Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চাশটি গল্প – বিমল কর

    বিমল কর এক পাতা গল্প1346 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গগনের অসুখ

    “এই নে, ছবিটা দেখ। আলোর জন্যে মুখগুলো ফরসা ফরসা হয়ে গেছে বেশি। মেজদিকে দেখতে পাচ্ছিস ? জানলার দিকটায় দাঁড়িয়ে আছে। ফুলদানির পাশে আমাদের লতু, কেমন বড়সড় হয়ে গেছে দেখেছিস ! শাড়ি পরে খোঁপা বেঁধে ফুল গুঁজে একটা লেডী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নতুনবউ মুখ আর-একটু তুলে রাখলে তুই পুরোপুরি দেখতে পেতিস। ভালোই দেখতে বুঝলি, গায়ের রঙটঙ চলনসই, কিন্তু বড্ড কচি মুখখানা, সুন্দর। নয়নটাকে দেখ, রাস্কেলটা বিয়ের মালা গলায় দুলিয়ে ফিলমের হিরোর মতন পোজ দিয়েছে। ওটা যে কী ফাজিল হয়েছে, একেবারে ডেঁপো হয়ে গেছে। অ, তুই জানিস, বিয়ের পর নয়ন আর একটা লিফট পেয়েছে ; ওদের ফ্যাক্টরি নিউ স্কীমে অনেকটা এক্সটেনশন করেছে। নয়ন গ্লাসগো যাবার একটা চান্স পাবে বোধহয়। যাই বলিস, নতুনবউ খুব ভাগ্যমন্ত। তোর বাবা তো আদর করে বউকে দু বেলা দুধের সর খাইয়ে দিচ্ছে। আমি তার কাণ্ড দেখে অবাক। জামাইবাবু আমার দিদির বেলায় একটা স্নো ক্রীমের শিশিও কোনোদিন হাতে করে কিনে আনে। নি। চান্স পেয়ে তোর বাবাকে এবার খুব শুনিয়ে দিয়েছি। আজকাল ওই ওলড ম্যান হাসে, কি বলে জানিস ? বলে, দেখ হে ছোটশালা—তোমার মেজদি এমনিতেই ননী ছিল, তাকে আরও দুধ সর খাওয়ালে স্নো ক্রীম মাখালে জিনিসটি গলে। যেত। …শুনলি তোর বাপের কথা। … যাই বলিস গগন, অনেক দিন পরে তোদের সংসারে বেশ একটা হাসি-খুশি দেখলাম। সবাই আনন্দ পেয়েছে। আমার এত ভাল লেগেছে রে, বিয়ে থা চুকে গেলে আর বাড়ি ফিরতে ইচ্ছে করছিল না। …ও হো, ভাল কথা ; নয়ন বলেছে তোর কাছে চিঠি লিখেছে দুটো, জবাব পায় নি—”

    গগন ফটোর দিকে তাকিয়ে নয়নকে আবার দেখল। ফুলশয্যার দিন নয়নদের শোবার ঘরে পরিবারের যাদের যাদের পাওয়া গেছে সবাইকে এক সঙ্গে জড়ো করে ফটো তুলে রেখেছে ছোটমামা। গগন আত্মীয়-স্বজনদের সকলকেই চিনতে পারছে! লতু বেশ বড় হয়ে গেছে। নয়ন মোটা হয়েছে আগের চেয়ে। নয়নের বউ—কি যেন নাম নতুন বউটির !

    “নয়নের বউয়ের কি নাম, ছোটমামা?” গগন জিজ্ঞেস করল।

    “সবিতা।” ছোটমামা গগনের বিছানায় আরও একটু ঝুঁকে যেন ঢিলে ঢালা হয়ে বসল। “বি-এ পর্যন্ত পড়েছে রে, গগন। কোয়াইট এনাফ ফর আওয়ার ফ্যামিলি, কি বলিস!”

    গগনের জানলার ওপাশে, বাইরে, বাগানে নতুন সার ঢেলেছে। সারের গন্ধ আসছিল। কিছু মাছিও জমেছে সারের গোড়ায়। মাঝে মাঝে নীল মাছি ডুকছিল ঘরে। গগন যখন আবার ছবিতে নয়নের বউকে দেখছে তখন একটা মাছি তার মুখের পাশ দিয়ে উড়ে গেল।

     

     

    ছবিটা চোখের কাছ থেকে সরিয়ে গগন দু মুহূর্ত সামনে তাকিয়ে থাকল, দেওয়ালের দিকে। দেওয়ালে তার আলনা। জামা ঝুলছে, পাজামা রাখা আছে।

    “ছোটমামা—”

    “বল।”

    “আমায় কবে নিয়ে যাচ্ছ ?”

    “তোকে—! …এবার তোকে নিয়ে যাব।” ছোটমামা যেন সামান্য ভেবে নিচ্ছে। চোখে ভাবনা, কপালে হিসেবের দাগ ; ছোটমামা বলল, “তোকে পরের বার নিয়ে যাব। আমার সঙ্গে কথা হয়ে গেছে। আর মাস দু’তিন। এবারের শীতটা এখানে কাটিয়ে নে, এত ভাল ক্লাইমেট।”

    গগন জানলার দিকে তাকিয়ে, পায়ের দিকের জানলা। জানলার বাইরে সরু টানা বারান্দা, মাথায় টালির চাল গড়ানো। ঘর থেকে বাইরে তাকালে বারান্দার গড়ানো চালা দৃষ্টিকে ভূমির দিকে নত করে রাখে। দূরে একটা কুঞ্জ। গগন কুঞ্জ দেখছিল । একটি বড় ঝাউকে মাঝে রেখে চারপাশের পাঁচ ছটি ছোট ছোট পাতাবাহার, জাফরিকাটা বেড়া ধরে লতানো গাছ আলপনা বুনে রেখেছে, কিছু মরশুমি ফুল । এখান থেকে ছবিটা স্পষ্ট নয়, তবু মোটামুটি স্নিগ্ধ ।

     

     

    “গগন।” ছোটমামা পায়ের কাছে নামানো বেতের টুকরি থেকে বড় বড় দুটো কমলালেবু বার করল। এবং ইতস্তত তাকিয়ে মিটশেফের মাথায় কলাই করা জাগে জল দেখতে পেয়ে উঠল। মাথার দিকের জানলায় দাঁড়িয়ে ছোটমামা লেবু দুটো ধুয়ে নিচ্ছিল।

    এখন দুপুর। সূর্য হেলে পড়েছে। অগ্রহায়ণের রোদে পাকা হরীতকীর রঙ ধরেছে। পাখিরা দানা খুঁটে নিয়ে আলস্য উপভোগ করছে ও-পাশটায়, এদিকে পাখি নেই, ফাঁকা।

    “নে গগন, লেবু খা—” ছোটমামা টুকরির ওপর থেকে বাসি খবরের কাগজটা বিছানার পায়ের দিকে রেখে লেবুর খোসা ছাড়াতে বসল।

    “মেজদি তোর জন্যে যে জিনিসগুলো দিয়েছে, সেগুলো ওই কাপড়ের ব্যাগের মধ্যে আছে। কি কি যেন বলে দিল…ফুলহাতা সোয়েটার, গরম জামা, পাজামা, গেঞ্জি…” গগনের হাতে লেবুর কোয়া দিতে দিতে ছোটমামা একটু থেমে আবার বলল, “ওহো গগন, নয়নের বিয়েতে তুই একটা ধুতি পেয়েছিস, নয়নই কিনেছিল। ধুতিটাও আছে ব্যাগে।” ।

     

     

    “ধুতি আমি কি করব!”

    “পরিস মাঝে মাঝে ।”

    “এখানে কোথায় ধুতি পরব !” গগন লেবুর রসে স্বাদ পাচ্ছিল না। মিষ্টি নয়, টকও নয় ; বিস্বাদ। জোলো।

    “এই টুকরির মধ্যে তোর জন্যে ফলটল আছে সামান্য। তলায় বিস্কুটের টিন মাখন সব আছে।”

    মাথার জানলা দিয়ে মাছি ঢুকে বিছানায় এসে বসছিল। গগন হাত নেড়ে মাছি তাড়াল। “মা কেমন আছে, ছোটমামা ?”

    “শরীরের কথা বলছিস ? ভালই। তবে বাড়িতে বিয়ে থা গেল—কাজেকর্মে অনিয়মে একটু গোলমাল তো হবেই।”

    “বাবা ?”

    “জামাইবাবু ভালই আছে ! ডান চোখের ছানিটা এখনও কাটানোর মতন হয় নি, ওটা কাটাবার জন্যে বড় ব্যস্ত।”

     

     

    মাছিটা উড়ে জানলার কাছে গিয়ে বসল। গগন দেখল একবার। নতুন সারের গন্ধ এলো বাতাসে।

    “দেখ গগন, এই বিয়েটা দরকার ছিল।” ছোটমামা একটা লেবু শেষ করে ফেলল। দ্বিতীয়টায় হাত দিতেই গগন হাত নেড়ে বারণ করল, আর নয়।

    “খা না। দুটো তো মাত্র লেবু।”

    “না, এখন আর ভাল লাগছে না। “ মাথা নাড়ল গগন, “তুমি কি বলছিলে, ছোটমামা !”

    “আমি! …ও হ্যাঁ, বলছিলাম এই বিয়েটা দরকার ছিল।” ছোটমামা কাগজ সমেত লেবুর ছিবড়েগুলো তুলে ঘরের কোণে চুন ভরতি গামলাটার ওপর রেখে দিল। “তোদের বাড়িটা কেমন একটা মেলাংকলিতে ভুগছিল। মেজদি একেবারে ভেঙে পড়েছিল প্রথম দিকে, সেটা সামলে নিল বটে, তবে মায়ের মন তো রে, যতই সংসার নিয়ে পড়ে থাকুক, মনে মনে সর্বক্ষণ একটা দুশ্চিন্তা। হাসিমুখ দেখতাম না। জামাইবাবু অবশ্য খুব রিজার্ভড, তবু বুঝতে পারতাম মনে মনে বড় দুর্ভাবনায় থাকেন। গোটা বাড়িটাই কেমন চুপচাপ থাকত, রান্নাবান্না খাওয়া স্কুল অফিস কাছারি সবই চলছে—তবু মরার মতন যেন। …নয়নের বিয়েতে এই মনমরা ভাবটা কাটল। অনেকটাই কাটল।” ছোটমামা গগনের হাত টেনে নিয়ে আদর করে নিজের করতলে চেপে রাখল। বলল, “গোটা একটা সংসার যদি বিছানায় পড়ে থাকে গগন, অসুখ আরও পেয়ে বসে। আমি জানি, তোকে বাদ দিয়ে তোদের বাড়ির কারুর কিছু ভাল লাগে না, লাগবে না। তবু, ওরা সবাই তোর বিছানার চারপাশে বসে থাকলেই কি সব সমস্যা মিটে যাবে!”

     

     

    গগন মামার হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিল আস্তে করে। নয়ন তাকে বিয়ের আগে চিঠি লিখেছিল, বিয়ের পরও দুটো লিখেছে। নয়ন তার ছোট। ছোট হলেও পিঠোপিঠি, দেড় বছরের তফাৎ। দাদা বলে না, নাম ধরে ডাকে।

    (গগন, আমি বিয়ে করছি রে। আমাদের ফ্যাক্টরির এক ভদ্রলোকের মেয়ে। তুই তাকে দেখেছিস। পালিত লেনে আমরা যখন থাকতুম তখন সেই পাড়াতে তারাও থাকত। তখন ছোট ছিল ; এখন পাঁচ পাঁচ হাইট। গগন, আমি কেন বিয়ে করছি তোকে পরে বলব, তুই যখন ফিরে আসবি তখন।)

    “আমি সে-দিনও মেজদিকে বলছিলাম—” ছোটমামা গগনের বিছানার ওপর পা তুলে উঠে বসল, “বুঝলি গগন, আমি মেজদিকে বললাম, তোমাদের সংসার দেখে এখন মনে হচ্ছে মেজদি, বেয়াড়া বাদলাটা টুটেছে। দেখো বাবা, রোদটা যেন থাকে।”

    গগন নয়নের কথা ভাবছিল। নয়নের চিঠি তার চোখের ওপর—নয়নের গলায় কথা বলছে।

    (গগন, আজ আমার বিয়ে। বিকেলে বর বেশে যাত্রা করব। বাড়িতে শাঁখ বাজছে, তত্ত্ব গিয়েছে গায়ে হলুদের। মা ঠাকুর ঘরে ঢুকে লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদছে, বাবাকে দেখতে পাচ্ছি না, হয়ত নিচেতে। লতু একটু আগে এসে আমায় বলছিল, ছোড়দা, মা বলছিল, বড়দার ছবিটা পরিষ্কার করে একটা মালা পরিয়ে রাখতে। …গগন, আমার কিছু ভাল লাগছে না। আমি তোর আগে আগে কখনও কোথাও যেতে চাই নি, যাই নি। এই ব্যাপারটায় এগিয়ে গেলাম। কেন, তা তোকে পরে বলব, তুই ফিরে এলে।)

     

     

    “দেখ গগন, আমি একটা কথা বুঝি—” ছোটমামা বলল, “শোক দুঃখ দুশ্চিন্তা এ-সব তো আছেই। সংসারে জন্মাবে আর বগল বাজিয়ে দিন কাটিয়ে দেবে এ বাবু হয় না। রাজারও দুঃখ আছে। শোক দুঃখ আছে বলে সবাই মিলে গলা জড়াজড়ি করে বসে মরার মতন কাঁদব ।এতে কোনো লাভ হয় না, অ্যাটমসফেয়ারটাই যা বিশ্রী হয়ে ওঠে। নয়নের বিয়ের সময় আমি মেজদিকে বুঝিয়েছিলাম, গগন তত ভাল হয়ে উঠছে, ফিরেও আসবে, অযথা, তোমাদের নয়নের বিয়ে নিয়ে অত কিন্তু কিন্তু করার কি আছে। সংসারের দিকে তো তোমায় তাকাতে হবে।” ছোটমামা হাতের ঘড়িটা খুলে দম দিয়ে নিল।

    নয়নের বিয়ের পরের চিঠিটা যেন বাতাসে উড়ে গগনের চোখের সামনে এসে পড়েছে দেখতে পেল। খুব পাতলা নীলচে কাগজে লেখা চিঠি। বউয়ের লেখার কাগজ, থেকে নিয়েছে নিশ্চয় নয়ন।

    (গগন, বিয়ের ঝামেলা চুকে গেছে। তুই কিরে, একটা চিঠিও তো দিবি ! আমার কথা না হয় বাদ দে, কিন্তু সবিতাকে একটা আশীর্বাদ করবি তো চিঠিতে। তোর কোনো জ্ঞানবুদ্ধি নেই, গগন। …তুই ফিরে আয়, তোকে আমি অনেক কিছু বলব। গগন, সবিতা তোকে চেনে। বলছিল, একবার সাইকেল চড়া শিখতে গিয়ে তুই পড়ে গিয়েছিলি। সত্যি না কি রে !)

     

     

    “গগন— ?” ছোটমামা গায়ে ঠেলা দিল গগনের আলতো করে।

    “উ।”

    “তুই কোনো কথা বলছিস না ।”

    “বলছি।” গগন ছোটমামার দিকে তাকাল । ছোটমামার মুখ গোল, রঙ ফরসা। মার মুখের সঙ্গে অনেকটা মিল আছে। কপাল আর চোখ নাক অবিকল মার মতনই। তবে ছোটমামার চোখ খুব দপদপে, কেমন যেন চাঞ্চল্য দৃষ্টিতে ; মার চোখ শান্ত, মার চোখে ক্লান্তি। গগন মাকে দেখছে এমন চোখ করে কয়েক পলক ছোটমামাকে দেখে নিল।

    “গগন—” ছোটমামা ডাকল।

    “বলল।” গগন চোখে চোখে আর তাকাতে পারল না ছোটমামার, বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকল।

    “তোর এখন শরীর কেমন ?”

     

     

    “ভালো।”

    “কোনো কষ্ট হয় ?”

    “না।” গগন বলল। বলে ডাবল, তার কষ্ট হয় না বললে ছোটমামা খুশি হবে। পরে আবার ভাবল, শরীরের কথা জিজ্ঞেস করেছে ছোটমামা, শরীরে তার কোনো কষ্ট হয় কি না! হয় না।

    ফটোটা বিছানা থেকে উঠিয়ে গগন আবার দেখতে লাগল। ঘরটা তার বড় চেনা। ওই ঘরে তারা দুজনে থাকত—গগন আর নয়ন। জানলার দিক করে তাদের বিছানা ছিল, পশ্চিম দেওয়ালের দিকে টেবিল, আলমারি ছিল একটা দরজার দিকে ; নয়ন টেনিস খেলা শিখছিল, তার র‍্যাকেটটা কাপড় পরিয়ে টিকিতে বেঁধে দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখত।

    “ছোটমামা, লতুটা সত্যিই বেশ বড় হয়ে গেছে।” গগন অন্যমনস্ক গলায় বলল।

    “বড় কি রে, বললাম না তোকে একটা লেডী হয়ে গেছে।”

     

     

    “ওর কত বয়স হল ?”

    “কত— ! দাঁড়া বলছি—” ছোটমামা হিসেব করে নিচ্ছিল, “লতু হয়েছে মা মারা যাবার আগের বছর। তার মানে লতু এখন পনের।”

    “আমি যখন আসি তখন লতু ফ্রক পরত—” গগন কেমন হেসে বলল, “ওর একবার চুলে জট পড়েছিল, আমি কাঁচি দিয়ে অনেক চুল কেটে দিয়েছিলাম। তারপর যা অবস্থা হল ছোটমামা, লতু আর বিনুনি বাঁধতে পারে না।” গগন আপন মনেই হাসল, লতুর মুখ দেখতে লাগল ছবিতে, মস্ত একটা খোঁপা বেঁধেছে বোধহয়।

    “দেখ গগন—” গগন আর অন্যমনস্ক নেই দেখে ছোটমামা আবার কথা শুরু করার উদ্যম পেল। “আমি ঠিক করেছি, এবার একবার মেজদিকে নিয়ে হরিদ্বার বেড়িয়ে আসব। জামাইবাবুর এখন আর কোনো অসুবিধে নেই, নয়নের বউ রইল।”

    “নয়ন কবে গ্লাসগো যাবে, ছোটমামা ?”

     

     

    “এখনও কিছু ঠিক নেই। একটা কথা চলছে। …তবে নাইন্টি পার্সেন্ট চান্স রয়েছে। আরে, গরু দুধ দিতে না পারলে কি মানুষ তাকে গোয়ালে রেখে খাওয়ায় ! নয়নটা যে খুব কাজের ছেলে, ফ্যাক্টরিতে ওর খুব সুনাম।”

    “এখন কত মাইনে পাচ্ছে ?” গগন শুধলো।

    “ছশো পাচ্ছিল। নতুন লিফট পেয়ে আরও বেড়েছে কিছু।” ছোটমামা বলল। বলে কি ভাবল। হঠাৎ যেন কোনো কথা মনে পড়ে গেছে, মজার কথা, ছোটমামা হাসি মুখ করে বলল, “নয়নের একটা কীর্তি শুনবি ! …বেটা যেদিন লিফট পাবার খবর পেল সেদিন বাড়ি আসার সময় একটা শাড়ি কিনে এনেছে। এনে নতুনবউয়ের হাতে দিয়েছে, কোনো কথা বলে নি। …রাত্রে খাবার সময়, তুই ভেবে দেখ গগন, জামাইবাবু এক পাশে বসে খাচ্ছে, লতু রয়েছে, নয়ন নিজে, মেজদি বসে, নতুনবউ খেতে দিচ্ছে—নয়ন খেতে খেতে লিফট পাবার খবরটা দিল। দিয়ে মেজদিকে বলল, তোমার জন্যে একটা শাড়ি এনেছি মা, পাও নি ? মেজদি অবাক। শাড়ি, কই না—কিছু তো দেখে নি মেজদি। নয়নটা সঙ্গে সঙ্গে তার বউয়ের দিকে আঙুল দেখিয়ে বলল, ওর হাতেই দিয়েছি, ও তোমায় দেয় নি তবে, নিজে মেরে দিয়েছে। বউ বেচারি তো লজ্জায় অপ্রস্তুত…” ছোটমামা হা হা করে হাসতে লাগল। যেন রগড়টা এইমাত্র করা হয়েছে, নয়ন সামনে বসে আছে।

     

     

    গগনও একটু হাসল। শব্দ করে নয়। তার মনে হল নয়ন বউকে এমনি করেই জ্বালাচ্ছে বোধহয়। নয়ন ওই রকমই। লতুকে, যখন লতু বেশ ছোট, নয়ন বলত, হ্যাঁরে লতু, তোদের সেলাইদিদিমণিটা শালকরের দোকানে রিপুর কাজ করে কেন রে ? লতু বুঝতে পারত না প্রথমে, পরে ভীষণ চটে যেত, চেঁচাত, রাগের দমকে কেঁদেই ফেলত। নয়ন তবু ছোট বোনের পিছনে লাগত।

    “লতু আমার কথা কিছু বলে না, ছোটমামা ?” গগন বলল। ছোটমামার দিকে না তাকিয়ে, ছবিটা দেখতে দেখতে।

    “বলে না রে কিরে, প্রায়ই জিজ্ঞেস করে।” ছোটমামা পকেট হাতড়ে লবঙ্গর কৌটো বের করল, একটা দুটো তুলে নিল, “এই যে এখান থেকে ফিরে যাব, তারপর লতর কত কি প্রশ্ন। …বুঝলি গগন, লতুর খুব জানতে ইচ্ছে করে তুই কোথায় আছিস।”

    “ও জানে না ?”

    “জানে, তবে ঠিক বুঝতে পারে না।”

    গগন কেমন অন্যমনস্ক হল। এ রকম অন্যমনস্ক মানুষ খুব ঘনঘোর বাদলার দিনে হয়, কিংবা কোনো নদী বা বনের ধারে দাঁড়িয়ে সন্ধ্যে বেলা। গগন অন্যমনস্ক হয়ে ভাবল সে কোথায় আছে, তার চারপাশে কি কি আছে!

    দুপুরের রোদ দেখে মনে হচ্ছে, যে বিরাট চৌবাচ্চায় সারা সকাল দুপুর ভরে রোদ জমা হয়েছিল যেন তার জল বেরোবার মুখটা খুলে গেছে হঠাৎ—আর কল কল করে রোদ বেরিয়ে চৌবাচ্চা খালি হয়ে যাচ্ছে। দেখতে দেখতে রোদ ফিকে হয়ে আসছিল। গগন কাতর হল। বাড়িতে ফিরে গিয়ে ছোটমামা লতুকে কি কি বলে গগনের জানতে ইচ্ছে হল।

    ছোটমামা মাথার দিকের জনলা দিয়ে বাইরে ক দণ্ড তাকিয়ে থাকল। বাতাস এলোমেলো হয়ে বয়ে যাচ্ছে, নতুন সারের গন্ধ আসছে ঘরে। বার কয়েক নাক টানল ছোটমামা। “কিসের গন্ধ রে, গগন ?”

    “সারের। বাগানে নতুন সার দিয়েছে।”

    “তোদের এখানে বিনি সারেই যা ভেজিটেবলস্‌ হয়…”

    “আমায় তুমি কবে নিয়ে যাবে ঠিক করে বলল, ছোটমামা ?” গগন কাতর ক্ষুব্ধ চোখে ছোটমামার দিকে তাকাল।

    “বললাম যে, এই শীতটা শেষ হলেই।”

    “তুমি যখনই আস এই গরম এই বরষা এই শীত কর। এবারেও ঠিক তেমনি বলছ।”

    “আরে না। না—না—না।” ছোটমামা প্রবল ভাবে মাথা নাড়ল। “আমি ইচ্ছে করলে তোকে এখনও নিয়ে যেতে পারি। নিয়ে যাচ্ছি না কেন জানিস ? এই শীতটা এখানে কাটিয়ে দিলে তোর হেলথ্‌ আরও ইমপ্রুভ করবে। …দেখ গগন, ভাল জিনিস একটু বেশি হলেই ভাল। লাভ বই ক্ষতি নেই তাতে।”

    গগন বিছানা থেকে উঠল। জল খেল। ছোটমামার আনা ব্যাগটা তুলল, নামিয়ে রাখল আবার। উবু হয়ে বসে ব্যাগ খুলে জিনিসপত্র বের করতে লাগল। মার চিঠি ছিল ব্যাগের মধ্যে।

    সোয়েটারটা নতুন। উলের গন্ধ শুঁকল গগন। পাজামা গেঞ্জি সব নতুন। কোরা গন্ধ। সমস্ত নতুনের মধ্যে মার চিঠিটাই যা পুরোনো। গগন মার চিঠি হাতে করে উঠে দাঁড়াল। “মার চিঠি, ছোটমামা ।”

    “মেজদির চিঠি !…আমায় কিছু বলে দেয় নি। ভুলে গেছে বোধহয়।”

    গগন খামের মুখ ছিঁড়ে ভাঁজ করা দুটো চিঠি পেল। মা আর লতুর।

    মার চিঠি পড়তে পড়তে গগনের মন বিষণ্ণ হল। মার মনে বড় অশান্তি। গগনের জন্যে মার দুর্ভাবনা এক তিলও কমে নি, আগে যেমন ছিল এখনও তেমনি রয়েছে। বাবার কথাও লিখেছে মা। বাবা আজকাল প্রায়ই গগনের নাম করে বলে, ও বাড়িতে ফিরে না আসা পর্যন্ত আমি নতুন বাড়ির কিছু করব না।

    (শীতটা খুব সাবধানে থাকিস, বাবা। ফুলহাতা নতুন সোয়েটারটা ঢিলে করে করেছি, সারাক্ষণ পরে থাকবি। নয়নের বউ তাড়াতাড়ি করে মোজা বুনেছে, যদি পায়ে ছোট লাগে ফেলে দিস না, দুচার দিন পরলেই ঠিক হয়ে যাবে। তোর বাবা আর নয়ন আগামী মাসে যেতে পারে তোর কাছে। যা যা দরকার চিঠিতে লিখিস পাঠিয়ে দেবো।)

    বাইরে পাখি এসেছে। কাকলি শোনা যাচ্ছিল। শিরীষগাছের ডালে বসে পাখিরা যেন খেলা করতে নামার আগে দু দলে ভাগ হয়ে যাচ্ছিল।

    “গগন!” ছোটমামা ডাকল।

    “উ—” গগন চিঠি পড়তে পড়তে সাড়া দিল ।

    “তোর গলার কাছে ওটা কিসের দাগ রে ?”

    গগন জবাব দিল না। লতুর চিঠি পড়তে পড়তে মুখে তার হাসির ছোঁয়া লাগছিল। লতুটা একেবারে সেই রকম আছে, পাগলী । এক কথা লিখতে লিখতে অন্যকথা লেখে। লতু কখনও কথা পুরো করে বলতে পারত না, অর্ধেকটা বলে বাকিটা বলার গরজ পেত না। নয়ন হেসে বলত, দেখ লতু তোর সবই যখন আদ্ধেক তখন আমরা তোর বিয়ের সময় শুধু একবার তোর বরটাকে দেখিয়ে দেব, ব্যাস ; তারপর আর তোর কোনো কিছুর দরকার নেই।

    গগন হেসে ফেলল। চিঠি শেষ করে নয়নের সেই কথা ভাবতে লাগল । লতু তার বরের কথা শুনে নয়নের গায়ে ঝাঁপিয়ে পড়ত, আঁচড়াত নয়নকে ।

    বাইরে বাগানে পাখিরা দু দলে ভাগ হয়ে যেন খেলা শুরু করে দিয়েছে। গগন সুখ অনুভব করল, গগন দুঃখ অনুভব করল।

    “তোর গলায় ওটা কিসের দাগ রে, গগন ?” ছোটমামা আবার বলল।

    গগন অন্যমনস্ক। বাইরে রোদের চৌবাচ্চা ফুরিয়ে এলো। এখন তরল করে রোদ পড়ছে, রঙ নেই। বাগানে দুটো মালি কাজ করছে। সার পড়ে আছে স্তূপ হয়ে। ঝারিতে করে জল দিচ্ছে বুড়ো মালি। বিকেল হয়ে এসেছে বলে দু একজন করে লোক দেখা যাচ্ছিল।

    ছোটমামা এবার যেন অবাক হয়েই বলল, “এই গগন ? কি হল রে তোর ?”

    গগন ছোটমামার দিকে তাকাল।

    “কথা বলছিস না কেন ?” ছোটমামা বলল।

    “বলছি—”

    “কোথায় বলছিস। আমি চেঁচিয়ে যাচ্ছি, তুই চুপ করে আছিস। …এদিকে তো সময় হয়ে এলো, এবার আমি উঠব।”

    “তুমি আজ ফিরবে?”

    “সন্ধের ট্রেন ধরব।”

    “এখনও দেরি আছে।”

    “কোথায় আর দেরী । দেখতে দেখতে বেলা পড়ে আসছে দেখছিস না। …আমায় একবার তোদের সুপারিন্‌টেনডেন্টের সঙ্গে দেখা করতে হবে তাঁর বাড়ি গিয়ে।” বিকেল বাস্তবিকই পড়ে আসছিল। গগন দেখছিল, যাবার আগে যেন দিনের আলো তার শুকোতে দেওয়া টুকরো জিনিসগুলো কুড়িয়ে নিচ্ছে। শিরীষ গাছের তলা থেকে আলো চলে গেছে, ছায়াগুলো কালচে হয়ে এসেছে, পাখিরা পালাচ্ছে একে একে, জল দেওয়া ঝারি নিয়ে বুড়ো মালি চলে যাচ্ছে ।

    “এবারে তুমি আমায় সত্যি নিয়ে যাবে, ছোটমামা ?” গগন বলল ।

    “হ্যাঁ রে বাবা, হ্যাঁ। তোকে আমি বলছি তো এই শীতের পরই নিয়ে যাব।”

    “নয়ন গ্লাসগো যাবার আগে আমি বাড়ি যেতে পারলে খুব ভাল হয় ছোটমামা।”

    “নয়ন মার্চের আগে যাচ্ছে না।”

    “নয়ন আর বাবা নাকি আগামী মাসে আসছে এখানে ? মা লিখেছে ।” গগন জানলার বাইরে হাত বাড়িয়ে দিল।

    “ইচ্ছে আছে ওদের। তবে এতটা আসা জামাইবাবুর পক্ষে কষ্টের। আসতে পারলে ভালই।” ছোটমামা হাই তুলল।

    বিছানার ওপর লেবুটা পড়ে আছে। বিকেলের জলখাবার নিয়ে চাকর এল, মিটশেফের ভেতর থেকে কাচের ডিশ বার করে দুটো মিষ্টি রাখল, এক গ্লাস দুধ । রেখে চলে গেল। গগন দেখল। কিছু বলল না।

    “তোর গলার দাগটা কিসের রে গগন ?” ছোটমামা আবার বলল।

    গগন গলায় হাত দিল। দাগ ঢেকে নেবার মতন করে হাত রাখল গলায়। “কি জানি। কালশিরে বোধহয়।”

    “আঙুলের দাগের মতন দেখাচ্ছে।”

    চুপচাপ। গগন ধীরে ধীরে নিশ্বাস নিচ্ছিল। ছোটমামা যেন অবেলায় ঘুম পাওয়ায় বার বার হাই তুলছিল। সমস্ত ক্লান্তি এতক্ষণে ছোটমামাকে অবশ করে ফেলেছে। ছোটমামার চোখ ছোট হয়ে আসছিল, গগনকে যেন আর ভাল করে দেখতে পাচ্ছে না।

    গগন বিকেলকে পুরোপুরি ফুরিয়ে যেতে দেখল । আলোর রেখা আশপাশে কোথাও নেই। নিমের ডাল তার দৃষ্টিকে আড়াল করে ফেলেছে, সেই আড়ালের ওপাশ থেকে একটি মেয়েলী গলা শুনতে পেল গগন। “আসব—তাড়াতাড়ি আসব আবার। “

    পাশের ঘরে একবার ললিতবাবুর বউ এসেছিল। চলে যাবার সময় ললিতবাবুর কি মনে পড়ায় বউকে ডাকছিল। ডেকে কি বলছিল । ললিতবাবুর বউ নিম গাছের আড়ালে গিয়ে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলছিল, “আসব—তাড়াতাড়ি আসব আবার।”

    ললিতবাবু চলে গেছে। অপারেশন থিয়েটার থেকেই চলে গেছে। গগন এখনও মাঝে মাঝে ললিতবাবুর বউয়ের গলা শোনে। “আসব—তাড়াতাড়ি আসব আবার।”

    গগন দেখল ছোটমামা উঠে দাঁড়িয়েছে। ছোটমামার যাবার সময় হয়ে গেছে।

    “ছোটমামা, এই শীতের পর কিন্তু আর নয়”—গগন বলল।

    “পাগল নাকি! আবার কি ! অনেক দিন হয়ে গেল। এবার বাড়ির ছেলে বাড়ি যাবি।”

    “জানুয়ারিতে কিন্তু ।”

    “বেশ, জানুয়ারিতেই।”

    “মাকে বলল আমি ভাল আছি। বাবাকেও বলো।”

    “নয়নকে তাহলে চিঠি দিস তুই।”

    “দেবো। … জানো ছোটমামা, নয়নের বউ আমায় চেনে।”

    “তোকে?”

    “আমায় দেখেছে আর কি। পালিত লেনে যখন থাকতাম আমরা, তখন।”

    “আ-চ্ছা।” ছোটমামা মাথা নাড়ল। নয়ন-বেটা বুঝি তখন থেকেই বড় পছন্দ করে রেখেছিল।” ছোটমামা হাসতে লাগল।

    হাসি থামল একসময়। যেতে যেতে ছোটমামা ললিতবাবুর বউয়ের মতনই বলল, “আসব আবার—তাড়াতাড়ি আসব।” তারপর অন্ধকার। এই ঘর অন্ধকার হয়ে গেল।

    অন্ধকারে গগন চোখের পাতা খুলল। বাইরে অন্ধকার নেমেছে। কাঁঠাল গাছের মাথার মতন বেশ ঘন বুনন্ত অন্ধকার। বাতাস আসছিল, অগ্রহায়ণের ঠাণ্ডা বাতাস। মিহি কুয়াশার মতন ধোঁয়ার রেখা দেখা যাচ্ছে অদূরে। গগনের শীত করছিল। কাছাকাছি একটা দেবালয় আছে, ঘন্টা বাজছিল। গগন আকাশে কয়েকটি তারা দেখতে দেখতে দেবালয়ের ঘন্টা শুনল। প্রতিটি ঘন্টা এমন করে বাজে যেন পায়ে পায়ে শব্দটা ক্রমশ দূরে চলে যাচ্ছে। গগন ভাবল, তার মনে হল, সে বোধহয় প্রত্যহ দূর থেকে দূরান্তে সরে যাচ্ছে ।

    চাকরটা এসেছে। হাতে লণ্ঠন। গগনের ঘরে পায়ের দিকে ছোট টেবিল-বাতি, কেরোসিন নাড়তে নাড়তে বাতিটা জ্বেলে দিল চাকরটা। বাতি জ্বলল, ছোট্ট ফোঁটার মতন হলুদ বাতি। চাকরটা চলে গেল। আসার সময় সে গলায় একটা ভজনের গুনগুন নিয়ে এসেছিল, যাবার সময় ঘরে সেই ভজনের সুর ফেলে গেল।

    বিছানার ওপর উঠে বসল গগন। বাইরে নতুন সার দেওয়া বাগান। বাতাসে গন্ধ আসছে। শীত আসছে। অন্ধকারও এ-ঘরে গগনকে রোজকার মতন দেখতে এসেছে। দেখার সময় হয়ে গেলে, এরাই তাকে দেখতে আসে। অত্যন্ত নিকট আত্মীয়ের মতন—ওই শীত, বাতাস, ওই অন্ধকার এবং বিষণ্ণতা তার ঘরে বিছানার পাশে এসে বসে।

    বাইরে থেকে আরও একজন এ-সময় তাকে দেখতে আসেন, ছোট ডাক্তারবাবু। তাঁর সাইকেলের ঘন্টি বাজলেই গগন তৈরি হয়ে থাকে। আজ এখনও তিনি আসেন নি। আসবেন।

    গগন কপালে বুকে হাত দিল। তার জ্বর এসেছে। জ্বরটাও গগনকে বিকেলের ঝোঁকে রোজ দেখতে আসে। দেখতে এসে পাশে বসে থাকে। মাঝ রাতে গগনের ঘুমের মধ্যে চলে যায়।

    চোখ জ্বালা করছিল গগনের। জিব বিস্বাদ লাগছিল। মাথা ধরেছে। জানলার বাইরে হাত বাড়াতে ইচ্ছে করল গগনের, ব্যথা ব্যথা লাগছিল সর্বাঙ্গ ,শীত করছিল বলে গগন আর হাত বাড়াল না।

    বাইরে হাত বাড়ানো গেল না বলেই গগন ভেতরে হাত রাখল। কম্বলের তলায় জামার ওপর হাত রেখে বুকের তাপ ও কষ্ট অনুভব করতে লাগল। মাটিতে যেমন গাছ, মাটির তলায় যেমন শেকড়, গগনের মনে হল, তার বুকের তলায় সেই রকম কষ্টের বহু পদার্থ মিশ্রিত হয়ে আছে, এই বোধ একটা বৃক্ষের মতন অজস্র অদৃশ্য শিকড় দিয়ে সেই কষ্টকে শুষে বর্ধিত হচ্ছে। কেন ? গগন বুঝতে পারল না, কেন হৃদয়ে এত কষ্ট থাকে, এত অভাব ? বেদনা কেন অধিক, সুখ কম ? পৃথিবীতে জলভাগ বেশির মতন পযাপ্ত দুঃখ এবং অপর্যাপ্ত সুখ ঈশ্বর কেন সৃষ্টি করেছিলেন!

    গগন তার এই চিন্তাকে বেশ শিথিল এবং জ্বরে আচ্ছন্ন বলে মনে করা সত্ত্বেও ভাবতে লাগল, তার দুঃখকে সে কেমন করে সহনীয় করতে পারে। তার মনে হল, প্রত্যহ গগন এই চিন্তা করেছে। প্রত্যহ। সে বড় শূন্য, তার গগনে সূর্য অথবা চন্দ্র অথবা নক্ষত্রদল নেই।

    ছোট ডাক্তারবাবুর সাইকেলের ঘন্টি বাজল। গগন বুঝতে পারল, এবার ছোট ডাক্তারবাবু ঘরে ঘরে একবার ঘুরে যাবেন। বড় ভাল লোক, বড় সুন্দর মানুষ, কখনও নিরাশ করেন না। বলেন, বাঃ—চমৎকার, আজ তো বেশ ভালই দেখছি। খুব তাড়াতাড়ি ইম্প্রুভ করছ তুমি।

    গগন বিছানায় শুয়ে পড়ল। কম্বলটা গলা পর্যন্ত টেনে নিল। সাইকেলের ঘন্টি শুনতে পেল আবার। শুনে গগন নয়নের বউয়ের কথা মনে করতে পারল । নয়নের বউ গগনকে পালিত লেনে সাইকেল চড়া শিখতে গিয়ে পড়ে যেতে দেখেছে। লজ্জা পেয়ে গগন যেন নয়নের বউকে দেখাচ্ছে এমনভাবে কল্পনায় সাইকেলের পিঠে লাফ মেরে চেপে বসল। তারপর প্যাডেল ঘুরোতে লাগল।

    না। গগন পারল না। গগন বালিশের মাথার পাশে হাত বাড়াতে গিয়ে তার রুমাল স্পর্শ করতে পারল। রুমালের পাশে কবেকার একটা পুরোনো মাসিক পত্রিকা। গগন পত্রিকাটা কতবার জানলার বাইরে ফেলে দিতে চেয়েছে, পারে নি। ওর মধ্যে নয়নরা আছে, নয়ন, নয়নের বউ, বাবা, মা, লতু, ছোটমামা। শুধু গগন নেই।

    গগন এ-ঘরে আছে। এখানেই থাকবে গগন। শীত আসবে, শীত যাবে ; আবার শীত আসবে। গগন জানে তার ছোটমামা নেই, তার ছোটমামা তাকে শীতের পর নিয়ে যেতে আসবে না।

    গগন চোখ বুজতে বুজতে নয়নদের কথা ভাবল। নয়নরা থাকলে, গগন পরম দুঃখীর মতন ভাবল, তার গগন এত শূন্য হত না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখোয়াই – বিমল করভ
    Next Article খড় কুটো – বিমল কর

    Related Articles

    বিমল কর

    কাপালিকরা এখনও আছে – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    রাজবাড়ির ছোরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    ঘোড়া সাহেবের কুঠি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    সেই অদৃশ্য লোকটি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    শুদ্ধানন্দ প্রেতসিদ্ধ ও কিকিরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    কিকিরা সমগ্র ১ – বিমল কর

    October 30, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }