি তেমনই আমি প্রমাণ পেলাম, ভুল মানুষের হাতে দায়িত্ব দিইনি। পারবে, তোমরা পারবে।’

    অপালা বলল, ‘আশীর্বাদ করুন স্যার। একটা রিকোয়েস্ট, আপনার সঙ্গে একটা ছবি তুলতে পারি?’

    ‘অবশ্যই।’

    সেলফি তোলা হলে তাকি সাহেব চলে গেলেন। ছবিটা দেখতে দেখতে অপালা বলল, ‘আমার ইরাক আসা সার্থক হল। মহাজ্ঞানী গিয়াসুদ্দিন আল তুসির বংশধরের সঙ্গে সেলফি তুলতে পারলাম। যাই হোক, ধাঁধাটা নিয়ে ইমিডিয়েটলি বসতে হবে আমাদের। তার আগে দাদুকে ফোন করো। সবটা জানাতে হবে। সমীরণ স্যারকেও ফোন করো। পল্লবের কোনও খবর পাওয়া গেল কি না কে জানে!’

    পল্লবের কথা উঠতেই আবারও হু-হু করে উঠল সঞ্জয়ের বুকটা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমৃত জ্যোৎস্নার রাত্রি – অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    Next Article ধুন্ধুমার – তমোঘ্ন নস্কর
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }