Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীল আলোর ফুল – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প591 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উপত্যকা

    রণবীর অভিভূত, মুগ্ধ। খুশিতে তার লাফাতে ইচ্ছে করছে। রামকৃষ্ণ সি-বিচে স্নান করতে গিয়ে যদি তার পা মচকে না যেত, তা হলে নিশ্চয় এখন সে একটা লাফ দিয়ে ফেলত। তবে নিজে লাফাতে না পারলেও তার বুকের ভেতরটা ধুকপুক করে লাফাচ্ছে। বহুদিনের স্বপ্ন আজ সত্যি হয়েছে। কয়েক মিনিট আগে যে-ছবি সে তুলেছে সেই ছবি তাকে যে ‘ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেবে তা নয়, এক ধাক্কায় বিশ্বখ্যাত করে তুলবে। বলা যায় না, সুইডেন বা মরিশাসের কোনও প্রদর্শনীতে আমন্ত্রণও পেয়ে যেতে পারে। ভাগ্যিস সে এই উপত্যকায় বেড়াতে এসেছিল। ভবানীপুরের ছেলে হয়েও বন্যপ্রাণীদের ওপর ছবি তোলার ইচ্ছে রণবীরের সেই ছোটবেলা থেকে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় রণবীর লক্ষ করে দেখেছে, বন্যপ্রাণী বিষয়ক ছবি তোলার ব্যাপারে ভবানীপুরে তেমন কোনও সমস্যা নেই। তার ক্যামেরা যথেষ্ট দামি, জুম লেন্সও আছে। ছবি প্রিন্ট করার জন্য ভাল স্টুডিয়োর কানও অভাব নেই এখানে। সমস্যা বন্যপ্রাণী নিয়ে। ভবানীপুরে কোনও বন্যপ্রাণী নেই। তাই এবার সুযোগ পেয়ে একটা দলের সঙ্গে সে বেরিয়ে পড়েছে। হাওড়া থেকে মাদ্রাজ মেলে ওয়ালটেয়ার। ইচ্ছে ছিল ওখানকার সমুদ্রে নৌকো করে ঘুরে ডলফিনের ওপর কিছু কাজ করবে। ওয়ালটেয়ারে অনেকরকম ব্যবস্থা আছে, কিন্তু নৌকো করে ডলফিনের ছবি তোলার কোনও ব্যবস্থা নেই। রণবীর খুবই হতাশ হয়। মনের দুঃখে ক’দিন ঘুরে বেড়ায়। সমুদ্রে স্নান করে। ইডলি-ধোসা আর টক ডাল খায়। তারপর টুরিস্ট বাসে চেপে পাহাড় টপকে এই আরাকু ভ্যালিতে এসে পৌঁছেছে। ভেবেছিল আসার পথে মাঝে মাঝে বাস থামিয়ে পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে যাবে। জঙ্গলে ঢুকে যাবে ক্যামেরা হাতে। দলের অন্যরা সেই প্রস্তাব শোনেনি। বাস থামাতে দেয়নি, উলটে হেসেছে। সবথেকে বেশি হেসেছে সুজলা। চোখ গোল করে বলেছে, ‘ও কাজও করতে যাবেন না রণবীরবাবু। এখানে বাঘ আছে। আপনাকে তো খাবে না, আপনার দামি ক্যামেরাটা ছিনতাই করে পালিয়ে যাবে।’ রণবীর দেখেছে, সুন্দরী অবিবাহিত মেয়েরা খুবই ফাজিল ধরনের হয়। সে আর বেশিদূর এগোয়নি।

    আরাকু উপত্যকায় দু’দিন কাটিয়েও কোনও সুবিধা হয়নি রণবীরের। সুবিধা হল আজ। ফিরে যাবার ঠিক মুখে। ‘ভ্যালি ভিউ’ গেস্ট হাউসের সামনে বিরাট লনে বাস রেডি। মালপত্র তোলা শেষ। ট্যুরিস্ট পার্টির বত্রিশজন বাসে উঠতে যাবে এমন সময় দেখা গেল, বাস বিগড়েছে। ভালরকম বিগড়েছে। টুঁ শব্দটি পর্যন্ত করছে না। ড্রাইভার মিস্ত্রি ডেকে এনেছে। কাজ শুরু হয়েছে। সেই ফাঁকে রণবীর ক্যামেরা হাতে চলে এল গেস্ট হাউসের পিছনে। নির্জন বাগানে। ঠিক বাগান নয়, অনেকটা জুড়ে ঝোপঝাড়, অল্প কিছু ফুলগাছের টব। পাহাড়ের দিকে মাথা ভোলা কতগুলো ঝাপসা গাছ।

    সেখানেই কাণ্ডটা ঘটল। রণবীরের স্বপ্ন সত্যি হওয়ার কাণ্ড।

    এদিক-ওদিকে দেখতে দেখতে রণবীরের হঠাৎ চোখে পড়ে, গাছের ওপর দুটো বাঁদরছানা। বাঁদরছানা গাছের ওপরই থাকবে। সেটাই তাদের থাকার জায়গা। এই দৃশ্যে উৎসাহিত হওয়ার কথা নয়। ‘গাছে বাঁদর’— এই ছবি তুলে বিখ্যাত ‘ওয়াইল্ড লাইফ ফোটোগ্রাফার’ হওয়া খুবই শক্ত কাজ। তুবু রণবীর উৎসাহিত হয় এবং পটাপট ছবি তুলতে শুরু করে। আশ্চর্য ঘটনা হল, এই ফোটো সেশনের মাঝখানে ছানাদুটো এক-এক করে আরও অনেককে ডেকে আনল। সাইজ দেখে রণবীর নিশ্চিত যে এরা ছানাদুটোর বাবা, মা, দাদু, ঠাকুমাই হবে। এরা ফ্যামিলি ফোটো চাইছে! দুর্দান্ত! দারুণ! ভাবা যায় না। কিছু না ভেবেই রণবীর পটাপট শাটার টিপতে লাগল। শেষে নানা ভঙ্গিতে ছবি তুলিয়ে হুপহাপ শব্দ করে সপরিবারে তারা আবার উধাও হল পাতার আড়ালে।

    এর পরেও আনন্দে পাগল না হয়ে থাকা যায় না। বাঁদরের ফ্যামিলি তাকে দিয়ে গ্রুপ ফোটো তুলিয়েছে! এই অত্যাশ্চর্য ঘটনা দুনিয়ায় আর কখনও ঘটেছে বলে রণবীরের জানা নেই! এখনই এই ঘটনা কাউকে জানানো উচিত। সবথেকে ভাল হয়, সুজলা নামের ফাজিল মেয়েটাকে জানালে। অপমানের একটা জবাব হবে। কিন্তু মুশকিল হল, আলাপ হওয়া সত্ত্বেও গত দশদিন ধরে মেয়েটা তার কোনও কথাই ঠিকমতো শুনতে চাইছে না। রণবীর সিদ্ধান্ত নিল, আজ যে করেই হোক এ-ঘটনা মেয়েটাকে শুনিয়ে ছাড়বে। তারপর বলবে, ‘দয়া করে এ-ছবির কপি চাইবেন না। দিতে পারব না।’

    ২

    বাংলা থেকে অনেক দূরে হলেও ‘ভ্যালি ভিউ’ গেস্ট হাউসের ম্যানেজার বাঙালি। তাঁকে সবাই ‘ঘোষবাবু’ বলে জানে। বদরাগী মানুষ হিসেবে তিনি এই উপত্যকায় বিশেষ পরিচিত। রাগের সঙ্গে তার আবার আছে টেনশনের অসুখ। সেই ঘোষবাবুর এই মুহূর্তে একসঙ্গে অনেকগুলো ইচ্ছে করছে। তার মধ্যে প্রথম ইচ্ছে হল, দোতলার বারান্দা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করার ইচ্ছে। যেহেতু দোতলার বারান্দা থেকে লাফালে মৃত্যুর সম্ভাবনা খুবই কম এবং পা ভাঙার সম্ভাবনা খুবই বেশি, সেহেতু এই ইচ্ছে আপাতত মন থেকে তিনি দূরে সরিয়ে রেখেছেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তখন ভাবা যাবে।

    তিনি বিরক্ত মুখে দোতলার বারান্দায় পায়চারি করছেন। করতেই হবে। বত্রিশজনের দল আটকে পড়েছে। সব কলকাতার পার্টি। বাস নিয়ে দু’দিনের জন্য আরাকুতে বেড়াতে এসেছিল। ঘর নিয়েছিল মোট এগারোটা। একতলার ডরমেটরিটা পর্যন্ত। আজ সকালেই ব্রেকফাস্ট সেরে বেরিয়ে যাওয়ার কথা। বাটার টোস্ট, কলা, ডবল ডিমের ওমলেট। সবকটা ওমলেট ডবল ডিমের হয়নি। ডিম কম পড়েছিল। তাই ডিমের বদলে কিছু প্লেটে গেছে ডবল কলা। সকালেই পার্টির ঘর ছেড়ে দেওয়ার কথা। পার্টি ঘর ছেড়ে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু বাসে উঠতে পারেনি। কারণ বাস নড়ছে চেষ্টা চলছে, তবে তিন ঘণ্টা হতে চলল, দু’বার গোঁ গোঁ ধরনের আওয়াজ ছাড়া বাস তেমন কিছু করতে পারেনি।

    বাস সারানোর দায়িত্ব গেস্ট হাউসের ম্যানেজারের নয়। ট্যুরিস্ট পার্টিকে হাত ধরে পাহাড় টপকে ওয়ালটেয়ারে পৌঁছেও তাঁকে দিতে হবে না। তবু এতগুলো কাচ্চাবাচ্চা মেয়েছেলে যতক্ষণ চোখের সামনে আটকা পড়ে রয়েছে ততক্ষণ তাঁর রক্তচাপ বাড়বেই। বেড়েই চলবে।

    নিজের পাড়ায় ঘুরেও তাকায় না, অথচ বিদেশ বিভুঁইয়ে হাতের কাছে বাঙালি পেলে বাঙালি আদিখ্যেতা শুরু করে। দাদা, কাকা, মামা বলে এমন করবে যেন একটু পরেই গলা ধরে ঝুলে পড়বে। এরাও শুরু করেছে এবং ক্রমেই তা বাড়াচ্ছে। ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েও লোকগুলো আবার ফিরে এসেছে এবং লাউজ্ঞে হাত-পা ছড়িয়ে বসেছে। ভাব করছে, এই গেস্ট হাউস তাদেরই। তাঁবুর মতো ভাঁজ করে তারা কলকাতা থেকে নিয়ে এসেছে। ঘোষবাবুর ইচ্ছে করছে দারোয়ান ডেকে এদের বের করে দিতে। খুবই ইচ্ছে করছে। কিন্তু পারছেন না। বরং গোডাউন খুলে অতিরিক্ত চেয়ার বের করে দিতে হয়েছে। একটু আগে দলের সবথেকে বিচ্ছু টাইপের ছেলেটা। এসেছিল। ছেলেটা খানিক আগে বল মেরে রান্নাঘরের একটা কাচ ভেঙেছে। ভেঙে কোনও লজ্জা নেই। এসে হাসিহাসি মুখে বলল, ‘ম্যানেজার কাকু, পায়খানা পেয়েছে।’ যেন ভারী হাসির কথা। এইসময় যে-কোনও সভ্য মানুষের উচিত ছেলেটির কান টেনে ছিঁড়ে ফেলা। দুঃখের বিষয় ঘোষবাবু উচিত কাজ করতে পারলেন না। তার বদলে অ্যাটাচড বাথরুম দেওয়া একটা ঘর খুলে দিতে বললেন। দেওয়ার পর দেখা গেছে, শুধু এই বালকের নয়, বড়দেরও ঘরের প্রয়োজন। তবে তারা মুখ ফুটে বলতে পারছে না। ছোটরা যা পারে বড়রা তা পারে না। ফলে একটা ঘরে হল না। দুটো ঘর লাগল। এই ঝামেলার দলে একটি কমবয়সি মেয়ে তার বৃদ্ধা মাকে নিয়ে বেড়াতে এসেছে। একাই এসেছে। ঘোষবাবুর এখন মনে হচ্ছে, এরা হল ন্যাকামির শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। বৃদ্ধার ডান পায়ে গোলমাল। এক হাতে লাঠি, অন্য হাতে মেয়ের হাত ধরে উপত্যকা বেড়াতে এসেছেন। একে ন্যাকামি ছাড়া কী বলা যাবে? কিছুই বলা যাবে না। কিছুক্ষণ আগে বৃদ্ধার শরীর খারাপ লাগছিল। ঘোষবাবুকে রান্নাঘর থেকে লেবুর শরবত আনাতে হয়েছে। সেই শরবত-বৃদ্ধা এখন মেয়েকে নিয়ে বারান্দায় বসেছেন। বাসের জন্য উদ্বেগ নেই, বাড়ি ফেরার চিন্তা নেই, পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে আছেন। ভাবা যায়!

    ঘোষবাবুর ভয়ংকর রাগ হচ্ছে। গা চিড়বিড় করছে। ইচ্ছে করছে বৃদ্ধার কাছে যান। গিয়ে বলেন, ‘দিদিমা, আপনাদের যদি ওই পাহাড়ে যেতে ইচ্ছে করে তা হল আর দেরি করবেন না। বসে না থেকে এখনই রওনা দিয়ে ফেলুন। কোনও অসুবিধে হবে না। টুক টুক করে হাঁটলে মা-মেয়ে সন্ধে নাগাদ পৌঁছে যাবেন। একটা টর্চ দেব?’

    দলে আবার কয়েকটা কলেজ-পড়ুয়া ছেলেমেয়ে আছে। ঘোষবাবু বিরক্ত হয়ে দেখছেন, আজকালকার ইয়ং বাঙালি ছেলেমেয়েদের কোনও দায়িত্বজ্ঞান নেই! বাস খারাপ। এতগুলো লোক ফিরবে কী করে, বাচ্চাগুলো খাওয়াদাওয়া কী করবে, দরকার হলে অন্য গাড়ির খোঁজ করতে হবে কিনা— কোনও চিন্তাই নেই। উলটে এসে বলল, ‘টিভিটা খুলে দিতে বলুন তো। শ্রীলঙ্কা-নিউজিলান্ডের খেলা হচ্ছে।’ ঘোষবাবুর বলতে ইচ্ছে করল, ‘কেন ভাই, তোমরা কি শ্রীলঙ্কার সিটিজেন? তোমরা ওদের খেলা দেখবে কেন?’

    কিন্তু সে কথা বলা গেল না। টিভি খুলে দেওয়া হল। যত সময় যাচ্ছে গোটা ট্যুরিস্ট পার্টি যেন তত নিশ্চিন্ত হচ্ছে। ঘুরছে, ফিরছে। একদল তো আবার সিঁড়ি জুড়ে বসে গান ধরেছে, ধিতাং ধিতাং বোলে।

    বাস খারাপ, আর এদের মনে যেন আনন্দের জোয়ার এসেছে। আশ্চর্য, খুবই আশ্চর্য!

    ৩

    তপন হালকা গলায় বলল, ‘ধুস, বসে থাকতে থাকতে পায়ে খিল ধরে গেল। যাই একটু ঘুরে আসি। মন্দিরা, তুমি যাবে?’

    মন্দির ঠান্ডা গলায় বলল, ‘না আমি যাব না। তুমিও যাবে না।’

    ‘সেকী, আমি যাব না কেন! একটু চক্কর মেরে এলে ক্ষতি কী? একটু পরেই তো চলে যাব। এমন চমৎকার জায়গা। লাস্টবার চোখ মেলে দেখে নাও।’

    ‘ক্ষতি আছে। চক্কর মারার নাম করে তুমি আসলে ডিভোর্সি মেয়েটার কাছে যাবে। কী মনে করছ, আমি বুঝতে পারি না?’

    ‘মন্দিরা, এসব কী বলছ? ক’দিন ধরেই তুমি এটা বলছ। বেড়াতে এলে সকলের সঙ্গেই আলাপ-পরিচয় হয়। তা ছাড়া আমাদের ছেলেমেয়েরা বড় হয়েছে। ওরা শুনলে কী ভাববে?’

    ‘খুব খারাপ ভাববে। কিন্তু দেখছে তাতে আরও খারাপ ভাবছে। বাবা সুন্দরী মেয়ের বুড়ি মাকে নিয়ে ধ্যাস্টামো করছে, তার জন্য পাতিলেবুর শরবত আনাচ্ছে, এটা দ্যাখার চেয়ে কিছু খারাপ কথা শোনা ভাল।’

    ‘মাসিমা অসুস্থ হয়ে পড়লেন আর আমি হাত গুটিয়ে বসে থাকব? লেবুর শরবত আমি বানাইনি। ম্যানেজারকে বলতে উনিই চটপট করে এনে দিলেন।’

    ‘তপন, বাজে কথা বোলো না। চুপ করে। আমার মাথা ধরেছে। হাত সকলেরই আছে। তারা তো দেখলাম হাত গুটিয়েই বসে রইল। তা ছাড়া শুধু আজ তো নয়, এখানে আসার পথে বোর কেভসের অন্ধকারে তুমি নাকি ডিভোর্সিটার হাত ধরেছিলে? এই নিয়ে অনেকে ফিসফিস করছে।’

    ‘ছি মন্দিরা। ডিভোর্সি ডিভোর্সি করছ কেন? চন্দনা শ্বশুরবাড়ি থেকে চলে এসেছে। ভেরি স্যাড কেস। এত কম বয়েস। আর আমি মোটেই চন্দনার হাত ধরিনি। মেয়েটা সিঁড়িতে পড়ে যাচ্ছিল। আমি পাশে ছিলাম, ও-ই চট করে আমাকে ধরল। ফর আ সেকেন্ড। তুমি থাকলেও ধরতে।’

    ‘ও বাবা, দশদিনেই সব জানো দেখছি। চন্দনা, মাসিমা, শ্বশুরবাড়ি, স্যাড কেস, কিছুই বাকি নেই! দত্তগিন্নি কাল ডিনারে আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলছিলেন, ব্যাটাছেলেগুলোর খালি ছুকছুক। পাহাড় দ্যাখ। জঙ্গল দ্যাখ। সিনসিনারি দেখতে এসেছিস না মেয়েছেলে দেখতে এসেছিস? কী লজ্জা!’

    এমন সুন্দর জায়গায় এসে মন্দিরার সঙ্গে ঝগড়া করে লাভ নেই। তপন দূরের পাহাড়ের দিকে তাকাল। তিনটে পাহাড় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে। রোদ আর ছায়ায় তিনজনের তিনরকম সবুজ রং। তাদের পায়ের কাছে আর একরকমের সবুজ কফি খেত। কফি খেতের পাশ দিয়ে লাল মাটির পথ চলে গেছে ইউক্যালিপটাস বনের দিকে। সেই পথ যাকে দ্যাখে তাকেই হাতছানি দিয়ে ডাকে। একটু আগেই কুয়াশা উঠে আসছিল পাহাড়ের তলা থেকে ঘন কুয়াশা। রোদ ওঠায় সেই কুয়াশা কেটেছে। আহা, এমন কি একজনও নেই যে ওই পথ ধরে হেঁটে যাবে?

    বাস থেকে ইঞ্জিনের শব্দ শোনা যাচ্ছে।

    ৪

    ছায়াতে বসে থাকলেও তপুর চোখে সানগ্লাস। তপু সহজে সানগ্লাস খোলে না। সবসময় সানগ্লাস পরার শিক্ষা সে পেয়েছে ফিল্মস্টারদের কাছ থেকে। পত্রপত্রিকা এবং টিভি ভাল করে লক্ষ করলেই দেখা যাবে স্টাররা সবসময় কালো চশমায় চোখ কে রাখতে পছন্দ করে।

    তপু অবশ্য ফিল্‌মস্টার নয়। সে বারো ক্লাসের ছাত্রী। কিন্তু তার ধারণা, এই অসামান্য রূপ নিয়ে সে বেশিদিন ছাত্রী থাকতে পারবে না। তাকে শিগগিরই ফিল্‌মস্টার হয়ে যেতে হবে। তাই সানগ্লাসের মতো ছোটখাটো ব্যাপারগুলো আগে থেকে সে অভ্যেস করে রাখতে চাইছে। মা জিনিসটার গুরুত্ব ঠিক বুঝতে পারছে না। নইলে আরাকু ভ্যালি বেড়াতে আসার সময় মেয়েকে কেউ পলিটিক্যাল সায়েন্সের বই আনতে বলে না। তপুর গভীর বিশ্বাস, একদিন সকলেই বুঝবে। মা-ও বুঝবে। অটোগ্রাফ দেওয়ার দিন এল বলে। তা আর খুব দূরে নয়।

    ফিল্‌মস্টার হওয়ার পাশাপাশি সানগ্লাস তপুকে আর একটা দিক থেকে খুব সাহায্য করছে। মা, বাবা, ছোটকাকা এবং কাকিমার পাশে বসেই সে মুকুল নামের ছটফটে যুবকটির দিকে তাকিয়ে থাকতে পারছে। কেউই বুঝতে পারছে না। মুকুল এখন মন্দিরা মাসির ছেলের সঙ্গে বারান্দায় ক্রিকেট খেলছে। ব্যাট নিয়ে এমন কায়দা করছে যেন রনতুঙ্গা। ওকে দেখেই এমন করছে। তা করুক। আর কেউ না বুঝলেই হল।

    গতকাল এখানকার বোটানিকাল গার্ডেনে যাওয়ার সময় বাসের সামনে সিটে বসে গান করছিল। সুতনুকা কনুই দিয়ে ঠেলে বলল, ‘দ্যাখ তপু, জানোয়ারটা আমাদের শুনিয়ে শুনিয়ে কেমন গান ধরেছে। গলা তো হাঁড়িচাচার মতো।’

    আমাদের শুনিয়ে না ছাই। তপু একশো টাকা বাজি ফেলে বলতে পারে, গত আটদিন যাবত মুকুল যা-যা কেরামতি করছে সবই কেবলমাত্র তার উদ্দেশে। সুতনুকাটা আসলে জেলাস হয়ে পড়েছে। দশদিনের আলাপেই মেয়েটাকে ভাল করে বোঝা হয়ে গেল। সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে অথচ হাবভাব করে যেন বিরাট বোদ্ধা। হিংসুটি নাম্বার ওয়ান। আরে বাবা, তোকে দেখতে হল গিয়ে ভূতেদের রানির মতো। তোকে দেখে মুকুলের মতো স্মার্ট ছেলে টসকাবে কেন? আজ বাস ছাড়লে সে মুকুলের কাছাকাছি বসবেই বসবে। সুতনুকাকে ধারেকাছে ঘেঁষতে দেবে না। আজই একটা হেস্তনেস্ত চাই।

    এরকম একটা প্রতিজ্ঞা করবার পর পরই তার কাছে সুতনুকা এল। সিঁড়ির ওপর উঠে গা ঘেঁষে বসল। চোখমুখ সন্দেহজনক লাল। হিংসুটিটা আজ নীল সালোয়ার পরেছে। তপুর মনে হল, আজ তাকে দশদিনের মধ্যে সবথেকে খারাপ দেখাচ্ছে। কালো মেয়েদের নীল রঙে মানায় না। তাদের পরতে হয় হালকা রং।

    ‘তোকেই খুজছিলুম তপু।’ ফিসফিস করে বলল সুতনুকা।

    ‘কেন, বাস ঠিক হয়ে গেছে নাকি?’

    ‘প্রায় হয়ে গেছে। তবে তার থেকেও একটা দারুণ ব্যাপার হয়েছে।’

    ‘কী ব্যাপার?’

    ‘আরে শোন না।’ সুতনুকা তপুর কানের কাছে মুখ এনে বলল, ‘মুকুল একটু আগে আমার হাতে একটা কাগজ গুজে দিয়েছে।’ বলতে গিয়ে সুতনুকার মুখ আরও লাল হয়ে উঠল। এখন বোঝা যাচ্ছে, এই লাল হল লজ্জার লাল।

    তপু গম্ভীর হয়ে বলল, ‘তাই বুঝি? তা কী লেখা তাতে?’

    সুতনুকা হেসে তপুকে ছোট্ট ঠেলা মারল। বলল, ‘যাঃ, বলব কেন? মুখে বলতে পারব না। এই নে পড়।’

    তপু একা লনে এসে দাঁড়িয়েছে। সত্যিই বাস প্রায় ঠিক হয়ে গেছে। বাইরে রোদ থাকলেও এখন তার আর চোখে সানগ্লাস নেই। একটা অ্যাম্বাসাড়ার গাড়ি এসে দাঁড়াল। ‘ভ্যালি ভিউ’ গেস্ট হাউসে নতুন কোনও ট্যুরিস্ট এসেছে। তারা সুটকেস নামাচ্ছে। একটি তেরো-চোদ্দো বছরের মেয়ে গাড়ি থেকে নেমেই তার দিকে ছুটে এল। হাতে খাতা পেন।

    ‘গাড়ি থেকেই আপনাকে চিনতে পেরেছি দিদি। আপনি ইন্দ্রাণী হালদার। একটা অটোগ্রাফ দিন প্লিজ।’

    তপু গম্ভীর হয়ে বলল, ‘না, আমি ইন্দ্রাণী হালদার নই।’

    ৫

    ‘কী বললেন ? কারা আপনাকে দিয়ে ছবি তুলিয়েছে বললেন?’

    সুজলাকে আজ যে-কোনও দিনের থেকে সুন্দর দেখাচ্ছে। কথাটা ঠিক কিনা বলা শক্ত। কারণ, গত দশদিন ধরে রণবীরের রোজই এরকমই মনে হয়। তবে এই মুহূর্তে সুজলার বন্যপ্রাণী বিষয়ক ফোটোগ্রাফিতে উৎসাহ দেখে সে অবাক।

    রণবীর বলল, ‘বাদরেরা। আ গ্রুপ অফ মাঙ্কিস। মাঙ্কি ফ্যামিলি বলা ভাল৷ হোল ফ্যামিলি। চিলড্রেন, উইথ দেয়ার ফাদার, মাদার। এমনকী দাদু ঠাকুমাকে পর্যন্ত ডেকে আনল ওরা। আপনার কি বিশ্বাস হচ্ছে না?’

    সুজলা হেসে ফেলল। অবাক হয়ে সে তাকিয়ে রইল রণবীরের দিকে। তারপর হেসে বলল, ‘না, বিশ্বাস হচ্ছে না।’

    রণবীর দমে গেল। মুখ নামিয়ে বলল, ‘ও।’

    ‘তবে আমার বিশ্বাস-অবিশ্বাসে আপনার কিছু যায় আসে না। বাঁদর ফ্যামিলি যে আপনাকে ওয়াইল্ড লাইফ ফোটোগ্রাফার বলে মেনে নিয়েছে এবং ডাকাডাকি করে আপনাকে দিয়ে ফোটো তুলিয়েছে এটা একটা দারুণ খবর। এখানকার বাঁদরেরা দেখছি গুণের কদর বোঝে।’

    ‘আপনি ঠাট্টা করছেন?’

    ‘হ্যাঁ, করছি। আপনি কি ওদের ঠিকানাটা লিখে নিয়েছেন?’

    ‘কাদের ঠিকানা?’

    ‘কেন বাঁদরদের। বাঃ ওদের ছবি পাঠাতে হবে না? বাঁদর ফ্যামিলি, কেয়ার অফ আরাকু ভ্যালি, ভায়া ওয়ালটেয়ার। নিয়ার রেল লাইন।’

    রণবীর আরও দমে গেল। না, মেয়েটাকে ছবির কথা মোটেই বলা ঠিক হয়নি। এই হল মুশকিল। যেখানে যেটা বলার নয়, সেখানে সেটা সে বলে ফেলে। রণবীরের দিকে তাকিয়ে সুজলা আবার হাসল। বলল, ‘ঠিক আছে, ওদের না পাঠান আমাকে এক কপি পাঠাবেন। কী, পাঠাবেন তো?’

    রণবীর প্রতিজ্ঞা করেছিল এই ছবি সে সুজলাকে কিছুতেই দেবে না। প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ হল। সে মাথা নামিয়ে বলল, ‘হ্যাঁ পাঠাব।’ তারপর আবার একটা গোলমাল করে বসল। যেখানে যা না বলার তাই বলে বসল।

    ‘সুজলা, আপনি একটু এদিক ফিরে দাঁড়াবেন? পাহাড়গুলোকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রোখে আপনার একটা ছবি তুলব।’

    সুজলা ভুরু কুঁচকে গম্ভীর হয়ে বলল, ‘কেন?আমি কি বন্যপ্রাণী?’

    হল কী! বাঁদরেরা মনে হয় আজ রণবীরের মনে সাহস জুগিয়েছে। সেই সাহসেই রণবীর বলল, ‘আসলে, এরকম সবুজ পাহাড়ের সামনে সবুজ শাড়ি পরে ছবি তোলার চান্স আপনি চট করে আর পাবেন না।’

    সুজলা পিছন ফিরে পাহাড়ের দিকে তাকাল। তারপর গাঢ় গলায় বলল, ‘ঠিক আছে তুলুন। চট করে তুলবেন। বাস মনে হয় ঠিক হয়ে গেছে।’

    ৬

    ‘কোথায় গিয়েছিলে?’ অরুণ গম্ভীর গলায় স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল।

    কৃষ্ণা হেসে উত্তর দিল, ‘রেল লাইনের ধারে। ট্রেন দেখতে গিয়েছিলাম।’

    অরুণ আরও গম্ভীর হয়ে বলল, ‘কেন? তুমি কি পথের পাঁচালীর অপু-দুর্গা? ঘনঘন ট্রেন দেখতে যাওয়ার কী আছে? বাস খারাপ হয়ে গেছে। কীভাবে ফিরব তার ঠিক নেই, খাওয়াদাওয়ার চিন্তা নেই, কলকাতা ফেরার টিকিট শুনছি এখনও কনফার্ম হয়নি, একটু আগে দেখলাম ওয়াটার বটলটা লিক করছে, আর তুমি ট্রেন দেখতে চলে গেলে! স্ট্রেঞ্জ!’

    কৃষ্ণা আবার হাসল। বলল, ‘এখানে থেকে গেলে কেমন হয় বলো তো? আমার তো মনে হয় দারুণ হয়। ট্রেন লাইনে একটা গুমগুম ধরনের আওয়াজ হয়। এখন শুনে এসে মনে হচ্ছে, ওটা আসলে শব্দ নয়। ট্রেনের কথা। পাহাড়গুলোর সঙ্গে ট্রেন কথা বলছিল। আমার এখন মনে হচ্ছে, ট্রেনের সঙ্গে এই উপত্যকার সঙ্গে পাহাড়গুলোর গোপন প্রেম আছে। তোমার কী মনে হচ্ছে?’

    অরুণ আরও গম্ভীর হয়ে গেল। বলল, ‘সর্বসময় রসিকতাটা কোনও যোগ্যতা নয় কৃষ্ণা। তাই যদি হত তা হলে চাকরির পরীক্ষাগুলোতে জেনারেল নলেজের পাশাপাশি রসিকতার পরীক্ষা নেওয়া হত। তুমি এখানে এসে ভয়ংকর বাড়াবাড়ি করেছ। সেটা কি তুমি বুঝতে পারছ? মনে হচ্ছে না বুঝতে পারছ। কাল রাত তিনটে অবধি বারান্দায় বসে থেকে। অন্ধকারে কিছু দেখা যায় না, তাই তুমি নাকি অনেক কিছু দেখেছ। আমি কিছু বলিনি। একটু আগে সিঁড়িতে বসে কতগুলো অপরিচিত আধ-দামড়া লোকের সঙ্গে গান করছিলে। তবু আমি কিছু বলছি না। এমন একটা জঘন্য জায়গায় আসাটাই অনর্থক। এমন হলে আমি আসতাম না। যাক চলো, বাস ছাড়বে। ব্যাগটা ধরো।’

    কৃষ্ণা অরুণের হাত থেকে একটা ব্যাগ নিয়ে হাঁটতে গিয়ে থমকে দাঁড়াল। দূরে তাকিয়ে বলল, ‘ওমা! দ্যাখো, দ্যাখে দ্যাখো অরুণ, মালার মতো একটা মেঘ কেমন পাহাড়টাকে ঘিরে ফেলেছে! দ্যাখো দ্যাখো। ওমা! পাহাড়টাতে মনে হচ্ছে নীল। নীলপাহাড়! বিউটিফুল। এক মিনিট দাঁড়াও প্লিজ। মেঘটা এক্ষুনি চলে যাবে। একটু দেখে নিই।’

    অরুণ সামনে তাকিয়ে দেখল। এবং ‘জঘন্য জায়গার দৃশ্য দেখে অরুণ ও মুগ্ধ হয়ে পড়ল। তবু সে মনকে কঠিন করল। কৃষ্ণার সামনে এ-ধরনের দুর্বলতা প্রকাশ করা মানে তাকে উসকে দেওয়া। আবার হয়তো বলবে, ‘ওরা যাচ্ছে যাক। আমরা দু’দিন থেকে যাই।’

    তবে এত ভেবেও অরুণ পারল না। সে দুর্বলতা দেখিয়ে ফেলল। গম্ভীর হয়ে বলল, ‘কৃষ্ণা, আসার সময় তুমি বাসে জানলার ধারে বসেছিলে। ফেরার সময় কিন্তু আমি বসব।’

    কৃষ্ণা পাহাড় থেকে মুখ ঘুরিয়ে স্বামীর দিকে তাকাল। হেসে বলল, ‘ঠিক আছে, বসবে।’

    বাস হর্ন দিতে শুরু করেছে।

    ৭

    বাস ঘনঘন হর্ন দিচ্ছে। সকলকে ডাকছে। একটানা বাসের হর্ন শুনতে মোটেই ভাল লাগে না। অসহ্য লাগে। তবে এখন খুবই মিষ্টি লাগছে।

    ঘোষবাবুর ঘাম দিয়ে যেন জ্বর ছাড়ল। বড় ফাঁড়া কেটেছে। ঘণ্টা চারেক একেবারে ঝড় বয়ে গেল। লনে ক্রিকেট খেলার নামে জানলার কাচ ভাঙা, সিঁড়িতে বসে গানের নামে কান ফাটানো চিৎকার, লাউঞ্জে আড্ডার নামে হ্যা হ্যা করে হাসি। সামান্য টেনশনটুকু নেই! বেড়াতে বেরিয়েছিস বলে কাণ্ডজ্ঞান হারাবি? গেস্ট হাউসের অন্য গেস্টরা ইতিমধ্যে কমপ্লেন করে গেছে।

    ঘোষবাবু দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে। বাসে মালপত্র উঠে গেছে। লোকজনও উঠে পড়েছে। বাস যদি আজ সারানো না হত তা হলে গোটা পার্টি এখানেই থাকতে চাইত। ঘর নেই বললে এরা শুনত? ঘোড়ার ডিম শুনত। বলত, ‘বারান্দাতেই শোব। এখানেই কম্বল দিন। বেশ মজা হবে!’ কাচ্চাবাচ্চা মেয়েছেলে নিয়ে বারান্দায়? এতক্ষণ দেখেশুনে মনে হচ্ছে, এরা তাও করতে পারে। বাপ রে! আপদ বিদায় হচ্ছে। আপদ তো নয়, আপদের দল।

    বাসে ওঠার আগে দত্ত নামের লোকটা একবার এসেছিল। ট্যুরিস্ট দলের লিডার এটাই। বাস খারাপ হওয়ার পর ভয়ে কোথায় যেন কেটে পড়েছিল। বাস ঠিক হয়ে গেছে জেনে ব্যাটা আবার টাইফাই লাগিয়ে লিডার সেজে হাজির। বজ্জাতটা এখানে এসে দু’-চারটি তেলুগু শিখে নিয়েছে। ন্যাকামি। এসে দাঁত বের করে বলল, ‘ভোজনম তোরগু তায়া? খাবার পাওয়া যাবে?ভেরিনিলু তোরগু তায়া? ভাত পাওয়া যাবে?’

    ঘোষবাবু গম্ভীর গলায় বললেন, ‘আপনাকে বাংলায় অনুবাদ করতে হবে না। আমি তেলুগু জানি না, খাবারটাবার কিছু পাওয়া যাবে না।’

    নির্লজ্জটা তাও দাঁত বের করে বলল, ‘মঞ্চিদাণ্ডি। ধন্যবাদ। মিরু মঞ্চিওয়ারু। আপনি একজন ভাল লোক।’

    উফ! আবার বাংলা করে দিচ্ছে? আচ্ছা অসভ্য তো! ভাল লোক কিনা একটু পরেই বুঝতে পারবে ব্যাটা। কাউকে না জানিয়েই বাচ্চাগুলোর জন্য স্যান্ডুইচ, ডিমসেদ্ধ, কলা আর মিষ্টি প্যাকেটে করে বাসে তুলে দিয়েছেন ঘোষবাবু। এদের চিন্তা না থাকুক, তাঁর চিন্তা আছে। বাচ্চাগুলো কতক্ষণ না খেয়ে থাকবে? ধেড়েগুলো গান গেয়ে পেট ভরাক। বেশ হবে। শাস্তি হবে।

    বাস ছেড়ে দিচ্ছে। চাকা গড়াচ্ছে। ঘোষবাবু দেখলেন, বড় বড় কাচের জানলা দিয়ে চলন্ত বাস থেকে ওরা হাত নাড়াচ্ছে। আদিখ্যেতা, চরম আদিখ্যেতা। তাঁকে দেখে হাত নাড়ার কী আছে? যেন কতদিনের আলাপ! ছোটরা নাড়ছে ঠিক আছে, তা বলে ধেড়েগুলো হাত নাড়বে? আচ্ছা মুশকিল তো।

    ভীষণ বিরক্ত হয়ে ঘোষবাবুকেও হাত তুলতে হল এবং নাড়তে হল। তিনি অবাক হয়ে দেখলেন, তাঁর চোখে জল! নিশ্চয় হতচ্ছাড়া বাসের ধোঁয়ার জন্য। ঘোষবাবু রুমাল বের করলেন।

    ৮

    ‘ভ্যালি ভিউ’ গেস্ট হাউসের ম্যানেজার দোতলা থেকে নেমে ভয়ংকর এক বিস্ময়ের মধ্যে পড়লেন।

    মেয়ে তার বৃদ্ধা মাকে নিয়ে বসে আছে। তারা যায়নি। মেয়েটা বেগুনি রঙের শাড়ি পরেছে।

    ‘একী! আপনারা গেলেন না?’

    মেয়েটা হাসল। চেয়ার ছেড়ে উঠে এল। বলল, ‘না ম্যানেজারবাবু। আমরা আর একটা দিন থেকে যাব ঠিক করেছি। মা’র খুব ইচ্ছে ওই পাহাড়টা পর্যন্ত একবার ঘুরে আসবে। আমি বারণ করলাম, শুনল না। দেখি যতটা পারা যায় যাব। রোদ পড়ে গেলে একটা গাড়ি নিয়ে বেরোব না হয়। কী ? যাওয়া যাবে না ম্যানেজারবাবু?’

    ‘না। যাওয়া যাবে না।’ ঘোষবাবু কঠিন গলায় বললেন।

    মেয়েটা আবার হাসল। বলল, ‘আমি জানি যাওয়া যাবে না। তবু যাব। আপনি একটা টর্চ দিন তো। ফিরতে যদি রাত হয়ে যায়।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }