Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চম পুরুষ – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প242 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পঞ্চম পুরুষ – ২

    ২

    এমনিতে পিকু-এষার এমন নিস্তরঙ্গ জীবন যে পিকুই মাঝে মাঝে হাঁপিয়ে ওঠে। সকাল নটায় মিনি ধরে সেন্ট্রাল পার্ক থেকে একজন ডালহৌসি, আরেকজন উত্তর কলকাতা। শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত। লম্বা যান-জট ঠেলে ঠেলে, এক ঘণ্টার পথ দু ঘণ্টায়, আড়াই ঘণ্টায়। সকালে চা, সন্ধেয় কফি। কফির পট সামনে রেখে দুজনে গল্প। পত্রিকা পড়া। তারপর টেবিল-চেয়ার, হাতে কলম, টেবিলে খাতা, র‍্যাকে বই। কখনও টাইপ-রাইটার। মস্তিষ্ক-ঠাসা চিন্তা। খাতার পাহাড়, লাল-নীল ডট কলম। পিকু বলে—‘তুই পারিস কি করে? চল ফিল্ম দেখে আসি।’

    —‘কি ফিল্ম?’

    —‘তা কি জানি? যা পাওয়া যায়। দে কাগজটা। দেখি কি কি হচ্ছে।’

    —‘দূর! ফিল্ম দেখার জন্যেই ফিল্ম দেখা? সে বড় বিরক্তিকর! পিকু, তুই প্লীজ অন্য বন্ধু-বান্ধব সংগ্রহ করে ঘুরে আয়।’

    পিকু বলে—‘কি জ্বালা! অন্য বন্ধু-বান্ধব কি আর আমার কালেকশনে নেই? তোকে একলা ফেলে যেতে চাইছি না এটাকে পাত্তা দিচ্ছিস না কেন? এষা, তোর মনে হয় না প্রত্যেকটা দিন কেন এমন একই রঙের? একইরকম নিচু শিথিল বেসুরে বাঁধা! কেনই বা জীবন এমন নির্বিশেষ হবে?’

    এষা হাসতে থাকে—‘তুই কি জীবনকে রোমাঞ্চকর উপন্যাস ঠাউরে জন্ম নিয়েছিলি নাকি? তাহলে তোর আশাভঙ্গ কেউ আটকাতে পারবে না পিকু। না ভেবে-চিন্তে সিনেমা দেখতে গেলে অবস্থা আরও সঙ্গিন দাঁড়াবে।’

    —‘তাহলে কি করা যায়?’

    —‘কিছু করার নেই। শুধু প্রতীক্ষা করার আছে। তা-ও ব্যস্ত হয়ে নয়।’

    পিকু বলে—‘ধুত্তেরি। তবে আমি গাছে জল দিতে চললুম। হলুদ জবার কুঁড়ি এসেছে। ফুটল কিনা দেখি গে।’

    এষা মনে মনে বলে—‘এই তো ঠিক ধরেছিস। সাধারণ তবু অসাধারণ। জবা কিন্তু হলুদ-জবা—মুহূর্তগুলোর ফোটা দেখতে দেখতে গরিমার জন্য লালিত প্রতীক্ষাকে ভুলে থাকা। যদি সে এলো তো এলো, না এলেও ক্ষতি নেই।’

     

     

    এইরকম চলতে থাকে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস। ক্যালেন্ডারের পাতাগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে ছেঁড়া কাগজের ঝুড়িতে ফেলতে ফেলতে। পিকু সিনেমা দেখতে যায়, বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিক, বোনঝির জন্মদিনের নিমন্ত্রণে একদিন গিয়ে তিনদিন কাটিয়ে বেশ তাজা হয়ে ফিরে আসে। নতুন করে ভালোবাসে আবার সেন্ট্রাল পার্কের ঘরদুয়ার, দাওয়া, বাগান, গল্পগাছা, নিষ্প্রদীপের রাত্তিরে ঘরে তালা দিয়ে, ছাদে মাদুর পেতে জোনাকি আর তারা, তারা আর জোনাকি, মিঠে ফুলের গন্ধ, গুনগুন গান, ঘুম। এষা তুই কি রে? এক্সকার্শনটাতেও তো যেতে পারতিস! সেদিন একটা নেমন্তন্নের চিঠি এলো, গেলি না তো! মুড নেই রে। আমার এমনিই বেশ ভালো লাগে, সত্যি বলছি। তারপর হঠাৎ একদিন মাঝ সকালে তার মস্তিষ্কের মধ্যে কুমোরের চাক বাঁই বাঁই করে ঘুরতে থাকে। একটা পাখি ডানা ঝাপটায় বুকের মধ্যে, অধৈর্য ঠোঁট দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করতে থাকে লসিকাগুলো। রসক্ষরণ হতে থাকে শরীরের খাঁচায়, স্রোত মুক্তি পেতে চায়। তখন এষা কোথাও না যেতে পারলে মরে যায়। সে বেশ বুঝতে পারে এরই মধ্যে তার পুনর্জন্ম এবং পুনর্পুনর্জন্ম হয়ে গেছে। শুধু কাপুরুষেরাই বারবার মরে না। গভীর আকাঙক্ষা ও অভিজ্ঞতায় যারা বাঁচে তারাও মরে যায়, আবার জন্মায়, একই জন্মের ভেতরে। এষা সেসব সময়ে বুঝতে পারে এইদিনগুলোর মৃত্যু হয়ে গেছে। এখন আবার নতুন জন্ম না হওয়া পর্যন্ত তার বায়ুভূত নিরালম্ব প্রেতদশা।

     

     

    গীতাঞ্জলিতে আসতে সবাই বারণ করেছিল। ঘণ্টার হিসেবে কম হলেও, দু দুটো পুরো দিনের বেলা। নতুন গরম পড়ছে। বাংলা পার হলেই লু বইবে। কিন্তু বম্বে মেলে তিলধারণের স্থান নেই। ভি-আই-পি কোঠায় চেষ্টা করেও বিফল হতে হল। ফেয়ারলি প্লেস থেকে ট্যাক্সি নিয়ে এসপ্লানেড। উত্তেজনায় এষা সীটে হেলান দিয়ে বসতে পারছে না। আপাদমস্তক অধৈর্য প্রত্যাশায় ভরা উৎকণ্ঠ দুপুরে গীতাঞ্জলির টিকিট হাতে পেয়ে মাথায় কুমোরের চাক থামল। স্পেস পার হলেই বুঝি কালকেও পার হওয়া যাবে, যে কালকে পার হতে না পেরে মানুষ চিরদিন এমন আকণ্ঠ দুঃখী হয়ে রয়েছে। যাওয়ার এই তাগিদ এ ভেতরের কোনো গূঢ় মৌল প্রয়োজনের তাগিদ। এ রকম হলে একটা ছবি তীব্র তীক্ষ্ণ হয়ে বাজতে থাকে মনের মধ্যে। ছবিটাই তাকে বলে দেয় কোথায় যেতে হবে। এভাবেই সে একটি য়ুক্যালিপটাস বীথি এবং রাস্তার এপার ওপার জোড়া যুগল শিরীষকে পূর্ণিমা রাত্রের স্বপ্নে দেখে রিখিয়া এবং বহুদূর পর্যন্ত খোলা রোদ্দুরে খান খান লালমাটির চেহারা দেখে ডালটনগঞ্জ, তারপর কাচের জানলা থেকে অবাধ অপার নীলকণ্ঠ হিমালয়ান রেঞ্জ বিনোনো দেখে রাণীখেত ঘুরে এসেছে। দিবাস্বপ্নের দৃশ্যে তো রাতের স্বপ্নের মতো ছায়া থাকে না! কখনও কখনও এসব ছবি বাস্তব রোদের চোখ-ধাঁধানো ভ্যান গগ্‌, বাস্তব সর্ষে খেতের হলুদ ফুলঝুরি, বাস্তবনদীর বাঁকে বাঁকে টাল-সামলানো যতীন সেনগুপ্ত দৃষ্ট রূপ নিয়ে প্রচণ্ড ব্যথার মোচড় সমেত উপস্থিত হয়। এষা ছবিটাকে বুক থেকে কোলে নামিয়ে রাখে, আবার বুকে জড়িয়ে ধরে, তারপর টানটান হয়ে ট্রেনের তীব্র হুইসলে ছোট ছেলের কান্নার আওয়াজ শুনতে থাকে। সুদূরের জ্বর গায়ে ঠকঠক করে কাঁপতে কাঁপতে বলতে থাকে—কি করি বলো, এই মুহূর্তে আমার ছুটি নেই, বাড়ি করতে আমি সব টাকা ফুরিয়ে ফেলেছি, অথচ নিঠুরদরদী এক শৈলসানু তার গাভরা সোনালি গোধূম, পিঠে বেতের ঝোড়া নিয়ে লেপা পোঁছা মিঠে মুখের ভুটিয়া চা-তুলুনি এসব আমায় প্রবল বেগে টানছে। টানছে শৈশবে মায়ের টানের মতো, বসন্ত রাতের হাওয়ার মতো, প্রাণবঁধুর ডাকের মতো। আমাকে যেতেই হবে। নইলে পিকু নতুন গোলাপি পেয়ালায় নতুন রকমের সুগন্ধ-সোনালি চায়ের রোশনাই করবে আমি খেয়াল করব না। বাগানে হাঁটব অনাগ্রহে, ফুলেরা হয়ত সুপ্রভাত জানাবে, আমি আনমনা—শুনব না। ব্যথা পেয়ে নুয়ে পড়বে ডিসেম্বরের ডালিয়া, বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল, লিনটেলের ওপর ভোলা লতানে যুঁইয়ের মৃদু মধুর সুরপাত আমি গায়ে না মেখে নিষ্ঠুর উদাসীনতার খই ছড়াতে ছড়াতে চলে যাবো আমার শ্মশানে, ভেতরে, আরো ভেতরে। ওদের অভিমানের কোন মূল্য দেবো না। আমার অভিমানের মূল্যই যেন কেউ কোথাও দিয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্নান করতে কেটে যাবে, পিকু ডেকে ডেকে হয়রান হয়ে যাবে। যন্ত্রের মতো ওয়ার্ডরোব থেকে পিকুর সাজানো হ্যাঙারে জামাকাপড় নামিয়ে নেবো। মনে পড়বে না আমি যাচ্ছি না আসছি। পিকু বলবে—‘এ কি তুই খেলি না?’ যেন খাওয়া না-খাওয়াতে আর কিছু এসে যায়। ঘটা করে খাওয়া-দাওয়ার দিনগুলি তো সেই কবেই উৎসবরজনীর পর-প্রত্যূষে খিড়কি দুয়ারে এঁটো পাত ফেলবার সঙ্গে সঙ্গে চলে গেছে। এখন শুধু খিদে জানান দিলে খেয়ে নেওয়া। যা হাতের কাছে পাওয়া যায় তাই দিয়ে। রুটি-মাখন, আলুভাতে-ভাত, কাঁচা চীনেবাদাম-গুড় ছোলা যা হোক।

     

     

    এবারের ছবিটা ছিল এই খাদ্য-সম্পর্কিত। ইউনেসকোর অজন্তা অ্যালবামটা দেখতে দেখতে দু চোখ জুড়ে ঘুমপাড়ানি মাসি পিসি পিঁড়ি পাতলেন। একলা ঘরে বিষাদরূপিণী এক কৃষ্ণাকে দেখতে পেল এষা। ঘরে ছায়া শুধু ছায়া। সখীর হাতে মহার্ঘ খাদ্য-সম্ভার, চোখে অনুনয়। কি এক ব্যাখ্যাতীত বিষাদে স্তব্ধ, স্থাণু হয়ে রয়েছে কন্যা। ছবিটা বারবার তিনবার ধাক্কা দিয়ে দিয়ে ফিরে এলো। ভোরবেলা জানলা দিয়ে প্রজাপতি ঢুকে দক্ষিণের পর্দার ওপর থরথর করে কাঁপছিল, গান না-জানা কিম্বা গান-ভোলা পাখি বাইরের গাছের ডালে বসে ঘুমভাঙা গলায় ডাকছিল—টিকটিক, টুকটুক, টিকটিক, টুকটুক। আগের দিনের না-বাঁধা বাসি চুল কাঁধময় পিঠময়, হাঁটুর ওপর হাত জড়ানো,—পিকু অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে দেখে এষা বলল—‘আমি অজন্তা যাবো পিকু, অজন্তা দেখে আসি একবার।’

    পিকু বলল—‘এক্ষুণি নাকি? তো যা।’

    দেয়ালে চোখ। মৃদু হেসে এষা বলল—‘সেভাবে আমি গেছিতো। মনসা মথুরাম্‌। কিন্তু যুধিষ্ঠির যেভাবে স্বশরীরে স্বর্গে যেতে চেয়েছিলেন, তেমনি ভাবে যেতে চাই।’

     

     

    —‘পথে তোর সঙ্গীরা একের পর এক হত হতে থাকবে।’

    —‘হোক, পাছে হোস তাই তোকে নিচ্ছি না।’

    —‘সকুকুর যাবি?’

    বারান্দা থেকে মুখির ডাক ভেসে আসছিল কৌ কৌ কৌ। সেটা শুনেই বোধহয় পিকুর মাথায় কুকুরের কথাটা আরো এলো।

    এষা বলল—‘মুখিয়াটা নিতান্তই তোর। খুব ভালো করেই জানিস সেটা। তোকে উপহার দিয়েছি। তুই ওর বিষয়ে বড্ড এলোমেলো বলে মাঝে-মধ্যে ওকে চান-টানগুলো করিয়ে দিস। তার মানে এই নয় যে তোর মুখি আমার পেছু নেবে।’

    ‘কুকুর ছাড়া স্বর্গে যাওয়া যায় না জানিস না সেটা!’

    ‘সে তো পথের কুকুর! পেছন পেছন আসে বেশ দূরত্ব রেখে, গায়ে লেজ বুলোয় না, যেখানে সেখানে আইস-ক্রিম চাটার মতো চাটে না, ঘ্যান ঘ্যান তো করেই না কক্ষণো।’

     

     

    ‘তাছাড়াও নরক-দর্শনের হাঙ্গামাটা আছে।’

    ‘দ্যাখ পিকু, সারাজীবন ধরে যারা নানা ভাবে নরকদর্শন করেছে তাদের স্বর্গে যাবার জন্যে আরেকবার নরক দেখতে আপত্তি থাকার কথা নয়।’

    ‘দুর্যোধনদের সপার্ষদ সিংহাসনে বসে থাকতে দেখবি কিন্তু।’

    ‘এবার তুই সত্যিই ভাবালি। যাক গে ওসব। আমি যাচ্ছিই। বারো বছর বয়সে মাসি-মেসোর সঙ্গে গিয়েছি। খাঁ-খাঁ মাঠ দিয়ে কুলির মাথায় মোট, আমরা তিনজন ফর্দাপুরের ডাকবাংলোয় রাত কাটাতে চলেছি। মেসো বলছেন—“কত দফায় দফায় আবিষ্কার হল অজন্তা, তখন এখানে বাঘ-টাগ চরত বোধহয়। আর আমরা এক দিনেই সে জিনিস দেখে ফেলব।” এখনও আমার মনে আছে কি ভাবে বেঁকে গেছে বাগোড়া নদীর খাতটা! দ্যাখ বৎসরান্তে প্রসারপিনের কাছে সিরিসের ডাকের মতো অজন্তার ডাক আমার কাছে এসে পৌঁছেছে এই হেডিসে।’

    ‘ইস্‌স্‌। আমাদের এই “কুটিচক” বাড়িখানাকে তুই শেষ অব্দি হেডিস বললি?’

     

     

    ‘তুই যেন জানিস না বাড়িটাকে আমি হেডিস বলতে পারি না। ভেতরটা যখন এরকম জগদ্দল পাথরের মতো ভারি হয়ে ওঠে তখন আমায় সুখের স্বর্গে রাখলেও সেটাকে হেডিসই বলব। এই বিশ্রী মুডের পরাক্রান্ত হাত এড়িয়ে মুক্তির জন্য কত শিখর আরোহণ করতে পারি, অজন্তা তো উচ্চতার দিক দিয়ে কোন ছার। কিন্তু আমাকে স্থানান্তরে গেলেই চলবে না, মনে হচ্ছে অন্য মন, অন্য মেজাজে যেতে হবে।’

    পিকু বলল—‘দেখিস আবার।’

    বুকিং অফিস থেকে বেরিয়ে এষা সোজা চলে গেল এসপ্লানেড পোস্ট অফিস। তার করল একটা। ‘রীচিং কল্যাণ বাই গীতাঞ্জলি, সেভেনটিন্থ মার্চ।’ পশ্চিম উপকূল একেবারেই অচেনা। বোম্বাই ছাড়া। চেনা-শোনা কেউ নেই। লক্ষ্ণৌতে একা গিয়ে কি অশান্তিই হয়েছিল। লক্ষ্ণৌ শহরে যে অত মস্তানি জানা ছিল না। হিপি মেয়ে পাশেই ঘুরছে গায়ে শততালি পোশাক, কাঁধে রুকস্যাক, হাতে ক্যামেরা, তাকে কেউ বিরক্ত করছে না। কিন্তু শাড়ি-পরা ভারতীয় মেয়েদের একলা বেড়াবার ইচ্ছে হতে নেই। শিবাজির মাওলি সেনার বংশধররা এখন কি করে সময় কাটায় কে জানে। কল্যাণে যদি কাউকে না পাওয়া যায়? কানেকটিং ট্রেনে পুনে চলে যেতে হবে। পৌঁছতে কত রাত হবে কে জানে! রিটায়ারিং রুম কি আর নেই! রাতটা সেখানে কাটিয়ে সকালে খুঁজে বার করতে হবে ট্যুরিস্ট অফিস। ঔরঙ্গাবাদ হয়ে অজন্তা।

     

     

    অরিত্র চৌধুরীকে কেন টেলিগ্রাম করল জানে না এষা। অরিত্র চৌধুরী পৃথিবীর সেই শেষতম ব্যক্তিদের অন্যতম হওয়া উচিত যাকে এষা টেলিগ্রাম করতে পারে। অথচ কথাটা মনে হল টেলিগ্রামটা করে দেওয়ার পর। দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরল এষা। তাকে দিয়ে কে এটা করিয়ে নিল সে জানে না। গোটা জীবনটাই তো যা যা সহজভাবে করতে ইচ্ছে করে সে সব ইচ্ছের মুখে পাথর চাপা দেবার অভ্যাস গড়ে তোলার নিখুঁত প্রোগ্রেস রিপোর্ট। মাঝে মাঝে সেইসব গর্ভে-বিনষ্ট ইচ্ছারা এইভাবে শোধ নেয়। এষা বাইরে বেরিয়ে বাস-ডিপোর দিকে হাঁটতে হাঁটতে অনুভব করল মাঝে মাঝে এমনি হেরে যাওয়া স্বাস্থ্যকর। ছোট ঘোট হার। বড় বড় জিত।

    সেই দ্বিধাগ্রস্ত টেলিগ্রাম নতুন উড়তে-শেখা পাখির ছানার মতো দফায় দফায় গন্তব্যে পৌঁছল। এসেছিল অফিসের ঠিকানায়। অরিত্র এখনও অফিসে যোগ দেয়নি। তাই বিকেলবেলায় ঝড়ো স্কুটারে তার পি এ মণ্ডল এসে দিয়ে গেল। তখন টুকরো রোদের যৎসামান্য লনে বসে অরিত্র নীলমের সঙ্গে বৈকালী চা খাচ্ছিল। পেস্ট্রি করেছে আজ নীলম। চকোলেট-ক্রিম। একবাক্স নিয়ে গেছে পুপু। গোয়াতে এক্সকার্শনে গেল বন্ধুদের সঙ্গে। ট্রেনে খাবে। টেলিগ্রামটা টেবিলের ওপর রেখে পায়ে পা ঠুকে মিলিটারি কায়দায় স্যালুট করল মণ্ডল, বলল—‘একটুও বসতে পারছি না ভাবী। পেস্ট্রি রিজার্ভড রইল ফর সাম আদার টাইম। আশা করি ভুলবেন না।’

     

     

    নীলম হেসে বলল—‘তোমাকে কি আরও টেলিগ্রাম বিলি করতে হবে? তোমার বস বসে গিয়ে কি তোমার ডিমোশন হল নাকি?’

    মণ্ডল বলল—‘সুইট আর দা ইউসেস অফ ডিমোশন, যদি প্রত্যেকের বাড়িতে ঠিক বিকেলের টিফিনের সময় গিয়ে উপস্থিত হতে পারি। কিন্তু তা নয় ভাবী। বাড়িতে আজ শ্বশুরবাড়ির গেস্ট আসার কথা, দেরি হলে হাড় কখানা আস্ত থাকবে না।’

    —‘শুধু শুধু বউয়ের বদনাম করছ? শীগগির পালাও।’ পেছন ফিরে এক লাফে স্কুটার চড়ল মণ্ডল। মুহূর্তে ধুলোর ঝড় দূরে মিলিয়ে গেল। এ বাড়িতে ওর আদর খুব। শুধু ওরই বা কেন? নীলম ভাবী বিরাট একটি লক্ষ্মণ-দলের মধ্যমণি। অরিত্রর চেয়েও নীলমের প্রভাব সেখানে কার্যকরী বেশি। নীলমের একটা মস্ত গুণ সে জাত-বিচার করে না। পি এ এবং চীফ এঞ্জিনিয়ার তার কাছে এক খাতির পায়, মানুষ হিসেবে যদি তাকে আকৃষ্ট করতে পারে। কোনও শিল্পাঞ্চলেই এই মনোভাব সুলভ নয়। অবশ্য পুনের শিল্পাঞ্চলগুলো এবং তাদের কর্মীরা আরও অনেক ছড়িয়ে ছিটিয়ে বাস করেন। ঠিক একটা—টাটানগর কি আই আই টি কলোনি গড়ে ওঠার এখানে সুযোগ পায়নি। বৃহৎ মেট্রোপলিসের কিছু কিছু গুণ তাই তার আয়ত্ত হয়েছে। না হলে নীলমের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিকতা মার খেতো কি না বলা শক্ত।

     

     

    প্রিয়লকরনগর তৈরি হচ্ছে আনকোরা নতুন। চারদিকে সাদা ধুলো। এ ধুলোয় ধুলোয় ধূসর হবার ধুলো। মলিন হয় না কিছু। দুদিকে লম্বা লম্বা গাছ একটু এগিয়ে গেলেই। গুল্মও আছে প্রচুর বিল্ডিং ব্লকগুলোকে ঘিরে ঘিরে। এখন উঁচু বেড়া দেওয়া। মণ্ডল চোখের বাইরে চলে গেল, গাছের মধ্যে বিন্দু হয়ে। নীলম বলল—‘দ্যাখো দ্যাখো ও বাড়ির খবর সব ভালো তো? ও কি? কি হল? অরিত্র পাহাড়ি বিছের মতো টেলিগ্রামটা হাত থেকে ফেলে দিয়েছে।—‘এষা আসছে, সতেরই মার্চ। গীতাঞ্জলি।’

    নীলমের মুখ অরিত্রর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পাংশু হচ্ছে। কোনও কথা বলতে পারছে না। একটু পরে আধ-খাওয়া চায়ের কাপ ফেলে উঠে চলে গেল। অরি নিজের কাপটা নিয়ে বসে রইল কিছুক্ষণ। তার প্রতিক্রিয়া কেন এমন হল? নীলমের যাই হোক। এ টেলিগ্রাম কি একেবারেই অপ্রত্যাশিত? অফিসের সবুজ গোলাপি অ্যাক্রিলিক পেন্ট করা, হালকা সবুজ টালিছাওয়া মেঝের ওপর, রিভলভিং চেয়ারে বসে দিনের পর দিন যে চিঠি পাঠিয়েছে তার মর্মার্থ হল: এষা, তুমি এসো। তুমি একবার এসে দেখে যাও। অপ্রেমে বা প্রেমে নয়, নিখিলের বৃক্ষ নিজ বিকাশে নীরব থাকে। সেই নীরবে বিকশিত হওয়া বৃক্ষ তার পত্রং, পুষ্পম, তার মাথায় সবুজ আশ্রয়ের ঘেরাটোপ, বিশ্বাস করো। এসো এষা। ভস্ম-অপমানশয্যা তোমাকে মানায় না। তবে কেন এষা টেলিগ্রাম করবে না! তবে কি অরিত্র মিথ্যাবাদী! চিরটাকাল এষার কাছে তার মিথ্যাবাদী হওয়ার নিয়তি! অথচ আর আর সম্পর্কগুলো দম দেওয়া ওয়াল-ক্লকের মতো ঠিক ঠাক, ঠিক ঠাক চলছে তো! শুদ্ধু একজনের সঙ্গে তার মিথ্যার সম্পর্ক? যা বলে তা বলতে চায় না! এষা এলে কি অরি তবে তাকে বলবে?—‘তুমি কেন এলে এষা?’ এষা বলবে—‘সে কি তুমি যে আসতে বলেছিলে?’

     

     

    অরি কি তখন কবুল করবে?—‘আই ডিড্‌ন্‌ট্‌ মীন ইট।’

    নাকি এষার সঙ্গে সম্পর্ক যার সে এই অরিত্রর ভেতরে এক অন্য আধো-চেনা অরিত্র। সে নিজেই তাকে সব সময়ে বুঝে উঠতে পারে না। শুকনো মুখে অরিত্র উঠে দাঁড়াল। ঈষৎ পা টেনে টেনে ভেতরে গেল। নীলম বসবার ঘরের ডিভানের ওপর বসে, তার মাথার কাছে আনজুনার নারকোল গাছ আর উচ্ছল সমুদ্র। ভগ্ন কোণাচে তটরেখা। দেয়াল ভর্তি পোস্টারে কিছু হিপিও ভাঙা ভাঙা রেখায় দেখা যায়। আনজুনা বেলাভূমির রোমান্টিক হর্ষের তলায় নীলমের বিষাদ একদম রক্তমাংসের, বাস্তব। সাবয়ব।

    অরিত্র বলল—‘কি হল?’

    নীলম উত্তর দিল না।

    অনেকক্ষণ পরও অরিত্রকে একইরকম শুকনো করুণ মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল—‘কবে আসতে লিখলে? অপারেশনের পর জ্ঞান-হওয়া মাত্রই? মণ্ডলকেই ডিকটেট করলে, না কি? তোমার বশংবদ পার্সন্যাল অ্যাসিস্‌ট্যান্ট?’

     

     

    আকাশ থেকে পড়ল অরিত্র—‘আমি কেন লিখব?’

    ‘মৃত্যুর কথা মনে হলে প্রিয়জনের কথা মনে হতেই পারে।’

    অরিত্র গম্ভীর হয়ে বলল—‘নীলম, আমি এষাকে আসতে লিখিনি। ক্যাজুয়্যালি লিখেছি কখনও কখনও, অবশ্য। কিন্তু এখন এই কদিনের মধ্যে তা-ও না। চিঠি দিই মাঝে মধ্যে। সেগুলো তুমি ইচ্ছে করলেই পড়তে পারো। ও কেন আসতে চাইছে আমি জানি না। তোমার যদি খুব খারাপ লাগে, তাহলে বরং আমাদের অক্ষমতা জানিয়ে আমি পাল্টা টেলিগ্রাম করে দিচ্ছি।’

    ‘থাক।’ নীলম সংক্ষিপ্ত জবাব দিয়ে, উঠে চলে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবৃত্তের বাইরে – বাণী বসু
    Next Article দিদিমাসির জিন – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }