Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চাশটি গল্প – বিমল কর

    বিমল কর এক পাতা গল্প1346 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    জানোয়ার

    এস বি সোম। লোকে বলে শুয়ারের বাচ্চা সোম। পুরো নামটা কিন্তু সুধীবন্ধু সোম। সোম নিজে এবং তার স্ত্রী অতসী ছাড়া এই নামটা আর কেউ জানে বলে মনে হয় না।

    অথচ জানা উচিত ছিল। সোনাপুর অ্যালুমিনিয়াম কর্পোরেশনে চারটে বছর সোমের কেটে গেল। তার আগে ছিল পুলিশে। এফিশিয়েন্সি যেভাবে দেখাচ্ছিল তাতে উন্নতি হচ্ছিল, ভবিষ্যতে আরও উন্নতি অবধারিত ছিল। কিন্তু সোমের ওই আস্তে আস্তে সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে উঁচুতে ওঠার ধৈর্য ছিল না। তা ছাড়া অল্প দিনেই যে রকম সুনাম করেছিল সোম তা সোনাপুর অ্যালুমিনিয়াম কপোরেশনের খোদ তাদের পর্যন্ত কানে গিয়েছিল। ভেতরে ভেতরে একটা ব্যবস্থা হল। সোম এল সোনাপুরে। প্রথম বছরটা অ্যাসিসটেন্ট; তার পরেই একেবারে সুপারিন্টেন্ডেন্ট ডবলু অ্যান্ড ডবলু—। ওয়াচ অ্যান্ড ওয়ার্ডের হর্তাকর্তা বিধাতা। বারোশোর গ্রেড। অফিসার্স বাংলো, ইলেকট্রিসিটি, মালি আর জমাদার ফ্রি। কোম্পানির গাড়ি আর পেট্রল। চল্লিশেই সোম এতোটা এগিয়ে এল। ভবিষ্যৎ তো পড়ে আছে সামনে। সোমের স্বপ্ন বারশোকে সে হাজার দুইয়ে অন্তত তুলবে। সোনাপুর অ্যালুমিনিয়াম কর্পোরেশনের ওয়াচ অ্যান্ড ওয়ার্ডের সোয়াশো ওয়াচম্যান, তিরিশজন আর্মড্‌ গুর্খা আর জনাচারেক জুনিয়ার যে কোম্পানি ফালতু পুষছে না—এই কাজের কথাটা ডিরেক্টরস বোর্ডকে আরও একটু ভাল করে বুঝিয়ে দিতে হবে।

    সোনাপুরে আসার পর থেকেই সোম অবশ্য সব সময় এটা বোঝাবার চেষ্টা করেছে। কথায় নয় কাজে। আর তার ফলেই সুধীবন্ধু সোম—এস বি সোম সোনাপুরের লোকের কাছে শুয়ারের বাচ্চা সোমে দাঁড়িয়েছে।

    সোনাপুরের যারা লেবারারস্—মজুর, মিস্ত্রি, ফিটার, ফোরম্যান-টোরম্যান মায় কেরানী বাবুটাবু, তাদের চোখ নেই। থাকলে সোমকে অন্য নামেও ডাকতে পারত। সোমকে দেখতে সত্যিই আর শুয়ারের বাচ্চার মতন নয়। বরং উল্টো। বেশ সুপুরুষ চেহারা। তা ছ’ ফুটের কাছাকাছি লম্বা, পেটানো শরীর, গায়ের হাড়গুলো যেমন চওড়া তেমনি কঠিন, রঙ আধ-ফরসা, চুল সামান্যই কিন্তু লালচে রঙ-ধরা। ঘাড়ের বাঁক দুটো বেশ চেটালো, গলা ছোট অথচ পুরু। আর মুখ—মুখটাই বা মন্দ কি দেখতে, নাক লম্বা হলেও আগায় একটু চাপা, দেখলে মনে হয় ভেতরের হাড় ভাঙা। গালে খুব একটা মাংস নেই, ভারি চোয়াল; সুন্দর করে কামানো একটু গোঁফ। ছোট কপাল, মাঝে একটা শিরা ফুলে থাকে রক্তের চাপে নীলচে হয়ে। চোখ দুটো টানাটানা হলেও কালো ভুরুর নীচে একটু ধূসর রঙের তীক্ষ্ণ মণি দুটো সোমের ভীষণ ব্যক্তিত্বটা আরও ভীষণতর করে প্রকাশ করে। তা করুক। তা বলে এই চেহারা যার, তাকে শুয়ারের বাচ্চা বলা কেন?

     

     

    সোনাপুর অ্যালুমিনিয়াম কর্পোরেশনের বাবুটাবুদের জিজ্ঞেস করলে বলবে, চেহারার জন্যে কি বলি মশাই, বলি গুণের জন্যে। এমন খচ্চর লোক আমাদের এখানে আর দুটি পাবেন না। বেশ ছিল পুলিশে—হারামজাদা কেন যে মরতে এখানে এল—! জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মারছে সকলকে। তবে এখানে বেশিদিন করে খেতে হবে না। একদিন শালা ঠিক গায়েব হয়ে যাবে—নুনিয়ার জলে পুঁতে দিয়ে আসব।

    আর মজুর-মিস্ত্রিদের জিজ্ঞেস করলে তারা বলবে, উ শালা হারামি হ্যায়, পয়লা নম্বরকা হারামি। ডাঁট উতার যায়গা একরোজ। শালেকো ব্যাস—উঠা লেগা আউর বয়লারকো আন্দার ঘুসা দে গা।

    সোমের এই দুর্নাম দিনে দিনে ছড়িয়ে পড়ছিল। আগে যাও-বা সোমকে উল্লেখ করতে হলে কেউ কেউ বলত সোমসাহেব, ইদানীং তাও আর কেউ বলত না। শুয়ারের বাচ্চা নামটাই চালু হয়ে গিয়েছিল।

    অফিসার্সদের মধ্যেও সোমের সুখ্যাতি ছিল না। মুখার্জি, রায়, সেন, কিংহাম, গ্রীসলে—সবাইকেই কোনো না কোনো ছোটখাটো ব্যাপারে একবার অন্তত বিব্রত এবং বিরক্ত না করেছে এমন নয়। একবার কারখানায় মুখার্জি সাহেবের জন্যে একটা চাটু তৈরি হয়ে বাংলোয় যাচ্ছিল—চাপরাসী নিয়ে যাচ্ছিল, ওয়াচ অ্যান্ড ওয়ার্ডের লোক তাকে ধরে সোজা সোমের কাছে এনে হাজির করলে। সোম তলব করলে মুখার্জি সাহেবকে। মুখার্জি সাহেব ইঞ্জিনিয়ার মানুষ—ওয়াচ অ্যান্ড ওয়ার্ডের সোমের অফিসে তিনি যাবেন না। সোমও ছাড়বে না। শেষ পর্যন্ত চিঠি। সোম ইংরিজিতে দু-লাইন খসখস করে লিখে পাঠিয়ে দিল—যার বাংলা অর্থ—কারখানা মিঃ মুখার্জির চাটু তৈরি করার জন্যে নয়।

     

     

    মুখার্জি সাহেব সেই দিন থেকেই সোমের ওপর হাড়ে হাড়ে চটা।

    গ্রীসলের সঙ্গে একদিন তো খুনোখুনি হবার যোগাড় হয়েছিল। গ্রীসলের শালা এসেছিল ফ্যাক্টরির মধ্যে দেখা করতে। মোটরবাইক চেপে। গেটে ওয়াচ অ্যান্ড ওয়ার্ডের শাস্ত্রীরা আটকে দিল তাকে। পাস আছে? নেই? ভেতরে ঢোকা চলবে না। গ্রীসলের শালা চটেমটে ফিরে গেল। কথাটা সন্ধেবেলায় জানতে পারল গ্রীসলে। পরের দিন সকালেই সোমের অফিসে গ্রীসলের পদার্পণ। গ্রীসলের তিনপুরুষ আগেকার স্কচ্‌ রক্ত ফুটছিল। সোমের দাঁতগুলো খসিয়ে দেয় আর কি! “আমার লোককে গেটে আটকে দেওয়ার মানে আমাকে অপমান করা। তোমার এ-অধিকার নেই।”

    “তোমার শালার জন্যে কি ফ্যাক্টরির আলাদা নিয়ম?” সোম নিজের চেয়ারে বসে বসে অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বললে।

    “এ-সব বাজে নিয়মকানুনের কড়াকড়ি তো তুমি করেছে—আগে ছিল না।” গ্রীসলে ঝাঁঝালো স্বরে জবাব।

    “ইয়েস আমি করেছি। বছরে বিশ পঁচিশ হাজার টাকার কোম্পানির মাল তোমরা চুরি করছিলে। বাইরের লোক ঢুকে দুবার স্ট্রাইক করিয়েছে কারখানায়।”

     

     

    গ্রীসলে লাফিয়ে পড়ে সোমের কলার চেপে ধরল, “আমি চোর, আমরা থিভ্‌স্? য়ু রাস্কেল—! আমার লোক আন্‌ডিজায়েরবল্‌ এলিমেন্ট!”

    সোম গ্রীসলের হাত পলকে সরিয়ে দিল। চোখ দুটো তার আগুনের স্ফুলিঙ্গের মতন জ্বলছে। “আর একটা কথা বলেছো কি তোমার প্যান্ট শার্ট খুলে নিয়ে চাবকাবো। বাগার কোথাকার!”

    ওয়াচ অ্যান্ড ওয়ার্ডের সেপাই শান্ত্রী না থাকলে সেদিন সোম-গ্রীসলের দ্বন্দ্বটা কোথায় যে গড়াত কে জানে।

    গ্রীসলে সেইদিন থেকে সোমের ওপর খড়্গহস্ত হয়ে রয়েছে। সোমকে পথে দেখলে মনে-মনে সপ্তপুরুষ উদ্ধার করে—নাম শুনলে ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেয়। রায়, সেন, ভাদুড়ী—সকলেই তাই। এঁরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করেন, সোম একটা স্কাউণ্ড্রেল। টু মাচ্ আনপপুলার। এমন আর কেউ নয়। ও লাইফ রিস্ক্‌ নিচ্ছে। কেলেঙ্কারি একদিন একটা হবেই। এই তো সেদিন স্টোর শেডের কুলিরা ঘিরে ধরেছিল। ওদের হাতেই মরবে একদিন।

    এ কথাটা মিথ্যে নয়। সোম নিজেও বুঝতে পেরেছিল, তার নাম সুধীবন্ধু হলেও আসলে সে সুধীজনের বন্ধু মোটেই নয়। বরং ঠিক উল্টো, সোনাপুর অ্যালুমিনিয়াম কর্পোরেশনের সবাইয়ের সে শত্রু। সবাই তার শত্রু। ডিরেক্টারস বোর্ডের দু একজন যা একটু সুনজরে দেখে তাকে। সোম বোকা নয়, মূর্খ নয়; জীবনের ওপর মমতা যে নেই তাও নয়—আবার সহজে ভয় পাবার ছেলেও সে নয়। ভয় করলেই পিছিয়ে পড়তে হবে। বারোশো দেড় হাজারের গ্রেড কোনো দিন দু হাজারে ঠেলে তোলা যাবে না। কাজেই নির্ভয় তাকে থাকতেই হবে—তবে প্রাণটাও বাঁচাতে হবে। আর সাবধানে সতর্ক হয়ে থাকলে প্রাণ সহজে যাবে না।

     

     

    ভেবে-চিন্তে এবং খুব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে সোম ওয়াচ অ্যান্ড ওয়ার্ড থেকে বাহাদুরকে নিজের জন্যে নিয়ে নিল। কারখানার মধ্যে কিংবা খাস অফিসে পার্সোনাল গার্ডের দরকার ছিল না সোমের। নিরাপত্তার অভাব ঘটবে না সেখানে। তা ছাড়া কারখানার মধ্যে অতোটা সাহস কারুর হবে না, দুশ্চিন্তা বাংলো নিয়ে। বাংলোটা অফিসার্স বাংলোর একেবারে শেষে—নুনিয়া নদীর কাছে। চারপাশ ফাঁকা। ঝোপঝাড় গাছপালায় ভর্তি। কাছাকাছি মানুষ বলতে ওখানে ভাদুড়ী সাহেবের বাংলো—তাও অন্তত পঞ্চাশ গজের বাইরে। আপদবিপদে ডাকলে সাড়া পাওয়া যাবে না। অবশ্য সোমের দৃঢ় ধারণা, ডাক শুনতে পেলেও ভাদুড়ী সাড়া দেবে না। ইচ্ছে করেই।

    তা বলে সোম কি এই ভয়ের কৈফিয়ৎ দিয়ে বাংলো বদলাতে চাইবে? কখনই না। সোম সাহেব ভয় পেয়েছে—একথা ঘুণাক্ষরেও কেউ সন্দেহ করলে সোমের সিংহাসনে ফাটল ধরে যাবে।

    সোম বাংলো বদলাতে চাইল না। শুধু একবার দেখা করলে জি এম-এর সঙ্গে। “আমার বাংলোয় একটা গার্ড রাখতে চাই। ফর সেফটি।”

     

     

    সঙ্গে সঙ্গে মঞ্জুর। “সিওর, অনেক আগেই গার্ড রাখা তোমার উচিত ছিল সোম। কেন রাখোনি? ইয়োরস ইজ্‌ এ রিস্কি জব।”

    বাহাদুরকে পরের দিন থেকেই নিজের বাংলোয় রেখে দিল সোম। পার্সোনাল গার্ড।

    সোমের তীক্ষ্ণ চোখ দিয়ে বাছাই হয়েছে বাহাদুর। বোঝাই যায় মানুষটা ভয়ংকর হবে। এমন মানুষ যার ওপর সোম অনায়াসে আস্থা রাখতে পারে; হ্যাঁ—সেই নির্জন নুনিয়া নদীর বাংলোয় শীত কি বর্ষা কিংবা গ্রীষ্ম অথবা হেমন্তের ছমছমে রাত্রিতেও যার ওপর আস্থা রেখে, ভরসা করে সোম ঘুমুতে পারে।

    সোমের নির্বাচন নিখুঁত। বাহাদুর তেমনি মানুষ যাকে দেখলে ভয়ংকরই মনে হয়। তার শরীরের মধ্যে একটা ভয় যেন জমে রয়েছে। মানুষটাকে চোখ দিয়ে দেখতে ইচ্ছে করে না। কাছে গিয়ে দাঁড়াতে রুচি হয় না। কুচকুচে কালো রং। মাথার চুল ছোট ছোট, কোঁকড়ানো। মুখটা গোল। নাক ছোট আর বসা। চোয়ালের হাড় উঁচু উঁচু। চোখ দুটো ছোট ছোট। ভুরু যেন নেই। দৃষ্টিটা ওপর ওপর বোকাটে—কিন্তু একটু নজর করলেই মনে হয় বোকামির নীচে ভীষণ হিংস্র আর বেপরোয়া একটা পশুর চোখ লুকিয়ে আছে। বেঁটে কোঁদানো চেহারা। ঘাড়ে পিঠে স্ফীতকায় মাংসপেশী। পায়ে হাতের গুলিতে লোকটার শক্তি যেন চমকে উঠছে।

     

     

    নাম বাহাদুর হলেও লোকটা নেপালী নয়। সোমের ধারণা, মা-বাপের কেউ একজন নেপালী ছিল; অন্যজন এ-পাশের কোনো ডোম, মেথর কি সাঁওতাল-টাঁওতাল হবে। গলায় তাই বুঝি একটা তাবিজ ঝোলে কালো সুতোয় বাঁধা। সে যাক—ব্রিডিংটা জুতসই হয়েছে। শক্তির বাধ্যতা, ভয়ের সঙ্গে ভয়ংকরতা মিশ খেয়েছে।

    সোমের বাংলোয় বাহাদুর অদ্ভুত মিশ খেয়ে গেল। মেহেদী আর কাঁটাতারের ফেন্সিংয়ের আড়ালে হাফ প্যান্ট আর হাতকাটা গেঞ্জি গায় একটা ভয়ংকর পশু যেন সকাল থেকে রাত—সারারাত সোমের বাড়ি আগলে রাখছে। না ভুল হল—পশু নয়—পশুপালক—কেন না সোম শুধু বাহাদুরকে রেখেই পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারেনি—দুটো সাঙ্ঘাতিক কুকুর পর্যন্ত আমদানি করে ফেলল। একটু বাড়ন্ত ছানাই এনেছিল—বিশুদ্ধ বিলিতি রক্তের—ছ’ মাসেই তারা গায়ে গতরে ভীতিপ্রদ হয়ে উঠল। আর বাহাদুর সেই দুটো অ্যালসেশিয়ানের গলায় বাঁধা শক্ত চামড়ার বক্‌লস দু হাতে ধরে সোমের বাংলোর কম্পাউন্ড আর গেট আটকে দাঁড়িয়ে গেল। দৃশ্যটা ভয়ংকর, ভীতিকর। চোখে পড়লে বুকের মধ্যে ধক্ করে ওঠে। মনে হয় একটা শয়তান তার অনুগত দুই দুর্ধর্ষ অনুচরের ঝুঁটি ধরে এই বাংলোটার একাকীত্ব রক্ষা করছে: কারও সাধ্য নেই গেট খুলে একটা পা বাড়াবে। একটা ডাক পর্যন্ত দিতে ভয় হয়, শিসের একটু শব্দ পর্যন্ত কানে গিয়েছে কি বাংলোর ভেতর থেকে মূর্তিমান দুই যমদূতের গর্জন ভেসে উঠবে।

     

     

    সোম হুকুম করে দিয়েছিল, “বাহাদুর, ওহি দোনোকো রোজ গোস খিলানা। হলদি আর থোড়া চাউল ডাল্‌না গোসমে।”

    “জী, হুজুর!”

    “ডগ্‌ সোপ্‌-সে দু দিন বাদ নাহা দেনা।”

    “জী, হুজুর।”

    “দেখো, ওহি দোনোকো শিকারী বানাও। বল্ খেলাও, আউর চিড়িয়া মারকে তফাৎমে ফেঁকো। সামঝা?”

    “জী, হুজুর।”

    সোম যা যা বলেছিল বাহাদুর নিখুঁতভাবে সব করেছে—করছে এখনও। নিজের হাতে সামান্য হলুদ আর নুন দিয়ে অল্প চালের সঙ্গে মাংসর হাড় সেদ্ধ করে কুকুরদের খাওয়ায় রোজ। দু দিন অন্তর ডগ সোপ দিয়ে চান করিয়ে দেয়। শিকারী করে তোলার জন্যে বল্‌ ছুঁড়ে ছুঁড়ে দিত দূরে, শিকার ধরা শেখাত। আজকাল প্রায়ই শিশু কী নিমগাছে সকাল-বিকেল চড়ুই শালিক কাক এসে বসলে ছররা দিয়ে বন্দুক ছোঁডে বাহাদুর,—পাখিগুলো টুপটাপ মাটিতে পড়লে কুকুর দুটো হাওয়ার বেগে ছুটে গিয়ে দাঁতে বিঁধে নিয়ে আসে। না, বাহাদুর এই শিকার কুকুরদের খেতে দেয় না। সাহেবের নিষেধ, তাতে কুকুরের রক্ত খারাপ হয়ে যাবে।

     

     

    কুকুর দুটোকে পাকা শিকারী তৈরি করতে করতে বাহাদুর একদিন থামল। গাছতলা থেকে মরা পাখি কুড়িয়ে আনার খেলা বাহাদুরের আর পছন্দ হচ্ছিল না, কুকুর দুটোরও বোধ হয় ভাল লাগছিল না।

    সেদিন সোম যখন পিছন দিকের বারান্দায় বসে চা খাচ্ছে, বেতের টেবিলটার একদিকে সোম—আর একদিকে অতসী, চায়ের ট্রের ওপর পরিপাটি করে বিছানো নক্‌সা তোলা কাপড়টার ওপর একটা টকটকে লাল সুতোর প্রজাপতি নিশ্চল হয়ে আছে, বাহাদুর সামনের বাগান থেকে আস্তে আস্তে হেঁটে এল। বারান্দার নীচে প্রথম সিঁড়িতে এসে দাঁড়াল।

    “কিয়া বাত বাহাদুর?” সোম বেতের টেবিলে খবরের কাগজটা রেখে দিয়ে সিগারেটের ছাই ঝাড়ল।

    “হুজুর!” একটু থামল বাহাদুর, মুখ তুলল, অতসীকে দেখল এক পলক, চোখ ফিরিয়ে সোমের দিকে চাইল, ‘দুসরা কোই গেম্ শিখলানে হোগা।’ বুড়ো আঙুলের তলা দিয়ে গলায় ঝোলানো তাবিজের সুতোটা ঘষে নিল বাহাদুর।

    সোম বাহাদুরের মুখের দিকে অল্প একটু চেয়ে থাকল। যেন বাহাদুরের কথাটা ঠিক বুঝতে পারছিল না। পরক্ষণেই বুঝে ফেলল। কুকুর দুটোকে অন্য কোনো শিকারের খেলা শেখাতে চায় বাহাদুর। মনে মনে খুশি হল সোম। বললে, “ঠিক হায়, শিখলাও।”

     

     

    “জী হুজুর।” বাহাদুর মাথা নীচু করে চলে যাচ্ছিল।

    সোম ডাকল। বললে, “মাগর দেখো বাহাদুর—বাহার মাত ছোড় দো। আউর হারবাখাত আপনা হাত-মে রাখনা,—কন্‌ট্রোল মে। সামঝা?”

    “জী, হুজুর।” বাহাদুর সম্মতি জানাতে গিয়ে আর একবার চোখ তুলল। মেমসাহেব তার দিকে চেয়ে রয়েছে। একটুক্ষণ, তারপরেই বাহাদুর বাগানের ঘাস মাড়িয়ে তার কোয়ার্টারে চলে গেল। সারভেন্টস কোয়ার্টার। সামনেই।

    অতসী বাহাদুরের দিকে খানিক চেয়ে থেকে হঠাৎ চোখ ফিরিয়ে সোমের দিকে চাইল। ভীষণ একটা বিরক্তি আর বিস্বাদ তার মুখে কালো হয়ে নেমেছে।

    “তোমরা শুরু করলে কি?” অতসীর গলায় খুব ঝাঁঝ।

    সোম সিগারেটটা ফেলে দিয়ে স্ত্রীর দিকে চাইল। কোনো কথা বললে না।

     

     

    অতসী অসহিষ্ণু হয়ে বললে, “ক্রমেই তোমরা এমন বাড়াবাড়ি শুরু করেছ আমায় আর থাকতে দেবে না।”

    “কেন, কি হল?” সোম খুব হাল্কা গলায় যেন স্ত্রীর সঙ্গে পরিহাস করলে।

    চেয়ার ঠেলে অতসী একটু পিছিয়ে গেল। হয়ত রাগে, বিতৃষ্ণায়। বললে, ‘এ-বাড়িটায় মানুষ থাকে না পশু থাকে সেটা আমি বুঝতে পারি না। কি শুরু করেছো তোমরা?’

    সোম একটু হাসল, “মানুষের চেয়ে পশুরা ভাল সার্ভিস দেয়। কিন্তু বাড়াবাড়িটা তুমি দেখলে কোথায়—কুকুর দুটো সারাদিন বসে বসে খেলে আর ঘুমুলে ওয়ার্থলেস হয়ে যাবে। বাহাদুর ওদের তাজা রাখতে চায়।”

    অতসী কোনো কথা বললে না। অসহ্য রাগ আর ঘৃণায় তার সারাটা মুখ বিশ্রী হয়ে গেছে।

    সোম কি ভেবে, খুব খুশি খুশি মুখে, তারিফ করা গলায় বললে, “যাই বলো তুমি, বাহাদুর যখন দু হাতে দুটো কুকুরের বাক্‌লস টেনে দাঁড়িয়ে থাকে বেশ দেখায়। ফেরোসাস। কাছে এগুবার সাহস হয় না।”

     

     

    অতসী চেয়ার ছেড়ে আচমকা উঠে পড়ল। হঠাৎ বললে, “তা এবার তোমাদের কোন্ খেলা শুরু হবে।”

    “আমি জানি না। বাহাদুর নিশ্চয় কিছু একটা মতলব ঠাওরেছে।” সোম কথা বলতে বলতে এবার কি ভেবে যেন বেশ জোরেই হেসে উঠল, “জানোয়ারটার কথা শুনলে—মগজ পরিষ্কার হচ্ছে বোধ হয়,—বলে গেম্‌—!”

    অতসী স্বামীর মুখের হাসি নিবিষ্ট চোখে দেখতে দেখতে নিজেও একটু হাসল ঠোঁটের গোড়ায়, “জানোয়ারের মতলব মতন খেলা—সাঙ্ঘাতিক একটা কিছু হবে বোধ হয়।”

    “না, না—সাঙ্ঘাতিক আর কি হবে! দেখলে না, আমি তো বারণই করে দিলাম—সবসময় নিজের কন্‌ট্রোলে—হাতের মুঠোয় কুকুর দুটোকে রাখতে বলে দিলাম। আফটার অল পশু তো! কখন কি করে বসবে—”

    “বসতে পারে—বলা যায় না।” অতসী যেন সোমের বাকি কথাটা শেষ করে ছেদ টেনে দিল। আর দাঁড়াল না। বারান্দা থেকে সোজা ঘরে চলে গেল।

    সোম আর একটা সিগারেট ধরাল।

    অতসীর কাছে সত্যিই এ-বাড়ি অসহ্য—অসহ্য। আর ভাল লাগে না। ভাল লাগার মতন কিছু নেই। অতসী ভেবে পায় না, এতো মানুষ থাকতে সোমের সঙ্গে তার বিয়ে হল কেন! তার বাবা এমন কিছু গরীব ছিলেন না, নিজেও সে দেখতে তেমন কিছু খারাপ নয়—তবু সোমের সঙ্গে বিয়ে হবার কি দরকার ছিল?

    সোম যখন সোনাপুরে সবে এসেছে—তখনই তার বিয়ে হল। বাবা বুদ্ধিমান মানুষ। সোমের ভবিষ্যৎ যেন তাঁর দেখা ছিল। দেড় দু হাজারি জামাই যে মেয়ের কপালে সুখ-সৌভাগ্যের ছাতা ধরে থাকবে এ বিষয়ে তিনি নিঃসন্দেহ ছিলেন। অতসীরও সন্দেহ করার কারণ থাকেনি।

    বিয়ের পর অতসী বুঝতে পারল একটা ভুল কোথাও হয়ে গেছে। সোম তেমন মানুষ যার কাছে দাম্পত্য জীবন কি স্ত্রী কিংবা সংসার বিশেষ একটা আকর্ষণ নয়। সকালের চা, দুপুরের ভাত, রাত্রের ঘুমের মতন স্ত্রী, সংসার সবই একটা স্বাভাবিক অভ্যাস। তার বেশি কিছু নয়।

    আস্তে আস্তে অতসী সেটা সইয়ে নেবার চেষ্টা করল। পারল না। বাড়িতে মন বসত না বলে প্রথম প্রথম অতসী চেষ্টা করলে বাইরের পাঁচজনের সঙ্গে মেশবার। মুখার্জি, রায়, সেন সাহেবদের স্ত্রী, কন্যা, ভাইঝিদের সঙ্গে আলাপ পরিচয়, যাতায়াত, বন্ধুত্ব পাতাবার চেষ্টা করলে—। কিন্তু কি আশ্চর্য, বাইরের পাঁচটি মেয়েও তার কাছে ধরা দিল না। প্রথম প্রথম মুখার্জি সাহেবের স্ত্রী কিংবা রায় সাহেবের বোনের সঙ্গে গল্প-গুজব করতে গেলে তাঁরা ড্রয়িং রুমে এনে বসাতেন, নিজেরাও বসতেন। অল্পস্বল্প কথা বলতেন। চা দিতেন খেতে। ধীরে ধীরে সে-সব বন্ধ হয়ে গেল। বাংলোয় গেলে কেউ বলত, ও আপনি! আসুন, বসুন। আমার শরীরটা বড় খারাপ। ডাক্তারকে খবর পাঠিয়েছি। এখুনি এসে পড়বেন। কেউ বলত, এমন অসময়ে এলেন মিসেস সোম, আমাদের এখুনি গাড়ি নিয়ে বেরুতে হবে স্টেশনে—কলকাতা থেকে বড়দি আসছেন। একদিন মিসেস ভাদুড়ী তো অতসীকে বারান্দায় বসিয়ে রেখে বাথরুমে ঢুকে গেলেন মাথা ঘোরা আর গা গুলোনোর ছুতো দেখিয়ে তারপর ঠায় একটি ঘণ্টা কেউ আর সে-পথ মাড়াল না।

    প্রথম প্রথম যাও বা একটু চক্ষুলজ্জা, সামাজিকতার বোধ ছিল আস্তে আস্তে তাও ঘুচল। অতসীকে কেউ আর বসতে, চা খেতেও বলে না। বরং তাকে দেখলেই ওরা অস্বস্তি বোধ করে, আতঙ্ক পায় যেন। হ্যাঁ—অতসী বুঝতে পারল, তাকে সবাই এড়িয়ে যেতে চায়, দূরে সরিয়ে রাখতে চায়। তাকে অপছন্দ করে ঘৃণা করে।

    সোমকে বললে অতসী; এতটুকু দ্বিধা না করে, “তোমার এমন সুনাম এখানে যে আমাকেও মিসেস মুখার্জিরা হয়ত তোমার স্পাই কিংবা ইনফরমার ভাবেন।”

    সোম শিস দিয়ে দিয়ে গালে সাবান ঘষছিল। বললে, “ওই হামবাগটাকে একদিন শায়েস্তা করব। পাকা চোর একটা।”

    অতসীর সারা গা ঘেন্নায় রি রি করে উঠল, “তোমার কি লজ্জা ভদ্রতা কিছু নেই? মিঃ মুখার্জি বয়স্ক লোক, মানী মানুষ।”

    “রাস্কেল!” সোম শিসের সুর থামিয়ে তার মত ব্যক্ত করলে।

    অতসী স্তম্ভিত। একটু চুপ করে থেকে তেঁতো রুক্ষ গলায় বললে, “তোমার জন্যে আমি কারুর সঙ্গে দুটো কথা বলতে পারি না, মিশতে পর্যন্ত না। সকলে আমায় দূর দূর করে।”

    “করে নাকি?” সোম রেজার তুলে গালের কাছে ধরল। “কেন যাও ওদের সঙ্গে কথা বলতে?”

    “যাব না তো করব কি! আমি মানুষ না পশু! লোকজনের সঙ্গে মিশব না, কথা বলব না—শুধু তোমার এই ভূতের মতন বাড়িতে সারা দিন-রাত একলা মুখ বুজে থাকব!”

    সোম হো হো করে হেসে উঠল। হাসি থামতে বলল, “তুমি যে ক্ষেপে গেছ দেখছি। কতকগুলো মেয়েলি গল্প না করলে তোমার কি খিদে হচ্ছে না নাকি? কে বলেছে তোমায় চুপচাপ মুখ বুজে বসে থাকতে। রেডিও বাজাও, রেকর্ড শোনো, ছুঁচের কাজটাজ করো, নাচো গান গাও, নভেল পড়ো। ডু অ্যাজ ইউ লাইক। সময় কাটানোর অভাব কি? বাগান রয়েছে, বাহাদুর রয়েছে।”

    “বাহাদুর!” অতসীর গলার কাছে সাঙ্ঘাতিক একটা চমক এসে বিঁধে গেল।

    “হ্যাঁ, বাহাদুরের কাছে বন্দুক ছোঁড়া শেখ না কেন? ও তোমায় শুটিং শেখাতে পারে!”

    অতসী চুপ। মুখটায় যেন অনেকখানি রক্ত এসে জমে নীল হয়ে গেছে। চোখের মণি দুটো পাথর। গলার বাতাস-নলীর কাছে একটা বাতাসের কাঁকর যেন থর থর করে কাঁপছে।

    সত্যিই সোমকে ঘৃণা করতে লাগল অতসী। বিতৃষ্ণা আর বিদ্বেষ বাড়তে বাড়তে চরমে উঠল। সোমকে আর সহ্য হয় না। তার কাছে পর্যন্ত যেতে অতসীর আজকাল অদ্ভুত একটা ঘৃণা হয়। সোম মানুষ নয়—স্বামী তো কিছুতেই নয়—পশু, পশুর চেয়েও অধম একটা জীব। যদি অতসীর সাধ্য থাকত এই লোকটাকে সে বুঝিয়ে দিত সারা সোনাপুর শুধু নয়—তার ঘরের স্ত্রী পর্যন্ত তাকে অত্যন্ত জঘন্য একটা মানুষ বলে ভাবে—ঘৃণা করে—ভীষণ ঘৃণা। কিন্তু মজা এই, সোম এমন মানুষ যে ঘৃণা বোঝে না। বোঝে না তার স্ত্রী তাকে কতোটা ইতর, কুৎসিত ভাবে, কী পরিমাণ ঘৃণা করে। কিংবা বুঝলেও সেটা সে গ্রাহ্যই করে না। যেন স্ত্রীর ভালবাসা আর ঘৃণা দুই-ই সমান—কিছুতেই কিছু আসে যায় না সোমের।

    আশ্চর্য, অতসীর দিন দিন এই ইচ্ছেটাই তীব্র হতে লাগল যে, সোমকে—তার স্বামীকে, সে সত্যিই যে সাঙ্ঘাতিক ঘৃণা করে এটা বুঝিয়ে দিতে হবে, যেমন করেই হোক। যেন সেটা বোঝানোর ওপর অতসীর অস্তিত্ব, অতসীর স্বাতন্ত্র্য, তার নারীত্ব নির্ভর করছে। কিন্তু কি করে এই অমানুষিক ঘৃণাটা বোঝায় অতসী—!

    বাহাদুর নতুন খেলা শেখাতে শুরু করেছে অ্যালসেশিয়ান দুটোকে। শিকার ধরার খেলা। সোমের নুনিয়া নদীর বাংলোয় দুটো পশুর পাশবিকতা ভীষণ হয়ে উঠেছে। বাহাদুর তার কোয়ার্টারের একটা ঘরে খরগোশ পুষছে। ধবধবে রঙ, লোমশ, চঞ্চল ক’টা জীব। সামনের মাঠে কাঠ-তক্তা জালি নেটের বেড়া দিয়ে দিয়ে একটা প্রকাণ্ড ধাঁধা করেছে। তার মধ্যে খরগোশ ছেড়ে দেয়। আর অ্যালসেশিয়ান দুটোকে। খরগোশ ছোটে—অ্যালসেশিয়ান দুটো ধাওয়া করে। সারা বাংলোটা কুকুরের ভয়ানক, ক্রুদ্ধ ডাকে চমকে চমকে ওঠে।

    অতসী একদিন এই নতুন খেলা পা বাড়িয়ে দেখতে এল। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল। পরে সোমকে বললে, “তোমার বাহাদুরের নতুন খেলাটা দেখেছো?”

    “হ্যাঁ, খুব বুদ্ধি খেলিয়েছে জানোয়ারটা। এত বুদ্ধি ওর মগজে এল কি করে?”

    “আমি সামান্য যুগিয়েছি।”

    “তাই তো বলি। এ কিন্তু দিব্যি হয়েছে। একটা খরগোশ নাকি কাল মরেছে।”

    “নাকি! তা মরতে পারে, আশ্চর্য কি! মুখের খাবার রোজ রোজ ফস্কে যেতে কেউ দেয় না।” অতসী পাশ থেকে, চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়ল।

    হ্যাঁ, বাহাদুরের নতুন খেলায় নরম খরগোশ মরেছে। প্রথমে একটা। তারপর দুটো। শেষে তিনটে খরগোশও গেল।

    এই খেলা শুরু হয়েছিল এক শীতের সকালে। মিঠে রোদে। হিমভেজা ঘাসে। দেখতে দেখতে শীত পেরিয়ে বসন্ত এল। নুনিয়া নদীর বাংলোর আশেপাশের পলাশ-ঝোপ লাল হয়ে গেল—আগুন ধরল। টকটকে আগুন। অতসী যেন তার আঁচ গায়ে মেখে নিল।

    “বাহাদুর!”

    “জী, মেমসাব!”

    “বাহার চলো।”

    “নুনিয়া মেমসাব?”

    “হ্যাঁ।”

    “কুত্তা?”

    “লে লেও!”

    “গান্‌—?”

    “জরুর।”

    নুনিয়ার উঁচু-নীচু চরে—আগুন ধরা পলাশ বনে একটা পারপেলরেড সিফনের শাড়ি ছুটে বেড়ায় পাগল হয়ে। যেন অদ্ভুত এক আগুনের শিখা ছুটে বেড়াচ্ছে। পাথর থেকে পাথরে, বালিতে, জলে—পলাশ আর কাঁটা ঝোপে ঝোপে। ছুটতে ছুটতে থমকে দাঁড়ায়। দূরে কটা হাঁস নেমেছে, ঝোপের মাথায় বুঝি এক ঝাঁক পাখি বসেছে—অতসী থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে।

    “বাহাদুর!”

    “জী মেমসাব।”

    “গান্ দেও।”

    বাহাদুর সঙ্গে সঙ্গে ছর্‌রা ভর্তি বন্দুকটা এগিয়ে দেয়। অতসীর হাত আর চোখ এতোদিনে ঠিক হয়ে গেছে। নিস্তব্ধ নুনিয়ার বুকে একটা শব্দ অট্টহাসি হেসে ওঠে। বাহাদুর কুকুর দুটো ছেড়ে দেয়। বিশ্রী একটা ডাক বাতাসে ছুঁড়ে কুকুর দুটো মরা পাখি কুড়িয়ে আনতে ছুটে যায়।

    পলাশের আগুন লাগা বনে পারপেলরেড সিফনের শাড়ি দুলে দুলে হাসতে থাকে। সে তৈরি হয়ে উঠেছে। ওয়ান্ডারফুল। সোম শুনলে নিশ্চয় বলবে, ওয়ান্ডারফুল।

    বসন্ত বুঝি আরও উগ্র, আরও তীব্র হল। ক’দিন থেকেই হাওয়া বইছে কেমন এক হাওয়া যেন। অতসীর ভেতর একটা চাপা আগুন এবার সব কিছু চৌচির করে তার মধ্য থেকে জ্বলে উঠেছে। নুনিয়ার চরে হঠাৎ একদিন বালির মধ্যে শুয়ে পড়ল অতসী। একটা অন্ধকার পা পা করে এগিয়ে আসছে। বালির মধ্যে লুটোপুটি খেতে গিয়েও হঠাৎ শান্ত, স্থির হয়ে গেল অতসী।

    “বাহাদুর!”

    “জী মেমসাব।”

    “কুত্তা হাটাও।”

    “জী।”

    “ছোড় দেও দোনোকো।”

    হ্যাঁ, বাহাদুর কুকুর দুটোকে ছেড়ে দিল। দুই পশুকে।

    বসন্তও শেষ হল। গ্রীষ্ম এবং বর্ষা।

    বৃষ্টি নেমেছে সোমের বাংলোয়। অ্যালসেশিয়ান দুটোর খেলা থেমেছে। বাহাদুরের কোয়ার্টারের সামনে বাঁধা থাকে। মাঝে মাঝে হুঙ্কার দিয়ে ওঠে।

    অতসী বিছানায়। শরীরটা ভাল যাচ্ছে না।

    “বাহাদুর।”

    “জী মেমসাব।”

    “গরম পানি বানাও।”

    “জী।”

    অতসী ফুটবাথ নেয়। বাহাদুর দুটি সুন্দর সুডৌল পায়ের কাছে বোবা পশুর মতন বসে থাকে। নধর হাঁটুর আবছা হাড় থেকে পায়ের গোড়ালি আর আঙুল পর্যন্ত মুগ্ধ হয়ে যেন দেখে। আর থেকে থেকে গলায় ঝুলনো তাবিজের সুতোয় বুড়ো আঙুল ঘষে জোরে জোরে।

    “বাহাদুর।”

    “মেমসাব।”

    “তোমারা দেশ কাঁহা?”

    “মালুম নেহি।”

    অতসী আচমকা খিল খিল করে হেসে ওঠে। বাহাদুর সেই হাসির ফোয়ারার দিকে অপলকে চেয়ে থাকে। অতসী বলে, “তোমারা দেশ জঙ্গলমে। তোমারা আর তোমারা সাহাবকা। মালুম—”

    “জী, মেমসাব।” বাহাদুর হাসে না। যেন কথাটা সত্যি। তার অস্বীকার করার কিছু নেই।

    বর্ষাও ফুরিয়ে গেল। তারপর শরতের এক দুপর কাটতে না কাটতে হঠাৎ ভীষণ বর্ষা নামল। সোমের বাংলোর গাছপালায় ঝড় তুলে, পাতা উড়িয়ে, ডাল ভেঙে ঝড় আর বৃষ্টি। দুরন্ত সে জলধারা। আকাশ কালো—নিকষ কালো। বাতাসে সে কালো যেন মিশে মিশে গেছে। বিকেলের মাঝামাঝি যেন রাত নেমে এল। বৃষ্টিও ঝরে চলেছে। অবিশ্রান্ত।

    সোমের বাংলোয় বাতি জ্বলে উঠল। সব বাতি নয়। একটি দুটি। অন্ধকারে আর জলের মধ্যে গাছপালা ঘেরা বাংলোটা যেন সেই অল্প ক’টি মৃদু আলো নিয়ে নির্জন দ্বীপের মত পড়ে থাকল।

    সন্ধের একটু পরেই সোম ফিরল। গেটের কাছে আসতেই দাঁড়াল। গেট বন্ধ। গেটের বাতিটাও জ্বলছে না। হর্ন দিল সোম। সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির মধ্যে দুটো বিকট হুঙ্কার অন্ধকার থেকে তীরের মত তার সামনে লাফিয়ে পড়ল। কুকুর দুটো গেট টপকে এল বলে। তাড়াতাড়ি সোম গাড়ির কাচ দুটো তুলে দিল। ডিমার নিভিয়ে হেডলাইট জ্বেলে দিল গাড়ির। গেটের মাথার ওপর গলা তুলে ভয়ংকর দুই পশু পথ আগলে দাঁড়িয়েছে। রোখা মূর্তি। চোখ জ্বলছে। ভীতিকর গর্জনটার রেশ মিলিয়ে যেতে না যেতে আর একটা গর্জন লাফিয়ে উঠছে। সোম এই যেন প্রথম দেখল, কুকুর দুটো অত্যন্ত বীভৎস। যে কোনো মুহূর্তে লাফিয়ে গলার টুঁটি ছিঁড়ে খেতে পারে। হাউ ফেরোসাস!

    অধৈর্য হয়ে সোম আর একবার হর্ন দিল। না, বাহাদুর আসছে না। বৃষ্টির শব্দে কি জানোয়ারটার কানে তালা ধরে গেল, না ঘুম দিচ্ছে! রাস্কেল, ইডিয়েট কোথাকার। এই লোকটা তার গার্ড! এর হাতে সোম তার সেফটি তুলে দিয়েছে।

    ক্ষেপে গিয়ে সোম ইলেকট্রিক হর্নটা আর থামাল না। বরং হাতের সবটুকু জোর দিয়ে টিপে থাকল। বিশ্রী কর্কশ একটা একঘেয়ে শব্দ উপচে বাজতে লাগল।

    হঠাৎ একটা শব্দ। জলের মধ্যে দিয়ে কেউ যেন ছুটে আসছে। বাহাদুর। দৌড়তে দৌড়তে এসে বাহাদুর কুকুর দুটোকে বাগিয়ে ধরে নিল। হেডলাইটের আলোয় সেই তিন জানোয়ারের মূর্তি গেটের কাছে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকল।

    গেটটা খুলে দিল বাহাদুর। গাড়ির মুখ গেটের মধ্যে বাড়িয়ে একবার ব্রেক কষল সোম। জানলা দিয়ে গলা বাড়িয়ে তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে চেয়ে দেখল শয়তানটাকে। ধমকে উঠল, “কিয়া করতা থা তুম। উল্লু কাঁহাকা। কুত্তা ছোড় দিয়া কাহে?”

    “ছুট্‌ গিয়া হুজুর।”

    “ছুট গিয়া—! সোয়াইন!”

    বাহাদুর চুপ। কুকুর দুটোকে টেনে একপাশে দাঁড়িয়ে থাকল। সোম চলে গেল গ্যারেজে।

    বারান্দা পেরিয়ে বিরক্ত, অপ্রসন্ন মনে সোম ঘরে ঢুকল। ড্রয়িংরুমে। অতসী নেই। শোবার ঘরে এল সোম। বিছানায় শুয়ে রয়েছে অতসী। কোমরের ওপর পর্যন্ত সুতীর চাদর টেনে। চুল এলোমেলো। মুখের মধ্যে লালচে ভাব একটা। সামান্য যেন ঘাম কপালে। বালিশের পাশে এমব্রয়ডারি ফ্রেমে কী যেন একটা পরানো। সামান্য পিঠ উঁচিয়ে সেটা টেনে নিলে অতসী। লাল রঙের সুতো পরানো ছুঁচটা আঙুলে তুলে নিল।

    “বাড়িসুদ্ধ সবাই কী তোমরা মরে গিয়েছিলে?” সোম খেঁকিয়ে উঠল।

    “কই, দিব্যি তো বেঁচে আছি।” অতসী আরও একটু পিঠ সোজা করে নিল।

    “লক্ষণ তো দেখছি না। গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে আধ ঘণ্টা ধরে হর্ন দিচ্ছি—কারও কানে ঢুকছে না?”

    “যা বৃষ্টি।”

    “বৃষ্টি! মালী কোথায়?”

    “তাকে বাজারে পাঠিয়েছি বিকেলে। এই বৃষ্টিতেই। মুরগী যোগাড় করে আনতে। এই ওয়েদারে তোমার হয়ত মুরগী ভাল লাগবে ভেবে।” অতসী বলল, পরিহাস করছে না যেন এমন সুর টেনে।

    “আর বনমালী? সে কোথায়?”

    “তাকে পাঠিয়েছি ডাক্তারের কাছে ওষুধ আনতে। শরীরটা দুপুর থেকে খুব খারাপ হয়েছিল। মাথা ধরা আর বমি-বমি!”

    সোম স্ত্রীর দিকে খানিকক্ষণ চেয়ে থাকল।

    “ওটা কি?” সোম অতসীর হাতের দিকে তাকিয়ে বলল।

    “বাহাদুরের গেঞ্জি। একটা ফুল তুলে দিচ্ছি বুকে। ক’দিন ধরে পাগল করে মারছে আমাকে।” অতসী হাতের ছুঁচ কাপড়ের মধ্যে ফুটিয়ে দিল।

    সোম দু-পা এগিয়ে এল। অতসীর প্রায় গায়ের ওপরই। তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে লাগল স্ত্রীকে। চুলগুলো উস্কোখুস্কো। মুখটা লালচে। কপালে ঘাম। বুকের কাছটা খোলা। হৃদ্‌পিণ্ড যেন ভীষণ শ্রান্ত হয়ে খুব আস্তে আস্তে ধুকধুক করছে।

    সোম ছোঁ মেরে অতসীর গা থেকে চাদরটা তুলে ছুঁড়ে দিল বিছানার একপাশে। অতসী চমকে উঠে চুপ করে গেল। তারপরই ভীষণ—ভীষণ একটু রূঢ়তা ও দৃঢ়তায় শান্ত স্থির হয়ে শুয়ে থাকল।

    অতসীর শাড়ি বড় এলোমেলো হয়েছিল। সোম পট পট করে তার ব্লাউজের দুটো বোতাম খুলে ফেলল। তারপর হঠাৎ কি দেখে ভীষণভাবে চমকে উঠল।

    “বাহাদুরের গলার তাবিজটা তোমার বিছানায় কি করে এল?” সোম বিশ্রীভাবে ইতরের মতন চেঁচিয়ে উঠল। পশুর মতন।

    অতসী একটুও চমকাল না। কাঁপল না। সোমের দিকে স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে থাকল।

    সোম ছটফট করে বিছানার সামনে একটু পায়চারি করল। তারপর হঠাৎ অতসীর গায়ের ওপর ঝুঁকে পড়ে সাপের মতন দুই হিংস্র চোখ রেখে বললে, “আমাকে বাজে কথা বলো না। এ হতে পারে না। নেভার। তুমি নিশ্চয় ওই জানোয়ারটাকে—”

    অতসী গায়ের কাপড়টা গুছিয়ে নিতে নিতে সামান্য উঠে বসল। সোমের দিকে চাইল, “এই সংসারটাই তো জানোয়ারের!” ঘৃণায় অতসীর চোখ, মুখ কুঁচকে উঠল।

    সোম হাত বাড়িয়ে অতসীকে, অতসীর গলাটা খপ্‌ করে ধরতে যাচ্ছিল। হঠাৎ শব্দ শুনে ফিরে তাকাল। বেডরুমের কাচ-আঁটা দরজার বাইরে বাহাদুর দুটো ভয়ংকর জানোয়ারের গলার বক্‌লস ধরে দাঁড়িয়ে আছে।

    সোম পাগলের মতন ছুটে এসে দরজাটায় প্রচণ্ড একটা লাথি মারল। ঝনঝন করে একটা কাচ বোধ হয় ভেঙে পড়ল মেঝেতে। দরজাটা খুলে গেল। হাট হয়ে।

    কুকুর দুটোকে সোমের আর নিজের মধ্যে রেখে বাহাদুর চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকল।

    সোম বাহাদুরের ভয়ংকর দুই চোখের দিকে তাকাল একবার। আর একবার কুকুর দুটোর ভীতিকর ভঙ্গির দিকে, চোখের দিকে। তিনটে জানোয়ারকে একসঙ্গে দেখে নিয়ে সোম আর একবার ঘাড় ঘুরিয়ে অতসীর দিকে চাইল।

    বাহাদুর অন্ধকারে সরে যাচ্ছে না তবু।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখোয়াই – বিমল করভ
    Next Article খড় কুটো – বিমল কর

    Related Articles

    বিমল কর

    কাপালিকরা এখনও আছে – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    রাজবাড়ির ছোরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    ঘোড়া সাহেবের কুঠি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    সেই অদৃশ্য লোকটি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    শুদ্ধানন্দ প্রেতসিদ্ধ ও কিকিরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    কিকিরা সমগ্র ১ – বিমল কর

    October 30, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }