Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চাশটি গল্প – বিমল কর

    বিমল কর এক পাতা গল্প1346 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    হেমাঙ্গর ঘরবাড়ি

    রবিবার সকাল থেকেই হেমাঙ্গর দু হাত ভরে কাজ। অবসর পায় না। সকালে দু চার গাল মুড়ি আর গ্লাসটাক চা খেয়ে হেমাঙ্গ কাজে নেমে পড়ে। প্রথমে ঘরদোর পরিষ্কর করা, ঝুল ঝাড়া। বাড়িটা বাবার আমলের। একতলা। ছোট বড় মিলিয়ে গোটা চারেক ঘর। মাথায় টালির ছাদ। তলায় সিলিং। আগে চটের সিলিং ছিল। পোকা মাকড় ইঁদুরে উত্যক্ত হয়ে হেমাঙ্গ চট ফেলে প্লাইউডের সিলিং লাগিয়ে নিয়েছে।

    এই বাড়ির ওপর হেমাঙ্গর বড় মায়া। কেন, কী জন্যে বোঝা যায় না। হেমাঙ্গর কেউ নেই, বাবা নয়, মা নয়; বউ বাচ্চাও নেই। তবু মায়া। প্রতি রবিবার নিজের হাতে ঘরদোর পরিষ্কার করে; প্রতি বছর বর্ষা কেটে গেলে পুজোর পর টালি মেরামত করায়, দরজা জানলার খড়খড়ির কাঠকুটো পালটায়।

    রবিবার সকালে ঘর দিয়ে শুরু করে হেমাঙ্গ। অনেকটা সময় চলে যায়। তারপর বসে তার সাইকেল নিয়ে। চাকার টাল, হ্যাণ্ডেলের ঢিলেমি, ব্রেক-ট্রেক সবই নিজের হাতে শুধরে নেয় হেমাঙ্গ, পাংচার সারাই করে—তারপর হাওয়া-টাওয়া দিয়ে, ঝেড়েঝুড়ে রেখে দেয় মাঝের ঘরে।

    সাইকেল সারাইয়ের পর নেমে যায় বাগানে। তেমন কিছু বাগান নয়, বাড়ির সামনে মামুলি কিছু ফুলগাছ; জবাব, করবী, বেল, দু চারটে লতাপাতা। পেছনের দিকে পেঁপে আর কলাঝোপ। একটা বাতাবি লেবুও মস্ত বড় হয়ে উঠেছে; অথচ ফল ধরে না।

    বাগানের কাজ সেরে হেমাঙ্গ হাতমুখটা ধুয়ে নেয়। জলখাবার খায় ভেতর বারান্দায় বসে। মোটা মোটা রুটি গোটা দুই, ডাল কিংবা কুমড়ো ভাজা। গ্লাসটাক চা খায়। খেতে খেতে ঝিমলিকে দু চারটে উপদেশ দেয় কাজকর্মের।

    ঝিমলি এ বাড়ির সব। রান্নাবান্না করে, বাসনকোসন মাজে, ঘরদোর ঝাঁট দেয়, সারাদিন ফাঁকা বাড়িটার পাহারাদারি করে। ঝিমলি তার মায়ের সঙ্গে কোলিয়ারির সাইডিংয়ে কয়লা বোঝাই করত একসময়। টব্ গাড়িতে পায়ের আঙুল উড়ে যায়। মেয়েটা প্রাণে বেঁচে গিয়েছিল। বাঁ পায়ে খুঁত, খোঁড়া মতন। লাঠি নিয়ে হাঁটাচলা। ঝিমলির মা মারা যাবার পর থেকেই সে এখানে। হেমাঙ্গ তাকে শিখিয়ে পড়িয়ে কাজের মানুষ করে নিয়েছে। এ বাড়িতেই সে আজ পাঁচ-সাত বছর।

    বরাদ্দ সিগারেটটা শেষ করে হেমাঙ্গ সোজা চলে যায় কুয়োতলায়। নেড়িকে ডগ্ সোপ মাখিয়ে রবিরারের স্নান করাবে। রবিবারের স্নানপর্ব কোনোদিনই নেড়ির পছন্দ নয়, কিন্তু হেমাঙ্গর হাত থেকে মুক্তি পাওয়া তার সাধ্যে কুলোয় না।

     

     

    নেড়িকে স্নান করাতে করাতে হেমাঙ্গ তার সাধের কুকুরের সঙ্গে কথা বলবে: “নেড়ু, তুই বেটা মোটা হচ্ছিস না কেন রে? খাচ্ছিস দাচ্ছিস, লাটের মতন পড়ে পড়ে ঘুমোচ্ছিস, তবু তোর এই হাড়গিলে চেহারা! ছো ছো—লোকে বলবে কী? মাংস-টাংস খেলে পালবাবুদের ডালকুত্তার মতন হতে পারতিস। কিন্তু এটা বোস্টমের বাড়ি, বুঝিল? নো মিট, নো এগ…। মাঝে মাঝে ফিশ।…নেড়ু, আমার মাংস ডিম খাওয়া বারণ ছিল অসুখের জন্যে। না খেতে খেতে অভ্যেস চলে গেছে। এখন পিঁয়াজ রসুনের গন্ধ পর্যন্ত সহ্য করতে পারি না। …তুই নেড়ু, বিলেতে জন্মাসনি—এখানে জন্মেছিস বেটা, ডালভাত খেয়ে তাগড়া হতে পারিস না? ঝিমলি কী খায় রে হারামজাদা? ও কেমন তাগড়া হচ্ছে দেখিস না?”

    নেড়ি হেমাঙ্গর সঙ্গে বাক্যালাপে যোগ দেয় না। মাঝে মাঝে আকাশের দিকে মুখ তুলে বোধ হয় সকরুণ মিনতি জানায় ছেড়ে দেবার। ছাড়া পেলেই রোদে গিয়ে গা ঝাড়ে।

    এরপর হেমাঙ্গ বসে নিজের কাপড়-চোপড় নিয়ে। ঝিমলি সোডাসাবানে ফোটানো জামাকাপড়ের বালতিটা রেখে দিয়ে যায় কুয়োতলায়। হেমাঙ্গ আরও খানিকটা বার সাবান নিয়ে কাপড়, জামা, চাদর কাচতে বসে পড়ে। নিজের কাপড়-চোপড় নিজেকেই কেচে নিতে হয় হেমাঙ্গর। এখানকার কোনো ধোপী তার কাপড় নেবে না। কোনো লন্ড্রিঅলাও নয়।

     

     

    আজ বছর দশ হেমাঙ্গ এক আশ্চর্য ব্যাধিতে ভুগছে। ব্যাপারটা কী জানে না। অন্যেও নয়। বাবা ছেলের বিয়ে দিয়ে সবে মারা গেছেন। মা বেঁচে। হেমাঙ্গ তার নতুন বউ নিয়ে তখন খুব রসকষে মেতে আছে। সকাল থেকেই পেছনে লেগে আছে বউয়ের। দুপুরটুকু অফিস। বিকেলে ফিরে এসে কোনোদিন ‘দেশবন্ধু সিনেমা’, কোনোদিন নতুন রেকর্ড কিনে এনে গ্রামোফোনো বাজানো, মাঝে মাঝে এস্রাজ টেনে নিয়ে বউকে শেখানোর চেষ্টা। ওরই মধ্যে লুকিয়ে চুরিয়ে বাজার থেকে এনে দিচ্ছে বউকে, বোম্বাইঅলার মিঠাই, দু একটা পলকা গয়নাও গড়িয়ে দিচ্ছে। একেবারে তরতরে ঝরঝরে জীবন।

    হঠাৎ একদিন হেমাঙ্গর নজরে পড়ল তার গায়ে মুখে কেমন সাদা সাদা ফুটেছে।

    “এই দেখো তো, এগুলো কী?”

    হেমাঙ্গর বউ ভাল করে দেখলেও না। পান খাচ্ছিল। বরের মুখের সামনে হাঁ করে শ্বাস ছেড়ে বলল, কিচ্ছু না।

    হেমাঙ্গর বুকের মধ্যে ঘ্রাণ চলে গিয়েছিল পানের আর মুখের। বউয়ের গাল টিপে টেনে নিয়ে শুয়ে পড়ল।

     

     

    এইভাবে শুরু। দাগগুলো ক্রমশ ছড়াতে লাগল, বাড়তে লাগল।

    হেমাঙ্গর মন খুঁতখুঁত শুরু হল। সারা দিনই নিজে দেখে, বউকে দেখায়। “কী করি বলো তো? এ যে বেড়েই যাচ্ছে। কুষ্ঠ-টুষ্ঠ হবে নাকি?”

    বউ এখন আর উপেক্ষা করতে পারল না। মুখ ভারি করে বলল, “ডাক্তার দেখাও।”

    মা বলল, “নিমজলে চান কর, নিমতেল মাখ, সেরে যাবে।”

    নিমতেল, নিমসাবান, চন্দন, শাঁখের গুঁড়ো যখন চলছে মা মারা গেল। মা মারা যাবার পর হেমাঙ্গ নিজের দিকে তাকাতেই ভয় পেত। সর্বাঙ্গে রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। অ্যালোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি, কবিরাজী কিছুই বাদ নেই—তবু গায়ের চামড়া সাদা হয়ে গেল। এ-এক অদ্ভুত সাদা রঙ, গাছের ওপরকার ছাল ছাড়িয়ে ফেললে যেমন দেখায় অনেকটা সেই রকম।

     

     

    হেমাঙ্গর বউ ততদিনে সাবধান হয়ে গিয়েছে। ঘন ঘন বাপের বাড়ি যায়। ফেরার সময় একজনকে সঙ্গে নিয়ে আসে, কোন এক দাদা-টাদা।

    হেমাঙ্গর বউ বলল, “তুমি একবার কলকাতায় যাও। দেখিয়ে এস।”

    কলকাতায় যাবার মতনই অবস্থা তখন হেমাঙ্গর। মাথার চুল সাদা হয়ে যাচ্ছে সব। ভুরু সাদা। চোখের পালক সাদা। মুখ, হাত, পা সবই শ্বেত। ঠোঁট দুটো যেন আগুনে ঝলসে যাবার মতন রঙ ধরেছে।

    হেমাঙ্গ কলকাতায় গেল।

    দিন চার পাঁচ. পরে ফিরে এসে দেখল পায়রা চলে গেছে। হেমাঙ্গর বউয়ের ডাক নাম ছিল পায়রা। ভাল নাম সন্ধ্যামণি। বাড়ি ছেড়ে চলে যাবার সময় পায়রা দু-লাইন চিঠি লিখে রেখে গেছে। “তোমার সঙ্গে আমি আর থাকতে পারি না। শুতে পারি না তোমার পাশে। তাকাতে পারি না। আমার গা ঘিনঘিন করে। বমি আসে।”

     

     

    পায়রা চলে যাবার পর হেমাঙ্গ ঘরে বসে কেঁদেছিল খুব। বছর আড়াই তিন, তার মধ্যে হেমাঙ্গ কোথা থেকে কোথায় নেমে এল। হেমাঙ্গর চেহারায় আর কোনো স্বাভাবিকতা নেই। গায়ের লোমগুলো পর্যন্ত সাদা হয়ে গেছে। পায়রা যে চলে যাবে হেমাঙ্গ কিছুদিন ধরেই আঁচ করতে পারছিল। কার সঙ্গে যাবে তাও সে বুঝতে পেরছিল। কিন্তু খুবই আশ্চর্য, হালে, পায়রার পেটে ডিম এসেছিল। কার ডিম? কী হবে তার—? কেমন হবে সে? ভগবানের কাছে মনে মনে প্রার্থনা করল হেমাঙ্গ।

    তখন থেকেই হেমাঙ্গ একা। বাড়িতে, বাড়ির বাইরেও। ঝিমলি পরে এসেছে। নেড়ি আরও অনেক পরে।

    মানুষ একে একে সবই সয়ে নেয়। হেমাঙ্গও নিয়েছিল। শান্ত ভাবে। বাইরের সঙ্গে তার একটু-আধটু সম্পর্ক না রাখলেই নয় বলে রেখেছিল, নয়ত পেট চলবে না। অফিসে যেত। মাইল দেড়েক দূর। ব্যাধিটা প্রকট হবার পর তার আগের অফিস থেকে তাকে সরিয়ে নিয়েছিল, নিয়ে এমন এক জায়গায় পাঠিয়ে দিয়েছিল যেখানে তিন-চারটি মাত্র লোক। কাজ প্রায় কিছুই ছিল না। চুপচাপ বসে থাকা, মাঝে মাঝে চাপরাসি গোছের দু তিন জনকে স্টোর খুলে তেল-টেল বার করে নিতে বলা, হিসেব লেখা। ম্যালেরিয়া কনট্রোলের এই ডিপোয় বসে দিন কেটে যাচ্ছিল হেমাঙ্গর।

     

     

    হেমাঙ্গ জানত অফিসে তার দিন এই ভাবেই কেটে যাবে। চেয়ারে বসে, কখনও খোলা জানলা দিয়ে বনতুলসীর জঙ্গলের দিকে তাকিয়ে, কখনও ফাঁকা: আকাশ কিংবা মেঘের পাল দেখে। অফিসের চেয়ার টেবিল কাঠের সস্তা একটা আলমারি অস্পৃশ্যের মতন পড়ে থাকে, স্পর্শ করে না কেউ। সাইকেলটা রাখা থাকে বাইরে। কেউ ছোঁয় না। নিজের হাতে জল নিয়ে খায় হেমাঙ্গ, নিজের হাতে গ্লাস ধোয়। দুপুরের টিফিন খেয়ে কৌটোটা ধুয়ে রেখে দেয় টেবিলে।

    এই অফিস ওই বাড়ি। অফিসে একরকম একাই। বাড়িতেও তাই। বাড়িতে অবশ্য ঝিমলি আছে, নেড়ি আছে। একা বইকি!

    হেমাঙ্গ এখানকার পুরনো লোক। চেনাজানা সবাই। কাকা, দাদা, মাসিমা, পিসিমা বলার লোক অগুনতি, বন্ধুবান্ধবও কম ছিল না। এখন কেউ নেই। হেমাঙ্গ নিজেই বুঝতে পেরেছিল—তার কাছ থেকে লোকজন সমাজ সামাজিকতা সরে যেতে চাইছে, অন্তত আড়ষ্ট বোধ করছে কাছাকাছি থাকতে, বুঝেসুঝে হেমাঙ্গ নিজেই সরে এল। বাড়ির মধ্যে গুটিয়ে ফেলল নিজেকে। বাইরের সঙ্গে সম্পর্ক যেটুকু না রাখলে নয় মাত্র সেইটুকুই রাখল। বাজারে যেতে হয়, অফিস ছুটতে হয়, কেউ মারা-টারা গেলে একবার তার বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়াতে হয়—এ রকম সম্পর্ক সে রেখেছিল। বিয়ে-টিয়েতে তার নেমন্তন্ন থাকত মাঝে মাঝে। হেমাঙ্গ জানত, ওটা ভদ্রতা—আন্তরিকতা নয়। হেমাঙ্গও ভদ্রতা রক্ষা করত, পোস্ট অফিসে গিয়ে পনেরো-বিশ টাকা মনি অর্ডার করে দিত।

     

     

    শুধু একজন হেমাঙ্গকে হঠাৎ হঠাৎ এসে চমকে দিয়ে যেত। বিলাস, হেমাঙ্গর বন্ধু। বয়েসের বন্ধু নয়, একটু ছোটই বয়েসে। মাইল তিরিশ দূরে ব্যারাকে কাজ করত। বিলাস মাঝে মাঝে আসত মোটর বাইকে ঝড় তুলে। এসেই চেঁচাত, “হেমদা, আমার দুটো ডবল ডিমের ওমলেট চাই, গোটা চারেক রুটি, দু কাপ চা। ভীষণ খিদে পেয়েছে।”

    হেমাঙ্গ চাইত না বিলাস আসুক। চমৎকার ছেলে বিলাস, তাজা বাঘের মতন চেহারা, টগবগ করছে। বিয়ে করেনি। বছর চৌত্রিশ বয়েস হয়ে গেল। হেমাঙ্গ অস্বস্তি বোধ করত। কিন্তু কে ঠেকাবে বিলাসকে।

    কাছেই মতিয়ার দোকান। ঝিমলি গিয়ে ডিম কিনে আনত, ওমলেট বানাবে।

    এই বিলাসই মাঝে মাঝে বলত, “হেমদা আমায় কে একজন বলেছিল—সাপে কামড়াবার পর নাকি কারও কারও এই রকম হতে দেখা যায়। এতটা নয়। তোমায় না একবার সাপে কামড়েছিল?”

    হেমাঙ্গকে একবার সাপে কামড়েছিল বিয়ের আগের বছর। ওষুধ ইনজেকশান কম হয়নি। তবে এটা সাপের কামড়ের ফল না অন্য কিছু হেমাঙ্গ জানে না। কেই বা জানে!

     

     

    এই বিলাসই মাঝে মাঝে রবিবার চলে আসত। দেখত, হেমাঙ্গ তার বাড়ি, বাগান, সাইকেল, গ্রামোফোন, কুকুর আরও কত কী নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে।

    বিলাস হেসে বলত, “আচ্ছা হেমদা, তোমার এই স্থাবর অস্থাবর জঙ্গম সম্পত্তি মানে পদার্থগুলো কি তুমি যাবার সময় বুকিং করে স্বর্গে নিয়ে যাবে? কিসের পরোয়া তোমার! তুমি মরে গেলে এ-শালা তো ভূতের বাড়ি হবে, পাঁচ ভূতে ঠ্যাং দুলিয়ে নাচবে! তুমি কেন এই বাড়ি-ফাড়ি নিয়ে এত মায়া করো?”

    কথাটা মিথ্যে নয়, তবু হেমাঙ্গর পছন্দ হত না, ভাল লাগত না শুনতে। স্পষ্ট কোনো জবাব দিত না, বলত, “এই নিয়েই তো আছি রে! নিজের জিনিস নিজে না দেখলে চলে…।”

    “নিজের জিনিস দেখার জন্যে তুমি যেন বসে থাকবে?”

    হেমাঙ্গ জবাব দিত না।

     

     

    হেমাঙ্গ নিজের জিনিসই দেখত: তার বাড়ি, ঘর দোর, তার বাগান, তার সাইকেল, গ্রামোফোন, তার যা কিছু এখনও তার অধিকারে আছে—সব।

    এই ভাবেই চলে যাচ্ছিল হেমাঙ্গর। রবিবার বাদে অন্যান্য দিন সে তেমন করে নিজেকে বাড়ি এবং প্রতিটি খুঁটিনাটির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারত না, অবসর পেত না। রবিবার হেমাঙ্গ সকাল থেকে বসত, কাজকর্ম সেরে স্নান খাওয়া দাওয়া সারতে দুপুর। দুপুরের পর খানিকটা গড়াত বিছানায়। বিকেলে কাপড়-চোপড় তুলে নিয়ে ইস্ত্রি করতে বসত। তারপরে সন্ধের মুখে রামসোহাগের দোকানে চলে যেত শিশি হাতে দিশি মদ কিনে আনতে।

    বাড়ি ফিরে এসে হেমাঙ্গ নেশা নিয়ে বসত। কোনো কোনো দিন গ্রামোফোনে তার পুরোনো রেকর্ডগুলো বাজাত, কোনো কোনোদিন এস্রাজটাকে সুরে তুলতে চাইত, পারত, পারত না। নেশা কানায় কানায় পৌঁছে গেলে হেমাঙ্গ তার সাবেকি বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে ডান হাতটা যতদূর পারে ছড়িয়ে দিত, যেন কাউকে হাত বাড়িয়ে ছোঁয়ার কিংবা ধরার চেষ্টা করছে।

     

     

    আরও রাত হলে ঝিমলি এসে দাঁড়াত। ডাকাত, “বাবু—এ বাবু।”

    হেমাঙ্গ মাতলামি করত না। উঠত। খাওয়া সারত। তারপর বিছানায় এসে শুয়ে পড়ত।

    মাঝ কিংবা শেষ রাতে ভাঙা ঘুমের মধ্যে হেমাঙ্গ কেমন স্বপ্নের ঘোরে দু হাতে বিছানা হাতড়াত, ভাবত কেউ যেন পাশে এসে রয়েছে। কেউ আসত না।

    আবার ঘুমিয়ে পড়ত হেমাঙ্গ।

    দুই

    রবিবারে দক্ষিণ দিকের বারান্দায় বসে সাইকেল সারাচ্ছিল হেমাঙ্গ। কার্তিক মাস। শীত নামছে। রোদে বসে সাইকেল সারাতে সারাতে হেমাঙ্গ কাঠের ফটক খোলার শব্দ পেল। এখান থেকে দেখা যায় না। হেমাঙ্গ কিছু দেখতে পেল না। বিলাস নয়। বিলাস হলে মোটর বাইকের শব্দটাই আগে কানে পড়ত।

     

     

    ঝিমলির কাছে এসেছে কেউ। দু চার জন দেহাতি আসে মাঝে মাঝে লাউ, কুমড়ো, বেগুন কিংবা আরও কিছু বেচতে। নদীর চুনো মাছও হতে পারে।

    হেমাঙ্গ সাইকেল নিয়ে মেতে থাকতে থাকতে শুনল নেড়ি চেঁচাচ্ছে। দু চার বার চেঁচাবে, তারপর থেমে যাবে। ঝিমলি লাউ, কুমড়ো কচু, কখনও কখনও চুনো মাছ কিনবে। নেড়ি বেটা মাছের গন্ধও বুঝতে পারে।

    ঝিমলির কাছে যারা আসে সোজা পেছনে রান্নাঘরের দিকে চলে আসে। কেউ এল না। এলে হেমাঙ্গ দেখতে পেত।

    নেড়ি সমানে চেঁচাচ্ছে।

    হেমাঙ্গ সাইকেল রেখে উঠল। বাইরের বারান্দায় এসে দেখল, ফটকের বাইরে রাস্তায় টাঙা দাঁড়িয়ে, একটি বউ আর মেয়ে ফটকের সামনে থমকে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

    হেমাঙ্গ অবাক হল। বুঝতে পারল না।

    বাগান দিয়ে ফটকের কাছে চলে এল হেমাঙ্গ। নেড়িকে ধমক দিল।

    কাছে এসে তাকাতেই হেমাঙ্গ কেমন চমকে উঠল। পায়রা নাকি? চেনা যায় না মুখের আদলই যেন বদলে গেছে। তবু পায়রা বলেই মনে হচ্ছে।

    মানুষ যেভাবে চোখের ওপর হাত আড়াল করে সুর্যের গ্রহণ দেখে অনেকটা সেইভাবে হেমাঙ্গ বউটির মুখ দেখতে লাগল। “কে?”

    “আমি”, হেমাঙ্গকেও দেখছিল বউটি।

    “পায়রা?”

    মাথা নোয়াল পায়রা।

    হেমাঙ্গর পা কাঁপছিল, হাত কাঁপছিল। বুকের মধ্যে হৃৎপিণ্ড ঘা মারছিল। পিঠ নুয়ে আসছিল, মেরুদণ্ডে টনটনে ব্যথা।

    হেমাঙ্গ ফটক খুলতে গিয়ে দেখল, ওপরের আঙটা খোলা, পায়রা ফটক খুলে ঢুকেছিল—নেড়ির চেঁচানিতে ভয় পেয়ে, আবার পিছিয়ে গেছে।

    “এসো,” হেমাঙ্গ ডাকল। ডেকে বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে থাকল।

    পায়রা পা বাড়াল, মেয়েটির হাত ধরে বলল, “টাঙায় আমার বাক্স পুঁটলি রয়েছে।”

    “নামিয়ে নেব। তুমি এস।….তোমার মেয়ে?”

    পায়রা মেয়েটিকে বলল, “প্রণাম করো।”

    মেয়েটি পায়রার হাত চেপে ধরে হেমাঙ্গকে দেখছিল, ভীষণ ভয়ে ভয়ে চোখ বড় বড়।

    হেমাঙ্গ বলল, “পরে হবে। তোমরা ভেতরে এস। টাঙাঅলাকে ছেড়ে দি আগে।”

    পায়রা মেয়ের হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকল বাগানে। নেড়ি তফাতে দাঁড়িয়ে চেঁচাতে লাগল। ঝিমলিও কখন বাইরে বেরিয়ে এসেছে। লাঠি ছাড়া হাঁটতে পারে না। দেখছিল পায়রাদের।

    টাঙা ছেড়ে দিল হেমাঙ্গ। বাক্স পুঁটলি ঘরে নিয়ে গিয়ে রাখল। তারপর পায়রাদের ডাকল, “ঘরে এসো।”

    কথাবার্তা বিশেষ কিছু হল না। পায়রা বলতে যাচ্ছিল। হেমাঙ্গ বলল, “পরে হবে। ট্রেনে এসেছ বললে। জিরোও। কাপড়চোপড় ছাড়। কিছু খাও। পরে শুনব।”

    রবিবারটা অন্যরকম হয়ে গেল হেমাঙ্গর। জল তুলে দিল কুয়ো থেকে, পায়রা আর তার মেয়ে স্নান করবে। নতুন সাবান বার করে দিল। ঝিমলিকে বলল, আবার করে রান্না চাপাতে, শাক সবজি রাঁধতে বেশি করে। মাঝের ঘরে বাবার আমলের খাট পড়ে ছিল। পুরনো শতরঞ্জি চাপা দেওয়া। সেটা পরিষ্কার করে রাখল।

    নিজে স্নান করে, মেয়েকে স্নান করিয়ে পায়রা রোদে এসে দাঁড়াল। এলো ভিজে চুল পিঠের ওপর ছড়ানো। সামনের দিকের অনেক চুল পেকে গেছে পায়রার। কানের পাশেও সাদা হয়েছে। মুখ ভারি, ফোলা, গালে দাগ ধরেছে। শরীরটাও বেশ ভারি লাগছিল। হেমাঙ্গর চেয়ে বছর পাঁচেকের ছোট ছিল পায়রা। হেমাঙ্গর এখন বছর বিয়াল্লিশ বয়েস। পায়রার ছত্রিশ সাঁইত্রিশ। এই বয়েসেই পায়রার এত চুল পাকল কী করে, শরীরটাই বা এমন ভারি হয়ে উঠল কেন—হেমাঙ্গ বুঝতে পারল না। যুবতী বয়সে পায়রার চেহারা ছিল ছিপছিপে, গালটাল উঁচু ছিল, দাঁত ছিল ধবধবে। এখন একেবারে গোল। দাঁতে ছোপ ধরে ধরে কালচে দাগ হয়েছে।

    হেমাঙ্গ কুয়োতলায় বসে তাড়াতাড়ি কাপড়জামা কেচে নিচ্ছিল। পায়রা এসে দাঁড়াল।

    হেমাঙ্গ চাদর কাচতে কাচতে বলল, “তোমার মেয়ের নাম কী?

    “পুতুল।”

    “কত বয়েস হল?”

    “ন’ শেষ করেছে।”

    হেমাঙ্গ একবার সামনের দিকে তাকাল।

    আতা গাছের ডালে শালিক বসে একটা।

    “কোথায় ও?” হেমাঙ্গ জিজ্ঞেস করল।

    “ওই তো—ওদিকে দাঁড়িয়ে আছে। কাশি হয়েছে ঠাণ্ডা লেগে।”

    “আহা—রে! ওকে ঠাণ্ডা জলে চান করালে কেন? ঝিমলিকে বললেই গরম জল করে দিত।”

    পায়রার সাদা খোলের শাড়ির ঝোলানো আঁচল মাটিতে পড়ছিল। তুলে নিতে নিতে বলল, “রোদে জলে পড়ে থেকেছে, সয়ে গেছে সব। কিছু হবে না। সেরে যাবে।”

    হেমাঙ্গ পায়রার মুখের দিকে তাকাল। ঠাণ্ডা, নিস্পৃহ, উদাসীন মুখ।

    দুপুরেও হেমাঙ্গ এড়িয়ে গেল পায়রাকে, যেন তার কোনো ব্যস্ততা নেই, কৌতূহল নেই পায়রার কথাবার্তা শোনার। পরে শোনা যাবে। এখন এই দুপুরে একটু ঘুমিয়ে-টুমিয়ে নিক পায়রা। সারারাত রেলে এসেছে, প্যাসেঞ্জার গাড়ি তো! সে জানে কী ভিড়।

    পায়রা ঘুমোল না। মাঝের ঘরে শ্বশুরের পুরনো খাটে মেয়ে নিয়ে শুয়ে থাকল। হেমাঙ্গ তেমন কিছু বিছানাপত্র দিতে পারেনি। দিতে হলে নিজেরটা দিতে হয়। তা কি দেওয়া যায় পায়রাদের।

    হেমাঙ্গও ঘুমোল না। সামান্য গড়াগড়ি করে বাইরে গিয়ে বসে থাকল।

    বিকেলের গোড়ায় হেমাঙ্গর নজরে পড়ল, প্রতিবেশীদের দু একজন তার বাড়ির সামনে দিয়ে পায়চারি করে যাচ্ছে, উঁকি দিচ্ছে রাস্তা থেকে। হেমাঙ্গর বাড়িতে কেউ কোনোদিন আসেনি। কে এল টাঙায় চড়ে, মেয়ের হাত ধরে?

    হেমাঙ্গর মনে হল, পায়রা ফিরে এসেছে এটা বোধ হয় এখনও কেউ জানতে পারেনি। জানা সম্ভব নয়। কে আর মনে রাখতে গেছে পায়রার মুখ।

    এমনি করেই বিকেল হল, ফুরিয়ে গেল। পায়রার মেয়ে সামান্য ধাতস্থ হয়েছে, তবু কেন যেন হেমাঙ্গর দিকে ঘেঁষছে না। ভয় পাচ্ছে বোধ হয়।

    চা-টা খাওয়া হলে হেমাঙ্গ বলল, “আমি একবার বাজার ঘুরে আসি?”

    পায়রা বলল, “কেন?”

    “দত্ত স্টোর্সে রেডিমেড তোশক বালিশ পাব। সাইকেলে বেঁধে নিয়ে আসি।”

    “পুরনো নেই?”

    “না।”

    “খুঁজেপেতে কিছু বার করা যাবে না?”

    “না।”

    পায়রা কিছু বলল না আর। হেমাঙ্গকে দেখতে লাগল। ফরফর করছে সাদা চুল, সাদা মুখ, চোখের ভুরু পালক সবই সাদা, গায়ের লোমও ধবধব করছে। চোখের মণিটুকুই যা এখনও কালো। কিছু বোঝাই যায় না হেমাঙ্গকে দেখলে, কী ভাবছে সে।

    হেমাঙ্গ সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে গেল।

    কার্তিকের বিকেল ফুরলো হু হু করে। সন্ধে হল। এদিকে এখনই কুয়াশা নামতে শুরু করেছে। অন্ধকারে তারা ফুটে উঠল আকাশে।

    হেমাঙ্গ ফিরল। সাইকেলের পেছনে দড়ি দিয়ে বেঁধে তোশক এনেছে, তোশক বালিশ চাদর। হ্যাণ্ডেলে ঝোলানো থলি একটা। তার মধ্যে থেকে পুতুলের কাশির ওষুধ, এক শিশি তালমিছিরি, টুকিটাকি বার করে রাখল।

    নতুন বিছানাটা পায়রা নিজেই পেতে নিল। মেয়েকে এক চামচ কাশির ওষুধ খাওয়ালো।

    সন্ধের পর হেমাঙ্গ কেমন ছটফট করতে লাগল। একবার করে বাইরে যায়, আবার ঘরে ঢোকে। বারবার পায়রার দিকে তাকায়। কী যেন বলতে যায়, পেরে ওঠে না।

    পায়রা বলল, “কী?”

    হেমাঙ্গ ইতস্তত করে বলল, “আমি একটু ইয়ে খাই—এ সময়?”

    পায়রা বুঝল। বলল, “খাও না।”

    “তোমার মেয়ে?”

    “ওর দেখার অভ্যেস আছে।”

    হেমাঙ্গ তাকাল। পায়রার কোনো সঙ্কোচ নেই। হেমাঙ্গ বলল, “আমি ওপাশের ছোট ঘরটায় যাই বরং। এদিক দিয়ে আসা-যাওয়া যাবে না।”

    “যাও।”

    এতদিন নিজের ঘরে বসেই খেত হেমাঙ্গ। মাঝে মাঝে গ্রামোফোনের পুরনো রেকর্ড বাজাত। এস্রাজ তুলে সুর ফোটাত। আজ নিজের ঘর ছেড়ে কোণার দিকের কুঠরিতে চলে গেল হেমাঙ্গ। বাতিও জ্বালাল না। জানলাটা খুলে দিল। পেছন-বাগানের দিকে জানলা। কুয়াশা জড়ানো ঝাপসা আলোর ভাব এল একটু জানলা দিয়ে।

    হেমাঙ্গ সামান্য খাওয়ার পর পায়রা এল।

    বসার কিছু নেই, পুরনো ভাঙা বাক্সর ওপর বসল পায়রা।

    হেমাঙ্গ বলল, “তোমার মেয়ে কোথায়?”

    “ঝিমলির কাছে রান্নাঘরে।”

    “আসবে না?”

    “না।”

    হেমাঙ্গ আবার খানিকটা ঢেলে নিল।

    পায়রা বলল, “রোজ খাও?”

    “না। রবিবারে খাই। কোনো কোনোদিন…”

    “আগে তো খেতে না।”

    “না।”

    “কত দিন খাচ্ছ?”

    “তা পাঁচ সাত বছর।”

    পায়রা চুপ করে থাকল। হেমাঙ্গও চুপচাপ। অন্ধকারে কেউ কারুর আকৃতি স্পষ্ট করে দেখতে পাচ্ছিল না, ভাসাভাসা আবছা চোখে পড়ছিল। অন্ধকার যেন দু জনকেই পরস্পরের কাছ থেকে আড়াল করে রেখেছে। অবস্থাটা স্বস্তিদায়ক।

    অনেকক্ষণ পরে পায়রা বলল, “আমি কপাল ঠুকে চলে এলাম।”

    হেমাঙ্গ গ্লাসে চুমুক দিচ্ছিল। নামিয়ে রাখল। সিগারেট ধরাল। পায়রা এলো চুল কোনোরকমে জড়িয়ে খোঁপার মতন করেছে। শাড়ি পালটায়নি।

    হেমাঙ্গ বলল, “তোমার শরীর তো ভাল মনে হচ্ছে না।”

    “কেন?” পায়রা অন্যমনস্কভাবে বলল।

    “ফোলা ফোলা লাগছে। অনেক বয়েস হয়ে গিয়েছে যেন। তোমার বয়েস তো বেশি নয়।”

    পায়রা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “আমি ঠিকই আছি। ন’দশ বছর পরে আমায় দেখছ, তাই। মেয়েদের আর এই বয়েসে শরীরের কী থাকে। তার ওপর আমার মতন মেয়েদের।

    হেমাঙ্গ খেয়ে যাচ্ছিল ধীরে ধীরে। পায়রা তার খুব কাছাকাছি। হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায়। এত কাছকাছি এমন করে কোনো মানুষ তার কাছে বসেনি আজ দশ বছর। বিলাস বাদে। কিন্তু বিলাস আলাদা।

    “অসুখ বিসুখ করেনি তো?” হেমাঙ্গ জিজ্ঞেস করল।

    “বড় কিছু নয়। জানি না। কে আর দেখতে গেছে।”

    “তোমার চুল পাকছে, দাঁত কালো হয়ে গেছে…”

    পায়রা যেন কানে শুনল না। নিজের মনেই বলল, “এখান থেকে চলে যাবার পর আমার বরাতে ভাল কিছু জোটেনি। এখানে দু বছর, ওর কাছে ছ’ মাস, তার ঘরে এক বছর—এই ভাবেই কেটেছে। নন্তুদা—আমায় বছর আড়াই রেখেছিল, তারপর যা হয়…”

    বাধা দিল হেমাঙ্গ, বলল, “থাক, ও কথার দরকার নেই।”

    “শুনবে না?”

    “কী হবে শুনে! এ-রকম তো হয়। নতুন কিছু নয়। আমি ভেবেছিলাম নন্তুর কাছেই তুমি থাকবে।”

    পায়রা তাকিয়ে থাকল হেমাঙ্গর দিকে। চোখের মণিও দেখা যাচ্ছে না। সব সাদা। দিশি মদের গন্ধে ঘর ভরে উঠেছে। পায়রার নাকে লাগছিল না। দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে পায়রা বলল, “তোমার কাছে ফিরে আসার মুখ আমার ছিল না, তবু এলাম। কপাল ঠুকে। আমার কোনো উপায় ছিল না। যদি তুমি বাড়িতে ঢুকতে না দিতে…।”

    “আমি তোমায় চিনতে পারিনি প্রথমটায়—” হেমাঙ্গ বলল, যেন কথা এড়িয়ে গেল।

    পায়রা বলল, “চেনা মুশকিল। তখন একরকম ছিলাম, এখন অন্যরকম। তুমিও অনেক বদলে গেছ।”

    “কেন! আমার সবই তো সেই রকম আছে। তুমি যাবার পর…”

    “না, তুমিও বুড়ো হয়ে গেছ।”

    “কোথায় বুড়ো—” হেমাঙ্গ হাসল, “রোজ মাইল চারেক করে সাইকেল ঠোঙাই।”

    পায়রা চুপ করে থাকল।

    নেড়ি বার কয়েক ডাকল। সে বাইরের বারান্দা থেকে যেন ছুটে কোথাও গেল। রাস্তা দিয়ে গাড়ি যাচ্ছিল। শব্দটা মিলিয়ে গেল সামান্য পরে। জানলার বাইরে কুয়াশা গাঢ় হয়ে আছে। ঠাণ্ডা আসছিল হেমন্তর।

    পায়রা নিশ্বাস ফেলে বলল, “আমি যে এইভাবে এলাম—আসা আমার উচিত হয়নি। কোন মুখে আসব বল?”

    হেমাঙ্গ বলল, “না না, তোমার আর কী দোষ!” বলে আবার খানিকটা ঢেলে নিল গ্লাসে। বলল, “আমি অনেক ভেবেছি। ভেবে দেখেছি তুমি কিছু অন্যায় করোনি। আমায় নিয়ে কে থাকতে পারত পায়রা? কেউ নয়। দেখো না বাইরের লোক যারা—আমার মুখ ছাড়া যাদের আর কিছু চোখে পড়ে না, আমার সঙ্গে খায় না শোয় না—তারাও আমায় সহ্য করতে পারে না। আমায় পুরনো অফিস থেকে পর্যন্ত তাড়িয়ে দিয়েছে। বাজারে দোকানে-টোকানে গেলে আমায় কোনো জিনিস ছুঁতে পর্যন্ত দেয় না, আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হয়—এটা দাও ওটা দাও। বিলাস ছাড়া আমার বাড়িতে কেউ আসে না।” হেমাঙ্গ গ্লাস তুলে নিয়ে বড় করে চুমুক দিল। গলা পরিষ্কার করল। বলল, “যারা আমায় দু চার ঘণ্টা চোখেও সহ্য করতে পারে না তারা বাইরের লোক। তুমি বউ হয়ে আমায় চব্বিশ ঘণ্টা বারো মাস কেমন করে সহ্য করতে? পারতে না।”

    পায়রা বলল, “তখন পারিনি।”

    “কেউ পারত না।”

    হেমাঙ্গ চোখ তুলে পায়রার দিকে তাকাল। কিছু বলল না।

    পায়রার মেয়ের গলা পাওয়া গেল।

    হেমাঙ্গ বলল, “তোমার মেয়ে। যাও, দেখো গিয়ে। নতুন জায়গা, ভয়-টয় না পায়।”

    পায়রা বলল, “পাক ভয়। আমি আর কত ভয় থেকে বাঁচাব।” বলে উঠে গেল।

    হেমাঙ্গ সাড়া দিল না।

    পায়রা চলে গেল। সে চলে যাবার পর অন্ধকারে হেমাঙ্গ শান্ত স্বাভাবিকভাবে বসে থাকল। বসে বসে বাকিটা শেষ করতে লাগল।

    নেশা গাঢ় হয়ে গিয়েছিল হেমাঙ্গর। কপালে ঘাম। চোখ সামান্য জড়িয়ে আসছিল। নিজের নিশ্বাসেই গন্ধ পাচ্ছিল দিশি মদের।

    হেমাঙ্গ উঠল। ভেতর বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল এদিক ওদিক। ঝিমলি তখনও রান্নাঘরে। আলো জ্বলছে। এতটা রাত সে করে না। রান্নাবান্না শেষ করে পশ্চিমের কুঠরি ঘরে তার খাটিয়ায় গিয়ে শুয়ে পড়ে। আরও রাত বাড়লে, হেমাঙ্গ যখন তার ঘরে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে থাকে নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে, ঝিমলি কাছে গিয়ে তাকে ডাকে, বাব—এ বাবু। রান্নাঘরের ওপাশে কলাঝোপ। অন্ধকার চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। আকাশের দিকে তাকাল হেমাঙ্গ, তার চোখে তারাটারা ধরা পড়ল না।

    পায়রা মেয়েকে খাওয়াচ্ছে। ঘরে বসে। খাওয়াতে খাওয়াতে কথা বলছিল।

    হেমাঙ্গ মেয়েটার সঙ্গে এখনও কথাবার্তা বলতে পারেনি। দু একবার কী খুকু, কী করছ, গোছের কথা বলেছে। পায়রার মেয়ে হেমাঙ্গকে দেখে ভয় পাচ্ছে, না কি পছন্দ করছে না—বুঝতে পারছিল না সে। মেয়েটাকে খুঁটিয়ে দেখছে হেমাঙ্গ। পায়রার ছাঁদ রয়েছে মুখে। নাক চোখ পায়রার মতন।

    নিজের ঘরে চলে যাচ্ছিল হেমাঙ্গ।

    পায়রা মেয়েকে বলছিল, “খেয়েদেয়ে শুয়ে পড়বে। ঘুমিয়ে পড়বে।”

    “তুমি শোবে না?”

    “না। আমার রাত হবে। খাব দাব। তারপর……”

    “আমার ভয় করছে।”

    “কিসের ভয়! এখানে কি ভূত থাকে?”

    “এটা কার বাড়ি মা?”

    “তাতে তোমার দরকার কী! পাকা পাকা কথা কেবল!”

    পায়রার মেয়ে চুপ করে গেল।

    নিজের ঘরে এল হেমাঙ্গ। বাতি জ্বালল না। বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল। উপুড় হয়ে। বালিশে মুখ গুঁজে উপুড় হয়ে শুয়ে হেমাঙ্গ একবার চেষ্টা করে দেখল, তার মাথা ঠিক মতন কাজ করছে কিনা। দত্ত স্টোর্সে কত টাকা দিয়েছিল মনে করার চেষ্টা করল। পারল মাথা ঠিক আছে।

    হঠাৎ অনেক পুরনো কথায় চলে গেল হেমাঙ্গ। পায়রা কোন রঙের শাড়ি পরতে ভালবাসত? টিয়া-সবুজ রঙ। তার কোন দাঁতটা বেঁকা ছিল? নিচের পাটির ডান দিকের সামনের একটা দাঁত। পায়রার কোন বুকের তলায় বড় আঁচিল ছিল? ডান? নাকি বাঁ? ডান।

    হেমাঙ্গ আচমকা হেসে উঠল। পায়রার কোথায় কী ছিল হেমাঙ্গ কি সত্যিই জানত? না আজও জানতে পারছে?

    সংসারের এইটেই মজার। সব জিনিসই গায়ের চামড়া নয়। দেখা যায় না, দেখা যায় না। হেমাঙ্গকেই কি দেখা যায়?

    তিন

    হেমাঙ্গ ঘুমিয়ে পড়েছিল। নেশার মধ্যে গভীর ঘুম। প্রথমে তার খেয়াল হল কে যেন তাকে নাড়া দিচ্ছে।

    “কে?”

    “আমি। অনেক রাত হয়েছে।”

    “তুমি শোওনি?”

    “শুয়ে ছিলাম। উঠে এলাম। নতুন বিছানার-গন্ধ বড় নাকে লাগছে।”

    “গন্ধ? কিসের গন্ধ?”

    “কোরা গন্ধ। তোশক বালিশ চাদর……।”

    হেমাঙ্গ উঠে বসল। “খেয়েছ?”

    “না। তুমি খাবে চলো।”

    “ঝিমলি কোথায়?”

    “শুয়ে পড়েছে।”

    হেমাঙ্গ উঠে দাঁড়াল। “চলো।”

    খাওয়া-দাওয়া সেরে শুতে এল হেমাঙ্গ। সিগারেটটা শেষ করে নিচ্ছিল। পায়রা ঘরে এল।

    হেমাঙ্গ বলল, “আর রাত করো না, শুতে যাও।”

    পায়রা দরজাটা ভেজিয়ে দিল। পিঠ দিয়ে দাঁড়াল দরজায়।

    অবাক হচ্ছিল হেমাঙ্গ। “কী?”

    “ওই নতুন বিছানায় আমি শুতে পারব না।”

    “কেন? কী হয়েছে?”

    “ভীষণ গন্ধ লাগছে।”

    হেমাঙ্গ একটু চুপ করে থেকে বলল, “আর তো বিছানা নেই।”

    পায়রা জবাব দিল না। না দিয়ে হেমাঙ্গর বিছানার দিকে যাচ্ছিল।

    হেমাঙ্গ হাত ধরে ফেলল পায়রার। শক্ত করে। বলল, “ও বিছানায় আরও গন্ধ। তুমি ঘেন্নাটেন্না ভুলে গেছ?”

    “গিয়েছি। কবেই—।”

    “কেমন করে গেলে?”

    “গেলাম। আমার কপালে কত বিছানা জুটেছে জান তুমি?”

    হেমাঙ্গ শক্ত হাতে পায়রাকে টানল। বলল, “আমি কিছু জানতে চাই না। কী লাভ আমার জেনে! তুমি কেন গিয়েছিলে তা জানি, কেন ফিরে এসেছ তাও জানি।”

    “আমিও জানি।”

    “কী?”

    “তুমি এতকাল কেন এই ঘরবাড়ি আগলে বসেছিলে।”

    হেমাঙ্গ কয়েক পলক তাকিয়ে থাকল। তারপর বলল, “তুমি ও-ঘরে যাও। কাল বিছানা পালটে দেব।”

    পায়রাকে ঘর থেকে ঠেলে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল হেমাঙ্গ।

    পরের দিন বেলায় পায়রা হেমাঙ্গর ঘরের ভেজানো দরজা খুলে দেখতে পেল না মানুষটাকে। ঝিমলিও দেখেনি। নেড়ি চেঁচাচ্ছিল। পায়রার মেয়ে রোদে দাঁড়িয়ে লেবুগাছের মাথায় পাখি দেখছিল।

    পায়রা বার বার হেমাঙ্গর ঘরে আসছিল।

    হঠাৎ চোখে পড়ল হেমাঙ্গ এক টুকরো কাগজ রেখে গেছে। একদিন সে নিজে যেমন রেখে গিয়েছিল।

    কাগজটা দেখল পায়রা। তারপর ছুটে গেল কালকের সেই হোট ঘরটায়, যেখানে যসে হেমাঙ্গ সারা সন্ধে দিশি মদ খেয়েছিল।

    বোতলের ভাঙা কাচে গলার নালী কেটে হেমাঙ্গ মরেছে। তার সাদা শরীরে রক্তগুলো জমাট বেঁধে কেমন যেন দেখাচ্ছিল। পায়রা দু চোখ বন্ধ করে চেঁচিয়ে উঠল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখোয়াই – বিমল করভ
    Next Article খড় কুটো – বিমল কর

    Related Articles

    বিমল কর

    কাপালিকরা এখনও আছে – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    রাজবাড়ির ছোরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    ঘোড়া সাহেবের কুঠি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    সেই অদৃশ্য লোকটি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    শুদ্ধানন্দ প্রেতসিদ্ধ ও কিকিরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    কিকিরা সমগ্র ১ – বিমল কর

    October 30, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }