Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প69 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪. জালের মায়া মায়ার জাল

    ৪. জালের মায়া মায়ার জাল

    সে যেন এক শক্তিহীন মাকড়সা। তার চার দিকে তার নিজেরই কার্যকলাপ থেকে শুঁড় বার হয়েছে সুতোর মতো। তাকে কেন্দ্রে রেখে একটা জাল বোনা হয়ে যাচ্ছে। সে আটকে যাচ্ছে। ভীষণ ভাবে আটকে যাচ্ছে। একটার পর একটা দায়। শশাঙ্ক চিঠি উইল এ সব নিয়ে বসে থাকে। কী করবে সে এখন? এ সব তো মহা ঝামেলার ব্যাপার। বসে থাকতে থাকতে সে টের পায় দীর্ঘ দিনের অনিয়মে তার শরীর বিদ্রোহ ঘোষণা করছে। উঠতে ইচ্ছে করছে না। ভীষণ তেষ্টা পাচ্ছে। অথচ, জলটাও যে নিয়ে আসতে হবে, এ ইচ্ছে নেই। পাশের ফ্ল্যাটের কথা ভাবে, ওহ্‌ ওটা তো তালা বন্ধ। সে তো বেল টিপে বলতে পারবে না কঙ্কণা, তোমার কাছে কিছু, মানে খাবার দাবার আছে? যদি অসুবিধে না হয়… শরীর মন পকেট। এ সব যত ক্ষণ ঠিকঠাক আছে তত ক্ষণ মনে হয় আমি স্বয়ংসম্পূর্ণ, কারওর দরকার নেই। ইচ্ছেমত কাজ করব, ইচ্ছেমত ভোগ করব। সবটাই চলবে আমার মর্জিমাফিক। যেমন ভেবেছিলেন শৈবাল সাধন ও সাহানা গুপ্ত। বিপদের দিনে এক জন আত্মীয়কেও পেলেন না। ভেবেছিলেন কার্তিক সামন্ত ও তাঁর ছেলে তারক সামন্ত। জ্ঞাতিদের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক রাখেননি। ঠিক যে নেই, লোভ ক্রমশ বিকট চেহারা নিচ্ছে বুঝেসুজেও তো নিশ্চিন্তে ছিলেন। আজ বৃদ্ধ একা, নাতি সম্পূর্ণ অনাত্মীয়র দয়ার ওপর নির্ভর। সেও তো ভেবেছিল, বেশ আছে। ঝাড়া হাত-পা, যা ভালবাসে তাই করবে, যেখানে সেখানে খিদে পেলে খেয়ে নেবে। বাড়িতে এসে একটা বিছানা পেলেই তো হল। এখন কী রকম ঘোর লাগা আবছা চোখে সে দেখল, বাড়িটা অকথ্য নোংরা। ধুলো জমে আছে। বিছানাটা চিট ময়লা। তার চার পাশে খালি অযত্ন, অবহেলা, নোংরা। এক মহানারকীয় রাতের মধ্যে সে ঢুকে যাচ্ছিল ক্রমাগত। ছেড়ে দিয়েছিল নিজেকে। ঠিক আছে, তাই হোক। চেতনার মধ্যে শুধু জেগেছিল মা বাবার রক্তাক্ত মৃতদেহ, মাফিয়া চক্রে খুন, একলা, সম্পূর্ণ একলা লড়াই। ভাই সুদূরের, কোনও দিন কাছে এল না, এবং ক্রূর স্বার্থপর মুখ সব মসৃণ মুখোশের আড়ালে। খালি খুন জখম, ধর্ষণ, দাঙ্গা, অগ্নিকাণ্ড, মানববোমা, বিশাল বিশাল মাপের চৌর্য পাবলিক মানির, জিঘাংসা, বুভুক্ষা, লিপ্সা ওহ্‌ একটা উন্মত্ত পৃথিবী তার মাথাময় দাপাদাপি করে বেড়াচ্ছে। এইই তো নরক! সে তা হলে যাচ্ছে নরক থেকে নরকান্তরে? ঠাণ্ডা একটা হাত সে এক সময়ে অনুভব করল কপালে। শীতল, বরফ ঠাণ্ডা। শিউরে উঠল গাটা, নরমও। এই তবে মৃত্যুর হাত! এ তো ভালই। মৃত্যুকে কেন এত ভয় পায় লোকে?

    কেউ যেন ডাকল, আংকল! কাকু! কিন্তু মৃত্যু তাকে কেন আঙ্কল টাঙ্কল কাকু টাকু বলতে যাবে? তার পর এক জন একটু বয়স্কা এবং এক জন কিশোরী তাকে জলে চুবিয়েছে, ডাক্তার ডেকেছে, তাকে হাসপাতালায়িত করেছে, সে কিছুই জানতে পারেনি। জ্ঞান ফিরল কোনও আপাত পরিচ্ছন্ন টিপটপ ঘরে। আরে! এ তো একটা টিপিক্যাল নার্সিং হোম! যেন চেনা চেনা….

    —এই তো, চোখ চেয়েছেন, এক জন সিঙ্গার এসে হেসে বললেন। বি পি, হার্ট বিট, পালস সব যথারীতি। স্যালাইন ঠেলা রয়েছে এক দিকে।

    —ভাল আছেন? শরীরের দিকে একটু নজর দিতে হয়! যতই কাজ থাক। শরীরের নাম মোটেই মহাশয় নয়, বুঝলেন? সব সয় না।

    ব্রেকফাস্ট এসেছে। কলা, পরিজ, ডিম, টোস্ট, দুধ।

    —খান ভাল করে। অনেক দিন খান না। আপনারা এই ব্যাটাছেলেরা সত্যি কোনও দিন কিছু শিখবেন না। ওইটুকু একটা মেয়ে যা পারে, আপনারা জোয়ান মানুষ কেন যে….ভদ্রমহিলা কথা শেষ করলেন না। তার মনে হচ্ছে সে দুর্ভিক্ষের দেশ থেকে এসেছে। গোগ্রাসে খেল। খেতে খেতে ভাবল এই গোগ্রাসে খেতে চাওয়াই তা হলে জীবনের লক্ষণ! কতকগুলো শারীরবৃত্তীয় বোধ। শুধু তার তাড়না, তার ভজনা, তার প্রশমন। এইই কি সব?

    খাওয়া দাওয়া হয়ে যেতেই একটা অখণ্ড শান্তি তৈরি হতে থাকে ভেতরে, কোনও দুঃখ নেই, চিন্তা নেই, সমস্যা নেই। দেবতা জাতীয় কেউ যদি সত্যিই থাকে তা হলে তাদের মধ্যে নিশ্চয়ই এই রকম প্রসন্নতা বিরাজ করে। আরামে চোখ বুজল সে। এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই শুনল, কাকু! কেবিনের দরজা আলো করে দাঁড়িয়ে আছে একটি বছর চোদ্দোর কিশোরী মেয়ে। চুলে পনিটেল, আলোর মতো ফর্সা, অনাবিল চোখ। মিলি এখানে কী করছে? তার পেছনে মায়া নামে নার্সটিকে সে চিনতে পারছে। একেই সে মিলির তত্ত্বাবধানে রেখেছে। ওরা ঢুকতে না ঢুকতেই ঢুকল অতুলদা।

    —যা হোক একখানা দেখালে শশাঙ্ক।

    সে বলল, ফ্ল্যাটের দরজা খুললে কী করে?

    আরে, আমাকে একটা কল দিয়েছিলে। ভুলে মেরে দিয়েছি। ইতিমধ্যে মিলির ফোন। শশাঙ্ককাকু অনেক দিন আসেনি। কেন? তখন খেয়াল হল অফিসেও তো আসছ না। কী যা রাগ করছিলেন! একটা ফোন করবার সৌজন্যও নাকি তোমার নেই, ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে তুমি এতই ব্যস্ত। তোমাদের দারোয়ানের কাছ থেকে ডুপ্লিকেট চাবি জোগাড় করি। ওহ্‌ শশাঙ্ক আই’ভ নেভার সিন সাচ আ মেস।

    মিলি হঠাৎ শশাঙ্কর বেডের ওপর মাথা রেখে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল। এই মেয়েটিকে এ ভাবে কাঁদতে দেখেনি শশাঙ্ক তার চূড়ান্ত সর্বনাশের পরও। শক্ত ধাতের মেয়ে। সে বিষাদপ্রতিমা হয়ে গিয়েছিল, আর নয় তো রাগ করত, প্রচণ্ড অহেতুক ক্রোধ। যা পাচ্ছে ভেঙেচুরে দিচ্ছে। দিনের পর দিন শশাঙ্ক তার কাউন্সেলিং করিয়েছে। তার তত্ত্বাবধান করেছে বাড়িতে এই মায়া মহিলাটিকে সর্বক্ষণের জন্য রেখে। চার মস্তানের বিরুদ্ধে কেস উঠেছে এখন। এক জন শিল্পপতির ছেলে। এক জন টিভি সিরিয়ালের অভিনেতা, এক জন মন্ত্রীর ভাইপো আর চতুর্থ জন এক আই পি এস অফিসারের ছোট ভাই। এই কেসের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার বিশ্রাম নেই। নিজের কাছে এমন প্রতিজ্ঞাই তো সে করেছিল। মানসিক বিপর্যস্ত মেয়েটিকে আদালতে নিয়ে যেতে ডাক্তারের বারণ আছে। তাই সমস্ত পদ্ধতিটাই স্থগিত হয়ে রয়েছে। তারা তিন জনকে পরিষ্কার শনাক্ত করতে পেরেছে। চতুর্থ জনের জন্যে মিলিকে দরকার। অথচ, সেটাও একটা বিপজ্জনক অভিজ্ঞতা হবে মেয়েটির পক্ষে। সেই যাকে বলে, আদালত ও একটি মেয়ে। এখন আবার ও কাঁদতে শুরু করল।

    —তুমি কাঁদছ কেন?

    —তুমি চলে যেও না, মরে যেও না, কাকু। আই হ্যাভ নো বডি টু টার্ন টু।

    —আমি কোথাও যাব না। সে তার অনভ্যস্ত হাত মিলির মাথার ওপর রাখল। দিদি বা বোন। মা বা মেয়ে। কোনও নারী জাতিয়র সঙ্গে তার সংসর্গ কই? আবেগের বন্ধন কই? আত্মীয়তা? তাও তো নেই।

    হঠাৎ তার চোখের সামনে ভেসে উঠল কালো চুলে ঘেরা শ্যামলা একটা মুখ। খুব ঢলঢলে। শহুরে চটক নেই, গ্রাম্য আনাড়িপনাও নেই একদম। ফড়ফড় করে কথা বলার পাত্র নয়, যা বলে করে সবই সুচিন্তিত। ভদ্র, বাড়াবাড়ি নেই কোনও। এবং সে কাজ বোঝে। এক্ষুনি কী করা দরকার চকিতে বুঝে ফেলে সেটা। যত দূর মনে পড়ছে খুব ঠিকঠাক করে সেটা বার বার।

    সকালের ভিজিটিং শেষ হয়ে যাবার পর সে তাই সিস্টারকে দিয়ে সাকচিতে একটা কল করাল।

    —কঙ্কণা আছে?

    —কে মৃগাঙ্ক? হ্যাঁ বাবা, ডাকছি।

    —আমি মৃগাঙ্কর দাদা।

    ও দিকটা কিছু ক্ষণ নীরব। এই নীরবতার অর্থ অনুধাবন করবার সময় নেই শশাঙ্কর। কিছু ক্ষণ পর কঙ্কণার গলাটা ও দিকে বাজতেই সে বলল— তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে পারবে? ধরো কালই?

    —পারব!

    সে আর কিছু বলল না। কঙ্কণাও আর একটিও প্রশ্ন করল না।

    —কী দরকার! কী এমন হল? সে কেমন আছে। বাচ্চাটার খবর, মৃগাঙ্কর খবর! কিচ্ছু না। আশ্চর্য অল্প কথার মানুষ এবং কোন মানুষ ঠিক কেমন, কোনটা তার খুব জরুরি, এ সব দরকারগুলো সে চট করে বুঝে ফেলে। এই ভাবে কঙ্কণার বিশ্লেষণ সে কখনও করেনি। সেও তো ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের মানুষ। তাই দিয়েই বুঝে ফেলে অর্ধেক। আজকে প্রথম ভাল করে ভাবল, বুঝল। বিকেলেই ছাড়া পেয়ে যাবে। বাড়িতে গিয়ে তার প্রথম কাজ হবে লোটনকে ফোন করা।

    অতুলদা একেবারে ছুটির দরখাস্তটায় সই করিয়ে নিল। বলল

    — আমি তোমাকে কাছাকাছি কোথাও থেকে একটু সুপ এনে দিয়ে যাচ্ছি। টোস্টটা তুমি যদি ম্যানেজ করতে না পারো তো আমি নাহয় আর একটু বসেই যাই। বাই দা ওয়ে, একটা লোক টোক রাখো না কেন?

    —রেখেছি অনেক বার। দরজা খোলা না পেয়ে চলে যায়।

    হা হা করে হাসল অতুল

    — আরে বাবা, দরজা খোলা না পেলেও মাইনেটা তো পায়।

    —তা পায়। তবু টেকে না।

    —এ ব্যবস্থা চলতে পারে না। সদ্য হাসপাতাল ফেরত রোগীকে নিজে টোস্ট করে খেতে হবে! দিস ইজ টু মাচ।

    —কিন্তু এটাই তো সিচুয়েশন, অতুলদা। আমি ও সব ভাবি না। ওগুলো প্রবলেম নয়।

    —তোমার প্রবলেমগুলো কী জাতীয় আমি আন্দাজ করতে পারি শশাঙ্ক, অতুলদা হাসল।

    — কিন্তু টিকে থাকাও তো দরকার! টোস্টার রয়েছে দেখলুম। করবে তো? না, পেটে কিল মেরে রাতটা কাটিয়ে দেবে?

    —আজ কি তোমার আর কোনও অ্যাসাইনমেন্ট আছে?

    —নাঃ, তবে কাল ফার্স্ট আওয়ার।

    অতুলদা সুপ ফুপ আনতে চলে গেলে শশাঙ্ক হঠাৎ আবার খুব ক্লান্ত বোধ করল। পাশ ফিরে ক্লান্তির হাতে নিজেকে সমর্পণ করা ছাড়া আর কিছু নেই এখন। রিল্যাকসেশন। বেশ কিছু ক্ষণ ডিপ ব্রিদিং করো, তার পর নিজেকে ছেড়ে দাও। এ ভাবেই যদি নিজেকে চাঙ্গা করা যায়! এখন মাথার মধ্যে কিচ্ছু নেই। এত অবসন্ন, একলা, প্রায় অসহায় তার কখনও লাগেনি। সেও কি জীবনভর এক অন্তর্নিহিত ট্রমায় ভুগছে না? লোটনকে অব্যাহতি দিতে গিয়ে নিজের ওপর দু’জনের চিন্তার ভার তুলে নেয়নি কি? ক্ষয় তো ভেতরে ভেতরে চলছেই। কাজ না থাকলেই সেই অনুভূতিটা চেপে ধরে। সে ঘুমিয়েই পড়েছিল। উপর্যুপরি বেলের আওয়াজে ঘুমটা ভেঙে গেল। অতুলদা এল বোধহয়। কিন্তু দরজা খুলে দিয়ে শশাঙ্ক দেখল কঙ্কণা দাঁড়িয়ে আছে। তার কোলে একটি লাজুক শিশু। হাতে একটা বাস্কেট।

    —তুমি? এর মধ্যে?

    —কত ক্ষণ লাগে? আপনার কী হয়েছে? হসপিটাল থেকে ফোন?

    —ও কিছু না।

    —আপনার তো কিছুতেই কিছু না। ইশশ্‌ কী করে রেখেছেন! যাক পরে শুনব। আমি আসছি। চিনচিনকে একটু খাইয়ে আসছি। দরজাটা বন্ধ করবেন না।

    পেছন থেকে অতুল বণিক বলল, আচ্ছা! আপনি এসে গেছেন! ভাইয়ের মিসেস না? বাঃ টোস্টের সমস্যাটার সমাধান হয়ে গেল।

    অতুল ভেতরে এসে টেবিলে রাখল সুপটা। একটা প্লাস্টিকের মুখবন্ধ কৌটোয় দিয়েছে।

    — তা হলে আমি আসছি শশাঙ্ক।

    —শুনুন শুনুন। কঙ্কণা ডাকল। কী ব্যাপার বলুন তো। কী হয়েছিল এঁর? হসপিটাল থেকে ফোন গেল!

    —আরে, সে মহাভারত! দু’দিন জ্বর টরে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল। মিলি আর আমি দু’জনেই এসে পড়ি ভাগ্যিস! প্র্যাকটিক্যালি মিলি আর মায়া মিলেই….। হাসপাতাল….স্যালাইন….দিন পাঁচেক ছিল। আরে, এর একটা বিয়ে দিন। বাউণ্ডুলে হয়ে জীবন কাটে ম্যাডাম?

    অতুল নিশ্চিন্ত হয়ে কেটে পড়ল।কঙ্কণা অবাক হয়ে বলল, মিলি কে? মিলি, মায়া?

    —সে অনেক কথা। ক্লান্তি আচ্ছন্ন করছে শশাঙ্ককে। সে ও পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়ল। কারও কাছে কোনও জবাবদিহির শক্তি এখন নেই।

    কঙ্কণা চিনচিনকে মেঝেতে ছেড়ে দেয়। সামনে তার প্রিয় প্লাস্টিকের বিল্ডিং ব্লক। আপন মনে খেলছে। কঙ্কণা বসেই থাকে, বসেই থাকে। এ কেমন মানুষ যে অন্যের বিপদে নিঃসঙ্কোচে তার কাছে পরামর্শ, সাহায্য চায়। নিজের বিপদে স্মরণও করে না? এরা খুব অদ্ভুত মানুষ, সত্যি! তার বাপের বাড়িতে মা বাবা ভাই আর বিবাহিত বোনে এই দূরত্ব নেই। এ তারা ভাবতেও পারে না। তার অসুখ করলে মা পাশে, বাবা ডাক্তারখানা, ভাই ওষুধ আনতে গেল। মায়ের কিছু হলে বাবার আর হাত পা আসে না। সে আর ভাইই তখন সব। বাবার কিছু হয় না চট করে। হলে সে সংসার সামলায়, মা রোগীর পাশে। ভাইটার অসুখ বিসুখ করে না। কিন্তু ফুটবল খেলে জখম হয় যখন তখন। সে সময়ে দিদি গরম গরম সেঁক দেবে আর সে আহা উ হু হু হু করবে এটাই নিয়ম।

    মৃগাঙ্ক অবশ্য বলে থাকে, এগুলো আদিখ্যেতা। এই ধরনের গায়ে গায়ে ঘনিষ্ঠতা, নির্ভরশীলতা খুব গেঁয়ো ব্যাপার। আত্মনির্ভর হওয়াই উন্নত মানুষের লক্ষণ। কিন্তু মৃগাঙ্ক যদি একটি বার ফোন করে বলত, তুমি ছাড়া এই দেড় বছর প্রায় আমার যে কেমন করে কাটছে কাঁকন? কিংবা সেই যদি বলতে পারত কথাটা! আহ্‌ বড় আরাম হত। সোনা নয়, দানা নয়, দেশভ্রমণ নয়, সামান্য দুটো কথা মনটাই পাল্টে দিতে পারত! কিন্তু সে তো গেঁয়ো, এবং মৃগাঙ্ক প্রগতিশীল!

    দাদার সেলফোনটা বাজল। চট করে কঙ্কণা ধরে সেটা। ঘুমটা না ভেঙে যায়। অতন্দ্র যে মানুষটাকে সে প্রতি দিন এক পায়ে খাড়া দেখে, আজ সে এমন অসময়ে যদি আচ্ছন্ন হয়ে থাকে সে ঘুম তার খুব দরকার।

    —হ্যালো!

    —আমি মিলি বলছি। কাকু বাড়ি ফিরেছেন? অতুলকাকু বলেছিলেন উনি রিলিজ করিয়ে নেবেন!

    — হ্যাঁ, শশাঙ্কবাবু বাড়ি ফিরেছেন। অতুলবাবু পৌঁছে দিয়ে গেছেন।

    —আমি যাচ্ছি মায়াদিকে নিয়ে। কাকুর এখন একা থাকা ঠিক নয় তো!

    কঙ্কণা শুধু শুনছিল, মন্তব্য করছিল না। সামান্য চুপ। তার পর ও দিকের কণ্ঠটি বলল

    — আপনি কে?

    —আমি ওঁর ভাইয়ের স্ত্রী। ছিলুম না। এসে গেছি।

    চুপ। তার পর আস্তে, তবুও। যদি আমরা যাই আপনি রাগ করবেন?

    —না। তুমি চিনে আসতে পারবে?

    —হ্যাঁ। গেছি তো এক দিন।

    কঙ্কণা কোনও এক মিলি আর মায়াদির জন্যে বসে থাকে। মিনিট চল্লিশ পঁয়তাল্লিশ পর দরজায় বেল বাজে। কঙ্কণা খুলে দেখে লম্বা স্কার্ট পরা, ভারী ছেলেমানুষ মেম মেম দেখতে মেয়ে একটি বিগ শপার হাতে। পেছনে শক্তপোক্ত পেটা চেহারার নরম মুখের এক চল্লিশোর্ধ্ব মহিলা হাতে সুটকেস, রোল অন লাগেজ একটা।

    শশাঙ্ক এখনও ঘুমিয়ে যাচ্ছে। রোগা, ফ্যাকাশে। মিলি সোজা তার ডিভানের কাছে এসে একদৃষ্টে তার দিকে তাকিয়েই থাকে। তার পর হঠাৎ কথা না বার্তা না, সে পেছন ফিরে কঙ্কণার কাঁধে মাথা রেখে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে। শব্দ বেশি নয়। কিন্তু অজস্র জমা জল ঝরছে।

    চিনচিন খেলা থেকে মন উঠিয়ে হাঁ করে তাকিয়ে বলল, দিদি কাঁদছে। মা, দিদি কাঁদছে। শশাঙ্কর ঘুম ভেঙে গেল। সে চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে দৃশ্যটা। কঙ্কণার কাঁধে মুখ মিলির। মেঝেতে নামানো লাগেজ। মায়া চিনচিনকে কোলে নিতে হাত বাড়াচ্ছে। সে তড়াক করে উঠে বসল।

    কঙ্কণা বলল, আপনি ও রকম হট করে উঠলেন কেন? কী রকম টলছেন! মায়া দাদাকে একটু শুইয়ে দাও তো! তোমরা বসো। আমি দাদার খাবার ব্যবস্থা করি। শশাঙ্ক কিছুই বুঝতে পারছিল না।

    —এ সব কী? সে অস্ফুটে বলল।

    —মিলিদিদি আপনার কাছে থাকতে এসেছে।

    —কেন?

    —ওখানে থাকতে পারছে না আপনার অসুখ শুনে।

    —অসুখ হয়েছে, সেরে যাবে….এত সব….কোনও মানে হয়?

    মিলি বলল, কাকু আমি এখানেই থাকব। ব্যস।

    সারা দিন, সন্ধে অনেক ঘুমিয়েছে শশাঙ্ক। মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে সে বলে উঠল, স্পার্টা স্পার্টা। তার পরেই একেবারে ভেঙে গেল ঘুমটা। স্পার্টা কেন? কেন বলে উঠল! সে কি কোনও স্বপ্ন দেখছিল? অনেক ভেবেচিন্তে তার মনে হল, সে আসলে চিন্তা ছাড়া থাকতে পারে না। ঘুরছে ফিরছে, মগজটা কিছু ব্যাখ্যা কিছু একটা বিষয় নিয়ে ভেবে চলেছে। সেই প্রক্রিয়াটা ভেতরে ভেতরে চলছিলই। শরীরের মধ্যে যন্ত্রগুলো তার বিগড়ে বসেছে। তাকে এক শীতার্ত পাহাড়ের সানুতে রেখে চলে গিয়েছিল তার বীর্য, তার স্বাস্থ্য, তার মানসিক ক্ষমতা, সব। অলস, শিথিল, ইচ্ছাশক্তিহীন অসহায়। অতুলদা তাকে টোস্ট করে নিতে বলেছিল। কিন্তু অসীম শৈত্য তার শরীর জুড়ে। সে পারত না এই সামান্য কাজও। ওই ঠাণ্ডা সুপটা গলাধঃকরণ করে শুয়ে পড়ত! মাঝরাতে প্রচণ্ড খিদে পেত। খানিকটা জল খেত। তার পর ঘুম না ঘুমের মাঝখানের অবসাদময় অনুভূতি। আস্তে আস্তে নাঙ্গা পাহাড়ের কঠিন পাথর, খোলা ধারালো হাওয়া, শীত। ক্রমশ তুষার আবৃত করত তার দেহ, পর্বতারোহীদের পতন ঘটলে তো এমনটাই হয়! স্পার্টার নিয়ম পৃথিবী মানলে সে পরিত্যক্ত হত। কিন্তু মানেনি। ঘোর থেকে উঠে সে অতুলদা ও মিলিকে দেখল। হাসপাতাল, নার্স, মায়া। কঙ্কণাকে সে খবর পাঠিয়েছিল ঠিকই। কিন্তু নিজের জন্যে নয়। মিলির জন্যে। প্রত্যাশার অনেক আগেই কঙ্কণা এসে গেছে। গরম রুটি করে দিয়েছে তাকে। আলু চচ্চড়ি যে এত চমৎকার একটা খাদ্য, সে তো আগে জানতই না। তাদের ধানবাদের বাড়িতে রোজ মাংস, মাটন বা চিকেনের চল ছিল। গরগরে তরকারি। এই আলু চচ্চড়ি তাকে যে কী এক নতুন জন্ম দিল! বেশ ভরপেট খেয়ে ঘুমিয়েছে সে। এখন ঘুম ভেঙে মনে হচ্ছে সে স্পার্টান সভ্যতার কেজো, প্র্যাকটিক্যাল, নিষ্ঠুর কঠিন নিয়মগুলোর কথা ভাবছিল। স্পার্টা হেরে যাচ্ছে, এই অক্ষাংশ, এই দ্রাঘিমায়। এ তার কল্পনায় ছিল না। সে জানত, বাস্তব হল, সে একা। কল্পনাশক্তি, বুদ্ধি আজ অবধি শতকরা শতভাগ সে ব্যয় করেছে তার জীবিকার জন্য। নিরপেক্ষ, নিরুদ্বেগ, তথ্যসমৃদ্ধ, বুদ্ধিমন্ত পরিবেশনার জন্য সে সতীর্থ মহলে যথেষ্ট সমাদৃত। কিন্তু ওই পর্যন্ত। কল্পনা অন্য দিকে কাজ করেনি। আবেগও না। সে শিশুটিকে উদ্ধার করেছিল। তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল একটা চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানে। মিলি নামে কিশোরীটিকেও সে বাঁচতে সাহায্য করছে, আবারও চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানে। কিন্তু শিশুটি যখন তার ভাই বউয়ের কোলে চেপে ঘরে এল, মিলি যখন কঙ্কণার কাঁধে মুখ রেখে কাঁদল, আগেও তার হাসপাতালের শয্যায় মাথা রেখে কেঁদেছে, তখন সে বুঝতে পারছে একটা অন্য রকম ছবি তৈরি হচ্ছে। অন্য কল্পনার তৈরি। সে নিমিত্ত হয়ে রইল এই ছবির এবং ছবিটা এখন তাকে জড়িয়ে নিচ্ছে, সেও ছবিটার বিষয় হয়ে যাচ্ছে, রঙে কালিতে লম্বা গোল আঁচড়ে। সে বরাবর ছবির বাইরে ঘটনার বাইরে নিরপেক্ষ দাঁড়িয়ে থেকেছে। আজ সব হিসেব গোলমাল হয়ে গেছে। ভাবতে ভাবতে সে আবার ঘুমিয়ে পড়ল।

    মিলি থাকে শশাঙ্কর ঘরে, কিন্তু সময় কাটায় কঙ্কণার কাছে। তার তো এখন স্কুল টুলের বালাই নেই। সে বালিগঞ্জ প্লেসের বাড়ি থেকে তার প্রিয় বইগুলো নিয়ে এসেছে। দুঃখের বিষয় যাবতীয় কিশোরপাঠ্য রোমাঞ্চ তার বিষ লাগছে। সে কঙ্কণার, শশাঙ্কর বুককেস ঘাঁটছে। বাংলা পড়তে আটকাত। কঙ্কণার সাহায্যে সড়গড় হয়ে যাচ্ছে বেশ। তা ছাড়া, তাদের দু’জনকেই মোহিত করে চিনচিন দিদি আর মাকে নানান তথ্য জানাচ্ছে, যেমন টিট্টিটি খেলে। পিঁপড়ে ধুলো খায়। আরশুলা চিনি খায় শুঁড় নাড়ে। বলতে বলতে এক এক সময়ে সে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে, আতঙ্কে নীল হয়ে যায়। পোকা পোকা, গায়ে পোকা খাচ্ছে….। তাকে ভোলাতে বেশ বেগ পেতে হয় তখন। সে কথা বলতে শিখছে। দেরিতে। আটকে আটকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleছোটোগল্প – বাণী বসু
    Next Article কৃত্তিবাস রহস্য – বিনোদ ঘোষাল

    Related Articles

    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    যখন চাঁদ এবং – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Our Picks

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }