Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চাশটি ভূতের গল্প – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প437 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আতঙ্কের রাত

    সেদিন সকাল থেকেই মুষলধারায় বৃষ্টি হচ্ছিল। পথঘাট জলে ডুবে গিয়েছিল একেবারে। যানবাহন চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। অফিস কামাই করে ঘরে বসে ছিলাম! হঠাৎ সন্ধেবেলা অবনী এসে হাজির। ওর চুল উসকোখুসকো। চোখ দুটো লাল। কতদিন দাড়ি কামায়নি। বললাম, “কী ব্যাপার রে?”

    অবনী একটি কথাও না বলে আমার ঘরে ঢুকে সোফায় গা এলিয়ে চুপচাপ বসে রইল। অবনী আমার বন্ধু। ও একজন প্রেস ফোটোগ্রাফার। বিভিন্ন কাগজে ওর তোলা ফোটো ছাপা হয়। খুব স্মার্ট ও সুদর্শন যুবক। ত্রিবেণীতে গঙ্গার ধারে ওদের নিজেদের বাড়ি। সেখানেই থাকে এবং ডেলি প্যাসেঞ্জারি করে।

    অবনীর ওইরকম চেহারা দেখে বললাম, “তোর কী হয়েছে অবনী? এ কী চেহারা তোর!”

    অবনী তার করুণ চোখ দুটি তুলে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “আমি বোধ হয় বেশিদিন বাঁচব না রে!”

    “কেন, হঠাৎ এরকম মনে হওয়ার মানে?”

    অবনী বলল, “তুই ভূত বিশ্বাস করিস?”

    “না। তবে ভূতের নামে ভয় পাই। কিন্তু চাক্ষুষ দেখিনি বলে বিশ্বাস করি না।” “বাড়িতে আমি একদম টিকতে পারছি না। আজ কিছুদিন হল আমার ঘরে অদ্ভুত সব কাণ্ড হয়ে যাচ্ছে। আমার এত ভয় করছে যে, মনে হচ্ছে আমি আত্মহত্যা করি।” ওর কথায় শিউরে উঠলাম আমি। বললাম, “ছিঃ অবনী, ও-কথা মুখেই আনতে নেই।

    কাপুরুষের মতো আত্মহত্যা করতে যাবি কেন?”

    অবনী হঠাৎ বলল, “আচ্ছা, আমি পাগল হয়ে যাইনি তো?” আমি বললাম, “মনে হচ্ছে তাই হয়েছিস। যাক তোর ভাই কী

    “সে মাস দুই হল দুর্গাপুরে চাকরি পেয়ে চলে গেছে।”

    করছে?”

    “তুই তা হলে বাড়িতে একা?”

    “হ্যাঁ। কিন্তু বিশ্বাস কর, আজ কিছুদিন হল ও বাড়িতে আমি কিছুতেই থাকতে পারছি না। আমার বড় ভয় করছে। ওখানে আমি প্রতি রাতে আর একজনের অস্তিত্ব অনুভব করছি।”

    “কে সে!”

    “তা জানি না। তবে সে যে অশরীরী তা আমি বুঝতে পারি।”

    আমি নিজেই তখন স্টোভে জল গরম করে চা বসালাম। তারপর দু’বন্ধুতে চা খেয়ে একটু আয়েস করে গুছিয়ে বসলাম।

    অবনী বলল, “আমি ভাবছি কিছুদিন তোর এখানে থাকব। তোর কোনও অসুবিধে হবে না তো?”

    “না না, অসুবিধে হবে কেন? তবে আমার মনে হয় তোর আমার কাছে থাকার চেয়ে আমারই বরং তোর ওখানে থাকা ভাল।”

    “খবরদার। ওখানে কোনও মানুষ থাকতে পারে না। তুইও পারবি না। আমার মতো তুইও তা হলে পাগল হয়ে যাবি। আমি ভাবছি ও বাড়িটা বিক্রি করে অন্য কোথাও চলে যাব।”

    “তোর ভাই আপত্তি করবে না?”

    “বোধ হয় না। ওকে সব কথা জানিয়ে চিঠি দিয়েছি। সামনের মাসে ও সোজা তোর এখানে চলে আসবে। তারপর এইখানে বসে আলোচনার পর যা হয় একটা কিছু ঠিক করে নেব।”

    “ও বাড়িতে তোরা কতদিন আছিস?”

    “ওটা তো আমাদের পৈতৃক বাড়ি। আমার বা আমার ভাইয়ের জন্মই ও বাড়িতে।” “এর আগে আর কখনও ওরকম অস্তিত্ব অনুভব করেছিস?”

    “না, কখনও না। এমনকী দিন পনেরো আগেও না।”

    আমি কিছুক্ষণ গুম হয়ে বসে রইলাম। তারপর বললাম, “ঠিক কী কী হয় বল তো?”

    অবনী একবার হাতের ঘড়িটা দেখল। তারপর বলল, “তুই যখন নিজেই যেতে চাইছিস তখন আমার মনে হয় আমার কথা না শুনে সবকিছু তোর নিজের চোখেই দেখা বা অনুভব করা ভাল। কেননা আমার সব কথা তুই বিশ্বাস করবি কিনা তা তো জানি না। তবে তুই গেলে আমি খুব খুশি হব। কেননা আমিও দেখতে চাই আমার ঘরে আর একজনের উপস্থিতি সত্ত্বেও ওইসব ঘটে কিনা। যদি যাস তো এখুনি চল। লাস্ট ট্রেনটা পেয়ে যাব তা হলে।”

    আমি বললাম, “না। আজ এই দুর্যোগের রাতে নয়। কাল সকালে বরং যাব। তারপর দু-একদিন থেকে আবার তোকে সঙ্গে নিয়েই ফিরে আসব। যতদিন তোর ভাই না আসে ততদিন তুই আমার কাছেই থাকবি। এ অবস্থায় তোকে একা থাকতে দেওয়া ঠিক হবে না।”

    অবনী বলল, “তা হলে খুব ভাল হয় রে! আমার এখন মাথার ঠিক নেই। আমার ভাল-মন্দর ভার এখন তোর হাতেই ছেড়ে দিলাম। তবে এও জেনে রাখিস, আমি আর কোনওদিনই একা থাকতে পারব না। সবসময়ের জন্য আমার একজন সঙ্গী অবশ্যই চাই।”

    এরপর আমরা দু’জনে অনেক রাত পর্যন্ত গল্প করে কাটালাম। আলুভাজা আর গরম লুচি খেয়ে পাশাপাশি শুয়ে পড়লাম দু’জনে। শোওয়ার পরেই ঘুম। ঘুম যখন ভাঙল তখন বেশ সকাল হয়ে গেছে।

    ঘুম থেকে উঠে অবনী বলল, “ওঃ, কতদিন যে এমন আরামে ঘুমোইনি! আমার তো একদম ইচ্ছে করছে না ওই অভিশপ্ত বাড়িতে ফিরে যেতে।”

    আমি বাথরুমে গিয়ে মুখ-হাত ধুয়ে এসে বললাম, “তোর ওখানে যাওয়ার গাড়ি কখন?”

    ‘সেই বেলা একটায়।”

    “সে কী! সারাদিনে আর গাড়ি নেই?”

    “না। একটা ছিল সকালে, সেটা এতক্ষণে ছেড়ে গেছে।”

    তা যাক। বেলা একটার গাড়িই সই। দুপুরে খেয়েদেয়ে দু’জনে হাওড়া স্টেশনে এলাম। তারপর বারহারোয়া প্যাসেঞ্জারে তিনটের মধ্যেই ত্রিবেণী। সেখান থেকে রিকশায় চেপে গঙ্গার ধারে ওদের বাড়িতে। ছোট্ট দোতলা বাড়ি। অবনীর সঙ্গে আমাকে আসতে দেখে আশপাশের লোকেরা এবং দোকানদাররা চাপা গলায় ফিসফিস করে নিজেদের মধ্যে কী যেন বলাবলি করতে লাগল। আমি তখনকার মতো আড়চোখে সবকিছু দেখে নিলাম। তারপর অবনীদের বাড়িতে গিয়ে দোতলায় ওর শোওয়ার ঘরে ঢুকলাম। ওর ল্যাবরেটরি নীচে। একপাশে খোলা ছাদ। ওর ঘরের ভেতর থেকে গঙ্গা দেখা যায়। ছাদ থেকে শ্মশান।

    অবনীর বাড়িতে গিয়ে হাত-মুখ ধুয়ে চা-পর্ব শেষ করলাম। তারপর বললাম, “অবনী, আমি একবার আধঘণ্টার জন্য বাইরে যাচ্ছি। তুই একা থাকতে পারবি তো?”

    অবনী বলল, “তা পারব। এখন দিনের বেলায় তো কোনও ভয় নেই। যা কিছু উপদ্রব রাত্রে। তুই কিন্তু বেশি দেরি করিস না।”

    “না রে বাবা, না। তোকে একা রেখে আমি কখনও বেশিক্ষণ বাইরে থাকতে পারি?” আমি অবনীদের বাড়ি থেকে বেরোতেই পাশের বাড়ির একজন বয়স্কা মহিলা আমাকে ডাকলেন, “বাবা শোনো।”

    আমি কাছে গেলে বললেন, “তুমি অবনীর কে হও?”

    “আমি ওর বন্ধু হই। কেন বলুন তো?”

    “তুমি এসেছ খুব ভালই হয়েছে। হঠাৎ কী যে হল ছেলেটার! মাঝরাত্তির হলেই চিৎকার করবে আর ঘরময় ছুটোছুটি করবে। আমার মনে হচ্ছে কেউ কিছু খাইয়ে দিয়ে মাথাটা খারাপ করে দিয়েছে ওর। তুমি বাবা ওর ভাইকে একটা খবর দাও। আর পারো তো কোনও মানসিক রোগের ডাক্তার দেখাও।”

    “আমি সেইজন্যই এসেছি মা।”

    “বেশ করেছ বাবা। বেশ করেছ।”

    ভদ্রমহিলার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমি সেই দোকানগুলোর কাছে এলাম, যেখানে একটু আগেই ওকে দেখে সকলে ফিসফিস করে কীসব বলাবলি করছিল। আমি তাদের কাছে গিয়ে বললাম, “আচ্ছা আপনারা তো অবনীকে চেনেন, আমার বন্ধু হয়। একটু আগে আপনারা ওকে দেখে কীসব যেন ফিসফিস করে বলছিলেন। সেইজন্যই আমি আপনাদের কাছে এসেছি। কী ব্যাপার বলুন তো? আপনারা কি ওর মধ্যে কোনও ভাবান্তর লক্ষ করেছেন? আমি কিন্তু ওকে সম্পূর্ণ অপ্রকৃতিস্থ মনে করছি।”

    দোকানের লোকেরা বলল, “হ্যাঁ। আমরাও ওকে হঠাৎ এইরকম হয়ে যেতে দেখছি। এবং সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার কী জানেন? ও প্রায় রাতেই চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে যায়।”

    এমন সময় ওদের ভেতর থেকে একজন যুবক এগিয়ে এসে বলল, “দাদা, আমি এক রাতের একটা ঘটনার কথা বলব? শুনলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন। ভাববেন মিথ্যে কথা বলছি। আমার কথা এরা কেউ বিশ্বাস করে না। হাসে। মনে করে আমি বোধ হয় বানিয়ে বলছি।”

    “বেশ তো, শুনিই না কী ব্যাপার?”

    “শুনুন তবে। সেদিন রাতে অবনীদা যখন চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে যায় তখন আমি আর ওর পাশের বাড়ির বিষ্টুদা ছুটে যাই। কিন্তু গিয়ে যা দেখলাম তাতে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল।” “কীরকম!”

    অবনীদা নীচের দরজায় খিল দিয়ে ওপরের ঘরের দরজাও বন্ধ করে শোয়। সেদিন অবনীদার চিৎকার শুনে আমি আর বিষ্টুদা ছুটে গিয়ে নীচের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করতে থাকি। বেশ কিছুক্ষণ ধাক্কা দেওয়ার পর দেখলাম দরজার খিলটা কে যেন খুলে দিল। আমরা তরতর করে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে গিয়ে ওপরের দরজায় ধাক্কা দিলাম। অবনীদার সাড়া নেই। তারপর হঠাৎ যেন জাদুমন্ত্রবলে ওপরের ঘরের দরজাটাও খুলে গেল। আমরা ভেতরে ঢুকে দেখলাম অবনীদা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই, বাড়িতে অবনীদা একা থাকে সে বাড়ির বন্ধ খিল আমাদের ধাক্কাধাক্কির পর খুলে দিল কে?”

    আমি অবাক হয়ে বললাম, “স্ট্রেঞ্জ!”

    যুবকটি বলল, “অথচ আমার বা বিষ্টুদার এই কথা এখানকার কেউ বিশ্বাসই করতে চায় না।”

    আমি বললাম, “দেখুন, আপনার কথা কেউ বিশ্বাস করুক আর না করুক, আমি করছি। তাই বলছি, আজ রাত্রে আপনাদের ভেতর থেকে একজনও যদি কেউ আমাদের কাছে থাকেন তা হলে খুব ভাল হয়। আজ রাত্রে আমি নিজের চোখে দেখতে চাই এখানে কী হয় না হয়।”

    কিন্তু না। আমার কথায় রাজি হল না কেউ। সবাই বলল, “না দাদা। ও বাড়িতে রাত্রিবাস কিছুতেই করছি না। বলা যায় না যদি সত্যিই ভৌতিক ব্যাপার কিছু হয়, তা হলে কার কোপ কার ঘাড়ে চাপে। তবে হ্যাঁ, যদি সেরকম ভয়াবহ কিছু দেখেন তা হলে চেঁচিয়ে ডাকবেন আমাদের। আমরা একজন নয়, সবাই ছুটে যাব। আর পারেন তো দরজার খিলটা খুলে রাখবেন।’

    আমি ‘আচ্ছা’ বলে চলে এলাম।

    আমি যখন ফিরে এলাম তখন দেখি অবনী ছাদের আলসের ধারে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। আমি এসে বললাম, “কী রে, একা থাকতে ভয় করেনি তো?”

    অবনী ঘাড় নেড়ে বলল, “না। তবে মনে খুব একটা সাহসও পাচ্ছিলাম না। তাই বদ্ধ ঘরে

    না থেকে খোলা ছাদে এসে বসে আছি।”

    “বেশ করেছিস। এখন চল দেখি গঙ্গার ধার থেকে একটু বেড়িয়ে আসি।”

    “কোথাও নয়। ওই দেখ, আকাশের অবস্থা। এই নামল বলে!”

    “তা হলে চল ঘরে বসে রাতের খাওয়াটা তৈরি করা যাক।”

    “কী খাবি বল?”

    “স্রেফ ডিমের ঝোল আর গরম ভাত।”

    আমরা দু’জনে ঘরে ঢুকে স্টোভ ধরিয়ে ভাত বসালাম। সন্ধে উত্তীর্ণ হয়ে রাত্রি হল। ভাত হয়ে গেলে ডিমসেদ্ধ বসাচ্ছি তেমন সময় শুরু হল প্রবল বর্ষণ। সে কী প্রচণ্ড বৃষ্টি! গতকালের রেকর্ড বৃষ্টিকেও যেন হার মানায়।

    করলাম, “অন্যদিন কি এমন সময় উৎপাত আরম্ভ হয়?”

    এরই মধ্যে আমি জিজ্ঞেস “কোনও ঠিক নেই। কখনও সন্ধের পর থেকেই হয়, কখনও মাঝরাতে। অবশ্য তুই থাকার জন্য যদি না হয় তা হলে আলাদা কথা।”

    আমি নিজের মনেই নানারকম কল্পনা করতে লাগলাম, এখানে কী ঘটে না ঘটে তাই নিয়ে। অবনী এখনও পর্যন্ত আমাকে কিছুই বলেনি।

    রাত তখন দশটা। এ পর্যন্ত সময়টা বেশ নিরুপদ্রবেই কাটল। আমি আর অবনী একই তক্তাপোশে একই বিছানায় দু’জনে পাশাপাশি শুলাম। শুয়ে গল্প করছি, এমন সময় হঠাৎ লোডশেডিং হয়ে গেল। আর সঙ্গে সঙ্গে অবনী আমার কাছ ঘেঁষে সরে এসে বলল, “এইবার, এইবার সে আসবে। নিশ্চয়ই আসবে।”

    “কে? কে আসবে?”

    অবনী চিৎকার করে উঠল, “ওই। ওই তো সে। ওই দ্যাখ।’

    আমি শুয়ে-শুয়েই জানলার দিকে তাকালাম। দেখলাম জানলার ঘষা কাচে ফ্রক পরা চোদ্দ-পনেরো বছরের একটি কিশোরী মেয়ে এলোচুলে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি কঠিন গলায় বললাম, “কে তুমি!”

    মেয়েটি নিরুত্তর।

    এমন সময় ফুস করে একটা দেশলাই জ্বালার শব্দ হল। তারপরই দেখা গেল টেবিলের বাতিটা জ্বলছে। এ ঘরে আমি আর অবনী ছাড়া আর কেউ তো নেই। তা হলে কে জ্বালল এই বাতি?

    কে? কে সেই অশরীরী?

    ততক্ষণে ছায়ামূর্তি মিলিয়ে গেছে।

    আমরা দু’জনেই ভয়ে কাঠ।

    চারদিক নিস্তব্ধ। নিঝুম। অবনী যেন নীল হয়ে গেছে।

    আমার সারা শরীর ঘেমে উঠল।

    এমন সময় দেখতে পেলাম একটা হাত সেই বাতিটা তুলে নিল। নিয়ে দরজার কাছ পর্যন্ত গেল। তারপর কোমল গলার একটি ডাক শোনা গেল, “এসো।”

    আমি অবনীকে বললাম, “আয় তো, কোথায় নিয়ে যায় ও দেখি।”

    অবনী বলল, “না না। খেপেছিস? ও আমায় রোজ ওইভাবে ডাকে। আমি যাই না।”

    “আয়। আয় বলছি।”

    “আমার বড় ভয় করছে।”

    “ভয় কী? আজ তুই একা নয়। আমি তো আছি সঙ্গে। আয়।”

    আমি প্রায় জোর করেই ওর হাত ধরে টেনে তুললাম। তারপর টর্চটা নিয়ে দরজার দিকে এগোলাম। দরজার খিল আপনা থেকেই খুলে দরজাটা দু’হাট হয়ে গেল।

    আলো আমাদের পথ দেখিয়ে চলল।

    সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামল আলোটা। তারপর নীচের ঘরের দরজার কাছে গেল। যে ঘরে অবনীর ল্যাবরেটরি সেই ঘরের কাছে থামল আলোটা।

    ঘরে তালা দেওয়া ছিল। তালাটা আপনিই খুলে গেল।

    আমরা দু’জনেই ঘরে ঢুকলাম।

    বাতিটা টেবিলের ওপর রেখে হাতটা অদৃশ্য হয়ে গেল। আর কারও অস্তিত্বও রইল না সেখানে।

    আমি বললাম, “কী হল? কথা কও। কথা কইছ না কেন? বলো তুমি কে?” অবনী যেন পাথর।

    আমারও হাত-পা অবশ হয়ে আসছে।

    এমন সময় শুনতে পেলাম সেই কিশোরীর কণ্ঠস্বর, “আমাকে কেন এখানে নিয়ে এসেছ? আমাকে মুক্তি দাও। আমাকে বন্দি করে রেখো না। তোমাদের দু’টি পায়ে পড়ি।” আমি ভয়ে-ভয়েই বললাম, “কে তুমি!” “আমি শ্যামা।”

    “তুমি কোথায়? কে তোমাকে বন্দি করে রেখেছে?”

    “আমাকে দেখতে পাচ্ছ না? এই তো আমি। আমি এখানে।”

    কণ্ঠস্বর শুনে ঘরের কোণের দিকে তাকিয়ে দেখলাম সেই কিশোরীর জোৎস্নার মতো হালকা শরীর অন্ধকারে ফুটে উঠল। কী করুণ তার মুখ। সে একটু একটু করে তার ছায়া শরীর নিয়ে অবনীর টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল। তারপর ড্রয়ার টেনে একটা খাম বের করে টেবিলের ওপর রাখল। রেখেই আবার মিলিয়ে গেল অন্ধকারে।

    আমি টেবিলের কাছে এগিয়ে গিয়ে খামটা খুলতেই তার ভেতরে এই কিশোরীর একটি ফুল সাইজের ফোটো দেখতে পেলাম। ফোটোর দিকে তাকিয়ে আছি, হঠাৎ দেখলাম ফোটোর ছবির মুখটা কীরকম যেন বিকৃত হয়ে যাচ্ছে। ঠোঁট দুটো কাঁপছে। চোখ দুটো ঠেলে বেরিয়ে আসছে।

    উঃ, কী বীভৎস দৃশ্য ! আরও দেখলাম ছবির গলার ওপর একটা মোটা শক্ত দড়ির দাগ ফুটে উঠছে ক্রমশ। এক সময় ফোটোর ভেতর থেকে মেয়েটি চিৎকার করে বলে উঠল, “এখনও হাঁ করে দাঁড়িয়ে দেখছ কী? আমার কষ্ট হচ্ছে না বুঝি? আমি যে আর সহ্য করতে পারছি না। তোমরা এখুনি এটাকে নষ্ট করে দাও। ছিঁড়ে কুটি কুটি করে আগুনে পুড়িয়ে দাও।”

    আমি বললাম, “তা হলেই কি তোমার মুক্তি হবে?”

    “হ্যাঁ। চিরতরে মুক্তি পাব আমি। আমি যে আমার অস্তিত্ব পৃথিবীতে কোথাও এতটুকুও রেখে যেতে চাই না।”

    “কিন্তু কেন চাও না?”

    “সে তোমাদের জানবার দরকার নেই। শুধু জেনে রেখো, যাদের ওপর অভিমান করে আমি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছি, তাদেরই দেওয়ালে ছবি হয়ে আমি কিছুতেই থাকতে পারব না।”

    আমি সঙ্গে-সঙ্গে ছবিটি ছিঁড়ে দেশলাই জ্বেলে পুড়িয়ে ফেললাম।

    অবনীকে বললাম, “এই ফোটো তোর তোলা?”

    “হ্যাঁ। বছর দুয়েক আগে তোলা। চুঁচুড়ার হরিবাবুর মেয়ের ছবি ওটা। ওর জন্মদিনে তুলেছিলাম। কিছুদিন আগে হরিবাবু কাঁদতে কাঁদতে এসে আমার হাত দুটি ধরে মেয়ের ছবিটি চাইলেন। জানালেন, গত মাসে সামান্য একটু ভুল বোঝাবুঝির ব্যাপার নিয়ে মেয়েটিকে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী খুব বকাবকি করেন। তারপরেই বিপর্যয়। মেয়েটি হঠাৎ গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে।”

    “কিন্তু বছর দুই আগে যে ছবি তোলা হয়েছিল সে ছবি হরিবাবু এতদিন বাদে নিতে এলেন কেন?”

    “বছর দুই আগে ছবিটা আমি তুলেছিলাম ঠিকই, তবে ছবি তোলার পর থেকে হরিবাবু টাকা দেওয়ার ভয়ে আমার সঙ্গে আর দেখা করেননি। আমিও ফোটোর নেগেটিভ ওয়াশ করে রেখে দিয়েছিলাম। এখন মেয়ের স্মৃতিরক্ষা করবার জন্য হরিবাবু ডবল চার্জ দিয়ে ছবি নিতে এসেছেন। সম্পূর্ণ টাকা দিয়েও গেছেন। কিন্তু মুশকিল হল হরিবাবুর কাছ থেকে টাকা নিয়ে নেগেটিভটা কোথাও আমি খুঁজে পাচ্ছিলাম না! অবশেষে অনেক খোঁজাখুঁজির পর নেগেটিভ পেলাম। কিন্তু নেগেটিভ থেকে এই ফোটো তৈরি করতে গিয়েই যত বিপত্তি৷ বারবার নেগেটিভের ভেতর থেকে, ফোটোর ভেতর থেকে মেয়েটি আমায় শাসাতে থাকে। ভয় দেখায়। সেজন্য নীচের ঘরে ঢোকাই আজকাল আমি বন্ধ করে দিয়েছিলাম।”

    “সেই নেগেটিভটা আছে?”

    “আছে।”

    “দেখি।”

    অবনী নেগেটিভটা আমার হাতে দিতেই আমি সেটাকেও অগ্নিদগ্ধ করলাম। তারপর ধীরে ধীরে টর্চের আলোয় পথ দেখে দরজা বন্ধ করে ওপরে এলাম।

    সারারাত ঘুম এল না। শুয়ে শুয়ে অনেক গল্প করলাম দু’জনে। বৃষ্টির বেগও কমল। ভোরবেলা চা করে খেলাম। ভোরের আগে কারেন্টও এসে গেল।

    অবনীকে বললাম, “আজ একবার সময়মতো হরিবাবুকে টাকাটা তুই ফেরত দিয়ে আসবি। কেমন? বলবি, নেগেটিভটা হারিয়ে গেছে।” অবনী বলল, “নিশ্চয়ই।”

    এর পরও অবনীর বাড়িতে আমি দিনদশেক ছিলাম। কিন্তু না। সে রাতের পর থেকে আর কোনও উপদ্রবই ও-বাড়িতে হয়নি। এখনও না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদশটি কিশোর উপন্যাস – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    Next Article দুয়ে শূন্য বিষ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    পাণ্ডব গোয়েন্দা সমগ্র ১ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    দুয়ে শূন্য বিষ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    দশটি কিশোর উপন্যাস – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }