Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীল আলোর ফুল – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প591 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ইছামতী

    তপতী নির্লিপ্ত মুখে জানলার বাইরে তাকাল।

    চলন্ত গাড়ি থেকে বাইরের অনেক ফালতু জিনিসকেই অপূর্ব শোভা বলে মনে হয়। থেমে-থাকা গাড়ি থেকে সেই একই জিনিস অসহ্য লাগে। সে থেমে থাকাটা যদি প্রায় ঘণ্টা দুয়েক ধরে চলতে থাকে এবং দৃশ্য যদি না বদলায়, তা হলে একসময় মনে হয় নিজের চোখদুটো গেলে দিলে কেমন হয়? ভাল হয়। কিন্তু মানুষ তার নিজের চোখ নষ্ট করতে পারে না। ফলে অসহ্য লাগলেও সেই দৃশ্য দেখতে হয়।

    তপতী এখন একটা গোরুর মুখ দেখছে। গাড়ির জানলা আটকে একটা গোরুর গাড়ি দাঁড়িয়ে পড়েছে। গোরুর মুখটা পড়েছে একেবারে জানলার ওপর। সুতরাং গোরু ছাড়া বাইরের কিছু দেখার উপায় নেই। গোরুর গাড়ি যে নিজের পছন্দমতো এসে তপতীদের মারুতির পাশে দাঁড়িয়েছে তা নয়। ট্রাফিক জামের সময় কে কোথায় দাঁড়াবে তা পছন্দের ওপর নির্ভর করে না। নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর। গত বছর পুজোর সময় তপতী নিউমার্কেট থেকে বাজার করে ফিরছিল। তখনও বিমল গাড়ি নেয়নি। নেবে নেবে করেছে। বাজার সেরে ট্যাক্সি ধরেছিল তপতী। পার্ক স্ট্রিটের মোড়ে ট্যাক্সি দাঁড়িয়ে গেল ট্রাফিক সিগন্যালে। তপতী হঠাৎ মুখ ফিরিয়ে হাঁ। ট্যাক্সির একেবারে গায়ের ওপর একটা জিপসি এসে দাঁড়িয়েছে। ভেতরে বসে আছে তাপস পাল! হালকা বেগুনি পাঞ্জাবি। ফরসা গায়ে দারুণ লাগছে। এটাও একটা ভাগ্যের ব্যাপার। তপতী অপর্ণা সেন বা দেবশ্রী রায় নয় যে তাপস পাল গাড়ি নিয়ে এসে তার পাশে দাঁড়াবে। আজও তাই হয়েছে। সেদিন ছিল ফিল্‌ম- স্টার ভাগ্য, আজ হয়েছে গোরু-ভাগ্য।

    তপতী বেশ উৎসাহ পাচ্ছে। তার মনে হচ্ছে, এই গোরুর মুখ সে এত ভাল করে দেখে নিল যে বছর খানেক পর মাঠে ঘাটে দেখা হলে আর চিনতে অসুবিধে হবে না গেরুও তাকে চিনে রাখল। দেখা হলে ঘাস চিবানো বন্ধ করে মুখ তুলবে। গম্ভীরভাবে বলবে, ‘নমস্কার ম্যাডাম, ভাল আছেন? আপনি ছিলেন নীল একটা মারুতিতে। আপনার স্বামী সাদা জামা পরে ড্রাইভারের সিটে বসে ঘনঘন সিগারেট খাচ্ছিলেন। ছাই ফেলতে ভুলে যাচ্ছিলেন বলে সিগারেটের ছাই মাঝে মাঝে গাড়ির ভেতরেই পড়ে যাচ্ছিল। ম্যাডাম, কিছু মনে না করলে একটা কথা বলব? পারলে গাড়ির সিট কভারগুলো পালটে নেবেন। নীল গাড়িতে খয়েরি সিট একদম মানাচ্ছে না।’

    তপতী হাসল। নিজের মনে হাসায় শব্দ হওয়ার কথা নয়। তপতীর হল। বিমল মুখ ফেরাল। তার ভুরু কোঁচকানো। ক্রোধের লক্ষণ। গতকাল সন্ধে থেকেই সে রেগে আছে। তপতী যখন বলল, আমিও তোমার সঙ্গে যাব, তখন থেকে রাগের শুরু।

    ‘কেন, তুমি যাবে কেন? না, তুমি যাবে না।’

    হ্যাঁ যাব। বেড়াতে যাব। হাসনাবাদে কি স্ত্রীদের প্রবেশের ব্যাপারে কোনও কড়াকড়ি আছে?

    ‘তপতী, তুমি ভাল করেই জানো আমি বেড়াতে যাচ্ছি না। তুমি কি আবার শুনতে চাও কেন আমাকে যেতে হচ্ছে?’

    ‘না, শুনতে চাই না। আমি যেটা শুনতে চাই সেটা হল, আমরা কি ওখানে গিয়ে একটা রাত থাকতে পারি না? ধরো কোনও হোটেলে থাকলাম। পরশু সকালে লাঞ্চ করে চলে এলাম। চমৎকার একটা বেড়ানো হল। উইক এন্ড ধরনের ব্যাপার। চট করে তো তোমার ছুটি হয় না।”

    ‘হাসনাবাদ রাতে থাকার মতো জায়গা নয়। দিনে থাকার মতোও নয়। তা ছাড়া তুমি গোড়াতেই গোলমাল করছ। মনে হচ্ছে না তুমি আমার যাওয়ার কারণ মন দিয়ে শুনেছ। আর একবার বলছি, শুনে নাও। দয়া করে এবার মন দিয়ে শোনো। আমাদের টাকিতে যে-স্কুলে পড়াশুনো করেছি সেই স্কুলে একজন মাস্টারমশাই ছিলেন। নাম অবনীশ বড়াল। আমরা রুটিনে লিখতাম এবি। এবি আমাদের অঙ্ক শেখাতেন। ভীষণ রাগী, অসম্ভব জোরে কান মুলতে পারতেন। সব স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইরাই ভীষণ রাগী হয়, এবং জোরে কান মুলতে পারে। এটা কোনও গুণের কথা নয়। কিন্তু আমাদের অক্ষয়বাবুর একটা অদ্ভুত ব্যাপার ছিল, পরীক্ষার সময় তিনি কাউকে কখনও ফেল করাতেন না। পরীক্ষার সময় অঙ্ক না পারলে তিনি কানমুলে দিয়ে বলতেন, গবেট, যে-অঙ্ক পারবি সেটাই কর। সেটাই তোর প্রশ্ন। মূর্খ কোথাকারে। তাঁর হাতে আমরা অজস্রবার কানসোলা খেয়েছি কিন্তু কখনও ফেল করিনি। অঙ্ক স্যাররা হন ফেল করানো স্যার অথচ আমাদের মাস্টামশাই ছিলেন পাশ করানোর মাস্টারমশাই। তিনি ফেলে বিশ্বাস করতেন না। যদি করতেন তা হলে মুশকিল ছিল, আমাদের অনেককেই হয়তো এক ক্লাসে বারকয়েক থেকে যেতে হত। ফলে রাগী হলেও এই স্যারের প্রতি আমাদের কোনও রাগ ছিল না, বরং একটা উইক পয়েন্ট ছিল।

    তপতী আলমারি খুলল। এক একটা করে শাড়ি নামিয়ে দেখতে লাগল হাসনাবাদ সফরের জন্য কোন শাড়ি উপযুক্ত। হাসনাবাদে নদী আছে। সমুদ্রের শাড়ি যেমন পাহাড়ে মানাবে না, তেমনি নদীর শাড়িও নিশ্চয় আলাদা হওয়া উচিত। সবুজ চলবে? গাঢ় সবুজ নয়, হালকা সবুজ।

    বিমল বলে চলেছে, ‘বৃদ্ধ মানুষটি খুবই অসুস্থ। একসপ্তাহ আগে খবর পেয়েছি, তিনি মৃত্যুশয্যায়। হয়তো অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই মারা যাবেন। ছেলেরা তাঁকে হাসনাবাদ প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভরতি করেছে। দোতলায় জেনারেল ওয়ার্ড। সেখানে পনেরো নম্বর বেডে তাঁর চিকিৎসা চলছে। শুনলাম খুবই কষ্টে আছেন। সত্যি কথা বলতে কী, মানুষটার কথা ভুলে গিয়েছিলাম। লাস্ট উইকে অফিসে হঠাৎ অশোক এসে হাজির। অশোককে তুমি চেনো? চেনো না। আমার স্কুল লাইফের বন্ধু অঙ্কে বীভৎস রকমের কাঁচা। এখন বড় চাকরিবাকরি করে বিস্তর পয়সা করেছে। ও কোথাও থেকে স্যারের অসুখের খবর’পেয়ে আমার কাছে ছুটে এল। এসে বলল চল বিমল, স্যারকে দেখে আসি। শুনলাম, টাকাপয়সার অবস্থা খুব কাহিল। পয়সার অভাবে ঠিক সময় ছেলেমেয়েরা নাকি কলকাতায় আনতে পারেনি। এখন টু-উ লেট। যাই হোক কিছু টাকাপয়সা দিয়ে আসি, একবার দেখেও আসি। হাসনাবাদ কয়েক ঘণ্টার তো মামলা। গাড়িতে গেলে সন্ধের আগেই ব্যাক টু কলকাতা। অশোকের কথা শুনে প্রথমে মনে হয়েছিল, এত বছর পর এসব হ্যাপার মধ্যে ঢোকা ঠিক হবে না। অফিসে অনেক কাজ। দুটো টেন্ডার নিয়ে ভয়ংকর ধরনের ঝামেলা চলছে।’

    তপতী ভাবল, একটা সালোয়ার কামিজ নিলে কেমন হয়? নদীতে যদি নামতে হয়? সমুদ্রে সালোয়ার কামিজ পরে নামতে হয়। নদীতেও কি তাই? সালোয়ার কামিজের কথা ভাবতে ভাবতেই সে বলল, ‘তা হলে হ্যাপা নিলে কেন?’

    ‘পরে সিদ্ধান্ত বদল করলাম। যে-মানুষটা জীবনে বহুবার ফেলের হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে তাকে শেষ একবার দেখে আসা উচিত মনে হল। সেন্টিমেন্টাল ডিসিশন বলতে পারো। সেন্টিমেন্টাল এবং ফুলিশ। তাও নিলাম। পরীক্ষা টরিক্ষার বালাই শেষ হয়ে গেছে কতদিন। তবু আজকাল মনে হয় সারাক্ষণ পরীক্ষা হলে বসে আছি। আশেপাশের সবাই ফেল করানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। মনে হল, খবর যখন পেয়েছি তখন এই সিচুয়েশেনে স্যারের কাছে একবার গেলে খারাপ হয় না। যাওয়া উচিতও। এরকম মানুষ তো আর খুব একটা নেই। থাকবেও না। দেরি হয়ে গেছে তবু শেষ সময় যদি কোনও কাজে লাগতে পারি। ধরো একটা ভাল ডাক্তারের ব্যবস্থা করলাম। ওষুধটযুধের জন্য বাড়ির লোকদের হাতে কিছু টাকাপয়সা দিয়ে এলাম। এই আর কী। অশোকের ভাবনাটার মধ্যে একটা গুডনেস আছে। সেটাকে চট করে অস্বীকার করতে পারলাম না। ঠিক হয়েছে, কাল ভোরে অশোককে তুলব। তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার ড্রাইভ। সোজা হাসপাতাল যাব। ম্যাক্সিমাম হাফ অ্যান আওয়ার। দে ব্যাক। পথে খেয়ে নেব।’

    ‘না পথে খাব না। হাসনাবাদেই খাব। আমি নদীর ঘাটে বসে কোনওদিন খাইনি। শুনেছি নদীর ঘাটের দোকানগুলোতে খুব ঝাল দেয়। সত্যি?’

    বিমল গম্ভীর গলায় বলল, ‘আশ্চর্য লাগছে তপতী। তুমি জিনিসটাকে একটা পিকনিকের চেহারা দিতে চাইছ! একজন বৃদ্ধ অসুস্থ মানুষকে আমরা দেখতে যাচ্ছি আর তুমি লাফালাফি করছ খাওয়া নিয়ে? দু’দিন হল, ইডিয়ট অশোকটার জন্য ছোটবেলার অনেক কথা হঠাৎ করে মনে পড়ছে। মনটন বিশেষ ভাল নেই। ঘটনা তো আনন্দের কিছু নয়।’

    তপতী হাসল। বলল,’ অবশ্যই আনন্দের। আমার স্বামী একটা দারুণ কাজে যাচ্ছে। এতে আনন্দ হবে না? ছেলেবেলার একজন প্রায় হারিয়ে-যাওয়া মাস্টারমশাইয়ের জন্য তোমার মন খারাপ হচ্ছে শুনে আমার তো আরও বেশি আনন্দ হচ্ছে। আমি এতদিন যে স্বামীটাকে জানতাম তার মন শুধু খারাপ হত ব্যাবসার অর্ডার না পেলে আর অফিসে প্রোমোশন আটকে গেলে। আজ তাকে কেমন নতুন নতুন মনে হচ্ছে। আর সেই কারণেই আমি তার সঙ্গে আগামীকাল বেরোতে চাই। আমি তো তোমার অফিসটুরে তোমার সঙ্গে যেতে চাইছি না। গত সপ্তাহে অফিস থেকে ফিরে তুমি যখন ঘটনাটা প্রথম বলেছিলে, তখনই আমি বুঝেছিলাম তোমার মন খারাপ। তখনই আমি সিদ্ধান্ত নিই আমি যাব। এই চমৎকার ঘটনার আমি সাক্ষী হতে চাই। সেদিনই আমি সবটা শুনেছিলাম, তুমি মিছিমিছি আজ আবার গোটাটা বললে। আমি ছোট সুটকেসটা নিচ্ছি। তোমার পাজামা-পাঞ্জাবি আর চটিটা ভরে নিয়ো।’

    বিমল অবাক হয়ে তপতীর দিকে তাকাল। মনে হয় না একে আটকানো যাবে। বিরক্তির সঙ্গে বলল, ‘ইমপসিবল। থাকার কোনও প্রশ্নই নেই। তুমি গেলে চলো। ব্যস ওই পর্যন্ত। সন্ধের আগেই ফিরে আসব।’

    রাগ আরও বাড়ল যখন রাতে অশোক টেলিফোন করে জানাল, কাল সে যেতে পারছে না। তার জ্বর হয়েছে। এমনি জ্বর নয়, ভাইরাল জ্বর। সারাশরীরে ব্যথা। এই অবস্থায় গাড়ি চেপে হাসনাবাদে যাওয়া তো দূরের কথা, খাট থেকে উঠে উঠে বারান্দা পর্যন্ত সে যেতে পারছে না। কিন্তু বিমল যেন অবশ্যই স্যারের কাছে যায় এবং তার কথাও বলে।

    বিমল টেলিফোন নামাল। বলল, ‘অশোকের কথায় নাচাটাই আমার ভুল হয়েছিল। আমি যাব না।’

    তপতী টিভি দেখতে দেখতে বলল, ‘তুমি না যাও, আমি যাব।’

    বিমল খানিকটা গলা তুলে বলল, ‘ডোন্ট টক রাবিশ তপতী। এটা নিয়ে ফান করার মতো কিছু হয়নি। অশোক নিজে সব ঠিক করে এখন নিজেই জ্বরে শুয়ে পড়ল। লেট হিম গেট ওয়েল। তারপর যাওয়া যাবে। এতদিন যাইনি, আর ক’টা দিন দেরি করলে কিছু ক্ষতি হবে না। তা ছাড়া সেখানে তো কেউ আমাদের জন্য অপেক্ষা করে নেই। আমি বরং দেখি অফিসের কোনও পিয়োন টিয়েনকে দিয়ে কিছু টাকা পাঠানো যায় কিনা।’

    ‘অপেক্ষা করে থাকবে কেন? তুমি তো তোমার কোম্পানির বোর্ড মিটিঙে যাচ্ছ না যে ডিরেক্টররা তোমার জন্য বসে থাকবে। তার মধ্যে যদি তোমাদের কানমোলা স্যার মারা যান?

    ‘গেলে যাবে। আমি কী করব? সে তো এমনিই যেতেন। অশোক না এসে বললে কি আমি যাওয়ার কথা ভাবতাম? স্যারের কথা মনেই পড়ত না। এখন যেমন মনে পড়েছে তেমনি মন থেকে আবার সরেও যাবে।’

    তপতী মহা উৎসাহে স্বামীর দিকে ঘুরে বসল এবং বলল, ‘একটা কাজ করা যাক, আমি একা বরং চলে যাই। গিয়ে বলি, স্যার, মাপ করবেন, আমার স্বামী অনেকদিন পর একটা ভাল কাজ করার চান্স পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি পারলেন না, ফেল মেরে গেলেন। আপনার কাছে আসার তাঁর খুবই ইচ্ছে ছিল, তবু উনি আসতে পারলেন না। সামান্য একটা জ্বর তাঁকে ফেল করিয়ে দিল। অঙ্কে সারাজীবন পাশ করলেই যে সবাই সব কাজে পাশ করে তা তো নয়। অনেক কাজে ফেলও করে। আপনি স্যার কিছু মনে করবেন না। এই আপেলদুটো রইল। আমার স্বামী পাঠিয়ে দিয়েছেন। খিদে লাগলে খেয়ে নেবেন।’

    বিমল স্ত্রীর চোখের দিকে সরাসরি বলল, ‘তুমি কি আমাকে জ্ঞান দেওয়ার চেষ্টা করছ তপতী? ইউ ওয়ান্ট টু টিচ সামথিং? তপতী টিভি থেকে মুখ তুলে বলল ‘হ্যাঁ চেষ্টা করছি এবং মনে হচ্ছে সফলও হয়েছি।’

    তপতী সফল হলেও বিমলের রাগ কমেনি। কলকাতা থেকে এতটা পথ সে প্রায় চুপ করেই গাড়ি চালিয়ে এসেছে। তপতীও আর কথা না বাড়িয়ে চুপ করে থেকেছে। ওকে যে আনা গেছে সেটাই অনেক। পরিস্থিতি আর ঘোরালো না করাই ভাল।

    তপতী না চাইলেও পরিস্থিতি ঘোরালো হল। নিজে থেকেই হল।

    বসিরহাট শহরে ঢোকার সামান্য আগে বিমলের মারুতি দাঁড়িয়ে পড়ল। এমনি দাঁড়ানো নয়, শিকড়-গজানো দাঁড়ানো। সামনে পথ অবরোধ হয়েছে। আগু পিছুর নো চান্স। যেখানে আছ সেখানে বসে থাকো। তপতীদের গাড়িও বসে আছে। আশপাশের বাসটাসের প্রায় সকলেই নেমে পড়েছে। কয়েকজন ড্রাইভার তাস বের করে গাড়ির বনেটে পেতে মহানন্দে খেলতে শুরু করে দিয়েছে। সম্ভবত পথ অবরোধ জন্যই এই তাস ওদের সঙ্গে থাকে। তাদের মুখ দেখে মনে হচ্ছে, খেলার মাঝপথে ঝামেলা মিটে গেলেও কোনও অসুবিধে নেই। তাসটাস গুছিয়ে যে যার মতো ঝটপট গাড়িতে উঠে পড়বে। পরবর্তী পথ-অবরোধে নেমে বাকিটা শেষ করে ফেলবে। আজকাল পথ অবরোধের কোনও অভাব হয় না।

    তপতী-বিমলের গাড়ি থেকে নেমে পড়ার কোনও উপায় নেই। বাসযাত্রীরা হাটতে পারে, মারুতিযাত্রীর হাটতে পারে না তাদের গাড়ির মধ্যে বসে বসে ঘামতে হয়। দু’-তিন দিন পর্যন্ত বসে থাকতে হবে। গাড়ি ফেলে চলে যেতে পারবে না। তপতী একবার ভেবেছিল, তাস খেললে কেমন হয়? নেমে একটু খোঁজাখুঁজি করলে আশপাশের দোকান থেকে এক প্যাকেট তাস কি পাওয়া যাবে না? তাস না হলে লুডো। অনেকবারই বাইরে বেড়াতে গিয়ে সন্ধের দিকে তারা হোটেলে বসে লুডো খেলেছে। নতুন কিছু ব্যাপার নয়। সব স্বামী-স্ত্রীরাই সময় কাটানোর জন্য লুড়ো খেলে। মুখে স্বীকার করে না। মুখে বলে, দু’জনে মিলে কখন যে ক’টাদিন কেটে গেল! বুঝতেই পারলাম না। আজও তেমনি গাড়ির ভিতর বসে লুডো খেললে সময়টা কেটে যেত। গল্প করলেও কেটে যেত। কিন্তু বিমল গল্প করতে চাইছে না। তপতীর কথার কোনও উত্তরই প্রায় সে দিচ্ছে না। দিলেও স্বাভাবিক উত্তর দিচ্ছে না রাগ-উত্তর দিচ্ছে।

    ‘কীসের জন্য রোড ব্লকেড বলতে পারো?’

    ‘না পারি না। আমি তো অবরোধ করিনি।’

    ‘তুমি রেগে আছ কেন?’

    ‘অন্যায় করছি। দু’ঘণ্টা ধরে রাস্তায় আটকে বসে আছি। না রেগে খুশিতে নাচা উচিত ছিল।’

    ‘তুমি এমনভাবে বলছ যেন আমি অবরোধ করেছি। আমি তো অবরোধ করিনি।’

    ‘বলেছি সে কথা? একবারও বলিনি। তবে তুমি না এলে ভাল হত।’

    ‘কেন? তোমার কি মনে হয়, আমার জন্য বসিরহাটের লোকজন পথ-অবরোধ করেছে? নাকি আমি না থাকলে তুমি সুইচ টিপে গাড়ির পাশ থেকে ডানা বের করে উড়ে যেতে? অত মুখ গোমড়া করে থেকো না তো। তোমাকে তো বললাম, তুমি একটা ভাল কাজে যাচ্ছ। দেখবে, তোমার মাস্টামশাই তোমাকে দেখে নিশ্চয়ই খুব খুশি হবেন। উনি বিশ্বাসই করতে পারবেন না, এরকম খারাপ সময় তাঁর পাশে হারিয়ে যাওয়া একজন ছাত্র ফিরে এসেছে। তুমি যে সত্যি সত্যি যাচ্ছ আমার নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছে না। আসলে তুমি খানিকটা সেন্টিমেন্টাল হয়ে পড়েছ। কিন্তু তার জন্য এতক্ষণ মুখ গোমড়া করে থাকার কিছু নেই।’

    ‘সরি, তোমার মতো মুখ হাসিহাসি করার কোনও পদ্ধতি আমার মনে পড়ছে না।’

    ‘এক কাজ করো, তুমি ওই গোরুটার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকো। দেখবে একটা মজার জিনিস হবে। গোরুটার সঙ্গে তোমার আলাপ হয়ে যাবে। তখন আমার মতো তোমারও হাসি পাবে। ততক্ষণে আমি নেমে দেখে আসি কী হল। পারলে অবরোধওলাদের সঙ্গে কথাও বলব। সুন্দর মুখের যদি সর্বত্র জয় হয়, তা হলে অবরোধ হবে না কেন?’

    তপতীর কথা বিশেষ কানে ঢুকল না বিমলের। তার মনে হচ্ছে, আবার প্রমাণ হল, সেন্টিমেন্টাল সিদ্ধান্ত মানুষকে সবসময়ই বিপদে ফেলে। আজও ফেলল। রাস্তার মাঝখানে আটকে পড়তে হল। ছোটবেলার মাস্টারকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করা শুধু যে উচিত হয়নি তা নয়, বড় ধরনের বোকামি হয়েছে।

    তপতী গাড়ি থেকে নেমে দু’পা যেতে-না-যেতে সত্যিই অবরোধ উঠে গেল। সে গম্ভীরমুখে ফিরে এসে বলল, ‘যাও, অবরোধ তুলে দিয়ে এলাম। নাও গাড়ি ছাড়ো আর মুখটা একটু হাসিহাসি করো। পুলিশ গুলি চালালে রাস্তার সবাইকে হাত তুলে যেতে হয় জানো তো? তেমনি নিয়ম হল, অনেকক্ষণ আটকে থাকার পর গাড়ি চললে ভাইভারদের মুখে থাকবে হাসি। নিয়ম না মানলে পুলিশ ধরে। বসিরহাটের মোড়ে অনেক পুলিশ দেখে এলাম। গোমড়া মুখ দেখছে আর ধরে টপাটপ হাসি-কেস দিচ্ছে। হাসি-কেসে ফাইন কিন্তু হেভি ক্যাশে দিতে হবে। তুমি যে ক্রেডিট কার্ডে পেমেন্ট করবে তা হবে না।’

    এতক্ষনে সম্ভবত বিমলের মন কিছুটা ভাল হয়েছে। কারণ, অল্প হলেও সে হাসছে।

    ২

    আসল ঘটনাটা ঘটল হাসপাতালে পৌঁছোনোর পর।

    বিকেলের মুখে মুখে বিমলদের গাড়ি এসে দাঁড়াল হাসপাতালের সামনে।

    দোতলায় লম্বা ঘর। পা রাখতেই বোঝা গেল, ব্যবস্থা খুবই শোচনীয়। একপাশে সারি সারি লোহার খাট। তাতে যারা শুয়ে বসে আছে তাদের অবস্থা আরও শোচনীয়। গায়ে ছেঁড়া কাঁথা, মাথার বালিশ ময়লায় কালো, বিছানার চাদর কোথাও আছে, কোথাও নেই। খাটের তলায় এঁটো থালার পাশে বেড়াল। দুপুরের খাওয়া শেষ করে তারা এখনও ভাত ঘুম দিচ্ছে। ঘরের দেয়ালে যেখানে সেখানে দড়ি। তাতে লুঙ্গি গামছা ঝুলছে। তপতী অবাক হয়ে দেখল, ঘরে জানলা কয়েকটা আছে ঠিকই, কিন্তু সেখান দিয়ে আলো হাওয়া ঢুকছে না। হাসপাতালের গরিব রোগীদের সম্ভবত আলো হাওয়াও বয়কট করে। সব থেকে ঝামেলার হল উৎকট গন্ধ। তপতীতর মনে মনে হচ্ছে, আর একটু থাকলে বমি উঠে আসবে। তপতী এরকম হাসপাতাল কখনও দেখেনি। সে বিমলের হাত চেপে ধরল। এখন মনে হচ্ছে, না এলেই ভাল হত। বিমলকেও আসতে না দিলে হত। বেচারিকে মাস্টারমশাইয়ের একটা খুব খারাপ স্মৃতি নিয়ে ফিরে যেতে হবে। কারও শেষ স্মৃতি খারাপ হলে ভয়ংকর হয়। সেই স্মৃতি মন থেকে সহজে যেতে চায় না। এখানেও তাই হবে। এই অবস্থা থেকে অসুস্থ মানুষ কখনও সুস্থ হয়ে ফিরতে পারে না। অসম্ভব।

    আধো আলোতে পনেরো নম্বর খুঁজে এবং সেই খাটের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে বিমলদের প্রায় পাঁচ মিনিট সময় লেগে গেল। এখন ভিজিটিং আওয়ার চলছে। তবে বেশিরভাগ রোগীকেই কেউ দেখতে আসেনি।

    পনেরো নম্বরে এসেছে। এক মহিলা খাটের ওপরই বসে। লম্বা ঘোমটায় মুখ দেখা যাচ্ছে না। খাটের রোগীর দিকে তাকিয়ে বিমল চমকে উঠল। সেখানে যে-কিশোরটি শুয়ে আছে তার বয়স তেরো-চোদ্দোর বেশি কিছুতেই নয়। সাদা শাড়ি আর বেল্ট পরা রাগী ধরনের একজন কালো নার্স সেই রোগীর হাতে খুব বিরক্তির সঙ্গে স্যালাইনের সুচ লাগাচ্ছে। সম্ভবত শিরা পাওয়া যাচ্ছে না। তপতীর বুক ছ্যাঁত করে উঠল। হাসপাতালে কাউকে দেখতে এসে যদি দেখা যায় বিছানায় অন্য রোগী শুয়ে আছে তা হলে সব থেকে খারাপ। পিজি হাসপাতালে তার ছোট মেসোমশাইয়ের ক্ষেত্রে এরকম হয়েছিল। ফলটল নিয়ে গিয়ে জানা গেল, তিনি মারা গেছেন। বিমলের বন্ধু খবর পেয়েছিল এক সপ্তাহ আগে। তার পরেও দুটো দিন গেছে। তখনই অবস্থা নাকি খারাপ ছিল। তা হলে মারা যাওয়া আশ্চর্যের কিছু নয়। তপতী ফিসফিস করে বলল, ‘কী হল বলো তো?’

    বিমলও খানিকটা ঘাবড়ে গেছে। সেও গলা নামিয়ে বলল, ‘দাঁড়াও, নার্সকে জিজ্ঞেস করি। নিশ্চয় আমরা ভুল করেছি। অশোক হয়তো বেড নম্বরটা ভুল দিয়েছে।’

    নার্সের মনোযোগ পেতে বিমল একবার কাশল। নার্স মুখ তুলে তাকাল। চোখে অসম্ভব বিরক্তি। আবার মুখ নামিয়ে নিল। খাটে-বসা মহিলার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আপনাকে পরশু দিন ইঞ্জেকশন এনে দিতে বলা হয়েছিল না? এনেছেন? আনেননি?’

    ঘোমটা টানা মহিলা মাথা নাড়ল।

    ‘আপনারা কী মনে করেছেন? মনে করছেন, হাসপাতাল থেকে ওষুধ দেওয়া হবে? নাকি ওষুধ ছাড়াই পেশেন্ট ভাল হয়ে যাবে? কোনটা? নিন হাতটা শক্ত করে ধরুন। আঃ এই জায়গাটা ধরুন।’ স্যালাইনের ছুঁচ লাগানো হল। নার্স মহিলা একটানা বলে চলেছেন, ওষুধ কিনতে না পারলে ডাক্তারবাবুকে আজই বলে দেবেন। মেডিসিন ছাড়া ট্রিটমেন্টের কোনও পদ্ধতি তার জানা থাকতে পারে। বলবেন সেই পদ্ধতি আমাদের যেন তিনি বলে যান। শুধু স্যালাইন দিয়ে কিছু করা যাবে না। বুঝেছেন? মনে হচ্ছে না বুঝেছেন।’

    মহিলা কোনও কথা বলছে না। বিমল আবার কাশল।

    নার্স এবার মুখ না তুলে বলল, কী ব্যাপার?’

    বিমল বলল, ‘আমরা কলকাতা থেকে আসছি। জেনারেল ওয়ার্ডের পনেরো নম্বর বেডে আমাদের একজন পেশেন্ট ভরতি হয়েছিলেন। আমার মাস্টারমশাই। নাম অবনীশ বড়াল। এটাই তো পনেরো নম্বর বেড?’

    নার্স জিনিসপত্র গুছিয়ে ফেলেছে। এবার সে চলে যাবে। ঘোমটা-ঢাকা মহিলার দিকে তাকিয়ে কঠিন গলায় বলল, ‘ছেলের পাশে বসে কাঁদলে কোনও লাভ হবে না। আপনার ছেলের যে-অসুখ হয়েছে তাতে কান্না কোনও ট্রিটমেন্ট নয়। শুনতে খারাপ লাগবে ঠিকই তবু শুনুন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা করুন। ছেলেকে কলকাতায় নিয়ে যান। বাঁচাতে চাইলে সেখানকার বড় হাসপাতালে ভরতি করুন।’ নার্স হাঁটতে শুরু করেছে এবং হাঁটতে হাঁটতেই বিমলদের দিকে মুখ তুলে বলল, “আপনাদের পেশেন্ট রিলিজ পেয়ে গেছেন। আমি যতদূর জানি তিনি আপাতত সুস্থ।’

    বিমল আনন্দ চেপে রাখতে পারল না। বলল, ‘সেকী! কবে ছাড়া পেলেন?’

    রাগী নার্স দাঁড়াল। সুন্দর করে হেসে বললে, ‘এত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কথা আমার নয়। এটা আমার ডিউটির মধ্যে পড়ছে না। নীচে অফিস আছে। সেখানে যান। গিয়ে দেখবেন, আপনাদের সঙ্গে কথা বলার মতো কেউ নেই। সবাই চা খেতে গেছে। এখানে নিয়ম হল, ঘনঘন চা খেতে যেতে হয় এবং সকলকে একসঙ্গে যেতে হয়। আপনারা অপেক্ষা করবেন। চা খেয়ে ফিরে এলে ওদের জিজ্ঞেস করবেন। তবে আপনারা কলকাতা থেকে এসেছেন তাই ডিউটির বাইরেও আপনাদের কথার উত্তর দিচ্ছি। যে-পেশেন্টের কথা আপনারা বলছেন, কাল তার ছুটি হয়ে গেছে। কাল সকালে। বারাসত থেকে ভদ্রলোকের ছেলে না কে এসেছিল।’বলে আবার হাঁটতে শুরু করল এবং আবার থমকে দাড়াল। ঘাড় ঘুরিয়ে বলল, ‘ও ভাল কথা, আপনাদের পেশেন চশমাটা ফেলে গেছেন। ওয়ার্ডের মাসির কাছে আছে। পারলে একটু অপেক্ষা করে নিয়ে যাবেন। মনে হচ্ছে মাসিও চা খেতে গেছে।’

    নার্স চলে যাবার পরও বিমলরা দাঁড়িয়ে রইল। তপতীর বিশ্বাস হচ্ছে না। এই জায়গা থেকে কোনও মানুষ অসুখ সারিয়ে ফিরতে পারে! এতক্ষণ যে-জায়গাটাকে নরক বলে মনে হচ্ছিল, সেটাকে একদম অন্যরকম লাগছে। স্বামীর ছেলেবেলার মাস্টারমশাইকে সে চেনে না। কোনওদিন দ্যাখেওনি। তবু দু’দিন ধরে মানুষটাকে খুব সে মনে হচ্ছিল। ভাল লাগছে। খুব ভাল লাগছে। যাকে দেখার জন্য এত কষ্ট করে ছুটে আসা তাকে দেখতে না পেয়েও ভাল লাগা একটা অন্যরকম জিনিস। তপতী এই জিনিসের মুখোমুখি জীবনে বোধহয় এই প্রথম হল।

    বিমল বলল, ‘চলো।’

    তপতী হেসে বলল, ‘কী, এতক্ষণে ভাল লাগছে তো?’

    ওয়ার্ডে আলো জ্বালা হয়েছে। হাসপাতালের আলোতে ঘরের অন্ধকার কাটে না। এখানেও কাটেনি। তপতীরা পা বাড়াতেই হালকা একটা কান্নার শব্দ। তপতী মুখ ফেরাল। পনেরো নম্বর খাটে বসা মহিলা কাঁদছে। চাপা ধরনের নাকি কান্না। গরিব মানুষরা গলা খুলে কাঁদতে ভয় পায়।

    তপতী বিমলকে বলল, ‘এক মিনিট।’ সে মহিলারা দিকে এগিয়ে এল।

    খাটে শুয়ে থাকা ছেলেটির সম্ভবত অনেক জ্বর। ছেলেটির মাথায় জলপট্টি, ঘোমটার কারণে মহিলার মুখ এখনও দেখা যাচ্ছে না। রোগীর মুখ অবশা দেখা যাচ্ছে। চোখ বোজা। গলা পর্যন্ত চাদর। ময়লার কারণে চাদরের রং সাদা না অন্য কিছু। বোঝার উপায় নেই। একটা হাত বেরিয়ে আছে। তাতে স্যালাইনের সূচ ফোটানো। একটু আগে যাকে বছর যোলো-সতেরো মনে হচ্ছিল, এখন মনে হচ্ছে আরও কম।

    তপতী মহিলার কানের কাছে গলা নামিয়ে বলল, ‘আপনার ছেলে?’

    মহিলা মুখ ফেরাল। ফেরালেও কোনও লাভ হল না। ঘোমটা চোখ পর্যন্ত নামাননা। তপতী আবার বলল, ‘আপনার ছেলের কী হয়েছে?’

    উত্তর না দিয়ে মহিলা শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছল এবং মুখ ঘুরিয়ে আবার চাপা শব্দ করে কাঁদতে লাগল।

    তপতী স্বামীকে বলল, ‘চলো।’

    হাসপাতালের অফিস থেকে অবিনাশ বড়ালের ছেলের বাড়ির ঠিকানা পাওয়া গেছে।

    গাড়িতে উঠে বিমল স্টার্ট দিতে দিতে বলল, ‘চলো আজ রাতটা এখানে থেকেই যাই। বাজারের কাছে একটা সরকারি গেস্ট হাউস আছে। কেয়ারটেকারকে দশটা টাকা দিলে একটা ঘর খুলে দেবে না? ঠিক দেবে।’

    তপতী বলল, ‘সে কী, থাকবে? তুমি না বলেছিলে থাকবে না?

    বিমল যেন একটু লজ্জা পেল। লাজুক ধরনের হেসে বলল, ‘না তা ঠিক নয়, আসলে স্যারের ভাল হয়ে যাওয়ার খবরে মনটা ভাল লাগছে। কাল সকালে যাওয়ার পথে তো বারাসত দিয়েই ফিরব। তখন না হয় একবার স্যারকে দেখে যাব। চাঁপাড়ালির কাছেই তো ঠিকানা। কী, ভাল হবে না?’

    তপতীর মনে হচ্ছে, একটা গোলমাল হচ্ছে। খানিক আগেও যতটা খুশিখুশি লাগছিল, এখন যেন ততটা লাগছে না। পনেরো নম্বর বেডে বসে থাকা মহিলার মুখ মনে পড়ছে। আচ্ছা জ্বালাতন তো! কে না কে, তার জন্য মন খারাপ করবে কেন সে? তপতী মনের এনার্জির বিরুদ্ধে লড়তে শুরু করল। যে করেই খুব দ্রুত খুশি ব্যাপারটা ফিরিয়ে আনতে হবে। উলটো পালটা ভেবে মুখ গোমড়া করে বিমলের মেজাজটা নষ্ট করে দেওয়ার মানে হয় না। ফালতু জিনিস ভাবলে বেড়ানোটাও মাটি হবে। সে হাসিমুখে বলল, ‘ভাল হবে না।’

    বিমল অবাক হয়ে বলল, ‘কেন, হবে না কেন?’

    ‘কারণ আমি সবুজ শাড়ি আনিনি।’

    ‘ওতে কিছু হবে না। তুমি তো আর বিয়েবাড়িতে আসোনি।’

    ৩

    দশ টাকায় হল না। কেয়ারটেকারকে ঠিক একশো টাকা দিতে হল। সে ভয়ংকর রকমের খাতির করে তিনতলার একটা ঘর খুলে দিল। ঘরের সঙ্গে বারান্দা। সেই দরজা খুলে তপতী একবারে হাঁ। সামনেই বয়ে চলেছে নদী, ইছামতী। এদিক থেকে ওদিক যেদিকে চোখ যায় শুধু নদী। মনে হচ্ছে গোটা নদীটা যেন তাদের এই ছোট বারান্দাটায় উঠে এসেছে। বারান্দা সেই জলে ভাসছে। বিয়ের এই সামান্য কয়েকটা বছরেই বিমলের সঙ্গে বহু নামকরা জায়গা বেড়িয়ে ফেলেছে তপতী। হাসনাবাদ কোনও নামকরা জায়গা নয়। তবু তপতীর গায়ে কাটা দিচ্ছে। এরকম তো নয় যে সে জীবনে নদী দেখেনি। তিস্তার পাথরে বসে থাকা অবস্থায় একটা ছবি তাদের বেডরুমে বাঁধিয়ে রাখা আছে। পায়ের কাছ থেকে সাদা ফেনা নিয়ে তিস্তা নদী ছুটছে। কান পাতলে ফ্রেমে বাঁধানো সেই ছবি থেকে মাঝে মাঝে জলের শব্দও শোনা যায়। অথচ কী আশ্চর্য, আজ মনে হচ্ছে এই বুঝি প্রথম তার নদীর সঙ্গে দেখা হল।

    সন্ধে হয়ে গেছে। এখনও যে-আলোতে নদী দেখা যাচ্ছে সে-আলো নদীর নিজের আলো। ওপারে সারি সারি টিমটিমে বাতি জ্বলছে। জলে এলোমেলো কয়েকটা নৌকো। সম্ভবত এই নৌকোদের ফিরে আসার তাড়া নেই। অথবা তারা ফেরার কথা ভুলে গেছে।

    তপতী বলল, ‘অপূর্ব! দেখলে তো, তুমি থাকতে রাজি হচ্ছিলে না। এখন কেমন লাগছে, বলো?

    বিমল হাসল। গাঢ় স্বরে বলল, ‘শেষপর্যন্ত তোমার ইচ্ছেমতোই হল। ইছামতীর মজা কী বলো তো? তোমার ইচ্ছে যদি তার পছন্দ হয় তা হলে সেটা সে পূরণ করে ছাড়ে। ইছামতী নামটা সেই জন্যই। তোমার ইচ্ছে মনে হচ্ছে তার পছন্দ হয়েছে।’

    তপতী বলল, ‘তোমার মাথা। এখানে না থাকলে কী সুন্দর একটা জিনিস যে মিস করতাম।’

    ‘তপতী, থাকার মতো অবস্থা সত্যিই ছিল না। স্যারের জন্য মুডটা অফ হয়ে ছিল। অনেক সময় অদ্ভুত অদ্ভুত ব্যাপার হয় না? অশোকটাও গোলমাল করে দিল। মাঝখানে কতটা গ্যাপ গেছে। এখন মনে হচ্ছে একটু বেশি ইমোশনালি মুভড্‌ হয়ে পড়েছিলাম। যাক মানুষটা সুস্থ হয়ে ফিরে গেছেন দ্যাট ইজ গুড। এখন কয়েক ঘণ্টা আমরা এনজয় করতে পারি।’

    তপতী বিমলের হাত ধরে বলল, ‘আমার মনে হয়, তোমার ইচ্ছেটা ইছামতীর মনে ধরেছিল। সেই তোমাকে নিয়ে এসেছে। এবার আমার একটা ইচ্ছে ইছামতীদেবী পূরণ করে দিলে বাঁচা যায়।’

    ‘ইচ্ছেটা শুনতে পারি কি?’

    ‘হ্যাঁ শুনতে পারো। একটা সবুজ শাড়ি কেনার ইচ্ছে। পুরো সবুজ নয়। অফ গ্রিন, হালকা সবুজ। নিয়ম হল, নদীর ধারে সবুজ শাড়ি পরে যেতে হয়।’

    স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই শব্দ করে হেসে ওঠে। তপতীর মনে হচ্ছে, খুব সম্ভবত তার মন ভাল হয়ে যাচ্ছে।

    দোকানে সবুজ শাড়ি পাওয়া গেল। কিন্তু হালকা সবুজ নয়, ক্যাটক্যাটে সবুজ। রঙের মধ্যে একটা গ্রাম্য ব্যাপার। বাধ্য হয়ে সেই শাড়িই কিনতে হল তপতীকে। বিমল বলল, স্যারের জন্য এক জোড়া ধুতি-পাঞ্জাবি নিলে কেমন হয় তপতী? স্যার মনে হয় খুশি হবেন। ধুতি, শাড়ি এবং রাতের জন্য বিমলের একটা পাজামা কিনে গেস্ট হাউসে ফিরতে ফিরতে অনেকটা সময় চলে গেল। ঠিক হল, কাল খুব ভোরে উঠতে হবে। উঠেই মুখটুখ না ধুয়ে যাওয়া হবে সোজা নদীর কাছে। নৌকোয় চেপে ঘণ্টাখানেক চক্কর। তারপর নদীর ধার থেকেই কচুরি আর চা খেয়ে বারাসত। সেখানে কিছুক্ষণ কাটিয়ে কলকাতায় পৌঁছোলে বিমল অনায়াসে অফিসের জরুরি মিটিং ধরতে পারবে।

    প্রথমে ভাবা হয়েছিল, সত্যি সত্যি নদীর ধারে কোনও দোকানে গিয়ে রাতের খাওয়া হবে। কিন্তু বিমল গাড়ি চালিয়ে ক্লান্ত। তা ছাড়া বেশি ঝালের ঝুকি নেওয়াটা ঠিক হবে না ভেবে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হয়েছে। তা ছাড়া কোন ফাঁকে বিমল হুইস্কির একটা ছোট বোতল কিনে ফেলেছে। ঘরে এসে পাজামা পরে ঝটপট সে বোতল এবং গেলাস নিয়ে বসল। বলল, ‘তপতী, তুমিও একটা খেলে পারতে। জার্নির টায়ার্ড ব্যাপারটা কেটে যেত।’

    ‘আমি কাটাতে চাই না। টায়ার্ড ব্যাপারটা রাখতে চাই। একটা লুডো কিনে আনব? খেলবে?

    দশটা বাজার আগেই গেস্ট হাউসের কেয়ারটেকার খাবার দিয়ে গেল ঘরে। তপতী বলল, ‘আজ আমরা ক্যালে ডিনারের মতো রিভার ডিনার করব।’

    ‘সেটা কী রকম?’

    ‘হাতে প্লেট নিয়ে বারান্দায় বসে খাব। মাঝদীতে লঞ্চে বসে খাওয়ার একটা এফেক্ট পাওয়া যাবে।’

    কিন্তু সেরকম কোনও এফেক্ট পাওয়ার আগেই অন্য ধরনের সমস্যা হল। খাবার মুখে তুলতেই কেমন একটা বিচ্ছিরি গন্ধ পেল তপতী।

    নাক সিটকে বলল, ‘খাবার পচা নাকি গো?’

    ‘কই না তো?’ বিমল আরামে যাচ্ছে। সে একটা মুরগির হাড় কামড়াতে গিয়ে চোখ বুজে ফেলেছে।

    তপতী আবার খাবার মুখে তুলল। উৎকট গন্ধ। গা পাক দিয়ে উঠল তার। আর তখনই গন্ধটা চিনতে পারল। আজ বিকেলে হাসপাতালে এই গন্ধ পেয়েছিল সে। অসুখের গন্ধ।

    তপতী ছুটে বাথরুমে গেল এবং আলো জ্বালানোর আগেই বেসিন ভাসিয়ে বমি করল।

    তপতীর ঘুম ভাঙল ঠান্ডা হওয়াতে। কোন ফাঁক দিয়ে ঘরে হাওয়া ঢুকছে। এখন ক’টা বাজে? সে বিছানা থেকে উঠে পড়ল। শরীরটা ভার ভার লাগছে। দরজা খুলে বারান্দায় এসে দাড়াল। অনেক আলোই নিভে গেছে, ফলে এখন নদীকে আলাদা করে দ্যাখা যাচ্ছে না। তবে বোঝা যাচ্ছে। প্রকৃতির এটাই মজা। দ্যাখা না গেলেও বোঝা যায়। এত রাতে কোথা থেকে যেন হেঁ হেঁড়া গান ভেসে আসছে। রাতের নদী নানারকম শব্দ বয়ে নিয়ে চলে। তপতীর একটু শীত শীত করছে। সে শাড়িটাকে ভাল করে জড়িয়ে বসল। বিমল ঘুমিয়ে কাদা। কাল রাতে আরও একবার বমি। হয়েছে। গেস্ট হাউসের নীচেই ওষুধের দোকান। বিমল দুটো হজমের ট্যাবলেট আর একটা ভ্যালিয়াম ফাইভ এনে দিল। বলল, ‘খেয়ে নাও। অনেকটা ধকল হয়েছে। নাভিতে অতক্ষণ বসে থেকেছ, হজমের প্রবলেম তো হবেই। রাতে ঠিকমতো ঘুমোলই দেখবে একদম ফিট।’

    ঠিকমতো ঘুম কি হল? বোধহয় না। তা হলে মাঝরাতে ঘুম ভাঙবে কেন? তবে শরীর এখন ঝরঝরে লাগছে।

    তপতী বারান্দায় বসে রইল। তার ঘরে যেতে ইচ্ছে করছে না। বিছানায় শুয়ে লাভ নেই, ঘুম হবে না। বিছানায় শুয়ে ছটফট করার থেকে বারান্দায় বসে বাকি রাতটা কাটানো ভাল।

    বেশিক্ষণ কাটাতে হল না। অল্প সময়ের মধ্যেই আলো ফুটতে শুরু করল। তপতী মুগ্ধ হয়ে সেই আলো দেখতে লাগল। তার মনে হল, নদীর ভোর হওয়া পৃথিবীর সেরা দৃশ্যগুলির একটা। সাদা রঙের একটা মায়াময় আলো তার গায়ের ওপর বিছানো। যে-মেয়েটি কাল রাতে গোপনে জলে নেমেছিল, সে বুঝি ভুল করে তার ওড়না ফেলে গেছে। সকালে নদী তার সেই ওড়না ফেরত দিতে চলেছে। খুব সুন্দর কিছু দেখার সমস্যা হল, ভেতরে ভেতরে একটা কষ্ট হয়। সেই কষ্ট বাড়তে থাকে। তখন এমন সব মানুষের জন্য মন কেমন করে যাদের জন্য মন কেমন করার কোনও কারণ নেই। কষ্টের জন্য দারুণ আনন্দ হয়। মনে হয় একটা কিছু করি।

    তপতীরও করছে। বড় ধরনের একটা বোকামি করতে ইচ্ছে করছে তার। ইছামতীর কাছে সে কি সেই ইচ্ছের কথা বলবে?

    তপতী উঠল। ঘরে ঢুকে সে ক্যাট্র্যাটে সবুজ শাড়িটা পড়ল। কাল রাতে রংটা যত খারাপ লেগেছে, এখন আর ততটা লাগছে না। কলকাতায় ফিরেই ফলস লাগাতে হবে। বিমল গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে। নিশ্চয় শীত করছে। তার গায়ে বিছানার চাদরটা ভাল করে চাপা দিল তপতী। বেচারির অল্পতেই ঠান্ডা লাগে।

    একতলায় দরজা এখনও পুরো খোলেনি। অর্ধেক খোলা। মনে হয়, রোদ না ইলে এখানে দরজা পুরো খোলা হয় না। দরজার বাইরে টুল পেতে নিমডাল মুখে দারোয়ান। তাকে দেখে সে হাসতে গেল এবং মুখের নিমড়াল পড়ে গেল। তারপরেও সে আবার হাসল। বলল, “শুডমর্নিং ম্যাডাম। আপনি নিশ্চয়ই নদীর ধারে যাচ্ছেন? এদিক দিয়ে যান শর্টকাট হবে।’

    তপতী হাসল। বলল, ‘না, আমি নদীর ধারে যাচ্ছি না। হাসপাতালটা কোনদিকে ভাই?’

    ৪

    বিমল গম্ভীর হয়ে গাড়ি চালাচ্ছে। তপতী মাঝেমধ্যে আড়চোখে তাকাচ্ছে। তার বেশ ভয় করছে। সে বোঝার চেষ্টা করছে, এই মুহূর্তে স্বামীর রাগ-এনার্জির মাত্রা ঠিক কতটুক। পদার্থবিদ্যায় বস্তুর এনার্জি মাপার যন্ত্র আছে, কিন্তু মনের এনার্জি মাপার কোনও যন্ত্র এখনও আবিষ্কার হয়নি। হলে ভাল হত। তা হলে হয়তো বোঝা যেত বিমলের রাগ কমার দিকে না বাড়ার দিকে? মনে হচ্ছে বাড়ার দিকে। বাড়ারই কথা। স্ত্রী বড় ধরনের বোকামি করলে স্বামীর না রেগে উপায়ই বা কী?

    হাসনাবাদ থেকে বসিরহাট যাওয়ার রাস্তাটা একেবারে ঝাঁ চকচকে। গাড়ি অনায়াসে হাওয়ার মতো উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু বিমল তা পারছে না। তাকে গাড়ি চালাতে হচ্ছে সাবধানে, গর্ত বাঁচিয়ে। কেননা, গাড়ির পিছনের সিটে একটি অচেনা অসুস্থ কিশোর তার মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে। লুকিং গ্লাসে সেই কিশোরের মুখ বিমল দেখতে পাচ্ছে। সে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। তার চোখ দেখে মনে হচ্ছে জীবনে এই প্রথম সে গাড়িতে চাপল। গ্রাম্য মহিলার চোখ অবশ্য দেখা যাচ্ছে না। কারণ তার মুখ আজও ঘোমটায় ঢাকা। সে তার ছেলেকে নিয়ে কলকাতার কোন বড় হাসপাতালে চলেছে।

    রোগী নিয়ে জোরে গাড়ি চালানো যায় না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }