Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নীল পাহাড় – ওবায়েদ হক

    ওবায়েদ হক এক পাতা গল্প166 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নীল পাহাড় – ১০

    দশ

    ক্রাসিমা সারারাত জানালার পাশে বসে ভোরের অপেক্ষা করেছে। আবছা আলোতে ঘাস মাড়ানো পথে চোখ পেতে আছে সে, প্রতিদিনের মতো। মনে মনে চাইছে এই পথ শূন্য থাক, তবুও সে চোখ ফেরাতে পারছে না। মন আর চোখ একে অপরের সঙ্গ ছেড়েছে।

    দরজায় কে যেন কড়া নাড়ল, ক্রাসিমা কিছুক্ষণের জন্য নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেল, বুকে রক্ত ছলকে উঠল আশা এবং আশঙ্কা দুটোই মনে প্রতিযোগিতা করতে লাগল। ধীর পায়ে দরজার কপাট খুলে দেখল মতের উদ্বিগ্ন মুখ। ক্রাসিমা মনে স্বস্তি পেল কিন্তু চোখ দুটি টলমল করে উঠল। মংতো ক্রাসিমাকে বলল—

    ডাক্তার বাবু চইলা গেছে।

    ক্রাসিমা নির্লিপ্ত কণ্ঠে বলল—

    জানি।

    মংতো একটু আহত হল, গতকাল রাতে ভরা জোছনায় ক্রাসিমা আর ডাক্তার বাবুকে দেখেছে সে, শুয়ে শুয়ে একসাথে ভিজেছে দুজন। মংতোও ভিজেছে, চোখের জলে কিংবা বৃষ্টির জলে। ডাক্তার বাবু নেই শুনে দৌড়ে চলে এসেছে ক্রাসিমার ঘরে, তার আশঙ্কা ছিল, ঘরটা খালি থাকবে। ক্রাসিমাকে দেখে মনে মনে খুশি হয়েছে কিন্তু যখন শুনলো, ডাক্তার বাবুর অন্তর্ধান সম্পর্কে ক্রাসিমা আগে থেকে জেনেও কাউকে কিছু বলেনি তখন সে আহত না হয়ে পারল না। এই পাহাড়ের চেয়ে কি সেই বাঙালি ডাক্তার তার কাছে আপন হয়ে গেল, তার ‘পাহাড়ের কন্যা’ নামটি কি সে ভুলে গেল? কিন্তু ক্রাসিমার উপর তার কোনো ক্ষোভ নেই, সেই ক্ষমতাও তার নেই। তার সব রাগ-ক্ষোভ চলে গেল মানিকের উপর। ক্রাসিমার দিকে তাকিয়ে বলল—

    আমরা ডাক্তার বাবুকে খুঁজতে যাছচি, উনি পথ চিনে সাঙ্গুত চলি গেলে আমাগো বিপদ হবে।

    ক্রাসিমা কিছু বলল না, সে আগের মত নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রইল কিন্তু তার চোখের ঢেউ মংতোর দৃষ্টি এড়াল না। মংতো সেই ঢেউ ছাপিয়ে পড়ার সুযোগ দিয়ে চলে এলো। উগড়ে ওঠা ব্যথা, ক্ষোভ, ভালোবাসা গলার কাছটায় দলা পাকিয়ে আটকে ছিল, সে একটা ঢোক গিলে সবকিছু আবার বুকে পাঠিয়ে দিল।

    সকাল হতে হতে পাখির গুঞ্জনের সাথে সাথে মানুষেরও গুঞ্জন বাড়তে লাগল। মহিলারা একসাথে হয়ে কলকাকলিতে মেতে উঠল, গল্পের রসদ পেয়ে তাদের আনন্দিতই মনে হলো। অনেক গল্প চাউর হলো, তার মধ্যে কিছু বিপদের শঙ্কাও মনে জন্মাল। তাতে কলকাকলির কোনো ক্ষতি হলো না। তারা অবাক হতে পছন্দ করে, ভয় পেতেও ভালোবাসে।

    মংতোসহ বেশ কিছু পুরুষ চলে গিয়েছে মানিকের খোঁজে। বৈঠা হাতে একদল নদীর দিকে চলল। থুইনুপ্রু অনেক দিন পর তার মাচাং ঘরের বারান্দায় বসে আছে, তার মুখে হাসি নেই, কপালে ভাঁজ আছে। দু’দিন পর যে এমনিতে মুক্তি পেত সে নিজের প্রাণ শঙ্কায় ফেলে কেন পালিয়ে গেল? মানিককে কখনোই তার এত বোকা মনে হয়নি। চিন্তা করতে করতে তার কপালের ভাঁজ আরো গভীর হলো।

    খায়াচিং দাঁড়িয়ে আছে থুইনুপ্রুর পেছনে, থুইনুপ্রুর দেখাশুনা করার জন্য তাকে থাকতে হয়েছে। গ্রামের পাহাড়ি রাস্তায় বৈঠা হাতে পুরুষরা হারিয়ে গেল এইমাত্র, তবুও সে ঠায় তাকিয়ে আছে সেদিকে। তার ইচ্ছা ছিল যাওয়ার, আসলে ইচ্ছার চেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল। ডাক্তার বাবুকে তার প্রয়োজন, সে দেখেছে কয়েক দিনের মধ্যে থুইনুপ্রুর নষ্ট পা-টা কীভাবে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। নিজের বিদ্যার ওপর এখন আর এত বিশ্বাস নেই তার, যা ডাক্তার বাবুর সুঁইয়ে আছে। উথাইকে নিশ্চয়ই সারাতে পারত ডাক্তার বাবু। উথাইয়ের চোখে অচেনা দৃষ্টি সরিয়ে আগের উথাইকে ফিরিয়ে দিতে পারত। উথাইয়ের কোলে বাচ্চাটা না দিয়ে সে নিজে নিয়ে আংসাইয়ের হাতে তুলে দিয়েছিল। তারপর থেকে উথাইয়ের চোখে তার জন্য ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায়নি সে। সেদিন থেকে একবারও উথাই কাঁদেনি। ডাক্তার বাবুর কাছে নিশ্চয়ই কোনো ওষুধ আছে উথাইয়ের চোখে জল আনার।

    উমের চোখের জলও শুকিয়ে গেছে। সকালবেলা নিজ ঘরে বসেই খবরটা পেয়ে গেল সে। সে ভুল করেছে, তার চোখের জল, ভরসা ভগবানের চরণে নিবেদন না করে এক বাঙালি পুরুষের চরণে করেছিল। তার চোখের জল এত মূল্যহীন ছিল না।

    .

    শেষ রাতে ভোরের আলো ফোটার আগেই বের হয়েছিল মানিক। সাথে দেড় লিটার পানি, আগুন ধরানোর জন্য একটা দিয়াশলাইয়ের বাক্স, মাচাং ঘরের নিচে পড়ে থাকা বেশ কিছু চুপড়ি আলু একটা পলিথিনের বড় ঝিল্লিতে বেঁধে নিল। কাজাচাই-এর ছুরিটা নিতে তার বেশি বেগ পেতে হয়নি। গহিন জঙ্গলে অজানা পথে যাত্রা, মানিকের মনে ভয়ের সঞ্চার হলো না। মায়া হলো, এই গ্রামটার জন্য, এখানকার মানুষগুলোর জন্য, সন্ধ্যার গল্পের আসরের জন্য যার অংশ সে কখনোই ছিল না। এতো মায়ার খবর এই মানুষগুলো জানবে না, হয়তো বাঙালিদের ঘৃনা করার জন্য নতুন উপলক্ষ পাবে।

    .

    সে ঠিক করেছে উত্তর-পূর্ব দিক ধরে হাঁটবে, তাহলেই নদী পেয়ে যাবে। হয়তো এক দিনের বেশি লাগবে, তবুও সাথে বেশ কিছু আলু নিয়ে নিয়েছিল। তাতে সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি হলো, পুঁটলিটা বেশ ভারী হয়ে গেল। রাতের অন্ধকারেই সে হাঁপিয়ে উঠেছিল, তবুও থামেনি। ঝোপঝাড়ের বাঁধা ডিঙ্গিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল। সূর্য ওঠার পরেই বিপত্তি শুরু হলো, তার সব শক্তি যেন সূর্যটা শুষে নিচ্ছিল। দুটো পাহাড় ডিঙ্গাবার পরে দেহে আর শক্তি অবশিষ্ট রইল না, দুপুরবেলায় সূর্যটা দেখে রীতিমতো ভয় পেল সে।

    জঙ্গলে একটা বড় সেগুন গাছ পেয়ে গেল, সেটার নিচেই বিশ্রামের জন্য শুয়ে পড়ল। তারপর কখন ঘুমিয়ে গেছে সে নিজেও জানে না।

    মানিক দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়ের উপর, অনেকগুলো মানুষ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের ঘিরে রেখেছে কিছু উর্দি পরা লোক। তাদের হাতে ভারী অস্ত্র। মানিক সবকিছু অপষ্ট দেখছে, শুধু ক্রাসিমাকে ছাড়া, ক্রাসিমাকে সে স্পষ্ট দেখতে পারছে। ক্রাসিমার হাত দুটো বাঁধা, তার শরীর রক্তাক্ত, চুল এলোমেলো। দুটো বেয়নেটসহ বন্দুক তার দুই দিকে তাক করা। হঠাৎ বরকত আলীকে দেখা গেল, মানিক অবাক হয়ে দেখল বরকত আলীর মুখে একটা হিংস্র, জঘন্য, লোভী হাসি। সে ক্রাসিমার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ক্রাসিমা পিছিয়ে যাচ্ছে ভয়ে। মানিক চিৎকার করার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না, তার গলা দিয়ে শুধু একটাই শব্দ বেরুচ্ছে, মা। বুক পকেটে হাত দিল সে, চিঠিটি নেই।

    ধড়ফড় করে উঠল মানিক। স্বপ্নের ভয়াবহতায় নাকি রোদ্রের তীব্রতায় তার সারা শরীর ঘামে ভিজে গিয়েছে। বুক পকেটে হাত দিয়ে দেখল, চিঠিটি চুপচাপ শুয়ে আছে তার বুকে। খুব তেষ্টা পেয়েছে। কেরোসিনের গ্যালোনে এক গ্যালোন পানি নিয়ে এসেছিল সে, সেই পানি মুখে দিলেই কেরোসিনের গন্ধে বমি আসে। কিন্তু এখন ঢকঢক করে বেশ কিছু পানি খেয়ে নিল। নিজেকে শক্ত করে স্বপ্নটা ভুলে যেতে চেষ্টা করল কিন্তু পারল না, বারবার ক্রাসিমার রক্তমাখা ভয়ার্ত মুখটা মনে পড়ছিল।

    রোদের তেজ তখনো কমেনি। আগুন জ্বালানোর জন্য শুকনো কাঠের অভাব নেই আশেপাশে, অনভিজ্ঞ মানিক প্রথমেই কাঠে আগুন ধরাতে গিয়ে পাচটা কাঠি নষ্ট করে ফেলল। তারপর কিছু শুকনো পাতা কুড়িয়ে এনে সেগুলোতে আগুন ধরাল, ধোঁয়ার মধ্যেই সাপের জিহ্বার মতো লকলকে একটা আগুনের শিখা দেখতে পেল। ধোয়াগুলো চোখে গিয়ে বেশ জ্বালা ধরিয়ে একেবারে কাঁদিয়ে ছাড়ল। এবার আগুনে ধীরে ধীরে শুকনো ডালপালা ঠেলে দিল মানিক। ষোল বছরের কিশোরের মতো আগুনটা বেশ উসকে উঠল।

    মানিক আগুনের মাঝখানে দু-তিনটা আলু ছেড়ে দিল। কিছুক্ষণ জ্বালানি না পেয়ে আগুনটা ধীরে ধীরে কয়লার মধ্যে হারিয়ে গেল। ইতিমধ্যে মানিক গরমে আর আলুগুলো কয়লার আগুনে সেদ্ধ হয়ে গেছে। সে সেদ্ধ আলুগুলো কাঠি দিয়ে খুঁচিয়ে বের করে নিয়ে আসল, ক্ষিদে তেমন নেই কিন্তু তবুও খাওয়া দরকার। কোনোমতে একটা আলু খেতে পারল, বাকিগুলো পুঁটলিতে ভরে নিল। আরো এক ঢোক পানি গলায় ঢেকে দিল। কেরোসিনের বিশ্রী গন্ধটা নাকে-মুখে ছড়িয়ে পড়ল। তার কাছে ঘড়ি নেই কিন্তু সূর্যের অবস্থান দেখে বলা যায় তিনটার কাছাকাছি বাজে। পুটলিটা কাঁধে নিয়ে আবার শুরু করল হাঁটা।

    পাহাড়গুলো দেখতে যত বিশাল মনে হয়, চড়তে গেলে আরো বিশাল হয়ে যায়। পাহাড়ের পাদদেশে কত সুন্দর ফুল ফুটে থাকে, কত অদ্ভুত গাছ দেখা যায়, কত পাখি যে নানা ভঙ্গিমায় ডেকে যায়। কিন্তু মানিকের মনে হচ্ছে এই মুহুর্তে সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য হবে ধীর লয়ে বয়ে চলা সাঙ্গু নদী, তার কলকল শব্দই সবচেয়ে সুন্দর সুর মনে হবে। পানির শীতল স্পৰ্শ গা জুড়িয়ে দেয়া দখিনা বাতাসের চেয়েও বেশি শিহরণ দিবে।

    সন্ধ্যা হওয়ার আগেই মানিক আবার বসে পড়, তার পাগুলো বাচ্চা মেয়েদের মতো অভিমান করে যেন ফুলে আছে। পলিথিনের ঝিল্লিটা খুলে বিছিয়ে দিল ঘাসের ওপর। তারপর শুয়ে পড়ল। শুয়ে শুয়েই সে আরো একটা আলু খেল। এখানেই রাত কাটাবে ঠিক করল সে। আগুন জ্বালানো দরকার কিন্তু বিন্দু পরিমাণ শক্তি অবশিষ্ট নেই। রাতে কত জন্ত-জানোয়ার এসে তাকে খাবার মনে করতে পারে, সাপেরা এসে তার বুড়ো আঙ্গুলকে ইঁদুর মনে করে কামড়ে দিতে পারে। নিজেই নিজেকে মনে করিয়ে দিল। কিন্তু অবসন্ন শরীর পাত্তাই দিল না। চোখ বুজে আসল।

    চিত হয়ে হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে আছে মানিক। শিমুল তুলার তোষকেও এত ভালো ঘুম আসে না তার। আজ সে ঘাসের বিছানায় শিশুদের মতো ঘুমাচ্ছে। বাতাসের কারণে মশারা সুবিধা করতে পারছে না, কামড় বসানোর আগেই পা ভেঙে পড়ে যাচ্ছে।

    গলার কাছটায় শীতল একটা স্পর্শ ঘুমের মধ্যেই অনুভব করল মানিক, নিতান্ত অনিচ্ছায় চোখ মেলল। চোখ মেলেই চোখটা বড় হয়ে গেল, একটা কালো রঙের মোটা সাপ তার গলার উপর দিয়ে হিস হিস করে চলে যাচ্ছে। হালকা আলোতেই তার চামড়ার কালো আঁশগুলো চকচক করছে। চিৎকার করতে গিয়েও করল না, চুপ করে নিঃশ্বাস আটকে রেখেছে। নিঃশ্বাস ছাড়লে হয়তো তা চিরতরে আটকে যাবে। জঙ্গলে থাকতে হলে জঙ্গলকে শ্রদ্ধা করতে হয়, জঙ্গলে যারা থাকে তাদেরও শ্রদ্ধা করতে হয়, পাহাড়িরা তাই করে, প্রকৃতিও তাদের দু’ হাত ভরে দেয়। মানিকও কালো সাপটাকে আর ঘাটাল না, সেটা শ্রদ্ধায় অথবা ভয়ে অসাড় হয়ে। সাপটা চলে যেতেই মানিক তড়িঘড়ি করে উঠে বসল। এজন্যই পাহাড়িরা বনে জঙ্গলে নাকি এক চোখ খোলা রেখে ঘুমাতে হয়। মানিক এক চোখ খোলা রেখে ঘুমাতে পারে না, সে দু’ চোখই খুলে রাখল, আর ঘুম আসছে না তার। কিছুক্ষণ পর পর পাতার খস খস শব্দে এদিক-সেদিক ফিরে তাকায়, কী যেন আছে চারপাশে, আবার শুয়ে পড়ে। মানিক মনে মনে ভেবে আশ্চর্যিত হয়, ঘনবসতির ঢাকা শহরে সে নিজেকে একা অনুভব করত। আর এই জনমানবহীন পাহাড়ি জঙ্গলে মনে হচ্ছে সে একা নয়।

    পাতার ফাঁকে সূর্যটা উঁকি দিতেই মানিক উঠে পড়ল। আগুন জ্বালিয়ে দু-তিনটি আলু পুড়িয়ে, বাকিগুলো ফেলে দিল। আর এক দিনের বেশি লাগবে না পৌঁছাতে, তাছাড়া বনে অনেক ফলের গাছও আছে। এত ওজন নিয়ে হাঁটার কোনো মানে হয় না। ওজন কমানোর পরও এগুনো মুশকিল হয়ে যাচ্ছে, পাহাড়গুলোর উচ্চতা যেন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিজের বাঙালি ফুসফুসের দুর্বলতা টের পেল মানিক। পানির গ্যালনটা অনেক হালকা হয়ে গেছে, কতটুকু পানি অবশিষ্ট আছে তা দেখার সাহস হচ্ছে না। নিজের শরীরের অক্ষমতাকে অস্বীকার করে চলতে থাকল মানিক। কিন্তু দুপুর হতে হতেই সে বুঝল, দিনের বেলায় হাঁটলে পানির পিপাসায়ই সে মারা যাবে। তাই ঠিক করল, সোজা পথ ধরে রাতের বেলা হাঁটবে। রাতের বেলা চোখ বুজাও বিপদ, কত নিশাচর প্রাণী শিকারের সন্ধানে বের হয়। দিনে ঘুমালে দু’ চোখ বন্ধ করেই ঘুমাতে পারবে।

    বিকাল পর্যন্ত পাহাড়ের কোলে শুয়েই কাটাল মানিক। পায়ের ফুলো ভাবটা এখনো কমেনি। শরীর ধীরে ধীরে হাল ছেড়ে দিয়েছে, একটু বিশ্রামে আলস্য ভর করে। তখনি তার চোখে ভেসে ওঠে নাভি না কাটা পানিতে ভেসে যাওয়া শিশুর লাশ। তার মাতামহের নরকের ভয় না থাকলে সেও হতে পারত সেই লাশটা। কোনো নালায় পড়ে থাকত, পঞ্চাশ পয়সার পলিথিনের ব্যাগে।

    চোয়াল শক্ত করে আবার হাঁটতে থাকে মানিক। প্রথম কয়েক পা দিতেই মনে হলো পায়ে যেন কেউ হাজারটা সুচ ফুটিয়ে দিল, কিন্তু সে থামল না। সব ব্যথা অগ্রাহ্য করে শামুকের মতো বসে থাকা ঝোপঝাড়ের নিদ্রাভঙ্গ করে হাঁটতে লাগল। জঙ্গল রাতে জাগে, মানিকও এখন জঙ্গলের অংশ, সেও রাত জেগে হেঁটে চলেছে। কিন্তু সে জানে না এই জঙ্গল যত মমতাময়ী ততটাই নিষ্ঠুর এবং ছলানময়ী। হাঁটতে হাঁটতে কখন পথ ভুলে, ভুল পথে যাচ্ছে তা সে বুঝতে পারল না। দুই বেলা পিটি করা মিলিটারিও এই বন-জঙ্গল পাড়ি দেয়ার সাহস করে না, আর এক ডাক্তারের এই অস্পর্ধা জঙ্গল মানবে কেন।

    রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ভীষণ ক্রোধে কী যেন ছুটে আসছে মানিকের দিকে। নতুন গুল্মের ঈষৎ শক্ত কান্ডগুলোকে নির্দয়ের মতো ভেঙে-চুরে এগিয়ে আসছে। মানিক কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রায় আশি কিলোগ্রামের একটা শরীর তার উপর আছড়ে পড়ল। একটা বন্য শূকর, দূর থেকে দেখতে কত নিরীহ মনে হয়। বনে অনধিকার প্রবেশের জন্যই বুঝি মানিকের উপর তার এই ক্ষোভ, মানিক কিছু বুঝে ওঠার আগেই শূকরটি তার ধারালো দাঁত বসিয়ে দিল পায়ে। অসহ্য যন্ত্রণায় কঁকিয়ে উঠল মানিক, পাটাকে সর্বশক্তি দিয়ে ঝেড়ে দিল। তাতেও শূকরটি পা হাড়ল না, মানিক কোমড়ে হাত দিয়ে কাজাচাই এর ছুরিটি পেয়ে গেল, হাতে নিয়ে একেবারেই নীরিহভাবে শূকরটির গায়ে খোঁচা দিল। এবার বোধ হয় কিন্তু শ্রদ্ধা জাগলো শূকরটির, কুঁই কুঁই করে দৌড়ে ঝোপঝাড়ে হারিয়ে গেল। পায়ের কাছে উষ্ণতা অনুভব করল মানিক।

    তাকিয়ে বুঝল রক্ত ঝরছে, বন্ধ করা দরকার, দুই হাতে চেপে ধরেও রক্ত বন্ধ করা গেল না। মানিক খায়াচিং-এর বিদ্যা কাজে লাগাতে চাইল, বেল গাছের কচি পাতা পাঁচ মিনিটের মধ্যে রক্ত বন্ধ করতে পারে। পলিথিনটি একটু ছিড়ে পায়ে বেঁধে বেল গাছের খোঁজে হাঁটতে লাগল সে। কিন্তু তার দুর্ভাগ্য, হঠাৎ করেই যেন সব বেল গাছ উধাও হয়ে গেল, কাল পর্যন্ত কত বেল গাছ পেরিয়ে এসেছে সে, আজ একটাও পাচ্ছে না। রক্ত ঝরেই যাচ্ছে, আর কোনো উপায় না খুঁজে পেয়ে মানিক পকেট থেকে দিয়াশলাই বের করল, মাংসপেশি পুড়িয়ে রক্ত বন্ধ করতে হবে। দিয়াশলাইটা জ্বালিয়ে তার কাছে নিয়ে ধরল, পায়ের পশম পোড়া গন্ধ আসল নাকে, সাথে একটু মাংস পোড়ার গন্ধও। তারপর শুরু হলো অবর্ণনীয় যন্ত্রণা। মানিক নিঃশাস আটকে চোখ বন্ধ করে যন্ত্রণাটা সহ্য করল। যন্ত্রণাটা একটু কমে গেলেও প্রচণ্ড জ্বালা রয়ে গেল তবে রক্ত বন্ধ হয়ে গেল।

    এক মুহুর্তের জন্যও মানিক হারেনি, সে হারতে পারে না কারণ এখনো অনেক কিছু দেখার বাকি তার, উমের ফুটফুটে বাচ্চাটাকে একবার হলেও কোলে নিতে চায় সে, মৃত্যুর আগে একবার হলেও মাথায় মায়ের হাতের স্পর্শ চায়। দরকার হলে এক পায়ে জঙ্গল পেরুবে সে। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাটতে লাগল মানিক। সময়জ্ঞান নেই তার, কতক্ষণ হাঁটছে, কয়টা পাহাড় পাড়ি দিয়েছে বলতে পারে না। শুধু চন্দ্রাহত মানুষের মতো হাটছে। পিপাসার কথা ভুলে গেছে, মনে পড়লে বুঝতে পারত প্রায় এক দিন সে পানি পায়নি। বুকের ধুকধুকানি বেড়ে গেল, জ্ঞানহীন শরীর আর সইতে পারল না, শুকনো ডালের মতো মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। মানিক দেখল, আবছা আলোতে দৈত্যের মতো দাঁড়ানো একটা কালো পাহাড়, ধীরে ধীরে পাহাড়টা আরো কালো আর ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে। মানিকের মনে হলো সে মারা যাচ্ছে, মনে মনে আফসোস হলো বড় অসময়ে মারা যাচ্ছে সে।

    শাসনের পর ঘুমন্ত শিশুকে যেভাবে আদর করে মা, সেভাবে গতকালের নিষ্ঠুরতার পর জঙ্গল যেন একটু বেশিই কোমল হলো মানিকের প্রতি। শিশির মাখা ঘাসের ডগা মানিকের ঠোঁট দুটো ভিজিয়ে দিল। তার কানের কাছে নাম-না-জানা একটা পাখি ঘাসের মধ্যে চঞ্চু ডুবিয়ে খাবার খুঁজছে। মানিককে মৃত ভেবে তার কাছ থেকে পালিয়ে যায়নি পাখিটি, খাবারের খোঁজে মানিকের কানের ভেতর চঞ্চু ডুবিয়ে দিল, তাতেই মানিক জেগে উঠল। রাতে অসাড় হয়ে পড়া শরীরটি বিশ্রামের কারণে কিছু শক্তি ফিরে পেয়েছে। ধীরে ধীরে হাত-পায়ে অনুভূতি ফিরে পেল সে, রক্ত প্রবাহ টের পেল শরীরের ভেতর। চোখ খুলে দেখল সব যেন রং হরিয়েছে, গাছপালা, পাহাড়, আকাশ, পাশে একমনে খাবার খুঁজে যাওয়া পাখিটি সব রংহীন, ফ্যাকাসে। রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথে ধীরে ধীরে আবার রং ফিরে পাচ্ছিল সব। পাখিটির পালক লাল তাতে ছোপ ছোপ কালো, ঠোঁটটি হলদেটে। পাশে নাম-না-জানা একটি গাছ, তাতে লাল দেখতে খুব সুন্দর ফল ধরেছে। ঘাসগুলো একেবারে সজীব, বাতাসটাও সতেজ। জোরে শ্বাস নিল সে, ফুসফুসে বেশ কিছু সজীব শীতল বাতাস হুড়মুড় ঢুকে পড়ল। মানিক এক পায়ে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়াল।

    সামনের দিকে তাকিয়ে উত্তেজনায় কিংবা শরীরের দুর্বলতায় মানিকের শরীরটি কাঁপতে লাগল। যা দেখছে তা সত্যি হতে পারে না, নিজের চৈতন্যে সন্দেহ হলো তার। সামনে একটি পাহাড়, তার চুড়ান্ত বিশালাকার কৃষ্ণচূড়া ডালপালা মেলে চূড়াটি প্রায় ঢেকে ফেলেছে, কিন্তু অবিশ্বাসের অংশটুকু হলো, পাহাড়টার রং নীল আর উত্তেজনার অংশটুকু হলো, মানিক এই দৃশ্য আগেও দেখেছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বিলাসবহুল মাচাং ঘরে এই নীল পাহাড় সে দেখেছে। সেটা দেখতে হুবহু এ রকম ছিল কিন্তু এত বিশাল ছিল না, পয়তাল্লিশ বাই ত্রিশ সেন্টিমিটারের ক্যানভাসে শফিক সাহেবের স্টুডিওতে দেখেছিল সে, নীল পাহাড়।

    শরীরে অনুভূতি ফেরার সাথে সাথে ক্ষুদা-পিপাসার অনুভূতিও ফিরে এলো। লাল কিছু ফল তার পায়ের কাছেই পড়ে রয়েছে। খেতে গিয়েও খেল না। পাখিটি এত ফল থাকার পরেও মাটিতে খাবার খুঁজছে। বনে, পাহাড়ে না জেনে কোনো ফল পাওয়া উচিত নয়, আর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফলটা সবচেয়ে বিষাক্ত হয়। মানিক নিজেকে সংবরণ করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে লাগল নীল পাহাড়ের দিকে। পাহাড়টিকে দেখতেও খুব আকর্ষণীয় লাগছে, যেন তাকে ডাকছে। মানিক জানে না সেখানে কত বিষ লুকিয়ে আছে।

    অতি কষ্টে পা-টাকে আরো যন্ত্রণা দিয়ে প্রায় ঘণ্টাখানেক হেঁটে নীল পাহাড়ের চূড়ায় এসে উপস্থিত হলো। শফিক সাহেব যে রহস্য সেদিন ভাঙেনি আজ মানিক তা উদ্ধার করল। পুরো পাহাড় ক্রাসিমার খোঁপায় গোঁজা নীলাতা ফুলে ছেয়ে আছে। কিন্তু নীল পাহাড়ের রহস্য এত সামান্য নয়। এই পাহাড়ের কোলেই বিস্তৃত মাঠ জড়িয়ে আছে পাহাড়ের কলঙ্ক। আড়াই ফুট উচ্চতার পপি গাছগুলো নিরীহভাবে হাসছে এই সমতলভূমিতে। এই ফসল শিশুর ক্ষুধা মেটাবার জন্য নয়, মাচাং ঘরে মজুদ করার জন্যও নয়। এই ফল লোভের, পাপের। যে পাহাড় মায়ের মতো আগলে রাখে তার কোলেই চাষ হচ্ছে বিষের। এই একা পাহাড়টি যেন তার নীরব সাক্ষী। দুঃখে, কষ্ট, কলঙ্কে যেন পাহাড়টি নীল হয়ে আছে।

    বিশাল সমতল ভূমির ঐ প্রান্তে ছোট ছোট কিছু পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে। এক পাশে বেশ কিছু কুঁড়েঘর। ক্ষেতের চারপাশে কিছু লোক ঘুরে ঘুরে পাহারা দিচ্ছে, তাদের নজর পাহাড়ের দিকে। তাদের ঘাড়ে বন্দুক আছে, পাখিমারা এয়ার গান নয়, রীতিমতো রাইফেল।

    মানিক অবাক হলো, বন্দুক দেখে নয়, তাদের শার্টের বোতাম লাগানো দেখে। একজন তাকে দেখেই চেঁচিয়ে উঠল, তার দিকে বন্দুক তাক করে কী যেন বলতে লাগল, তা বুঝার সাধ্য মানিকের নেই। ভাষাটা মারমার কাছাকাছি হলেও উচ্চারণটা একেবারে ভিন্ন।

    আরো দুজন এগিয়ে এলো, তারাও বন্দুক উঁচিয়ে রেখেছে। মানিককে ধরে নামাল দুজন, নয়তো নিজে নিজে নামার শক্তি তার ছিল না। দুইজনের কাঁধে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটতে লাগল, একজন হঠাৎ করে বন্দুকের বাঁট দিয়ে মানিকের মাথায় আঘাত করল। তারা হয়তো বন্দুকের ব্যবহার খুব একটা করতে পারে না তাই সুযোগ পেয়ে একটু বাঁটটাই ব্যবহার করে নিল। মানিকের মাথার পেছনে চামড়া কেটে রক্ত বের হতে লাগল, মানিককে ধরে থাকা দুজন খুব বিরক্ত হলো, চেঁচিয়ে কী যেন বলল পেছনের জনকে। মানিকের শরীরটা এলিয়ে পড়ল, তারপর দুজন মানিককে ঝুলিয়ে একটা কুঁড়েঘরে নিয়ে এলো। কেউ একজন পানি এনে দিল একটা জগে। মানিক নিমিষেই এক জগ পানি খেয়ে ফেলল তবুও পিপাসা মেটেনি। তাকে একা রেখে ঘরটা বাহির থেকে বন্ধ করে সবাই চলে গেল। মানিক বুঝল, সে দ্বিতীয় বারের মতো বন্দি হলো, প্রথমবারের মতো বন্দুকের নলের মুখে। কিছুক্ষণ পর বুঝল সে একই পক্ষের দ্বারা দুইবার বন্দি হলো যখন সে আংসাইকে দেখল। আংসাইয়ের চেহারায় প্রথমে বিস্ময় ফুটে উঠল—

    তারপর চোখে কুটিল এবং হিংস্র একটা দৃষ্টি দেখা গেল। সে মানিকের কাছে এসে বলল—

    আমি যত শিকার করছি তার মধ্যে বাঙালি শিকার করতে সবছে ভালো লাগে।

    মানিক শান্তভাবে বলল—

    এই তোমাদের দক্ষিণের পাহাড়ের চাষবাস? এই লোকগুলো কি মায়ানমারের?

    আংসাই কিছুই বলল না, তার মুখে সেই কুটিল হাসিটি ধরে রেখেছে সে। সে তার ছুরিটি বের করল, চকচকে ছুরিটি অকারণেই মানিকের সামনে নাড়াতে লাগল। শিকার ভয় না পেলে শিকারে মজা নেই।

    এমন সময় বন্দুক কাঁধে একজন ঢুকল, সে আংসাইকে ধমক দিয়ে বাহিরে নিয়ে গেল। বন্দুকওয়ালাকে আংসাইয়ের তুলনায় আকারে ছোটই বলা যায়, একেবারে শুকনো, চিমসানো শরীর। তারপরও ধমক দিতে একটুও গলা কাঁপল না, তার কাছে যে বন্দুক আছে। আংসাইও বন্দুকের ক্ষমতা মেনে চলে। সে মাথা নিচু করে বাহিরে চলে গেল। তারপর সারাদিন আর কারো দেখা নেই। অনেক শলা-পরামর্শ হলো মানিকের ভাগ্য নিয়ে, সন্ধ্যায় চারজন লোক একটি দড়ির দোলনা এনে তাকে বসিয়ে দিল, বাঁশ দিয়ে চারজন মিলে বয়ে নিয়ে চলল তাকে। এরকম দোলনার পালকিতে আগেও চড়েছে মানিক। রাত্রির অন্ধকারে কোনো প্রতিবাদ-প্রতিরোধ ছাড়াই তারা চলতে লাগল উত্তর দিকে। রাত্রির সব সৌন্দর্য অপচয় করে, জোনাকি পোকাগুলোকে অবহেলা করে মানিক চোখ বুজল।

    .

    থুইনুপ্রুর ঘরে অনেক মানুষ থাকার পরও কেমন যেন নীরবতা ভর করেছে। আংসাই এক কোণে বসে আছে মেঝেতে। দড়ির পালকির একটা কোনা তার ঘাড়েই ছিল সারারাত, তার চোখে-মুখে ক্লান্তি। মংতো, খায়াচিং আরো কিছু বয়োবৃদ্ধও ঘরে নীরবে দাঁড়িয়ে আছে। থুইনুপ্রু বিছানায় আধশোয়া। বিছানার সামনে একটি চেয়ারে মানিক বসে আছে। তার চোখে কোনো অনুতাপ নেই। ঘরের বাহিরে বারান্দায় কৌতূহলী মহিলারা কাজ ছেড়ে ভিড় করেছে, তারা জানালা, দরজা ধরে উঁকিঝুকি মারছে। যা একটু ফিসফিস শব্দ হচ্ছে সব তারাই করছে। ছোট গ্যাদা বাচ্চাদের মায়েরাও এসেছে, তাদের ব্যাপক কৌতূহল থাকলেও তাদের বাচ্চাদের বিন্দুমাত্র নেই, মাঝে মাঝে চেঁচিয়ে উঠছে। বুকের কাপড় তুলে স্তন মুখে পুরে তাদের শান্ত রাখতে হচ্ছে।

    মহিলাদের ঠেলে ঘরে চুল ক্রাসিমা, দৌড়ে এসেছে, একটু হাঁপাচ্ছে। মানিকের ছিন্ন বস্ত্র আর জীর্ণ মুখ দেখে চোখের জল আটকাতে পারল না সে। মুখে হাত দিয়ে নীরবে কাঁদছে, যদিও এই কান্না কারো নজর এড়াল না। মংতোর মনে ভীষণভাবে জ্বলতে থাকল প্রতিটা অশ্রু। মানিক শূন্য দৃষ্টিতে শুধু একবার ক্রাসিমার দিকে তাকাল।

    থুইনুপ্রু সিগারেট লম্বা টান দিয়ে বলল—

    ডাক্তার বাবু, আপনাকে তো বুদ্ধিমান ভাবতাম, আপনি এই ভুল কেন করলেন?

    মানিক শান্ত স্বরে বলল—

    আপনি কেন করলেন?

    মানে?

    আপনাকে হিংস্র, নির্দয় মনে হতো কিন্তু সৎ ভাবতাম। আপনি এই ছলনা কেন করলেন? আপনি পাহাড়িদের দিয়ে পপি চাষ করাচ্ছেন, মায়ানমারের লোকদের সাথে মিলে।

    থুইনুপ্রুর চেহারায় বিচলতা দেখা দিল, হাতের সিগারেটটি ফেলে দিয়ে হিংস্রভাবে তাকাল মানিকের দিকে। মানিককে সম্মান দিয়ে আপনি সম্বোধন না করে তুমিতে নেমে এলো। বলল—

    তুমি সেদিন আমাকে প্রশ্ন করেছিলে, এত লোকের খরচ কোথা থেকে আসে? তুমি তোমার প্রশ্নের উত্তর পেয়েছ। অর্থই হলো শক্তি, সে শক্তি ছাড়া আমরা বাঙালিদের সাথে টিকতে পারব না। ছলনার কিছু নেই, সবাই তা জানে।

    আপনি আবারও ছলনা করছেন, আপনি সংগঠনের জন্য পপি চাষ করেন না, আপনি পপি চাষ করার জন্য সংগঠন করেছেন। কেউ কি জানে এই পপি চাষে একজন বাঙালিও জড়িত? বরঞ্চ আমার মনে হয় আপনি তার হয়েই কাজ করেন।

    ঘরের মধ্যে এতক্ষণে একটা গুঞ্জন উঠল, কিন্তু কেউই মানিককে বিশ্বাস করল না, কেউ একজন বলে উঠল, হালা বাঙালি! ক্রাসিমা শুধু অবাক হয়ে শুনছে, পপি চাষের কথা সে জানত না। থুইনুপ্রু গলা উঁচু করে বলল—

    কী যা-তা বলছ। তোমার হুঁশ নেই।

    হুঁশ আমার ফিরে এসেছে। যেই নীল পাহাড়ের ধারে আপনারা এই বিষ চাষ করছেন সেই নীল পাহাড়ের ছবি শফিক সাহেব তার স্টুডিওতে এঁকেছেন, আমি নিজ চোখে দেখেছি। তার তো এই পাহাড় দেখার কথা না।

    উনি ছবি আঁকলেই কি প্রমাণ হয়ে যায় যে উনার সাথে আমার যোগাযোগ আছে?

    না, তবে আপনার ঘরে যখন তার আঁকা ছবি ঝুলে তখন প্রমাণের কিছু বাকি থাকে না।

    মানিক রবীন্দ্রনাথের ছবির দিকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বলল—

    ছবির নিচে তার স্বাক্ষরও আছে।

    সবাই সেদিকে তাকাল, যারা পড়তে পারে না তারাও। মানিক আবার বলতে লাগল—

    তিনি একজন শিল্পপতি, শুনেছি তার টাকার নেশা ছিল। সব ছেড়ে উনি কেন এই পাহাড়ে একটা অকর্মা এনজিও নিয়ে পড়ে আছেন? একটা স্কুল দিয়েছিলেন তিনি, তাও জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে।

    থুইনুপ্রু গম্ভীরভাবে বলল—

    আমরা কারো স্কুল জ্বালাইনি।

    আপনি ঠিকই বলেছেন, আমার মনে হয় তিনি নিজেই জ্বালিয়েছেন। পাহাড়ি বাঙালিদের উসকে দিয়েছে একে অপরের বিরুদ্ধে। বরকত আলীর মতো লোক দিয়ে পাহাড়িদের নিজেদের জমি থেকে বিতাড়িত করেছেন, আবার সময় হলে সে বরকত আলীকে মেরে ঘৃণাটা জিইয়ে রেখেছেন। আপনি বিতাড়িত পাহাড়িদের আশ্রয় দেয়ার নাম করে এখানে নিয়ে আসেন, তারা কৃতজ্ঞতার বসে আপনার জন্য সব করে, বিষও চাষ করে।

    ঘরে নীরবতা ফিরে এলো, বাহিরেও ফিসফাস বন্ধ, দুধের বাচ্চারাও যেন কৌতূহলী হয়ে উঠল। মানিক আবার বলতে লাগল—

    আপনি যদি পাহাড়িদের কল্যাণের জন্য কাজ করতেন, তবে তাদের ভূমিহীন করে এখানে এনে আশ্রয় দিতেন না। নিজের ভূমির জন্য লড়াই করে যেতেন। পাহাড়ি সংস্কৃতি রক্ষার নামে জুম চাষের ঐতিহ্য বাদ দিয়ে এদের দিয়ে পপি চাষ করাতেন না। এদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করতেন, তাদের মুর্খ রেখে নিজের ফায়দা লুটতেন না। আপনার স্ত্রী মারা গেছে, আমার বিশ্বাস আপনার ছেলেমেয়ে আছে এবং তারা রেঙ্গুনে বিশাল বাড়িতে খুব আরাম-আয়েশে আছে। পাহাড়িদের ঐতিহ্য রক্ষার জন্য তাদের জুমচাষও করতে হয় না, পপি চাষও করতে হয় না।

    থুইনুপ্রু হুংকার দিয়ে উঠল, সমস্ত গ্রামটা যেন কেঁপে উঠল। সব সময় তাকে শান্ত দেখেছে সবাই, এমন ক্রোধ আগে কেউ দেখেনি। তার চোখ দুটি আগুনের ভাটার মতো জ্বলছে। ফোঁসফোঁস করে নাক দিয়ে নিঃশ্বাস ছাড়তে লাগল। মংতোর দিকে তাকিয়ে বলল—

    এই মিথ্যাবাদী কুকুটাকে নিয়ে বেঁধে রাখো। আজ রাতে এর ব্যবস্থা করব।

    তার আদেশ অস্বীকার করতে শিখেনি কেউ, আজও করল না। মংতো মানিককে ধরে বাহিরে নিয়ে গেল। থুইনুপ্রুর ক্রোধের ঘূর্ণিঝড়ের সামনে কেউ পড়তে চায় না, তারা ধীরে ধীরে সরে গেল। অনেকেই মনে মনে মেনে নিল, মানিক মিথ্যা বলেছে, থুইনুপ্রু যেহেতু বলেছে সেহেতু মানিক মিথ্যা বলেছে। কিন্তু ধানের কুটা পড়া চোখের মতো মনটা খচখচ করতে লাগল। সবাই বেরিয়ে গেল, ক্রাসিমা শুধু রবীন্দ্রনাথের ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইল, রবীন্দ্রনাথ মুচকি হাসছেন।

    থুইনুপ্রুর কপালের পাশের শিরা দুটো দপ দপ করতে লাগল। মাথায় রক্ত চড়ে গেছে, শিরাগুলো রক্ত সরবরাহ করে কূল পাচ্ছে না। আজ তার সব গাম্ভীর্য, সব অহংকার এই ডাক্তারটি মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে। সবাই হয়তো বিশ্বাস করেনি কিন্তু সে নিজে জানে সে একজনের সামনে নগ্ন হয়ে গেছে, নিজের কাছে। সে নিজেও বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল, পাহাড়িদের কল্যাণ করছে সে, আজ ডাক্তার তার নিজের আসল প্রতিবিম্ব দেখিয়ে দিল।

    ঢাকায় গিয়ে জীবন গড়তে চেয়েছিল সে, কয়েকটা বছর নষ্ট করা ছাড়া কিছুই হয়নি। একমাত্র ব্যাপার যেটাকে সে ভালো বলতে পারে তা হলো, শফিক আহমেদের সাথে দেখা হওয়া। সন্ত লারমার সংহতিতে যোগ দিয়ে পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরেছে, অস্ত্র চালনা শিখেছে। গহিন পাহাড়ে সমতলভূমি দেখে সেই-ই প্রস্তাব দেয় পপি চাষের। শফিক আহমেদের ব্যবসায়িক বুদ্ধি ভালো, সে শুষে নেয়। সব ছেড়ে পাহাড়ে আস্তানা গাড়ে। পাহাড়ে এমনিতে তখম বহু পাহাড়ি ভিটে ছেড়েছে, একটা যুদ্ধ চলছে পাহাড়ে। যেখানে যুদ্ধ চলে শকুনেরা সেখানে চলে যায়, খুঁটে খুঁটে মাংস খায়, তারাও খেয়েছে। ভিটে ছাড়া পাহাড়িদের দিয়ে পপি চাষ করাত, সেগুলো পাচার হতো মিয়ানমারে। তারা সবগুলো জমি বাছাই করেছিল সীমান্তের কাছে যাতে পরিবহনে সমস্যা না হয়। তাদের লোভও বেড়ে গেল, শফিক সাহেব একটা ভদ্র, দয়ালু মুখোশ পরে পাহাড়িদের উচ্ছেদ করত আর থুইনুপ্রু তাদের কাজে লাগিয়ে আরো জমি নিয়ে চাষবাস বাড়িয়ে দিল। সারাজীবন ব্যবসা করে যা আয় করেনি শফিক আহমেদের দুই বছরে তার চেয়ে বেশি আয় হলো।

    থুইনুপ্রুও রেঙ্গুনে বাড়ি করেছে। দুই ছেলে পড়াশুনা করছে, বউ মারা যাবার পর কম যাওয়া হয় রেঙ্গুনে।

    রবীন্দ্রনাথের ছবিটার দিকে তাকিয়ে মনটা আর্দ্র হয়ে গেল। তার বউ রবীন্দ্রসংগীত গাইত। পাহাড়ি মেয়ের রবীন্দ্রসংগীতে কীভাবে ঝোঁক হলো কেউ বলতে পারত না। খুব সহজেই রেডিওর শিল্পী হতে পারত সে। রেঙ্গুনের বাড়িতে শফিক সাহেব প্রায়ই যেতেন।

    তখন তার বউ আবদার করেছিল, রবীন্দ্রনাথের একটি ছবি এঁকে দেয়ার জন্য, ঘরের দেয়ালে বাঁধাই করে রাখবে। শফিক সাহেব এঁকে দিয়েছিলেন, কিন্তু তত দিনে টাইফয়েডে বউ মারা গিয়েছে। তাই রবীন্দ্রনাথের এই ছবিটি সব সময় নিজের ঘরে টাঙ্গিয়ে রাখে থুইনুপ্রু। যত খারাপ মানুষই হোক সে, বউকে বড় ভালোবাসত।

    ডাক্তারের কথা মনে হতেই মনের আর্দ্র ভাবটা হারিয়ে গিয়ে সেখানে প্রতিহিংসা ভর করল। এখন কিছু করা যাবে না, সবাইকে কথাগুলো ভুলতে একটু সময় দিতে হবে। আজ রাত অপেক্ষা করে কাল ভোর হওয়ার আগেই কাজটা সেরে ফেলতে হবে। চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ ভাবল সে তারপর মংতোকে ডেকে পাঠাল।

    সারাটা দিন গ্রামে থমথমে অব ছিল, মেয়েরা গল্প করেছে, তাঁত বুনেছে, বুড়োরা হুঁকো টেনেছে, বাচ্চারা এটা-সেটা খেলেছে। পুরুষেরা ক্ষণিক বুড়োদের সাথে ক্ষণিক মেয়েদের সাথে যোগ দিয়েছে। সব কিছু আগের দিনের মতোই হয়েছে, তবুও কোথায় যেন একটা বিষন্নতা বাবলা কাঁটার মতো বিঁধে রইল। ক্রাসিমা নিজের ঘর থেকে এক মুহুর্তের জন্য বের হয়নি, একবার ভেবেছিল মন্দিরে পুজো দিবে, প্রার্থনা করবে কিন্তু কার জন্য করবে ভেবে পায়নি। পাথরের মূর্তির মতো বসে আছে সে, চোখেও কোনো চঞ্চলতা নেই।

    শুধু মাঝে মাঝে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।

    রাতটাও থমথমে অবে কেটে গেল, যারা মুমিয়েছে তারা জানে সকালবেলা গ্রামে পাঁঠা জবাই হবে। কিন্তু কারো মনে আনন্দ নেই, কেউ বুঝতেও পারছে না এমন লাগছে কেন।

    .

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleও হেনরি রচনাসমগ্র
    Next Article তেইল্যা চোরা – ওবায়েদ হক

    Related Articles

    ওবায়েদ হক

    তেইল্যা চোরা – ওবায়েদ হক

    July 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }