Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চাশটি গল্প – বিমল কর

    বিমল কর এক পাতা গল্প1346 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শীতের মাঠ

    সারাটা দিন মাঠ মুখে করে বসে থাকা। গ্রীষ্ম কেটেছে, তখন তেমন করে যেন মাঠটা দেখেনি নবেন্দু। বর্ষার দিনে অতসী জলের ঝাপটার ভয়ে প্রায়ই জানলাটা বন্ধ করে দিয়ে যেত। তারপর ধীরে ধীরে বাইরের ওই রুক্ষ নুড়ি-ছড়ানো আদিগন্ত মাঠটার সঙ্গে নবেন্দুর পরিচয়। এখন শীত। পৌষের শীতে কিছু লালচে ধুলো, কিছু নুড়ি, বিক্ষিপ্ত বুনো ঝোপ, দু-পাঁচটা গাছ আর ধু ধু মাঠখানা চোখের সামনে নিয়ে সারা দিন বসে আছে নবেন্দু।

    সকালটা প্রায় প্রত্যহই, সকালটা বেশ লাগে। কোনো কোনো দিন কুয়াশা থাকে, খুব হালকা কুয়াশা, মিহি সাদা, রেশমের মতনই; দূরের জঙ্গলটা ধোঁয়া ধোঁয়া দেখায়, রোদ হয়ত একটু ভিজে থাকে। বেলা বাড়লে নবেন্দু মাঠটা স্পষ্ট দেখতে পায়! কুয়াশা শুকিয়ে গেছে, শীতল গন্ধটাও আর নাকে আসছে না, নুড়িগুলো খটখট করছে। আরও বেলায় সমস্ত মাঠটা উজ্জ্বল, শীতের গাঢ় তপ্ত রোদ টলটল করছে। আমলকির ঝোপটার দিকে চেয়ে চেয়ে নবেন্দুর মনে হয়, এখন মাঠটা যেন এক ধরনের জীবনের মধ্যে গলে গেছে। কটা পাখি মাঠে বসে, সাঁতার কাটে হাওয়ায়, জঙ্গলের দিকে ডানা মেলে উড়ে যায়।

    অতসীর এবার অফিস বেরোবার সময়। তার চলা বলা কাজকর্মে এখন দ্রুততা এসেছে। গলার স্বরও সামান্য অন্যরকম মোটা হ্রস্ব পুরুষালি ধরনের। দৃষ্টিটাও সকালের আলস্য ও পরিতৃপ্তিমাখা নয়, ঈষৎ বিরক্তি মাখানো, হয়ত তিক্ত খানিকটা।…ভাতের পাত থেকে উঠে দু কুচি সুপুরি মুখে অতসী কাজ চুকোবার তাড়া নিয়ে বিছানার পাশে এসে দাঁড়ায়। কাঁধের উপর ময়লা তোয়ালে, দুপাট করা ধুতি, এক হাতে তেলের শিশি। অতসীর নিজের শাড়িটাও এখন ময়লা। ব্লাউজ রঙিন বলে চট করে কিছু ধরা যায় না, কিন্তু মুখটা নরম, ভিজে মাথার খোঁপা সুন্দর আঁট করে বাঁধা, কপালের আগায় কোঁকড়া চুলগুলোতে জল ছুঁয়ে আছে।

    অভ্যস্ত, প্রায় এক সুন্দর যন্ত্রের মতন, পরিমিত সময়ের মধ্যে অতসী তার কাজ সেরে ফেলে। লছমির মা জলের বালতি আর জল-পড়ার গামলা, মস্ত অয়েলক্লথটা দিয়ে যায়। অতসী ঘরের দরজায় ছিটকিনি তুলে দেয় ভেতর থেকে, ভেতরদিকের জানলাটাও বন্ধ করে। এরই মধ্যে ঘরের কোণা থেকে চড়া গন্ধের পাউডারের টিনটা এনে বিছানার এক পাশে রাখে।

    বাইরের জানলাটাও অতসী বন্ধ করে দিতে চায়। নবেন্দুর ভাল লাগে না, অনেকক্ষণ থেকেই লাগছে না, কেমন একটা আকস্মিক অবাধ্যতার বশে নবেন্দু বাধা দেয়। “ওটা খোলা থাক—”

    “একেবারে…হাট…?” অতসী ব্যাপারটা পছন্দ করছে না।

    “থাক না—”

    “সরে এস একটু।” অতসী হয়ত অপ্রসন্ন, কিন্তু জানলা নিয়ে তর্ক করার সময় এখন নেই। সময় একেবারেই নেই। স্বামীর তেলঘষা মাথাটার দিকে চেয়ে অতসী জলের বালতিতে হাত ডোবায়, মেঝের ওপর জল পড়ায় গামলটা পায়ে করে ঠেলে ঠিক করে নেয়।

    অতসী নার্স হলেও হতে পারত। ওর হাত পাকা। সুন্দর যন্ত্রের মতন কাজ। দেখতে দেখতে সব হয়ে গেল, মাথা ধোয়ানো মোছানো গলা বুক (অর্থাৎ কন্ঠাটুকু) মোছানো, গা মোছানো, পাউডার ছড়ানো, এমন কি পেটে জড়ানো বাসি কাপড়টা কেমন অদ্ভুতভাবে আলগা করে ছাড়িয়ে নিয়ে কাচা দুপাট করা কাপড়টা জড়িয়ে দিল, ঢিলে ঢালা বুককাটা সুতির জামাটাও। নবেন্দু নিজেই চুল আঁচড়ে নেবে।

    অতসী ঘরের দিকের জানলা খুলে ফেলল, দরজার ছিটকিনি নামাল, জলের বালতির মধ্যে বাসি কাপড় গেঞ্জি ও দুমড়োনো অয়েলক্লথটা নিয়ে চলে গেল।

    জানলার বাইরে মাঠটা শীতের রোদে পিঠ দিয়ে পড়ে আছে। একটু ধুলো বুঝি উড়ছে ও-পাশটায়—মাঠের উত্তর। নবেন্দু চুল আঁচড়ে ছোট চারিহাতি খয়েরি র‍্যাপারটা বুক পিঠের ওপর আলতো করে ফেলে রেখেছে, বুকের তলা থেকে লেপটা এলোমেলো, অগুছোলো, পা পর্যন্ত মেলা। সারা মাঠে একটি উড়ো পাতা এবার নেচে বেড়াচ্ছে। নবেন্দু পাতাটার রঙ দেখতে পাচ্ছে না। শুকনো খসা পাতা বোধ হয়। পাশের ঘরে অতসীর শব্দ।

    অতসী হল। অফিস যাবার জন্যে তৈরি অতসী, অফিস যাবার মতন করে তৈরি। শাড়িটা পরিষ্কার, মাড় ধরা, সাদা, পার গাঢ় নীল, বুটি তোলা বাসন্তী রঙের ব্লাউজ, হতে ঘড়ি, ভারি বালা এক হাতে, গলায় মুখে পুরু করে পাউডার দিয়ে খুব সতর্কভাবে মুছে ফেলা। সিঁথির সিঁদুর মেটে হয়ে গেছে, ছোট হয়ে গেছে। হয়ত আজকাল অতসী রোজ রোজ আর সিঁদুর পরে না।

    “আমি চলি—” অতসী সরাসরি স্বামীর দিকে না তাকিয়ে ব্যস্ততার মধ্যে বলল। বলার সময় ধনুকের মতন বেঁকে কোমর ভেঙে হাঁটুর কাছে শাড়ির কেঁপে ফুলে ওঠা। কোঁচ ঠিক করে নিচ্ছিল।

    অতসী আজকাল সিঁদুর পরার সময় পায় না…অতসী আজকাল বড্ড মাড় দেওয়া শাড়ি পরে। নবেন্দুর দৃষ্টি আচমকা রূঢ় হয়ে উঠতে লাগল। অতসীর বুটি তোলা বাসন্তী রঙের ব্লাউজটা সখী সখী সাজের মতন বিরক্তিকর লাগছিল।

    “লছমির মাকে বলে যাচ্ছি, আর একটু পরেই ভাত দেবে।” অতসী সোজা হয়ে দাঁড়াল, ডান হাতে ঘাড়ের কাছে খোঁপাটা একটু ঠিক করে নিল, কোমরের কাছে ব্যাগটা সামান্য দুলল। “তাড়াতাড়ি খেয়ে নিও, লছমির মাকে বেশিক্ষণ আটকে রেখ না হেঁসেলে, আজ ওর ধোয়াধুয়ির কাজ আছে অনেক।” অতসী ত্রস্ততার মধ্যে এবার স্বামীর দিকে তাকাবার সুযোগ পেল। নবেন্দুর দৃষ্টি দেখে থমকে গেল এক পলক। রোজ-রোজ অফিস যাবার সময় এই রকম অসন্তুষ্ট ক্ষুব্ধ দৃষ্টি দেখতে হয়। অতসীর এখন তাড়াতাড়ি; এখন ভাল করে কিছু দেখা কিছু বোঝার সময় নয়। কাঁধে ঝোলানো ছোট চামড়ার ব্যাগের মুখটা হাঁ করে একটা টাকা বের করে নিল অতসী। স্বামীর দিকে এগিয়ে যেতে যেতে ক্ষুন্ন গলায় বলল, “তুমি ডাক্তারদের বারণ-টারন যদি না মানো..সত্যি, কথা না শোনো, অসুখ কী করে সারবে।” স্বামীর অনড় হাতের মুঠোয় টাকাটা গুঁজে দিল অতসী।

    লছমির মাকে দিয়ে ভাল সিগারেট আনাবে, ভাত খেয়ে একটা আর বিকেলে চা খেয়ে একটা খাবে—তার বেশি নয়, আমি ফিরে এসে কিন্তু গুণে দেখব…” স্বামীর চোখে চোখ রেখে একটু হাসল অতসী। একবার ইচ্ছে হল নবেন্দুর কপালে ছেলে-ভুলোনো গোছের একটা চুমু খায়। দরজা জানলা খোলা, নবেন্দুর গায়ে রোগশয্যার বাসি গভীর গন্ধ…অতসী জানলার দিকে তাকায়, ওখানে মাঠে বেলা যেন অফিসের জানান দিচ্ছে। “আমি চলি……।”

    অতসী তার ঘরে গিয়ে দাঁড়াল কয়েক মুহূর্ত, টুকিটাকি গুছিয়ে নিল। যেন অতসী এখনও আছে, বা আবার ঘরে আসবে।

    মনে মনে অতসীকে ঘরের সদর পেরিয়ে পায়ে চলা পথে নামতে দেখল নবেন্দু, খানিকটা হেঁটে বাতাবিলেবুর গাছতলা ডিঙিয়ে রাস্তায় উঠতেও দেখল। পিছন থেকে অতসীকে কেমন দেখাচ্ছে, নবেন্দু তাও পরখ করে দেখল। ও যদি জোরে হাঁটে রাস্তার লোক নজর করে দেখবে, যদি ধীরে হাঁটে……

    হাতের টাকাটা বুড়ো আঙুলে কেমন গ্লানির সঙ্গে বিতৃষ্ণায় আহত মনে আস্তে আস্তে ঘষতে লাগল নবেন্দু। দুটো বরাদ্দ সিগারেট যেন নেহাত দায়ে পড়ে মঞ্জুর করে গেল অতসী। ডাক্তারের বারণ। তা ঠিক, বারণই। শুধু সিগারেটটাই কি বারণ? যদিও অতসী নেই, তবু অতসীকে যেন মুখোমুখি পেয়ে নবেন্দু থরথরে গলায় জ্বালা-জ্বালা চোখে বলল, শুধু কি সিগারেট খেতেই বারণ করেছে আমায় ডাক্তার সেন? কি কি বারণ করেছে, কি কি করতে বলেছে, তুমি কি সবই মানছ? আমায় তুমি সকালে মুরগির ডিম দুটো করে দাও, আধ সের দুধ? আমায় তুমি ভাল মাছ কি মাংস খাওয়াতে পার? কমলালেবু? আমার নড়াচড়া একেবারে কি বারণ নয়, তুমি কি আমায় বিছানায় পুতুলের মতন চব্বিশঘণ্টা শুইয়ে রেখেছ? আমি যে নিজের হাতে খাই, কাঠের পুতুলের মতন আধ-পাশ হয়ে ফিরি, আমি যে…….

    মাঠের বুক দিয়ে মস্ত এক ছায়া হু হু করে ভেসে যাচ্ছিল। রোদ একটু চাপা চাপা। নবেন্দু ছায়া দেখতে লাগল। অল্পক্ষণের মধ্যেই ছায়া কোথায় চলে গেল, নবেন্দু দেখতে পেল না।

    ওরা এসে গেছে ওদিকে। নবেন্দু দেখেত পাচ্ছিল, গাছ কাটার দলটা দূরে এসে গেছে। মাঠের পুব দিকের গাছটা পরশু কাটা শেষ হল। আজ আবার একটা শুরু হবে। ক’টাই বা গাছ, ছ’ না সাতটা যেন। এত বড় মাঠের মাত্র ওই ক’টা গাছ তাও রাখবে না। কার গাছ? কি গাছ? জামরুল, কাঁঠাল, জাম? নবেন্দুর পক্ষে জানা সম্ভব নয়। অনেকটা দূরে গাছগুলো। একটা গাছই যা সামনে, নবেন্দুর চোখে পড়ে, পাতাগুলো পর্যন্ত চেনা যায়, কাঠচাঁপা। কাঠচাঁপার কাঠ বেচা যায় না। ওটা থাকবে। বাকিগুলো এখন কাটা হবে, কাঠ বেচা হবে।

    হাতের টাকাটা বালিশের তলায় রাখল নবেন্দু। মাঠের রোদের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে অতসী কতদূর চলে গেছে এতক্ষণে ভাবল একবার। এখনও বেশি দূর যেতে পারেনি। অতসী কি একটা সাইকেল রিকশা নেবে? নিতে পারে। স্টেশন অনেকটা দূর। অন্তত, অতসী হেঁটে এতক্ষণে যদি গির্জের কাছাকাছিও গিয়ে থাকে তবু আরও পনের বিশ মিনিটের রাস্তা। এতখানি রাস্তা কি হাঁটবে অতসী?

    রেলের মেয়ে টিকেট কালেক্টাররা কি গরম জামা গায়ে দেয় না? তাদের কি শীত নেই?

    নবেন্দুর নিজেরই এখন শীত শীত করছিল। মাঠটার শীত নেই, দিগন্ত মেলা গরম রোদের মধ্যে পড়ে আছে। নবেন্দুকে কেউ যদি ওই রোদে খানিকক্ষণ শুইয়ে দিয়ে আসে!…আলতো করে ডান হাতের আঙুল দিয়ে কপাল ঘষতে লাগল, নিজের আঙুলের ডগার ঠাণ্ডা কপালের শুকনো খসখসে চামড়ায় অনুভব করতে পারছিল নবেন্দু। মাথাটা ঠাণ্ডা। অতসী আজ ভাল করে মাথা ধুইয়ে দেয়নি, আজ তার তাড়া ছিল, তবু মাথা ঠাণ্ডা। নবেন্দু আঙুলের ডগায় চুল টানল, টিপে টিপে জল দেখল, চুলে জল আছে, অতসী ভাল করে মাথা মুছিয়ে দিতে পারেনি। অফিসের তাড়ায় অতসী দায়সারা কাজ সেরেছে।

    নবেন্দু মাঠের দিকে চেয়ে মনে মনে অতসীকে দেখল। সাইকেল রিকশায় বসে আছে অতসী। ডি এস অফিসের সামনে দিয়ে সোঁ-সোঁ করে ছুটে চলেছে সাইকেল রিকশাটা। ছবিটা প্রায় স্পষ্ট নির্ভুল করে দেখবার জন্যে নবেন্দু চোখ বুজল। দেখতে পেল: পিচ বাঁধানো চওড়া মসৃণ রাস্তা, দু পাশে গাছের সার, ছায়া বেশি রোদ কম, সাইকেল রিকশার ওপর অতসী বসে, রিকশাটা কাঁপছে দুলছে টাল খাচ্ছে, উড়ে চলেছে রিকশাটা, রিকশাঅলা হ্যাণ্ডেলে বুক প্রায় লেপটে দিয়ে প্যাডেল মারছে; বাতাসের দাপটে অতসীর পায়ের কাছে কাপড় আরও ফুলে ফেঁপে উঠেছে, আঁচল উড়ছে।

    ওর কি শীত করে না? ডি এস অফিসের ঠাণ্ডা কনকনে হাওয়া যেন এতদূরে এসে নবেন্দুকে কাঁপিয়ে দিয়ে গেল। র‍্যাপার গলার কাছে আরও ঘন করে রাখল নবেন্দু। মাঠের রোদ, গভীর ঘন দয়ালু সুন্দর রোদ দেখতে লাগল করুণ অসহায় চোখে।

    নবেন্দু অনুভব করতে পারছিল, রোদের—সামান্য একটু শীতের রোদের জন্যে ওর মন ছটফট করছে। নিজেকে বড্ড ঠাণ্ডা লাগছে, চোখ ঠাণ্ডা, ঠোঁট ঠাণ্ডা, হাত ঠাণ্ডা। নিজের হাতের চামড়া দেখতে ইচ্ছে করছিল নবেন্দুর। দেখল না; দেখতে সাহস হল না। হাত দুটো আগের মতন মোলায়েম মসৃণ নেই, কেমন খসখসে খড়ি ওঠা ওঠা, ছিট ছিট সাদা দাগ ধরতে শুরু করেছে হাতে, নবেন্দু সাহস করে এক পলক দেখে নিল, কত যেন বয়েস হয়ে যাচ্ছে হাত দুটোর, বয়েস হচ্ছে, বেজুত হচ্ছে, রক্তমাংসর গন্ধ হারাচ্ছে …।

    মাঠে গাছ কাটা শুরু হল। না, এখনও শুরু হয়নি। হবে। দুটো লোক জামা খুলল। নবেন্দু দু চোখ তীব্র করে মাঠের মানুষ দুটিকে দেখবার চেষ্টা করল: এদের জামা খোলা সবল গা, বুক পিঠ কোমর মেরুদণ্ড…

    আস্তে করে, নিজের অজান্তে, নবেন্দু ডান হাতটা তার নিজের গায়ে রাখল। কাঠের মতন শক্ত বস্তুটা অনুভব করতে পারল নবেন্দু। ওর বুক নেই, পিঠ নেই, চামড়ার স্পর্শ নেই, হাড় ছোঁয়া যায় না। প্লাস্টারের খাঁচার মধ্যে একটি মানুষের বুক পিঠ পেট মুড়ে রেখে শরীর বিজ্ঞানের ক্রিয়াটুকু চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বুকের কোথায় হৃৎপিণ্ড বাজছে, কোথায় যে ফুসফুস এই মুহূর্তে ভারি হয়ে এল, বেদনায় অসাড় হয়ে গেল, নবেন্দু হাত রেখে অনুভব করতে পারবে না।

    এতক্ষণে স্টেশনে পৌঁছে গেছে অতসী। তার পৌঁছনোর পর প্লাটফর্মের টিকিট কালেক্টারদের ঘরখানা একটু এলোমেলো হয়ে যাবে। একজন চা খেতে খেতে ওর ফোলানো ফাঁপানো মাড়-খসখসে শাড়ি দেখবে, সিগারেট টানবে, চোখ বুজবে আর মাঝে মাঝে খুলবে, অন্যজন ওর বাসন্তী রঙের ব্লাউজের দিকে হাঁ-করে চেয়ে থাকবে; গলা ঘাড় মুখ আর-আর কিছু দেখার মতন লোকও ওখানে স্টেশন প্লাটফর্মে অঢেল।

    একটুক্ষণ অন্যমনস্ক থেকে শেষে মাঠের দিকে তাকাল নবেন্দু। গাছ কাটা শুরু হয়ে গেছে। দূর থেকে নিয়মিত ছন্দ রেখে জোড়া কুড়ুলের শব্দ ক্ষীণ হয়ে ভেসে আসছে। নবেন্দু গাছ কাটার শব্দ শুনতে লাগল। অস্পষ্টভাবে দুটি গা-খোলা মানুষের কালো কালো চেহারা মাঠে ভাসছিল।

    নবেন্দু নিজের গোটা চেহারাটার কথা ভাববার কথা চেষ্টা করছিল। এখন ঠিক ঠিক ভাবা যায় না। অনেক দিন আগে দেখা কোনো স্বপ্ন মনে করার মতন, মনে পড়ে না, একটু-বা পড়ে। অথচ এ অনেক পুরনো কিছু নয়। গত শীতেও নবেন্দু রোদে তেল কুয়ার জলে প্রাণভরে স্নান করেছে। ওর বুক ছিল, পিঠ ছিল, মেরুদণ্ড ছিল…আজ এই বুক পিঠ মেরুদণ্ড গাঁথা শারীরিক আকারটা মনে করা মুশকিল, তবু নবেন্দু অনুভব করতে পারে, আকারটা বিসদৃশ ক্ষীণ অথবা জন্তুর মতন ছিল না। মানুষের, স্বাভাবিক সুস্থ মানুষের মতন ছিল। অতসী এই বুকে মাথা রেখেছে, বিছানায় শুয়ে এই পিঠে মুখ ঘষেছে…।

    অতসী, আমার কি নিজের বুক আছে, সেই পিঠ, মেরুদণ্ড…? আমি কি মাঠে খোলা গায়ে রোদ মেখে দাঁড়িয়ে থাকতে পারব? তুমি কি আর কখনও আমার বুকে মাথা রাখবে, তোমার মাথার কাঁটার আঁচড় লেগে বুকটা ছড়ে যাবে?

    মাঠে হরিয়াল নেমেছে। এ দেশে বুঝি এই একটা হরিয়ালই আছে। মাঝে মাঝে মাঠটায় আসে। নবেন্দু হরিয়াল দেখছিল। গাছ কাটার শব্দ ভেসে আসছে। রোদটা যেন এইবার আড়মোড়া ভাঙল।

    “দাদাবাবু।” লছমির মা ঘরে এসেছে।

    নবেন্দু বালিশ থেকে মাথা সরাল এ-পাশে। দরজা ডিঙিয়ে লছমির মা দাঁড়িয়ে আছে। বেঁটে গোলগাল সবল চেহারা। রঙ কালো। মুখে তৎপরতা। নবেন্দু এক পলক সুস্থ সবল মেয়েটার বুকের দিকে তাকাল। অপটু কুমোরের হাতে তৈরি প্রতিমার মতন কেমন যেন ভোঁ ভোঁ তাল তাল সব, কিন্তু খুব কঠিন জীবন্ত। ওর—লছমির মার বেশ শক্ত কঠিন পিঠ এবং মেরুদণ্ড আছে: নবেন্দু প্রায় নিশ্চিতভাবে ভেবে নিল।

    “ভাত আনব?” লছমির মার বাংলা কথা বলতে অসুবিধে হয় না। জিবের জড়তা তার অল্প। অনেককাল এদেশে বাঙালীবাবুদের বাড়িতে কাজকর্ম ছেলেবেলা থেকেই।

    “আনো।” নবেন্দু দরজার মাথার ওপর টাঙানো ক্যালেন্ডারটা দেখছিল। বাংলা তারিখের ফালতু ক্যালেন্ডার। পা-মুড়ে হাঁটু-ভেঙে বসা এক মেয়ের ছবি গলবস্ত্র হয়ে প্রণাম করছে, সামনে বুঝি শ্রীকৃষ্ণ মূর্তি।

    নবেন্দুর নিজের মার কথা মনে পড়ল। মার ভীষণ পুজো-আর্চার বাই ছিল। মা অনেকটা ওইভাবে বসত। মার বসা এমনিতেই সুন্দর ছিল। মার বসায় কেমন একটা নিবেদনের ভাব ফুটে উঠত। চোখ বুজে নবেন্দু মার সেই বসার ছবি মনে করতে লাগল।

    লছমির মা ঘরে এল। ঘরের এক কোণ থেকে উঁচু হালকা তেপায়াটা নবেন্দুর বিছানার পাশে একেবারে খাট ছুঁইয়ে মাথার কাছে রাখল। বাইরে গেল। খাবার জলের গ্লাস এনে রাখল, আবার গেল, ভাতের থালা এনে রাখল।

    নবেন্দু যখন চোখ খুলল, চোখের তলায়, পাতায় বেদনার গাঢ়তা, সাদা জমিটা আরও সাদা, স্বচ্ছ।

    লছমির মাকে এবারে একটু সাহায্য করতে হয়। নবেন্দুকে একটা ভারি কাঠের পুতুলের মতন সামান্য মাথার দিকে তুলে সরাসরি পাশ ফিরিয়ে দিতে হয়, বালিশগুলো পিঠের দিকে প্রয়োজন মতন ঠেকা দিয়ে দিতেও হয়। নবেন্দুও দু হাতের ভরে নিজেকে খানিকটা সামলে নেয়।

    লছমির মার গায়ের গন্ধ, হাতের ছোঁয়া, নবেন্দুকে আরও বিষণ্ণ করে। নোংরা কাপড়, ময়লা চামড়ার তলায় লছমির মার বুকে যে গন্ধটা আছে সেটা মার মতন, ঠিক মার মতন। এমন কি ওর হাতের ছোঁয়াতেও ঠিক এই মুহূর্তে নবেন্দু মাকে অনুভব করতে পারে।

    ভাতের থালায় চোখ রেখে একটু অপেক্ষা করল নবেন্দু। ভাতের চালগুলো কেমন হলুদ হলুদ রঙ। অতসী কি ভাতের হাঁড়িতে হলুদ ফেলে দিয়েছে? ওটা কি? পেঁপে সেদ্ধ। পালংশাকের তরকারিটাও দেখল নবেন্দু। আজ ছোট ছোট মাছ।

    “কি মাছ?” নবেন্দু ডান হাত বাড়াল।

    “নদীর।” লছমির মা দাদাবাবুর হাতে সন্তর্পণে একটু জল ঢেলে দিল।

    “বড় মাছ বাজারে ছিল না?” নবেন্দু ভাত ভাঙতে লাগল।

    “তিন টাকা সের।”

    লছমির মা চলে গেল। নবেন্দু পেঁপে সেদ্ধগুলো পাতের এক পাশে ঠেলে রাখল। একটু ডাল তুললো আঙুলের আঁজলায়। জঘন্য পালংশাকের তরকারিটা কালো। বাঙালদের মতন লঙ্কা খেতে শুরু করেছে অতসী।… তুমি কার মুখের স্বাদের মতন রান্না কর অতসী, তোমার না আমার? মাছের বাটিটা ভাতের ওপর। উলটে দিল নবেন্দু। কড়ে আঙুলের মতন ক্ষুদে ক্ষুদে মাছ, কাঁটায় ভর্তি। কয়েক গাল ভাতের পর গ্রাসটা গলায় আটকে গেল নবেন্দুর। যেন ভীষণ শক্ত একটা ইটের টুকরো কেউ তার গলার মধ্যে পুরে দিয়েছে। নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট হচ্ছিল তার। গলার কাছটা ফুলে উঠেছে, টনটন করছে।

    জল খেল নবেন্দু। ভাতের গ্রাস গলা থেকে নেমে গেল, ব্যথা গেল না। মাঠের দিকে তাকাল। মাঠ ফাঁকা। গাছ কাটা বন্ধ, ওরা জিরোচ্ছে, রোদ পাশ ফিরেছে, আঁচের মতন রঙটা গাঢ় ঘন হয়ে আসছে। হরিয়ালটা কখন উড়ে গেছে কে জানে।

    নবেন্দু তার বুকের ভার এবার অনুভব করতে পারল। গলার নালীতে যে আবেগ এতক্ষণ ধরে পুঁটলি পাকাচ্ছিল, শক্ত করুণ কষ্টকর হয়ে শেষে অসহ্য হয়ে উঠল, নবেন্দু সে-আবেগকেও অনুভব করতে পারল। চোখে জল জমছে বোধ হয়, রোদের গায়ে ঝাপসাটে ভাবটা ফুটে উঠল।

    আজ যদি মা থাকত…! নবেন্দুর মা যেন ওই ফাঁকা রোদভরা মাঠে দাঁড়িয়ে আছে, নবেন্দু কেমন প্রত্যাশার চোখে মাঠের দিকে তাকিয়ে মনে মনে তার এই অসহায় অবস্থার কথা বলতে চাইছিল। তুমি বেঁচে থাকলে আজ আমার কাছে সারাক্ষণ থাকতে, সারা সকাল, সারা দুপুর, সারা বিকেল।

    দুধের বাটিটা এক চুমুকে শেষ করে গ্লাসের পুরো জলটাই খেয়ে ফেলল নবেন্দু। দুধ এবং অতটা জল পেটে পড়ার পরও নবেন্দু বুঝতে পারল, সে ক্ষুধার্ত রয়েছে। প্রায়ই তাকে এই রকম ক্ষুধার্ত থাকতে হয়।

    অতসী এখন কি করছে? প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে পান খাচ্ছে বোধ হয়। মেল ট্রেনটার অপেক্ষা করছে। অতসীর পাশে নন্দী দাঁড়িয়ে আছে। হাসাহাসি হচ্ছে। নন্দী নাকি ফুর্তিবাজ খুব। ফুর্তির চোটে দিন দিন মোটা হচ্ছে। ঘুষের পয়সায় ওজন বাড়াচ্ছে।

    লছমির মা এক ঘটি জল হাতে ঘরে এল। নবেন্দু হাত ধুল, ভাতের থালার ওপর। ভাত ডাল তরকারি মাছ মাখা গ্রাস নোংরা হয়ে সমস্ত থালায় ছড়িয়ে গেল। বিশ্রী দেখাচ্ছিল থালাটা। নবেন্দু দেখছিল, অদ্ভুত একরকম আক্রোশ হচ্ছিল, কুলকুচোর মুখ ভর্তি জল থালার ওপর ফেলে দিল, ছুড়ে দিয়ে নিষ্ঠুর সুখ পাচ্ছিল নবেন্দু। মনে হচ্ছিল, সে যা খেয়েছে সবটা বমি করে ফেরত দিয়ে দিয়েছে। থালার চেহারাটা বমির মতনই দেখাচ্ছিল।

    লছমির মা কিছু বলল না। এ-বাড়িতে কাজ করে সে অনেক কিছু জেনেছে, শিখেছে। থালাটা উঠিয়ে নিয়ে চলে গেল। আবার এল, যেন গেল আর এল, এসে, টেবিলটা মাথার দিকে সামান্য সরিয়ে রাখল। জলের কেটলি। বার বার তেষ্টা পায় নবেন্দুর। অন্য একটা বেতের পা-ভাঙা টেবিল বিছানার কাছে এনে দিল। টেবিলটার ওপর গোটা চারেক গোল গোল বোতল। নবেন্দুর হাতের নাগালের মধ্যে এ-সবই রাখতে হবে। অতসী ফিরে এসে বোতলগুলো ধুয়ে এনে আবার রেখে দেবে।

    নবেন্দুকে আবার ধরতে হল। বালিশটা ব্যবস্থা মতন উঁচু করে নিয়ে সে আবার শোবে।

    লছমির মার হাত থেকে নবেন্দু এবার সোডা সাবানের গন্ধ পেল। উগ্র ক্ষার গন্ধ।

    লছমির মা চলে গেল। যাবার সময় ঘরের দরজাটা বাইরে থেকে টেনে দিল।

    বালিশে মাথা রেখে নবেন্দু নিজেকে গুছিয়ে নিল। র‍্যাপারটা গলার পাশে বুকের দিকটায় মেলে দিল। লেপ পেটের ওপর পর্যন্ত টেনে নিল।

    মাঠের দিকে চেয়ে থাকল নবেন্দু। রোদ ক্রমশই গাঢ় ঘন হচ্ছে, ঝকঝকে ভাবটা আর নেই। কাঠচাঁপার গুঁড়ির কাছে ছোট্ট ছায়া। একটা ধুনুরি মাঠ পেরিয়ে চলে যাচ্ছে। গাছ কাটা লোক দুটো এখনও বসে আছে। দুটো মোষ চরছে এক পাশে। মাঝে মাঝে ধুলো উড়তে শুরু হয়েছে।

    অতসীদের স্টেশনে মেল ট্রেন এতক্ষণে চলে এসেছে। অতসী লেডিজ কম্পার্টমেন্টে উঠে টিকিট দেখে নিচ্ছে যাত্রীদের। অতসীদের হাতে সেই টিকিটকাটা যন্ত্র, অতসীর হাতে একটা ছোট খাতা। মেল ট্রেন চলে গেলে অতসী চা খাবে।

    নবেন্দুর সিগারেট খেতে ইচ্ছে করছিল। বালিশের তলায় অতসীর দিয়ে যাওয়া টাকাটা আছে। …না, অতসীর টাকা খরচ করবে না নবেন্দু। বড্ড পরিশ্রমের পয়সা, অনেক ঘামের পয়সা তোমার, আমি সিগারেট খেয়ে নষ্ট করব না। তা ছাড়া ডাক্তারের বারণ—।

    প্লাটফর্মে অতসীর ভারিক্কি চালে ঘুরে বেড়ানোর ছবিটা নবেন্দুর চোখে পড়ল। গায়ে হাওয়া এবং রোদ লাগিয়ে অতসী ঘুরছে, এক সময় মেল ট্রেন ছেড়ে দিল। অতসী নন্দীকে একটা ডবলু-টি দিয়েছে। এবারে নন্দীর খপ্পর। মেয়ে ডবলু-টি, খুব বেশিক্ষণ দর কষাকষি চলবে না। হয়ত মেয়েটির রুমালে বাঁধা থার্ড ক্লাসের টিকিটও আছে বর্ধমান পর্যন্ত। বাড়তি পথটুকুর জন্যে আর কত? আপার ক্লাসে আসার জন্যেই বা আর কত? অতসী ওয়েইং-মেশিনটার কাছে দাঁড়িয়ে আড়চোখে-চোখে নন্দীর কাজ গুছোনো দেখছে। এই মেল ট্রেনটা আজকের দুপুরে দেড় দু টাকা দেবে অতসীকে। নিজের হাতে এত সব পারে না অতসী। পারে না।

    বালিশের তলা হাতড়ে প্যাকেটটা পেল নবেন্দু। কাল সন্ধ্যাবেলা যামিনী দেখা করতে এসেছিল। যাবার সময় প্যাকেটটা ফেলে গিয়েছে। রাত্রে এবং আজ সকালে তিনটে সিগারেট মোট খেয়েছে নবেন্দু, আরও গোটা তিনেক আছে।

    একটা সিগারেট ধরাল নবেন্দু। দেশলাইয়ের জন্যে হাঁক দিতে হল না। বালিশের তলাতেই আছে।

    মাথার চারপাশে নবেন্দুর সমস্ত সংসার। এর কোথায় যে রুমাল আছে, মাফলার আছে, দেশলাই আছে, কার কার চিঠি, দু একখানা উপন্যাস, আইসোপ্যাসকেলের শিশি, ইনহেলার, মাথা ধরার মলম—নবেন্দুই জানে।

    সিগারেট ধরিয়ে নবেন্দু আস্তে আস্তে টান দিল। মাঠের দিকে তাকাল। একটানা ঘাস থাকলে মাঠটা বেশ সবুজ দেখাত। মাঠের মধ্যে সবুজ রঙটা ছিটিয়ে রয়েছে। যেখানে সবুজ সেখানে রোদ কটকট করছে না, বৃক্ষ তৃণহীন লাল মাটিতে রোদ কেমন শুকনো শুকনো। কটা কাক এসেছে। আবার এক সময় চলে যাবে। গাছ কাটা আবার শুরু হল।

    নবেন্দু বা হাত মাথার উপর দিয়ে বালিশের পেছনে নিয়ে গেল। মোটা বইটা টেনে নিল অক্লেশে। তিনশো একুশ পাতা পর্যন্ত পড়া হয়েছে। বইটা শুরু করার আগে সিগারেট শেষ করবে নবেন্দু।

    অতসীর এতক্ষণে চা খাওয়া শেষ হল। প্লাটফর্মের ঠাণ্ডা ঘরটায় কতক্ষণ ও বসে থাকবে কে জানে! কেন যে বসে থাকে তাই বা কে বলবে। ওর কি শীত করে না? পৌষের এই শীতে একটা গরম কিছু গায়ে না দিয়ে অতসী কি করে যে বাইরে বেরুল?

    সিগারেট শেষ হল নবেন্দুর। টুকরোটা জানলার দিকে ছুড়ে দিল। ডান হাত বাড়িয়ে জলের কেটলিটা তুলে নিল, জল খেল সামান্য, কেটলি রেখে এবার বইয়ের পাতা খুলল। তিনশ পঁচিশ পাতার তলার দিকটায় একবার চোখ বুলিয়ে পাতা উলটে চব্বিশে চলে গেল।

    ‘ঘরে রুমা বৌদি নেই, দরজায় তালা ঝুলছে।’ তিনশ পঞ্চাশ পাতার মাঝখানে নবেন্দুর চোখ থামল। মন এলোমেলো হল। লছমির মা কাপড় টাপড় কাচছে। আছড়ে আছড়ে। শব্দ কানে লাগছে। কেমন যেন ক্লান্তিকর এই শব্দটা। মাঠ থেকে গাছ কাটার শব্দও ভেসে আসছে। নবেন্দুর মনে হল তার দুপাশে ঘরে বাইরে—ক্রমাগত ক্লান্তিকর প্রাণহীন দুই শব্দ তাকে আরও ক্লান্তি আরও শূন্যতার মধ্যে নিয়ে যাচ্ছে।…অতসী তাকে প্রত্যহ এই রকম এক শূন্যতার মধ্যে রেখে দিয়ে চলে যায়। সারাটা দুপুর সে একা—একা। তুমিও আমার ঘরে তালা ঝুলিয়ে চলে যাও অতসী। একদিন আমি এবাড়ির দরজায় তালা ঝুলিয়ে চলে যাব, অফিস থেকে ফিরে এসে তুমি দেখবে আমি নেই, দরজায় তালা ঝুলছে।

    চোখের সামনে থেকে বই সরিয়ে খাঁ খাঁ মাঠের দিকে চেয়ে থাকল নবেন্দু। রোদ হলুদ হয়ে আসছে। বাতাস নেমেছে মাঠে। এই দুপুরে মাঝে মাঝে পাতা খসে পড়ে, উড়ে উড়ে চলে যায়। দুপুরে মাঠটাকে বড় একঘেয়ে লাগে। যেন এই মাঠের ঘরেও কোথাও কেউ তালা ঝুলিয়ে চলে গেছে।

    চোখ জড়িয়ে আসছিল। মাথার তলায় কোথায় একটা অবশ অনুভব ক্রমেই গভীর হয়ে চোখের পাতা ভারি করে তুলেছে। নবেন্দু বুঝতে পারল, তার ঘুম আসছে। বই পাশে রেখে দিল। ঘুমের কাছে এই মনটাকে এখন পুরোপুরি তুলে দেবার জন্যে নবেন্দু তৈরি। এখন তার ঘুমোবার ইচ্ছে করছে ভীষণ, ঘুমিয়ে এই ক্লান্তি—বিরক্তিকর ক্লান্তি সে ভুলে থাকতে চায়। চোখ বুজল নবেন্দু, একটা হাত চোখের পাশ দিয়ে টেনে নিল, আলো আড়াল করে পড়ে থাকল। অতসীকে স্টেশনে রিফ্রেশমেন্টরুমে একবার দেখতে পেল নবেন্দু, পরিমল মুখুজ্যেকে দেখল; বেনারস এক্সপ্রেস এল, তারপর সমস্ত কেমন বিশৃঙ্খল আবছা হয়ে এক সময় ঘুম এল। নবেন্দু ঘুমিয়ে পড়ল।

    তন্দ্রার মধ্যে চড়াইগুলো কিচমিচ করে উঠতে নবেন্দু বিরক্ত হল। দুরে কোথায় যেন কাকও ডাকছে। সাইকেল রিকশা থেকে নামছিল নবেন্দু, হঠাৎ এই ঘুম এবং স্বপ্নের দরজাটা কেউ দু হাতে ধাক্কা দিয়ে পুরোপুরি খুলে দিল। নবেন্দু চোখ খুলে জানলার দিকে তাকাল। একটুক্ষণ আচ্ছন্নতার মধ্যে ঠিক বুঝল না, সকাল না বিকেল; পর মুহূর্তেই বুঝতে পারল বিকেল হয়ে গেছে, নবেন্দু বিছানায় শুয়ে।

    বিকেল হয়ে গেছে। নবেন্দু মাঠের দিকে তাকাল। শীতের রোদ মরে এল। মাঠের রঙ ফিকে হয়ে এসেছে। কাঠচাঁপার ওপাশে ছায়া গড়িয়ে যাচ্ছে। হাত বাড়িয়ে জলের কেটলিটা নিতে গেল নবেন্দু। লছমির মা নিয়ে গেছে। তার বদলে জল রেখে গেছে এক গ্লাস। জল খেয়ে গ্লাস রেখে দিল নবেন্দু। টেবিল থেকে শিশি টেনে নিল।

    নবেন্দু এবার আস্তে আস্তে অন্য কাজগুলো সেরে ফেলল। ওষুধ খেল, বিছানার এক পাশ থেকে রুমালটা হাতড়ে নিয়ে মুখ মুছল, বই বালিশের পাশে রেখে দিল। লছমির মা বিস্কুটে মাখন লাগিয়ে গোটা চারেক বিস্কুট আর চা দিয়ে গেল। অদ্ভুত এক ধরনের অন্যমনস্কতার মধ্যে একে একে প্রত্যেকটি কাজ সারতে লাগল নবেন্দু, যেন সব সেরে তৈরি হয়ে সে কারও অপেক্ষায় বসে থাকবে।

    শীতের পড়ন্ত বিকেল প্রতি পলকে ফুরিয়ে যাচ্ছে। মাঠের কোল থেকে ফিরে প্রায় অন্তঃসারশূন্য রোদটুকু উঠে যাচ্ছে। গাছ কাটার শব্দ থেমেছে। উলটো পালটা হাওয়ার দমকা আর নেই। মাঠটা এখন ভীষণ নিস্তব্ধ, রিক্ত, শূন্য; একটিও পাতা উড়ছে না, একটিও পাখি নেই কোথাও।

    নবেন্দু এই মুমুর্ষূ রিক্ত মাঠের দিকে চেয়ে আছে। এখন বাইরের ছায়ার সঙ্গে পা মিলিয়ে তার মনে আস্তে আস্তে অদ্ভুত এক বিষণ্ণতা, অধৈর্য, বেদনা নামবে, ছায়া যত ঘন হবে শীতের সন্ধের অন্ধকারে ডুবে যারে, নবেন্দুর মনের এই শূন্যতা আকুলতা ততই আশ্চর্য এক হাহাকারে অসাড় হয়ে আসবে।

    এই বিকেল-যায় সন্ধে-হয় সময়টা নবেন্দুর কাছে অসহ্য। এই সময়টা তাকে শুকনো পাতার মতন তুলে নিয়ে কোথায় না উড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়! অতীতে নিয়ে যায়, বর্তমানে ফিরিয়ে আনে, ভবিষ্যতের দিগন্তে ছুড়ে দেয়। এই সময়টা তাকে কিসের এক জালে জড়িয়ে ফেলে। নবেন্দু মনকে মুক্ত করতে পারে না।

    রক্ত ওঠা অবসন্ন মুমুর্ষূর মতন শেষবার রক্ত তুলে মাঠটা যেন মরে গেল। আলো নেই। আয়নার কাচের রঙের মতন কেমন জলো রঙ ছড়িয়ে আছে চার পাশে। দূরের জঙ্গল দূরান্তে কালো মেঘ হয়ে গেছে। বিক্ষিপ্ত চিকণ স্বরে মাঠটা ভরে গেছে। ঝাঁক বেঁধে পাখিরা ফিরছে।

    অতসী ফিরছে না। অতসী এখনও স্টেশনে। ও-পাশে বাতাবি লেবুর কাছে রাস্তাটা এখন ভরে গেছে। কত লোক ফিরছে। সাইকেল রিকশা ঘন্টি বাজিয়ে আসছে, যাচ্ছে, আসছে। মিউনিসিপালিটির বাতিগুলো জ্বলে উঠেছে বোধ হয়।…আমায় পাশের ঘরে বিছানা করে দাও না কেন, অতসী? ও পাশের ঘরে জানলার কাছে বিছানাটা থাকলে আমি শুয়ে শুয়ে রাস্তাটা দেখতাম। দেখতাম, সারাদিনের কাজ চুকিয়ে যারা ফিরছে তাদের ভিড় ফাঁকা হয়ে গেলে কতক্ষণ পরে তুমি ফের!…আমি অফিস থেকে ঠিক এই সময় ফিরতাম। এই সন্ধে হয়-হয় মুখে। তুমি কেন ফের না?

    গাঢ় ছায়ায় মাঠ ভরে গেল। অন্ধকার নামল। নবেন্দু চোখের সামনে আর কিছু দেখতে পাচ্ছিল না। অন্ধকার যেন কুয়াশার মতন চার পাশ থেকে ভরে আসছিল। একটা বুনো পাখি কান্নার মতন ককিয়ে ককিয়ে ডাকছিল। পৌষের শীত হঠাৎ গা কাঁপিয়ে দিয়ে গেল।

    এখনও তুমি স্টেশনে বসে আছ, অতসী। তোমার কি সন্ধে হয় না? তোমার কি ডিউটি ফুরোয় না? তোমার অবস্থা বুঝে যারা এত সাহায্য করছে চাকরিতে, ডিউটিতে আসা-যাওয়ার, তারা কি তোমায় দানাপুর এক্সপ্রেসের আগে ছেড়ে দিতে পারে না? তোমার নন্দী, পরিমল, সিং, এরা তোমায় এই সন্ধেটুকু ধরে রেখে দিয়ে কী পায়? তুমিই বা কী পাও?

    সন্ধে হল। নবেন্দুর চোখের সামনে থেকে সারা-দিনের মাঠ হারিয়ে গেল। নবেন্দু জানলার বাইরে শুধু অন্ধকার আর শূন্যতা অনুভব করছিল। এবং পৌষের শীত।

    লছমির মা বাতি জ্বালিয়ে টেবিলের উপর রেখে গেল। নবেন্দু যেন এই মুহূর্তে মরে ছিল। তার সাড়া ছিল না, শব্দ ছিল না, সমস্ত শরীরটা সোজা কাঠ অনড় হয়ে পড়েছিল।

    অতসী ফিরল। বারান্দায় গলার শব্দ পাওয়া গেল লছমির মাকে কী যেন বলল অতসী। জুতো খুলছে ঘরের বাইরে। জুতো খুলে ঘরে এল। পাশের ঘরে। ও-ঘর অতসীর। নবেন্দু বুঝতে পারল না, অফিস থেকে ফিরে এসে ঘরে একা একা কি করে অতসী। হয়ত স্টেশনের সারাদিনের নানান সঞ্চয়ের হিসেব করে, কোথাও কিছু রাখার হলে সযত্নে রাখে। …আমি তোমার ঘরে যাচ্ছি না অতসী, আমার ক্ষমতা নেই, তুমি যেখানে খুশি যেমন খুশি তোমার সঞ্চয় মেলে রেখো, আমি দেখতে পাব না।

    অতসী আবার বারান্দায়। লছমির মার সঙ্গে কথা বলছে, হাত মুখ ধুচ্ছে।

    না, না আমি কিছু মনে করছি না, অতসী। হাজার হোক, এই ঘরে শুয়ে থাকার জন্যে আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞ, এই যে বাতিটুকু জ্বলছে এ-বাতিও জ্বলত না যদি-না তোমার পয়সায় লছমির মা কেরোসিন কিনে আনত। তুমি আমায় ন’ মাস বাঁচিয়ে রেখেছ। কে জানে আরও কত কাল রাখবে। আমার প্রতিটি দিনের বাঁচা আজ তোমার মুঠোয়। তুমি ঈশ্বরের মতন আমার আয়ু নিয়ে বসে আছ পাশের ঘরে।

    অতসী এ-ঘরে এল। এক হাতে চায়ের কাপ, অন্য হাতে নবেন্দুর দুধের গ্লাস। সকালের মতনই ময়লা শাড়ি, ময়লা জামা। নবেন্দুর মাথার কাছে তে-পায়ায় দুধের গ্লাসটা রাখল অতসী। বিছানার এক পাশে বসল।

    “তোমার প্লাসটার আগামী রবিবারে পালটাবে।” অতসী চা খেতে খেতে বলল।

    নবেন্দু স্ত্রীর মুখের দিকে চেয়ে থাকল। এত মিটমিটে আলোয় ভাল করে কিছু দেখা যায় না।

    “তুমি কি সেনের কাছে গিয়েছিলে?” নবেন্দু শুধলো।

    “না।…স্টেশনে হঠাৎ দেখা হয়ে গেল, ছোট বোনকে নামাতে এসেছিলেন।” অতসী কি যেন ভাবতে ভাবতে বলল। চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিয়ে মাথা ওঠাল আবার, স্বামীর বুক এবং পেটের দিকে তাকাল, ‘আবার আড়াইশো টাকা—’

    আবার আড়াইশো টাকা। মনে মনে নবেন্দু টাকাটার হিসেব করল। আগেও দু দফা আড়াইশো করে গেছে।

    “এক্সরে আছে, রক্ত পরীক্ষা আছে…” অতসী যেন বুকের তলা থেকে ঘুমের ঘোরে দুঃস্বপ্নের মতন কথা বলছে।

    নবেন্দুর কে জানে কেন, চোখে জল আসছিল। বুকের তলায় কে যেন ফুসফুস দুটো ফুলিয়ে ফুলিয়ে ভীষণ ভারি করে তুলছে। যন্ত্রণা হচ্ছিল খুব।… তোমায় বাঁচাবার জন্যে অতসী আবার এক দমকা আড়াইশো তিনশো খরচ করবে, নবেন্দু। নিজেকেই যেন মনে মনে বলল নবেন্দু।

    ঘর চুপচাপ। দেওয়ালগুলো প্রায় অন্ধকার। কড়ি-কাঠের দিকে চোখ তুলে অপলকে চেয়ে থাকল নবেন্দু।

    “ভাবছি বালা জোড়া এবার বেচব।” অতসী বলল, খাটো গলায়।

    “আমায় বাঁচাতে গিয়ে তোমার অনেক কিছু যাচ্ছে…” নবেন্দুর গলার স্বর মদ ভারি।

    নবেন্দুর কথা অতসী শুনল না বোঝা গেল না। আগের মতনই হতাশ গলায় বলল, “কিছু ধারও করতে হবে। দেখি—। পরিমলবাবুকে বলব … গোটা পঞ্চাশ টাকা দিতে পারবেন বোধ হয়—”

    আবার চুপচাপ। নবেন্দু পরিমলকে ভাবছিল। সুন্দর দেখতে ছোকরাকে। চমৎকার স্বাস্থ্য। ইনস্টিটিউটের থিয়েটারে নায়ক সাজে। “ভদ্রলোকের সঙ্গে তোমার। দেখা হয়েছিল বুঝি আজ?” নবেন্দু জানলার দিকে চেয়ে আচমকা শুধলো।

    “হয়েছিল।”

    পর পর এবার অনেকগুলো প্রশ্ন নবেন্দুর গলায় এল: তোমরা আজ রিফ্রেশমেন্ট রুমে চা খেয়েছ বুঝি? তোমায় ইনস্টিটিউশনের থিয়েটারে ওরা বুঝি নামাতে চায়? পরিমল তোমায় আজ সন্ধের পর আটকে রেখেছিল, না? ওর সঙ্গে স্টেশন থেকে রিকশা করে এক সঙ্গে ফিরলে—?

    নবেন্দু সমস্ত প্রশ্নগুলোকে জানলা দিয়ে মাঠের ঘন অন্ধকারে যেন ভাসিয়ে দিল। না, এ-সব প্রশ্ন করা তার অনুচিত। আগামী রবিবার আড়াইশো টাকা গুণে দিয়ে তার মেরুদণ্ডের চার পাশ পিঠ বুক জড়িয়ে পাকে পাকে নূতন প্লাসটার হবে। এখন বুকের তলায় কি জমছে না জমছে দেখা উচিত নয়। উচিত না।

    “দুধটা খেয়ে ফেল।” অতসী বিছানা থেকে উঠল। দুধের গ্লাস তুলে স্বামীর হাতে দিল। জানলার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল অতসী, জানলা আড়াল করে। হঠাৎ বুঝি পৌষের কনকনে শীত জানলা দিয়ে মুখ গলিয়ে অতসীর পিঠ ঠাণ্ডা অসাড় করে দিল। অতসী শীতে কাঁপল। “আ—, সারাদিন—সারাদিন এই জানলা খুলে রাখা। তোমার না ঠাণ্ডা লাগানো বারণ।” জানলার পাল্লা দুটো রূঢ় নির্মম হাতে বন্ধ করে দিল অতসী। স্বামীর দিকে তাকাল। “তোমার শীতও করে না?”

    আ, অতসী, আমিও সারা সকাল সারা দুপুর সারা বিকেল তোমায় ওই প্রশ্নটাই করছি, তোমার শীত করে না!

    অতসী বেতের মচকানো টেবিল থেকে দুটো আধ-ভর্তি বোতল নিয়ে চলে গেল। এখন সে আসবে না। এরপরে রান্নাঘরে।

    নবেন্দু বন্ধ জানলার দিকে তাকাল। চোখের সামনে মাঠটা আর মেলা নেই। তবু এখন মাঠ ভরে যে-শীত অন্ধকার শূন্যতা, নবেন্দু পরিপূর্ণভাবে তা অনুভব করতে পারছিল। এই ঘরে এই আদিগন্ত মাঠটা সন্ধের পর চুপি চুপি রোজ এসে দাঁড়ায়। সারা রাত ধরে কারা যেন গাছ কাটে। নবেন্দু তবু চুপ করে পড়ে থাকে। একাদিনে অবশিষ্ট গাছ কটাও কাটা হয়ে যাবে—তখন নবেন্দু আর বিকেলের জন্যে কাঁদবে না। আমি কাঁদব না, অতসী; তোমার অপেক্ষা করব না। মাঠ আমায় নির্বাক নিশ্চল অনড় হতে শিখিয়েছে: মাঠের মতন আমি অন্ধ হব। আমি অন্ধ হয়ে মনে মনে। তোমার সিঁথির সিঁদুর দেখব, তুমি আমায় বাঁচিয়ে রেখেছ।

    নবেন্দু দুধের গ্লাস মুখে তুলল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখোয়াই – বিমল করভ
    Next Article খড় কুটো – বিমল কর

    Related Articles

    বিমল কর

    কাপালিকরা এখনও আছে – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    রাজবাড়ির ছোরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    ঘোড়া সাহেবের কুঠি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    সেই অদৃশ্য লোকটি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    শুদ্ধানন্দ প্রেতসিদ্ধ ও কিকিরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    কিকিরা সমগ্র ১ – বিমল কর

    October 30, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }