Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চাশটি ভূতের গল্প – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প437 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রেত আতঙ্ক

    তখন শীতকাল। কোনও এক ছুটির দুপুরে আমি নবনির্মিত দোতলার ঘরে শুয়ে পত্রপত্রিকার পাতা ওলটাচ্ছি, এমন সময় আমার এক বন্ধু তারক এসে বলল, “এই দ্যাখ! এটা দেখেছিস? আজকের কাগজে বেরিয়েছে।”

    আমি চেয়ে দেখলাম, খবরের কাগজে ‘সম্পত্তি বাড়ি জমি’ বিভাগে ছোট্ট একটি বাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনের হেডিং হচ্ছে ‘ভুতুড়ে বাড়ি’। নীচে লেখা আছে : ‘ঘাটশিলায় কাশীদা অঞ্চলে আমাদের সাবেক কালের বাড়িটা ভূতের উপদ্রবের জন্য বেচে দিতে চাই। সম্পূর্ণ খালি বাড়ি। সামান্য আসবাবপত্র যা আছে তা সমেত বাড়িটার দাম পাঁচ হাজার টাকা। সব জেনেশুনে যদি কেউ কিনতে চান, নীচের ঠিকানায় যোগাযোগ করুন।’

    আজ থেকে বছর তিরিশ আগে যে সময়কার কথা বলছি তখন পাঁচ হাজার টাকার দাম ছিল অনেক। কাজেই পাঁচ হাজারে যখন বাড়িটা বিক্রি হচ্ছে তখন নিশ্চয়ই বেশ বড় বাড়ি আমি কাগজটা রেখে উঠে বসে বললাম, “বেশ অভিনব বিজ্ঞাপন তো! আর বাড়ির মালিকও খুব সৎ লোক মনে হচ্ছে। কেননা তিনি যখন সবকিছু জানিয়েই বাড়িটা বিক্রি করছেন তখন নিশ্চয়ই কোনও জোচ্চুরি বুদ্ধি তাঁর নেই। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, দেখে আমাদের লাভ কী? এত টাকা তো আমাদের নেই যে, এই বাড়ি আমরা কিনব। অতএব কিনবে কে?”

    তারক বলল, “বাড়ি কেনার লোকের কি অভাব আছে রে! মোহনের জ্যাঠামশাই একবার ঘাটশিলায় বাড়ি কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এখন বিজ্ঞাপনটা তাঁকে দেখালে নিশ্চয়ই তিনি রাজি হয়ে যাবেন। আর ভৌতিক ব্যাপারস্যাপার যেগুলো, সেগুলো তাঁকে যুক্তিতর্ক দিয়ে নস্যাৎ করিয়ে দিলেই হবে। মোদ্দা কথা হচ্ছে, এই সুযোগে ঘাটশিলাটা একবার ঘুরে আসা।”

    প্রস্তাবটা চানাচুরের মতোই মুখরোচক। বললাম, “আরে ব্বাঃ। বেশ বলছিস তো! চল তবে। এখুনি যাই।” আমরা দু’জনে তখন খবরের কাগজের ওই অংশটার ওপর লাল পেনসিলে দাগ দিয়ে শিবপুরে মোহনদের বাড়ির দিকে চললাম। ওদের বাড়িতে গিয়ে মোহনকেও পেয়ে গেলাম অপ্রত্যাশিতভাবে। আসলে ছুটির দিন তো! এই সময়টা খেয়ে দেয়ে সবাই একটু বিশ্রাম করে। মোহনকে কাগজটা দেখাতে ও একটু অবাক হয়ে গেল। তারপর বলল, “বেশ মজার ব্যাপার! ভূতের বাড়ি এই কথা আগে থেকে জানিয়ে কেউ আবার বিজ্ঞাপন দেয় নাকি? লোকটার মাথাখারাপ নেই তো! না কি বিজ্ঞাপনটাই ফল্স?” তারক বলল, “দেখ মোহন, এটা যখন বিজ্ঞাপন তখন ফল্স এটা কিছুতেই নয়। কেননা কার এত টাকা আছে যে, খরচা করে এইসব ফাজলামি করতে যাবে?”

    মোহন বলল, “তা ঠিক। তবে জ্যাঠামশাই যা ভিতু লোক, তাতে এ বাড়ি উনি কিনতেই চাইবেন না।”

    তারক বলল, “আরে বাবা বুঝছিস না কেন, ভূতটুত ওসব বাজে। আসলে ভদ্রলোকের সম্পত্তি অনেক। বিক্রি করতে চাইছেন কিন্তু খদ্দের পাচ্ছেন না। কাজেই এই চমক লাগানো বিজ্ঞাপনে কিছু লোকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছেন। অনেক লোক তো আছে ভূতের নামে হাড়ে চটা, তাদেরই ভেতর থেকে কেউ হয়তো জেদ করে বাড়িটা কিনেই ফেলল।”

    “এটা অবশ্য মন্দ বলিসনি। ঠিক আছে, এসেছিস যখন বোস তোরা। জ্যাঠামশাই সবে শুয়েছেন। উঠলেই খবরটা দিচ্ছি। তারপর বাড়ি কেনা হোক না হোক দেখতে যাওয়ার ছলে দু-চারদিন ঘাটশিলা থেকে ঘুরে আসা যাবে’খন।”

    তারক বলল, “আমিও তাই বলি। তোর জ্যাঠামশাইকে যেভাবেই হোক তুই রাজি করা। আমাদের তিনজনের তা হলে রথ দেখা কলা বেচা দুই-ই হবে। আর যদি সম্ভব হয় তো এক রাত ভূতের বাড়িতে কাটিয়েও আসতে পারব আমরা। ভূত সম্বন্ধে একটা অভিজ্ঞতাও হবে আমাদের।”

    সেই দুপুরটা আমরা তিনজনে এক নতুন আনন্দে চুটিয়ে গল্প করে কাটালাম। তারপর বিকেলবেলা খবরের কাগজটা মোহনের জ্যাঠামশাইকে দেখাতেই লাফিয়ে উঠলেন তিনি, “না না। ও বাড়ি আমি কিনব না। আমি টাকা দিয়ে জিনিস কিনব, ওইসব ঝামেলার মধ্যে কেন যাব আমি? তা ছাড়া তোমরা আজকালকার ছেলেরা ভূতপ্রেত মানো না বটে, কিন্তু আমি মানি। কেননা আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে অনেক সময় ভূতের অস্তিত্ব অনুভব করেছি। তাই বলি, কী দরকার বাবা, ওইসবের মধ্যে যাওয়ার? তবে ঘাটশিলায় একটা বাড়ি কেনবার ইচ্ছে আমার আছে। আমি বরং তোমাদের কিছু টাকা দিচ্ছি, তোমরা তিনজনে দিনকতক ঘাটশিলা থেকে ঘুরে এসো। আর যদি কোথাও ভাল কোনও বাড়ির খোঁজখবর পাও তো দেখে এসো। পরে দরদাম করে কেনা যাবে।”

    আমরা তাতেই রাজি হয়ে মনের আনন্দে ঘাটশিলা যাওয়ার তোড়জোড় করতে লাগলাম।

    পরদিন বেলা এগারোটায় নাগপুর প্যাসেঞ্জারে (বর্তমানে কুরলা এক্সপ্রেস) চেপে আমরা ঘাটশিলার দিকে রওনা হলাম। সন্ধের পর যখন স্টেশনে নামলাম তখন চারদিকে ঘুটঘুট করছে অন্ধকার। ঘাটশিলা তখন এখনকার মতো শহর নয়। একেবারে বুনো জায়গা ছিল। স্টেশনের কাছেই একটি চায়ের দোকানে খোঁজখবর নিয়ে চার-পাঁচদিনের জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করে ফেললাম আমরা।

    রাতটা ভাড়াবাড়িতে কাটিয়ে পরদিন সকালে আমরা তিনজনে যুক্তি করে সেই ভূতের বাড়িটাই দেখতে চললাম। ঠিক হল বাড়ি যদি পছন্দ হয় তা হলে ওই বাড়িই জ্যাঠামশাইকে রাজি করিয়ে কেনাব আমরা। আর যদি না হয় তা হলে এক রাত ওই বাড়িতে থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে ফিরে আসব।

    খবরের কাগজে দেওয়া ঠিকানার খোঁজ করে আমরা রাজবাড়ির কাছে বিজ্ঞাপনদাতার বাড়িতে এসে উপস্থিত হলাম। ভদ্রলোকের নাম সিন্ধুবাবু। কৃপাসিন্ধু রায়। বেশ অভিজাত পরিবারের লোক বলে মনে হল। আমরা যখন তাঁর বাড়িতে গিয়ে পৌঁছলাম তখন সকাল ন’টা। বাড়ির চাকর এসে আমাদের বৈঠকখানার ঘরে বসতে বলল। আমরা বসলাম। একটু পরেই সর্বাঙ্গে শাল মুড়ি দিয়ে মধ্যবয়সী সিন্ধুবাবু এসে বসলেন আমাদের সামনে। তারপর স্মিত হেসে বললেন, “কোথা থেকে আসছেন আপনারা? আপনাদের পরিচয়?”

    তিনজনের হয়ে আমিই বললাম, “আমরা হাওড়া থেকে আসছি। আমার এই বন্ধুটি খবরের কাগজে আপনার দেওয়া বিজ্ঞাপন দেখে ওই বাড়িটা কিনতে চান। অবশ্য বাড়িটা যদি পছন্দ হয়।”

    “কিন্তু ওটা তো ভূতের বাড়ি। ও বাড়ি কিনে কী করবেন আপনারা?”

    “ভূতের বাড়ি সেটা তো আমরা জেনেই আসছি। আর কিনতে চাই এই কারণে যে, ও বাড়িতে আমরা বরাবরের জন্য থাকতে আসছি না। ভূতের বাড়ি ভূতেরই থাকবে। আমরা শুধু মাঝেমধ্যে দিনকতকের জন্য এসে একটু উপদ্রব করে যাব।”

    সিন্ধুবাবু একটু গম্ভীর হয়ে বললেন, “ঠিক আছে, একটু বসুন আপনারা। আপনাদের চা জলখাবার আসছে। তারপর আমার একজন লোক গিয়ে আপনাদের দেখিয়ে আনবে বাড়িটা।”

    খানিক বসবার পরই চাকর এসে এক প্লেট করে গরম হালুয়া এবং ধূমায়িত চা এক কাপ করে রেখে গেল আমাদের সামনে। আমরা তিনজনেই খেয়ে নিলাম সেগুলো। তারপর সিন্ধুবাবুর লোকের সঙ্গে চললাম বাড়ি দেখতে। কাশীদা এখান থেকে অনেক দূরে। তবুও আমরা পায়ে হেঁটেই দেখতে গেলাম বাড়িটা।

    সিন্ধুবাবুর যে লোক আমাদের বাড়ি দেখাতে নিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁর নাম রাখালদা। রাখালদা যেতে যেতে বললেন, “আপনারা কলকাতা থেকে আসছেন তো? তা বলছিলাম কি—।”

    মোহন বাধা দিয়ে বলল, “না রাখালদা। আমরা মোটেই কলকাতার লোক নই। আমরা হাওড়ার লোক। শিবপুরের বাসিন্দা। হাওড়া থেকেই আসছি।”

    “সে যেখানকারই লোক হোন না কেন, হাওড়া আর কলকাতা একই ব্যাপার। তা বলছিলাম কি, এ বাড়ি আপনারা কিনবেন না। দারুণ উপদ্রব এ বাড়িতে। আজ পর্যন্ত কেউ এক রাতও টিকতে পারেনি এখানে।”

    ‘সে কী!”

    “এসব বাড়ি দিনমানে ব্যবহারের জন্য অর্থাৎ অফিস কাছারি ইত্যাদির জন্যই ভাল। কিন্তু থাকার পক্ষে এ বাড়ি উপযুক্ত নয়।”

    “কেন বলুন তো?”

    “শুনুন তবে। সিন্ধুবাবুরা এই অঞ্চলের অত্যন্ত প্রতিপত্তিশালী লোক। ঘাটশিলা এবং এর আশেপাশে বেশ কয়েকটি বাড়ি আছে এদের। কাশীদার এই বাড়িটি সিন্ধুবাবুদের সাবেককালের বাড়ি। ওঁর কাকা আর কাকিমার মধ্যে প্রায়ই খুব ঝগড়াঝাটি হত। এই বিবাদসূত্রেই সিন্ধুবাবুর কাকা এক রাতে আগুনে পুড়ে আত্মহত্যা করেন। সেই থেকেই উপদ্রব। তা উপদ্রব এমনই চরম পর্যায়ে পৌঁছল যে, কাকিমা ঠিক করলেন গয়ায় গিয়ে পিণ্ডি দিয়ে আসবেন। কিন্তু সেখানেও নানা ঝামেলা। যাত্রাপথে ট্রেনের কামরাতেই কাকিমা স্বপ্ন দেখলেন, কাকাবাবু তাঁকে ভয় দেখিয়ে গয়ায় যেতে মানা করছেন। কিন্তু সেই স্বপ্নকে তিনি আমল না দিয়েই গয়ায় নেমে পাণ্ডা ঠিক করে সর্বাগ্রে চললেন প্রেতশিলায় পিণ্ডি দিতে। আর সেই সময়েই টাঙ্গা গেল লরির ধাক্কায় উলটে। কাকিমা পায়ের হাড় ভেঙে হাসপাতালে গেলেন। পিণ্ডি দেওয়া তো হলই না, উলটে ছ’মাসের ওপর হাসপাতালে থেকে ভাঙা পা নিয়ে ফিরে এলেন ঘাটশিলায়। তারপর একদিন ছাদ থেকে পড়ে তিনিও মারা যান। সেই থেকে ওই বাড়িতে যে কেউ থাকতে গেছে সে-ই নানারকম ভয় পেয়ে পালিয়ে এসেছে।”

    “বলেন কী!”

    “হ্যাঁ। রাতদুপুরে এমন সব কাণ্ডকারখানা হয় ও বাড়িতে যে, কোনও সুস্থ মানুষের পক্ষে তা চোখ মেলে দেখার ব্যাপার নয়। একবার টাটানগর থেকে একদল ছেলে জোর করে ওই বাড়িতে থাকবে বলে এসেছিল, কিন্তু পরদিন সকালে তাদের কাউকেই আর দেখা যায়নি এখানে।”

    “সে কী! ভূতেরা খেয়ে ফেলল নাকি তাদের?”

    “না। রাত শেষ হওয়ার আগেই তারা পালিয়ে বাঁচে। এবং পরে টাটানগর থেকে চিঠি দিয়ে পালিয়ে আসার কারণও জানায়।”

    “কী কারণ?”

    “তা বলতে পারব না। তাই বলছিলাম, কী দরকার ও বাড়ি নিতে যাওয়ার? এর চেয়ে বাড়ি যদি সত্যিই কেনেন তো আমি একটা বাড়ির সন্ধান দিই আপনাদের।”

    মোহন বলল, “বেশ তো, আগে দেখিই না এ বাড়িটা। তারপর যদি পছন্দ না হয় তখন আপনার বাড়িটাও দেখে আসা যাবে।”

    এইভাবে কথা বলতে-বলতেই আমরা সেই বাড়ির কাছে এসে পৌঁছলাম। দূরে পাহাড়ের সারি। ছোট ছোট টিলা। ঘন শালবন। কী চমৎকার। তারই মধ্যে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক পরিবেশে একটি পাঁচিলঘেরা মস্ত দোতলা বাড়ি। বহুদিনের পুরনো। তবু আজও ব্যবহারযোগ্য।

    তালা খুলে আমরা ভেতরে ঢুকলাম। বহুদিন ঘরে ঝাঁট পড়েনি। বাগানটা আগাছায় ভরা। এই বাড়ির পাঁচ হাজার টাকা দাম মানে জলের দাম। কেননা অনেক জায়গা। বড় বড় ঘর। ছোটখাটো প্রাসাদ একটা। বাড়িটার রিপেয়ারিং কস্টই পাঁচ হাজারের অনেক বেশি। এর আশপাশে অবশ্য কোনও বাড়ি নেই। যা আছে সবই দূরে দূরে। আমরা বাড়িতে এসে নীচে-ওপর করে সব ঘরগুলো ঘুরেফিরে দেখলাম। বসবাসের জন্যই হোক আর অবসর বিনোদনের জন্যই হোক, এর চেয়ে লোভনীয় বাড়ি সত্যিই হতে পারে না।

    আমরা সবাই একমত হয়ে বললাম, “রাখালদা, আপনি যাই বলুন না কেন, এ বাড়ি আমরা কিনবই।”

    মোহন বলল, “শুধু তাই নয়, আজ থেকে যে ক’দিন আমরা ঘাটশিলায় আছি সে ক’দিন এই বাড়িতেই থাকব আমরা।”

    রাখালদা একটু মনমরা হয়ে বললেন, “যা আপনারা ভাল বোঝেন তাই করবেন। পরে যেন দোষ দেবেন না আমাদের। আর একটা কথা, এখানে আলোর কোনও কানেকশন নেই। দোকান থেকে একটা হারিকেন অথবা লণ্ঠন আনিয়ে রাখবেন।” এই বলে আমাদের হাতে চাবি দিয়ে চলে গেলেন রাখালদা।

    এর পর এক সময় আমরাও আমাদের সেই ভাড়াকরা বাড়িতে গিয়ে মালপত্তর যা ছিল নিয়ে চলে এলাম এখানে। তারপর সারাদিন ধরে এ-ঘর সে-ঘর নীচে-ওপর এই করতে লাগলাম। সম্পূর্ণ বাড়িটা আমাদের দখলে পেয়ে মনের ভাব এমনই হল, যেন বাড়িটা আমাদের হয়েই গেছে।

    ইতিমধ্যে আমাদের এই বাড়িতে আসতে দেখে কিছু কৌতূহলী মানুষও উঁকিঝুঁকি মারতে লাগল এদিক-সেদিক থেকে। আমরাও সবার জন্যই বাড়িটার অবারিত দ্বার রাখলাম। সবাই যখন শুনল আমরা এই বাড়ি কিনতে চাই তখন যারপরনাই অবাক হয়ে গেল সকলে। সবাই একবাক্যে বারণ করতে লাগল এই বাড়িতে না থাকা বা এই বাড়ি না কেনার জন্য। সবাই বলল, “বাড়িটা সত্যিই উপদ্রবের বাড়ি। নাহলে কখনও এত কম দামে এতবড় একটা বাড়ি এখানে এতদিন খালি পড়ে থাকে?”

    আমরা সব শুনলাম। শুনে বললাম, “তবুও আমরা নিজেরা একবার পরখ করে দেখতে চাই। যদি সেরকম খারাপ কিছু না ঘটে তা হলে এই বাড়িই আমরা কিনছি।”

    অবশেষে আমাদের জেদ দেখে দু-একজন একটু অন্য সুরে কথা বলল, “তা একান্তই যখন কিনবেন আপনারা তখন দু-এক রাত এখানে থেকেই দেখুন, বাড়িটার বদনাম আছে ঠিকই। তবে সচরাচর কেউ তো থাকে না। এইভাবে মানুষজন সাহস করে এলে, থাকতে থাকতে কী হয় কে বলতে পারে? দেখাই যাক না, এতদিনে ভূতের উপদ্রব একটু কমেছে কিনা?”

    কেউ বলল, “হ্যাঁ হ্যাঁ। সাহস করে থেকেই যান। তা ছাড়া আমরা যখন জেনে গেছি তখন আমরাও একটু সজাগ থাকব। যদি বেশি ভয়টয় পান তো ছাদে উঠে জোরে চেঁচাবেন। দলবেঁধে ছুটে আসব সবাই।”

    আমরা জানলা-দরজা বন্ধ করে ঘরে আলো জ্বেলে তিন বন্ধুতে এই নির্জন বাড়িতে সত্যিকারের ভূত এলে কীভাবে মোকাবিলা করব সেই নিয়ে আলোচনা করতে লাগলাম। অনেক রাত পর্যন্ত আলোচনা করে যখন দেখলাম সব ভোঁ ভাঁ তখন তক্তাপোশে পাতা বিছানায় মশারি খাটিয়ে আমরা তিনজনে জড়াজড়ি করে লেপচাপা দিয়ে শুলাম। শোওয়ার সঙ্গে-সঙ্গেই ঘুম।

    রাত তখন কত তা কে জানে! হঠাৎ ঝনঝন করে দরজার শিকল নাড়ার শব্দে ঘুম ভেঙে গেল আমাদের। শিকল নাড়তে নাড়তে কে যেন একজন ভারিক্কি গলায় বলল, “এই যে, কে আছেন ভেতরে? দরজা খুলুন।”

    আমরা তিনজনেই উঠে বসলাম।

    মোহন বলল, “কে!”

    “কে, তা দেখতেই পাবেন। দরজা খুলুন।”

    আমরা উঠে গিয়ে দরজা খুললাম। কিন্তু কী আশ্চর্য! কোথায় কে? সব ফাঁকা। দালানের দরজাটাও খিল দেওয়া। যেমনকার তেমনই আছে। কে তা হলে কীভাবে এসে ঘুম ভাঙাল আমাদের?

    ভয়ে বুকের রক্ত হিম হয়ে এল। একটা ঠাণ্ডা স্রোত নেমে এল পিঠের শিরদাঁড়া বেয়ে। আমরা আবার দরজা বন্ধ করে শুতে এলাম। কিন্তু এসে দেখি অসম্ভব ব্যাপার। এরই মধ্যে আমাদের তক্তাপোশটা ঘরের উলটোদিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এবং আমাদের বিছানাও দখল করেছে কারা। দেখলাম আমাদের লেপটা মুড়ি দিয়ে কারা যেন দু’জনে শুয়ে আছে। লেপটা এমনভাবে ঢাকা যে, মুখ দেখতে পাচ্ছি না তাদের। শুধু মাথা দুটো দেখা যাচ্ছে। আমরা যত জোরে লেপটা তাদের গা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলাম, তারা তত বেশি আঁকড়ে ধরতে লাগল লেপটাকে।

    অবশেষে অনেকক্ষণ টানাহেঁচড়ার পর লেপ আবার আলগা হয়ে গেল। বিছানা থেকে লেপটা উঠিয়ে নিয়ে দেখলাম কেউই নেই ভেতরে। আমরা তিনজনে আবার তক্তাে টাকে যথাস্থানে ফিরিয়ে এনে ফের লেপের তলায় ঢুকলাম।

    তারক বলল, “না ভাই, কাজটা ভাল করিনি। এতগুলো লোকের কথা ঠেলে এই বাড়িতে রাত কাটাতে এসে খুবই অন্যায় কাজ করেছি। এখন ভালয় ভালয় ফিরে যেতে পারলে বাঁচি। উঃ! কী সাংঘাতিক!”

    আমি তো ভয়ে কোনও কথাই বলতে পারলাম না।

    মোহন বলল, “সকালটা একবার হলে হয়! এর আগে সত্যি কথা বলতে কি, ভূতপ্রেত আমি বিশ্বাসই করতাম না। অথচ আজ যা দেখলাম একে মনের ভ্রম বলে উড়িয়ে দেওয়ার মতো মানসিকতাও আমার নেই। এ বাড়িতে আর এক মুহূর্তও থাকা উচিত নয়।”

    আমরা ভয়ে জড়সড় হয়ে আরও কিছু ঘটে কিনা দেখবার আশায় জেগে রইলাম। ঘুম তো এলই না, ঘুমোতে সাহসও হল না। ঘুমিয়ে পড়লে আবার যদি শিকল ঝনঝন করে? বেশ কিছুক্ষণ শুয়ে থাকার পর আমরা দালানে একটা খটখট শব্দ শুনতে পেলাম। মনে হল কে যেন চটি পরে পায়চারি করছে। দালানের এ প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত পর্যন্ত একবার যাচ্ছে, একবার আসছে। তারপর আবার সেই ঝনঝন করে শিকল নাড়ার শব্দ। সভয়ে আমরা তিনজনে তিনজনকে জড়িয়ে ধরলাম। কেউ আর উঠলাম না দরজা খুলতে। শিকল ঝনঝন করে বেজেই চলল। তারপরই শোনা গেল আবার আগের মতোই ক্রুদ্ধ কণ্ঠস্বর, “কারা আছে ঘরের ভেতর? দরজাটা এত করে খুলতে বলছি যে, দরজা খোলো।”

    কে খুলবে দরজা?

    আমরা তখন আতঙ্কে নীল হয়ে উঠছি ক্রমশ।

    কে-ই-বা যাবে দরজার কাছে? উঠে দাঁড়াবারও যে শক্তি নেই কারও!

    ক্রুদ্ধ কণ্ঠস্বর আবার শোনা গেল, “দরজা না খুললে কিন্তু ভয়ানক ব্যাপার হবে। খোলো বলছি। না হলে ভেঙে ঢুকব।” বলার সঙ্গে সঙ্গেই দরজায় দমাদ্দম লাথি পড়তে লাগল। অগত্যা উঠতেই হল।

    তিনজনে পা টিপে টিপে দরজার কাছে গিয়ে খিলটা খুলতেই দরজাটা সশব্দে দু’ হাট হয়ে খুলে গেল। মনে হল কেউ যেন ওদিক থেকে জোরে ধাক্কা দিয়ে খুলে দিল দরজাটা। সে কী দারুণ শব্দ। গোটা বাড়িটা কেঁপে উঠল বুঝি! কিন্তু তা না হয় হল। আবার তো সেই আগের মতোই ভোঁ ভাঁ। কেউ কোথাও নেই।

    এই শীতেও গায়ে ঘাম দিল তখন। এর পরে আর বিছানায় ফিরে যাওয়ার মতো মন বা সাহস নেই। সেখানেও তো ওই আগের মতোই খারাপ ব্যাপার ঘটবে। অর্থাৎ কিনা লেপ নিয়ে টানাটানি। কী যে করি! পরস্পর মুখ চাওয়াচাওয়ি করছি এমন সময় হঠাৎ আমাদের লণ্ঠনটা কে যেন আছাড় মেরে ভেঙে ফেলল ঘরের ভেতর। অন্ধকার, অন্ধকার—ঘন অন্ধকারে ঢেকে গেল চারদিক।

    আমরা সঙ্গে সঙ্গে মনস্থির করে ঘরে ঢুকে অন্ধকারেই হাতড়ে হাতড়ে যে যার জামা-প্যান্ট পরে নিলাম। মোহনের টর্চ ছিল। টর্চ জ্বেলে হাতঘড়িতে দেখে নিলাম রাত তখন আড়াইটে। এখনই পালাতে হবে এখান থেকে। নাহলে যে কোনও মুহূর্তে ভয়ানক একটা কিছু ঘটে যেতে পারে।

    ওদিকে বারান্দার দরজাতেও তখন দমাদ্দম লাথি পড়তে শুরু হয়েছে। লাথির পর লাথি, আর তার সঙ্গে সেই প্রচণ্ড ধমকানি, “খোলো বলছি, খোলো। নাহলে ভাল হবে না। শিগগির খুলে দাও।”

    আমরা কোনওরকমে দরজা খুলেই এক লাফে বাইরের বাগানে এসে পড়লাম। তারপর পেছন ফিরে দেখি দালানের দরজার কাছে আগুনে পোড়া ঝলসানো চেহারার এক বিকট মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে। মানুষ তাকে বলব না। মানুষ কখনও অত কুৎসিত হয় না। মানুষ কখনও অত দীর্ঘ হয় না। মানুষের চোখ দিয়ে কখনও অত আগুন বেরোয় না। আমরা বেশিক্ষণ চেয়ে থাকতে পারলাম না সেদিকে। বাগানের দরজার খিল খুলে বাইরে বেরিয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। অদূরে একটি আদিবাসী বস্তি ছিল। বাকি রাতটুকু সেখানে কাটিয়ে ভোরের ট্রেনেই হাওড়ায়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদশটি কিশোর উপন্যাস – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    Next Article দুয়ে শূন্য বিষ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    পাণ্ডব গোয়েন্দা সমগ্র ১ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    দুয়ে শূন্য বিষ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    দশটি কিশোর উপন্যাস – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }