Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – সৌভিক চক্রবর্তী

    সৌভিক চক্রবর্তী এক পাতা গল্প667 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কে প্রথম কাছে এসেছি – ৪

    ॥ চার॥

    প্রবেশের ঘরে মাথা নীচু করে দাঁড়িয়েছিল প্রবেশ আর ঠাকুরকে উদ্দেশ্য করে নীরেন বলে যাচ্ছিল, ‘অনেকগুলো খটকা আমার একসঙ্গে লেগেছিল ঠাকুর কিন্তু আমি কোনও দিশা পাচ্ছিলাম না। তবে সে দিন প্রবেশের মায়ের গায়ে লাল পশমের চাদর আর বইয়ের আলমারিতে ভিনসেন্ট ক্যারলের লেখা আলপাইন ফোকলোর দেখে আমি দুয়ে দুয়ে চার করে ফেলি। আলপাইন উপত্যকার কুখ্যাত অপদেবতা টাটজেলোয়ামকে চিনে ফেলি। যদি খুব ভুল না হই, ভিনসেন্ট ক্যারল ফাদার চার্লস ক্যারলের পূর্বপুরুষ। পরবর্তী কালে ব্রিটেনের নাগরিকত্ব নিলেও ফাদারের ছোটোবেলাটা তো কেটেছে আল্পস পর্বতের উপত্যকায়। সেখানকার উপকথা, লোকগাথায় ফাদারের প্রচণ্ড ইন্টারেস্ট ছিল। ফাদারের পুরোনো বইপত্রের মধ্যে প্রবেশ একটা ডায়েরি খুঁজে পায়। আমার স্থির বিশ্বাস সেই ডায়েরিতে লেখা আছে আলপাইন উপত্যকার লোকগাথায় ছড়িয়ে থাকা নানা দেব, দেবী, অপদেবতার, অপদেবীর পূজাপদ্ধতি এবং তাদের জাগিয়ে তোলার নানা তান্ত্রিক আচার। তার মধ্যে টাটজেলোয়ামকে জাগিয়ে তোলার পদ্ধতিও লেখা ছিল। আপনি তো তাকে দেখেছেন ঠাকুর। বেড়ালের মুখ আর সাপের দেহ। তাই তার কামড়ে শরীরে ঢোকে হেমোটক্সিন। এই টাটজেলোয়ার্সকে জাগাতেই ক্র্যাম্পাসের পুজো করেছিল প্রবেশ।’

    ঠাকুর বললেন, ‘কী কঠিন কঠিন নাম বলচিস নীরেন। কম্পাস আবার কী?’

    ‘কম্পাস না ঠাকুর। ক্র্যাম্পাস। ক্র্যাম্পাস হল আলপাইন উপকথার শয়তান। সমস্ত অপদেবতাদের রক্ষক। ক্র্যাম্পাসের অনুমতি না পেলে টাটজেলোয়ামকে জাগানো যায় না। ৫ ডিসেম্বর ক্র্যাম্পাসের আরাধনার দিন। ৫ তারিখ রাতে প্রবেশ গির্জায় যায়। ফাদারের ঘরে ক্র্যাম্পাসের আরাধনা করে। সেজন্যই মেঝেতে উলটো ক্রস এঁকেছিল সে। যদিও মুছে দিয়েছিল কিন্তু দাগ থেকে গেছিল। ক্র্যাম্পাসের আরাধনায় আয়নাও লাগে। কোনও ভাবে একটা আয়না ভেঙে গেছিল আর কাচের একটা টুকরো চলে গেছিল তক্তপোশের নীচে। ঘটনাচক্রে সেটাও আমার চোখে পড়ে যায়। আর চোখে পড়ে যায় যিশুখ্রিস্টের মূর্তির আঙুলে আটকে থাকা লাল পশম। শয়তানের আরাধনা করতে হবে বলে ভগবানের মূর্তিটাকে ওই লাল চাদর দিয়ে ঢেকে দিয়েছিল প্রবেশ। চাদর খুলে নেওয়ার সময় মূর্তির আঙুলে চাদরের একটা কোনা আটকে গেছিল। কী ঠিক বলছি তো প্রবেশ?’

    মাটির দিকে তাকিয়েই মাথা নাড়ল প্রবেশ। নীরেন বলল, ‘ডায়েরিটা তোমার কাছেই আছে তো?’

    এ বার চোখ তুলে তাকাল প্রবেশ। তার চোখে জল। বলল, ‘আছে। তুমি যে সবটা বুঝে যাবে আমি ভাবিনি। আমি এখন বুঝতে পারি, ভুল করেছি কিন্তু এ ছাড়া জঙ্গলটা বাঁচাতে পারতাম না। আমি অনেক চেষ্টা করেছিলাম। কাকাকে বুঝিয়েছিলাম, ঝগড়াও করেছিলাম কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। তার ওপরে ফাদারের আত্মহত্যা আমার মাথায় আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। যারা যারা ফাদারের মৃত্যুর জন্য দায়ী তাদের নামে আমি আহুতি দিয়েছিলাম ক্র্যাম্পাসের কাছে। ভেবেছিলাম, ওদের মারলেই সব সমস্যার সমাধান হবে কিন্তু ব্যাপারটা যে আমার কন্ট্রোলে আর নেই সেটা বুঝলাম যখন অন্য দু’জন মারা গেল। আমি বুঝতে পারছিলাম, শয়তান তার নিজের মর্জি মতো চলতে শুরু করেছে কিন্তু ততক্ষণে সবটা হাতের বাইরে বেরিয়ে গেছে। এদিকে কাউকে বলতেও পারছিলাম না এর জন্য আমিই দায়ী। বরং যাতে কেউ আমাকে সন্দেহ না করে তাই জঙ্গলে হোটেল বানানোর ফরে কথা বলছিলাম। তুমি আমায় ধরে ফেলে আসলে আমায় উদ্ধার করলে নীরেন। আমাকে তোমরা যা শাস্তি দেবে আমি মাথা পেতে নেব। কিন্তু এ বার এই দানবকে আটকাও। নয়তো সবটা শেষ হয়ে যাবে।’

    নীরেন বলল, ‘ওই ডায়েরিতে টাটজেলোয়ার্সকে আটকানোর কথা কিছু লেখা নেই?’

    মাথা নাড়ল প্রবেশ, ‘না। আমি তন্নতন্ন করে খুঁজে দেখেছি।’

    সবাই কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। নীরবতা ভেঙে প্রবেশই বলে উঠল, ‘আমি বাইরে আছি। পালাব না। যা শাস্তি দেওয়ার আমাকে দিয়ো। তবে তোমাকে বাঁচানোর সময় ঠাকুরের অলৌকিক তো আমি নিজে চোখেই দেখেছি। উনি চাইলে লেবংকে বাঁচাতে পারবেন। আর একটা কথা, আমার কাকা, কিরণ ছেত্রী আর ওর লোকেদের মৃত্যুর জন্য আমার কোনও অনুতাপ নেই। ওরা ফাদারকে মেরেছিল। আমি ওদের মেরেছি। বেশ করেছি।’

    দরজাটা ভেজিয়ে দিয়ে প্রবেশ বাইরে বেরিয়ে গেল। নীরেন ঠাকুরের দিকে তাকাল। ঠাকুর চিন্তামগ্ন হয়ে আছেন। সে ডাকল, ‘ঠাকুর?’

    ঘুরে তাকালেন ঠাকুর, ‘এ তো ভারি বিপদ হল রে নীরেন। তোর এই বন্ধু আবেগের বশে তো বিরাট গন্ডগোল পাকিয়ে ফেলেচে। এখন এই বেড়ালমুখো হতচ্চাড়া সাপটারে তাড়াই ক্যামনে? এসবের নামই তো আমি জন্মে শুনিনি। তা হ্যাঁ রে নীরেন, তুই এত কথা জানলি কেমন করে?

    নীরেন বলল, ‘আমার তো নানা দেশের উপকথা, তন্ত্র এসব পড়তে ভালো লাগে। আমার খুব আফসোস হচ্ছে ঠাকুর, যদি আগেই ব্যাপারটা ধরতে পারতাম তা হলে হয়তো আপনি আরও দু’তিনটে প্রাণ বাঁচাতে পারতেন।

    ‘তুই নিশ্চিত আমি এই বেড়ালমুখো সাপটারে তাড়াতে পারব?’

    ঠাকুরের পায়ের কাছে বসে পড়ল নীরেন, ‘আপনি কী ভাবে আমাকে ফিরিয়ে এনেছেন আমি শুনেছি। আপনি পারবেন না তো কে পারবে?’

    ‘কিন্তু এরে তাড়ানোর উপায় পদ্ধতিও তো বিদেশি হবে। সে সব আমি জানব কী করে?’

    ‘একটা কথা আমার মনে হচ্ছে। বলব?’

    ‘বল বল। তুই ভুল কিচু বলবি না আমি জানি।’

    নীরেন যেন নিজেকে একটু গুছিয়ে নিল। তার পরে বলল, ‘দেখুন ঠাকুর, শুধু তাড়ালে হবে না। টাটজেলোয়ামটাকে মারতে হবে। বেড়াল আর সাপকে একসঙ্গে কবজা করতে পারে কোন প্রাণী? কুকুর? তাই না?’

    ‘সে ঠিক, কিন্তু যত তালেবর কুকুরই হোক সে ওর সঙ্গে লড়ে পারবে না। ও যে অন্য জগৎ থেকে এসেচে।’

    ‘সেই জন্যই তো অলৌকিক প্রাণীকে মারতে অলৌকিক কুকুরই লাগবে। অন্য জগতের কুকুর।

    ‘খোলসা করে বল।’

    ‘ঠাকুর, গ্রিক পুরাণে একটা কুকুরের উল্লেখ আছে যার নাম সারবেরাস। তার তিনটে মাথা। সে নরকের দরজা পাহারা দেয়। আমাদের পুরাণে এই কুকুরটার কোনও নাম নেই ঠিকই কিন্তু নরকের দরজায় সে দাঁড়িয়ে থাকে। থাকতেই হবে। পুরাণগুলো আসলে একই গল্প বলে। স্থানভেদে নাম বদলে বদলে যায় মাত্র। ওই কুকুরটাকেই লাগবে ঠাকুর। ওকে ডেকে এনে আবার ফেরত পাঠাতে হবে। পারবেন না?’

    স্থির চোখে কিছুক্ষণ নীরেনের দিকে তাকিয়ে রইলেন ঠাকুর। তার পরে বললেন, ‘তুই তো আমারে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে দিলি নীরেন।’

    ***

    সন্ধের মুখে মুখে গোটা লেবং গ্রামের লোক ভেঙে পড়ল জঙ্গলের বাইরে। কাকের মুখে খবর ছড়িয়ে পড়েছে, রামদাস ঠাকুর আজ অপদেবতাকে নিকেশ করতে যাবেন। কিন্তু জঙ্গলের সীমানায় একটা নাটক চলছে।

    বুদ্ধিটা নীরেনের। ঠাকুরের এক শিষ্য পুলিশের বড়ো কর্তা। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে বম্ব স্কোয়াডের দুটো পোশাক আনিয়েছিল নীরেন। তার মনে হয়েছিল, টাটজেলোয়ার্মের অতর্কিত আক্রমণ থেকে বাঁচতে এর চেয়ে ভালো রাস্তা আর কিছু নেই। বেড়াল কেন, বাঘের কামড়ও ওই পোশাকের মোটা আস্তরণ ভেদ করতে পারবে না। নীরেন জানে, অলৌকিক ওই দানবের সামনে এই পোশাক খুব বেশিক্ষণ রক্ষণ সামলাতে পারবে না কিন্তু একটু হলেও তো প্রস্তুত হওয়ার সময় পাওয়া যাবে। কিন্তু ঠাকুর কিছুতেই ওই পোশাক পরতে চাইছেন না। খালি বলছেন, ‘ও গো, আমি দোম আটকে মরে যাব।’

    শেষকালে কাছে গিয়ে নীরেন চাপা গলায় এক ধমক দিল, ‘আপনি বড়ো অবাধ্য। মুখোশের মধ্যে ফুটো-ফুটো নেই? ওই দিয়ে হাওয়া আসবে। কেন দম আটকাবে?’

    নীরেনের ধমক খেয়ে ঠাকুর একটু দমে গেলেন, ‘ও আমার দোম আটকায় তো আমি কী করব?’

    ‘কিচ্ছু দম আটকাবে না। দম আটকালে আমি মুখোশ খুলে দেব। পরুন বলছি।’

    ঠাকুর কাঁচুমাচু হয়ে নীচু গলায় বললেন, ‘তুই আমারে সবার সামনে ধমকাচ্চিস কেন? আমি তোর গুরুজন হই না?’

    নীরেনও নীচু গলায় বলল, ‘আপনি জেদ করলে কী করব? আর আমি মোটেও ধমক দিইনি আপনাকে। আপনি খুব ভণিতা করেন। কথা না বাড়িয়ে পরুন। আসুন আমি পরিয়ে দিচ্ছি।’

    ঠাকুরের দুই শিষ্যের এই কথোপকথন ভালো লাগছিল না। এমনিতেই গোড়া থেকে নীরেনের সঙ্গে ঠাকুরের সদ্ভাব তাঁদের ঈর্ষান্বিত করে তুলেছিল, তার ওপরে নীরেনকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনার সময় ঠাকুরের আকুলতা তাঁদের মনে বিরক্তির জন্ম দিয়েছিল। তাঁদেরই একজন একটু রুক্ষ স্বরে বললেন, ‘মানছি ঠাকুর তোমাকে অত্যধিক স্নেহ করেন কিন্তু তাই বলে তুমি ঠাকুরের সঙ্গে এ ভাবে কথা বলবে? নিজের সীমা লঙ্ঘন কোরো না।

    নীরেন একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল। সত্যিই একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে সে। কিন্তু সে যা বলছিল তা তো ঠাকুরের ভালোর জন্যই। যাই হোক, এ ভাবে বলাটা তার উচিত হয়নি। নীরেন সবে বলতে যাবে, ‘আমাকে ক্ষমা করুন,’ তার আগেই ঠাকুর ওই শিষ্যকে বলে উঠলেন, ‘আহা! তুমি আবার আমাদের মা-ব্যাটার মধ্যে ঢুকচ কেন বলো দিকি? সে নীরেন একটু রাগী মানুষ। তোমরা তো সারাক্ষণ আমারে তেল দাও। এক-আধটা মানুষ থাক যে বকাবকি করবে।’

    ঠাকুরের এই আশ্চর্য ভালোবাসা নীরেনের বুকের মধ্যে বার বার এক পাগলাঝোরার উৎসমুখ খুলে দেয় আর অর্গলহীন হয়ে পড়ে নীরেনের চোখের জল। সবার সামনে কান্নাকাটি করা ঠিক না। নিজেকে কোনও মতে সামলে নিল সে। ঠাকুর বললেন, ‘আসলে কী বল তো নীরেন, এখেনে সবাই জানে আমি খুব তালেবর। তা আমি যদি ওই বস্তা গায়ে চাপিয়ে জঙ্গলে যাই ওরা কি আর তেমন ভরসা পাবে?’

    নীরেন একটু ভাবল। তার পরে বলল, ‘ওরা সবাই অলৌকিকের আশায় এখানে এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু অলৌকিকের সঙ্গে যুক্তি, বুদ্ধি, লজিকের কোনও বিরোধ নেই ঠাকুর। আপনি এখন যে কাজটা করতে যাচ্ছেন সেটা কতটা ব্যাপক সে সম্পর্কে আমার আবছা-আবছা ধারণা আছে। এ বার জঙ্গলে ঢোকার পরেই যদি টাটজেলোয়ামটা আমাদের আক্রমণ করে বা কামড়ে দেয় আমরা মূল কাজটা থেকে বিচ্যুত হব না কি? তাই এটুকু সাবধানতা। এতে আপনার বিভূতি এতটুকু কমে না। আমার বিশ্বাস আপনার বিভূতি এত খেলো নয়।’

    একদমে কথাগুলো বলে ঠাকুরের দিকে তাকিয়ে রইল নীরেন। ঠাকুরও গম্ভীর মুখে তাকিয়ে রইলেন নীরেনের দিকে। ধীরে ধীরে তাঁর মুখে হাসি ফুটল। বললেন, ‘নিজের বুদ্ধির ওপরে তোর খুব আস্থা না রে?’

    হাতজোড় করে নীরেন বলল, ‘ওটুকুই তো আমার সম্বল। আমার যে আপনার মতো শক্তি নেই।’

    ঠাকুর বললেন, ‘বুদ্ধিই তো মানুষের সবচেয়ে বড়ো শক্তি রে। আজ যে অপদেবতারে মারতে যাচ্চি, এইটুকুই-বা এলাম কীসের জোরে? তোর বুদ্ধির জোরে। বেশ আমি পরব তোর ওই বস্তা। পরিয়ে দে আমারে।’

    নীরেন হাঁফ ছাড়ল। বাবা রে, ঠাকুরকে কিছু বোঝানো ঝকমারি। অবশেষে বম্ব স্কোয়াডের পোশাক গায়ে দিয়ে নীরেনের হাত ধরে ঠাকুর ঢুকে গেলেন জঙ্গলের মধ্যে।

    জঙ্গলের ভেতরে তখন আঁধার ঘনিয়ে উঠেছে। দু’জনের দু’হাতে দুটো মশাল। সেই আলো অন্ধকারকে বিন্দুমাত্র বিচলিত করতে পারছে না। ঠোক্কর খেতে খেতে প্রায় আন্দাজেই আগের দিনের জায়গাটায় এসে পৌঁছোল দু’জনে। নীরেনের আশঙ্কা সত্যি হল না। পথে কোনও বিপদ হল না। নীরেন সঙ্গে করে আরও কিছু মশাল নিয়ে এসেছিল। ঠাকুরের কথামতো সেগুলো মাটিতে পুঁতে একটা বৃত্ত তৈরি করল। এ বার আর ঠাকুর নীরেনের কথা শুনলেন না। বম্ব স্কোয়াডের পোশাক খুলে ফেললেন। বললেন, ‘এ সব ধরাচুড়ো পরে আমি মন বসাতে পারব না রে নীরেন।’

    নীরেনও আর আপত্তি করল না, তবে নিজের পোশাকটা পরেই রইল সে। ঠাকুর নিজের ঝোলা থেকে কিছু সরঞ্জাম বার করে আনলেন। তার মধ্যে একটা মুখ ঢাকা ছোটো ঘটি আর কিছু চন্দন কাঠের টুকরো ছাড়া বাকিগুলোকে চিনতে পারল না নীরেন। মশালের বৃত্তের চারপাশে ঘটি থেকে জল ছেটাতে শুরু করলেন ঠাকুর। সঙ্গে অস্ফুট মন্ত্রোচ্চারণ।

    ঠাকুরের মধ্যে একটা পরিবর্তন লক্ষ করছিল নীরেন। হাসিখুশি মানুষটা ধীরে ধীরে যেন বদলে যাচ্ছিল এক কঠোর কঠিন যোদ্ধায়। জল ছেটানো শেষ করে নীরেনের মুখোমুখি এসে দাঁড়ালেন তিনি। ঠাকুরের চাহনি দেখে এই প্রথম বার একটু যেন ঘাবড়ে গেল নীরেন। মানুষের চোখ অন্ধকারে এমন জ্বলজ্বল করে না কি! মশালের আগুন জংলা হাওয়ায় কেঁপে কেঁপে উঠছে আর সেই আলো ভেঙে ভেঙে যাচ্ছে ঠাকুরের মুখের ওপরে, গায়ের ওপরে। সেই ভাঙা ভাঙা আলোয় নীরেন দেখল, এই রামদাস ঠাকুর তার অচেনা। অচেনা এক গম্ভীর গলায় ঠাকুর বলে উঠলেন, ‘এখন থেকে যতক্ষণ না আমি বলচি তুই আমার পেচনে দাঁড়িয়ে থাকবি। যাই হয়ে যাক যদি দেখিস কেউ আমারে মেরেও ফেলচে তুই নড়বি না। যে জায়গাটায় বাঁধন দিয়েচি তার বাইরে বেরোবি না। তুই অনেক বার অনুরোধ করেচিলি বলে আমি তোরে নিয়ে এসেচি কিন্তু আমার অবাধ্য হলে তার ফল ভালো হবে না। কী বললাম মনে থাকবে? আমি না বলা অবধি তুই বাইরে যাবি না। এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবি। বুঝেচিস? মাথায় ঢুকেচে?’

    বাধ্য ছাত্রের মতো মাথা নাড়ল নীরেন। এই রামদাস ঠাকুর অন্য মানুষ। এই রামদাস ঠাকুরের সঙ্গে তর্ক করা যায় না। ঘটি থেকে কিছুটা জল মাটিতে ছিটিয়ে ঠাকুর সেখানে বসে পড়লেন। নীরেন গিয়ে দাঁড়াল ঠাকুরের পেছনে ঝোলা থেকে একটা তামার তৈরি ছোটো যজ্ঞপাত্র বার করলেন ঠাকুর। তার ওপরে চন্দন কাঠের টুকরোগুলো রেখে আগুন ধরিয়ে দিলেন। সামান্য ক’টা কাঠ কিন্তু এত তীব্র উজ্জ্বল আগুন আগে কখনো দেখেনি নীরেন। তার চোখ বন্ধ হয়ে এল। ঠাকুর মন্ত্র পড়তে শুরু করলেন। নীরেনের মনে হল, গম্ভীর অথচ সুরেলা সেই মন্ত্র যেন কাউকে ডাকছে। খুব আকুল হয়ে ডাকছে। সেই ডাকে শিহরণ জাগছে অন্ধকার জঙ্গলের প্রাচীন সব গাছের পাতায়-পাতায়, শেকড়ে-শেকড়ে। এমনিতেই বেশ ঠান্ডা ছিল কিন্তু কোথা থেকে যেন একটা বরফশীতল হাওয়া বইতে শুরু করল। হি-হি করে কাঁপতে লাগল নীরেন। যজ্ঞপাত্রের আগুনটা কমতে কমতে একেবারে নিভু-নিভু হয়ে এল। আকাশে যে একফালি চাঁদ ছিল তাকে ঢেকে দিল ঘন কালো মেঘ আর ঠিক এমন সময় একটা চাপা অথচ ক্রুদ্ধ গর্জন শুনতে পেল নীরেন। বিস্ফারিত চোখে সে দেখল মশালের বৃত্তের বাইরে কিছুটা দূরে একটা অন্ধকারের পিণ্ড জন্ম নিচ্ছে। সেটাই গর্জন করছে। একটু-একটু করে আকারে বড়ো হচ্ছে সেটা আর গর্জনের তীব্রতা বাড়ছে। একসময় স্পন্দন থামল। অন্ধকারের পিণ্ডটা নীরেনদের দিকে ফিরল। সাহসী বলে বন্ধুমহলে নীরেনের বেশ নামডাক আছে কিন্তু আজ এই অন্ধকারে, বরফশীতল জঙ্গলের মাঝে দাঁড়িয়ে নীরেনের অন্তরাত্মা অবধি শিউরে উঠল। মেরুদণ্ড বেয়ে আরশোলার মতো কিলবিল করতে লাগল একটা অব্যক্ত ভয়। মশালের আবছা আলোয় অন্ধকারের পিণ্ডটার স্বরূপ বুঝতে পারছে সে। ওই তো তিন জোড়া সবুজ চোখ, তাতে সঞ্চিত হয়ে আছে অনাদিকালের ক্রোধ। ওই তো তিনটে মুখে ঝকঝকে শদন্তের সারি। তার থেকে ঝরে পড়ছে লালা। নাহ লালা নয়, নরকের জিঘাংসা। ‘সারবেরাস’! গ্রিক পুরাণে বর্ণিত নরকের দ্বাররক্ষী কুকুর। নীরেনের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। ঠাকুরের মধ্যে কোনও কিন্তু হেলদোল নেই। পাথরের মতো চোখ বুজে বসে আছেন তিনি। কুকুরটা ওই ঘাতক সবুজ চোখে কিছুক্ষণ ওদের দিকে তাকিয়ে রইল তার পরেই প্রবল এক গর্জন করে ছুটে গেল পাশের একটা ঝোপের দিকে।

    চোখ সওয়া অন্ধকারে, মশালের কাঁপতে থাকা আলোয় অলৌকিক এক লড়াইয়ের সাক্ষী হল নীরেন। কুকুরটা ছুটে যেতেই ঝোপের মধ্যে থেকে মাথা তুলল টাটজেলোয়াম। চকিতে কামড় বসাতে গেল কিন্তু তার আগেই বিশাল থাবার আঘাতে ছিটকে পড়ল দূরে। একলাফে সেখানে পৌঁছে কামড় বসানোর আগেই কুকুরটাকে পাকে পাকে জড়িয়ে নিল বিশাল সাপটা। দু’জনের ক্রুদ্ধ জান্তব গর্জনে ফালা ফালা হয়ে গেল রাতের নিস্তব্ধতা। ভয় পেয়ে ডেকে উঠল অসংখ্য পাখি। তাদের ডানা ঝাপটানোর শব্দ তালা ধরিয়ে দিল কানে। যেন স্থবির হয়ে গেল নীরেন। গোটা জঙ্গলটাও যেন স্তম্ভিত হয়ে এই মহাযুদ্ধ দেখতে থাকল। সময়ের হিসেব গুলিয়ে গেল নীরেনের। তার মনে হল, অনন্তকাল ধরে এই যুদ্ধ চলছে অচিন জগতের অলৌকিক দুই মহারথীর মধ্যে।

    তবে এক সময় যুদ্ধ শেষ হল। ছিন্নভিন্ন হয়ে টাটজেলোয়ামটা পড়ে রইল মাটিতে আর কুকুরটা হাঁপাতে হাঁপাতে বসে পড়ল। তার গায়েও প্রচুর ক্ষত। মরার আগে কামড় দিতে ভোলেনি টাটজেলোয়াম। ধীরে ধীরে টাটজেলোয়ার্মের ছিন্নভিন্ন দেহটা মিলিয়ে গেল। মৃত্যুর পরে আর অন্য জগতে টিকে থাকার মতো জোর রইল না তার।

    ঠাকুর এখনও বসে আছেন একইভাবে। নীরেনের মনে হল, টাটজেলোয়ার্মের বিষ কি শেষ অবধি সামলাতে পারবে নরকের কুকুর? তার আশঙ্কা সত্যি করে কুকুরটা এবারে ধুঁকতে শুরু করল। এক সময় সামনের পা দুটো ছড়িয়ে তিনটে মাথা এলিয়ে দিল। বুজে এল তিন জোড়া সবুজ চোখ

    নীরেনের মনটা খারাপ হয়ে গেল। ছোটোবেলা থেকে কত গল্প পড়েছে এই সারবেরাসের। এই মৃত্যুটা সে মেনে নিতে পারছিল না কিছুতেই। রক্ষকের মৃত্যু কেই-বা মেনে নিতে পারে! নীরেন ডাকল, ‘ঠাকুর, কুকুরটা যে মরে যাচ্ছে। ওকে কোনও ভাবে বাঁচানো যায় না?’

    ঠাকুর উত্তর দিলেন না। ও দিকে শুয়ে-শুয়েই কেঁদে উঠল কুকুরটা। নীরেন বুঝতে পারল খুব কষ্ট পাচ্ছে সে। নীরেন এমনিতেই কুকুর ভালোবাসে। হলই বা নরকের কুকুর। কুকুর তো। সে আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে জানে, ঠাকুরের ঝোলার মধ্যে বিষের প্রতিষেধক আছে। হাত ঢুকিয়ে কৌটোটা বার করে আনল আর তার পরে ঠাকুরের সাবধান বাণী বেমালুম ভুলে গিয়ে পা রাখল মন্ত্রপূত জল ছেটানো বৃত্তের বাইরে।

    পায়ে-পায়ে কুকুরটার কাছে চলে এল নীরেন। বিশাল লোমশ চেহারা। সাধারণ কুকুরের চাইতে অন্তত তিনগুণ বড়ো। কিন্তু এখন কেমন অসহায় লাগছে এত বড় জীবটাকে। একটু ঝুঁকে পড়ে ভালো করে দেখতে চাইল নীরেন। ঠিক তখনই একসঙ্গে খুলে গেল তিন জোড়া সবুজ চোখ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তীব্র গর্জন করে উঠে দাঁড়াল কুকুরটা আর সেকেন্ডের ভগ্নাংশে কামড়ে ধরল নীরেনের গলার কাছটা। সেই ধাক্কায় নীরেন পড়ে গেল মাটিতে। প্রচণ্ড আক্রোশে কুকুরটা ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করতে লাগল পোশাকের আবরণটা। প্রচণ্ড ভয়ে নীরেন চিৎকার করে উঠল, ‘ঠাকুর, বাঁচান!’

    ওই প্রবল ঝটাপটির মধ্যেও নীরেন দেখতে পেল, তার চিৎকারে ঠাকুরের কোনও ভাবান্তর হল না। নীরেন ব্যর্থ চেষ্টা করতে লাগল নিজেকে ছাড়ানোর কিন্তু যত চেষ্টা করতে লাগল তত বেশি করে দাঁত বসে যেতে লাগল। গলার কাছে প্রচণ্ড এক চাপ অনুভব করল নীরেন। সে বুঝতে পারছে একটু একটু করে ছিঁড়ে যাচ্ছে বম্ব স্কোয়াডের শক্ত পোশাক। অলৌকিক শদন্তের কাছে হার মানছে লৌকিক আবরণ। আর একটু পরেই তীক্ষ্ণ দাঁত বসে যাবে তার গলায়। হাত দিয়ে আবারও আটকানোর চেষ্টা করল নীরেন কিন্তু অন্য একটা মুখ দিয়ে তার হাত কামড়ে ধরল কুকুরটা। চোয়ালের চাপে যেন হাড়গুলো অবধি আর্তনাদ করে উঠল। নীরেন বুঝতে পারল সে মরে যাচ্ছে। কিন্তু যন্ত্ৰণা আর মৃত্যুভয়কে অগ্রাহ্য করে তার চেতনা আচ্ছন্ন হয়ে উঠল তীব্র অভিমানে। ঠাকুর এখনও একই ভাবে বসে আছেন যে! নীরেন মরে যাচ্ছে তবু ঠাকুর এলেন না! হাল ছেড়ে দিয়ে সে নিজেকে সঁপে দিল নরকের কুকুরের কাছে। মৃত্যুর কাছে। চোখ বুজে ফেলল সে আর তখনই তার কানে ভেসে এল শিসের শব্দ। অদ্ভুত সুরেলা শিস! কে এমন শিস দিচ্ছে! ফের সচকিত হয়ে উঠল নীরেনের ইন্দ্রিয়গুলো। সে অনুভব করল, গলা এবং হাতের ওপরে দাঁতের চাপ কমে যাচ্ছে। কুকুরটা তাকে ছেড়ে দিল আচমকাই।

    নীরেন ভাবল, ঠাকুর শিস দিচ্ছেন। মাটিতে পড়ে থেকেই ঠাকুরের দিকে তাকাল সে। কিন্তু না! ঠাকুর তো সেই একই ভাবে বসে আছেন পাথরের মতো! তবে? এ কার শিস? কার শিসে এই ঘাতক কুকুরটা তাকে ছেড়ে দিল। কষ্ট করে এ বারে উলটো দিকে তাকাল নীরেন আর দেখল বেশ কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে এক ছায়ামূর্তি। এই অন্ধকারে তার হিলহিলে অবয়বটুকুই বোঝা যাচ্ছে মাত্র কিন্তু চোখ-মুখ কিছুই স্পষ্ট নয়। তবে এই ছায়ামূর্তি সাধারণ নয়। উচ্চতায় সাধারণ মানুষের প্রায় দ্বিগুণ। তার হাতে একটা লম্বা লাঠি আর সারা শরীর জুড়ে এক আশ্চর্য আভা। সে আভা আলো নয়। অন্ধকারই যেন জ্যোতিঃপুঞ্জ হয়ে ঘিরে রয়েছে তাকে। সেই অলৌকিক অবয়বই শিস দিচ্ছে। নীরেন দেখল, নিতান্ত অনিচ্ছায় কুকুরটা ফিরে গেল তাকে ছেড়ে। গিয়ে সুদীর্ঘ সেই অবয়বের পায়ে মাথা ঘষতে লাগল। হাতের লাঠিটা দিয়ে কুকুরটার গায়ে একটা জোর বাড়ি মারল সেই ছায়ামূর্তি। যেন অন্যায়ের শাস্তি দিল সে। কুকুরটা কেঁউ কেঁউ করে কেঁদে উঠল। এ বার সেই ছায়ামূর্তি হাঁটা লাগাল গভীর জঙ্গলের দিকে। কুকুরটাও চলল তার পিছু পিছু। একটু পরেই গাছের আড়ালে হারিয়ে গেল নরকের কুকুর এবং নীরেনের জীবনদায়ী সেই ছায়ামূর্তি। জ্ঞান হারানোর আগের মুহূর্তে নীরেন অনুভব করল, ঠাকুর তার মাথাটা কোলে তুলে নিয়েছেন। সে অস্ফুটে বলল, ‘ও কে ঠাকুর? কে আমায় বাঁচিয়ে দিয়ে গেল?’

    ***

    ট্রেন ছুটে চলেছে কলকাতার দিকে। একটা ফার্স্টক্লাস কামরায় ঠাকুর আর নীরেন বসে আছে মুখোমুখি। লেবংয়ের মানুষ এত উপহার দিয়েছে সেগুলো রাখার জায়গা হচ্ছে না। তারা অকুণ্ঠ ধন্যবাদ দিয়েছে ঠাকুরকে। নীরেনকে। ঠাকুর অবশ্য বারে বারে বলেছেন, ‘আমি না। তোমরা সব নীরেনের বুদ্ধির জোরে বেঁচে গেলে গো। এ ব্যাটার মাথা খুব চলে।’

    প্রবেশ আর ভূপেন এসেছিল ট্রেনে তুলতে। ট্রেন ছাড়ার আগে অবধি ওরা ছিল। নেমে যাওয়ার আগে প্রবেশ বলেছিল, ‘আমাকে কোনও শাস্তি দিলেন না?’

    ঠাকুর বলেছিলেন, ‘তোমার অনুতাপ হয়েচে ওই তোমার শাস্তি গো। তবে আর কখনো এ সব কোরো না। তন্ত্র সোজা জিনিস না। না জেনে হাত দিলে হাত পুড়বেই। আর তুমি চিন্তা কোরো না, আমার শিষ্যরা সব তালেবর লোক। ওদের আমি বলে দিয়েচি, এ জঙ্গল যেন কেউ না কাটে ওরা তার ব্যবস্থা করবে।’

    নীরেনকে জড়িয়ে ধরে প্রবেশ বলেছিল, ‘তোমার কথা আমি কোনও দিন ভুলব না। কলকাতায় ফিরেই দেখা করব তোমার সঙ্গে।’

    ওরা নেমে গেছিল। নেমে যাওয়ার আগে প্রবেশ নীরেনের হাতে দিয়ে গেছিল ফাদার ক্যারলের ডায়েরিটা। বাঁশি বাজিয়ে ট্রেন ছেড়েছিল। বেশ অনেকক্ষণ ধরে ট্রেন চলছে। এখন ওরা মালদার কিছু আগে। ঠাকুর জানলা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছেন। ডাক দিলেন, ‘ও নীরেন, দেখ কত বকপাখি।’

    নীরেন ঘুরেও তাকাল না। সে ঠাকুরের ওপরে প্রচণ্ড বিরক্ত হয়ে রয়েছে। পঞ্চাশ বার জিজ্ঞেস করেছে, ‘সেদিন রাতে ওটা কে ছিল,’ ঠাকুর উত্তর দেননি। ঠাকুর জানলা থেকে চোখ সরিয়ে নীরেনের দিকে তাকালেন, ‘বকপাখি দেখবি না?’

    ‘আপনি দেখুন। বক আমার দুচক্ষের বিষ।’

    হো-হো করে হেসে উঠে নীরেনকে জড়িয়ে ধরে প্রায় তার কোলে উঠে এলেন ঠাকুর, ‘রাগ করেচে, আমার খোকা রাগ করেচে।’

    ‘ছাড়ুন তো আমায়। আপনাকে আমার অসহ্য লাগে,’ ঠাকুরকে ছাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল নীরেন।

    ঠাকুর আরও চেপে ধরলেন নীরেনকে, ‘আচ্চা, আর রাগ করিস না। কী করলে তোর রাগ কমবে বল।’

    ‘তা হলে আপনি বলুন, সে রাতে কে আমায় বাঁচিয়েছিল?’

    নীরেনকে ছেড়ে একটু সরে বসলেন ঠাকুর। বললেন, ‘জানতেই হবে?’

    ‘হ্যাঁ, জানতেই হবে।’

    ‘তুই তো এত জানিস, এত পড়ালেখা করেচিস, তবু তাঁরে চিনলি না?’

    ‘কেন রহস্য করছেন ঠাকুর? বলুন না। একবার মনে হয়েছিল ফাদার ক্যারলের আত্মা। কিন্তু পরে ভেবে দেখেছি তা নয়। নরকের কুকুরকে বশ করা ফাদার ক্যারলের কম্ম নয়। ওই ছায়ামূর্তি অন্য কেউ।’

    ‘ঠিক বলেচিস,’ সোজা হয়ে বসলেন ঠাকুর। বললেন, ‘শোন নীরেন, নরক থেকে যদি কেউ আসে সে কখনো খালি হাতে ফেরে না। এটাই নরকের নিয়ম। নরকের কুকুর তাই তোর ওপরে মায়া করেচিল। তোরে টেনে বের করে এনেছিল বাঁধনের বাইরে। তুই দেখেচিলি কি না জানি না, আমি কিন্তু একইভাবে বসেচিলাম। আসলে আমি আন্দাজ করেচিলাম তুই ভুল করবি। তোর মন এখনও অত শক্ত না যে তুই নরকের জীবের মায়া কাটাতে পারবি। তাই আমি মনপ্রাণ দিয়ে তাঁকে ডাকচিলাম। আমাদের ভাগ্য ভালো আমার ডাকে তিনি সাড়া দিলেন। অমন সড়ালে কুকুরকে তিনি ছাড়া আর কে বশ করবে? কুকুর যে তাঁর বাহন।’

    স্তম্ভিত হয়ে গেল নীরেন, ‘তবে কি তিনি….?’

    ‘কালভৈরব।’

    ঠাকুরের গলা গমগম করে উঠল ট্রেনের কামরার মধ্যে। ঠাকুর দুই হাত জড়ো করে কপালে ঠেকালেন। নীরেনও হাতজোড় করে কপালে ঠেকাল। অদ্ভুত এক অনুভুতি হচ্ছে তার মনের মধ্যে। স্বয়ং কালভৈরব তাঁকে রক্ষা করলেন! ঠাকুরের ডাকে তিনি আবির্ভূত হলেন! এতটাও ভাগ্য সে করেছিল!

    সিট ছেড়ে ঠাকুরের পায়ের কাছে বসে পড়ল নীরেন। পা দুটো বুকের মধ্যে নিয়ে বলল, ‘আমায় দীক্ষা দেবেন? আমি শিখতে চাই।’

    নীরেনের মাথাটা ধরে তার কপালে একটা চুমু খেয়ে ঠাকুর বললেন, ‘শেখাতে পারি, তবে তোরে কথা দিতে হবে, আমায় ছেড়ে তুই কক্ষনো যাবি না।’

    এমন ভাবে কেউ থাকার কথা বলে? এ ভাবে থেকে যেতে বললে কান্না পাবে না? চোখ মুছতে মুছতে নীরেন বলল, ‘কোথায় আর যাব? আপনাকে ভালোবাসি যে।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমৃত জ্যোৎস্নার রাত্রি – অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    Next Article ধুন্ধুমার – তমোঘ্ন নস্কর
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }