লাপিস লাজুলি – ২০
॥ কুড়ি॥
ফেব্রুয়ারি, বর্তমান কাল
‘মরুর মুক্তো’ পালমাইরা। কিন্তু সেই মুক্তো ভেঙে টুকরো-টুকরো করে দিয়েছে আইসিস। পালমাইরার ধ্বংসাবশেষের দিকে তাকিয়ে চোখে জল এসে গেল অপালার। সঞ্জয় বুঝতে পারল, ঠিক কতটা কষ্ট হচ্ছে অপালার। সে শক্ত করে অপালার হাত চেপে ধরল। তাকি আল তুসি বললেন, ‘নতুন শাসক সব সময় ইতিহাসকেই টার্গেট করে। ইতিহাস মুছে না দিলে সে যে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ হবে কী করে?’
দাঁতে দাঁত চেপে অপালা বলল, ‘আমার হাতে যদি ক্ষমতা থাকত আমি প্রত্যেকটা আইসিস জঙ্গিকে গুলি করে মারতাম। এরা নরকের কীটের চেয়েও অধম।’
তাকি সাহেব বললেন, ‘এরা শেষ হবে না অপালা। আইসিস না থাকলে অন্য কিছু থাকবে। এই আনরেস্টটা আসলে জিইয়ে রাখতে হবে। নয়তো বিশ্ব রাজনীতি অচল হয়ে পড়বে। আমি তোমাকে বলছি, মধ্যপ্রাচ্যের বাতাস আবার ভারী হচ্ছে। গভর্নমেন্ট পাত্তা দিচ্ছে না কিন্তু তলায় তলায় আইসিস আবার শক্তি সংগ্রহ করছে। অ্যাটাক শুরু হলে তখন সবাই মিলে নাকে কান্না কাঁদবে।’
সঞ্জয়ের খুব বলতে ইচ্ছে করছিল যে তাদের দুই বন্ধুও এই মুহূর্তে কোনও এক আইসিস ক্যাম্পে বন্দি। কিন্তু বলল না। সমীরণ বসাক পইপই করে বারণ করে দিয়েছেন যত কাছের লোকই হোক না কেন এই ইনফরমেশন শেয়ার করা যাবে না। তাকি সাহেব আবারও বললেন, ‘২০১২-১৩ থেকেই তো আঁচ পাওয়া যাচ্ছিল যে আইসিসের উত্থান হবে। তখন তো গভর্নমেন্ট নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছিল। অবশ্য এদের নিজেদের মধ্যেই এত আকচাআকচি এরা মিলিট্যান্টদের আটকাবে কী করে? মাঝখান থেকে নিরীহ মানুষ মরবে। বাচ্চারা অনাথ হবে আর একের পরে এক ঐতিহাসিক নিদর্শন ধ্বংস হবে। ২০১৫-র আগে এই পালমাইরা যে কত সুন্দর ছিল ভাবতে পারবে না। আমি কত বার এসেছি এখানে। প্রত্নতাত্বিক খালেদ আল আসাদ ছিলেন পালমাইরার গর্ব। আহ! বাঘের বাচ্চা ছিল লোকটা।’
অপালা বলল, ‘আমি ওঁর ছবি দেখেছি। লেখাও পড়েছি।’
সঞ্জয় বলল, ‘ছিল বলছেন কেন? উনি আর নেই?’
তাকি সাহেব আর অপালা একসঙ্গে মাথা নাড়ল। তাকি সাহেব বললেন, ‘নাহ। নেই। পনেরো সালটা খুব খারাপ একটা বছর। মসুল লাইব্রেরিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার পরে আগস্ট মাসে পালমাইরার বালামিশন মন্দির উড়িয়ে দিয়েছিল আইসিস। সেই ছবি তারা প্রকাশ করেছিল ইন্টারনেটে। তখন থেকেই ফাঁকা হতে শুরু করেছিল এলাকা। এর পরে জঙ্গিরা এক এক করে বেল মন্দির, এলাহবেল টাওয়ার, বিখ্যাত আর্চ অব ট্রায়াম্ফ, রোমান থিয়েটার, টেট্রাপাইলন সব গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। এর পরে ওরা নজর দিয়েছিল পালমাইরা জাদুঘরের দিকে। ব্যাপক লুঠতরাজ চালিয়েছিল। অসংখ্য আর্টিফ্যাক্টস ওরা বিক্রি করে দিয়েছিল ইউরোপ, আমেরিকা, আরবের ধনকুবেরদের কাছে। ওরা বুঝে গেছিল, এই সব প্রাচীন নিদর্শন মোটা ডলারে বিকোয়। এই রকম অবস্থায় সবাই যখন পালিয়ে যাচ্ছে খালেদ আল আসাদ রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। কিছুতেই পালমাইরা ছেড়ে যেতে চাননি। ওঁর কাছে পালমাইরায় লুকোনো সোনার হদিশ চেয়েছিল জঙ্গিরা।’
অবাক হয়ে সঞ্জয় বলল, ‘পালমাইরায় লুকোনো সোনা আছে?’
মৃদু হেসে তাকি সাহেব বললেন, ‘কত পুরোনো শহর এই পালমাইরা। আনাতোলিয়ার মধ্যমণি। সুমেরদের সঙ্গে এদের বাণিজ্য হতো। অনেক পরে রোমানরা এর দখল নেয়। ফলে এখানে প্রচুর রোমান স্থাপত্যও ছিল। এত বছর ধরে যে শহর ইতিহাসকে ধারণ করে আছে সেখানে গুপ্তধন থাকাটা কি অস্বাভাবিক?’
সঞ্জয় বলল, ‘খালেদ সাহেব সেই গুপ্তধনের সন্ধান জানতেন?’
তাকি সাহেব বললেন, ‘আমার মনে হয় জানতেন। কারণ আমি এক বার তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম এ ব্যাপারে। তিনি বলেছিলেন, কী দরকার ও সবের খোঁজে? ঘুমন্ত মিথকে জাগাতে নেই। বুঝেছিলাম, তিনি এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইছেন না। আমি আর জোর করিনি। কিন্তু আইসিস জঙ্গিরা তো শুধু জবরদস্তি করতেই জানে। ওরা চূড়ান্ত অত্যাচার করেছিল অশীতিপর এই বৃদ্ধের ওপর। তাতেও আসাদ সাহেবের মুখ দিয়ে একটা কথাও বার করতে পারেনি ওরা। তখন ওরা তাঁকে খুন করে।’
‘যেমন-তেমন খুন নয় সঞ্জয়,’ তাকি সাহেবের কথা ধরে বলল অপালা, ‘ভয়াবহ খুন। ওরা প্রথমে আসাদ সাহেবের গলা কেটে ফেলে। তার পরে পালমাইরার সেন্ট্রাল স্কোয়্যারের একটা স্তম্ভে সেই গলাকাটা দেহটা ঝুলিয়ে মাথাটা ঝুলিয়ে দেয় দুই পায়ের মাঝে। কয়েকশো লোকের সামনে এই ঘটনাটা ঘটিয়েছিল ওরা।’
‘কী ভয়ংকর,’ অস্ফুটে বলল সঞ্জয়।
পালমাইরার ধ্বংসাবশেষের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল অপালা, ‘এখানে এসে আমি খুব ট্রমাটাইজড হয়ে গেলাম। জানেন স্যার, তখন আমার দশ-এগারো বছর বয়েস। ২০০১ সাল। সে বছর বামিয়ানের বুদ্ধমূর্তি ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছিল তালিবানরা। আগের মূর্তি আর বিস্ফোরণের পরের ছবি দুটো পাশাপাশি ছাপা হয়েছিল কাগজে। সঞ্জয়, পারলে দেখো ছবিটা। ইন্টারনেটে আছে। বামিয়ান’স বুদ্ধ লিখে সার্চ দিলেই দেখতে পাবে। দেখো, কী ভয়াবহ এক শূন্যতা। যেন হৃৎপিণ্ড উপড়ে নেওয়ার পরের ক্ষত দগদগ করছে। আমার কী হয়েছিল আমি জানি না, সেই ছোটোবেলায় ছবিটা দেখে আমি অজ্ঞান হয়ে গেছিলাম। ওই অন্ধকার শূন্যতাটা আমার বুকের মধ্যে ঢুকে গেছিল। আমি খেতে পারতাম না। ঘুমোতে পারতাম না। সারাক্ষণ ওই গহ্বরটা আমাকে তাড়া করত। অনেক দিন লেগেছিল ওই ট্রমা কাটাতে। আজ আবার সেই ছবিটার কথা মনে পড়ে গেল।’
অপালার চোখ দিয়ে একফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল আর আবারও এক বার প্রচণ্ড ভাবে অপালার প্রেমে পড়ে গেল সঞ্জয়। এমন একটি মেয়েকে ভালোবাসতে পারার জন্যই তো হাজার বার পুরুষ জন্ম নেওয়া যায়। তার জন্ম সার্থক যে অপালার মতো মানুষ তাকে ভালবেসেছে।
অপালাকে সামলে নেওয়ার জন্য একটু সময় দিলেন তাকি সাহেব। তার পর বললেন, ‘চলো এগোনো যাক। আমাদের একটু হাঁটতে হবে।’
পালমাইরার ধ্বংসাবশেষের মধ্যে দিয়ে তিন জন এগিয়ে চলল ইনান্না মন্দিরের দিকে। শীতকাল হলেও এখানে বেশ গরম। রোদ পড়ে এলেও গরম কমেনি। হু-হু করে হাওয়া দিচ্ছে ঠিকই কিন্তু গরম হাওয়া। তাকি সাহেব বলেছিলেন, ‘পালমাইরায় কিন্তু বেশ গরম। আগে বলা হতো এই এলাকায় না কি এত গরম যে কাঁকড়াবিছেও বাঁচে না।’
গতকাল রাতে ফোন পেয়েই তাকি সাহেব এসে উপস্থিত হয়েছিলেন ওদের হোটেলে। অপালা একটা কাগজে স্পষ্ট করে লিখে রেখেছিল সংকেতের উদ্ধারটা। সেটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে বসেছিলেন তাকি সাহেব তার পরে অপালা আর সঞ্জয়ের মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন, ‘আল্লাহ আছেন। আমি ঠিক মানুষের সন্ধান পেয়েছি। আমি এত বছরে যা পারিনি তোমরা এক রাতে তার সমাধান করে দিয়েছ। সত্যিই পালমাইরায় একটা প্রাচীন ইনান্না মন্দির আছে। সৌভাগ্যবশতঃ আইসিস সেটা ধ্বংস করেনি।’
অপালা বলেছিল, ‘দাদু হেল্প না করলে আমরা পারতাম না স্যার। এর নাইন্টি পারসেন্ট ক্রেডিট কিন্তু দাদুর।’
‘তোমার দাদু মানে মিস্টার ভাদুড়ি?’
‘ইয়েস স্যার।’
‘বেক সাহেব আমাকে ওঁর কথা বলেছেন। হি ইজ আ মায়েস্ত্রো।’
‘ইনডিড। আমি দাদুর সঙ্গে আপনার আলাপ করাতে চাই। দেবীর দণ্ড উদ্ধার হলে সেটা এক বারের জন্য হলেও দাদুর কাছে নিয়ে যেতে হবে। তখনই আপনাদের আলাপ হয়ে যাবে।’
মাথা নেড়েছিলেন তাকি সাহেব, ‘নিশ্চয়ই’, তার পরে বলেছিলেন, ‘এ বার আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে হবে। আমাদের পালমাইরা যেতে হবে। লাগেজ গুছিয়ে নাও। আজ রাতেই আমরা সিরিয়া যাব।’
প্রভাব খাটিয়ে অত্যন্ত দ্রুত সিরিয়া যাওয়ার অনুমতি এবং এয়ার টিকিটের বন্দোবস্ত করে ফেলেছিলেন তাকি সাহেব। ভাদুড়িমশায়কে সবটা ফোনে জানিয়ে রওনা দিয়েছিল ওরা। দামাস্কাসে নেমে দুপুরের মধ্যেই ওরা পৌঁছে গিয়েছে পালমাইরায়। হোটেলে চেক ইন করেই চলে এসেছে মূল জায়গায়। পালমাইরার ধ্বংসাবশেষ এখন ইউনেস্কোর হেরিটেজ প্রপার্টি। এখানে যত্রতত্র ঘুরে বেড়ানো নিষিদ্ধ। কিন্তু তাকি সাহেবের দৌলতে সে সবের কিছুতেই কোনও সমস্যা হয়নি। হাঁটতে হাঁটতে তাকি সাহেব বলছিলেন, ‘পালমাইরা কিন্তু একটা ওয়েসিসের মধ্যে অবস্থিত। এর চার দিকেই মরুভূমি। সিরিয়ান ডেজার্ট।’
সঞ্জয় বলল, ‘সেই জন্যই এত গরম। অপালা তোমার কষ্ট হচ্ছে না তো?’ অপালা কিছু বলার আগেই তাকি সাহেব বললেন, ‘এসেই গেছি। আর একটু।’
মিনিট পাঁচেক হাঁটার পরেই ওরা তিন জন এসে পৌঁছোল একটা বালিয়াড়ির সামনে। অনতিদূরেই একটা প্রাচীন কাঠামোর ধ্বংসাবশেষ। আঙুল দেখিয়ে তাকি সাহেব বললেন, ‘ওইটা। ইনান্না বা ইশতারের মন্দির। আমি নিশ্চিত গিয়াসুদ্দিন এই মন্দিরের কথাই বলতে চেয়েছেন। কারণ প্রাচীন ইনান্না মন্দির পালমাইরায় এই একটিই আছে।’
অবাক হয়ে সেদিকে তাকিয়ে রইল সঞ্জয় আর অপালা। পালমাইরার প্রবেশপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে বলেই হয়তো এই মন্দিরের সামনে আলাদা করে কোনও নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। পর্যটকেরাও খুব একটা এ দিকে আসেন না বোধ হয়। বড্ড নির্জন চারদিকটা। শনশন করে হাওয়া দিচ্ছে। সে ছাড়া আর কোনও শব্দ নেই।
বিজ্ঞানের ছাত্র সঞ্জয়। কোনও দিনই ইতিহাস নিয়ে তেমন মাথা ঘামায়নি। কিন্তু আজ এই প্রাচীন মূর্তিমান ইতিহাসকে চোখের সামনে দেখে তার গা ছমছম করে উঠল! কেমন যেন একটা অদ্ভুত অনুভূতি হল! জীবনের কিছুটা সময় সে মামা লোকনাথ চক্রবর্তীর সঙ্গে কাটিয়েছে, দীর্ঘ দুই দশক ধরে গেনু বার বার তার ক্ষতি করতে চেয়েছে আর মামি তাকে রক্ষা করেছে। অলৌকিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আর পাঁচ জনের চেয়ে তার অনেকটাই বেশি হয়েছে। তার মনে হল, প্রাচীন এই মন্দিরটা যেন খুব জ্যান্ত। দূর থেকেই একটা সূক্ষ্ম স্পন্দন অনুভব করতে পারল সে। স্থানমাহাত্ম্য বলে একটা কথা আছে। এই মন্দির সেই স্থানমাহাত্ম্যে ভরপুর। তাকি সাহেব বললেন, ‘চলো ভেতরে যাওয়া যাক।’
বাইরে থেকে মন্দিরের মূল কাঠামো কেমন ছিল সে আজ আর বোঝার উপায় নেই। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মন্দিরটা যে বেশ কয়েক বার সংস্কার হয়েছে সেটা বোঝা যায়। বড়ো বড়ো বিম দিয়ে ভেঙে পড়তে চাওয়া অংশগুলোকে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। প্রবেশপথে নতুন লোহার স্ট্রাকচার। কয়েক ধাপ সিঁড়ি আছে মূল দরজায় যাওয়ার জন্য। সিঁড়িগুলো সবটাই প্রায় ভাঙা। ভাঙা জায়গাগুলোয় বোল্ডার দিয়ে ওঠার পথ করা হয়েছে। অপালা বলল, ‘ইউনেসকো খুবই ভালো রেনোভেশন করেছে। এখনও পুরোনো ফিলটা পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের দেশে এ সবের বালাই নেই।’
কৌতূহলী চোখে তাকালেন তাকি সাহেব। অপালা বলল, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য স্যার। আমাদের দেশে কেউ ইতিহাস সংরক্ষণের গুরুত্ব বোঝে না। পুরোনো বাড়ি পেলেই এরা ভেঙে ফেলে আর মন্দিরগুলোতে নতুন স্ট্রাকচার তুলে, রং করে এমন অবস্থা করে ফেলে যে পুরোনো এসেন্সটাই চলে যায়। সৌন্দর্যায়ন করতে গিয়ে এমন হতকুচ্ছিত করে তোলে যে কহতব্য নয়। আসলে সুন্দরের ধারণাটাই বোধ হয় পালটে গেছে আজকাল।’
বলতে বলতেই সিঁড়ি দিয়ে উঠে মূল দরজার সামনের ছোটো চাতালটায় এসে দাঁড়াল ওরা তিন জন। তাকি সাহেব আগে ভেতরে ঢুকে গেলেন। অপালা ঢুকতে যেতেই সঞ্জয় বলে উঠল, ‘জুতোটা খুলে ঢোকো অপালা।’
অবাক চোখে তাকাল অপালা। সঞ্জয় বলল, ‘যতই আর্কিওলজিক্যাল সাইট হোক না কেন আসলে তো এটা দেবীর মন্দির। আমার কেন জানি না মনে হচ্ছে এই মন্দির খুব জাগ্রত।’
সঞ্জয়ের কথাটা অমান্য করল না অপালা। জুতো জোড়া খুলেই পা রাখল মন্দিরের ভেতরে। বিশাল হলঘর। অদ্ভুত নকশাকাটা বিশাল বিশাল চৌখুপি পাথরের মেঝে। পাথরের চাঁই জুড়ে জুড়ে বানানো দেওয়াল। দীর্ঘকায় সব পাথুরে গম্বুজ উঠে গেছে ছাদ পর্যন্ত। সেইসব গম্বুজ এবং দেওয়ালের গায়ে আঁকা বিবিধ বিচিত্র সব ছবি। ইলেকট্রিকের আলো জ্বলছে ভেতরে। সঞ্জয় গুনল, মোট ন’টা স্তম্ভ পাথরের ছাদটা ধরে রেখেছে। যদিও প্রায় সবক’টা স্তম্ভেই সময় থাবা বসিয়েছে তবু একেবারে গুঁড়িয়ে যায়নি সেগুলো। অপালা বলল, ‘দেখো সঞ্জয় প্রত্যেকটা স্তম্ভেই কিউনিফর্ম লিপিতে নম্বর লেখা আছে। ১ থেকে শুরু করে ৯ অবধি।’
‘১ থেকে ৯। গণিতজ্ঞ গিয়াসুদ্দিনের একেবারে পছন্দসই জায়গা,’ মনে মনে বলল সঞ্জয়।
বিপুলায়তন কক্ষের শেষ প্রান্তে একটা বড়ো বেদি। বেদির ওপরে পাথরের একটা স্ল্যাব লম্বালম্বি ভাবে বসানো। ওরা এগিয়ে গেল বেদিটার দিকে। বেদিটা মোটামুটি অটুট থাকলেও পাথরের স্ল্যাবটা ক্ষয়ে গিয়েছে কালের নিয়মে। স্ল্যাবের ওপরে খোদিত আছে দেবী ইনান্নার মূর্তি। যদিও অস্পষ্ট তবু বোঝা যায়, দেবী সিংহবাহিনী। দেবীর দুই হাত। এক হাতে ধরে আছেন সেই বিখ্যাত দণ্ড, অন্য হাতে ধরা সিংহের গলার কণ্ঠবন্ধনী। স্ল্যাবের নীচের বেদিটাও পাথরের টুকরো জুড়ে জুড়ে বানানো। সেই সব টুকরোগুলোতেও কিউনিফর্ম লিপিতে নানা কিছু লেখা। বেদির পেছনে একটা নাতিউচ্চ দরজা। কালের নিয়মে কপাটহীন। দরজার দিকে হাত দেখিয়ে সঞ্জয় জিজ্ঞেস করল, ‘ওটা বোধ হয় গর্ভগৃহ তাই না স্যার?’
মাথা নেড়ে তাকি সাহেব বললেন, ‘উঁহু। ওটা সিংহের গুহা।’
আঁতকে উঠল সঞ্জয়, ‘সিংহের গুহা!’
অপালা বলল, ‘হ্যাঁ। সিংহ যেহেতু দেবীর বাহন তাই ইনান্নার মন্দিরে সিংহ পোষা হত। সিংহটা থাকত মন্দিরের ভেতরেই। দেবীর উপাসকেরা বিশ্বাস করতেন দেবী সিংহের পিঠে চেপে ঘুরতে বেরোন।’
আবারও গা ছমছম করে উঠল সঞ্জয়ের। তার মনে হল, দেবী এখনও এই মন্দিরে অধিষ্ঠান করেন। এখনও তিনি সিংহের পিঠে চড়ে ঘুরতে বেরোন। তিনি কি তাঁর আলয়ে এই অবাঞ্ছিত অতিথিদের পছন্দ করবেন? হাত দুটো বুকের কাছে জড়ো করে সে মনে মনে বলল, ‘দোষ নিয়ো না মা। বড়ো বিপদে পড়ে এখানে আসতে হয়েছে।’
তিতাসের ওপরে দেবীর ভয়ংকরী শক্তির প্রয়োগ করা হয়েছে। মনে মনে দেবীর শুভঙ্করী শক্তিকে আভূমি প্রণাম জানাল সঞ্জয়। মুখে বলল, ‘অপালা, আমার মনে হয় সময় নষ্ট না করে আমাদের সার্চটা শুরু করে দেওয়া উচিত।’
ঘাড় নেড়ে তাকি সাহেবের দিকে তাকিয়ে অপালা বলল, ‘স্যার আপনি বলুন কী ভাবে শুরু করব?’
আশপাশটা একবার দেখে নিয়ে তাকি সাহেব বললেন, ‘এই কাজটা আমাকে আর অপালাকেই করতে হবে। কারণ কিউনিফর্ম লিপি সঞ্জয় বুঝবে না। অপালা, আমি এই বেদিটা দিয়ে শুরু করছি। তুমি থামগুলো দেখো। এই ট্যাবলেটগুলোয় মূলত দেবী বন্দনা, গিলগামেশের উপাখ্যান এই সবই লেখা থাকার কথা। এর বাইরে অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়লেই আমাকে জানাও। আমার মন বলছে, আজই আমরা দ্বিতীয় সূত্রটা খুঁজে পাব।’
ব্যাগ থেকে সার্চলাইট লাগানো স্ট্র্যাপ বার করে কপালে বেঁধে নিলেন তাকি সাহেব আর অপালা। অপালা চলে গেল প্রথম থামটার কাছে। তাকি সাহেব উবু হয়ে বসে পড়লেন বেদিটার সামনে। সঞ্জয় চলে এল মন্দিরের বাইরের চাতালটায়। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সূর্য অস্ত যাবে। আকাশটা হলুদ হয়ে এসেছে। এখনও আর অতটাও গরম লাগছে না। হাওয়াটাও কেমন যেন মিঠে হয়ে এসেছে। কাল রাত থেকে ছোটাছুটি হচ্ছে। কিন্তু এই হাওয়ায় ক্লান্তিটা কেটে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। এমন সময় সঞ্জয়ের কানে ভেসে এল আজানের সুর। কাছেই কোনও এক মসজিদে আসরের নমাজ পড়া হবে। তারই ডাক পাঠানো হচ্ছে। মিঠে বাতাসের পিঠে ভর দিয়ে সেই মিঠে সুর ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। বুকটা ভরে গেল সঞ্জয়ের। মনে হল, যে ধর্মে ঈশ্বরকে ডাকার সুর এমন প্রাণকাড়া সেই ধর্মই মানুষ মারে কী করে? কী করে ধ্বংস করে দেয় পালমাইরা? কী করে উপড়ে ফেলে বামিয়ানের বুদ্ধমূর্তি? ছোটোবেলায় পড়েছিল, ইসলাম মানে শান্তি। তা হলে সেই শান্তির ধর্মকে এমন রক্তলোলুপ, বীভৎস, ভয়াবহ, আতঙ্কময় করে তুলল কারা? কাদের জন্য দেশের সাধারণ মুসলমানকেও বার বার বলতে হল, ‘অ্যান্ড আই অ্যাম নট আ টেররিস্ট!’ আবারও হাতজোড় করল সঞ্জয়। প্রাচীন ইতিহাসের বুকের মধ্যে দাঁড়িয়ে, হলুদ হয়ে আসা আকাশের দিকে তাকিয়ে সে বলল, ‘হে পরম করুণাময়, তুমি ঈশ্বর, আল্লা, যিশু, বুদ্ধ, ইনান্না যেই হও না কেন, ধর্ম নিয়ে যারা বেসাতি করে, ধর্মের গায়ে যারা কালি মাখায়, ধর্মকে যারা ধ্বংসের হাতিয়ার করে তাদের যেন তুমি ক্ষমা কোরো না।’ একটা ঘোরের মধ্যে চলে গিয়েছিল সঞ্জয়, অপালার চিৎকারে সাড় ফিরল। অপালা চিৎকার করে ডাকছে, ‘সঞ্জয়, শিগগির ভেতরে এসো। উই গট ইট।’
গট ইট! তার মানে গিয়াসুদ্দিনের দ্বিতীয় সূত্র খুঁজে পেয়ে গেছে ওরা! হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুকল সঞ্জয়। দেখল, বেদির সামনেটায় উবু হয়ে বসে আছেন তাকি সাহেব আর অপালা। দু’জনের শরীরী ভাষায় উত্তেজনার ছাপ স্পষ্ট। দৌড়ে গিয়ে ওদের পাশে বসে পড়তেই সঞ্জয়কে জড়িয়ে ধরল অপালা, ‘সঞ্জয়! আমরা খুঁজে পেয়ে গেছি। এই দেখো।’
বেদির গায়ের একটা পাথরের ট্যাবলেটের দিকে নির্দেশ করল অপালা। সেটার ওপর আলো ফেলে আছেন তাকি সাহেব। সঞ্জয় দেখল, খোদাই করে আরবিতে কীসব লেখা তাতে। পুরোটাই তার মাথার ওপর দিয়ে গেল। সে বলল, ‘কী করে বুঝলে এটাই?’
অপালা বলল, ‘কারণ এটায় স্পষ্ট করে লিখে দেওয়া আছে, ‘দ্বিতীয় সূত্র। গিয়াসুদ্দিন আল তুসি।’ আমার বিশ্বাস, গিয়াসুদ্দিন নিজের হাতে এই ট্যাবলেট বসিয়েছিলেন। এখানে তিনি কিউনিফর্ম ছেড়ে তাঁর নিজের ভাষায় ফিরেছেন। এবং সেটা করেছেন খুঁজে পাওয়ার সুবিধের জন্যই।’
সঞ্জয় বলল, ‘স্বয়ং দেবী ইনান্নাও চান তাঁর দণ্ড আমরা খুঁজে পাই। নয়তো এত বছর ধরে যে জিনিস অধরা, যা কিনা মিথ হয়ে গেছিল, আমরা এত দ্রুত তার এত কাছে চলে এলাম!’
‘এতটা আনন্দ পেয়ো না সঞ্জয়,’ গম্ভীর গলায় তাকি সাহেব বললেন, ‘সূত্রটা পেয়েছি মাত্র। কিন্তু আমার মন বলছে এই সংকেত আগেরটার চেয়েও দুরূহ হবে। এই সংকেত ভাঙতে আমাদের মাথার ঘাম পায়ে পড়বে।’
তাকি সাহেবের বলার মধ্যে কিছু একটা ছিল। একটু দমেই গেল সঞ্জয়।
***
লজিক্যাল রিজনিং সঞ্জয়ের বরাবরের প্রিয় বিষয়। যত কঠিন সমস্যা সঞ্জয়ের তত আনন্দ। বন্ধুরা যে প্রবলেমগুলো নিয়ে হিমশিম খেত সেগুলো অবলীলায় সলভ করে দিত সে। পল্লব বলত, ‘নেটে তো সঞ্জয় এমনিই জেআরএফ পেয়ে যাবে। ও তো ফার্স্ট পেপারেই ফুল মার্কস। সবাই তিনটে পেপার মিলিয়ে যা নম্বর পাবে সঞ্জয় একটা পেপারেই সেই নম্বর তুলে নেবে।’
মনে মনে সেই নিয়ে বেশ গর্ব ছিল সঞ্জয়ের কিন্তু আজ গিয়াসুদ্দিনের সূত্রটা হাতে নিয়ে বসে গর্বের সেই ফানুস চুপসে একেবারে ন্যাতা হয়ে গেছে। গিয়াসুদ্দিনের এই সূত্র বা সংকেত আসলে একটা ‘নাম্বার সিরিজ’। অনেকগুলো সংখ্যা পর পর সাজানো আছে। শুধু শুরুর সংখ্যাটা নেই। সেই সংখ্যাটা খুঁজে বার করাই চ্যালেঞ্জ। গণিতজ্ঞ গিয়াসুদ্দিন তাঁর গণিতের জ্ঞান দিয়ে একেবারে পেড়ে ফেলেছেন পদার্থবিদ, লজিক্যাল রিজনিং-এর মাস্টার সঞ্জয়কে। আরবি থেকে অপালা যে পাঠোদ্ধার করেছে তাতে জিনিসটা এমন দাঁড়িয়েছে:
‘*, ৪, ৬
৬, ১০, ১৫
২, ৮, ১৩, ২১, ৩৪, ৫৫
৫, ৭, ১১, ১৭’
এই অদ্ভুত, বদখৎ সিরিজটায় একটা সংখ্যা কম আছে যেটা ওই তারা চিহ্ন দেওয়া জায়গাটায় বসবে আর তা হলেই সিরিজটা সম্পূর্ণ হবে। লিপির পাঠোদ্ধার করার পরে তাকি সাহেব এবং অপালা দু’জনেই হাত তুলে নিয়েছে। তাকি সাহেব বলেছেন, ‘স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে সংস্কৃত ভাষা ছেড়ে গিয়াসুদ্দিন এবার গণিতের দিকে ঝুঁকেছেন। ওই জন্যই দিনলিপিতে বার বার করে লিখেছিলেন, সংকেত উদ্ধারের একমাত্র চাবিকাঠি বুদ্ধিমত্তা। ওঁর মতোই বুদ্ধিমান কাউকে দরকার এই সংকেত ভাঙতে, ভাষা থেকে গণিত সব বিষয়ে যার অনায়াস বিচরণ। তবে আবারও বলি, ঈশ্বর আমাদের সহায়। কোনও এক জন না হলেও তিন জন মিলে আমরা এমন একটা দল তৈরি হয়েছি যেখানে আমি আর অপালা ভাষাজ্ঞানে দক্ষ আর সঞ্জয় বিজ্ঞানে, গণিতে। আমাদের কাজ শেষ সঞ্জয়। এ বার তোমার পালা। গণিতের অন্ধিসন্ধি আমি জানি না। অপালারও জানার কথা নয়। কিন্তু তুমি জানো। তোমাকেই উদ্ধার করতে হবে ওই বিশেষ সংখ্যাটা।’
সঞ্জয় বুঝতে পারছে, অপালা আর তাকি সাহেব দু’জনেই তার মুখ চেয়ে বসে আছে কিন্তু গত ছ’-সাত ঘণ্টা ধরে মাথা খুঁড়েও সে কোনও দিশা খুঁজে পায়নি। বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখল, অপালা ঘুমিয়ে পড়েছে। টেবিলে ছড়িয়ে থাকা কাগজগুলো গুটিয়ে উঠে পড়ল সে। এক ঢোঁক জল খেল তার পরে এসে দাঁড়াল কাচের জানলার সামনে। জানলায় ঝুলছে ভারী পর্দা। সেটা সরিয়ে দিতেই অপার্থিব এক দৃশ্যের সাক্ষী হল সঞ্জয়। বিলাসবহুল এই হোটেলটা মরুভূমির মাঝে। জানলা দিয়ে যত দূরে চোখ যায় ধু-ধু করছে মরুভুমি। আর সেই বালির সমুদ্র ভেসে যাচ্ছে চাঁদের আলোয়। জানলাটা খুলে দিল সঞ্জয়। এক ঝলক হিমেল হাওয়া দুরন্ত শিশুর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল ঘরের ভেতরে। সে হাওয়ায় উড়ে গেল টেবিলে রাখা কাগজগুলো। সেগুলোকে ধরার চেষ্টাও করল না সঞ্জয় কিন্তু অপালার ঘুমটা ভেঙে গেল। ঘুমচোখে সে দেখল, সঞ্জয় উদাস হয়ে জানলার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। অবাক হয়ে সে বলল, ‘এ কী! ওখানে দাঁড়িয়ে আছ কেন?’
উত্তর না দিয়ে হাতছানি দিয়ে তাকে ডাকল সঞ্জয়। বিছানা থেকে উঠে এসে সঞ্জয়ের পাশে দাঁড়াতেই অপালাও থমকে গেল। এই অদ্ভুত, বিশাল, নির্বাক সৌন্দর্য তাকে চিত্রার্পিত করে তুলল। চরাচরব্যাপী এই শূন্যতা যেন এক লহমায় ফাঁকা করে দিল তার বুকের ভেতরটা। অপালা বুঝতে পারল, মানুষের বুকের মধ্যেও ঠিক এমন একটা চাঁদের সর পড়া নিঝুম মরুভূমি আছে। যেখানে শুধু ভয়ংকর সুন্দর এক অনন্ত শূন্যতা বিরাজ করে। যেখানে একা থাকতে ভয় করে, দম আটকে আসে। তাই সারা জীবন ধরে মানুষ অন্য মানুষের হাত ধরতে চায়। জড়িয়ে জাপটে বাঁচতে চায়। সঞ্জয়ের হাতটা আঁকড়ে ধরল অপালা। তার পরে ধীরে ধীরে মুখটা গুঁজে দিল সঞ্জয়ের বুকে। একটা মানুষের পক্ষে আর একটা মানুষকে যতটা জড়িয়ে নেওয়া সম্ভব সঞ্জয় ঠিক ততটাই জড়িয়ে ধরল অপালাকে। হাত রাখল তার এলোমেলো চুলে। মুখ তুলল অপালা। বলল, ‘খুব ভয় করে।’
‘কীসের ভয় অপু?’
‘তিতাস কেমন করে ছেড়ে চলে গেল পল্লবকে।’
‘ও তো স্বেচ্ছায় যায়নি।’
‘তবু তো গেছে। এই চলে যাওয়াটাই সত্যি। অমিয় আর তিতাসের সম্পর্কও আর কোনও দিন ঠিক হবে কি না কেউ জানে না। তুমি চলে যাবে না তো আমায় ছেড়ে?’
‘কোথায় যাব বলো তো? তবে একটা কথা বলি তোমায়, তিতাস ফিরে আসবে অপু। আমরা তিতাসকে ফিরিয়ে আনব।’
‘আর পল্লব?’
‘ওকে তো ফিরতেই হবে। পল্লব না থাকলে আমারও যে অস্তিত্ব নেই। ও যে আমার প্রিয়তম বন্ধু। আমি, তুমি, পল্লব, তিতাস, অমিয়, মিতুল, পালদা আমরা সবাই আবার স্যারের বাড়িতে একজোট হব। তুমি দেখে নিয়ো। আমাদের এত দূরে আসা মিথ্যে হবে না।’
‘তাই যেন হয়,’ সঞ্জয়ের হাতের ওপরে মাথা রেখে মরুভূমির দিকে তাকিয়ে রইল অপালা। সঞ্জয়ও তাকিয়ে রইল সে দিকে। চাঁদের আলো আরাম দিতে লাগল ওদের ভেজা চোখে। ওরা জানতেও পারল না, ঠিক একই ভাবে এই মরুভূমিরই অন্য কোনও প্রান্তে তাঁবুর জানলা দিয়ে চাঁদের আলো দেখছে পল্লব। সেও ভাবছে তিতাসের কথা। সঞ্জয়দের কথা। শ্রীরঞ্জনী বাড়ির কথা। তার চোখেও জল।
এটাই দুনিয়ার মজা। কেউ কারও চোখের জলের হদিশ পায় না তবু চাঁদের আলোয় সবার চোখের জল একই রকম ভাবে চিকচিক করে।
