Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – সৌভিক চক্রবর্তী

    সৌভিক চক্রবর্তী এক পাতা গল্প667 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    লাপিস লাজুলি – ২৫

    ॥ পঁচিশ॥

    মার্চ, বর্তমান কাল

    শীত শেষ। বসন্ত এসে গেছে। কিন্তু চলে যেতে বললেই কি আর চলে যাওয়া যায়? তাই বাতাসে অক্ষম অধিকারবোধ ফলিয়ে যাচ্ছে শীত। এমনিতে বেশ উপভোগ্য আবহাওয়া কিন্তু মাঝে মাঝেই কোত্থেকে একটা হাওয়ার ঝাপটা আসছে আর ছুরির ফলার মতো চামড়ায় গেঁথে যাচ্ছে। সদ্য স্নান সেরে উঠেছেন বলে আরও আশকারা পাচ্ছে শীত। আরও একটা ব্যাপার আশকারা দিচ্ছে শীতকে। সেটা হল বয়স। গত ফাল্গুনে ছিয়ানব্বই পার করেছেন রঘুনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। এলাকার লোক তাঁকে রঘু ঠাকুর বলেই চেনে। কিন্তু এখনও প্রতিদিন ব্রাহ্ম মুহূর্তে স্নান সেরে মন্দিরের দরজা খোলেন। আগে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা কিছুই গায়ে লাগত না। কিন্তু বছর পাঁচেক হল লক্ষ করছেন, শীত এলে কষ্ট হয়। রোজ রোজ এই ভোরে স্নান করা নিয়ে ছেলে, মেয়ে, নাতি, নাতনিরা রাগারাগি করে কিন্তু রঘু ঠাকুর পাত্তা দেন না। এগারো বছর বয়সে উপনয়ন হয়েছিল, তার পর থেকে গত পঁচাশি বছর ধরে রোজ ভোরবেলা স্নান করে মায়ের পুজো দিয়ে দিন শুরু করেন তিনি। মা-ও সহায়, বড়ো রোগব্যাধি কোনও দিনই হয়নি। এক দিনও ফাঁক পড়েনি মায়ের পুজোয়।

    গত পনেরো বছর ধরে তিনিই এই মন্দিরের পূজারি, তিনিই একমাত্র ভক্ত। কারণ এই মন্দিরে কেউ আসে না। এই মন্দিরকে লোকে ভয় পায়। তিনি এই মন্দিরে পুজো করেন বলে তাঁকেও ভয় পায়। লোকে বলে, এই মন্দির অভিশপ্ত। রঘু ঠাকুর বহু বার বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, মা সর্বমঙ্গলময়ী। তিনি কাউকে অভিশাপ দিতে চান না। মানুষের কর্মফল অভিশাপ বয়ে আনে। এই মন্দিরের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। কিন্তু লোকে শুনলে তো! হয় ভয় নয় ভক্তি, এতেই মরল মানুষ! তলিয়ে ভাবে না এরা।

    বহু পুরোনো এই মন্দির। মন্দিরের বয়স প্রায় সাড়ে সাতশো বছর। লক্ষ্মণ সেনের সভা আলো করা মহাজ্ঞানী হলায়ুধের ছাত্র পঞ্চানন শর্মা ১২৭১ খ্রিস্টাব্দে এই দুর্গা মন্দির নির্মাণ করেন। মন্দিরের ভেতরে দেবী মূর্তির বেদির নীচে সেই পাথরের ফলক কালের নিয়মে অস্পষ্ট হয়ে এলেও আজও পাঠযোগ্য। রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া সাড়ে সাতশো বছর ধরে টিকে থাকা কোনও ইমারতের পক্ষেই সম্ভব নয়। ব্রহ্মস্থানের জমিদারেরা এই মন্দিরকে জাগ্রত বলেই মানতেন এবং এর সংস্কারও করেছেন বারবার। সাড়ে সাতশো বছর আগে এই ইমারতের চেহারা কেমন ছিল আজ আর তা বোঝার উপায় নেই কিন্তু পাথরের দেবীমূর্তি আজও অটুট। তিন ফুট উচ্চতার দেবীমূর্তিটি অপূর্ব শিল্পকর্মের নিদর্শন। এখানে দেবী অষ্টভুজা।

    বহু বছর অবধি এই মন্দির জাগ্রত বলেই পরিচিত ছিল। বাবার কাছে শুনেছেন, আশ্বিনে ধুমধাম করে পুজোও হতো। কিন্তু মানুষের লোভই কাল হল। বেদির নীচের পাথরের ফলকে প্রতিষ্ঠা কাল এবং প্রতিষ্ঠাতার নাম ছাড়াও অদ্ভুত এক সাবধান বাণী খোদিত আছে। সেটা হল, ‘মন্দিরের সামনের পুষ্করিণীর গভীরে প্রোথিত আছে এক দৈবী বস্তু। অনধিকারী সেটিকে স্পর্শ করলে মৃত্যু অনিবার্য।

    অনেক দিন পর্যন্ত মানুষ এই সাবধান বাণীকে বিশ্বাস করেছে এবং কৌতূহল দেখায়নি। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে সময় যত এগোল দেবদ্বিজে মানুষের ভক্তি যেন ক্রমশ কমতে লাগল। পুকুরের নীচে কী পোঁতা আছে তাই নিয়ে ফিসফাস শুরু হল। বার বার করে লোকে ডুব দিতে শুরু করল পুকুরে এবং একের পরে এক মৃতদেহ ভেসে উঠতে শুরু করল। একটা করে মৃতদেহ ভেসে উঠত আর আগামী পাঁচ বছরের জন্য লোকে চুপ করে থাকত। তার পরে আবার শুরু হতো কৌতূহল প্রদর্শন এবং অবশ্যম্ভাবী মৃত্যু। এই করে করে লোক আসা কমতে শুরু হয়েছিল গত পঞ্চাশ-ষাট বছর ধরেই। ভয়টায় সিলমোহর পড়ল পনেরো বছর আগে।

    পঞ্চায়েত প্রধান হল সীমন্ত বিশ্বাস। সে ঠাকুর-দেবতা মানে না। বলল, জলে নামলেই যখন লোক মরে তখন জলে কেউ নামবে না। পুকুরের সব জল তুলে নেওয়া হবে। তার পরে দেখা হবে কী আছে জলের তলায়। রঘু ঠাকুর বহু বার তাকে বারণ করলেন। সে কর্ণপাত করল না। বড়ো বড়ো সাত-আটটা পাম্প বসানো হল পুকুরের চার ধারে। মালদা টাউন থেকে এল বিরাট এক যন্ত্র। যেটা না কি কাদার মধ্যেও সাবলীল ভাবে চলাফেরা করতে পারে। দলে দলে লোক ভিড় করল পুকুরের চারপাশে। পাম্প চলতে শুরু করল। কিন্তু টানা ছ’ ঘণ্টা পাম্প চলার পরেও জলস্তর এতটুকুও নামল না। আশপাশের ঘরে জল ঢুকে গেল কিন্তু পুকুরের জল যে-কে সেই। লোকের মনে আবার নতুন করে ভয় সঞ্চারিত হতে লাগল আর সীমন্তর মনে জেদ। রঘু ঠাকুর সীমন্তর হাত চেপে ধরলেন, ‘ফিরে যা সীমন্ত। এখনও বুঝতে পারছিস না এটা দৈবী সংকেত? সাবধান বাণী? এই মন্দিরে স্বয়ং মা বিরাজ করেন। নয়তো সাড়ে সাতশো বছর ধরে টিকে থাকা কি সম্ভব? তুই বল না?’

    নিয়তি কেন বধ্যতে। কথা শুনল না সীমন্ত। জলে ডুবুরি নামাতে চাইল। ভয়ে যখন কেউ নামল না, তখন সীমন্ত নিজেই নেমে পড়ল জলে। কিন্তু ওই যে নামল আর উঠল না। তবে এ বার আর দেহ ভেসে ওঠার অপেক্ষা করতে হল না। সীমন্তকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল তারই শোওয়ার ঘরের বিছানায়। জলে ডোবা মানুষ যেমন ফুলে ওঠে ঠিক সেই চেহারা। চোখ দুটো বিস্ফারিত। লোকে বুঝতে পারল, মরার আগে খুব ভয় পেয়েছিল সীমন্ত।

    সেই ঘটনার পর থেকেই মন্দিরে লোক আসা বন্ধ হয়ে গেল। পরিত্যক্ত হয়ে গেল মন্দিরটা। আজ পনেরো বছর ধরে রঘু ঠাকুর একাই সকালে এসে মন্দিরের দরজা খোলেন, মায়ের ঘুম ভাঙান, পুজো দেন। তার পরে ফিরে যান।

    আজকাল বড়ো চিন্তা হয় রঘু ঠাকুরের। তাঁর পরে এ মন্দিরের ভার কে নেবে, কে রক্ষণাবেক্ষণ করবে সেই নিয়ে চিন্তা। এ মন্দিরে পুরোহিতদের খুব গুরুত্ব। স্বয়ং পঞ্চানন শর্মার পুঁথি প্রতি পঞ্চাশ বছর অন্তর অনুলিখন করেন তাঁরা। ইতিহাসকে ধরে রাখা যেমন পবিত্র দায়িত্ব, একই সঙ্গে গূঢ় কথাকে গোপন রাখাও দায়িত্ব। পঞ্চাননের সেই পুঁথিতে মন্দির নির্মাণের ইতিবৃত্তের পাশাপাশি দৈবী বস্তুটির ব্যাপারেও লেখা আছে আর সেটা জানার অধিকার আছে একমাত্র পুরোহিতদের। পূর্ববর্তী পুরোহিত পরবর্তীকে নির্বাচন করেন এবং তাঁর হাতে তুলে দিয়ে যান গোপনীয়তা রক্ষার এই গুরুদায়িত্ব। যেমন তাঁর বাবা নির্বাচন করেছিলেন তাঁকে। বাবাকে নির্বাচন করেছিলেন বাবার গুরুদেব। তাঁরা এই ব্রহ্মস্থানের আদি বাসিন্দা নন। বাবার গুরুদেবের ডাকে বাবা এখানে এসে ঘর বেঁধেছিলেন। রঘুনাথ অবশ্য গুরুমন্ত্রে দীক্ষা নিয়েছিলেন অন্য এক যোগীপুরুষের কাছে। তাঁর নাম রামদাস চট্টোপাধ্যায়। সবাই রামদাস ঠাকুর বলে ডাকত তাঁকে। পঞ্চাননের পুঁথির এই গোপন কথা কাউকে বলার নিয়ম নেই। নিজের স্ত্রীকেও না। কিন্তু রামদাস ঠাকুরকে বলেছিলেন তিনি। ঠাকুরের কাছে সব কথা বলে ফেলতে ইচ্ছে করত। সব শুনে ঠাকুর একটু চুপ করে থেকে কপালে হাত ঠেকিয়ে বলেছিলেন, ‘সবই দৈবী মায়া রে রঘু। নয়তো এত বছর ধরে ও মন্দির এ ভাবে লোকের চোখের আড়ালে থাকত না। যাক গে, যা গভীরে আচে গভীরেই থাক।’

    পুজো শেষ করে আজ আর বেরিয়ে এলেন না রঘু ঠাকুর। ভেতর থেকে গর্ভগৃহের দরজা বন্ধ করে গোপন জায়গা থেকে পঞ্চাননের পুঁথি বার করে বসলেন। বাবার পরে তিনি এই পুঁথির অনুলিখন করেছিলেন, সেও আজ প্রায় পঞ্চাশ বছর হতে চলল। আর কত দিন থাকবেন ঠিক নেই, তার আগে আরও এক বার লিখে যেতে হবে। ইতিহাসকে হারিয়ে ফেলা মহাপাপ। এত বার পড়েছেন যে এই পুঁথির প্রতিটি শব্দ তাঁর মুখস্থ। তবু পড়তে ভালো লাগে। যত বার পড়েন গিয়াসুদ্দিন আল তুসি নামের সেই মহামানবের প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে। সুদূর পারস্য থেকে ভারতে এসেছিলেন দৈবী বস্তুটি লুকিয়ে রাখতে। দশম শতাব্দী থেকেই পারসিকরা ভারতের গুজরাট উপকূলে বসতি স্থাপন করতে শুরু করেছিল। এ নিয়ে একটা জনশ্রুতিও আছে। পারসিকদের নেতা গুজরাটের রাজার কাছে বসতি স্থাপনের আবেদন জানালে রাজা কানায় কানায় পূর্ণ একটি দুধের পাত্র দেখিয়েছিলেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, আমার রাজত্বে আর নতুন লোকেদের থাকতে দেওয়ার জায়গা নেই। তখন পারসিকদের নেতা সেই দুধে এক মুঠো চিনি ফেলে দিয়েছিলেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, দুধে যে ভাবে চিনি মিশে যায় সে ভাবেই আমরা আপনাদের সংস্কৃতি এবং মানুষজনের সঙ্গে মিশে যাব। এর পরে আর গুজরাটের রাজা আপত্তি করেননি। পঞ্চানন লিখেছেন, গিয়াসুদ্দিনও প্রথমে গুজরাটেই এসেছিলেন। কিছু পরে তাঁর বাংলা ভ্রমণের ইচ্ছে হয়। তখনও আয়ুধটি কোথায় লুকোবেন তিনি ঠিক করেননি। ১২৭১ খ্রিস্টাব্দে গিয়াসুদ্দিন বাংলায় আসেন। তখন বাংলায় বলবনী বংশের শাসন সুলতান গিয়াসুদ্দিন বলবনী আর লখনৌতির শাসনকর্তা আমিন খান। লখনৌতি অর্থে গঙ্গানদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থিত লক্ষ্মণাবতী। বখতিয়ার খিলজির আক্রমণে সেন বংশের পতন হলেও লক্ষ্মণ সেন স্থাননামে রয়ে গেছিলেন মানুষের মনে। বহু দিন অবধি। বাংলায় এসেই পঞ্চাননের সঙ্গে আলাপ হয় গিয়াসুদ্দিনের। দুই মহাজ্ঞানীর বন্ধুত্ব হতে সময় লাগেনি। স্বপ্নাদেশ পেয়ে তখন ব্রহ্মস্থানে দুর্গা মন্দির বানাচ্ছেন পঞ্চানন। গিয়াসুদ্দিন সংস্কৃত পুঁথিতে আগেই দেবীর দুর্গার কথা পড়েছিলেন। এই প্রথম সামনে থেকে দেবীমূর্তি দেখলেন আর মুগ্ধ হলেন। বললেন, ‘দেবী ইনান্নার দণ্ড তবে এখানেই মা দুর্গার কাছে সুরক্ষিত থাক। এক সিংহবাহিনী আর এক সিংহবাহিনীর আয়ুধকে রক্ষা করুন।’

    পঞ্চানন অবাক হয়ে বলেছিলেন, ‘এই দৈবী দণ্ডের অধিকারী আপনি। এই দণ্ডকে ব্যবহার করার কৌশলও আয়ত্ত করেছেন। আপনি খুব ভালো করে জানেন এই দণ্ড যার কাছে থাকবে এবং যে একে ব্যবহার করার কৌশল জানবে সে হবে সসাগরা পৃথিবীর অধিপতি। আপনার কাছে এই সমস্ত সুযোগ থাকার পরেও আপনি একে গোপন করে রাখতে চাইছেন? ব্যবহার করতে চাইছেন না?’

    গিয়াসুদ্দিন হেসে বলেছিলেন, ‘আমার হাতে কলমই শোভা পায়। অন্য কিছু নয়। আর ক্ষমতা বড়ো খারাপ জিনিস, সে তো আপনিও জানেন। ক্ষমতা আর তার অপব্যবহার হাত ধরাধরি করে আসে। তার চেয়ে এই ভালো।’

    মন্দিরের সামনেই এক বিশাল পুষ্করিণী খোঁড়া হল। পুকুরের মাঝখানে পাথরের আধার তৈরি করে তার মধ্যে রাখা হল দেবী ইনান্নার দণ্ড। তার পরে পঞ্চানন শর্মা যজ্ঞ করলেন। সাত দিন, সাত রাত ধরে চলল সেই মহাযজ্ঞ। মহাজাগতিক এক বন্ধন রচিত হল ওই পাথরের আধার ঘিরে। যজ্ঞ শেষ করে পঞ্চানন গিয়াসুদ্দিনকে বলেছিলেন, ‘কোনও দৈবক্ষমতাধর মহাযোগী ছাড়া এই বন্ধন কাটানোর শক্তি কারও হবে না। আর অমন মহাযোগী কোটিকে গুটিক জন্মায়। অতএব আপনি নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন। দেবীর দণ্ড এখানে সুরক্ষিত থাকবে।’

    পড়তে পড়তে রঘু ঠাকুর সিদ্ধান্ত নিলেন, আগামীকাল থেকেই অনুলিখনে হাত দেবেন। ঠিক তখনই মন্দিরের দরজায় করাঘাতের শব্দ হল। চমকে উঠলেন তিনি। এত সকালে কে এল মন্দিরে? তার থেকেও বড়ো কথা এত বছর পরে কে এল? দ্রুত হাতে পঞ্চাননের পুঁথি গোপন জায়গায় রেখে দরজা খুললেন রঘু ঠাকুর আর অবাক হয়ে দেখলেন দরজার ও পারে কয়েক জন বিদেশি দাঁড়িয়ে আছে। তাদের দলপতি সৌম্য চেহারার এক প্রৌঢ়। গালে সাদা দাড়ি। তিনি হেসে ইংরেজিতে বললেন, ‘সুপ্রভাত। আমার নাম হুদুদ বেগ। আমি সুদূর সিরিয়া থেকে সোজা আপনার কাছে এসেছি। আপনি ইংরেজি বোঝেন তো? নয়তো আমি ট্রান্সলেটর ব্যবহার করব।’

    প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে রঘু ঠাকুর ইংরেজিতেই বললেন, ‘আগে জুতো খুলে আসুন। দেবস্থানে কেউ জুতো পায়ে ওঠে না।’

    নিজেদের জুতো পরা পায়ের দিকে একবার দেখলেন হুদুদ বেগ, তার পরে ওখানে দাঁড়িয়েই প্রশ্ন করলেন, ‘আমি যা খবর পেয়েছি, এই মন্দিরে তো কেউ আসে না। তাই না?’

    লোকটার ঔদ্ধত্য দেখে বিরক্ত হলেন রঘু ঠাকুর। তবু সৌজন্যবশত উত্তর দিলেন, ‘না কেউ আসে না।’

    ‘শেষ দু’-তিন দিনেও কেউ আসেনি?’

    ‘না আসেনি। এ বার হয় আপনারা জুতো খুলুন অথবা নীচে নেমে দাঁড়ান।’ শেষ দু’-তিন দিনেও কেউ আসেনি শুনে নিশ্চিন্ত হলেন হুদুদ বেগ। এ কথা স্থানীয় সোর্স আগেই জানিয়েছিল, তবু মন্দিরের পুরোহিতের থেকে আরও এক বার যাচাই করে নিলেন। আসলে মনের মধ্যে প্রচণ্ড অস্থিরতা নিয়ে এতটা পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি। সে রাতে পালমাইরার ইশতার মন্দির থেকে বেরিয়ে আসার কিছুক্ষণ পর থেকেই অস্বস্তি শুরু হয়েছিল। কথা ছিল, ছেলে-মেয়ে দুটোকে বালিচাপা দিয়ে দেওয়ার পরে অনুচরেরা তাঁকে জানাবে। কিন্তু দু’ ঘণ্টা কেটে গেলেও কারও ফোন আসেনি। তখনই খবর পেয়েছিলেন, ইন্ডিয়ান এমব্যাসির লোকেরা আর সিরিয়ান আর্মি মন্দিরে ঢুকেছে। আশঙ্কায় কেঁপে উঠেছিল মনটা। দেবীর দণ্ড কোথায় আছে ছেলে-মেয়ে দুটোও জানে। অন্য কেউ সেখানে পৌঁছোনোর আগে তাঁকে পৌঁছোতে হবে। যদিও অঙ্কের হিসেব বলেছিল, ভৌগোলিক দূরত্বে তিনি অনেকটাই পিছিয়ে আছেন। কিন্তু ভরসা দিয়েছিল ভবিষ্যৎবাণী। তাতে লেখা আছে, দেবীর দণ্ড তাঁর হাতে আসবে এবং এক মহাসাধকের হাতে নরকের দ্বার খুলবে। তিনিই তো সেই মহাসাধক। ভবিষ্যৎবাণী মিথ্যে হওয়ার নয়। তাই পর পর দুটো কাজ করেছিলেন। এক, দুনিয়া জুড়ে ছড়ানো নেটওয়ার্ককে বলে দিয়েছিলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলাতে অবস্থিত সাতশো বছরেরও পুরোনো দুর্গা মন্দিরের খোঁজ দিতে হবে। দুই, ইন্ডিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিলেন।

    কিন্তু সিরিয়া থেকে ভারত তো কম দূরে নয়। তার ওপরে নানারকম আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আছে। তাই সবার আগে তাঁর অসংখ্য নকল পাসপোর্ট আর নকল পরিচয়পত্রগুলোর মধ্যে থেকে বেছে নিয়ে রাতারাতি হয়ে উঠেছিলেন তুরস্কের নাগরিক। পৃথিবীর সব দেশে যাওয়ার ভিসা তাঁর করানোই থাকে এবং নিয়মিত নানা পরিচয়ে সেগুলোর নবীকরণ হতে থাকে। ফলে বিদেশ যাত্রা তাঁর জন্য কঠিন কিছু নয়। চার জন অতি বিশ্বস্ত অনুচরকে নিয়ে চলে এসেছিলেন তুরস্ক। কিন্তু তার পরেও আকাশপথে তুরস্ক থেকে দিল্লি, দিল্লি থেকে কলকাতা হয়ে সড়কপথে মালদা পৌঁছোতে তিন দিন লেগে গেছে। সোর্স খবর জোগাড় করেই রেখেছিল, মালদা টাউন থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে ছোট্ট গ্রাম বড়মস্তান। আসল নাম ব্রহ্মস্থান। লোকের মুখে মুখে মস্তানিতে দড় হয়ে উঠেছে। এই জেলার সবচেয়ে পুরোনো দুর্গা মন্দির সেখানেই। সোর্স আরও খবর দিয়েছিল, মন্দিরটা নিয়ে নানা রকম জনশ্রুতি আছে। মন্দিরের সামনে একটা পুকুর আছে, তার নীচে না কি দানো থাকে। জলে নামলেই মৃত্যু। বহু দিন ধরেই তাই ও মন্দিরে কেউ যায় না। মন্দিরটাকে পরিত্যক্তই বলা চলে। শুধু এক বৃদ্ধ পুরোহিত এখনও রোজ পুজো করেন এবং শেষ এক সপ্তাহে নতুন কেউ এই মন্দিরে আসেনি। সব শুনে ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিয়েছিলেন হুদুদ বেগ। একদম ঠিক জায়গাতেই এসেছেন তিনি। তড়িঘড়ি রওনা দিয়েছিলেন মন্দিরের উদ্দেশে।

    বৃদ্ধের চোখে চোখ রাখলেন হুদুদ বেগ ওরফে মুস্তাফা। বললেন, ‘শুধু জুতোই নয়, একটু পরে আমাকে জামাকাপড়ও খুলতে হবে। কারণ আমি ডুবুরির পোশাক পরব। জলের নীচে যে বস্তুটা এত বছর ধরে লুকিয়ে রাখা আছে আমি ওটা নিতে এসেছি। ওটা আমার।’

    বাধা দেওয়ার অবকাশও পেলেন না রঘু ঠাকুর। তার আগেই সবল চেহারার বিদেশিরা তাঁর হাত ধরে মন্দিরের চাতালে বসিয়ে দিল। হুদুদ বেগ বললেন, ‘আপনি বৃদ্ধ মানুষ। আপনার ওপরে বল প্রয়োগ করতে চাই না।’

    এক জন বড়ো একটা কালো ব্যাগ এগিয়ে দিল হুদুদ বেগের দিকে। সেটা নিয়ে তিনি মন্দিরের ভেতরে ঢুকে গেলেন এবং কিছুক্ষণ পরে বেরিয়ে এলেন ডুবুরির পোশাক পরে। পুকুরের ধারে গিয়ে দাঁড়ালেন তিনি। রঘু ঠাকুর চিৎকার করে বললেন, ‘এই ভুল কোরো না বিদেশি। এর আগে যারাই ওই দৈবী বস্তুর জন্য জলে ডুব দিয়েছে, তারাই মরেছে।

    উত্তর দিলেন না হুদুদ বেগ। একদৃষ্টে জলের দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি। এই জলের নীচেই রয়েছে তাঁর অভীষ্ট। মনে মনে গিয়াসুদ্দিন আল তুসিকে একটা কুৎসিত গালাগাল দিলেন। এই লোকটার জন্যই আজ সাড়ে সাতশো বছরেরও বেশি সময় ধরে, এক জন্ম থেকে আর এক জন্মে ঘুরে চলেছেন। কোথায় ইরান, ইরাক, সিরিয়া আর কোথায় এই মালদহের গ্রাম! এত দূর অবধি লোকটা এসেছে ইনান্নার দণ্ড লুকিয়ে রাখতে! কিন্তু শেষ অবধি পারল না। এটাই দুনিয়ার নিয়ম, যার জিনিস তার কাছেই যায়। জলে ঝাঁপ দিলেন তিনি। বহু বছর পরে জলের মধ্যে অন্য কিছুর উপস্থিতি টের পেয়ে উৎকণ্ঠিত হয়ে উঠল মাছেরা।

    এই জলে মানুষ নামে না, জল প্রায় কাচের মতোই স্বচ্ছ। দিনের বেলায় দেখতে এতটুকুও অসুবিধে হচ্ছে না। তার ওপরে হেড গিয়ারে লাগানো জোরালো আলো তো আছেই। বেশ কিছুটা দূর থেকেই পাথরের আধারটা দেখতে পেলেন হুদুদ বেগ। চারপাশে বিরাট আকারের মাছেরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিজাতীয় কিছুর উপস্থিতি টের পেয়েই নিরাপদ দূরত্বে সরে গেল তারা। তলদেশের মাটিতে পা রাখলেন হুদুদ বেগ। কোমর সমান উঁচু একটা পাথরের চৌবাচ্চা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, কয়েক শতাব্দী ধরে জলের তলায় থাকলেও পাথরের গায়ে এতটুকু শ্যাওলা নেই। বুক ঢিবঢিব করতে লাগল হুদুদ বেগের। তাঁর মন বলছে, ওখানেই আছে ইনান্নার দণ্ড। ধীরে ধীরে সেই চৌবাচ্চার দিকে এগোতে শুরু করলেন তিনি আর কয়েক পা যেতে না যেতেই বুঝতে পারলেন, চৌবাচ্চা অবধি পৌঁছোনো সহজ হবে না।

    প্রস্তুতি অবশ্য তখনই নিয়ে রেখেছিলেন, যখনই শুনেছিলেন জনশ্রুতির কথাটা। মিথ নিয়ে কারবার তাঁর। জনশ্রুতিকে অবহেলা করার মতো মূর্খ তিনি নন। সোর্স বলেছিল, জলের নীচে দানো আছে। তিনি অনুভব করলেন, দানো নয়, আসলে যা আছে তা হল অতি কঠিন এক সুরক্ষাবলয়। প্রাচীন কোনও এক তন্ত্র প্রয়োগ করে এই সুরক্ষাবলয় রচনা করা হয়েছে। অবশ্য এমন কিছু যে হবে সেটা তিনি গোড়া থেকেই জানতেন। এমন মারাত্মক অস্ত্রকে গিয়াসুদ্দিন কিছুতেই অসুরক্ষিত অবস্থায় রাখবেন না। এই সব মাথায় রেখেই তো তাঁর এত বছরের তন্ত্রসাধনা। মনটাকে একটা বিন্দুতে সংহত করলেন তিনি। অস্ফুটে উচ্চারণ করতে শুরু করলেন বিজাতীয় এক মন্ত্ৰ ধীরে ধীরে তাঁর শরীরের চারপাশেও এক সুরক্ষাবলয় রচিত হল। এ বার তিনি নিরাপদ। দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে চললেন। অবশেষে চৌবাচ্চার মধ্যে উঁকি দিলেন তিনি আর দিতেই নিশ্চিত হয়ে গেলেন, ইনান্নার দণ্ড এখানেই আছে। ভেতরে পাথরের স্ল্যাব দিয়ে ঢাকা আরও একটা ছোটো মাপের চৌবাচ্চা। তার মধ্যে কী আছে বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে না বটে কিন্তু পাথরের মধ্যে যেটুকু ফাঁক আছে তার মধ্যে দিয়েই বিচ্ছুরিত হচ্ছে অত্যুজ্জ্বল নীল আলো। সেই আলো চোখে ঘোর লাগিয়ে দেয়। আগল খুলে দেয় বুকের ভেতর জমিয়ে রাখা অবদমিত ইচ্ছেদের। হুদুদ বেগের ইচ্ছে করল সে দিকে তাকিয়ে থেকেই জীবনটা কাটিয়ে দেন কিন্তু শাসন করলেন নিজেকে। হাতে বেশি সময় নেই। যে কোনও সময় শত্রুপক্ষ চলে আসতে পারে। এখনও যে আসেনি এটাই আশ্চর্যের! হিসেব মতো ছেলে-মেয়ে দুটোর তো সব বলে দেওয়ার কথা। কাউকে না বলুক মিস্টার ভাদুড়ি নামের ওই লোকটাকে তো বলবেই ওরা। কিন্তু সে সবের তো কোনও উচ্চবাচ্য নেই। এক মুহূর্তের জন্য হুদুদ বেগের মনে হল, এটা কি তবে কোনও ফাঁদ?

    না ফাঁদ নয়। হুদুদ বেগ যদি জানতেন ভাদুড়িমশায়ের পৌঁছোতে এখনও ঘণ্টাখানেক সময় লাগবে তা হলে তিনি আর অকারণ চিন্তায় কালাতিপাত করতেন না। তবে প্রবল দুশ্চিন্তায় স্থির হয়ে বসতে পারছেন না ভাদুড়িমশায়। তাঁর ছটফটানিটা স্পষ্ট বুঝতে পারছে অমিয়। নয়তো তাঁর মতো স্থিতধী মানুষ কিছুতেই জোরে গাড়ি চালাতে বলতেন না।

    হাইওয়ে ধরে ছুটে চলেছে পাঁচটা গাড়ি। প্রথম গাড়িটা পাইলট। রাস্তা ফাঁকা করতে করতে এগিয়ে চলেছে। দ্বিতীয় গাড়িতে রয়েছেন ভাদুড়িমশায়, অমিয়, দীপক পাল এবং অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়্যাডের স্পেশাল অফিসার সহদেব মাহাতো। গাড়ি চালাচ্ছে অমিয়। পেছনের তিনটে গাড়িতে রয়েছে কুড়ি জন বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত আধাসেনা। সহদেব মাহাতোর সঙ্গে ফোনে রয়েছেন সমীরণ বসাক স্বয়ং।

    সমীরণের উদ্যোগেই চার দিন আগে ভারতীয় দূতাবাসের কর্মীরা এবং সিরিয়ান আর্মি পালমাইরা থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করেছিল সঞ্জয় আর অপালাকে। সঞ্জয়রা কী অবস্থায় আছে সে কথা ভাদুড়িমশায়-ই জানিয়েছিলেন সমীরণকে। ইতিমধ্যে পল্লব এবং রোশনির সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ হয়েছে। তাদেরও সিরিয়ার কামিশলি থেকে উদ্ধার করেছেন সমীরণ। কিন্তু মুশকিলটা হয়েছে অন্য জায়গায়। সঞ্জয় আর অপালার জ্ঞান ফিরেছে গত কাল গভীর রাতে, টানা তিন দিন অজ্ঞান থাকার পরে। জ্ঞান ফেরার পরেই অপালা ভাদুড়িমশায়কে সেই ভয়ংকর দুঃসংবাদটা দিয়েছে। লোকটা হালাকু খাঁ-র পুনর্জন্ম। সে জানে, দেবী ইনান্নার দণ্ড কোথায় আছে আর এতক্ষণে হয়তো সেটা সে পেয়েও গিয়েছে।

    মালদা জেলার সাড়ে সাতশো বছরের পুরোনো দুর্গা মন্দিরের খোঁজ পেতে ভাদুড়িমশায়ের বেশিক্ষণ লাগেনি। অপালার কথা শুনতে শুনতেই মনে পড়ে গেছিল, অনেক বছর আগে ঠাকুর একবার বলেছিলেন, ‘মালদায় ব্রহ্মস্থান নামে এক গ্রামে বহু প্রাচীন এক দুর্গা মন্দির আছে। তার বয়েস সাতশো বছরেরও বেশি। পারলে কখনো যাস নীরেন। ওখানে আমারই এক শিষ্য পুজো করে। রঘুনাথ। খুব জাগ্রত দেবস্থান।’

    পরের বছরই এক শীতকালে ঠাকুরের আশ্রমে দেখা হয়ে গেছিল রঘুনাথের সঙ্গে। ঠাকুর আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন। রঘুনাথ বয়সে ভাদুড়ি মশায়ের চেয়ে বেশ খানিকটা বড়ো। বলেছিলেন, ‘ভাই নীরেন, ঠাকুরের মুখে তোমার নাম খুব শুনেছি। এসো আমাদের গ্রামে। মা খুব জাগ্রত। তোমার ভালো লাগবে।’

    ভাদুড়িমশায় বলেছিলেন, ‘যাব দাদা। নিশ্চয়ই যাব।’

    ভেবেছিলেন যাবেন কিন্তু আর যাওয়া হয়ে ওঠেনি। রঘুনাথের সঙ্গেও আর দেখা হয়নি। আসলে কোনও অতি জাগ্রত দেবস্থানে চাইলেই যাওয়া যায় না। দেবস্থান ডাক দিলে তবেই মানুষ সেখানে যেতে পারে। এত দিনে তবে ব্রহ্মস্থানের মা দুর্গা তাঁকে ডেকেছেন! হিসেব মতো রঘুনাথের এখন একশোর কাছাকাছি বয়স হওয়ার কথা! রঘুনাথ কি আজও বেঁচে আছেন?

    নিজে দিল্লি থেকে আসতে না পারলেও অপালার সঙ্গে কথা হওয়ার ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যেই সব ব্যবস্থা করে ফেলেছিলেন সমীরণ। গভীর রাতেই গাড়িগুলো রওনা দিয়েছিল মালদার উদ্দেশে। হুদুদ বেগ ওরফে মুস্তাফার আসল পরিচয় জানার পরে সমীরণ স্বাভাবিক ভাবেই ইন্টেলিজেন্সকে জানাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভাদুড়িমশায় বারণ করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘এখানে দুটো সম্ভাবনা রয়েছে। এক, আইসিস চিফ আমাদের আগে দেবীর দণ্ড পাবে। দুই, ওর আগে আমরা দেবীর দণ্ড পাব। দুই ক্ষেত্রেই বেশি লোক জানানোয় সমস্যা আছে। প্রথমটা যদি হয়, তা হলে তো সব শেষ বলে ধরে নিতে হবে। তখন যত বেশি লোক ওকে বাধা দিতে যাবে তত বেশি মৃত্যু। আর দ্বিতীয়টা যদি হয়, যদি আমরা দেবীর দণ্ড আগে পেয়ে যাই, আইন অনুসারে ওটা আমার ভারত সরকারের হাতে তুলে দেওয়া উচিত। কিন্তু সেটা তো এই মুহূর্তে আমি করতে পারব না। তাই যদি দেবীর দণ্ড আমরা আগে পেয়ে যাই তার পরে তুমি ইনটেলিজেন্সকে জানিয়ো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ো। যদিও আমার বিশ্বাস ওই লোকটাকে কবজা করতে লৌকিকের থেকে অলৌকিকের ওপরেই তোমাকে জোর দিতে হবে। কারণ ও তো আর যে কেউ নয়। স্বয়ং কবর ফুঁড়ে উঠে আসা অতৃপ্ত ইতিহাস।

    ভাদুড়িমশায়ের কথা মেনে নিয়েছিলেন সমীরণ কিন্তু তার পরেও কুড়ি জন আধাসেনা সঙ্গে দিয়ে দিয়েছেন। একেবারে অরক্ষিত অবস্থায় যাওয়া ঠিক না। ভাদুড়িমশায়ও আর আপত্তি করেননি। আসলে অপালার কথা শোনার পর থেকেই তাঁর মনে কু ডাকছে। সমীরণ যতই আশ্বাস দিন না কেন সিরিয়া থেকে এত তাড়াতাড়ি কারও পক্ষে মালদা আসা সম্ভব নয়, ভাদুড়ি মশায়ের মন বলছে, বিপদ ঘনিয়ে উঠছে। তিনি জানেন, তাঁর অনুমান কখনো ভুল হয় না। তাই ব্রহ্মস্থানের যত কাছে এগিয়ে আসছেন তাঁর ছটফটানি বাড়ছে। তিনি অমিয়কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আর কতক্ষণ?’

    গুগল ম্যাপের দিকে তাকিয়ে অমিয় উত্তর দিল, ‘আর বড়োজোড় আধ ঘণ্টা স্যার।’

    চোখ বুজে গাড়ির সিটে হেলান দিলেন ভাদুড়িমশায়। মনে মনে গুরুর নাম জপ করতে লাগলেন। আর ঠিক তখনই ভেতরের চৌবাচ্চার পাথরের ঢাকনাটা সরিয়ে ফেললেন হুদুদ বেগ। কালান্তরের স্মৃতি গ্রাস করল তাঁকে। তাঁর কত সাধের জিনিস! অবশেষে এক জন্ম থেকে আর এক জন্মে ছুটে বেড়ানো সার্থক হল। মনে পড়ে গেল সেই দিনটার কথা, যে দিন প্রথম দেখেছিলেন দণ্ডটাকে। তামার তৈরি একটা সুদৃশ্য দণ্ড। দণ্ডের মাথায় বসানো একটা অত্যুজ্জ্বল নীলকান্ত মণি, যার আর এক নাম লাপিস লাজুলি। নীলকান্ত মণিটা যেন জ্যান্ত। তার মধ্যে যেন একটা স্পন্দন রয়েছে। মণিটা স্পর্শ করা যাচ্ছে না। মণির কাছাকাছি হাত নিয়ে গেলেই অদৃশ্য সূচের মতো কী যেন হাতে বিঁধছে। আজও কয়েক মুহূর্ত মণিটার দিকে তাকিয়ে রইলেন তিনি। তার পরে দণ্ডটাকে হাতে তুলে নিলেন। শুরু করলেন অস্ফুট মন্ত্রোচ্চারণ। জাগাতে হবে এই মহা আয়ুধকে। মন্ত্রের গতি বাড়তে জলের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হল। দমকা হাওয়ায় এলোমেলো হল চার দিক। আকাশ ছেয়ে এল

    ঘন কালো মেঘে। এক সময় হুদুদ বেগ অনুভব করলেন, হাজার হাজার বছর ধরে ঘুমিয়ে থাকা শক্তিপুঞ্জ জাগছে। তাঁর শরীরের মধ্যে অদ্ভুত এক শিহরন হল। যেন বুকের গভীরে ঘুমিয়ে থাকা কোনও আগ্নেয়গিরি আড়ামোড়া ভেঙে উঠে বসল। যেন বহু কাল ধরে আটকে থাকা জলরাশি ছিদ্র খুঁজে পেল বাঁধের গায়ে। যেন মাঝসমুদ্রে জন্ম নিল টাইফুনশিশু।

    হুদুদ বেগ পরম যত্নে হাত বুলিয়ে দিলেন লাপিস লাজুলির গায়ে। আজ আর মণিটাকে স্পর্শ করতে অসুবিধে হল না। দেবী ইনান্নার লাপিস লাজুলি তাঁকে স্পর্শ করার অনুমতি দিচ্ছে। এই অনুমতি পাওয়ার জন্যই তো তাঁর এত দিনের অপেক্ষা। গত জন্মে এই অনুমতি লাভের একেবারে দোরগোড়া থেকে ফিরে আসতে হয়েছিল গিয়াসুদ্দিনের বিশ্বাসঘাতকতায়। কিন্তু এ বার তিনি পেরেছেন। এ বার দৈবী নির্বাচনেই তিনি এই দণ্ড ব্যবহারের অধিকারী। সাড়ে সাতশো বছর সময় লেগে গেল ঠিকই কিন্তু ওই যে ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে, ‘বেটার লেট দ্যান নেভার।’ দণ্ডটাকে ডান হাতে ধরে ওপরের দিকে ভেসে উঠতে শুরু করলেন হুদুদ বেগ ওরফে মুস্তাফা ওরফে হালাকু খাঁ।

    বিস্ফারিত চোখে রঘু ঠাকুর দেখলেন বিদেশি লোকটা জল থেকে উঠে আসছে! তার হাতে অদ্ভুত এক দণ্ড যার শিরোপরে জ্বলজ্বল করছে অত্যুজ্জ্বল নীলাভ স্ফটিকখণ্ড। সাড়ে সাতশো বছর পরে এই পুকুরের জল থেকে কেউ উঠে এল, জীবন্ত!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমৃত জ্যোৎস্নার রাত্রি – অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    Next Article ধুন্ধুমার – তমোঘ্ন নস্কর
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }