Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীল আলোর ফুল – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প591 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ছবি

    এক-একটা গোপন কাজ আছে, যখন ঘরের দরজা আটকেও নিশ্চিন্ত হওয়া যায় না। খালি মনে হয়, ছিটকিনিটা ঠিকমতো লাগানো হয়নি, এই বুঝি ঘরে কেউ ঢুকে পড়ল। দরজা যত শক্ত করে বন্ধ করা হয়, টেনশন তত বেশি হয়। কলেজে ফার্স্ট ইয়ারে পড়ার সময় এই টেনশন মারাত্মক চেহারা নেয়। সেই কারণে বনানী আজ শুধু দরজাই আটকায়নি, একটা চেয়ার এনে দরজার গায়ে হেলান দিয়ে রেখেছে। তারপরেও আড়চোখে বারবার সেদিকে তাকাচ্ছে।

    বনানী খাটের উপর বসে কলেজের ব্যাগ খুলল। ফিলজফির খাতা হাতড়ে একটা ছেঁড়া খাম বের করল। খামের উপর নাম-ঠিকানা লেখা। চিঠির খাম। মনে হয় সে কোনও চিঠি বের করে পড়বে। চিঠি নয়, বনানী খাম থেকে বের করল একটা সাদা-কালো ছবি। ছবির সাইজ বড় নয়। এমনকী মাঝারিও নয়। তার চেয়েও ছোট। গ্রুপ ছবি। পরশু বলাকা তাকে ছবিটা দিয়েছে। রাগরাগ মুখে বনানী ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইল। এই নিয়ে ঠিক উনিশতমবার সে ছবি দেখছে। সংখ্যার দিক থেকে উনিশ মোটেও বড় কিছু নয়। তবে মাত্র দু’দিনের মধ্যে উনিশবার একটা ছবি দেখা অবশ্যই একটা বড় ঘটনা।

    ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটা টানা সিঁড়ি। মনে হচ্ছে কোনও কলেজের সিঁড়ি। আসলে তা নয়। সিঁড়িটা একটা বাড়ি। বলাকাদের মামাবাড়ির সিঁড়ি। গত শনিবার বরানগরের এই বাড়িতে কলেজের কয়েকজন মিলে হঠাৎ করে যাওয়া হয়েছিল। বলাকার ভাই বাচ্চু। ক্লাস সেভেনে পড়ে। সে তার খেলনা-ধরনের একটা ক্যামেরায় ছবিটা তুলেছে। সিঁড়িতে তিনটে মেয়ে বসে আছে। তাদের ঠিক উপরের ধাপটায় বসে আছে চারটে ছেলে। ছবি ছোট হওয়ায় ছেলেমেয়েগুলোর মুখ ভাল করে দেখা যাচ্ছে না। তবে বোঝা যাচ্ছে, তিনটে মেয়েই হাসছে। ছবি তোলার সময় মেয়েরা বেশিরভাগ সময়ই অকারণে হাসে। তারা মনে করে, হাসলে তাদের সবসময় সুন্দর দেখায়। এটা ঠিক নয়। অনেক সময়ই খারাপ লাগে। তাদের আসল সৌন্দর্য হাসির সৌন্দর্যের জন্য হারিয়ে যায়। এখানেও তিনজনের মধ্যে একজনকে খারাপ দেখাচ্ছে। দুঃখের বিষয় হল, সেই একজন হল বনানী। বনানী লক্ষ করেছে, এমনিতে হাসলে তাকে খারাপ দেখায় না, কিন্তু ফোটোতে হাসলে মনে হয় সামনের দুটো দাঁত উঁচু। যদিও তার দাঁত মোটেও উঁচু নয়। চারজন ছেলে কিন্তু হাসছে না। হাবভাব দেখলে মনে হবে তারা খুব বিরক্ত। ক্লাসের মেয়েদের সঙ্গে ছবি তোলাটা যেন খুব বিরক্তিকর একটা ব্যাপার। একজন তো মুখটা ঘুরিয়েও ফেলেছে।

    বনানী এখন খুব মন দিয়ে মুখ ঘোরানো ছেলেটাকে দেখছে। ছেলেটার মাথায় কোঁকড়ানো চুল দেখা যাচ্ছে। জামার বুকপকেটে রাখা পেনটা দেখা যাচ্ছে। এমনকী ভালভাবে দেখলে হাতের ঘড়িটা পর্যন্ত চোখে পড়ছে। কিন্তু মুখটা দেখা যাচ্ছে না। বনানী বোকার মতো একটা কাজ করল। ছবিটা ঘুরিয়ে নিয়ে দেখার চেষ্টা করল। যদি কোনও লাভ হয়। লাভ হল না।

    বনানীর রাগ বাড়ছে। সে ছবিটার দিকে তাকিয়ে মনে মনে কথা বলা শুরু করল, ‘ব্যাপারটা কী? আমাকে দেখলেই মুখ ঘোরাতে হবে? সেদিন ছবি তোলার সময় গোমড়ামুখটা একটু ঘোরালে কী এমন ক্ষতি হত? গা-পিত্তি জ্বলে ওঠে!’

    তবে এই মুহূর্তে বনানী সম্ভবত চাইছে তার গা-পিত্তি জ্বলুক। জ্বলতেই থাকুক। নইলে সে মুখ ঘোরানো ছবির দিকে তাকিয়ে থাকবে কেন?

    দরজায় ধাক্কা। নিশ্চয়ই মা। বনানী ছবিটা তাড়াতাড়ি ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেলল। চেয়ার সরিয়ে দরজা খুলে দিতে সুরমাদেবী ঘরে ঢুকলেন। তাঁর হাতে দুধের কাপ। তাতে চকোলেট মেশানো। এই ধেড়ে বয়সেও বনানীকে দুধ খেতে হয়। বিষয়টা নিয়ে রোজই বনানী ঝামেলা করে।

    সুরমাদেবী ঘরে ঢুকেই চারপাশে তাকালেন এবং ভুরু কুঁচকে ফেললেন। নিশ্চয়ই কোনও খটকা লেগেছে। ব্যস, শুরু হয়ে গেল গাদাখানেক প্রশ্ন। ‘দরজার সামনে চেয়ার কেন? কলেজ থেকে তো অনেকক্ষণ ফিরেছিস, এখনও চেঞ্জ করিসনি কেন? শুয়েছিলি কেন? মাথা ধরেছে? নিশ্চয়ই মাথা ধরেছে, নইলে গালদুটো অমন লাল কেন?’

    এই এক মুশকিল। একটা সন্দেহ হলে মা হাজারটা প্রশ্ন করেন। না, চেয়ারটা রাখা ঠিক হয়নি। বোকামি হয়ে গেছে। ম্যানেজ করতে হবে। বনানী আজ আর কোনও ঝামেলার মধ্যে গেল না। তাড়াতাড়ি উঠে এসে সুরমাদেবীর হাত থেকে কাপ নিয়ে চুমুক দিল। ভাবটা এমন, যেন কোন প্রশ্নই সে শুনতে পায়নি। মা বেরিয়ে যাওয়ার পর বনানী আয়নার সামনে এসে দাঁড়াল। ভাল করে তাকাল। ওমা, সত্যি তো, গালদুটো লাল হয়ে রয়েছে! একেবারে রাঙা! সে আলতো করে দু’গালে হাত দিল। গালের লাল রং সে যেন ছুঁয়ে দেখতে চায়।

    বলাকাকে পাওয়া গেল তিনতলায়! ফাঁকা ক্লাসরুমে বসে নোটস টুকছে আর গুনগুন করে গান গাইছে। বলাকার এই একটা অদ্ভুত ব্যাপার। গান গাইতে গাইতে সে লেখাপড়া করতে পারে। ওর রেজাল্টও দারুণ। বনানী নিঃশব্দে পাশে এসে বসল। বলাকার কাছে সে একটা জিনিস জানতে এসেছে। কিন্তু জিজ্ঞেস করতে কেমন যেন বাধোবাধো ঠেকছে। কেন এরকম হচ্ছে? এমন সময় বলাকা বনানীকে দেখতে পেল। তারপর চোখ বড় বড় করে বলল, ‘এই তে বনানী, তোকেই খুঁজছিলাম। একটা জরুরি কথা আছে। ভার। জরুরি কথা। শনিবার মামাবাড়ির বেড়ানোটা একেবারে জঘন্য হয়েছে। আমি ভেবে দেখলাম এরকম গোমড়ামুখো ছেলেরা সঙ্গে থাকলে যে-কোনও বেড়ানোই জঘন্য হয়। হাঁদাগুলো গাইতে চায় না, নাচতে চায় না। ওদের নেওয়াটাই ভুল হয়েছিল। আমি কমপেনসেট করতে চাই। ঠিক করেছি, কিছুদিনের মধ্যে আমরা আবার ওখানে যাব। তখন নো ছেলে ওনলি মেয়েরা যাবে। সেদিন মামাদের ছাদে অবিরাম নৃত্যগীতের ব্যবস্থা রাখা হবে।

    কেন জানি না, বনানীর এ প্রস্তাব মোটে ভাল লাগল না। তবু সে উৎসাহ দেখিয়ে বলল, ‘দারুণ হবে। একেবারে ফাটাফাটি।’

    বলাকা হাসিমুখে বলল, ‘দাঁড় দাঁড়া। আরও ফাটাফাটি হবে। আমি ছোটমামাকে বলে সেই অনুষ্ঠানের গোটাটা ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থা করব। আর শোন বনানী, সেদিন বাচ্চুর ফালতু ক্যামেরাটায় একটা ছবি উঠেছিল না? ওই যে সিঁড়িতে বসা ছবিটা। বাচ্চু বলেছে, আর একটাও ছবি ওঠেনি। শুনে খুবই খুশি হয়েছি। কারণ ওই একটা ছবিও আমরা রাখব না। এরকম গোমড়ামুখো বেড়ানোর কোনও মেমরি যেন না থাকে। তুই আজই বাড়ি গিয়ে ছবিটা খুঁজে বের করবি, তারপর কুচিকুচি করে ছিঁড়ে ফেলবি। কাল সেগুলো এনে আমায় দেখাবি! মনে থাকবে?’

    বনানী মাথা নেড়ে বলল, ‘থাকবে।’ কিন্তু মনে মনে খুব হতাশ হল। তার আশা ছিল, নিশ্চয়ই সেদিন বার ক্যামেরায় আরও ছবি উঠেছিল। ভাল ছবি। সবার মুখ দেখা যাচ্ছে, এমন ছবি। তা হলে কী হবে?

    সন্ধেবেলা বনানী অর্কপ্রভকে ফোন করল। ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে পড়লে কী হবে? কম্পিউটারে অর্ক বিরাট ওস্তাদ। ওকে টেলিফোন করলেই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের মতো সবসময় কি বোর্ডের খুটখুট আওয়াজ শোনা যায়। আজও গেল। সেই আওয়াজের মধ্যেই অর্ক বলল, ‘জোরে কথা বল বনানী। অমন ফিসফিস করছিস কেন?’

    বনানী আরও ফিসফিস করে বলল, ‘জোরেই তো বলছি। হ্যাঁরে অর্ক, কম্পিউটারে সব হয়?’

    অকপ্রভর কি বোর্ডের আওয়াজ থেমে গেল। তার বদলে ভেসে এল অল্প হাসি। বলল, ‘না জেনেই একটা বিরাট প্রশ্ন করে ফেললি বনানী। তোর মতো বোকা ধরনের মেয়ের কাছ থেকে এ ধরনের প্রশ্ন আশা করিনি। গুড, ভেরি গুড। কম্পিউটারে কী করা যায়, সেটা কোনও কথা নয়। কথা হল, কী করা যায় না। তুই যদি এই বিষয়ে জানতে চাস, তা হলে তোকে সফটওয়্যার বিষয়ে একটা প্রবন্ধ পড়াতে পারি। আনসলভড মিস্ট্রি অফ সফটওয়্যার। জাপানি প্রবন্ধ। খুবই ইন্টারেস্টিং।’

    বনানী অর্কপ্রভকে থামিয়ে বলল, ‘খেপেছিস নাকি? আমি শুধু জানতে চাই, কম্পিউটারে ছবি, মানে ফোটোগ্রাফের কিছু অদলবদল করা যায় কি?’

    অর্কপ্রভ তুচ্ছ ভঙ্গিতে বলল, ‘এই সামান্য জিনিসের জন্য আমাকে ফোন করতে হল বনানী? ফোটোশপ কী জিনিস, জানিস? জানিস না নিশ্চয়ই। এই ফোটোশপ দিয়ে সবকিছু হয়। মুখের হাসিকে ফুঁপিয়ে কান্না, ফুঁপিয়ে কান্নাকে অট্টহাসি, অট্টহাসিকে গড়াগড়ি হাসি, সব। গতবছর ফ্রান্সে…’

    কথার মাঝখানেই বনানী ফোন কেটে দিল। তার যা জানার তা জানা হয়ে গেছে।

    কলেজ থেকে ফেরার পথে স্টুডিয়োটা দ্যাখে। একেবারে বাজারের পাশেই। নতুন হয়েছে। বাইরে বোর্ড লাগানো। তাতে লেখা, ‘কম্পিউটারে ইচ্ছেমতো ছবি করুন’। তখনই বুদ্ধিটা মাথায় আসে। কিন্তু নিশ্চিত হতে পারেনি। অর্কর সঙ্গে কথা বলে মনে হচ্ছে কাজটা হবে। এখনই যাবে স্টুডিয়োতে। তৈরি হয়ে নিল বনানী। পাজি ছেলেটাকে শিক্ষা না দেওয়া পর্যন্ত শান্তি নেই। উফ, আজও একই রকম ব্যবহার করল! হিষ্ট্রি ক্লাসের শেষে এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে কমনরুমের দিকে হাঁটতে লাগল, যেন দেখতেই পায়নি! অথচ আজ সে সাদা-লালে মেশানো একটা জমকালো সালোয়ার পরেছিল। কপালে যে লাল টিপটা দিয়েছিল সেটা অন্যদিনের চেয়ে বড়। তরুণ প্রবাল সঙ্ঘমিত্রারা কলেজে ঢুকতেই হইহই করে উঠল।

    প্রবাল বলল, ‘আঃ বনানী, তোকে আজ যা লাগছে না। চল, ফুচকা খাওয়াবি চল। জানিস তো, সুন্দর দেখালে ফুচকা খাওয়াতে হয়। নইলে নজর লেগে যাবে। নজরের চোটে তোর টিপ বেঁকে যাবে, অথচ তুই বুঝতেও পারবি না। তখন সারাদিন বাঁকা টিপ কপালে নিয়ে ঘুরতে হবে। চল চল, দেরি করিস না।’

    এতজন দেখল, বলল, অথচ ওই ছেলে একবার ঘুরেও তাকাল না! না, প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত শান্তি নেই। এই ছেলের মুখ ঘোরাতে হবে। ঘোরাতেই হবে। বনানী বেরিয়ে পড়ল।

    লোকটা কাচের উপর রেখে ঝুঁকে পড়ে ছবিটা দেখছে। চোখমুখে এমন একটা ভাব, যেন ছবি দেখছে না, দুর্বোধ কোনও পুঁথি পড়ছে। মিনিট দশেক পরে মুখ তুলল। বলল, ‘দিদিভাই, আপনি যা বলছেন, তা তো হবে না।’

    বনানী অবাক হয়ে গেল। বলল, ‘ওমা, এই তো বললেন হবে। টাকা একটু বেশি লাগবে কিন্তু হয়ে যাবে! বলেননি?’

    লোকটা হেসে বলল, ‘হ্যাঁ, কিন্তু কী বলেছিলাম তা বোধহয় মনে নেই দিদিভাই। আপনি নিশ্চয়ই কোনও বড় চিন্তার মধ্যে আছেন। নইলে পাঁচ মিনিট আগের কথা গুলিয়ে ফেলবেন কেন? যাই হোক, আবার বলছি। আমি বলেছিলাম, গ্রুপ ফোটো থেকে একজনের ছবি বের করা যাবে। এখানেও যাবে। তবে প্রিন্ট বড় হবে না। কারণ ছবির কোয়ালিটি খারাপ। বোঝাই যাচ্ছে, ফেলে দেওয়া কোনও ক্যামেরায় তোলা হয়েছে। ফোকাসে গোলমাল। বেশি টানাহ্যাঁচড়া করলে ছবি ফেটে যাবে।’

    বনানী হতাশ ভঙ্গিতে বলল, ‘কিন্তু মুখ? মুখটা একটু বড় করা যাবে না?’

    লোকটা বলল, ‘দিদিভাই, আপনি যা বলছেন, তা কি ভেবেচিন্তে বলছেন? আপনি যে মুখটা বড় করতে বলছেন, সেই মুখ তো অন্যদিকে ফেরানো। সেটা কি আপনি দেখেননি? তা হলে আমায় বলতে হবে, এই যে ভাই, আপনি মুখটা এক মিনিটের জন্য এদিকে ঘোরান দেখি। চট করে একটা প্রিন্ট করে নিই। মাপ করবেন, ফোটোগ্রাফিতে এমন কোনও টেকনিকের কথা আমার জানা নেই, যা দিয়ে ছবির ভিতরকার মানুষের সঙ্গে কথা বলা যায়।’

    বনানীর এবার রাগ হচ্ছে। আচ্ছা লোক তো! সে বলল, ‘কেন, কম্পিউটারে হয় না? কম্পিউটারে তো সবকিছু করা যায়।’

    লোকটা এবার শব্দ করে হেসে উঠল।

    আশপাশের লোক বনানীর দিকে ফিরে তাকাল। বনানী লজ্জা পেয়ে তাড়াতাড়ি বলল, ‘ঠিক আছে, যা হয় তাই করে দিন। ছবিটা কিন্তু কালই চাই। সেটা পারবেন তা? নাকি তাও বলবেন হবে না।’

    লোকটা হাসতে হাসতে বলল, ‘সেটা পারব দিদিভাই। তবে আর্জেন্টের জন্য তো ডবল টাকা। মুখ সোজা যখন করতে পারলাম না… হা হা… ঠিক আছে, আপনি পাঁচটা টাকা কম দেবেন।’

    বনানী ব্যাগ থেকে টাকা বের করতে করতে বলল, ‘না, কম দেব না।’

    ভয়ংকর মেজাজ খারাপ নিয়ে স্টুডিয়ো থেকে বেরোল বনানী। তখনই তার মনে হলে, বাড়িতে কী বলবে, এই সন্ধেতে কেন বেরিয়েছিল সে? মা তো জানতেই চাইবেন। একটা কিছু কিনে নিয়ে গেলে কেমন হয়? সেটাই ভাল। বলা যাবে, জিনিস কেনার জন্যই বেরিয়েছিল। কিন্তু কী কিনবে? রাগে দুঃখে তো কিছুই মাথায় আসছে না। আচ্ছা, ওই ফুলের দোকানটা থেকে এক ডজন গোলাপ কিনলে কেমন হয়? কোন কবিতায় যেন পড়েছিল, গোলাপ ফুলের একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। যে-কোনও ধরনের খারাপ মেজাজ ভাল করে দিতে পারে। সত্যিই কি পারে? মনে হয় না। কবিতায় কখনও সত্যি কথা থাকে না। ঠিক আছে, একবার পরীক্ষা করে দেখা যাক। বনানী এক ডজনের জায়গায় দু’ডজন গোলাপ কিনে বসল। তার মেজাজ বেশি খারাপ, তাই বেশি ফুল।

    ফোটো-বিজ্ঞানে ছবির সঙ্গে কথা বলার কোনও উপায় আবিষ্কার হয়নি ঠিকই, কিন্তু বনানী গোলাপ হাতে বাড়ি ফেরার পথে ছবির সঙ্গে দিব্যি বকবক করতে করতে চলল, ‘তোমার মুখ আমি ঠিক ঘুরিয়ে ছাড়ব বাছাধন! আমি কী এমন প্যাঁচার মতো দেখতে যে, একবারও তাকানো যায় না? ঠিক আছে, তাকাতে হবে না। আমার ভারী বয়ে গেল। ভেবেছটা কী? না তাকালে আমার চোখ ফেটে জল আসে? কচু আসে। সেদিন বরানগরে আমার চোখে পোকা পড়েছিল। চোখে পোকা পড়লে সবারই জল এসে যায়। তোমারও আসত, বুঝলে হে মুখ-ফেরানো ছেলে?

    হাতে গোলাপ ফুল থাকলেও বনানীর মেজাজ একটুও ভাল হল না। উলটে আরও বেশি খারাপ হয়ে গেল। এত খারাপ হয়ে গেল যে, সে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল। ঠিক করল, এখনই একটা হেস্তনেস্ত করতে হবে। সরাসরি টেলিফোন করে জানতে চাইবে, কেন সে এরকম করে? বারবার মুখ ফিরিয়ে নেয় কেন? কাজটা কি বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে? হোক বাড়াবাড়ি। সে বাড়াবাড়িই করতে চায়। গলির মুখটাতে এস টি ডি বুথ। বনানী দরজা ঠেলে ঢুকে পড়ল। বুথের ছেলেটা বনানীকে চেনে। হেসে বলল, ‘দিদির বাড়ির ফোন বুঝি গেছে?’

    বনানী গম্ভীর হয়ে মিথ্যে বলল, ‘হ্যাঁ, ওয়ান ওয়ে।’ তারপর টেলিফোনের উপরেই ফুলগুলো ফেলে বনানী দ্রুত ডায়াল করল। এনগেজড সাউন্ড। আবার করল। একই অবস্থা! আচ্ছা ছেলে তো! কার সঙ্গে এত কথা? কোনও বান্ধবী নয় তো? মনে হয় না। ওরকম ছেলের সঙ্গে কে কথা বলবে? বয়ে গেছে কারও! আচ্ছা, বুঝতে পারেনি তো, সে ফোন করছে। সেই জন্যই হয়তো ফোন নামিয়ে রেখেছে। বলা যায় না, এই ছেলে যা খুশি করতে পারে।

    ফোনের উপর রাখা ফুলগুলো এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, মনে হচ্ছে সেটা একটা ফুলদানি। সেই ফোন-ফুলদানির দিকে তাকিয়ে বনানীর অভিমান হতে লাগল। না, আজ সে ফোন না করে কিছুতেই যাবে না। সেরকম হলে সারারাত দাঁড়িয়ে থাকবে।

    পাঁচবারের চেষ্টায় ফোন বাজল। ওপারের তরুণ গলায় উত্তর, ‘হ্যালো… হ্যালো, কে বলছেন?’

    এই নম্বরে বনানী আজ প্রথম ফোন করছে না। আগেও বেশ কয়েকবার করেছে। এ-কথা কেউ জানে না। একটুখানি সময় অনিন্দ্যর গলার আওয়াজ শুনে রিসিভার নামিয়ে রেখেছে। আজ কিন্তু অন্যরকম হল। বনানী রাগরাগ গলায় বলল, ‘দুর, আমাকে আপনি-আপনি করছিস কেন রে অনিন্দ্য? আমি কে, বল তো?’

    অনিন্দ্য নামের তরুণটি ওপাশে যেন একটু থমকে গেল। বলল, ‘কে আপনি?’

    বনানী মজা পেয়ে বলল, “হাঁদা কোথাকার, গলা চিনতে পারছিস না?’

    ওপাশের তরুণ আরও গম্ভীর গলায় জবাব দিল, ‘না, চিনতে পারছি না।’

    বনানীর মেজাজ খারাপটা যেন কমেছে! গোলাপ ফুলের জন্য নাকি? কবিতার সব কথা তা হলে বানানো নয়! সে বলল, ‘আচ্ছা অনিন্দ্য, গোমড়ামুখো ছেলেগুলো কি সবাই তোর মতো বোকা হয়?’

    অনিন্দ্য সহজভাবে বলল, না সবাই হয় না। দু’-একটা ব্যতিক্রম আছে।’

    বনানী বলল, ‘বেশি স্মার্ট সাজার চেষ্টা করিস না। হুঁ, টেলিফোনে খুব চালাকি করছিস, না? কলেজে তো একবারও মুখ ফেরাতে পারিস না। কেন রে, আমার দিকে তাকালে কি ভস্ম হয়ে যাবি? অফ পিরিয়ডে একবার ক্যান্টিনে আসলে কী এমন ক্ষতি হত?’

    অনিন্দ্য উদাসীন ভাবে বলল, ‘ক্ষতি হত।’

    অনিন্দ্যর এই চিনতে না পারার ব্যাপারটায় বনানী খুব মজা পাচ্ছে। বেশ হয়েছে। বোঝো ঠেলা। সে ঠাট্টার ছলে বলল, ‘ব্যাঙের মাথা হত।’

    অনিন্দ্য বলল, ‘ব্যাঙের মাথা না, আমার মাথা ধরেছিল। চৈতালীর কাছ থেকে ট্যাবলেট নিলাম।’

    বনানী বলল, ‘ট্যাবলেট তো আমার কাছেও থাকে। নিতে পারতিস।’

    অনিন্দ্য বলল, ‘আচ্ছা, তাই নেব। এখন তো মাথা ধরেনি। পরেরবার মাথা ধরলে নেব। তবে কিনা, নামটাই যে বুঝতে পারছি না। কার কাছে ওযুধ চাইব, সেটা তো জানা দরকার।’

    বনানী বলল, ‘অ্যাই, সত্যি বুঝতে পারছিস না? নাকি গুল দিচ্ছিস? ঠাস করে চড় মারব কিন্তু!’ অনিন্দ্য হাই তোলার আওয়াজ করল। বলল, ‘মারলে ভাল হত মনে হচ্ছে। ব্রেন সেলগুলোতে একটু নাড়া পড়া দরকার। মনে হয় আমার মেমরি সেলে কোথাও গোলমাল হচ্ছে। যে-জায়গাটায় চেনা সাউন্ড জমা থাকে দ্যাট পোর্সন ইজ নট ফাংশনিং প্রপারলি। সেই জন্যই হয়তো গলাটা বুঝতে পারছি না।’

    বনানী গাঢ় স্বরে বলল, ‘ঠিক আছে। যা, বুঝতে হবে না। আজ একটা মজার কাণ্ড হয়েছে, জানিস অনিন্দ্য! ইন ফ্যাক্ট সেই জন্যই তোকে ফোন করছি। আজ আমাদের সেই গ্রুপ ফোটোটা থেকে একজনের ছবি বড় করালাম। কোন ফোটোটা বুঝতে পারছিস? আরে সেই যে, বলাকাদের বরানগরের মামাবাড়িতে তোলা হল না? মনে পড়েছে? হল কী জানিস, এই গ্রুপ ফোটোতে একজনের মুখ উলটোদিকে ঘোরানো ছিল। ওমা, যেই সেই মুখটা স্টুডিয়োতে নিয়ে গিয়ে বড় করালাম, তুই বিশ্বাস করবি না, মুখটা কেমন সামনের দিকে ঘুরে গেছে। বল তো, ছবিটা কার?’

    অনিন্দ্য খানিকটা সময় নিল। তারপর সামান্য হেসে বলল, ‘কার আবার? আমার।’

    বনানী অবাক। ভীষণ অবাক। তার বিশ্বাস হচ্ছে না। সে ঠিক শুনছে?

    ফিসফিস করে বলল, ‘কী করে বুঝলি?’

    অনিন্দ্য বলল, ‘গোমড়ামুখোরা বোকা হয়ে বলে বুঝতে পারলাম। বনানী, তোকে একটা কথা বলি…’

    ‘ওমা, এই তো গলা চিনতে পেরেছিস।’ বনানী আরও মুগ্ধ হল।

    ‘চিনতে পারব না কেন? যখন মাঝেমধ্যে ফোন করে চুপ করে থাকিস, তখনও চিনতে পারি। তখন আরও বেশি করে চিনতে পারি।’

    কানে রিসিভার লাগিয়ে বনানী চুপ করে আছে। এত আনন্দ হলে ফার্স্ট ইয়ারের মেয়েরা সাধারণত কথা বলে না। চুপ করে থাকে। চুপ করে থেকে শরীর আর মন দিয়ে শুধু আনন্দটুকু উপভোগ করতে চায়। কথা বলে সময় নষ্ট করে না। আর ওপাশ থেকে অনিন্দ্য নামের তরুণরা তখন বলে চলে, ‘হ্যালো, হ্যালো বনানী, হ্যালো, চুপ করে গেলি কেন? প্লিজ ফোন ছাড়িস না প্লিজ..’

    অনিন্দ্য এখন সে কথাই বলছে। বনানী শুনছে। শুনেই চলেছে।

    ফোটো-বিজ্ঞানের ইতিহাসে আগে যা কখনও ঘটেনি, কখনও ঘটতে পারে না, সেই আশ্চর্য ঘটনাটা ঘটেছে। পরের দিন কলেজ যাওয়ার আগে স্টুডিয়ো থেকে ছবি নিতে গিয়ে বনানী দেখল, সেই মুখ ঘুরে গেছে। শুধু তাই নয়, ছবির ভিতর থেকে অনিন্দ্য বনানীর দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছেও!

    অবাক কাণ্ড! ভারী অবাক কাণ্ড!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }