Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীল আলোর ফুল – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প591 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উপহার

    ১

    সুপুরি গাছদুটোর পজিশনে কোনও ভুল হচ্ছে না তো?

    সুবিমল চেয়ারে হেলান দিল। চোখ থেকে চশমা খুলে টেবিলের ওপর রাখল। প্যাকেট টেনে একটা সিগারেট বের করল। টেবিলের ওপর দু’বার ঠুকে আবার ঢুকিয়ে রাখল প্যাকেটে। গাছদুটো সমস্যা করছে। সমস্যাটার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অস্বস্তি কাটবে না। গাছদুটো ঠিক কোথায় ছিল? কোনদিকে?

    সুবিমল ইন্টারকম তুলল।

    ‘প্রীতি, আজ আমার কতগুলো অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে?’

    খুব বাজে ধরনের সেক্রেটারিরাও বসের সারাদিনের কাজের তালিকা একেবারে ঠোঁটের ডগায় রাখে। শুধু সেদিনেরটা নয়, আগামী দু’-তিনদিনেরটাও কণ্ঠস্থ রাখা তাদের পক্ষে কোনও ব্যাপার না। কার সঙ্গে এবং কখন বসের মিটিং, লাঞ্চ, ডিনার তো বলতে পারবেই, এমনকী ম্যাডামের মার্কেটিং, ছেলের ক্রিকেট কোচিং, মেয়ের কলেজের ফাংশনের সময়ও তাদের কাছে জলভাত।

    প্রীতি মোটেই বাজে ধরনের সেক্রেটারি নয়। গত পাঁচ বছর ধরে সে যথেষ্ট যোগ্যতার সঙ্গে এই অফিসে তার কাজ করে চলেছে। কিন্তু মুশকিল হল, কিছুতেই বসের কাজের তালিকা তার মুখস্থ হতে চায় না। বারবার গুলিয়ে যায়। আজ নতুন নয়, টানা পাঁচ বছর ধরেই এই গোলমাল চলছে। নানা কায়দায় সে এই গোলমাল কাটানোর চেষ্টা করেছে। আগের দিন লুকিয়ে কাগজে নাম, সময়, টুকে বাড়িতে নিয়ে গেছে। রাত জেগে পায়চারি করে পড়েছে। সকালে রিভাইজ দিয়েছে। বরকে দিয়ে পড়া ধরিয়েছে। তারপর অফিসে আসার পথে মেট্রোতে বিড়বিড় করতে করতে এসেছে— সাড়ে দশটায় ফিনান্স ম্যানেজার খাস্তগির, দশটা সাতান্নতে ওয়ার্কশপ সুপারভাইজার কৌশিক ভদ্র, এগারোটা কুড়িতে অ্যাক্রো ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জি. এম ভডুকা…। পাশে বসা মহিলা এই বিড়বিড়ানি শুনে সন্দেহের চোখে তাকিয়েছে এবং সরে বসেছে। কিন্তু আসল কাজের কাজ কিছু হয়নি। বাধ্য হয়ে প্রীতি মন থেকে আর বসকে কিছু বলতে সাহস পায় না। জিজ্ঞেস করলে দেখে দেখে বলে। ঘরে ডাকলে হাতের নোটবুক খুলে, আর নিজের টেবিলে থাকলে কম্পিউটার টিপে দেখে নেয়। এই কারণেই রোজ অফিসে পৌঁছেই প্রীতি সবার আগে কম্পিউটার চালিয়ে নেয় এবং ব্যাগ থেকে নোটবুক বের করে খুলে ফেলে।

    প্রীতি আজ এখনও কম্পিউটার চালাতে পারেনি। তার আসতে দেরি হয়েছে। ইদানীং তার প্রায়ই দেরি হচ্ছে। মেয়ে সদ্য পক্স থেকে সেরে উঠেছে। শরীর দুর্বল। তাকে খাইয়ে আসতে হচ্ছে। আজ অবশ্য উলটোটা ঘটেছে। মেয়ে বিদ্রোহ করেছে, রোজ রোজ মায়ের হাতে সে খাবে না। সেই ঝামেলা সামলাতে গিয়ে আজ দেরি। প্রীতি রোজই একটা ভয়ের মধ্যে থাকে। আজ অফিসে ঢুকলে নির্ঘাত বসের বকুনি জুটবে।

    ভাল করে টেবিলে বসতে-না-বসতেই ফোন— অ্যাপয়েন্টমেন্ট ক’টা? নার্ভাস হয়ে মুখে যে সংখ্যাটা এল সেটাই বলে ফেলল প্রীতি।

    ‘স্যার, সাতটা।’

    ‘মোটে সাতটা? গুড, এমন কিছু নয়। প্রীতি, সাতটাই ক্যানসেল করে দাও। আজ আমার কোনও সময় নেই।’

    এই শুরু হল। সাতই হোক আর সতেরোই হোক অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করা যে কতবড় হ্যাপার ব্যাপার প্রীতি তা ভাল করেই জানে। তালিকা ধরে ধরে ফোন করতে হবে। কখনও গম্ভীর গলায়, কখনও ন্যাকান্যাকা ভাবে বলতে হবে, ‘দুঃখিত, স্যার আজ খুব ব্যস্ত। অ্যাপয়েন্টমেন্ট ক্যানসেল।’ এইটুকু বললেই কি হয়ে গেল? মোটেই হল না। এরপরেও থাকবে হাজার প্রশ্ন। সেসব প্রশ্ন যদি বা সামলানো গেল, প্রত্যেকে তখন বলবে, ‘ঠিক আছে, তা হলে আর একটা তারিখ দিন। কাল দিন। কাল না হলে পরশু দিন। পরশু সকালে না পরশু বিকেলে করুন। ওনার ডায়েরিটা দেখুন। শিডিউল বলুন। মিসেস প্রীতি, আপনি চাইলেই পারেন। আপনি চাইছেন না, তাই পারছেন না। তা হলে এক কাজ করুন, লাইনটা ওঁর ঘরে দিন, আমি নিজেই কথা বলে নিচ্ছি।’

    কিছুতেই ছাড়বে না। বসের অ্যাপয়েন্টমেন্টের অরিখ যেন খইয়ের মোয়া। কৌটো করে সেই মোয়া প্রীতি অফিসে নিয়ে এসেছে। চাইলেই একটা করে বের করে দেবে।

    কাঁধ দিয়ে কানে ফোন চেপে ধরে প্রীতি দ্রুত কম্পিউটারের কী বোর্ড টিপছে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট ফাইলটা বের করা গেছে, কিন্তু আজকের তারিখের পাতাটা পাওয়া যাচ্ছে না। মাউস হাতড়েও কিছু হচ্ছে না। এই রে, পাতাটা উড়ে গেল নাকি?

    এই অবস্থাতেই প্রীতি ম্যানেজের চেষ্টা করে। তার আবছা মনে পড়ছে, মার্কেটিং আর প্রোডাকশনের জন্য কখন যেন সময় দেওয়া ছিল। সেটা কখন?

    ‘স্যার, মিটিংগুলো খুব আর্জেন্ট ছিল। বিশেষ করে মার্কেটিং আর প্রোডাকশন…।’

    ‘না না, কোনও সময় নেই। বলছি তো করব না। কিছু একটা বলে দাও। শরীর খারাপ, বিজি— যা খুশি।’

    ‘স্যার, ভিজিটর মিট করবেন তো?’

    ‘না, করব না! নেকস্ট উইকে ডেট দাও! না না, নেক্সট উইকে নয়, উনিশের পর আসতে বলো। আফটার নাইনটিন।’

    প্রীতি হতাশ গলায় বলল, ‘স্যার, ফিনান্স থেকে কতকগুলো ইমর্পটান্ট ফাইল এসেছে। আমি কি আপনার কাছে নিয়ে যাব?’

    ‘না, নিয়ে আসবে না। আজ আমি কোনও ফাইল দেখতে পারব না। ফিনান্সে জানিয়ে দাও, আমার জন্য অপেক্ষা না করে পেমেন্টগুলো যেন ছেড়ে দেয়। আর কী আছে? কুইক, তাড়াতাড়ি বলে প্রীতি। আই অ্যাম ইন হারি। প্রীতি, তুমি ঠিক বুঝতে পারছ না, আমি ভীষণ জরুরি একটা কাজের মধ্যে রয়েছি।’

    প্রীতি ভেঙে পড়েছে। ভেঙে পড়ার কারণ অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল নয়, ভেঙে পড়ার কারণ কম্পিউটারের পরদায় আজকের পাতাটা এই মুহূর্তে খুঁজে পাওয়া গেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সাতটা নয়, আজ বসের সতেরোটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট। একথা এখন আর বলা যায় না। প্রীতির কপালে ঘাম জমে উঠল। খানিক আগে আজকের গোটা সিস্টেমে যে বিপর্যয় শুরু হয়েছিল, এখন তা মারাত্মক চেহারায় দেখা দিল। সাতের ধাক্কার থেকে সতেরোর ধাক্কা অনেক কঠিন।

    ব্যাগ থেকে কোনওরকমে রুমাল বের করেছে প্রীতি। ঘাম মুছতে মুছতে বলল, ‘স্যার, ডিনারটা কিন্তু যেতে হবে। কনস্যুলেটের ইনভিটেশন। না যাওয়াটা কি ঠিক হবে?’

    সুবিমল ঠান্ডা গলায় বলল, না, ঠিক হবে না। তবু আমি যাব না। মিস্টার দত্তকে বলো ডিনারটায় তিনি যেন যান। এখনই বলে দাও। কনস্যুলেটের ডিনার জি. এম এক্সটারনাল গেলেও চলবে। শোনো প্রীতি, এখন কোনও টেলিফোন ঘরে দেবে না। আর হ্যাঁ, দু’কাপ কফি পাঠিয়ে দিতে বলবে, প্লিজ?’

    ফোন নামিয়ে প্রীতি থম মেরে বসে রইল। তার ভাল লাগছে না। সতেরোটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করতে হবে বলে নয়। ভাল লাগছে না অন্য কারণে। আজ নয়, গত তিনমাস ধরে এই কাণ্ড চলছে। হুটহাট অফিসের কাজকর্ম সব বাদ দিয়ে মানুষটা কী করছে? প্রায় রোজই এমন সব লোকদের ডেকে পাঠিয়ে ঘরে গুজগুজ ফুসফুস করছে, যাদের সঙ্গে এই অফিসের কোনও সম্পর্ক নেই। ব্যাপারটা কী? কী এমন কাজ? খরাপ কিছু নয় তো? বড়লোকদের হঠাৎ খারাপ হয়ে যাওয়ার ঘটনা কম শোনা যায় না। বস ভাল না মন্দ বোঝা খুব শক্ত। কিন্তু এই মানুষটার ক্ষেত্রে সহজেই বোঝা গেছে। মানুষটা ভাল। বেশ ভাল।

    প্রীতি বুঝতে পারছে না, কী করা উচিত। তবে একটা কিছু যে করা উচিত সেটা বুঝতে পারছে। সতেরোটা মিটিং বাতিল করে তো হাত পা গুটিয়ে বসে থাকা যায় না। চিন্তা হচ্ছে। ম্যাডামের সঙ্গে একবার কথা বললে কেমন হয়? বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে? বস জানতে পারলে রেগে যাবে? রেগে তো যাবেই। তিন পয়সার সেক্রেটারির বাড়াবাড়িতে রেগে যাবে না তো খুশিতে ডগমগ হয়ে অফিসের সবাইকে সন্দেশ খাওয়াবে?

    কান্টিনে কফির অর্ডার দিয়ে প্রীতি নোটবইটা টেনে নিল।

    ম্যাডামের নম্বরটা যেন কত? ছিঃ, সামান্য একটা টেলিফোন নম্বরও কি সে কখনও মনে রাখতে পারবে না?

    ‘ম্যাডাম, আমি প্রীতি বলছি।’

    ‘আরে প্রীতি, কী খবর? কেমন আছ?’

    ‘ভাল আছি ম্যাডাম। আপনি কেমন আছেন?’

    ‘ভাল আছি। তোমার মেয়ের খবর বলো। পক্সের পর ক’টা মাস কিন্তু খুব কেয়ারফুল থাকবে।’

    ‘কেয়ারফুল আছি ম্যাডাম।’

    ‘দাগগুলো সব গেছে?’

    ‘না, এখনও কপালে কয়েকটা আছে।’

    ‘তুমি একটা কাজ করো। রোজ ডাবের জলের সঙ্গে অল্প একটু গোলাপ জল দিয়ে মুখ ধোয়াও।’

    ‘ধোয়াব ম্যাডাম। ম্যাডাম, একটা কথা ছিল। বলব?’

    ‘সেকী, বলবে না কেন? তুমি হেজিটেট করছ কেন? এনিথিং সিরিয়াস প্রীতি?’

    ‘ঠিক বুঝতে পারছি না ম্যাডাম। কখনও মনে হচ্ছে সিরিয়াস, কখনও মনে হচ্ছে, সিরিয়াস নয়।’

    ‘ইন্টারেস্টিং।’

    ‘ম্যাডাম, আপনি কিন্তু স্যারকে বলবেন না।’

    ‘ঠিক আছে, বলব না। তুমি বলো।’

    ‘ম্যাডাম, স্যার আজ সতেরোটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ক্যানসেল করেছেন। যদিও উনি জানেন সাতটা…।’

    ২

    সুবিমল সোজা হয়ে বসল। প্যাকেট থেকে সিগারেট বের করে ধরাল। তারপর টেবিলে পাতা নকশার ওপর ঝুঁকে পড়ে বলল, ‘নরেনবাবু, আপনাকে কি ব্যাপারটা বোঝাতে পারছি? এই পরিকল্পনায় সুপুরি গাছ দুটো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বলতে পারেন মোস্ট ইমপর্ট্যান্ট। মানুষের স্মৃতি অনেক কিছু ভুলে যায়, কিন্তু গাছের পজিশন কখনও ভোলে না। ধরুন, ছেলেবেলায় আপনার বাড়ির পেছনে একটা আমগাছ ছিল। এখন আর গাছটা নেই। আপনি কিন্তু চিরকাল বলে যাবেন, আমাদের বাড়ির পেছনে একটা আমগাছ ছিল। কখনও বলবেন না, বাড়ির সামনে আমগাছ ছিল। এই ভুল আপনার হবে না। অ্যাম আই কারেক্ট মিস্টার মিত্র?’

    নরেন মিত্রর ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছে। এসিটা বড় জোরে চলছে। বড় কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টরদের ঘরগুলো এরকমই হয়। ঘর বাড়াবাড়ি রকমের ঠান্ডা করে রাখা হয়। মাঝেমধ্যে মনে হয়, এসব ঘরে শুধু সুট-টাই অচল। একটা কম্বল থাকলে ভাল হত। বেশ কম্বল জড়িয়ে মিটিং করা যেত। তবে এখন ঠান্ডা গরমের দিকে মন দেওয়াটা ঠিক নয়। অর্ডারটা খুবই বড়। বড় এবং অভিনব। গত সতেরো বছরে তার কোম্পানি অনেক বড় বড় কাজ করেছে। বাড়ি, মার্কেট কমপ্লেক্স, জলাধার। কিন্তু এ ধরনের কাজ কখনও করেনি। একটা অন্য রকম মজা আছে। তিনমাস হল কাজটা চলছে। এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে। এই অবস্থায় এসে সামান্য ঘরের ঠান্ডা নিয়ে মাথা ঘামানোর কোনও অর্থই হয় না। উলটে মাথা ঠান্ডা করে সাবধানে চলতে হবে। ছোটখাটো ভুলও যেন না হয়। মনকেও সাবধান রাখতে হবে। সফল হওয়ার সব থেকে আসল উপায় হল, মনকে সাবধান রাখা।

    নরেন সামান্য হেসে বলল, ‘ঠিকই স্যার। গাছের পজিশন নিয়ে কেউ কখনও ভুল করবে না।’

    মিস্টার মিত্র, নকশায় আপনি বলছেন, গাছদুটো থাকছে ইস্টে। ঠিক ইস্টে নয়, খানিকটা নর্থ-ইস্ট, উত্তর-পূর্বে বলাই ভাল। তাই তো?’

    ‘হ্যাঁ স্যার, গাছদুটো পুবদিকেই থাকছে, একটু উত্তর ঘেঁষা। সুপুরি গাছ স্যার পুবদিকেই পোঁতা হয়।’

    সুবিমল চোখ কুঁচকে বলল, ‘আপনি শিয়োর? পুবদিকেই পোঁতা হয়?’

    ‘টু হান্ড্রেড পার্সেন্ট শিয়োর স্যার। আমি স্যার মধু মল্লিকের সঙ্গে কালও কথা বলেছি। উনি বললেন, পাড়াগাঁয়ে এই জিনিসটা ফলো করা হয়। ফার্স্ট আওয়ারের সান লাইটটা নাকি সুপুরি গাছের পক্ষে প্রয়োজনীয়।’

    ‘মধু মলিক কে?’

    নরেন বলল, ‘মধু মল্লিকের কথা স্যার আমি আপনাকে আগেই বলেছি। আপনার হয়তো খেয়াল নেই। ভদ্রলোক একসময় বোটানিক্যাল গার্ডেনের চিফ গার্ডেনার ছিলেন। অবসর নিয়ে নিজে কাজ করছেন। আপনার এই প্রজেক্টের গোটা গাছপালা ব্যাপারটা উনিই দেখছেন স্যার। এ বিষয়ে ওনার অনেক পড়াশোনা।’

    সুবিমল নরেনকে থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘এটাই তো মুশকিল। অনেক পড়াশোনাতে ছোটখাটো জিনিস গোলমাল হয়ে যায়। আপনি একটা কাজ করুন, মিস্টার মল্লিককে খবর দিন! আই ওয়ান্ট টু মিট হিম। শুধু সুপুরি নয়, সবটাই এর কাছ থেকে শুনব। জবা, কামিনী, গোলাপ, গাঁদা, পুঁইশাক, কাঁচা লঙ্কা— যা যা প্ল্যানে আছে সবটাই শুনব। এভরিথিং।’

    ‘অবশ্যই স্যার। অবশ্যই শুনবেন। আমি তা হলে কালই আসতে বলি? একটা কাজ করলে ভাল হত। কাল সকালে আপনি যদি একবার স্পটে যান। বাড়ি আর পুকুর ঘাটটাও আপনার একবার দেখে নেওয়া দরকার।’

    সুবিমল চিন্তিত গলায় বলল, ‘কেন, সেগুলোতে আবার কোনও গোলমাল হল নাকি?’

    ‘না না, কোনও গোলমাল নয়। সবটাই প্ল্যান অনুযায়ী হয়েছে। তবে খুঁটিনাটি ব্যাপার গুলো নিয়ে তো সবসময়ই সন্দেহ থেকে যায়।’

    ‘এই কাজে তো খুটিনাটিগুলোই আসল মিস্টার মিত্র।’

    ক্যান্টিনের ছেলেটা এসে কফি দিয়ে গেল। নরেনের দিকে কাপ এগিয়ে সুবিমল নিজের কাপে লম্বা একটা চুমুক দিল। বলল, ‘হাতে তো আর একদম সময় নেই। এর মধ্যে খুঁটিনাটি সব ঠিক করে ফেলতে হবে। নরেনবাবু, আপনাকে আগেও বলেছি, আবার বলছি, মনে রাখবেন, জিনিসটা কিন্তু সিনেমার সেট বা পুজোর প্যান্ডেল তৈরি হচ্ছে না। তাই যদি হত, তা হলে আমি মুম্বাই বা সাউথের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে কাউকে নিয়ে আসতাম। সত্যি কথা বলতে কী, আমার মেজভাই বিমল বাঙ্গালোর থেকে আমাকে বলেছিল, সে ওখান থেকে সবটা অ্যারেঞ্জ করতে পারবে। প্রথমদিকে বিমলের কথায় আমি খানিকটা কনফিউজড হই। ভাবলাম, ঠিক আছে। আমরা ভাই-বোনেরা যা চাইছি সেটা যদি ওরা করে দিতে পারে তা হলে ক্ষতি কী? কিন্তু তারপর আমি বোস্টনে আমার বোন সুনন্দার সঙ্গে কথা বলি, জামসেদপুরে কথা বলি ছোটভাই অমলের সঙ্গে। ওরা দু’জনেই বলল, নো, সেট ডিজাইনারের কাজ এটা নয়। সিনেমার সেটের মধ্যে একটা লোক ঠকানো ব্যাপার রয়েছে। মনে হয়, কিন্তু আসলে সত্যি নয়। আমরা সেটা চাই না।’

    নরেন ঢোঁক গিলে বলল, ‘নিশ্চয় স্যার, অবশ্যই স্যার। তবে পুরোটা তো সত্যি করা যাবে না। ধরুন, এইসব বড় বড় গাছ। এগুলো তো স্যার অন্য জায়গা থেকে নিয়ে গিয়ে লাগাতে হয়েছে।’

    সুবিমল কাপ সরিয়ে রেখে বলল, “ইয়েস, সবটা সত্যি হবে না। আমরা সেটা জানি। কিন্তু ভেরি ক্লোজড টু দ্য ট্রুথ। সত্যির যতটা কাছে যাওয়া যায় আমাদের যেতে হবে। আপনি নিশ্চয় বুঝতে পারছেন। টাকাটা এখানে ম্যাটার করছে না।’

    ‘অবশ্যই স্যার। মাটির বাড়ি, খড়ের চাল, দালান, পুকুর, কঞ্চির বেড়া, গোয়াল, তুলসী মঞ্চ, লাউয়ের মাচা, এগুলো আমরা নিখুঁতভাবেই করেছি। স্যার, একটা ছোট ধানের গোলা করে দেব? এই যে এইখানে।’

    নরেন টেবিলে পাতা ছবির একদিকে আঙুল দেখায়।

    ‘ধানের গোলা? ধানের গোলা কি ছিল? দিদিমার কাছে ধান ভাঙার একটা ঢেঁকির কথা শুনেছিলাম। আপনি ঢেঁকি জোগাড় করতে পেরেছেন?’

    নরেন অল্প হেসে বলল, ‘প্রথম দিকে সমস্যা হচ্ছিল। এখন মিটে গেছে। কাটোয়াতে লোক গেছে। কালকের মধ্যে চলে আসবে। দুটো ঢেঁকি আনাচ্ছি স্যার। এক্সট্রা থাকা ভাল। একটা গোলমাল করলে আর একটা বসিয়ে দেব।’

    ‘গুড। ভেরি গুড।’ সুবিমল সামান্য হেসে বলল, ‘ধন্যবাদ মিস্টার মিত্র। আপনার কথা শুনে, আমার অনেক নিশ্চিন্ত লাগছে। বুঝতে পারছি, আপনি আমাদের সেন্টিমেন্টটা বুঝতে পারছেন। আমি গোড়াতেই বুঝেছিলাম বাইরের কারও পক্ষে এই সেন্টিমেন্টটাকে ফিল করা সম্ভব নয়।’

    ‘স্যার, একটা কথা বলব?’

    সুবিমল কফির কাপ সরিয়ে রেখে বলল, ‘নিশ্চয় বলবেন।’

    ‘উনি কি কিছুই বলতে পারবেন না? যদি একটু-আধটুও বলতেন। তা হলে আমি মন-প্রাণ দিয়ে সেই, ডিটেলটা প্রজেক্টে আনবার চেষ্টা করতে পারতাম।’

    ‘সরি মিস্টার মিত্র, আপনাকে তো বলেছি, এটা সম্ভব নয়। মা মারা যাওয়ার পর থেকেই বাবা চুপচাপ হয়ে যান। লাস্ট সেভেন ইয়ার্স বাবা কোনও কথাই বলতে পারেননি। খানিকটা স্মৃতিভ্রংশের মতো। প্রথমে আমরা ভাবলাম, আলঝাইমার ধরনের কোনও অসুখ। সঙ্গে প্যারালাইসিস। আমার বোন সুনন্দা আর তার স্বামী দু’জনেই ডাক্তার। ওরা বোস্টনে থাকে। চিকিৎসার জন্য বাবাকে নিয়ে গেল। কোনও লাভ হয়নি। এখানকার ভাক্তাররা বললেন, বাবা শুধু কথা বলতে পারেন না তা নয়, উনি আর কথা বলতে চান না। জীবনের প্রতি একটা অনীহা একটা রিফিউজাল তৈরি হয়েছে। সত্যি কথা বলতে কী, অসুখটা ঠিক কী কেউ বলতে পারল না। আপনার কফিটা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে মিস্টার মিত্র।’

    ‘তারপর?’ কফির কাপ হাতে নিয়ে নরেন জিজ্ঞেস করল।

    তারপর আর কী, কিছুই নয়। নাউ হি হিজ ওয়েটিং ফর হিজ ডেথ। মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছেন। প্র্যাকটিক্যালি নো সেন্স। সুখ-দুঃখ কোনও কিছুই আর মানুষটাকে স্পর্শ করতে পারে না। সবেতেই নির্বিকার। নির্লিপ্ত। হাসি-কান্না কিছুই নেই। টোটাল একটা ভেজিটেবল। জড় পদার্থের মতো বিছানায় পড়ে আছেন। বাবার দিকে তাকালে আমাদের খুব খারাপ লাগে। এত কষ্ট করে চার চার ছেলেমেয়েকে মানুষ করেছেন, বাট হি কান্ট এনজয় হিজ সাকসেস।’

    সুবিমল আরও একটা সিগারেট ধরাল। তারপর খানিকটা আপনমনেই বলল, ‘সামনের মাসের উনিশ তারিখ বাবার জন্মদিন। নব্বই বছরে পা দিচ্ছেন। আমরা। ছেলেমেয়েরা ঠিক করেছি, এই নব্বুই বছরের জন্মদিনে বাবাকে তার চাইল্ডহুডের একটা পার্ট উপহার দেব। তাঁর শৈশবের খুব সামান্য একটা টুকরো। সেই টুকরোটাই আপনি তৈরি করছেন। আমার বাবার দেশের বাড়ি। আমরা জানি, জিনিসটা দেখে তিনি কোনওরকম রিঅ্যাক্ট করবেন না। সেটার প্রোবাবিলিটি সব থেকে বেশি। কিন্তু আমাদের ভাল লাগবে। নব্বই বছরের এক বৃদ্ধের জন্মদিনে তাঁর ছেলেমেয়েরা এর থেকে বেশি কী বা দিতে পারে মিস্টার মিত্র?’

    নরেন মন্ত্রমুগ্ধের মতো বসে আছে। তার হাতে কফির কাপ। ঠান্ডা হয়ে গেছে। এ তার কী হচ্ছে ? কলকাতার একজন দুঁদে কনট্রাক্টর সে। যার জীবন মাত্র দু’রকমের। লাভের আর লোকসানের। তার কেন এমন হবে? ক্লায়েন্টের কথা শুনে মন দুর্বল হবে কেন? নিজেকে সামলে সে বলল, ‘সরি স্যার। আমি ঠিক এতটা জানতাম না।’

    ‘ইটস ওকে মিস্টার মিত্র। আমি বুঝতে পারছি, আপনাকে একটা খুব কঠিন কাজ হাতে নিতে হয়েছে। আমার বারাসতের তিনবিঘা জমির ওপর বাবার হারিয়ে যাওয়া দেশের বাড়িটা আপনাকে বানাতে হচ্ছে স্রেফ গল্পের ওপর দাঁড়িয়ে। আমরা তো কেউ ওই বাড়ি দেখিনি। স্কুল শেষ করেই বাবাকে সেই বাড়ি ছেড়ে চলে আসতে হয়। প্রচণ্ড অর্থাভাবে আমার ঠাকুরদা সেই বাড়ি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। ছোটবেলায় বাবার মুখে আমরা যেরকম গল্প শুনেছি, আপনাকে আমরা বলবার চেষ্টা করেছি। যখন যেরকম মনে পড়েছে। ছেঁড়া ছেঁড়া গল্প, ঘটনা। সব মিলিয়ে একটা অস্পষ্ট ছবি। ইটস গ্রেট যে আপনার এঞ্জিনিয়াররা তার ওপর দাঁড়িয়ে প্ল্যান তৈরি করেছেন। সেটা ঠিক না ভুল, আদ্দেক না পুরো কিছুই আমরা জানি না। কিন্তু আমরা এটা জানি যে আমরা চেষ্টা করছি। আমাদের কোনও ফাঁকি ছিল না।’

    নরেন গাঢ় গলায় বলল, ‘স্যার, আমিও চেষ্টা করব। আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি, আমি মন দিয়েই চেষ্টা করব।’

    ৩

    রাতে খাওয়ার শেষে সুবিমল পুডিং খায়। খুবই সামান্য। মাত্র এক টুকরো। রাঁধুনি সব রান্না করলেও মায়া এটা নিজের হাতে বানায়।

    সোফায় বসে সুবিমল অনেকটা সময় ধরে পুডিংয়ের এই টুকরোটুকু খায় এবং স্ত্রীর সঙ্গে গল্প করে।

    বাড়ির কাজের লোকেরা আড়ালে এই পুডিংকে বলে ‘গল্প পুডিং’।

    আজ ‘গল্প পুডিং’ হাতে নিয়েও সুবিমল চুপচাপ।

    মায়া হেসে বলল, ‘অত চিন্তা করছ কেন? দেখবে সব ঠিকঠাক হবে।’

    সুবিমল অন্যমনস্ক ভাবে বলল, ‘সেটাই তো চিন্তার। তোমার মতো সবাই আমার ওপর নির্ভর করে আছে। তা ছাড়া জিনিসটা প্রথমে আমার মাথা থেকেই আসে। এখন যদি কিছু ভুল হয়ে যায়।’

    ‘একটু-আধটু ভুল ঠিকে কিছু যাবে আসবে না। টাকা তো অনেকেরই থাকে, কিন্তু এমন চমৎকার একটা জিনিস কতজনে ভাবতে পারে? তুমি বেশি চিন্তা করছে। আর তো মাত্র ক’টা দিন। তুমি কি নিজে একবার ওখানে গিয়েছিলে? আমার তো খুব যেতে ইচ্ছে করছে। বাবাই বলছিল, মা, বাবাকে বলো। আমি ক্যামেরা নিয়ে যাব। এমন একটা দুর্দান্ত জিনিস কেমনভাবে তৈরি হচ্ছে তার ফোটো তুলে রাখা উচিত।’

    এতক্ষণ বাদে সুবিমল অল্প হাসল। বলল, ‘এটা একটা সারপ্রাইজের মতোই থাকুক না। আমি তো নিজেও যাচ্ছি না। বাবা আগে দেখবেন, তারপর আমরা। সেটাই ভাল হবে না?’

    মায়া খুব ভাল করেই বুঝতে পারছে, তার শ্বশুরের কিছু দেখা এবং না-দেখা দুটোই এই মুহূর্তে সমান। তবু সে সুবিমলকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য বলল, সেটাই ভাল। আমি বাবাইকে বুঝিয়ে বলল। ঠাকুরদার জন্য এই স্যাকরিফাইসটুকু সে নিশ্চয় করতে রাজি হবে।’

    সুবিমল খানিকটা নিজের মনেই বলল, নরেন মিত্রর ওপর ভরসা করে ভুল হয়নি মনে হচ্ছে। তবে দু’-একটা ছোটখাটো সমস্যা হচ্ছে।’

    মায়া আগ্রহ দেখিয়ে বলল, ‘কী সমস্যা।’

    ‘এই ধরো, দুটো সুপুরি গাছের পজিশন। গাছদুটো ঠিক কোথায় ছিল বুঝতে পারছি না। তারপর ধরো ধানের গোলা। ধানের গোলা কি ছিল? বাবা আমাদের এ সম্পর্কে কখনও কিছু বলেছেন কিনা মনে করতে পারছি না। যাই হোক, আর একটু চেষ্টা করে দেখি। মায়া, তোমাকে কিন্তু একটা কাজ করতে হবে। উনিশ তারিখ এখানে কারা কারা যাচ্ছে, তার একটা লিস্ট তৈরি করবে। ছোট লিস্ট। এটা একেবারেই পারিবারিক অনুষ্ঠান। পরিবারের বাইরের ভিড় না হওয়াই ভাল।’

    মায়া হেসে বলল, ‘আমি কিন্তু লিস্টে একজনকে রাখব। তুমি না বলতে পারবে না। সে হবে আমার বিশেষ নিমন্ত্রিত।’

    সুবিমল স্ত্রীর দিকে চেয়ে হেসে বলল, ‘আচ্ছা, না বলব না।’

    শুতে যাওয়ার আগে সুবিমল দুটো টেলিফোন করল। জামসেদপুরে ছোট ভাই অমলকে এবং বোস্টনে বোন সুনন্দাকে। জামসেদপুরে লাইন পেতে একটু অসুবিধে হল। অমল উত্তেজিত গলায় বলল, ‘ধানের গোলা? কই, ধানের গোলা ছিল বলে তো কখনও শুনিনি। তবে হ্যালো, হ্যালো, দাদা, একটা খুব ইমপর্ট্যান্ট কথা মনে পড়ে গেছে। আমি কাল সকালেই তোকে ফোন করতাম। একসময় বাবা আমাকে একটা ছাগলের গল্প করেছিল।’

    ‘ছাগল!’

    ‘ইয়েস, ছাগল ছাগলছানা। কমপ্লিট ব্ল্যাক। কুচকুচে কালো, শুধু দ্য টেল ওয়াজ হোয়াইট। ল্যাজটুকু সাদা। ক্লাস টু না থ্রি-তে বাবার মুখে শোনা সেই ছাগলের গল্পটা আজ সাইটে কাজ করতে করতে হঠাৎ মনে পড়ে গেল। ছাগলছানাটা নাকি খুব ছটফটে ছিল, খালি লাফাত। নাউ আই ক্লিয়ারলি রিমেম্বার যে বাবা আমাকে বলেছিল, ছাগলটার নাম ছিল ‘লাফানি’। ইয়েস ‘লাফানি’। শুনতে পাচ্ছিস দাদা, লাফাত বলে লাফানি। বাবা ‘লাফানি’র সঙ্গে অনেকটা সময় কাটিয়েছে। ইভেন আমার মনে পড়ছে, একটা জ্বরের সময় দুপুরে বাবা আমাকে লাফানির গল্পটা বলছে, আর আমি গা ভরতি জ্বর নিয়েও হাসছি। বাবা বলল, ভাল করে হাস। ভাল করে হাসলে জ্বর কমে যায়। তুই বিশ্বাস করবি না দাদা, আমার মনে আছে, বিকেলে তোরা যখন স্কুল থেকে ফিরলি, দেখি আমার জ্বর সত্যি সত্যি ছেড়ে গেছে! দাদা, চুপ করে আছিস কেন? শুনতে পাচ্ছিস?’

    সুবিমল গাঢ় গলায় বলল, ‘হ্যাঁ, শুনতে পাচ্ছি। তুই বল।’

    ‘দাদা, তুই মিস্টার মিত্রকে বল, ওখানে ছাগলটাকে চাই। হোয়াটএভার মে বি দ্য প্রাইস। বাকি সবকিছু ঠিক আছে তো? আমি দু’দিন আগেই পৌঁছোচ্ছি।’

    বোস্টনে জামসেদপুরের থেকে তাড়াতাড়ি ফোনের লাইন ঢুকে গেল। সুনন্দা হাসপাতালে বেরিয়ে যাচ্ছিল। ফোন ধরেই সে চেঁচিয়ে উঠল, ‘দাদা, টিকিট হয়ে গেছে। সতেরোই রাতে এয়ারপোর্টে গাড়ি রাখবি।’

    প্লেনের সময় জানার পর সুবিমল বোনের কাছে ধানের গোলা সম্পর্কে প্রশ্ন করল।

    ‘গোলা?’ তুই এক কাজ কর দাদা, কাল সকালেই একবার সন্তোষপুরে পিসিমার কাছে যা। যদিও পিসিমার অনেক বয়স হয়েছে। কতটা মনে করতে পারবে বলতে পারছি না। তাও তুই নিজে গিয়ে একবার জিজ্ঞেস কর। বাড়িতে ধানের গোলা থেকে থাকলে নিশ্চয় বলতে পারবে। ও তো আর ছোটখাটো ব্যাপার নয় যে চোখ এড়িয়ে থাকবে।’

    ‘আমি আজই অফিস ফেরত সন্তোষপুর গিয়েছিলাম। দুটো সুপুরি গাছের পজিশন নিয়ে কনফিউশন হচ্ছে। অনেক চেষ্টা করেও পিসিমা বলতে পারল না। তবে একটা অন্য জিনিস বলেছে। জিনিসটা মনে হচ্ছে ঝামেলার।’

    ‘ঝামেলার জিনিস!’

    ‘পিসিমা বলল, বাড়ির পুকুরটা থেকে নাকি মাঝে মাঝে মাছের ঘাই মারবার আওয়াজ শোনা যেত। অনেক রাতে ঘুম ভেঙে গেলে ভাই-বোনে সেই ঘাইয়ের আওয়াজ শুনত।’

    খানিকটা চুপ। তারপর সুদুর বোস্টন থেকে সুনন্দার ফোঁপানির শব্দ ভেসে এল, ‘দাদা, উই নিড দিস সাউন্ড। এই আওয়াজটা আমাদের চাই। প্লিজ অ্যারেঞ্জ। প্লিজ।’

    গভীর স্নেহে সুবিমল বলল, ‘কাঁদিস না সুনন্দা। আমি চেষ্টা করব। অবশ্যই চেষ্টা করব।’

    আজও ঠিক সময়ে আসতে পারেনি প্রীতি। অনেক চেষ্টা করেছিল, হয়নি। মাঝখান থেকে ট্যাক্সির পেছনে গাদাখানেক টাকা খরচ হয়ে গেছে। খুবই বিরক্ত লাগছে। এমন একটা সময় মাঝবয়সি একটা লোক টেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল। প্রীতি মুখ তুলে দেখল, লোকটার হাঁটু পর্যন্ত ধুতি, গায়ে ময়লা ফতুয়া, এবং কাঁধে গামছা। লোকটার থেকে বোটকা গন্ধ বেরোচ্ছে।

    প্রীতি আঁতকে উঠল। এরকম একটা লোক তার টেবিল পর্যন্ত এল কী করে?

    ‘একী, কে আপনি?’

    লোকটা দাঁত বের করে হাসল। বলল, ‘দিদি, আমার নাম বট্টব্যাল। ঘনশ্যাম বট্টব্যাল। এখানকার বড়সাহেব নরেনবাবু মারফত আমাকে খবর পাঠিয়েছেন। তাই এলুম। আমি দিদি, পশু পক্ষী সাপ্লাই করি। ক্যানিংয়ে আপিস আছে।’

    প্রীতি অবাক হয়ে বলল, ‘কী করেন?’

    ‘পশু পক্ষী সাপ্লাই করি। ইদানীং মাছও করছি। তবে ছোট মাছ নয়, বড় মাছ। জলে পড়লে ঘাই মারে। ঝপাং ঝপাং আওয়াজ হয়।’

    প্রীতি প্রায় উঠে দাঁড়িয়েছে। বলল, ‘আপনার এখানে কী চাই? এটা তো চিড়িয়াখানা নয়।’

    ঘনশ্যাম বট্টব্যাল দাঁত বের করে হাসল। বলল, ‘হে হে, কী যে বলেন দিদি। আমার কিছু চাই না। এখানকার বড়সাহেবের চাই। একটা ছাগলছানা চাই। পুরোটা বেলাক, শুধু নেজটুক সাদা।’

    লোকটা প্রীতির দিকে সামান্য ঝুঁকে পড়ে বলল, ‘বড়সাহেবকে খবর দেন। বলেন, বট্টব্যাল দুটো ছাগলছান এনেছে। ভ্যানে বাঁধা আছে। সাহেব কি বাইরে গিয়ে দেখে আসবেন, নাকি আমি ওদের ভেতরে নিয়ে আসব? আমার মনে হয় ভেতরে আনাই ভাল। সাহেবকে আবার কষ্ট করে বাইরে যেতে হবে। আপনি কী বলেন দিদি?’

    বসের ঘরের দিকে যেতে যেতে প্রীতির মানটা খুবই খারাপ হয়ে গেল। আহা রে, একটা ভালমানুষ একদম বদ্ধ পাগল হয়ে গেল? আশ্চর্য, ম্যাডামও কিছু করতে পারল না।

    ৪

    উনিশ তারিখ বেলা দশটার কিছু পরে চারটে বড় গাড়ি এবং একটা শীততাপ অ্যাম্বুলেন্সের বিশাল কনভয় এসে দাঁড়াল গাছের ছায়ায়।

    সামনেই একটা নিচু বাঁশের বেড়া। বেড়ার গায়ে ছোট্ট দরজা। কঞ্চি দিয়ে বানানো সেই দরজা নারকোল দড়ি দিয়ে বেড়ার সঙ্গে বাঁধা। কঞ্চির সেই দরজা ঢেকে আছে নব্বইটা লাল গোলাপ।

    অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে বিশ্বনাথবাবুকে বসানো হল হুইল চেয়ারে। দাড়ি কামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ধবধবে সাদা চুল, আঁচড়ানো। সাদা ধুতি-পাঞ্জাবিতে ভারী সুন্দর দেখাচ্ছে। মনে হচ্ছে, একটা সাদা মানুষ।

    উনি কিছু কি বুঝতে পারছেন? মনে হচ্ছে না পারছেন। তবে চেয়ারের হাতল আঁকড়ে ধরেছেন। এই হুইল চেয়ার খুবই আরামদায়ক। দু’দিন আগে সুদূর বোস্টন শহর থেকে তার মেয়েজামাই নিয়ে এসেছে।

    নরেন মিত্র আজ তার ব্যাবসার নিয়ম ভেঙেছে। সুট-টাইয়ের বদলে পরেছে পাজামা, পাঞ্জাবি। পাঞ্জাবিতে ফুলকাটা নকশা। শুধু তাই নয়, নিমন্ত্রিত না হওয়া সত্ত্বেও নরেন তার স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে নিয়ে এসেছে। এই কারণে তার মুখে একটা লজ্জা লজ্জা হাসি।

    একটু পরেই ফুল-গাঁথা কঞ্চির দরজা খুলে বিশ্বনাথবাবুর চার ছেলেমেয়ে, জামাই, পুত্রবধূ আর এক ঝাঁক নাতি-নাতনি হুইল চেয়ার ঠেলতে ঠেলতে ঢুকে পড়ল ভেতরে।

    ম্যাডামের ‘বিশেষ নিমন্ত্রিত’ হলে কী হবে, প্রীতি এখানেও আসতে দেরি করেছে। হাঁপাতে হাঁপাতে সবার পরে এসে পৌঁছেছে। পৌঁছে এত আনন্দ হচ্ছে যে, ইচ্ছে করছে ছুটে গিয়ে বসকে একটা প্রণাম করে। সবার সামনে বসকে প্রণাম করাটা কি ঠিক হবে?

    ‘দেশের বাড়ির’র দালানে খাওয়ার আয়োজন হয়েছে।

    এই দালান মাটি লেপা। সোঁদা গন্ধ উঠছে। পরিবেশনের দায়িত্বে রয়েছে বিমল। খাবার দেওয়া হয়েছে কলাপাতায়। সুবিমল নিজের হাতে বাগানের কলাগাছ থেকে সেই পাতা কেটে এনেছে। অমলের তত্ত্বাবধানে পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরা হয়েছে। শুরুতেই সেই মাছ ভেজে দেওয়া হয়েছে সকলকে।

    সুনন্দার আট বছরের ছেলে বিদেশে থাকায় ভাল করে বাংলা বলতে পারে না। মাছভাজা দেখে সে চিৎকার করে উঠল, “পুখুরের মাস, পুখুরের মাস”।

    সবাই হেসে উঠল। হাসির আওয়াজে উঠোনে দাঁড়িয়ে থাকা একটা ছোট্ট ছাগলছানা লাফ দিয়ে ছুট লাগাল ধানের গোলার দিকে। ছানাটা কুচকুচে কালো। ল্যাজটুকু শুধু সাদা।

    বিশ্বনাথবাবুও আজ কলাপাতায় খাচ্ছেন। নার্স বেচারির অসুবিধে হচ্ছে। সে আগে কখনও কোনও রোগীকে কলাপাতায় খাওয়ায়নি। কলাপাতার ওপর চামচ ঠিকমতো চলছে না।

    সুনন্দা এগিয়ে এসে বলে, ‘সিস্টার, আমাকে দিন। আমি বাবাকে খাইয়ে দিচ্ছি’।

    তবে সুনন্দাও তেমন সুবিধে করতে পারছে না। করবে কী করে?

    সে একই সঙ্গে বুড়োমানুষটাকে খাওয়াচ্ছে এবং তার চোখের জল মুছিয়ে দিচ্ছে। নব্বুই বছরের বিশ্বনাথবাবু আজ অনেকদিন পর মনভরে কাঁদছেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }