Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চাশটি গল্প – বিমল কর

    বিমল কর এক পাতা গল্প1346 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বকুলগন্ধ

    ঠিক কানামাছি খেলা নয়; তবে কানামাছির মতনই। কে যেন পা টিপে টিপে এগিয়ে এসেছে, হাত রেখেছে অঞ্জনার গায়ে বিকেল-বিকেল আলোয়। অঞ্জনা তখন জল দেখছে কুয়োয় গা ঝুঁকিয়ে। কে এল, কার হাত তার গায়ে? শিউরে উঠেছে অঞ্জনা, ধুকধুক করেছে বুক অথচ স্পর্শসুখে ঢিলপড়া পুকুরজলের মতই কেঁপে উঠেছে চুপি চুপি। সে কাঁপন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়েছে। অনুভবে অনুমান করেছে অঞ্জনা তাকে—যার হাত ওর গায়, পায়ে পায়ে যার শব্দ নেই, কথা নেই ঠোঁটে। যেন এরই অপেক্ষায় ছিল অঞ্জনা একা একা, কুয়োতলায়, বিকেল-বিকেল আলোয়। মুখ ফিরিয়ে তাকে চট করে চিনে নিতে মন চায়নি অঞ্জনার। একটু দেরি করেছে ও। সেই আশ্চর্য আনন্দে যখন গা-মন ভর-ভর তখন অঞ্জনা মুখ ফিরিয়েছে। এর জন্যে দুঃখ হচ্ছে ভীষণ, এখন, যখন স্বপ্ন ভেঙে গেছে, সেই কানামাছির মিষ্টি স্বপ্ন। দেখা হল না আর সেই মুখ, চিনেও চেনা গেল না; ভেঙে গেল স্বপ্ন। শুধু অনুমানটাই কাঁটার মত বিঁধে থাকল।

    ঘুম-ভাঙা চোখে বিছানায় উঠে বসল অঞ্জনা। সবে ভোর। এখনও আবছা অন্ধকার ফরসার সঙ্গে বুনন দেওয়া। সিরসির হাওয়া। গাছ-গাছালি ছেড়ে পাখি উড়ে যাচ্ছে আকাশে একটি-দুটি করে। তাদের কাকলি। হালকা গন্ধ ভেসে আসছে মাঝে মাঝে—মিষ্টি গন্ধ, বকুল ফুলের।

    জানলা দিয়ে বকুল গাছের মাথাটা দেখা যায়; কম্পাউণ্ড-ওয়ালের আড়ালে ঢাকা পড়েছে বকুলতলা। অঞ্জনা আনমনা-চোখে সেই দিকেই তাকিয়ে থাকে। বাতাসে গন্ধ।

    বিছানা ছেড়ে যখন নেমে এল অঞ্জনা, রাতশাড়ির ভাঁজে তখনো অনেক আলস্য। গা থেকে সে-আলস্য না মুছে ও শুধু একটু গুছিয়ে নিল; আঁচলটা জড়াল গায়ে। মা আর মিন্টু অঘোর ঘুমে। দরজা খুলে আস্তে আস্তে বাইরে পথে এসে দাঁড়াল অঞ্জনা।

    —এত সকালে এখানে দাঁড়িয়ে?

    কে? কে কথা বললে? অঞ্জনা চমকে উঠে চোখ তুলল। শ্যামল। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। উস্কখুস্ক চুল। এখনও ঘুম জড়িয়ে আছে ওর চোখে। এইমাত্র বিছানা ছেড়ে উঠে আসছে মনে হল। হাসছে শ্যামল। তেমনি চুপহাসি, একটু ঠোঁট কাঁপানো, গাল ছড়ানো।

    অঞ্জনা যেন মাটিতে পা পেল এতক্ষণে। পায়ে পায়ে বুকলতলাতেই এসে দাঁড়িয়েছে ও। কখন, কতক্ষণ—; আশ্চর্য তো!

     

     

    —এখানে দাঁড়িয়ে কী করছ? শ্যামল মুখে-মুখেই হাসল আবার।

    —বেড়াতে বেরিয়েছি। অঞ্জনা মৃদুস্বরে জবাব দিল, ঝরা বকুলের দিকে চেয়ে।

    মনে পড়ল শ্যামলের। কাল বিকেলে স্টেশন থেকে ফেরার পথে অঞ্জনা বলেছিল বটে।

    —মর্নিং ওয়াক? কিন্তু কই, বেড়াচ্ছ কই? তোমার বাড়ির গেট থেকে বকুলতলা বড়জোর বিশ পা, কী পঁচিশ পা— এতেই বেড়ানো হয়ে গেল? কাল সকালেও তোমায় এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। এ-বেড়ানোয় শরীর সারে না।

    কথাটা শ্যামল বাড়িয়ে বলেনি। কাল সকালে, এত ভোরেই হবে, শ্যামল ওকে বকুলতলাতেই দেখেছে। সারারাত ট্রেন-জার্নি করে শ্যামল আসছিল। লাল-চোখ, উদ্বিগ্ন, ক্লান্ত; হাতে সুটকেস। অঞ্জনা তখন এই বকুলতলাতেই। অন্যমনস্কভাবে দাঁড়িয়ে। শ্যামলকে দেখেও যে দেখেনি। কাছাকাছি আসতেই থমকে দাঁড়াল শ্যামল। আর সেই মুহূর্তেই চেনাচিনি হয়ে গেল। চার বছরের না-দেখা দুটি মুখ এক নিমেষে চার বছর পিছিয়ে এল। খুবই অবাক হয়েছিল শ্যামল কাল সকালে। অঞ্জনা অতটা অবাক হয়নি। ও জানত শ্যামল আসবে, শ্যামল আসছে; হয় তুফান এক্সপ্রেসে, নয় বম্বে মেলে, বড়জোর বেলা দশটার প্যাসেঞ্জারে তো নিশ্চয়ই। মাসিমার— শ্যামলের মার অসুখ। টেলিগ্রাম গেছে কলকাতায়। সবই জানত অঞ্জনা, সবই। পাশাপাশি বাড়ি। বহুদিনের পরিচয় পরিবারে পরিবারে। অঞ্জনারাই যা এখন এখানে থাকে না বরাবর। কিন্তু বাড়ি আছে। আসে ছুটিছাটায়। বিশেষ করে যখন হাওয়া বদলাবার দরকার হয়, শরীর সারাবার প্রয়োজন। এ-বাড়ি ও-বাড়ির পারিবারিক বন্ধনটুকু তাই এখনো অটুট। অন্তত ওপরে ওপরে তাই; বাবা, মা মাসি, মেসো, গুরুজনে গুরুজনে কোনো মনান্তর নেই। সবই আগের মতন। তেমনি হৃদ্যতা। সেই পুরনো অন্তরঙ্গতা শুধু দু-টুকরো সুতোর মতো আলাদা হয়ে গেছে একটি জায়গায়। সে জায়গায় আর কেউ নেই, কারুর ছায়াও না, সেখানে শুধু শ্যামল আর অঞ্জনা।

     

     

    —তোমার সঙ্গে আমিও একটু মর্নিং ওয়াক্‌ করব নাকি? শ্যামল তেমনিভাবেই তাকিয়ে, এখনো সেই চুপ-হাসি।

    অঞ্জনা কি জবাব দেবে? না, আপত্তি জানাবে মাথা নেড়ে? মুখে আপত্তিটা তুলতে পারলে ভালোই হত। শ্যামলের সঙ্গে দেখা নতুন করে, মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা। এই চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই বড় কাছাকাছি এগিয়ে এসেছে ও। এতটা ভাল নয়। কাল সকালে সেই হঠাৎ দেখা, মুখোমুখি দাঁড়ানো, শ্যামলের একটি প্রশ্ন, চার বছর পরে একটি কথা— ‘মা কেমন আছে’— বিকেলে সেই একটি কথাই শত কথা হয়ে দেখা দিল। উচিত হয়নি অঞ্জনার পিছন-ডাক শুনে দাঁড়ানো। মিন্টুকে সঙ্গে করে স্টেশনে বেড়াতে গিয়েছিল রোজকার মতই বিকেলে। ফেরার পথে অঞ্জনার একাই পথ হাঁটা উচিত ছিল। কিন্তু ওভারব্রিজের নীচে নামতেই পিছন থেকে ডাক দিল শ্যামল। ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে ফিরছে। অঞ্জনা দাঁড়াল, মিন্টু ছুটে গিয়ে শ্যামলের হাত ধরে ফেলল। তারপর ওরা পাশাপাশি হেঁটেছে কাঁকর-ছড়ানো, গাছগাছালি ঢাকা শূন্য পথ দিয়ে, মাঠ ভেঙে। তখন গোধূলি। রাজপাহাড়ের মাথায় আকাশ রং খেলছে। জংলি বাতাস আসছে ঝাপটা দিয়ে। পথ হাঁটছে ওরা— ওরা দুজনে, পাশাপাশি। মিন্টু ছুটতে ছুটতে এগিয়ে গেছে অনেক, অনেকটা। চার বছর পরে আবার এই পাশাপাশি পথ হাঁটা। চার বছর আগের কথাটাই মনে পড়েছে দুজনেরই। আর অস্বস্তি, অদ্ভুত অস্বস্তিতে দুজনেই কেমন গুমট মন। শেষ পর্যন্ত গুমট ভাবটা কাটিয়ে উঠল শ্যামলই। সকালের সেই একটা কথায় যেন পথ খুলে গিয়েছে আবার— চার বছর পরে অঞ্জনার সঙ্গে আলাপ-আলাপনের।

     

     

    আশ্চর্য, প্রথম প্রথম শ্যামলের গলা কেঁপেছে, সহজ, স্বতঃস্ফূর্ত কথাগুলো জড়িয়ে গেছে জিবে। ধীরে ধীরে কখন যেন সেই ভাবটাও কেটে গেল। অঞ্জনাও প্রথম প্রথম মুখ বুজে ছিল— একেবারেই বোবা হয়ে। একটি দুটি হাঁ-না আর বুক চাপা নিশ্বাস ছাড়া অঞ্জনা দ্বিতীয় কোনো শব্দ পর্যন্ত করতে পারেনি। ভয় ভয় করেছে। ঘা লেগেছে কোথায় যেন, আত্মসম্মানেই বোধ হয়। নাকি আর কিছুতে, অন্য কোথাও! সেই অঞ্জনাও কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবাক হল; মোটামুটি কথা বলল, এক সঙ্গে হেঁটে বাড়ি ফিরে এল। আশ্চর্য! কেমন করে যে এতটা সহজ হতে পারল ওরা পরস্পরের কাছে কে জানে। অথচ এই শ্যামল যখন সবেমাত্র একটি দুটি কথা বলে আবার পুরনো হতে চেষ্টা করছে— অঞ্জনার তখন গা ছমছম করছিল, হঠাৎ না জানি কেন সে কাপড় তুলে দিয়েছে মাথায়। জনবিরল সেই পথে, সন্ধেবেলায় শ্যামলের কাছে হঠাৎ মাথায় কাপড় তুলে দেওয়ার কোনো কি দরকার ছিল? তবু যদি সেটা থাকত! পথ হাঁটতে হাঁটতে কথায় কথায় কখন যেন খসে গেছে। এই বকুলতলার কাছাকাছি এসে শ্যামল যখন বললে, ‘তোমার স্বামী শুনেছি ডাক্তার, কিন্তু ভদ্রলোক তাঁর স্ত্রীর স্বাস্থ্য তো ফেরাতে পারলেন না। একেবারে তেমনি আছ তুমি, তেমনি রোগা’— তখন, ঠিক তখনই অঞ্জনার মনে পড়ল মাথায় কাপড়ের কথা। হাত দিয়ে বুঝল ওটা খসেছে। কিন্তু আর ইচ্ছে হয়নি মাথায় কাপড় তুলে দিতে। বরং কোথায় যেন একটা অস্বস্তি ছিল, সরে গেছে— আর সেই স্বস্তিতে অঞ্জনা মৃদু শব্দ করে হেসেছে। বলেছে শ্যামলকে, হাতের কাছে আয়না থাকলে তোমার মুখের সামনে তুলে ধরতাম।

     

     

    —কেন?

    —নিজেকে একবার দেখতে। কত মোটাই হয়েছ তুমি নিজে যে আমায় বলছ?

    —আমার স্বাস্থ্য— ওর কথা বাদ দাও। এ-কাঠামোয় আর বদলাবে না।

    —কেন? শুনেছি বউদি তোমায় খুব আদর-যত্ন করেন। শরীর সারা উচিত ছিল।

    —তাই নাকি? তা বউদির আর কি কি গুণের কথা শুনলে?

    —অনেক। সত্যি, তোমার বউয়ের প্রশংসায় এখানে সকলে পঞ্চমুখ। বড়ো ইচ্ছে করে একবার দেখতে। অঞ্জনা হঠাৎ থামল। গলাটা একটু বুঝি ভারী শোনাল; বললে, অমন বউ তোমার—।

    শ্যামল যেন কী একটা বলতে গিয়ে থেমে গেল। অঞ্জনাও কয়েক মুহূর্ত নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থেকে বাড়ির পথ ধরল।

     

     

    রাত্রে শুয়ে শুয়ে অঞ্জনার কত কথাই মনে পড়েছে। সকালের এই দেখায় আবার যেন সেই পুরনো কথাই গুনগুনিয়ে উঠেছে। এতটা ভাল নয়। ভাল নয়। কী লাভ এতে? বরং ক্ষতি— অনেক ক্ষতি।

    —ব্যাপার কি, চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলে যে! যাবে না বেড়াতে? চল, একটু ঘুরে আসি সকালবেলায়।

    কথা বললে না অঞ্জনা, শুধু পা বাড়াল। কটি বকুল ঝরল পথে।

    ধবধবে ফরসা হয়ে এসেছে আকাশ-বাতাস। হু হু হওয়া বয়ে যাচ্ছে একটানা; খানিকটা পথ হেঁটে ওরা মাঠে এসে দাঁড়িয়েছে।

    —বসবে নাকি? শ্যামল বললে।

    —না। অঞ্জনা মাথা নাড়ল।

    —হাঁটবে আরো?

     

     

    —চল!

    না, অঞ্জনা বসবে না। কখনোই বসবে না এই মাঠে। এমনিভাবে ওরা একসময় অনেক বসেছে, সকালে, সন্ধেয়, পূর্ণিমায়। দুজনে ঘন হয়েছে তখন, কথা বলেছে কি বলেনি, হাতে হাত রেখে পাতা পড়ার শব্দ শুনেছে। তখন যা মনে হত— আর মনে হলে যে সুখে, আশায় সর্বাঙ্গ অসহ্য আনন্দে টনটন করে উঠত— এখনও যদি তাই মনে হয় আর তেমনিভাবে সুখ আসে চোখে, মনে, বুক দুরুদুরু করে তাহলে কী করবে অঞ্জনা? পারবে সহ্য করতে? উচিত হবে সহ্য করা?

    না, না, সে অসম্ভব। অসম্ভব।

    —সূর্য উঠল; চল ফিরি। বলল অঞ্জনা, আরো খানিকটা এগিয়ে এসে।

    —চল। ফিরতিপথ ধরল শ্যামল।

     

     

    পুকুরের পাশ দিয়ে ফিরতে ফিরতে শ্যামল হঠাৎ দাঁড়াল। আঙ্গুল দিয়ে দেখালে পুকুরপাড়ে হেলে জল-ছুঁই-ছুঁই কামরাঙা গাছটা। বললে, দেখেছ, সেই গাছটা; এখনও তেমনিভাবেই দাঁড়িয়ে।

    অঞ্জনা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল।

    —ওই গাছটা দেখলেই আমার সেই সাপের ছোবল খাবার কথা মনে পড়ে যায়। আর একটু হলেই—

    অঞ্জনারও মনে পড়েছে সে-কথা। একদিন ঘোর বর্ষায় দুপুরবেলায় ওরা দুজন মিলে বর্ষায় ভিজতে বেরিয়ে পড়েছিল বাড়ি ছেড়ে। কী ছেলেমানুষিই করত তখন। টো টো ঘুরে জলে কাদায় একশা। পুকুরপাড় দিয়ে আসছে। হঠাৎ চেপে জল নামল আবার। ছুটতে ছুটতে শ্যামল আর অঞ্জনা এসে দাঁড়াল ওই গাছতলায়। কামরাঙার পাতায় কতটুকু জল আটকে ছিল আজ আর মনে নেই, কিন্তু মনে আছে সেই চিৎকার। শ্যামল অঞ্জনাকে টেনে নিতেই দুজনে পুকুর জলে। সাপ-সাপ। ভয়ে কাঠ অঞ্জনা। কামরাঙার ডালের গা বেয়ে লিকলিক গা দুলিয়ে একটা সাপ ঝুলছে। অঞ্জনা শ্যামলকে আঁকড়ে ধরেছে সবটুকু জোর দিয়ে সেদিন।

     

     

    অঞ্জনা মনে মনে সমস্ত ঘটনাটাই একবার ভেবে নিলে। এখনও ফিকে হয়ে আসেনি। সে-দৃশ্য।

    —ভালই হত। অঞ্জনা বলল, ঠোঁটের কোণে একটু ম্লান হাসি এনে।

    —কী আর ভাল হত!

    —মরে যেতাম।

    শ্যামল তাকাল অঞ্জনার দিকে। একটি শিরা নীল হয়ে ফুটে উঠেছে গলায়। দপ্‌দপ্ করে কাঁপছে। কপালে কটি রেখাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে অঞ্জনার।

    —রাগ করছ নাকি? শ্যামল পথ চলতে শুরু করলে।

    —না।

     

     

    —আমি কি আর তোমার রাগ বুঝি না?

    —তবে আর মিছেমিছি জিগ্যেস করছ কেন?

    দুজনেই চুপ। পথ শেষ হয়ে এল প্রায়। আর কতটুকু।

    —তোমায় একটা কথা বলব ভেবেছিলাম। শ্যামল অগোছালভাবে কথা বলছে। মুখে চোখে চাপা আবেগ।

    অঞ্জনা অপেক্ষা করছে। ভয়-কৌতূহলে দুরুদুরু বুক।

    —দেখ অঞ্জনা, যা হয়ে গেছে তা অপ্রিয়। আমি চাইনি—কখনও ভাবিনি, অমন বিশ্রী একটা কাণ্ড হতে পারে। সে সমস্ত কথা ভাবতেই যেন কেমন লাগে। নিজেকে বড়ো ছোট মনে হয়; কেমন একটা গ্লানি অনুভব করি।

    এই কটি কথা বলতেই পথ শেষ। শ্যামলদের বাড়ির গেটের কাছে তারা পৌঁছে গেছে। দাঁড়াল দুজনেই। একটু ইতস্তত করে শ্যামল আবার বললে, আবার যদি কখনও দেখা হয়, আমরা যেন পরস্পরের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে কথা বলতে পারি। কুশল প্রশ্ন করতে পারি। শুধু এইটুকুই।

     

     

    শ্যামলের যেন আরও কত কথা বলার ছিল; বলল না। গেট খুলে চলে গেল।

    অঞ্জনা পাথর। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল শ্যামলকে, সেই শ্যামলকে যে একদিন ওকে সাপের ছোবলের মুখ থেকে বাঁচিয়েছে, আর একদিন নিজেই সাপের মতো ছোবল দিয়ে সরে গেছে।

    অদ্ভুত মানুষ! অঞ্জনার বুকে কোথায় যেন একটা মোচড় দিয়ে উঠছে। পা পা করে ও এগিয়ে যেতে লাগল। সেই বকুলতলা। তেমনি গন্ধ। বড়ো মিষ্টি, সব কিছু ভুলিয়ে দেয়, উন্মনা করে তোলে, মুঠো মুঠো ঘুম ছড়িয়ে দেয় চোখে।

    হঠাৎ যেন অঞ্জনার সেই কানামাছির মিষ্টি স্বপ্ন আবার ভেসে এল চোখে। সেই না-দেখা মুখ, সেই গা-ছোঁয়া হাত।

    বকুলতলায় দাঁড়িয়ে থাকল অঞ্জনা।

    পরের দিন সকালে আবার দেখা।

    —চললাম। হাতের সুটকেস মাটিতে নামিয়ে শ্যামল একটু দাঁড়াল। সিগারেট ধরিয়ে নিলে। হাসল এই সকালের মতনই, স্বচ্ছ হাসি, শীঘ্রি আবার দেখা হবে।

     

     

    —কলকাতায়?

    —কলকাতায় কেন এখানেই। কলকাতায় কি বকুলতলা আছে? ঢিলে গলা, হাসিখুশি জড়ানো। বললে শ্যামল, মা একটু ভাল। তবে বিশ্রাম চাই। তোমার বউদিকে নিয়ে হপ্তাখানেকের মধ্যে আবার আসছি। টানা ছুটি নেব এক মাসের। তোমরাও তো এখন আছ কিছুদিন। বেশ হইচই করে কাটানো যাবে। শ্যামল সুটকেস তুলে নিল, লিখে দাও তোমার শ্রীমৎ প্রভুকে— ডাক্তারি শিকেয় তুলে চলে আসুক এখানে কিছুদিনের জন্যে। আচ্ছা যাই, বম্বে মেল বুঝি এসেই পড়ল। শ্যামল এক পলকের জন্যে অঞ্জনার চোখে চোখ রাখল।

    —আসি। শ্যামল চোখ ফিরিয়ে নিলে।

    —এস। অঞ্জনা মাটিতে চোখ নামাল।

    চোখ তুলে অঞ্জনা দেখে শ্যামল হনহন করে এগিয়ে চলেছে। সামনের রাস্তায় আর কেউ নেই; একেবারেই ফাঁকা। একটাই শুধু মানুষ। তার সাদা পাঞ্জাবি হাঁটার তালে মুচড়ে মুচড়ে উঠছে। অবিকল সেই ভঙ্গি। তেমনি পুরনো।

    নিজের দীর্ঘনিশ্বাসে অঞ্জনা নিজেই যেন চমকে উঠল। বুকে কনকনে ব্যথা, হাত-পা ভার ভার। মন যেন নয়, মেঘ। হাওয়ায় হাওয়ায় ভেসে চলেছে। ভুরভুরিয়ে উঠেছে সেই মিষ্টি গন্ধ বকুলফুলের। ডুবে যাচ্ছে কি যেন। কেউ কি হারিয়ে গেল? কেন এই খুঁজি-খুঁজি মন, এলোমলো চোখ? কে এল, কে গেল?

    ।। ২ ।।

    চিঠি এল একটু বেলায়। সুধাংশুর চিঠি।

    —কী লিখেছে রে, সুধাংশু? মা জানতে চাইলেন হাতের কাজ সারতে সারতে, ভালো আছে সব?

    —আজ আসছে, তুফান এক্সপ্রেসে।

    —আজ? মা চোখ তুলে মেয়ের দিকে চাইলেন, হঠাৎ—?

    —এমনিই। ফুরসত পেয়ে গেছে বোধ হয়।

    —ভালই হল। মা খুশি হলেন।

    চিঠি হাতে অঞ্জনা ঘরে ঢুকল। সুধাংশুর আসার খবরে সেও খুশি। শুধু কি খুশি, তা ছাড়াও যেন আরো কিছু। সকাল থেকেই মনটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল, কেমন যেন নিঃসঙ্গ, অসহায়। কোথায় বুঝি কেউ ডাকছে— আর বার বার সেই ডাকে কান পেতে থাকা, স্পষ্ট করে না বোঝা কেন ডাকছে।

    চিঠিটা সযত্নে রেখে দিয়ে অঞ্জনা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। ঘড়ি দেখল; দশটা বেজে গেছে। আর ঘণ্টা ছ-সাত। তারপর তো সুধাংশু এখানে। অঞ্জনা তখন আর একা নয়। সেই প্রথম সন্ধের অন্ধকারে ওর সব ভয় কেটে যাবে, কেটে যাবে এই মন-ভার।

    তোয়ালে দিয়ে ভিজে চুলগুলো আর-একবার ভাল করে মুছল অঞ্জনা। সদ্য স্নান সেরে এসেছে। শাড়ি-জামা গুছিয়ে পরল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তুলে নিল চিরুনি।

    চুলে চিরুনি ছুঁইয়ে আয়নায় নিজের মুখ দেখে অঞ্জনা নিজেই অবাক। মুখটা কেমন শুকনো শুকনো দেখাচ্ছে। সারারাত জেগে থাকলে যেমন দেখায়, অনেকটা তেমনই। একটু ছলছল করছে চোখ দুটো। ঠোঁটে গালে অদ্ভুত কতকগুলো সূক্ষ্ম রেখা ফুটে ভুরু পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে।

    তবে কি জ্বর এল আবার? ভয় হল অঞ্জনার। নিজের হাতেই গা কপাল পরখ করলে। না, জ্বর তো নয়। জ্বর হলে স্নান করার সময়ই বুঝতে পারত। তবে? জ্বর কি আসবে? কে জানে আসলেও আসতে পারে। যদি আসেই, কি আর করবে অঞ্জনা! সুধাংশু রাগ করবে। নিশ্চয়ই ভাববে, অঞ্জনা এখানে এসে শরীরের ওপর যত্ন নেয়নি, অত্যাচার করেছে। তাই আবার জ্বর।

    চুল আঁচড়ে আঁচল দিয়ে মুখটা ভাল করে মুছে নিল অঞ্জনা। একটু পাউডার বুলিয়ে নিল। না, তবু সেই ম্লান ভাবটা মুছল না পুরোপুরি।

    সরে এল আয়নার কাছ থেকে জানলায়। হঠাৎ মনটা তার আবার মুষড়ে পড়েছে। কদিন আগেও সে বেশ ছিল। মা পর্যন্ত বলেছে, শরীর সারছে এবার ওর। সুধাংশু যা যা বলেছিল অঞ্জনা প্রতিটি কথা মেনে চলেছে। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম। রোজ সকাল-সন্ধে নিয়ম করে বেড়ানো।

    বেড়ানোর কথাতেই মনে পড়ল আবার শ্যামলকে। শ্যামলই না আজ সকালে বলছিল, সুধাংশুকে চিঠি লিখে আনাতে। আর-একটা দিন থেকে গেলেই শ্যামলের সে-কৌতূহল মিটে যেত। সুধাংশু তো আসছেই। দেখতেই পেত শ্যামল। না, না। ভালোই হয়েছে, চলে গেছে শ্যামল। অনর্থক কি হতে কী হত! হয়ত, হয়ত সুধাংশুর চোখে ধরাই পড়ে যেত সব। এমনিতেই তো আজ দু-তিন দিনে অঞ্জনা কেমন শুকিয়ে গেছে। এত বিশ্রী লাগে, সব কথা ভাবলে। ভূতের মতন ভর করেছিল সেই সমস্ত ভাবনাই এ-কদিন।

    অঞ্জনার চোখ দুটো আবার জ্বালা করে উঠল, ভীষণ জ্বালা। সারা গা যেন জ্বালা করছে।

    ঘর ছেড়ে পাশের ঘরে, পাশের ঘর থেকে সোজা বারান্দায় এসে দাঁড়াল অঞ্জনা। কী যেন খুঁজছে ও। মা কই, মা? ওর কি জ্বর এল আবার?

    —মিন্টু—অঞ্জনা ডাক দিয়েই থেমে গেল। বারান্দার এক কোণে বসে মিন্টু তার খেলনাপাতি পুতুল সাজিয়ে বসে এক মনে মালা গাঁথছে। ফ্রকের কোঁচড় ভরে ফুল কুড়িয়ে এনেছে, বকুল ফুল।

    ফুল আর মালা চোখে পড়তেই অঞ্জনা চুপ করে গেল। মাথার মধ্যে কোথায় যেন একটা শিরাতে কেউ জ্বলন্ত দেশালই কাঠি ছুইঁয়ে দিলে। হঠাৎ। একেবারেই হঠাৎই। দ্রুত পায়ে মিন্টুর কাছে এসে ঠাস করে এক চড় বসিয়ে দিলে গালে। পায়ে করে ঠেলে ফেলে দিল খেলনাপাতি। হেঁচকা টানে মালা ছিঁড়ে দূর করে ছুঁড়ে ফেলে দিল মাঠে। কোঁচড় থেকে ফুলগুলো মাটিতে ছড়িয়ে পড়েছিল। মিন্টু প্রথমটায় থতমত খেয়ে তারপরে ডুকরে কেঁদে উঠল।

    —কাঁদছিস কী? মিন্টুর চুলের বিনুনি ধরে ঝাঁকিয়ে দিল অঞ্জনা, যা বারণ করব, তাই। বুড়ো ধাড়ি মেয়ে। নিয়ে আয় শীঘ্রি ঝাঁটা, এনে পরিষ্কার কর এই সমস্ত জঞ্জাল। পায়ের বুড়ো আঙুল দিয়ে কতকগুলো বকুল ফুল ঠেলে ফেলে দিল অঞ্জনা; যত নোংরামি আর অসভ্যতা। যা নিয়ে আয় শীঘ্রি ঝাঁটা।

    মিন্টুর কান্নায় মা এসে দাঁড়ালেন। মিন্টু ঝাঁটা এনে বারান্দা পরিষ্কার করতে লাগল কেঁদে কেঁদে, তারই ফাঁকে অভিযোগটা দিদিমাকে জানিয়ে দিচ্ছিল।

    —তোর বড়ো হাত হয়েছে অঞ্জনা। মা ক্ষুব্ধকণ্ঠে বললেন, অযথা ওকে মারলি কেন?

    —মারব না তো কি পুজো করব? যত রাজ্যের রাস্তার জঞ্জাল কুড়িয়ে এনে ঘরদোর নোংরা করছে মেয়ে। গলায় অসম্ভব ঝাঁজ অঞ্জনার।

    —জঞ্জাল? মা অবাক হয়ে মেয়ের রাগ-টকটকে মুখের দিকে তাকালেন, ওমা, বাড়ির পাশের বকুলতলা, সেখান থেকে ফুল কুড়িয়ে এনে ও বেচারী গাঁথছে। এর মধ্যে আবার জঞ্জালটা পেলি কোথায়?

    —তুমি যাও তো মা, নাতনিকে আদর দিয়ে দিয়ে আর মাথাটি খেয়ো না।

    —জানি না বাপু অত শত। তুইও তো সেদিন পর্যন্ত ওই বকুলতলা থেকে ফুল কুড়িয়ে এনে মালা গাঁথতিস; ঘরে টেবিলের ওপর ছড়িয়ে রাখতিস—।

    —মা—। অঞ্জনা বিশ্রীভাবে চিৎকার করে উঠল। এত বিশ্রীভাবে যে, সেই কর্কশ স্বর ওরও কানে লাগল।

    মা মিন্টুকে নিয়ে চলে গেলেন।

    জ্বর নয়, তবে জ্বরের মতন। কেমন একটা ঘোরের মধ্যে বেলা গড়িয়ে দুপুর, দুপুর শেষ হয়ে বিকেল হল, অঞ্জনা ভাল করে বুঝতেই পারল না। গা ধুয়ে সারা দিনের জ্বালা অনেকটা তবু জুড়িয়ে নিল ও। পরিপাটি করে প্রসাধন সারল। খুশি হল মনে মনে। সুধাংশু কি বুঝতে পারবে তার মনপীড়ন, চোখে-মুখে কোথাও কি তার চিহ্ন থাকল? না, না, সাজে সজ্জায় সে-কলঙ্ক ও মুছে ফেলেছে, ঢেকে ফেলেছে।

    মিন্টুকে নিয়ে সময়মত স্টেশনে পৌঁছে অঞ্জনা দেখে ট্রেন সবে এসেছে। সুধাংশুকে দেখে অঞ্জনার বুকের মধ্যে হঠাৎ যেন একরাশ হাওয়া তাল হয়ে পাকিয়ে নিস্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ করে দিলে কয়েক মুহুর্তের জন্যে। তারপর সব ঠিক। বুকের বোঝা ধীরে ধীরে কোথায় যেন সরে গেল। তার বদলে বেশ সাহস পেয়েছে এতক্ষণে ও। রোগের সময় ডাক্তার এলে যেমন হয়, তেমনি।

    বাড়ির পথে হাঁটতে হাঁটতে সুধাংশু বলল, ওয়ান্ডারফুল জায়গা। তুমি তো তেমন কছু ইমপ্রুভ করনি। সামান্য। থাকো কিছুদিন আরও, ভালই হবে।

    আ, কী স্বস্তি। অঞ্জনা আরও যেন হালকা বোধ করল নিজেকে। বেশি হোক, কম হোক— শরীর তো তার সেরেছে একটু। সুধাংশুর চোখ নিশ্চয়ই ভুল করবে না। অযথাই সে সকালে অতটা ভয় পেয়ে গিয়েছিল। সত্যিই তো শরীর না সারার কী আছে? মনটা হয়ত কদিন— কদিন আবার, মাত্র দু-তিনদিন— কেমন যেন হয়ে গিয়েছিল, কিছু ভাল লাগেনি খেতে; শুতে, বসতে। তাতে আর কি এমন হতে পারে? কিছুই না। কিচ্ছু না।

    আশ্বিন কী ফাল্গুনের কোনও কোনও সকালে ঘুম থেকে চোখ মেলে হঠাৎ যেমন খুশিতে মন ভরে ওঠে, গুনগুন করে ওঠে গান, আশ্চর্য আরাম লাগে সারা সকাল, সারা বিকেল— তেমনি মিষ্টি খুশিতে ভরে উঠল অঞ্জনার মন স্টেশন থেকে ফিরে এসে। বাড়িতে ফিরে এসে ও যেন অন্য মানুষ। কোমরে আঁচল জড়িয়ে বসে গেল সুধাংশুর জন্যে চা, খাবার তৈরি করতে। ভোরের হাওয়ার মতো মিঠে সুর গুনগুন করছে ওর গলায়। কথার আর কমতি নেই, অভাব নেই উৎসাহের: তুমি ছেড়ে দাও মা, ডিমের তরকারিটা আমিই রাঁধি। তুমি বরং ও-বাড়ি গিয়ে গল্পসল্প করগে যাও। আমি সব সেরে নেব। মিন্টু আমায় একটু জল খাওয়া না রে লক্ষ্মীটি।

    মা মনে মনে হাসলেন। মুখে বললেন, পারবি তো সব, না আবার মাথা ধরিয়ে বসে থাকবি? অবশ্য জবাবের অপেক্ষা না রেখেই তিনি ওবাড়ি যাবার জন্যে পানের ডিবেটা তুলে নিলেন।

    বাড়ি ফাঁকা। মা আর মিন্টু ও-বাড়ি চলে গেছে। চাকরটা সমানে অঞ্জনার ফাইফরমাশ খাটছে। সুধাংশু এসে দাঁড়াল অঞ্জনার কাছে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে গল্প, হাসি, সুযোগ বুঝে খুনসুটি। তিন হাতের রান্নাঘর হঠাৎ যেন বাসরঘর হয়ে উঠল।

    সুধাংশু হাসে, অঞ্জনাও। গায়ে গা ছুঁইয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কানে কানে কি যেন বলে বা বলে না। চিমটি কাটে অঞ্জনা। সুধাংশু আচল ধরে টেনে দেয়। হু হু সময় বয়ে যায়। সন্ধের ঘোর গাঢ় হয়ে রাত নামে, লণ্ঠনের আলোয় রান্নাঘরে দুটি ছায়া আরও কালো হয়ে ওঠে।

    হঠাৎ ডাক এল ও-বাড়ি থেকে। জামাইবাবুকে ডাকছে।

    —কী হয়েছে, বিশু? মাসিমার আবার শরীর খারাপ হল নাকি?

    —কই না, দিদিমণি।

    —কী ব্যাপার গো? সুধাংশু বলল।

    —মাসিমা—শ্যামলদার মার অসুখ! মা তোমায় ডাকছেন।

    —শ্যামলবাবুর মা? ও—বুঝেছি। আচ্ছা, চল বিশু।

    সুধাংশু চলে গেল। অঞ্জনা একা। রান্নাঘরের দরজা ভেজিয়ে ও গেল কলঘরে। সেখান থেকে শোবার ঘরে। শাড়ি, জামা বদলে ফেলল অঞ্জনা। পাউডার ছিটিয়ে ক্লান্তিটুকু মুছে নিলে। কুমকুমের টিপ পরল যত্ন করে। সময় কাটছে তবু। কটা বাজল? নটা বাজে প্রায়। সুধাংশু এতক্ষণ কী করছে ও-বাড়িতে? মাও যেন কী? ও-বাড়িতে গেলে সব ভুলে যায়। সারাদিন গাড়িতে গাড়িতে কাটিয়ে এসেছে একটা লোক; কোথায় সকাল সকাল খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়বে তা না সেই রাত-দুপুর।

    সাড়ে-নটা বাজতে চলল। মনে মনে অসম্ভব বিরক্ত হচ্ছে অঞ্জনা। ছটফট করছে ঘরময়। একা একা। হল কী লোকগুলোর? সব ও-বাড়িতে গিয়ে যে দিব্যি জমিয়ে বসল? এখানে ও একা পড়ে রয়েছে কারুর কি সেদিকে হুঁশ নেই?

    শোবার ঘরের পর্দা সরিয়ে অঞ্জনা বারান্দায় এসে দাঁড়াল। ফুরফুরে হাওয়া দিয়েছে। আকাশ যেন ততটা কালো নয়; জ্বলজ্বল করছে অজস্র তারা। চুপটি করে অঞ্জনা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাই দেখছে। কিন্তু মনে মনে কেমন যেন অস্বস্তি, উদ্বিগ্নতা। তবে কি মাসিমার কিছু হল নাকি? আবার বাড়াবাড়ি? শ্যামল যে বললে, মাসিমা ভাল আছে। কে জানে কি হল আবার হঠাৎ। আর বিশুটাও একটা উজবুক। দিব্যি বলে দিয়ে গেল, কিছু না দিদিমণি। নিশ্চয়ই কিছু একটা হয়েছে, নয়তো এত দেরি করে সুধাংশু? কপাল দেখ, আজই আবার শ্যামল কলকাতায় ফিরে গেল। আশ্চর্য ছেলে! শুধু কর্তব্যটুকুই ওর জানা আছে। আর কিছু না। দরদ, ভালোবাসা, টান— কিছুই ওর নেই। এমন কি মার ওপরেও। বউয়ের ওপর আছে কিনা তাই বা কে জানে? নিষ্ঠুর, নিষ্ঠুর। ওপর থেকে শ্যামলের সেই নির্মম মনকে বোঝা যায় না। কাছে গেলে, ওর বুকে বুক দিয়ে নির্ভর করতে চাইলেই তবেই বোঝা যায়।

    গেট খোলার শব্দ হল। সুধাংশু আসছে। একা।

    —এত দেরি যে!

    —এমনি। শ্যামলবাবুর মার অসুখবিসুখের কথা হচ্ছিল। তারপর ও-বাড়ির কর্তাদের পাল্লায় গিয়ে পড়লাম। গল্প-গুজব হল খানিকক্ষণ। বেশ লাগল।

    —মা এল না?

    —আসছেন।

    অঞ্জনা চুপ করে আকাশের দিকে চেয়ে থাকল। সুধাংশু ওর পাশটিতে এসে দাঁড়িয়েছে।

    —তোমার জন্যে একটা ওয়ান্ডারফুল জিনিস নিয়ে এসেছি।

    সুধাংশু হাত পিছু করে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসল।

    অঞ্জনা তাকাল স্বামীর দিকে।

    —তাকাচ্ছ কি? এ-বস্তুটি সহজলভ্য হলেও সিম্‌প্লি চারমিং। সুধাংশু পিঠের আড়াল থেকে হাত বের করে অঞ্জনার মুখের কাছে তুলে ধরল, কি মিষ্টি গন্ধ! বুকল ফুল গো, বুকল ফুল!

    গন্ধই। ধক্‌ করে গন্ধটা অঞ্জনার নাকে গেল। এক পলকের হতচকিত ভাব, তারপর অঞ্জনার নাক, মাথা, গলা যেন সেই গন্ধে বিষিয়ে উঠল মুহূর্তেই। স্নায়ু আর সুষুম্নার স্বাভাবিক স্থৈর্য হঠাৎ কিসের স্পর্শে যেন ভেঙে গেল, উত্তপ্ত হয়ে উঠল। জ্বলে গেল সারা গা— দম আটকে এল অঞ্জনার। সাপের ছোবল থেকে মানুষ যেমন করে চমকে সরে যায়, অঞ্জনা তেমনিভাবে পিছু সরে গেল ঝটকা একটা থাবড়া দিয়ে সুধাংশুর হাতে। বুকল ফুলগুলো ঝরে পড়ল মাটিতে।

    সুধাংশু বিমূঢ়, বিস্মিত। অঞ্জনাও কথা বলতে পারছে না। শুধু ভয় আর অসহ্য ঘৃণা মেশানো একজোড়া উজ্জ্বল চোখ মেলে তাকিয়ে রয়েছে সুধাংশুর দিকে।

    কথা বলতে সময় লাগল অঞ্জনার। অনেক কষ্টে যখন ওর গলায় স্বর ফুটলো তখন বিরক্তি আর ঝাঁঝে সারা মুখ বিশ্রী হয়ে উঠেছে, তেতো হয়ে উঠেছে গলার স্বরও।

    —রাস্তা থেকে কতকগুলো জঞ্জাল কুড়িয়ে আনলে?

    বিহ্বল ও ব্যথিত সুধাংশু স্ত্রীর ঝাপসা মুখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারল না।

    —যা ভালবাসি না, সহ্য করতে পারি না, তাই। কেন তোমরা আমায় জালিয়ে পুড়িয়ে মারছ? অঞ্জনার কথাগুলো কান্নায় জড়িয়ে বড়ো করুণ হয়ে উঠল।

    সেই অদম্য কান্নাকে রোধ করতেই বুঝি ঘরে গিয়ে ঢুকল অঞ্জনা। সুধাংশু বোকার মতো দাঁড়িয়ে থাকল একা, চুপ করে। কি খেয়াল হয়েছিল, সুধাংশুর বকুলতলা দিয়ে আসার সময় গন্ধে থমকে দাঁড়িয়ে কিছু ফুল কুড়িয়ে নিয়েছিল অঞ্জনাকেই খুশি করবে বলে। অথচ!

    রাত্রে পাশাপাশি শুয়েও দুজনে চুপ। সুধাংশু কয়েকবারই চেষ্টা করল অঞ্জনার মন পাওয়ার। ফল হল না। অঞ্জনা সেই তখন থেকেই যেন কেমন হয়ে গেছে। না-কথা, না-হাসি, না আর কিছু।

    অসম্ভব একটা ক্লান্তি ছাড়া ওর মুখে অন্য কোনও চিহ্ন খুঁজে পেল না সুধাংশু। শেষ পর্যন্ত ভাবতে ভাবতে, একটু বোধ করি অভিমানবশেই পাশ ফিরে শুয়ে পড়ল ও। ঘুমিয়ে পড়ল।

    স্বামীর পাশে শুয়ে শুয়ে নিস্তব্ধ রাতের প্রহর গুনে গেল অঞ্জনা, কখনও চোখ বুজে, কখনও চোখের পাতা খুলে অন্ধকারে চেয়ে চেয়ে। কী যে অস্বস্তি তার, কী অদ্ভুত এই চোখ, মন ডুবানো অসাড় নিষ্পেষণ। অর্ধলুপ্ত আত্মচেতনা বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত বিকারের মতো কোথাও কোথাও যেন ঈষৎ স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয়। অঞ্জনার সাধ্য কি সেই বিকার থেকে মুক্ত করে নেয় নিজেকে। পারে না, পারে না সে। স্বামীর পাশে শুয়ে শুয়ে যদি অনেক পুরনো কথাই মনে পড়ে— কী করতে পারে অঞ্জনা? ভাবতে তো চায় না, তবু স্মৃতি যদি সব কিছুর আগল টপকে অন্ধকারে এসে দাঁড়ায়, কেমন করে তাড়িয়ে দেবে অঞ্জনা তাকে! সে-সাধ্য তার কই।

    রাত যায়-যায়—পাখা দিয়ে সময় যেন উড়িয়ে নিয়ে চলে যায়। ঘর নিঝুম, মাঠ নিঝুম। সব অসাড়। ছুঁচ পড়ারও শব্দ নেই। শুধু নিজের দীর্ঘনিশ্বাস, নিজেকেই যেন আরও ক্লান্ত করে রেখে যায়।

    শেষ রাতে চাঁদ উঠল আকাশে। খোলা জানলা দিয়ে তারই আলো এল। বিছানায় উঠে বসল অঞ্জনা। সুধাংশুর আধখানা মুখ চাঁদের আলোতে কেমন যেন দেখাচ্ছে। অনেক দূরের একটা দেওয়ালে টাঙানো ছবির মতন। এখন যা অর্থহীন, সম্পর্কহীন বলেই মনে হয়। সত্যি, এই লোকটা যে কে, কিসের এত অধিকার তার, অঞ্জনা আজ আর বুঝতে পারে না। কোথায় ছিল ও এতকাল? উনিশ বসন্তের কোনও একটা ফুলও অঞ্জনা ওর মুখ মনে করে তোলেনি, একটিও মালা গাঁথেনি একদিনও। অথচ যার জন্যে চোখের মণিতে বুকের সোহাগ দিয়ে রত্নমুকুর গড়ে তুলল, সে তো কই এল না। কেন— কেন? কী দোষ অঞ্জনার? তুচ্ছ একটা শোনা কথা আর অভিমানে সব কি ভেসে গেল? ভগবান জানেন, ওই বুকলতলায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে যেদিন মন দেওয়া-নেওয়ার মুহূর্তটুকু আকাশ থেকে বৃষ্টির ফোঁটার মতন হঠাৎ পিছলে এসে পড়েছিল সেই দিন— সেদিন অঞ্জনা শ্যামলের হাতে হাত রেখে বলেছে, ‘তোমাকেই ভাবি সারাদিন; তোমার কথা। আর তো কিছু ভাবতে পারি না।’—সত্যি তারপর বা তার আগে আর তো কিছু ভাবেনি অঞ্জনা। কারুর কথা নয়। তবু কেন এমন হল? কেন?

    চোখের জলটুকু থাক। কি হবে মুছে, কে দেখছে এখন? অঞ্জনা বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। সরে এল জানলার কাছে। চাঁদের আলোয় বকুলগাছের পাতাভর মাথাটা দেখা যাচ্ছে। স্পষ্ট। মাঝে মাঝে হাওয়ায় একটু যেন গন্ধও ভেসে আসছে।

    কতক্ষণ যে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে আছে অঞ্জনা তা জানে না। তবে মনে হল যেন আকাশ ফরসা হয়ে গেছে। হাওয়া দিয়েছে, ভোরের হাওয়া। আর বাইরের ওই আশ্চর্য আকাশ তাকে হাতছানি দিচ্ছে। কে যেন নাম ধরে ডাকছে— চুপি চুপি, টোকা দিয়ে: অঞ্জনা, অঞ্জনা, অঞ্জু। (যাই—যাই। দাঁড়াও। মা উঠে পড়বে। একটু লক্ষ্মীটি, একটু দাঁড়াও। কোথায় গেল আবার চশমাটা। থাক বাবা, আর পারি না।)

    ঘুম, সকলে অঘোর ঘুমে। দরজা খুলে পা টিপে টিপে অঞ্জনা বইরে এসে দাঁড়াল। বারান্দায় কেউ নেই, কেউ না। গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছে নিশ্চয়ই। এত দুষ্ট। দাঁড়াও জব্দ করব আজ। বরাকর নদীতে বান দেখতে কিছুতেই যাব না সাইকেলের পেছনে। চিৎকার করব। পড়ে যাব।

    গেট খুলে রাস্তায় এল অঞ্জনা। লাল কাঁকরের সড়কে পা দিল না। গাছের ছায়ায় ছায়ায় পথ কালো। মাঠের ঘাসে পা ফেলে কম্পাউণ্ড-ওয়ালের শেষ সীমান্তে গিয়ে দাঁড়াল।

    বকুলতলায় ও কে? শ্যামলদাই তো? গাছের আড়ালে লুকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইস্‌, ও যেন অন্ধ, কিছুই দেখতে পায় না। নাই বা থাকল চশমা। তবুও শ্যামলকে চিনতে কি কষ্ট হয়!

    পা টিপে টিপে আসছে অঞ্জনা। হাওয়া বইছে ঝিরঝির। ঠাণ্ডা হাওয়া। শীত শীত করছে একটু। কাঁটা দিচ্ছে গা। গন্ধ, গন্ধ। কী মিষ্টি, কী সুন্দর। মন সিরসির করে। গন্ধে গন্ধে সারা জায়গাটা ভরা; মাঠ ঘাস, বাতাস, গাছ, পাতা। আর অঞ্জনাও। আবেশ চোখে নিশ্বাস নিচ্ছে। বুক ভরে ভরে, হৃৎপিণ্ডটাকে গন্ধ দিয়ে মুড়ে দেবে, ছেয়ে দেবে। ভরে রাখবে উনিশ বসন্তের সেই স্বপ্ন, সেই স্বর্গ।

    বকুলতলার নিচে এসে দাঁড়াল অঞ্জনা। মাথার ওপর বকুলশাখার পাতা কাঁপছে। পায়ের নিচে ঘাস অসাড়। বরফের কুচি ঝরার মতো বুকল ফুল ঝরে পড়েছে। ঝরছে থেকে থেকে, নিঃশব্দে, চুপিচুপি।

    আবার যেন ফিরে এসেছে অঞ্জনা। ফিরে এসেছে সেই মন-দেওয়া-নেওয়ার রাতে। আকাশ-বাতাস নিঝুম। পাশে শ্যামল। উষ্ণ স্পর্শ, দুটি হাত দুটি হাতে। ঠোঁট কাঁপছে, কথা কই! বুকে ঢেউ, তবু জোয়ার আছড়ে পড়ে না। শুধু চোখে চোখ, চাঁদের আলোয় ছলছল; তাতেই অনেক কথা বলা হয়ে যায়। (তোমাকেই ভাবি। সারাদিন তোমার কথাই মনে পড়ে।)

    হেঁট হয়ে এক মুঠো ঝরা বকুল তুলে নিল অঞ্জনা। আশ্চর্য নরম; এক মুঠো সোহাগ। আস্তে আস্তে ঠোঁটের কাছে হাত নিল, পাপড়ি খোলার মতন আঙুলগুলো খুলে গেল, নাকে ঠোঁটে ছোঁয়া লাগল কটি ফুল। ভুরভুরে মিষ্টি ছোঁয়া, আলতো করে কেউ বুঝি ঠোঁট ছুঁইয়ে দিয়েছে। কি কাঁপছে থরথর, বুক না মুখ? কোথায় এক ছুঁচ-ব্যথা ফুটছে যেন, কে ফিসফিস কথা বলছে কানে কানে? (আর না—আর না—আর কিছু তুমি বলো না। বিশ্বাস কর, সারাক্ষণ তোমার কথাই ভাবি। আর কিছু ভাবতে পারি না। কেমন হয়ে যাচ্ছি যেন দিন দিন। এমন করে কি বাঁচব আর মরে যাব। আমি মরে গেলে কটা বকুলফুল দিও তুমি, শ্যামলদা। হাতের মুঠোয় দিও আগুনে পুড়তে যেন দেরি হয়।)

    ভোর হয়ে এল; পাখি উড়ছে কি উড়ছে না। ডানা নাড়ছে। কিচ্‌মিচ্‌। আকাশ সাদা, শুকতারা বলছে যাই যাই। হাওয়া বইছে ঝিরঝির। বকুলতলায় চুপটি করে বসে রয়েছে অঞ্জনা। যেন সারা রাত গাছতলায় ঘুমিয়ে ছিল। এখন উঠে বসেছে—সর্বাঙ্গে ঘুম মেখে। নাকি অঞ্জনা পাথর হয়ে গেছে অহল্যার মতন। হয়ত তাই। অনেক সোহাগে গা মন ভরে, অনেক গন্ধ আর ফুল নিয়ে ও গাছপাথর হয়ে গেল এ-জীবনে।

    —অঞ্জনা, অঞ্জনা।

    কে ডাকছে কে? ঘোর চোখে তাকাল অঞ্জনা।

    —কী করছ এখানে বসে? এখনও যে ভাল করে সকাল হয়নি। সুধাংশু নাড়া দিল অঞ্জনাকে।

    চোখের ঘোর কাটল; অঞ্জনা ভাল করে দেখলে। সুধাংশু। চমকে উঠল, সারা গায়ে কাঁটা ফুটল। বুকটা ধকধক করছে। কোথায় ও? কখন এল?

    —কি সাঙ্ঘাতিক! তুমি ঘুমোতে ঘুমোতে দরজা হাট করে রাস্তায় চলে আস? ওঠ, ওঠ, শীঘ্রি। সুধাংশু অঞ্জনাকে জড়িয়ে ধরে দাঁড় করাল।

    উঠে দাঁড়াল অঞ্জনা। উঠতে গিয়ে হাতের মুঠি অবশ হল, খুলে গেল আঁচল। ঝরঝর করে ঝরে পড়ল একরাশ বকুলফুল ওরই পায়ে, ঘাসে। অঞ্জনা তাকাল। আঁচল ভরে এত ফুল ও তুলেছে। কখন? কেন? আশ্চর্য তো?

    সুধাংশুরও চোখে পড়েছে। সেই বকুল ফুলই তো! অঞ্জনার চোখে চোখ রেখে তাকাল সুধাংশু। বকুল ফুলের মতোই সাদা তার মুখ। আশ্চর্য!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখোয়াই – বিমল করভ
    Next Article খড় কুটো – বিমল কর

    Related Articles

    বিমল কর

    কাপালিকরা এখনও আছে – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    রাজবাড়ির ছোরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    ঘোড়া সাহেবের কুঠি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    সেই অদৃশ্য লোকটি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    শুদ্ধানন্দ প্রেতসিদ্ধ ও কিকিরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    কিকিরা সমগ্র ১ – বিমল কর

    October 30, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }