Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চম পুরুষ – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প242 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পঞ্চম পুরুষ – ১০

    ১০

    চন্দ্রশেখর ওর সার্ভের কাজে শহরে যাবে, সারাদিনেরই কাজ। যাবার পথে মোড়ের কাছে ছেড়ে দিয়ে গেল মহানামকে। বলল—‘সকাল সকাল না গেলে চৌধুরীকে ধরতে পারবেন না, এখনও অফিসে জয়েন করেছে কি না অবশ্য জানি না, যদি বেরিয়ে যায়!’ মহানামের ইচ্ছে ছিল বিকেলের দিকে যাওয়া। সকাল বেলাটা কারো বাড়ি গেলে তাকে বিব্রত করা হয়। কিন্তু বিকেলে লোকের বাড়িতে আরও অতিথি আসা সম্ভব, মহানাম অরিত্র আর নীলম ছাড়া আর কোনও লোকের সঙ্গে, বিশেষত অপরিচিতর সঙ্গে দেখা করার তাগিদ অনুভব করছেন না। চন্দ্রশেখরও বলল—‘বিকেলে বেড়াতে বা কারো বাড়ি যেতে পারে, চৌধুরী-দম্পতি খুব জমাটি লোক।’ মেন রাস্তার ওপরই চন্দ্রশেখরের কাছ থেকে বিদায় নিলেন মহানাম। বাঁক ফিরে হাঁটছেন, যেন আসল গল্প বা প্রবন্ধ আরম্ভ হবার আগে, উপক্রমণিকা, উপক্রমণিকাটুকু বেশ ভালো করে উপভোগ করে, ব্লক বি’র সামনে এসে দাঁড়ালেন মহানাম। শনিবার, ঘড়িতে প্রায় সাড়ে-আটটা। খুব তাড়ার মুখে গিয়ে তাঁকে ধরতে হচ্ছে অরিত্র চৌধুরীকে। আর একটু সময় পাওয়া গেলে ভালো হত। সামনে ছোট লন। গোটা তিনেক বেতের চেয়ার, একটা মোড়া, একটা স্টিলের ফোল্ডিং টেবল। একটা কুশন ঘাসের ওপর পড়ে গেছে। আশেপাশে খাবার-দাবারের টুকরো কিছু পড়েছে নিশ্চয়। কারণ কিছু কাক ঘাস থেকে খুঁটে খুঁটে কিসব মুখে তুলছে। আদর্শ গৃহস্থ অরি চৌধুরী। কাক, বিড়াল এদের ব্যবস্থা করেই সংসার পেতেছে। পুরো বাড়িটার আপাদমস্তক ভালো করে চেয়ে দেখলেন মহানাম। এইখানে কিছু পাখি বাসা বেঁধে রয়েছে। এক দিগন্ত থেকে আরেক দিগন্তে এসে। এক আশ্রয় থেকে আরেক আশ্রয়ে। তাঁর না আসলেও চলত। কয়েকটা প্রশ্নের জবাব, রহস্যের সমাধান..কিন্তু সব প্রশ্নের জবাব কি পাওয়া যায়, আর সব রহস্যের সমাধান জীবনে করতে পারবেন এতো অহমিকা মহানামের নেই। অঙ্কের ফিগার নয় হিউম্যান ফ্যাক্টর নিয়ে যেখানে রহস্য। সম্ভবত এই পাখিরা তাঁকে শিকরে বাজ, কি পেঁচা কি ওই রকম একটা কিছু ভয়ঙ্কর অশুভকর মনে করছে। করুক, তিনি যে সত্যি তা নন তা এই মুহূর্তে এদের জানতে দিতে তাঁর ইচ্ছে নেই। কিছু শঙ্কা, কিছু মোহ থাক না? মন্দ কি? সত্যিকারের বীতরাগভয়ক্রোধ যতক্ষণ না হওয়া যাচ্ছে ততক্ষণ জীবনযাপনে একটু উৎকণ্ঠার ভাগ থাকা ভালো। নইলে অরাজকতা বাড়ে। দু ধাপ সিঁড়ি উঠে ছোট্ট চত্বর পেরিয়ে মেরুন রঙের দরজার ধারে বেল টিপলেন মহানাম। বেজেছে কি বাজেনি, দরজা খুলে গেল। সামনে এষা। আকাশ নীল আর সাদা ছোট ছোট ছাপ-ছাপ শাড়ি পরে, কাঁধে একটা পাতলা কালো চাদর, চুলগুলো মুখের দু পাশ দিয়ে যথেচ্ছ সামনে এসে পড়ছে, কানের পেছনে তাদের গুঁজে দিতে দিতে অরিত্রর বাড়ির দরজা খুলছে এষা। মহানাম জীবনে কখনও এতো অবাক হননি। এষা মুখখামুখি দাঁড়িয়ে আছে, বিস্ময়ে নির্বাক। মহানামের আগমনের সংবাদ এখনও তাকে শোনানোর কথা মনে পড়েনি নীলম কিম্বা অরিত্রর। এষাকে নিয়েই এখন ওরা ব্যস্ত। এত ব্যস্ত যে মহানামের মতো অতবড় সংবাদও বিস্মরণ হয়ে গেছে অরিত্র বোধহয় মনে মনে আশাও করেছিল যে মহানাম শেষ পর্যন্ত আসবেন না।

     

     

    মহানাম বললেন—‘আমি, ঠিক দেখছি? তুমি এষাই তো?’

    ‘তাই তো মনে হচ্ছে।’

    ‘এষার মতো কোনও দ্বিতীয় ব্যক্তি নও। আমার না-জানা যমজ-টমজ। সিনেমায় যেমন ডাবল রোল-টোল দেখায়’—

    এষা হেসে ফেলল। মহানাম ভেতরে এক পা বাড়িয়েছেন। বললেন—‘কোনও সায়েন্স ফিকশনের মধ্যে ঢুকে পড়িনি? এ বাড়ির গেট দিয়ে ঢুকে উনসত্তর সত্তরে চলে যাওয়া যায় না তো? হে নারী, যদি তুমি এষাই হও, তাহলে সত্তরের এষা হয়ে কি করে সায়েন্স ফিকশন ছাড়া অষ্টআশিতে⋯’

    এষা বলল—‘এই কথাটা আমি শুনে শুনে ক্লান্ত হয়ে গেছি মহানামদা। যারা সর্বক্ষণ চলে, সময় তাদের ছুঁতে পারে না চট করে, রেসে হেরে যায়, তাছাড়া আপনিও তো খুব বদলান নি!’

    মহানাম খুব ইঙ্গিতপূর্ণভাবে নিজের জুলপিতে হাত দিলেন, দাড়িতে হাত বুলিয়ে নিলেন। বললেন—

     

     

    ‘থোড়ি দাড়ি পক্কা, থোড়ি ঔর কঁচ্চা/

    ওহী আদমি অচ্ছা, ওহী আদমি সঁচ্চা। তা ব্যাপার কি বলো তো। সেদিন রাত্তিরে দেখলুম নীলম বেরিয়ে এলো, আজ সকালে দেখছি তুমি। অরিত্র কি তাহলে তোমাদের দুজনকেই বিয়ে করে ফেলেছে?’

    এষা আর থাকতে পারল না, উচ্চৈঃস্বরে হেসে উঠল। হাসির শব্দ পৌঁছল বাথরুমে, দাড়ি কামাতে কামাতে কাঁধে তোয়ালে অরিত্র অবাক হয়ে বেরিয়ে এলো, নীলম রান্নাঘর থেকে হাতে মশলার কৌটো, পড়ার ঘরের দরজার পর্দা সরিয়ে পুপু।

    এদিকে মহানামের মাথা সবাইকে ছাড়িয়ে। সাদা ধবধবে পায়জামা, পাঞ্জাবি, বিশাল মানুষ একটি। ওদিকে পুপুর মাথা। পুপু বাবাকে প্রায় ধরে ফেলেছে। পাঁচ ফুট সাড়ে নয় ইঞ্চি লম্বা অসাধারণ দীর্ঘকায়া তরুণী এক।

    মহানাম বললেন-‘বাঃ। এষা, তোমার শঙ্খধ্বনিতে এক এক করে কুশীলবরা সবাই এসে পড়েছে। তিনটি মুখ আমার সর্বসাকুল্যে চেনা, যদিও কাউকে কাউকে চিনতে একটু দৃষ্টি বিস্ফারিত করতে হচ্ছে। চতুর্থ ব্যক্তিটির সঙ্গে আলাপ হোক।’

     

     

    অরিত্র পুপুর পিঠে হাত দিয়ে প্রায় যেন তাকে বেষ্টন করে ধরে বলল—‘পুপু ওরফে সমিদ্ধা চৌধুরী! আমার একমাত্র সন্তান। আর্কিটেকচার নিয়ে পড়াশোনা করছে। পুপু ইনি বিখ্যাত ডক্টর মহানাম রায়। হিসট্রি, সোসিওলজি, সাহিত্য, শিল্প, অঙ্ক কোনটা যে ঠিকঠাক ওঁর বিষয় আমার জানা নেই। এ যুগের ভারতবর্ষের অ্যারিস্টটল বলতে পারো, তবে তোর বাস্তুবিজ্ঞানটা ওঁর একেবারে জানা নেই।’

    পুপু অবাক হয়ে চেয়ে আছে মহানামের দিকে। নীলম দেখছে পুপু চেয়ে আছে, মহানাম দেখছেন, নীলমের মুখ শুকিয়ে গেছে।

    হাতজোড় করে নমস্কার করছে পুপু, বলছে—‘হ্যাভ আই মেট য়ু সামহোয়্যার প্রোফেসর? আই মাস্ট হ্যাভ।’

    মহানাথ বললেন—‘ডিড য়ু বাই এনি চান্স গো টু দা ফিল্ম ইনস্টিট্যুট অর ম্যাক্সমূলার ভবন লেকচার্স লাস্ট উইক! আই ডোন্ট থিঙ্ক দ্যাটস লাইকলি।’

    ‘নো, বাট, আই হ্যাভ নেভার সীন আ ফেস সো ফ্যামিলিয়ার। এক্সকিউজ মি প্লীজ, আমি একবার বাজারে যাচ্ছি।’ পুপুর ভঙ্গিটা এমন যেন সে ঘোরের মধ্যে কথা বলছে।

     

     

    এষা বলল—‘আমি রেডি। দাঁড়া একটু, থালিগুলো নিয়ে নিই। মহানামদা, একটু বসুন। আমরা এক্ষুণি ফিরে আসছি।’

    রান্নাঘরে থলি আনতে গিয়ে এষা দেখল নীলম নিঃশব্দে কাঁদছে। বেসিনের ওপর বাসনধোয়ার নাম করে কাঁদছে। চোখ দিয়ে টপটপ করে বড় বড় ফোঁটায় জল নেমে সব ভিজিয়ে দিচ্ছে।

    ‘এ কি নীলম? কি হচ্ছে!’ এষা ফিসফিস করে বলল, ‘কেঁদোনা, সব ঠিক হয়ে যাবে।’

    তাড়াতাড়ি পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে স্কুটারের পেছনে চড়ে বসল এষা। বাড়ির পাশ থেকে ভটভট করতে করতে স্কুটার এগিয়ে গেল খোলা দরজার সামনে পোর্টিকোর ওপারের ঢালু রাস্তা বেয়ে। বিদ্যুদ্বেগে বেরিয়ে গেল। সামনে পুপু, প্যান্ট আর ঢোলা জামা পরে, ছোট চুল, বিশাল কান-ছোঁয়া চোখে একটা বিস্ময় থমকে আছে। ভ্রূ কুঁচকে আছে সামান্য। হ্যান্ডেল শক্ত করে ধরে রয়েছে দু হাত, যেন ফসকে যেতে পারে বলে তার রোখ চেপে গেছে। পুপু পক্ষীরাজ ঘোড়ায় চড়ে কোন দূর মায়ার দেশে চলে যাচ্ছে। পেছনে যাদুকরী। সঙ্কটের সময়ে ওকে সাহায্য করবে কথা দিয়েছে। পুপুর কি সাহায্য লাগবে?

     

     

    অরিত্র একটু দমকা জোর দিয়ে বলল—‘বসুন মহানামদা। কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন?’

    মহানাম বসতে বসতে সোজাসুজি বললেন—‘মেয়েটি কি আমার?’

    অরিত্রর মুখ লাল হয়ে যাচ্ছে। তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বলল—‘হতে পারে ক্ষেত্রজ, কিন্তু কন্যাটি আমারই।’

    মহানাম বললেন—‘এরকম অদ্ভুত মিল আমি আর কক্ষণো দেখিনি। যেন আয়নায় নিজেকে দেখছি। নীলম কি গর্ভিণী অবস্থায় সারাক্ষণ আমাকেই ধ্যান করেছিল! তাই যদি হবে তো চলে এলো কেন?’

    এই সময়ে নীলম রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে বলল—‘মেয়েটি যদি তোমারই হয়, তুমি কি ওকে নিয়ে যাবে এখান থেকে ছিঁড়ে, না চতুর্দিকে ঢোল শহরৎ করে ঘোষণা করবে? কোনটা করতে চাও?’

    ‘দাঁড়াও, দাঁড়াও। জট বড্ড পাকিয়েছে। আমি একটা একটা করে গিঁট খুলি। মেয়েটি তাহলে, প্রকারান্তরে স্বীকারই করছ, আমার। এতদিন ধরে অরিত্র ওকে পালন করেছে, এতই স্নেহে যে অনায়াসে বলতে পারল ক্ষেত্রজ হলেও হতে পারে, কিন্তু কন্যা ওরই। অর্থাৎ পিতৃস্নেহেই পালন করেছে। নীলম, তোমাকে দেখেই বুঝতে পারছি সুখেই আছো, সুখের বরং একটু আধিক্যই ঘটে গেছে! না, না। সমিদ্ধাকে আমি নিয়ে তো যাবই না, কিন্তু ও যে স্বপ্রকাশ। আমার ধারণা আমাকে ওকে একত্রে দেখার পর বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকতে পারে না কারও ও কার। হায় অরিত্র, বিধাতা তোমার সঙ্গে বেশ বড়সড় একটা ঠাট্টাই করেছেন মনে হচ্ছে। সেই ঠাট্টাটাকেই তুমি বোকার মতো বয়ে বেড়াচ্ছ। ওকে ওরকম ছেলেদের মতো সাজিয়ে রেখেছো কেন? তাইতে সাদৃশ্যটা আরও স্পষ্ট হয়ে গেছে।’

     

     

    ‘ও ওরকমই পছন্দ করে।’ নীলম সংক্ষেপে বলল।

    ‘ভাগ্যিস ওর দাড়িটাও নেই! একমাত্র বাঁচোয়া। তা এখন উপায়!’—মহানাম বললেন।

    অরিত্র রুক্ষ গলায় বলল—‘একমাত্র উপায় আপনার চলে যাওয়া। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। পুনে থেকে।’

    মহানাম মাথা নেড়ে বললেন—‘তুমি অতিথির সৌজন্যও একসময় পালন করোনি, গৃহস্বামীর আচারও আজ পালন করছ না। এ আমি জানতাম মোটামুটি। কিন্তু সেটা তো সম্ভব নয় অরিত্র। আমার একটা নির্দিষ্ট কার্যক্রম আছে, তোমার ছোট সুবিধের জন্য আমি তো আমার বড় অসুবিধে করতে পারি না। তবে, তোমার জানাশোনাদের আসরে আমি না-ই এলাম। একটা বাঙালি সাহিত্যসভার জন্য বলতে এসেছিল, শেখরকে আমি বরং না করে দেবো। কিন্তু এষা কোত্থেকে এলো? আমার সব হারানো মণি-মাণিক্যগুলো তোমার কবলীকৃত হয়ে গেছে দেখছি। কোন মন্ত্রে? তুমি কি যক-টক হয়ে গেছো?’

    অরিত্র বলল—‘মন্ত্র নিশ্চয়ই কিছু আছে, যা আপনার জ্ঞানের অগম্য।’

     

     

    এই সময়ে দরজায় বেল বাজল, অরিত্র তাড়াতাড়ি গিয়ে দরজা খুলে দিল। ওপরের ফ্ল্যাটের মহিলা। কখন প্যাসেজের বাতি কেটে গেছে, সেই বিষয়ে কিছু বলতে এসেছেন।

    মহানাম তৎক্ষণাৎ পেছন ফিরে পকেট থেকে পাইপটা বার করে তামাক ভরতে ভীষণ ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। মহিলা চলে যেতে নীলমের দিকে তাকিয়ে মিটি মিটি হেসে বললেন—‘নিজের পেছনটা তো দেখতে পাওয়া যায় না। নীলম, দেখো তো, আমার পেছনটা আবার সমিদ্ধার মতো নয় তো?’

    অরিত্র ফিরে এসে বসতে বসতে বলল—‘লোকে কি ভাববে সেটা একটা প্রশ্ন বটে। তবে আপনার দাড়ি-গোঁফের জন্য মিলটা খানিকটা অপ্রকট থাকবেই। আমি ভাবছি পুপুর নিজের কথা। ওর যদি কিছু মনে হয়?’

    নীলম গালে হাত দিয়ে বসেছিল, বলল—‘আমিও ঠিক তাইই ভাবছিলাম।’

    মহানাম বললেন—‘এ নিয়ে অত ভাবাভাবির কি আছে? ও অলরেডি জেনে গেছে।’

     

     

    নীলম বিবর্ণ হয়ে বলল—‘কী বলছো কি তুমি?

    অরিত্র উত্তেজিত হয়ে উঠেছে, বলল—‘ননসেন্স!’

    ‘ঠিকই বলেছি। সমিদ্ধা এটুকু জেনে গেছে যে ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব গভীর। মেয়েটি শুধু প্রখর বুদ্ধিমতীই নয়, খুব পরিপক্ক ওর ইনটুইশন। ভারি আশ্চর্য সৃষ্টি করেছি তো! অরিত্র আশা করি, অধিকার নয়, কিন্তু সৃষ্টির এই আনন্দটুকু উপভোগকরতে আমাকে তুমি বাধা দেবে না।’

    অনিমেষ চোখে মহানামকে দেখছে নীলম। জুলফিতে সামান্য পাক ধরেছে, চুলে দাড়িতেও একটু একটু। অসাধারণ বলিষ্ঠ চেহারা। অথচ আকর্ণ টানা উদাসীন চোখ। সবচেয়ে লক্ষণীয় নাকটা। পাতলা, ভঙ্গুর, যেন মানুষের নয়, এই নাক আর ওই চোখই নীলমকে পাগল করেছিল বলা চলে। মা রেখে গেলেন হোস্টেলে। লোক্যাল গার্জেন মায়ের বন্ধুপুত্র। ছাত্রমহলে নাম অ্যারিস্টটল। কিছুটা উপহাসে, কিন্তু কিছুটা সম্ভ্রমে তো বটেই। হোস্টেল থেকে অ্যারিস্টটলীয় জ্ঞানের সন্ধানে প্রতিদিন মহানামদার কাছে না ছুটলে ঘুম হত না নীলম যোশীর।

     

     

    সেইসব বেলাভূমিহীন সমুদ্রের মতো দিন! মুগ্ধ হরিণী চিনতে কতটা সময় নিলেন মহানাম! মেয়েরা নিজেরাই জানে না বাঞ্ছিতকে পাবার জন্য তারা কি কি প্রয়োগ করে, কতভাবে! নীলম কি সে সব নিঃশেষে প্রয়োগ করেছিল? তার তূণে যত তীর, দশ হাতের যত প্রহরণ! ভরদুপুরের নির্জন বেলায় সেই উদ্ভিন্ন হাসি, নিপুণ ধানুকী তার সমস্ত অঙ্গভঙ্গীতে শরসন্ধান করছে! নিশ্বাসে আত্মনিবেদন। মহানাম যদি আবিষ্ট, নীলম নিজে তবে সম্পূর্ণ আত্মভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছিল। মুগ্ধ, সম্মোহিত। সম্মোহন মহানাম স্বেচ্ছায় করেননি। নীলমের ভাগ্য নীলমকে নিয়ে এ খেলা খেলল। দুটি সম্মোহন মিললে একটি চূড়ান্ত মিলন ঘটেই যায়। এখনও দেখতে পাচ্ছে নীলম বিশাল দুই চোখ তার মুখের ওপর স্থির, নাকের পাটা কাঁপছে, সহসা মহানামের মুখ তার মুখের মধ্যে নেমে এলো। এইভাবে, ঠিক এইভাবে পুপুর জন্ম দিল। মুগ্ধতার মধ্যে, সম্মোহনের মধ্যে, অথচ মোহ বলে কিছু পুপুটার নিজের চরিত্রে আছে কি না সন্দেহ।

    নীলমকে কেঁপে উঠতে দেখে অরিত্র বলল—‘ঠাণ্ডা-ঠাণ্ডা আছে। নীলম, তুমি গায়ে একটা সুতির চাদর-টাদরও দাও!’

    মহানাম হেসে বললেন—‘এ ঠাণ্ডার কাঁপুনি না রোমাঞ্চের শিহরণ কে জানে অরি।’

     

     

    অরিত্র গম্ভীর হয়ে গেল। মহানাম যেন প্রমাণ করতে চাইছেন, যতই নীলমের ঠাণ্ডা-লাগার বিষয়ে স্বামী-সুলভ উৎকণ্ঠা সে প্রকাশ করুক, তাকে আরও অন্তরঙ্গভাবে জানেন মহানাম।

    নীলম হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে বলল—‘তোমাকে চা দিচ্ছি মহানামদা। কিন্তু তুমি আজ খেয়ে যাচ্ছো।’

    মহানাম বললেন—‘ভরপেট ব্রেকফাস্ট খেয়েছি, দু তিন কাপ চা। আমি আর চা খাবো না নীলম। আচ্ছা এক কাজ করো পাতলা করে লেবু-চা বানিয়ে দাও।’

    অরিত্রর খুব অবাক লাগল। অরিকে একবারও না জিজ্ঞেস করে নিজের দায়িত্বে নীলম নেমন্তন্ন করে বসল মহানামকে, যে মহানাম আসলে মহাকাল কি না এখনও স্পষ্ট করে বোঝা যাচ্ছে না। খেয়ে যাওয়া মানে অনেকক্ষণ বসা, এষা ফিরবে, গল্প করবে, পুপু ফিরবে, পুপুর সঙ্গে কি কথা বলবেন মহানাম? এমন শনিবারটা মাটি তো হয়ে গেলই, উপরন্তু ফাউ জুটল সর্বক্ষণের উদ্বেগ।

    মহানাম বললেন— ‘অরিত্র, কিছু গান টান বাজাও।’

     

     

    ‘হঠাৎ!’

    মহানাম হাসতে হাসতে বললেন—‘অপ্রস্তুত হোস্টরা যখন কথা খুঁজে পায় না, এবং কথা দিয়ে নির্বোধ নীরবতা ঢাকবার প্রয়োজন অনুভব করে তখন তো গানই বাজায়। জগজিৎ সিং গোলাম আলি কিম্বা জালোটা যা হোক। গজল কী গজল্লা, বা ভজনের ভুজুং ভাজুং!’

    অরিত্র উষ্ণ হয়ে বলল—‘আমাকে কি আপনি উপহাস করছেন মহানামদা! উপহাস সহ্য করবার বয়স আমার অনেক দিন চলে গেছে।’

    মহানাম বললেন—‘দ্যাখো ভায়া, তা যদি বলল, তোমার আমার যা সম্পর্ক তাতে করে ফরাসী কেতার একটা ডুয়েল আমরা অনায়াসেই লড়ে যেতে পারি। সে ডুয়েলের ফলাফল কি হবে আমার ব্যায়ামের চার্টখানা দেখলেই বুঝতে পারবে। না দেখলেও শুধু চেহারাখানা দেখলেই বোঝা যায়। কিন্তু সে সবে দরকার নেই। কবিদের ওপর দার্শনিকদের জয় ঠিক কোনখানে বলো তো? কবিরা যখন মিথ্যে স্তব-স্তুতি করে বোকা মেয়েদের ভোলায়, দার্শনিকরা তখন সেটা স্পষ্ট বুঝতে পারে। মিথ্যে বলে তো লাভ নেই, নীলমকে যেতে না দিলে তুমি যত বড়ই চোর হও, তাকে নিয়ে যেতে পারতে না। তবে একটা মস্ত দোষ তোমার, বড্ড বেশি মিথ্যার আশ্রয় নাও। কবিরা তো এমনিতেই যথেষ্ট মোহন মিথ্যা বলার অধিকার পেয়েছে, তার চেয়েও নীচু স্তরের মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তুমি নিজেকে আমার কাছে বড্ডই ঘৃণ্য প্রতিপন্ন করেছে। নীলমকে তুমি এমন কি বলেছিলে, যার জন্য বেচারি অমন সঙ্কট অবস্থায়ও আমার ওপর ভরসা রাখতে পারল না। দেখো অরিত্র, প্রতিদ্বন্দ্বীকে আমি ঘৃণ্য বলে ভাবতে ভালোবাসি না, আমার ঘৃণাটা উচ্ছেদ করতে তুমি আমায় একটু সাহায্য করতে পারো না? যথেষ্ট বয়স হয়েছে, এখন আর ঘৃণা নিয়ে বাঁচতে ভালো লাগে না।’

    অরিত্র প্রাণপণে সংযত হয়ে বলল—‘আপনি কি নীলমের ব্যাপারে আমার কাছ থেকে কোনও কৈফিয়ত দাবী করতে এসেছেন? একযুগ পরে? যেহেতু এককালে আমার মাস্টারি করেছেন কিছুটা এবং যথেষ্ট উপকৃত হয়েছি আপনার কাছে তাই চূড়ান্ত অপমান সত্ত্বেও কিছু বলছি না। এর চেয়ে বেশি এগোলে কোর্টে যেতে হয়।’

    মহানাম বললেন—‘ডিফ্যামেশন তখনই হয় অরিত্র যখন অপবাদটা মিথ্যা দেওয়া হয়। তুমি খুব ভালো করেই জানো আমি মিথ্যার কথাটা সত্যিই বলেছি। একঝুড়ি মিথ্যা দিয়ে তুমি নীলমকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিলে, আরেক ঝুড়ি মিথ্যা দিয়ে এষাকে আমার কাছে পৌঁছতে দিলে না। সেই মিথ্যেগুলো ঠিক কি বলো তো!’

    অরিত্র ক্রুদ্ধ কণ্ঠে বলল—‘আপনি এতই আত্মতুষ্ট যে নিজের সম্বন্ধে নিজেই কিছু জানেন না। আপনাকে আমাদের সার্কলে সবাই কি বলত জানেন? ওম্যানাইজার। বুঝলেন? ডার্টি ওম্যানাইজার। একটার পর একটা মেয়েকে আপনি নষ্ট করেন, জ্ঞান-বুদ্ধি-পাণ্ডিত্যের ভাঁওতা দিয়ে। নিজেকে ডন জুয়ান ভেবে যতই আনন্দ পান, অক্সফোর্ডে যে বেলেল্লাপনা চলে, সত্তর দশকের কলকাতায় তা চলত না। নীলমের কাহিনীটা যদি পুরো প্রকাশ করে দিতাম তাহলে নকশালদের হাতে প্রথম খুন হতেন আপনিই।’

    মহানাম শান্ত হয়ে বসেছিলেন—অরিত্রের কথা সম্পূর্ণ শেষ হলে বললেন—‘আশ্চর্য! তোমাদের সার্কল-এ তোমার মতো প্রতিভাবান নারীপ্রেমিক থাকা সত্ত্বেও তোমার বন্ধুরা আমাকেই ওম্যানাইজার বলে শনাক্ত করল? খুবই আশ্চর্য। সেইজন্যেই তুমি আমার চরিত্রের এই বিখ্যাত দিকটাকে বিষয় করে নীলমকে বেশ কয়েকটা দীর্ঘ বক্তৃতা দিয়েছিলে সেই সময়ে। না? বাঃ। এবার জটগুলো বেশ সরল হয়ে আসছে। কিন্তু আমি যদ্দূর জানি এষা তোমার জন্য উন্মুখ ছিল, আমাকে বঞ্চিত করবার জন্য তুমি এষাকে উচ্ছিন্ন করলে কেন? এবং তারও পর এষা যখন ওর দারুণ রক্ষণশীল বাড়িতে কোনরকম সান্ত্বনা না পেয়ে ধিক্কারে, লজ্জায়, আমার দ্বারস্থ হচ্ছিল সেখানেও তুমি তোমার গোপন তীর ছুঁড়তে ভুললে না তীরন্দাজ। নীলমকে দিয়ে এষাকে তুললে, তারপর এষাকে দিয়ে আবার⋯ না না অরিত্র তুমি ঠিক কিভাবে এদের ব্যবহার করেছ আমার কাছে কিছুতেই পরিষ্কার হচ্ছে না। কি যে তোমার বিচিত্র রসায়ন।’

    নীলম পেছনের দরজা দিয়ে ওপরে লেবু আনতে গিয়েছিল। লেবু-চা এনে রেখে চলে গেল। সে বুঝতে পেরেছে, অরিত্রর সঙ্গে মহানামের কিছু একটা বোঝাপড়া হচ্ছে, এটা হওয়া দরকার। অনেক দিন ধরে বকেয়া হয়ে আছে।

    অরিত্র অবাক হয়ে লক্ষ করল—যেভাবে রেগে যাওয়া তার উচিত ছিল সে রাগছে না সেভাবে। চোখা-চোখা কথাগুলো সে বলে ফেলতে পেরেছে। উপরন্তু বিজয় লক্ষ্মী তো তারই দিকে। সে হঠাৎ হেসে বলল—‘অনেক রকম অকথ্য অপবাদ তো দিয়ে গেলেন একটার পর একটা। তবুও নীলম আমারই রান্নাঘরে আপনার জন্য রান্না করছে, এবং এষা আমার ঘরে আপনাকে অভ্যর্থনা করে আপনারই জন্য বাজার করতে গেছে।’

    মহানাম শব্দ করে হেসে উঠলেন, বললেন—‘গুড, গুড। এই তো অরিত্র, তুমি প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে উঠেছ। এইটাই আমি তোমাদের বরাবর বলে এসেছি। ম্যাচিওরিটি দরকার। কি আবেগের। কি বুদ্ধির। এখন হৃদয় এবং বুদ্ধিকে একটা উল্লম্ব রেখায় একত্র স্থাপন করতে পারলেই তোমার বুদ্ধির মুক্তি এবং মুক্তির বুদ্ধি হবে। সা বিদ্যা যা বিমুক্তয়ে। ভালো, ভালো। আমার তোমার ওপর বিন্দুমাত্র রাগ নেই।’

    এই সময়েই এষা ও পুপু ফিরল। দুজনেরই মুখ লাল হয়ে গেছে রোদে। অরিত্র একটু ধমকের গলায় বলল—‘পুপ্‌, তোমাকে কতবার টুপি পরতে বলেছি। এষা, তুমিও তো মাথায় ঘোমটা দিয়ে নিলে পারতে। ভীষণ রোদ। এই রোদে তুমি যে কি করে ঔরঙ্গাবাদ যাবে, আমি তো বুঝতেই পারছি না। ইলোরা তো রীতিমতো কষ্টসাধ্য ব্যাপার! আপনি কি বলেন মহানামদা!’

    ‘আমি আপাতত কিছুই বলি না। আগে যাই। আমাকে তো যেতেই হবে।’

    এষা বসে পড়ে বলল—‘কোথায়? ইলোরায়? আপনি যাচ্ছেন মহানামদা! আমাদের সঙ্গে চলুন তবে। আমরা, মানে আমি তো যাচ্ছিই। আপনাকে যেতে হবেই বলছেন কেন?’

    ‘একটা লেখার জন্য।’ মহানাম বললেন, ‘তোমাদের প্রোগ্রাম ঠিক কি না জানলে তো⋯?’

    নীলম এই সময়ে বেরিয়ে এসে বলল—‘প্রোগ্রাম যা-ই হোক, তুমি ওদের সঙ্গে যাচ্ছোই।’

    পুপু বলল—‘ডক্টর রয়, আপনি কি আর্টের ওপর লিখবেন?’

    মহানাম ফিরে তাকালেন, বললেন, ‘কিসের ওপর লিখলে তুমি খুশি হও?’

    পুপু জবাব দিল—‘আর্ট অ্যান্ড রিলিজন।’

    মহানাম বললেন-‘অল রাইট, তাই-ই লিখব। তুমি বাংলা পড়তে পারো?’

    পুপু খুব লজ্জিত গলায় বলল—‘ভালো করে নয়।’

    ‘নীলম, এটা ঠিক করোনি, মাতৃভাষা ছাড়াও বাংলা যথেষ্ট সুন্দর ভাষা। তোমরা ওকে এটা না শিখিয়ে ভুল করেছ। পশ্চিমবঙ্গে যেসব অবাঙালি থাকেন, তাঁদের ছেলেমেয়েরা কিন্তু যে যার মাতৃভাষা লিখতে পড়তে পারে।’

    পুপু বলল—‘ওটা আমারই দোষ। আমি শিখেছিলুম ঠিকই, চর্চার অভাবে ভুলে গেছি। দেখে নেবো। আপনি কি বাংলায় লিখবেন?’

    মহানাম বললেন না যে এটা একটা বইয়ের পরিকল্পনার অন্তর্গত। বিদেশী পাবলিশারের ফরমাশ। শুধু অন্যমনস্কভাবে বললেন—‘তুমি বাংলাটা শিখে নেবে বলছ বলে আমি বাংলাতেই লিখব সমিদ্ধা, তোমায় পাঠিয়ে দেবো। কিন্তু শিল্পের সঙ্গে ধর্মের সম্বন্ধ নিয়ে তুমি এতো ভাবছো কেন?’

    পুপু বলল—‘আই ওয়াজ ওয়ান্ডারিং ইফ আর্ট কুড বি ইন্টারপ্রেটেড অ্যাজ আ কাইন্ড অফ রিলিজন! ডক্টর রয়, আমার মার একটা রিলিজন আছে, ওই ঘরের তাকে কয়েকটি মূর্তিকে ফুল, আগরবাতি নদীর জল—এসব দিয়ে পুজো করে, মানে শী প্রেজ বিফোর দোজ ইমেজেস। আমার বাবার সঙ্গে মার মাঝে মাঝেই ঝগড়া হয়, অলটার্কেশন। বাবা বলে,—‘কি পাপ পাপ করো, পাপ আসলে মানসিক অসুস্থতা, আর পুণ্য হল মানসিক স্বাস্থ্য। মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার সবচেয়ে বড় উপায় কাথার্সিস, অর্থাৎ নিজের যা ইচ্ছা তাই করা উইদিন লিমিটস। আর যদি কনসেনট্রেশন দিয়ে শান্তি পেতে চাও তো বই পড়ো, ছবি আঁকো, মূর্তি গড়ো, কবিতা লেখো। এখন মার রিচ্যুয়াল আর বাবার রিচুয়্যালের মধ্যে কি সম্পর্ক জানতে আমার খুব ইচ্ছে হয়। মানে আই ফীল ইট ইজ অফ ভাইট্যাল ইমপর্ট্যান্স টু মি।’

    অরিত্র নীলমের দিকে চাইল। এসব কথা নিয়ে মাঝে-মধ্যে তাদের মধ্যে লড়াই হয়েছে বটে, কিন্তু পুপু এতো আগ্রহ নিয়ে সেসব শুনেছে এবং এইভাবে গুছিয়ে সে বিতর্কের সারবস্তুকে অনায়াসে সবার কাছে পৌঁছে দিতে পারবে এ কথা তারা স্বপ্নেও ভাবেনি।

    মহানাম খুব অবাক হলেন। তাঁর চোখ কেন জানি আনন্দে জ্বলজ্বল করছে। তিনি বললেন—‘তুমি নিজে রিলিজন নিয়ে কি ভাবে? তোমার নিজের কোনও রিলিজন আছে পুপু?’

    ‘আছে ডক্টর রয়। ধরুন আমি কনসেনট্রেশন করি বইয়ে, বা ড্রয়িং-এ। রিচ্যুয়ালসও আছে কিছু যার মধ্যে দিয়ে আমি মানসিক স্বাস্থ্য উদ্ধার করি যেমন ব্যায়াম, গান শোনা, পিকচার গ্যালারি, আর্ট এগজিবিশনে যাওয়া, ডক্টর রয়, আমি রোজ নিয়ম করে কাউকে না কাউকে কিছু-না-কিছু দিই। ভেতরটা কিরকম একটা হয়ে যায় বোঝাতে পারব না, ইট মাস্ট বী আ রিচ্যুয়্যাল।’

    পুপুর বাবা মা ভীষণ অবাক হয়েছে। পুপু আজকে যা বলছে তা তার অন্তৰ্জীবনের কথা। কখনও বলেনি। কখনও আলোচনা করেনি। কিছু জিজ্ঞাসাও করেনি। অরিত্র অনুভব করছে তার ভেতরে অভিমান জমছে। নীলমের কেন খুশি লাগছে সে জানে না। এষার পুপ্‌কে খুব কষে একটা চুমু খেতে ইচ্ছে করছে কেন জানে না। স্নেহ যেন শতধারায় ছুটে যেতে চায় আঠার বছরের ওই তরুণ মুখটির দিকে।

    মহানাম হেসে বললেন—‘খ্রীষ্টজন্মের পাঁচশ বছর আগে আথেন্সে যখন পেরিক্লিস, সেই সময়ে ফিডো বা জেনোফোন নামে কোনও ভদ্রলোকের বাগানবাড়িতে সান্ধ্য মজলিশ বসেছে ধর। সমিদ্ধা, সেখানে তোমার বয়সের কিশোররা উপস্থিত রয়েছে অনেক। কিশোরী অবশ্য নেই একটিও। চলো সেই মজলিশে একমাত্র তরুণী সভ্য বলে তোমাকে আমরা নিয়ে যাই।’

    পুপু বলল—‘সক্রেটিস থাকতেন, না? আর প্লেটো? ডক্টর রয়, আপনি সেই মজলিশে কার ভূমিকা নেবেন? প্লেটোর?’

    মহানাম বললেন-‘একেবারেই না, আমিও একটি জিজ্ঞাসু তরুণ, আমার নাম যা খুশি হতে পারে, ইউরিপিদিস টিস যা হোক।’

    নীলম হঠাৎ বলল—‘অতবড় একজন মানুষকে কি তখন থেকে ডক্টর রয়, ডক্টর রয় করছিস পুপু। কি তোদের জেনারেশনের কালচার আমি কিছুই বুঝি না।’

    ‘বাঃ। কি বলব তাহলে বলে দাও—।’ পুপু বালিকার মতোই মায়ের তিরস্কার মেনে নিল—‘জেঠু, না, কাকু, না, মামু? কি?’

    মহানাম অট্টহাস্য হেসে বললেন—‘জেঠু, কাকু, মামু ডাকার চেয়ে আমাকে ও বরং না-ই ডাকলো নীলম। হোয়াটস রং উইথ ডক্টর রয়?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবৃত্তের বাইরে – বাণী বসু
    Next Article দিদিমাসির জিন – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }