Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – সৌভিক চক্রবর্তী

    সৌভিক চক্রবর্তী এক পাতা গল্প667 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    লাপিস লাজুলি – ১৭

    ॥ সতেরো ॥

    ফেব্রুয়ারি, বর্তমান কাল

    ডার্ট বাইকটা থামিয়ে পেছনে ফিরতেই অবাক হয়ে গেল রোশনি। গত কয়েক দিনে তার ওপর দিয়ে যা যাচ্ছে তাতে খুব সাধারণ কিছুতে সে আর অবাক হবে না। কিন্তু সে যা দেখল সেটাকে সাধারণ বলা যায় না। ব্যাপারটা অসাধারণ এবং অস্বাভাবিক। সবুজ পাহাড় দুটোর মাঝখান দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ার পরে কিছুটা গিয়েই সে বাইক থামিয়ে পেছনে তাকিয়েছে কিন্তু পাহাড় দুটোকে আর দেখতে পাচ্ছে না। যত দূরে চোখ যায় শুধু সবুজ উপত্যকা। সে তো এতটা রাস্তাও আসেনি যে পাহাড় দুটো তার দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যাবে! পাহাড় দুটো কি তবে স্রেফ উবে গেল!

    ঠান্ডা মাথায় একটু চিন্তা করতেই রোশনির গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। তখন প্রাণ বাঁচানোর তাগিদটাই এত বেশি করে ছিল যে মস্তিষ্ক অন্য কোনও চিন্তা করতে পারছিল না। নয়তো মরুভূমির মাঝে আচমকা গজিয়ে ওঠা দুটো সবুজ পাহাড় যে হয় অবাস্তব নয় অলৌকিক তখনই তার মাথায় আসত।

    ভালো করে চারপাশটা দেখল রোশনি। পেছনে দিগন্তলীন সবুজ উপত্যকা। তার মাঝে মাঝে কিছু অদ্ভুতদর্শন গাছ। আকারে সেগুলো বিশাল। বটগাছের থেকেও বড়ো কিন্তু পাতাগুলোর সঙ্গে বটপাতার কোনও মিল নেই। লম্বা ডাঁটির দু’পাশে তেঁতুল পাতার মতো ঝিরিঝিরি পাতা আর সেগুলো এমন ঘন হয়ে নুয়ে পড়েছে যে দূর থেকে দেখে মনে হয় কারও মাথার করোটিটা তুলে গাছের ওপর বসিয়ে দেওয়া হয়েছে আর তাতে উপচে পড়া চুল। সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে উপত্যকা মিশেছে এক নদীতে। তাতে কাকচক্ষু জল। নদীর পাড়ে ওই একই রকম গাছ। বাতাসে একটা হিম ভাব। নদীর দিক থেকে মাঝে মাঝেই একটা দমকা হাওয়া আসছে, তাতে আরও বেশি করে শীত করে উঠছে। চার দিকে উজ্জ্বল আলো কিন্তু আকাশে তাকিয়ে আলোর উৎসটা খুঁজে পেল না রোশনি। ঘড়ি, মোবাইল কিছুই সঙ্গে নেই ফলে সময় বোঝারও কোনও উপায় নেই। তবে ঘড়ি না থাকলেও সাধারণ অভিজ্ঞতা দিয়েই মানুষ সকাল, দুপুর, বিকেলের প্রভেদ করতে পারে। কিন্তু আলোটা এমনই বিভ্রম তৈরি করছে যে এখানে সেটাও করা যাচ্ছে না। রোশনির মনে হল, সে অন্য কোনও এক দুনিয়ায় চলে এসেছে আর মনে হওয়াটা যে ভুল নয় তক্ষুনি প্রমাণ পেল। মাথার ওপর ঝটপট শব্দ শুনে ওপরে তাকাতেই স্তম্ভিত হয়ে গেল সে। বিশালাকার ওটা কী উড়ে যাচ্ছে মাথার ওপর দিয়ে? ওটা কি পাখি? না না, পাখি হবে কী করে? পাখির কী ও-রকম সিংহের মতো লেজ থাকে? নাকি ওটা কোনও পশু? কিন্তু তা হলে উড়ছে কী করে? মাথাটা এলোমেলো হয়ে গেল রোশনির। তার চোখের সামনেই অদ্ভুত প্রাণীটা গিয়ে বসল অদ্ভুত সেই গাছের নীচে। রোশনি অবাক হয়ে দেখল, বিশাল প্রাণীটা না পাখি, না পশু। এ সেই ছোটোবেলায় পড়া সুকুমার রায়ের বকচ্ছপ টাইপের একটা জন্তু। সিংহ আর ঈগলের ককটেল। আকারে একটা পূর্ণবয়স্ক হাতির চেয়েও বড়ো। প্রাণীটার সারা গায়ে খেলে বেড়াচ্ছে অসংখ্য বিদ্যুৎশিখা। কী নাম হবে এর? সিংহীগল!

    আচমকাই ডেকে উঠল প্রাণীটা। রণভেরির মতো গম্ভীর অথচ সুরেলা সেই ডাক। রোশনি জানে, সিংহের ডাককে বলে গর্জন আর পাখির ডাককে বলে কূজন। সে দুটোকে মেলালে যে শব্দের উৎপত্তি হয় তাকে কী বলে? পল্লবদা থাকলে নির্ঘাত বলত, ‘কর্জন’।

    এর মধ্যেও পল্লবের কথা মনে পড়ে গেল! চোখে জল এসে গেল রোশনির। পল্লবকে ওই নরক থেকে বার করবে বলেই না প্রাণের বাজি নিয়ে বেরিয়ে এসেছিল। কিন্তু এ কোথায় চলে এল সে? এখান থেকে বেরোবে কেমন করে? আদৌ বেরোতে পারবে তো? নাকি এখানেই এমন কোনও অদ্ভুত প্রাণীর হাতে বেঘোরে মরবে!

    মরতে রোশনি ভয় পায় না। তার জীবনে বেঁচে থাকার মতো এত দিন কী-ই বা ছিল? মা চলে যাওয়ার পরে সে টিকে ছিল শুধু জেদের বশে। তবে হ্যাঁ, পল্লব আসার পরে জীবনের একটা মানে খুঁজে পেয়েছিল সে। পল্লবকে সে পাবে না জানে। তাদের দু’জনের মাঝে দুস্তর পারাবার। তবু পাব না জেনেও ভালোবেসে যাওয়ার মধ্যে একটা উদযাপন আছে। একটা দুর্দান্ত বেঁচে থাকা আছে। মরে গেলে তার একমাত্র আফশোস থেকে যাবে সে পল্লবকে বাঁচাতে পারল না!

    এই সব ভাবতে ভাবতে একটু অন্যমনস্ক হয়েছিল রোশনি। সামনে তাকাতে দেখল এর মধ্যেই কোথা থেকে প্রাণীটার তিনটে ছানা বেরিয়ে এসেছে। তারা নেচে নেচে ঘুরে বেড়াচ্ছে। রোশনি যদিও ওদের থেকে বেশ অনেকটাই দূরে আছে তবে এতটাও দূরে নয় যে তাকে ওরা দেখতে পাবে না। কিন্তু রোশনির উপস্থিতিকে ওরা পাত্তাই দিচ্ছে না।

    কী করবে বুঝতে পারছে না রোশনি। বাইকের স্টার্ট বন্ধ করে দিয়েছে অনেকক্ষণ। নতুন করে ইঞ্জিনটা চালু করার সাহস পাচ্ছে না। যদি খেপে গিয়ে বকচ্ছপগুলো তেড়ে আসে! তার কাছে অস্ত্র বলতে একটা পিস্তল। ছোটোবেলায় এনসিসি-তে শেখা বন্দুক চালানো বিদ্যে আইসিস জঙ্গিদের ওপরে কাজে লাগলেও এই বিশাল সিংহীগলের ওপরে কোনও কাজ করবে না বলেই তার ধারণা। সন্তর্পণে বাইক থেকে নেমে বাইকটার আড়ালেই উবু হয়ে বসে পড়ল রোশনি। এরা চলে না যাওয়া অবধি সামনের দিকে এগোনো ঠিক হবে না। এমন সময় তীব্র চিৎকার করে উঠল প্রাণীগুলো। চমকে উঠে রোশনি দেখল, কোত্থেকে বিশাল এক সাপ এসে হাজির হয়েছে।

    ‘অ্যানাকন্ডা ২’ নামে একটা ইংরেজি সিনেমা দেখেছিল রোশনি। সেখানে এক ধরনের লাল অর্কিড খেয়ে বিশাল আকার ধারণ করেছিল সাপগুলো। এই সাপটা সেগুলোর চেয়েও বড়ো। তার চেয়েও বড়ো কথা সাপটার ফণা আছে। বিশাল সেই ফণা তুলে হিংস্র দাঁত বার করে সাপটা ধেয়ে যাচ্ছে আর সিংহীগল তাকে আঘাত করছে তার তীক্ষ্ণ নখর দিয়ে। রোশনি নিশ্চিত হল, সে কোনও এক রূপকথার রাজত্বে এসে পড়েছে। কিন্তু তার চেয়েও বড়ো কথা হল, ঘটনাচক্রে এই দুই যুযুধান যদি একযোগে তাকে আক্রমণ করে তা হলে এখানেই সব শেষ। যতই আশ্চর্য হোক, যতই অলৌকিক ভাবে সে এই রূপকথার দেশে চলে আসুক, তাকে তো এখান থেকে বেরোতে হবে। তাই কালক্ষেপ না করে রোশনি বাইক ছুটিয়ে দিল পেছনের সবুজ উপত্যকার দিকে।

    উপত্যকার ঢালুটা পার করতেই রোশনি দেখল এখানেও নদী। নদীটা কি তবে ঘুরে পেছনে চলে এসেছে? কিন্তু তা কী করে হয়? কত বড়ো নদীটা! রূপকথার রাজত্বের নাম-না-জানা এক নদীর ভৌগোলিক অবস্থান এবং গতিপথ নিয়ে ভাবতে গিয়ে রোশনি অনুভব করল, এই বার তার ভয় লাগতে শুরু করেছে। এ মৃত্যুভয় নয়। এই ভয়ের চরিত্র আলাদা। পল্লবকে চিরকালের মতো হারিয়ে ফেলার ভয়।

    যত সময় গড়াচ্ছে রোশনি বুঝতে পারছে সে বন্দি হয়ে পড়েছে। এই মুহূর্তে একটা নামই মনে এল তার। ভাদুড়ি স্যার। একমাত্র তিনিই এই সংকটে ত্রাতা হতে পারেন। বাইক থেকে নেমে সে পদ্মাসনে বসে পড়ল ঘাসের ওপরে। বিক্ষিপ্ত মনটাকে সংহত করে ভাদুড়িমশায়ের কথা ভাবতে যেতেই জোর একটা ধাক্কা খেল। কেউ যেন চুলের মুঠি ধরে মাথাটা ঠুকে দিল নিরেট দেওয়ালে।

    রোশনি জানতে পারল না ঠিক সেই সময় পল্লবকে না পেয়ে রোশনিকে ভাবতে গিয়ে একই রকম ধাক্কা খেলেন ভাদুড়িমশায়ও। তাঁকে চমকে উঠতে দেখে সমীরণ বললেন, ‘কী হল স্যার?’

    চিন্তাক্লিষ্ট স্বরে ভাদুড়িমশায় বললেন, ‘খুব আশ্চর্য একটা ব্যাপার হল সমীরণ। মানে খুবই আশ্চর্য!’

    অবাক হলেন সমীরণ। ভাদুড়িস্যার ভূয়োদর্শী মানুষ। অনেক দেখেছেন তিনি। সহজে বিস্মিত বা বিচলিত কোনওটাই হন না। কিন্তু এই মুহূর্তে তিনি যুগপৎ বিস্মিত এবং বিচলিত। সমীরণকে প্রশ্ন করতে হল না। তার আগে ভাদুড়িমশায় নিজেই বললেন, ‘আমি পল্লবকে যোগাযোগ করতে পারছি না তার কারণ হয় পল্লব এখন আমার কথা ভাবছে না বা সে অচেতন। কিন্তু রোশনিকে যোগাযোগ করতে পারলাম না তার কারণ এ দুটোর কোনওটাই নয়। আমি সংকেত পাচ্ছি, রোশনি পূর্ণ চেতনায় আছে এবং আমার কথাই ভাবছে কিন্তু আমি তার মনের মধ্যে প্রবেশ করতে পারছি না। আমার অজানা কোনও এক বিপুল শক্তি আমাকে বাধা দিচ্ছে। আমার আর রোশনির মধ্যে দেওয়াল হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’

    ‘কী বলছেন স্যার?’

    ‘হ্যাঁ, সমীরণ। মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমি বড়ো অদ্ভুত জায়গা। সেখানে পদে পদে হাজারও মিথ। মিথ আর মিথ্যের মধ্যে ফারাক শুধু এক সুতোর। ওই সুতোর নাম বিশ্বাস। আমার আন্দাজ, এই মুহূর্তে মানুষের অভিজ্ঞতার বাইরের কোনও এক ডাইমেনশনে রয়েছে রোশনি। কোনও অলৌকিক উপায়ে সেখানে পৌঁছে গিয়েছে সে। কিন্তু বেরিয়ে আসতে পারবে তো? চাইলেও তো আমি কোনও সাহায্য করতে পারব না। রোশনির আর আমার মাঝের দেওয়াল ভাঙার সাধ্যি যে আমার নেই সে ওই এক ঠোক্কর খেয়েই আমি বুঝে গেছি।’

    পল্লব বন্দি হয়ে আছে জঙ্গিদের ক্যাম্পে। রোশনি যাও-বা সেখান থেকে বেরোতে পারল কোনও এক অজানা জায়গায় আটকে পড়ল। এই দু’টি ছেলে-মেয়ের জন্য বড়ো চিন্তায় পড়ে গেলেন ভাদুড়িমশায়।

    চিন্তায় পড়ে গেল রোশনিও। বেশ কয়েক বার চেষ্টা করেও সে ভাদুড়ি মশায়ের সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ স্থাপন করে উঠতে পারল না। যত বারই ভাবতে যাচ্ছে ধাক্কা খাচ্ছে। তবে কি ভাদুড়ি স্যার এখন তার কথা ভাবছেন না, নাকি এই রূপকথার রাজত্ব থেকে মর-মানুষের পৃথিবীতে যোগাযোগ করা যায় না?

    এই কথাটা ভাবতেই কেমন একটা অবসাদ গ্রাস করল রোশনিকে। মনে হল, তার আর কিছু করার নেই, কোথাও যাওয়ার নেই। এখানেই ঘাসের ওপর শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। যতক্ষণে ঘুম ভাঙবে ততক্ষণে এই ঘাসের গালিচা পুরোপুরি ঢেকে ফেলবে তাকে। সেও এই রূপকথার রাজত্বের অংশ হয়ে যাবে। শুধু পল্লবদা তার সঙ্গে থাকলে ভালো হত। দু’জনে বেশ এই ঘাসের সমাধিতে শুয়ে থাকত চিরকাল।

    পল্লবের কথা মনে পড়তেই ঘোরটা কেটে গেল। অবাক হল রোশনি। হঠাৎ এসব মনে হল কেন তার? এগুলো তো তার নিজের ভাবনা নয়। কেউ যেন তার মাথার মধ্যে কথাগুলো বুনে দিচ্ছিল। তখনই একটা ব্যাপার নজরে পড়ায় আতঙ্কে তার হাড় হিম হয়ে গেল। পায়ের দিকে তাকিয়ে সে দেখল, ঘাসগুলো বড়ো হয়ে তার জুতোর কিছুটা ঢেকে ফেলেছে!

    রোশনি বুঝতে পারল, এখানে বেশিক্ষণ বসে থাকলে তার একটু আগের ভাবনাটাই সত্যি হয়ে যাবে। এই ঘাসগুলো জ্যান্ত। এদের মধ্যে একটা স্পন্দন আছে। একটা নীরব অথচ সর্বনাশা বুভুক্ষা আছে। এরা মনের দখল নিতে পারে। অবসাদ বুনে দিতে পারে বুকের ভেতরে। যদি না পল্লব এসে পড়ত তার মাথার মধ্যে তা হলে হয়তো ধীরে ধীরে তার সবটা ঢেকে নিত এই কোমল রাক্ষসের দল। ভালোবাসা তাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। এক লাফে উঠে দাঁড়াল সে। জুতো থেকে টেনে টেনে ছিঁড়ল ঘাসগুলো। জায়গাটা ভালো নয়। যে করে হোক এখান থেকে তাকে বেরোতেই হবে। ফিরতেই হবে পল্লবের কাছে। ভালোবাসার কাছে। জীবনের কাছে।

    নদীর দিকেই বাইক ছোটাল রোশনি। সে খেয়াল করল না একটু দূরে মাটি থেকে বেরিয়ে থাকা একটা কাঁকড়া বিছের হুলসমেত লেজ আবার সড়াৎ করে মাটির ভেতরে ঢুকে গেল। হুলটা একটা প্রমাণ সাইজের মোচার মতো বড়ো আর লেজটা একটা পূর্ণবয়স্ক পুরুষের কবজির চেয়েও মোটা।

    আবারও নদীর পাড়ে এসে বাইক থামাল রোশনি। সামনে নদীর এতটাই বিস্তার যে ও পারে কী আছে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। উলটোনো বাটির মতো আকাশ নেমে এসেছে নদীর ওপরে। দু’দিকেই যত দূরে চোখ যায় সবুজ উপত্যকা আর কিছুটা গিয়ে তার ভাঁজে হারিয়ে গেছে নদী। রোশনি জানে, এই সবুজ প্রান্তর দেখতে যতই নিরীহ এবং চোখ জুড়োনো হোক না কেন আসলে নিঃশব্দ ঘাতক। এই ঘাসে বেশিক্ষণ থাকলেই মাথায় ভিড় করে আসবে মৃত্যুচিন্তা। তার পরে ঘাসগুলো একটু একটু করে জড়িয়ে নিতে শুরু করবে তাকে। কিন্তু ঘাসের ওপরে ছাড়া তো পা রাখারও জায়গা নেই। তার চেয়ে কি নদী পেরোনোর কথা ভাববে? কিন্তু সেটাই বা কী করে সম্ভব?

    হঠাৎই রোশনির চোখ পড়ল নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা অদ্ভুত গাছগুলোর দিকে আর বিদ্যুচ্চমকের মতো একটা ভাবনা উঁকি দিল মাথায়। বাইক থেকে নেমে সে এগিয়ে গেল একটা গাছের দিকে। গাছের নীচে ছড়িয়ে আছে প্রচুর শুকনো পাতা। ডাঁটিগুলো দড়ির মতোই শক্ত আর লম্বা। মোটা কাণ্ডের থেকে অসংখ্য ডাল বেরিয়েছে। তার মধ্যে বেশিরভাগই শুকনো আর নাগালের মধ্যে। সতেজ ডালগুলো তুলনামূলক ওপরের দিকে। একটা শুকনো ডাল ধরে জোরে টান দিতেই সেটা খসে এল।

    আনন্দে লাফিয়ে উঠল রোশনি। এই তো পেয়েছে সে নদী পেরোনোর উপায়। এই ডাল আর পাতা দিয়েই ভেলা বেঁধে নদীতে ভেসে পড়বে সে। এমনিতেও তো বেরোনোর কোনও রাস্তা পাচ্ছে না, তার চেয়ে দেখাই যাক না নদীর স্রোত তাকে কোথায় নিয়ে যায়। লাফিয়ে লাফিয়ে গাছের শুকনো ডালগুলো ভাঙতে শুরু করল সে। ঠিক তখনই তার পেছনে কিছুটা দূরে মাটি ফুঁড়ে উঠে এল সেই কাঁকড়াবিছের হুল। হুলটা একটু-একটু দুলতে শুরু করল তার পরে আচমকাই প্রচণ্ড একটা শব্দ করে মাটি ফেটে গেল। লম্বা একটা চিড় ধরল মাটিতে। সেই শব্দে চমকে পেছন ফিরল রোশনি আর যা দেখল, আতঙ্কে পাথর হয়ে গেল।

    মাটির মধ্যে থেকে উঠে আসছে মানুষের মতো কিছু একটা। কিন্তু সে যে মানুষ নয় এটা নিশ্চিত। পতঙ্গের চোখের মতো দুটো কুতকুতে চোখ আর মুখের জায়গায় বাঁকানো শুঁড়। কনুই অবধি হাত দুটো মানুষের মতোই কিন্তু তারপর কাঁকড়া বিছের দাঁড়া। পা দুটোও মানুষের মতোই কিন্তু কোমর থেকে কাঁকড়া বিছের মতো লেজ বেরিয়েছে। লেজের মাথায় বিষকুম্ভ ঘাতক হুল। সারা শরীর কাঁকড়াবিছের মতো শক্ত কালো খোলসে ঢাকা। আকারে- আয়তনে রোশনির প্রায় দেড়গুণ।

    দীর্ঘশ্বাস ফেলে রোশনি ভাবল, এখানে সবই বকচ্ছপ। কিন্তু আর কিছু ভাবার সময় পেল না সে। বিজাতীয় একটা হুংকার দিয়ে বিছে-মানুষ লাফিয়ে এল রোশনির দিকে আর হাতের দাঁড়া চালিয়ে দিল তার মাথা লক্ষ্য করে। রিফ্লেক্সটা বরাবরই ভালো রোশনির, তাই শেষ মুহূর্তে মাথাটা সরিয়ে নিতে পারল। বিছে-মানুষের দাঁড়া সশব্দে গেঁথে গেল গাছের গায়ে। এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে মৃত্যু অবধারিত। নদীর দিকে ছুট দিতে গেল রোশনি কিন্তু তার আগেই বিছে-মানুষের লেজের আঘাতে ছিটকে পড়ল মাটিতে। ততক্ষণে গাছ থেকে দাঁড়া ছাড়িয়ে নিয়েছে বিছে-মানুষ। সে ধেয়ে এল রোশনির দিকে। দাঁড়া গেঁথে দেওয়ার চেষ্টা করল রোশনির গলায়। আবার ছোটোবেলায় শেখা এনসিসি-র বিদ্যে চলকে উঠল রোশনির রক্তে। জোড়া পায়ে সে একটা লাথি বসিয়ে দিল বিছে-মানুষের পেটে তার পরে এক পাক ঘুরে উঠে দাঁড়িয়ে আবার নদীর দিকে দৌড়ে গেল। বাইকটা বেশ দূরে, তার চেয়ে এই মুহূর্তে নদীতে ঝাঁপ দেওয়াই যুক্তিসংগত। যদিও সে জানে না বিছে-মানুষ সাঁতার জানে কি না তবু তার মনে হল একমাত্র নদীর ওই কাকচক্ষু জলই তাকে বাঁচাতে পারে।

    প্রাণপণে ছুটতে লাগল রোশনি। ওই তো আর কয়েক কদম দূরেই নদী। কিন্তু এ বারও শেষরক্ষা হল না। পায়ে লেজ জড়িয়ে তাকে আবার ফেলে দিল বিছে-মানুষ এবং এক লাফে রোশনিকে টপকে নদীর দিকে পিঠ দিয়ে দাঁড়াল। কুতকুতে চোখ দুটোয় ঝিকিয়ে উঠছে জিঘাংসা। বিজাতীয় গর্জন করে সে যেন রোশনিকে বুঝিয়ে দিতে চাইল, এ দিক দিয়ে পালানোর রাস্তা বন্ধ।

    ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল রোশনি। সে আর বিছে-মানুষ এখন মুখোমুখি। বিছে-মানুষের ঠিক পেছনেই বয়ে চলেছে স্বচ্ছতোয়া নদী। নদীর জলে তার অল্প অল্প দুলতে থাকা লেজ আর হুলের ছায়া পড়ছে। হাতের দাঁড়া দুটো ঘষে নিল বিছে-মানুষ। তার শরীরী ভাষায় এখন জ্বলজ্বল করছে প্রত্যয়। যেন সে জানে অসম এই লড়াইয়ে সেই জিতবে। আবারও একটা গর্জন করে রোশনির দিকে এক পা এগিয়ে এল সে। রোশনি এ বার আর একটুও নড়ল না। একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে একটুও চোখের পাতা না কাঁপিয়ে আচমকাই কোমর থেকে পিস্তলটা বার করে বিছে-মানুষের মুখে গুলি চালিয়ে দিল!

    এই পালটা আক্রমণ অপ্রত্যাশিত। গুলির ধাক্কা সামলাতে না পেরে আর্তনাদ করে উঠল বিছে-মানুষ। টাল সামলানোর চেষ্টা করল কিন্তু পারল না। ঝপাস করে উলটে পড়ল নদীর জলে আর জলে পড়া মাত্রই গুলি খাওয়ার থেকেও চতুর্গুণ আর্তনাদ করে উঠল। চারপাশ কেঁপে উঠল সেই আওয়াজে। এই আওয়াজ চেনে রোশনি। ছোটোবেলায় তাদের পাশের বাড়ির টুম্পাদি গায়ে আগুন দিয়েছিল। গায়ে দাউদাউ আগুন নিয়ে সে ছুটে বেড়াচ্ছিল আর আর্তনাদ করছিল। অবিকল সেই আর্তনাদ। গুলি খাওয়ার আর্তনাদটা ছিল আহত হওয়ার, কিন্তু এই আর্তনাদ মৃত্যুকালীন যন্ত্রণার। স্তম্ভিত হয়ে রোশনি দেখল, নদীর কাকচক্ষু জলের মধ্যে ছটফট করছে বিছে-মানুষ আর অত্যন্ত দ্রুত তার শরীরটা গলে মিশে যাচ্ছে ওই জলেই। উঠে আসছে ঝাঁঝালো ধোঁয়া। রোশনি বুঝতে পারল, ওই মনোলোভা জল আসলে জল নয়, তীব্রতম অ্যাসিড। মানুষের দুনিয়া যে অ্যাসিডের খবর রাখে না।

    বিছে-মানুষকে দেখে রোশনি যত না আতঙ্কিত হয়েছিল তার চেয়েও বেশি আতঙ্কিত হল এটা ভেবে যে আর একটু হলেই সে ওই অ্যাসিডের নদীতে ভেলা ভাসাতে যাচ্ছিল। বিছে-মানুষ তাকে মারতে এসেছিল ঠিকই কিন্তু আসলে সে তাকে বাঁচিয়ে দিয়ে গেল।

    কী ভয়াবহ এই রূপকথার রাজত্ব! যা ভয়ানক দেখতে তা তো ভয়ানকই কিন্তু যা দেখে মনে হয় সুন্দর, আশ্রয়দাত্রী তার আড়ালেও লুকিয়ে আছে কুৎসিত নিঃশব্দ ঘাতক। নদীর দিকে তাকিয়ে রইল রোশনি। একটু আগের ভয়াবহতার চিহ্নমাত্র নেই সেখানে। টলটল করছে অ্যাসিড যা জলের চেয়েও নির্মল। যা দেখলেই ডুব দিতে ইচ্ছে করে!

    এ বার আর কান্না চেপে রাখতে পারল না রোশনি। দু’হাতে মাথার চুল খামচে ধরে চিৎকার করে উঠল সে আর কাঁদতে কাঁদতেই দেখতে পেল মাটি থেকে মাথা তুলছে একের পর এক কাঁকড়াবিছের লেজ, যাদের মাথায় বিষভর্তি হুল।

    শান্তি করে কাঁদতেও দেবে না শুয়োরের বাচ্চাগুলো। মনে মনে গালাগালিটা দিয়েই রোশনি ছুটে গিয়ে লাফ দিয়ে উঠে পড়ল বাইকে। ইঞ্জিনের গর্জন ছাপিয়ে তার কানে এল মাটি ফাটার আওয়াজ। নদীর ধার দিয়ে উপত্যকার দিকে বাইক ছোটাতে ছোটাতে সে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল, পেছনে ছুটে আসছে কালান্তক যমের মতো বিছেমানুষের দল। সংখ্যায় যারা অগুনতি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমৃত জ্যোৎস্নার রাত্রি – অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    Next Article ধুন্ধুমার – তমোঘ্ন নস্কর
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }