Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – সৌভিক চক্রবর্তী

    সৌভিক চক্রবর্তী এক পাতা গল্প667 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    লাপিস লাজুলি – ২০

    ॥ কুড়ি॥

    ফেব্রুয়ারি, বর্তমান কাল

    ‘মরুর মুক্তো’ পালমাইরা। কিন্তু সেই মুক্তো ভেঙে টুকরো-টুকরো করে দিয়েছে আইসিস। পালমাইরার ধ্বংসাবশেষের দিকে তাকিয়ে চোখে জল এসে গেল অপালার। সঞ্জয় বুঝতে পারল, ঠিক কতটা কষ্ট হচ্ছে অপালার। সে শক্ত করে অপালার হাত চেপে ধরল। তাকি আল তুসি বললেন, ‘নতুন শাসক সব সময় ইতিহাসকেই টার্গেট করে। ইতিহাস মুছে না দিলে সে যে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ হবে কী করে?’

    দাঁতে দাঁত চেপে অপালা বলল, ‘আমার হাতে যদি ক্ষমতা থাকত আমি প্রত্যেকটা আইসিস জঙ্গিকে গুলি করে মারতাম। এরা নরকের কীটের চেয়েও অধম।’

    তাকি সাহেব বললেন, ‘এরা শেষ হবে না অপালা। আইসিস না থাকলে অন্য কিছু থাকবে। এই আনরেস্টটা আসলে জিইয়ে রাখতে হবে। নয়তো বিশ্ব রাজনীতি অচল হয়ে পড়বে। আমি তোমাকে বলছি, মধ্যপ্রাচ্যের বাতাস আবার ভারী হচ্ছে। গভর্নমেন্ট পাত্তা দিচ্ছে না কিন্তু তলায় তলায় আইসিস আবার শক্তি সংগ্রহ করছে। অ্যাটাক শুরু হলে তখন সবাই মিলে নাকে কান্না কাঁদবে।’

    সঞ্জয়ের খুব বলতে ইচ্ছে করছিল যে তাদের দুই বন্ধুও এই মুহূর্তে কোনও এক আইসিস ক্যাম্পে বন্দি। কিন্তু বলল না। সমীরণ বসাক পইপই করে বারণ করে দিয়েছেন যত কাছের লোকই হোক না কেন এই ইনফরমেশন শেয়ার করা যাবে না। তাকি সাহেব আবারও বললেন, ‘২০১২-১৩ থেকেই তো আঁচ পাওয়া যাচ্ছিল যে আইসিসের উত্থান হবে। তখন তো গভর্নমেন্ট নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছিল। অবশ্য এদের নিজেদের মধ্যেই এত আকচাআকচি এরা মিলিট্যান্টদের আটকাবে কী করে? মাঝখান থেকে নিরীহ মানুষ মরবে। বাচ্চারা অনাথ হবে আর একের পরে এক ঐতিহাসিক নিদর্শন ধ্বংস হবে। ২০১৫-র আগে এই পালমাইরা যে কত সুন্দর ছিল ভাবতে পারবে না। আমি কত বার এসেছি এখানে। প্রত্নতাত্বিক খালেদ আল আসাদ ছিলেন পালমাইরার গর্ব। আহ! বাঘের বাচ্চা ছিল লোকটা।’

    অপালা বলল, ‘আমি ওঁর ছবি দেখেছি। লেখাও পড়েছি।’

    সঞ্জয় বলল, ‘ছিল বলছেন কেন? উনি আর নেই?’

    তাকি সাহেব আর অপালা একসঙ্গে মাথা নাড়ল। তাকি সাহেব বললেন, ‘নাহ। নেই। পনেরো সালটা খুব খারাপ একটা বছর। মসুল লাইব্রেরিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার পরে আগস্ট মাসে পালমাইরার বালামিশন মন্দির উড়িয়ে দিয়েছিল আইসিস। সেই ছবি তারা প্রকাশ করেছিল ইন্টারনেটে। তখন থেকেই ফাঁকা হতে শুরু করেছিল এলাকা। এর পরে জঙ্গিরা এক এক করে বেল মন্দির, এলাহবেল টাওয়ার, বিখ্যাত আর্চ অব ট্রায়াম্ফ, রোমান থিয়েটার, টেট্রাপাইলন সব গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। এর পরে ওরা নজর দিয়েছিল পালমাইরা জাদুঘরের দিকে। ব্যাপক লুঠতরাজ চালিয়েছিল। অসংখ্য আর্টিফ্যাক্টস ওরা বিক্রি করে দিয়েছিল ইউরোপ, আমেরিকা, আরবের ধনকুবেরদের কাছে। ওরা বুঝে গেছিল, এই সব প্রাচীন নিদর্শন মোটা ডলারে বিকোয়। এই রকম অবস্থায় সবাই যখন পালিয়ে যাচ্ছে খালেদ আল আসাদ রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। কিছুতেই পালমাইরা ছেড়ে যেতে চাননি। ওঁর কাছে পালমাইরায় লুকোনো সোনার হদিশ চেয়েছিল জঙ্গিরা।’

    অবাক হয়ে সঞ্জয় বলল, ‘পালমাইরায় লুকোনো সোনা আছে?’

    মৃদু হেসে তাকি সাহেব বললেন, ‘কত পুরোনো শহর এই পালমাইরা। আনাতোলিয়ার মধ্যমণি। সুমেরদের সঙ্গে এদের বাণিজ্য হতো। অনেক পরে রোমানরা এর দখল নেয়। ফলে এখানে প্রচুর রোমান স্থাপত্যও ছিল। এত বছর ধরে যে শহর ইতিহাসকে ধারণ করে আছে সেখানে গুপ্তধন থাকাটা কি অস্বাভাবিক?’

    সঞ্জয় বলল, ‘খালেদ সাহেব সেই গুপ্তধনের সন্ধান জানতেন?’

    তাকি সাহেব বললেন, ‘আমার মনে হয় জানতেন। কারণ আমি এক বার তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম এ ব্যাপারে। তিনি বলেছিলেন, কী দরকার ও সবের খোঁজে? ঘুমন্ত মিথকে জাগাতে নেই। বুঝেছিলাম, তিনি এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইছেন না। আমি আর জোর করিনি। কিন্তু আইসিস জঙ্গিরা তো শুধু জবরদস্তি করতেই জানে। ওরা চূড়ান্ত অত্যাচার করেছিল অশীতিপর এই বৃদ্ধের ওপর। তাতেও আসাদ সাহেবের মুখ দিয়ে একটা কথাও বার করতে পারেনি ওরা। তখন ওরা তাঁকে খুন করে।’

    ‘যেমন-তেমন খুন নয় সঞ্জয়,’ তাকি সাহেবের কথা ধরে বলল অপালা, ‘ভয়াবহ খুন। ওরা প্রথমে আসাদ সাহেবের গলা কেটে ফেলে। তার পরে পালমাইরার সেন্ট্রাল স্কোয়্যারের একটা স্তম্ভে সেই গলাকাটা দেহটা ঝুলিয়ে মাথাটা ঝুলিয়ে দেয় দুই পায়ের মাঝে। কয়েকশো লোকের সামনে এই ঘটনাটা ঘটিয়েছিল ওরা।’

    ‘কী ভয়ংকর,’ অস্ফুটে বলল সঞ্জয়।

    পালমাইরার ধ্বংসাবশেষের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল অপালা, ‘এখানে এসে আমি খুব ট্রমাটাইজড হয়ে গেলাম। জানেন স্যার, তখন আমার দশ-এগারো বছর বয়েস। ২০০১ সাল। সে বছর বামিয়ানের বুদ্ধমূর্তি ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছিল তালিবানরা। আগের মূর্তি আর বিস্ফোরণের পরের ছবি দুটো পাশাপাশি ছাপা হয়েছিল কাগজে। সঞ্জয়, পারলে দেখো ছবিটা। ইন্টারনেটে আছে। বামিয়ান’স বুদ্ধ লিখে সার্চ দিলেই দেখতে পাবে। দেখো, কী ভয়াবহ এক শূন্যতা। যেন হৃৎপিণ্ড উপড়ে নেওয়ার পরের ক্ষত দগদগ করছে। আমার কী হয়েছিল আমি জানি না, সেই ছোটোবেলায় ছবিটা দেখে আমি অজ্ঞান হয়ে গেছিলাম। ওই অন্ধকার শূন্যতাটা আমার বুকের মধ্যে ঢুকে গেছিল। আমি খেতে পারতাম না। ঘুমোতে পারতাম না। সারাক্ষণ ওই গহ্বরটা আমাকে তাড়া করত। অনেক দিন লেগেছিল ওই ট্রমা কাটাতে। আজ আবার সেই ছবিটার কথা মনে পড়ে গেল।’

    অপালার চোখ দিয়ে একফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল আর আবারও এক বার প্রচণ্ড ভাবে অপালার প্রেমে পড়ে গেল সঞ্জয়। এমন একটি মেয়েকে ভালোবাসতে পারার জন্যই তো হাজার বার পুরুষ জন্ম নেওয়া যায়। তার জন্ম সার্থক যে অপালার মতো মানুষ তাকে ভালবেসেছে।

    অপালাকে সামলে নেওয়ার জন্য একটু সময় দিলেন তাকি সাহেব। তার পর বললেন, ‘চলো এগোনো যাক। আমাদের একটু হাঁটতে হবে।’

    পালমাইরার ধ্বংসাবশেষের মধ্যে দিয়ে তিন জন এগিয়ে চলল ইনান্না মন্দিরের দিকে। শীতকাল হলেও এখানে বেশ গরম। রোদ পড়ে এলেও গরম কমেনি। হু-হু করে হাওয়া দিচ্ছে ঠিকই কিন্তু গরম হাওয়া। তাকি সাহেব বলেছিলেন, ‘পালমাইরায় কিন্তু বেশ গরম। আগে বলা হতো এই এলাকায় না কি এত গরম যে কাঁকড়াবিছেও বাঁচে না।’

    গতকাল রাতে ফোন পেয়েই তাকি সাহেব এসে উপস্থিত হয়েছিলেন ওদের হোটেলে। অপালা একটা কাগজে স্পষ্ট করে লিখে রেখেছিল সংকেতের উদ্ধারটা। সেটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে বসেছিলেন তাকি সাহেব তার পরে অপালা আর সঞ্জয়ের মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন, ‘আল্লাহ আছেন। আমি ঠিক মানুষের সন্ধান পেয়েছি। আমি এত বছরে যা পারিনি তোমরা এক রাতে তার সমাধান করে দিয়েছ। সত্যিই পালমাইরায় একটা প্রাচীন ইনান্না মন্দির আছে। সৌভাগ্যবশতঃ আইসিস সেটা ধ্বংস করেনি।’

    অপালা বলেছিল, ‘দাদু হেল্প না করলে আমরা পারতাম না স্যার। এর নাইন্টি পারসেন্ট ক্রেডিট কিন্তু দাদুর।’

    ‘তোমার দাদু মানে মিস্টার ভাদুড়ি?’

    ‘ইয়েস স্যার।’

    ‘বেক সাহেব আমাকে ওঁর কথা বলেছেন। হি ইজ আ মায়েস্ত্রো।’

    ‘ইনডিড। আমি দাদুর সঙ্গে আপনার আলাপ করাতে চাই। দেবীর দণ্ড উদ্ধার হলে সেটা এক বারের জন্য হলেও দাদুর কাছে নিয়ে যেতে হবে। তখনই আপনাদের আলাপ হয়ে যাবে।’

    মাথা নেড়েছিলেন তাকি সাহেব, ‘নিশ্চয়ই’, তার পরে বলেছিলেন, ‘এ বার আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে হবে। আমাদের পালমাইরা যেতে হবে। লাগেজ গুছিয়ে নাও। আজ রাতেই আমরা সিরিয়া যাব।’

    প্রভাব খাটিয়ে অত্যন্ত দ্রুত সিরিয়া যাওয়ার অনুমতি এবং এয়ার টিকিটের বন্দোবস্ত করে ফেলেছিলেন তাকি সাহেব। ভাদুড়িমশায়কে সবটা ফোনে জানিয়ে রওনা দিয়েছিল ওরা। দামাস্কাসে নেমে দুপুরের মধ্যেই ওরা পৌঁছে গিয়েছে পালমাইরায়। হোটেলে চেক ইন করেই চলে এসেছে মূল জায়গায়। পালমাইরার ধ্বংসাবশেষ এখন ইউনেস্কোর হেরিটেজ প্রপার্টি। এখানে যত্রতত্র ঘুরে বেড়ানো নিষিদ্ধ। কিন্তু তাকি সাহেবের দৌলতে সে সবের কিছুতেই কোনও সমস্যা হয়নি। হাঁটতে হাঁটতে তাকি সাহেব বলছিলেন, ‘পালমাইরা কিন্তু একটা ওয়েসিসের মধ্যে অবস্থিত। এর চার দিকেই মরুভূমি। সিরিয়ান ডেজার্ট।’

    সঞ্জয় বলল, ‘সেই জন্যই এত গরম। অপালা তোমার কষ্ট হচ্ছে না তো?’ অপালা কিছু বলার আগেই তাকি সাহেব বললেন, ‘এসেই গেছি। আর একটু।’

    মিনিট পাঁচেক হাঁটার পরেই ওরা তিন জন এসে পৌঁছোল একটা বালিয়াড়ির সামনে। অনতিদূরেই একটা প্রাচীন কাঠামোর ধ্বংসাবশেষ। আঙুল দেখিয়ে তাকি সাহেব বললেন, ‘ওইটা। ইনান্না বা ইশতারের মন্দির। আমি নিশ্চিত গিয়াসুদ্দিন এই মন্দিরের কথাই বলতে চেয়েছেন। কারণ প্রাচীন ইনান্না মন্দির পালমাইরায় এই একটিই আছে।’

    অবাক হয়ে সেদিকে তাকিয়ে রইল সঞ্জয় আর অপালা। পালমাইরার প্রবেশপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে বলেই হয়তো এই মন্দিরের সামনে আলাদা করে কোনও নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। পর্যটকেরাও খুব একটা এ দিকে আসেন না বোধ হয়। বড্ড নির্জন চারদিকটা। শনশন করে হাওয়া দিচ্ছে। সে ছাড়া আর কোনও শব্দ নেই।

    বিজ্ঞানের ছাত্র সঞ্জয়। কোনও দিনই ইতিহাস নিয়ে তেমন মাথা ঘামায়নি। কিন্তু আজ এই প্রাচীন মূর্তিমান ইতিহাসকে চোখের সামনে দেখে তার গা ছমছম করে উঠল! কেমন যেন একটা অদ্ভুত অনুভূতি হল! জীবনের কিছুটা সময় সে মামা লোকনাথ চক্রবর্তীর সঙ্গে কাটিয়েছে, দীর্ঘ দুই দশক ধরে গেনু বার বার তার ক্ষতি করতে চেয়েছে আর মামি তাকে রক্ষা করেছে। অলৌকিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আর পাঁচ জনের চেয়ে তার অনেকটাই বেশি হয়েছে। তার মনে হল, প্রাচীন এই মন্দিরটা যেন খুব জ্যান্ত। দূর থেকেই একটা সূক্ষ্ম স্পন্দন অনুভব করতে পারল সে। স্থানমাহাত্ম্য বলে একটা কথা আছে। এই মন্দির সেই স্থানমাহাত্ম্যে ভরপুর। তাকি সাহেব বললেন, ‘চলো ভেতরে যাওয়া যাক।’

    বাইরে থেকে মন্দিরের মূল কাঠামো কেমন ছিল সে আজ আর বোঝার উপায় নেই। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মন্দিরটা যে বেশ কয়েক বার সংস্কার হয়েছে সেটা বোঝা যায়। বড়ো বড়ো বিম দিয়ে ভেঙে পড়তে চাওয়া অংশগুলোকে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। প্রবেশপথে নতুন লোহার স্ট্রাকচার। কয়েক ধাপ সিঁড়ি আছে মূল দরজায় যাওয়ার জন্য। সিঁড়িগুলো সবটাই প্রায় ভাঙা। ভাঙা জায়গাগুলোয় বোল্ডার দিয়ে ওঠার পথ করা হয়েছে। অপালা বলল, ‘ইউনেসকো খুবই ভালো রেনোভেশন করেছে। এখনও পুরোনো ফিলটা পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের দেশে এ সবের বালাই নেই।’

    কৌতূহলী চোখে তাকালেন তাকি সাহেব। অপালা বলল, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য স্যার। আমাদের দেশে কেউ ইতিহাস সংরক্ষণের গুরুত্ব বোঝে না। পুরোনো বাড়ি পেলেই এরা ভেঙে ফেলে আর মন্দিরগুলোতে নতুন স্ট্রাকচার তুলে, রং করে এমন অবস্থা করে ফেলে যে পুরোনো এসেন্সটাই চলে যায়। সৌন্দর্যায়ন করতে গিয়ে এমন হতকুচ্ছিত করে তোলে যে কহতব্য নয়। আসলে সুন্দরের ধারণাটাই বোধ হয় পালটে গেছে আজকাল।’

    বলতে বলতেই সিঁড়ি দিয়ে উঠে মূল দরজার সামনের ছোটো চাতালটায় এসে দাঁড়াল ওরা তিন জন। তাকি সাহেব আগে ভেতরে ঢুকে গেলেন। অপালা ঢুকতে যেতেই সঞ্জয় বলে উঠল, ‘জুতোটা খুলে ঢোকো অপালা।’

    অবাক চোখে তাকাল অপালা। সঞ্জয় বলল, ‘যতই আর্কিওলজিক্যাল সাইট হোক না কেন আসলে তো এটা দেবীর মন্দির। আমার কেন জানি না মনে হচ্ছে এই মন্দির খুব জাগ্রত।’

    সঞ্জয়ের কথাটা অমান্য করল না অপালা। জুতো জোড়া খুলেই পা রাখল মন্দিরের ভেতরে। বিশাল হলঘর। অদ্ভুত নকশাকাটা বিশাল বিশাল চৌখুপি পাথরের মেঝে। পাথরের চাঁই জুড়ে জুড়ে বানানো দেওয়াল। দীর্ঘকায় সব পাথুরে গম্বুজ উঠে গেছে ছাদ পর্যন্ত। সেইসব গম্বুজ এবং দেওয়ালের গায়ে আঁকা বিবিধ বিচিত্র সব ছবি। ইলেকট্রিকের আলো জ্বলছে ভেতরে। সঞ্জয় গুনল, মোট ন’টা স্তম্ভ পাথরের ছাদটা ধরে রেখেছে। যদিও প্রায় সবক’টা স্তম্ভেই সময় থাবা বসিয়েছে তবু একেবারে গুঁড়িয়ে যায়নি সেগুলো। অপালা বলল, ‘দেখো সঞ্জয় প্রত্যেকটা স্তম্ভেই কিউনিফর্ম লিপিতে নম্বর লেখা আছে। ১ থেকে শুরু করে ৯ অবধি।’

    ‘১ থেকে ৯। গণিতজ্ঞ গিয়াসুদ্দিনের একেবারে পছন্দসই জায়গা,’ মনে মনে বলল সঞ্জয়।

    বিপুলায়তন কক্ষের শেষ প্রান্তে একটা বড়ো বেদি। বেদির ওপরে পাথরের একটা স্ল্যাব লম্বালম্বি ভাবে বসানো। ওরা এগিয়ে গেল বেদিটার দিকে। বেদিটা মোটামুটি অটুট থাকলেও পাথরের স্ল্যাবটা ক্ষয়ে গিয়েছে কালের নিয়মে। স্ল্যাবের ওপরে খোদিত আছে দেবী ইনান্নার মূর্তি। যদিও অস্পষ্ট তবু বোঝা যায়, দেবী সিংহবাহিনী। দেবীর দুই হাত। এক হাতে ধরে আছেন সেই বিখ্যাত দণ্ড, অন্য হাতে ধরা সিংহের গলার কণ্ঠবন্ধনী। স্ল্যাবের নীচের বেদিটাও পাথরের টুকরো জুড়ে জুড়ে বানানো। সেই সব টুকরোগুলোতেও কিউনিফর্ম লিপিতে নানা কিছু লেখা। বেদির পেছনে একটা নাতিউচ্চ দরজা। কালের নিয়মে কপাটহীন। দরজার দিকে হাত দেখিয়ে সঞ্জয় জিজ্ঞেস করল, ‘ওটা বোধ হয় গর্ভগৃহ তাই না স্যার?’

    মাথা নেড়ে তাকি সাহেব বললেন, ‘উঁহু। ওটা সিংহের গুহা।’

    আঁতকে উঠল সঞ্জয়, ‘সিংহের গুহা!’

    অপালা বলল, ‘হ্যাঁ। সিংহ যেহেতু দেবীর বাহন তাই ইনান্নার মন্দিরে সিংহ পোষা হত। সিংহটা থাকত মন্দিরের ভেতরেই। দেবীর উপাসকেরা বিশ্বাস করতেন দেবী সিংহের পিঠে চেপে ঘুরতে বেরোন।’

    আবারও গা ছমছম করে উঠল সঞ্জয়ের। তার মনে হল, দেবী এখনও এই মন্দিরে অধিষ্ঠান করেন। এখনও তিনি সিংহের পিঠে চড়ে ঘুরতে বেরোন। তিনি কি তাঁর আলয়ে এই অবাঞ্ছিত অতিথিদের পছন্দ করবেন? হাত দুটো বুকের কাছে জড়ো করে সে মনে মনে বলল, ‘দোষ নিয়ো না মা। বড়ো বিপদে পড়ে এখানে আসতে হয়েছে।’

    তিতাসের ওপরে দেবীর ভয়ংকরী শক্তির প্রয়োগ করা হয়েছে। মনে মনে দেবীর শুভঙ্করী শক্তিকে আভূমি প্রণাম জানাল সঞ্জয়। মুখে বলল, ‘অপালা, আমার মনে হয় সময় নষ্ট না করে আমাদের সার্চটা শুরু করে দেওয়া উচিত।’

    ঘাড় নেড়ে তাকি সাহেবের দিকে তাকিয়ে অপালা বলল, ‘স্যার আপনি বলুন কী ভাবে শুরু করব?’

    আশপাশটা একবার দেখে নিয়ে তাকি সাহেব বললেন, ‘এই কাজটা আমাকে আর অপালাকেই করতে হবে। কারণ কিউনিফর্ম লিপি সঞ্জয় বুঝবে না। অপালা, আমি এই বেদিটা দিয়ে শুরু করছি। তুমি থামগুলো দেখো। এই ট্যাবলেটগুলোয় মূলত দেবী বন্দনা, গিলগামেশের উপাখ্যান এই সবই লেখা থাকার কথা। এর বাইরে অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়লেই আমাকে জানাও। আমার মন বলছে, আজই আমরা দ্বিতীয় সূত্রটা খুঁজে পাব।’

    ব্যাগ থেকে সার্চলাইট লাগানো স্ট্র্যাপ বার করে কপালে বেঁধে নিলেন তাকি সাহেব আর অপালা। অপালা চলে গেল প্রথম থামটার কাছে। তাকি সাহেব উবু হয়ে বসে পড়লেন বেদিটার সামনে। সঞ্জয় চলে এল মন্দিরের বাইরের চাতালটায়। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সূর্য অস্ত যাবে। আকাশটা হলুদ হয়ে এসেছে। এখনও আর অতটাও গরম লাগছে না। হাওয়াটাও কেমন যেন মিঠে হয়ে এসেছে। কাল রাত থেকে ছোটাছুটি হচ্ছে। কিন্তু এই হাওয়ায় ক্লান্তিটা কেটে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। এমন সময় সঞ্জয়ের কানে ভেসে এল আজানের সুর। কাছেই কোনও এক মসজিদে আসরের নমাজ পড়া হবে। তারই ডাক পাঠানো হচ্ছে। মিঠে বাতাসের পিঠে ভর দিয়ে সেই মিঠে সুর ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। বুকটা ভরে গেল সঞ্জয়ের। মনে হল, যে ধর্মে ঈশ্বরকে ডাকার সুর এমন প্রাণকাড়া সেই ধর্মই মানুষ মারে কী করে? কী করে ধ্বংস করে দেয় পালমাইরা? কী করে উপড়ে ফেলে বামিয়ানের বুদ্ধমূর্তি? ছোটোবেলায় পড়েছিল, ইসলাম মানে শান্তি। তা হলে সেই শান্তির ধর্মকে এমন রক্তলোলুপ, বীভৎস, ভয়াবহ, আতঙ্কময় করে তুলল কারা? কাদের জন্য দেশের সাধারণ মুসলমানকেও বার বার বলতে হল, ‘অ্যান্ড আই অ্যাম নট আ টেররিস্ট!’ আবারও হাতজোড় করল সঞ্জয়। প্রাচীন ইতিহাসের বুকের মধ্যে দাঁড়িয়ে, হলুদ হয়ে আসা আকাশের দিকে তাকিয়ে সে বলল, ‘হে পরম করুণাময়, তুমি ঈশ্বর, আল্লা, যিশু, বুদ্ধ, ইনান্না যেই হও না কেন, ধর্ম নিয়ে যারা বেসাতি করে, ধর্মের গায়ে যারা কালি মাখায়, ধর্মকে যারা ধ্বংসের হাতিয়ার করে তাদের যেন তুমি ক্ষমা কোরো না।’ একটা ঘোরের মধ্যে চলে গিয়েছিল সঞ্জয়, অপালার চিৎকারে সাড় ফিরল। অপালা চিৎকার করে ডাকছে, ‘সঞ্জয়, শিগগির ভেতরে এসো। উই গট ইট।’

    গট ইট! তার মানে গিয়াসুদ্দিনের দ্বিতীয় সূত্র খুঁজে পেয়ে গেছে ওরা! হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুকল সঞ্জয়। দেখল, বেদির সামনেটায় উবু হয়ে বসে আছেন তাকি সাহেব আর অপালা। দু’জনের শরীরী ভাষায় উত্তেজনার ছাপ স্পষ্ট। দৌড়ে গিয়ে ওদের পাশে বসে পড়তেই সঞ্জয়কে জড়িয়ে ধরল অপালা, ‘সঞ্জয়! আমরা খুঁজে পেয়ে গেছি। এই দেখো।’

    বেদির গায়ের একটা পাথরের ট্যাবলেটের দিকে নির্দেশ করল অপালা। সেটার ওপর আলো ফেলে আছেন তাকি সাহেব। সঞ্জয় দেখল, খোদাই করে আরবিতে কীসব লেখা তাতে। পুরোটাই তার মাথার ওপর দিয়ে গেল। সে বলল, ‘কী করে বুঝলে এটাই?’

    অপালা বলল, ‘কারণ এটায় স্পষ্ট করে লিখে দেওয়া আছে, ‘দ্বিতীয় সূত্র। গিয়াসুদ্দিন আল তুসি।’ আমার বিশ্বাস, গিয়াসুদ্দিন নিজের হাতে এই ট্যাবলেট বসিয়েছিলেন। এখানে তিনি কিউনিফর্ম ছেড়ে তাঁর নিজের ভাষায় ফিরেছেন। এবং সেটা করেছেন খুঁজে পাওয়ার সুবিধের জন্যই।’

    সঞ্জয় বলল, ‘স্বয়ং দেবী ইনান্নাও চান তাঁর দণ্ড আমরা খুঁজে পাই। নয়তো এত বছর ধরে যে জিনিস অধরা, যা কিনা মিথ হয়ে গেছিল, আমরা এত দ্রুত তার এত কাছে চলে এলাম!’

    ‘এতটা আনন্দ পেয়ো না সঞ্জয়,’ গম্ভীর গলায় তাকি সাহেব বললেন, ‘সূত্রটা পেয়েছি মাত্র। কিন্তু আমার মন বলছে এই সংকেত আগেরটার চেয়েও দুরূহ হবে। এই সংকেত ভাঙতে আমাদের মাথার ঘাম পায়ে পড়বে।’

    তাকি সাহেবের বলার মধ্যে কিছু একটা ছিল। একটু দমেই গেল সঞ্জয়।

    ***

    লজিক্যাল রিজনিং সঞ্জয়ের বরাবরের প্রিয় বিষয়। যত কঠিন সমস্যা সঞ্জয়ের তত আনন্দ। বন্ধুরা যে প্রবলেমগুলো নিয়ে হিমশিম খেত সেগুলো অবলীলায় সলভ করে দিত সে। পল্লব বলত, ‘নেটে তো সঞ্জয় এমনিই জেআরএফ পেয়ে যাবে। ও তো ফার্স্ট পেপারেই ফুল মার্কস। সবাই তিনটে পেপার মিলিয়ে যা নম্বর পাবে সঞ্জয় একটা পেপারেই সেই নম্বর তুলে নেবে।’

    মনে মনে সেই নিয়ে বেশ গর্ব ছিল সঞ্জয়ের কিন্তু আজ গিয়াসুদ্দিনের সূত্রটা হাতে নিয়ে বসে গর্বের সেই ফানুস চুপসে একেবারে ন্যাতা হয়ে গেছে। গিয়াসুদ্দিনের এই সূত্র বা সংকেত আসলে একটা ‘নাম্বার সিরিজ’। অনেকগুলো সংখ্যা পর পর সাজানো আছে। শুধু শুরুর সংখ্যাটা নেই। সেই সংখ্যাটা খুঁজে বার করাই চ্যালেঞ্জ। গণিতজ্ঞ গিয়াসুদ্দিন তাঁর গণিতের জ্ঞান দিয়ে একেবারে পেড়ে ফেলেছেন পদার্থবিদ, লজিক্যাল রিজনিং-এর মাস্টার সঞ্জয়কে। আরবি থেকে অপালা যে পাঠোদ্ধার করেছে তাতে জিনিসটা এমন দাঁড়িয়েছে:

    ‘*, ৪, ৬

    ৬, ১০, ১৫

    ২, ৮, ১৩, ২১, ৩৪, ৫৫

    ৫, ৭, ১১, ১৭’

    এই অদ্ভুত, বদখৎ সিরিজটায় একটা সংখ্যা কম আছে যেটা ওই তারা চিহ্ন দেওয়া জায়গাটায় বসবে আর তা হলেই সিরিজটা সম্পূর্ণ হবে। লিপির পাঠোদ্ধার করার পরে তাকি সাহেব এবং অপালা দু’জনেই হাত তুলে নিয়েছে। তাকি সাহেব বলেছেন, ‘স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে সংস্কৃত ভাষা ছেড়ে গিয়াসুদ্দিন এবার গণিতের দিকে ঝুঁকেছেন। ওই জন্যই দিনলিপিতে বার বার করে লিখেছিলেন, সংকেত উদ্ধারের একমাত্র চাবিকাঠি বুদ্ধিমত্তা। ওঁর মতোই বুদ্ধিমান কাউকে দরকার এই সংকেত ভাঙতে, ভাষা থেকে গণিত সব বিষয়ে যার অনায়াস বিচরণ। তবে আবারও বলি, ঈশ্বর আমাদের সহায়। কোনও এক জন না হলেও তিন জন মিলে আমরা এমন একটা দল তৈরি হয়েছি যেখানে আমি আর অপালা ভাষাজ্ঞানে দক্ষ আর সঞ্জয় বিজ্ঞানে, গণিতে। আমাদের কাজ শেষ সঞ্জয়। এ বার তোমার পালা। গণিতের অন্ধিসন্ধি আমি জানি না। অপালারও জানার কথা নয়। কিন্তু তুমি জানো। তোমাকেই উদ্ধার করতে হবে ওই বিশেষ সংখ্যাটা।’

    সঞ্জয় বুঝতে পারছে, অপালা আর তাকি সাহেব দু’জনেই তার মুখ চেয়ে বসে আছে কিন্তু গত ছ’-সাত ঘণ্টা ধরে মাথা খুঁড়েও সে কোনও দিশা খুঁজে পায়নি। বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখল, অপালা ঘুমিয়ে পড়েছে। টেবিলে ছড়িয়ে থাকা কাগজগুলো গুটিয়ে উঠে পড়ল সে। এক ঢোঁক জল খেল তার পরে এসে দাঁড়াল কাচের জানলার সামনে। জানলায় ঝুলছে ভারী পর্দা। সেটা সরিয়ে দিতেই অপার্থিব এক দৃশ্যের সাক্ষী হল সঞ্জয়। বিলাসবহুল এই হোটেলটা মরুভূমির মাঝে। জানলা দিয়ে যত দূরে চোখ যায় ধু-ধু করছে মরুভুমি। আর সেই বালির সমুদ্র ভেসে যাচ্ছে চাঁদের আলোয়। জানলাটা খুলে দিল সঞ্জয়। এক ঝলক হিমেল হাওয়া দুরন্ত শিশুর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল ঘরের ভেতরে। সে হাওয়ায় উড়ে গেল টেবিলে রাখা কাগজগুলো। সেগুলোকে ধরার চেষ্টাও করল না সঞ্জয় কিন্তু অপালার ঘুমটা ভেঙে গেল। ঘুমচোখে সে দেখল, সঞ্জয় উদাস হয়ে জানলার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। অবাক হয়ে সে বলল, ‘এ কী! ওখানে দাঁড়িয়ে আছ কেন?’

    উত্তর না দিয়ে হাতছানি দিয়ে তাকে ডাকল সঞ্জয়। বিছানা থেকে উঠে এসে সঞ্জয়ের পাশে দাঁড়াতেই অপালাও থমকে গেল। এই অদ্ভুত, বিশাল, নির্বাক সৌন্দর্য তাকে চিত্রার্পিত করে তুলল। চরাচরব্যাপী এই শূন্যতা যেন এক লহমায় ফাঁকা করে দিল তার বুকের ভেতরটা। অপালা বুঝতে পারল, মানুষের বুকের মধ্যেও ঠিক এমন একটা চাঁদের সর পড়া নিঝুম মরুভূমি আছে। যেখানে শুধু ভয়ংকর সুন্দর এক অনন্ত শূন্যতা বিরাজ করে। যেখানে একা থাকতে ভয় করে, দম আটকে আসে। তাই সারা জীবন ধরে মানুষ অন্য মানুষের হাত ধরতে চায়। জড়িয়ে জাপটে বাঁচতে চায়। সঞ্জয়ের হাতটা আঁকড়ে ধরল অপালা। তার পরে ধীরে ধীরে মুখটা গুঁজে দিল সঞ্জয়ের বুকে। একটা মানুষের পক্ষে আর একটা মানুষকে যতটা জড়িয়ে নেওয়া সম্ভব সঞ্জয় ঠিক ততটাই জড়িয়ে ধরল অপালাকে। হাত রাখল তার এলোমেলো চুলে। মুখ তুলল অপালা। বলল, ‘খুব ভয় করে।’

    ‘কীসের ভয় অপু?’

    ‘তিতাস কেমন করে ছেড়ে চলে গেল পল্লবকে।’

    ‘ও তো স্বেচ্ছায় যায়নি।’

    ‘তবু তো গেছে। এই চলে যাওয়াটাই সত্যি। অমিয় আর তিতাসের সম্পর্কও আর কোনও দিন ঠিক হবে কি না কেউ জানে না। তুমি চলে যাবে না তো আমায় ছেড়ে?’

    ‘কোথায় যাব বলো তো? তবে একটা কথা বলি তোমায়, তিতাস ফিরে আসবে অপু। আমরা তিতাসকে ফিরিয়ে আনব।’

    ‘আর পল্লব?’

    ‘ওকে তো ফিরতেই হবে। পল্লব না থাকলে আমারও যে অস্তিত্ব নেই। ও যে আমার প্রিয়তম বন্ধু। আমি, তুমি, পল্লব, তিতাস, অমিয়, মিতুল, পালদা আমরা সবাই আবার স্যারের বাড়িতে একজোট হব। তুমি দেখে নিয়ো। আমাদের এত দূরে আসা মিথ্যে হবে না।’

    ‘তাই যেন হয়,’ সঞ্জয়ের হাতের ওপরে মাথা রেখে মরুভূমির দিকে তাকিয়ে রইল অপালা। সঞ্জয়ও তাকিয়ে রইল সে দিকে। চাঁদের আলো আরাম দিতে লাগল ওদের ভেজা চোখে। ওরা জানতেও পারল না, ঠিক একই ভাবে এই মরুভূমিরই অন্য কোনও প্রান্তে তাঁবুর জানলা দিয়ে চাঁদের আলো দেখছে পল্লব। সেও ভাবছে তিতাসের কথা। সঞ্জয়দের কথা। শ্রীরঞ্জনী বাড়ির কথা। তার চোখেও জল।

    এটাই দুনিয়ার মজা। কেউ কারও চোখের জলের হদিশ পায় না তবু চাঁদের আলোয় সবার চোখের জল একই রকম ভাবে চিকচিক করে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমৃত জ্যোৎস্নার রাত্রি – অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    Next Article ধুন্ধুমার – তমোঘ্ন নস্কর
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }