Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীল আলোর ফুল – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প591 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রূপকথা

    চা খুব বাজে হয়েছে। চিনি কম। দুধ প্রায় নেই বললে চলে। পাতা ভেজানোর সময়টাই যা বেশি হয়েছে। ফলে তেতো স্বাদ মারাত্মক। মনে হচ্ছে, চা-পাতার বদলে নিমপাতা দিয়ে চা হয়েছে।

    বিশ্বনাথ নিমপাতার চা আরাম করে শেষ করেছে। এখন সে খালি কাপ হাতে বসে আছে। চায়ের এই একটা মজা। খেয়ে তৃপ্তি লাগলে কাপ রাখতে ইচ্ছে করে না। মনে হয়, খালি কাপ হাতে খানিকক্ষণ বসে থাকি। বারান্দার গ্রিল টপকে রোদ পড়ছে বিশ্বনাথের গায়ে। সকালের রোদ হলেও শরতের রোদে তেজ আছে। একটু যেন গরম গরম লাগছে। বিশ্বনাথ সরে বসল না, দু’কামরার ভাড়াবাড়ির এই ফালি বারান্দাটুকর রোদ বৃষ্টি একেবারেই বাড়তি পাওনা। প্রথমদিন এ-বাড়িতে ঢুকে রেবা ভয়ংকর বিরক্ত হয়েছিল। ভুরু কুঁচকে বলল, ‘এমা! ঘরগুলো তো দম চাপা। আলো বাতাস নেই, একটু হাত-পা মেলার জায়গা নেই। দুই মেয়েকে নিয়ে থাকব কী করে? রান্নাঘরটা দেখেছ?’

    ‘দাঁড়াও এখন তো নিয়ে নিই। এর থেকে কম ভাড়ায় কলকাতায় টু রুম ফ্ল্যাট কোথাও পাব না। পরে মাইনেকড়ি বাড়লে বাড়ি বদলাতে কতক্ষণ? তা ছাড়া শুনছি, অফিস নাকি রাজারহাটে কো-অপারেটিভ ফ্ল্যাট বানাবে। হাই লেভেলে কথা চলছে। সহজ কিস্তিতে দিলে নিয়ে নেব। এই ধরো মাসে বাইশশো টাকার মতো পড়বে। বাহশশো আর এমন কী টাকা। তা ছাড়া তখন তো আমার প্রমোশন টোমোশন হয়ে একটা কাণ্ড হবেই। বাইশশশা কেন তখন তিন হাজার পর্যন্ত গায়ে লাগবে না। আসলে কী জানোর, প্রাইভেট কোম্পানির এই একটা খেলা। ওঠবার সিড়ি পেতে দেরি হয়, কিন্তু একবার পেয়ে গেলে আর দেখতে হয় না। তখন শুধু ওঠো আর ওঠো। উঠতে উঠতেই হাঁপিয়ে যাবে। মনে হবে, ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি, আর উঠতে চাই না। হা হা।’

    রেবা বিশ্বনাথের হাসিতে উৎসাহ পেল না। সে ভুরু কুঁচকেই রইল। সেই ভুরু সোজা হল এই বারান্দা দেখার পর।

    ‘বাঃ বারান্দাটা তো চমৎকার। এখানে ক’টা বেতের চেয়ার আর একটা ছোট টেবিল নিয়ে নেব।’

    বিশ্বনাথ স্ত্রীর উৎসাহ বাড়িয়ে দিতে বলল, ‘বিনু-মিন চাইলে এখানে বসে পড়াশোনা করতে পারে। চারিদিকে গ্রিল দেওয়া। ভেরি সেফ। পরদা ঝুলিয়ে একটা টিউব দিলে তো একেবারে আস্ত একটা ঘর। ফ্রিতে একস্ট্রা একটা ঘর হয়ে গেল রেবা, সেটা একবার ভেবে দ্যাখো। গরমকালটা আমি এখানেই শোব। স্লিপ ইন ন্যাচারাল এয়ার অ্যান্ড মুনলাইট।’

    গত বারো বছরে কিছুই হয়নি। প্রোমোশনের সিঁড়ি পাওয়া যায়নি, ফলে মাইনের অবস্থা আজও সেই ভয়ংকর। রাজারহাটে ফ্ল্যাট তো দুরের কথা, বারান্দার জন্য সামান্য কটা বেতের চেয়ারও হয়নি। এখনও সেই গুটিকয়েক মোড়া আর যাদবপুরের বাড়ি থেকে নিয়ে আসা মান্ধাতার আমলের একটা চেয়ার। মোড়া ক’টার বেত ছিঁড়ে গেলেও, চেয়ারটা মোটামুটি অক্ষতই আছে। শুধু আশ্চর্যভাবে পেছনের দিকে একটা পা কী করে যেন খানিকটা ছোট হয়ে গেল! বসলে ঢকঢক করে। এ আবার কী কাণ্ড! পুরনো চেয়ারের পা ছোট হয়ে যায় নাকি ? মিনু বলে, ‘বাবা, চেয়ারদাদুকে মনে হচ্ছে খুব শিগগিরই হাতে লাঠি দিতে হবে। ভদ্রলোক আর নিজের পায়ে দাড়াতে পারছেন না।’

    সুখবর শুধু একটাই। বড়লোকি কায়দায় বারান্দা সাজানো না গেলেও, রোদ বৃষ্টি আলো বাতাসরা তেমন কিছু মনে করেনি। তারা আগে যেমন আসত, এই গরিব বারান্দায় এখনও তেমন আসে।

    বিশ্বনাথের মতো মানুষের চারপাশে ভাল লাগার মতো কিছু থাকে না। বিশ্বনাথেরও নেই। যা আছে সবটাই খারাপ লাগার মতো। মুখে আছে চায়ের তেতো স্বাদ। চাল, ডাল, চিনির খালি কৌটো দেখে দেখে ক্লান্ত স্ত্রী রান্নাঘরে বসে আছে খিটখিটে মেজাজ নিয়ে। বারান্দা থেকে তার একটানা গজগজ শোনা যাচ্ছে। রান্নাঘরের লাগোয়া শোবার ঘরে তক্তপোশে শুয়ে আছে, মেয়েরা। বিনু আর মিনু। তারা বড় হচ্ছে। এ বছরই বিলুর মাধ্যমিক। মিটার ক্লাস এইট। দুজনেই রোগা এবং দু’জনেরই গায়ের রং ময়লা। এই মেয়েদের দিকে তাকালে যে-কোনও বাবার বুকের রক্ত হিম হয়ে যাওয়ার কথা। মনে হয় না এদের কখনও বিয়ে হবে। তার মধ্যে মিনুটা আবার ঘন হল জ্বরে ভোগা শুরু করেছে। হোমিওপাহি চলছে। ওষুধ এখনও পুরোপুরি কাজ শুরু করেনি। এর পানে আছে তিন প্রকারের ধারবাকি। বড় মেজ ও ছোট। খারাপ লাগার যাবতীয় আয়োজন পরিপাটিভাবে সাজানো।

    এসবের মধ্যেও বিশ্বনাথের কেন যেন সকালবেলা ঘুম ভেঙে উঠে মাঝেমধ্যে ভাল লাগে। মনে হয়, বাঃ কী সুন্দর! সবকিছু কত চমৎকার : এই মনোভাবের জন্য তার অবশ্য এজার শেষ নেই। এর জন্য অবশ্য তাকে দোষ দেওয়া ঠিক হবে না। চারপাশে অজস্র খারাপ লাগার কারণ, লু যদি বলি ও ‘সাও ভাল লাগে লজ্জা তো হবেই। নিশচয় লজ্জা হবে।

    তবে আজ অন্যরকম ঘটনা। বিশ্বনাথের আজ ভাললাগার পেছনে জোরদার কারণ আছে। সে ঠিক করেছে, মেয়েদের আজ একটা বড় সারপ্রাইজ দেবে। বিন-মিন একেবারে হা হয়ে যাবে, তারা প্রথমে বিশ্বাসই করতে চাইবে না। মেয়েদের মা ঘাবড়ে গিয়ে ভাববে, লোকটা বোকা ছিল, এবার কি পাগল হয়ে গেল?

    বিনু বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছে। রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করায় তার চোখ ফোলা। একটা সবুজ মাকি পরেছে। হাতে দাঁত মাজার ব্রাশ। মুখ ধোওয়ার জন্য চোখের পাতায় জলের ফোঁটা লেগে। সকালের আলো সেই ফোঁটায় পড়ে চিকচিক করছে। রোগা কালো মেয়েকে দেখে ভয়ে বাবার মুখ শুকিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু বিশ্বনাথের তা হচ্ছে না। বরং বিনুকে তার খুব সুন্দর লাগছে। দুর্বলতা গোপন করে বিশ্বনাথ গম্ভীর গলায় বলল, ‘বিনু, তুমি হাতে ব্রাশ নিয়ে ঘুরছ কেন?’

    বিনু একটা মোড়া টেনে বাবার কাছে বসল। বলল, ‘কারণ আছে বাবা।’

    ‘কী কারণ?’

    ‘গোপন কারণ। তুমি যদি ব্যাপারটা ফাঁস না করে তা হলে বলতে পারি। তোমার কি শুনতে ইচ্ছে করছে?’

    কারণটা শুনতে বিশ্বনাথের খুব ইচ্ছে করছে। ছেলে-মেয়েদের বাবা-মা’রা যত্ন করে কত কিছুই না শেখায়। গান, নাচ, ছবি আঁকা। আজকাল আবার কম্পিউটার শেখানোর খুব হিড়িক পড়েছে। পাড়ায় পাড়ায় ঝলমলে সব শিক্ষাকেন্দ্র দেখে বিশ্বনাথের খারাপ লাগে। সবাই কত কী শিখে গেল। শুধু তার মেয়েদুটোই বাদ পড়েছে। তবু বিনু-মিনু নিজেরা কোথা থেকে যেন মজার মজার কথা বলতে শিখেছে। শুধু মজা নয়, মনে হয়, মেয়েদুটোর কথায় কী যেন একটা আছে। সেই জিনিসটা দিয়ে তারা অনেকরকম দুঃখ কষ্ট মুছে নিতে পারে। বড় ভাল লাগে। মেয়েদের এই স্বভাব তাদের মা একেবারেই পছন্দ করে না। সে রেগে যায়। কাল রাতেই যেমন মিনু খেতে খেতে কী যেন একটা বলছিল। রেবা ঝাঝিয়ে ওঠে, ‘অনেক হয়েছে। কালো ভূতগুলোর শুধু পাকা পাকা কথা। শুনলে মনে হয় চড় লাগাই। এসব আদিখ্যেতা কোথা থেকে শিখেছ? নিশ্চয় বাবার কাছ থেকে?’ মিনু গম্ভীর গলায় বলল, ‘ভূত নয় মা, কালো পেতনি!’ রেবা এবার সত্যি সত্যি মেয়ের গালে চড় লাগাল। মিনুর গালে ভাল লেগে গেল। সে উঠে গিয়ে ডাল ধুয়ে এসে ফের খেতে বসল। স্বাভাবিক গলায় বলল, “তোমার চড়ে কোনও কাজ হল না মা। আমাদের ক্লাসের নন্দিতাকে ওর মা একবার খেতে বসে কান মুলে দিয়েছিল। নন্দিতা তো কাদতে কাদতে খাওয়াটাওয়া ফেলে উঠে পড়ল। ঘোষণা করল, তিনদিনের অনশন চালাবে। নন্দিতার বাবা রাতে গাড়ি বের করে পার্ক স্ট্রিট থেকে আইসক্রিম নিয়ে এল। চোখ-ভরতি জল নিয়ে বাবা হাত থেকে সেই আইসক্রিম মুখে নিয়ে নন্দিতা অনশন ভাঙল গভীর রাতে। ও এতসব করতে পেরেছিল কেন জানো? কারণ ও হল মানুষ। কিন্তু আমরা তো মানুষ নই। আমরা হলাম পেতনি। এসব আমরা করতে পারব না। সুতরাং চড় খেয়ে আবার ভাত খেতে বসে গেলাম। দাও আর একটু তরকারি দাও তো, উফ, কুমড়োতে এত ঝাল দাও কেন মা? তোমাকে বারণ করেছি না।’

    বিনু আবার গলা নামিয়ে বলল, ‘কী বাবা, ব্রাশের রহস্যকথা শুনবে নাকি?’

    ‘তোমার ইচ্ছে হলে বলতে পারো।’

    ‘বাথরুমে গিয়ে দেখলাম পেস্ট ফুরিয়ে গেছে। মা এখনও খবরটা জানে বলে মনে হাচ্ছে না। আমি চাই না এই সকালে সামান্য একটা পেস্ট নিয়ে বাড়িতে ঝামেলা শুরু হোক। তাই মিছিমিছি ব্রাশ হাতে ঘুরছি। পেস্ট দিয়ে দাঁত মাজার অভিনয় করছি। আরও কিছুক্ষণ ঘুরব। রান্নাঘরে যাব, মায়ের সঙ্গে কথা বলব। সেরকম হলে বাগানে খানিকটা হাঁটাহাঁটি করতে পারি।’

    বিশ্বনাথের এত ভাল লাগছে যে তার মনে হচ্ছে, বড়মেয়ের দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকে। সে মুখ ফিরিয়ে নিল। সেই অবস্থাতেই বলল, তোর পড়া কেমন হচ্ছে?’

    ‘ভাল। তবে যতটা হলে ভাল হত ততটা নয়।’

    ‘কেন, ভাল নয় কেন?’

    বিনু নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলল, ‘মাধ্যমিকে একটা ফার্স্ট টার্স্ট হতে পারলে সংসারে খুব সুবিধে হত। আজকাল বড়লোক ফার্স্ট সেকেন্ডের কোনও দাম নেই, গরিব ঘর থেকে স্ট্যান্ড করলে দারুণ খাতির। ঘনঘন সংবর্ধনা, পুজোতে ফিতে কাটা, গানের জলসায় আবৃত্তি। ছ’মাস দম ফেলতে পারতাম না। বাড়িতে গিফট নিয়ে আসার জন্য তখন একটা মাসকাবারি ঠেলাগাড়ির ব্যবস্থা করতে হত। আমি অবশ্য সরাসরি বলে দিতাম, দেখুন জিনিসটিনিস আমাকে দেবেন না, কালার টিভি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, কম্পিউটারে ঘর একেবারে ঠাসাঠাসি অবস্থা। রোজ রোজ জিনিস নিয়ে যাচ্ছি দেখে আমার মা খুব রাগ করছেন। বলছেন, এত জিনিস রাখব কোথায় ? আমাদের তো তিনতলা বাড়ি নয়, দুটো মাত্র ঘর। তার মধ্যে একটা আবার ডাইনিং কাম বেডরুম। আপনারা বরং একটা কাজ করুন, নগদ টাকা দিন। টাকা রাখতে বেশি জায়গা লাগবে না সেরকম হলে মা একটা ছোট সিন্দুক কিনে নেবে।’

    বিশ্বনাথ হাসিমুখে বলল, ‘তোর মতো একটা বাচ্চা মেয়ের হাতে ওরা টাকা দেবে কেন?’

    ‘আমি মোটেও বাচ্চা নই, তবে টাকা নিতে আমার বয়ে গেছে। আমি বলব, টাকাপয়সা সব আমার বাবার হাতে দিতে হবে। উনি বিশ্বাস অ্যান্ড বিশ্বাস কোম্পানির লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টে টুয়েন্টি ইয়ারস টানা কাজ করছেন। কোনওদিন চার আনার গোলমাল হয়নি। ভদ্রলোক হলেন সততা এবং পরিশ্রমের প্রতিমূর্তি।’

    মিনু কখন বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছে দু’জনের কেউ খেয়াল করেনি। বাবা আর দিদির হাসির মধ্যেই সে বলল, তবে ভদ্রলোক খুব শিগগিরই চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। কারণ ইদানীং উনি খুবই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তাকে বারান্দায় বসে বেলা পর্যন্ত চা খেতে হয় এবং বড়মেয়ের সঙ্গে হাসির গল্প করত হও। অফিস যাওয়ার সময় পান না।’

    বিশ্বনাথ মিনুর দিকে তাকিয়ে বলল, “তুইও আয়। ছোটমেয়ের সঙ্গেও আমি হাসির গল্প করতে পারি। কী রে বিনু, পারি না?

    মিনু এসে ঢকটকে চেয়ারটায় বসল। বলল, ‘আমার একটা গল্প আছে, কিন্তু সেটা হাসির গল্প নয়, দুঃখের গল্প।’

    বিনু বোনের দিকে না তাকিয়ে বলল, ‘অঙ্কে নিশ্চয় আবার ডাব্বা খেয়েছিস। তোর দুঃখ মানে তো অঙ্ক পরীক্ষায় গোল্লা পাওয়া।’

    মিনু বিনুর কথায় কান না দিয়ে বলল, ‘বাবা, তুমি জানো না, কাল সন্ধেবেলা আমাদের ঘরের পাখাটা খারাপ হয়ে গেছে। আমরা ঠিক করেছিলাম, ঘটনা এখন তোমাকে জানানো হবে না। মাসের শুরুতে জানানো হবে। কিন্তু গল্পের খাতিরে জানাতে বাধ্য হচ্ছি।’

    বিশ্বনাথ অবাক হয়ে বলল, ‘সেকী! আমাকে তো বলিসনি? এই গরমে তোর শুচ্ছিস কীভাবে?’

    মিনু বলল, ‘আঃ গল্পটা বলতে দেবে?’

    মিনু পাখার কথাটা বলে দেওয়ায় বিনু খানিকটা বিরক্ত হয়েছে। সব দোকানেই এ বাড়ির বাকি পড়ে থাকে। কে জানে ইলেকট্রিকের দোকানেও হয়তো কিছু ধার হয়ে আছে। সে বলল, চট করে শেষ কর মিনু। আমার পড়া আছে। তোর দুঃখ শুনে এখন কাঁদার সময় নেই।’

    দিদির কথায় পাত্তা না দিয়ে মিনু বলতে লাগল, ‘কাল ঘুমের মধ্যে হঠাৎ দেখি শীতশীত করছে। ভাবলাম আবার বোধহয় জ্বর এল। হঠাৎ শুনি শব্দ হচ্ছে— হিজ হিজ। আরে! ‘ঘরে এয়ারকন্ডিশন মেশিন চলছে নাকি? ঠিক তাই। চোখ খুলে দেখি, ঘরে এয়ারকন্ডিশন মেশিন চলছে। সেই মেশিন থেকেই শব্দ হচ্ছে। আমার খুব রাগ হতে লাগল। এসি মেশিনটা এত বাড়িয়ে দিয়েছে কে? নিশ্চয় দিদি। দিদির এই এক কাণ্ড! রাতে মেশিন বাড়িয়ে দেবে। আমি ঠকঠক করে কাপতে লাগলাম। পাশে তাকিয়ে দেখি, দিদি নাক ডেকে ঘুমোচ্ছ। তার গায়ে একটা কম্বল। কম্বলটার রং গোলাপি। সেটার গায়ে হাত বুলিয়ে দেখি কী নরম গো! মনে হচ্ছে, পশমের বদলে মাখন দিয়ে কম্বল তৈরি হয়েছে। আমি সেই মাখন কষল ধরে টান দিলাম, দিদি ছাড়ল না। শক্ত করে চেপে ধরল। আমি আরও টানলাম। দিদি আরও চেপে ধরল। কত বড় হিংসুটে একবার দ্যাখো বাবা, ছোটবোন ঠান্ডায় কাঁপছে একটু দয়ামায়া নেই। এমন সময় তুমি দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকলে। আমাকে বললে, অ্যাই মিনু, কী হচ্ছে কী? সামনে বিনুর মাধ্যমিক পরীক্ষা আর তুই ওর কম্বল নিয়ে নিচ্ছিস?’ আমার উত্তর দেওয়ার আগেই তুমি এসে আমার গালে একটা চড় লাগালে।-সকালে উঠে দেখছি কোথায় এসি মেশিন? গরমে যে ঘামছি! শুধু এই গালটায় কেমন যেন ব্যথাব্যথা। এটা খুব দুঃখের ঘটনা। স্বপ্নের চড়ে গাল ব্যথা হবে কেন বাবা?’

    বিনু বলল, ‘কী ব্যাপার বল তো মিনু? কাল দেখলাম তুই মায়ের হাতে সাতকারের চড় খেলি, রাতে আবার বাবার হাতে স্বপ্নে চড় খাচ্ছিস, ব্যাপারটা কী? আমার মনে হয় তোর ওপর চড় দেবতা ভর করছে। তুই বরং পুজো দে। চড় ঠাকুরের মন্দির টন্দির কোথাও আছে নাকি বাবা?’

    কিশোরী মেয়ের স্বপ্ন হবে আনন্দের, মজার। সারাদিন সে সেই স্বপ্নের ওপর আলবে। স্বপ্নের কথা মনে পড়লে মাঝেমধ্যে হাসবে। অথচ মিনু স্বপ্ন দেখল তার বাবা তাকে চড় মারছে! বিশ্বনাথের মনটা খারাপ হয়ে গেল। সত্যি; মেয়েগুলো শত কষ্টে বড় হচ্ছে। একটা সুন্দর স্বপ্ন দেখার মতো ক্ষমতাও এদের নষ্ট হয়ে গেছে।

    বিশ্বনাথ উঠে দাঁড়াল। গম্ভীর হয়ে বলল, ‘শোনো মেয়েরা, আমি একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ঠিক করেছি, আজ আমি অফিস কামাই করব। কামাই করে তোমাদের নিয়ে বেরোব। বেরিয়ে টইটই করে ঘুরব। দুপুরে বিনুর ফেবারিট খাবার ইনিজ খাব। বিন, তুই কত দিন চাইনিজ খাস না? কোনও চিন্তা করিস না, চাইনিজ একসময় তার মায়েরও প্রিয় খাবার ছিল। আজ দেখব তুই না তোর মা— কে বেশি খেতে পারে। বিকেলের মেনু অন্যরকম। মিনুর হট ফেবারিট ফুচকা দিয়ে টিফিন হবে। আমার এই পরিকল্পনায় তোমাদের কোনও আপত্তি আছে? আপত্তি থাকলে বলার দরকার নেই। কারণ, আজ তোমাদের কোনওরকম আপত্তিই শোনা হবে না। আমার সিদ্ধান্ত খুবই কঠিন সিদ্ধান্ত।’

    বিনু মিনু দু’জনেই বাবার কথা শুনে অবাক। মানুষটা একেবারেই অফিস কামাই করে না। জ্বরটর হলে পকেটে হোমিওপ্যাথির গুলি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। তার আজ হল কী?

    মিনু চিন্তিত গলায় বলল, ‘বাবা, তোমার শরীরটরির খারাপ লাগছে না তো? চার ফোঁটা রাসটক্স খাবে?’

    বিনু বলল, ‘শরীর না খারাপ হলেও তোমার মাথা নিশ্চয় খারাপ হয়েছে। তুমি কি ভুলে গেলে আমার পরীক্ষা। এখন বলছ বেড়াতে যাব। কই এতদিন তো বলোনি?’

    বিশ্বনাথ বলল, “এতদিন বলিনি তো কী হয়েছে, আজ বলছি। আর পরীক্ষার আগে মাঝেমধ্যে ফ্রেশ এয়ার দরকার হয়। এয়ার ফুল অব অক্সিজেন। আমরা তোদের বয়েসে কত যে নদীর ধারে বেড়িয়েছি। আমাদের গ্রাম থেকে মিনিট কুড়ি হাঁটলেই নদী পেয়ে যেতাম। সোনাই নদী! পরীক্ষার আগে খানিকটা টাটকা বাতাস দারুণ উপকারী। ঠিক আছে বিনু, আজ তোর পরীক্ষা উপলক্ষে আমরা নদীতেই বেড়াব।’

    মিনু ফিসফিস করে বলল, “দিদি, অবস্থা ভাল মনে হচ্ছে না। এখন বলছে নদী দেখবে, এরপর বাবা হয়তো পাহাড় দেখানোর জন্য ঝুলোঝুলি করবে। সন্ধের সময় বলবে, চল দার্জিলিং ঘুরে আসি।’

    বিশ্বনাথ ছোটমেয়ের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসতে লাগল। বলল, ‘কেন? কলকাতায় কি নদী নেই? গর্দভ কোথাকার। কলকাতায় কী চমৎকার গঙ্গা। ভাল করে দেখেছিস কখনও? আজ দেখবি। আজ আমরা একটা বোকো ভাড়া করে সারাদিন গঙ্গায় ঘুরব। খাওয়াদাওয়া সব নৌকোতে হবে। গঙ্গাবক্ষে ভ্রমণ। আইভিয়া কেমন লাগছে? মেয়েরা, যাও স্নানটান সেরে তৈরি হয়ে নাও।’

    বিনুর ভীষণ অনিন্দ হচ্ছে। কেন লাগছে তা সে বুঝতে পারছে না। তবে এটুকু বুঝতে পারছে, এত আনন্দ সামান্য বেড়াতে যাওয়ার জন্য পাওয়া যায় না। এই আনন্দর জন্য আরও অনেক বড় কিছুর দরকার হয়। সেই বড় কিছুটা কী ? তার বাবার মতো একটা মানুষ ? বিনু উঠে ঘরে চলে গেল। আলোর সামনে সে কখনও চোখের জল ফেলে না।

    রেবা কড়াই থেকে মুখ না ঘুরিয়েই বুঝতে পারল, ছোটমেয়ে ঢুকেছে। মিনু যখন চলাফেরা করে তখন কোন শব্দ হয় না। মনে হয়, তার কোনও অদ্ভুত কায়দা আছে। সেই কায়দায় সে পায়ের শব্দ লুকিয়ে ফেলতে পারে। রেবার এটা পছন্দ নয়। এ আবার কেমন অলক্ষুন ধারা?

    রেবা মুখ না ফিরিয়েই বলল, ‘কী রে, আবার পা টিপে টিপে চলছিস? তোকে না কতবার বলেছি, পা টিপে হাঁটবি না। তুই কি চোর নাকি?’

    মিনু হেসে বলল, ‘চোরেরা পা টিপে চলে একথা তোমায় কে বলেছে মা? তা ছাড়া এখন কি আর তোমার আমল আছে ? এখনকার চোরেরা সবাই পাড়া দাপিয়ে ঘোরাফেরা করে। যে যত বড় চোর তার চলাফেরায় তত শব্দ। এই সোঁ করে গাড়ি চেপে আসবে, এই প্যাঁক প্যাঁক করে হর্ন দেবে। কোনও কোনও চোর আবার সাইরেন বাজিয়েও যায়।

    ‘আবার পাকা পাকা কথা? তোর দেখছি কোনও কিছুতেই শিক্ষা হবে না। বাবাকে চট করে বাজার থেকে একবার ঘুরে আসতে বল। বল তেল নেই। উফফ এভাবে সংসার চলে?’

    মিনু এগিয়ে এসে মায়ের কাঁধে হাত রাখল। বলল, ‘মা, আজ তেল লাগবে না। তুমি রান্না বন্ধ করো।’

    ‘রান্না বন্ধ করো মানে? তোর বাবা কি আজ না খেয়ে অফিস যাবে? ক’টা বাজে খেয়াল আছে ?’

    ‘বাবা আজ অফিস যাবে না।’

    হাতা নাড়ানো বন্ধ করে রেবা এবার মেয়ের দিকে ঘুরে দাঁড়াল। বলল, ‘যাবে না কেন? শরীর খারাপ?’

    মিনু তার মাকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘শরীর না মা, মনে হয়, বাবার মাথার দিকে কিছু একটা গোলমাল হয়েছে। বলছে, আজ সারাদিন আমাদের নিয়ে গঙ্গায় ঘুরে বেড়াবে। একটা নৌকো ভাড়া করা হবে। বাবা হাল ধরবে, তুমি পাল টানবে আর আমরা দু’বোন মিলে বইঠা বাইব। নৌকোর মাঝি বসে বসে তামাক খাবে আর গান করাবে— মন মাঝি তার বইঠা নে রে…। খাওয়াদাওয়ার অ্যারেঞ্জমেন্ট সব নৌকাতেই হচ্ছে। বড় অ্যারেঞ্জমেন্ট। চিলি চিকেন, মিক্সড ফ্রায়েড রাইস।’

    রেবা কী একটা বলতে গেল। মিনু তার মুখে হাত চাপা দিয়ে বলল, ‘প্লিজ মা, আজ তুমি না বোলো না। বাবার খুব উৎসাহ দেখলাম একটা দিন রাজি হয়ে যাও। বাবাকে দেখে মনে হচ্ছে, আমাদের নিয়ে বেড়াতে পারলে আমরা যত না আনন্দ পাব, তার থেকে বাবা নিজে অনেক বেশি আনন্দ পাবে। সুতরাং তোমার যতই কষ্ট হোক আজ চলো।

    কাঁধ থেকে মেয়ের হাত সরিয়ে দিয়ে রেবা গম্ভীর গলায় বলল, ‘আনন্দ ভাল। কিন্তু আনন্দের জন্য যে পয়সা লাগে সেটা কি তোমার বাবা জানে? নাকি না জেনেই এতসব প্ল্যান প্রোগ্রাম করেছে ?’

    মিনু বলল, ‘উফ মা, বাবা একটা কিছু ভেবেই তো বলেছে। তা ছাড়া কী আর এমন খরচ হবে? গঙ্গাবক্ষে পিকনিকের পর বিকেলে গঙ্গার ধারে সবাই মিলে বসে একটা ফাংশনের মতো করতে পারি। গঙ্গাতীরে ফাংশন। এই ধরো, বাবা কিছু একটা বলল, যে-কোনও বিষয়। নদীর বিশুদ্ধ বায়ুর উপকারিতা নিয়েও বলতে পারে। তারপর বরো তুমি একটা পুরনো বাংলা সিনেমার গান করলে। বেশি নয়, দু-চার লাইন করবে। তোমার গলা এত খারাপ যে বেশিক্ষণ গান সহ্য করা যাবে না। নদী বিষয়ক গান হলে ভাল হয়। দিদিও কিছু করবে। সব থেকে ভাল হয়, দিদি ফাস্ট হওয়ার পর খবরের কাগজে কীভাবে ইন্টারভিউ দেবে তার একটা ছোট নমুনা যদি আমাদের দখাতে পারে। আর আমি? আমি প্রথমে কিছুই করব না, তখন তোমরা খুব চাপাচাপি করবে। বলবে, মিন, পাকামি কোরো না। সবাই করছে তোমাকেও করতে হবে। তখন আমি—। না থাক এখন বলব না। সারপ্রাইজ দেব। যাই বলো, খুব মজা হবে কিন্তু, দারুণ জমবে। চিন্তা কী মা, আমরা দু’বোন তো আছি। তোমার দুই পেতনি মেয়ে। যাও চট করে তৈরি হয়ে নাও।’

    সকালবেলা রেবা কখনও হাসে না! গত পনেরো বছর ধরেই এক ঘটনা। চোখ খুলে সংসারের মারাত্মক অবস্থা দেখে হাসি তো দূরের কথা, প্রথমদিকে তার চোখে জল আসত। আজকাল জলও আসে না। সেই রেবার মেয়ের কথা শুনে আজ অনেক বছর পর সকালবেলা হাসি পেল। সে মেয়ের সামনে হাসি চাপার চেষ্টা করল। তারপর লজ্জা পেয়ে হড়বড় করে বলল, হারে মিনু, ডিমসেদ্ধ, আলুসেদ্ধ দিয়ে কটা স্যান্ডউইচ করে নিয়ে গেলে কেমন হয়? দুটো ডিম আছে। টিফিনবাক্সটা কোথায় আছে দ্যাখ তো। সাতসকালে তোর বাবা কী যে ঝামেলা শুরু করল।’

    মিনু তার দিদির মতো নয়। সে চোখের জল একদম লুকোতে পারে না। মাকে দেখে তার খুশিতে চোখে জল এল এবং সে চোখ মুছতে শুরু করল।

    বাইরে পরার মতো বিনুর মাত্র দুটো সালোয়ার কামিজ আছে। একটা বেগুনি, একটা সাদার ওপর সবুজ পাতা আঁকা। খাটের ওপর সালোয়ার কামিজ দুটোকে রেখে সে গালে হাত দিয়ে বসে আছে। কোনটা পরবে ঠিক করতে পারছে না। তাকে দেখলে মনে হচ্ছে, দুটো নয়, একশো পোশাক নিয়ে সে অথই জলে পড়েছে। মিনুর পোশাকের সমস্যা নেই। তার সমস্যা জুতো নিয়ে। জুতোর স্ট্র্যাপ ছেঁড়া। ছেঁড়া জুতো পরে দোকান বাজারে যাওয়া যায়, স্কুলে যাওয়া যায়, কিন্তু বেড়াতে যাওয়া যায় না। সে কাঁদোকাঁদো মুখে বলল, ‘দিদি, কী হবে?’

    বিনু বিরক্তমুখে বলল, ‘কী আর হবে। ছেঁড়া জুতো পরেই চল। গঙ্গার ওপর তুই তো আর হাটাহাটি করবি না। আর যদি একান্তই করতে চান, তা হলে খালি পায়ে হটলেও চলবে। কাটা ফোটার কোনও চান্স নেই। জুতো নিয়ে ঘ্যানঘ্যান না করে কোন সালোয়ারটা পরব সেটা বল তো।’

    মিনু রেগে গিয়ে বলল, ‘না বলব না। যেটা খুশি পর। যেটাই পরবি সেটাতেই তোকে জঘন্য লাগবে।’

    বিনু হেসে বলল, ‘রেগে গেলি নাকি মিনু ? বেরিয়ে জুতোটা সারিয়ে নিলেই তো হবে, তুই এত চিন্তা করছিস কেন?’

    দিদির কথায় মিনুর রাগ কমল না। সে বলল, ‘বাবা বোধহয় সিনেমা যাওয়ার প্ল্যান কষছে।’

    বিনু বলল, ‘ওরে বাবা, সন্ধেবেলায় আমায় পড়তে হবে। আমি সিনেমা টিনেমায় যাব না।’

    ‘এসব বলতে যাস না দিদি। মাকে অনেক কষ্টে ম্যানেজ করেছি। মা’র খুব সিনেমা দেখার ইচ্ছে। শুধু বাবার তালে নাচলে তো হবে না, মায়ের দিকটাও দ্যাখো।’

    ‘তোরা যাস। আমি ফিরে আসব।’

    মিনু এসে দিদির হাত ধরল, ‘আচ্ছা, একটা কাজ করলে কেমন হয়, আমরা দু’জনে বাড়ি ফিরে এলাম, মা-বাবা সিনেমায় চলে গেল। হয় না?’

    বিনু চোখ কুঁচকে বোনের দিকে তাকাল। বলল, ‘ডেঁপোমি হচ্ছে? মা ঠিকই বলে, তুই অল্প বয়েসে বেশি পাকা পাকা কথা শিখেছিস।’

    ‘প্লিজ দিদি, এটাই ভাল। একটা ছুতো করে আমরা চলে আসব। মা বাবা কতদিন সে একসঙ্গে সিনেমায় যায় না। বাড়িতে তো টিভিও নেই যে একসঙ্গে বসে সিনেমা দেখবে। আজ বাবা যখন খেপেছে, তখন আজই সুযোগ। তুই রাজি?’

    বিনু হেসে বলল, ‘আচ্ছা, রাজি। হ্যাঁরে, মা কি সত্যি স্যান্ডুইচ বানাচ্ছে নাকি?’

    ‘বানাচ্ছে, তবে আলু শর্ট আছে। তিনটে আলু নিয়েই মায়ের উৎসাহ দেখার মতো। বাবার নামে গজগজ করছে, আর আলু মাখছে। আমার কিন্তু দারুণ লাগছে। খুব মজা হচ্ছে।’

    ‘ভাল তো লাগবেই, কতদিন আমরা চারজনে একসঙ্গে বেড়াতে যাই না বল তো।’

    ‘লাস্ট কবে গিয়েছিলাম মনে পড়ছে তোর?’

    বিনু চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে বলল, ‘কেন মনে পড়বে না? খুব মনে পড়ছে। তুই তখন খুব ছোট, নাইনটিন ফিফটি টু কি ফিফটি থ্রি হবে। তুই ট্যাক্সিতে উঠেই কাঁথা ভিজিয়ে ফেললি। দে ক্লিপটা দে।’

    মিনু ছুটে এসে বিনুর কাঁধ চেপে ধরে বলল, ‘ভাল হবে না কিন্তু।’

    বিনু বলল, ‘আঃ ছাড় মিনু। জামা নষ্ট হয়ে যাবে।’

    দুই বোনের তৈরি হতে বেশি সময় লাগল না। বিনু পাতা আঁকা সালোয়ারটাই বেছেছে। মিনু পরেছে তার সবথেকে পছন্দের লং স্কার্ট। দুজনেই টিপ পরেছে। পোশাকের রঙে মিল না থাকলেও দু’বোনের টিপের রং একইরকম, লাল। কালো মেয়েদের লাল টিপে মানায় না। এদের দু’জনকেও মানাচ্ছে না।

    সাজগোজে ফিনিশিং টাচ দিতে দিতে বিন বলল, ‘ওদের এত দেরি হচ্ছে কেন? মায়ের কাছে একবার যা তো মিনু, মা নিশ্চয়ই এখনও শাড়ি বেছে উঠতে পারেনি। তুই একটু বলে দিয়ে আয়।’

    মিনু গালে পাউডারের পাফ বোলাতে বোলাতে বলল, ‘আমি পারব না। তুমি যাও। না বেরিয়ে বেরিয়ে মায়ের এই অবস্থা হয়েছে। রান্নার জন্য তো আর শাড়ি বাছতে হয় না।’

    বিনু ঘর থেকে বেরোনোর আগে বিরক্ত গলায় বলল, ‘একটা কাজ যদি তোকে দিয়ে হয়। পাফটা আর কত গালে ঘষবি? পাউডার তো নেই।’

    পাশের ঘরের সামনে এসে থমকে দাঁড়াল বিনু। দরজায় সামান্য ফাঁক। ভেতর থেকে মায়ের গলা শোনা যাচ্ছে। মা বাবাকে কিছু বলছে। রাগরাগ গলা। বিনু দরজার ফাক দিয়ে তাকাল। মা বসে আছে চেয়ারে। বাবা খাটের একপাশে। দুজনের কেউই এখনও তৈরি হয়নি। বাবার মুখের খানিকটা দেখা যাচ্ছে। সেই মুখ দেখে মনে হচ্ছে, মানুষটা খুব ভেঙে পড়েছে। অদ্ভুত ব্যাপার, আলমারি থেকে জিনিসপত্র সব নামিয়ে যাটের ওপর রাখা কেন? কী হয়েছে? মনে হচ্ছে, তন্ন তন্ন করে আলমারিতে কিছু খোজা হয়েছে। খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকী মায়ের ভাজ করা শাড়ি, বাবার ইস্ত্রি করা পাঞ্জাবিও এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে। বিনু দেখতে পেল, মেঝেতে একটা লক্ষ্মীর ভাড় ভেঙে পড়ে আছে। অল্প কয়েকটা খুচরো পয়সা পড়ে। মা কিছু বলল। বাবা ক্লান্ত গলায় বলল, ‘প্লিজ, আস্তে বলো রেবা, মেয়েরা শুনতে পাবে।

    মা হিসহিস করে বলে উঠল, ‘শুনতে পাক। ওদের নাচানোর সময় তোমার মনে ছিল না? একসময় আমাকে নাচিয়েছ, এখন মেয়েদের নাচাচ্ছ। নিজের দৌড় জানো না? এখন লজ্জা পেলে কী হবে।’ বাবা কাতর গলায় বলল, ‘প্লিজ রেবা, প্লিজ।’

    বিনু নিজের ঘরে ফিরে এসে বলল, ‘মিনু, শোন।’

    মিনু বলল, ‘কী হয়েছে রে দিদি? নিশ্চয় বাবা-মা’র ঝগড়া লেগেছে?’

    বিনু হেসে বলল, ‘কিছু হয়নি, তবে এবার হবে। তোর মাথা ব্যথা হবে, তারপর তোর জ্বর আসবে। তুই এখন জামাকাপড় বদলে চাদর চাপা দিয়ে শুয়ে পড়বি। সেরকম হলে দুপুরে কিছু খাবি না। বাবা হোমিওপ্যাথির গুলি দিলে টক করে গিলে ফেলবি। কী রে পারবি? পারবি না?’

    এক মুহূর্ত থমকে গেল মিনু। ঘটনা বুঝতে তার সামান্য সময় লাগল। তারপর শুকনো হেসে বলল, ‘খুব পারব। শুধু জ্বর কেন, দরকার হলে শরীর খুব খারাপ লাগছে বলে গলা ছেড়ে কাঁদতেও পারি। আমার কিন্তু মনে হচ্ছে, সত্যি সত্যি চোখের জল চলে আসবে। সেটাকে কাজে লাগাব দিদি?’

    বিনু এগিয়ে এসে বোনের কাঁধে হাত রাখল।

    বারান্দাটা যেমন বিশ্বনাথের, তেমনি এবাড়ির ন্যাড়া ছাদটা বিনু আর মিনুর। কোনও কোনও গভীর দুঃখ বা আনন্দের রাতে অভাগা এই দুই কিশোরী ছাদে এসে বসে৷ আজও বসেছে। এখন অনেক রাত। চারিদিক নিঃশব্দ আর অন্ধকার। আলো শুধু আকাশে। লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি তারার আলো। ন্যাড়া ছাদের ওপর তাদের নরম আবছা আলো এসে পড়ছে। ছাদ উপচে সেই মায়াবী আলো চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ে যাচ্ছে নীচে। কালো পেতনির মতো দেখতে মেয়েদুটোকে আজ কেন যেন অন্যরকম মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে, দু’জন পরি এই আলোর জলপ্রপাতের ওপর বসে আছে। বসে আছে চুপ করে। বড় সুন্দর দেখাচ্ছে। অনেক চেষ্টা করেও এদের থেকে চোখ সরানো যাচ্ছে না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }