Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চাশটি গল্প – বিমল কর

    বিমল কর এক পাতা গল্প1346 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উদ্ভিদ

    পূর্ণেন্দুবিকাশ বটানির প্রফেসর হয়ে এল আমাদের কলেজে। সে আসার পর, তাকে দেখে আমরা—আমি আর মোহিত বলাবলি করেছি, এ একটা কন্‌ট্রাস্ট।

    বলাবলি করতাম আর ভাবতাম। মাস তিনেক আগের দৃশ্য মনে পড়ত। তখন আমরা সবে এসেছি, এসে জুটেছি মফস্বলের এ-কলেজ ও-কলেজ থেকে রাজা প্রদীপনারায়ণে, ছেলে ছোকরা মাস্টারের দল। আমার আসার পর তবে কলেজ খুলল। রীতিমত ওপেনিং সেরিমনির পর। তখনই, সেই অনুষ্ঠানেই তাঁকে প্রথম দেখেছিলাম, রানী সুবর্ণসুন্দরীকে। ম্যাজিস্ট্রেটের পাশেই তিনি বসেছিলেন। ইসলামপুরী সিল্কের দুধসাদা থান পরনে। হাতির দাঁতের মতন রং গায়ের, ননীর মতন কোমল আর মসৃণ মনে হচ্ছিল তাঁর দুটি হাত আর গ্রীবা। আশ্চর্য সুন্দর সেই মুখ, উজ্জ্বল ও অভিজাত। হীরে বসানো একটি হার ছিল সুবর্ণসুন্দরীর কণ্ঠে, আর দুটি বলয়, বাহুতে।

    আমরা অবাক হয়ে সেই রূপ দেখছিলাম, সেই দুটি ধূসর, দীপ্ত চোখ। অল্পক্ষণ পরেই মনে হল, এতক্ষণ যা দেখেছি তা রূপ নয়—রূপের ছায়া। রূপের কায়াকে প্রত্যক্ষ করলাম, রানী সুবর্ণসুন্দরী যখন বক্তৃতা দিতে উঠে দাঁড়ালেন। একটি নমস্কার তিনি করেছিলেন, মৃদু একটা হাসি খেলে গিয়েছিল তাঁর ঠোঁটে। তারপর থেমে থেমে মৃদু অথচ স্পষ্ট, যথাস্থানে ধ্বনির স্বরাঘাত হেনে একটি বক্তৃতা তিনি দিলেন। সেই বক্তৃতায় বাংলার সঙ্গে মাঝে মাঝে ইংরেজি মেশানো ছিল এবং পুরো বক্তৃতাটাই শোনার মতন, শুনে অভিভূত হওয়ার মতন।

    রানী সুবর্ণসুন্দরীর সেই বক্তৃতা ম্যাজিস্ট্রেটসাহেব আর দেওয়ানকে ক্ষণে ক্ষণে চমকে দিচ্ছিল। চমকে উঠছিল রাজকুমারী চন্দ্রাও। কিন্তু কোনোদিকে ভ্রূক্ষেপ ছিল তাঁর। তিনি তখন প্রকাশ্যেই, স্বাভাবিক কণ্ঠেই তাঁর স্বামীগৃহ এই রাজপরিবারের সংস্কার, শৌখিনতা, জাঁকজমকের মধ্যে নিশ্চিন্তে ও নির্ভাবনায় ঘুমিয়ে থাকার কথাই বলছিলেন। বলছিলেন, এই রাজপরিবার কিভাবে ঝাড়লণ্ঠনের নকল আলোয় এই জগতকে দেখেছে, জগতকে এবং জীবকে। ‘আসল আলোয়, দিনের আলোয় এই জগতকে আমি দেখতে জানি! আমি এই যুগকে চিনতে ও বুঝতে শিখেছি।’ তিনি বললেন, ‘আর তাই তেমন আলোই জ্বালাতে চাই যা সমস্ত অন্ধকারকে দূর করে। এ-কলেজ তার জন্যেই। মনে রাখবেন আপনারা, আমি কী চাই, কী চাইছি আর কেন রাজপরিবারের ক-পুরুষের বিলাসব্যসনের গোপনতীর্থ এই বাগানবাড়ির কলুষিত অন্তরকে ভেঙে চুরমার করে সর্বজনের বিদ্যার তীর্থে পরিণত করলাম, তুলে দিলাম আপনাদের হাতে।’

     

     

    সভার সমস্ত গুঞ্জন থেমে গিয়েছিল। একটি সরব দীর্ঘনিশ্বাসও শোনা যেত এমন নিস্তব্ধতা। সকলেরই চোখ রানী সুবর্ণসুন্দরীর সেই দীপ্ত ও দৃপ্ত ভঙ্গির দিকে। একটি কোষমুক্ত অসি যেন জ্বলছে তার নিজের আভায়।

    রানী সুবর্ণসুন্দরী আবার বললেন, “মনে রাখতে হবে আমরা অ্যানিমাল্‌—হায়ার অ্যানিমাল্‌। আমরা রেস্‌প্‌ন্ড করতে পারি, রি-অ্যাক্ট করতে জানি। বাইরের ডাকে সাড়া দিতে এবং আঘাতে নিষ্ক্রিয় না থাকার ধর্মই আমাদের, অ্যানিমালদের। আমরা ভেতর থেকে দিনে দিনে বাড়ি, নিজেকে প্রসারিত করি। এগিয়ে চলেছি আমরা। তাই শিক্ষা।”

    এর পর আমরা কেউ-ই বিমুগ্ধতা সংবরণ করতে পারিনি। চমৎকৃত, বিহ্বল হয়েছি যে-পরিমাণ, সেই পরিমাণ উচ্ছ্বসিত হয়ে অভিনন্দন জানিয়েছি রানী সুবর্ণসুন্দরীকে।

    রানী সুবর্ণসুন্দরী তাতে আত্মবিস্মৃত হননি। আতিশয্য তাঁকে উত্তেজিত করেনি। এর পরই ম্যাজিস্ট্রেটসাহেব নিজের হাতে রুপোর ট্রে তুলে ধরেছিলেন। কালো ভেলভেটের ওপর একটি ছোট কাঁচি ছিল। রানী সুবর্ণসুন্দরী সেই কাঁচি তুলে। নিয়েছিলেন। আর ফিতে কাটার পর, রাজা প্রদীপনারায়ণ কলেজের প্রশস্ততম কক্ষের ভেজানো দরজাটি ঠেলে খুলে দিলেন তিনি। হাতে প্রদীপ ধরে সেই কক্ষে প্রথম পা দিলেন রাজকুমারী। মনে হল যেন শতরাত্রির নটীকুল-নূপুর-নিক্কণের চটুল ছন্দ সেই মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে গেল, বহুকালের আসব-সিক্ত একটি রুদ্ধ বাতাস অন্ধকারে শেষবারের মতো আর্তনাদ জানিয়ে মিলিয়ে গেল শূন্যতায়। আর আলো ফুটল, আলো জাগল সেই কক্ষে। কক্ষ থেকে কক্ষান্তরে। যেন এতকাল পরে একটি কমল ফুটল পঙ্কে।

     

     

    একটি কমল যদি ফুটে থাকে তবে আবার ফুটবে আরো ফুটবে আমরা আশা করেছি এবং নিঃসন্দেহ হয়েছি। আমরা জানতাম, সুবর্ণসুন্দরী আলোর আড়াল আর সহ্য করবেন না, করতে পারবেন না।

    তাই হল। তেমন সব কাণ্ডই হচ্ছিল। আমরা দেখছিলাম। দেখছিলাম, রাজকুমারী চন্দ্রা কলেজে আসছিল, ফার্স্ট ইয়ার ক্লাসে আর পাঁচটি মেয়ে—গীতা, ললিতা, রেবাদের সঙ্গে একাসনে না বসে—বসছিল আলাদা গদিমোড়া চেয়ারে। ব্যবস্থাটা করেছিলেন প্রিন্সিপাল। রানীর কানে খবরটা যেতেই একটা চিঠি এল : রাজকুমারী আর পাঁচটি মেয়ের মতনই একজন ছাত্রী ; তার জন্যে পৃথক ব্যবস্থা আমি পছন্দ করি না। চন্দ্রা নিজেকে সাধারণ মানুষের সমগোত্রীয় না ভাবতে পারে এমন উদাহরণ স্থাপন করবেন না।

    সেই চিঠি পড়ে আমরা—মাস্টাররা চমৎকৃত হয়েছি। কেউ বলেছেন রানী-ই ট্রু ডেমোক্র্যাসির একটি উদাহরণ। কেউ তাঁর শিক্ষা দীক্ষার সঙ্গে ইংলন্ডের বাতাসের লিবারেল হাওয়া ক-বছর জড়িয়ে আছে তার হিসেব দিয়েছেন। ব্যতিক্রম ছিলেন সংস্কৃতের অধ্যাপক মথুরেন্দ্রবাবু। তিনি বলেছিলেন, “আসলে কি জানেন মশাই, দ্বিতীয় পক্ষের বউ রাজার। বিলেত ঘোরা বিবিয়ানা-রপ্ত মেয়েকে দেখে রাজাবাহাদুরের মাথা ঘুরে গিয়েছিল—বিয়ে করে ফেলেছিলেন। তা বিয়ে হয়েছিল বছর চারেক, শেষের দিকে রাজা যখন অসুস্থ তখনই বছরখানেক বড় জোর রানীসাহেবা রাজার কাছে ছিলেন। তাই বলছিলাম, মেয়ে তো নিজের পেটের নয়—তাই অত উদারতা!”

     

     

    রানী সুবর্ণসুন্দরী যদিবা বিমাতা, কিন্তু কুমাতা নন। মাস দুয়েকের মধ্যে আমরা তা অনুমান করতে পারলাম। দেখলাম সব-ই। রাজকুমারী চন্দার খেয়াল, সে বটানি পড়বে। প্রিন্সিপালের কাছে কথা পাড়লো। মুশকিলে পড়লেন প্রিন্সিপাল। আমাদের কলেজে বটানি কম্বিনেশানের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। অথচ রাজকুমারীর আগ্রহ। সরাসরি না বলতে পারেন না, আবার স্বতন্ত্র কোনো ব্যবস্থা করতেও ভরসা পান না। অগত্যা রানীর সঙ্গেই সাক্ষাৎ করতে হল। রানী বললেন, “বটানি হয়ত আরো ছেলেমেয়েরা পড়তে পারে। আপনি একজন লেকচারার নিন বটানির।”

    এর পরই আমাদের পূর্ণেন্দুবিকাশ এল, বটানির লেকচারার হয়ে, রাজা প্রদীপনারায়ণে। আর এসেই লক্ষ্য করলে প্রিন্সিপালের অফিসে, প্রফেসরস্‌ রুমে, করিডোরে স্বর্গত রাজার ছবি আর সুবর্ণসুন্দরীর বক্তৃতার শেষাংশ কাচের ফ্রেমে বাঁধানো, দেওয়ালে দেওয়ালে ঝোলানো।

    ওর জিজ্ঞাসু দৃষ্টির জবাবে আমাদের সব কথা বুঝিয়ে বলতে হয়েছে। বলতে হল, ওপেনিং সেরিমনির কথা। রানী সুবর্ণসুন্দরীর সেই ইন্স্‌পায়ারিং টক্‌স্‌ কী পরিমাণ অভিভূত করেছিল আমাদের। প্রিন্সিপাল কেন সকলের চোখের সামনে প্রতিদিন তা তুলে ধরতে চান। পূর্ণেন্দু চুপমুখে অন্যদিকে তাকিয়ে সব কথা শুনেছে আমাদের।

     

     

    পরের দিনই আমি আমার ক্লাসে বসে শুনেছি, পার্টিশানের ওপাশে—মৃদু, মোলায়েম ঈষৎ-উত্তেজিত একটি কণ্ঠস্বর অ্যানিমাল আর প্ল্যান্ট লাইফের পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে আত্মবিস্মৃত হয়ে পড়েছে। উৎকর্ণ হয়ে শোনবার চেষ্টা করছিলাম। সব কথা কানে আসছিল না, তবু আবেগগাঢ় কটি কথা শেষের দিকে স্পষ্টই শুনতে পেলাম। পূর্ণেন্দু বলছে, “হয়ত, হয়ত জীবনসৃষ্টির আদিতেই প্রকৃতি এই দুরূহ পরীক্ষায় হাত দিয়েছেন—হু ইজ্‌ মোর সুটেবল্‌ টু দিস্‌ আর্থ, অ্যানিমালস্ অর প্ল্যান্টস্? অর্থাৎ কোন জীবন উপযুক্ত বেশি ; সেই জীবন, যা রেসপন্ড্‌ করতে পারে, রি-অ্যাক্ট করতে জানে, প্রয়োজনে হিংস্র, ক্রুয়েল—অথবা অসহায়, অনড়, মুক জীবন—যা সম্পূর্ণভাবেই দাক্ষিণ্যের ওপর নির্ভর করে আয়ু আর ক্ষুধা নিয়ে পড়ে আছে। ”

    পূর্ণেন্দুর গলার স্বর পার্টিশানের ওপারেই হঠাৎ সেই ছবি ফুটে উঠেছিল, রাজা প্রদীপনারায়ণ কলেজের ওপেনিং সেরিমনির সেই দৃশ্য, রানী সুবর্ণসুন্দরী কোষমুক্ত অসির মতন জ্বলছেন তাঁর নিজের আভায় এবং বলছেন, ‘মনে রাখতে হবে আমরা অ্যানিমালস্—হায়ার অ্যানিমালস্…’

    হঠাৎ মনে হল, এ একটা কনট্রাস্ট্‌। রানী সুবর্ণসুন্দরী আর পূর্ণেন্দু জীবজগতের দুটি প্রাচীন, পৃথক অস্তিত্ব। পৃথক এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দুই অস্তিত্ব যেন।

     

     

    * *

    পূর্ণেন্দু যে আমাদের কাছে স্থায়ী কৌতূহলের পাত্র হয়ে উঠবে, আমাদের এবং অন্যান্যদের, এমন কি ছাত্রছাত্রীদের তা অবশ্য প্রথমে ভাবিনি। ভাববার কোনো কারণ ছিল না। ও আসার পর সাধারণভাবেই কনট্রাস্টের কথাটা মনে এসেছে। কিন্তু কে জানত—!

    অথচ আমাদের দিনে দিনে জানতে হচ্ছিল। না জেনে উপায় ছিল না। দারাপুত্র-পরিবারহীন কটি ছেলে ছোকরা মাস্টার আমরা একটা বাড়ি পেয়েছিলাম থাকবার, রানীর অনুগ্রহে। আমি আর মোহিত থাকতাম এক ঘরে। তার পাশেই ছিল এক চিলতে ঘর, ফাঁকাই পড়েছিল। পূর্ণেন্দুকে দিলুম সেই ঘর। আর শুধু ঘর নয়, পূর্ণেন্দুকে বন্ধুত্বের গণ্ডির মধ্যে টেনে নেবারও চেষ্টা করেছি আমরা। কিন্তু বোধ হয় পারিনি। ওর স্বভাবটাই যেন আলাদা ধাতের। অন্তত তাই মনে হয়েছিল। আমাকে আর মোহিতকে সে যে পছন্দ না করত এমন নয় ; পছন্দ করত, আমাদের ঘরে আসত বসত, ওর মনোমত কোনো আলোচনা হলে মাঝে মাঝে যোগ দিত। এই পর্যন্ত। তার বেশি কিছু নয়। আর যদি বেশি কিছু হয়-ই, তবে বলব, বয়সে দু-তিন বছরের বড় বলে হয়ত কিছুটা সমীহ করত আমাদের।

     

     

    অগত্যা ওকে ওর মতনই থাকতে দিতে হয়েছিল আমাদের। গভীর স্নেহে আমরা তাকে অদৃশ্য ভাবে ঘিরে ছিলাম। তার মনের ওপর হাত ছিল না আমাদের, কিন্তু প্রত্যক্ষ শরীরটার সুখ-সুবিধের ওপর নজর রাখা সম্ভব ছিল। আমরা তাই রাখতুম। এবং দিনে দিনে পূর্ণেন্দু রাজা প্রদীপনারায়ণের অধ্যাপক-কুল ও ছাত্রছাত্রীদের যতই কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠছিল, আমরা—আমি আর মোহিত ততই যেন তার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছিলাম। বলা ভাল, অন্যদের মতন নিরলস কৌতূহল পূর্ণেন্দু সম্পর্কে আমাদের খুব কমই ছিল। আমরা তাকে লক্ষ্য করতাম অন্য চোখে, গভীর মনোনিবেশে। কারণ, কারণ পূর্ণেন্দু এমন একটি সমাহিত সৌন্দর্য ও বেদনা নিয়ে এখানে ছিল, আমাদের মধ্যে তপস্বীর মতন, যা আর কেউ ছিল না, এমন কি আমরাও। সত্যি বলতে কি, সুবর্ণসুন্দরী যদিও আমাদের হাতে জ্ঞানের আলো জ্বালাবার ভার দিয়েছিলেন, তবু কেউ-ই সে-চেষ্টা করতাম না। সে-ক্ষমতাও ছিল না আমাদের। জীবিকার প্রয়োজন একটি অভ্যাসকে বাঁচিয়ে রেখেছিলাম শুধু। পূর্ণেন্দুকেই দেখলাম ব্যতিক্রম। অভ্যাস নয়, আপন তাগিদেই সে যেন ব্যাকুল হয়ে আলো খুঁজছিল, পথভ্রান্ত পথিকের মতন অন্ধকারে অন্বেষণ করছিল পথ।

    কাজেই পার্টিশান করা ঘরের মধ্যে বসে রাজকুমারী চন্দ্রা কি গীতা, ললিতা, রেবার ছোট্ট দলটি এবং সহপাঠিনী-সংস্পর্শ লোভী দু-তিনটি ছাত্র অতি মৃদু, মোলায়েম যে কণ্ঠস্বরটি শুনেছে, ক্রিপ্‌টোগ্যামিয়া আর ফাইলোট্যাক্সি বোঝাতে গিয়ে আত্মবিস্মৃত যে-কথক উদ্ভিদ-রহস্যের এক সূত্র থেকে অন্য সূত্রে চলে গেছে তাকে তারা আর একটি উদ্ভিদ ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারে না। তাই কলেজময় নামটা ছড়িয়ে পড়েছিল, প্ল্যান্ট প্রফেসর। আশ্চর্য, পূর্ণেন্দুর নামটাই যেন সকলে ভুলে গেল। সকল মহলেই তার পরিচয় দাঁড়াল ওই নামে, প্ল্যান্ট প্রফেসর।

     

     

    সে-নাম শুনে আমরা—আমি আর মোহিত অসন্তুষ্ট হয়েছি, চটেছি। আমাদের ক্লাসে সেই সব অকালপক্ক ছাত্রদের সাক্ষাৎ পেলে বহু শ্লেষোক্তি করেছি। কিন্তু যাকে নিয়ে এই হাসি তামাশা, গুঞ্জন—সে কোনো কিছুতেই ভ্রূক্ষেপ করত না।

    তাকে দেখতাম তার বটানির বাগানে। আমাদের কলেজের অর্থাৎ রাজকুলের সেই বাগানবাড়ির পশ্চিমে একটু তফাতে ঝিল ছিল একটা। লতাপাতার বাহার আর গাছগাছড়ার ভিড়টাও ছিল সেখানে। ঝিলের একদিকে সিঁড়ি বাঁধানো ঘাট, সেই ঘাটের একপাশে একটি স্ট্যাচু, রাজা-রাজড়ার প্রমোদোদ্যানে যেমনটি থাকে, তেমনি। একটি শ্বেত নগ্ন নারীমূর্তি। কঠিন প্রস্তরেও এক উদ্ভিন্ন-যৌবনার কমনীয়তাটুকু ফুটিয়ে তুলেছে শিল্পী। ওই মূর্তির ঠিক সোজাসুজি—ঘাটের ওপর ক-পা পিছিয়ে এলে একটি শেড্‌। কোনো একসময় ওই শেডের তলায় বসে হয়ত বিলাসী লম্পট রাজপুরুষ বাগানের ঠাণ্ডা হাওয়ায় নেশার আচ্ছন্নতা খানিকটা লাঘবের চেষ্টা করতেন। আর এখন। এখন সেখানে অন্য এক মূর্তি। এই মূর্তিটিও আচ্ছন্ন হয়ে বসে থাকে, সমাধিস্থ যোগীর মতন। মাইক্রোস্কোপে চোখ রেখে সাইটোপ্ল্যাজমের আশ্চর্য জগতে সে যেন কোনো এক রহস্য খুঁজে বেড়ায়। স্লাইডের প্ল্যান্ট সেল আয়োডিনের ছোঁয়ায় যে-নীলাভ বিচিত্র রূপসজ্জা করে, রূপদক্ষ একটি চোখ নিষ্পলক চোখে দেখে সেই রূপোত্তীর্ণ রহস্যকে।

     

     

    পূর্ণেন্দু নিজের হাতেই করেছিল এসব। জালি-তার দিয়ে ঘিরেছিল সেই শেড, রোদ বৃষ্টি আটকেছিল কাচে, টব আর গামলায় লালন করেছিল গাছ লতাপাতার স্পেসিমেন। ক্রিপার আর রুটের সেই জগতকে আমরা দেখেছি দূর থেকে। আর দেখেছি তারের বেড়া দিয়ে বাঁধা বিচিত্র গাছগাছড়ার বাগান শেডের বাইরেও ঝিল পর্যন্ত এগিয়ে এসে থেমেছে। বর্ণবহুল ও বর্ণহীন সেই পাতা আর ফুল, গাছ আর গাছড়া এই নিয়ে পূর্ণেন্দু মগ্ন ছিল। বিভোর ছিল তার বটানির গার্ডেন নিয়ে। প্রায় সর্বক্ষণই ড্রাই ব্যাটারিতে বাতি জ্বালিয়েও অনেক দিন মাইক্রোস্কোপ চোখে বসে থেকেছে পূর্ণেন্দু, হাওয়ায় হাওয়ায় কতটা রাত সময় হয়ে ফুরিয়ে গেছে তার খেয়াল রাখেনি।

    বটানির ছাত্রদের পূর্ণেন্দু তার এই বাগানে নিয়ে আসত। চাক্ষুস উদ্ভিদ-পরিচিতির জন্যে।

    হঠাৎ একদিন এই আসা বন্ধ হল তার। আর আমরা, আমরা প্রফেসর মহল চমকে উঠলাম, অবাক মানলাম। বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।

    আমরা বিশ্বাস করতে পারিনি, অথচ ছাত্রমহল মনে হল বেশ চঞ্চল এবং উদ্দীপ্ত। আর যদিও বাইরে চুপ, ভেতরে ভেতরে উগ্র কৌতূহল ফুটছে। প্রিন্সিপালের কঠিন হুকুম—কেউ গার্ডেনের দিকে যেতে পারবে না, তবু তাদের কী চেষ্টা, কী লুকোচুরি, কানাকানি।

     

     

    কলেজ ছুটির পর প্রিন্সিপাল আমাদের বললেন, “বটানির গার্ডেনটা আপনারা ঘুরে আসুন।”

    আমরা গেলাম, মাস্টারমশাইরা সকলেই। পূর্ণেন্দু সেদিন কলেজেই আসতে পারেনি জ্বর জ্বর হয়েছিল। ভালই হয়েছিল নয়ত এত বড় লজ্জার মধ্যে পড়লে হয়ত তার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যেত।

    আমরা পূর্ণেন্দুর বটানির বাগানে এসে দৃশ্যটি লক্ষ করলাম। তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলাম কটি মুহূর্ত। তারপর চোখ নামিয়ে নিতে বাধ্য হলাম।

    কি সেই পাথরের পূর্ণ নগ্ন নারীমূর্তির কণ্ঠে, বাহুতে, বক্ষে কে যেন অলঙ্কার পরিয়ে দিয়ে গেছে হলুদ আর নীল চক দিয়ে। লালচে খড়িরও রং রয়েছে এখানে সেখানে। আর শুধু অলঙ্কার নয়, অর্থকরণও করে গেছে অতি প্রাঞ্জলভাবে।

    অলঙ্করণটা যদিও বা ক্ষমা করা যায়, অর্থকরণটা কোনো মতেই নয়। পূর্ণেন্দর কথা বাদ দি, রাজকুমারী চন্দ্রার নামে এত বড় স্ক্যান্ডাল কে ক্ষমা করবে, কে সহ্য করতে পারে। রানী সুবর্ণসুন্দরীর কানে কথাটা উঠবেই, হয়ত উঠে গেছে এর মধ্যে। আর তিনি নিশ্চয়ই বিস্মিত হচ্ছেন, ভাবছেন, এত বড় স্পর্ধা, দুঃসাহস কার হতে পারে!

     

     

    আমরা জানতাম, রানী সুবর্ণসুন্দরী কখনই এত বড় অপমান, নির্লজ্জতা, নোংরামি সহ্য করবেন না। করতে পারেন না।

    প্রিন্সিপালের ঘরে আমাদের প্রফেসারদের ক্লোজ ডোর মিটিং বসল। নানা অনুমান এবং সন্দেহ। অবশেষে প্রিন্সিপাল বললেন, আমাদের খুঁজে বের করতেই হবে, এ-কাজ কে করেছে, কে? আর আজ থেকে ছেলেমেয়েদের কাছেও বাগানের পথ বন্ধ হল।

    পূর্ণেন্দু সব শুনল। এত বড় চাঞ্চল্যকর ঘটনা সম্পর্কে তার কোনো আগ্রহ দেখলাম না। শুধু বললে, “মুছে ফেলেছে?”

    বললাম, “হ্যাঁ। জল দিয়ে ধুয়ে ফেলেছে। ”

    খড়ির দাগ জলে মুছল কিন্তু যা রটে গিয়েছিল কলেজময় সেই রটনা ঘুচল না। অত্যন্ত চাপা একটা কানাকানি ছাত্র থেকে অধ্যাপক সকল মহলেই জিইয়ে থাকল। রানী সুবর্ণসুন্দরীর কানে সব খবরই গিয়েছিল। একদিন বিকেলে তিনি এলেন। কলেজ ছুটির পর। প্রিন্সিপালের সঙ্গে সটান বাগানে গিয়ে হাজির। পূর্ণেন্দু তখন ঝিলের শেষ সিঁড়িতে বসে শেওলা তুলেছিল মুঠো করে। আমি ছিলুম একটু দূরে।

     

     

    সম্ভবত এই প্রথম ভাল করে দেখলেন রানী পূর্ণেন্দুকে। মনে হল বেশ খুঁটিয়ে লক্ষ করলেন। তারপর প্রশ্ন।

    রানী। কী দেখছেন ওটা?

    পূর্ণেন্দু। স্পাইরোগাইরা।

    রানী। স্পাইরোগাইরা! তবে মস্‌?

    পূর্ণেন্দু। দেওয়াল-টেওয়ালের গায়ে যে-শেওলা জন্মায়—তাই মস্‌!

    রানী কথাটা শুনলেন। অথচ অকিয়ে ছিলেন তখন স্ট্যাচুটার দিকে। সেই স্ট্যাচু। কী মনে করে হাসলেন ঠোঁটের কোণে। চোখের ইশারায় স্ট্যাচুটাকে দেখালেন। বললেন, “যদি ওর গায় শেওলা পড়ে—তবে? কী নাম হবে তার?”

    পূর্ণেন্দু চুপ। যেন চমকে উঠেই চুপ করে গেল। একবার চোখ তুলে দেখল রানীকে, আর-একবার সেই স্ট্যাচুটি।

    রানী ফিরে চললেন। চলতে চলতে বললেন প্রিন্সিপালকে, “আপনার কলেজের ছাত্রছাত্রীরা শিশু নয়। আগে যে-ব্যবস্থা চলছিল তাই থাক—ছেলেমেয়েদের আপনি বাগানে যেতে দিন।”

    রানী সুবর্ণসুন্দরী যে এত সহজে রাজকুমারীর নামে রটানো স্ক্যান্ডাল ক্ষমা করবেন, ভুলে যাবেন তা আমরা আশা করিনি। কিন্তু সব যেন ভুলেই গেলেন রানী, খড়ির দাগকে সহজেই মুছে ফেললেন মন থেকে। দেখে শুনে আমরা বিস্মিত এবং বিমুগ্ধ হলাম।

    বটানি ক্লাসের ছেলেমেয়েরা আবার বাগানে যেতে শুরু করেছিল। গীতা, ললিতাদের সঙ্গে রাজকুমারী চন্দ্রাকেও দেখেছি শেডের তলায় বসে প্র্যাক্‌টিকাল ক্লাস করছে। তার মধ্যে কোনো ভাবান্তর লক্ষ করিনি আমি। করার কথাও আমাদের নয়। শুনতাম, বটানিতে ওর উৎসাহ খুব। সাবজেক্টটায় তার মন বসে গেছে। রেজাল্ট করবে ভালই। কথাটা বলত পূর্ণেন্দু-ই।

    আমি আর মোহিত একবার ভেবেছিলাম, পূর্ণেন্দুকে একটু সাবধান করে দেওয়া উচিত। কিছুদিন আগেই যে-কাণ্ডটা ঘটে গেছে, তারপর অত্যুৎসাহী ছাত্রীটিকে যথাসম্ভব এড়িয়ে থাকাই বোধ হয় ভাল। বলি বলি করেও কথাটা আর বলা হয়নি। ভেবেছি, হয়ত কথাটার অন্য কোনো অর্থ ধরবে পূর্ণেন্দু ; এবং দুঃখ পাবে।

    এদিকে কলেজময় নতুনভাবে এই কথাটা রাষ্ট্র হয়ে পড়ছিল যে, রাজকুমারী মাইক্রোস্কোপে চোখ রেখে বসে থাকলে—পূর্ণেন্দুর মুখটাও চন্দ্রার মাথার ওপর নেমে আসে। হাতে হাত ছুঁয়ে থাকে অ্যাডজাস্টারে। কেন?

    সত্যিই তো কেন, আমরাও ভেবেছি। সত্যি হোক, মিথ্যা হোক, এ-রটনা কেন, কিসের জন্যে? মোহিত বলত, যদি সত্যিই হয় সব তবে এই লুকোচুরির দরকার কী? রানী সুবর্ণসুন্দরী যথেষ্ট উদার। আর পূর্ণেন্দু কিছু অপাত্র নয়। ক্ষতি কি সহজ কথাটা স্পষ্ট করে বলতে।

    অনেক ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্রশ্নটা একদিন করতেই হল। বললাম, “চন্দ্রা কি তোমার কাছে একস্ট্রা টাইম পড়ে পূর্ণেন্দু?”

    পূর্ণেন্দু। না।

    আমি। তবে যে শুনি প্রায়ই বিকেলে নাকি বাগানে ও থাকে, কলেজ আওয়ার্সের পরেও।

    পূর্ণেন্দু। কই না। আমি দেখিনি। দিন দুয়েক বোধ হয় ছিল বেশিক্ষণ।

    মোহিত। কী মনে হয় তোমার?

    পূর্ণেন্দু। কিসের ব্যাপারে?

    এ-প্রশ্নের পর আমাদের চুপ করে যেতে হয়। না গিয়ে উপায় থাকে না। অত নিরীহ, লাজুক, আত্মবিভোর একটি পুরুষকে আর কী বলা যেতে পারে! আর কেমন ভাবেই বা বলা যায়।

    কাজেই আমরা চুপ করে ছিলাম। নীরবে শুনে যাচ্ছিলাম নিত্য নতুন মুখরোচক গুজব। রসালো টীকাটিপ্পনি। আর অনিচ্ছা সত্ত্বেও কখনো কখনো চোখ রাখতে হচ্ছিল বাগানে।

    একদিন, তখন হঠাৎ ঝড় উঠেছে—আকাশটাও কালো। ফিরব কলেজ থেকে। মনে হল, বৃষ্টি আসবে খানিক পরেই—ডেকে নিয়ে যাই পূর্ণেন্দুকে তার বাগান থেকে।

    ঝিলের কাছে এসে থামতেই চোখে পড়ল—শেডের খোলা দরজায় একটি হাত রেখে দাঁড়িয়ে রয়েছে চন্দ্রা। চোখ তার খোলা বাগানে। ঝড়ের হাওয়ায় চন্দ্রার বেশবাস বিশৃঙ্খল ; কপালে কটি কুন্তল উড়ে পড়েছে। নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে আছে চন্দ্রা বাগানে, কলা ফুলের দিকে, পূর্ণেন্দু যেখানে পুষ্প পর্যবেক্ষণেই সম্ভবত তন্ময় হয়ে দাঁড়িয়ে। উভয়ের ব্যবধান অনেকটা। দাঁড়াবার ভঙ্গিও দুজনের দুরকম। মনে হয় না—একের সঙ্গে অন্যের কোনো যোগসূত্র ছিল, আছে।

    সেই একদিনই আমি দেখেছিলাম। আর-একদিন দেখেছিল মোহিত। কৃষ্ণচড়ার তলায় গোধূলির আলোতে ওরা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে—পূর্ণেন্দু আর চন্দ্রা। মুখোমুখি কিন্তু চোখে চোখে তাকিয়ে ছিল না, নিশ্চয়ই। নয়ত চন্দ্রার ঠোঁট দুটি কেন পাথর হয়ে থাকবে, আর কেনই বা স্তব্ধ ছিল পূর্ণেন্দু। কেন দুজনেই চমকে উঠে সরে যাবে একটি পাখি উড়ে গেলে। কটি কাঠচাঁপা ফুল ঝড়ে পড়ার পরও।

    সেই বসন্তেই চিঠি পেলুম আমরা। এত আচমকা যে, তুলট কাগজের অমন হলুদ রং, সিঁদুরে হরফের যথাবিহিত রাজকীয় পাঠ ভাল করে লক্ষ করবার কথাও মনে আসেনি। এমন আকস্মিকভাবে রাজকুমারী চন্দ্রার বিবাহ স্থির হয়ে যাবে, কে জানত, কে ভেবেছিল! তবু স্বীকার করলাম, রানী ভালই করেছেন। তিন-তিনটে অভ্রখনির অন্ধকারে যাঁদের বিভব গচ্ছিত রয়েছে, দু-দুটো উড্‌ ফ্যাক্টরি আর বরফকল যাঁদের তেমন বিত্তবান পাত্র হাতছাড়া না করে বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন। কী এল গেল কুল পরিচয়ে খাটো যদি হয় পাত্রপক্ষ!

    কলেজে আসা বন্ধ হল চন্দ্রার। ঝিলের জল তখন কাচের মতন ঝকঝকে, বটানির বাগানে পরাগ-মিলনের মরসুম, প্রজাপতি উড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে, ফাল্গুনের মিষ্টি রোদ-গায়ে লতাপাতা আলসেমি ভাঙছে।

    আমরা লক্ষ করছিলাম পূর্ণেন্দুকে। আর লক্ষ করে ক্রমশই হতাশ হচ্ছিলাম। বলতে কি, কোনো ভাবান্তর দেখলাম না তার। একবার শুধু বলেছিল, “পরীক্ষাটা—?”

    বলেছিলাম, “পরীক্ষায় আর কি কাজ চন্দ্রার? ফুল দেখার দিন শেষ হয়েছে বেচারির, এবার মালা গাঁথার দিন শুরু।”

    পূর্ণেন্দু পরম নিস্পৃহতার সঙ্গেই কথাটা শুনল। মনে হল না, মনের কোথাও ওর দাগ পড়েছিল। নয়ত অমন নিস্পৃহতা কি সম্ভব!

    এতদিনে আমরা নিঃসন্দেহ হলাম, সকল রটনাই ভুল। সকল অনুমান এবং সন্দেহ। এমন কি, স্বচক্ষে যা দেখেছিলাম আমরা—তারও সঠিক অর্থ বুঝিনি, বুঝতে পারিনি।

    সানাইয়ের সুর ছড়িয়ে সেই সকালটি এসে গেল। বিয়ের সকাল। আমরা আলস্য ভাঙলাম শুয়ে বসে, রোদ দেখে। কলেজ ছুটি। দুপুর কাটল ঘুমিয়ে, সানাইয়ের উদাস সুরে মন মিলিয়ে। বিকেল রং বদলাল। বিলিতি ব্যান্ড বেজে উঠল রাজবাড়িতে, দু-চারটে হাউই উড়ে গেল আকাশে। আর সন্ধের গোড়াতেই আলোর মালা গায়ে ঝলমল করে উঠল রাজবাড়ি। ব্যান্ড থেমে রোশনচৌকি বাজল। বাজি পুড়তে লাগল। আলোর স্ফুলিঙ্গে আর রঙে রঙে একাকার হয়ে গেল উত্তরদিকের আকাশ।

    সেজেগুজে আমরা বসে আছি। পূর্ণেন্দুর দেখা নেই। কখন যে দরজায় তালা ঝুলিয়ে বেরিয়ে গেছে কে জানে! আসছে, আসছে করে সন্ধে শেষ হল। রাজবাড়ির শুধু নয়, অন্নদাতার নিমন্ত্রণ, ছাত্রীর বিয়ে—আর তো অপেক্ষা করা যায় না। পূর্ণেন্দুর ওপর বিরক্তই হলাম। কাণ্ডজ্ঞান সত্যিই নেই ছোকরার। যদি সে না যায় বাস্তাবিকই ব্যাপারটা শুধু বিসদৃশই হবে না, রানী এই অবিনয়, ঔদ্ধত্য ভাল মনে নেবেন না।

    শেষ পর্যন্ত মোহিত আর আমি কলেজেই এলাম। বাগানের পথ ধরে পূর্ণেন্দুর খোঁজে এগিয়ে চললাম ঝিলের দিকে। কই না, তার সেই নির্জন উদ্ভিদকক্ষে বাতি তো জ্বলছে না। সে ঘর অন্ধকার। কাচের গায়ে চাঁদের আলো পড়েছে। লতাপাতার আশ্চর্য ছায়া। অসাড়, অচঞ্চল। তবে? কোথায় গেল তবে পাগলটা? এদিক-ওদিক যতদূর সম্ভব তীক্ষ্ণ চোখে পূর্ণেন্দুর অস্তিত্ব আবিষ্কারের চেষ্টা করছি তখন আমরা। সারা বাগানটাই আলো-ছায়ায় জাফরি কেটে ঝিম মেরে পড়ে আছে।

    বুঝি ফিরেই আসতাম। হঠাৎ চোখে পড়ল ঝিলের বাঁধানো ঘাটের দিকে। আর সেদিকে তাকিয়ে আমরা চমকে উঠলাম। হতবাক, হতবুদ্ধি আমরা। চোখের পলক পড়ছে না, নিশ্বাস নিতেও যেন ভুলে গিয়েছি তখন।

    চোখের ভ্রম নয়। সত্যি সত্যিই আমরা পূর্ণেন্দুকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম। আর সেই পূর্ণ নগ্ন নারীমূর্তি—মর্মর অবয়ব। চাঁদের আলোয় অপ্রত্যক্ষ ছিল না কিছুই। মনে হল, ধবল জ্যোৎস্নার কোন অদৃশ্য কুহক মোহ বিস্তার করেছে পূর্ণেন্দুর চোখে, মনে, চেতনায়। আশ্চর্য, অদ্ভুত কোনো মোহ। নয়ত, এ-বিভ্রম কেন তার? কেন একটি নিষ্প্রাণ, কঠিন দেহতটের কিনারা ঘিরে লতার মতন জড়িয়ে জড়িয়ে উঠছে ও? কিসের আশায়? …পূর্ণেন্দুর মাথাটা ক্ষণিকের জন্যে থামল। তখন স্ট্যাচুর গলার কাছে তার মাথা। মুখটা উঁচু হয়ে আছে। মূর্তিটা যেন নড়ে উঠল, দুলে গেল। তবে কি প্রাণ পেয়েছে নিরেট পাথর? কিন্তু না। মর্মর মূর্তি তেমনই প্রাণহীন, স্থির। পূর্ণেন্দুই বেড় দিয়ে আরো কিছুটা উঠে গেল। আর স্পষ্টই দেখলাম, দুটি নিষ্প্রাণ ওষ্ঠে একটি আবেগতপ্ত ওষ্ঠ মিশে গেল। চাঁদের স্বচ্ছ শুভ্র আলোয় সব রহস্যই অনাবৃত হয়ে গেল, এই নির্জনে এমন দিনে।

    মোহিত এগুতে যাচ্ছিল। হাত ধরে ফেললাম তার। নিশ্বাসের সুরে বললাম, ফিরে চল।

    —বল কি? পুরনো স্ট্যাচু, যদি টলে পড়ে যায়—যেভাবে দুলে উঠল।

    —যায় যাক্‌। ডোন্ট ডিস্টার্ব হিম। এস।

    মোহিতের হাত ধরে অতিসন্তর্পণে অনেকটা ব্যবধানে এসে থামলাম।

    —দেখলে তো? বললাম আমি।

    —পূর্ণেন্দুকে?

    —না, একটা ক্রিপারকে। কত সোহাগে, আদরে—কী নিবিড় ভালবাসায় পাকে পাকে জড়িয়ে ধরেছে—। হঠাৎ, অত্যন্ত হঠাৎই আমি থামলাম। থামতে বাধ্য হলাম।

    আমি থামলেও মোহিত থামল না। প্রশ্ন করলে, কাকে—চন্দ্রাকে?

    জবাব দেবার কিছু কী ছিল! হতে পারে চন্দ্রাকেই—রাজকুমারী চন্দ্রাকেই, অথবা দুর্লভ চন্দ্রার সুলভ স্মৃতিকেই। কিংবা একটি অবচেতন কামনাকেই।

    বধূ চন্দ্রা একে একে মোহর দক্ষিণা দিয়ে গুরু বিদায় করছিল। প্রশস্ত কক্ষ, ফুলের আলোয় উজ্জ্বল, গন্ধময়। আমি কাছে এলে নমস্কার করলে চন্দ্রা। মোহর দিলে হাতে। আর তার আয়ত সুন্দর কাজল কাল চোখ তুলে মৃদু সুরে বলল, উনি আসেননি?

    “ মাথা নাড়লাম। মিথ্যে করেই বললাম, ল্যাবরেটারিতে রয়েছে—কাজে মত্ত। কোনো হুঁশ নেই।

    রানী সুবর্ণসুন্দরী কখন যে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন—দেখিনি। তিনি বুঝি কথাটা শুনতে পেয়েছিলেন।

    —হুঁশ নেই! কার? ও, বটানির সেই পূর্ণেন্দুবাবুর কথা বলছেন। রানী সুবৰ্ণসুন্দরীর ঠোঁটের কোণে আশ্চর্য এক হাসি খেলে গেল, হুঁশ থাকে না কার, কাদের—? যাদের চেতনা নেই, যে-চেতনা রেসপন্ড্ করতে জানে না, তাদেরই। নয়কি চন্দ্রা? আর তোমার বটানির প্রফেসর তো একটা প্ল্যান্ট। উদ্ভিদ। ওর একটু অ্যানিমাল হওয়া উচিত ছিল। নয় কি?

    চন্দ্রার দুটি চোখের পাতা বুজে এল। ঘাড় হেঁট করল ও ধীরে ধীরে। রানী সুবৰ্ণসুন্দরী তেমনভাবেই, সেই ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে সব দেখলেন।

    তিনি কী দেখলেন জানি না। আমি দেখছিলুম ঝিলের সেই চাঁদের আলোছায়ার নির্জনতায়, একটি আশ্চর্য উদ্ভিদ-ভালবাসার অব্যক্ত বেদনা আর সুখকে। অনুভব করবার চেষ্টা করছিলুম, তেমন সুখ—যে-সুখে এমন স্তব্ধ রাতেও একটি লতা চুপি চুপি তার সবুজ ডগা তিল তিল করে বাড়িয়ে জড়িয়ে একটি অদ্ভুত কামনাকে প্রকাশ করছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখোয়াই – বিমল করভ
    Next Article খড় কুটো – বিমল কর

    Related Articles

    বিমল কর

    কাপালিকরা এখনও আছে – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    রাজবাড়ির ছোরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    ঘোড়া সাহেবের কুঠি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    সেই অদৃশ্য লোকটি – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    শুদ্ধানন্দ প্রেতসিদ্ধ ও কিকিরা – বিমল কর

    October 30, 2025
    বিমল কর

    কিকিরা সমগ্র ১ – বিমল কর

    October 30, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }