Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নৌকাডুবি – চলিত ভাষার – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    চলিত ভাষার এক পাতা গল্প350 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রায় প্রতি বছর শরৎকালে পূজার টিকিট বের হলে হেমনলিনীকে নিয়ে অন্নদাবাবু জব্বলপুরে তাঁর বোনের স্বামীর কর্মস্থানে বেড়াতে যেতেন। হজমশক্তির উন্নতির জন্য তাঁর এই বার্ষিক চেষ্টা।

    ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি হয়ে এসেছে, এবার পূজার ছুটির আর খুব বেশি দেরি নেই। অন্নদাবাবু এখন থেকেই তাঁর যাত্রার আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

    আসন্ন বিচ্ছেদের সম্ভাবনায় রমেশ আজকাল খুব বেশি করে হারমোনিয়ম শিখতে মেতে উঠেছে। একদিন কথায় কথায় হেমনলিনী বলল, “রমেশবাবু, আমার মনে হয়, আপনার অন্তত কিছুদিন বায়ুপরিবর্তন দরকার। না বাবা?”

    অন্নদাবাবু ভাবলেন কথাটা যুক্তিসঙ্গত, কারণ এরই মধ্যে রমেশের উপর দিয়ে শোক-দুঃখের দুর্যোগ গেছে। বললেন, “অন্তত কিছুদিনের জন্য কোথাও বেড়িয়ে আসা ভালো। বুঝেছ রমেশ, পশ্চিমই বল আর যে দেশই বল, আমি দেখেছি, শুধু কিছুদিনের জন্য একটু ফল পাওয়া যায়। প্রথম কয়েকদিন বেশ ক্ষুধা বাড়ে, বেশ খাওয়া যায়, তার পর আবার সেই আগের অবস্থা। পেট ভার হয়ে আসে, বুকে জ্বালা করতে থাকে, যা খাওয়া যায় তাই–”

    হেমনলিনী: “রমেশবাবু, আপনি নর্মদা-ঝরনা দেখেছেন?”

    রমেশ: “না, দেখিনি।”

    হেমনলিনী: “এ আপনার দেখা উচিত, না বাবা?”

    অন্নদা: “তা বেশ তো, রমেশ আমাদের সঙ্গেই আসুন-না কেন? হাওয়া-বদলও হবে, মার্বল পাহাড়ও দেখবে।”

    হাওয়া-বদল করা এবং মার্বল পাহাড় দেখা, এই দুটি যেন রমেশের পক্ষে সম্প্রতি সবচেয়ে প্রয়োজনীয়– সুতরাং রমেশকেও রাজি হতে হল।

    সেদিন রমেশের শরীর-মন যেন হাওয়ার উপরে ভাসতে লাগল। অশান্ত হৃদয়ের আবেগকে কোনো একটা রাস্তায় ছাড়া দেবার জন্য সে তার বাসার ঘরের মধ্যে দরজা বন্ধ করে হারমোনিয়ামটা নিয়ে বসল। আজ আর তার সুর-বেসুরের বোধ রইল না– যন্ত্রটার উপর তার পাগলাটে আঙুলগুলো তাল-বেতালের নাচ বাধিয়ে দিল। হেমনলিনীর দূরে যাওয়ার সম্ভাবনায় কয়েক দিন তার হৃদয়টা ভারাক্রান্ত ছিল– আজ উল্লাসের বেগে সংগীতবিদ্যা সম্বন্ধে সব রকমের ন্যায়-অন্যায়-বোধ একেবারে বিসর্জন দিল।

    এমন সময় দরজায় শব্দ হল, “আহা সর্বনাশ! থামুন, থামুন রমেশবাবু, করছেন কী?”

    রমেশ অত্যন্ত লজ্জিত হয়ে লাল মুখে দরজা খুলে দিল। অক্ষয় ঘরের মধ্যে ঢুকে বলল, “রমেশবাবু, গোপনে বসে এই যে কাণ্ড করছেন, আপনাদের দণ্ডবিধির কোনো আইনের মধ্যে কি এটা পড়ে না?”

    রমেশ হাসতে লাগল; বলল, “অপরাধ স্বীকার করছি।”

    অক্ষয় বলল, “রমেশবাবু, আপনি যদি কিছু মনে না করেন, আপনার সঙ্গে আমার একটা কথা আলোচনা করার আছে।”

    রমেশ উৎকণ্ঠিত হয়ে নীরবে আলোচ্য বিষয়ের জন্য অপেক্ষা করতে লাগল।

    অক্ষয়: “আপনি এতদিনে এটুকু বুঝেছেন, হেমনলিনীর ভালোমন্দের প্রতি আমি উদাসীন নই।”

    রমেশ হ্যাঁ-না কিছু না বলে চুপ করে শুনতে লাগল।

    অক্ষয়: “তাঁর সম্বন্ধে আপনার মতামত কী, তা জিজ্ঞাসা করার অধিকার আমার আছে– আমি অন্নদাবাবুর বন্ধু।”

    কথাটা এবং কথার ভঙ্গিটা রমেশের খুব খারাপ লাগল। কিন্তু কড়া জবাব দেবার অভ্যাস ও ক্ষমতা রমেশের নেই। সে মৃদুস্বরে বলল, “তাঁর সম্বন্ধে আমার কোনো মন্দ অভিপ্রায় আছে, এ আশঙ্কা আপনার মনে আসার কি কোনো কারণ ঘটেছে?”

    অক্ষয়: “দেখুন, আপনি হিন্দুপরিবারে আছেন, আপনার বাবা হিন্দু ছিলেন। আমি জানি, পাছে আপনি ব্রাহ্ম-ঘরে বিয়ে করেন, এই আশঙ্কায় তিনি আপনাকে অন্যত্র বিয়ে দেবার জন্য দেশে নিয়ে গিয়েছিলেন।”

    এই সংবাদটি অক্ষয়ের জানার বিশেষ কারণ ছিল। কারণ অক্ষয়ই রমেশের বাবার মনে এই আশঙ্কা জন্মিয়ে দিয়েছিল। রমেশ মুহূর্তের জন্য অক্ষয়ের মুখের দিকে তাকাতে পারল না।

    অক্ষয় বলল, “হঠাৎ আপনার বাবার মৃত্যু ঘটল বলেই কি আপনি নিজেকে স্বাধীন মনে করছেন? তাঁর ইচ্ছা কি–”

    রমেশ আর সহ্য করতে না পেরে বলল, “দেখুন অক্ষয়বাবু, অন্যের সম্বন্ধে আমাকে উপদেশ দেবার অধিকার যদি আপনার থাকে, তবে দিন, আমি শুনে যাব– কিন্তু আমার বাবার সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক তাতে আপনার কোনো কথা বলার নেই।”

    অক্ষয় বলল, “আচ্ছা বেশ, সে কথা তবে থাক। কিন্তু হেমনলিনীকে বিয়ে করার ইচ্ছা এবং সামর্থ্য আপনার আছে কিনা, সে কথা আপনাকে বলতে হবে।”

    রমেশ আঘাতের পর আঘাত খেয়ে ক্রমশই উত্তেজিত হয়ে উঠছিল; বলল, “দেখুন অক্ষয়বাবু, আপনি অন্নদাবাবুর বন্ধু হতে পারেন, কিন্তু আমার সঙ্গে আপনার তেমন বেশি ঘনিষ্ঠতা হয়নি। দয়া করে আপনি এ-সব প্রসঙ্গ বন্ধ করুন।”

    অক্ষয়: “আমি বন্ধ করলেই যদি সব কথা বন্ধ থাকে এবং আপনি এখন যেমন পরিণামের দিকে নজর না রেখে বেশ আরামে দিন কাটাচ্ছেন, এমনিই বরাবর কাটাতে পারতেন, তাহলে কোনো কথা ছিল না। কিন্তু সমাজ আপনাদের মতো নিশ্চিন্তপ্রকৃতি লোকের পক্ষে সুখের জায়গা নয়। যদিও আপনারা খুব উঁচুদরের লোক, পৃথিবীর কথা খুব বেশি ভাবেন না, তবু চেষ্টা করলে হয়তো এটুকুও বুঝতে পারবেন যে, ভদ্রলোকের মেয়ের সঙ্গে আপনি যে রকম ব্যবহার করছেন, এমন করে আপনি বাইরের লোকের জবাবদিহি থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারেন না– এবং যাঁদের আপনি শ্রদ্ধা করেন তাঁদের লোকসমাজে অশ্রদ্ধাভাজন করার এটাই উপায়।”

    রমেশ: “আপনার উপদেশ আমি কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করলাম। আমার যা কর্তব্য তা আমি শিগগিরই স্থির করব এবং পালন করব, এ বিষয়ে আপনি নিশ্চিন্ত হবেন– এ সম্বন্ধে আর বেশি আলোচনা করার প্রয়োজন নেই।”

    অক্ষয়: “আমাকে বাঁচালেন রমেশবাবু। এত দীর্ঘকাল পরে আপনি যে কর্তব্য স্থির করবেন এবং পালন করবেন বলছেন, এতেই আমি নিশ্চিন্ত হলাম– আপনার সঙ্গে আলোচনা করার শখ আমার নেই। আপনার সংগীতচর্চায় বাধা দিয়ে অপরাধী হয়েছি– মাফ করবেন। আপনি আবার শুরু করুন, আমি বিদায় হলাম।”

    এই বলে অক্ষয় দ্রুতবেগে বাইরে চলে গেল।

    এর পরে খুব বেসুরো সংগীতচর্চাও আর চলে না। রমেশ মাথার নীচে দুহাত রেখে বিছানার উপর চিত হয়ে শুয়ে পড়ল। অনেকক্ষণ এভাবেই কাটল। হঠাৎ ঘড়িতে টং টং করে পাঁচটা বেজে যাওয়া শুনেই সে দ্রুত উঠে পড়ল। কী কর্তব্য স্থির করল তা অন্তর্যামীই জানেন– কিন্তু ততক্ষণে প্রতিবেশীর বাড়ি গিয়ে যে এক-দুই পেয়ালা চা খাওয়া কর্তব্য, সে সম্বন্ধে তার মনে দ্বিধামাত্র রইল না।

    হেমনলিনী চমকে বলে উঠল, “রমেশবাবু, আপনার কি অসুখ করেছে?”

    রমেশ বলল, “বিশেষ কিছু না।”

    অন্নদাবাবু বললেন, “আর কিছুই নয়, হজমের গোল হয়েছে– পিত্তাধিক্য। আমি যে বড়ি ব্যবহার করে থাকি তার একটা খেয়ে দেখো দেখি–”

    হেমনলিনী হেসে বলল, “বাবা, ঐ বড়ি খাওয়াওনি, তোমার এমন আলাপী কেউ দেখি না– কিন্তু তাদের এমন কী উপকার হয়েছে?”

    অন্নদা: “অনিষ্ট তো হয়নি। আমি যে নিজে পরীক্ষা করে দেখেছি– এ পর্যন্ত যত রকম বড়ি খেয়েছি, এইটেই সব চেয়ে উপকারী।”

    হেমনলিনী: “বাবা, যখন তুমি একটা নতুন বড়ি খেতে শুরু কর, তখনি কিছুদিন তার অশেষ গুণ দেখতে পাও–”

    অন্নদা: “তোমরা কিছুই বিশ্বাস কর না– আচ্ছা, অক্ষয়কে জিজ্ঞেস করো দেখি, আমার চিকিৎসায় সে উপকার পেয়েছে কি না।”

    সেই প্রমাণিক সাক্ষীকে ডাকার ভয়ে হেমনলিনীকে চুপ করতে হল। কিন্তু সাক্ষী আপনি এসে হাজির হল। এসেই অন্নদাবাবুকে বলল, “অন্নদাবাবু, আপনার সেই বড়ি আমাকে আরেকটা দিতে হবে। খুব উপকার হয়েছে। আজ শরীর এমনি হালকা বোধ হচ্ছে!”

    অন্নদাবাবু গর্বিতভাবে তাঁর মেয়ের মুখের দিকে তাকালেন।

    বড়ি খাওয়ার পর অন্নদাবাবু অক্ষয়কে তাড়াতাড়ি ছাড়তে চাইলেন না। অক্ষয়ও যাবার জন্য বিশেষ তাড়া প্রকাশ না করে মধ্যে মধ্যে রমেশের মুখের দিকে কটাক্ষ করতে লাগল। রমেশের চোখে সহজে কিছু পড়ে না– কিন্তু আজ অক্ষয়ের এই কটাক্ষগুলো তার চোখ এড়াল না। তাতে তাকে বার বার অস্থির করে তুলতে লাগল।

    পশ্চিমে বেড়াতে যাওয়ার সময় নিকটবর্তী হয়ে উঠেছে– মনে মনে তারই আলোচনায় হেমনলিনীর চিত্ত আজ বিশেষ প্রফুল্ল ছিল। সে ঠিক করে রেখেছিল, আজ রমেশবাবু এলে ছুটি কাটানো নিয়ে তাঁর সঙ্গে নানা রকম পরামর্শ করবে। সেখানে নির্জনে কী কী বই পড়ে শেষ করতে হবে, দুজনে মিলে তার একটা তালিকা করার কথা ছিল। স্থির ছিল, রমেশ আজ সকাল-সকাল আসবে, কারণ, চায়ের সময় অক্ষয় বা কেউ না কেউ এসে পড়ে, তখন মন্ত্রণা করার সময় পাওয়া যায় না।

    কিন্তু আজ রমেশ অন্য দিনের চেয়েও দেরি করে এসেছে। মুখের ভাবও তার অত্যন্ত চিন্তাযুক্ত। তাতে হেমনলিনীর উৎসাহে অনেকটা আঘাত লাগল। কোনো এক সুযোগে সে রমেশকে আস্তে আস্তে জিজ্ঞেস করল, “আপনি আজ বড়ো যে দেরি করে এলেন?”

    রমেশ অন্যমনস্কভাবে একটু চুপ থেকে বলল, “হাঁ, আজ একটু দেরি হয়ে গেছে বটে।”

    হেমনলিনী আজ তাড়াতাড়ি করে কত সকাল-সকাল চুল বেঁধে নিয়েছে। চুল-বাঁধা কাপড়-ছাড়ার পর সে আজ কতবার ঘড়ির দিকে তাকিয়েছে– অনেকক্ষণ পর্যন্ত মনে করেছে তার ঘড়িটা ভুল চলছে, এখনো বেশি দেরি হয়নি। যখন এই বিশ্বাস রাখা একেবারেই অসম্ভব হয়ে উঠল তখন সে জানলার কাছে বসে একটা সেলাই নিয়ে কোনোমতে মনের অধৈর্য শান্ত রাখার চেষ্টা করেছে। তার পরে রমেশ মুখ গম্ভীর করে এল– কী কারণে দেরি হয়েছে, তার কোনো রকম জবাবদিহি করল না– আজ সকাল-সকাল আসার যেন কোনো শর্তই ছিল না।

    হেমনলিনী কোনোমতে চা-খাওয়া শেষ করে নিল। ঘরের কোণে একটা টিপাইয়ের উপরে কতকগুলো বই ছিল– হেমনলিনী কিছু বিশেষ উদ্যমের সাথে রমেশের মনোযোগ আকর্ষণ করে সেই বইগুলো তুলে নিয়ে ঘর থেকে বেরোবার উপক্রম করল। তখন হঠাৎ রমেশের চেতনা হল; সে তাড়াতাড়ি কাছে এসে বলল, “ওগুলো কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? আজ একবার বইগুলো বেছে নেবেন না?”

    হেমনলিনীর ঠোঁট কাঁপছিল। সে উথলে আসা অশ্রুজলের উচ্ছ্বাস অনেক কষ্টে সংবরণ করে কাঁপা গলায় বলল, “থাক-না, বই বেছে কী আর হবে।”

    এই বলে সে দ্রুতবেগে চলে গেল। উপরের শোয়ার ঘরে গিয়ে বইগুলো মেঝের উপর ফেলে দিল।

    রমেশের মনটা আরও বিগড়ে গেল। অক্ষয় মনে মনে হেসে বলল, “রমেশবাবু, আপনার বোধ হয় শরীরটা আজ তেমন ভালো নেই?”

    রমেশ এর উত্তরে অস্পষ্ট কণ্ঠে কী বলল, ভালো বোঝা গেল না। শরীরের কথায় অন্নদাবাবু উৎসাহিত হয়ে বললেন, “সে তো রমেশকে দেখেই আমি বলেছি।”

    অক্ষয় মুখ টিপে হাসতে হাসতে বলল, “শরীরের প্রতি মনোযোগ করা রমেশবাবুর মতো লোকেরা বোধ হয় খুব তুচ্ছ মনে করেন। উঁহারা ভাবরাজ্যের মানুষ– খাওয়া হজম না হলে তা নিয়ে চেষ্টা করাটাকে অসভ্যতা বলে মনে করেন।”

    অন্নদাবাবু কথাটাকে গম্ভীরভাবে নিয়ে বিস্তারিতভাবে প্রমাণ করতে বসলেন যে, ভাবুক হলেও হজম করাটা তো চাইই।

    রমেশ নীরবে বসে মনে মনে দগ্ধ হতে লাগল।

    অক্ষয় বলল, “রমেশবাবু, আমার পরামর্শ শুনুন– অন্নদাবাবুর বড়ি খেয়ে একটু সকাল-সকাল শুতে যান।”

    রমেশ বলল, “অন্নদাবাবুর সঙ্গে আজ আমার একটু বিশেষ কথা আছে সেইজন্য আমি অপেক্ষা করে আছি।”

    অক্ষয় চৌকি ছেড়ে উঠে বলল, “এই দেখুন, এ কথা আগে বললেই হত। রমেশবাবু সব কথা পেটে রেখে দেন, শেষকালে সময় যখন প্রায় শেষ হয়ে যায় তখন ব্যস্ত হয়ে উঠেন।”

    অক্ষয় চলে গেলে রমেশ নিজের জুতোজোড়াটির প্রতি দুচোখ নিচু করে রেখে বলতে লাগল, “অন্নদাবাবু, আপনি আমাকে আত্মীয়ের মতো আপনার ঘরের মধ্যে যাতায়াত করার অধিকার দিয়েছেন, এ আমি যে কত সৌভাগ্যের বিষয় বলে মনে করি তা আপনাকে মুখে বলে শেষ করতে পারব না।”

    অন্নদাবাবু বললেন, “বিলক্ষণ! তুমি আমাদের যোগেনের বন্ধু, তোমাকে ঘরের ছেলে বলে মনে করব না তো কী করব?”

    ভূমিকা তো হল, তার পরে কী বলতে হবে, রমেশ কিছুতেই ভেবে পায় না। অন্নদাবাবু রমেশের পথ সহজ করে দেবার জন্য বললেন, “রমেশ, তোমার মতো ছেলেকে ঘরের ছেলে করতে পারা আমারই তো কম সৌভাগ্য!”

    এর পরেও রমেশের কথা জোগাল না।

    অন্নদাবাবু বললেন, “দেখো-না, তোমাদের সম্পর্কে বাইরের লোক অনেক কথা বলতে শুরু করেছে। তারা বলে, হেমনলিনীর বিয়ের বয়স হয়েছে, এখন তার সঙ্গী নির্বাচন সম্বন্ধে বিশেষ সতর্ক হওয়া দরকার। আমি তাদের বলি, রমেশকে আমি খুব বিশ্বাস করি– সে আমাদের উপরে কখনোই অন্যায় ব্যবহার করতে পারবে না।”

    রমেশ: “অন্নদাবাবু, আমার সম্পর্কে আপনি সবই তো জানেন, আপনি যদি আমাকে যোগ্য পাত্র বলে মনে করেন, তবে–”

    অন্নদা: “সে কথা বলাই বাহুল্য। আমরা তো একরকম ঠিক করেই রেখেছি– শুধু তোমার সাংসারিক দুর্ঘটনার ঘটনায় দিন স্থির করতে পারিনি। কিন্তু বাপু, আর দেরি করা উচিত হয় না। সমাজে এ নিয়ে ক্রমেই নানা কথা তৈরি হচ্ছে– সেটা যত শিগগির হয় বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কী বল?”

    রমেশ: “আপনি যেরকম আদেশ করবেন তাই হবে। অবশ্য সবচেয়ে আগে আপনার মেয়ের মত জানা দরকার।”

    অন্নদা: “সে তো ঠিক কথা। কিন্তু সে একরকম জানাই আছে। তবু কাল সকালেই সে কথাটা পাকাপাকি করে নেব।”

    রমেশ: “আপনার শুতে যেতে দেরি হচ্ছে, আজ তবে আসি।”

    অন্নদা: “একটু দাঁড়াও। আমি বলি কী, আমরা জব্বলপুরে যাওয়ার আগেই তোমাদের বিয়েটা হয়ে গেলে ভালো হয়।”

    রমেশ: “সে তো আর বেশি দেরি নেই।”

    অন্নদা: “না, এখনো দিন-দশেক আছে। আগামী রবিবারে যদি তোমাদের বিয়ে হয়ে যায় তাহলে তার পরেও যাত্রার আয়োজনের জন্য দু-তিন দিন সময় পাওয়া যাবে। বুঝেছ রমেশ, এত তাড়া করতাম না, কিন্তু আমার শরীরের জন্যই ভাবনা।”

    রমেশ সম্মত হল এবং আর একটা বড়ি গিলে বাড়ি চলে গেল।

     

    বিদ্যালয়ের ছুটি নিকটবর্তী। ছুটির সময়ে কমলাকে বিদ্যালয়েই রাখার জন্য রমেশ কর্ত্রীর সঙ্গে আগেই ঠিক করেছিল।

    রমেশ ভোরবেলা উঠে ময়দানের নির্জন রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে স্থির করল, বিয়ের পর সে কমলা সম্পর্কে হেমনলিনীকে সমস্ত ঘটনা আগাগোড়া বিশদ করে বলবে। তার পরে কমলাকেও সমস্ত কথা বলার সুযোগ হবে। এভাবে সব পক্ষের বোঝাপড়া হয়ে গেলে কমলা স্বচ্ছন্দে বন্ধুর মতো হেমনলিনীর সঙ্গেই বাস করতে পারবে। দেশে এ নিয়ে নানা কথা উঠতে পারে, এই ভেবে সে হাজারিবাগে গিয়ে প্র্যাকটিস করবে স্থির করেছে।

    ময়দান থেকে ফিরে এসে রমেশ অন্নদাবাবুর বাড়ি গেল। সিঁড়িতে হঠাৎ হেমনলিনীর সঙ্গে দেখা হল। অন্য দিন হলে এমন সাক্ষাতে একটু কিছু আলাপ হত। আজ হেমনলিনীর মুখ লাল হয়ে উঠল, সেই লালিমার মধ্য দিয়ে একটা হাসির আভা ভোরের আলোর মতো উজ্জ্বল হল– হেমনলিনী মুখ ফিরিয়ে চোখ নিচু করে দ্রুতবেগে চলে গেল।

    রমেশ যে সুরটা হেমনলিনীর কাছ থেকে হারমোনিয়মে শিখেছিল, বাসায় গিয়ে সেটাই খুব করে বাজাতে লাগল। কিন্তু একটি মাত্র সুর সারাদিন বাজানো চলে না। কবিতার বই পড়তে চেষ্টা করল– মনে হল, তার ভালোবাসার সুর যে সুদূর উচ্চে উঠছে কোনো কবিতা সে পর্যন্ত পৌঁছতে পারছে না।

    আর হেমনলিনী নিরলস আনন্দের সাথে তার গৃহকর্ম সব সেরে নির্জন দুপুরে শোবার ঘরের দরজা বন্ধ করে তার সেলাইটি নিয়ে বসল। মুখের উপরে একটি পরিপূর্ণ প্রসন্নতার শান্তি। একটি সর্বাঙ্গীণ সার্থকতা তাকে ঘিরে রইল।

    চায়ের সময়ের আগেই কবিতার বই আর হারমোনিয়ম ফেলে রমেশ অন্নদাবাবুর বাসায় এসে হাজির হল। অন্য দিন হেমনলিনীর সঙ্গে দেখা হতে বেশি দেরি হত না। কিন্তু আজ চায়ের ঘরে দেখল সে ঘর খালি, দোতলায় বসবার ঘরে দেখল সে ঘরও খালি, হেমনলিনী এখনো তার শয়নঘর ছেড়ে নামেনি।

    অন্নদাবাবু সময়মতো এসে টেবিল দখল করে বসলেন। রমেশ ক্ষণে ক্ষণে চমকে দরজার দিকে তাকাতে লাগল।

    পায়ের শব্দ হল, কিন্তু ঘরে ঢুকল অক্ষয়। যথেষ্ট হৃদ্যতা দেখিয়ে বলল, “এই-যে রমেশবাবু, আমি আপনার বাসাতেই গিয়েছিলাম।”

    শুনেই রমেশের মুখে উদ্বেগের ছায়া পড়ল।

    অক্ষয় হেসে বলল, “ভয় কিসের রমেশবাবু? আপনাকে আক্রমণ করতে যাইনি। শুভসংবাদে অভিনন্দন জানানো বন্ধুবান্ধবের কর্তব্য– তাই পালন করতে গিয়েছিলাম।”

    এই কথায় অন্নদাবাবুর মনে পড়ল হেমনলিনী উপস্থিত নেই। হেমনলিনীকে ডাক দিলেন– উত্তর না পেয়ে তিনি নিজে উপরে গিয়ে বললেন, “হেম, এ কী, এখনো সেলাই নিয়ে বসে আছ! চা তৈরি যে। রমেশ-অক্ষয় এসেছে।”

    হেমনলিনী মুখ একটু লাল করে বলল, “বাবা, আমার চা উপরে পাঠিয়ে দাও, আজ আমি সেলাইটা শেষ করতে চাই।”

    অন্নদা: “ওই তোমার দোষ হেম! যখন যেটা নিয়ে পড়, তখন আর-কিছুই খেয়াল কর না। যখন পড়া নিয়ে ছিলে তখন বই কোল থেকে নামত না– এখন সেলাই নিয়ে পড়েছ, এখন আর-সবই বন্ধ। না না, সেটা হবে না– চলো, নিচে গিয়ে চা খাবে চলো।”

    এই বলে অন্নদাবাবু জোর করেই হেমনলিনীকে নিচে নিয়ে এলেন। সে এসেই কারো দিকে দৃষ্টি না করে তাড়াতাড়ি চা ঢালার ব্যাপারে খুব ব্যস্ত হয়ে উঠল।

    অন্নদাবাবু অধীর হয়ে বললেন, “হেম, ও কী করছ? আমার পেয়ালায় চিনি দিচ্ছ কেন? আমি তো কোনোদিনই চিনি দিয়ে চা খাই না।”

    অক্ষয় টিপটিপ হেসে বলল, “আজ উনি উদারতা সংবরণ করতে পারছেন না– আজ সবাইকে মিষ্টি বিতরণ করবেন।”

    হেমনলিনীর প্রতি এই প্রচ্ছন্ন বিদ্রূপ রমেশের মনে মনে অসহ্য হল। সে তৎক্ষণাৎ স্থির করল, আর যাই হোক, বিয়ের পরে অক্ষয়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখা হবে না।

    অক্ষয় বলল, “রমেশবাবু, আপনার নামটা বদলে ফেলুন।”

    রমেশ এই রসিকতার চেষ্টায় আরও বিরক্ত হয়ে বলল, “কেন বলুন তো।”

    অক্ষয় খবরের কাগজ খুলে বলল, “এই দেখুন, আপনার নামের একজন ছাত্র অন্য লোককে নিজের নামে চালিয়ে পরীক্ষা দিয়ে পাস হয়েছিল– হঠাৎ ধরা পড়েছে।”

    হেমনলিনী জানে, রমেশ মুখের উপর উত্তর দিতে পারে না– সেইজন্য এতকাল অক্ষয় রমেশকে যে আঘাত করেছে তার প্রতিঘাত দিয়ে এসেছে। আজও থাকতে পারল না। লুকানো রাগের লক্ষণ চেপে একটু হেসে বলল, “অক্ষয় বলে ঢের লোক বোধ হয় জেলখানায় আছে।”

    অক্ষয় বলল, “ওই দেখুন, বন্ধুভাবে ভালো পরামর্শ দিতে গেলে আপনারা রাগ করেন। তবে সমস্ত ইতিহাসটা বলি। আপনি তো জানেন, আমার ছোটো বোন শরৎ বালিকা-বিদ্যালয়ে পড়তে যায়। সে কাল সন্ধ্যার সময় এসে বলল, ‘দাদা, তোমাদের রমেশবাবুর স্ত্রী আমাদের ইস্কুলে পড়েন।’ আমি বললাম, ‘দূর পাগলি! আমাদের রমেশবাবু ছাড়া কি আর দ্বিতীয় রমেশবাবু জগতে নেই?’ শরৎ বলল, ‘তা যেই হোন, তিনি তাঁর স্ত্রীর উপর ভয়ানক অন্যায় করছেন। ছুটিতে প্রায় সব মেয়েই বাড়ি যাচ্ছে, তিনি তাঁর স্ত্রীকে বোর্ডিঙে রাখার বন্দোবস্ত করেছেন। সে বেচারা কাঁদতে কাটতে নানাভাবে জেদ করছে।’ আমি তখনি মনে মনে বললাম, এ তো ভালো কথা নয়, শরৎ যেমন ভুল করেছিল, এমন ভুল আরও তো কেউ কেউ করতে পারে!”

    অন্নদাবাবু হেসে উঠে বললেন, “অক্ষয়, তুমি কী পাগলের মতো কথা বলছ! কোন্ রমেশের স্ত্রী ইস্কুলে পড়ে কাঁদছে বলে আমাদের রমেশ নাম বদলাবে নাকি?”

    এমন সময়ে হঠাৎ ফ্যাকাশে মুখে রমেশ ঘর থেকে উঠে চলে গেল। অক্ষয় বলে উঠল, “ও কী রমেশবাবু, আপনি রাগ করে চলে গেলেন নাকি? দেখুন দেখি, আপনি কি মনে করেন আপনাকে আমি সন্দেহ করছি?” বলে রমেশের পিছন পিছন বাইরে চলে গেল।

    অন্নদাবাবু বললেন, “এ কী কাণ্ড!”

    হেমনলিনী কেঁদে ফেলল। অন্নদাবাবু ব্যস্ত হয়ে বললেন, “ও কী হেম, কাঁদিস কেন?”

    সে ফেটে পড়া কান্নার মধ্যে আটকা গলায় বলল, “বাবা, অক্ষয়বাবুর ভয়ানক অন্যায়। কেন উনি আমাদের বাড়িতে ভদ্রলোককে এমন করে অপমান করেন?”

    অন্নদাবাবু বললেন, “অক্ষয় ঠাট্টা করে একটা কী বলেছে, এত অস্থির হবার কী দরকার ছিল?”

    “এ-রকম ঠাট্টা অসহ্য।” বলে দ্রুত পায়ে হেমনলিনী উপরে চলে গেল।

    এইবার কলকাতায় আসার পর রমেশ বিশেষ যত্নের সাথে কমলার স্বামীর খোঁজ করছিল। অনেক কষ্টে ধোবাপুকুরটা কোন জায়গায়, তা বের করে কমলার মামা তারিণীচরণকে এক চিঠি লিখেছিল।

    উক্ত ঘটনার পরদিন সকালে রমেশ সেই চিঠির জবাব পেল। তারিণীচরণ লিখছেন, দুর্ঘটনার পরে তাঁর জামাতা শ্রীমান নলিনাক্ষের কোনো সংবাদই পাওয়া যায়নি। রংপুরে তিনি ডাক্তারি করতেন– সেখানে চিঠি লিখে তারিণীচরণ জেনেছেন, সেখানেও কেউ আজ পর্যন্ত তাঁর কোনো খবর পায়নি। তাঁর জন্মস্থান কোথায়, তা তারিণীচরণের জানা নেই।

    কমলার স্বামী নলিনাক্ষ যে বেঁচে আছেন, এ আশা আজ রমেশের মন থেকে একেবারে দূর হল।

    সকালে রমেশের হাতে আরও অনেকগুলো চিঠি এসে পড়ল। বিয়ের সংবাদ পেয়ে তার আলাপী পরিচিত অনেকে তাকে অভিনন্দন-পত্র লিখেছে। কেউ বা আহারের দাবি জানিয়েছে, কেউ বা এত দিন সমস্ত ব্যাপারটা সে গোপন রেখেছে বলে রমেশকে হাসি-তামাশা করে তিরস্কার করেছে।

    এমন সময়ে অন্নদাবাবুর বাড়ি থেকে চাকর একখানা চিঠি নিয়ে রমেশের হাতে দিল। হাতের লেখা দেখে রমেশের বুকের ভিতরটা দুলে উঠল।

    হেমনলিনীর চিঠি। রমেশ মনে করল, অক্ষয়ের কথা শুনে হেমনলিনীর মনে সন্দেহ জন্মেছে এবং তাই দূর করার জন্য সে রমেশকে পত্র লিখেছে।

    চিঠি খুলে দেখল, তাতে কেবল এই ক’টি কথা লেখা আছে–

    “অক্ষয়বাবু কাল আপনার উপর ভারি অন্যায় করেছেন। মনে করেছিলাম আজ সকালেই আপনি আসবেন, কেন আসলেন না? অক্ষয়বাবুর কথা কেন আপনি এত করে মনে নিচ্ছেন? আপনি তো জানেন, আমি তাঁর কথা গ্রাহ্যই করি না। আপনি আজ সকাল-সকাল আসবেন– আমি আজ সেলাই ফেলে রাখব।”

    এই ক’টি কথার মধ্যে হেমনলিনীর সান্ত্বনা-সুধাপূর্ণ কোমল হৃদয়ের ব্যথা অনুভব করে রমেশের চোখে জল এল। রমেশ বুঝল, কাল থেকেই হেমনলিনী রমেশের বেদনা শান্ত করার জন্য ব্যাকুল হৃদয়ে অপেক্ষা করে আছে। এমনি করে রাত গেছে, এমনি করে সকালটা কেটেছে, শেষে আর থাকতে না পেরে এই চিঠিখানা লিখেছে।

    রমেশ কাল থেকে ভাবছে, আর দেরি না করে এইবার হেমনলিনীকে সব কথা খুলে বলা দরকার হয়েছে। কিন্তু গতকালের ব্যাপারের পর বলা কঠিন হয়ে উঠেছে। এখন ঠিক শোনাবে যেন অপরাধ ধরা পড়ে জবাবদিহির চেষ্টা হচ্ছে। শুধু তা নয়, অক্ষয়ের যে কিছুটা জয় হবে, সেও অসহ্য।

    রমেশ ভাবতে লাগল, কমলার স্বামী যে আর কোনো রমেশ নিশ্চয়ই অক্ষয়ের মনে সেই ধারণাই আছে– নয়লে সে এতক্ষণে শুধু ইঙ্গিত করে থেমে থাকত না, পাড়াসুদ্ধ গোল করে বেড়াত। অতএব এই বেলা যাই-হোক একটা উপায় অবলম্বন করা দরকার।

    এমন সময় আর একটা ডাকের চিঠি এল। রমেশ খুলে দেখল, সে চিঠি মেয়েদের বিদ্যালয়ের কর্ত্রীর কাছ থেকে এসেছে। তিনি লিখেছেন, কমলা অত্যন্ত কাতর হয়ে পড়েছে, তাকে এ অবস্থায় ছুটির সময় বিদ্যালয়ের বোর্ডিঙে রাখা তিনি সংগত মনে করেন না। আগামী শনিবারে স্কুল থেকে ছুটি হবে, সেই সময়ে তাকে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা একেবারে জরুরি।

    আগামী শনিবারে কমলাকে বিদ্যালয় থেকে নিয়ে আসতে হবে! আগামী রবিবারে রমেশের বিয়ে!

    “রমেশবাবু, আমাকে মাফ করতে হবে” এই বলে অক্ষয় ঘরের মধ্যে ঢুকল। বলল, “এমন একটা সামান্য ঠাট্টায় আপনি যে এত রাগ করবেন, তা আগে জানলে আমি ও কথা তুলতাম না। ঠাট্টার মধ্যে কিছু সত্য থাকলেই লোকে চটে ওঠে, কিন্তু যা একেবারেই অমূলক তা নিয়ে আপনি সবার সামনে এত রাগারাগি করলেন কেন? অন্নদাবাবু তো কাল থেকেই আমাকে ভর্ৎসনা করছেন– হেমনলিনী আমার সঙ্গে কথা বন্ধ করেছেন। আজ সকালে তাঁদের ওখানে গিয়েছিলাম, তিনি ঘর ছেড়ে চলে গেলেন। আমি এমন কী অপরাধ করেছিলাম বলুন দেখি।”

    রমেশ বলল, “এ-সব বিচার যথাসময়ে হবে। এখন আমাকে মাফ করবেন– আমার বিশেষ একটা প্রয়োজন আছে।”

    অক্ষয়: “রোশনচৌকির বায়না দিতে যাচ্ছেন বুঝি? এ দিকে সময় কম। আমি আপনার শুভকর্মে বাধা দেব না, চললাম।”

    অক্ষয় চলে গেলে রমেশ অন্নদাবাবুর বাসায় গিয়ে হাজির হল। ঘরে ঢুকতেই হেমনলিনীর সঙ্গে তার দেখা হল। আজ রমেশ সকাল-সকাল আসবে, এটা হেমনলিনী নিশ্চয় ঠিক করে প্রস্তুত হয়ে বসে ছিল। তার সেলাইয়ের জিনিসটা ভাঁজ করে রুমালে বেঁধে টেবিলের উপরে রেখে দিয়েছিল। পাশে হারমোনিয়ম-যন্ত্রটি ছিল। আজ খানিকটা সংগীত-আলোচনা হতে পারবে এইরকম তার আশা ছিল, তা ছাড়া অব্যক্ত সংগীত তো আছেই।

    রমেশ ঘরে ঢুকতেই হেমনলিনীর মুখে একটি উজ্জ্বল-কোমল আভা পড়ল। কিন্তু সে আভা মুহূর্তেই ম্লান হয়ে গেল যখন রমেশ আর কোনো কথা না বলে প্রথমেই জিজ্ঞেস করল, “অন্নদাবাবু কোথায়?”

    হেমনলিনী উত্তর করল, “বাবা তাঁর বসবার ঘরে আছেন। কেন? তাঁকে কি এখনই দরকার আছে? তিনি তো সেই চা খাবার সময় নেমে আসবেন।”

    রমেশ: “না, আমার বিশেষ প্রয়োজন আছে। আর দেরি করা উচিত হবে না।”

    হেমনলিনী: “তবে যান, তিনি ঘরেই আছেন।”

    রমেশ চলে গেল। প্রয়োজন আছে! সংসারে প্রয়োজনেরই কেবল সবুর সয় না! আর ভালোবাসাকেই দরজার বাইরে সুযোগের জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকতে হয়।

    শরতের এই নির্মল দিন যেন নিঃশ্বাস ফেলে নিজের আনন্দ-ভাণ্ডারের সোনার সিংহদ্বারটি বন্ধ করে দিল। হেমনলিনী হারমোনিয়মের কাছ থেকে চৌকি সরিয়ে নিয়ে টেবিলের কাছে বসে একমনে সেলাই করতে শুরু করল। সুঁচ ফুটতে লাগল শুধু বাইরে নয়, ভিতরেও। রমেশের প্রয়োজনও শিগগির শেষ হল না। প্রয়োজন রাজার মতো নিজের পুরো সময় নেয়– আর ভালোবাসা ভিখারি!

    রমেশ অন্নদাবাবুর ঘরের মধ্যে প্রবেশ করল। তখন অন্নদাবাবু মুখের উপরে খবরের কাগজ চাপা দিয়ে কেদারায় শুয়ে ঘুমোচ্ছিলেন। রমেশ ঘরে ঢুকে কাশতেই তিনি চমকে উঠে খবরের কাগজটা তুলে ধরে বললেন, “দেখেছ রমেশ, এবার ওলাউঠায় কত লোক মরেছে?”

    রমেশ বলল, “বিয়ে এখন কিছুদিন স্থগিত রাখতে হবে– আমার বিশেষ কাজ আছে।”

    অন্নদাবাবুর মাথা থেকে শহরের মৃত্যুতালিকার বিবরণ একেবারে মিলিয়ে গেল। ক্ষণকাল রমেশের মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, “সে কী কথা রমেশ! নিমন্ত্রণ তো হয়ে গেছে।”

    রমেশ বলল, “এই রবিবারের পরের রবিবারে দিন পিছিয়ে দিয়ে আজই চিঠি বিলি করে দেওয়া যেতে পারে।”

    অন্নদা: “রমেশ, তুমি আমাকে অবাক করলে। এ কি মামলা যে, তোমার সুবিধামত তুমি দিন পিছিয়ে মুলতুবি করতে থাকবে? তোমার প্রয়োজনটা কী, শুনি।”

    রমেশ: “সে অত্যন্ত বিশেষ প্রয়োজন, দেরি করলে চলবে না।”

    অন্নদাবাবু ঝড়ে নুয়ে পড়া কলাগাছের মতো কেদারার উপর হেলান দিয়ে শুয়ে পড়লেন– বললেন, “দেরি করলে চলবে না! ভালো কথা, খুব ভালো কথা! এখন তোমার যাই ইচ্ছে হয় করো। নিমন্ত্রণ ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা তোমার বুদ্ধিতে যাই আসে, তাই হোক। লোক যখন আমাকে জিজ্ঞেস করবে আমি বলব, ‘আমি ও-সব কিছুই জানি না– উনার কী দরকার সে তিনিই জানেন, আর কবে উনার সুবিধা হবে সে তিনিই বলতে পারেন।'”

    রমেশ উত্তর না করে নতমুখে বসে রইল। অন্নদাবাবু বললেন, “হেমনলিনীকে সব কথা বলা হয়েছে?”

    রমেশ: “না, তিনি এখনো জানেন না।”

    অন্নদা: “তাঁর তো জানা দরকার। তোমার তো একার বিয়ে নয়।”

    রমেশ: “আপনাকে আগে জানিয়ে তাঁকে জানাব স্থির করেছি।”

    অন্নদাবাবু ডেকে উঠলেন, “হেম! হেম!”

    হেমনলিনী ঘরের মধ্যে ঢুকে বলল, “কী বাবা?”

    অন্নদা: “রমেশ বলছেন, উনার কী-একটা বিশেষ কাজ পড়েছে, এখন উনার বিয়ে করার সময় হবে না।”

    হেমনলিনী একবার ফ্যাকাশে মুখে রমেশের মুখের দিকে তাকাল। রমেশ অপরাধীর মতো চুপ করে বসে রইল।

    হেমনলিনীর কাছে এ খবরটা যে এমন করে দেওয়া হবে, রমেশ তা আশা করে নি। অপ্রিয় সংবাদ হঠাৎ এইরকম একেবারে রূঢ়ভাবে হেমনলিনীকে যে কীভাবে গভীরভাবে আঘাত করল, রমেশ তা নিজের ব্যথিত অন্তরের মধ্যেই সম্পূর্ণ অনুভব করতে পারল। কিন্তু যে তীর একবার ছোড়া হয়, তা আর ফেরে না– রমেশ যেন স্পষ্ট দেখতে পেল এই নির্দয় তীর হেমনলিনীর হৃদয়ের ঠিক মাঝখানে গিয়ে বিঁধে রইল।

    এখন কথাটা আর কোনোমতে নরম করে নেওয়ার উপায় নেই। সবই সত্য– বিয়ে এখন স্থগিত রাখতে হবে, রমেশের বিশেষ প্রয়োজন আছে, কী প্রয়োজন তা-ও সে বলতে চায় না। এর উপরে এখন আর নতুন ব্যাখ্যা কী হতে পারে?

    অন্নদাবাবু হেমনলিনীর দিকে তাকিয়ে বললেন, “তোমাদেরই কাজ, এখন তোমরাই এর যা হয় একটা মীমাংসা করে নাও।”

    হেমনলিনী মুখ নিচু করে বলল, “বাবা, আমি এর কিছুই জানি না।” এই বলে, ঝড়ের মেঘের মুখে সূর্যাস্তের ম্লান আভাটুকু যেমন মিলিয়ে যায় তেমনি করে সে চলে গেল।

    অন্নদাবাবু খবরের কাগজ মুখের উপর তুলে পড়ার ভান করে ভাবতে লাগলেন। রমেশ নিঃশব্দে বসে রইল।

    হঠাৎ রমেশ একসময় চমকে উঠে চলে গেল। বসবার বড়ো ঘরে গিয়ে দেখল হেমনলিনী জানালার কাছে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। তার দৃষ্টির সামনে আসন্ন পূজার ছুটির কলকাতা জোয়ারের নদীর মতো তার সমস্ত রাস্তা ও গলির মধ্যে ফুলে উঠা জনপ্রবাহে অস্থির-কোলাহলময় হয়ে উঠেছে।

    রমেশ একেবারে তার পাশে যেতে সংকোচ বোধ করল। পেছন থেকে কিছুক্ষণের জন্য স্থির দৃষ্টিতে তাকে দেখতে লাগল। শরতের বিকেলের আলোয় জানালার পাশের এই স্তব্ধ মূর্তিটি রমেশের মনের মধ্যে একটি চিরস্থায়ী ছবি আঁকে দিল। ঐ কোমল গালের একটি অংশ, ঐ সযত্নবাঁধা চুলের ভঙ্গি, ঐ ঘাড়ের উপরে কোমল ও পাতলা চুলগুলো, তারই নিচে সোনার হারের একটুখানি আভাস, বাম কাঁধ থেকে ঝুলে থাকা শাড়ির আঁকাবাঁকা প্রান্ত, সমস্তই রেখায় রেখায় তার পীড়িত চিত্তের মধ্যে যেন কেটে কেটে বসে গেল।

    রমেশ আস্তে আস্তে হেমনলিনীর কাছে এসে দাঁড়াল। হেমনলিনী রমেশের চেয়ে রাস্তার লোকদের জন্য যেন বেশি কৌতূহল বোধ করতে লাগল। রমেশ আটকে আসা গলায় বলল, “আপনার কাছে আমার একটি প্রার্থনা আছে।”

    রমেশের গলার স্বরে উথলে ওঠা বেদনার আঘাত অনুভব করে মুহূর্তের মধ্যে হেমনলিনীর মুখ ফিরে এল। রমেশ বলে উঠল, “তুমি আমাকে অবিশ্বাস করো না।”– রমেশ এই প্রথম হেমনলিনীকে “তুমি” বলল।– “এই কথা আমাকে বলো যে, তুমি আমাকে কখনো অবিশ্বাস করবে না। আমিও অন্তর্যামীকে অন্তরে সাক্ষী রেখে বলছি তোমার কাছে আমি কখনো অবিশ্বাসী হব না।”

    রমেশের আর কথা বেরোল না, তার চোখের কোণে জল দেখা দিল। তখন হেমনলিনী তার কোমল-করুণ দুচোখ তুলে রমেশের মুখের দিকে স্থির করে রাখল। তার পরে হঠাৎ গলে পড়া অশ্রুধারা হেমনলিনীর দুগাল বেয়ে ঝরে পড়তে লাগল। দেখতে দেখতে সেই নির্জন জানালার নিচে দুজনের মধ্যে একটি বাক্যহীন শান্তি ও সান্ত্বনার স্বর্গরাজ্য সৃষ্টি হয়ে গেল।

    কিছুক্ষণ এই অশ্রুজলপ্লাবিত গভীর নীরবতার মধ্যে হৃদয়-মন নিমজ্জিত রেখে একটি আরামের দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে রমেশ বলল, “কেন আমি এখন সপ্তাহের জন্য বিয়ে স্থগিত রাখার প্রস্তাব করেছি, তার কারণ কি তুমি জানতে চাও?”

    হেমনলিনী নীরবে মাথা নাড়ল– সে জানতে চায় না।

    রমেশ বলল, “বিয়ের পরে আমি তোমাকে সব কথা খুলে বলব।”

    এই কথায় হেমনলিনীর গালের পাশটা একটু লাল হয়ে উঠল।

    আজ খাওয়ার পর হেমনলিনী যখন রমেশের সাথে মিলনের প্রত্যাশায় উৎসুকচিত্তে সাজ করছিল, তখন সে অনেক হাসি-তামাশা, অনেক নির্জন পরামর্শ, অনেক ছোটোখাটো সুখের ছবি কল্পনায় তৈরি করে নিচ্ছিল। কিন্তু এই যে অল্প কয় মুহূর্তে দুহৃদয়ের মধ্যে বিশ্বাসের বিনিময় হয়ে গেল– এই যে চোখের জল ঝরে পড়ল, কথাবার্তা কিছুই হল না, কিছুক্ষণের জন্য দুজন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রইল– এর নিবিড় আনন্দ, এর গভীর শান্তি, এর পরম আশ্বাস সে কল্পনাও করতে পারেনি।

    হেমনলিনী বলল, “তুমি একবার বাবার কাছে যাও, তিনি বিরক্ত হয়ে আছেন।”

    রমেশ প্রফুল্লচিত্তে সংসারের ছোটো-বড়ো আঘাত-সংঘাত বুক পাতিয়ে নেওয়ার জন্য চলে গেল।

     

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহুমায়ূন আহমেদ উপন্যাস সমগ্র ১১
    Next Article পিপলী বেগম – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    চলিত ভাষার

    আরণ্যক – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    October 25, 2025
    চলিত ভাষার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

    যুগলাঙ্গুরীয় – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (চলিত ভাষায়)

    May 7, 2025
    চলিত ভাষার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

    দর্পচূর্ণ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

    May 6, 2025
    চলিত ভাষার প্রবন্ধ সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    পালামৌ – সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

    April 20, 2025
    চলিত ভাষার

    বোঝা (গল্প) – শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় – চলিত ভাষায়

    April 10, 2025
    চলিত ভাষার

    আপদ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের – চলিত ভাষার

    April 7, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }