Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীল আলোর ফুল – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প591 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রসগোল্লা

    মিষ্টির মান খুব খারাপ। মুখে তোলা যায় না। অনেক সময় পচাও থাকে। পাড়ার সকলে সে কথা জানে। তবু খুব ভিড় হয়।

    দোকানের নাম মহামায়া মিষ্টান্ন ভাণ্ডার। আজকাল মিষ্টির দোকানগুলোর মাথায় থাকে গ্লো সাইনবোর্ড। দূর থেকে মনে হয় বিউটি পার্লার। মহামায়ার মাথায় গ্লো সাইনবোর্ড তো দূরের কথা, টিনের সাইনবোর্ডও নেই। একটা ছিল, অক্টোবরের ঝড়ে উড়ে গেছে। তারপর আর লাগানো হয়নি। দরকারই বা কী? সাইনবোর্ড ছাড়াই সকালে বিকালে প্রচণ্ড ভিড়। ঠাসাঠাসি ভিড় যাকে বলে। লাইন দিয়ে চাল, গম বা কেরোসিন কেনার নিয়ম, কিন্তু সন্দেশ বা চমচম কেনার জন্য লাইন দেওয়ার কোনও নিয়ম এখনও চালু হয়নি। চালু হলে এখানকার লাইন রোজই বড় রাস্তা পর্যন্ত চলে যেত।

    যারা এই দোকানে আসে তারা কিন্তু কেউই মিষ্টি কিনতে আসে না। জেনেশুনে খারাপ জিনিস কে কিনবে? তবে তারা কী জন্য আসে?

    আসে কচুরি কিনতে।

    মহামায়ার কচুরি শুধু এই পাড়ায় নয়, গোটা শহরেই খুব নামকরা। সে কচুরি একবার খাওয়া যায় না। মোট তিন বার খেতে হয়। প্রথম বার মুখে দেওয়ার পর বিশ্বাস হয় না যে এটা কচুরি। মনে হয় কচুরির নামে অন্য কিছু খেলাম। মনের মধ্যে একটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। সেই বিভ্রান্তি কাটানোর জন্য আবার খেতে হয়। তখন জটিলতা কাটে এবং তার বদলে একটা বিস্ময় ভাব জাগে। তৃতীয় বার আরও দুটো না নিয়ে তখন আর কোনও উপায় থাকে না। এই জন্যই মহামায়া মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের সামনে একই লোককে অনেক সময় দিনে তিন বার পর্যন্ত দেখা যায়। যদিও কোনও বারই তারা মিষ্টি কেনে না।

    তবে সব কিছুরই ব্যতিক্রম আছে।

    মহামায়ার ব্যতিক্রম হলেন গোপীনাথবাবু। গোপীনাথ হালদার। এই যে মোড়টায় হলুদ রঙের একটা দোতলা বাড়ি দেখা যাচ্ছে না? ওই যে দোতলার বারান্দায় গামছা ঝুলছে? হ্যাঁ, ওখানেই গোপীনাথবাবু থাকেন। গামছাটা ওঁরই। গোপীনাথ হালদারের বয়স সামনের মাসের চার অথবা পাঁচ তারিখে সাতষট্টি পূর্ণ করবে। তারিখ নিয়ে একটা সংশয় আছে। তবে একদিন বলে সেটা নিয়ে খুব একটা গ্রাহ্য হয় না। তা ছাড়া তাঁর তো আর ধূমধাড়াক্কা করে জন্মদিন হচ্ছে না। সুতরাং চারও যা পাঁচও তাই।

    রোজ সকাল সাতটা দশ থেকে পনেরোর মধ্যে গোপীনাথবাবু মহামায়ায় আসেন। এক টাকা পিসের মোট চারটে রসগোল্লা কেনেন। ভাঁড়ে যখন রসগোল্লা তোলা হয় গোপীনাথবাবু বলেন, ‘বেশি করে রস দিয়ো হে কালাচাঁদ। বুঝলে না রসটাই আসল।’ কালাচাঁদ গদগদ মুখে বলে, ‘দিয়েছি দাদা বেশি করেই দিয়েছি। একেবারে নাকডোবা রস দিয়েছি আজ।’ ভাঁড় হাতে নিশ্চিন্ত মনে বাড়ির দিকে রওনা দিলেন গোপীনাথবাবু।

    আজ কিন্তু তাঁর মন নিশ্চিন্ত নয়। আজ দেরি হয়ে গেছে। ছোট নাতনি এতক্ষণে স্কুলে বেরিয়ে গেল কিনা কে জানে। বেরিয়ে গেলে তার টিফিনে আর রসগোল্লা দেওয়া গেল না। বড় নাতনিটা কলেজে পড়ে। তারও তো ভাত খাওয়ার সময় চলে এল। ভাতের আগে কি আর রসগোল্লা খাবে? মনে হয় না। ভাতের পাতে দিয়ে একবার চেষ্টা করা যেতে পারে। বউমাকে বলতে হবে। বড় নাতনিটার খাওয়া নিয়ে ভারী ছরকট। ‘খাবি?’ জিজ্ঞেস করলে সে কিছুতেই মুখে দেবে না। যেন তাকে উচ্ছে খেতে বলা হচ্ছে। ঝপ করে পাতে ফেলে দিতে হবে। অন্যমনস্ক হয়ে যদি খেয়ে নেয়। বাকি রইল দুটো। একটা বউমার, একটা খোকার। ওরা অবশ্য এখন খায় না। যখন ইচ্ছে টপ করে মুখে ফেলে দেয়। জিনিসটা ঠিক করে না। অন্যায় করে। মানুষের খাওয়াদাওয়ার একটা নিজস্ব সময় আছে। পশুদের নেই। পশুরা যখন যা পাবে খেয়ে নেবে। মানুষ তা করবে না। সে ভাত খাবে ভাতের সময়। কেউ কি সন্ধে ছ’টার সময় ভাত খায়? খায় না। তেমনই রসগোল্লারও একটা নিজস্ব সময় আছে। তাকে সেই সময়েই খেতে হবে। বউমা আর খোকা সেটা বোঝে না। কেন বোঝে না? বড়দের নিয়ে এই একটা ঝামেলা, তারা অনেক কিছু বুঝতে চায় না। গোপীনাথবাবু অনেক চেষ্টা করেছেন। কাজ হয়নি। বউমা বলে, ‘ঠিক আছে বাবা, আপনি দিন, আমরা ঠিক একটা সময় খেয়ে নেব। হাতে এখন অনেক কাজ। রসগোল্লা তো আর ট্যাবলেট নয় যে কাজের মধ্যেই খেতে হবে।’ এটা কোনও কথা হল? রসগোল্লা যেমন ট্যাবলেট নয়, তেমনই আবার চারা মাছও নয়। আধ ঘণ্টা কাঁটা বেছে খেতে হয় না। খোকাটাও একই রকম। রসগোল্লার প্রসঙ্গ তুলতেই যত সব অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলবে।

    ‘বাবা, তুমি কত টাকা পেনশন পাও?’

    ‘আটশো বাইশ টাকা।’

    ‘দিনে তুমি কত টাকার রসগোল্লা কেনো?’

    ‘মোটে চার টাকার। টাকায় একটা। আজকাল কি আর এক টাকায় কিছু পাওয়া যায়? কিচ্ছু পাওয়া যায় না। একটা টাকা তুই রাস্তায় ফেলে দে, দেখবি কেউ ফিরেও তাকায় না। এত ছোট জিনিস কে পাত্তা দেবে? কেউ নয় নেহাত কালাচাঁদ মানুষটা ভীষণ ভাল। সে এখনও এক টাকাকে দাম দেয়। কিছু কিছু মানুষ আছে যারা ছোট জিনিসকেও মূল্য দেয়। ও সে রকমই একটা মানুষ।’

    ‘রোজ চার টাকার রসগোল্লা কিনলে তুমি মাসে কিনছ মোট একশো কুড়ি টাকার। বছরে কত হচ্ছে? সোজা হিসাব। এক হাজার চারশো চল্লিশ টাকা। লাস্ট ফাইভ ইয়ারস ধরে তুমি এই কাণ্ড চালাচ্ছ। ফাইভ ইনটু এক হাজার চারশো চল্লিশ। অর্থাৎ খরচ হয়ে গেছে সাত হাজার দুশো কুড়ি। এই অ্যামাউন্টটা যদি তুমি কিষাণ বিকাশে রাখতে সাড়ে পাঁচ বছরে কত রির্টান পেতে সেটা একবার ভেবেছ? ভাবোনি তো? একবার ভেবো। ঠিক আছে তোমাকে কষ্ট করতে হবে না। আমিই বলে দিচ্ছি। প্রায় সাড়ে চোদ্দো হাজার টাকা। বোনাস টোনাস নিয়ে হয়তো পনেরো হলেও হতে পারে। এর পর আবার যখন তুমি রসগোল্লা কিনবে প্লিজ এটা একবার মনে করবে। মনে করবে আমি পনেরো হাজার টাকা জলে দিচ্ছি। সরি, জলে নয়, রসে দিচ্ছ বাবা।’

    এটা কোনও কথা হল? গোপীনাথবাবু ভেবে দেখেছেন এটা কোনও কথা হল না। পৃথিবীর সব কিছুরই কি হিসাব করা যায় নাকি? এই যে কালাচাঁদ তাকে প্রতিদিন ভাঁড়ে একটু বেশি করে রস ঢেলে দেয় তার কি কোনও হিসাব রাখে? তার জন্য কি দুটো পয়সা বেশি চায়? মোটেই না, কখনওই চায় না।

    তার ওপর রসগোল্লার খাদ্যগুণ? সেটা হিসাবের মধ্যে আসবে না? খোকাটা ছেলেবেলার মতো এখনও অঙ্কে কাঁচা।

    তবু ছেলের কথা শোনার পর গোপীনাথবাবু কিছুটা মুষড়ে পড়ে। এই যে তিনি প্রতিদিন রসগোল্লার পিছনে ছোটাছুটি করছেন, দুই নাতনি, ছেলে এবং ছেলের বউকে খাওয়াচ্ছেন এর মূল্য কত? এর পরেই তিনি ঠিক করেন এ সম্পর্কে কিছু পড়াশুনা করবেন। কিন্তু পড়াশুনা করব বললেই তা করা যায় না। আজকাল অনেকের বাড়িতেই মাইক্রোচিপস বা সাইবারনেটিক্স সম্পর্কে বই থাকে। ক্লাস ফোর ফাইভের ছেলেদের স্কুলের ব্যাগ ঘাঁটলে টিনটিনের সঙ্গে সফ্‌টওয়ারের রঙিন পত্রপত্রিকা বেরিয়ে পড়বে। কিন্তু রসগোল্লার ওপর কিছু জানতে হলে গভীর জলে পড়া ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই। শুধু তাই নয়, এমন বইয়ের খোঁজ করলেও বিপদ। লোকে পাগল ভাববে।

    আশ্চর্য ভাবে গোপীনাথবাবু পাড়ার লাইব্রেরি থেকে মিষ্টান্ন বিষয়ক কিছু তথ্য পেয়ে গেলেন। একটা বই তো তাঁকে খুবই সাহায্য করল। ‘দ্য ফুড ভ্যালু অব সুইট অ্যান্ড সাওয়ার!’ মূলত এটি পুষ্টি বিষয়ক বই! তা হোক। এতেই অনেক কাজ হল।

    বইটি পড়ে বৃদ্ধ গোপীনাথবাবু জানলে— সুষম খাদ্যই হল বেঁচে থাকার আসল মন্ত্র। সুষম খাদ্য ছাড়া শরীর-যন্ত্র অচল। তেলহীন গাড়ির মতো মুখ থুবড়ে পড়বে সে। সুষম খান্যের মধ্যে শর্করা হল এক নম্বর। ভাত, রুটিতে যেমন শর্করা আছে তেমনই আছে মিষ্টিতেও। তবে পুষ্টি বিজ্ঞানের মতে ভাত রুটির হল জটিল শর্করা। চিনি হল সরল শর্করা। শরীরে ঢুকে কাজ করে দ্রুত। সব থেকে বড় এবং আসল কথা হল মানুষের শরীরের মূল এনার্জিট আসে মিষ্টি থেকে। বাংলায় যাকে বলে শক্তি। খুব তাড়াতাড়ি যদি এনার্জি পেতে চাও তা হলে টপ করে একটা মিষ্টি মুখে ফেলে নাও। এর নাকি কোনও বিকল্প নেই। এই পর্যন্ত জেনে গোপীনাথবাবু খুবই রোমাঞ্চিত হয়ে উঠলেন। এত দিনে খোকার মুখের মতো একটা জবাব পাওয়া গেছে। শর্করা সম্বন্ধে আরও রোমাঞ্চকর ব্যাপারও আছে। গোপীনাথবাবু ধীরে ধীরে জানতে পারলেন— বড় বড় চিকিৎসকেরা অনেকেই মনে করেন, ছোটদের পক্ষে শর্করার মতো জরুরি জিনিস খুব কমই আছে। অর্থাৎ খুব জরুরি হল মিষ্টি। এতে নাকি শরীর সুগঠিত হয়, হয় মজবুত। কিন্তু রসগোল্লা কেন? গোপীনাথবাবু এই প্রশ্নের উওরও খুঁজে পেলেন। রসগোল্লা হল ছানার। আর মহামায়ার ছানা নিশ্চয় বাসি ছানা নয়। টাটকা ছানা। এতে ফ্যাটের পরিমাণ কম। সুতরাং রসগোল্লা জিন্দাবাদ। গোপীনাথবাবু এতেই থেমে গেলেন না। তিনি বই ঘেঁটে রসগোল্লার খাদ্যগুণ ঠিক কত তার একটা হিসেবও তৈরি করে ফেললেন। একটু খাটাখাটুনি করতে হয়েছে বটে কিন্তু কাজটা করে খুবই তৃপ্তি পেলেন। ঠিক সেই হিসাবে দেখা যাচ্ছে এক কেজি ছানা আর আড়াই কেজি চিনি থেকে প্রায় বিরানব্বইটির মতো প্রমাণ সাইজের রসগোল্লা তৈরি করা যায়। এরকম একটা রসগোল্লায় প্রোটিন থাকে দু’ গ্রামের কাছাকাছি। ফ্যাট থাকে আড়াই গ্রামের একটু কম। এনার্জি পাওয়া যায় প্রায় সত্তর কিলো ক্যালরির মতো।

    পকেটে হিসেবের চিরকুট ঢুকিয়ে গোপীনাথবাবু ভাবলেন আগে একবার কালাচাঁদকে দেখিয়ে নিয়ে গেলে কেমন হয়? মানুষটা এত দিন মিষ্টির মধ্যে আছে। ভুলচুক হলে শুধরে দেবে। তার থেকে বড় কথা হল রসগোল্লার রসে যে এত রহস্য লুকিয়ে আছে সেটা ওকে একবার না জানালে মনটা কেমন খচখচ করবে।

    মিষ্টির দোকানের মালিকরা মোটাসোটা হয়। তাদের গা থেকে ঘিয়ের গন্ধ বেরোয়। কালাচাঁদ কিন্তু একেবারে উলটো। রোগাভোগা শরীর, চিমসেপানা। তার ওপরে মুখটা তার সর্বদাই কাঁচুমাচু। কেমন যেন লাজুক টাইপের। আসলে সত্যি সত্যি কিন্তু কালাচাঁদ খুবই লজ্জার মধ্যে থাকে। এত সুন্দর একটা চালু দোকান নিয়ে তার কীসের লজ্জা? দোকান না চললে না হয় একটা লজ্জার ব্যাপার ছিল।

    আজ গোপীনাথবাবু কথাটা জিজ্ঞেস করে ফেললেন।

    ‘কালাচাঁদ, তুমি মুখটা অমন করে থাকো কেন? তুমি থাকবে হাসিখুশি। খদ্দেরদের দাপট দেখাবে।’

    কালাচাঁদ এই কথায় আরও কুঁকড়ে যায়, ‘কী যে বলেন কর্তা? দোকান দিলাম মিষ্টির। নাম হল নোনতার। লজ্জার। খুবই লজ্জার।’

    ‘তা হোক। তোমার তো বিক্রিবাট্টা হওয়া নিয়ে কথা। লাভ হলেই হল।’

    ‘ছি ছি ও কথা বলবেন না কর্তা। সব কি আর লাভ লোকসান নিয়ে বিচার চলে? শিব গড়তে গিয়ে বাঁদর গড়ে ফেললে কি আর ভাল লাগে? আপনিই বলুন কর্তা। এই ক’বছরে কত যে হালুইকর বদলালাম তার ঠিক নেই। কিন্তু অবস্থা যে কে সেই। মিষ্টি আপনি মুখে তুলতে পারবেন না।’

    গোপীনাথবাবু ভেবে দেখলেন কথাটা খুব ভুল বলেনি কালাচাঁদ। দুঃখ হওয়ারই কথা। এক ভেবে সারাটা জীবন কাজ করার পর লোকে যদি অন্য জিনিসের মূল্য দেয় তা হলে মনে শান্তি আসে না। আসার কথা নয়। কিন্তু কী করা যাবে? মেনে নেওয়া ছাড়া আর উপায় নেই।

    ‘কালাচাঁদ, তুমি একটা কাজ করো। মিষ্টির বদলে দোকানটা তুমি পুরোপুরি নোনতা করে দাও না কেন? মহামায়া মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের বদলে মহামায়া নোনতা ভাণ্ডার। একটু কেমন কেমন লাগছে বটে, তবে ও শুনতে শুনতে ঠিক হয়ে যাবে।’

    ‘কী যে বলেন কর্তা। এ-কথা শোনাও পাপ। মিষ্টি তৈরি একেবারে বন্ধ করে দেব? তা কখনও হয় নাকি! আপনি যাবেন কোথায়? এই যে সকালে আপনি আসেন, চাড্ডি রসগোল্লা নিয়ে ভাঁড় হাতে ফিরে যান, দেখলে মনটা একেবারে ভরে যায়। যতক্ষণ দেখা যায় ততক্ষণ আপনার দিকে তাকিয়ে থাকি। কর্মচারীরা আড়ালে হাসাহাসি করে। সে করুক। কতা, রসগোল্লা সন্দেশ বড় কথা নয়। বড় কথা হল, একজন অন্তত যা করতে চেয়েছিলাম তার মূল্য দেয়। এই কথাটা ছাড়ি কী করে কর্তা? ছাড়তে পারি না।’

    খাদ্যগুণে হিসেব নিকেশ করে মনটা ভাল হয়ে গিয়েছিল। এখন আবার খারাপ হয়ে গেল। বাড়ি পথে হাঁটতে হাঁটতে গোপীনাথবাবু ভাবলেন, না কালাচাঁদ লোকটা বোকাই আছে। বোকা না হলে সামান্য মিষ্টির দোকান চালিয়ে এমন ফিলজফিকাল কথা বলে? আসলে কিছু কিছু বোকা লোক পৃথিবীতে আছে যাদের জন্য এই বুড়ো বয়সে মন খারাপ হয়ে যায়। সেই মন খারাপ সহজে কাটতে চায় না।

    রোজ বিকেলে দুই নাতনি অপলা আর সুপলা ছাদে ওঠে। আজও উঠেছে। গোপীনাথবাবু ছাদে এসে দেখলেন সুপলা ছাদের ওপর খড়ি দিয়ে এক্কা দোক্কার ছক কাটছে। অপলা এক কোণে বসে আছে। তার হাতে একটা কাগজ। মনে হচ্ছে চিঠি জাতীয় একটা কিছু হবে। মুখ গম্ভীর, খুবই গম্ভীর।

    গোপীনাথবাবুকে দেখে ছোট নাতনি সুপলা ঠোঁটে হাত দিল, ‘শ্‌ শ্‌ দাদু। একদম আস্তে।’ তারপর দিদির দিকে চোখ তুলে ইশারা করল।

    গোপীনাথবাবু গলা নামিয়ে বললেন, ‘কী হয়েছে? মনে হচ্ছে ব্যাপার সিরিয়াস?’

    ‘খুবই। দিদি এখন একেবারে খেপচুরিয়াস। কিছু বলতে গেলে মারতে আসছে।’

    অল্পবয়সি মেয়েরা যখন ছাদের কোণে চিঠি পড়ে তখন সবসময়ই তাদের মুখ গম্ভীর থাকে। সে চিঠি আনন্দের বা দুঃখের যাই হোক না কেন। এই সময় তারা রেগেও থাকে। তাই অপলার রাগের ঘটনায় খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাইলেন না গোপীনাথবাবু।

    ‘তোদের আজ একটা মজার জিনিস বলব বলে এখন ছাদে এলাম। মজার, আবার একসঙ্গে জানারও। এতদিন অনেক খেটেখুটে জিনিসটা তৈরি করেছি।’

    ‘পড়াশুনার কিছু হলে আমি কিন্তু শুনব না দাদু। গল্প বলার নাম করে যারা জ্ঞান দেয় তাদের আমি একেবারেই সহ্য করতে পারি না। এই দোষটা ইদানীং তোমার মধ্যে ডেভেলপ করেছে।’

    ‘না, সে রকম কিছু নয়, শোন না, শুনলে তোরও খুব মজা পাবি।’

    সুপলা দাদুর দিকে সন্দেহের চোখে তাকিয়ে বলল, ‘আর তুমি মজা পাবে না?’

    ‘না। আমি মজা পাব তোর বাবা যখন শুনবে।’

    গোপীনাথবাবু কথাটা বলে একচোট হাসলেন। সেই শব্দে চিঠি থেকে মুখ তুলে অপলা বিরক্ত মুখে তাকাল। সুপলারও কৌতূহল হল।

    ‘দাদু কী ব্যাপার বলো তো। আমার তো সন্দেহ হচ্ছে। তোমার রসগোল্লার কিছু নয় তো?’

    ছোট নাতনির বুদ্ধি দেখে গোপীনাথবাবু খুশি হলেন।

    ‘ঠিক বলেছিস। ভেরি গুড।’

    ‘ও বাবা, তাই বলো। আবার তোমার সেই রসগোল্লা! উফ্‌ দাদু, ইট ইজ ডিসগাসটিং। ঠিক আছে দাদু, আগে আমি তোমাকে একটা গোপন খবর দিয়ে দিই। তারপর ভেবে দ্যাখো তোমারটা তুমি বলবে কিনা। আমার মনে হয় না আমার খবর শোনার পর তুমি আর তোমার মিস্টার রসগোল্লাকে নিয়ে কোনও কথা বলবে।’

    গোপীনাথবাবু ভুরু কুঁচকে বললেন, ‘কী ব্যাপার বল তো।’

    সুপলা চারপাশটা ভাল করে দেখে ফিসফিস করে বলল, ‘জানো দাদু, আমরা কিন্তু তোমার আনা রসগোল্লা কোনও দিন খাই না। রোজই তোমাকে লুকিয়ে আমরা ওগুলো ফেলে দিই।’

    ‘কেন? ফেলে দিস কেন?’ গোপীনাথবাবু অবাক হলেন।

    ‘কেন আবার? অমন হতকুচ্ছিৎ জিনিস মুখে দেওয়া যায় নাকি? আমি একদিন টিফিনে ভুল করে নিয়ে গিয়েছিলাম। তপতী খেল। তপতীকে চেনো তো? শি ইজ মাই বেস্ট ফ্রেন্ড। সেই রসগোল্লায় কামড় দিয়ে তপতীর কী বমি গো! তারপর আরও কেলেঙ্কারি আছে। শুনবে? মা একদিন রতনের মাকে দিয়েছিল। বাবা রাতে শুনে রেগে একবারে কাঁই। বলল, ডাক্তারের খরচ কে দেবে? তুমি? বাবার ছাইপাঁশ তুমি ওকে খাওয়ালে? বলেছি না ফেলে দেবে? উফ্‌। রিটায়ারমেন্টের পর বাবার মাথাটা একদম গেছে।’

    ছোট নাতনির মুখ থেকে এমন গোপন খবর জানার পর গোপীনাথবাবুর ভেঙে পড়ার কথা। তিনি ভেঙে পড়লেন। ছাদে সন্ধে নামছে। সূর্য ডোবার কমলা আলোয় একদিনের আকাশটা কেমন মনমরা। কীসের জন্য মনমরা? হয়তো দিন চলে যাওয়ার জন্য। কে জানে। গোপীনাথবাবু পাঁচিলে কনুই রেখে দাঁড়ালেন। পকেটের খাদ্যগুণের কথা লেখা চিলতে কাগজ বের করে উড়িয়ে দিলেন। কী হবে রেখে। আশ্চর্য! এত কষ্ট করে আনা সামান্য জিনিসটা এরা কোনও দিন মুখেও তোলে না! অবাক কাণ্ড। অবাক ভাবটা কেটে গিয়ে ধীরে ধীরে গোপীনাথবাবুর রাগ হতে থাকল। অন্ধকার নামার পর তিনি একটা বড় সিদ্ধান্ত নিলেন। যা হবার হয়ে গেছে। আর নয়। আর কোনও দিন নয়। কোনও দিন তিনি আর রসগোল্লা আনবেন না। মহামায়ার দিকে পা-ই বাড়াবেন না।

    সিদ্ধান্ত বড় হলেও বুড়ো মানুষটা কেন জানি সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারলেন না। বয়স হয়ে যাওয়ার মুশকিল। ইচ্ছে থাকলেও অনেক কিছুই করা হয়ে ওঠে না।

    পরদিন সকালে ঠিক সময়ে আবার মহামায়া মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের সামনে গোপীনাথ হালদারকে দেখা গেল।

    কচুরি-ভিড়ের পেছনে দাঁড়িয়ে তিনি দুইবার কাশলেন। রোজই কাশেন। রসগোল্লার সিগন্যাল।

    কাশির শব্দে কালাচাঁদ তাকাল। একগাল হেসে বলল, ‘আসুন কর্তা।’ গোপীনাথবাবু গম্ভীর ভাবে বললেন, ‘একটু বেশি করে রস দিয়ে কালাচাঁদ। বৃদ্ধ মানুষটার মনে হল, রসগোল্লা হবে টইটম্বুর। খাওয়ার সময় সেই রস ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে গড়িয়ে পড়বে। খোকা, বউমা, নাতনিরা সেই রস হাত দিয়ে মুছবে। মুছতে গিয়ে হাত চটচট করবে। সহজে সেই চটচটে ভাব কমবে না। অনেকক্ষণ লেগে থাকবে। অনেকক্ষণ।

    গোপীনাথবাবু নিজের মনেই হাসলেন। সামান্য হাসি।

    ওই যে বুড়ো মানুষটা হলুদ বাড়ির দিকে যাচ্ছেন। একটু তাড়াতাড়ি যাচ্ছেন। ছোট নাতনিটার স্কুলে বেরিয়ে যাওয়ার সময় হয়ে গেল। বড় নাতনিটা ভাত খেতে বসবে। খোকা, বউমাও ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। রস-ভরা ছোট ভাঁড়টা হাতে শক্ত করে ধরা। মন ভরা তৃপ্তি। এই তৃপ্তির দাম যে আকাশছোঁয়া। ফ্যাট, ক্যালরি, এনার্জি আর কিষাণ বিকাশের লম্বা চওড়া হিসাব তাকে ছোঁবে কী করে?

    গোপীনাথবাবু জোরে পা চালালেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }