Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীল আলোর ফুল – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প591 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বিবাহবার্ষিকী

    অপর্ণার পায়ের বুড়ো আঙুল ঝিনঝিন করছে। ডান পায়ের বুড়ো আঙুল। এখনই সামলাতে না পারলে এই ঝিনঝিন ভাবটা ছড়িয়ে পড়বে অন্য আঙুলগুলোতেও। বিচ্ছিরি একটা ব্যাপার হবে।

    রাগ হল মাথার জিনিস। রাগের লক্ষণ যদি কিছু ঘটে, তবে তাকে ঘটতে হবে মাথার কাছাকাছি। মাথা টিপটিপ করবে, ঘাড়ে টান লাগবে, ব্ৰহ্মতালুতে জ্বালা জাতীয় একটা অনুভূতিও হতে পারে। অপর্ণার ক্ষেত্রে উলটো ঘটে। তার রাগের লক্ষণ পায়ের দিকে শুরু হয়। ঝিঁঝিঁ ধরনের একটা ব্যাপার। অনেকে রাগ হলে মাথায় জল দেয়। অপর্ণা পায়ে জল ঢেলে দেখেছে। রাগ কমেনি, বরং পুরনো রাগের সঙ্গে নতুন আর একটা রাগ তৈরি হয়েছে। জল ঢালার রাগ।

    সুতরাং আজও জল ঢেলে লাভ হবে না। অন্যভাবে কিছু করতে হবে। দাঁত দিয়ে ঠোঁট চেপে অপর্ণা নিজেকে সামলাতে চেষ্টা করল।

    আজ অপর্ণা এবং সুমিতের বিবাহবার্ষিকী। একাদশতম বিবাহবার্ষিকী। এগারো নম্বর বিয়ের দিন আহামরি কোনও ব্যাপার নয়। জন্মদিন আর বিবাহবার্ষিকীর এই একটা গোলমাল। তারা প্রথমদিকে এবং পরের দিকে গুরুত্বপূর্ণ। মাঝের দিকগুলো হেলাফেলার। গতকাল রাতে অপর্ণা-সুমিত দু’টি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক নম্বর সিদ্ধান্ত হল, কোনও বাড়াবাড়ি নয়। নো অনুষ্ঠান। দু’নম্বর সিদ্ধান্ত হল, আজ তারা কিছুতেই ঝগড়া করবে না। শত প্রলোভন এলেও না।

    অপর্ণার এখন মনে হচ্ছে, বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে। ঝগড়া বিষয়ে সিদ্ধান্তটি নেওয়া ঠিক হয়নি।

    এই সকালেই তার রাগে ফেটে পড়তে ইচ্ছে করছে। বিবাহবার্ষিকীর দিন যে-স্বামী বাজার থেকে বড়সড় একটা থোড় কিনে আনে, তার সঙ্গে ঝগড়া না-করাটা একটা অন্যায় কাজ। পটলের মা গত সপ্তাহে খুব স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, থোড় সে কাটতে পারবে না। তার জন্য যে-কোনও রকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে সে রাজি। এমনকী সেরকম হলে থোড়ের জন্য সে কাজ ছেড়ে দেবে। সুমিত এই হুমকির কথা জানে না তা নয়। তবু জেনেশুনে সে আজও একটা নধর গোছের থোড় নিয়ে এসেছে। শুধু নিয়ে আসেনি, আনার পর নিশ্চিন্ত মনে সোফায় বসে খবরের কাগজ পড়ছে।

    অপর্ণার মনে হচ্ছে, এই সময় আলোচনা হওয়া উচিত এরকম:

    — থোড় এনেছ কেন?

    — এ প্রশ্ন করছ কেন, অপর্ণা? খাওয়া ছাড়া থোড়ের অন্য কোনও ইউজ কি তোমার জানা আছে? আমার নেই। ভাল করে রান্না করো। ঝাল কম দিয়ো। আজকাল তোমার হাতে ঝালটা একটু বেশি হচ্ছে।

    —খুবই অন্যায় হচ্ছে। মাপ করে দিয়ো। তবে তুমি একটা কাজ করো। ভবানীপুরে ফোন করে তোমার মাকে বরং একবার এখানে আসতে বলো। আজকাল ওনার মুখে ধারটা একটু বেশি হচ্ছে। থোড় কাটতে ধার একটু বেশিই লাগে। উনিই বরং কেটে দিয়ে যান।

    — আহা, তুমি অমন করে বলছ কেন? ভাবটা এমন করছ যেন আমি আজ বাজার থেকে শুধু থোড় এনেছি! তা তো নয়। গলদা চিংড়িও এনেছি। চিংড়ি তো তোমার হট ফেভারিট— তাই না? জানোই তো আমার চিংড়ি স্যুট করে না। খেলে কান চুলকায়। জানো না? জানো, অবশ্যই জানো। তোমার বাপের বাড়িতেও সকলে জানে। তবু নেমন্তন্ন করলে ওরা চিংড়ি আনায়। আমার মনে হয়, ইচ্ছা করেই আনায়— যাতে আমার কান চুলকোয়। তোমার কী মনে হয়?

    — আমার মনে হওয়াটা বড় কথা নয়। আমার বাপের বাড়িতে না হয় দুশো টাকার চিংড়ি খাওয়ায়, তোমার বড়লোক মামা-মাসির বাড়িতে কী খাওয়ায় সেটা কি তোমার মনে আছে? বেশিরভাগ দিনই চা, শুধু চা। সারাগায়ে অত হিরে মুক্তো পরে শুধু চা দিতে বারণ কোরো। এতে শরীরে মেটালিক রিঅ্যাকশন হয়।

    কিন্তু এ আলোচনা আজ করা যাবে না। আজ সে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    আজ তাই আলোচনাটা হল এরকম:

    অপর্ণা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে বলল, ‘থোড় এনে ভালই করেছ। ক’দিন ধরে আমি থোড়ের কথাই ভাবছি।’

    সুমিত খবরের কাগজ থেকে মুখ তুলে লজ্জিত ভঙ্গিতে বলল, ‘আরে না না, আজ একদম থোড়ফোড় আনতে চাইনি। আজ এসব ঝক্কির জিনিস কেউ আনে? আনাজওলা জোর করে গছিয়ে দিল। বিচ্ছিরি লাগছে।’

    অপর্ণা বলল, ‘থাক, আর ছি ছি করতে হবে না। তোমার প্রিয় জিনিস। আজ আনবে না তো কবে আনবে? ভাল করে রাঁধব’খন। একটু বেশি মিষ্টি দেব ভাবছি। আর থোড় খাওয়া ভাল। নীচের ফ্ল্যাটের জেঠিমা বলছিল, থোড়ে দারুণ রক্ত হয়। বাপিরও ভাল হবে। সেদিন খেলতে গিয়ে কতটা যে কেটে এল। ইস! অনেকটা রক্ত গেছে।’

    বাপির নাম শুনেই সুমিতের শরীরে একটা কাঁপুনি এল। মানুষের শরীরে কাঁপুনি আসে প্রধানত দুটো কারণে। ভয়ে আর ম্যালেরিয়ায়। সুমিতের আসে রাগে। কাঁপুনি বাইরে থেকে দেখা যায় না। ভেতরে ভেতরে তরঙ্গের মতো ছড়াতে থাকে। তখন সুমিতকে উঠে পায়চারি করতে হয়। ফ্ল্যাটের এ-মুড়ে থেকে ও-মুড়ে। এই পর্যায়ে অপর্ণা গুনগুন করে গান করবে। রবি ঠাকুরের ঋতু পর্যায়ের কোনও গান। তবে গানের ভান সে বেশিক্ষণ টেকাতে পারবে না। সুমিত চেঁচালে সেও গলা তুলবে। এবং অবধারিতভাবে জিতবে। সুমিতের ধারণা, খারাপ জিনিস ভগবান কম করে দেন। ভালর সময় তাঁর হাত থাকে দরাজ। যেমনটা ঘটেছে অপর্ণার ক্ষেত্রে। সুন্দর মুখ, সুন্দর হাসি, সুন্দর রান্নার গুণের সঙ্গে ভগবান তাকে সুন্দর ঝগড়ার ক্ষমতা দিয়েছেন।

    ক্লাস ওয়ানে পড়া ছেলের নাম শুনলে বাবার রেগে যাওয়ার কোনও যুক্তিসম্মত কারণ নেই। কিন্তু ছেলে যদি স্কুলের ডিকটেশন পরীক্ষায় শূন্য পেয়ে আসে, তা হলে বাবার না রেগে বসে থাকাটা নীতিগতভাবে অন্যায় কাজ।

    বাপির ক্লাস পরীক্ষা ছিল গতকাল। গতকালই যদি সে জানত নম্বর শূন্যে নেমে এসেছে, তা হলে অপর্ণার সঙ্গে ঝগড়া সংক্রান্ত কোনও চুক্তিতেই যেত না। বাপির খাতা সে কাল দ্যাখেনি। দেখল আজ। বাপির পড়ার টেবিলে পড়ে ছিল। আচ্ছা, এর জন্যই অপর্ণা ঝগড়ার ব্যাপারটা বানায়নি তো? হতেও পারে। কারণ এই শূন্য তো বাপির শূন্য নয়, এই শূন্য হল অপর্ণার শূন্য।

    সুমিতের খুব ইচ্ছে করছে, এখন অপর্ণাকে সে জিজ্ঞেস করে, ‘তুমি কি জানো, বাপি কাল ডিকটেশনে কত পেয়েছে?’ বললেই আলোচনাটা দাঁড়াবে এই রকম:

    — এমন করে কেন বলছ? বাপির পড়াশোনার কোনও খবর তুমি রাখ কি? সারাদিন তো ব্যাবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকো। আমি জানি ও জিরো পেয়েছে।

    — বাঃ জানো দেখছি। আচ্ছা, তুমি কি এটাও জানতে যে বাপির পরীক্ষা হবে?

    — হ্যাঁ, জানতাম।

    — ভেরি গুড়। একে বলে মার্ডার ইন কনসেন্‌স। সজ্ঞানে হত্যা। তুমি তা হলে জেনেশুনে বাপির পরীক্ষাটাকে খুন করেছ?

    — কেন? পরীক্ষা তো আমি দিতে যাইনি। তোমার কি মনে হয়, আমি দিয়েছি?

    — না, পরীক্ষা দিতে যাওনি ঠিকই, কিন্তু পরীক্ষার আগের দিন বাপিকে নিয়ে দাদার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলে।

    — বেড়াতে মোটেই যাইনি। বউদির পায়ে চোট লেগেছে, তাই দেখতে গিয়েছিলাম। গতবার বাপির ফাইনালের আগে তুমি তিনবেলা ঠেলে হাসপাতালে তোমার পিসিকে দেখতে পাঠাতে না? তাও যদি নিজের পিসি হত! শুনেছি মাসতুতো পিসি।

    — পিসির অপারেশন হয়েছিল। তোমার বউদির তো অপারেশন হয়নি।

    — আজকাল পয়সা থাকলে ইনফ্লুয়েঞ্জাতেও অপারেশন হয়। ওটা বড় কিছু নয়।

    কিন্তু ইচ্ছে হলেই সব বলা যায় না। এখনও গেল না। চুক্তি যদি ভাঙতে হয়, তা হলে অপর্ণাই আগে ভাঙুক। সে কেন দোষের ভাগী হবে? ফলে যা বলার, মনের ইচ্ছে গোপন করে বলতে হল। সে বলল, ‘অপর্ণা, বাপি দেখলাম ডিকটেশনে তেমন ভাল করেনি।’

    অপর্ণা মনমরা গলায় বলল, ‘হ্যাঁ।’

    ‘তুমি অত চিন্তা কোরো না। ক্লাসপরীক্ষায় ওরকম এক-আধবার হয়। বাচ্চার পরীক্ষা নিয়ে বাড়াবাড়ি ভাল নয়।’

    ‘না গো, দোষটা আমারই। আগের দিন ফট করে দাদার ওখানে চলে গেলাম।’

    ‘আরে, সে তো যেতেই হবে। বউদি আছে কেমন? ছিঃ, আমার একটা ফোন করা উচিত ছিল।’

    অপর্ণা কপট রাগ দেখিয়ে বলল, ‘রাখো তো বউদি। চোট না ছাই। খাটের কোনায় একটু লেগেছে, তাই নিয়ে একেবারে তুলকালাম। এক্সরে ফেক্সরে করিয়ে একাকার।’

    ‘না না, এক্সরে করিয়ে ভালই করেছে। আজকাল ছোট থেকে কত কী বড় হয়ে যায়। আমাদের অফিসে..’

    ‘রাখো তোমাদের অফিস। বউদির এসব বানানো। রান্নাঘরে না ঢোকার প্ল্যান। ক’দিন বিছানায় শুয়ে গল্পের বই পড়বে। এরকম আলটুসকি হলে চলে? তোমার পিসিমাকে একবার দ্যাখো তো! দেখলে কত ভাল লাগে। অ্যাঁ! অত বড় একটা অপারেশন হল, তারপরেও গটমট করে চলছেন। বয়স তো কম হল না!’

    সুমিত অপর্ণার মুখের কথা একেবারে লুফে নিল, ‘শুধু আমার পিসির কথা বলছ কেন? তোমার দিদিরটাও বলো। মহিলা কিছু কাজ করতে পারেন বটে। তোমার বিয়ের সময় কী খাটানটাই খেটেছিলেন! আজও মনে আছে।’

    সুমিতের মনে হল, সে দড়ির ওপর দিয়ে হাঁটছে। যে-কোনও সময় পড়ে যেতে পারে। সারাটা দিন তাকে এইভাবে হাঁটতে হবে? সুমিতের দমচাপা একটা ভাব আসিছে।

    অপর্ণাদের রান্নাঘরের আয়োজন আধুনিক এবং মূল্যবান। গ্যাস, মাইক্রোওয়েভ উনুন, রাইস কুকার, মিক্সি সবই আছে। রান্না করার পরিশ্রম নেই বললেই চলে। তবু আজ অপর্ণার অসম্ভব পরিশ্রম হচ্ছে। পেঁয়াজ যেমন রান্নাঘরে রাঁধুনিকে কাদিয়ে দিতে পারে, থোড় তেমনি পারে খাটিয়ে নিতে। থোড় কাটা এবং রান্না করাকে পর্বত অভিযানের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। একটা সময় অপর্ণার নিজেকে বাচেন্দ্রি পালের মতো মনে হল। তার মনে হচ্ছে, এত সব যন্ত্রের বদলে তার একটা থোড় কাটা এবং রান্নার মেশিন থাকা উচিত ছিল। উলটোপালটা ভাবলে মনঃসংযোগ নষ্ট হয়। অপর্ণারও হল। বঁটিতে তার ডানহাতের কড়ে আঙুল খানিকটা কেটে গেল। কলের তলায় হাত পেতে অপর্ণা ভাবল, নাঃ, ঝগড়া বন্ধ করার কাজটা মোটেই ভাল হয়নি। এগারো নম্বর বিয়ের দিনে এই ন্যাকামিটা না করলেও চলত। ঝগড়া চেপে রাখায় শরীরে গ্যাসের মতো বিশ্রী একটা এফেক্ট হচ্ছে।

    একাদশতম বিবাহবার্ষিকীতে এরপর দুটো ঘটনা ঘটল। খুবই মারাত্মক ঘটনা। ঘটনা এই মাপের মারাত্মক হলে যে-কোনও দুটো দেশের মধ্যে শান্তি-চুক্তি ভেঙে যেতে পারে, অপর্ণা-সুমিতের ঝগড়া তো নস্যি। তবু তারা দাঁতে দাঁত চেপে রইল।

    প্রথম ঘটনা এরকম:

    দুপুরে খাওয়ার পর অপর্ণা বলল, ‘ছুটি যখন নিছেই, চলো, একটা কাজ সেরে আসি।’

    সুমিতের ভুরু কুঁচকে গেল। ইচ্ছে ছিল একটু গড়িয়ে নেওয়ার। অপর্ণার বেরোনোর প্রস্তাব মানেই ভয়ংকর। এই প্রস্তাবের প্রথম পর্বের পরই আসবে দ্বিতীয় পর্ব। সেই পর্ব হল আদেশ-পর্ব। সে গম্ভীর গলায় বলবে— গাড়ি কি অফিসে রেখে এসেছ নাকি এখানেই আছে?

    আদেশ অনুরোধের ঢঙে আসার ফলে সুমিতের শরীরে কাঁপুনি বাড়বে। কাঁপনি থেকে পায়চারি। পায়চারি থেকে রাগ।

    নিজেকে সামলে সুমিত বলল, ‘আজ বেরোলে কিন্তু আমি গাড়ি নিয়ে বেরোব অপর্ণা। তা ছাড়া বিয়ের তারিখে বউকে পাশে বসিয়ে গাড়ি চালানোর মধ্যে একটা থ্রিল আছে। একটা পালানো পালানো ফিলিংস হয়।’

    রোমান্টিকতার দিক থেকে বিচার করলে বিয়ের এগারো বছরের মাথায় এই রসিকতা যথেষ্ট নিম্নমানের। অপর্ণার খুশি হওয়ার কোনও কারণ নেই। গাড়ি সুমিতের একার নয়। জয়েন্ট ফ্যামিলির গাড়ি। বেশিরভাগ সময়টাই ব্যাবসার কাজে ব্যস্ত থাকে। অপর্ণা মনে করে ভাগের গাড়িতে চড়াও যা, প্রাইভেট বাসে ওঠাও তাই। কবে গাড়ি সুমিতের ভাগে পড়বে তার দিনক্ষণ জেনেশুনে অপর্ণাকে বেরোনোর প্রোগ্রাম ঠিক করতে হয়। এটা শুধু যে অপমানের তা নয়, যথেষ্ট অনিশ্চয়তারও। এই যেমন দিদির মেয়ের জন্মদিন আসছে। সুমিতের ভাগে কি গাড়ি পড়বে? যদি পড়ে, তা হলে প্ল্যান হবে একরকম। তসরের শাড়িটা ভাঙা যাবে। সুমিতও না হয় পাঞ্জাবি-পাজামা পরতে পারবে। গয়নাগাঁটিও খুশিমতো পরা যায়। আর গাড়ি যদি সেদিন ভাগে না পড়ে? প্ল্যান বদলে ফেলতে হবে। ট্যাক্সির কথা মাথায় রেখে তসর পরা যায় না। পরতে হয় সিল্ক। গয়নার তো প্রশ্নই ওঠে না।

    সেই গাড়িকে জড়িয়ে প্রেমের গল্প শুনে খুশি হওয়ার কোনও প্রশ্ন ওঠে না। তবু চুক্তির কথা মনে করে চোখেমুখে খুব খুশিখুশি ভাব আনল অপর্ণা। নরম গলায় বলল, ‘কোথায় পালাবে?’

    ‘কোথায়? এই ধরো, এই ধরো ডায়মন্ডহারবার।’

    ডায়মন্ডহারবার পর্যন্ত যেতে হল না। গড়িয়াহাট পর্যন্ত যাওয়ার আগেই মারাত্মক ঘটনাটা ঘটল। আসলে অপর্ণা বেরিয়েছিল দিদির মেয়ের জন্য ফ্রক কিনতে। জন্মদিনের ফ্রক পার্টি ফ্রক। পাটি ফ্রকের দাম একটু ওপরের দিকে হয়। দু’দিন আগে সুমিতের সঙ্গে সে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিল। তখন তুমুল ঝগড়াও হয়।

    সুমিত বলেছিল, ‘জন্মদিনে সাড়ে পাঁচশো টাকার ফ্রক! একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে না? বিয়েটিয়ে হলে না হয় কথা ছিল!

    ‘আমার মনে হয়, বিয়েতে ফ্রক দেওয়াটা আরও বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। যখন কথা বলবে, একটু ভেবেচিন্তে বলবে।’

    ‘না, আসলে একটা হিসেব করছি। তোমার দিদির তিন ছেলেমেয়ে। জন্মদিনপিছু সাড়ে পাঁচশো। মানে বছরে সাড়ে ষোলোশো। হিসেব করে দ্যাখোনি বোধহয়।’

    সেই ফ্রক কিনতে আজ বেরোনোর পর বাইপাসের ওপর দুধসাদা মারুতি ভ্যানের তৈল ফুরিয়ে গেল। স্টার্ট বন্ধ করে সুমিত বলল, ‘যাঃ বাবা, তেল নেই!ইস, একটু দেখে বেরোনো উচিত ছিল।’ মুখটা তার খুবই লজ্জালজ্জা। যেন বউয়ের কাছে লজ্জাটাই এখন মুখ্য ব্যাপার, তেল ফুরিয়ে যাওয়াটা এমন কিছু নয়।

    অপর্ণার প্রথমে সন্দেহ হল, এটা গট আপ। ফ্রক যাতে কেনা না হয়—তারই ফন্দি। পরে এই সন্দেহ দৃঢ় হল। বাইপাসে তেলফুরনো গাড়িতে বসে থাকাও যা, পাশের চলন্ত গাড়ির তলায় ঝাঁপ দেওয়াও তাই। বরং সামান্য ভাল হলেও হতে পারে। এই লোক সম্পর্কে আজ রাতের আগেই সে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবে বলে ঠিক করল।

    দু’নম্বর মারাত্মক ঘটনাটা ঘটল সন্ধের পরে।

    নিয়ম অনুযায়ী মাঝারি সময়ের বিবাহবার্ষিকীগুলোতে একটা-না-একটা আদিখ্যেতা পাটি আসে। তাদের নিমন্ত্রণ করতে হয় না। এ-বাড়িতেও আজ এল। চন্দনা আর তার স্বামী। দরজা খুলেই সুমিতের মাথায় আগুন জ্বলে উঠল। যাঃ সন্ধেটা গেল। চন্দনা অপর্ণার কলেজের বন্ধু। অনার্সের বন্ধু নয়, পাশ ক্লাসের বন্ধু। কলেজের পাশক্লাসের বন্ধুরা বিয়েতে আসতে পারে কিন্তু বিবাহবার্ষিকীতে আসে না। নিশ্চয় অপর্ণা গোপনে নেমন্তন্ন করেছে। অতিথিদের চা এবং ডিমের পকোড়া দেওয়া হল। রান্নাঘরে চন্দনা অপর্ণাকে সাহায্য করতে গিয়ে একটা কাটগ্লাসের দামি জাগ ভেঙে ফেলল।

    অপর্ণা তাকে গম্ভীর হয়ে বলল, ‘চন্দনা, তুমি বাইরে গিয়ে বোসো।’

    বেরোনোর সময়ে লাজুক মুখে চন্দনা বলল, ‘অপর্ণা, তোদের জন্য একটু ফুল এনেছিলাম।’

    সুমিত চমকে উঠল। উফ্‌! সেই ফুল ! সঙ্গে কাচের বাটি আনেনি তো? বিবাহবার্ষিকীতে এই ধরনের জোর করে আসা অতিথিরা এক ধরনের বাসি ফুল নিয়ে আসে। নইলে ফুটপাত থেকে কাচের সস্তা বাটি কেনে। তারপর এমনভাবে সেই বাটি বের করে যেন সিঙ্গাপুর থেকে আনা হয়েছে। চন্দনার অগা ধরনের স্বামী লোকটা তার কাঁধের ঝোলা থেকে দোমড়ানো একটা কাগজের মোড়ক বের করল। মোড়কের বাইরে থেকে সবুজ ডাঁটি দেখা যাচ্ছে। কী ফুল বোঝা যাচ্ছে না। বোঝার দরকারও নেই। এরা চলে গেলে অপর্ণার সঙ্গে একটা চরম হেস্তনেস্থ করা প্রয়োজন।

    রাতে শোবার ঘরে এসে জানলাটা খুলে দিল সুমিত। পাঁচতলার ফ্ল্যাটে এমনিতেই খুব হাওয়া। আজ যেন মনে হচ্ছে হাওয়াটা বাড়াবাড়ি রকমের বেশি। গতকাল বাপিকে ওর মামারা নিয়ে গেছে। দু’দিন কাটিয়ে, সোমবার একেবারে কল করে ফিরবে। সুমিত একটা সিগারেট ধরাল। অপর্ণা চুল আঁচড়াচ্ছে। তারা দুজনেই বড় ধরনের ঝগড়ার জন্য প্রস্তুত। সারাদিন যা যা ঘটেছে, তার যে-কানও একটা দিয়েই শুরু করা যেতে পারে।

    অপর্ণা উঠে এসে টোপে একটা ক্যাসেট চাপাল। রবীন্দ্রসংগত। ইচ্ছে করেই চাপাল। রাতে রবীন্দ্রসংগীত শুনলে সুমিত বিরক্ত হয়। রাতে সে হালকা করে শোনে পিঙ্ক ফ্লয়েড। সুমিতের মনে হল, এখনই বদলা নেওয়া উচিত। অ্যাশট্রেতে সিগারেট ফেলে সে উঠে এল। তারপর চন্দনার, অনা ফুলসমেত কাজের মোড়টা ছুড়ে দিল জানলা দিয়ে। আর তখনই কেলেঙ্কারিটা ঘটল ! ফুল নীচে পড়ে গেল ঠিকই, কিন্তু পড়বার আগে হাওয়ার জোর খুলে গেল কাগজের মোড়কটি। একগাদা হলুদ পাপড়ি জানলার ফাঁক দিয়ে উড়ে এসে ঘরের মেঝেতে আর বিছানায় ছড়িয়ে পড়ল।

    স্বামীর ভ্যাবাচ্যাকা মুখ দেখে প্রথমে হাসল অপর্ণা। তারপর হাসল সুমিত। আইর্যের বিষয় হল, একসময় দু’জনেই হাসতে লাগল।

    গভীর রাতে সুমিত এবং অপর্ণার ঝগড়া ঠিক কী পর্যায়ের হয়েছিল, তা বলা যাচ্ছে না। কারণ সেই সময় বিছানায় পড়ে থাকা কিছু পাপড়ি এবং জানলার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি চাঁদ ছাড়া কেউ সেই ঘটনার সাক্ষী ছিল না। মুশকিল হল, মানব-মানবীর রহস্যময় ভালবাসার সময় এরা বারবার সাক্ষী থাকে, কিন্তু কখনও মুখ ফুটে বলে না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }