Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চম পুরুষ – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প242 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পঞ্চম পুরুষ – ৬

    ৬

    ফোন বাজছে ঝিঁঝির শব্দে। দুপুরের প্রহরা অনেকক্ষণ শেষ হয়ে গেছে। কাজকর্ম শেষ, খাওয়া-দাওয়া শেষ। খাবার হজম শেষ। ঢুলু ঢুলু চোখে গজল শোনা শেষ। অরিত্র অফিসে। পুপু কলেজে। রোজকার মতো। ঠিক রোজকার মতো। তিনমাস আগেকার মতো। বাড়ি ছন্দে ফিরে এসেছে। তাল কেটে গিয়েছিল, এখন আবার বিলম্বিত একতাল। কী শান্তি! নীলম ব্লাউস কাটছে। টেবিলের ওপর কাঁচি, ফিতে, দর্জির চক খড়ি। ঘোর চকোলেট রং-এর ব্লাউস। পিঠে, হাতায় স্ক্যালপ থাকবে। ইস্ত্রিটা ঈষৎ গরম, সামনে প্রস্তুত। না হলে স্ক্যালপ ভালো হবে না। ফোন বাজছে।

    ‘থানে থেকে করছি। হঠাৎ টেলিগ্রামে তলব কেন?’

    নীলম সাবধানে বলল—‘এমনি, দুটো দিন কাটিয়ে যাও না।’

    ‘কোথায়? তোমাদের বাড়িতে?

    ‘আমাদের কুঁড়েঘরে আর জায়গা কোথায়? আহা, নিজের আস্তানা যেন নেই।’

    ‘কুঁড়েঘরে তো থাকতে না ভাবী। কোনকাল থেকে বলছি, ‘সুপার সীল’-এর হাতে ছেড়ে দাও। রাজপ্রাসাদ বানিয়ে ছেড়ে দেবো। পেয়েব্‌ল হোয়েনেব্‌ল। পে করারই দরকার হত না। চৌধুরী সাবের ইগো-স্যাটিসফ্যাকশনের জন্যেই⋯।’

    ‘তুমি আমাদের নিজের খরচায় রাজপ্রাসাদ বানিয়ে দেবে, তারপর ইনকাম ট্যাক্স ধরলে কি বলবো?’

    ‘আরে ভাবী! চৌধুরী সাব একটা অতবড় মালটিন্যাশন্যালের পি আর ও। তার ব্যাকগ্রাউন্ডে কত বাড়ি জমি-জমা সম্পত্তি থাকতে পারে। সেসবের খোঁজ কি তুমি রাখো? ওসব পেটি ব্যাপার সীলের হাতে ছেড়ে দেবে। তা কি ব্যাপার বলো!’

    ‘এমনি ইচ্ছে হতে নেই? অরি সেরে উঠল একটা অতবড় অ্যাকসিডেন্ট থেকে। সেলিব্রেট করাও তো দরকার!’

    ‘অরি চৌধুরী সেরে উঠলে সেলিব্রেট করতে আমাকে ডাকছে নাকি আজকাল! নিউজ অফ দি ইয়ার!’

    ‘এসো না প্লীজ। ভাবছি কটা দিন ছুটি নিয়ে সবাই মহাবলেশ্বর কি মাথেরন ঘুরে আসব। কিংবা গোয়া।’

     

     

    ‘মাথেরন যেতে হলে, তোমারাই এখানে চলে এস। আর মাথেরন, গোয়া, মহাবলেশ্বর, মুডের মিল পাচ্ছি না তো ম্যাডাম। দুটো পাহাড় আর একটা সমুদ্র, একটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা চলছে মনে হচ্ছে যেন।’

    ‘হোক গে মনে, যা মন চাইবে, তাই করব।’

    ‘আপাতত কি মন আমাকে চাইছে?’ গলার স্বর গাঢ়।

    নীলম বলল—‘তাই তো তাই। তোমার সঙ্গে তো আর কথায় পারব না।’ বিক্রমের পেছনে নীলম, হু-হু হাওয়ায় শূন্যে উড়ছে স্কুটার। বাজার তো প্রতিদিন আছেই ভাবী। চলো আমরা আনন্দ বাজার করি আজ।

    ‘বিশে মার্চের ডেট লাইন কেন?’

    ‘বহুদিন বাদে আমাদের এক পুরনো বান্ধবী আসছে, অনেকদিন পর। সকলে মিলে খুব হই-চই করা যাবে।’

    ‘বান্ধবী কি সখী আঁধারে একেলা ঘরে?’

     

     

    ‘তাই তো মনে হচ্ছে। চলে এসো সীমাকে নিয়ে।’

    ‘আমি সীমাকে নিয়ে গেলে তোমাদের ‘একাকিনী’র জুড়ি মিলবে কি করে?’

    ‘মিলবে। মিলবে। ওসব তোমাকে ভাবতে হবে না। খালি এসে আমাকে’—নীলমের মুখ দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল—‘বাঁচাও’, সাধু করে বলল—‘উদ্ধার করো।’

    ‘দেখা যাক, আসতে পারি কি না।’

    ‘আহা ভারি তো ব্যবসা। যে কোনও ডামির হাতে কদিনের জন্যে তাস ফেলে এলে আর ক কৌটো ব্ল্যাক মানি কম হবে?’

    ‘খবর্দার ভাবী, ব্ল্যাক মানি তুলে খোঁটা দিলে যাচ্ছি না।’

    ‘আচ্ছা, আচ্ছা। তুষারশুভ্র তোমার টাকা। হলো তো? রাখছি এখন।’

     

     

    ‘আহা। আহা। আর একটু কথা বললে কি অশুদ্ধ হয়ে যাবে? গলাটা যে তেমনি আছে। তেমনি পাখির শিসের মতো। শুনি একটু। আহ্ রোমাঞ্চ হচ্ছে।’

    নীলম ফোনটা রেখে দিল। কপালে ঘাম ফুটছে। গলাটা যে তেমনি আছে। বিক্রম সুদ্ধু তাহলে জানিয়ে দিচ্ছে আজ নীলমকে ঘিরে কত পরিবর্তন। গলাটাই শুধু তেমনি আছে। পুরনো নীলম নেই। কিচ্ছু অবশিষ্ট নেই। আকৃতিতে, প্রকৃতিতে। তা-ই যদি না থাকবে, তাহলে বিক্রমের ফোন ধরতে অত কেন হাত কাঁপছিল? ভয়ে? গোপনে কিছু করবার ভয়ে? এখনও? না রোমাঞ্চে? বিক্রমের কণ্ঠ শুনলে, বিক্রমকে মানসচোখে দেখলেই স্মৃতিতে দুধ উথলোয়। ভীষণ, প্রবল, শক্তিমান, আকাঙক্ষাময় এক পুরুষ, দৃঢ়, মাংসল ঠোঁট, ভীষণ রকমের বাঙ্ময়, তার গানও গান নয়, সে-ও এক মাংসল আকাঙক্ষার প্রকাশ।

    “লুৎফ্‌ উসকে বদনকা কুছ নহ্‌ পুছো,

    কেয়া জানীয়ে, জান হ্যায়, কেহ, তন হ্যায়”—ওই তনুর স্পর্শে কী যে বর্ণনাতীত সুখ: সেকি প্রাণের? সে কি দেহের?

     

     

    একটা মেয়ের মধ্যে কতগুলো মেয়ে বাস করে? ম্যাজিশিয়ানের টুপির মধ্যে থেকে খরগোশের মতো, কিংবা হাতের ফাঁক থেকে সাদা সাদা লক্কা পায়রার মতো ভিন্ন ভিন্ন ইঙ্গিতে তাদের আবির্ভাব! অরিত্র সকালে বিকেলে এক নীলমকে পায়। বিক্রমের ফোনে যে সাড়া দেয় সে সর্বৈব ভিন্ন নীলম। পুপু কাকে মা ডাকে? এষার আসার সম্ভাবনায় কোন নীলম বেরিয়ে এসেছে? মহানামই বা সেদিন মাঝরাত্তিরে কোন নীলমকে ডাক দিয়ে গেলেন? এছাড়াও আছে বিজয়া-সম্মিলনী কমিটির প্রেসিডেন্ট নীলম যোশী চৌধুরী। মণ্ডল, শা, বিজয়স্বামী আয়েঙ্গার, নন্দন খাদেলকরদের নীলম ভাবী। নীলম হঠাৎ উঠে আয়নার সামনে চলে গেল। এই বাড়িতে ফার্নিচার সবই মালটি-পারপাস, ড্রেসিং টেবল বলতে কিছু নেই। অরির শোবার ঘরে একটা লম্বা আয়না আছে। পুপুর ঘরে গোল আয়না। পাশের টেবিলের ড্রয়ারে কিছু নিত্যব্যবহার্য প্রসাধান দ্রব্য থাকে। বাকি সব পুপুর খাটবাক্সে। আয়নাটাই এ বাড়িতে একমাত্র জিনিস যেটা নীলম খুব যত্ন নিয়ে পরিষ্কার করে না। এই লম্বা আয়নাটা। একটা লেসের ঢাকনা দিয়ে ঢাকাও থাকে। মহানামই বলতেন—অবিকল জেন মরিস। এরকম মিল আমি আর দেখিনি। জেন মরিস ছিলেন দান্তে গেব্রিয়েলের বন্ধুপত্নী এবং তাঁর স্ত্রীর মতোই তাঁর অনেক ছবির মডেল। মিসেস রসেটি কি সুন্দর অল্প বয়সেই মারা যান, নীলমও কেন অল্প বয়সে মারা গেল না! অল্প বয়সে মারা গেলে সে মেয়ে চিরকাল রোমাঞ্চ, ভালোবাসা, আকাঙক্ষার পাত্রী হয়ে থাকে। তার খুব আশা ছিল অপারেশন টেবিলেই সে শেষ হয়ে যাবে। শরীরে রক্ত ছিল না। রক্তও খুব বিরল গ্রুপের, বোতল বোতল লেগেছিল। দুটো টেবিল বোঝাই হয়ে গেছিল রক্তের আর স্যালাইনের খালি বোতলে। অর্ধচেতনার মধ্যে খালি ভেসে থাকত পুপুর মুখটা। পুপুর তাহলে কি হবে , প্রত্যেক মায়ের ইচ্ছামৃত্যুর সামনে কি এই একটা পুতুলের বাধা থাকবেই? পুপু! পুপে! তুই কেন এলি? তুই কার? তুই কি আমার অপরাধ? অথচ তুই-ই যেন আমার সমস্ত অপরাধের ক্ষমা। কে বলেছে ক্ষমা নেই। সেই যে অরিত্র পড়ে শোনাত কে এক কবি বলছেন—‘অথচ ক্ষমাই আছে। ক্ষমাই আছে। কোনখানে তার কোনও খেদ জমা নেই।’ পুপুকে বুকে করে তেমন দীনভাবে ক্ষমা চাইতে পারলে কি বিধাতাপুরুষ ক্ষমা করবেন না? মানুষ ফিরিয়ে দেয়, ‘ক্ষমিতে পারিলাম না’ বলে আক্ষেপ করে, ঈশ্বর ক্ষমা করেন। হে পিতা, ইহারা জানে না কি করিতেছে, ইহাদের ক্ষমা করো। না, না। নীলম নিজে নিজেই হঠাৎ চমকে উঠল। মানুষই ক্ষমা করে বরং। ঈশ্বর করেন না। যে যৌবন নিয়ে অমন খেলা খেলেছিল, সে যৌবন তো মানুষ কাড়েনি। কেড়ে নিয়েছেন তিনিই। মানুষকে কতকগুলো অমূল্য সম্পদ দিয়ে তিনি পাঠান। স্বাস্থ্য, সৌন্দর্য, বুদ্ধি, প্রতিভা। পাঠিয়ে দিয়ে নিজে দীর্ঘ প্রবাসে চলে যান। পরিচালনা করবার জন্য, পরামর্শ দেবার জন্য বসে থাকেন না। একদিন হঠাৎ এসে শুধু হিসেবটা বুঝে নেবেন। নীলম যোশী, তোমার সম্পদ নিয়ে তুমি কি করেছ? নীলম কি তার কুঞ্চিত কেশকলাপ যাতে প্রকৃতি ভেতরে ভেতরে গুঁড়ি গুঁড়ি পাউডার মাখাচ্ছে। এই গুলবাহার ত্বক যা প্রতিমুহূর্তে অতিপ্রসারে ফেটে যাবে বলে মনে হয়, এই চল্লিশ আটত্রিশ আটচল্লিশ ভাইট্যাল স্ট্যটিসটিক্‌স্ নিয়ে তাঁর সামনে দাঁড়াতে পারবে? বলতে পারবে?—হে প্রভু, দেখো তোমার দেওয়া সম্পদ নিয়ে আমি এই করেছি। না না। তার চেয়ে ভালো নিজেকে পেছনে রেখে পুপুকে এগিয়ে দেওয়া। যশোধরা যেমন রাহুলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। কৃষ্ণবর্ণ, বিশালচক্ষু, নতনাসিক, জিজ্ঞাসু অথচ স্থির ওই নচিকেতাস্বভাব মেয়ে। ওকে এগিয়ে দিয়ে নীলম বলবে—এই যে এই করেছি।—আপনি যা দিয়ে ছিলেন বিধাতা। দেখুন তো, তা বহুগুণে বেড়েছে কি না? তখন যদি পুপু তার সার্ত্র, ইয়েট্‌স, উপনিষদসংগ্রহ, গোরা এবং রিলিজন অফ ম্যান নিয়ে দাঁড়ায়, হাতে লম্বা টি-স্কেল, বিধাতাপুরুষ কি জিজ্ঞাসা করবেন না—কই নীলম, তোমাকে যা দিয়েছিলুম তা তো সুদসুদ্ধু বাড়েনি, তুমি তো অন্যের সম্পদবৃদ্ধির হিসেব আমাকে দিতে এসেছ! বিশ্বসুদ্ধ লোক বলে—পুপ তার বাবা-মার কিচ্ছু পায়নি। ওর বাবার মনোহারী চঞ্চলতা, ওর মায়ের ভুবনশ্রী রূপ, কিচ্ছু না। ও অন্যরকম। খালি দশ মাস গর্ভে ধারণ করার যন্ত্রণা, জন্ম দেওয়ার কষ্টটুকু নীলমের পরিপূর্ণ জানা।

     

     

    ড্রয়ার খুলে নীলম চিরুনি, ব্রাশ বার করল। চুল আঁচড়াচ্ছে। জট ছাড়িয়ে এবার ব্রাশ করছে। যতই ব্রাশ করছে ততই ফুলে উঠছে, ফুলে ফুলে উঠছে অবিকল জোয়ারের নদীর মতো। ছড়িয়ে যাচ্ছে, বুঝি মহাকালীর কেশরাশি। একেবারে বেলুনের ওপরকার মতো টানটান, তেলতেল চামড়া। কোনও পাউডার, কোনও মেক-আপ লাগে না, সব ঝরে ঝরে পড়ে যায়। তৈলাক্ত সেই গোগালাপী মুখের স্থূল কিন্তু ঢেউতোলা ওষ্ঠাধরে গাঢ় করে লিপস্টিক মাখছে। নীলম। খুব যত্নে। এমন টকটকে লাল যে তার পেছনে দাঁতগুলো যেন তাদের শুভ্রতার মর্যাদা হারিয়ে ফেলছে। আই লাইনার, ম্যাসকারা, আই শ্যাডো গোল্ডেন গ্রে। হাউসকোট ছেড়ে নীলম ঘোর লাল রঙের ঢাকাই যা বিক্রম বাংলাদেশ থেকে ১৫২৬ ৲ দাম দিয়ে কিনে এনে দিয়েছিল দশ বছর আগে সেই শাড়ি পরল। বিক্রম বলত খুনখারাপি রং ভাবী, সব লাল হো যায়গা। কোমরে রুপোর চাবি, হাতময় সরু সরু সোনার চুড়ি, গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছে মোহরের হার, কণ্ঠে চিকচিকে কণ্ঠী, কানে পেখম ধরা ময়ূর। অরিত্র চৌধুরীর ব্যাঙ্ক ব্যালান্সের অনেকটাই এখন নীলমের হাতে গলায়। আয়নাটা খবরের কাগজের টুকরো ভিজিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করল নীলম। একি! এ কে! দেবীরা তো মানুষের আয়তন হন না! সাধারণ মানবীর চেয়ে অনেক বড় হয় দেবীপ্রতিমা। দুর্গা, লক্ষ্মী, জগদ্ধাত্রী। কে কবে বলেছে সৌন্দর্যের মাপকাঠি এই ওই। নীলম যোশী চৌধুরী তুই দুঃখ করিস না। মেনে নিবি না কখনো কারো সিদ্ধান্ত। নিজে পরীক্ষা করে দেখ। এখনও ইচ্ছে করলে তুই বিশ্ব জয় করতে পারিস। অরিত্র জয় করতে পারিস, মহানাম জয় করতে পারিস, বিক্রম জয় তো একেবারেই হাতের পাঁচ।

     

     

    কোন জয়টা যে আশু প্রয়োজন, কোনটা যে অত্যন্ত জরুরি অনেক ভেবেও নীলম ঠিক করতে পারল না। এক বিভোর দিবাস্বপ্নে তার সারা দুপুর বেহুঁশ হয়ে কেটে গেল। কখনও সে শুম্ভ-নিশুম্ভের যুদ্ধ দেখে ঠোঁটের ওপর বিচিত্র হাসি ফুটিয়ে, কখনও ট্রয়ের প্রাসাদের ওপর থেকে আকিল্লীসের শৌর্য দেখে, হেক্টরের শৌর্য দেখে, আর ভাবে এ সবই আমার জন্য। আবার কখনও কুরু-পাণ্ডব সেনার মাঝখান দিয়ে গরবিণী হেঁটে যায়। কুরু-পাণ্ডবের মধ্যে কে যে অরিত্র আর কে যে মহানাম সে স্থির করতে পারে না কিছুতেই। খালি কানে জয়ধ্বনি ভেসে আসে দূর দূরান্তর থেকে। কিংবা বহু পুরুষের কান্না তাকে চেয়ে। গর্জন কিম্বা কান্না দুটোই তার দিবাস্বপ্ন তৈরি করে, অথচ তার মন দুটোকেই প্রত্যাখ্যান করে। কিছুতেই যেন সে তার বাঞ্ছিত প্রতিক্রিয়াটি পুরুষমানসে তৈরি করতে পারছে না, পারছে না। না পেরে ক্লান্ত হয়ে সে শুয়ে পড়ে, ভাবে ক্লিওপেট্রার সেই ক্ষুদ্রকায় বিষধরকেই সে অবশেষে বরণ করবে কি না।

    বিকেলের সামান্য পরে গোধূলি লগ্নে, বাড়ি ফিরে তাকে এইভাবেই ঘুমন্ত দেখল অরিত্র। বাইরের দরজা খোলা। ভেজানো ছিল। একটু ঠেলা দিতেই খুলে গেল। অবাক হয়ে অরি ভেতরে ঢুকে দাঁড়িয়ে ছিল খানিকটা। নীলম কি দরজা খুলে রেখে পেছনের দিকে গেছে কোনও কাজে! যত অল্প সময়ের জন্যই হোক এরকম করা ঠিক নয়। অরি না হয়ে অন্য কেউও তো এ সময়ে ঢুকে পড়তে পারত। শম্ভাজী রাতে ডিউটি দেয়। আর একটু পর থেকে শুরু হবে তার পাহারার ঘণ্টা। এখন বাইরের গেট অরক্ষিত। খানিকটা অপেক্ষা করে অবশেষে দরজা বন্ধ করে দিল অরি। জুতো খুলল রয়ে বসে, তারপর অনেক দিনের অনভ্যাসের টনটনে পা নিয়ে নিজের ঘরে ঢুকল। ঢুকেই ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। এইভাবে নীলম সেজেগুজে শোয়া! চুল ছড়িয়ে রয়েছে বালিশে। পরনে ঢাকাই শাড়ি, কপালে সিঁদুর। এয়োতি নারী যেন সেজেগুজে চলে যাচ্ছে। চিতায় ওঠবার আগে এই। ইচ্ছামৃত্যু। নীলমের মনে এই ছিল? অরিত্রর গলা দিয়ে স্বর ফুটছে না। ডাক্তারকে ডাকবে বলে ফোন তুলল। রেখে দিল। বিশুষ্ক গলা। তারপর প্রাণপণে সাহস সঞ্চয় করে হাত রাখল নীলমের কপালে। জীবন্ত কপাল, উষ্ণ, মধুর, মমতাময়, মৃত্যুর সুদূরতা, মৃত্যুর বৈরাগ্য তো নেই! ‘নীলম! নীলম।’

     

     

    ভীষণ চমকে দুহাতে চোখ কচলে উঠে বসল নীলম। অরিত্রকে সামনে দেখে অবাক হয়ে বলল—‘তুমি এভাবে দাঁড়িয়ে?’

    অরিত্র বলল—‘বা রে, আমিই তো তোমাকে ওই প্রশ্ন করব। কি ব্যাপার? এভাবে শুয়ে?’

    নীলম অবাক বিহ্বল চোখে নিজের শাড়ি দেখল, চুড়ি দেখল, চোখের কাজল সামান্য ধেবড়ে হাতে লেগেছে দেখল হাত ঘুরিয়ে, যেন সে স্বপ্নে সেজেছিল, বলল—‘অরি, আমি সুখস্বপ্ন দেখছিলুম, যেন আমাদের হিন্দু ম্যারেজ হচ্ছে, আগুন জ্বেলে, সপ্তপদীর আলপনা এঁকে, তুমি বরবেশে এসেছ। কলকাদার জোড়, নকশি শাল, কপালে চন্দন।’

    রেজিস্ট্রি করে বিয়ে হয়েছিল ওদের। অনুষ্ঠান-অলঙ্কারপ্রিয় কল্পনাপ্রবণ নীলম যোশীর সারা জীবনের দুঃখ যে এটা।

    অরিত্র তাই মমতাস্নিগ্ধ গলায় বলল—‘নীলম, তোমাকে যে কি সুন্দর দেখাচ্ছে তুমি কল্পনাও করতে পারবে না। ঠিক বিয়ের কনেরই মতো। বাস্তবিক। দাও আমাকে চা-টা দাও।’

     

     

    নীলম ঠিক তেমনভাবে বসে রইল, যেমন ভাবে বসেছিল। ঘুমভাঙা চোখে। সাজসজ্জার ছটা নিয়ে। আয়নায় পার্শ্বমুখের ছায়া পড়েছে। খাজুরাহোর কোনও কিন্নরী মূর্তি। ভারতবর্ষে এক মহেঞ্জোদভোর যুগেই তন্বীতা নারীশরীরের গুণ বলে বিবেচিত হত। ব্রোঞ্জের নটীমূর্তিটিকে যদি প্রামাণ্য বলে ধরা হয়। তারপর তো সবই শ্রোণিভারাদলসগমনা, পর্যাপ্তপুষ্পস্তবকাবনাম্রা। রূপসীর আদর্শ তো এদেশে একটু পৃথুলাই। নীলম দেখতে দেখতে সমস্ত ভুলে যাচ্ছে। এতদিনের যত দুঃখ, যত ভয়, যত পাপবোধ। পশ্চিমের জানলা দিয়ে হু হু করে গোধূলি ঢুকছে। সব ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারপর হঠাৎ সামনে বসা অরির চোখের চশমায় তার ছায়া পড়েছে দেখতে পেল নীলম। অরি কেমন করে গোধূলি লগ্নের আহ্বান শুনতে পারে! তারা মেঘে ঢেকেছে, অরির চশমা পাল্টে গেছে, খুবই সহজে তাই বিদায় জানায়। জনমের মতো হায়, হয়ে গেল হারা। ডাক শুনতে ভুলে গেছে অরিত্র চৌধুরী। এই সমস্ত বাসকসজ্জা একটা মায়া, একটা করুণা, গোধূলি ভর্তি ঘর ছেড়ে অরিত্র বাইরে চলে যাচ্ছে। ঠোঁটে জ্বলন্ত সিগারেট।

    ‘নীলম, চা দাও, চা আনো, পটভর্তি করে আনো, ভীষণ তেষ্টা পেয়েছে, ভীষণ।’

    ভয়মুক্তির সোয়াস্তিতে শুকিয়ে যাওয়া গলায় পানীয় ঢালতে অরিত্র নীলমকে ভীষণ তাড়া দিতে থাকে। নীলম বুঝতে পারে ট্রয়ের প্রাসাদে হেলেনের স্বেচ্ছাবিহার মেনে নিয়ে বিপুলসংখ্যায় ফিরে যাচ্ছে গ্রীক সেনা। ফিরে যাচ্ছে আগামেমনন, ফিরে যাচ্ছে ইউলিসিস, মেনেলাউস। এলফিনস্টোন রোড দিয়ে হোলকার ব্রিজ পেরিয়ে ডেকান কলেজ পেরিয়ে আহ্‌মদনগর রোড ধরবে, চলে যাবে আহ্‌মদনগর কিংবা লোহাগাঁওয়ের দিকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবৃত্তের বাইরে – বাণী বসু
    Next Article দিদিমাসির জিন – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }