লাপিস লাজুলি – ১৫
॥ পনেরো ॥
ফেব্রুয়ারি, বর্তমান কাল
রিসেপশন থেকে ফোন করার ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই চলে এলেন তাকি আল তুসি। সমাদর করে তাঁকে নিজেদের ঘরে নিয়ে এল অপালা আর সঞ্জয়। চা, কফি ইত্যাদি প্রত্যাখ্যান করে সোফায় বসতে বসতে তিনি বললেন, ‘কেন আমি এত দ্রুত তোমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম সেটা পরে বলছি। তার আগে বলো, তোমরা কেউ আরবি পড়তে পারো?’
অপালা বলল, ‘আমি পারি স্যার।’
প্রশংসার চোখে অপালার দিকে তাকালেন তাকি সাহেব। সুদৃশ্য চামড়ার ব্যাগ থেকে একটা ফাইল বার করে এগিয়ে দিলেন, ‘এটা পড়ো।’
ফাইলটা হাতে নিয়ে অপালা বলল, ‘এটা কী স্যার?’
‘গিয়াসুদ্দিন আল তুসির নাম শুনেছ?’
সঞ্জয় নেতিবাচক মাথা নাড়ার আগেই অপালা বলল, ‘গিয়াসুদ্দিন আল তুসি মানে থার্টিন্থ সেঞ্চুরির বিখ্যাত দার্শনিক, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, গণিতবিদ? যিনি বায়তুল হিকমাহ-র প্রধান গ্রন্থাগারিক ছিলেন?’
‘রাইট,’ মাথা নাড়লেন তাকি সাহেব, ‘যেটা পড়তে দিলাম সেটা গিয়াসুদ্দিন আল তুসির লেখা দিনলিপির কিছুটা অংশ। আমি ছবি তুলে স্ক্যান করে রেখেছি। এটা পড়তে পড়তে তুমি বার বার চমকে উঠবে। শিউরে উঠবে। অনেক প্রশ্ন ভিড় করে আসবে তোমার মাথায়। কিন্তু পড়া শেষ হলে তবেই আমি তোমার প্রশ্নগুলোর উত্তর দেব। তার আগে নয়। কেমন?’
ঘাড় নাড়ল অপালা। সঞ্জয় বলল, ‘তুমি একটু অনুবাদ করে করে পড়ো প্লিজ। আমিও শুনতে চাই।’
মাথা নেড়ে ফাইলের পাতা ওলটাল অপালা। পড়তে শুরু করল।
‘খবর পেলাম গতকাল হালাকু খাঁ মারা গেছে। কারও মৃত্যুসংবাদে আনন্দ পাওয়া অনুচিত আমি জানি। কিন্তু আমার আনন্দ হচ্ছে। আর শুধু তাই নয়, কী ভাবে এই আনন্দ প্রকাশ করব আমি বুঝতে পারছি না। হালাকু খাঁ-র মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে আমার প্রতিশোধের আগুনও নিভে গেল। প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসা শুধু ধ্বংসই ডেকে আনে এ কথা আমিও বিশ্বাস করি। কিন্তু কিছু কিছু সময় প্রতিহিংসাই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। যেমন আমাকে রেখেছিল। আমার কাজ শেষ। এ বার আমি নিশ্চিন্তে মরতে পারব।
‘মরণোত্তর ভাগ্য সবার হয় না। মানুষ আমাকে ভুলে যাবে কিন্তু ইতিহাস হালাকু খাঁ-কে মনে রাখবে। দুনিয়ার সমস্ত শুভবুদ্ধিশীল মানুষ তাকে ঘৃণা করবে। যে ভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষ মেরেছিল হালাকু আর যে ভাবে পুড়িয়ে দিয়েছিল বাইত আল হিকমাহ তাতে তার ঘৃণাই প্রাপ্য, তবে একটা কথা আমিও স্বীকার করি, হালাকু খাঁ-র বিশালতাকে কিছুতেই অগ্রাহ্য করা যায় না। তার ভয়াবহতা নর্ডিকদের লোকি, গ্রিকদের এরিস বা ভারতের রাবণের থেকে কোনও অংশে কম নয়।
‘শেষ অবধি হালাকু বুঝতে পেরেছিল কি না জানি না তবে তার মৃত্যুর জন্য আমি দায়ী। সে কথা লিখে রাখা দরকার বলে আমি মনে করি। চিরকাল ইতিহাসকে সংরক্ষণ করেছি। তাই নিজে যে ইতিহাস রচনার অংশ হলাম তা লিখে না রাখলে আল্লাহ আমায় ক্ষমা করবেন না। তবে এই লেখা আমি লুকিয়ে রেখে যাব। পরম করুণাময় আল্লাহ যদি কখনো চান এই লেখা কারও হাতে পড়ুক, তা হলে সেও এই ইতিহাসের অংশীদার হবে।
‘বাইত আল হিকমাহ জ্বালিয়ে দেওয়ার পরে আমাকে, খলিফা আল মুস্তাসিনের মেজো ছেলে আবদুল রহমানকে আর কারা সোঙ্কোরের ছেলে মনসুরকে আল রুসাফা-র সমাধিক্ষেত্রে পুঁতে দিয়ে মহামূল্যবান, মহাশক্তিধর আয়ুধটি নিয়ে হালাকু চলে যায়। ভেবেছিলাম মরেই যাব। ভেবেছিলাম, এত দিন ধরে যা আগলে রাখলাম তাই দিয়ে হালাকু বাগদাদের মতো বাকি দুনিয়াও ধ্বংস করে দেবে কিন্তু আমাদের বাঁচিয়ে দিল হালাকুর বাহিনীরই এক সৈন্য। তার নাম তোগো বেগ। তোগো বেগের সঙ্গে আমি, আবদুল আর মনসুর পারস্যে চলে যাই। সেখানে গিয়ে আত্মগোপন করি। তখন আমার জীবনের দু’টি মাত্র উদ্দেশ্য। হালাকুর সর্বনাশ করা এবং তার কাছ থেকে মহাশক্তিধর আয়ুধটি উদ্ধার করা।’
অপালা চোখ তুলে তাকাল তাকি সাহেবের দিকে। সঞ্জয় বলে উঠল, ‘স্যার এই মহাশক্তিধর আয়ুধ বলতে কি উনি…’
কথা কেটে তাকি সাহেব বললেন, ‘আমি আগেই বলেছি, পুরোটা পড়া শেষ হলেই আমি তোমাদের প্রশ্নের উত্তর দেব। অপালা, পড়ো।’
‘হুম,’ আবার পড়তে শুরু করল অপালা।
‘বাগদাদ দখল করার পর হালাকু রওনা দেয় দামেস্ক-এর উদ্দেশে।’
‘সঞ্জয়, দামেস্ক মানে এখনকার সিরিয়া,’ পড়া থামিয়ে বলল অপালা। পদার্থবিদ্যার ছাত্রটির ইতিহাসের এত খুঁটিনাটি জানা সম্ভব না সেটা সব সময় মনে রাখে সে। তার পরে আবার শুরু করল।
‘এই সময় হালাকু হাত মেলায় মুসলমানদের আর এক শত্রু খ্রিস্টান ক্রুসেডারসের সঙ্গে। ১২৬০ সালে মোঙ্গোল আর খ্রিস্টান ক্রুসেডারদের মিলিত বাহিনী দামেস্ক আক্রমণ করে। দামেস্ককেও শেষ করে দেয় হালাকু খাঁ। দামেস্ক-এর শাসক নাসির ইউসুফকে হত্যা করে সে। এর পরে সে এগোতে থাকে কায়রোর দিকে। প্যালেস্টাইন হয়ে কায়রো যাওয়ার পথেই হালাকু তার ভাই মোংকে খাঁ-র মৃত্যুসংবাদ পায়। বিশ হাজার সৈন্য রেখে বাকি সৈন্য নিয়ে হালাকু তখনই দেশের দিকে রওনা দেয় আর আমার কাছে এসে যায় বহু প্রতীক্ষিত সুযোগটা। সময় নষ্ট না করে আমি কায়রোর উদ্দেশে রওনা দিই। কায়রোর সুলতান কুতুজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। তাঁকে বোঝাতে সক্ষম হই যে হালাকুকে আটকাতে গেলে খ্রিস্টানদের সঙ্গে সন্ধি করা ছাড়া উপায় নেই। দফায় দফায় বৈঠক করি খ্রিস্টানদের সঙ্গেও। খ্রিস্টানরা বরাবরের বুদ্ধিমান। ওরা বুঝতে পেরেছিল, মোঙ্গোলরা বিশ্বজয়ের নেশায় বুঁদ হয়ে আছে। এর পরে ওরা ইউরোপের দিকেই আসবে। তাই শত্রুতা থাকলেও মুসলমানদের সঙ্গে সন্ধি করতে রাজি হয় তারা। হালাকু খাঁ যে বিশ হাজার সৈন্য রেখে দেশে ফিরে গেছিল তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মুসলমান আর খ্রিস্টানদের যৌথ বাহিনী। এই প্রথম মোঙ্গোলরা পরাজিত হয়। ইতিমধ্যে আর একটা কাজ করি আমি। ইয়োচির ছেলে বিরকাই খাঁ-র সঙ্গে দেখা করি।’
‘সরি, একটু ইন্টারাপ্ট করলাম,’ বলে উঠল সঞ্জয়, ‘এই ইয়োচি আর বিরকাই খাঁ কে?’
অপালা বলল, ‘চেঙ্গিজ খাঁ-র চার ছেলে। ইয়োচি, ওগেদেই, চাঘতাই আর তলুই। বিরকাই বা বেরকে যেমন ইয়োচি খাঁ-র ছেলে তেমনই তলুইয়ের এক ছেলে হল হালাকু। হিসেব মতো হালাকু আর বিরকাই খুড়তুতো ভাই। বুঝেছ?’
ঘাড় নাড়ল সঞ্জয়। অপালা ফের পড়া শুরু করল গিয়াসুদ্দিনের দিনলিপি।
‘এই মোঙ্গোলদের মধ্যে বিরকাই ছিল একটু আলাদা ধরনের। লেখাপড়ার সমঝদার ছিল। ইসলামের সম্প্রীতির বাণী তাকে আকৃষ্ট করেছিল। ১২৫০ নাগাদ সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। স্বভাবতই তার সেনাবাহিনীর বেশির ভাগই ছিল মুসলমান। আমি বিরকাই খাঁ-কে গিয়ে বলি, পারলে একমাত্র আপনিই মুসলমানদের রক্ষা করতে পারবেন। আমি সুলতান কুতুজের সঙ্গে বিরকাই খাঁ-র দেখা করাই। সুলতান কুতুজও তার সাহায্য চান। বিরকাই খাঁ আমাদের কথা দেয়, বাগদাদের বদলা নেবে।
‘এই করতে করতে পাঁচ পাঁচটা বছর কেটে যায়। এসে পড়ে ১২৬৩। এর মধ্যে আমি আরও দুটো কাজ করে ফেলেছি। মহাশক্তিধর আয়ুধটিকে কী ভাবে ব্যবহার করতে হয় তা জানার জন্য শুরু করেছি তন্ত্রচর্চা আর আত্মস্থ করে ফেলেছি সুশ্রুত। সুশ্রুত ভারতের এক প্রাতঃস্মরণীয় চিকিৎসক। তবে চিকিৎসক না বলে আমি তাঁকে জাদুকর বলতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করব। তিনি অদ্ভুত এক পদ্ধতিতে মানুষের ছিন্ন, কর্তিত অঙ্গ জুড়ে দিতে পারতেন। এমনকী বদলে দিতে পারতেন মুখাবয়বও। এক মানুষকে অন্য মানুষের রূপ দিতে পারতেন। আমি মনসুরের ওপরে এই বিদ্যা প্রয়োগ করি এবং তাকে এক মোঙ্গোল যুবকে রূপান্তরিত করি। দেলবে বেগ নাম নিয়ে সে হালাকু খাঁ-র সেনাবাহিনীতে যোগ দেয় এবং কর্মনৈপুণ্য দেখিয়ে অচিরেই হালাকুর প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠে।
‘ইতিমধ্যে ঘনিয়ে উঠেছিল যুদ্ধের মেঘ। বিরকাই খাঁ হালাকু খাঁ-র বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং ১২৬৩-তে বিরকাইয়ের হাতে হালাকুর পরাজয় হয়। এই প্রথম বার মোঙ্গোলদের নিজেদের মধ্যে বিরোধ হল। যুদ্ধে হেরে হালাকু খ্রিস্টানদের কাছে ছুটে যায়। সন্ধি করে নতুন জোট বানাতে চায়। কিন্তু খ্রিস্টানরা তাকে প্রত্যাখ্যান করে। সেটা ওরা করতই কারণ ওদের চেয়ে ধুরন্ধর জাত আর দুনিয়ায় দুটো হয় না। আমি হয়তো বেঁচে থাকব না কিন্তু আজ ভবিষ্যৎবাণী করে যাচ্ছি, এক দিন এই খ্রিস্টানরাই গোটা দুনিয়ার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠবে। যাই হোক, খ্রিস্টানদের কাছে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরে পারস্যে এসে থিতু হয় হালাকু খাঁ। কিন্তু আর সে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। প্রথমত: কারা সোঙ্কোরের তলোয়ারের আঘাত তার কাঁধে তৈরি করেছিল এক অচিরাক্য ক্ষত আর দ্বিতীয়ত: যুদ্ধে হেরে যাওয়াটা হালাকু মেনেই নিতে পারেনি। চিরকাল জিতে আসা হালাকু একেবারে মুষড়ে পড়েছিল। এই সময় হালাকু নিজের সবটুকু নিয়োজিত করে দিয়েছিল তন্ত্রবিদ্যা চর্চায়। এক আরব বেদুইনকে সে গুরু ধরেছিল। ইতিমধ্যে মহাশক্তিশালী আয়ুধটির পরিচয় পেয়ে গিয়েছিল সে। সে বুঝতে পেরেছিল, আয়ুধটি ব্যবহার করতে পারলেই গোটা দুনিয়া তার পদানত হবে। কিন্তু সেই সুযোগ আমি তাকে দিইনি। শিক্ষা সমাপ্ত হওয়ার আগেই মনসুর ওরফে দেলবে বেগ আয়ুধটি চুরি করে আমার কাছে নিয়ে আসে। সেটা ৪ ফেব্রুয়ারি ১২৬৫। এই শোক হালাকু সহ্য করতে পারেনি। চার দিন পরে ৮ ফেব্রুয়ারি অবশেষে তার মৃত্যু হল।
‘মনসুর আমাকে প্রশ্ন করেছিল, ‘যে বেদুইনকে হালাকু গুরু ধরেছিল সে তো আয়ুধের প্রয়োগ জানত। তা হলে হালাকু আয়ুধটিকে কাজে লাগাল না কেন?’
‘আমি বলেছিলাম, ‘যার অভীষ্ট তাকেই পূরণ করতে হয়। বিশ্বজয় করতে গেলে হালাকুকেই আয়ুধটি ব্যবহার করতে হতো। ওর গুরু করলে ওর গুরুর অভীষ্ট পূরণ হত। হালাকুর তাতে কোনও লাভ হতো না।’
‘তবে এই ক’বছরে আমি শিখে ফেলেছিলাম আয়ুধটি ব্যবহারের গুপ্তবিদ্যা। আয়ত্ত করেছিলাম প্রাচীন এক তন্ত্র। যাতে দেবী ইনান্নাকে জাগিয়ে তোলা যায়। ইযুজ্জু ইনান্না। লোভ হয়েছিল আমার। মনে হয়েছিল, আবার বাইত আল হিকমাহ গড়ে তুলি। তার পর নিজেকে সংযত করেছিলাম। নিয়তিকে বদলানো যায় না। যা হওয়ার সেটাই হবে। যা রবার সেটাই রবে। নিজেকে প্রশ্ন করেছিলাম, এ বার এই মহাশক্তিধর আয়ুধটি নিয়ে আমি কী করব? অন্তর থেকে আমার আল্লাহ আমায় উত্তর দিয়েছিলেন। আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম, এত দিন ধরে যেমন ভাবে একে লুকিয়ে রেখেছিলাম, সে ভাবেই আবার লুকিয়ে রাখব। তবে হ্যাঁ, ইতিহাসকে মুছে ফেলা পাপ। তাই আমি সূত্র রেখে যাব। কিন্তু এই সূত্র উদ্ধারের একমাত্র চাবি বুদ্ধিমত্তা। তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর মেধা ছাড়া এই সূত্র অর্থহীন প্রলাপ ছাড়া আর কিচ্ছু নয়। যে বোঝার সে ঠিক বুঝবে।
৯ ফেব্রুয়ারি, ১২৬৫
মারাগেহ মানমন্দির, পারস্য।’
.
এখানেই লেখা শেষ। পড়া শেষ করে অবাক হয়ে তাকি সাহেবের দিকে তাকিয়ে রইল অপালা। সঞ্জয়ও হতবাক। দু’জনের কারওরই বাক্যস্ফুর্তি হল না কিছুক্ষণ। নিস্তব্ধতা ভেঙে তাকি সাহেব বলে উঠলেন, ‘তোমাদের মনে যে অজস্র প্রশ্ন ভিড় করছে আমি বুঝতে পারছি। আমি মোটামুটি আন্দাজ করতে পারছি প্রশ্নগুলো কী হতে পারে। তোমাদের প্রথম দুটো প্রশ্ন, এক, লেখাটা কি সত্যি আর দুই, সূত্রটা কী? ঠিক তো?’
দু’জনেই একসঙ্গে ঘাড় নাড়ল। তাকি সাহেব বললেন, ‘দ্বিতীয় উত্তরটা পরে দিচ্ছি। আগে প্রথম থেকে শুরু করি। আমি কয়েকটা কথা বলে নিলে আশা করি তোমরা তোমাদের আরও বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবে। প্রথম কথা হল, লেখাটা সত্যি। কারণ আসল লেখাটার আমি কার্বন ডেটিং টেস্ট করিয়েছিলাম। এই লেখাটা আমি খুঁজে পাই মসুল লাইব্রেরির ধ্বংসাবশেষ থেকে। আইসিস মসুল লাইব্রেরি পুড়িয়ে দিয়েছিল। ২০১৫ সালের শেষে আমি লাইব্রেরির ধ্বংসাবশেষ ঘাঁটতে ঘাঁটতে মাটির নীচের এক গোপন কক্ষ খুঁজে পাই। যেখানে অনেক প্রাচীন দস্তাবেজের মধ্যে আচমকাই পেয়ে যাই গিয়াসুদ্দিনের এই দিনলিপি। এ বার ওটা কী করে মসুল লাইব্রেরিতে এল তা আমি বলতে পারব না। তবে আমার ধারণা, নানা মানুষের হাত ঘুরেই ওটা ওখানে এসেছিল। এখন কথা হচ্ছে, আমি প্রথমে তোমাদের এই কথাগুলো বলিনি কেন? কারণ আমি তোমাদের বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। পরে মিস্টার বেকের কাছ থেকে যখন মিস্টার ভাদুড়ির কথা শুনলাম তখন মনে হল তোমাদের বিশ্বাস করা যায়। আমি যতটা জানি তোমাদের আমি জানাতেই পারি। তবে এই দিনলিপির কথা মিস্টার বেকও জানেন না। আশা করি তোমরাও ওঁকে কিছু বলবে না। এ আমার একান্ত ব্যক্তিগত কালেকশন। তোমাদের বন্ধু বিপদে না পড়লে এ আমি কখনোই তোমাদের দেখাতাম না।’
একটানা কথাগুলো বলে দম নিলেন তাকি সাহেব। অপালা বলল, ‘ওই মহাশক্তিধর আয়ুধ তো দেবী ইনান্নার দণ্ড। স্যার, তার মানে ইনান্নার দণ্ড সত্যি ছিল?’
‘ছিল নয়। এখনও কেউ নিয়ে না নিলে গিয়াসুদ্দিন যেখানে লুকিয়ে রেখে গিয়েছেন সেখানেই আছে।’
‘এখনও কেউ নিয়ে না নিলে মানে’, চমকে উঠল অপালা, ‘এ কথা কেন বললেন স্যার?’
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাকি সাহেব বললেন, ‘কারণ আসল লেখাটা চুরি গেছে।’
‘কী,’ আর্তনাদ করে উঠল দু’জনেই।
‘হ্যাঁ। আমার পোর্টার ছিল একটি লোক, তার নাম মুস্তাফা। একমাত্র সেই এই দিনলিপির কথা জানত। এক দিন আসল লেখাটা নিয়ে সে চম্পট দেয়। ভাগ্যিস আমি কপি করে রেখেছিলাম।’
‘আপনি পুলিশে জানাননি,’ প্রশ্ন করল সঞ্জয়।
‘নাহ। হিসেব মতো এ তো সরকারি সম্পত্তি। নিজের কাছে রাখার অভিযোগে আমারও জেল হতে পারত। আসলে ইতিহাসের লোক তো আমি। অমন একটা জিনিস নিজে আবিষ্কার করার লোভ সামলাতে পারিনি। মুস্তাফার থেকে সাবধান হওয়ার দরকার ছিল কিন্তু সেটা আমি শুরুতে বুঝিনি। পরে অবশ্য আমি অনেক খুঁজেছি তাকে। কিন্তু সে যেন স্রেফ ভ্যানিশ হয়ে গেছে। তবে আশার কথা একটাই, সূত্রটা যখন আমি এখনও উদ্ধার করতে পারিনি, আশা করি সেও পারেনি। মুস্তাফা চুরি বিদ্যেয় পারদর্শী হলেও অন্য বিদ্যে তার তেমন ছিল না।’
আশার আলো জ্বলে উঠল দু’জনের মুখেই। সঞ্জয় বলল, ‘আপনার কাছে সূত্রটা আছে স্যার?’
‘আছে,’ ব্যাগ থেকে আর একটা ফাইল বার করলেন তাকি সাহেব। এগিয়ে দিলেন অপালার দিকে, ‘দেখো।’
আবার আরবিতে লেখা দিনলিপির একটি পাতা। অপালা জোরে জোরে পড়ল।
‘সূত্রটিকে তিন ভাগে ভাঙলাম। প্রথম সূত্রটি রাখলাম উরুকের ইনান্না মন্দিরে। দেবীর দণ্ড উদ্ধার করতে গেলে প্রথমে দেবীর কাছেই আসতে হবে। সূত্রটি খুঁজে পাওয়াটাই এই ধাঁধার প্রথম ধাপ। দ্বিতীয় ধাপে সূত্রটির অর্থ উদ্ধার করতে পারলে তবেই তৃতীয় ধাপের সন্ধান পাওয়া যাবে। আবার বলি, সূত্র উদ্ধারের একমাত্র চাবিকাঠি বুদ্ধিমত্তা।’
কাগজটা ফেরত দিয়ে অপালা বলল, ‘উরুকের ইনান্না মন্দির তো সেই কবেই ধ্বংস হয়ে গেছে। তা হলে প্রথম সূত্রটা?’
একটু চুপ করে থেকে তাকি সাহেব বললেন, ‘প্রথম ধাপটা আমি পার করতে পেরেছি।’
বিস্ময় ঝরে পড়ল অপালার গলা থেকে, ‘কী ভাবে স্যার? সূত্রটা কী?’
এই লেখা পড়ার পরে আমার মনেও তোমার মতো একই প্রশ্ন জেগেছিল, ‘উরুকের ইনান্না মন্দির তো কবেই ধ্বংস হয়ে গেছে। উরুকের এখনকার নাম ওয়ারকা। ইনান্না মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ ওখানকার বিখ্যাত আর্কিওলজিক্যাল সাইট। তা হলে? কী ভাবে পাব প্রথম সূত্রের হদিশ? ভাবতে শুরু করলাম। মনে পড়ল, ১৯১২ সালে একটা জার্মান আর্কিওলজিক্যাল এজেন্সি উরুকে খননকার্য শুরু করে। কিউনিফর্ম লিপিতে লেখা প্রচুর ট্যাবলেট মানে মাটির টালি পাওয়া যায় সেখান থেকে। কিছু নতুন, বেশিরভাগই পুরনো। পুরোনোগুলো খ্রিস্টের জন্মের প্রায় ৩২০০ বছর আগের। সেই সব ট্যাবলেটের বেশিরভাগই চলে যায় ইউরোপের মিউজিয়ামগুলোতে। খুব অল্প কিছুই পড়ে আছে মধ্যপ্রাচ্যে। যাই হোক, ইনান্না মন্দির থেকে উদ্ধার হওয়া তুলনামূলক নতুন ট্যাবলেটগুলোর একটা তালিকা বানাতে শুরু করি আর এই ট্যাবলেটগুলো যে যে মিউজিয়ামে আছে সেখানে গিয়ে হাজির হই। এই করতে করতেই ব্রিটিশ মিউজিয়ামে আমি একটা অদ্ভুত ট্যাবলেটের সন্ধান পাই যেটা বাকি সব ক’টার থেকে আলাদা। কিউনিফর্ম লিপিতেই লেখা কিন্তু কার্বন ডেটিং বলছে ওটার সময়কাল ১৩০০ থেকে ১৪০০ খ্রিস্টাব্দ এবং একমাত্র ট্যাবলেট যেটা হালাকু খাঁ-কে নিয়ে লেখা।’
‘কী বলছেন স্যার!’
‘হ্যাঁ অপালা। আসলে সবাই প্রাচীন মেসোপটেমিয়া নিয়ে এত ব্যস্ত যে এই তুলনামূলক নবীন ট্যাবলেটটায় আর আলাদা করে নজর দেয়নি। আর দেবেই বা কী করে? ওদের কাছে তো আর গিয়াসুদ্দিনের দিনলিপি নেই। উনি লিখে গিয়েছেন, সূত্রটাকে খুঁজে বার করাই একটা চ্যালেঞ্জ। আসলে উনি জানতেন অনেক ট্যাবলেটের ভিড়ে এই ট্যাবলেটটা হারিয়ে যাবে। ভূয়োদর্শী মানুষ ছিলেন তো।’
‘তার মানে তো এটা দাঁড়াচ্ছে যে অনেক আগেই গিয়াসুদ্দিন উরুকের ইনান্না মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছিলেন!’
‘পেয়েছিলেন তো বটেই আর আমার বিশ্বাস এটাই গিয়াসুদ্দিনের দেওয়া সূত্রের প্রথম ধাপ। প্রথম চ্যালেঞ্জটা আমরা জিতেছি।’
অধীর গলায় অপালা বলল, ‘ট্যাবলেটটার ছবি আছে আপনার কাছে?’
‘আছে। এই ফাইলেই আছে। পাতা ওলটাও।’
পাতা ওলটাতেই একটা মাটির ট্যাবলেটের ছবি। সঞ্জয়ও ঝুঁকে পড়ল। ছোটোবেলায় ইতিহাস বইতে পড়েছিল কিউনিফর্ম বা কীলকাকৃতি লিপি। মেসোপটেমিয়ার মানুষরা এই লিপিতে লিখত। ঠিক তেমনই খোঁচা খোঁচা কীসব লেখা। তাকি সাহেব অপালার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘কিউনিফর্ম লিপির পাঠোদ্ধার করতে পারো?’
অপালা মাথা নাড়ল, ‘একটু-একটু।’
সঞ্জয় চুপ করে থাকতে পারল না। অবাক গলায় বলে ফেলল, ‘তুমি এটাও পারো!’
সঞ্জয়ের চোখে মুগ্ধতা ঝরে পড়ছে। সেটা তাকি সাহেবরও চোখ এড়াল না। মৃদু হেসে তিনি বললেন, ‘অপালা, সঞ্জয় শুধু তোমার প্রেমিক নয় ফ্যানও বটে।’
লজ্জা পাওয়াটা সঞ্জয়ের একচেটিয়া কিন্তু এবার উলটোটা হল। অপালাই বরং একটু লজ্জা পেয়ে বলল, ‘ওর কথা ছাড়ুন স্যার। আমার তো প্রাচীন সাহিত্য নিয়েই কাজ। ইলিনয় ইউনিভার্সিটিতে অ্যানশিয়েন্ট ল্যাঙ্গুয়েজের একটা কোর্স হয়। আমি সেখানেই কয়েকটা পুরোনো ভাষা আর লিপি নিয়ে একটু-আধটু চর্চা করেছি। আর সঞ্জয়ের স্বভাব আমাকে মাথায় তোলা। ও নিজেও কিন্তু মারাত্মক ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট। ফিজিক্সে ডক্টরেট। আইআইটি-র নাম শুনেছেন কি না জানি না, আমাদের দেশের উজ্জ্বলতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। ও ওখানকার ফ্যাকাল্টি।’
উজ্জ্বল হয়ে উঠল তাকি সাহেবের চোখ দুটো, ‘আমি বুঝেছি তোমরা দু’জনেই খুব ব্রিলিয়ান্ট আর সেই জন্যই তো তোমাদের কাছে ছুটে এসেছি। আল্লাহ চান দেবীর দণ্ড খুঁজে পাওয়া যাক আর তাই জন্যই তোমাদের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। দেবীর দণ্ড হারিয়ে যাওয়াটাও যেমন নিয়তি ছিল, এটাও নিয়তি। সব আগে থেকে ঠিক হয়ে আছে। সত্যি বলতে আমি আজ তোমাদের কাছে সাহায্য চাইতেই এসেছি। দেখো একজন হিস্টোরিয়ান হিসেবে আমি চাই এই প্রাচীন আর্টিফ্যাক্টটা খুঁজে পাওয়া যাক আর সেটা খোঁজার কৃতিত্ব আমারই হোক। তাই আমি গিয়াসুদ্দিনের ডায়েরির কথা এত দিন কাউকে বলিনি। আর তোমরা তোমাদের বন্ধুকে বাঁচানোর জন্য দণ্ডটা পেতে চাও। মোট কথা, আমাদের ইন্টেনশন সেম। কিন্তু এই ট্যাবলেটের পাঠোদ্ধার করতে পারলেও এর মর্মোদ্ধার করতে আমি এখনও পারিনি। পাঁচ বছর ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে যে ভাবে গিয়াসুদ্দিন বার বার বলছেন, সূত্র উদ্ধারের একমাত্র চাবিকাঠি বুদ্ধিমত্তা তাতে মনে হচ্ছে পারলে তোমরাই পারবে।’
সঞ্জয় বলল, ‘আপনি আমাদের ওপর এতটা ভরসা কী করে করছেন স্যার?’
‘দুটো কারণে। প্রথমটা আগেই বললাম, নিয়তি। নয়তো এত বছর পরে আমিই কেন গিয়াসুদ্দিনের লেখা খুঁজে পাব আর তোমরাই বা এত লোক থাকতে আমার কাছে আসবে কেন? দ্বিতীয় কারণটা আরও জোরালো। এত দিন ধরে যারাই এই দণ্ড খুঁজেছে তাদের উদ্দেশ্য ছিল হয় ক্ষমতা পাওয়া ব্ল্যাকপাল নিবেদন
নয়তো অ্যাকাডেমিক কৌতূহল চরিতার্থ করা। যেমন হালাকু খাঁ-র প্রথমটা। দ্বিতীয়টা আমার। কিন্তু আমার মনে হয় এই প্রথম বার কেউ এই দণ্ড খুঁজছে কারও জীবন বাঁচানোর জন্য। এই খোঁজের জোরটাই যে আলাদা।’
দীর্ঘশ্বাস ফেলে অপালা বলল, ‘তাই যেন হয় স্যার, আমরা যেন সফল হই। বলুন স্যার, কী লেখা আছে এতে?’
ব্যাগ থেকে ল্যামিনেট করা আর একটা কাগজ বার করলেন তাকি সাহেব, ‘দেখো। আমি কিউনিফর্ম থেকে আরবিতে ট্রান্সলেট করে লিখেছি।’
মন দিয়ে কাগজটা দেখতে লাগল অপালা আর সঞ্জয় দু’জনেই। অপালা মানে বলে দিতে লাগল, ‘একদম ওপরে লেখা আছে হালাকু খাঁ। তার পরে এক-এক করে হালাকু খাঁ সম্পর্কে ন’টা বিশেষণ। বিশেষণ না বলে গালাগালি বলাই ভালো। প্রথমে ‘হিরছুন’ অর্থাৎ লোভী। দু’নম্বরে ‘গোনাহগার’ অর্থাৎ পাপী। তিন নম্বরে ‘ঘেইউর’ অর্থাৎ ঈর্ষাকাতর। চার নম্বরে ‘মুতাতিশুন লিলদিমা’ অর্থাৎ রক্তপিপাসু। পাঁচ নম্বরে ‘আশয়তানু’ অর্থাৎ শয়তান। ছয়ে আবার ‘ঘেইউর’। সাতে ‘আলকুইয়ামা’ অর্থাৎ সর্বনাশা। আট নম্বরে ‘তামসিক’ অর্থাৎ তামসিক আর নয়ে ‘মুমিত’ অর্থাৎ মারাত্মক।’
বলা শেষ করে তাকি সাহেবের দিকে তাকাল অপালা। তাকি সাহেব বললেন, ‘বুঝলে কিছু?’
মাথা নাড়ল অপালা। দাড়িতে হাত বুলিয়ে তাকি সাহেব বললেন, ‘পাঁচ বছর ধরে নানারকম পারমুটেশন-কম্বিনেশন করেও আমি এর অর্থ উদ্ধার করতে পারিনি। কিন্তু আমার স্থির বিশ্বাস এর মধ্যেই গিয়াসুদ্দিনের সূত্রের দ্বিতীয় ধাপটা লুকিয়ে আছে। এই কাগজটা আমি তোমাদের কাছেই রেখে যাচ্ছি। খুব সাবধানে রেখো। রাতারাতি তো এর অর্থ বোঝা সম্ভব নয়। সময় দিয়ে দেখো যদি কিছু পাও। কিছু পেলেই আমাকে ফোন কোরো। আমার নম্বরটা আশা করি রিসেপশন থেকে নিয়ে নিয়েছ?’
সঞ্জয় মাথা নাড়ল। বলল, ‘চলুন স্যার। আপনাকে এগিয়ে দিয়ে আসি।’
‘চলো,’ এগোতে যাবেন তাকি সাহেব তার আগেই অপালা বলে উঠল, ‘স্যার, একটা কথা ছিল।’
ঘুরে তাকালেন তাকি সাহেব। অপালা বলল, ‘এত দ্রুত যে এতটা অ্যাচিভ করব এ আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। আপনি ঠিক বলেছেন স্যার, সবটাই নিয়তি। সবটাই প্রিডেস্টিন্ড। তার আরও একটা প্রমাণ আছে যেটা আপনি ইচ্ছে করে অ্যাভয়েড করে গেছেন।’
মৃদু হাসি ফুটল তাকি সাহেবের মুখে, ‘ধরে ফেলেছ সেটা?’
‘হ্যাঁ স্যার।’
সঞ্জয় ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে রইল। অপালা যে কী ধরে ফেলেছে কে জানে! এই হিউম্যানিটিজ-এর লোকগুলো খুব গোলমেলে। হেঁয়ালি ছাড়া কথা বলতে পারে না। তার চেয়ে সায়েন্স অনেক সহজ। সরল। ডিরেক্ট। যা বলার মুখের ওপরে বলে দেয়। সে বলল, ‘কী ধরে ফেলেছ অপালা?’
তাকি সাহেবের দিকে তাকিয়েই অপালা বলল, ‘এক আল তুসি লুকিয়ে রেখেছিলেন। আর এক আল তুসিই খুঁজে বার করলেন সূত্রের প্রথম ধাপ। আপনি গিয়াসুদ্দিনের বংশধর তাই না?’
উত্তেজিত গলায় সঞ্জয় বলে উঠল, ‘দেখেছেন তো স্যার আমি কেন অপালাকে জিনিয়াস বলি? এটা তো এক বারও আমার মাথায় আসেনি। মাই গুডনেস! আমার কেমন একটা হচ্ছে!’
তাকি সাহেব বললেন, ‘তুমি যেমন নতুন একটা প্রমাণ পেলে এটা নিয়তি তেমনই আমি প্রমাণ পেলাম, ভুল মানুষের হাতে দায়িত্ব দিইনি। পারবে, তোমরা পারবে।’
অপালা বলল, ‘আশীর্বাদ করুন স্যার। একটা রিকোয়েস্ট, আপনার সঙ্গে একটা ছবি তুলতে পারি?’
‘অবশ্যই।’
সেলফি তোলা হলে তাকি সাহেব চলে গেলেন। ছবিটা দেখতে দেখতে অপালা বলল, ‘আমার ইরাক আসা সার্থক হল। মহাজ্ঞানী গিয়াসুদ্দিন আল তুসির বংশধরের সঙ্গে সেলফি তুলতে পারলাম। যাই হোক, ধাঁধাটা নিয়ে ইমিডিয়েটলি বসতে হবে আমাদের। তার আগে দাদুকে ফোন করো। সবটা জানাতে হবে। সমীরণ স্যারকেও ফোন করো। পল্লবের কোনও খবর পাওয়া গেল কি না কে জানে!’
পল্লবের কথা উঠতেই আবারও হু-হু করে উঠল সঞ্জয়ের বুকটা।
