Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীল ঘূর্ণি – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প332 Mins Read0
    ⤶

    ২৫. প্রবীরের ফ্ল্যাটের আবহ

    ২৫.

    প্রবীরের ফ্ল্যাটের আবহ বদলে গেছে অনেকটাই।

    নিরানন্দ ঝিমন্ত পুরীতে এখন এক আলগা স্বস্তির আমেজ। হঠাৎ বুড়িয়ে যাওয়া প্রবীর যেন বেশ চনমনে হয়ে উঠেছে আবার। অফিস থেকে ফিরে সে আর ধোঁকে না, পুরনো মেজাজে গমগম হাসছে, রসিকতা জুড়ছে, উৎপটাং গল্প আড্ডা চলছে মেয়ের সঙ্গে। মণিদীপাও আর তিরিক্ষে হচ্ছে না কথায় কথায়। কত কী যে রান্না করছে রোজ! এই হয়তো মেয়ের জন্য স্যুপ বানাল, এই মেটেচচ্চড়ি, পিৎজা, কিংবা ভেটকি মাছের পাতুরি…। মেয়ের শরীর এখন ভারী দুর্বল, প্রোটিনে ভিটামিনে তাকে চাঙ্গা করে তুলতে হবে। বাচ্চা হওয়ার ধকল বলে কথা। যত্নআত্তিও করছে বটে মেয়ের, সামান্য জলটুকুও গড়িয়ে খেতে হচ্ছে না দয়িতাকে। বুম্‌বাও আবার স্বমূর্তিতে বিকশিত। তার কণ্ঠ একেবারেই বেসুরো, তবু আগের মতো যখন তখন গান ধরছে হেঁড়ে গলায়, মোড়ের ফুচকাওলার কাছ থেকে দিদির জন্য আলুকাবলি কিনে আনছে, চুড়মুড় কিনে আনছে…।

    নিছক স্বস্তি নয়, বাড়িতে যেন এখন বেশি সুখী সুখী পরিবেশ।

    শুধু দয়িতাই যে কেন মন থেকে আহ্লাদিত হতে পারছে না? কেন যেন মনে হয় তাকে ঘিরে একটা সাজানো নাটক অভিনীত হয়ে চলেছে। রাতে খাবার টেবিলে বসে প্রবীর যখন দয়িতার ছোটবেলার কোনও গল্প বলে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে, দয়িতার তখন বড় কান্না পায়। বাবা এত চড়া পর্দায় অভিনয় করে কেন? মণিদীপা যখন অনাগত সন্তানের দোহাই দিয়ে দয়িতাকে জোর করে খাওয়ায়, তখন কি তার মুখে একটা চোরা বিষাদ খেলা করে না? দয়িতার মুখ চেয়ে এক অবাঞ্ছিত শিশুর আগমনকে মেনে নিয়েছে মা, দয়িতা জানে। বুম্‌বা যখন হাসতে হাসতে দিদির ঘরে ঢোকে, দয়িতা স্পষ্ট টের পায় দরজার ওপারেও বুম্‌বার মুখ গোমড়া ছিল।

    দয়িতা যেখানে নেই, কেন যে সেখানে নিচু গলায় কথা বলে বাড়ির লোক!

    রিটার্ন অফ দা প্রডিগাল ডটার! বিপথগামী কন্যার প্রত্যাবর্তনের উৎসবের পরিবেশ বুঝি এরকমই হয়!

    কী অসহ্য গ্লানি! যদি বাবা সব সময়ে মুহ্যমান থাকত, মা কথা বলতে বলতে চোখের জল ফেলত, বুম্‌বা টেরচা চোখে তাকাত দিদির দিকে, তা হলে হয়তো দয়িতার এমনটা লাগত না। কেন সবাই এত মধুর ব্যবহার করবে তার সঙ্গে? কোন মহৎ কাজ করে এসেছে সে? বোধিসত্ত্বকে ছেড়ে কেন চলে এল দয়িতা সে প্রশ্নটা পর্যন্ত কেউ করল না একবার!

    এরই মাঝে টুকটাক আত্মীয়স্বজনের আনাগোনা। এই তো গত রোববার মাসি আর টুনটুনি, সারাটা দিন এ বাড়িতে কাটিয়ে গেল। নিজের আসন্ন বিয়ে নিয়ে কত অজস্র রকম বকবকম করল টুনটুনি, কিন্তু ভুলেও বোধিসত্ত্বর নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করল না। পরশু হঠাৎ পিসি পিসেমশায়ের আবির্ভাব। দুজনেই এমন স্বচ্ছন্দ ভঙ্গিতে কথা বলছিল যেন দয়িতা মাস কয়েকের জন্য কোথাও বেড়াতে গিয়েছিল, এই ফিরল। দয়িতার পেটের বাচ্চাটা সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছে, অথচ বাচ্চাটা যে কোথ্‌থেকে এল তা নিয়ে কণামাত্র কৌতূহল নেই!

    কী নিষ্ঠুর ঠাট্টা! কী শীতল রসিকতা!

    যেদিন তাকে গাইনির কাছে নিয়ে গেল বাবা-মা দয়িতা নিজের নাম দয়িতা মিত্র লিখল, টুঁ শব্দটি করল না বাবা। ভাবটা এমন, যে আসছে সে মিত্র পদবিতেই পরিচিত হবে, এটাই স্বতঃসিদ্ধ।

    সবাই মিলে দয়িতার জীবন থেকে মাঝের ছটা মাসকে কি মুছে ফেলতে চায়? মোহ কেটে গেছে দয়িতার, এতেই সবাই উৎফুল্ল?

    কিন্তু তা কী হয়?

    সময় কি জলের দাগ, এমনি এমনি মিলিয়ে যাবে?

    বড় অপমান! বড় অপমান! সে একটা ভুল করেছিল বলে সবাই তাকে দয়া করছে, ক্ষমাঘেন্না করে নিচ্ছে! তার ভবিষ্যত জীবনটা কেমন হতে চলেছে তাও হয়তো অনুমান করে নিয়েছে সকলে! বাচ্চা হওয়ার পর হয় ঢেঁসকুমড়ো হয়ে বাড়িতে বসে থাকবে দয়িতা, নয়তো একটা চাকরি বাকরি জোটাবে, তারপর বাচ্চা নিয়ে স্বামী পরিত্যক্তা নারীর মতন বাপের বাড়িতে আশ্রিতা আশ্রিতা ভঙ্গিতে কাটিয়ে দেবে বাকিটা জীবন! কিন্তু লোকজনের চোখ থেকে সহানুভূতির ছায়াটা মুছবে না। দুঃখী দুঃখী চোখে তারা দেখবে দয়িতাকে, আর প্রায় দয়িতার সামনেই কানাকানি করবে, আহা রে অত গুণী মেয়েটার জীবনটা বরবাদ হয়ে গেল!

    ভাবতেই বিবমিষা। দয়িতা তো কিছুতেই ফিরতে চায়নি এখানে, কেন তাকে জোর করে আনা হল? সেদিন তার ডেরায় গিয়ে মা অমন হাউমাউ করে সিন ক্রিয়েট করল বলেই না দয়িতা নিজের মান বাঁচাতে…

    ভাল্লাগছে না দয়িতার, কিচ্ছু ভাল লাগছে না। ওই শয়তান ছেলেটাই যত নষ্টের মূল। কেন যে দয়িতা বিশ্বাস করেছিল সৌমিককে। মনে রাখা উচিত ছিল এই সেই ট্রেটার যে মেলার মাঠে তাকে কথা দিয়েছিল বিয়েটা ভেঙে দেবে, অথচ পরদিনই ল্যা ল্যা করে…। একটা ঘর খুঁজে দেওয়ার তোর মুরোদ নেই, দয়িতাকে তুই ফাঁসিয়ে দিলি! এখন আবার গা ঢাকা দিয়ে বসে আছে! মা আবার মাঝে মাঝে তাঁকে ফোন করে অফিসে, দুপুরের দিকে, দয়িতা স্বকর্ণে শুনেছে। আমন্ত্রণ পেয়েও এ বাড়ির ছায়া মাড়াচ্ছে না, এত ভয়!

    ভাবলেই দয়িতার গা রি রি করে ওঠে। কী রইল আর তার জীবনে? প্রথম প্রথম এখানে এসে চাকরিতে বেরিয়েছিল কয়েক দিন, বাবা মাও বাধা দেয়নি, কিন্তু শরীরটাই এমন বেইমানি শুরু করল। বিশ্রী জ্বর-সর্দি কাশি, যখন তখন মাথা টলে চোখ অন্ধকার, এই অবস্থায় বাইরে বেরোনো যে কী দুঃসাধ্য! তার তো আর বসে বসে চাকরি নয়, ছোটাছুটি না করতে পারলে অফিসই বা তাকে ছেড়ে কথা বলবে কেন! পাঁচ মাস পর তার বাচ্চা হবে বলে কোম্পানি তো আর ব্যবসা গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না। একেই তো অফিসে মেয়েদের দেড়া কাজ করতে হয়, প্রতি পলে পুরুষদের সমকক্ষ বলে প্রতিপন্ন করতে হয় নিজেদের…।

    অগত্যা আপাতত চাকরিকেও টা টা। কী বিচ্ছিরি বর্ণহীন দিন যে কাটছে এখন! শুধু বিশ্রাম বিশ্রাম বিশ্রাম, অন্তহীন বিশ্রাম। বাড়িতে জবুথবু হয়ে শুয়ে বসে থাকা। বুকের মধ্যে মেঘ ছেয়ে থাকে সর্বক্ষণ। এ ভাবেই যদি দিন কাটবে, তা হলে বোধিসত্ত্বকে ছেড়ে সে চলে এল কেন? বোধিসত্ত্বও তো এইটুকুই চেয়েছিল, চাকরি বাকরি না করে সে বাড়িতে থাকুক। অবশ্য শুধু তার চাকরি করা নয়, বোধিসত্ত্ব তার বাচ্চাটাকেও চায়নি। ভ্রূণটা নষ্ট করে দিলেই বা কী এমন ক্ষতি বৃদ্ধি হত পৃথিবীর? বোধিসত্ত্ব যে ভাবে চেয়েছিল, সে ভাবে থাকলেই তো সব ল্যাটা চুকে যেত।

    সত্যি কি ল্যাটা চুকত? অস্তিত্বহীন আত্মসমর্পণকে কি বেঁচে থাকা বলে? তার যে একটা স্বাধীন সত্তা আছে, সেটাই তো বোধিসত্ত্ব মেনে নিতে পারছিল না। কী নির্দয় মানুষ, কেমন মুখের ওপর বলে দিল এবার কেটে পড়ো। তারপর একবার দয়িতার খোঁজ পর্যন্ত করল না! দয়িতা কোথায় গেল, কেমন আছে, তাও জানতে ইচ্ছে করল না বোধিসত্ত্বর। দয়িতা যেদিন সল্টলেকে জামাকাপড় আনতে গেল, কী ভীষণ পাথরের মতো মুখ করে বসে ছিল। দয়িতার ওপর সামান্যতম টান থাকলেও তো তাকে সেদিন আটকাত বোধিসত্ত্ব, যা হয়েছে সব ভুলে গিয়ে আবার তাকে থেকে যেতে বলত, নয় কি?

    দয়িতা বিদেয় হতে বোধিসত্ত্ব যেন হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে। এত রিলিভড্‌ যে সল্টলেকের ফ্ল্যাট ছেড়ে লাফাতে লাফাতে নিজের বাড়ি ফিরে গেল। অথচ ওই লোকটার জন্য হঠাৎ খুব মন কেমন করছিল বলেই না দয়িতা বোকার মতো আবার একদিন অফিসফেরতা ছুটে গিয়েছিল সল্টলেকে! কী দেখল? ইয়া বড় তালা ঝুলছে। নামার সময়ে উলটো ফ্ল্যাটের মিসেস সাহার মুখোমুখি। তিনি রসালো চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে শুনিয়ে দিলেন লটবহর সমেত কবেই নাকি স্বগৃহে চলে গেছেন প্রফেসার সাহেব। কে জানে, অ্যাদ্দিনে হয়তো রাখীর সঙ্গে মিলমিশ হয়ে গেছে! স্ত্রী পুত্র নিয়ে আবার সুখে ঘরসংসার করছেন প্রফেসার বোধিসত্ত্ব মজুমদার।

    এই মুহূর্তে ওই বোধিসত্ত্বর জন্য দয়িতার হৃদয়ে কী অনুভূতি থাকা উচিত?

    বিরাগ? উপেক্ষা? অবিমিশ্র ঘৃণা?

    কিন্তু কোনওটাই যে আর আসে না। চোখ বুজলেই ভেসে ওঠে এক ধূসর ছবি। ক্যাম্পাস টাউনের কুয়াশামাখা পথ বেয়ে লম্বা লম্বা পায়ে হেঁটে চলে যাচ্ছে এক দীর্ঘকায় পুরুষ, লোহার গেট খুলে একটা বাড়িতে ঢুকে গেল, পিছন পিছন নিঃশব্দে আসা একটি তৃষ্ণার্ত মেয়ের দিকে ক্ষণিকের জন্যও ফিরে তাকাল না।…

    কী নিষ্ঠুর যে ওই চলে যাওয়া! নিষ্ঠুর? না নিরাসক্ত? কী অবলীলায় দয়িতার মাধ্যাকর্ষণ ছিন্ন করে ঘটনাদিগন্তের ওপারে মিলিয়ে গেল বোধিসত্ত্ব, বুঝি এক কৃষ্ণগহ্বরে। দয়িতার মহাবিশ্বে বোধিসত্ত্বর বিকিরণ আর পৌঁছবে না কোনওদিন।

    ওফ্‌, কেন যে ছবিটা দেখে দয়িতা!

    তবে বুঝি ওই ছবিটাই শুধু সত্যি ছিল। বাকি সবটাই স্বপ্ন। কিংবা কাল্পনিক সময়ে ঘটা অলীক ঘটনা!

    কেন যে দয়িতা বোধিসত্ত্বর মতো স্মৃতিহীন হতে পারে না।

    .

    ২৬.

    মেঘলা বিকেলের মরে আসা আলোয় সৌমিককে দেখতে পেল দয়িতা। জানলা থেকে।

    এ বছর আষাঢ় মাসেই জোর কদমে বর্ষা এসে গেছে। মেঘেদের অন্তহীন পল্টন ছেয়ে ফেলেছে শহরের আকাশ। সূর্যদেব প্রায় পাকাপাকিভাবেই ফেরার। জলদগম্ভীর তূর্যধ্বনি বাজছে দিনভর, অস্ত্রের ঝঙ্কারও শোনা যায় ঘন ঘন। রুপোলি বিদ্যুতের আঘাতে আকাশ ফালা ফালা, তার ক্ষতবিক্ষত দেহ থেকে অবিরাম ঝরে যায় অশ্রুকণা। কখনও টিপটিপ, কখনও বা মুষলধারায়।

    আজও সকাল থেকে আকাশ একেবারে স্লেটবরণ। বিকেল হতে না হতেই দিনের আলো নিভু নিভু, এই বুঝি আঁধার ঝাঁপিয়ে এল। একটানা অনেকক্ষণ কেঁদে আকাশ চোখ মুছছে এখন, এলোপাথাড়ি ছুটে বেড়াচ্ছে তার ভেজা দীর্ঘশ্বাস।

    দয়িতা নিজের ঘরেই ছিল। একা। মণিদীপা টিভি দেখছে, দয়িতা আওয়াজ পাচ্ছিল। টুকরো হাসি, টুকরো গান। দয়িতার হাতে চিকেন স্যুপের বাটি। সঙ্গে দু পিস পাউরুটিও দিয়েছে মণিদীপা, হালকা সেঁকে। পাউরুটি চিবোতে দয়িতার ঘোর অনীহা, তবুও।

    চামচে সামান্য একটু স্যুপ তুলে ঠোঁটে ছোঁয়াল দয়িতা। সঙ্গে সঙ্গে মুখ বিকৃত হয়ে গেছে। আজকাল বেশ খিদে হয় দয়িতার, কিন্তু জিভে এখনও এতটুকু স্বাদ নেই। বেশি করে নুন গোলমরিচ ছড়িয়ে আনবে? কিংবা সস টস?

    বিছানা ছেড়ে নামতে যাবে, পেটে আবার সেই তরঙ্গের ওঠাপড়া। নড়ছে, নড়ছে…। দয়িতা হাত রাখল পেটে। এই তো এখানে নড়ে উঠল, এই তো দুলে দুলে সরে গেল এ পাশে…! কদিন ধরে খুব খলবল করছে। আপনাআপনি চোখ বুজে এল দয়িতার। তারই শরীরের অভ্যন্তরে অঙ্কুরিত হচ্ছে এক প্রাণ, সেই প্রাণ তারই দেহ থেকে সংগ্রহ করছে বেঁচে থাকার রসদ—ভাবনাটাই যে কী অদ্ভুত মাদকতাময়! কী কঠিন মায়ার বাঁধনে যে বেঁধে ফেলেছে দয়িতাকে ওই অদেখা প্রাণ! অনেকক্ষণ না নড়লে চোরা আতঙ্কে বুক কেঁপে ওঠে। একেই কি মাতৃত্ব বলে?

    পেটে হাত বোলাল দয়িতা। ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল,—কী রে, শুনতে পাচ্ছিস?

    স্পষ্ট উত্তর পেল দয়িতা—হুঁউউ।

    —কেমন লাগছে ভেতরে?

    —দিব্যি আছি।

    —দূর বোকা। গুটিয়ে মুটিয়ে জলে ভাসছিস, অন্ধকার, হাওয়া নেই, ওখানে তোর ভাল লাগতেই পারে না।

    —উঁহু, আমার বেশ লাগছে। কী সুন্দর জীবন! কোনও চিন্তা নেই, ভাবনা নেই…

    —দূর বোকা! বাইরে এলে আরও বেশি ভাল লাগবে।

    —কেন?

    —কত কী আছে বাইরে। আলো বাতাস পাখি ফুল গাছ…সারাজীবন দেখেও তোর চোখ ভরবে না।

    —আর কিছু নেই বুঝি? ঝড় দুর্যোগ দুঃখ যন্ত্রণা কান্না?

    —চুপ। আমি আছি না!

    আন্দোলন থেমে গেল। ঘুমিয়ে পড়ল নাকি? ধীরে ধীরে চোখ খুলল দয়িতা। হৃদয়ের প্রতিধ্বনি চিনচিনে কষ্ট হয়ে কোন এক গহীন অন্দরে ছড়িয়ে যাচ্ছে। মস্তিষ্কের কোষে কোষে চুঁইয়ে চুঁইয়ে ঢুকে পড়ছে এক গাঢ় বিষণ্ণতা। এও কি মাতৃত্ব?

    পড়ে থাকা স্যুপের বাটি আর ছুঁয়ে দেখল না দয়িতা। মন্থর পায়ে এসে দাঁড়িয়েছে জানলায়। ওপারে সজল বিকেল, ভিজে রাজপথ বেয়ে সরীসৃপের মতো পিছলে পিছলে যাচ্ছে গাড়িঘোড়া, অতিকায় পোকার মতো নড়াচড়া করছে মানুষ। আকাশ আরও ঘন হয়ে এল। এক্ষুনি আবার বৃষ্টি নামবে কি?

    সহসা দয়িতার আনমনা চোখ টানটান। জল কাদা মাখা পথ মাড়িয়ে ছপছপ হেঁটে আসছে কে ও? প্যান্ট হাঁটু পর্যন্ত গুটোনো, হাতে বন্ধ ছাতা। দয়িতাদের বাড়ির সামনে এসে ওপর পানে চাইল একবার। আকাশ দেখল? না জানলায় দাঁড়ানো দয়িতাকে?

    দয়িতা স্যাঁত করে সরে এল। মুহূর্তে বিষাদ ছাপিয়ে চাগাড় দিয়েছে ক্রোধ। অ্যাদ্দিনে আসার সাহস হল কেন্নোটার! ঝপাৎ করে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল দয়িতা। শুয়ে শুয়েই কানে এল ডোরবেলের আওয়াজ, মার উচ্ছ্বাসধ্বনি। সৌমিক কী যেন বলল মাকে, মার স্বর খাদে নেমে গেল। আর কিছু শোনা যায় না, বাতাসে থমথমে নৈঃশব্দ্য।

    ঈষৎ অসহিষ্ণু হয়েই দেয়ালের দিক থেকে মুখ ফিরিয়েছে দয়িতা, দরজায় সৌমিক। ভেতরে আসার অনুমতি নিল না, গটগটিয়ে বিছানার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,—ম্যাডামের এখন শরীর কেমন?

    দয়িতা মুখ ঘুরিয়ে নিল। আগুন চোখে দেয়াল দেখছে।

    সৌমিক ফের গলা ঝাড়ল,—শুনলাম খাওয়াদাওয়া নাকি ঠিক মতো করছ না?

    এতদিন পর ছেলেটা কি ফাজলামি করতে এসেছে? নাকি মজা দেখতে? খুব কলজের জোর বেড়েছে তো!

    দয়িতার হিংস্র চোখ সৌমিকের দিকে ঘুরল। সৌমিকের তাপ-উত্তাপ নেই, হাসি হাসি মুখ,—আজ ওয়েদারটা কী বিশ্রী। অফিস কেটেও চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম তোমাদের এখানে পৌঁছতে পারব কি না। ভাগ্যিস বৃষ্টিটা ধরল।

    দয়িতা দাঁতে দাঁত ঘষল। মেনিমুখো ছেলেটার এত বুকের পাটা হল কবে থেকে?

    —কথা বলছ না কেন? সৌমিক মৃদুমৃদু হাসছে,—থ্রোট প্রবলেম?

    —তুমি কী এমন হরিদাস পাল যে তোমার সঙ্গে কথা বলতে হবে? দয়িতা আর থাকতে না পেরে ঝাং করে উঠে বসেছে।

    —আমি তো হরিদাস পাল নই। সৌমিকের চোখে হাসি খেলা করছে,—আমি সৌমিক বসুরায়।

    —লিমিট লিমিট। দেয়ার শুড বি লিমিট। রাগে কাঁপছে দয়িতা। উদ্গত চিৎকার কোনওক্রমে সামলে হিসহিসিয়ে উঠল,—আমাকে আবার মুখ দেখাতে তোমার লজ্জা করল না? কেন এসেছ এ বাড়িতে?

    —কীসের লজ্জা? সৌমিক কাঁধ ঝাঁকাল,—আর এ বাড়িতে তো আমি আসিই। তুমি যখন ছিলে না, তখনও আসতাম।

    —যাদের কাছে আসতে তাদের কাছে যাও। এ ঘরে পা রেখেছ কেন?… বুঝতে পারছ না, আই কান্ট টলারেট ইয়োর প্রেজেন্স, এনি মোর?

    দয়িতাকে তবু পাত্তা দিল না সৌমিক। চেয়ার টেনে বসেছে। মুচকি হেসে বলল,—আজ তো আমি অন্য কারুর কাছে আসিনি, তোমার কাছেই এসেছি। টু মিট ইউ।

    —কোন আহ্লাদে?

    —সে তো তুমিও জানো, আমিও জানি। তোমায় ছেড়ে আমি থাকতে পারি না, তাই।

    এত সহজে, এমন অবলীলায় কথাটা উচ্চারণ করল সৌমিক, দয়িতা কয়েক মুহূর্তের জন্য হকচকিয়ে গেল। সৌমিকের স্বরভঙ্গি এত অকপট, যেন বাতাস দুলে গেল একটু।

    দয়িতার রাগের ফণাও যেন নেতিয়ে পড়ছে হঠাৎ। অজান্তেই। মাথা ঝাঁকিয়ে সমে ফেরাল নিজেকে। চোখের কোণ দিয়ে দেখছে সৌমিককে।

    হিম হিম গলায় বলল,—আমাকে একটা কথার জবাব দেবে সৌমিক?

    —ও, শিওর।

    —আমার সঙ্গে তুমি এত বড় শত্রুতাটা করলে কেন?

    —শত্রুতা? আমি? তোমার সঙ্গে?

    —ন্যাকামি কোরো না। অ্যান্ড ডোন্ট আটার তুমি আমার ভাল চেয়েছিলে…আমার ফিজিকাল কন্ডিশান দেখে তোমার নার্ভাস লাগছিল…ও সব বুলশিট আমি বিশ্বাস করি না।

    —কোরো না।

    —তুমি কি আমার ওপর প্রতিশোধ নিলে সৌমিক? আমাকে ঘেঁটি ধরে বাড়িতে ঢুকিয়ে দিয়ে?

    —কিসের প্রতিশোধ?

    —তোমাকে রিফিউজ করার।

    সৌমিকের উজ্জ্বল মুখ পলকের জন্য ম্লান। পলকে হাসিটা ফিরে এসেছে,—আমাকে কি তোমার খুব প্রতিশোধপিপাসু মনে হয়?

    —জানি না। বুঝতে পারি না। রিফিউজ করার পরও তুমি আমায় পছন্দ করে বিয়েতে হ্যাঁ বলে দিলে, ক্যাম্পাস টাউনে ছুটলে, সল্টলেক ধাওয়া করলে…কী যে সব মাথায় ভুজুংভাজুং ঢুকিয়ে দিয়ে এলে, আমার সংসারটা আর গড়েই উঠতে পারল না।

    সৌমিকের ভুরু কুঁচকে গেল,—তুমি কি তোমার সংসার ভাঙার জন্যও আমাকে অ্যাকিউজ করছ?

    —নাহ্। আমাদের মধ্যে ফাঁক তো ছিলই। সেটাই প্রকট হয়েছে। দয়িতা একটুক্ষণ থমকে রইল। তারপর বলল,—কিন্তু আমার এই ক্ষতিটা তুমিই করেছ। তুমিই।

    —তোমাকে নিরাপদ ছাদের নীচে এনে দেওয়াটা তোমার ক্ষতি করা?

    —জীবনের সব কিছুই কি এত সরল হিসেবে চলে সৌমিক? দয়িতার গলা ধরে এল,—আমার এখানে এক মুহূর্ত থাকতে ইচ্ছে করে না।

    —কেন? মাসিমা মেসোমশাই তোমায় পেয়ে কত খুশি হয়েছেন…

    —বাজে কথা। আমি এদের একেবারেই পর হয়ে গেছি। সবাই আমাকে খুব যত্নআত্তি করছে, আদর করছে…কিন্তু আমার সুখদুঃখের কথা কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করে না। এ যেন হোটেলের সুইটে বাস করা। বাবা-মা আমাকে ভালবাসে না এ কথা বলছি না, কিন্তু আমাদের মাঝখানে একটা দেয়াল উঠে গেছে। একটা অদৃশ্য দেয়াল।

    —একটু সময় যেতে দাও, সব ঠিক হয়ে যাবে।

    —কী জানি, হয়তো হবে। আবার বিষণ্ণতা দখল নিচ্ছে দয়িতাকে,—আমার আর বাঁচার স্পৃহাটা পর্যন্ত চলে যাচ্ছে, সৌমিক।

    —এ সময়ে ও সব কথা ভাবতে নেই দয়িতা। যে আসছে তার কথা ভেবে মনটাকে অন্তত হাসিখুশি রাখো।

    —পারছি না যে।

    সৌমিক কী যেন ভাবল একটু। তারপর ঝপ করে বলে উঠল,—তা হলে তুমি আমার সঙ্গে চলো।

    —কোথায়?

    —বা রে, তোমাকে তো আগেই বলেছিলাম আলাদা একটা ফ্ল্যাট দেখে নিচ্ছি… তোমাকে আমি এক সেকেন্ডের জন্যও মনখারাপ করে থাকতে দেব না, দেখো। সৌমিক বোকা বোকা মুখ করে হাসল,—তা ছাড়া তুমি তো তোমার বাচ্চাকে বোধিসত্ত্বর পরিচয়ে মানুষ করবে না…

    —করব নাই তো।

    —বাট হি নিডস এ ফাদার। টম ডিক হ্যারি, এনিওয়ান। দয়িতার কথারই পুনরাবৃত্তি করল সৌমিক,—আমি ডিক হতে পারি। সৌমিক ডিক বসুরায়।

    —তুমি? দয়িতার চোখ গোল গোল হয়ে গেল,—তুমি কেন হতে যাবে?

    —কারণ…কারণ…কারণ…। সৌমিক তোতলাতে তোতলাতে বলে ফেলল,—কারণ আমি তোমাকে ভালবাসি।

    —কিন্তু আমি তো তোমায় ভালবাসি না।

    সরল রূঢ় কথাটার অভিঘাতে ক্ষণিকের জন্য নিস্পন্দ সৌমিক। বড় করে শ্বাস টানছে ফুসফুসে। ঘরে শেষ বিকেলের আবছায়া। সৌমিকের মুখেও।

    খানিক পরে সৌমিক বলল,—এ আর নতুন কথা কী! আমি জানি তো। তবে তার জন্য আমার কোনও অসুবিধে হবে না।

    —মানে?

    —একজন ভালবাসলেই কাজ চলে যাবে। তুমি শুধু আমাকে একটু সহ্য করে নিয়ো।

    ছেলেমানুষ। মনে মনে বলল দয়িতা।

    মুখে বলল,—আমিও বোধিসত্ত্বকে একতরফা ভালবাসতাম সৌমিক। সে সম্পর্ক কিন্তু টেকেনি।

    —তুমি বোধিসত্ত্ব নও দয়িতা। তুমি একজন সাধারণ মেয়ে, আমিও একদম সাধারণ ছেলে। এবং সাধারণ বলেই আমরা কেউ কারুর কাছে নগণ্য নই। এটাই আমাদের সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখবে।

    কথাটায় যেন এক গভীর সত্য আছে, মনে হল দয়িতার। বৃহৎ মানুষের সব কিছুই বড় মাপের, সেখানে প্রতি পলে নিজের অস্তিত্বের সঙ্কটে ভুগতে হয়। সে বা রাখী কেউই তার ব্যতিক্রম নয়। ছোট ছোট চাওয়া পাওয়া নিয়ে যে জগৎ গড়ে ওঠে, সেই জগৎটাই তো বোধিসত্ত্বর কাছে মূল্যহীন। মান অভিমান হর্ষ বিষাদ—ছোট ছোট সরু সুতোর ফোঁড়ে সংসারের নকশি কাঁথাটা বোনা হয়। এ সত্য বোধিসত্ত্ব জানেই না।

    সৌমিক নিচু স্বরে বলল,—কী ভাবছ দয়িতা?

    —কিছু না।

    তুমি আমায় ভাল না বাসতে পারো, বন্ধু তো ভাবো। কী, ভাবো না? বন্ধুত্বের সুবাদেও তো আমরা এক ছাদের নীচে বাস করতে পারি৷ মুখে যাই বলো, তুমি জানো আমি মানুষ হিসেবে তেমন শয়তান নই। তোমার বাচ্চার একেবারে অযোগ্য বাবাও আমি হব না।

    —দয়া দেখাচ্ছ?

    কে কাকে দয়া দেখায়! সৌমিকের বুকটা বুঝি মুচড়ে উঠল। যার মুখের এক চিলতে হাসি দেখার জন্য সে এভারেস্টের চূড়া থেকে বরফ কুড়িয়ে আনতে পারে, সেই কিনা আজ নিজেকে করুণার পাত্রী ভাবে! আহা রে, ভেতর থেকে না জানি কতটা ভেঙেছে দয়িতা।

    সৌমিক মাথা নামিয়ে বলল,—আমি অতি দুর্বল মানুষ। তুমি তো জানো, দয়া যে করে তারও কিছু প্রত্যাশা থাকে। নিদেনপক্ষে কৃতজ্ঞতার। সে দিক দিয়ে ভাবতে গেলে সে নিজেও তো দয়ার পাত্র, নয় কি? কিন্তু তোমার কাছে আমার সেই কৃতজ্ঞতাটুকুও চাওয়ার ক্ষমতা নেই।

    দয়িতার চোখে বিস্ময় ফুটে উঠল। সৌমিকের স্বর যেন অচেনা অচেনা ঠেকে! বড় দুঃখী দুঃখী!

    সৌমিক একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলল। ঘড়ঘড়ে গলায় বলল,—কেউ জানে না, নান…। আমার ঘাড়ের কাছে একটা বুলডগ অবিরাম ঘাঁউ ঘাঁউ করছে। আজ নয়, সেই ছোটবেলা থেকে। তারই তাড়া খেয়ে আমি ছুটছি, দিবারাত্র ছুটছি। ঘাড় গুঁজে পড়াশুনো করে গেছি, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে মিশিনি, ভাল চাকরিতে জুতে গেছি, আর্নিং হেল অব আ লট…যে পৃথিবীতে আমি ঘুরে মরছি তার বাইরেও একটা অন্য ভুবন আছে, আমি জানি, চোখ বুজলেই আমি সেই স্বপ্নের পৃথিবীটাকে দেখতে পাই… কিন্তু আমি সে দিকে এক পা এগোতে পারি না… জাস্ট ফর দ্যাট বুলডগ। ইট নেভার স্পেয়ারস মি ফর আ মোমেন্ট। ঘাড় ফেরালেই তার গর্জন আমার বুক হিম করে দেয়। ডোন্ট মাইন্ড, ওই বুলডগটা তোমার প্রফেসার সাহেবের ঘাড়ের কাছেও আছে। সেও একইভাবে গর্জায়, প্রফেসার সাহেবকে তাড়িয়ে বেড়ায়। তফাত একটাই। আমার বুলডগটা ফিট করে দিয়েছে আমার মা, আর প্রফেসার সাহেব নিজেই বুলডগটাকে পুষেছেন। হয়তো এই জন্যই তিনি অসাধারণ। আত্মধিক্কারে সৌমিকের ঠোঁট পলকের জন্য বেঁকে গিয়েছিল, পরক্ষণে প্রায় স্বগতোক্তির মতো বলে উঠল—বাট দিস ক্যান নট গো অন ফর এভার। এই কদিন ধরে ওই বুলডগটার সঙ্গে আমার যুদ্ধ চলছে। ওই কুত্তাটাকে আমি এবার ভাগাবই।

    সৌমিকের চোখের মণি জ্বলছে দপদপ চেয়ার ছেড়ে বিছানায় এসে বসল। দয়িতার নিরাভরণ হাত কোলের ওপর জড়ো হয়ে আছে, ঝুঁকে দয়িতার একটা হাত ছুঁল সৌমিক।

    অধীর স্বরে বলল,—কিন্তু তুমি না পাশে থাকলে আমি যে কিছুতেই লড়াইটা জিততে পারব না দয়িতা। আই নিড ইউ। আই নিড ইউ ভেরি ব্যাডলি।

    পুরুষের কণ্ঠে এমন তীব্র আকুতি দয়িতা আগে কখনও শোনেনি। হঠাৎই কেন যে শীত শীত করছে? বাষ্প জমছে চোখে, অজান্তেই।

    হাতে চাপ বাড়ছে ক্রমশ। সৌমিকের স্পর্শ চারিয়ে যেতে চাইছে দয়িতার গভীরে। সামনে কৃতাঞ্জলিপুটে এক প্রার্থী পুরুষ, বাইরের পৃথিবীতে একটা মেঘলা দিন হারিয়ে যাচ্ছে দ্রুত, এলোমেলো নেচে বেড়াচ্ছে আর্দ্র বাতাস—এরা কোন দিকে ঠেলছে দয়িতাকে? গহীন কুয়োর অতলে একটা ঢেউও কি উঠবে না?

    সৌমিক গাঢ় স্বরে বলল,—চুপ কেন দয়িতা?

    দয়িতা অস্পষ্টভাবে মাথা নাড়ল,—ভাবছি।

    —কী ভাবছ?

    দয়িতা উত্তর দিল না। আশ্চর্য, এমন মুহূর্তেও বোধিসত্ত্বকে মনে পড়ে! কুয়াশামাখা পথে মিলিয়ে গেল দীর্ঘদেহী পুরুষ, দয়িতার দিকে ফিরেও তাকাল না…।

    ওই নিষ্ঠুর লোকটাকে উচিত জবাব একটা দেওয়াই যায়। বোধিসত্ত্ব মজুমদার যে দয়িতার জীবন নষ্ট করতে পারে না, সৌমিককে বিয়ে করে দয়িতা সেটা দেখিয়ে দিতেই পারে। শুধু তাই নয়, বোধিসত্ত্বর সন্তান জীবনভর সৌমিককেই বাবা বলে জানবে, তার জীবনে বোধিসত্ত্বর কোনও অস্তিত্বই থাকবে না, এটা কি বোধিসত্ত্বর অহংকে একটুও আঘাত করবে না? বোধিসত্ত্বর জন্য সৌমিকও কম কষ্ট পায়নি, চাইলে সৌমিকও একটা প্রতিশোধ নিতেই পারে।

    ছিঃ, শুধু এইটুকু কারণেই সৌমিকের সঙ্গে জীবন শুরু করবে দয়িতা? ঘর বাঁধবে? সংসার করবে? এ কি সৌমিককে ঠকানো নয়?

    শুধু সৌমিকের জন্য কি তার হৃদয়ে কোনও বিশেষ অনুভূতি নেই? ভালবাসার কি একটাই রং?

    সৌমিক ফিসফিস করে বলল,—মুনিয়া, প্লিজ…

    দয়িতা চমকে তাকাল। তার চোখের মণি অসম্ভব রকমের নিষ্প্রভ এখন। মুক্তোদানা কখন যেন গড়িয়ে গেছে গাল বেয়ে, চিকচিক করছে জলের রেখা। প্রায় অন্ধকার ঘরে টুকরো আলো এসে পড়েছে একটা, মণিদীপা ড্রয়িংরুমের আলো জ্বেলে দিয়েছে, দয়িতার শ্যামলা মুখে আলো-ছায়ার জাফরি। একটু বুঝি কেঁপে উঠল দয়িতার ঠোঁট।

    ভাঙা ভাঙা গলায় দয়িতা বলল,—আমায় একটু সময় দাও সৌমিক। একটু ভাবি।

    —একটু কেন, অনেক ভালো। সৌমিক নরম করে হাসল,—যত খুশি ভাবো। আমি তো রইলামই।

    সৌমিকের শেষ বাক্যটুকু দয়িতার বুকের গভীরে বসে রইল একটুক্ষণ। তারপর ডানা মেলে উড়ে বেড়াতে লাগল ঘরময়। রঙিন প্রজাপতির মতো।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপালাবার পথ নেই – সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    Next Article দহন – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    Related Articles

    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    গল্প সমগ্র – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অন্য বসন্ত – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    কাছের মানুষ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    হেমন্তের পাখি – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    অলীক সুখ – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    আলোছায়া – সুচিত্রা ভট্টাচার্য

    December 5, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }