Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চাশটি গল্প – বিমল কর

    বিমল কর এক পাতা গল্প1346 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উদ্বেগ

    সারাটা দিন আকাশ ময়লা হয়ে ছিল। কখনও আধ-ফোটা রোদ কখনও মরা। মেঘলা। শীত অনেক দূরে চলে গিয়েও মাঘের এই একেবারে শেষে আবার যেন ভাবছিল অল্পের জন্যে আসবে কিনা ; ফেলে যাওয়া কোনো জিনিস নিতে, কোনো ভুলে যাওয়া কথা বলতে মানুষ যেমন করে ফিরে আসে। সকাল থেকেই কুয়াশায় সব অপরিষ্কার থাকল, অনেক বেলায় যখন এক আঁজলা রোদ দিচ্ছিল আকাশ, তখন শীতের স্পর্শ পাওয়া গেল ; তারপর মেঘলা হল। দুপুর বিকেল বলে আলাদা করে কিছু বোঝা গেল না ; এই রকম অপরিষ্কার সারাটা দিন কেটে গেল, সন্ধের দিকে কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি পড়ল।

    শিশির তখন রাস্তায়। গার্লস স্কুলের গলি দিয়ে পথ ছোট করে নেওয়া যেত। সাইকেলটা আজ বারবার ভোগাচ্ছে। চেন খুলে যাচ্ছে। ইচ্ছে ছিল বাজারে গিয়ে মেরামত করিয়ে নেবে। গার্লস স্কুলের গলি না ধরে শিশির কিশোরীলালের। ছিট-কাপড়ের দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়াল একটু মাথা বাঁচিয়ে। আর তখন সেই টুপ-টাপ বৃষ্টির মধ্যে পথ দিয়ে রাম-রাম ধ্বনি দিয়ে আরও একটা শব সৎকারের জন্যে শ্মশানে নিয়ে যাচ্ছিল হিন্দুস্থানী মহল্লার লোকেরা।

    এই নিয়ে আজ চারটে শব যেতে দেখল শিশির সারা দিনে। তার চোখের বাইরে দিয়ে আরও কটা গেছে কে জানে!

    শহরে এ সময়ে মড়ক লাগার কথা নয়। আরও পরে ফাল্গুনের শেষ থেকে কিছু লোক বসন্তে প্রতি বছরই মারা যায়। এ বছর অনেক আগে থেকেই কেমন যেন একটা আতঙ্ক এসে গেছে অকস্মাৎ। না, ঠিক বসন্ত নয়, অন্য এক রোগ। আজ পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা গেল না, রোগটা কি, কেমন করে এ শহরে ঢুকে পড়ল।

    খদ্দের না থাকলেও কিশোরীলালের দোকানে তার এক কর্মচারী ছিল। আগামীকাল রবিবার। রবিবার হরিপুরায় হাট বসে। কিশোরীলালের লোক সেই রবিবারের বাজারে দু চার গাঁট কাপড় নিয়ে বেচতে যায়। কালকের হাটের সওদা গুছিয়ে দিতে দিতেও দাম-টাম বুঝিয়ে দেবার সময় পথ দিয়ে শব যেতে দেখল কিশোরীলাল। অস্ফুটে একবার ‘রাম-রাম’ করল, করে আবার নিজের কাজে মন দিল। খুবই আশ্চর্য যে, রাস্তার উল্টো দিকে রাজারামবাবুর তিন মহলা বাড়ির ওপর তলায় এ-সময়ে রেকর্ড অথবা রেডিওর নাচের বাজনা বাজছিল প্রবল সুরে। জাপানী চিক আধখানা করে গুটিয়ে ফেলে হালকা নীল আলোয় ব্যালকনিতে রাজারামবাবুর ছেলে এবং বউ বসেছিল বোধহয়।

    বৃষ্টি হবে। ‘ফোঁটা দেখে মনে হচ্ছিল, দশ বিশ মিনিট জ্বালাবে মিছিমিছি । সারাদিনের শুকনো ধুলো এবার মৃদু মৃদু সোঁদা গন্ধ দিল। শিশির অপেক্ষা না করে চলে যাবে কিনা ভাবল। দু’চার ফোঁটা জলে সে ভিজতে পারে। কিছু নয়, ওই টুকু ভেজা কিছুই নয়। তবু সময়টা এত খারাপ চলছে যে, দুচার বিন্দু অসময়ের জল গায়ে মাথায় লাগাতে সাহস হল না শিশিরের।

     

     

    অল্প সময় ঝির ঝির করে একটু বৃষ্টি হল ; তারপর থেমে গেল। রাস্তা দিয়ে তোক চলাচল, গাড়ি আসা-যাওয়া কোনো সময়েই থামেনি। সাইকেল ঠেলে শিশির বাজারের দিকে এগিয়ে চলল।

    পথে মিউনিসিপ্যালিটির আলো জ্বলছে। কাচের গায়ে বৃষ্টির ছাট লেগে ঝাপসা দেখাচ্ছে, হলুদ আলোর গা গড়িয়ে জলের দাম ধরেছে কেমন, গড়িয়ে গড়িয়ে জল নামছে। শিশিরের মনে হল, এই শহরের অদ্ভুত ব্যাধি যেন আলোগুলোকেও সংক্রামিত করেছে। বিবর্ণ ঘর্মাক্ত রক্তহীন মুখের মতন আলোগুলো হতাশ হয়ে তাকিয়ে আছে।

    আলো থেকে চোখ নামিয়ে নিল শিশির। তার খারাপ লাগছিল। নিজের অক্ষমতায় মানুষ যে ভাবে লজ্জিত হয়, শিশির সেইভাবে লজ্জিত হচ্ছিল। তার এ লজ্জা অকারণ ; তবু আশ্চর্য যে, সে লজ্জিত না হয়ে পারছিল না।

    বসন্তের মতন, কিন্তু বসন্তের হাওয়া নয়। সব্জি বাজারের নিচু মাঠ দিয়ে বাতাস এল কয়েক দমকা। শীতের আলগা ছোঁয়া ছিল বাতাসে, অথচ বসন্তের মতন চঞ্চল ।

    রাস্তার ডান পাশে তুলোপট্টি এবং কয়েকটা তামাক পাতার দোকান। এখনও ঝাঁপ পড়েনি। পেট্রম্যাস্কের বাতি জ্বালিয়েছে ওরা সন্ধের মুখে। এতক্ষণে বাতিগুলো বাতাস ফুরিয়ে মিটমিটে হয়ে এসেছে। খানিকটা পরে এ সব দোকান বন্ধ হয়ে যাবে ; বাতি উজ্জ্বল করার তাড়া কারুর নেই বোধ হয়। নালার ওপাশ থেকে অন্ধকার পেরিয়ে একটা কুকুর সাইকেলের সামনে এসে গেল। শিশির দেখতে পায়নি, হয়ত সামান্য লেগেছিল, কুকুরটা শব্দ করে পাশ কাটিয়ে পালাল।

     

     

    এই শহরে সবচেয়ে যে কুকুরভুক্ত, নিশীথ হালদার, গত রবিবারে সে মারা গেছে। শিশিরের মনে পড়ল নিশীথকে। সঙ্গে সঙ্গে খানিকটা ঔদাসীন্যে, কিছুটা অনুতাপে শিশির মনে মনে বলল : নিশীথ সবচেয়ে কুকুর ভক্ত মানুষই ছিল। এখন নেই। এখন তার বাড়িতে পাঁচটা কুকুর সংসার পেতে আছে।

    নিশীথ বিয়ে করে নি। তার রমণী ছিল। যথাস্থানে না থাকলে মৃত্যু সময়ে মানুষকে দেখা যায় না, রমণীটিও নিশীথকে শেষ সময়ে দেখতে পায়নি। ভালই হয়েছে। নিশীথ যখন মারা যাচ্ছিল, তার মুখের চামড়া মোমের মতন সাদা হয়ে গিয়েছিল এবং সেই রকম শুকনো, চোখদুটি গাঢ় হলুদ, নাকের কাছে চিবুক বরাবর একটা কালো দাগ।

    শিশির পুনরায় অনুভব করল, নিশীথের মৃত্যুর জন্যে তার মনে বিস্বাদ এক আবহাওয়া সৃষ্টি হয়েছে। অকারণ। অকারণেই মনে হচ্ছে, শিশির এই মৃত্যুটির জন্যেও কিছুটা দায়ী। সামান্য বিরক্ত হল শিশির। অথচ অনুশোচনা অধিক বলে বিরক্তি কখনওই প্রখর হতে পারল না।

    চৌমাথার মোড়ে পুলিস দাঁড়িয়ে আছে। নাগ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের সামনে দাঁড়িয়ে কোনও স্বামী-স্ত্রী মিষ্টি কিনছিল । নিত্যকার খাদ্যবস্তুগুলো কাচের আবরণের ওপাশে যথারীতি সাজানো রয়েছে। এক থালা লবঙ্গ লতিকা দেখতে পেল শিশির, মুগের বরফিগুলোয় আলো যথেষ্ট পরিমাণে পড়েছে। খুব হলুদ দেখাচ্ছে। যে কোনও কারণেই হোক শিশির আর ওদিকে তাকাল না। খারাপ লাগছিল তার।

     

     

    বাজারের সমস্ত দোকানপত্রই খোলা। পালদের কাপড়ের দোকান, যমুনা দাসের স্টেশনারী দোকান, বোম্বাইঅলার হোটেল, জুতোর দোকান- সমস্তই খোলা। বাজারের মাঝপ্রান্তে সিনেমা হাউসটাও চালু রয়েছে ; রিকশা টাঙ্গা গাড়ি, মানুষজন এই চলাচল করছে। মনে হয় না, এই শহরে মড়ক এসেছে হঠাৎ।

    উদাস অপ্রসন্ন মনে শিশির সাইকেলের দোকানের সামনে এসে দাঁড়াল।

    দোকানে পরেশ একলা ।

    “সাইকেলটা একটু ঠিক করে দিতে হবে পরেশ।” কাঠের পাটাতনের ফাঁকে সাইকেল ঠেলে দিয়ে শিশির বলল।

    “কি হল সাইকেলের ?” পরেশ টিনের চেয়ারে বসেই বলল ।

    “নতুন চেন। বড় হয়েছে বোধ হয়, খুলে যাচ্ছে বার বার ।”

    মুখের বিড়ি ফেলে দিয়ে পরেশ হাসল। “তখনই ত বলেছিলাম বাবু, একটু ছোট করে দি; আপনি বললেন, ঠিক আছে। দিশী চেনের এই হাল।”

     

     

    “ছোটটু কোথায় ?”

    “ওর মার অসুখ। বিকেলে কামাই দিয়েছে—”

    “অসুখ !”

    “সাইকেল রেখে যান। কাল সকালে ঠিক করে দেবে ছোটটু।”

    শিশির ভীত বোধ করছিল। ছোটটুর মার অসুখ। কাল পরশু কিংবা আরও দুদিন পরে তবে ছোটটুর মাও যাচ্ছে। এই শহর বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

    যে কোনো লোক যে কোনো সময় মারা যেতে পারে। মড়কটা সিঁদ কাঠি হাতে করে ঘরে ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অসতর্ক হলে অবধারিত মৃত্যু।

    উদ্বিগ্ন গলায় শিশির শুধলো, “কি অসুখ ?”

     

     

    ‘জ্বর।”

    “কবে থেকে?”

    “কাল রাত থেকে।” পরেশ দোকানের ঝোলানো বাতি নামাতে গেল। সে আজ একলা, দোকান গুছিয়ে বন্ধ করতে অনেকটা সময় লাগবে। বাতি নামিয়ে নেওয়ায় চারপাশ থেকে কেমন অন্ধকার এসে পড়ল। মেঝের ওপর আলো রেখে পরেশ বলল, “ছোটটু খুব ভয় পেয়েছে, বাবু। বাচ্চা তো ! আজ ধোবি মহল্লায় দুটো মরেছে।”

    শিশির স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকল। কপাল এবং বুকের কাছে ঘাম জমার মতন ভয় জমে আছে। ঠাণ্ডা আর ভাল লাগছিল না। নিশ্বাস ফেলল শিশির, হৃৎপিণ্ডের বেদনাদায়ক কেমন এক অস্বস্তি থেকে গেল তবু।

    সাইকেল পরেশের দোকানে রেখে আবার পথে এসে দাঁড়াল শিশির। আধখানা সিনেমা দেখে, কিছু লোক বাইরে বেরিয়ে এসেছে, ফেরিঅলারা চেঁচাচ্ছে, রিকশাঅলা ছোঁড়াগুলো ঘন্টি বাজাচ্ছে মজা করে।

     

     

    পথ দিয়ে হাঁটবার সময় রুমাল বের করে মুখ মুছতে গিয়ে শিশির অনুভব করল, তার আঙুল খুব ঠাণ্ডা, হাতের তালু ঘর্মাক্ত।

    বাজারে কোনো রকম দুশ্চিন্তা অথবা ভীতি দেখা যাচ্ছে না। স্বাভাবিক আলোয়, প্রাত্যহিক প্রসাধনে সজ্জিত এই বাজারটাকে সুখী বনিতার মতন দেখাচ্ছে। পানের দোকানে রেডিও বাজছে, নিই স্টোর্স-এ দু রকম আলো, বেগুনি আর নীল মাথার ওপর খেলা করছে। এই আলো সামনের রাস্তার খানিকটা জায়গা মনোহর করে তুলছে।

    একটা ঝকঝকে গাড়ি মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার সময় হর্ন দিল। শিশির সরে গেল এক পাশে। সরে গিয়ে দেখল, মুখার্জি সাহেব স্ত্রী এবং কন্যা সহ গাড়ির মধ্যে বসে আছেন। মুখার্জি সাহেবের মুখে সিগারেট, মিসেস মুখার্জির কানে দুটো বড় বড় লাল পাথর দুলছে। গাড়ির মধ্যে বাতিটা জ্বলছিল। ওদের মেয়ে সিটে মাথা এলিয়ে শুয়ে আছে।

    গাড়ির দিকে তাকিয়ে শিশিরের একবার মনে হল, গাড়িটা একবার সে থামাতে বলে। হয়ত হাত তুললে মুখার্জি সাহেব তাকে দেখতে পেতেন। দেখতে পেলে হয়ত দাঁড়াতেন। কিন্তু শিশির হাত তুলল না। গাড়ি তার অল্প দূর দিয়ে মুখ ঘুরিয়ে চলে গেল।

     

     

    খুব অন্যমনস্কভাবে শিশির বাজারের রাস্তা দিয়ে আরও কিছুটা গেল, তারপর তালাবন্ধ ব্যাঙ্কের পাশ দিয়ে যে গলিটা ডাইনে চলে গেছে সেই গলি ধরল। তার ডান পায়ে জুতোর একটা পেরেক বুড়ো আঙুলের কাছে ফুটছিল। ক্রমাগতই ফুটে যাওয়া সত্ত্বেও হাঁটতে হাঁটতে এতক্ষণে শিশির ক্লেশটা অনুভব করতে পারল।

    এ গলি তেমন আলোকিত নয়। অনেক দূরে দূরে একটা করে বাতি। সামান্য বৃষ্টি হয়ে যাওয়ার ফলে, নালির দুপাশ থেকে গন্ধ উঠছে, জঞ্জালের গন্ধ। আঁশ এবং পচা বাঁধাকপির পাতা এবং কিছু শালপাতা মাটির খুরি ইত্যাদি চোখে পড়ার পর শিশির মনে করতে পারল, গতকাল বৃন্দাবনবাবুর মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। আজ বোধহয় পরিশিষ্ট।

    এতক্ষণে শিশির সামান্য তৃপ্তি অনুভব করল। গতকাল যাদের বিয়ে হয়েছে তারা আজ এ শহরে নেই। বর-কন্যা চলে যাওয়ারই কথা। শিশির ধরে নিল, বিবাহিত নবদম্পতী চলে গেছে; ধরে নিয়ে, বৃন্দাবনবাবুর মেয়ের কথা ভাবছিল। মেয়েটির নাম লতা। শিশির চেনে। নিতান্ত সাধারণ মেয়ে; তবু তাকে চিনে রাখার একমাত্র কারণ গত বছর বারোয়ারী দুর্গা পুজোর আরতির সময় প্রদীপের তাপ নিতে গিয়ে লতার কাপড়ে আগুন ধরে উঠেছিল। পুড়তে পুড়তে বেঁচে গেছে।

     

     

    সেদিনের দুর্ঘটনা খুব বড় করে আজ আর মনে হচ্ছে না। বরং আজকের সুখের ঘটনা থেকে সামনের দিকে তাকানো যায়। শিশির কৌতূহল ও কৌতুকভরে ভেবে দেখল, লতা মুখ হেঁট করে আধখানা ঘোমটার তলায় বধূর মতন বসে আছে এবং সদ্য দেওয়া সিঁদুরের গুড়ো তার নাক, গাল ও কাপড়ে ঝরে ঝরে পড়ছে। ট্রেনের মধ্যে এক পাশে লতাকে পুতুলের মতন বসে থাকতে দেখে শিশির যেন মনে মনে হাসল। বেশ নিশ্চিন্ত লাগছিল, এই শহরের মড়ক থেকে ওরা চলে যেতে পেরেছে।

    মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা দরকার। শিশির ভাবছিল। জীবন যথার্থ আমাদের কি দেয়, দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রণা অথবা কিছু সুখ কিছু শান্তি অথবা একান্তই কিছু দেয় কি না, নিতান্ত অভ্যাসজনক দিন যাপন ইত্যাদি প্রশ্ন ভাবা অনর্থক। কে কখন কিভাবে কোন স্বাদ পাচ্ছে তা বলা যায় না। লতা আগুনে পুড়ে গেলে কি হত, আর এখন সে কি পাচ্ছে—লতা নিজে ভেবে দেখবে।

    প্রায় গলির শেষ প্রান্তে পৌঁছে শিশির দাঁড়াল। একটা রিকশা দাড়িয়ে আছে। অন্ধকারে পেছন থেকে অত্যন্ত কদাকার দেখাচ্ছিল রিকশাটিকে। অবয়বহীন জন্তুর মতন। এ সময় আবার কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি পড়ল। গুঁড়ো গুঁড়ো বৃষ্টি।

     

     

    রিকশার পাশ কাটিয়ে যাবার সময় রিকশাঅলা ছেলেটাকে শিশির সামান্য এগিয়ে আলোর কাছে দাঁড়াতে বলল।

    “বাত্‌তি কো নাগিচ খাড়া হুয়া করো, ভাই; রাস্তা থোড়া সাফ রাখো।”

    কানে কথা তুলল না ছেলেটা। বিড়ি খেতে খেতে সে বার বার পাশের বাড়ির দিকে তাকাচ্ছিল।

    কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে শিশিরের মনে হল, এই রিকশাটা ভাড়া রিকশা নয়, পাঠক ডাক্তারের প্রাইভেট রিকশা।

    পাঠক ডাক্তারের কথা মনে হতেই শিশির পিছু ফিরে বাড়িটার দিকে তাকাল। সহসা তার মনে হল, মড়ক এই গলির মধ্যে ঢুকে পড়েছে।

    বিছানায় শুয়ে মীরা বলল, “ঘুমোলে নাকি?”

    “না।” শিশির সাড়া দিল।

     

     

    “কী ভাবছ?”

    “কিছু না।”

    “অত গম্ভীর দেখছি, তাই বলছি।” মশারি যেখানে যতটুকু গোঁজবার মীরা পরিপাটি করে গুঁজে নিল। গুঁজে মশারির মধ্যেটা ভাল করে দেখল, কোথাও একটা মশা রয়ে গেল কিনা। পায়ের দিকে হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে গিয়ে হাঁটু ভর করে বসল, তালির শব্দ হল একবার। “না, মশা নয়। একটা কালো সুতোর আঁশ লেগেছিল জালে।” মীরা আবার মাথার দিকে ফিরে এল। বসল। বসে খোঁপাটা ঘাড়ের আর-একটু ওপরে উঠিয়ে দিল, চড়ি থেকে সেফটিপিন খুলে দাঁতের মধ্য থেকে মউরির দানাটা খুঁচিয়ে ফেলে দিল। গায়ের জামা ঢিলে করল, কোমরের ওপর থেকে শাড়িটা আলগা করতে করতে বলল, “এবার খুব তাড়াতাড়ি গরম পড়বে।” ছোট্ট করে হাই তুলল মীরা ।“কাল আমি ঘেমেছি রাত্রে, আজ আর লেপ নেব না।” বালিশের পাশ দিয়ে মশারি ফাঁক করে হাত বাড়িয়ে বাতি নেবাল মীরা। কেরোসিনের ছোট টেবিল-বাতি নেবানোর সঙ্গে সঙ্গে যেন ঝুপ করে অন্ধকারের মশারিটাও খুলে পড়ে গেল।

     

     

    স্বামীর দিকে না ফিরে চিৎ হয়ে শুয়ে মীরা দু মুহূর্ত মনে মনে ঠাকুর প্রণাম করে নিল। পরে বলল, “আজ কদিন তুমি এত গম্ভীর কেন গো?”

    শিশির নীরব।

    “ঘুমিয়ে পড়লে নাকি এর মধ্যেই?” মীরা স্বামীর দিকে পাশ ফিরল। “কি হয়েছে গো?”

    “কি আর! কিছুই নয়।”

    “রাখো—। সারাক্ষণ মুখ গুম করে রয়েছ।” মীরা বালিশ থেকে আরও গড়িয়ে এল, শিশিরের বুকে হাত রাখল। “কি না তখন বলছিলে—, শহরে ক’টা লোক মারা গেছে! তুমি কি সারাক্ষণ ওই ভাবছ?”

    “ভাবছি।” অক্লেশে শিশির ছোট করে বলল।

    “তুমি ভাবছ কেন? তোমার ভাবার কি দরকার? যাদের ভাবনার তারা ভাবুক।”

    “কেউ ভাবছে না।”

    “কেন! এই যে শুনলাম মিউনিসিপ্যালিটি থেকে ঢেঁড়া পিটিয়েছে; জলটল ফুটিয়ে খেতে বলছে, ব্লিচিং পাউডার ছড়াতে বলছে নালি নর্দমায়!” মীরা বলল। তার গলার স্বর তেমন উদ্বিগ্ন নয়, একটু হয়ত স্বাভাবিক দুশ্চিন্ত ছিল, যা শিশিরের কানে উদাসীন ধরনের বলে মনে হল।

    মীরার হাত নরম। সাংসারিক সমস্ত কাজ করা সত্ত্বেও কর্কশ বা কঠিন হয়ে ওঠেনি। শিশির বুকের ওপর মীরার হাত অনুভব করতে করতে বলল, “রোজ আট দশ জন করে লোক মারা যাচ্ছে, জান?”

    “শুনছি তো।”

    “এই শহরে প্রত্যহ এতগুলো লোক মারা যাওয়ার অবস্থাটা বুঝতে পারছ না?”

    “কলেরা বসন্তর সময়ও তো মরে।”

    “না; এভাবে নয়।” শিশির বিরক্ত হল। ঘটনার ভয়াবহতা মীরা বুঝতে পারছে না। এই শহরের সবাই যেমন নিশ্চিন্ত, কিংবা ধরে নিয়েছে যে এই মড়ক স্বাভাবিক, হুট করে এসেছে, আবার চলে যাবে, মীরাও তেমনি ভাবছে। বিষয়টা তাকে বিচলিত ও চিন্তিত করছে না।

    মীরা শিশিরের বুকে একটা আঙুল আলতো করে ঘষছিল। বলল, “আমরা সাবধানে আছি বাপু। কোনও রকম নোংরা-টোংরা তুমি এ বাড়িতে দেখবে না।”

    অসন্তুষ্ট হল শিশির। মীরা শুধু নিজেদের কথাই ভাবছে। যদিও সাবধানে থাকার সঙ্গে এ রোগের কোনো সম্পর্ক আছে কি না শিশিরের জানা নেই, তবু মনে হল স্বার্থপর এই চিন্তা খুবই নোংরা। মানুষ এই রকম চিন্তা করে বলেই সমস্যা থেকে বিচ্ছন্ন ও পৃথক হয়ে যায়।

    “সাবধানে থাকলেই তুমি বেঁচে যাবে, তোমায় কেউ বলেছে?” শিশির ক্ষুণ্ণ হয়ে বলল, “তুমি কতটা সাবধানে থাকতে পার।”

    মীরার ইচ্ছে করছিল না রাত দুপুরে শুয়ে শুয়ে এখন রোগ ভোগ নিয়ে গল্প করে। সংসারে সারাক্ষণই শত দুশ্চিন্তা; বাবার চিঠি পেয়ে গতকাল থেকেই মন খারাপ হয়ে আছে মীরার, মা বুড়ো বয়সে পা ভেঙে শয্যাশায়ী। বাচ্চুর চিঠি এসেছে আজ, স্কুলের বোর্ডিংয়ে থেকে লেখাপড়া করে আসানসোলে; লিখেছে, মা আমার দুদিন ধরে খুব সর্দি-কাশি হয়েছে। আমার সমস্ত বই এখনো কেনা হয়নি। তুমি এ মাসে বইয়ের টাকাও পাঠিয়ো।

    শহরের রোগের কথা না ভেবে, মীরা স্বামীর বুকের পাশে মাথা রেখে চোখ বুজে বাচ্চুর কথা ভাবছিল। বাচ্চুর বয়স এখন মাএ তেরো। মীরার যখন বিয়ে হয়েছিল তখন বাচ্চুর বয়স ছিল সাত আট। বাছুর মা, অর্থাৎ শিশিরের প্রথম স্ত্রী দ্বিতীয় সন্তান হতে গিয়ে মারা যায়। বাচ্চু তখন বছর চারেকের ছিল। করবে না করবে না করেও শিশির বেশ দেরি করেই আবার বিয়ে করল।

    তা করুক। মীরার তেমন কোনো ক্ষোভ এ-বিষয়ে নেই। তবে তার দুঃখ, নিজের গর্ভে কোনো সন্তানাদি তার হল না। হয়ত আর হবে না। বাচ্চুটাও কাছে থাকে না বলে বড় ফাঁকা লাগে। শিশির এই শহরের স্কুলে ছেলেকে পড়াবে না। বলে, এখানকার গোয়ালে ছেলেকে রাখলে তোমার কপালে দুঃখ ছাড়া কিছু জুটবে না।

    মীরা নিশ্বাস ফেলল। ফেলে বাচ্চুর কথা তুলল। বলল, “তোমার যত অকাজের চিন্তা। যাও না, ছেলেটাকে একবার দেখে এসো বরং। সর্দিকাশিতে ভুগছে—”

    শিশির সামান্য পাশ ফিরল। জানলার বাইরে যতখানি শূন্যতা সমস্তটাই অন্ধকারে ভরা। অতি ক্ষীণ একটি আলোর মলিন রেখা টিউবকলের পাশ দিয়ে ফুল গাছটার কাছে গিয়ে পড়েছে। আলোটা পথের। শিশির, বাচ্চুর কথা দু মুহূর্ত ভাবল বোধহয়। ছেলেকে সবাইর সঙ্গে সুখে দুঃখে কষ্টে অসুবিধায় সে মানুষ করতে চায় বলে অল্প বয়স থেকেই বাইরে রেখে দিয়েছে। আত্ম-নির্ভরতা না থাকলে মানুষ কখনও মানুষ হয় না। যদি সর্দি-কাশি হয়ে থাকে হোক, শিশির ভাবল সর্দি-কাশি মানুষ মাত্রেরই হয়ে থাকে, সেরে যাবে, দেখতে যাওয়ার কোনো কারণ নেই।

    “বাচ্চু কি যেতে লিখেছে আমাকে?” শিশির বলল।

    “না, যেতে লিখবে কেন?”

    “তবে যাবার কি দরকার! সর্দি-কাশি সব মানুষেরই হয়।”

    মীরা অসন্তুষ্ট হল। শিশির এমনভাবে কথাটা বলল যেন তাকে উপেক্ষা করল, উপহাস করল। ক্ষুব্ধ হয়ে মীরা বলল, “সব মানুষেরই যদি সর্দি-কাশি হয়, তবে সব মানুষের রোগও হয়। কেউ কেউ রোগে মরে। তুমিই বা অত মাথা ঘামিয়ে মরছ কেন?”

    জবাব দেবার আগে শিশির কেন যেন সাইকেলের দোকানের ছোটটুর কথা ভাবল। বলল, “তুমি বুঝতে পারছ না শহরের অবস্থা কেমন হয়ে আসছে।”

    “না, আমি কিছু বুঝি না; সব তুমিই বোঝ।”

    “খানিকটা বুঝতে পারি।” বলে থামল শিশির। বলল, “আজ পনের ষোল বছর আমি এই শহরে আছি। ভাল-মন্দ দুই-ই দেখেছি।…তুমি জান এখানের শ্মশানে মাসে চারটে মরা পুড়লেই যথেষ্ট হত। একটা পাকা ঘাট, মাথা বাঁচাবার মতন একটু জায়গা চেয়ে চেয়ে লোক হদ্দ হয়ে গেছে, পায়নি। আজ সেখানে রোজ সাতটা আটটা করে লোক মরছে।…এভাবে চললে এই শহর শ্মশান হয়ে যাবে।”

    মীরা স্বামীর উদ্বেগ নিতান্ত অকারণ মনে করল। মনে করে বলল, “তুমি ছটফট করলেই যেন সব সমস্যা মিটে যাবে। যাদের ভাববার তারা ভাবছে।”

    “তারা ভাবছে না। তারা এই ঢেঁড়া পেটানোর কথাটুকুই ভাবছে।”

    “না তারা ভাবছে না, সব ভাবনা তোমার ওপর দিয়ে বসে আছে!…তুমি কে?”

    শিশির নীরব হয়ে গেল। মীরার কথাটা শোনার পর তার মনে আচমকা এই প্রশ্নটাই লাফ মেরে উঠে দাঁড়াল। তুমি কে? ভাবনার দায়িত্ব তোমায় কে দিয়েছে? তুমি কোন অধিকারে এ-সব ভাবছ?

    কুল ঝোপের কাছে যে পাতলা কোনো রকমে লেগে থাকা ঈষৎ আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে সেদিকে তাকিয়ে শিশির দীর্ঘশ্বাস ফেলল। নিশীথের কথা তার মনে পড়ল। মোমের মতন সাদা মুখ, হলুদ দুটি চোখ, কয়েকটা কুকুর পাশের ঘরে চেঁচাচ্ছে— নিশীথ মৃত্যু শয্যায়। এই মৃত্যু শিশির দেখেছে। অস্বাভাবিক, অসঙ্গত, নির্দয়। ‘আমার খয়েরি কুকুরটার বাচ্চা হবে শীঘ্র বুঝলেন শিশির দা। যদি সব কটা বেঁচে যায় আমি আড়াই শো তিনশো টাকা কামিয়ে নেব। ইচ্ছে আছে হাতে টাকা এলে একবার গয়ায় যাব। মা-র পিণ্ডিটা দিয়ে আসা উচিত। পাঁচ বছর হয়ে গেল। …” শিশির নিশীথের এই ক’টি কথা স্মরণ করতে পারল। পথে দেখা হয়েছিল একদিন, অসুখের ঠিক আগে আগে।

    এখনও শিশিরের মনে হল, নিশীথের মৃত্যু তাকে অকারণে অপ্রসন্ন করছে। যেন সে কোথাও না কোথাও দায়ী। তার দায়িত্ব বস্তুত কোথাও, কেন, কি করে সম্ভব— শিশির ধারণা করতে পারছিল না, তবু আশ্চর্যভাবে অনুভব করছিল, সে এই অস্বস্তিকর দুর্বোধ্য দায়িত্ব পীড়ন থেকে মুক্ত হতে পারছে না।

    মীরা ঘুমিয়ে পড়েছিল। শিশির মীরার হাত আস্তে করে নিজের বুক থেকে সরিয়ে দিল।

    পরের সপ্তাহটা আরও ভীতিকর হয়ে উঠল। সোমে মারা গেল দশজন, মঙ্গলবার গোশালার দিকে ইতর জনের মহল্লাটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠল, ওদিকে পা বাড়াতে কারও সাহস হচ্ছিল না। বুধবার একই রকম অবস্থা। মনে হচ্ছিল, পরবর্তী দিন পূর্ববর্তী দিনকে প্রাণপণে হারিয়ে দেবার জন্যে ছুটছে, কে কত বেশি মাথাগুণতি মৃত্যু নিয়ে শ্মশানটাকে ছুঁতে পারে। শহরে এতদিনে একটা আতঙ্কের ভাব দেখা দিল। মিউনিসিপ্যালিটির তরফ থেকে দুটো লরি ভাড়া করে জনা কয়েক লোককে তারস্বরে চেঁচাতে বলা হয়। তারা চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলে বেড়াতে লাগল; ‘ভাই ও, আপনা জান্ আপকো হাত মে। মাছ্ছি-চুহা-তেলচিট্‌টা সে, সামাল কর রহিয়ে গা। গান্‌ধি সে তফাত, ময়লা পানি সে তফাৎ,…।’ কয়েকটা সাইকেল রিকশার ওপর ব্লিচিং পাউডার ও ডি ডি টি রেখে স্যানিটারীবাবু পাড়ায় পাড়ায় প্রতিরোধ বিলি করতে লাগলেন। মিউনিসিপ্যালিটির অফিসে মেম্বারদের মিটিং হয়ে গেল। কয়েকজন পুলিশ বাজারের ক’টা খাবারের দোকান থেকে কিছু খাবার টেনে নালিতে রাস্তায় ফেলে দিল।

    শনিবার সকাল হতে অতটা বোঝা যায়নি, কিন্তু বেলা যত বাড়তে লাগল, মনে হল মিউনিসিপ্যালিটির ছেলে মানুষিকে উপহাস করার জন্যে অথবা তাকে ধিক্কার দেবার আনন্দে কিংবা যেন ক্রুদ্ধ হয়েই সেই অজ্ঞাত ভীষণ সংক্রামক ব্যাধিটা শহরের উচ্চ নীচ অধম ইতর কিছুমাত্র বিবেচনা না করে প্রায় প্রতি ঘণ্টার মাথায় একটি করে জীবন গ্রাস করতে লাগল।

    রবিবার আসার পর বোঝা গেল, এই শহর অতি রকম ভীতার্ত। দু দল ভলেন্টিয়ার পালা করে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরছে। জেলা শহর থেকে ডাক্তার এসেছে চারজন। নদীর কাছে তাঁবু ফেলা হচ্ছে অসুস্থদের জন্য, কিছু ডোম মেথর মুদ্দফরাস এসেছে পাবলিক হেলথের গাড়ি চড়ে কোদাল ঝুড়ি হাতে নিয়ে।

    শহর খাঁ খাঁ করছিল প্রায়। কিছু লোক পালিয়েছে ইতিমধ্যে; কিছু কিছু পালাচ্ছে। একটা পুলিশ পার্টি জিপ চেপে সমস্ত শহর টহল দিচ্ছে, কোনও রকম খাবারের দোকান খোলা চলবে না, পান বেচা বন্ধ বাজারে মাছ-মাংস অথবা পচা কফি বেচা নিষেধ।

    শিশির এইমাত্র স্নান সারল। মীরা টিউবকলের জল ফুটিয়ে লাইজল ঢেলে তবে এক বালতি জল দিয়েছিল স্বামীকে স্নান করতে। স্নান করতে করতে শিশির লাইজলের গন্ধে অপ্রসন্ন হয়ে উঠেছিল। খুব বেশি রকম সতর্কতা ও এটা নয়; এক এক ধরনের মূর্খতা। স্নানের জল নিয়ে এতটা সাবধান হওয়ার প্রয়োজন ছিল না।

    বাইরে কড়া নাড়ল কে যেন।

    সাড়া দিল শিশির। মীরা বলল, “তুমি কাপড় ছাড় গে যাও, আমি দেখছি।”

    মীরা দেখতে গেল বাইরে। শিশির ঘরে এসে কাপড় ছাড়তে লাগল।

    সামান্য পরেই ফিরে এল মীরা, হাতে একটা খাম । বলল, “তোমার চিঠি যেন কিসের। কি রকম চোগাচাপকান পরা একটা এসেছিল গো চিঠি দিতে।”

    চিঠিটা নিল শিশির। মুখার্জি সাহেবের মোহর করা চিঠি। খাম ছিঁড়ে চিরকুটটা বের করল। সন্ধ্যেবেলা মুখার্জি সাহেব দেখা করতে বলেছেন।

    সন্ধেবেলা ঘটনাটা এই রকম ঘটল।

    মুখার্জি সাহেব প্রশ্ন করলেন, “আপনি ডাক্তার?”

    “আজ্ঞে না।” শিশির জবাব দিল বিনীত স্বরে।

    “আপনি না কোর্টে চাকরি করেন?”

    “আজ্ঞে হ্যাঁ, আমি…”

    “আপনি মিউনিসিপ্যালিটির মেম্বার?”

    “আজ্ঞে না। আমি মেম্বারও নই।”

    মুখার্জি সাহেব শিশিরের চোখে চোখে তাকালেন দু মুহূর্ত। বললেন, “যে লোক ডাক্তার নয়, সে কোনো রকম সোস্যাল ওয়েলফেয়ারের রেকর্ড দেখতে পারবে না, এমন কি মিউনিসিপ্যালিটির মেম্বারও নয়, তার পক্ষে এসব ধৃষ্টতা কেন?” কথাটা শেষ করে মুখার্জি সাহেব পকেট থেকে একটা পাতলা কাগজ বের করে মুচড়ে তাল পাকিয়ে ছুঁড়ে দিলেন শিশিরের মুখের দিকে। মনে হল, শিশিরের মুখে ছুঁড়ে মারলেন।

    মুখার্জি সাহেবের সংযত ভঙ্গি সত্ত্বেও তাঁর মুখ লাল হয়ে উঠছিল, চোখ অত্যন্ত নোংরা দেখাচ্ছিল।

    শিশির কয়েক মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে বসে থাকল। তার নিশ্বাস পড়ছিল না। হাত এবং পায়ে ঘাম হচ্ছিল। কান জ্বালা করছিল।

    এই গ্লানি সহ্য করা অসম্ভব। শিশির উঠে পড়ার জন্যে চেয়ার ঠেলে দাঁড়াতে গেল। শব্দ হল একটু।

    “শহরে এপিডেমিক কেন হল, কি জন্যে হল, কি করা উচিত, কি করলে ভাল হয় তা দেখার জন্যে মিউনিসিপ্যাল বোর্ড আছে, হেলথ্ ডিপার্টমেন্ট আছে, আমি আছি, গভর্নমেন্ট আছে। হু আর ইউ?” মুখার্জি সাহেব এমনভাবে কথাটা বললেন যেন হাত বাড়িয়ে শিশিরের লাইসেন্স দেখতে চাইলেন, কোন্ অধিকারে শিশির জনকল্যাণ ফিরি করছে।

    কিছু বলল না শিশির। ভদ্রভাবে একটা নমস্কার সারল। সেরে চলে আসছে, মুখার্জি সাহেব আবার বললেন, “ইউ শুড্ বি অ্যামেড…নিজের ছেলেকে বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে আপনি শহরের এপিডেমিকের কথা ভাবছেন। যান, বাঁদরামি আর করবেন না। আগে যোগ্যতা হোক।”

    শিশির বাইরে এল।

    বাইরে এসে তার চৌদ্দ বছরের সাইকেলটা ঠেলে মহামারীর দিকে এগিয়ে চলল।

    যেতে যেতে শিশির ভাবছিল, এই শহরের মহামারীতে সে এবং মীরা কোনওদিন মৃতের তালিকায় স্থান পেতে পারে। কেন না, আপাতত এই শহর কেবল মাত্র যোগ্য এবং অধিকারী ব্যক্তিদের উপদেশ মতন পরিচালিত হবে। রাজারামবাবু আরও দেদার ব্লিচিং পাউডার ছড়াতে হুকুম করবেন, তিনি চেয়ারম্যান। মুখার্জি সাহেব ইঁদুর মশা মাছি থেকে সাবধানে থাকতে বলবেন, কেন না তিনি হাকিম, শিশির কিছু বলতে পারবে না—কেননা প্রতিটি মৃত্যুর উদ্বিগ্ন ও অস্থির বোধ করছে। সে শুধু লজ্জিত হবে। অনুতপ্ত হবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখোয়াই – বিমল করভ
    Next Article খড় কুটো – বিমল কর

    Related Articles

    বিমল কর

    কাপালিকরা এখনও আছে – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    রাজবাড়ির ছোরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    ঘোড়া সাহেবের কুঠি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    সেই অদৃশ্য লোকটি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    শুদ্ধানন্দ প্রেতসিদ্ধ ও কিকিরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    কিকিরা সমগ্র ১ – বিমল কর

    October 30, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }