Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – সৌভিক চক্রবর্তী

    সৌভিক চক্রবর্তী এক পাতা গল্প667 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    লাপিস লাজুলি – ১

    ॥ এক ॥

    ফেব্রুয়ারি, ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দ

    শীতের বিকেল। টাইগ্রিস নদীর জল হলুদ হয়ে গেছে। নদীর জল হলুদ হওয়া মানেই সন্ধে আসছে গুটিগুটি পায়ে। তাঁবুর প্রবেশপথ উন্মুক্ত। সেখান থেকেই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে টাইগ্রিস। নদীর দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছেন হালাকু খাঁ। জোলো হাওয়া কাঁপন ধরাচ্ছে হাড়ে কিন্তু তাতে ভ্রূক্ষেপ নেই হালাকুর। জ্ঞান হওয়া ইস্তক যুদ্ধ করছেন তিনি। যুদ্ধ তো শুধু মানুষের সঙ্গে হয় না, এক জন সৈনিককে যুদ্ধ করতে হয় প্রকৃতির সঙ্গেও।

    নভেম্বর মাসে রওনা দিয়েছিলেন বাগদাদের উদ্দেশে। এটা ফেব্রুয়ারি। চার মাস কেটে গেছে পথে পথেই। কখনও মধ্যদিনের মরুভূমির তীব্র দাহ, কখনও শেষ রাতে গিরিকন্দরের তুষারপাত। ক্ষতবিক্ষত করেছে বার বার তাও ভালো বর্ষার মুখোমুখি হতে হয়নি। সে আরও যন্ত্রণার।

    শারীরিক কষ্টকে কোনও দিনই আমল দেন না হালাকু। কিন্তু এই আঘাতটা বেশ গভীর। শীতে সাধারণত ক্ষত দ্রুত শুকোয় কিন্তু এ বার কিছুতেই সারছে না। আর এই ঝামেলায় মদ খাওয়ায় রাশ টানতে হয়েছে। সেটাই সবচেয়ে বেশি বিরক্তির কারণ। সারাদিনে তিন জালা মদ্যপান করতেন হালাকু। সেটা এই শেষ পনেরো দিনে দুই জালায় এসে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসক একেবারেই মদ্যপান না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ক্রুদ্ধ হালাকু চিকিৎসকের একটি কান কেটে নিয়েছেন। আরও একটি কান কাটতে যাচ্ছিলেন, তার আগেই চিকিৎসক বলেছেন, ‘দিনে এক জালা কমিয়ে দিলেই চলবে।’

    সেটা শুরুতে বললেই হতো। খামোখা এক কান কাটা গেল বৃদ্ধের।

    একটু কাত হতেই ক্ষতস্থানটা ফের টাটিয়ে উঠল। চোয়াল শক্ত হয়ে গেল হালাকুর। নামটা মনে পড়লেই রাগে কপালের রগ দুটো টনটন করে ওঠে। কারা সোঙ্কোর। বাগদাদের এক সেনাপ্রধান। লোকটা কিপচাক। ইউরেশিয়ান স্তেপের বাসিন্দা। নীল চোখ, সোনালি চুল। বংশানুক্রমে যুদ্ধব্যবসায়ী। বহু দূর থেকে এসে বাগদাদের খলিফার প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছিল। উদ্ধত, দুর্বিনীত, গোঁয়ার। হালাকুর প্রিয়পাত্র সুলতানচুক, যাকে হালাকু সুলচুক বলে ডাকেন, প্রথমে এই কারাকেই পত্র দিয়েছিল। সুলচুক লিখেছিল,

    ‘কারা সোঙ্কোর, তুমি আর আমি একই জাতের মানুষ। যুদ্ধ আমাদের পেশা। এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে দৌড়ে বেড়িয়েছি পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। শত্রুর তির আমাদের রক্তাক্ত করেছে, পথশ্রম করেছে ক্লান্ত। অবশেষে আমি আশ্রয় পেয়েছি সম্রাটের চরণকমলে। তিনি আমার দায়িত্ব নিয়েছেন। আমার পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন। আমি তোমায় পরামর্শ দিচ্ছি, প্রাণের মায়া করো আর সম্রাটের কাছে আত্মসমর্পণ করো। তোমার আত্মসমর্পণ তোমার সন্তানদের দীর্ঘজীবী করুক।’

    মোঙ্গোল সম্রাট মোংকে খাঁ-র তরফে সেনাপতি হালাকু খাঁ-র নির্দেশে এই পত্র প্রেরিত হয়েছিল। উত্তরে সরাসরি হালাকুকে আক্রমণ করে কারা সোঙ্কোর লিখেছিল,

    ‘সুলতানচুক, তোমার হালাকু খাঁকে বলে দাও, বাগদাদ আক্রমণ করে সে বিরাট বড়ো ভুল করেছে। এত দিনে সে যা যা ক্ষতি করেছে, তার জন্য যদি ভুল স্বীকার করে আর সেনাবাহিনী নিয়ে হামাদানে ফিরে যায় তা হলে আমি খলিফার কাছে অনুরোধ করতে পারি যাতে তিনি হালাকুকে ক্ষমা করেন।’

    সুলচুক চিঠিটা নিয়ে এসেছিল হালাকুর কাছে। চিঠিটা পড়ে কিছুক্ষণ চুপ করে বসেছিলেন হালাকু। প্রথম যখন মোংকে খাঁ-র তরফ থেকে বাগদাদের খলিফা আল মুস্তাসিনকে চিঠি দিয়ে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছিল, খলিফা বলেছিলেন, ‘বাগদাদের গায়ে হাত পড়লে সারা দুনিয়ার মুসলমান এক হয়ে মোঙ্গোলদের বিরুদ্ধে লড়বে। ভারত থেকে পূর্ব আফ্রিকা এক হয়ে শাস্তি দেবে মোঙ্গোলদের।

    হালাকু জানতেন তেমন কিছুই হবে না। হয়ওনি। যাতে না হয় সেইজন্যই তো আক্রমণের সময় হিসেবে এই শীতকালটা বেছে নেওয়া। শীত বড়ো মারাত্মক ঋতু। ভারত আর আফ্রিকা থেকে না কি মুসলমানেরা আসবে বাগদাদকে বাঁচাতে! আগে প্রাণ, তবে না বেরাদরি। কিন্তু কারার চিঠিটার মধ্যে এই অবান্তর আস্ফালন ছিল না। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ছিল না। যা ছিল, তার নাম প্রত্যয়। চিঠিটা ছিঁড়ে ফেলে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন হালাকু। সুলচুককে বলেছিলেন, ‘এই লোকটার মাথা চাই।’

    সেলাম করে সুলচুক চলে গেছিল। মনে মনে লোকটার সাহসের তারিফ করেছিলেন হালাকু খাঁ। হালাকু বুঝেছিলেন, এই লোকটা বেগ দেবে। আর তাই হয়েছে। কারার ছুড়ে দেওয়া তলোয়ার সোজা গেঁথে গেছিল হালাকুর কাঁধে। নিজে হাতে লোকটার মাথা কেটেছেন ঠিকই কিন্তু এই ঘা আর শোকাচ্ছে না।

    মোঙ্গোলরা পশ্চিমের দিকে এগিয়ে আসছে শুনেই দাওয়াতদার অর্থাৎ খলিফার সেনাপতি মুজাহিদুদ্দিন আইবক এই কারা সোঙ্কোরকে নিয়েই পথ আগলে দাঁড়িয়েছিল। মোঙ্গোলদের সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দিচ্ছিল সুলতানচুক আর বোকা তেমুর। বাগদাদ থেকে তখন আর মাত্র ২৫ মাইল দূরে মোঙ্গোলরা, আচমকাই ঝড়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাগদাদি সৈন্যরা। তাদের আল্লাহু আকবর ধ্বনিতে কানে তালা ধরে গেছিল বোকা তেমুরের। অন্তত তেমুর তাই বলেছিল হালাকুকে। অতর্কিত আক্রমণে দিশেহারা মোঙ্গোলরা পিছু হটেছিল। পালাতে-পালাতে সুলতানচুক আর বোকা তেমুর পেছন ফিরে দেখেছিল একটা উঁচু পাথরের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে কারা সোঙ্কোর। হাতে খোলা তলোয়ার। টাইগ্রিস থেকে আসা হাওয়ায় উড়ছে তার অন্য হাতে ধরা খলিফার চিহ্ন দেওয়া পতাকা। চিৎকার করে কারা বলেছিল, ‘সুলতানচুক, হালাকুর পোষা ইঁদুর, হালাকুকে বলে দিস, কারা সোঙ্কোর অপেক্ষা করছে হালাকুর জন্য। আমার হাতে মরলে তবেই হালাকুর পাপের প্রায়শ্চিত্ত হবে।’

    মাথায় আগুন উঠে গেছিল সুলতানচুকের। ফিরে যেতে চেয়েছিল আবার। হ্যাঁচকা টানে তাকে নিজের দিকে ফিরিয়েছিল বোকা তেমুর, ‘মাথা খারাপ না কি? লোকটা এখন রক্তের নেশায় পাগল হয়ে আছে। হালাকু ছাড়া ওকে কেউ আটকাতে পারবে না।’

    প্রাণ হাতে করে টাইগ্রিসের ও’পারে হালাকুর কাছে পালিয়ে এসেছিল সুলচুকরা। তখনও টাইগ্রিস পেরোননি হালাকু। টাইগ্রিসের ও’পারেই শিবির ফেলেছিলেন। হালাকুর নির্দেশে অশ্বারোহী ছুটেছিল পুবে। কিছু দূরেই শিবির ফেলেছে হালাকুর অতি অনুগত আর এক অনুচর বাইজু নয়ান। সন্ধের আগেই সে এসে হাজির হয়েছিল হালাকুর শিবিরে। ঢক ঢক করে এক জালা মদ শেষ করে হালাকু উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। তার পরে বেরিয়ে এসেছিলেন শিবিরের বাইরে। রক্ষীর হাত থেকে ভল্লটা নিয়ে আমূল গেঁথে দিয়েছিলেন মাটিতে। সুলচুক, তেমুর আর বাইজুর বিস্ফারিত দৃষ্টির দিকে চেয়ে আত্মপ্রসাদে ভরে উঠেছিল হালাকুর মনটা। কারণ ধারালো দিকটা নয়, হালাকু মাটিতে গেঁথে দিয়েছেন ভল্লের ভোঁতা দিকটা। শরীরে মত্ত হাতির বল না থাকলে এ সম্ভব নয়। অনুচরদের দিকে তাকিয়ে হালাকু বলেছিলেন, ‘আগামীকাল সকালে আমরা খলিফার সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করব আর সন্ধের আগেই ভল্লের এই ফলায় শোভা পাবে কারা সোঙ্কোরের মাথা।’

    পরের দিন ১৭ জানুয়ারি বন্যার জলের মতো, দাবানলের আগুনের মতো, পঙ্গপালের মতো মোঙ্গোল সেনা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাগদাদি সেনাদের ওপরে। ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছিল বাগদাদি সেনা। বেগতিক দেখে আগেই পালিয়েছিলেন দাওয়াতদার মুজাহিদুদ্দিন আইবক। প্রায় ১২ হাজার বাগদাদি সেনা কচুকাটা হয়েছিল সে দিন। কিন্তু হালাকুর আশঙ্কা সত্যি করে বাঘের মতো লড়াই করেছিল কারা সোঙ্কোর। হালাকুর মতো যোদ্ধাকেও শেষ মুহূর্ত অবধি জমি ছাড়েনি সে। কিন্তু হালাকু খাঁ, চেঙ্গিজ খাঁ-র দৌহিত্রর সামনে দাঁড়াতে পারে এমন যোদ্ধা গোটা মধ্যপ্রাচ্যে নেই। তাই শেষ অবধি হার মানতে হয়েছিল কারাকে। ভারী তলোয়ারটা কারার বুকে হাতল অবধি গেঁথে দিয়েছিলেন হালাকু। মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়েছিল দীর্ঘ দেহটা। বিজয় গর্বে এক মুহূর্তের জন্য অসতর্ক হয়েছিলেন হালাকু আর তাতেই জাত চিনিয়ে দিয়েছিল কিপচাক যোদ্ধা। আচমকা হাঁটুর ওপরে উঠে বসে নিজের তলোয়ারটা ছুড়ে দিয়েছিল হালাকুর দিকে তার পরে আবার আছড়ে পড়েছিল মাটিতে বেড়ালের ক্ষিপ্রতা হালাকুর, শেষ মুহূর্তে একটু হলেও সরে যেতে পেরেছিলেন। তাই কাঁধে গেঁথে গেছিল তলোয়ারটা। নয়তো কারা সোঙ্কোরের পাশে তাঁর মৃতদেহটাও পড়ে থাকত টাইগ্রিসের পাড়ে।

    বড্ড জ্বালাচ্ছে ঘা-টা। একটু শুতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু এখন শুলে চলবে না। খলিফা আল মুস্তাসিনের মেজো ছেলে আবদুল রহমান তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছে। অবশেষে ভয় পেয়েছেন খলিফা। হালাকুর মন বলছে, আজ ওরা সন্ধি প্রস্তাব নিয়েই আসবে। সুলচুক আর তেমুর তাকে আনতে গেছে। হালাকু এসব খাতিরদারিতে বিশ্বাস করেন না। তাঁর কাছে পৃথিবীতে দু’টি মাত্র জাত। বিজিত আর পরাজিত। বাগদাদিরা হারতে বসেছে। আত্মসমৰ্পণ ছাড়া ওদের সামনে আর কোনও রাস্তা খোলা নেই। ওদের এত সম্মান দেওয়া মোটেই উচিত না। কিন্তু কিছু করার নেই। সম্রাট মোংকে খাঁ-র নির্দেশ আছে, খলিফা এবং তাঁর অনুচরদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। যারা আত্মসমর্পণ করবে তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। যুদ্ধবন্দিদের যথাযত সম্মান দিতে হবে।

    এত ‘হবে আর হবে’ শুনলেই হালাকুর মাথা গরম হয়ে যায়। ভাই হালাকুকে হাড়ে হাড়ে চেনেন মোংকে। তাই তাঁর সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন বোকা তেমুরকে। তেমুর বিচক্ষণ। হঠকারিতা করে না। সে হালাকুকে কিছুটা হলেও সামলাতে পারবে।

    হালাকুর সেনাবাহিনীতে বোকা তেমুর সম্রাটের সরাসরি নির্বাচন। তাই শুরু থেকেই তার মধ্যে একটা সূক্ষ্ম ঔদ্ধত্য ছিল। বাকি দুই অনুচর সুলতানচুক আর বাইজু নয়ানের মতো আনুগত্য ছিল না তার। ছোটো থেকে যুদ্ধ করলে কী হবে, হালাকু নিজেও তো রাজপরিবারের সন্তান। রাজমহলের অন্দরের রাজনীতি তিনি ভালোই বোঝেন। তিনি গোড়াতেই বুঝেছিলেন, বোকা তেমুরকে বশ করতে গেলে তাকে চমকে দিতে হবে। ভয় পাওয়াতে হবে। তবেই হালাকু নিজের মতো করে সেনা পরিচালনা করতে পারবেন। নয়তো সারাক্ষণই সম্রাটের এক অদৃশ্য ফতোয়া তাঁর মাথার ওপর ঝুলবে। সম্রাট মোংকে খাঁ-কে যে হালাকু অপছন্দ করেন এমন নয়। হালাকু মোঙ্গোল সাম্রাজ্যের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এক যোদ্ধা। সম্রাট যেই হোন না কেন হালাকুর তাতে কিছু এসে যায় না। তিনি সিংহাসনের প্রতি দায়বদ্ধ। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি নিজের মর্জির মালিক। সেখানে তিনিই সম্রাট। তাঁর কথাই শেষকথা। তখন ডিসেম্বরের গোড়ার দিক। কুর্দ পর্বত পেরিয়ে কিরমানশানে শিবির স্থাপন করেছেন হালাকু। বাগদাদ তখনও বেশ খানিকটা দূর। খলিফার চিঠি এল, ‘ভালো চাইলে ফিরে যাও।’

    হালাকু পালটা চিঠি দিলেন, ‘এত দূর এসে আপনাকে না দেখে ফিরে যাব খলিফা? আপনি, আপনার দাওয়াতদার আর আপনার নগরপ্রধানকে নিয়ে আমার সঙ্গে দেখা করুন। কবে আসছেন জানান। আমি কিরমানশানে আছি। আপনি নাই আসতে পারেন, তবে যদি না আসেন জানবেন যুদ্ধ শুরু হয়েছে। কারণ আমার আনুগত্য শুধু পরম করুণাময়ের প্রতি। আপনার দিনার বা দিরহামের প্রতি নয়।’

    এই চিঠির জবাবে খলিফার সেনা আক্রমণ করল মোঙ্গোলদের। হালাকু প্রস্তুত ছিলেন। বেশির ভাগ সেনাকে আগেই সরিয়ে নিয়ে গেছিলেন কুর্দ পর্বতের গিরিখাতগুলির মধ্যে। সামনে রেখেছিলেন খুবই অল্প সংখ্যক সেনা। আর সেই ফাঁদেই পা দিয়েছিল খলিফার সেনারা। আক্রমণ করে ফেলার পরে তারা বুঝতে পারল ভুল হয়ে গেছে। কুর্দের গোপন গিরিখাত থেকে তখন পিলপিল করে বেরিয়ে আসছে মোঙ্গোলরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ। প্রায় হাজার জন বাগদাদি যুদ্ধবন্দি হল। তেমুর বলল, ‘সম্রাট বলে দিয়েছেন যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে যথাযথ ব্যবহার করতে হবে।’

    হালাকু বললেন, ‘সে তো জানি কিন্তু সামনে লম্বা পথ। প্রথমে বাগদাদ, তারপর দামেস্ক তারপর কায়রো। এই যাত্রাপথে আরও অনেক লোক যুদ্ধবন্দি হবে। এত লোকের দায়িত্ব আমরা নেব কী ভাবে? এদের তো আমরা সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্তও করতে পারব না। আবার ছেড়েও দিতে পারব না। তা হলে?’

    ‘এদের আমরা দাস হিসেবে দেশে পাঠিয়ে দিতে পারি।’

    ‘তা হয়তো পারি, কিন্তু প্রতি দশ জন দাস পিছু অন্তত দু’জন পাহারাদার দরকার। তাই না?’

    ‘হুম।’

    ‘কিন্তু আমি তো খুব হিসেব করেই সেনা নিয়ে এসেছি তেমুর। তার থেকে যদি এতগুলো লোক ফিরে যায় খুবই মুশকিল।’

    ‘ঠিকই, তা হলে কী করা যায় খাঁ? সম্রাট কিন্তু বার বার বলে দিয়েছেন…’

    ‘আরে জানি জানি। সম্রাট কী বলে দিয়েছেন সে কথা আমার মাথায় আছে। কিন্তু অবস্থা বুঝে তবে তো ব্যবস্থা। আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে। তাতে সাপও মরবে লাঠিও ভাঙবে না।’

    ‘কী বুদ্ধি খাঁ,’ সোজা হয়ে বসেছিল তেমুর।

    তেমুরের চোখে চোখ রেখে শান্ত গলায় হালাকু বলেছিলেন, ‘যুদ্ধে কেউ বন্দি হলে তবেই না তার প্রতি যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে, তাই না? কিন্তু কেউ যদি বন্দি না হয়?’

    ‘মানে,’ অবাক হয়েছিল তেমুর।

    ‘এসো, দেখাচ্ছি।’

    বোকা তেমুরকে নিয়ে শিবিরের বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন হালাকু। হাঁক দিয়েছিলেন, ‘বাইজু, সুলচুক। যুদ্ধবন্দিদের এক জায়গায় দাঁড় করাও।’

    তেমুর অবাক হয়ে গেছিল, কী করতে চাইছে লোকটা? সম্রাট আলাদা করে ডেকে বলে দিয়েছিলেন, ‘খুব সাবধান। হালাকু পাগল আছে। তাই বলে ভেবো না ওর বুদ্ধি নেই। যাদের গায়ে বেশি জোর হয় তারা মাথায় একটু খাটো হয়। হালাকু কিন্তু তা নয়। ওর মাথার জোর গায়ের জোরের থেকে কোনও অংশে কম না। যা করবে বুঝেশুনে। ও যেন বুঝতে না পারে ওর গতিবিধির ওপরে নজর রাখার জন্যই আমি তোমাকে নিযুক্ত করেছি।’

    এর আগে তেমুর কখনো হালাকুর সঙ্গে যুদ্ধে যায়নি। এই প্রথম বার তেমুর ভাবছিল, ‘হালাকু কি যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি দেবে? কিন্তু একটু আগে নিজেই বলল, এদের ছেড়ে দেওয়া যাবে না। তা হলে?’

    ততক্ষণে যুদ্ধবন্দিদের এক জায়গায় দাঁড় করিয়ে ফেলেছে বাইজু, সুলচুকরা। ব্যবস্থাপনা দেখে হাসি ফুটল হালাকুর মুখে। বললেন, ‘তোমরা দাঁড়াও। আমি আসছি।’

    এই বলে চলে গেছিলেন শিবিরের ভেতর দিকে চোখের আড়ালে। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দাঁড়ালেন যুদ্ধবন্দিদের থেকে বেশ খানিকটা তফাতে। গলা তুলে বললেন, ‘আমি গোড়াতেই তোমাদের খলিফাকে আত্মসমর্পণ করতে বলেছিলাম। তিনি যদি বুদ্ধিমান হতেন তা হলে আমাদের এত যুদ্ধই করতে হত না। যাই হোক, যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে। তোমরা আমাদের হাতে বন্দি হয়েছ। আগামী দিনে আরও অনেকে আমাদের হাতে বন্দি হবে। কিন্তু এত লোকের দায়িত্ব নেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমি তোমাদের মুক্তি দেব।’

    কথা শেষ হওয়া মাত্রই একটা গুঞ্জন উঠল বন্দিদের মধ্যে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে সেই গুঞ্জন পরিণত হল জয়ধ্বনিতে, ‘জয়, হালাকু খাঁ-র জয়।’

    বন্দিরা নতজানু হয়ে বসে পড়ল। হালাকুর এই হঠকারিতায় ততক্ষণে বিরক্ত তেমুর। এরা যতই জয়ধ্বনি দিক, মুক্তি পাওয়া মাত্র আবার আক্রমণ করার ষড়যন্ত্র করবে। যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি দেয় কোন বুরবক! সে বলতে গেল, ‘খাঁ…’

    হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিলেন হালাকু। তার পরে রণভেরির মতো গম্ভীর অথচ তীক্ষ্ণ হুংকার দিয়ে উঠলেন, ‘জেনারেল জুয়ো কান।’

    নামটা শুনেই চোখাচোখি হয়ে গেল সুলচুক আর বাইজু নয়ানের মধ্যে। বহু বছর তারা দু’জন হালাকুর সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হালাকু কী করতে পারেন তার আন্দাজ আছে তাদের। ধনুকে শরযোজনা করল তারা আর বোকা তেমুরকে স্তম্ভিত করে দিয়ে প্রচণ্ড শব্দ করে দূরে শিবিরের পেছন দিক থেকে উড়ে এল ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র। আছড়ে পড়ল যুদ্ধবন্দিদের ওপরে। বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল বেশিরভাগ বন্দি আর যারা তৎক্ষণাৎ মরল না, সারা গায়ে জ্বলন্ত আগুন নিয়ে ছোটাছুটি শুরু করে দিল। যেন এটারই অপেক্ষায় ছিল বাইজু আর সুলচুক। তাক করে করে জ্বলন্ত দেহগুলোতে তির ছুঁড়তে শুরু করল তারা। সারা গায়ে আগুন নিয়ে এক বন্দি ছুটে এল হালাকুর দিকে। চোখের নিমেষে তার গলা কেটে নিলেন হালাকু আর একটু সরে দাঁড়ালেন। জ্বলন্ত স্কন্ধকাটাটি আরও কয়েক কদম এগিয়ে মাটিতে পড়ে ধড়ফড় করতে করতে স্থির হয়ে গেল। ফুরিয়ে যাওয়া কামানের গোলার মতো জ্বলন্ত মাথাটা গড়াতে গড়াতে তেমুরের পায়ের কাছে এসে পড়ল। সব মিলিয়ে মিনিট দশেক। সব যন্ত্রণা, সব কোলাহল থেমে গেল তার পরে। মাঠ জুড়ে পড়ে রইল কাতারে কাতারে দগ্ধ দেহ।

    হাত কচলে হালাকুর কাছে এসে দাঁড়াল জেনারেল জুয়ো কান। সাড়ে চার ফুট লম্বা কুতকুতে চোখের এই লোকটাকে হালাকু আমদানি করেছেন চিন দেশ থেকে। এই লোকটা সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে ক্ষেপণাস্ত্রের কৌশল। জুয়ো কানের পিঠ চাপড়ে দিলেন হালাকু, ‘শাবাশ।’

    প্রভুর প্রশংসায় গলে গিয়ে যেন আরও বেঁটে হয়ে গেল লোকটা। তখনই দূর আকাশে কয়েকটা কালো বিন্দু দেখা গেল। শকুনের দল আসছে। মানুষ পোড়া গন্ধ তাদের ডেকে আনছে। তারা আসছে মহাভোজের আশায়।

    থরথর করে কাঁপছিল তেমুর। সে নিজেও যুদ্ধ ব্যবসায়ী। মানুষ মারতে তারও হাত কাঁপে না। কিন্তু তা বলে একসঙ্গে এক হাজার লোককে এভাবে মেরে ফেলা যায়! তার পরেও এত নির্বিকার থাকা যায়! তেমুরের সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন হালাকু। কাঁধে হাত রেখে বলেছিলেন, ‘কী? কেমন বুদ্ধিটা করলাম বলো? এ বার থেকে আমরা আর কাউকে বন্দি করব না। সবাইকে মেরে ফেলব। সম্রাটের হুকুমের অন্যথা করার দরকার পড়বে না। শোনো বোকা তেমুর, আমি জানি সম্রাট কেন তোমাকে আমার সঙ্গে পাঠিয়েছেন। কিন্তু আমার সঙ্গে থাকতে গেলে যে আমার লোক হয়েই থাকতে হবে। এখন থেকে তুমি আর সম্রাটকে আলাদা করে কোনও খবর দেবে না। যা বলার আমি বলব। বুঝেছ?’

    ঘাড় নেড়েছিল তেমুর। সে ভয় পেয়েছিল। বুঝে গেছিল, চালাকি করতে গেলে হালাকু তাকে খুন করে দেবে আর তখন কোনও সম্রাট তাকে বাঁচাতে আসবে না। হালাকু আরও বলেছিলেন, ‘তেমুর, তুমি ভেবো না সম্রাটের প্রতি আমার আনুগত্য নেই। আমি তোমার থেকে বেশি অনুগত। কিন্তু কী বলো তো, যারা মাঠে নেমে কাজ করে আর যারা সেটার তদারকি করে, এই দুই দলের মধ্যে তফাত আছে। যারা তদারকি করে তারা অনেক ক্ষেত্রে হুকুম দিয়েই খালাস। কিন্তু কাজটা তো আমাদের করতে হয় তাই না? তাই আমি আমার নিয়মে কাজ করব আর আমার দলে থাকতে গেলে তোমাকেও সেটাই মেনে চলতে হবে। সুলচুক, আমি মদ খাব।’

    গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে শিবিরের ভেতরে ঢুকে গেছিলেন হালাকু। নিশ্চিন্ত লাগছিল খুব। আর কেউ বেয়াদপি করার সাহস পাবে না। হালাকু খাঁ আসলে কী সেটা সবাইকে জানিয়ে দিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্য জয় করতে হবে। হয়ে উঠতে হবে মোংকে খাঁ-র পরে মোঙ্গোল সিংহাসনের যোগ্যতম দাবিদার।

    বসে বসে এসবই ভাবছিলেন হালাকু। এমন সময় তাঁবুর দরজায় এসে দাঁড়াল তেমুর। সেলাম করে বলল, ‘খাঁ, আবদুল রহমান এসে পড়েছে। তাকে কি ভেতরে নিয়ে আসব?’

    এক ঝলকে তাঁবুর ভেতরটায় চোখ বুলিয়ে নিলেন হালাকু। এলোমেলো হয়ে আছে। ক্ষতস্থান পরিষ্কার করার জন্য গরম জলের পাত্র, কাপড়ের টুকরো ছড়িয়ে আছে এদিক-সেদিক। শত্রু যতই দুর্বল হোক, তাকে ক্ষতস্থান দেখানো বুদ্ধিমানের কাজ না। বললেন, ‘না, বাইরে বসার ব্যবস্থা করো। আমি আসছি।’

    মাথা নেড়ে তেমুর চলে গেল। হাতের ইশারায় রক্ষীদের ভেতরে ডাকলেন হালাকু। উঠতে-বসতে কষ্ট হচ্ছে। তাদের সাহায্যে গায়ে চাপিয়ে নিলেন আলখাল্লার মতো পোশাকটা। মাথায় চাপালেন রাজকীয় উষ্ণীষ। কঠিন মুখে বেরিয়ে এলেন বাইরে। আচমকাই একটা জোর হাওয়া দিল টাইগ্রিসের দিক থেকে। একটু যেন শীত করে উঠল হালাকু খাঁ-র।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমৃত জ্যোৎস্নার রাত্রি – অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    Next Article ধুন্ধুমার – তমোঘ্ন নস্কর
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }