Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চাশটি গল্প – বিমল কর

    বিমল কর এক পাতা গল্প1346 Mins Read0
    ⤶

    নদীর জলে ধরা-ছোঁয়ার খেলা

    নদী এখানে তেমন চওড়া নয়। তবে বাঁক খেয়েছে। বাঁকের ওপারে চারপাশের জমি নিচু, নদীর স্রোত সেখানে ছড়িয়ে গিয়েছে চর ডুবিয়ে।

    এখন ভরা বর্ষা নয়। আষাঢ়ের মাঝামাঝি। প্রথম বর্ষার জল নামতে না নামতেই বরাকর নদী এমন জলভরা বড় একটা হয় না। এবার হয়েছে। গোড়ার বৃষ্টি দিন কয়েক ভালই হয়েছিল। এখন আবার শুকনো দিন। মেঘ হয়, বৃষ্টি হয় না, হলেও এক-আধ পশলা নরম বৃষ্টি।

    আশপাশে অর্জুন আর শিরীষ গাছ, একটা দুটো কলকে ফুলের ঝোপ। বেশ জঙ্গলমতন হয়ে গিয়েছে তিনতিড়ি কাঁটাগাছে।

    নদীর পাড়ে পাথরের ওপর নন্দকিশোর বসে ছিল। বসে বসে নদী দেখছিল ; নদী, আকাশ, ওপারের ঝোপ-জঙ্গল।

    সামান্য আগে গোধূলিবেলা নেমেছিল। দেখতে দেখতে গোধুলি মরল। আকাশ কালো হয়ে আসার আগেই চাঁদ উঠেছে। আজ পূর্ণিমা। কত পাখি ঝাঁক বেঁধে উঠে আসছিল, নদীর ওপার থেকে এপার, উড়ে এসে কোথায় গিয়ে বসছিল কে জানে ! এপার থেকেও উড়ে যাচ্ছিল ওপারে। কিছু বক উড়ে গেল।

    আকাশ আজ পরিষ্কার। কাছাকাছি কোথাও মেঘ নেই। বাতাসও রয়েছে। এলোমেলো, ঠাণ্ডা।

    নন্দকিশোর সামান্য ইতস্তত করে অন্যমনস্কভাবেই একটা সিগারেট ধরাল। সিগারেট খাওয়া তার বারণ। তবু এক-আধটা কখনো কখনো ধরিয়ে ফেলে, তিরিশ বছরের নেশা, ছাড়া সহজ নয় ; ছাড়তে গিয়েও যেন একটু মায়া লেগে থাকে।

    সংসারটা অদ্ভুত। নন্দকিশোরকে এই সেদিন পর্যন্ত কেউ বড় একটা কিছু ছাড়ার কথা বলত না। এটা ছাড়ো, ওটা ছাড়ো শোনা যেত না কারোর মুখেই। স্ত্রী মণিমালা শুধু বলত, বড় বেশি নেশা করছ আজকাল, অত খেয়ো না। সেটা ছিল মদের নেশা। স্ত্রীলোক বলে মণিমালা বুঝতে পারত না, নন্দকিশোর মদ বেশি খায় না। মাঝে মাঝে হয়ত পরপর দু-তিন দিন হয়ে যায়—এইমাত্র। সেটাও স্বেচ্ছায় নয়, দায়ে পড়ে। মেয়েরা মদের মাত্রা আর মদের গন্ধের তফাত বোঝে না ।

    নন্দকিশোরের নিজস্ব ডাক্তার হল তারই ছেলেবেলার বন্ধু পবিত্র। বাচ্চা বয়েস থেকে ধাত জানে নন্দকিশোরের। সেই পবিত্রও আগে কোনোদিন বলেনি, তুই এটা ছাড়, ওটা ছাড়। বরং বলত, ‘তুই যে-ভাবে চালিয়ে যাচ্ছিস চালিয়ে যা ; ঘোড়া যতক্ষণ ছোটে সে ঠিক আছে। শুলেই মরবে। খা-দা কাজকর্ম কর, ফুর্তি কর—জীবনটা যেমন করে কাটাচ্ছিস—এইভাবেই কাটিয়ে যা নন্দ। চমৎকর আছিস তুই। বয়েস তোকে ধরতে পারছে না। কী তোর এনার্জি ! খাটতেও পারিস বাবা ! তোকে হিংসে হয়।’ সেই পবিত্র শালা এখন, অসুখের পর থেকে নিত্যিদিন খিচখিচ করে যাচ্ছে, এটা খাবি না, ওটা করবি না, রাত জাগবি না, মাথা গরম করবি না। পবিত্রকে দেখলেই নন্দকিশোর এখন বলে, “এই যে ডাক্তার নো, আয়। আবার কটা না পকেটে করে এনেছিস তোর বউঠানের হাতে গুঁজে দিয়ে যা।” পবিত্র মণিমালাকে রগড় করে বউঠান বলে, আবার নাম ধরেও ডাকে।

     

    আরও দেখুন
    ই-বই পড়ুন
    গান
    ডিজিটাল বই
    পিডিএফ
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    স্বাস্থ্য টিপস
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    নতুন বই
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ

     

    অসুখের পর থেকে বন্ধুরাও নন্দকিশোরকে যে যা পারছে উপদেশ দিয়ে যাচ্ছে। এটা করো, ওটা করো। “তুমি কদিন কচি বেলপাতা সেদ্ধ করে জলটা খাও তো ;” “আমার বড় শালা একটা হোমিওপ্যাথি ওষুধ খেত নন্দ, এই যে লিখিয়ে এনেছি, ট্রাই করে দেখো”; “নন্দদা, আমার অ্যাডভাইস হল যোগব্যায়াম। সিস্টেমটাকে টিউন্ করে দেয়।” যার যেমন ইচ্ছে বলে যাচ্ছে।

    মণিমালার দু ভাই এখনও আসা-যাওয়া করে দিদির কাছে। তারাও কত রকম উপদেশ দিয়ে যায়। জামাইবাবু, একটা নীলাটিলা পরুন না! কলকাতার ঘোষালমশাই বলছিলেন, “শনি বছর খানেক ট্রাবল দেবে এখন—তারপর সব ঠিক হয়ে যাবে।”

    এমনকি নন্দকিশোরের বড় মেয়ে, গত বছর যার বিয়ে হয়েছে, সে আর জামাই এল ছুটতে ছুটতে রাঁচি থেকে। বড় মেয়ে বলল, “বাবা, তুমি আমাদের কাছে চলো মাসখানেকের জন্যে। কুমারজি বলে একজন আছেন, গাছগাছড়ার চিকিৎসা করেন। ধন্বন্তরি। অনেক বয়েস। সন্ন্যাসীর মতন মানুষ। তোমার কথা বলে এসেছি।”

     

    আরও দেখুন
    স্বাস্থ্য টিপস
    বইয়ের
    গীতবিতান
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বইয়ের তালিকা
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা ই-বুক রিডার
    গ্রন্থাগার
    উপন্যাস সংগ্রহ

     

    ছেলে নিজে কিছু বলে না, মায়ের ওপর হাঁকডাক করে। “তুমি বাবাকে কড়া হাতে রাখতে পার না? বাবা যখন যা বলবে, খেতে চাইবে—মরজি মতন চলতে চাইবে—হতে দেবে না। বাবাকে সাবধানে না রাখলে বিপদ হবে।”

    নন্দকিশোরকে এখন সবাই সাবধানে রাখার দড়ি দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখার চেষ্টা করছে করুক! কিন্তু নন্দকিশোর নন্দকিশোরই।

    পাখিরা আর নেই। আকাশজুড়ে জ্যোৎস্না ফুটে উঠছে। বাতাসে গাছপালার পাতা কাঁপার শব্দ হচ্ছিল। নদীর জলের শব্দ অতি মৃদু।

    নন্দকিশোর সিগারেটের টুকরোটা ফেলে দিল। অর্ধেকও খায়নি। এই রকমই খায় দিনে দু-চারটে।

    ঘড়িটা একবার দেখল। এখন তার ওষুধ খাবার কথা। পর পর দুটো। মিনিট দশ পনেরো অন্তর। ওষুধের সঙ্গে হরলিকস্। আগে পরেও খাওয়া যায় হরলিকস্। নন্দকিশোরের পাশেই ছোট বেতের বাস্কেটে সব গোছানো আছে। দুটো ফ্লাক্স, জল আর হরলিকসের। গ্লাস আছে কাচের। মুখ-হাত মোছার জন্যে তোয়ালে। টর্চ। একটা ছাতাও রাখা আছে পাশে। মণিমালার চোখ আছে সব দিকে; বৃষ্টি এখন নেই তো না থাক, বর্ষাকাল বলে কথা, হঠাৎ যদি বৃষ্টি আসে। তখন?

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    নতুন বই
    বইয়ের তালিকা
    রেসিপি বই
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    গল্প, কবিতা
    অনলাইনে বই

     

    ড্রাইভার নাগেশ্বর সব কিছু এনে গুছিয়ে দিয়ে চলে গিয়েছে জিপ গাড়ির কাছে। গাড়িটা রয়েছে সামান্য তফাতে। কাঁচা রাস্তায়। এখান থেকে দেখা যায় না, গাছে ঝোপেঝাড়ে আড়াল পড়ে গিয়েছে।

    নাগেশ্বর অবশ্য জিপ গাড়ির কাছে নেই। সে নিশ্চয় তার মায়ের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে। মণিমালা এসেছে লাটুবাবার মন্দিরে পুজো দিতে। সঙ্গে কমলা। মণির সব কাজেই কমলা। বারো বছরের বেশি হয়ে গেল কমলার মণিমালার কাছে। সে তো এখন বাড়িরই লোক।

    পকেট থেকে একটা ওষুধ বার করে অন্যমনস্কভাবে খেয়ে নিল নন্দকিশোর। জল খেল এক ঢোক।

    আজ পূর্ণিমা। দিনটার যোগাযোগেও নাকি ভাল । মণিমালা এসেছে পুজো দিতে। হয়ত তার মানত ছিল, বা ইচ্ছে ছিল—স্বামীর অসুখ সেরে গেলে সে এই মন্দিরে পুজো দিতে আসবে।

    পুজো দিতে আসবে ঠিকই—তা ছাড়াও কিছু কথা আছে লাটুবাবুর সঙ্গে।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    ট্রেন টু পাকিস্তান
    রেসিপি বই
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    গল্প, কবিতা
    বাংলা সাহিত্য
    অনলাইন বুকস্টোর
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    Books
    কৌতুক সংগ্রহ

     

    লাটুবাবু বা পূজারীজি এখানে নদীর পাড়ে যে-মন্দিরটি গড়ে নিয়েছেন, সেই সঙ্গে নিজের সামান্য আস্তানা—তার কোনো ছিরিছাঁদ নেই। কিছু ইট গেঁথে একটা মন্দির মতন, আর খোলার চাল দেওয়া আস্তানা লাটুবাবার। মানুষটি এখানে এসে বসেছেন বছর পাঁচেকের বেশি। কোথ্ থেকে এসেছেন কেউ জানে না, লাটুবাবাও বলেন না। নদীর পাড়ের এই জমি সরকারি, ঝোপ জঙ্গল গাছ সবই সরকারের। এখানে এসে এই যে লাটুবাবা সামান্য জমি নিয়ে বসে গেলেন—তাতে মনে হয়েছিল, কোনো সময়ে তাঁকে না উঠিয়ে দেয় পেয়াদা এসে। ওঠায়নি। কেন না, সামান্য ব্যাপারে কেউ নজর দেয়নি। তা ছাড়া লাটুবাবু মানুষটি অন্যরকম। ভেকধারী নন। নিজের মনে থাকেন, নিজের আনন্দে পুজোপাঠ করেন। এই জায়গাটিতে আর নদীর আশপাশেই ঘুরে বেড়ান। শহরের দিকে তাঁকে কদাচিৎ দেখা যায়। ভিক্ষা নেন না, অনুগ্রহ চান না। লোকে বেশ শ্রদ্ধার সঙ্গেই দেখে লাটুবাবাকে।

    মণিমালা আজ মন্দিরে পুজো দেবে বলে এসেছে এখানে। তা ছাড়া সে লাটুবাবার সঙ্গে কয়েকটা কথা বলবে। মণিমালার ইচ্ছে, মন্দিরটি সে ভাল করে তৈরি করিয়ে দেয়—আর সেই সঙ্গে লাটুবাবার আস্তানাটিও পাকাপোক্ত করে দেয়। স্বামীর অসুখের সময় সে নাকি একদিন এই মন্দিরের স্বপ্ন দেখেছিল। তখন থেকেই তার ইচ্ছে, স্বামী সুস্থ হয়ে উঠলে—মন্দিরের কাজকর্মটি সে করিয়ে দেবে।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    অনলাইন বুকস্টোর
    গান
    ই-বই পড়ুন
    ডিকশনারি
    অনলাইনে বই
    গ্রন্থাগার
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    নতুন বই

     

    লাটুবাবা যেমন মানুষ তাতে হয়ত রাজি না হতে পারেন।

    মণিমালা তখন বলবে, আমি তো বড় করে কিছু করছি না বাবা, মার্বেল বসাচ্ছি চুড়ো করছি না, শুধু মন্দিরটা সারিয়ে-সুরিয়ে ঠিক করে দিচ্ছি। এই মন্দির আপনার, পরেও তো মন্দির থাকবে, একটু মজবুত করে না গড়ে দিলে ভেঙে পড়ে যাবে যে! এ আমার ইচ্ছে শুধু নয় বাবা, আমি মনস্কামনা জানিয়ে দিলাম। আপিন আপত্তি করবেন না।

    মণিমালা তার বলার কথা গুছিয়ে নিয়ে এসেছে। নন্দকিশোরকে বলেছিল, “তুমিও চলো না, গুছিয়ে বলবে। তুমি পুরুষমানুষ, গুছিয়ে কথা বলতে পার। আমি মেয়েমানুষ, আমি কি ছাই পারব!”

    নন্দকিশোর বলল, “আমার দ্বারা হবে না। ওসব তোমরা পার । তুমিই বলো। আমি তো তোমার পেছনে থাকলাম। দশ পনেরো হাজারে আমার কিছু যাবে আসবে না। কথাবার্তা তুমি বলতে পারবে।”

    “বেশ!”

     

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    বই
    গল্প, কবিতা
    অনলাইনে বই
    বাংলা কৌতুক বই
    অনলাইন বুকস্টোর
    বাংলা অডিওবুক
    গান
    ই-বই পড়ুন
    সংগীত

     

    “তবে যেদিন যাবে আমায় একটু নিয়ে যেও। নদীর পাড়ে গিয়ে বসে থাকব, আকাশ বাতাসের মাঝখানে। হাওয়া খেয়ে ফিরব। অনেক দিন ওপাশে যাওয়া হয়নি।”

    নন্দকিশোর এসেছে নিভৃতে নির্জনে একা কিছুক্ষণ বসে থাকতে। আর মণিমালা এসেছে, মন্দিরে পুজো দিতে, লাটুবাবার সঙ্গে কথা বলতে।

    নন্দকিশোর এবার হরলিকসের ফ্লাস্ক আর কাচের গ্লাস বার করে নিয়ে কিছু মনে পড়ায় দ্বিতীয় ওষুধটা নিয়ে খেয়ে নিল অন্যমনস্কভাবেই।

    ততক্ষণে সন্ধে নেমে আসছে। জ্যোৎস্নাধারা ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে।

    গ্লাসে হরলিকস্ ঢেলে ধীরে ধীরে খেতে লাগল নন্দকিশোর। আ—অনেকদিন এইভাবে নদীর চরে বসে জ্যোৎস্না দেখা হয়নি, দেখা হয়নি জলের স্রোতের সঙ্গে কেমন করে গড়িয়ে চলেছে চাঁদের আলো, কখন যেন ঘুমের ঘোমটা পরা একটি আবছা ছবি ফুটে উঠল নদীর ওপারে, কখন বাতাস এমন স্নিগ্ধ হয়ে উঠল।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ই-বুক রিডার
    কৌতুক সংগ্রহ
    সংগীত
    PDF
    বাংলা বই
    গান
    স্বাস্থ্য টিপস
    মিউজিক
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই

     

    নন্দকিশোর যেন অন্যমনস্ক হতে হতে গভীর কোনো অর্ধ-চেতনার মধ্যে আচ্ছন্ন হয়ে আসছিল। তন্দ্রার মতন ঘোর নামছিল চোখে।

    দুই

    কোনো শব্দ নয়, তবু নন্দকিশোর যেন বুঝতে পারল, কে যেন পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।

    “কে?”

    কোনো সাড়া নেই।

    ঘাড়, ঘোরাল নন্দকিশোর। “কে ?”

    “আমি।”

     

    আরও দেখুন
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    লেখকের বই
    স্বাস্থ্য টিপস
    অনলাইন বুকস্টোর
    PDF বই
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    পিডিএফ
    বাংলা কৌতুক বই

     

    “কে আমি?”

    “দেখেছ, চিনতে পারছ না হয়ত।”

    নন্দকিশোর ভাল করে দেখল। সত্যিই চিনতে পারছে না। মাথা নাড়ল, “মনে করতে পারছি না।”

    “হঠাৎ দেখলে, চিনে উঠতে পারছ না। পারবে।”

    নন্দকিশোর অবাক হয়ে যাচ্ছিল। তুমি তুমি বলে কথা বলছে লোকটা। কেন ? নন্দকিশোরের কোনো পুরনো চেনা লোক, নাকি বন্ধু ? যদিও একেবারে পাশে দাঁড়িয়ে আছে লোকটা, তবু অর্জুন গাছের ছায়া পড়েছে তার গায়ে! “তোমায় কি এখানে কোথাও দেখেছি ? মানে এই আমাদের শহরে?”

    “তা দেখেছ ! এখানেও দেখেছ । এই নদীর ধারে।”

    “কবে ?”

     

    আরও দেখুন
    বইয়ের
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    গীতবিতান
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ
    ট্রেন টু পাকিস্তান
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    ডিকশনারি
    গল্প, কবিতা

     

    “বারকয়েকই দেখেছ। তোমার বাবা যখন মারা গেল, তারপর মা। আরও দেখেছ। চুয়া যখন মারা গেল!”

    নন্দকিশোর হরলিকসের গ্লাসটা কোলের ওপর রাখল। অবাক কথা তো! লোকটা বলছে, এই নদীর ধারেই তাকে দেখেছে নন্দকিশোর, বাবা মারা যাবার পর, মা মারা যাবার সময়, আবার এমনকি চুয়া মারা যাবার সময়।

    লোকটা নিজের থেকেই বলল, “ওই যে বটগাছটা—ওদিকে, ওর কাছে তোমার বাবাকে সৎকার করা হয়েছিল। তখন নদীর এ-দিকটা ভাঙেনি। উঁচু পাড় ছিল।”

    নন্দকিশোর বটগাছটার দিকে তাকাল। বেশ খানিকটা তফাতে গাছটা। বাবাকে ওখানেই পোড়ানো হয়েছিল। সে অন্তত ষোল সতের বছর আগেকার কথা। বেশ অবাকই হচ্ছিল নন্দকিশোর। লোকটা এত কথা জানল কেমন করে ? সে কি শ্মশানসঙ্গী হয়ে এসেছিল? বাবাকে দাহ করার সময় লোক বেশি হয়নি। জনা বিশেক। মানিকজেঠা, ভুলুকাকা, সেনকাকা, বিজনদাদা, দয়ারামদা—এরা ছিল। এদের মধ্যে এই লোকটা ছিল নাকি ? আশ্চর্য! এত পুরনো লোক, এখানকার মানুষ, তবু তাকে চিনতে পারছে না নন্দকিশোর।

     

    আরও দেখুন
    গীতবিতান
    মিউজিক
    পোর্টেবল স্পিকার
    বাংলা অডিওবুক
    অনলাইন বুকস্টোর
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    PDF বই

     

    “তোমার বাবার কাজ শুরু হতে হতে বিকেল হয়ে গেল।”

    মনে মনে মাথা নাড়ল নন্দকিশোর। তখন প্রচণ্ড গরম, চৈত্র মাস, পুড়ে যাচ্ছে চারদিক ;দুপুরে দাহ কাজ শুরু করা গেল না। বিকেলেই চিতা জ্বালানো হল।

    নন্দকিশোর বলতে যাচ্ছিল, তোমার নাম কী, কোথায় থাক, কোন পাড়ায়—তার আগেই লোকটা অন্য কথা বলল।

    “তোমার মায়ের বেলায় কোনো অসুবিধা হয়নি। উনি শীতকালে গেলেন। মাঘ মাসে। ওঁকেও তোমার বাবার কাছাকাছি জায়গায় সৎকার করা হল। একটু বেলায়।”

    নন্দকিশোর বলল, “তুমি এত কথা জানলে কেমন করে?”

    “জানি।”

    “তুমি কি আমাদের সঙ্গে এসেছিলে ? কী নাম তোমার ?”

     

    আরও দেখুন
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    গল্প, কবিতা
    বাংলা সাহিত্য
    বাইশে শ্রাবণ
    বুক শেল্ফ
    PDF বই
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    ই-বই পড়ুন
    বাংলা কৌতুক বই

     

    “নাম একটা আছে। তা নাম জেনে কী করবে। বললাম তো, আমি তোমাদের পাশাপাশি আছি। আমাকে তুমি দেখেছ। অনেকবার। যাদের কথা বললাম—তারা তোমার নিজের বলে শুধু ওদের কথা বললাম।”

    “তুমি তো বেশ হেঁয়ালি শুরু করলে হে!”

    “চুয়ার কথা বলব ?”

    “চুয়া! না থাক্—!”

    “একেবারেই শুনবে না। একটু না হয় শোনো। চুয়ার মারা যাবার সঙ্গে তোমার আর কী সম্পর্ক। সে তাদের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মারা গেল। মাথায় ঘাড়ে কানে লেগেছিল। কান-মুখ রক্তে ভেসে গেল…।”

    “আঃ! কী শুরু করলে! চুপ করো। শান্তিতে একটু বসে আছি—আর পাশে এসে যত্ত মরার কথা! কে তুমি ? কী দরকার তোমার ?”

    “আমি তোমার কাছেই এসেছি। আমায় চিনলে না?”

    নন্দকিশোর মাথা নাড়তে যাচ্ছিল; নাড়তে গিয়েও থেমে গেল। তারপর কী যে হল, সে যেন দেখল, লোকটার মুখ অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে। চোখ নাক মুখ আছে—অথচ সবই কেমন অদ্ভুত দেখাতে লাগল। জলের তলায় শ্যাওলা ভাসলে যেমন দেখায়—অনেকটা সেই রকম। তার চোখ নাক মুখ স্বাভাবিক আকৃতি হারাচ্ছে। তরল হয়ে গলে গিয়ে বড় হয়ে যাচ্ছে বুঝি। দুটো চোখ ভাসতে লাগল। নাক বড় হয়ে উঠছিল।

    ভয় পেয়ে নন্দকিশোর চোখ রগড়ে নিল। কোনো লাভ হল না। হঠাৎ তার মনে হল, তবে কি সে সামান্য আগে যে ওষুধ দুটো খেয়েছে, তখন কিছু গোলমাল করে ফেলেছে। ভুল করে আগে পরে হয়ে গেছে, পরেরটা আগে খেয়েছে, আগেরটা পরে। নাকি, অন্যমনস্কভাবে সে বেশি ওষুধ খেয়ে ফেলেছে! ভুল বা বেশি ওষুধ খেয়ে ফেলার জন্যে ভৌতিক কিছু দেখছে নাকি! হ্যালুসিনেশান!

    এমন সময় নন্দকিশোর ঘণ্টার শব্দ পেল। লাটুবাবুর মন্দিরে সন্ধের পুজো হচ্ছে। আরতি বোধ হয়। মণিমালারা বসে আছে মন্দিরে গলবস্ত্র হয়ে।

    মুখ ফিরিয়ে তাকাল নন্দকিশোর।

    “কী চিনতে পারছ ?”

    “পারছি এবার।”

    “আমি কে?”

    “তুমি কে আন্দাজ করতে পারছি।…আমি সে সেটাই বুঝতে পারছি না।”

    “তুমি নন্দকিশোর চৌধুরী। বয়েস চুয়ান্ন।”

    “প্রায় চুয়ান্ন”, নন্দকিশোর যেন একটু হাসল। “তা তুমি অসময়ে এখানে কেন?”

    “তোমার কাছে।”

    “আমায় ডাকতে এসেছ ?”

    “ডাকাই আমার কাজ!”

    “কিন্তু আমার যে অন্য কাজ আছে।”

    “সেগুলো আর হয়ে উঠবে না।”

    “তুমি বলছ বটে হয়ে উঠবে না। আমার কিন্তু মনে হচ্ছে, হয়ে গেলে ভাল হত।…তা তুমি সব বেটাকে ছেড়ে এই বেঁড়ে বেটাকে ধরতে এসেছ কেন! আমার তো এখনও ঠিক তোমার সঙ্গে যাবার বয়েস হয়নি, চুয়ান্ন কি আজকাল একটা বয়েস। তুমি বলবে বয়েসে কিছু আসে যায় না। চার, চোদ্দ, চবিবশ, চৌত্রিশ—সব বয়েসেই মানুষ যায়। ঠিক কথা। যাবার বয়েস নেই, সময় নেই, স্থান অস্থান নেই। তবু, আমি ঠিক খুশি হচ্ছি না হে!”

    “কেই বা হয়! তুমি ভয় পাচ্ছ?”

    নন্দকিশোর এবার একটু শব্দ করে হাসল। পরে বলল, “ভয় পাচ্ছি না—এ-কথা বললে মিথ্যে বলা হবে। পাচ্ছি খানিকটা। তবে মারাত্মক নয়। ভয়-টয় আমার বরাবরই খানিকটা কম। এই তো কিছুদিন আগেই যাব-যাব হয়েছিলাম। বাড়িতে হুলুস্থূল পড়ে গেল। ডাক্তারে ওষুধে আত্মীয়স্বজনে বন্ধুবান্ধবে বাড়ি ভরে গেল । তখনও তো তুমি আশপাশে ওত পেতে বসেছিলে। নিয়ে নিলেই পারতে। আমার কিছু বলার থাকত না। তবে তোমায় ঠিক বলছি, ভয় তখন আমি তেমন পাইনি। মন খারাপ হত, দুশ্চিন্তা হত। যাকে ভয় পেয়ে মরে-যাওয়া বলে তেমন হইনি।

    “তবে আর কী?”

    “না, কিছু না। কিন্তু এখন এই ব্যাপারটা আমার ভাল লাগছে না। রসিকতা বলে মনে হচ্ছে। দু মাস আগেই তোমার খেলাটা খেলে নিলে পারতে, মহারাজ !…মহা-রাজ! বাঃ নামটা বেশ মুখে এসে গেল তো ! আমি তোমাকে মহারাজ বলেই ডাকব। …বলেছিলাম কী সেই তখন—যখন যাব-যাব হয়েছিলাম, তখন তুমি ডেকে নিয়ে গেলে কে তোমায় আটকাত ! কিন্তু এখন…”

    “এখন কী?”

    “না, কিছু নয়। তুমি ওসব বুঝবে না।”

    “বুঝতে পারি।”

    “পার! কী বুঝছ ?’

    “তুমি কিছু ভাবছ আজকাল..”

    “ধরেছ মোটামুটি।…তা মহারাজ, এসো না—আমরা একটু কথাবার্তা বলে নিই। তুমি কি ঘড়ি ধরে এসেছ ?”

    “না।”

    “তা হলে…”

    “আমি তোমায় খানিকটা সময় দিতে পারব।”

    “খানিকটা মানে।…দু দশ মিনিটে আমার কী হবে! বেশি সময় চাই।

    “কত সময় ?”

    নন্দকিশোর কিছু বলল না। চুপ করে থাকল। নদীর দিকে তাকাল। জ্যোৎস্নার আভা নিয়ে জল বয়ে চলেছে। চকচক করছিল জলের ধারা।

    নন্দকিশোর হঠাৎ বলল, “মহারাজ, তোমার সঙ্গে আমার একটা ভদ্রলোকের চুক্তি হয়ে যাক। কী রাজি।”

    “কী চুক্তি ?”

    নন্দকিশোর সামান্য চুপ করে থাকল। তার চোখ নদীর দিকে। মনে মনে কিছু ভাবছিল। মাথার মধ্যে একটা ফন্দি এসেছে। সে নির্বোধ নয়, বরং চতুর। বুদ্ধিমান। এমনভাবে সরাসরি সে কিছু বলতে চায় না যাতে পাশের লোকটি সন্দেহ করে নন্দকিশোর তাকে ঠকাবার চেষ্টা করছে।

    কিছুক্ষণ পরে নন্দকিশোর বলল, “ধরো, আমি যদি এখন ওই নদীতে খানিকটা সাঁতার কাটতে চাই, তুমি রাজি হবে ?”

    লোকটা কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে যেন চাপা-হাসি হাসল। “হব না কেন!”

    “না, মানে একসময় আমি ভাল সাঁতারু ছিলাম। জলে আমার একটা টান রয়েছে বরাবর।”

    “আমি সব জানি। তুমি ছেলেবেলা থেকেই ভাল সাঁতারু ছিলে। যত বয়েস বেড়েছে তত পাকা সাঁতারু হয়ে উঠেছিলে। এ তল্লাটে তো বটেই, পুরো জেলায় তোমার চেয়ে বড় সাঁতারু কেউ ছিল না।’

    নন্দকিশোর কথা থামিয়ে দিল লোকটির। উৎফুল্ল হয়ে বলল, “একেবারে ঠিক কথা। ক্লাব, ইন্টার স্কুল, ইন্টার কলেজ সব জায়গায় নন্দ চৌধুরী ছিল চ্যাম্পিয়ন। গাদা গাদা কাপ, মেডেল পেয়েছি। মিস্টার হিগস্ আমায় সোনার মেডেল দিয়েছিলেন। আমি ভরা বর্ষায় এই নদীতে তিন মাইল সাঁতার কেটেছিলাম। …আমার কারেজ, ডিটারমিনেশান, পেসেন্স…সরি মহারাজ তুমি কি ইংরেজি বুঝতে পারছ!”

    “পারছি”, লোকটি হাসল।

    “আসলে কী জান, এই শেষ বেলায় আমার ইচ্ছে হচ্ছে নদীর জলে খানিকটা সাঁতার কেটে নিই। জীবনের বড় প্যাশান ছিল ওটা। এটা আমার শেষ ইচ্ছে।”

    “বেশ তো, কেটে নাও।”

    “কিন্তু একটা কথা আছে। সেটাই আমার শর্ত।”

    “বলো।”

    “আমি যতক্ষণ জলে থাকব তুমি আমায় ছুঁতে পারবে না।”

    “শর্তটা ঠিক হল না। বরং আমি বলি, তুমি যতক্ষণ জলে মাথা ভাসিয়ে থাকবে, আমি তোমায় ছোঁব না। যখন দেখব তোমার মাথা আর ভাসছে না—তখন তোমায় ছুঁতে পারব। কেমন ?”

    “কিন্তু আমি যদি ডুব সাঁতার দিই ?”

    “এক সময় না এক সময় তো ভেসে উঠবেই। আমি দেখতে পাব।”

    “এত দূর থেকে দেখতে পাবে ?”

    “না। আমি তোমার পাশে পাশেই থাকব। সাঁতার কাটব।”

    নন্দকিশোর কী ভেবে বলল, “সেটা মন্দ নয়। পাশে থাকবে তবে ছোঁবে না। …আর একটা কথা। তোমায় ফাঁকি দিয়ে যদি আমি জল থেকে ডাঙায় উঠে আসতে পারি—তা হলেও তুমি আর আমায় ছুঁতে পারবে না এখন। কী রাজি ?”

    “রাজি। তুমি যে বলছিলে কী সব কথাবার্তা বলবে—সাঁতার কাটতে কাটতে আমরা কথা বলতে পারি।”

    “বাঃ ! বেশ বলেছ !…তা হলে আমি তৈরি হই।”

    “হতে পার। কিন্তু, তুমি কি ভেবে দেখেছ—এখন তোমার বয়েস কত, শরীরের কী অবস্থা ? যে বয়েসে চ্যাম্পিয়ন ছিলে সে-বয়েস আর নেই। অভ্যাস নষ্ট হয়ে গেছে। তোমার দম কোথায় ? বুকেরই না অসুখ তোমার!”

    নন্দকিশোর বলল, “মহারাজ, আর যে-ক্ষমতাই থাক তোমার, তুমি লেখাপড়া শেখোনি। তোমাকে নাকি ধর্মরাজও বলে, ধর্মের তুমি কী জান? মহাভারতে কী আছে তুমি খোঁজও রাখ না? তোমার সঙ্গে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আমার কাছে যুদ্ধের মতন। যদি আমি পিছিয়ে যাই আমি হেরে যাব। যদি পালিয়ে যাই—আমার যশ ও কীর্তি নষ্ট হবে। যদি জিততে পারি আমি বিজয়ী হব।”

    লোকটি হাসল। বলল, “বেশ। তুমি জলে নেমে পড়ো। আমিও নামছি।”

    তিন

    নদীর জলে স্রোত ছিল। টান ছিল না।

    নন্দকিশোর অনেককাল পরে জলে নেমেছে। কত কাল—তার হিসেবও করা মুশকিল। অন্তত বছর কুড়ি। কাশীর গঙ্গায়, এলাহাবাদের সঙ্গমে, পুরীর সমুদ্রে সে দু-একবার যা নেমেছে—তা নিতান্তই শখ করে, মণিমালাদের নিয়ে বেড়াতে গিয়ে এক-আধ দিন জলে নেমে ডুব মেরেছে কি বিশ-পঁচিশ গজ সাঁতার কেটেছে। নয়ত আর জলে নামা হয়নি তার। বাড়িতে স্নানঘরেই স্নান, কখনো বা কুয়াতলায়। তাও কুয়াতলায় স্নান সে গত বছর বারো-চোদ্দ করেনি। বন্ধ স্নানঘরের কলের জলে স্নান করাই এখন অভ্যাস।

    নন্দকিশোরের পরনে জাঙিয়া। প্যান্টের তলায় যেটা ছিল। গায়ে কিছু নেই, হাতকাটা গেঞ্জি ছাড়া। বেতের টুকরি থেকে ছোট তোয়ালেটা নিয়েও শেষ পর্যন্ত রেখে দিয়েছে। পরে গা-মাথা মুছবে বলে । পরে ? পরে কি সে জল ছেড়ে ডাঙায় উঠতে পারবে!

    নদীর জলে নেমে প্রথমে নন্দকিশোরের গা শিউরে উঠেছিল। ঠাণ্ডা। বাতাস দিচ্ছিল। বাতাসে গা যেন কেঁপে উঠল শীতে। প্রথমটায় নন্দকিশোর হাত-পা-গা সবই কেমন অসাড়-অসাড় অনুভব করল মনে হল, সে পারবে না। সামান্য পরেই তার শরীর অসাড় হয়ে যাবে, সে কোনো অঙ্গই নাড়াতে পারবে না, অবধারিত মৃত্যু।

    প্রথম দিকের আচমকা জড়তা নিষ্প্রাণভাব কাটিয়ে নিজেকে সে ক্ৰমে সামলে নিতে লাগল। সাঁতার যে শিখেছে একবার সে কি সহজে সেটা ভোলে।

    নন্দকিশোর মোটামুটি নিজেকে সামলে আকাশের দিকে তাকাল। আকাশের চাঁদ যেন মাথার ওপর। পূর্ণিমার শশী। এই আষাঢ়েও চমৎকার জ্যোৎস্না ফুটেছে, ছড়িয়ে পড়েছে নদীর জলে, দু পাশের ঘন গাছপালার নিঃসাড় গায়ে-মাথায়। নদীচর বনরাজি শান্ত, নিস্তব্ধ। লাটুবাবার মন্দিরের ঘণ্টাও আর শোনা যাচ্ছে না।

    আশপাশে তাকাল নন্দকিশোর, কাউকে দেখতে পেল না। ফেউয়ের মতন যে-লোকটা, সে মৃত্যুই হোক, অথবা মহারাজ, কিংবা ধর্মরাজ—সে কোথায় ?

    যদি সে না থাকে, নন্দকিশোর সামান্য পরেই গিয়ে ডাঙায় উঠবে। লোকটার সঙ্গে ভদ্রলোকের চুক্তিমতন যে-শর্ত ঠিক হয়েছে—তাতে যতক্ষণ নন্দকিশোর জলে মাথা ভাসিয়ে রেখেছে তাকে কেউ ছুঁতে পারবে না। আবার যদি সে কোনো রকমে লোকটাকে ফাঁকি দিয়ে তার হাত এড়িয়ে ডাঙায় উঠে পড়তে পারে—তা হলেও ও আর নন্দকে এ-যাত্রায় ছুঁতে পারবে না।

    নন্দকিশোর বোকা নয়; সে জানে শেষ পর্যন্ত কোনো জীবই মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারে না। বাবা বলতেন: ‘জাতস্য হি ধ্ৰুবো মৃত্যুধ্রুবং জন্ম মৃতস্য চ…’, যে জন্মেছে তার মরণ অবশ্যই হবে…। কিন্তু এমন তো হয়—মৃত্যু এসেও ফিরে যায় অনেক সময়, তখনকার মতন, হয়ত কম সময়ের জন্যে, হয়ত বেশি সময়ের জন্যে, তারপর সে আবার আসে। রোগ, শোক, আঘাতে কতবার বুঝি মৃত্যু আসে মানুষের কাছাকাছি, এসেও শেষ পর্যন্ত জীবনের শিখাটি নেভাতে পারে না, ফিরে যায়, অপেক্ষা করে অন্য কোনো সুযোগের। নন্দকিশোর মাস দুই-তিন আগেই তো মারা যেতে পারত অসুখে, কেন গেল না ? তার জীবনীশক্তি আর পবিত্র ডাক্তারদের আপ্রাণ চেষ্টা মৃত্যুকে দু’হাতে ঠেলে সরিয়ে দিল। তা যদি দিয়ে থাকে নন্দকিশোর কি এবারও এই জীবন-মৃত্যুর খেলায় জিততে পারবে না ? আপাতত জেতা ; তারপর আবার কবে সে আসছে সেটা অন্য কথা। দেরি করেও তো আসতে পারে।

    নন্দকিশোর জল ঠেলে হাত কয়েক এগিয়ে গেল।

    “কই, তুমি যে বললে—তোমার কী সব কথাবার্তা আছে!”

    খানিকটা চমকে উঠে ঘাড় ফেরাল নন্দকিশোর। সেই লোকটা। পাশাপাশিই রয়েছে, মুখ মাথা ভাসিয়ে। জলে নামার পর থেকে ওকে আর দেখেনি নন্দ। এই প্রথম দেখল। দেখে খুশি হল না।

    “ও, তুমি ! এতক্ষণ দেখিনি…”

    “পাশেই ছিলাম। …দেখলাম এতকাল পরে জলে নেমে তুমি বেশ কাবু হয়ে পড়েছ। হাজার হোক বয়স তো হয়েছে, তারপর সদ্য অসুখ থেকে উঠেছ, দুর্বল তো লাগবেই। তার ওপর সময়টাও সন্ধে, নতুন বর্ষার জল—।”

    নন্দকিশোর বলল, “তা গোড়ায় খানিকটা অসুবিধে হচ্ছিল বটে, এখন অতটা হচ্ছে না।”

    “ভালই তো ! দেখ কতক্ষণ পার!”

    “দেখ হে, তোমায় একটা সত্যি কথা বলি। আমি জল জিনিসটা বুঝি। জন্মকাল থেকে জল ঘেঁটে মানুষ। মিছিমিছি কি সাঁতারে চ্যাম্পিয়ান হয়েছি ! সব রকম সাঁতার জানি। ছোট্ট একটু জায়গার মধ্যেও ভেসে থাকতে পারি দু’চার ঘণ্টা। তুমি আমায় চট করে ছুঁতে পারছ না। আমার বাবা ঠাট্টা করে বলতেন, মৎস্যজন্ম থেকে আমি নরজন্ম লাভ করেছি। বাবার কাছে আমি গল্প শুনেছি, সেই পুরান জাতক-টাতকের গল্প, মাছ থেকে কেমন করে মানুষ হয়ে যেত তখনকার দেবতারা, মুনিঋষিরা, আবার মানুষ থেকে মাছ…” নন্দকিশোর যেন হেসে উঠল।

    “তোমার বাবা ছিলেন স্কুলের হেডমাস্টার।”

    “জান তুমি? আশ্চর্য হে!…আমার বাবা শুধু হেডমাস্টার ছিলেন না, হেডমাস্টার গণ্ডায় গণ্ডায় থাকে, গোরু-গাধার মতন। বলার মতন হেডমাস্টার দু-চারটে। আমার বাবা ছিলেন মতিলাল হাই স্কুলের বিখ্যাত হেডমাস্টার। স্কুলটা আগে ছিল জুনিয়ার, তারপর হল অ্যাংলো-বেঙ্গলি মিডল্, শেষে মতিলাল হাই স্কুল। বাবা অ্যাংলো-বেঙ্গলি থেকে শুরু করেন। এমনি মাস্টার। বারো চোদ্দ বছর পরে মতিলালের হেডমাস্টার। বাবার যে কত নাম ছিল তুমি জান না!”

    “জানি। নামী মাস্টারমশাই।”

    “স্কুলটা তো বাবাই জীবন দিয়ে দাঁড় করালেন। কিন্তু কী পেলেন বলো! কিছুই না।জীবন যারা দেয় তারা কিছু পায় না। মহারাজ, আমরা খোলার চালের বাড়িতে থাকতাম। দুতিনটে মাত্র ঘর। কুয়ার জল। মাকে নিজের হাতে বাসন মাজতে ঘর ঝাঁট দিতে দেখেছি। আমরা ভীষণ গরিব ছিলাম। ভীষণ গরিব।” বলতে বলতে নন্দকিশোর যেন কোনো আক্রোশবশে আচমকা হাত-পা ছুঁড়ে দু-পাঁচ হাত এগিয়ে গেল। গিয়ে আকাশের দিকে মুখ তুলল।

    আকাশে কিছু লেখা থাকে না। পূর্ণিমার পুরন্ত চাঁদ নিয়ে আকাশ আগের মতনই নিজের রূপে বিভোর হয়ে আছে । তা থাক। নন্দকিশোরের মনের মধ্যে তো সবই লেখা আছে। বাছুরডোবার মাঠে, যাকে বলা হত নিচুডাঙা, সেখানে এক খোলার চালের বাড়িতে তারা থাকত। বাড়ি নয়, মাথা গোঁজার জায়গা। আকন্দ আর কাঁটাঝোপের বেড়া, দু’চারটে গাছগাছালি—লাউ কুমড়ো ঝিঙের এক টুকরো বাগান কুয়া। দুটি মাত্র শোবার ঘর। একটি রান্নাঘর। ঘরের দেওয়ালগুলো হেলে থাকত, তার ওপর ফাটাফুটো। ইঁদুর টিকটিকি আরশোলা আর বিছের আড্ডা। বর্ষায় সব সেঁতিয়ে থাকত। শীতে কনকন করত ঘরগুলো। নন্দদের বাড়িতে তখন সাত আটজন লোক। দুই পিসি, এক কাকা। নন্দরা চারজন—বাবা, মা, দিদি আর নন্দ। কষ্ট করে থাকতে হত, খাওয়াপরাও ছিল কষ্টের। দিনের পর দিন কুমড়ো লাউ শাকপাতা কলাইয়ের ডাল খেতে হত তাদের। এক পিসি মরে গেল টাইফয়েড হয়ে, তখন টাইফয়েড মানেই যমের দরজায় পড়ে থাকা। অন্য পিসির বিয়ে দিলেন বাবা—মায়ের হাতের চারগাছা চুড়ি আর গলার হার খুলে নিয়ে। বিয়ের পর পিসি চলে গেল আগ্রা। সম্পর্ক ঘুচে গেল। বার দুই এসেছিল বাবার আছে নিয়মরক্ষা করতে, আর এল না। কাকা মানুষটা ভাল ছিল। খেয়ালি গোছের। সামান্য লেখাপড়া শিখলো কি চলে গেল ডামিয়ানগর। কারখানার কাজ নিল। বিয়েও করল এক হিন্দুস্থানী মেয়েকে। নিজের মতনই ছিল কাকা। তারপর শোনা গেল কারখানায় গণ্ডগোলের সময় জখম হয়ে মারা গেছে।

    বাবার বুক বলতে হবে। অত কষ্ট, অত আঘাত, মায়ের অপ্রসন্নতা, নন্দরা যা পায় খায়, যা পায় পরে—তবু বাবার মন টলে না। স্কুল আর ছাত্র। লোকে যেমন প্রশংসা করত বাবাকে, নিন্দেও করত। বলত মাস্টারমশাই নিজেরটাই দেখছেন—বাড়ির লোকগুলো যে কুকুর বেড়ালের মতন দিন কাটাচ্ছে সেদিকে চোখ নেই। জ্ঞানে প্রাণ বাঁচে না।

    নন্দকিশোর আবার ঘাড় ঘোরালো। “এই যে ? তুমি কোথায় ?”

    “তোমার কাছেই।”

    “আছ তা হলে। …তা আমার বাবার কথাই যখন তুললে বলি—কতটুকু জান তাঁকে ?”

    “জানি। তুমি যা ভাবছ সবই জানি।”

    “জান ? আচ্ছা বলো তো আমরা কবে নিচুডাঙার বাড়ি ছাড়লাম?”

    “সেবারে প্লেগ দেখা দিল শহরে…”

    “ঠিক। একেবারে ঠিক । তুমি মহারাজ সব জেনে বসে আছ দেখছি।”

    “তুমি তখন এইট ক্লাসে পড়ছ। সবেই সাঁতারে নাম হয়েছে।”

    “আরে মহারাজ, বাবা নিজে আমায় সাঁতার শিখিয়েছিলেন। ছোট্টবেলা থেকে আমাদের নিচুডাঙার বাড়ির কাছে একটা পুকুর ছিল। বড় পুকুর। ঝিলের মত রামদাসের পুকুর। বাবা আমাকে পুকুরে ছুঁড়ে দিতেন। হাঁসফাঁস করে মরতাম। জল খেয়ে পেট ফুলে যেত। চোখে অন্ধকার দেখতাম। মনে হত, মরে যাব।”

    “তোমার মা রাগ করতেন।’

    “খেপে যেত মা। বাবার সঙ্গে ঝগড়া করত। বলত, ছেলেটাকে তুমিই মারবে।”

    “তুমি তো শিখে গেলে। তোমার দিদি…”

    “দিদিও শিখেছিল। …দিদির কথা যখন তুললে তখন বলি—আমার দিদি দেখতে ভাল ছিল। কিন্তু রঙ ছিলো কালো। দিদি বড় হল, কী সুন্দর হল তার ফিগার। মা বিয়ে বিয়ে রব তুলল…”

    “তখন তোমরা হাজারি মহল্লায়।”

    “ঠিক। বাড়িটাও ছিল মোটামুটি মন্দ নয়। বাবা খানিকটা সামলে নিয়েছেন। তখন আমরা দু-চার দিন মাছ খেতে পাই, মাসে একদিন মাংস। আমার আর দিদির জন্যে। বাবা মাছ মাংস খেতেন না। মা মাছ খেত।…ওই সময় দিদির জন্যে ছেলে খুঁজতে খুঁজতে মা পাগল হয়ে গেল। বাবার তেমন গা নেই তবু দিদিকে দেখতে আসে, মিষ্টি-টিষ্টি খেয়ে পালিয়ে যায় ছেলেপক্ষ। বিয়ে আর হয় না।”

    “হল শেষ পর্যন্ত!”

    “হ্যাঁ। আমি যখন স্কুলের শেষ পরীক্ষা দিচ্ছি দিদির বিয়ে হল। ছেলে রেলের হাসপাতালের কমপাউণ্ডার। দেখতে সখী-সখী। বাবা এই বিয়েতে একেবারে রাজি ছিলেন না। মায়ের জেদ। বিয়ে হল। মাসখানেকের মধ্যে দিদি এল। তারপর যে কী হল—”

    “জানি। তোমার দিদি গলায় দড়ি দিয়ে…”

    “উঃ! বলো না, ও কথা বলো না। মনে পড়লে এখনও আমার গা শিউরে ওঠে। সে কী দৃশ্য ! রান্নাঘরে দরজা বন্ধ করে দিয়ে দিদি নিজের গায়ের শাড়ি খুলে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে পড়েছিল। কী বীভৎস দৃশ্য!”

    “তোমার মা তখন থেকে…”

    “পাগলের মতন হয়ে গেল। মায়ের মাথার গোলমালটা তখন থেকেই শুরু। বাবা কিন্তু অটল। দিদির মাথা কোলে নিয়ে বসে থাকতে আমি দেখেছি বাবাকে। অদ্ভুত মানুষ।”

    “তোমার বাবাকে স্কুল থেকে সরানো হল তারও বছর দুই তিন পরে।”

    “হ্যাঁ। বাবার সঙ্গে শচীনলালবাবুর গণ্ডগোল শুরু হল। শচীনলালবাবু স্কুলের প্রেসিডেন্ট। ফাউণ্ডার মতিলালের ছেলে। স্কুলের জন্যে লাখ দেড়েক টাকা দিয়েছিল ঠাকুরসাহেব। বিল্ডিং সারাতে নতুন ঘর তৈরি করতে। সেই টাকা নিয়ে শচীনলাল নিজের কাজ গোছাতে লাগল। বিশ পঁচিশ টাকা যদি স্কুলের কাজে খরচ হয় বাকি আশি টাকায় শচীনলালের কাজ হয়। বাবার সঙ্গে গোলমাল শুরু হল। স্কুল ছেড়ে দিলেন বাবা।”

    “তোমার গলা ভেঙে যাচ্ছে। ঠাণ্ডা লাগছে বোধহয়।”

    নন্দকিশোর কান করল না কথায়। ধীরে ধীরে সাঁতার কেটে এগোচ্ছিল। খানিকটা এগিয়ে আবার ঘুরে যাচ্ছিল, বলল, “তারপর কী হল শোনো। স্কুল ছেড়ে বাবা বাড়িতে বসে ছেলে পড়াতে লাগল। খাওয়া-পরা বন্ধ হল না আমাদের। কত ছেলে যে পড়তে আসত। শচীনলাল ভেবেছিল, বাবাকে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দিলে আমরা না খেয়ে মরব। তার মতলব খাটল না। শেষপর্যন্ত কী করল জান?”

    “তুমি যখন বলছ বলো!”

    “নতুন করে স্কুল কমিটি গড়তে হচ্ছিল সে-বছর। গার্জেনদের অনেকেই বাবাকে কমিটির মধ্যে রাখতে চাইল। বলল, বাবাকে কমিটির মাথা হতে হবে। বাবা প্রথমে রাজি হননি, পরে হলেন। প্রথম দিনের মিটিঙেই হই-হই। দ্বিতীয় দিনের মিটিঙের পর বাবা যখন বাড়ি ফিরছেন, সন্ধের পর তখন শচীনলালের ভাড়া করা ক’টা গুণ্ডা, বাজারের কাছে বাবার পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া বাধাল। বাবাকে ঘিরে ধরে মার-ধর। সেটা তেমন বড় কথা নয়, বড় কথা হল, শালা হারামজাদারা বাবার ধুতি, জামা, মায় যা কিছু আছে গায়ে—খুলে ছিঁড়ে বাবাকে উলঙ্গ করে বাজারের মধ্যে দাঁড় করিয়ে পালিয়ে গেল লোকে দেখল, মতিলাল হাইস্কুলের সেই ডাকসাইটে, সর্বমান্য গিরিজা হেডমাস্টার ন্যাংটা হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। তার কপাল ফেটে রক্ত ঝরছে। চোখ ফুলে গেছে, কালসিটে পড়েছে গলায়।”

    “আমি জানি।”

    “না, তুমি সব জান না। যে-মানুষ মাথা সোজা করে জীবনের এতগুলো বছর কাটিয়ে এল, যে ভাবত পৌরুষ অর্থে ব্যক্তিত্ব, চরিত্র, সোজা পিঠ করে দাঁড়ানো, সেই মানুষকে যখন বাজারে লোকের সামনে ন্যাংটা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়—মাথা নিচু করে লজ্জা সম্ভ্রম খুইয়ে তখন তার কী খোয়া যায়—তুমি জান না। বাবার ব্যক্তিত্ব, গর্ব, পৌরুষ—সেদিন ওরা ভেঙে চুরমার করে দিল। বাবা যে কী গ্লানির বোঝা বয়ে বাড়ি ফিরলেন তা বাবাই জানেন। উঃ ভাবা যায় না।”

    “তারপর উনি…”

    “তিন চার দিন পরে হার্ট অ্যাটাক হল। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে মারা গেলেন। এই লজ্জা, গ্লানি, অপমান বাবা সহ্য করতে পারলেন না।…ওরা আমার বাবাকে মারল।”

    নন্দকিশোর চুপ করে গেল। তার গলার স্বর ভেঙে কর্কশ শোনাচ্ছিল।

    কোনো সাড়াশব্দ নেই। সামান্য সময় যেন কেমন নিশ্চল হয়ে থাকল নন্দকিশোর। তারপর আকাশের দিকে তাকাল। বাবা কিসের যন্ত্রণা নিয়ে মারা গিয়েছে বাবাই জানেন। ছেলে হয়ে নন্দও তা খানিকটা বুঝতে পারে। কোনো মানুষের যন্ত্রণাই—সে যেমনই হোক—নিজেই সে অনুভব করে, অন্যে তা অনুমান করতে পারে মাত্র, অনুভব করতে পারে না।

    নিজেকে যেন সজীব করার জন্যে নন্দকিশোর আবার সাঁতার কাটতে লাগল। এগিয়ে এল খানিকটা। ঘাড় ঘুরিয়ে আশপাশ দেখল। কাউকে দেখতে পেল না। লোকটা গেল কোথায় ? বাবার কথা শোনার পর তার হল কী! পালিয়ে গেল ? মায়া-মমতা হল নন্দকিশোরের ওপর!

    হঠাৎ কী মনে হল নন্দকিশোরের, সে সামনের দিকটা দেখল। নদীর পাড় বেশি দূরে নয়, গজ পঞ্চাশ মতন। পাড়ের মাটির, চর, গাছপালা, পাথর দেখা যাচ্ছে। সবই ঘন ছায়ার মতন কালো। নন্দকিশোর যদি এখন এখানে একটা ডুব দেয়, দিয়ে ডুব সাঁতারে বেশ খানিকটা এগিয়ে যেতে পারে তবে তো মন্দ হয় না। বিশ তিরিশ গজ এগিয়ে একবার মাথা তুলবে। দম নেবে সামান্য। তারপর আবার ডুব। একেবারে ডাঙায় গিয়ে উঠবে। ডাঙা একবার ছুঁতে পারলে হয়ে গেল। মহারাজকে ফিরে যেতে হবে বিফল হয়ে।

    নন্দকিশোর একসময় ভাল ডুব সাঁতার দিত। সে বয়েস নেই, অভ্যাস নেই। তবে দু তিন বারের চেষ্টায় সে নিশ্চয় ডাঙায় গিয়ে উঠতে পারবে।

    লোকটা যখন কাছাকাছি নেই তখন আর অপেক্ষা করা কেন! সাবধানে এবং দ্রুত একবার আশপাশ দেখে নিয়ে নন্দকিশোর জলের মধ্যে মাথা ডুবিয়ে দিল।

    না, বেশিক্ষণ পারা গেল না। মাথা তুলল নন্দকিশোর। জলের ওপর মাথা তুলে নিশ্বাস নিতে লাগল বড় বড়। বুকে হাঁফ ধরে গিয়েছে।

    হঠাৎ কে যেন হাসির গলায় বলল, “তুমি এখনও ডুব সাঁতার দিতে পার ?”

    নন্দকিশোর চমকে গিয়ে তাকাল। সেই মহারাজ। কোথায় ছিল ও ?

    “তোমার তো বুকেরই অসুখ। তাই না? তাহলে ডুব সাঁতার দিতে গেলে কেন!”

    “তুমি আছ এখনও ?”

    “সব সময়েই রয়েছি।”

    “মাঝে মাঝে ভ্যানিশ করে যাও নাকি ? দেখতে পাচ্ছিলাম না।” নন্দকিশোর হঠাৎ নিজেই হেসে ফেলল। বলল, “মহারাজ, সত্যি কথাটা কী জান ? আমি তোমায় ফাঁকি দিয়ে পালাতে চাইছিলাম।”

    “জানি।”

    “এর মধ্যে কোনো অন্যায় নেই। আছে ? তুমি আমায় ধরতে এসেছ, আমি তোমায় ধরা দিতে চাইছি না। হাডুডু খেলার মতন আর কী ! তাই না! তার চেয়েও বড় খেলা। মহারাজ, তুমি তো কবিতা-টবিতা বোঝ না। যদি বুঝতে তা হলে একটা চমৎকার কবিতা শোনাতাম। দুষ্টু দস্যি ছেলেগুলো যেভাবে মাঠেঘাটে ছুটে বেড়িয়ে উড়ন্ত ফড়িংটড়িং ধরে বেড়ায়—মৃত্যু সেইভাবে আমাদের ধরার জন্যে ছুটে বেড়াচ্ছে।…আমার মুখে কবিতার কথা শুনে মজা পাচ্ছ নাকি! না হে, এ আমার বাবার কাছে পড়া।…তা আদত কথাটা কী জানো ? আমি তোমার হাত থেকে পিছলে যাবার চেষ্টা করছি, তুমি আমায় ধরবার চেষ্টা করছ। জীবন আর মৃত্যুর এই খেলাটা আমাকে খেলতেই হবে।”

    “কতক্ষণ পারবে তাই ভাবছি।”

    “এখনও পারছি। আমার মা কতদিন এই খেলা খেলেছিল জান? দিদি গলায় দড়ি দিয়ে মারা যাবার পর, বাবাকে ওইভাবে মেরে ফেলার পরও—দশ বছর। প্রায় এগারো বলতে পার। আমার মা কেমন ছিল তুমি জান না। নাম ছিল সুহাসিনী। গোল, ছোট্ট, হাসিভরা মুখ নিয়ে মা গিরিজা মাস্টারের বউ হয়ে বাবার কাছে এসেছিল। মায়ের মুখে আমি শুনেছি। ষোল-সতেরো বছর বয়সে মা শ্বশুরবাড়িতে পা দেয়। তখন তার হাসি দেখে বাবা নাকি বলত, হাজারবার জলে ধুলেও যেমন কয়লার কালো ঘোচে না, মায়ের মুখের হাসিও মোছার নয়।…বাবা ঠিক বলত না। দু-চার বছর যেতে না যেতেই মুখের হাসি মুছতে মুছতে একেবারে দুঃখীর মুখ হয়ে গেল মায়ের। গরিব স্কুলমাস্টারের বউ, অত বড় সংসার—দুই ননদ, এক দেওর। তাদের সামলাতে সামলাতে আমরা—মায়ের ছেলেমেয়েরা এসে পড়লাম। আমাদের সেই নিচুডাঙার ঘরবাড়ির কথা তো তোমাকে আগেই বলেছি। বাড়িতে মাত্র দুটো তক্তপোশ আর একটা বড় টেবিল ছিল। দুটো টিনের চেয়ার। হেঁড়া মাদুর, ছেঁড়া তোশক, বিছানার চাদরও থাকত না—মাটিতে শুয়ে ইদুর-আরশোলার সঙ্গে আমরা বেড়ে উঠেছিলাম। মা বেচারির কাজের আর শেষ ছিল না। সংসার মায়ের মুখের হাসি মুছে দিল। তারপর এক পিসি মারা গেল টাইফয়েডে। মায়ের মনে বড় লাগল। আরেক পিসির বিয়েতে মায়ের গা হল শূন্য। না হার, না চুড়ি। কানে থাকল একজোড়া ছোট্ট ফুল। লোহা আর শাঁখা পরে থাকত মা।…তা মানুষটা তো আর শরীর-স্বাস্থ্যেও তত মজবুত ছিল না। চেহারা বলতে আর কিছু ছিল না মায়ের । শেষমেশ প্লেগ এল। আমরা নিচুডাঙা ছাড়লাম।”

    নন্দকিশোর আবার সাঁতার শুরু করেছিল। থামছিল। কথা বলছিল। আবার দশ-পনেরো হাত এগুচ্ছিল। ভাবছিল। পুরনো দৃশ্য যেন মনের তলা দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল, গাছের শুকনো পাতা যেমন উড়ে যায় বাতাসে। কোথায় যাচ্ছে কে জানে! কখনো মুঠো মুঠো পাতা দমকা ঝড়ে উড়ে যাবার মতন চলে গেল, কখনো দুটি চারটি পাক খেতে খেতে ধীরে ধীরে উড়ে যাচ্ছিল।

    নতুন পাড়ায় নতুন বাড়িতে এসে মা খানিকটা স্বস্তি ফিরে পেল। তখন কাকা নেই, পিসিও নেই। আমরা মাত্র চারজন, বাবা মা দিদি আর নন্দ। বাবা ততদিনে স্কুলটাকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আর্থিক কষ্টও কমেছে খানিকটা। মায়ের শরীর সামান্য সারল। মুখে মাঝে মাঝে হাসি দেখা দিচ্ছিল। মাথার চুল কিন্তু ওই বয়সেই পাকতে লাগল। কটা মাত্র বছর—তার পরই উৎপাত শুরু হল দিদিকে নিয়ে। দিদির কোনো দোষ ছিল না। কিন্তু যা হয়—কয়েকটা ছেলে অসভ্যতা শুরু করল। রঙ কালো হলেও দিদির গড়ন ছিল দেখার মতন। তার ওপর দিদির খানিকটা ঝাঁঝ ছিল। রাস্তাঘাটে কেউ পেছনে লাগলে ঘুরে দাঁড়িয়ে ঝগড়া করত, বলত—”তোর মুখে জুতো মারব।’ দু-পাঁচটা উড়ো চিঠি এল বাড়িতে। মা আগুন, দিদি বিরক্ত। বিয়ের জন্যে মা উঠেপড়ে লাগল দিদির। বাবাকে অস্থির করে মারছিল। দু-একটি ছেলে জুটলো, কিন্তু বাবার টাকায় কুললো না। টাকাই নেই তো কুলবে! শেষ পর্যন্ত এল রেল হাসপাতালের কম্পাউণ্ডার। রেলের চাকরি, থাকার কোয়াটার্স, পাস পিটিও, বড় হাসপাতালে গেলে মাইনেও বাড়বে। বাবা মনস্থির করার আগেই মা মত দিয়ে দিল। নন্দকিশোর তখন জানত না, পরে জেনেছে—কম্পাউণ্ডারবাবুর এমন একটা খুঁত ছিল যাতে তার বিয়ে করা উচিত হয়নি। মেয়েদের খুঁত জানতে দেরি হয়, পুরুষের হয় না। দিদি আত্মহত্যা করল, তার মানে অভিমানে অধিকারে লাগল বলে। মেয়ে হিসেবে তার রঙের খুঁত নিয়ে যদি লোকে মুখ ফেরাতে পারে, তবে মেয়ে হিসেবে সে তার স্বামীর অকেজো পুরুষ চিহ্নটি নিয়ে কেন মুখ ফেরাতে পারবে না! তারই বা দাম থাকবে না কেন ?…শালা সেই সখী-সখী মানুষটা ছিল নপুংসকের মতন।

    “তুমি বেশ থকে গিয়েছ!”

    নন্দকিশোর ঘাড় ঘোরাল। ক্লান্ত সে হয়েছে। হাত-পা ক্রমশই অসাড় হয়ে আসছিল। ভিজে মাথা-মুখ ঠাণ্ডা, কনকন করছে। চোখ জ্বালা করছিল। বয়েসটাই বোধ হয় তাকে আর এগুতে দেবে না। হায় রে, আজ যদি নন্দকিশোর কোনো রকমে অন্তত কুড়িটা বছর পিছিয়ে যেতে পারত—মহারাজকে দেখিয়ে দিত সে কী পারে আর পারে না।

    নন্দকিশোর বলল, “বাদ দাও। থকে গিয়েছি ঠিকই, ডুবে যাইনি। এখনও আমার মাথা জলের ওপর ভাসছে।…যাক গে, আমি মায়ের কথা বলছিলাম। দিদি ওইভাবে মারা যাবার পর মা যে-ধাক্কা খেল তাতে মাথা ঠিক রাখতে পারল না। তখন থেকেই মায়ের মনে বড় একটা চিড় ধরে গেল। আয়নার কাচে চিড় ধরলে কেমন হয় দেখেছ ? সেই বয়স। ওই চিড় তো আর মেরামত হয় না মহারাজ। মানুষের মন বড় আশ্চর্য, সে অনেক কিছু ভোলে, অনেক কিছু আর তুলতে পারে না।…ওই অবস্থা থাকতে থাকতে কত কী ঘটে যেতে লাগল। বাবা স্কুল ছাড়ল, সে আর-এক আঘাত মায়ের কাছে। তারপর বাবাকে যেভাবে শচীনলালের লোকেরা মারল—তোমাকে তো বললাম—এরপর মায়ের পক্ষে বেঁচে থাকাই মুশকিল হয়ে উঠল। খায় না দায় না, ঘুমোয় না, গলায় শব্দ করে কাঁদে না, পুজোর ঘরে ঢোকে না। গাছ যখন মরতে শুরু করে—তার চেহারা তো দেখেছ! মা সেইভাবে মরছিল। আমি তখন একা। আমার কোনো সহায় নেই, সামর্থ্য নেই। কলেজটুকু শেষ করেছি কোনো রকমে । এমন সময় একদিন মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেল। ঘুম ভেঙে যেতেই কেমন একটা গন্ধ পেলাম নাকে। ন্যাকড়া পোড়া গন্ধ। ছুটে বাইরে এসে দেখি—মা তার ঘরের সমস্ত কিছুতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। নিজেও পুড়তে যাচ্ছিল। কপাল ভাল, মাকে আমি বাঁচাতে পারলাম। খানিকটা অবশ্য পুড়ল। একটা পায়ের খানিকটা, বাঁ হাতের আঙুল, কনুই। হাসপাতালে কদিন থাকতে হল। …মা খানিকটা সুস্থ হলে, আমি বললাম—’বাড়ি চলো এবার।’ জবাব দিচ্ছিল না মা। পরে বলল, ‘তোমার বাবার বাড়ি আমি পুড়িয়ে এসেছি, আমার বাড়িও পুড়েছে। ওখানে আমি যাব না। তুমি আমায় কোন্ বাড়িতে নিয়ে যাবে ?’ মায়ের কথার মধ্যে মস্ত একটা হেঁয়ালি ছিল, অর্থ ছিল। আমি বুঝতে পারলাম। মাকে বললাম, আমি তোমাকে অন্য বাড়িতেই নিয়ে যাব।”

    নন্দকিশোর আবার সাঁতরাতে শুরু করল। ধীরে ধীরে। মাঝখানে একটা পাথর। পাথর পর্যন্ত এগিয়ে দাঁড়াল। “মহারাজ?”

    “পাশেই আছি।”

    “তুমি বুঝতে পারলে মা কী বলেছিল ? পারবে না। আমার বাবা ছিল গরিব স্কুলমাস্টার। আমরা ডাল-ভাত খেয়ে মানুষ। বাড়ি আর কোত্থেকে করব! আসলে, মানুষ যে-বাড়িতে মাথা গোঁজে সেটা হল ইট-কাঠ সিমেন্টের বাড়ি, না হয় গরিবগুর্বোর্ খড়ের চাল-খাপরার বাড়ি। তাই না ? এ ছাড়াও একটা বাড়িতে মানুষ থাকতে চায়। সব মানুষ নয়, কোনো কোনো মানুষ। সেই বাড়ি হল তার মনে-গড়া বাড়ি। সেখানে থাকে ব্যক্তিত্ব, চরিত্র, সততা, আদর্শ, সহিষ্ণুতা—আরও কত কী! বাবার বাড়ি ছিল ওই রকম: লোকপ্রিয়, ক্রোধহীন, কামনা-বর্জিত, লোভহীন। আর আমার মায়ের গড়া বাড়ি ছিল অতৃপ্তির দুঃখের লোকলজ্জার অবিবেচনার অনুশোচনার—এই সবের। আমি এই দুই বাড়ির বাইরে মাকে নিয়ে এসেছিলাম। একদিনে নয়, এক বছরে নয়। ছাব্বিশ-সাতাশ বছর বয়েস থেকে চেষ্টা করতে করতে আমি যা তৈরি করেছিলাম…”

    “জানি । এই শহরে তুমি একজন মোটামুটি সফল লোক।”

    “বলতে পার।”

    “তুমি ঘরবাড়ি জমি জায়গার ব্যবসা ফেঁদে দু হাত ভরে রোজগার করেছ।”

    “আমার দুর্নাম তুমি নিশ্চয় শুনেছ। নন্দকিশোরকে লোকে বলে ধান্ধাকিশোর। বলে, আমি ধান্ধাবাজ, চালাক, ধূর্ত, ফন্দিবাজ, চোর-জোচ্চর, হাড়-হারামজাদা, শয়তান, ক্রিমিন্যাল ।…সব ঠিক। বিলকুল ঠিক। আমি ব্যবসা করতে নেমে নিজের স্বার্থ ছাড়া অন্য কিছু দেখি না, বুঝি না, গ্রাহ্য করি না…”

    “চুয়াকে তুমি…”

    “আবার চুয়া! আশ্চর্য! মহারাজ, তুমি কেন চুয়ার কথা বার বার তুলছ! আমি তো চুয়াকে মারিনি। সে তাদের বাড়ির দোতলার ছাদ থেকে নিচে পড়ে গিয়েছিল। আমি তখন কোথায়? ছ’ মাইল তফাতে বাড়ি কন্সট্রাকশানের কাজ দেখছিলাম।”

    “জানি। কিন্তু চুয়া কেন পড়ল?”

    “আশ্চর্য কথা ! মিনিংলেস! কেন পড়ল ? মানুষ লাইনে কেন কাটা পড়ল, রাম কেন লরি চাপা পড়ল, যদু কেন জলে ডুবে গেল—এ-সব কেনর জবাব আমি কেমন করে দেব! তুমি দিতে পার।”

    “আঃ, তুমি উত্তেজিত হচ্ছ কেন! চুয়াকে তুমি হাত দিয়ে ঠেলে ফেলে দিয়েছ—এ-কথা তো আমি বলিনি।”

    “তা হল কী বলছ! চুয়ার সঙ্গে আমার এমন কিছু হয়নি যাতে ওকে লজ্জা বাঁচাতে মরতে হবে। তাছাড়া তুমি চুয়ার ব্যাপারটাকে আত্মঘাতী হওয়া বলে ধরছ কেন ? ও তো বর্ষার দিন শ্যাওলা-ধরা ছাদের আলসে ভেঙে গিয়ে পড়ে গিয়েছিল।”

    “হ্যাঁ, তাই।…চুয়া কিন্তু তোমাকে ভালবাসত।”

    নন্দকিশোর কথাটা শুনল। জবাব দিল না। পাথর থেকে হাত সরিয়ে নিল। আবার সাঁতরাবার জন্যে তৈরি।

    “ঠিক কি না ?”

    নন্দকিশোর যেন মাথা নাড়ল। বলল, “আমাদের পুরনো ভাব। এক রকম ছেলেবেলা থেকেই। স্কুলের হেড পণ্ডিতমশাইয়ের ছোট মেয়ে ছিল চুয়া। রোগা, ফর্সা। গজদাঁত ছিল চুয়ার। উঁচু কপাল। চোখ দুটো ছিল বড় বড়। ওর গলায় একটা দোষ ছিল। টেনে কথা বলত, মনে হত—যেন একসঙ্গে কথা বলার মতন দম ওর নেই। শ্বাস আটকে আসে। গলার স্বর সরু হলেও ভাঙা ছিল চুয়ার।”

    “তোমার তো পছন্দ ছিল চুয়াকে।”

    “ছিল মানে প্রায় বন্ধুর মতন। বয়েসে আমার ছোট ছিল। চার বছরের।”

    “তুমি তো জানতে ও তোমায় ভালবাসে।”

    “জানতাম।”

    “তা হলে ?…হাতে করে না ঠেললেও তুমি ওকে কি এক রকম আঘাত, অবজ্ঞা দিয়ে…”

    “তুমি বড় অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বল মহারাজ!…তুমি কি জান, চুয়া যখন মারা যায় তখন আমার বয়েস সাতাশ-আটাশ। মাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে এসেছি—কথা দিয়েছি—আমি মাকে এমন বাড়িতে বসাব যেখানে বাবার কোনো ছোঁয়া থাকবে না, মায়েরও নয়। সেই বাড়ি করতে আমার যে কী যাচ্ছিল তুমি কেমন করে জানবে! বাবার যা ছিল সব আমি নষ্ট করছিলাম। আমার কোনো চরিত্র ছিল না। সততা ছিল না। শুধু পরিশ্রম ছিল। স্বার্থ ছিল। কোনো ন্যায়-নীতি ভাল-মন্দ ছিল না। লজ্জা ছিল না আমার। মান-অপমান নয়। যে কোনো ভাবে নিজের কাজ গুছোতে পারলেই আমি খুশি। আমার বাড়ি থেকে…”

    “তোমার মায়ের অতৃপ্তি অশান্তি ঘুচে যাচ্ছিল!”

    “যাচ্ছিল না। অভাব, অনটন, অস্বস্তি ঘুচলেই কি ভেতরের যন্ত্রণা ঘোচে ? তবু মা বাইরে স্বস্তি পেয়ছিল।”

    “তা এর মধ্যে চুয়া কি কোনো বাধা হত ?”

    “কেমন করে বলব ! আসলে তখন আমার চুয়ার দিকে মন দেবার সময় ছিল না। তাছাড়া আমি ভালবাসা-টাসা নিয়ে মাথা ঘামাতাম না।”

    “বিশ্বাস করতে না ?”

    “মহারাজ, তুমি এসব জিনিসের কী বোঝ! যদি বলতে বলো, আমি বলব—ভালবাসা দু রকমের। একটা দু-চার বছরের। সিজিন্যাল ভালবাসা; সময়ে ফুটলো তারপর শুকিয়ে ঝরে গেল। অন্য ভালবাসা বড় দীর্ঘ। বড় দুঃখের। জগতে কোনো বড় ভালবাসার গল্প সুখ দিয়ে শেষ হয়নি। তুমি ভাবছ, চুয়া বুঝি ভালবাসার জন্যে মরে গেল। না, একেবারেই নয়। শ্যাওলায় পা-হড়কে ভাঙা আলসের ফাঁক দিয়ে না যদি ও পড়ত, বেঁচে থাকত—তুমি দেখতে ছ’মাস এক বছরের মধ্যে তার বিয়ে হয়ে গেছে। কার সঙ্গে হত—তাও আমি বলতে পারি। স্কুলের নতুন মাস্টার জগবন্ধুর সঙ্গে।”

    “তুমি বড় নিষ্ঠুর।”

    “এ তুমি কী বলছ! আমি নিশ্চয় নিষ্ঠুর। কিন্তু তোমার চেয়ে বেশি নিষ্ঠুর আর কে আছে! তুমি তো কিছুই গ্রাহ্য কর না। সংসারে তুমি হলে সবচেয়ে নিষ্ঠুর। তুমি সময়, অসময়, বয়েস, অবস্থা, সুখ-দুঃখ কিছুই গ্রাহ্য করো না। ভালবাসার কথা তোমার মুখে মানায় না মহারাজ।…চুয়াকে আমি পছন্দ করতাম—ভালই লাগত। ওর সঙ্গে আমার মেলামেশাও ছিল। কিন্তু চুয়াকে নিয়ে সংসার করব—এমন কথা বলিনি।”

    “ও মারা যাবার পর দু-তিন দিন ঘুমোতে পর্যন্ত পারনি।”

    “যে-অবস্থায় ওকে দেখেছিলাম তাতে ঘুমনো যায় না। বীভৎস !”

    “তুমি তবে ভালবাসায় বিশ্বাস কর না?”

    “না।”

    “তুমি কী কী বিশ্বাস কর ?”

    “কিছুই করি না।”

    “ঈশ্বর নয়?”

    “না। সে কে ? ঈশ্বর-বিশ্বাস আমার নেই।…আমি তাকে কিছু দিই না, নিতেও চাই না। শোনো মহারাজ, আমি মনে করি, আমার এই জীবনে তোমাদের ঈশ্বর আর আমি পরস্পরের অচেনা যাত্রী হয়ে এক রেল-কামরায় বসে আছি।”

    “তোমার স্ত্রী কিন্তু এখন মন্দিরে বসে আছে। তুমি সুস্থ হয়ে উঠেছ বলে সে মন্দিরটাকে ভাল করে গড়ে দিতে চাইছে।”

    “আমার স্ত্রী যা করছে—আমিও করেছি। শোনো ধর্মরাজ, আমি এই শহরে আশপাশে যত কাজ করেছি—সব জায়গায় ঘুষ দিয়েছি। পাঁচ-সাতশো টাকা থেকে পাঁচ-সাত হাজার পর্যন্ত। মানুষের সংসারে ঘুষ চলে। তোমাদের কাছেও কি চলে? অভ্যেসবশে আমরা দিই এই পর্যন্ত।…ধরো, তুমি—তোমায় যদি আমি ঘুষ দিতে চাই—তুমি নেবে? যদি বলি, মহারাজ—আমাকে পঁয়ষট্টি পর্যন্ত টিকিয়ে রাখ—তার বদলে তোমায় না হয় দিচ্ছি কিছু—তুমি নেবে?”

    নন্দকিশোর কোনো জবাব পেল না। অপেক্ষা করল। তাকাল দু পাশে—লোকটাকে দেখতে পেল না। গেল কোথায়?

    হঠাৎ নন্দকিশোরের মনে হল সে এবার এমন একটা জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে—যেখান থেকে জোরে সাঁতার কাটতে পারলে নদীর পাড় ছুঁতে খুবই সামান্য সময় লাগবে। লোকটা বুঝতে পারেনি, নন্দকিশোর নিজেও সচেতনভাবে বোঝেনি যে—ওই ফেউটাকে কথায় কথায় ভুলোতে ভুলোতে সে এমন জায়গায় নিয়ে এসেছে যেখান থেকে নন্দ মাত্র একটা ডুব সাঁতারে পাড় ছুঁতে পারে । লোকটা বোকা। নন্দকিশোর যথেষ্ট চালাক।

    নন্দকিশোর আর দেরি করল না। এত কাছে জীবন, প্রায় তার নাগালের মধ্যে। এই সুযোগ সে ছেড়ে দেবে কেন ? মাছের মতন নিঃশব্দে হাত কয়েক এগিয়ে গিয়েই জলের মধ্যে ডুব দিল।

    মাথা তুলে নন্দকিশোর হাঁপাতে লাগল। তার কাশি এল । নিশ্বাস নিতে পারছে না। চোখ যেন অন্ধ। জল ঝরছে মাথা কপাল নাক চোখ ভিজিয়ে। তবু সে অনুমান করল—মাত্র হাত দশেক দূরে মাটি।

    বুকের শব্দটা যেন কানেও বাজছিল নন্দকিশোরের। আর মাত্র…

    “আমি আছি।”

    সঙ্গে সঙ্গে নন্দকিশোর মাথা ঘোরাল। সেই লোকটা। আশ্চর্য কোথায় ছিল ও এতক্ষণ, কেমন করে পাশে পাশে চলে এল! নন্দকিশোরের আর যেন রাগও হচ্ছিল না।

    “তুমি আমায় আবার ফাঁকি দিয়ে ভোলবার চেষ্টা করছিলে ?”

    নন্দকিশোর হাঁ করে শ্বাস টানতে টানতে মাথা নাড়ল। হাঁ

    “তুমি জান তোমার বুকের অসুখ?”

    “জানি।”

    “কী অসুখ জান ?”

    “না, সঠিক করে ডাক্তার বলতে পারেনি। বলছিল, বুকের মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ একটা কী হয়ে যায়। শব্দ হয় ভীষণ । ঘূর্ণি ওঠার মতন একটা ঘূর্ণি ওঠে যন্ত্রণার। তখন বুকে যে কী হয় ! ব্যথা যন্ত্রণা শ্বাসকষ্ঠ—কী না হয়। মনে হয় একটা কষাই যেন ছুরির মতন অস্ত্র দিয়ে ভেতরে—ভেতরের সমস্ত কিছু কেটে ছিঁড়ে বার করে দিচ্ছে। অসহ্য কষ্ট।”

    “তবু তুমি সাঁতার কাটছ ?”

    “কাটছি। জীবনটা তো এই রকমই । লম্বা সাঁতার…। তুমি হাত-পা আড়ষ্ট করে বসে থাকতে পার না ।”

    “তা ঠিকই। …কিন্তু তুমি কি কোনোদিন নিজের মনে মনেও বোঝনি—এই ব্যথা, এই যন্ত্রণা—যা ঘূর্ণির মতন বুকের মধ্যে পাক খেয়ে ওঠে—সেটা কেন ?”

    “না, বুঝিনি ?”

    “তুমি মিথ্যে কথা বলছ। নন্দকিশোর, তুমি আমাকে ঠকাবার চেষ্টা করছ।”

    নন্দকিশোর নীরব। কোনো কথা বলল না ।

    “তুমি জান, তোমার ওই বুকের মধ্যে তোমার বাবা ছটফট করছেন, তোমার দিদি গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে, তোমার মা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে নিজের ঘরে; আর চুয়া মাথা মুখ থেঁতলে পড়ে আছে।”

    নন্দকিশোর কথা বলল না অনেকক্ষণ। তারপর দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে বলল, “এসব কথা থাক। …তুমি আমাকে আর কতক্ষণ সময় দেবে।”

    “সে তো তোমার ওপর নির্ভর করছে। আমি শর্ত মেনে চলব।”

    “বেশ—তা হলে এসো, দুজনে এখানে একটু সাঁতার কাটি। ধীরে ধীরে। এসো।”

    নন্দকিশোর আবার সাঁতার কাটতে লাগল ধীরে ধীরে। তার পাশে সেই লোকটা।

    আকাশ কী শান্ত। পূর্ণিমার চাঁদ আকাশ বাতাস জুড়ে আলো মাখিয়ে দিয়েছে। নদীর জলে জ্যোৎস্না-কিরণ। স্রোতের শব্দ হচ্ছে। দু পাশের গাছপালা, মাটি, পাড়, চর যেন ঘুমিয়ে পড়েছে।

    নন্দকিশোর আকাশের দিকে তাকাল বার বার। জলের দিকে। মন্দির দেখা যাচ্ছে না। মণিমালা বসে আছে মন্দিরে।

    হঠাৎ কেমন করে যেন একটু হাসল নন্দকিশোর। “মহারাজ, আমার হাসি পেল হঠাৎ !”

    “কেন?”

    “আমরা দুজনে বেশ মজার খেলা খেলছি। মাছের মতন। জলের মধ্যে ঘুরে ঘুরে খেলা। চাঁদ আমাদের দেখছে, আকাশ দেখছে…”

    “আমিও তোমাকে দেখছি।”

    “কেমন দেখছ?”

    “তুমি আর পারছ না।”

    “সত্যি আর পারছি না।…তা আমায় একটা কথা বলবে?”

    “বলো?”

    “পৃথিবীর তিন ভাগ জল আর এক ভাগ স্থল। কিন্তু জগতের হিসেবটা কেমন, মহারাজ? মানে, কতটা পাপ আর কতটুকু পুণ্য?”

    “পাপ অনেক বেশি, পুণ্য কম।”

    “তা হলে পুণ্যের অর্থ কী ?”

    “পুণ্যের আলাদা কোনো অর্থ নেই। পুণ্য শূন্যবিশেষ। তার অর্থ মানুষের নিজের কাছে। সৎকর্মের যোগে পুণ্যের অর্থ হয়।”

    “তুমি যে সেই ধার্মিক বকের মতন কথা বলছ! আমি তো যুধিষ্ঠির নই।”

    “আমি ধর্মরাজ হে!”

    “ঠাট্টা করছ!…আচ্ছা বলো তো, মানুষ এত স্বপ্ন দেখে কেন, কেন এত আশা করে?”

    “স্বপ্ন দেখা তার স্বভাবধর্ম। আশা তাকে বাঁচিয়ে রাখে। আশা, ভালবাসা, প্রত্যাশা। গাছ বাঁচে তার শেকড়ের রসে। জীবন বাঁচে স্বপ্নে আর আশায়।”

    “কিন্তু তুমি ? তুমি তো এসব ভাব না। তুমি বড় নির্দয়।”

    “আমি অস্বীকার করছি না। তবে আমি আছি—এটা তোমরা ভুলে যাও।…আমাকে মনে রাখলে বাঁচা যায় না, আমাকে ভুলে গিয়ে কি বাঁচা যায়!”

    নন্দকিশোর যেন কী একটা বলতে গেল। পারল না। গলা বন্ধ হয়ে এল। কষ্ট হচ্ছিল ভীষণ। জোরে জোরে মাথা নাড়ল। চেষ্টা করল গলা পরিষ্কারের। তারপর ঘরঘড়ে গলায়, অস্পষ্টভাবে যে বলল, “এই নদী, এই জল, আজকের এই সাঁতার…”

    অর্জুন আর শিরীষ গাছের মাথায় চাঁদ। একজোড়া কলকে ফুলের ঝোপ বাতাসে কাঁপছে। নদীর পাড়ে পাথরের পাশে নন্দকিশোর শুয়েছিল। পাশে বেতের টুকরি, ফ্লাস্ক, তোয়ালে।

    ড্রাইভার নাগেশ্বর এসেছিল সাহেবকে ডাকতে। মণিমালারাও আসছে মন্দির থেকে। মণিমালা আর কমলা।

    নাগেশ্বর এসে দেখল, সাহেব আকাশের দিকে মুখ করে শুয়ে আছেন।

    ডাকবে কি ডাকবে না করে ডাকল সাহেবকে।

    সাহেব ঘুমোচ্ছেন।

    মণিমালারাও এসে পড়ল। মুখে হাসি। লাটুবাবুকে রাজি করিয়েছে মণিমালা। কমলার হাতে পুজোর প্রসাদী ফুল, মিষ্টি।

    মণিমালা কাছে আসতেই নাগেশ্বর বলল, “সাহেব নিদ গিয়েছেন মা। ডাকছি—উঠছেন না।”

    মণিমালা স্বামীর পাশে ঝুঁকে পড়ে ডাকল, “এই যে শুনছো ! ওঠো! পাথরে শুয়ে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লে ! নাও, ওঠো।”

    নন্দকিশোর সাড়া দিল না।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখোয়াই – বিমল করভ
    Next Article খড় কুটো – বিমল কর

    Related Articles

    বিমল কর

    কাপালিকরা এখনও আছে – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    রাজবাড়ির ছোরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    ঘোড়া সাহেবের কুঠি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    সেই অদৃশ্য লোকটি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    শুদ্ধানন্দ প্রেতসিদ্ধ ও কিকিরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    কিকিরা সমগ্র ১ – বিমল কর

    October 30, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }