Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীল আলোর ফুল – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প591 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কাক

    হাসপাতালে ঢুকতে হয় মনে সুখ অথবা দুঃখ নিয়ে। মনের এই অবস্থাটা মুখে ফুটে ওঠে। হাসপাতালে রোগীর আত্মীয়দের মুখ দেখে বলে দেওয়া যায় রোগী এখন কেমন আছে। তার বিপদ কি কেটেছে? নাকি যমে-মানুষে টানাটানি চলছে এখনও?

    গদাইয়ের মুখ দেখে আজ কিন্তু কিছু বোঝা মুশকিল। সে হাসপাতালে ঢুকেছে মনের দু’রকম অবস্থা নিয়ে। সুখ কিংবা একই সঙ্গে দুঃখ। কাজটা জটিল। একটা মুখকে একই সময়ে সুখী এবং দুঃখী করা কোনও সহজ ব্যাপার নয়। তবু গদাই ম্যানেজ করবার চেষ্টা চালাচ্ছে। সে আজ হাসপাতালে একই সঙ্গে দু’জনকে দেখতে এসেছে। প্রথমজন তাদের বাড়িওয়ালা সমাদ্দারের বড় মেয়ে। নাম তপতী। তপতী আছে মেটারনিটি ওয়ার্ডে। পরশু রাতে তার একটি পুত্র সন্তান হয়েছে। মা এবং নবজাতকের জন্য মুখ থাকবে হাসিহাসি। দ্বিতীয়জনও মহিলা। এই কেসটা গোলমেলে কেস। পয়জনিং কেস। সাপের কামড়। গদাইয়ের যত দূর মনে পড়ছে, এই মেয়ের নাম চন্দ্রা অথবা ছন্দা। মুকুন্দ হালদারের মেয়ে। কসবার বাড়িতে ভর সন্ধেবেলা তাকে নাকি সাপে কামড়েছে। এই মুহূর্তে মুকুন্দ হালদার গদাইয়ের জীবনের পক্ষে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এই মেয়ের জন্য মুখ রাখতে হবে কাঁদোকাঁদো। অবস্থা সে রকম হলে হয়তো কাঁদতেও হবে।

    একটু এগোতেই গদাই দেখল, বাড়িওয়ালা আসছে। নাতি হওয়া সত্ত্বেও মানুষটার মুখ গম্ভীর। গদাইকে দেখে বিরক্তিতে ভুরু কুঁচকে বললেন, ‘তুমি এখানে কেন?’ গদাই হাসিমুখে বলল, ‘দিদি আর বাচ্চাকে দেখতে এলাম। এত ভাল খবর।’ সমাদ্দার চোখের সঙ্গে নাকও কুঁচকে ফেললেন। বললেন, ‘তিন নম্বর নাতি হওয়াটা ভাল খবর তোমায় কে বলল গদাই? আমরা সকলেই খুব আপসেট, আর তুমি বলছ ভাল খবর! এই বোকামির জন্যই তোমার কিছু হল না। এখনও একটা চাকরিবাকরি জোটাতে পারলে না। ছেলে মানুষ করা যে কত কঠিন নিজেকে দেখে বুঝতে পারো না? মেয়ে হলে মানুষ করতে হয় না, বিয়ে দিলেই ল্যাঠা চুকে যায়। যাক, এসেছ যখন চট করে একবার দেখে এসো।’

    গদাই বুঝতে পারল, হিসেবে বড় ভুল হয়ে গেছে। বড় ভুল। মানেজারির এটাই বড় সমস্যা। ভুল হলে, বড় ভুল হয়ে যায়। তবে হাল ছাড়া যাবে না। সে কাঁচুমাচু মুখে ভেতরে ঢুকল। তপতী বেডে বসে আছে। একজন আয়া ধরনের মহিলার সঙ্গে হেসে হেসে কথা বলছে। মুখে শোকের চিহ্নমাত্র নেই। গদাইয়ের দিকে তাকিয়েও একমুখ হাসল। তিন মাস ভাড়া বাকি থাকা ভাড়াটের দিকে তাকিয়ে বাড়িওয়ালার মেয়ে হাসা মানে বিরাট ব্যাপার। প্রায় জড়িয়ে ধরার সমান। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। গদাই কাছে এসে হেসে বলল, ‘তপতীদি, মা বলছিল ছেলে হলে ভাগ্যবতী হয়। আপনি হলেন ভাগ্যবতী।’ তপতী আবার হাসল। বলল, ‘শোনো গদাই, তোমাকে একটা কাজ করে দিতে হবে। আমার এই ছেলের জন্য একটা ভাল নাম জোগাড় করে দিতে হবে যে ভাই। বেশ একটা কাব্যিক নাম। আমার বাকি দুটো হাবলা পটলা গোছের নাম পেয়েছে। নামেই বেচারিরা আদ্দেক মার খেয়ে গেছে।’ গদাই ঠোঁট উলটে বলল, ‘এটা কোনও কাজ হল? ক’টা নাম চান আপনি?’ একেই বলে ম্যানেজ। ঠিক সময় ঠিক কথা। সে গলা নামিয়ে বলল, ‘দিদি, একটা কথা বলতে লজ্জা করছে। কিন্তু আপনাকে ছাড়া আর কাকে বলি? তিন মাসের ভাড়া বাকি পড়ে গেছে। মেসোমশাইকে আপনি যদি একটু বলে দেন।’ তপতী বলল, ‘তিন মাস। ঠিক আছে, তুমি যাও। আমি বাবাকে বলব।’

    হাসিমুখে বেরোলেও, মুখটা খুব দ্রুত গম্ভীর করল গদাই। এবারের পেশেন্ট হল শোকের পেশেন্ট। সেখানে হাসিমুখ চলবে না।

    ফিমেল ওয়ার্ডের সিঁড়ির মুখেই মুকুন্দ হালদারের সঙ্গে দ্যাখা। ভদ্রলোক গদাইকে দেখে হাসিমুখে এগিয়ে এলেন। একী কাণ্ড! মেয়ে বিষের জ্বালায় মরছে আর বাবা হাসছে! আজ এসব হচ্ছেটা কী? ঘটনা বুঝে ওঠার আগেই মুকুন্দ হালদার কাছে এসে বললেন, ‘এই যে গদাই, ডাক্তাররা এইমাত্র জানালেন, ছন্দার বিপদ কেটে গেছে। আউট অব ডেনজার।’ দুঃখ-মুখ মুছে গদাই ম্যানেজ দিতে গেল। বলল, ‘আমি জানতাম স্যার। আমি জানতাম। শহরের সাপে আর কত বিষ থাকবে?’ মুকুন্দবাবু চোখ কপালে তুলে বললেন, ‘বলছ কী! আমাদের কসবার ওদিকে লাস্ট মান্থে দু’দুটো কেউটে মেরেছে পাড়ার ছেলেরা। একেবারে জেনুইন কেউটে। জু থেকে এসে ভেরিফাই করে দিয়ে গেল। আর তুমি বলছ শহরের সাপ। আরে বাবা, শহর বাড়ছে। এবার বলো তো মাঠঘাটের সাপখোপগুলো সব যাবে কোথায়? অ্যাঁ, যাবে কোথায়? তোমার আমার বাড়িতেই তো সেঁধুচ্ছে।’

    বিপদ কেটে গেলে মানুষ খুশি হয়। তখন কেটে যাওয়া বিপদটাকে বড় করে দেখাতে ভালবাসে। গদাইয়ের মনে হল নিজের গালেই ঠাস করে একটা চড় কষাই। ছিঃ, এই সামান্য জিনিসটা সে বুঝতে পারল না? তার বলা উচিত ছিল, ‘ইস! অল্পের জন্য রক্ষা হয়েছে।’ সে নিজেকে সামলে নিয়ে চিন্তিত মুখে বলল, ‘স্যার, সাপটাকে কি মারা গেছে? কেউটের মতো ভয়ংকর জিনিস তো আর বেশিদিন বাড়িতে রেখে দেওয়া যায় না। তার ওপর কেউটে মারার আবার আলাদা কায়দা। বর্ধমানে থাকতে আমাকে কয়েকটা মারতে হয়েছিল কিনা। আমি স্যার নিজে আপনার বাড়িতে গিয়ে সাপ মেরে আসব।’ মুকুন্দবাবু নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বললেন, ‘এসো একদিন।’

    ভাল হয়ে উঠলেও এই মেয়েটার চোখ বন্ধ। চোখ-বন্ধ মেয়েদের বয়স বোঝা মুশকিল। তার ওপর আলোটাও কম। তবু ছন্দার বয়স আঁচ হচ্ছে। মনে হয়, কুড়ি-বাইশ হবে। তবে ছন্দার বয়সে গদাইয়ের কোনও উৎসাহ নেই। তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হল তার বাবা অর্থাৎ মুকুন্দ হালদারের বয়স। সে-হিসেব এখন গদাইয়ের ঠোঁটে। উনষাট বছর নমাস চোদ্দো দিন। অর্থাৎ ষাট হতে বাকি মাত্র দু’মাস ষোলো দিন। তার পরই তিনি ঘোষ অ্যাসোসিয়েটস অ্যান্ড কোং থেকে অবসর নেবেন। এই কোম্পানির নিয়ম হল, ক্যাশিয়ার পদ থেকে যিনি ‘সততা’র সঙ্গে অবসর নেন তাঁকে একটা বড় পুরস্কার দেওয়া হয়। সৎ কাজের পুরস্কার। তিনি ইচ্ছে করলে কর্তৃপক্ষের কাছে পরবর্তী ক্যাশিয়ারের পদের জন্য নাম প্রস্তাব করতে পারেন। শোনা যায়, একসময় নাকি চিনে এরকম নিয়ম ছিল, সৎ কর্মীর কাছ থেকে আর একজন সৎ কর্মী নেওয়া। গদাই সেই ‘সৎকর্মী’ হতে চায়। সে চায় মুকুন্দ হালদার তার নাম প্রস্তাব করুক। গত ছ’মাস ধরে সে এই বুড়োকে ম্যানেজ করবার চেষ্টা করছে। এখন পর্যন্ত বুড়ো ‘হ্যাঁ’ বলেনি। বলেছে, ‘এসব কি ফট করে হয়?’

    ‘ফট করে করতে হবে না স্যার। আপনি ধীরে সুস্থেই করুন। আমার অবস্থা স্যার খুবই ক্রিটিকাল। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে স্যার অসৎ হওয়া যায়, কিন্তু সৎ হতে গেলে আজকাল স্ট্রং রেকমেন্ডেশন লাগে। আপনি তো স্যার সবই জানেন।’ হালদার বলেছেন, ‘আরে বাবা, তুমি বুঝছ না, এটা একটা সম্মানের প্রশ্ন। কোয়েশ্চেন অব লয়ালটি।’ গদাই বলেছে, ‘স্যার, আমার সততা নিয়ে কি আপনার কোনও প্রশ্ন আছে?’

    ‘না, প্রশ্ন নেই। তেমনি আবার কোনও উত্তরও নেই। তোমাকে আর দেখলাম কতটুকু?’

    সেই দেখা চলছে। গদাই নিজেও নেড়েচেড়ে উলটেপালটে দেখাচ্ছে।

    শব্দ পেয়ে ছন্দা চোখ খুলল। গদাইয়ের দিকে তাকাল। গদাই হাসল। মেয়েটা হাসল না। গদাই বলল, ‘ম্যাডাম, আপনি সাপটা কি দেখেছেন?’

    ছন্দা গম্ভীর গলায় বলল, ‘না।’ মুকুন্দবাবু বললেন, ‘দেখবে কী করে? উঠোন দিয়ে আসছিল। বাল্‌বটাও গেছে কেটে। হঠাৎ হাঁটুর কাছে কামড়।’

    ‘হাঁটু নয়। গোড়ালিতে।’ ছন্দা শুধরে দেয়।

    ‘ও! গোড়ালিতে কামড় বলেই ভয়ংকর কিছু হতে পারেনি।’ কথাটা বলেই গদাই বুঝল কথাটা কাঁচা হয়ে গেল।

    ছন্দা কড়া গলায় বলল, ‘বাজে কথা বলবেন না। বিষাক্ত সাপ হাঁটুতে কামড়ালেও যা, গোড়ালিতে কামড়ালেও একই।’ তারপর মুখ ঘুরিয়ে বলল, ‘বাবা, তোমাকে কাল একবার বললাম না, যাকে-তাকে হাসপাতালে আসতে বলবে না? কাল তুমি একই কাণ্ড করেছিলে। বনির মাকে নিয়ে এসেছিলে। আজ এই গদাইলশকরবাবুকে এনেছ।’

    বাইরে বেরিয়ে মুকুন্দবাবু বললেন, ‘তুমি কিছু মনে কোরো না গদাই। মেয়েটা ওইরকম।’ গদাই হাসিমুখে বলল, ‘আমি কিছু মনে করি না স্যার। স্যার, আমার চাকরির ব্যাপারটা কিছু ভাবলেন?’

    ‘হ্যাঁ, আর দেরি করা যাবে না। ম্যানেজমেন্ট তাড়া দিচ্ছে।’

    হাসপাতালে ঢোকার সময়টা ছিল ঝামেলার। না হাসি, না কান্না। সব মিলিয়ে একটা টেনশন। এখন অনেক হালকা। বাচ্চার জুতসই দু’-চারটে নাম জোগাড় করতে পারলে হয়তো নেক্সট মান্থের বাড়িভাড়াটাও ম্যানেজ হবে। তারপর আছে সাপ মারা। তা হলে চাকরিটাও শিয়োর। গদাইয়ের মন ভাল হয়ে গেল।

    ২

    পঞ্চবিংশ দণ্ডে কাক দক্ষিণ দিকে ‘ওয়া ওয়া’ ডাকলে গৃহবাসীকে অকস্মাৎ চক্রান্তের অপরাধে পড়তে হয়।

    গিরিধারীবাবু আজ দুপুরে সেই ডাক শুনে বুঝেছিলেন একটা কিছু হবে। তাই হল। কাক হল দৈবজ্ঞ। তার ডাক সকল কল্যাণ-অকল্যাণের দিক নির্দেশক। তিনি জানেন, এ জিনিস ভুল হওয়ার নয়। আজ বিকেলে পুলিশ এসে ছোট ছেলে মাধবকে ডাকাতির দায়ে ধরে নিয়ে গেল। কাক ঠিকই বলেছিল। এটা চক্রান্ত ছাড়া কিছুই নয়। মাধব তো আর সত্যি সত্যি কাল রাতে জটুর টিভির দোকান ভাঙেনি। সে তো দরজা দিয়ে পড়ছিল। পড়বেই তো৷ সামনে যার মাধ্যমিক পরীক্ষা সে তো পড়বেই। সে কি ডাকাতি করতে বেরোবে? গিরিধারীবাবু একবার ভেবেছিলেন কথাটা পুলিশকে বলেন। তারপর ভাবলেন, না থাক। বলে লাভ কী? পুলিশের জিপ চলে যাওয়ার পর তিনি গদাইয়ের মাকে জানালেন। গদাইয়ের মা প্রতিবারের মতো আজও রেগে গেল। বলল, ‘যত্ত সব বুজরুকি। ঘরে একটা পয়সা নেই আর উনি বসে বসে কাকের ডাক শুনছেন।’ জটিল বাতের ঝামেলায় হাফ পঙ্গু গিরিধারীবাবু গভীর নিশ্বাস ফেললেন। গদাইয়ের মায়ের জন্য তাঁর করুণা হয়। এই জন্য বলে, অবিশ্বাসীদের কষ্ট বেশি।

    হাসপাতাল থেকে ফিরতে ফিরতে গদাইয়ের রাত হল। বাড়িতে ঢুকেই জানা গেল, কলে জল নেই। সমাদ্দার জল বন্ধ করে দিয়েছে। শুয়োরের বাচ্চা। তিন মাস বকেয়া ভাড়াটাদের কি হাগু-মুতু নেই? মেজাজ খারাপের থেকে গদাইয়ের কাছে বিষয়টা চিন্তার। তপতী কি তা হলে এখনও বাবাকে বলেনি? যাক, ধৈর্য ধরতে হবে। ম্যানেজারির মূল মন্ত্রই হল ধৈর্য।

    এমন সময় মা এসে বলল, ‘বড় খোকা, একবার থানায় যা। মাধবকে বিকেলে পুলিশে নিয়ে গেছে।’

    ৩

    মানুষের ক’টা ভাল নাম থাকে? একটা, খুব বেশি হলে দুটো। চারটে ভাল নাম কিছুতেই হয় না। হলে পাগলামি হয়। তপতী সেই পাগলামিই করছে। সে চাইছে তার ছেলের চারটে নামই থাকুক। গদাইয়ের আনা চারটে নামের কোনওটাই সে ফেলতে রাজি না। নাম লেখা কাগজটা নিয়ে বাড়াবাড়ির চরম করছে। আয়া নার্সদের তো দেখিয়েছেই, এমনকী দু’জন মরোমরো রোগীকে দেখিয়ে এল। গদাই খুশি। তার উদ্দেশ্য সফল।

    ওয়ার্ডের বাইরে এসে সমাদ্দারের সঙ্গে দেখা। গদাইকে দেখে বাড়িওয়ালার গম্ভীর মুখ আরও গম্ভীর হয়ে গেল। ‘গদাই, তোমার সঙ্গে কথা আছে। তপু কয়েকটা মাস আমার কাছে থেকে যাবে। ওর পছন্দ একতলাটা। কালই আমায় বলছিল, এ-সপ্তাহেই তুমি গদাইদের ছেড়ে দিতে বলে। আমি ভেবে দেখলাম, এক সপ্তাহটা বড় কম, তুমি না হয় দশটা দিন সময় নাও।’

    ছন্দা আজ বসে আছো। চুল বিনুনি করে বাঁধা। মনে হয়, হাসপাতালে ভাল হয়ে যাওয়া মেয়েদের চুল বিনুনি করে বেঁধে দেওয়ার নিয়ম। গদাই উঁকি দিল। চোখ পড়তে ছন্দাই হাত নেড়ে ডাকল, ‘কী ব্যাপার গদাইলশকরবাবু, উঁকি দিচ্ছেন কেন? ভেতরে আসুন।’ গদাই ভেতরে ঢুকে বলল, ‘আসতে ভয় করছিল। যদি রেগে যান।’ ছন্দা বলল, ‘রেগে গেলেই বা আপনার কী? আপনাকে তো আসতেই হবে। তা ছাড়া আমার কাছে তো আসেননি। বাবার কাছে এসেছেন। আমার সব শোনা হয়ে গেছে।’ মেয়েটা কি নার্ভাস করে দিতে চাইছে? চাইলে চাক। একে দিয়ে কাজ হবে কি না সেটাই আসল কথা। ছন্দা বলল, ‘দাঁড়িয়ে থাকবেন, না টুলটা নিয়ে বসবেন? বসতে পারেন, তবে বললেই উঠে যেতে হবে। বুঝতে পারছি না আপনাকে কতক্ষণ সহ্য করা যাবে। আপনি এখন এমন প্যাঁচে আছেন যে এখন আপনাকে আমি যা বলব তাই করতে হবে। গল্প করতে ইচ্ছে না করলেও করতে হবে। তাই না? হি হি।’

    গদাই টুল টেনে বসল। বলল, ‘আজ স্যার আসেননি?’ ছন্দা বলল, ‘না, এবেলা কেউ আসবে না। বিকেলে আমার ছুটি। শুনেছি, আপনি নাকি সাপ মারতে একদিন আমাদের বাড়িতে যাচ্ছেন? সেটা চাকরি পাওয়ার আগে না পরে? আমার মনে হয় পরে হলেই ভাল। নইলে হয়তো দেখবেন সাপও মরল, অথচ লাঠিও ভাঙল না। হি হি।’ গদাই ঘাবড়াতে ভালবাসে না। তবু কেন আজ সে বারবার ঘাবড়ে যাচ্ছে? এ মেয়ের থেকে দ্রুত পালাতে হবে। ছন্দার মুখ আজ দিনের আলোয় পুরো দেখতে পাচ্ছে গদাই। গায়ের রং কালো হলেও চোখগুলো বড়। কে জানে হয়তো সব মেয়েদেরই চোখ বড় হয়। মেয়েদের চোখ দেখার সময় গদাইয়ের হয় না। আজ কি সময় হল?

    ছন্দা মুখ ঘুরিয়ে বলল, ‘আপনি এবার উঠুন গদাইলশকরবাবু। আর ভাল লাগছে না। ও হ্যাঁ, আপনি আজই একবার বাবার অফিসে যাবেন। বাবা বলে গেছেন।’

    গদাইয়ের বুকটা ধক করে উঠল। তার বিশ্বাস হচ্ছে না। তা হলে চাকরিটা হয়ে গেল? বাঃ! ধন্যবাদ জানানোর জন্য মুখ তুলে দেখল ছন্দা শুয়ে পড়েছে। তার চোখ বন্ধ।

    ৪

    অফিসে পৌঁছোতেই মুকুন্দবাবু গদাইকে ঘরে ডেকে নিলেন। বললেন, ‘বসো গদাই। চা খাবে? দাঁড়াও কফি দিতে বলি। এরা কফিটা ভাল করে। গদাই, কথাটা তোমায় বলতে খারাপ লাগছে। সরি, এই চাকরিটা তোমার হবে না। ছন্দাকে কাল সব বলছিলাম। তুমি ভাল ছেলে, খুবই ভাল ছেলে। কিন্তু শুনলাম তোমার ভাই নাকি চুরি করে ধরা পড়েছে?’

    এর জন্য প্রস্তুত ছিল না গদাই। চায়ের কাপে লম্বা করে চুমুক দিয়ে প্রস্তুত হল। তারপর নরম করে বলল, ‘না স্যার, চুরি নয়, ডাকাতি। টিভির দোকান ভেঙেছে, এরপর মনে হয় গয়নার দোকান ভাঙতে হবে। দোষই বা দিই কী করে? একটা কিছু করে তো ম্যানেজ করতে হবে। স্যার, আমরা হলাম অনেকটা কাকের মতো। ম্যানেজ করতে করতে বেঁচে থাকি। তাড়িয়ে দিলে উড়ে যাই। আবার আসি। তবে, থানার বড়বাবু ভারী চমৎকার একজন মানুষ। খবর পেলাম ভদ্রলোক আগে নাকি গ্রামের স্কুলে হেডমাস্টারি করতেন। তাকে ম্যানেজ করলাম। মাধবের মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড দেখালাম। ক্লাস সেভেন থেকে এইটে ওঠার মার্কশিট দেখালাম। সেবার অঙ্কে নাইনটি নাইন ছিল। মনে হয় ভদ্রলোক মাধবকে ছেড়ে দেবেন। চমৎকার মানুষ।’

    মুকুন্দবাবু মাথা নামিয়ে বললেন, ‘সত্যি, চমৎকার মানুষ। কিন্তু গদাই, তুমি তো এটা বুঝতে পারছ এই চাকরিটায় টাকাপয়সা নিয়ে কাজ— তুমি বরং বাড়িতে একদিন এসো। এই ধরো রোববার দেখে চলে এলে, একেবারে খাওয়াদাওয়া করে ফিরলে।’ গদাই অল্প হেসে বলল, ‘তাই ভাল স্যার। রোববার দেখেই যাব।’

    অফিস থেকে বেরোনোর সময় রজনীবাবুর সঙ্গে দেখা হল। গদাই শুনেছে, এই লোকটা তার ভাইপোর চাকরির জন্য মুকুন্দ হালদারকে ধরেছিল। সুবিধে হয়নি। লোকটা দাঁত বের করে হাসল। বলল, ‘এই যে ব্রাদার, লেটেস্ট খবরটা শুনেছ তো? তোমার এই হালদারের মেয়ে নাকি বড় কেলেঙ্কারিতে ফেঁসেছিল, ফেঁসে বিষ খেয়েছিল। আমার শালা আবার ওদিকেই থাকে কিনা। সেই-ই বলছিল। তাই বলি, কসবায় কেউটে সাপ এল কোথা থেকে, অ্যাঁ! এরপর শুনব বালিগঞ্জে রয়েল বেঙ্গল টাইগার! হা হা! কেলেঙ্কারি ঢাকতে এইবাৰ সাপ বাঘ সব আসবে। হা হা।’ গদাই চমকে উঠল। ঘটনা তা হলে এই?

    কোনও দরকার ছিল না তবু বিকেলে গদাই হাসপাতালে পৌঁছোল। ছন্দা তার বাবার সঙ্গে ট্যাক্সিতে উঠছে। নীল রঙের শাড়ি পড়েছে। নীল শাড়িতে বুঝি মেয়েদের এত সুন্দর দেখায়? ছন্দা তাকে দেখে এগিয়ে এল। হেসে বলল, ‘আসুন গদাইলশকরবাবু। আমি আপনার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।’

    গদাই ম্যানেজ করতে গিয়ে বলল, ‘এদিক দিয়ে যাচ্ছিলাম। ভাবলাম ঘুরে যাই। মনে করে উঠোনের বাল্‌বটা বদলাবেন এবার।’

    ছন্দা গাঢ় স্বরে বলল, ‘চলুন, বাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দেবেন। ভয় নেই সাপ মারতে হবে না, শুধু চা খেলেই চলবে।’

    গদাই ট্যাক্সিতে উঠতে উঠতে ভাবল, গোলমাল হয়ে যাচ্ছে। বড় গোলমাল। কোথায় যেন কাক ডেকে উঠল। সন্ধের একা কাক। কাক কী বলছে? সে কি গোলমালের কথা বলছে? কে জানে, বাবা থাকলে হয়তো বলতে পারত। বাবা কাকের ডাক বোঝে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }