Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চাশটি ভূতের গল্প – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প437 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কালো সেনের ক্ল্যারিওনেট

    হাওড়ার বিখ্যাত কালো সেনের নাম কে না শুনেছে? অতবড় একজন যাত্রাদলের ক্ল্যারিওনেট বাদক তখনকার দিনে আর কেউ ছিল না। কালো সেনের ক্ল্যারিওনেট ছাড়া জমতই না কোনও যাত্রার আসর। তা সেই কালো সেন একবার ভূতের পাল্লায় পড়েছিলেন। কীরকম? শোন তা হলে গল্পটা! আমি শুনেছিলাম আমার মামা, যাত্রা জগতের এক দিকপাল অভিনেতা, চণ্ডী ব্যানার্জির কাছ থেকে।

    সেবার মছলন্দপুরের কাছে কোনও এক গ্রাম থেকে যাত্রার বায়না এসেছিল আমাদের। কোনও এক গ্রাম বলছি এই কারণে যে, গ্রামের নামটা আমার ঠিক মনে নেই। তখন বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ মাস।

    প্রচণ্ড গরমের দিন। সেই গ্রামে চব্বিশ প্রহরার হরিসভা উপলক্ষে যাত্রা। আমরা সবাই শিয়ালদা থেকে ট্রেনে রওনা হলাম মছলন্দপুরের দিকে। কয়লার ইঞ্জিনের গাড়ি। ঝিকি ঝিকি ঝিকি ঝিকি করে ছুটে চলল গাড়িটা। আমাদের দলের সমস্ত অভিনেতা এবং অন্যান্য কলাকুশলীরা আছেন। নেই শুধু কালোদা। কালোদা আমাদের অনেক আগে সকালের গাড়িতে চলে গেছেন। তার কারণ এই লাইনেই কোথায় যেন তাঁর মেয়ের বাড়ি। তার সঙ্গে একটু দেখা করে মছলন্দপুর স্টেশনে হাজির হবেন এইরকমই কথা ছিল। তা ট্রেনে যেতে যেতে আমরা দেখতে পেলাম ঘন কালো একটা মেঘ ধীরে ধীরে আকাশটা ছেয়ে ফেলছে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়েছে তখন। কিন্তু সেই বিকেলেও যেন সন্ধের অন্ধকার ঘনিয়ে এল। তবে যে প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করছিলাম আমরা, তার থেকে কিন্তু অব্যাহতি পেলাম। খানিক বাদেই ঝড় উঠল। কালবৈশাখীর ঝড়। ঝড়ের গোঁ গোঁ শব্দে মনে হল, ট্রেনটাকেও উড়িয়ে নেবে বুঝি! আমরা ধুলোর হাত থেকে বাঁচবার জন্য ট্রেনের জানলার কাচ উঠিয়ে দিলাম। একটু পরেই শুরু হল বৃষ্টি। সেইসঙ্গে ন্যাপথলিনের মতো শিল। যতদূর চোখ যায় শুধু বরফের আস্তরণ। তবু তারই মধ্যে আমরা সন্ধের মুখে মছলন্দপুরে ট্রেন থেকে নামলাম।

    অত জল ঝড়েও দুটি গোরুর গাড়ি আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল। আমরা স্টেশনের ওয়েটিংরুমে গিয়ে বসতেই যাত্রার আহ্বায়করা এসে দেখা করলেন আমাদের সঙ্গে।

    বৃষ্টি তখনও পড়ছিল এবং বেশ ঝমঝমিয়ে। কাজেই সেই বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বেরনোর কোনও প্রশ্নই ছিল না। তবুও ওদের আহ্বায়ক দয়ালবাবু বললেন, “মহাশয়গণ ! আপনারা যে সেই কলকাতা থেকে এতদূরে গাওনা গাইতে এসেছেন এতে আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তবে দোহাই আপনাদের, এই দুর্যোগ দেখে ফিরে যাবেন না যেন। আজ রাতে না হয় কাল রাতেও গাওনা আমাদের হবেই। দুর্যোগের ব্যাপারে আমাদের তো কোনও হাত নেই। এসব হচ্ছে গিয়ে বিধির বিধান। তাই—”

    আমরা বললাম, “না না। ফিরে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। সে ব্যাপারে আপনারা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে আমাদের কালোদাকে নিয়ে। কালো সেনের ক্ল্যারিওনেট ছাড়া আমাদের যাত্রা তো জমবে না। তা সেই কালোদাই যে নেই।” “আসেন নাই তিনি!”

    “না। এইখানেই কোথায় যেন তাঁর মেয়ের বাড়ি। উনি সকালের গাড়িতে মেয়ের বাড়িতে “

    এসেছেন। কথা ছিল এই গাড়িতেই উনি আমাদের সঙ্গে এসে একসঙ্গে যাবেন। “তা। তার জন্য অবশ্য চিন্তার কিছু নেই। যা দুর্যোগ গেল তাতে মনে হয় উনি ঠিক সময়ে এসে ট্রেন ধরতে পারেননি।”

    “পরের গাড়ি কখন?”

    “সে তো রাত বারোটায়।”

    “সর্বনাশ! এখন তা হলে কী করা যাবে?”

    “চিন্তার কিছু নাই আপনাদের, বৃষ্টি থামলে আপনারা এগিয়ে চলুন। তারপর যদি উনি রাত বারোটার গাড়িতে আসেন তা হলে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা আমরা করে রাখব।” আমরা বললাম, “তা না হয় হল। কিন্তু যদি তিনি বারোটার গাড়িতেও না আসেন তা হলে? তা হলে কী হবে?”

    “কী আর হবে বাবু? মানুষের সুখ অসুখ তো আছেই। একান্ত উনি আসতে না পারেন ক্ল্যারিওনেট বাজাবার লোক আমরা আশপাশের গ্রাম থেকেই ধরে আনব। মনের মতো হয়তো হবে না আপনাদের, তবু কাজটা তো চালিয়ে দেবে।”

    আমরা এবার স্বস্তির নিশ্বাস ফেললাম। কেননা কালো সেনের ক্ল্যারিওনেট ছাড়া আমাদের যাত্রার দলকে কেউ যে মেনে নেবে তা কিন্তু ভাবতেই পারিনি।

    বেশ একটু রাত করেই বৃষ্টি থামল। বৃষ্টি থামলে আমাদেরও যাওয়ার পালা।

    তা আমরা যখন যাওয়ার তোড়জোড় করছি তখন আমাদের অধিকারী মশাই বললেন, “দেখুন মশাইরা, রাত যখন হয়েই গেল, আর আজ রাতে যাত্রা হওয়ার যখন কোনও সম্ভাবনাই নেই, তখন আর একটু অপেক্ষা করে কালোদার জন্য বারোটার গাড়িটা দেখেই যদি রওনা দিই তো ক্ষতিটা কী? আমার মনে হয় সেটা করাই ভাল ! তাতে কালোদার কাছে আমাদের আন্তরিকতাটা বেশ ভালভাবেই প্রকাশ পাবে।”

    অধিকারীর কথায় আমরা সবাই একমত। কেননা হাজার হলেও এটা একটা মানসিকতার ব্যাপার। এই দূর দেশে ভিন গাঁয়ে দুর্যোগের রাতে একজন মানুষের জন্য অপেক্ষা না করে তাকে একা রেখে স্বার্থপরের মতো চলে যাওয়াতে কারও সায় ছিল না ! তাই বারোটার গাড়ি পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করলাম।

    কিন্তু না। অপেক্ষা করাটাই সার হল আমাদের। বারোটার গাড়িতেও কালোদা এলেন না। এটা কিন্তু একটা অঘটন। কেননা কালোদার অনুপস্থিতি এবং মধ্যরাতে সূর্যোদয় দুটোই অসম্ভব ব্যাপার। তবে কি কালোদার কিছু হল? শরীর খারাপ করল না তো? হাই প্রেসারের রোগী। বলা তো যায় না!

    এমন সময় হঠাৎই এক চমকপ্রদ সংবাদ। এই ট্রেন থেকে এমন এক যাত্রী স্টেশনে নামলেন যিনি আমার পূর্বপরিচিত। আমাকে দেখেই একগাল হেসে বললেন, “আরে চণ্ডীদা! এত রাতে চললে কোথায়?”

    বললাম, “দেখতেই তো পাচ্ছ ভাই, যাত্রা গাইতে যাচ্ছি। তা জল ঝড়ের জন্য আটকে গিয়ে দেরি হয়ে গেল।”

    “কী আশ্চর্য! ঝড় জল তো অনেকক্ষণ থেমে গেছে।”

    “তা গেছে। তবে এর আগের গাড়িতে আমাদের সঙ্গে কালোদার আসার কথা ছিল। তিনি আসেননি। তাই লাস্ট ট্রেনের অপেক্ষায় কালোদার জন্য বসে ছিলাম আমরা।” “হায় কপাল! কালোদা আর আমি তো একসঙ্গেই এলাম। একই বগিতে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে একটুর জন্য আগের গাড়িটা ধরতে পারেননি উনি। তাই দারুণ আফসোস করছিলেন। এমন সময় সানকিভাঙার মাঠে গাড়িটা সিগন্যাল না পেয়ে থেমে গেলে একজন সহযাত্রীর কথা শুনে নেমে পড়লেন উনি। তোমরা যে গ্রামে যাচ্ছ সেই গ্রাম নাকি ওখান থেকে মাত্র মাইল দুই দূরে।”

    আমরা হায় হায় করতে লাগলাম।

    কর্মকর্তারা বললেন, “সর্বনাশ হয়ে গেছে মশাই।”

    অধিকারী বললেন, “কেন? কেন?”

    সানকিভাঙার দু’মাইল দূরে আমাদের গ্রাম ঠিকই, কিন্তু মুশকিল হচ্ছে যতসব ঠ্যাঙাড়ে আর ডাকাতের ঘাঁটি ওইদিকে। ও-পথে গেলে ওদের নজর এড়ানো অসম্ভব। ভদ্রলোক তো দেখছি বেঘোরে মরবেন।”

    আমি এবার ট্রেনের ভদ্রলোককে বললাম, “আপনি তো মশাই স্থানীয় লোক। কালোদা যখন পরের কথা শুনে নামলেন ওখানে, তখন আপনি কেন বাধা দিলেন না তাঁকে?”

    “অনেক বারণ করেছিলাম চণ্ডীদা। কিন্তু উনি শুনলেন না। কী বললেন জানো? বললেন, আজই হবে আমার শিল্পীজীবনের পরীক্ষা। মৃত্যুর দূত যদি আমার সামনে এসে দাঁড়ায় আর আমার এই ক্ল্যারিওনেটের জাদুতে যদি তাকে মোহিত করতে না পারি, তা হলে বৃথাই আমার সাধনা। আমি এইখানেই নামব।”

    কর্মকর্তারা বললেন, “বলেন কী মশাই! উনি তো দেখছি মহানুভব লোক। নিজের শিল্প সত্তার প্রতি এত বিশ্বাস? একটু ভয়ডর নেই?”

    অধিকারী বললেন, “জাত শিল্পী কি ওসব ভয়ে ভীত হয় মশাই? আসলে এটা একটা গপাওয়ার।”

    কর্মকর্তারা বললেন, “তবে আমাদের মনে হয় যে লোকটি ওঁকে সানকিভাঙায় নামিয়েছে সে নিশ্চয়ই ডাকাতের লোক। ডাকাত না হলে এত রাতে কেউ ওখানে নামবে না, বা কাউকে নামতেও বলবে না। আর এই ডাকাতদের জন্যই রোজ রাতের গাড়িগুলো ওখানে থামে। না থামানো ছাড়া উপায়ও নেই। ওদের কথা না শুনলে রেল কর্মচারীগুলোই আচমকা যখন-তখন মারধোর খেয়ে মরবে।”

    যাক, কালোদার কপালে কী আছে তা ভগবানই জানেন, এখন আমরা ভালয় ভালয় গ্রামে গিয়ে পৌঁছতে পারলে বাঁচি! আমরা সবাই গোরুর গাড়িতে চাপলাম। এবং কাদামাটির পথ পার হয়ে অতিকষ্টে গ্রামেও পৌঁছলাম। চাঁদ ও তারায় আকাশ তখন ঝলমল করছে। দুর্যোগের চিহ্নমাত্র আর নেই। তবে এও সত্যি, কালোদা গিয়ে পৌঁছতে পারেননি।

    আমাদের সকলেরই মনে একটা আতঙ্ক জেগে উঠল । কালোদা কি তা হলে সত্যিই ডাকাতের হাতে পড়লেন? তা যদি না পড়েন তা হলে এতক্ষণ কী করছেন কালোদা? যে পথে উনি এসেছেন সেই পথে আমরা পৌঁছবার অন্তত ঘণ্টা দুই আগে ওঁর পৌঁছে যাওয়ার কথা!

    যাই হোক, সে রাত দেখতে দেখতে কেটে গেল।

    পরদিন সকালে কালোদার খোঁজে লোক গেল সানকিভাঙার দিকে। কিন্তু না। কেউ কোনও খবরই দিতে পারল না কালোদার।

    আমরা দুঃখভরা মনে সে রাতে যাত্রার আসরে নেমে পড়লাম। অদ্ভুত ব্যাপার! কনসার্ট বেজে ওঠার সঙ্গে-সঙ্গেই শোনা গেল কালো সেনের ক্ল্যারিওনেট। কী আশ্চর্য! কালো সেন নেই কিন্তু তার ক্ল্যারিওনেট বাজে কোত্থেকে? ক্ল্যারিওনেট অবশ্যই বাজছে! বাজাচ্ছে এক গ্রাম্য লোক। সে বলল, “মশাই বেসুরো বাজনদার বলে নেহাত নিরুপায় না হলে আমায় কেউ ডাকে না। কিন্তু এই আসরে বসে ক্ল্যারিওনেটে মুখ দেওয়ামাত্রই সুর যে কীভাবে বেজে উঠছে তা আমি বুঝতে পারছি না। আসলে এটা শুধু আমি আমার ঠোঁটেই ছুঁইয়ে রেখেছি কিন্তু আমি বাজাবার আগে আপন মনেই বেজে চলেছে ও।”

    আমরা সত্যিই অবাক হলাম।

    শুরু হল যাত্রা।

    বাজতে লাগল ক্ল্যারিওনেট। সে কী অনবদ্য সুর! যেন মধু ঝরছে সুরে সুরে।

    ভোরবেলা যাত্রা শেষ হল।

    আমরা সে দিনটাও সেই গ্রামে বিশ্রাম নিলাম। তাই যাত্রা শেষ হওয়ার পর আমরা দু-তিনজন বন্ধু মিলে নিজেরাই একবার কালোদার সন্ধানে বেরিয়ে পড়লাম। সেই সানকিভাঙার মাঠের দিকে। এটা আমাদের কর্তব্য। আমরা তাঁর খোঁজখবর না নিয়ে ফিরে যাই কী করে?

    সানকিভাঙার আশপাশের গ্রামের লোকেরা বলল, “বাবু! আমরা কুখ্যাত লোক। চুরি ডাকাতি আমরা করি বটে, তবে একজন শিল্পী লোককে আমরা শুধু শুধু মেরে ফেলব কেন? সে রাতে আমরা সবাই যাত্রার আসরেই ছিলাম। তারপর ঝড় জলে যে যেদিকে পেরেছি পালিয়েছি। আমাদের মনে হয় তিনি নিশ্চয়ই পথ ভুল করে অন্য কোথাও চলে গেছেন। কেননা সে রাতে ওঁকে পথ বলে দেওয়ার মতো লোকও তো কেউ এ গ্রামে ছিল না।”

    কথাটা অবিশ্বাস্যও নয়। কিন্তু পথ ভুল করে কোথায়ই বা যেতে পারেন কালোদা? তবে কি কালোদা মারা গেছেন। তাঁর প্রেতাত্মাটা ট্রেনের ওই ভদ্রলোককে দেখা দিয়ে অন্যের কথা শুনে সানকিভাঙায় নেমে যান। এবং কালোদার প্রেতাত্মাই ওই আনাড়ি গ্রাম্য ক্ল্যারিওনেট বাদকের বংশীতে ভর করেন।

    হঠাৎ এইরকম ভেবেচিন্তে ফিরে আসছি। হঠাৎই কানে এল সেই সুর। বেশ ভাল করে কান পেতে শুনলাম দূরাগত সেই বংশীধ্বনি।

    আমার সঙ্গীদের বললাম, “শুনছিস?”

    “শুনছি। কালো সেনের ক্ল্যারিওনেট।”

    ডাকাত গ্রামের লোকেরা বলল, “বাবু, এই বাঁশিটা কিন্তু পরশু ঝড়জলের রাত থেকেই একভাবে বেজে চলেছে। আমরা ভাবছি আপনাদের যাত্রাদলেই কেউ বোধ হয় বাজাচ্ছে। “কিন্তু শব্দটা আসছে কোনদিক থেকে?”

    অনেক চেষ্টার পর সেই অস্পষ্ট সুরের উৎসের যখন দিকনির্ণয় করলাম তখন ওরা বলল, “বাবু ওদিকে তো ডহর। গভীর বন। ওদিকে যাবেন কী করে? ও বড় বিপজ্জনক জায়গা। সাপকাটি হয়ে মরবেন যে!”

    আমরা বললাম, “তবু যাব।”

    “তা হলে চলুন, শ্মশানের পাশ দিয়ে ঘুরে যাই।’

    তা ভাগ্য ভালই বলতে হবে। হোগলার বন পার হয়ে সাপের কামড় এড়িয়ে শ্মশানের দিকে বাঁক নিতেই ক্ল্যারিওনেটের সুর প্রকট হল। আর শ্মশানের কাছাকাছি যেই না গেছি অমনই আনন্দে উল্লসিত হলাম আমরা।

    সে কী অপূর্ব সুর !

    কালো সেনের ক্ল্যারিওনেটের জাদুতে সেই বনাঞ্চলে নিভৃত শ্মশানে যেন মরা গাছে ফুল ফুটেছে।

    আহা-হা। এই না হলে কালোদা!

    আমরা পায়ে পায়ে এগিয়ে গেলাম। গিয়ে দেখি এক অদ্ভুত কাণ্ড! শ্মশানের পরিত্যক্ত একটি মাটির ঘরে দামি কার্পেটের আসনে রাজার পোশাক পরে বসে আছেন কালোদা। মাথায় উষ্ণীষ। কপালে চন্দন টিপ। গলায় গন্ধরাজের মালা! কালোদা মুদিত নয়নে এক মনে তাঁর ক্ল্যারিওনেট বাজিয়েই চলেছেন।

    আমরা বিস্ময়ে হতবাক!

    সবাই একজোটে ডাকলাম, “কালোদা?”

    কালোদা শুনতেই পেলেন না আমাদের কথা।

    আমরা আবার ডাকলাম, “কালোদা, আপনি এখানে বসে কী করছেন? আমরা যে চারদিকে আপনাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি।”

    কিন্তু কে শোনে কার কথা! কালো সেনের ক্ল্যারিওনেট আরও মধুর সুরে বাজতে থাকে।

    অবশেষে আমিই এগিয়ে গিয়ে গায়ে হাত দিলাম। আদর করে ডাকলাম, “কালোদা!” এতক্ষণে সংবিৎ ফিরে পেলেন কালোদা।

    আর কী আশ্চর্য ! আমি স্পর্শ করামাত্র সেই উষ্ণীষ, রাজপোশাক, দামি কার্পেটের আসন কোথায় যেন মিলিয়ে গেল। রইল শুধু গলায় গন্ধরাজের মালাটা।

    কালোদা হতভম্ব হয়ে আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, “এ কী! তোমরা! তোমরা এখানে কেন?”

    “আপনি এখানে কেন?”

    “আমি কোথায়?”

    “আপনি শ্মশানে।”

    “শ্মশানে! আমি মরে গেছি নাকি?”

    “না। এখনও মরেননি। তবে আমরা না এলে মরে যেতেন।”

    কালোদাকে আমরা ধরাধরি করে তুলে দাঁড় করালাম।

    কালোদা বললেন, “কী ব্যাপার বলো তো? কী থেকে কীসব হয়ে গেল যেন! আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।”

    “আর বুঝে কাজ নেই। আপনাকে যে আমরা ফিরে পেয়েছি এই আমাদের বাপের ভাগ্যি! এখন চলুন আমাদের সঙ্গে। একটু চান খাওয়া করে সুস্থ হবেন।” কালোদা বললেন, “খাওয়া আমার যথেষ্ট হয়েছে। কিন্তু…!”

    “পরে সব শুনব। এখন চলুন তো।”

    আমরা কালোদাকে নিয়ে গ্রামে ফিরলাম। কালোদাকে ফিরে পেয়ে আমরা যত না খুশি তার চেয়ে বেশি খুশি যেন গ্রামবাসীরা। কেননা তারা সবাই একটা মস্তবড় বদনামের হাত থেকে বাঁচল।

    কালোদাকে ফিরে পেয়ে ওঁর একটু সেবা-শুশ্রূষা করে জিজ্ঞেস করলাম, “একটু মনে করে দেখুন তো কালোদা, কী থেকে কী হল! মানে, আপনি কীভাবে ওই ভাঙা চালাঘরে গিয়ে ঢুকলেন?”

    কালোদা বললেন, “হ্যাঁ! সব মনে পড়ছে আমার।” বলে তিনি যা বললেন তা হল এই:

    সেদিন আমি যখন মেয়ের বাড়ি থেকে ফিরছি তখন পথে হঠাৎ ঝড় জলে আটকে গেলাম। সে কী দারুণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সেই দুর্যোগ মাথায় নিয়ে যখন আমি স্টেশনে পৌঁছলাম তখন সবে ট্রেনটা প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।

    কী আর করি? পরের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। পরের গাড়ি তিন ঘণ্টা পর। তবু বসেই রইলাম। তা গাড়ি এল। চাপলাম। সহযাত্রীদের সঙ্গে আলাপ হতে তাঁরা বললেন, “আপনি বৃথাই চিন্তা করছেন। আজ রাতে এই পরিস্থিতিতে যাত্রা অসম্ভব! আপনি ধীরেসুস্থে নিশ্চিন্তে যান।”

    আমি তাই চললাম।

    হঠাৎ এক জায়গায় ট্রেনটা সিগন্যাল না পেয়ে থেমে গেল।

    একজন সহযাত্রী বললেন, “এখান থেকে মাত্র দু’ মাইল হেঁটে গেলেই আপনার গন্তব্যস্থল। তবে কিনা জায়গাটা ভাল নয়। ডাকাতের আড্ডা এখানে। রাতে এ পথে যাওয়া অসম্ভব।”

    আমি বললাম, “তা হলে আমি এইখানেই নামব।”

    আমাকে অনেকেই ওখানে বারণ করলেন। কিন্তু আমি কারও কথাই শুনলাম না। আমি সেই অন্ধকারেই মাঠের মাঝখানে ট্রেন থেকে নেমে পড়লাম।

    সবে দু-এক পা এসেছি এমন সময় দেখি মাঠের ওপর দিয়ে মশাল জ্বেলে একটা পালকি বেহারা সমেত এসে হাজির হল আমার সামনে। তারা বলল, “এত রাতে আপনি কোথায় যাবেন?”

    আমি আমার পরিচয় দিতেই আনন্দে লাফাতে লাগল তারা। বলল, “আরে! আমরা তো আপনাকে নিতেই এসেছি।”

    আমি বললাম, “কিন্তু আমি যে এখানে নামব তা আপনারা জানলেন কী করে?” “জানতাম। কেননা ট্রেন তো এখানে থামে। তাই ভাবলাম যদি আপনি বুদ্ধি করে নেমে

    পড়েন তা হলে খুব ভাল হয়। আসুন, বসুন।”

    আমি নির্ভয়ে চেপে বসলাম তাতেই!

    এর পর ওরা আমাকে ওই বাড়িতে নিয়ে গেল। তারপর কত কী যে খেতে দিল তার ঠিক নেই। খাওয়াদাওয়া হলে ওরা বলল, “আপনি অত্যন্ত গুণী লোক। আমাদের খুব ইচ্ছে যে প্রাণভরে আপনার একটু বাঁশি শুনি।”

    আমি অবাক হয়ে বললাম, “আপনারা কারা?”

    “আমরা যেই হই না কেন, আপনার কোনও ভয় নেই। আমরা কেউ কোনও ক্ষতি করব না আপনার। আপনি বাজান।”

    আমি ক্ল্যারিওনেটে ফুঁ দিলাম।

    আর সঙ্গে সঙ্গে দেখি কী এক অদ্ভুত কাণ্ড! শ্মশানের শ’ থেকে, গাছের ডাল থেকে, অন্ধকারের ভেতর থেকে দলে দলে সব ছায়ামূর্তিরা বেরিয়ে এসে নাচ শুরু করল। আমার পোশাক-পরিচ্ছদ সব পালটে গেল আর আমিও যেন কেমন হয়ে গেলাম। সারারাত ওরা নেচে নেচে ভোরবেলা মিলিয়ে গেল। এর পর দিনের আলোতেও আমি না পারলাম চোখ মেলতে, না পারলাম বাঁশি থামাতে। শুধু মাঝে মাঝেই শুনতে পেলাম, ‘বাজিয়ে যাও কালো সেন, বাজিয়ে যাও। এমন আমরা কখনও শুনিনি।’ এর পর দিন-শেষে সন্ধে হতেই আবার ওরা অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে নাচ শুরু করল। আমি ক্ষুধা তৃষ্ণা সবকিছু ভুলে গেছি ভাই। তা এভাবে ক’দিন কেটেছে বলো তো?

    আমরা সব বললাম। তারপর বললাম, “যে ক’দিনই কাটুক, ভগবানের দয়ায় আপনাকে যে ফিরে পেয়েছি এই ঢের! এখন ভালয় ভালয় পালাই তো চলুন।”

    গ্রামবাসীদের সহায়তায় আমরা সেদিনই বিকেলের গাড়িতে কলকাতায় ফিরে এলাম, তবে এর পর থেকে কালোদা দল ছেড়ে একা একা কোথাও বাজাতে যাননি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদশটি কিশোর উপন্যাস – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    Next Article দুয়ে শূন্য বিষ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    পাণ্ডব গোয়েন্দা সমগ্র ১ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    দুয়ে শূন্য বিষ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    দশটি কিশোর উপন্যাস – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }