Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীল আলোর ফুল – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প591 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সন্দেশ

    রান্নাঘরে চোখে জল কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। পেঁয়াজ কাটবার সময় এ কাণ্ড হামেশাই ঘটে। ডালে ফোড়ন দেওয়ার সময়টাও মাঝেমধ্যে বিপজ্জনক হয়ে যায়। কিন্তু চা বানাবার সময় চোখে জল আসবার কোনও কারণ নেই।

    গায়ত্রীদেবী চা করছেন। তাঁর দু’চোখেই জল! চা বানানোর ফাঁকে ফাঁকে তিনি শাড়ির আঁচল দিয়ে সেই জল মুছে নিচ্ছেন।

    তিন বছর হল, ব্রজেশ্বরবাবু চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। চাকরি শেষ করবার সঙ্গে সঙ্গে ব্রজেশ্বরবাবু চায়ে চিনি খাওয়ার পাটও শেষ করেছেন। শুধু দিনের দ্বিতীয় কাপে এক চামচ খান। এই চা গায়ত্রীদেবী নিজে বানান। আজও বানালেন। তারপর বেতের ট্রে-তে কাপ সাজিয়ে তিনতলার বারান্দায় এলেন।

    এই বারান্দাটা চমৎকার। বারান্দার তিনটে দিকই খোলা। সল্টলেকের এদিকটায় উঁচু বাড়ি কম। তাই হঠাৎ দেখলে মনে হবে, বারান্দাটা যেন কোনও বাড়ির বারান্দা নয়, আকাশের বারান্দা। ব্রজেশ্বরবাবু এর নাম রেখেছেন আকাশ-বারান্দা। সকালের কিছু সময় তিনি আকাশ-বারান্দায় কাটান।

    স্বামীর পাশে বসে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে গায়ত্রীদেবী দু’বার চোখের জল মুছলেন এবং তিনবার ফোঁপানির মতো শব্দ করলেন। কোনও লাভ হল না। ব্রজেশ্বরবাবু কান্নার কিছুই দেখতে বা শুনতে পেলেন না। কারণ, তিনি চোখ বুজে আছেন। কানে ওয়াকম্যান। উঁচু পদে সরকারি চাকরির সুবাদে তাঁকে প্রায় চল্লিশ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরতে হয়েছে। সেই সময় একটা উদ্ভট শখ মাথায় চাপল। শখ না বলে একে পাগলামি বলা উচিত। ছুটিছাটা আর ফাঁক পেলেই তিনি টেপরেকর্ডার নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন। জঙ্গল, নদী, পাহাড়ে ঘুরে ঘুরে পাখির ডাক ধরে রাখতেন। কম করে খানকুড়ি ক্যাসেট এই মুহূর্তে তাঁর সংগ্রহে রয়েছে। সেসব ক্যাসেটে নম্বর দেওয়া। ইচ্ছে হলে, পছন্দমত নম্বরের ক্যাসেট বের করে শোনেন। বাকি জীবনটা মূলত তিনি পাখির ডাকের মধ্যেই থাকতে চান। একসময় তাঁর একটা পাখির ডাকের সংগ্রহশালা করবার স্বপ্ন ছিল। বিশ্বে প্রায় সবকিছুর সংগ্রহশালা আছে। পাখির ডাকের কেন যে নেই!

    আজ ব্রজেশ্বরবাবু যে ক্যাসেটটা শুনছেন তার নম্বর ‘সাতের ঘ’। এতে রয়েছে কান্‌হা জঙ্গলের পাখির ডাক। পাখির স্থানীয় নাম গুড্ডুর। ডাক, লম্বা লম্বা টানা শিসের মতো। ব্রজেশ্বরবাবুর খুব ভাল লাগছে। তার মনে হচ্ছে, সত্যি সত্যি কান্‌হা জঙ্গলের মধ্যে বসে আছেন। মোটা একটা শিরীষ গাছের গায়ে হেলান দিয়ে ছোট ছোট চুমুক দিয়ে গরম চা খাচ্ছেন।

    ক্যাসেট শেষ হলে কান থেকে ওয়াকম্যান সরালেন ব্রজেশ্বর। স্ত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ গলায় বললেন, ‘অপূর্ব! তুমি একবার শুনবে গায়ত্রী?’

    গায়ত্রীদেবীর মাথায় আগুন ধরে গেল। শান্ত ভঙ্গিতে বললেন, ‘হ্যাঁ, শুনব। তুমি যখন বলছ অবশ্যই শুনব। বাড়িতে এরকম একটা বিপদ ঘটেছে আর আমি পাখির ডাক শুনব না? তুমি বললে পাখির মতো ডাকতে ডাকতে বারান্দা থেকে ঝাঁপ দিতেও পারব।’

    ব্রজেশ্বরবাবু অবাক হয়ে বললেন, ‘কী ব্যাপার গায়ত্রী, বিপদের কী হয়েছে?’

    গায়ত্রীদেবী আর পারলেন না। ঝাঁঝিয়ে উঠলেন। বললেন, ‘বিপদের কী হয়েছে! আজ সকাল থেকে কৌশিক কী বলতে শুরু করেছে জানো?’

    ব্রজেশ্বরবাবু বললেন, ‘কই, না তো, জানি না তো কিছু!’

    গায়ত্রীদেবী বললেন, ‘তা জানবে কেন? ছেলের কথা জানবে কেন তুমি, তুমি জানবে পাখির কথা। কৌশিক বলছে, সে আর চাকরিবাকরি কিছু করবে না। সে নাকি সন্দেশ বানানোর কারখানা দেবে!’

    ব্রজেশ্বর অবাক গলায় বললেন, ‘সন্দেশ! কেন সন্দেশ বানাবে কেন?’

    গায়ত্রীদেবী হিমশীতল গলায় বললেন, ‘মনে হয়, তোমার পাখিগুলোকে খাওয়াবে। সন্দেশ রসগোল্লা খেয়ে তারা মনের আনন্দে তোমার কানের পাশে বসে গান গাইবে। ওর অবশ্য কোনও দোষ নেই। পাগল বাবার ছেলে পাগল ছাড়া আর কী হবে।’ এই পর্যন্ত বলে চোখে আঁচল চাপা দিয়ে গায়ত্রীদেবী উঠে পড়লেন।

    উঠে পড়লেন ব্রজেশ্বরও। বিড়বিড় করে বললেন, ‘ইন্টারেস্টিং!’ তিনি ছেলের ঘরের দিকে পা বাড়ালেন।

    টেবিলে বসে কৌশিক মন দিয়ে কিছু লিখছে। টেবিলের ওপর কম্পিউটার। সেখানে ‘স্ক্রিন সেভার’ হিসেবে ভেসে ভেসে উঠছে কয়েকটা লাইন— আমসত্ত্ব দুধে ফেলি, তাহাতে কদলী দলি, সন্দেশ মাখিয়া দিয়া তাতে…।

    কৌশিক আট মাস হল জেনেটিক বায়োলজি নিয়ে খুব শক্ত ধরনের একটা পড়াশুনো সহজ ভাবে শেষ করে বিদেশ থেকে ফিরেছে। তারপর কম করে সতেরোটি ফার্ম থেকে সে চাকরির প্রস্তাব পায়। তার মধ্যে পাঁচটা মাল্টিন্যাশনাল। একটিতে সে কাজ শুরু করে। কিন্তু দু’মাস কাটতে না কাটতে সেই লোভনীয় চাকরি সে ছেড়ে দিয়েছে। ছেড়ে দিয়ে গত পনেরো দিন হল বাড়িতে। দরজা আটকে কম্পিউটারে কীসব খুটখাট করেছে আর লাইব্রেরি থেকে মোটা মোটা পুরনো বই এনে রাত জেগে পড়েছে। শেষপর্যন্ত আজ সকালে মায়ের কাছে সে ঘোষণা করে, বাঙালি চাকরিতে নয়, বেঁচে আছে স্বপ্নে। সেও স্বপ্ন দেখেছে। অতএব, আর চাকরি নয়। যে-কোনও মায়ের কাছেই এই ঘোষণা বড় ধাক্কার মতো। সেই ধাক্কার জোরেই গায়ত্রীদেবীর এত কান্নাকাটি। কিন্তু কৌশিকের স্বপ্নটা কী?

    ব্রজেশ্বরবাবু ঘরে ঢুকলেন। কৌশিকের পিঠে হাত রাখলেন। হাসিমুখে বললেন, ‘সুপ্রভাত।’

    কৌশিক হেসে বলল, ‘সুপ্রভাত, এসো বাবা। বসো।’

    ব্রজেশ্বর বসলেন। বললেন, ‘কী করছিস?’

    কৌশিক বলল, ‘একটা প্রজেক্ট তৈরি করছি। এটা আমার ড্রিম প্রজেক্ট বাবা। আমার স্বপ্নের প্রকল্প। তুমি এই কাগজটা একবার দেখবে?’

    ব্রজেশ্বর ছেলের উৎসাহ দেখে খুবই খুশি হলেন। না, ছেলেটা মানুষ হয়েছে। তিনি গভীরভাবে বিশ্বাস করেন, পাগলামিতে যার উৎসাহ নেই সে কখনও পুরো মানুষ হতে পারে না। অর্ধেক বা সিকি হয়ে আটকে যায়। তিনি কাগজটা নিলেন। ওপরে বড় বড় করে লেখা— বাংলার হারিয়ে যাওয়া সন্দেশ। তলায় লেখা— গুডমর্নিং সন্দেশ, লর্ড রিপন সন্দেশ, পরিওয়ালা ছাঁচ সন্দেশ, বাঘ সন্দেশ, মুন্ডি সন্দেশ, আপেল সন্দেশ, মনোরঞ্জন সন্দেশ, অবাক সন্দেশ, গোলাপফুল সন্দেশ, জামরুল সন্দেশ, নয়নতারা সন্দেশ…।

    ব্রজেশ্বরবাবু বললেন, ‘অপূর্ব! তুই তো বিস্তর খাটাখাটনি করেছিস দেখছি।’

    কৌশিক গদগদ মুখে বলল, ‘বুঝলে বাবা, ঠিক করেছি, বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এইসব সন্দেশ আমি আবার নতুন করে বানাব। বানিয়ে বিদেশে এক্সপোর্ট করব।’

    ব্রজেশ্বর বললেন, ‘বিদেশে সন্দেশ কে খাবে?’

    কৌশিক জোর গলায় বলল, ‘সবাই খাবে। পেলেই খাবে। দুর্দান্ত প্যাকেটে পাঠাব। আমার সব ভাবা হয়ে গেছে। আর দ্যাখো বাবা, এটা তো শুধু ব্যাবসার বিষয় নয়, এর মধ্যে আমাদের বাংলার রসনা-সংস্কৃতি জড়িয়ে আছে। তাকে বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়াটাও হবে একটা বড় কাজ। হবে না?’

    ব্রজেশ্বরবাবু বললেন, ‘অবশ্যই হবে। আলবাত হবে।’

    কৌশিক উত্তেজনায় উঠে দাঁড়াল। পায়চারি করতে করতে বলতে লাগল, ‘চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি, সেন্ট পিটসবাগ, নিউ ইয়র্ক, ওসাকা, গুয়েতামালা, প্যারিসের মিষ্টির আউটলেটগুলোর সামনে লম্বা লম্বা লাইন। কোথাও বৈকুণ্ঠভোগ বিক্রি হচ্ছে হুড়মুড় করে। কোথাও বাবর শা ফুরিয়ে যাওয়ার মুখে। কোথাও এলাচ বরফির স্টক শেয। ইন্টারনেটে একটা দোকান থেকে আর একটা দোকানে সিউড়ির মোরব্বা, গুপ্তিপাড়ার কাঁচাগোল্লা, রানাঘাটের পান্তুয়া চেয়ে মেসেজ যাচ্ছে। কলকাতায় আমাকে ই-মেলে জানানো হচ্ছে। ওফ!’

    ব্রজেশ্বরবাবু মুগ্ধ গলায় বললেন, ‘তুই যা বলছিস সে তো অনেক টাকার ব্যাপার রে? অত টাকা পাবি কোথা থেকে?’

    কৌশিক হেসে ফেলল। যেন গোটা ব্যাপারটার মধ্যে টাকাটাই সবথেকে তুচ্ছ অংশ। বলল, ‘মূল টাকাটা আসবে ডিস্ট্রিবিউটারদের কাছ থেকে। আপাতত হাজার তিরিশ-চল্লিশ টাকার ব্যবস্থা করতে হবে। স্যাম্পেল বানাতে হবে। স্যাম্পেল পাঠালে তবে অর্ডার। তা ছাড়া এসব মিষ্টির কারিগর তো আর চট বলতে পাব না। খোঁজাখুঁজির ব্যাপার আছে। অর্ডার হলে ব্যাঙ্কে যাব, সরকারের কাছে যাব। কিছু একটা হয়ে যাবে।’

    ব্রজেশ্বরবাবু ফিসফিস করে বললেন, ‘না হবে না। তবে সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হল, স্বপ্ন। দ্য ড্রিম। তুমি নেমে পড়ো। আমি তোমাকে পঞ্চাশ হাজার টাকার চেক লিখে দিচ্ছি। মাকে এখনই বলার দরকার নেই।’

    কৌশিকের ইচ্ছে করছে বাবাকে জড়িয়ে ধরে কিছুক্ষণ নাচে।

    জায়গা জোগাড় হল। ভবানীপুরের কাছে একফালি গ্যারেজ ঘর। দশহাজার টাকার বায়না। গ্যারেজের ওপর সাইনবোর্ড লাগানো হল—‘মিসিং সুইটস—অফিস কাম ওয়ার্কশপ।’ তারপর শুরু হল সবথেকে কঠিন কাজ। হারিয়ে যাওয়া সন্দেশের রেসিপি এবং কারিগরের সন্ধান। নামকরা মিষ্টির দোকানগুলোতে ঘুরে ময়রার দেখা পাওয়া গেল, কিন্তু সব শুনে তারা ঘাবড়ে গেল। যার নাম শোনেনি সে জিনিস তারা বানাবে কী করে? শেষপর্যন্ত খবর পাওয়া গেল, বর্ধমানে নাকি একজন আছে। লোকটার পূর্বপুরুষদের কেউ একজন বর্ধমানের রাজার প্রাইভেট ময়রা ছিল। কৌশিক ছুটল। লোকটা কৌশিককে একটা হলদেটে মার্কা সার্টিফিকেট দেখাল। রাজারা কাগজে লিখে সার্টিফিকেট দিতেন এমন কোনও কথা কৌশিকের জানা নেই। কিন্তু উপায় কী? রাজি হল কৌশিক।

    কিছুদিনের মধ্যে রাজবাড়ির ময়রা বর্ধমানের গ্রাম থেকে ভাগনে, শালা, ভগ্নিপতি এবং তাদের মোট চারটি ছেলেমেয়ে নিয়ে এসে ভবানীপুরের গ্যারেজে বাসা বাঁধল। তারা একমাসের অগ্রিম বেতন তো বটেই, সেই সঙ্গে উনুন, কড়াই, হাতা কেনার টাকাও চেয়ে নিল। সেখানে গুছিয়ে বসতে-না-বসতেই দিন তিনেকের মাথায় মোটরবাইক চালিয়ে দুটি ছেলে এসে হাজির। তাদের একজনের হাতে মোবাইল। একজনের কানে দুল। একগাল হেসে কৌশিককে বলল, ‘দাদাভাই, এসে গেছি। দুটো ঠান্ডা বলুন। শুনলাম দাদাভাই বাংলার মিষ্টি ফিস্টি নিয়ে কী একটা কল ফেঁদেছেন। বেশ করেছেন দাদাভাই, ভাল করেছেন। তাই তো কবি বলেছেন, বাংলার মাটি, বাংলার জাল। কিন্তু দাদাভাই, শুধু বাংলার সন্দেশ রসগোল্লার জন্য ভাবলে কি চলবে? পাড়ার বাংলার ভাইদের জন্যও যে একটু ভাবতে হবে। হাজার পাঁচেক রেডি রাখবেন দাদাভাই। কাল এসে নিয়ে যাব। কই ঠান্ডা কোথায়?’

    কৌশিক ব্যাঙ্কে গেল। ম্যানেজার চোখ সরু করে বললেন, ‘দুঃখিত, সন্দেশের জন্য লোন সিস্টেম এখনও চালু করতে পারিনি। তবে আশা করি, যেভাবে এগোচ্ছি, তাতে কিছুদিনের মধ্যে সন্দেশ, নাড়ু, তালের বড়ার জন্য ঋণদান প্রকল্প আমরা চালু করতে পারব। আপনি বরং কুটির শিল্প দপ্তরে যান।’

    কুটির শিল্প দপ্তরের কর্মীরা কচুরিপানার চেয়ার সংক্রান্ত একটা ফাইল নিয়ে খুবই ব্যস্ত ছিলেন। তার ফাঁকেই সব শুনে বললেন, ‘এক্সপোর্ট ফেক্সপোর্টের ঝামেলা আছে। এল সি খুলতে হবে। আপনি মাঝারি শিল্প দপ্তরে গিয়ে একবার দেখতে পারেন।’

    মাঝারি শিল্প দপ্তর অফিসের কর্মীরা এতক্ষণ গোমড়া মুখে কাজ করছিলেন। কৌশিকের প্রজেক্ট পৌঁছোতে টেবিলে টেবিলে হাসির তুফান উঠল। অফিসার ভদ্রলোক হাসিহাসি মুখে বললেন, ‘মিস্টার ঘোষ, আপনি কি আপনার প্রোডাক্টের দু’-একটা স্যাম্পেল এনেছেন? এই ধরুন দুটো গোলাপফুল সন্দেশ বা খানচারেক লর্ড রিপন? আনবেন, তারপর আমরা আপনার প্রজেক্টের ভায়াবিলিটি ভেবে দেখব। আর একটা কাজ করতে পারেন। আপনি কয়েকটা প্লাস্টিকের সন্দেশ তৈরি করে দেখতে পারেন৷ তা হলে প্রজেক্টটা আমরা হলদিয়া পেট্রোকেমিকালের ডাউনস্ট্রিমের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার কথা ভাবতে পারি। হা হা।’

    রাতে আকাশ-বারান্দায় চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে কৌশিক। ব্রজেশ্বর পাশে এসে দাঁড়ালেন। পিঠে হাত রেখে বললেন, ‘কী রে, মন খারাপ?’ কৌশিক ম্লান হেসে বলল, ‘না বাবা, মন খারাপ নয়। ক্লান্ত লাগছে।’ ব্রজেশ্বর হেসে বললেন, ‘ক্লান্ত তো লাগবেই। সব পথেরই শর্ট কাট আছে, শুধু স্বপ্নের পথে কোনও শর্ট কাট নেই।’ তুই বরং একটা কাজ কর। আমার উনিশ নম্বর ক্যাসেটটা নিয়ে একটু শোন। ওটায় কিছু মাইগ্রেটারি পাখির ডানা ঝাপটানোর আওয়াজ পাবি। ক্লান্তি ঝেড়ে উড়ে যাওয়ার আওয়াজ। ইট মে হেলপ ইউ। শুনবি?’ কৌশিক বলল, হ্যাঁ, শুনব। তুমি ক্যাসেটটা দাও।’

    কৌশিক ভেবেছিল, এতদিনে ওয়ার্কশপে কাজ শুরু হয়ে গেছে। স্যাম্পেল তৈরি হবে। পরশু ছানা, ক্ষীর, এলাচ কেনবার টাকা দিয়ে এসেছে। বর্ধমানের ময়রা টাকা হাতে নিয়ে সেদিনও বলল, সে পারবে। এটাই আশার কথা। সবথেকে বড় আশার কথা। প্রোডাক্ট ঠিকমতো হলে বাকিটা ঠিক হয়ে যায়।

    কিন্তু একী! দুপুরে কৌশিক ‘মিসিং সুইটস’ গ্যারেজে ঢুকে একেবারে থ! উনুনটুনুন কিছুই কেনা হয়নি। রাজবাড়ির ময়রা দলবল নিয়ে শতরঞ্চি পেতে মন দিয়ে তাস খেলছে। গেটের মুখে নানা রঙের পতাকা, ফেস্টুন। ঘরের দেয়ালে আলতায় লেখা পোস্টার—‘মিসিং সুইটস এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন লড়ছে লড়বে।’

    হতভম্ব ভাব কাটার পর, কৌশিক চিৎকার করে বলল, ‘কী হচ্ছে এসব? কাজ না করে আপনারা তাস খেলছেন?’

    ময়রাবাবু প্রথমে তাসের চাল ফেলল। তারপর বলল, ‘চেঁচাবেন না স্যার। আগে পাওনা গন্ডার কথা পাকা হবে। পুজো বোনাসের কী হল তার কাগজপত্র দেখাবেন। রাজা বাদশার সন্দেশ বানিয়ে বিদেশে পাচার করবেন আর আমরা গরিব গুব্বো মানুষ কি না খেয়ে মরব স্যার? এখন আসুন দেখি, খেলার সময় বিরক্ত করবেন না।’

    গাড়ি ঘুরিয়ে থানায় গেল কৌশিক। সেকেন্ড অফিসার বলল, ‘খেপেছেন মশাই? স্টাইকারদের গায়ে হাত? লোকাল নেতাটেতা ধরে মিটিয়ে নিন।’

    লোকাল নেতার কোনও নাম নেই, শুধু পদবি আছে। জোয়ারদার। খুবই বিনয়ী ধরনের মানুষ। চা খাওয়ালেন। বললেন, ‘আপনার প্রজেক্ট শুনতে উদ্ভট কিন্তু ইন্টারেস্টিং। বড় কথা হল, শুধু ব্যাবসা নয়, আপনি দেশের জন্য ভেবেছেন। দিস ইজ গুড। ভেরি গুড। আমরাও দেশের জন্য ভাবি, কিন্তু পাবলিক বিশ্বাস করে না। আপনি চিন্তা করবেন না, এসব বর্ধমান ফর্ধমানের লোক আমি তুড়ি মেরে হাটিয়ে দিচ্ছি। আমার খানদশেক ছেলেকে নিয়ে নিন।’

    কৌশিক আমতা আমতা করে বলল, ‘আপনার ছেলেরা কি সন্দেশ বানাতে পারবে?’ জোয়ারদার হো হো শব্দে হেসে উঠল, ‘সন্দেশ বানাবে! ওরা সন্দেশ বানাবে কেন? পার্টির কত কাজ জানেন আপনি? পাবলিককে সার্ভিসেস দিতে দিতে জান কয়লা হয়ে যায়। ছানা পাকানোর জন্য আপনি অন্য লোক খুঁজে নেবেন। আমার ছেলেরা মাসে একবার গিয়ে মাইনে তুলে আনবে। কোনও সাতপাঁচে থাকবে না— এটা গ্যারান্টি। আপনি সন্দেশ বানাবেন না, গাঁজা গাছ লাগাবেন, নো মাথা ব্যথা।’

    কৌশিক চাকরি নিয়েছে। কোম্পানি বিদেশি নয়, দেশি। পদ বড় হলে কী হবে, মাইনে তেমন বেশি নয়।

    গায়ত্রীদেবী রান্নাঘরে। তাঁর চোখে আজও জল। তবে এই জল চোখের নয়, শুকনো লঙ্কার ঝাঁঝের জল। আজ তিনি শুধু চা নয়, খুব আনন্দের সঙ্গে রান্নাও করছেন। ছেলে আজ থেকে নতুন অফিসে যাচ্ছে।

    আঁচলে হাত মুছে, চা নিয়ে আকাশ বারান্দায় উঠে এলেন গায়ত্রীদেবী। ব্রজেশ্বরবাবুর চোখ বোজা, কানে ওয়াকম্যান। ক্যাসেটের নম্বর পাঁচের চ। পাখিদের নাম, দোয়েল এবং ফিঙে। ক্যাসেট শেষ হলে তিনি চোখ খুললেন। একটু হাসলেন। বললেন, ‘বুঝলে গায়ত্রী। বাংলার দোয়েল আর ফিঙের মতো চমৎকার ডাক পৃথিবীর আর কোনও পাখিরই নেই।’

    গায়ত্রীদেবীর মুখ হাসিহাসি। স্বামীর দিকে তাকিয়ে গলা নামিয়ে বললেন, ‘পাগল কোথাকারে!’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }