Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চাশটি গল্প – বিমল কর

    বিমল কর এক পাতা গল্প1346 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দুই বোন

    নিরুপমা আর অনুপমা। ছোট ক’রে নিরু আর অনু। দুই বোন। বড় নিরু, ছোট অনু। বড়য়-ছোটয় তফাতটা বাইশ মাসের। তবু দুয়ের পিঠে দুয়ের মতই পিঠোপিঠি দুই বোনকে যোল আর আঠারোয় এসে তফাত করা যায় না। আর এই দুয়ে মিলে যে একুন, তার ভারে মাধববাবুর ঘাড় সর্বক্ষণ টন্‌টন্ করা উচিত।

    মেয়েদের মা শৈল। আইবুড়ো ধুমসো দুই মেয়ে পাথর হয়ে বুকে বসে আছে মার। বয়স বেশি হলে যে কাজে আসত, নিরু-অনুর সেই ভাই ফটিক মাত্র ন’ বছরের। শৈলের কাছে এটা একটা প্রকাণ্ড পরিহাস। ফটিক যদি আঠারোয় পড়ত এই ভাদ্রতে, উনি বলে-কয়ে হাতে-পায়ে ধরে ঢুকিয়ে দিতে পারতেন মাল-খালাসের অফিসে। তাতে, কম করেও হোক, রেশন আর মাসকাবারি কয়লা, ঘুঁটের খরচটাও তো উঠে আসত। কিন্তু এমনই ভাগ্য শৈলর, ফটিকটাই পেটে এল শেষে।

    বেশি গজ্‌গজ্‌ করলে মাধববাবুও বিগড়ে যান। বলেন, আমি কি করব? পাত্র তো আর আমাদের ম্যাক্‌কেনা সাহেবের মুখের বাক্যিতে গজিয়ে উঠবে না! তা যদি উঠত, কবেই তোমার জামাই ধরে এনে দিতাম। হ্যাঁ, চাকরিবাকরির কথা হত, বুঝতাম। হত ফট্‌কেটা বড়-সড় দেখতে, ছোঁড়াটাকে ম্যাট্রিকটাও পাস করতে হত না; বেটাকে জুতে দিতাম কবে!

    নিরু-অনুর বিয়ে নিয়ে যে তাদের বাপমার দুর্ভাবনার অন্ত নেই, পয়সাও নেই ছেলে কেনার— দুই বোনই তা স্পষ্টাস্পষ্টি বোঝে, জানে। এ নিয়ে হয়তো বেফাঁস একটা কথাও বলে বসে নিরু, অনুর তুমি বিয়ে দাও, মা— দেখতেও ও ভাল। আমার বাবা বিয়ে-ফিয়ের দরকার নেই।

    অনু বলে, বয়ে গেছে আমার বিয়ে করতে। তুই না আমার দিদি! তোর আগে বিয়ে হোক্! আমার জন্যে তোর কপাল-ব্যথা রাখ।

    দুই বোনের তর্কাতর্কি আরও একটু চড়ায় উঠলে শৈল ধমক দেয়, থাম তো তোরা! আর ক্যাচ্‌ম্যাচ্‌ করিস না বাপু। ঝালাপালা হয়ে গেল কান। কে দিচ্ছে তোদের বিয়ে? কার গরজ পড়েছে?

    ইঙ্গিতটা মাধববাবুকে। কারণ, মাধববাবু তখনই বাজারের থলি হাতে বাড়ি ঢুকলেন এবং রান্নাঘরের সামনেই দাঁড়িয়ে। শৈল বলছে তখনও, সকালে একবার বাজারটা ঘুরে এলেন, এর পর অফিস, অফিস থেকে ফিরে তাসের আড্ডা, রাত্রে ঘুম।

    —ভাদ্র মাসে বিয়ের বায়না কে ধরল?

    মাধববাবু বাজারের থলিটা হাত বাড়িয়ে এগিয়ে দিতেই অনু গিয়ে ধরে ফেলল। নিরু ঢুকল ভাঁড়ার-ঘরে আনাজের ঝুড়ি আর বঁটি বের করতে।

    ডাল সাঁতলাতে সাঁতলাতে শৈল চোখ-মুখ কুঁচকে তুলেছিল এমনিতেই, ফোড়নের ছিটেতে ফুঁসে উঠল, কে আবার! আমি—আমি!

    —তুমি? মাধববাবুর এমনিতেই রসিক মেজাজ। ফোড়নের ঝাঁজে কাশতে কাশতেও রস-নেংড়ানো মন্তব্য করলেন, গেরস্তর অকল্যাণ করে ভাদ্র মাসেই তোমার পাত্র খুঁজতে পারব না আমি।

    শৈল শব্দ ক’রে ডালের কড়াইটা নামিয়েছে— তার আগেই মাধববাবু সরে গেলেন। ফলাফলটা তাঁর তো অজানা নয়।

    —ঢং। শৈল পলাতক স্বামীর দিকে তাকিয়ে ক্রুদ্ধ দৃষ্টি হানল।

    ঘরে ঢুকতে ঢুকতে মাধববাবু হাঁকলেন, নিরু, একটু চা দে। চান্‌টান করা যাক।

    নিরুকে বলতে হয় না। চায়ের কেটলিটা উনুনে বসিয়েছে আগেই। সকালের চা আবার সেদ্ধ হচ্ছে। এমনিই হয় এই বাড়িতে।

    চায়ের ভাঙা কাপ হাতে শৈলই গেল। রান্নাঘরের একপাশে আনাজ কুটতে কুটতে, একই কাচের গ্লাসে চুমুক-ভাগ ক’রে চা খেতে খেতে দুই বোনে গা টেপাটেপি করে, হাসে, ফিসফাস করে।

    —মা এতক্ষণে বাবাকে—

    অনু বাক্যটা শেষ না ক’রে উহ্য রাখে।

    —বাবার কোনো কাণ্ডাকাণ্ড জ্ঞান নেই। নিরু কড়াইটা উনুনে বসিয়ে দেয়, আর তুইও মার সামনে অমন বিয়ে-বিয়ে করিস না তো। বড় বদ অভ্যেস তোর। হাজার হোক, মা গুরুজন।

    —গুরুজন তো তুইও। পাল্টা জবাব অনুর, বিলুদার গল্পও তা হলে আমার কাছে তুই করবি না।

    নিরুর মুখে আঁচ লাগে হঠাৎ।

    —আহা, নিজে যেন ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানে না। অশোক ছোঁড়াটার অত কি রোজ বই দিয়ে যাওয়া রে? লাইব্রেরিটা যেন ওঁর। নিরু এবার উল্টো চাপ দেয়।

    —চুপ্‌ মা আসছে।

    দুই বোনই চুপ করে যায়। দুজনেই একটু হেসে হঠাৎ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। শৈল রান্নাঘরে এসে দাঁড়ায়। বড় মেয়েকে সরিয়ে নিজেই খুন্তি ধরে। মুখের কোথাও আর ঝাঁজ নেই মার। দু বোনেই আড়চোখে সেটা দেখে এবং চোখাচোখি করে হাসে। অনুমান করে নিয়েছে দুজনেই অদৃশ্য দৃশ্যটা।

    এমনি অদ্ভুত তাদের সংসার। সব রকম দুঃখ-কষ্ট, মালিন্য আছে। তবু সব থাকার ওপর আছে তাদের বাবা-মা। বড় নরম, বড় ভাল— আর অনেক ভালবাসা যাদের ছেলেমেয়েদের জন্যে।

    দুপুরে শৈল কখন একটু ঘুমিয়ে পড়ে। ফটিক স্কুলে। চোখে চোখে বাক্য বিনিময়। হয় দুই বোনে। নিরু ওঠে। আস্তে আস্তে একটা দেওয়াল খোপের আড়াল থেকে এক টুকরো পেন্সিল তুলে নেয়— হাতড়ে হাতড়ে এক ফালি কাগজও। তারপর পা টিপে টিপে বাইরে চলে যায়। মার পাশে শুয়ে শুয়ে অনু এক চোখ বইয়ের পাতায় আর এক চোখ মার দিকে রেখে কি ভাবে যেন। আচ্ছা অশোকদা তাকে যে বই এনে দেয়, তাতে ওই এক ভালবাসাবাসির গল্প কেন? পড়তে পড়তে সারা গা কেমন করে ওঠে, মনটাও ফাঁকা ফাঁকা লাগে। দু-একদিন স্বপ্নও দেখেছে-অনু।

    শৈল পাশ ফিরলেই ধড়াস করে ওঠে অনুর বুক। দিদিটাও যেন কি? লেখা আর হয় না ওঁর! ঠিক একদিন হাতে-নাতে ধরা পড়বে। দেওয়ালে টিকটিকিটাও ঠিক এ সময়ে টিক্ টিক্ করে ওঠে। ইস্!

    শেষ পর্যন্ত ধৈর্য রাখা মুশকিল হয়ে পড়ে অনুর। উঠে পড়ে সেও।

    —কি রে, হাঁ ক’রে কাক দেখছিস যে! হল তোর?

    নিরু চমকে ওঠে। অনু দেখে, নিরুর হাতের কাগজ পেন্সিল উধাও।

    নিরুর বুকের দিকে তাকিয়ে অনু ফিসফিস করে বলে, দিয়েছিস?

    মাথা নাড়ে নিরু। হ্যাঁ, দিয়েছে।

    —ও দিয়েছে? অনু জানতে চায়।

    —হ্যাঁ।

    —কই, দেখি!

    —যা। নিরু লজ্জা পায়।

    —দিবি না দেখতে? আচ্ছা। অনু শাসায়; একটু অভিমানও আছে তার সঙ্গে।

    —তুই যেন কি। নিরু বুকের মধ্যে থেকে ভাঁজ-করা এক টুকরো কাগজ বের করে দেয় অনুর হাতে, এখানে দাঁড়িয়ে পড়িস না। কলঘরে যা। মা এসে পড়বে।

    কলঘর থেকে ফিরে এসে চিঠির টুকরোটা নিরুর হাতে গুঁজে দেয় অনু।

    —ধোপায় কাপড় দিয়ে গেছে কাল। আমার সেই খয়েরি শাড়িটা তুই পরিস দিদি- বিকেলে গা ধুয়ে। আমি তোর চুল বেঁধে দেব’খন।

    —কি হবে শাড়ি পরে, চুল বেঁধে?

    —আহা, শাড়িটা তোকে ভাল মানায় কিনা, তাই আদিখ্যেতা হচ্ছে। বেশ তো মার কাছেই চুল বাঁধিস, ঝুঁটি টেনে বেঁধে দেবে!

    —শাড়ি পরে চুল বেঁধে বসে থাকব, আমায় কি দেখতে আসছে? নিরু আনমনা।

    —আসতেও তো পারে তোর বিলুদা! ফিক্‌ ক’রে হেসে ফেলে অনু, একট ভাল ক’রে সেজে-গুজে থাকলিই বা! আজ তো বিকেলবেলায় ও আসবে লিখেছে মার কাছে। সেই ফাঁকে না হয়—

    —বয়েই গেছে আমায় দেখতে! ও আসবে ওর কাজে আমার কি তাতে?

    —বলা কি যায়? অনু একটা চিমটি কেটে দেয় নিরুর গায়ে। ঘুম ভেঙেছে মার।

    বই দিতে এসে অশোক সদর থেকেই চলে যায়। নিরু এই সময়টুকু মাকে আটকে রাখে বাবার ঘরে নানা ফন্দি-ফিকির করে।

    অশোক চলে গেলে নিরু ফাঁক পেয়ে অনুকে বলে, ওই কট্‌কী ছোঁড়াটা অত ঘটা করে সেজে এসেছিল কেন রে, অনু?

    —কট্‌কী ছোঁড়া মানে?

    —তা ছাড়া কি? কট্‌কী শুঁড়-তোলা চটি পায়ে, ফিন্‌ফিনে পাঞ্জাবি।

    —আছে, তাই পরে।

    —ও! আর, আছে বলেই বুঝি তোকে একা-একা মুঠোয় গুঁজে—

    —দিদি! অনু ভয় পেয়ে এদিক-ওদিক তাকায়।

    —দে তবে। নিরুও এবার শাসায়।

    —শকুনির চোখ তোর। অনু নিরুকে একটু আড়ালে টেনে আনে; বুকের মধ্যে থেকে টফি বের ক’রে ওর হাতে দেয়।

    —কি করে জানলি তুই? অনু শুধোয়, আমি কিন্তু তোকে না দিয়ে খেতাম না!

    পরমানন্দে টফিটাকে জিবের ডগা দিয়ে ঠেলতে ঠেলতে নিরু হাসে, তা কি আর জানি না!

    দুই বোনেই জানে দুজনকে, দুজনেরই নাড়ি-নক্ষত্র। ওদের খাওয়া, বসা, শোওয়া একসাথে। এর ছায়ায় ওর ছায়া। এর শাড়ি ওর গায়ে, ওর ব্লাউজ এর। নিরুর চুলের কাঁটা অনুর মাথায়, অনুর ফিতে নিরুর খোঁপায়। কালেভদ্রে কোথাও বেড়াতে যেতে হলে দুই বোনে ঘোঁট পাকায় বসে বসে। নিরুর একটা ঢাকাই শাড়ি আছে, গোলাপি রঙের। অনুকে সেটা পরলে মন্দ মানায় না। নিরু সেটা অনুকে পরতে দেয়। আর অনুর কাছে আকাশি রঙের সিল্কের এক শাড়ি, হাতে-বোনা লেসের কাজ-করা ব্লাউজ। অনু দেয় সেটা নিরুকে পরতে। দু জোড়া জুতো আছে দুই বোনের। তাও অদল-বদল হয়। অদল-বদল হয় তাদের যৎসামান্য গায়ের গহনাগুলোও! কানপাশা অনুর কানে মানায়, রিং মানায় নিরুর— অতএব বদলাবদলি করে নেয় দুজনেই।

    ষোলয় আর আঠারোয় যে কোনও তফাত থাকতে পারে না, অন্তত নিরু-অনুর মধ্যে নেই, তা ওরা নিজেরাই ভাল করে জানে। কারুর কাছে অন্যের গোপন কিছু, লুকানো থাকে না। যেন থাকতে নেই। সেটা দোষের। কথা যাই হোক, অনুকে না বললে, তার পরামর্শ না নিলে নিরুর শান্তি নেই। অনুরও তাই। অশোক অনুর কাছে কি একটা খেতে চেয়েছিল, অনু বোকার মত সেটাও নিরুকে বলে দিলে।

    শুনে নিরুর বুক ধুক্‌পুক্‌ করে উঠল। বড় বড় চোখ করে নিরু বললে, খেয়েছে?

    —না। অনু দিদির দিকে তাকিয়ে বললে, অমন করছিস কেন?

    —ছি, ছি,! নিরু লজ্জায় অসাড়, খবরদার, অনু! ওসব খেতে দিস না। অনু মাথা নাড়ল। না, না।

    সেদিন বিকেলেও শরতের আশ্চর্য একটা সোনালী রোদ ছিল আকাশে। বাতাসটাও মিহি। ঝাঁক বেঁধে চড়ুই নেমেছিল উঠনে।

    মাধববাবু বাড়ি ঢুকেই হাঁক দিলেন, কই গো, শুনছ?

    শৈল এল। মাধববাবু হাসি-খুশি হয়ে বললেন, এবার নাও, সানাই বায়না দাও!

    সানাই বায়না দেবার কথা জড়িয়ে আরও যত কথা ছিল, দুই বোনই তা শুনে। ফেললে। বাবার অফিসের বড়বাবু চাটুজ্যেমশাই তাঁর ছোট শালার বিয়ে দিচ্ছেন। শালাকে নিয়ে চাটুজ্যেমশাই নিজেই আসবেন কাল মেয়ে দেখতে। দেনা-পাওনার কথাটা আগেই হয়ে গেছে। চাটুজ্যেমশাই বলেছেন, টাকাপত্রে আটকাবে না; মেয়ে পছন্দ হলেই আমি তাকে ঘরে নিয়ে আসব। তোমার তো দুই মেয়ে আছে, মাধব! দুজনকেই দেখিয়ে দিও। যাকে পছন্দ হয়!

    শুনে পর্যন্ত শৈল মেয়েদের কাছে আপন মনে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে কথাটা অনেকবার বললে, এখন আমার কপাল! ছেলে নিজেই আসছে, চোখে ধরলে বাঁচি!

    সব কথা শোনার পর নিরুর মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। অনুর দিকে কয়েকবারই আড়চোখে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছে নিরু।

    শৈল বলেছিল, সাজগোজটা তোরা দুই বোনে মিলে সেরে নিস বাপু! আমার মাথাটা ছিঁড়ে যাচ্ছে! একটু শুয়ে নি। দেখিস, বিকেল গড়িয়ে বসে থাকিস না যেন!

    শৈল ঘুমুতে গেল তার নিজের ঘরে। শেষ দুপুরটুকু যেন ঘড়ির কাঁটায় টাইফয়েড-জ্বরের মত জুড়ে বসে থাকল। যায়-যায় করেও যায় না।

    অনেক কালের রং ওঠা, বেঢপ আলমারিটা খুলে বসে আছে দু’ বোন। শাড়ি-ব্লাউজ ছড়ানো।

    —আর দেরি করলে কিন্তু মা উঠে বকাবকি করবে, দিদি! নে, চুলটা আগে বেঁধে নে, বাপু!

    ফিতে-কাঁটা সাজিয়ে চুল বাঁধতে বসল নিরু আর অনু।

    নিরুর চুল বাঁধা শেষ হল।

    —তুই বড় ঝুলিয়ে দিস খোঁপাটাকে, অনু! ঘাড়ের কাছে বিচ্ছিরি লাগে। নিরু ঠোঁট কুঁচকে বললে ডান হাত খোঁপায় দিয়ে।

    —আহা, ঝুলিয়ে দি? দেখ না একবার ঘাড় বেঁকিয়ে আয়নায়? দেখল বটে নিরু আয়নায়, তবে বিশেষ খুশি হল না।

    এবার অনুর চুল বাঁধছে নিরু।

    —কত তেল দিয়েছিস চুলে রে— চট্‌চট্‌ করছে হাত! নিরু গা-বিড়োনা ভাব করল।

    —কোথায় আর তেল দিলাম! তেলই ফুরিয়েছিল শিশিতে। বললে অনু।

    চুল বাঁধা শেষ হলে অনুও বিরক্তি প্রকাশ করে, এটা কি করলি? ঝুটিবাঁধা উড়ে নাকি আমি?

    —বাজে বকিস না, অনু! অত কষ্ট ক’রে বেঁধে দিলাম, পছন্দ হয় না মেয়ের।

    —ভাল ক’রে না, ছাই। অনু নিজে নিজেই খোঁপাটা একটু এদিক-ওদিক করে মানিয়ে নিলে মনোমত।

    —অতর দরকার নেই বাপু! তোকেই পছন্দ করবে? নিরু ছোট বোনের দিকে তাকিয়ে ঠাট্টা করবার চেষ্টা করলে; ঠোঁটের কোণে কোঁচকানো হাসি জমল।

    —বয়েই গেছে! অনু দিদির দিকে না চেয়েই বললে, দরকার নেই আমায় পছন্দ করে। তোকে করলেই বাঁচি।

    —কাল মেয়েকে কি পছন্দ হয়?

    —কেন হয় না! কত লোকই তো করছে! তুই তো কত কাজ জানিস, গান পর্যন্ত। অনুর গলায় যেন বেশ একটু ক্ষোভ।

    দু-পাঁচ মিনিট চুপচাপ। অনু বললে হঠাৎ, স্নো-পাউডার মাখবি না? চল, মুখটা সাবান দিয়ে ধুয়ে আসি।

    নাক কোঁচকালো নিরু। বললে, ওসব ছাইভস্ম মাখতে পারব না! যা আছি, তাই আছি।

    একটু পরে নিরু বললে, অনু, একটা কাজ করবি, ভাই?

    —কি?

    —বড্ড মাথা ধরেছে। যা না, একটু চা করে নিয়ে আয় চুপি চুপি। উনুনে মা আঁচ রেখেছে আজ।

    অনু কি একটু ভেবে চা করতে চলে গেল। ওই ফাঁকে মুখটাও একবার সাবান দিয়ে ধুয়ে আসবে ও।

    অনু চলে গেলে নিরু দরজাটা বন্ধ করে দিলে। সাবান দিয়ে মুখ ধোওয়ার পাট ও আগেই সেরে এসেছে। ছেলে নিজেই আসছে দেখতে। পছন্দ হলেই বিয়ে করে ফেলবে। এই কাল মুখ নিয়ে নিরু দাঁড়ায় কি করে ছেলের সামনে! পাশেই তো থাকবে অনু, রংটা ফর্সাই তার!

    মেয়ে-দেখানোর প্রথম দফায় শৈলই কয়েক শিশি হোয়াইটেক্স আনিয়েছিল। পর পর মাখিয়েছে মেয়েদের— কনে দেখবার সময়। তাতেও যখন মেয়ে পছন্দ হল না, শৈল ও পাট তুলে দিলে। তারই একটা শিশিতে এখনও খানিকটা রং আছে গোলা। নিরুই রেখে দিয়েছে লুকিয়ে। কেন যে কে জানে! অনুর পাশে নিরুকে দাঁড়াতে হবে, আর পাত্র আসছে নিজেই, পছন্দ করবে তার চোখে—এতগুলো কথা ভাবলে নিরু অসাড় হয়ে আসে। কেমন করে দাঁড়াবে নিরু অনুর পাশে কাল কুট্‌কুটে মুখ নিয়ে! রঙের জন্যই হয়তো নিরুর দিকে চোখ তুলে তাকাবে না একবার ছেলে!

    হোয়াইটেক্স থেকে সবটুকু রং হাতের চেটোয় ঢেলে তাড়াতাড়ি মেখে নেয় নিরু। পাছে অনু এসে পড়ে, পাছে দেখে ফেলে।

    খালি শিশিটা লুকতে-না-লুকতে অনু এসে পড়ল চা নিয়ে। ঘরে ঢুকে দিদির দিকে তাকিয়ে অনু অবাক। অমন ধব্‌ধব্‌ করছে কেন দিদির মুখ? পরীক্ষকের চোখ নিয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে অনু বলে, এই না বললি, স্নো-পাউডার মাখব না? এদিকে তো ধব্‌ধবে দেখছি তোর মুখ!

    চায়ের গেলাসটা অনুর হাত থেকে নিয়ে নিরু একটা নিরুপায় ভঙ্গি করে বললে, বলিস না। যত রাজ্যের সং সাজা। ভাবলুম, কি জানি, মা আবার উঠে বকাবকি না। করে।

    অনু আর কোন কথা বলল না।

    একটু পরে নিরু বললে, আমার এই ভোলা কানের ঝুম্‌কো দুটো তুই পর।

    —না। মাথা নাড়লে অনু, কানে আমার ভীষণ ব্যথা হয়েছে কাল থেকে।

    —বলিস নি তো আগে। নিরু খোঁচা দিল।

    অনু খোঁচাটা হজম করে নিল চুপ ক’রেই। সত্যিই তো আর তার কানে ব্যথা হয়নি। আসলে, ঝুম্‌কো দুটোই পুরনো আর ম্যাড়মেড়ে। অনুর কানে একদম মানায় না। নিরুরও নয়। কানপাশাটা অনুকে ভালই মানায়, আর ঝুম্‌কো দিয়ে নিরু কানপাশাটা বাগাতে চায়। কেন দেবে ও? ছেলে কি একলা ওকেই দেখতে আসছে?

    দিদিকে আজ অনুর বিশ্বাস হচ্ছে না। দিদির সেই ঢাকাই শাড়িটা আজ কি আর দিদি পরতে দেবে তাকে? কখনই নয়। অথচ ওই শাড়িটায় অনুকে সত্যিই খুব সুন্দর দেখায়।

    স্নো-পাউডার মাখা শেষ করে অনু একটু বসল। আর তো দেরি করা যায় না। মা এখুনি উঠল বলে। বিকেলও হয়ে গেছে।

    —ওই যাঃ। সর্বনাশ হয়েছে রে! অনু চোখ কপালে তুললে। নিরু বিস্ময়-ভরা চোখে তাকাল অনুর দিকে।

    —দিদি, লক্ষ্মীটি ভাই— একটা কাজ কর না। উনুনে কয়লা দিয়ে আসতে একদম ভুলে গেছি! আগুন পড়ে গেলে মা আর আস্ত রাখবে না। একটু কয়লা দিয়ে উনুনটা ঠিক করে আয়, লক্ষ্মীটি। আমি ততক্ষণে ঘরটা গুছিয়ে নি।

    নিরুরও যেন কি একটা দরকার ছিল। চায়ের গেলাস তুলে নিয়ে নিরু চলে গেল।

    খানিক পরে ফিরে এসে দেখে, দরজা বন্ধ ভেতর থেকে। অনু কি ঘর ঝাঁট দিচ্ছে? নিরু ধাক্কা দিল, দরজা খোল, অনু।

    —খুলি। উত্তর এল অনুর।

    একটু পরে দরজা খুলল অনু। নিরু ঘরে পা দিয়েই দপ্ করে জ্বলে উঠল। অনু সেই ঢাকাই শাড়িটা দিব্যি পরে নিয়েছে; এমন কি, শাড়ির সঙ্গে মিশখাওয়া ব্লাউজটা পর্যন্ত। সেজে-গুজে ফিট্‌ফাট বিবি।

    নিরু হঠাৎ হিংস্র হয়ে উঠে ছোট বোনের শাড়ির আঁচলটা খপ করে ধরে ফেলে।

    —নিজের শাড়ি নেই তোর? আমার শাড়ি কেন পরেছিস? খোল, খোল শিগ্‌গির। নিরু টানাটানি করতে থাকে বেপরোয়া হয়ে।

    —ছিঁড়ে যাবে, দিদি। টানিস না।

    —যাক ছিঁড়ে। খোল তুই আমার শাড়ি।

    অনুও ক্ষেপে যায়। শাড়ি সে দেবে না; কিছুতেই না। ক্ষিপ্ত স্বরে অনু বলে আমার-আমার করছিস কি। তোর বিলুদা তোকে কিনে দিয়েছে গাঁটের পয়সায়? আমার বাবা কিনে দিয়েছে। বেশ করব, আমি পরব। পেত্নীর আবার কত সাজার সাধ।

    দুই বোনের টানাটানি, খেমচা-খেমচি, ফোঁস-ফোঁস, আর চিৎকারে শৈল এসে দাঁড়ায়। কাণ্ড দেখে তার চক্ষুস্থির। জীবনে শৈল এই প্রথম দেখল, পিঠোপিঠি দই বোনে প্রলয়ঙ্কর কাণ্ড বাধিয়েছে। কি হয়েছে, শৈল আর তা জানতে চাইল না। অনেক কথাই তার কানে গেছে। শুধু বললৈ, যে যার নিজের জিনিস পর। অনু, তুমি নিরুর শাড়ি খুলে দাও!

    অনু শাড়ি-ব্লাউজ দুই-ই খুলে দিলে। আর মনে মনে এই প্রথম বুঝল, দিদি তার শয়তানী। আচ্ছা, সেও দেখে নেবে। এক মাঘে শীত যায় না।

    নিরুও তাই ভাবলে, অনুটা সাংঘাতিক মেয়ে। এমনিতে মার কাছে কত লম্বা-চওড়া কথা। মা, দিদির বিয়ে আগে দাও! এ দিকে তো, বাপু ঠিক সময়ে উর্বশী সেজে বসে আছে।

    চাটুজ্যেমশাইয়ের শালার মেয়ে পছন্দ হয়নি। কথাটা রাস্তায় বেরিয়েই চাটুজ্যেমশাই সোজাসুজি বলে দিলেন।

    বাড়ি ফিরে এসে মাধববাবুও সোজাসুজি কথাটা স্ত্রীকে জানিয়ে দিলে।

    শৈল সব শুনল। এই তো প্রথম নয়। কতবারই তো শুনেছে শৈল। শুনে শুনে সয়ে গেছে সব। মুখ গম্ভীর করে মেয়েদের শুধু একবার দেখে নিলে শৈল। বড় করুণা হল আজ মার মেয়েদের জন্যে। বললে, পছন্দ হয়নি তো হয়নি— কি হয়েছে তাতে?

    দুই বোনে কথা বন্ধ ছিল এতক্ষণ। রাত্রে ওদের ঘরে বিছানায় পাশাপাশি শুয়ে দুজনে দুদিকে মুখ করে ছিল। দুপুর আর বিকেলের ঘটনাটাই ভাবছে দুজনে। ছি, ছি! কি কাণ্ডটা করল ওরা! কেন এমন করল।

    এমন সময় কানে এল মার গলা। মা বলছেন বাবাকে পাশের ঘরে শুতে এসে, এর পর যখন সম্বন্ধ আনবে, তোমায় বলে দিলুম— দু মেয়ে একসঙ্গে আমি দেখাব না। কখ্‌খনো না।

    —অনু! নিরু ফিসফিস করে ডাকল।

    কোনো সাড়া নেই। অনু কি ঘুমিয়ে পড়ল?

    —অনু! নিরু পাশ ফিরে অনুর গায়ে হাত রাখে, রাগ করেছিস আমার ওপর, না?

    —না। অনু বললে, রাগ করিনি। মনটা বড় খারাপ লাগছে।

    নিরুরও মন খারাপ লাগছিল।

    একটু পরে নিরু দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললে, আমার ঢাকাই শাড়িটা আমি তোকে দিলাম। বরাবরের জন্যে। তুই পরিস।

    —আর তুই? অনু জানতে চায়।

    —যা হয় পরব’খন।

    —আমার কমলালেবুটা তুই নে। বরাবরের জন্যই নে, দিদি।

    দুই বোন পাশাপাশি গলা-জড়াজড়ি করে আবার শুয়ে পড়ল। ঘুমিয়ে পড়ল বোধ হয়। কিংবা হয়তো ভাবছিল, বিলু-অশোককে নিয়ে তো এমন রেষারেষি কই হয় না! হয়তো এও ভাবতে পারে, ষোলয়-আঠারোয় এসে যে তফাতটুকু হয়ে গেল আজ দুই বোনে, আর কি তা ঘুচে যাবে!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখোয়াই – বিমল করভ
    Next Article খড় কুটো – বিমল কর

    Related Articles

    বিমল কর

    কাপালিকরা এখনও আছে – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    রাজবাড়ির ছোরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    ঘোড়া সাহেবের কুঠি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    সেই অদৃশ্য লোকটি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    শুদ্ধানন্দ প্রেতসিদ্ধ ও কিকিরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    কিকিরা সমগ্র ১ – বিমল কর

    October 30, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }