Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চগ্রাম – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প459 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৮. যে তরুণ ভল্লা

    যে তরুণ ভল্লা–জোয়ানটিকে তিনকড়ি ঠেঙাইয়াছিল, সে গত রাত্রিতে গ্রামে অনুপস্থিত ভল্লাদের একজন। রাত্রির অন্ধকারে আলপথে কালো কালো ছায়ামূর্তির মত যাহারা ফিরিয়াছিল–তাহাদের মধ্যে ছিদামও ছিল। ওই ছেলেটা যে উহাদের সঙ্গে জুটিতে পারে—এ ধারণা তিনকড়ির ছিল না। রাম ভল্লা প্রৌঢ় হইয়াছে, এ অঞ্চলে তাহার মত শক্তিশালী লাঠিয়াল, ক্ষিপ্রগামী পুরুষ নাই। একবার সে সন্ধ্যায় শহর হইতে রওনা হইয়া এখানে আসিয়া মধ্যরাত্রে ডাকাতি করিয়াছিল এবং অবশিষ্ট ঘণ্টাচারেক সময়ের মধ্যে গিয়া হাজির হইয়াছিল সদর শহরে। সে জীবনে বারতিনেক জেল খাঁটিয়াছে। তারিণী, বৃন্দাবন, গোবিন্দ, রঙলাল ইহারাও কম যায় না। সকলেই রামের যৌবনের সহচর। এখনও প্রৌঢ়ত্ব সত্ত্বেও তাহারা বাঘ। তাদের সঙ্গে ওই ছোঁড়াটা জুটিয়াছিল জানিয়া তিনকড়ির বিস্ময় ও ক্রোধের আর সীমা ছিল না। হিল্‌হিলে লম্বা–কচি চেহারার ছেলেটা দু বছর আগেও মনসা ভাসানের দলে বেহুলা সাজিয়া গান গাহিত—

    কাক ভাই, বেউলার সম্বাদ লইয়া যাও।

    দুই বৎসরের মধ্যে সেই ছেলের এমন পরিবর্তন। বাল্যকালে ছোঁড়ার বাপ মরিয়াছিল, মা তাহাকে বহু কষ্টেই মানুষ করিয়াছে। সে সময় তিনকড়িই ছেড়াকে গাঁইটে গরুর পাল করিয়া দিয়াছিল। গাইটে-পালের কাজটা হইল দশ-বার ঘরের ভাগের রাখালের কাজ। সকলের গরু লইয়া ছোঁড়া মাঠে চরাইয়া আনিত, প্রত্যেক গরু পিছু বেতন পাইত মাসিক দুপয়সা। দশ-বার ঘরে ত্রিশ-চল্লিশটা গরু চরাইয়া মাসে এক টাকা, পাঁচ সিকা নগদ উপার্জন হইত। এ ছাড়া পাইত প্রতিঘরে দৈনিক মুড়ির বদলে একপোয়া চাল; পূজায় প্রতিঘরে একখানা কাপড়। সেই ছিদামের এই পরিণতি দেখিয়া সে ক্ষেপিয়া গিয়াছিল। কিন্তু রাত্রে তিনব ড় ছিদামকে ধরিতে পারে নাই। তিনকড়ির সাড়া পাইবামাত্র সে সেই রাত্রেই বাড়ি হইতে বাহির হইয়া ছুটিয়া। পলাইয়াছিল। …

    রাম এবং অন্য সকলের সঙ্গে রাত্রেই তার একচোট বচা হইয়া গিয়াছে। বচসা বলিলে ভুল হইবে। বকিয়াছে সে নিজেই। হাজার ধিক্কার দিয়া বলিয়াছে—ছি! ছিঃ ছি! এত সাজাতেও তোদের চেতন হল না রে? রাম, এই সেদিন তুই খালাস পেয়েছি, বোধহয় গত বছর কার্তিক মাসে,আর এ হল শ্রাবণ মাস; এরই মধ্যে আবার? রামা, কি বলব তোকে ব? ছিঃ ছিঃ ছি!

    রাম মাথা চুলকাইয়া হাসিয়া বলিয়াছিল—ওঃ, বড় লেগেছে মোড়ল। বস-বস। ওরে, তেরে, আন্ একটা বোতল বার করে আন।

    –না–না-না। তোদের যদি আর আমি মুখ দেখি, তবে আমাকে দিব্যি রইল! … তিনকড়ি সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির দিকে ফিরিয়াছিল।

    —মোড়ল, যেয়ো না, শোন। ও মোড়ল!

    –না, না।

    –না নয়, শোন! মোড়ল, ফিরলে না? বেশ, তা হলে তোমার সঙ্গে আমার সম্বন্ধ শেষ।

    এবার তিনকড়ি না ফিরিয়া পারে নাই। অত্যন্ত রাগের সঙ্গেই ফিরিয়া আসিয়া বলিয়াছিল কি বলছিস শুনি? বলি, বলবি কি? বলবার আছে কি তোর?

    রাম বলিয়াছিল—তোমার সর্বস্ব তো জমিদারের সঙ্গে মামলা করে ঘুচাইছ। এখন কার দোরে যাই—কি খাই বল দেখি?

    —মরে যা, মরে যা, তোরা মরে যা।

    –তার চেয়ে জ্যাল খাটা ভাল। রামের উচ্চকণ্ঠের হাসিতে দুর্যোগের অন্ধকার রাত্রি শিহরিয়া উঠিয়াছিল।

    —তাই বলে ডাকাতি করবি!

    রাম আবার খানিকটা হাসিয়া বলিয়াছিল—তা না করে আর কি করব বল? গোটা ভল্লাপাড়ায় এক ছটাক ধান নাই কারুর ঘরে। তুমি বরাবর দিয়ে এসেছ এবার তোমার ঘরেও নাই। গোবিন্দের ঘরে তিন দিন হাঁড়ি চাপে নাই। বেন্দার বেটার বউ বাপের বাড়ি পালিয়েছে; বলে গিয়েছেনা খেয়ে ভাতারের ঘর করতে পারব। মাথার উপরে চাষের সময়। তোমরা ধর্মঘট জুড়েছ জমিদারে ধান বাড়ি দেবে না। মহাজনদের কাছে গিয়েছিলাম—তারা বলেছে–জমিদারের খাজনার রসিদ আন, তবে দোব। এখন আমরা করি কি?

    তিনকড়ি এবার আর কথার উত্তর দিতে পারে নাই।

    রাম হাসিয়াই বলিয়াছিল—কদিন গেলাম এলাম শিবকালীপুর দিয়ে; দেখলামছিরু পালের ঘরে ধান-ধন মড়মড় করছে। আবার কেলে শ্যাখকে পাইক রেখেছে; বেটা গোফে তা দিয়ে লাঠি হাতে বসে আছে। তাই সব আপনার মধ্যে বলাবলি করতে করতে মনে করলাম দিই, ওই বেটার ঘরই মেরে দি। আমাদেরও পেট ভরুক; আর ধর্মঘটেরও একটা খতম করে দি।

    —তার পর?–তিনকড়ি এবার ব্যঙ্গপূর্ণ তিরস্কারের সুরে বলিয়াছিল—তার পর?

    –তারপর তুমি সবই জান! বেটা ঘা খেলে মামলা-মকৰ্দমা আর করত না; করতে পারত?

    –ওরে ওয়ার, তার যা হত তাই হত। তাদের কি হত একবার বল্ দেখি?

    –সে তখন দেখা যেত।-রাম বেপরোয়ার হাসি হাসিতে লাগিল।

    তিনকড়ি এবার গাল দিয়াছিল—শুয়ার, তোরা সব শুয়ার। একবার অখাদ্য খেলে শুয়ার যেমন জীবনে তার স্বাদ ভুলতে পারে, তোরাও তেমনি শুয়ার, আস্ত শুয়ার।

    এবার সকলেই সশব্দে হাসিতে আরম্ভ করিয়াছিল। শুয়ার গাল তিনকড়ির নরম মেজাজের গালাগাল।

    রাম বলিয়াছিল—তেরে, তোমাকে বললাম না একটা বোতল আনতে–হল কি শুনি?

    না, না, থাক্। … তিনকড়ি বাধা দিয়াছিল।

    –থাকবে কেনে?

    —তোদর ঘরে এমন করে ধান ফুরিয়েছে, খেতে পাচ্ছি না, আমাকে বলিস্ নাই কেনে? সত্যিই গোবিন্দের বাড়িতে তিন দিন হাঁড়ি চড়ে নাই?

    গোবিন্দ ঝুঁকিয়া দেহখানা অগ্রসর করিয়া তিনকড়ির পায়ে হাত দিয়া বলিয়াছিল—এই তোমার পায়ে হাত দিয়ে বলছি।

    বৃন্দাবন একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া বলিয়াছিল—বেটার বউটা পালিয়ে গেল মোড়ল বেটাকে পাঠিয়েছিলাম আনতে, তা বলেছে উপোস করে আধপেটা খেয়ে থাকতে পারব। এমন ভাতারের ঘরে আমার কাজ নাই।

    তিনকড়িও এবার প্রচণ্ড একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়াছিল। মনে মনে ধিক্কার দিয়াছিল নিজেকে। একটা পাথরের মোহে সে সব ঘুচাইয়া বসিল! শিব-ঠাকুরকে সে এখন পাথর বলে। যতবার ওই পথ দিয়া যায় আসে শিব-ঠাকুরকে সে আপনার বুড়ো আঙুল দেখাইয়া যায়। পাথর নয় তো কি? জমিদার তাহার সম্পত্তির মূলের টাকাটা আত্মসাৎ করিল-পাথর তাহার কি করিল? আর সে গিয়াছিল পাথরের উপর দেউল তুলিতে—তাহারই জমি বিকাইয়া গেল!

    নহিলে আজ তাহার ভাবনা কি ছিল? নিজের পঁচিশ বিঘা জমিতে বিঘা প্রতি চার বিশ হারে একশত বিশ অর্থাৎ আড়াইশো মন ধান প্রতি বৎসর ঘরে উঠিত। তাহার জমি ডাকিলে সাড়া দেয়—এমন জমি। শুষ্ক হাজা ছিল না। তাহারই ধানে তখন গোটা ভল্লাপাড়ার অভাব পূরণ হইত। কুক্ষণে সে দেবোত্তরের টাকা উদ্ধারের জন্য জমিদারের সঙ্গে মামলা জুডিয়াছিল। আর, মামলা এক মজার কল বটে! হারিলে তো ফতুর বটেই—জিতিলেও তাই উলি-মোক্তার মুহুরী-আমলা-পেশকার-পেয়াদামায় আদালতের সামনের বটগাছটা পর্যন্ত সকলেরই এক রবটাকা, টাকা, সিকি, সিকি! … বটগাছটার তলায় একটা পাথরে সিঁদুর মাখাইয়া বসিয়া থাকে এক বামুন মাদুলি বেচে। ওই মাদুলিতে নাকি মামলায় জয় অনিবার্য। যে জেতে সেও মাদুলি নেয়, যে হারে সে-ও মাদুলি ধারণ করে। তিনকড়িও একটি মাদুলি লইয়াছিল। প্রতি মামলার দিন একটা করিয়া পয়সা দিয়া সিঁদুরের ফোঁটাও লইয়াছিল; তবুও হারিয়াছে। হারিয়া সে দুরন্ত ক্ৰোধে বামুনের কাছে গিয়া কৈফিয়ত তলব করিয়াছিল। বামুন তাহার মুখের দিকে চাহিয়া বলিয়াছিল—অশুদ্ধ কাপড়ে মাদুলি পরলে কি ফল হয় বাবা? কই, দিব্যি করে বল দেখি-অশুদ্ধ কাপড়ে মাদুলি পর নি তুমি?

    তিনকড়ি হলফ করিয়া বলিতে পারে নাই। কিন্তু বামুনের ধাপ্পাবাজি সম্বন্ধে তাহার আর সন্দেহ গেল না।

    আজ তাহার ঘরে ধান অতি সামান্য। যাহা আছে তাহাতে তাহার সংসারেই বৎসর অর্থাৎ নূতন-ধান-উঠা পর্যন্ত চলিবে না। তাহার ওপর আবার মাথার উপর বৃদ্ধির মামলা আসিতেছে। এ মামলা না করিয়া উপায় নাই! জমিদার বলিতেছে-উৎপন্ন ফসলের মূল্য বাড়িয়াছে, সুতরাং আইন অনুসারে সে বৃদ্ধি পাইবেই! প্ৰজা বলিতেছে—মূল্য যেমন বাড়িয়াছে, চাষের খরচও তেমনি বাড়িয়াছে; তা ছাড়া অনাবৃষ্টি, বন্যা প্রভৃতির জন্য ফসল নষ্ট হইতেছে পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি, সুতরাং জমিদার বৃদ্ধি তো পাইবেই না, প্রজাই খাজনা কম পাইবে। দুই-ই আছে আইনে।… চুলায় যাক আইন। ভাবিয়া ও গোলকধাঁধার কূল-কিনারা নাই! যাহা হইবার হইবে! সে নড়িয়াচড়িয়া সোজা হইয়া বসিয়া বলিয়াছিলরাম, কাল বিকেলের দিকে। যাস্, এক টিন করে ধান দোব। তারপর যা হয় ব্যবস্থা করব।

    রাম বলিয়াছিল—দেব বলছ, দিয়ে। কিন্তু এর পর তুমি নিজে কি করবে?

    –তার লেগে এখন থেকে ভেবে কি করবে? যা হয় হবে।

    –তবে আমার ধানটা আধাআধি করে গোবিন্দকে বেন্দাকে দিয়ো।

    –কেনে, তোর চাই না?

    হাসিয়া রাম বলিয়াছিল—আমার এখন চলবে।

    –চলবে? তা হলে তুই বুঝি—

    -–তোমার দিব্যি। এবার জাল থেকে এসে কখনও কিছু করি নাই। মাইরি বলছি, আগেকার ছিল।

    –আগেকার ছিল? আমাকে ন্যাক পেলি রামা? তিন বছর মেয়াদ খেটে বেরিয়েছি আজ আট-নমাস–সেই টাকা এখনও আছে?

    –গুরুর দিব্যি। ছেলে-পোঁতা বাঁধের তালগাছতলায় পুঁতে রেখেছিলাম কুড়ি টাকা; বলে গিয়েছিলাম মাগীকে ইশেরাতে যে, যদি খুব অভাব হয় কখনও তবে আষাঢ় মাসে জংশনের কলে যখন দশটার ভো বাজবে, বাঁধের একানে তাল গাছটার মাথা খুঁজে দেখি। নেহাৎ বোকা, তালগাছে উঠে মাথা খুঁজেছে। আষাঢ় মাসে দশটার ভো বাজলে—গাছের মাথার ছায়াটা যেখানে পড়েছিল—ঠিক সেইখানে পুঁতেছিলাম। বুঝতে পারে নাই। আষাঢ় মাসে সেদিন খুঁড়ে দেখলাম ঠিক আছে; আমার এখন চলবে কিছুদিন।

    তিনকড়ি এবার খুশি না হইয়া পারে নাই। বলিয়াছিল—তুমি চোরা ভাই একটি বাস্তুঘুঘু!–বলিয়া সে উঠিয়াছিল; আসিবার সময়েও বলিয়াছিল—তুই কাল যাস্‌—গোবিন্দ, বেন্দা, তেরে–যাস্ কাল বিকেলে। কিন্তু–খবরদার! এসব আর লয়। ভাল হবে না আমার সঙ্গে।

    আজ তিনকড়ি কঙ্কণার মাঠে হঠাৎ ছিদামকে পাইয়া গেল। সকালে তিনকড়িকে সে নিজগ্রামের মাঠে চাষ করিতে দেখিয়া মহগ্রাম, শিবকালীপুর, কুসুমপুর পার হইয়া কঙ্কণার দিকে আসিয়াছিল মজুরির সন্ধানে। কঙ্কণা ভদ্ৰলোকপ্রধান গ্রাম। তাহারা কেবল জমির মালিক। অনেক ঘরে হাল, বলদ ও কৃষাণ রাখিয়া চাষ করায়, অনেকে আশপাশের গ্রামের চাষীকে জমি বর্গাভাগে দিয়া থাকে। চাষ করিয়া ধান কাটিয়া চাষী ঘাড়ে করিয়া বহিয়া বাবুদের ঘরে মজুত করে; অর্ধেক ভাগ মালিক পায়, অর্ধেক পায় চাষী। এমনি এক বর্গায়েৎ চাষীর কাছে ছিদাম জন। খাঁটিতেছিল। এমন সময় তিনকড়ি সেখানে আবির্ভূত হইল।

    তাহার গরুর পালের মধ্যে একটা অত্যন্ত বদ্‌ স্বভাবের বনা আছে। সেটা সমস্তদিন বেশ শান্তশিষ্ট থাকে, কিন্তু সন্ধ্যায় গোয়ালে পুরিবার সময় হইবামাত্র লেজ তুলিয়া হঠাৎ ঘোড়ার ছাৰ্তক চালের মত চালে-চার পায়ে লাফ দিয়া ছুটিয়া পলায়। সমস্ত রাত্রি স্বেচ্ছামত বিচরণ করিয়া আবার ভোরবেলা গৃহে ফিরিয়া শিষ্টভাবে শুইয়া পড়ে অথবা দাঁড়াইয়া রোমন্থন করে। কিন্তু কাল সন্ধ্যায় পলাইয়াও সে, আজ পর্যন্ত ফেরে নাই। এটা অত্যন্ত অস্বাভাবিক ব্যাপার।

    জল-খাবার বেলার সময় সে খবর পাইয়াছে সেটা নাকি কঙ্কণার বাবুদের বাড়িতে বাধা। পড়িয়াছে। ফুলগাছ খাওয়ার জন্য তাহারা গরুটাকে নাকি এমন প্রহার দিয়াছে যে, চার-পাঁচ জায়গায় চামড়া ফাটিয়া রক্ত পড়িয়াছে; তিনকড়ি সঙ্গে সঙ্গে চাষ ছাড়িয়া পাঁচন হাতে কঙ্কণায় চলিয়াছে। হঠাৎ তাহার নজরে পড়িয়া গেল ছিদাম। পলাইবার আর পথ ছিল না। একে বাবুদের উপর রাগে সে গরগর করিতেছিল, তাহার উপর অপরাধী ছিদামকে কাল রাত্রে ডাকিয়া বাড়িতে পায় নাই; কাজেই ছিদাম ভয়ে-ভয়ে কাছে আসিতেই সে তাহার পিঠে হাতের পাঁচন-লাঠিটা বেশ প্রচণ্ড বেগেই ঝাড়িয়া দিল–হারামজাদা!

    ছিদাম দুই হাতে তাহার পা দুইটা ধরিল। মুখে যন্ত্ৰণাসূচক এতটুকু শব্দ করিল না বা না বা কোনো প্ৰতিবাদ করি না।

    তিনকড়ি আরও এক লাঠি ঝাড়িয়া দিল।–পাজি শুয়ার!

    ঠিক এই সময়ে শ্ৰীহরি ঘোষের গাড়ি আসিয়া পৌঁছিল।…

    ঘোড়াটাকে খানিকটা দূর সঙ্গে আনিয়া সে সহসা তাঁহার কজিটা চাপিয়া ধরিয়া বলিল–ছাড়িয়ে নে দেখি।

    ছিদাম অবাক হইয়া তাহার মুখের দিকে তাকাইয়া রহিল।

    ধমক দিয়া তিনকড়ি বলিল—নে, ছাড়িয়ে নে, দেখি। হারামজাদা, শুয়ার, তুমি যে রামা ভল্লার সঙ্গে রাত্রে বের হতে শিখেছ, কত জোর হয়েছে বেটার দেখি। নে, ছাড়িয়ে নে।

    ঘোড়াটার মুখে সপ্রতিভ হাসি ফুটিয়া উঠিল। বলিল—তাই পারি?

    —তবে শুয়ারের বাচ্চা?

    —কি করব বলেন?…ছিদাম এবার বলিল ঘরে খেতে নাই। গাঁইটে পালের চাল উঠিয়ে দিয়েছে লোকে। তা ছাড়ামা বিয়ের সম্বন্ধ করছে, টাকা লাগবে। বললাম রাম কাকাকে, তা রাম কাকা বললে—কি আর করবি, আমাদের সঙ্গে বেরুতে শেখ।

    —হুঁ। তিনকড়ি এবার তাহার হাতখানা ছাড়িয়া দিল।

    ওদিক হইতে কে হাঁকিতেছে—হো–ই। হো–ই। ও তিনু-ভা–ই!

    –কে? তিনকড়ি ও ছিদাম চাহিয়া দেখিল, রাস্তার মাঝখানের সেই নালাটায় একখানা গাড়ি পড়িয়াছে, শিবপুরের দোকানি বৃন্দাবন দত্ত হাঁকিতেছে। তাহারা দুজনেই দ্রুতপদে অগ্রসর হইয়া গেল। বোঝাই গাড়িখানার চাকা দুইটা কাদায় বসিয়া গিয়াছে। বৃন্দাবন জংশন হইতে মাল লইয়া আসিতেছে। পনের-ষোল মন মাল, গরু দুইটা বুড়া—একটা তো কাদায় বসিয়া পড়িয়াছে। তিনকড়ি বৃন্দাবনের উপর ভয়ানক চটিয়া গেল। বলিলখুব ব্যবসা করতে শিখেছ। যা হোক। বেনেরা যে হাড়কিপ্লিন তা তুমিই দেখালে দত্ত। এই বুড়ো গরু দুটোকে বাদ দিয়ে দুটো ভাল গরু কিনতে পার না? না–টাকা লাগবে?

    দত্ত বলিল—কিনব রে কিনব। নে–নে, এখন একবার ধর ভাই ওরে–কি নাম তোর–ওরে বাবা-তুই বরং ওই গরুটার জায়গায় জোয়ালটা ধর। হারামজাদা গরু এমন বজ্জাত কাদায় শুয়েছে দেখ না। বেটার খাওয়া যদি দেখি! নে নে বাবা! ওই ভাই তিনু।

    বিরক্তির সঙ্গেই তিনু বলিল—ধৰ্ব ছিদে, ধ! জোয়াল ধরতে পারবি তুই? তুই বরং। চাকাতে হাত দে।

    –না, আজ্ঞে আপনি চাকাতে ধরেন।—বলিয়া ছিদাম হাত ভজিয়া সেই হাতের ভাঁজে বোঝাই গাড়ির জোয়াল তুলিয়া বুক দিয়া ঠেলিতে আরম্ভ করিল। তিনকড়ি অবাক হইয়া গেল। দেখিতে দেখিতে ছিদামের চেহারা যেন পাথরের চেহারা হইয়া উঠিল। নিজে সে চাকা ঠেলিতে গিয়া বুঝিল—কি প্রচণ্ড শক্তিতে ছিদাম আকৰ্ষণ করিতেছে। অথচ ঠেলিতেছে খাড়া সোজা হইয়া, পায়ের গোড়ালি হইতে মাথা পর্যন্ত যেন একখানা পাকা বাঁশের খুঁটির মত সোজা। ওপাশে

    ঠেলিতেছে—গরু, গাড়োয়ান এবং দত্ত স্বয়ং তবুও এই দিকটাই আগে উঠিল।

    দত্ত ট্যাঁক হইতে দুটি পয়সা বাহির করিয়া ছিদামের হাতে দিল, বলিল—একদিন আসি বাড়ি থেকে চারটি মুড়ি নিয়ে যাত্।

    তিনকড়ি ছিদামের হাত হইতে পয়সা দুইটা কাড়িয়া লইয়া দত্তের দিকে ছুঁড়িয়া দিল। ছিদামকে বলিল—বিকেলে আমার সঙ্গে দেখা করিস। আর খবরদার, ওই কিপটের দুটো পয়সা নিবি না।

    হনহন করিয়া পথ চলিতে চলিতে সে ছিদামের কথাই ভাবিতেছিল, ছোঁড়া যদি পেট পুরিয়া খাইতে পাইত, তবে সত্যই একটা অসুর হইত!

    কথায় আছে একা রামে রক্ষা নাই সুগ্রীব দোসর। গরুটাকে প্রহার করা এবং আটকাইয়া রাখার জন্য ঝগড়া করিতে তিনকড়ি একাই একশো ছিল, আবার হঠাৎ পথে রহমও তাহার সঙ্গে

    জুটিয়া গেল।

    রহম ফিরিতেছিল জংশন হইতে। শ্রাবণের রৌদ্রে এক গা ঘামিয়া-কঁধের চাদরখানা দিয়া বাতাস দিতেছিল আপনার গায়ে। তিনকড়ির একেবারে খাঁটি মাঠের পোশাক; পরনে পাঁচহাতি মোটা সুতার কাপড়, সর্বাঙ্গে কাদা তো ছিলই, তাহার উপর দত্তের গাড়ির চাকা ঠেলিয়া দেহখানা হইয়া উঠিয়াছে পঙ্কপল্লচারী মহিষের মত-হাতে পাঁচন।

    রহমই বলিল—ওই, তিনু-ভাই, এমন কর্যা কুথাকে যাবা হে? এক্কারে মাঠ থেকে মালুম হচ্ছে?

    তিনকড়ি বলিল যাব কঙ্কণায়। বাবু-বেটাদের সঙ্গে একবার দেখা করে আসি। আমার একটা বাঁকে বেটারা নাকি মেরে খুন করে ফেলাল্‌ছে।

    –খুন করে ফেলাল্‌ছে!–রহম উত্তেজিত হইয়া উঠিল।

    —বাবুদের ফুলের গাছ খেয়েছে। ফুলের মালা পরবে বেটারা! তাই বলি দেখে আসি একবার।

    –চল। আমিও যাব তুমার সাথে। চল।

    এতক্ষণে তিনকড়ি প্ৰশ্ন করিল—তুমি আজ হাল জুড়লে না?

    চাষের সময় চাষী হাল জোড়ে নাই—এ একটা বিস্ময়ের কথা। এখন একটা দিনের দাম কত! একই জমিতে আজিকার পোঁতা ধানের গুচ্ছ আগামীকালের পোঁতা গুচ্ছ হইতে অন্তত বিশ-পঁচিশটা ধান বেশি ফলন দিবে।

    রহম বলিল—আর বুলি কেন ভাই। আল্লার দুনিয়া শয়তানে দখল কর্যা নিলে। যে করবে ধরম করমতার মাথাতেই বাঁশ মারণ। চাষের সময় ঘরে ধান ফুরাছে, যা আছে। শাঙনটা চলবে টেনে হেঁচিড়ে। ইহার উপর পরব এসেছে। খরচ আছে। ছেলে-পিলাকে কাপড়পিরানটা দিতে হবে। মেয়েগুলিকে দিতে হবে। কি করি বল! তাই গেছিলাম সন্ধ্যায়।

    তিনকড়ি বলিলা, তোমাদের রোজা চলছে বটে। একমাস রোজা, নয়?

    –হ্যাঁ তামান্‌ রমজানের মাস! মাঝে পুন্নিমে যাবে তা বাদে অমাবস্য। অমাবস্যের পর সঁদ দেখা যাবে, রোজা ঠাণ্ডা হবে। ইদল্‌ফেতর পরব।

    তিনকড়ি এ পর্বের কথা জানে, তাই বলিল—এ তো তোমাদের মস্ত বড় পরব।

    –হ্যাঁ। ইদলফেতর বড় পরব। খানা-পিনা আছে, গরিব-দুঃখীকে খয়রাত করতে হয়, সাধু-ফকির-মেহমানদের খাওয়াতে হয়। অনেক খরচ ভাই তিনকড়ি। অথচ দেখ কেনে আভদ্রা বর্ষাকালঘরে ধান নাই, হাতে পয়সা নাই।

    তিনকড়ি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া বলিল–ওকথা আর বল কেনে রহম ভাই, চাকলার লোকেরও এক অবস্থা। কারুর ঘরে খাবার নাই। জমিদার ধান দেবে না। বলে, বৃদ্ধি দিলে তবে দেবে। মহাজন বলছে—জমির খাজনার হাল-ফিল রসিদ আন; পাকা খত লেখ।

    —আমাদের আবার ইয়ার উপরে পরব।

    তিনকড়ি এ কথার কি উত্তর দিবে, সে নীরবেই পথ চলিতে আরম্ভ করিল।

    রহম বলিলতুদের পরবগুলো কিন্তুক বেশ ধান-পানের মুখে। দুগ্‌গা পূজা সেই ঠিক আশ্বিনে হবেই। আমাদের মাসগুলা পিছায়ে পিছায়ে বড় গোল বাধায়।

    তিনকড়ি বলিল–হ্যাঁ, তোমাদের মাসগুলা পিছিয়ে পিছিয়ে যায় বটে।

    –হ। বড় পেঁচ্ ভাই। এক-এক বছর এমন দুখ হয় তিনকড়ি, কি বুলব? এই দেখ, আমার যা কিছু দেনা তার অর্ধেক পরবের দেনা। মান-ইজ্জৎ আছে; ইদল্‌ফেতর মহরমই দুটি পরবে দশ টাকা খরচ না করলেমানবে কেনে লোকে?

    তিনকড়ি বলিলতা বটে হ্যাঁ! আমাদের দুগ্‌গাপুজো কালীপুজোতে খরচা না করলে চলে? যে যেমন—তেমনি খরচ করতে তো হবেই।

    অভাবের দুঃখের কথা বলিতে বলিতে দুইজনেরই মন কেমন ভারাক্রান্ত হইয়া উঠিয়াছিল। কঙ্কণার বাবুদের বাড়িতে তাহারা যখন গিয়া দাঁড়াইল, তখন সেই ভারাক্রান্ত মনের কারণেই রাম-সুগ্রীবের মত প্রথমেই একটা লঙ্কাকাণ্ড বাঁধাইয়া বসিল না। সামনে যে চাকরটা ছিল তাহাকে বলিল—তোমাদের বাবু কোথা? বল—দেখুড়ের তিনকড়ি মোড়ল এসেছে। ক্রোধোন্মত্ততা না থাকিলেও বেশ গম্ভীরভাবেই কথাটা সে বলিল।

    সঙ্গে সঙ্গে দরজা খুলিয়া বাহির হইয়া আসিলেন—বাড়ির মালিক-তরুণ একটি ভদ্রলোক। তিনি বেশ মিষ্টি কথাতেই বলিলেন—তুমিই তিনকড়ি মোড়ল?

    –হ্যাঁ। আমার গরু আপনি মেরে জখম করেছেন কেন? ধরেই বা রেখেছেন কোন্ আইনে?—তিনকড়ি কিছু কিছু করিয়া মনের উত্তাপ সঞ্চয় করিতেছিল।

    রহম বলিল—গরুটাকে মেরে জখম করা খুন বার কর্যা দিছ শুনলাম? হিন্দুবেরা তুমি?

    ভদ্রলোকটি সবিনয়ে বলিলেনদেখ, আমি দোষ স্বীকার করছি। তবে এইটুকু বিশ্বাস কর–আমার হুকুমে হয় নি ব্যাপারটা। একজন নতুন হিন্দুস্তানি মালী রাগের বশে করে ফেলেছে, আমি তাকে জবাবও দিয়েছি।

    তিনকড়ি রহম দুজনেই অবাক হইয়া গেল। কঙ্কণার ভদ্রলোক অমন মোলায়েম ভদ্রভাবে চাষীর সঙ্গে কথা কয়—এ তাহাদের বড় আশ্চর্য মনে হইল।

    ভদ্রলোকটি আবার বলিলেনদেখ গরুটি জখম হয়েছিল; যদি আমার ইচ্ছে থাকত ব্যাপারটা স্বীকার না করার, তা হলে গরুটাকে ওই অবস্থাতেই তাড়িয়ে দিতাম বেঁধে রেখে সেবাযত্ন করতাম না।

    সত্য সত্যই গরুটির যথাসাধ্য যত্ন লওয়া হইয়াছে। রক্তপাত হইয়াছিল একটা শিঙ ভাঙিয়া। ঔষধ দিয়া কাপড় জড়াইয়া বধিয়া রাখা হইয়াছে আহত স্থানটি; ডাবাটায় তখনও মাড়, ভূষি খইলের অবশেষ রহিয়াছে। দেখিয়া তিনকড়ি এবং রহম দুজনেই খুশি হইল। উহার জন্য আর কোনো কটু কথাও তাহারা বলিতে পারিল না।

    ভদ্রলোকটি অনুরোধ করিয়া বলিলেন মুখ-হাত ধুয়ে একটু জল খেয়ে যাও।

    তিনকড়ি অনুরোধ ঠেলিতে পারিল না; রহম হাসিয়া বলিল-আমার রোজা।

    তিনকড়ি প্রশ্ন করিল—আপনারা তো কলকাতায় থাকেন?

    ভদ্রলোক হাসিয়া বলিলেন–হ্যাঁ।

    রহম মাথা নাড়িয়া বলিল–হুঁ! অর্থাৎ ব্যবহারটা সেইজন্যেই এমন।

    তিনকড়ি বাতাসা চিবাইয়া জল খাইয়া বলিল—কবে এলেন দেশে?

    –দিন পাঁচেক হল।

    –এখন থাকবেন?

    –নাঃ। ধান বেচতে এসেছি, ধান বেচা হয়ে গেলেই চলে যাব।

    –ধান বেচবেন? বেচে দেবেন?

    –হ্যাঁ—দরটা এই সময়ে উঠেছে, বেচে দেব। আমরা কলকাতায় থাকি। সেখানে চাল কিনে খাই। এখানে মজুত রেখে কি করব? প্রতি বৎসরই আমরা বেচে দিই।

    –বেচে দেন? তা—তিনকড়ি কথা শেষ করিতে পারিল না।

    রহম বলিলতা আমাদিগে দাদন দেন না কেনে? ধান উঠলে বাড়ি সমেত শোধ দিব।

    তিনকড়ি বলিল-আজ্ঞে। শুধু আমরা কেনে—এ চাকলাটা তাহলে খেয়ে বাঁচবে; দু হাত তুলে আপনাকে আশীর্বাদ করবে।

    বাবু হাসিয়া বলিলেন না বাবু, ওসব ফেসাদের মধ্যে নেই আমি।

    ব্যগ্রতাভরে রহম বলিল—একটি ছটাক ধান আপনার ড়ুববে না।

    –না। আমি কারুর উপকার করতে চাই না, সুদেও আমার দরকার নেই।

    রহম বলিল—শুনেন, বাবু শুনেন–

    তাহার কথা সমাপ্ত হইবার পূর্বেই ভদ্ৰলোক ঘরে ঢুকিয়া গেলেন। বলিয়া গেলেন—না না। এসবের মধ্যে আমি নেই।

    তাহারা অবাক হইয়া গিয়াছিল। এ ধারার মানুষের সঙ্গে তাহাদের পরিচয় নাই। এ দেশের সুদখোর মহাজনকে তাহারা বোঝে, অত্যাচারী জমিদারকেও জানে, কিন্তু শহরবাসী এই শ্রেণীর মানুষ তাহাদের কাছে দুর্বোধ্য। সুদও লইবে না, উপকারও করিতে চায় না। ইহাকে তাহারা বলিবে কি? ভাল না মন্দঃ কঙ্কণায় এই শ্রেণীর লোক নেহাত কম নয়, তাহাদের সহিত ইহার পূর্বে এমনভাবে তিনকড়ি-রহমের পরিচয় হয় নাই। ইহারা ধান এমনি করিয়াই বৎসর বৎসর বিক্রয় করিয়া দিয়া যায়।

    তিনকড়ি একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া বলিল—ওই ধরনের মানুষ ভালতেও নাই, মন্দতেও নাই।

    রহম বুঝিতে পারিল না এই লোকটি সম্বন্ধে কি মন্তব্য করা উচিত। গরু জখম করার অপরাধে মালীকে বরখাস্ত করে, ধনী ভদ্রলোক হইয়া চাষীদের কাছে দোষ স্বীকার করে; অথচ এত ধান থাকিতেও লোককে দিতে চায় না, সুদের প্রলোভন নাই!—এ লোককে কি বুলিবে ভাবিয়া না পাইয়া সে বলিল—মরুক গে! লে আয়, ঘর আয়। আমাদের আবার ইরসাদের বাড়িতে মজলিশ হবে, পা চালিয়ে চল ভাই।

    —মজলিশ! সেদিন শুনলাম—দেবু পণ্ডিত এসেছিল, মজলিশ হয়েছিল তোমাদের। আবার মজলিশ? ধর্মঘটের নাকি?

    -ইবার মজলিশ–প্যাটের। ধানের ব্যবস্থা চাই তো। দৌলত ছিরুর সঙ্গে ভিতরে ভিতরে ফয়সালা করেছে। সঙ্গে সঙ্গে ধায়া ধরেছে—ধান দিবে না। তাই একটা ব্যবস্থা করতে হবে। ইদিকে মাথার উপর পরব!

    —তবে তুমি সকাল বেলায় গিয়েছিলে কোথা?

    –জংশনে। মজলিশের লেগ্যা তো একবেলার বাদে চাষ কামাই হবেই। তাই গিয়েছিলাম জংশনে। মিলওয়ালা কলকাতার বাবু ঘর বানাইছে, তা ভাল তালগাছ খুঁজছে। সেই ধন্ধে গেছিলাম। ওই যিমাঠের মধ্যি হাঁড়া গাছটা। বাবার হাতের গাছ-ওটাই দিব বুললাম।

    দূর হইতে আযানের শব্দ আসিতেছিল। রহম ব্যস্ত হইয়া বলিল—তু আয় ভাই, আমি যাই। জুম্মার নামায আজ।

     

    ইরসাদের বাড়িতে মজলিশ বসিয়াছিল। সমগ্র মুসলমান চাষী সম্প্রদায়ই আসিয়া জুটিয়াছে। সকলের মুখেই চিন্তার ছাপ। ঘরে সকলেরই ধান নিঃশেষিত হইয়া আসিয়াছে। আউশ ধান উঠিতে এখনও পুরা দুইটা মাস। দুই মাসের খাদ্য চাই। খাদ্যের সন্ধানে ঘুরিবারও অবকাশ নাই। মাঠে জল থইথই করিতেছে, চাষের সময় বহিয়া যাইতেছে। জলের তলায় সারখাওয়া চষা-মাটি গলিয়া ঘষা-চন্দনের মত হইয়া উঠিয়াছে, গোটা মাঠময় উঠিতেছে সোদা সোদা গন্ধ। বীজ-ধানের চারাগুলি প্রতিদিন এখন আঙুলের এক পর্বের সমান বৃদ্ধি পাইতেছে। এখন কি চাষীর বসিয়া থাকিবার সময়।

    তিনকড়িও গরুটাকে একটা গাছের সঙ্গে বাঁধিয়া মজলিশের অদূরে বসিল। তাহাকে আবার এইভাবে ধানের জন্য ঘুরিতে হইবে। চাষ বন্ধ থাকিবে। শ্রাবণের দশ দিন পার হইয়া গেল। চাষ করিবার সময় অতি অল্পই অবশিষ্ট আছে। শাওনের পুরো, ভাদ্রের বার, এর মধ্যে যত পার। পুরা শ্রাবণ মাসটাই চাষের সেরা সময়-ও-দিকে ভাষ্ট্রের বার দিন পর্যন্ত কোনোরকমে চলে। তাহার পর চাষ করা আর বেগার খাটা সমান। হোড় তিরিশে, ফুলোয় বিশে, ঘোড়া মুখ। তের দিন জান, বুঝে কাট ধান। আশ্বিনের তিরিশে ধানের চারাগুলি বৃদ্ধি একেবারে শেষ হইয়া যাইবে, ভিতরে শস্য-শীর্ষ সম্পূৰ্ণ হইয়া কুড়ি দিনের মধ্যেই সেগুলি বাহির হইয়া পড়িবে। তারপর ধানগুলি পরিপুষ্ট হইতে লাগে তের দিন। ধানগাছগুলির বৃদ্ধি তিরিশে আশ্বিনের মধ্যেই শেষ; এখন এক-একটা দিনের দাম যে লক্ষ টাকা।

    বিপদটা এবার তাদের চেয়েও রহম ভাইদের বেশি। ঘরে খাবার নাই, ভরা চাষের সময়, তাহার উপর তাদের পরব লাগিয়াছে। আশ্বিনের প্রথমে সেবার দুর্গাপূজা হয়—সেবার তাহাদের যে নাকাল হয় সে কথা বলিবার নয়। তবু তো তখন কিছু কিছু আউশ উঠিয়া থাকে। তিনকড়ি মনে মনে বলিল হায় ভগবান, এমনি করেই কি পালপার্বণের দিন করতে হয়। মুসলমান সম্প্রদায়ের এই চাষীশ্রেণীর মানুষগুলি তাহাদের পবিত্র ঈদলফেতর পর্বের প্রতি প্রগাঢ় শ্রদ্ধা সত্ত্বেও উৎসাহ বোধ করিতে পারিতেছে না, সকলেই চিন্তিত হইয়া পড়িয়াছে।

    চান্দ্র বৎসর গণনায় ইসলামীয় পর্বগুলি নির্ধারিত হয় বলিয়া—সৌর প্রভাবে আবর্তিত ঋতুচক্রের সঙ্গে পর্বগুলির কোনো সম্বন্ধ নাই! আরব দেশে উদ্ভূত ইসলামীয় ধর্মে চান্দ্রমাস গণনায় কোনো অসুবিধা ছিল না। উত্তপ্ত মরুভূমিতে সৌর সম্বন্ধ বৰ্জন করিয়া সুস্নিগ্ধ চালোকের মধ্যে জীবন শূৰ্তি লাভ করিয়াছে বেশি। মানুষের অর্থনীতিক সঙ্গতির উপর পঙ্গপাল-অধ্যুষিত পাহাড়ে ঘেরা, বালু-কঙ্কর-প্রস্তরপ্রধান মৃত্তিকাময় আরবে কৃষির প্রাধান্য এমনকি প্রভাব, মোটই নাই। সুতরাং অগ্নিবর্ষী সূর্য এবং বৈচিত্র্যহীন ঋতুচক্রের সঙ্গে সম্বন্ধহীন বর্ষ গণনায় কোনো অসুবিধা হয় নাই। প্রখরতম গ্রীষ্মের মধ্যে কয়েকদিনের জন্য অল্প কয়েক পশলা বর্ষণ আর কয়েক দিনের কুয়াশায় শীতের আবির্ভাব জীবনে ঋতু-মাধুর্যের এবং সম্পদের কোনো প্রভাব আনিতে পারে না ইহা স্বাভাবিক। একমাত্র ফল-সম্পদ খেজুর; সে সারা বৎসরই থাকে শুকাইয়া। খাদ্য-ব্যবস্থায় সেখানে শস্যের অপেক্ষা মাংসের স্থান অধিক; আবার খাদ্যোপযোগী পশুর জীবনের সঙ্গেও ঋতুচক্রের কোনো সম্বন্ধ নাই। সেখানে চান্দ্র-গণনায় মাস পিছাইয়া যায়, কিন্তু তাহাতে আর্থিক সঙ্গতির তারতম্য হয় না; সেখানে পর্বগুলি চালোকের স্নিগ্ধ রাশ্মির মধ্যে তারতম্যহীন সমারোহে প্রাণের উচ্ছ্বাসে ভরিয়া ওঠে। কিন্তু কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে কৃষির উপর পূর্ণ নির্ভরশীল মুসলমান চাষী সম্প্রদায় স্থানোপযোগী কাল গণনার অসঙ্গতিতে মহা অসুবিধায় পড়িয়াছে। অগ্রহায়ণ-পৌষ–মাঘ-ফাল্গুনে যখন ঈদলফেতর মহরম হয়, তখন তাহারা যে আনন্দোচ্ছ্বাসে উচ্ছ্বসিত হইয়া ওঠে—সেও খানিকটা আতিশয্যময়। আষাঢ়-শ্রাবণ-ভাদ্রে নিষ্ঠুর অভাবের মধ্যে চাষের অবসরহীন কর্মব্যস্ততার মধ্যে পর্বগুলি ম্ৰিয়মাণ হইয়া চলিয়া যায়–পৌষমাঘের উচ্ছাসের আতিশয্য তাহারই খানিকটা প্রতিক্রিয়ার ফলও বটে। এবার রমজান মাস পড়িয়াছে শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষে, শেষ হইবে দ্রের শুক্লপক্ষের প্রারম্ভে। এদিকে ভরা চাষের সময়, চাষীর ঘরে পৌষের সঞ্চিত খাদ্য শেষ হইয়া ত সিয়াছে, ওদিকে জমিদারের সঙ্গে খাজনা-বৃদ্ধি লইয়া বিরোধ বাঁধিয়াছে, তাহার উপর ঈদলফেতর পর্ব। পর্বের দিন দান-খয়রাত করিতে হয়, সাধু-সজ্জন-আত্মীয়দিগকে আহারে পরিতৃপ্ত করিতে হয়; ছেলে-মেয়েদের নূতন কাপড়-পোশাক চাই; জরির টুপি, রঙিন জামা, নকশিপাড় কাপড়, বাহারে একখানা রুমাল পাইয়া কচি মুখগুলি হাসিতে ভরিয়া উঠিবে—তবে তো! তবে তো পৰ্ব সার্থক হইবে, জীবন সাৰ্থক হইবে!

    মক্তবের মৌলবী ইরসাদ মিয়া ইহাদের নেতা। সে ভাবিতেছিল—এতগুলি লোকের কি। উপায় হইবে? মধ্যে মধ্যে সে কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের কথা ভাবিতেছিল।

    কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক! এখানকার কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান-কঙ্কণার লক্ষপতি মুখুয্যেবাবুর বড় ছেলে; সেক্রেটারিও কঙ্কণার অন্য বাবুদের একজন। তাহাদের গ্রামের চামড়ার ব্যবসায়ী ধনী দৌলত হাজী, শিবকালীপুরের শ্ৰীহরি ঘোষ–ইহার মেম্বার।

    ইরসাদ তবুও বলিল—দেখি একখানা দরখাস্ত করে।

    রহম বলিল—শুন, ইরসাদ বাপ ইদিকে শুন একবার।

    রহম একটা কথা তিনকড়িকে বলে নাই। আপনাদের কথা ভাবিয়াই কথাটা বলে নাই। ওপারের জংশনের কলওয়ালা কলিকাতার বাবুটি বলিয়াছেন টাকা আমি দিতে পারি। কিন্তু আমার সঙ্গে পাকা এগ্রিমেন্ট করতে হবে যারা টাকা নেবে, তাদের আমার টাকার পরিমাণের ধান আগে শোধ করতে হবে। আর আমি যখন অসময়ে টাকা দেব, তখন হলফ করে বলতে হবে তোমাদের, যখন যা ধান বেচবে আমাকেই বেচবে।

    —দর?

    –সি বাপ তুমি না হলে হবে না। পাঁচজনকে নিয়া একদিন চল সাঁঝবেলাতেই যাই।

    কিছুক্ষণের মধ্যে কথাটা কানাকানি হইতে আরম্ভ করিল। তিনকড়ি শুনিয়া ফেলিল। সঙ্গে সঙ্গে সেও উঠিল।

    ওই সংবাদটা পাইয়াই সে বাড়ি ফিরিল বেশ খুশি মনে। যাক উপায় তাহা হইলে একটা মিলিয়াছে। দাদন মিলিলে আর চাই কি? সোনালানোে জমি, তাহার হাতের চাষ, ভাবনা কি তাহার? ওঃ নিজের সব জমি আজ যদি তাহার থাকিত! পাথরের দায়ে সর্বস্ব গেল। যাক! আবার সে সব গড়িয়া তুলিবে। এবারেই সে কয়েকজন ভদ্রলোকের জমি ভাগে লইয়াছে। কার্তিকে নদী নামিয়া গেলে এবার বাপ-বেটায় মিলিয়া ময়ূরাক্ষীর চরের জায়গাটা বেশ করিয়া কাটিয়া দস্তুরমত জমি করিয়া ফেলিবে। অগ্রিম আলু, কপি, মটরশুটির চাষ করিবে। টাকা একদফা তাহাকে উপাৰ্জন করিতেই হইবে। গৌরকে সে দিয়া যাইবে কি? গৌরের চেয়েও ভাবনা তার স্বর্ণ মায়ের জন্য। সোনার প্রতিমা মেয়ে, স্বৰ্ণময়ী নাম তো সে মিথ্যা দেয় নাই। তাহারই ভাগ্যে মেয়েটা সাত বৎসর বয়সে বিধবা হইয়াছে। উহার একটা উপায় করিতে হইবে। তাহার জন্য কিছু জমি পাকাপাকিভাবে লেখাপড়া করিয়া দেওয়া তাহার সবচেয়ে বড় কাজ।

    বাড়িতে ফিরিতেই স্বর্ণ তাহাকে তিরস্কার করিল-বাবা, এ তোমার ভারি অন্যায় কিন্তু। মাঠে হাল-গরু রেখেওই ঠেটি কাপড় পরে তুমি কঙ্কণা চলে গেলে! বেলা গড়িয়ে গেল, খাওয়া নাই দাওয়া নাই–

    হা-হা করিয়া হাসিয়া তিনকড়ি বলিল—ওরে বাপরে, বুড়ো মা হলি দেখছি।

    –বাবুদের সঙ্গে ঝগড়া করে এলে তো?

    –না রে না। লোকটি ইদিকে ভাল। কলকাতায় থাকে তো! মিষ্টি করেই বললে—অন্যায় হয়ে গিয়েছে। গরুটাকে খুব যত্ন করেছে। আমাকে জল খেতে দিলে। তবে টাকা ছাড়া আর কিছু চেনে না। উঃ, ওদের ধান কত স্বপ্ন। সব ধান বেচে দেবে।

    স্বর্ণ চুপ করিয়া রহিল; আপনার ধান সে যদি বেচিয়া দেয়, তবে তাহার কি বলিবার আছে? তাহাদের নাইকিন্তু তাহাতে সে বাবুর কি?

    স্বর্ণের মা বলিল–ওগো, শিবকালীপুরের দেবু পণ্ডিত এসেছিল।

    –দেবু পণ্ডিত?

    –হ্যাঁ।

    –কেনে? কিছু বলে গিয়েছে?

    –আমি তো কথা বলি নাই। সুন্ন কথা বললে। কি বলেছে বল না স্বন্ন।

    স্বর্ণ বলিলবলে গিয়েছে, আবার আসবে, সে কথা তোমাকেই বলবে।

    মা বলিল—তবে যে অনেকক্ষণ কথা বললি লো? স্ব

    র্ণ আবার সলজ্জভাবে হাসিয়া বলিল-আমাকে পড়ার কথা বলছিল।

    তিনকড়ি উৎসাহিত হইয়া উঠিল।–পড়ার কথা? তোকে পড়া ধরেছিল নাকি? বলতে পেরেছিলি?

    সলজ্জভাবে ঘাড় নাড়িয়া নীরবে স্বর্ণ জানাইল—সব বলিতে পারিয়াছে সে। তারপর বলিল-আমাকে বলছিল ইউ-পি বৃত্তি পরীক্ষা দাও না কেনে তুমি?

    —তা দে না কেনে তুই স্বনু!—তিনকড়ির উৎসাহের আর সীমা রহিল না। কক্কণার মেয়ে ইস্কুলে বাবুদের মেয়েরা পড়ে, স্বর্ণও পড়ুক না কেনে! ভাল, দেবু তো আসিবেই বলিয়াছে, তাহার সঙ্গেই সে পরামর্শ করিবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিচারক – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article আরোগ্য-নিকেতন – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    গল্পসমগ্র – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    হাঁসুলী বাঁকের উপকথা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    রাইকমল – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    চৈতালী-ঘূর্ণি – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    ধাত্রী দেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    গণদেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }