Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীল আলোর ফুল – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প591 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভয়

    বাবুলাল দরজার সামনে এসে থমকে দাঁড়াল। তিনতলায় ওঠবার সময় স্যার বলে দিয়েছিলেন, কোনও অবস্থাতেই তাঁকে যেন বিরক্ত না করা হয়। কিন্তু উপায় নেই। একটু আগে যে অবস্থা ঘটেছে তাতে বিরক্ত করা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই।

    ভারী পরদা সরিয়ে বাবুলাল নিচু গলায় বলল, ‘স্যার, ছেলেটা পেচ্ছাপ করেছে।’

    তিনতলার এই ঘরটা কোণের দিকে। বাড়িতে থাকলে সুবিমল এখানেই অফিসের কাজকর্ম করে। এখনও করছে। তার সামনে ফাইল খোলা। প্রতিটা লাইন খুঁটিয়ে দেখছে। কোথায় যেন একটা যোগে ভুল আছে মনে হচ্ছে। ঠিক ধরতে পারছে না। ছোট ভুল, চট করে চোখে পড়ছে না।

    বাবুলাল আবার বলল, ‘স্যার, ছেলেটা পেচ্ছাপ করেছে।’

    সুবিমল মুখ তুলল! অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘কী করেছে?’

    ‘পেচ্ছাপ স্যার। একেবারে কার্পেটের ওপর করেছে। কার্পেট তো গেছেই, মনে হচ্ছে, ড্রইংরুমের চেয়ার বিলগুলোও নষ্ট হয়েছে।’

    সুবিমল ঠান্ডা গলায় বলল, ‘আমি কী করল বাবুলাল? তুমি কি বলছ আমি নীচে গিয়ে কার্পেট পরিষ্কার করব’?

    মনিবের কথায় বাবুলালের স্বর তার ও গম্ভীর হয়ে গেল। বলল, ‘ছেলেটা বড় জ্বালাচ্ছে স্যার। একটু আগে ফুলদানিটা ভেঙেছে। এখন ঘরের মধ্যে পেচ্ছাপ করল। ধমক দিলে বোঝে না, হাসে, খুবই জ্বালাতনের ব্যাপার স্যার।’

    সুবিমলের ইচ্ছে করল বাবুলালকে জোর একটি ধমক লাগায়। এত জোৱ যে গোটা বাড়ির সকলে সেই ধমক শুনাতে পারে। কিন্তু সে তা করবে না। আজ তাকে মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। কাল ভোরের ফ্লাইট সে মুম্বই যাচ্ছে। এয়ারপোর্ট থেকে সোজা পৌঁছে যাবে হোটেলে। সেখানে মিটিং। সেই মিটিংয়ে ঠিক হবে অর্ডারটা সে পাচ্ছে কি না। খুব বড় অর্ডার। অনেক টাকার কাজ। এত টাকার কাজ সে আগে কখনও পায়নি। মনের মধ্যে চাপা একটা ভয় কখনও মনে হচ্ছে কাজটা পাবে, কখনও মনে হচ্ছে পাবে না। যে-কোম্পানি অর্ডার দেবে, তাদের লোক সিঙ্গাপুরের হেড অফিস থেকে সকালেই মুম্বইতে পৌঁছে গেছে। শেষরাতে ফুলের বোকে হাতে তালুকদার এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে ছিল। তাকে মুম্বইতে পাঠানো হয়েছে, দুদিন আগে। ম্যানেজার হিসেবে তালকুদার খুবই দক্ষ। এখন পর্যন্ত কোনও ভুল নেই। ঘন্টায় ঘন্টায় টেলিফোনে সব জানাচ্ছে। তাকে সে রকমই বলা আছে। ভাল -মন্দ, কোনও খবরই সে যেন বাদ না দেয়।

    তালুকদার শেষ ফোনটা করে সন্ধেবেলা। সুবিমল তখন অফিস থেকে বেরোচ্ছে।

    ‘গুড ইভনিং। এভরিথিং ওকে স্যার।’

    ‘ওরা কী করছে?’

    ‘দু’জনে জুহু বিচে ঘুরছে স্যার। আমি পেছনে পেছনে আছি। ফুচকা দেখে খেতে চাইছে। খাওয়ানো ঠিক হবে কিনা বুঝতে পারছি না। শরীরটরির যদি খারাপ হয়।

    ‘দু’জন কেন তালুরদার? আর একজনের কী হল? কোনও সমস্যা?

    ‘তেমন কিছু নয়, মনে হল অল্প সদি লেগেছে, লোকটা ফোত ফোত করছে। আমি হোটেলে বলে রেখেছি, দরকার হলে ভাক্তার দেখিয়ে দেব।’

    ‘দরকার হওয়ার আগেই দেখিয়ে নেবে। সর্দি-কাশি ভাল জিনিস নয়। মেজাজ বিগড়ে যায়। মনে রেখো তালুকদার, কালকের আগে কোনও অবস্থাতেই ওদের মেজাজ বিগড়ানো চলবে না। রাতের অ্যারেঞ্জমেন্টের কী অবস্থা?

    তালুকদার গলা নামিয়ে বলল, ‘ভাল অবস্থা। স্যার। একেবারে অলরাইট। পেমেন্ট করা আছে। ইন ফ্যাক্ট একটু পর থেকেই মেয়েগুলো হোটেলের রিসেপশনে ওয়েট করবে স্যার। বে। স্যার, আমি চার জনের ব্যবস্থা করেছি। একজন একস্ট্রা থাকা ভাল। আমি সিগন্যাল দিলেই ওরা লোকগুলোর ঘরে চলে যাবে। রুম নম্বরও এদের দেওয়া হয়ে গেছে। কথাটা ঠারেঠোরে লোকগুলোকে জানালাম। মনে হল ইনটারেস্টেড।’

    ‘কেন মনে হল?’

    তালুকদার লজ্জা লজ্জা গলায় বলল, ‘একজন জিজ্ঞেস করল, ইন্ডিয়ান তো। আমি বললাম, ইয়েস, ভেরি মাচ ইন্ডিন।

    ‘গুড। তালুকদার, মুখ দেখে কী মনে হচ্ছে? ওরা খুশি?’

    ‘এটাই মুশকিল! মুখ দেখে কিছু বোঝা যাচ্ছে না। থ্যাবড়া চোখ মুখ তো, মনে হহে, সবসময়ই হাসছে। কনফিউশিং।

    ‘কনফিউশনের কোনও জায়গা রেখো না। খুশি রাখতেই হবে। শোনো, আমি এখন বাড়ি ফিরছি। অফিসে থাকলেই হাজার ঝামেলা। বাড়িতে বসে ঠান্ডা মাথায় কাগজগুলোতে চোক বুলিয়ে নেব। দরকারমতো ফোন করবে। চিন্তায় থাকব। মনে করে সর্দির অবস্থাটা জানাবে।’

    বাড়ি ফিরে ঘটনা শুনল সুবিমল।

    তন্দ্রা নেই। রোজকার মতো আজও বিকেলে সে পার্টিতে বেরিয়ে গেছে। থাকলে অবশ্য কোনও লাভ হত না। গত এক বছর দু’জনের মধ্যে কথাবার্তা প্রায় নেই বললেই চলে। যে যার নিজের মতো থাকে। কাজের লোক, দারোয়ান, রাঁধুনি তাকে ছেঁড়া ছেঁড়া ভাবে ঘটনাটা বলেছে। এরা যথেষ্ট ঘাবড়ে গেছে। ঘাবড়ে যাওয়ার মতোই বিষয়। কিন্তু এই মুহূর্তে কালকের মিটিং ছাড়া অন্য কিছুতে সুবিমল মন দিতে চায় না। তাতে ক্ষতিটা অনেক বড় হবে। সে বাবুলালের দিকে তাকাল। যতটা সম্ভব গলা স্বাভাবিক করে বলল, ’ছেলেটাকে তোমরা ঘাড় ধরে বের করে দিতে পারছ না? বাড়িতে এতগুলো লোক! চার-পাঁচ বছরের একটা অচেনা অজানা বাচ্চা ছেলেকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে আর কতজনকে চাই। মিলিটারি ডাকব? থ্রো হিম আউট। যাও, রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে এসো।’

    বাবুলাল চিন্তিত মুখে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলে সুবিমল চেয়ারে হেলান দিল। না, সমস্যাটা পাকছে। চোখ বুজে গোটা ঘটনাটা দেখবার চেষ্টা করল সে। যার কাছ থেকে যতটা শুনেছে, সবটা জুড়ে যদি একটা পুরো চেহারা পাওয়া যায়।

    তখন দুপুর সবে শেষ হব হব করছে। গেটের পাশে টুলে বসে বৈদ্যনাথ ঝিমোচ্ছিল। একটা ট্যাক্সি এসে নিঃশব্দে দাঁড়াল। ট্যাক্সি থেকে একটা মেয়ে নেমে এল। বছর বাইশ-তেইশ বয়স। আর একটু বেশিও হতে পারে। একেবারেই সাদামাটা দেখতে৷ মনে রাখার মতো কিছু নয়। গায়ের রং সামান্য কালোর দিকে। নীল রঙের শাড়ি। বিনুনি করা। তবে সিঁথিতে বেশি করে সিঁদুর দেওয়া। মেয়েটার সঙ্গে একটা ছোট ছেলেও নামল। বয়স বড়জোর চার-পাঁচ। বাচ্চাটা হাসছে। মেয়েটা বৈদ্যনাথের কাছে এগিয়ে এল। জানতে চাইল, সুবিমল বোস বাড়িতে আছে কিনা। বৈদ্যনাথ জানাল, সাহেব বাড়িতে নেই, ম্যাডাম আছেন। তবে তিনি ঘুমোচ্ছেন। দেখা করতে চাইলে অপেক্ষা করতে হবে। মেয়েটা হতাশ ভঙ্গিতে বলে, সে অপেক্ষা করতে পারবে না। আজই কলকাতার বাইরে চলে যাচ্ছে। একটু পরেই ট্রেন। ট্যাক্সিতে তার স্বামী বসে আছে। বৈদ্যনাথ মুখ ঘুরিয়ে দেখে, সত্যি, ট্যাক্সিটা একটু এগিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে পড়েছে। পেছনের সিটে বসে একটা লোক সিগারেট খাচ্ছে। এরপর মেয়েটা তার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটা ছোট সাইজের মিষ্টির বাক্স বের করে। মলিন হেসে বৈদ্যনাথকে অনুরোধ করে, সে যেন বাক্সটা ভেতরে দিয়ে দেয়। দিয়ে যেন বলে, বারাসতের শর্মিলা এসেছিল। ব্যস, তা হলেই হবে। ওরা চিনতে পারবে। পরে কোনওদিন কলকাতায় এলে নিশ্চয় সে দেখা করে যাবে। বৈদ্যনাথ গত দশ বছর ধরে এ বাড়িতে দারোয়ানের কাজ করছে। সে যথেষ্ট কঠিন মনের মানুষ। বাইরের কাউকে সে চট করে ভেতরে ঢুকতে দেয় না। কিন্তু আজ তার কী যেন হল। সে একটু দুর্বল হয়ে পড়ে। মেয়েটাকে বলে, ‘আপনি সোজা ভেতরে যান। বাগান পেরোলেই সদর দরজা। বাঁ দিকে কলিং বেল। টিপলে দরজা খুলবে চিমসে মার্কা একজন। লোকটার নাম বাবুলাল। তার হাতে বাক্সটা দিয়ে আসুন।’ মেয়েটা ইতস্তত করে। এতে বৈদ্যনাথ আরও দুর্বল হয় এবং জোর করে। এবার মেয়েটা ঘাড় ঘুরিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা। ট্যাক্সির দিকে একবার তাকায়। তারপর শক্ত করে ছেলের হাত ধরে গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে। ছেলেটা তখনও হাসছে।

    বৈদ্যনাথ সুবিমলকে জানিয়েছে, খুব বেশি হলে পাঁচ মিনিট। তার পরেই। বারাসতের শর্মিলা দ্রুত পায়ে বেরিয়ে আসে। বৈদ্যনাথের দিকে তাকিয়ে হেসে বলে, ‘চললাম ভাই। ট্রেন বোধহয় আজ মিস হবে।’ প্রায় ছুটে সে দাঁড়িয়ে থাকা ট্যাক্সিতে ওঠে। ট্যাক্সি স্টার্ট দেয়। বৈদ্যনাথ এখন আর ঠিক মনে করতে পারছে না, বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় মেয়েটার সঙ্গে বাচ্চা ছেলেটা ছিল কিনা। কখনও মনে হচ্ছে ছিল। কখনও মনে হচ্ছে ছিল না। এরও প্রায় আধঘন্টা পরে কাজের লোক শ্যামা কাপড় তুলতে বাগানে আসে। তখন সে দ্যাখে, চাঁপা গাছের নীচে, ঘাসের ওপর একটা বাচ্চা ছেলে বসে আছে। ঘাস এবং ধুলো নিয়ে খেলছে। তার কালো প্যান্ট আর বেগুনি রঙের জামা ধুলোয় মাখামাখি হয়ে আছে। ছেলেটার পাশে একটা মিষ্টির বাক্স রাখা। শ্যামা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘অ্যাই তুই কে রে? কী নাম তোর?’ ছেলেটা উত্তর দেয় না। শুধু হাসতে থাকে। শ্যামা ছুটে গিয়ে গেট থেকে বৈদ্যনাথকে ডেকে আনে। হইচই শুনে বাড়ির ভেতর থেকে বেরিসে আসে বাবুলাল। তিনতলার বারান্দা থেকে ম্যাডাম জানতে চান, কী হল, এত গোলমাল কীসের?’।

    কিছুক্ষণের মধ্যেই জানা যায়, এই ছেলে কথা বলতে পারে না। কোনও কথা বুঝতে পারে না। শুধু হাসতে পারে।

    সুবিমল চমকে উঠল। গোটাটা একটা চক্রান্ত নয় তো? হয়তো কালকের মিটিংটার আগে কেউ গোলমাল পাকিয়ে দিতে চাইছে। চেষ্টা করছে যাতে সে কলকাতা ছেড়ে বেরোতে পারে। অর্ডারটা হাতছাড়া হয়ে যাক। বারাসতের শর্মিলা, বারাসতের শর্মিলা…। সুবিমল নিজের মনে তোলপাড় করে খুঁজতে লাগল। কই এরকম নামের কাউকে তো মনে পড়ছে না! কেমন একটা অস্বস্তি হচ্ছে। তন্দ্রাকে একবার মোবাইলে ধরলে কেমন হয়? তন্দ্রা কি ফোন ধরবে? মনে হয় না ধরাবে। সুবিমলের ফোন বেজে উঠল।

    তালুকদারের গলায় উদ্বেগ— ‘স্যার একটা সমস্যা হয়েছে।’

    ‘সমস্যা! এত রাতে আবার কী সমস্যা পাকালে? সর্দি বেড়েছে?’

    তালুকদার বলল, ‘না সার সে সব নয়। মনে হচ্ছে, ওদের পছন্দ হয়নি।’ সুবিমল অবাক হয়ে প্রশ্ন করল, ‘পছন্দ হয়নি! কী পছন্দ হয়নি?’ তালুকদার চিন্তিত গলায় বলল, ‘স্যার, ওই মেয়েগুলোকে মনে হয় ওদের পছন্দ হয়নি। খানিক আগে ওরা ওপারে যায়। কিন্তু লোকগুলো ঘরে ঢুকতে দেয়নি।’ সুবিমল চেঁচিয়ে উঠল, ‘রাবিশ। পছন্দ হয়নি মানে? তুমি কী করছ?’ তালুকদার অবাক হল। সারাদিন যে মানুষটা শান্তভাবে কথা বলেছে তার হঠাৎ কী হল! সে গলা নামিয়ে বলল, ‘না মানে, স্যার। আমি ঠিক বুঝতে পারিনি। মেয়েগুলোও খুব আপসেট।’সুবিমল আরও গলা তুলল। বলল, ‘বুঝতে পারোনি তো আমি কী করব? এখান থেকে সুটকেসে করে মুম্বইতে মেয়ে নিয়ে যাব?’ তালুকদার শান্ত গলায়, ‘সরি স্যার। ভেরি সরি।’ সুবিমল নিজেকে সামলাল। সত্যি তো, মেয়ে পছন্দ না হলে তালুকদার কী করবে? এটা সে কী করছে? কেন চেঁচাচ্ছে? গল নামিয়ে বলল, ‘সরি তালুকদার। তুমি কিছু মনে কোরো না। আসলে বাড়িতে একটা ঝামেলা হয়েছে। বাজে ঝামেলা। মাথাটা গোলমাল হয়ে যাচ্ছে। আচ্ছা, তুমি শর্মিলা নামে কাউকে চেনো? বারাসতে বাড়ি।’ তালুকদার চুপ। করে রইল। বসের কথা সে ঠিক বুঝতে পারছে না। আমতা আমতা করে বলল, ‘শর্মিলা! কই না তো, এই নামে কাউকে তো মনে করতে পারছি না। বারাসতে আমার এক পিসিমা থাকতেন। অনেকদিন হল, তিনি মারা গেছেন।’

    ‘ঠিক আছে, মনে করতে পারলে জানিয়ো।’

    সুবিমল ফোন রেখে দিয়ে উঠে পড়ল। ঘর থেকে বেরিয়ে বাথরুমে গেল। মাথার ভেতরটা গরম লাগছে। প্রেশার কি বেড়ে গেল? ছিঃ, ছিঃ। এটা সে কী করছে! বিষয়টা নিয়ে এত কেন ভাবছে? আসলে কালকের অর্ডারটার জন্য চাপা টেনশন তোর হয়েছে। নিশ্চয় সেই টেনশন থেকেই এইসব উলটোপালটা ভাবনা। বাড়ির কাজের লোকেরা হয়তো বাচ্চাটার ব্যাপার এতক্ষণে সামলে নিয়েছে। কিন্তু ওরাই বা মেয়েটাকে ঘরে ঢুকতে দিল কেন? সত্যি কি কোনও সমস্যা? যদি তাই হয় তা হলে সেটা কী? সবিমলের ভাল লাগছে না। সে চোখে মুখে জলের ঝাপটা দিতে লাগল।

    বাথরুমের সামনে বাবুলাল দাঁড়িয়ে। সুবিমল তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বলল, ‘আবার কী হল বাবুলাল?’ বাবুলাল মাথা চুলকে বলল, ‘স্যার, একটা কথা ছিল।’ সুবিমল বিরক্ত মুখে বলল, ‘আবার কীসের কথা? ছেলেটাকে বের করে দিয়েছ।’ বাবুলাল মাথা নামিয়ে বলল, ‘না স্যার, এখনও করিনি।’ সুবিমল অবাক হয়ে বলল, ‘সেকী, করোনি কেন? দ্যাখো বাবুলাল, তোমাদের ভুলে আজ এ-বাড়িতে। একটা খুব বাজে ঘটনা ঘটেছে। বাড়ি-ভরতি লোককে বোকা বানিয়ে একজন মহিলা তার বোবা, বোধ-বুদ্ধিহীন বাচ্চাকে বাড়ির ভেতর ছেড়ে দিয়ে চলে গেল। তোমরা। সেটা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলে। আমাকে বলো তো তোমাদের এই দ্যাখাটা আর কতক্ষণ চলবে? তোমরা ওই বাচ্চাটাকে কতক্ষণ দেখতে চাও?’ মনিবের ঠান্ডা গলায় বাবুলাল ভয় পেয়ে গেল। মাথা নামিয়ে বলল, ‘এক মিনিটও দেখতে চাই না স্যার। তবে ছেলেটাকে কীভাবে বের করব বুঝতে পারছি না স্যার। টানাটানি করলে যদি আঁচড়ে কামড়ে দেয়। হাত-পা বেঁধে নেব? সেটা কি ঠিক হবে? একটা ছোট ছেলেকে হাত-পা বেঁধে বাড়ি থেকে বের করে দিচ্ছি, বাইরের কেউ যদি দেখে ফেলে? এ তো ধেড়ে মানুষ নয় যে ঘাড় ধাক্কা দিলাম আর সুড়সুড় করে চলে গেল।’

    সুবিমল থমকে দাঁড়াল৷ সত্যি তো, বাবুলাল ভুল বলেনি। কীভাবে ছেলেটাকে বের করা হবে? একটা অচেনা, অজানা, কথা বলতে না-পারা বাচ্চা ছেলেকে কীভাবে বের করতে হয়? শরীরের ভেতর শিরশির করে উটল সুবিমলের। তার কি ভয় করছে? নিজেকে শক্ত করার চেষ্টা করল সুবিমল। না, তাড়াহুড়ো করা যাবে না। মাথা ঠান্ডা করে ভাবতে হবে। কিন্তু সময় বেশি দেওয়া যাবে না। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমস্যা আরও জটিল হবে। বাইরে এবং ভেতরে দু’দিকেই জটিল হবে। সে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বাবুলালকে বলল, ‘কিছু করতে হবে না তোমাকে। আমার জন্য এক কাপ কফি নিয়ে এসো। আর শোনো, ছেলেটা কী করছে?’

    তকে কিছু করতে হবে না শুনে বাবুলাল খুবই খুশি হয়েছে, সে হাসিমুখে বলল, ‘বসে আছে স্যার। চেয়ারে কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে আছে।’

    ‘কান্নাকাটি করছ?’

    ‘ওইটা তো মুশকিল। কথাবার্তা, কান্নাকাটি কিছুই নেই। শুধু হাসে।’

    ‘কিছু খেতে দিয়েছ?’

    ‘হ্যাঁ স্যার। শ্যামা দিয়েছিল।’

    ‘কী দিয়েছিল?’

    ‘দুধ দিয়েছিল।’

    ‘খেয়েছে?’

    ‘না স্যার, শ্যামা তখন দুধে চকোলেট মিশিয়ে দিল।’

    ‘খেল?’

    ‘না তখনও খেল না। মুখে ঠেকিয়ে গেলাস সরিয়ে রাখল।’

    ‘ঠিক আছে তুমি যাও। আমি দেখছি।’

    সুবিমল বসল। তার ক্লান্ত লাগছে। ইচ্ছে করছে, দুটো ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে শুয়ে পড়ে। সেটা সম্ভব নয়। যার সামনে প্রায় কোটি টাকার অর্ডার ঝুলছে, আর পেছনে একটা বোধবুদ্ধিহীন শিশু হাসছে, তার পক্ষে ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়া সম্ভব নয়। সে ফোন তুলে তন্দ্রার মোবাইলের নম্বর টিপল। মনে হয় না তন্দ্রা ধরবে। নম্বর দেখে কেটে দেবে। দীর্ঘদিন ধরে সে এটাই করছে।

    তন্দ্রা ফোন ধরল। একবার বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ধরল। পেছনে গানবাজনা,। হইহট্টগোলের শব্দ। সুবিমল চিৎকার করে বলল, ‘হ্যালো তন্দ্রা? তন্দ্রা বলছ?’ তন্দ্রা বিরক্তি-ভরা গলায় বলল, ‘চিৎকার করছ কেন?’ সুবিমল বলল, ‘তুমি কি জানো, বাড়িতে আজ একটা বিচ্ছিরি ঘটনা ঘটেছে।’ তন্দ্রা গলায় বিরক্তির মাত্রা বাড়িয়ে। বলল, ‘বেরোনোর ‘সময় শুনলাম, একটা ছেলে না মেয়েকে কে যেন বাড়িতে ফেলে গেছে। আমি কী করব? ছেলেটাকে কোলে নিয়ে ঘুরব বলছ নাকি?’সুবিমলের ইচ্ছে হল নোংরা একটা গালাগালি দেয়। অনেক কষ্টে নিজেকে সামলাল। গলা আরও নরম করল। বলল, ‘এরকম অনেক সময় হয়। গরিব বাবা-মা ছেলেকে খাওয়াতে পারছে না—কী করবে, মেরে তো ফেলবে না। সে যাই হোক, তন্দ্রা, তুমি কি শর্মিলা নামে। কাউকে চেনো? বারাসতে বাড়ি।’ তন্দ্রা হিসহিস করে উঠল, ‘ইটস টু মাচ সুবিমল। তোমার সবক’জন মেয়েছেলের খবর আমি রাখব তুমি ভাবলে কোন আক্কেলে? বাইরের কেলেঙ্কারি ঘর পর্যন্ত নিয়ে এসেছ। ভেরি গুড। আর দেরি কেন? রাত হয়ে গেছে, এবার বেডরুমে নিয়ে যাও। আজ রাতে আমি ফিরছি না। নাউ ইড ক্যান এনজয় উইথ দ্যাট লেডি। কী যেন নাম বললে, ‘শর্মিলা না উর্মিলা।’ কথা শেষ করে তন্দ্রা ফোন কেটে দিল।

    সুবিমল থম মেরে বসে আছে। তন্দ্রার এ-আচরণ নতুন কিছু নয়। কিন্তু সে একটা নতুন দিক দেখিয়ে দিল। এখন নিশ্চিত করে বলা যেতে পারে, এটা একটা চক্রান্তই। শুধু একটা বাচ্চা ছেলেকে ফেলে যাওয়া নয়, ঘটনার সঙ্গে ইচ্ছে করে একটা মেয়েকে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে জিনিসটা একটা কেলেঙ্কারির চেহারা পায়। এখন কী করবে সে? কী করা উচিত? ছেলেটাকে নিয়ে থানায় যাবে? থানায় গেলে হাজার প্রশ্ন— এতক্ষণ আসেননি কেন? মহিলা বাচ্চা ফেলে যাওয়ার জন্য আপনার বাড়ি বেছে নিল কেন? আপনার নাম জানলে কী করে? দারোয়ানকে ডাকুন। কাজের। লোকদের পাঠিয়ে দিন। সব থেকে বড় প্রশ্ন, বারাসতের শর্মিলা কে? না, থানায় যাওয়া যাবে না। তা হলে? রাতের মধ্যে কোনও অনাথ আশ্রম টাশ্রমের খোঁজ পাওয়া যাবে? পেলেই বা কী এসে যাবে? মাঝরাতে সেখানে গিয়ে তাদের কী বলবে? বলতে হবে— দাদা, এই ছেলেটা আমার ড্রইংরুমে বসে ছিল। নিয়ে। এসেছি। একে আপনাদের আশ্রমে রাখুন। এ কথা শুনে তারা হেসে গড়িয়ে পড়বে। বলবে দুঃখিত, ড্রইংরুমের অনাথ শিশুদের জন্য আমাদের কোনও ব্যবস্থা নেই।

    বাবুলাল ঘরে ঢুকল। তার হাতে কফির মগ। মগ টেবিলে নামিয়ে রেখে সে উৎসাহের সঙ্গে বলল, ‘স্যার, ছেলেটা ঘুমিয়ে পড়েছে। চেয়ারের ওপরই গুটিসুটি মেরে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।’ সুমিবল ভান করল, কথাটা যেন শুনতে পায়নি। বলল, ‘বাবুলাল, ম্যাডাম রাতে ফিরবে না। তোমরা খেয়ে নিয়ো। কাল ভোরে চা দিয়ে আমায় ডাকবে। আমি প্লেন ধরব।’

    বাবুলাল খানিকটা ইতস্তত করে বলল, ‘স্যার, ছেলেটা কি ওখানেই থাকবে?’

    সুবিমল চেয়ারে হেলান দিয়ে বলল, ‘থাকুক। তুমি যাওয়ার সময় ঘরের আলো নিভিয়ে দিয়ো। আর কফিটা নিয়ে যাও বাবুলাল, আমি খাব না।’

    তিনবার বেজে যাওয়ার পর সুবিমল মোবাইলটা ধরল। ক্লান্ত গলায় বলল। ‘বলো।’ তালুকদার বলল, ‘আপনার শরীর ঠিক আছে তো স্যার?’

    ‘হ্যাঁ, ঠিক আছে।’

    ‘সার, একটা গোলমাল হয়েছে। খানিক আগে মুখার্জি অ্যান্ড আগরওয়াল কোম্পানির কাঞ্চন মুখার্জিকে হোটেলের লবিতে দেখলাম মনে হল। ঘুরঘুর করছে। ইফ আই অ্যাম নট রং স্যার তা হলে লোকটা কাঞ্চন মুখার্জিই হবে। ব্যাটা কখন কলকাতা থেকে এখানে এল? কেন এল? এই হোটলেই বা উঠেছে কেন— কিছুই বুঝতে পারছি না। স্যার, রাগ না করলে একটা কথা বলতাম।’

    ‘এত ভণিতা ভাল লাগছে না তালুকদার, তাড়াতাড়ি বলো।’

    ‘আমাদের কোম্পানির পাশাপাশি ওরা মুখার্জি অ্যান্ড আগরওয়াল কোম্পানির সঙ্গেও কথা চালাচ্ছে না তো? কাঞ্চন মুখার্জিই হয়তো ভুচং ভাচুং দিয়ে আমাদের মেয়েগুলোকে তাড়িয়েছে। এবার সেই হয়তো লোকগুলোর জন্য সারারাত ফুর্তির ব্যবস্থা করবে।’ এতটা বলে তালুকদার একটু চুপ করল। তারপর কাঁদোকাঁদো গলায় বলল, ‘আমার ভয় করছে স্যার। এত বড় একটা অর্ডার হাতছাড়া হয়ে গেলে…।’

    সুবিমলের কেমন অবশ অবশ লাগছে। মনে হচ্ছে, মোবাইলটা হাত থেকে পড়ে যাবে। সে চাপা গলায় বলল, ‘স্টুপিডের মতো কথা বোলো না। ইউ আর গেটিং নার্ভাস তালুকদার। শুধু নার্ভাস হওনি, ভয় পেয়েছ। মুখার্জি অ্যান্ড আগরওয়াল আমাদের এই ডিলের খবর পাবে কী করে? নিশ্চয় তুমি ভুল করছ। কাঞ্চন মুখার্জির মতো দেখতে অন্য কাউকে দেখেছ। নার্ভ ঠিক রাখো তালুকদার। বি স্টেডি।’ তালুকদার ফিসফিস করে বলল, ‘সেটাই যেন হয় স্যার। যেন ভুল হয়।’

    সুবিমল ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল, ‘তালুকদার, তুমি বারাসতের শর্মিলাকে চিনতে পারলে?’ এরকম একটা গভীর সংকটের সময় বসের এই প্রশ্ন তালুকদার একেবারেই আশা করেনি। সে অবাক হয়ে বলে, ‘না স্যার, চিনতে পারলাম না। কিছু মনে করবেন না, এনিথিং রং স্যার? কোনও কিছু নিয়ে কি আপনি চিন্তিত?’ সুবিমল নিজের মনেই বলতে লাগল, ‘না, ঠিক চিন্তিত নই। আবার চিন্তিতও বলতে পারো। বছর চার-পাঁচের একটা ছেলে সন্ধে থেকে বড় বিরক্ত করছে। আমি অবশ্য ছেলেটাকে এখনও দেখিনি। শুনেছি, সে নিজে কথা বলতে পারে না, অন্যের কথা বুঝতেও পারে না। সম্ভবত মানসিকভাবে অসুস্থ। তবে হাসতে পারে। দিস ইজ মোর ডিসটার্বিং।’ তালুকদার বলল, ‘স্যার, আমি কি কিছু করতে পারি?’ কথার উত্তর না দিয়ে সুবিমল বলে যেতে লাগল, ‘একটু আগে শুনলাম, ছেলেটা নাকি ড্রইংরুমে ঘুমিয়ে পড়েছে। চেয়ারের ওপরেই ঘুমিয়ে পড়েছে।’ তালুকদার বলল, ‘স্যার, ছেলেটা আপনার কে হয়?’ সুবিমল শুকনো হাসল। বলল, ‘ঠিক বুঝতে পারছি না তালুকদার। সম্ভবত কেউ হয় না। আর সেই কারণেই কেমন ভয় করছে। যাক, এসব ছাড়ো। হোটেলের বেয়ারাদের টাকাপয়সা দিয়ে জানতে চেষ্টা করো, সত্যিই কাঞ্চন মুখার্জি নামে কেউ ওখানে উঠেছে কিনা। খবরটা নিয়ে যত রাতই হোক আমাকে জানিয়ে। আমি এদিকটা দেখছি।’

    ফোন ছেড়ে ঘড়ি দেখল সুবিমল। রাত বারোটা। সে ড্রয়ার থেকে গাড়ির চাবি বের করে উঠে দাঁড়াল।

    যশোর রোডের যে-পাশে সুবিমল ছেলেটাকে গাড়ি থেকে নামিয়েছে সেখানে কোনও আলো নেই। উলটো দিকে এয়ারপোর্টের পাঁচিল চলে গেছে একটানা। পাঁচিলের ও দিকে ঝোপ জঙ্গল মাঠ। কিছুটা দূরে রানওয়ে। সেখানে সারি সারি ভুতুড়ে আলো মাথা ঝুঁকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পথে অসুবিধে হয়নি কোনও। পুরো সময়টাই পেছনের সিটে ছেলেটা ঘুমিয়েছে। হাঁটুদুটো মাথার কাছে তুলে কুঁকড়ে মুকড়ে। বোধহয় ঠান্ডা লাগছিল। গাড়ি থেকে নামানোর সময় ঘুম ভেঙে ফ্যালফ্যাল করা তাকায়। সুবিমল প্রথমে ভেবেছিল, রাস্তা পেরোবে হাত ধরে। ঝুঁকি নেয়নি। তাতে বেশি সময় লাগত। সে ছেলেটাকে কোলে তুলে নেয়। কোলে উঠে ছেলেটা প্রথমে হাসে। তারপর অবাক হয়ে তাকায় দূরে, রানওয়ের দিকে। তখনই রানওয়ে ছেড়ে গভীর রাতের কোনও বিমান সবে আকাশে উড়েছে। ছেলেটা সেদিকে তাকিয়ে থাকে। আকাশের দিকে।

    ছেলেটাকে নামিয়ে দিয়ে, ধীরে সুস্থে রাস্তা পেরিয়ে সুবিমল একা ফিরে আসে। গাড়ির কাছে। গাড়ি ঘুরিয়ে নিতে নিতে হেডলাইটের আলোয় দেখতে পায়, ছেলেটা তখনও চেয়ে আছে আকাশের দিকে। হাসছে কি?

    বাইপাসে গাড়ি উঠতে মোবাইল বেজে উঠল। ‘বলো তালুকদার। খবর বলো।’

    তালুকদারের গলায় খুশি উপচে পড়ছে। বলল, ‘স্যার, প্রবলেম ইজ ওভার। আপনিই ঠিক বলেছিলেন স্যার কাঞ্চন মুখার্জি নয়, আমি অন্য লোককে দেখে ভুল করেছিলাম। টেনশনে মাথাটা মনে হয় খারাপ হয়ে গিয়েছিল। হোক খারাপ, যত খুশি হোক। সমস্যা আর নেই এটাই বড় কথা। আর ফুর্তিটুর্তির কোনও ব্যাপার নেই, লোকগুলো স্যার যে-যার ঘরে টেনে দুম মারছে। আমি এইমাত্র দরজায় কান দিয়ে। শুনে এলাম, নাক ডাকছে। হা হা। স্যার, আপনি মনে হচ্ছে রাস্তায়। গাড়ির আওয়াজ পাচ্ছি। ছেলেটা কেমন আছে?’

    সুমিবল অবসন্ন গলায় বলল, ‘মনে হয় ভালই আছে। খানিক আগে দেখলাম, যশোর রোডের পাশে দাঁড়িয়ে হাসছে। খারাপ থাকলে হাসবে কেন? গুড নাইট তালুকদার। ভেরি গুড নাইট।

    গাড়ি চালাতে চালাতে সুবিমলের মনে হল জ্বর আসছে। গা ম্যাজম্যাজ করছে। মাথাটা কেমন একটা ভারী লাগছে। তবে আজ রাতে সে আর ঘুমোবে না। প্রায় দুটো বাজতে চলল। আর তো মাত্র কয়েক ঘন্টা। বাড়ি ফিরে ফাইলের বাকিটা নিয়ে বসতে হবে। তন্দ্রা কোথায়? কে জানে আজ কার বিছানায় গিয়ে উঠেছে। একটা ফোন করলে কেমন হয়? বলতে হবে, ‘ঘুম ভাঙানোর জন্য দুঃখিত তন্দ্রা। খুবই দুঃখিত। তবে তোমার কথাই শেষপর্যন্ত ঠিক হল। বারাসতের শর্মিলাকে হঠাৎ মনে পড়ে গেল আমার। এইমাত্র ছেলেটাকে তার কাছে দিয়েও এলাম।’

    কথাটা ভেবে নিজের মনেই খুব হাসতে লাগল সুবিমল। ভাগ্যিস সঙ্গে কেউ নেই। থাকলে সুবিমলের এই হাসি তার ভাল লাগত না। কারণ, এই হাসি ঠিক স্বাভাবিক হাসি নয়। অন্যরকম হাসি।

    দরজা খুলল বাবুলাল। তার চোখদুটো টকটকে লাল। ঘুম থেকে উঠে এসেছে। সুবিমল হাসিমুখে নিচু গলায় বলল, ‘আর চিন্তা নেই বাবুলাল, ছেলেটাকে রেখে এলাম। এক কাপ কফি বানাতে পারো?’

    ‘স্যার, এখনই বানিয়ে দিচ্ছি।’

    ‘চিনি কম দেবে। তোমরা আজকাল কফিতে বড্ড চিনি দাও। আর শোনো, ড্রইংরুম পরিষ্কার হয়েছে?’

    ‘হয়েছে। কার্পেট বদলানো হয়েছে। দোতলা থেকে নতুন একটা ফুলদানি এনে। রেখেছি স্যার।’

    ‘ঠিক আছে, আমি দেখে নিচ্ছি।’

    ‘কাঁচা ঘুম ভাঙলেও বাবুলাল খুশি। সব মিটে গেছে এটাই বড় কথা। সে রান্নাঘরে। এল। গ্যাস জ্বালিয়ে কফির জল চাপাল। একটু বেশি করেই চাপাল। নিজেও খাবে। কাজের লোকদের কফি খাওয়া ঠিক নয়, কিন্তু আজ একটা অন্যরকম দিন। বড় ঝামেলা থেকে বাড়িটা রক্ষা পেয়েছে। এরকম দিনে অত ঠিক-বেঠিক না মানলেও চলে।

    কিছুক্ষণের মধ্যেই কফির মগ হাতে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এল বাবুলাল। বেরিয়ে এসে বড় অদ্ভুত একটা দৃশ্য দেখল সে।

    ড্রইংরুমে আলো জ্বলছে। বাইরে আলো অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছে সুবিমল। অল্প অল্প কঁপছে। মুখে চাপা গোঙানির মতো আওয়াজ। মানুষটা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ঘরের ভেতর। বিড়বিড় করে বলছে, ‘ওখানে কে? কে ওখানে?’

    বাবুলাল প্রায় ছুটে মনিবের পাশে এসে দাঁড়াল। শূন্য ঘরের ভেতরে অবাক হয়ে তাকাল। তারপর বলল, ‘কই স্যার, কেউ নেই তো!’

    ‘ওই যে চেয়ারের ওপর, ওই তো গুটিসুটি মেরে ঘুমোচ্ছে!’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }