Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চাশটি ভূতের গল্প – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প437 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নিরাকারের কাহিনী

    বেশ কয়েক বছর আগে বর্ষাকালে বর্ধমান জেলার বলগনার কাছে এক গ্রামে গিয়েছিলাম। উপলক্ষ ছিল বিয়েবাড়ি। বন্ধুর বোনের বিয়ে। এত দূর বলে কেউই যেতে রাজি হয়নি। রাজি না হওয়ার কারণও ছিল। একে বর্ষাকাল, তায় যাতায়াতের অসুবিধে। যে সময়কার কথা বলছি, তখন এত উন্নতমানের রাস্তাঘাট বা যানবাহনের সুবিধে হয়নি। তার ওপরে গ্রামে বিয়েবাড়িতে লোকজনের আধিক্যের জন্য থাকারও অসুবিধে হতে পারে। তাই অনেকেই যাবে স্থির করেও যেতে রাজি হল না শেষপর্যন্ত। কিন্তু একেবারেই কেউ না গেলে তো খারাপ দেখায়, তাই আমি আর বলাই নামে আমাদের এক বন্ধু চললাম নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে।

    সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই এলাম হাওড়া স্টেশনে। সেখান থেকে লোকাল ট্রেনে বর্ধমান। বর্ধমানে সর্বমঙ্গলা দর্শন করে একটা হোটেলে খাওয়াদাওয়ার পাট চুকিয়ে দুপুরের বাসে বলগনা। বলগনায় বাস থেকে নেমে যে গ্রামে আমরা যাব, সেই গ্রামের দূরত্ব হচ্ছে সাত মাইল। এ-পথে যাতায়াতের জন্য একমাত্র গোরুর গাড়িই ভরসা। নয়তো আচমকা গিয়ে পাওয়া যায় না। এ তো রিকশা নয় যে, ভাড়া খাটার জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে। যাই হোক, আমরা যখন বলগনার মোড়ে বাস থেকে নামলাম, তখন বেলা গড়িয়ে সন্ধে হয় হয়। আকাশ ঘন মেঘে ঢাকা। মেঘের মূর্তি এমনই যে, এই নামে বুঝি ! তাই কী যে করব কিছু ভেবে পেলাম না।

    বলাই বলল, “এখনও ভেবে দ্যাখ যাবি কিনা, আকাশের যা অবস্থা তাতে আমার মনে হয় আর না এগিয়ে এখান থেকেই কেটে পড়ি চল। এই অচেনা জায়গায় পথে কোনও লোকজন নেই, সন্ধে হয়ে আসছে। কাদার পথ। আর এগোলে দুর্ভোগের শেষ থাকবে না।”

    কথাটা ঠিক। তবে কিনা সত্যি-সত্যিই কি এতদূর এসে দুর্যোগের ভয়ে ফিরে যাওয়া যায়? তাই বললাম, “তাতে কী? বর্ষাকালে বৃষ্টি হবেই। সব জেনেই তো ঘর থেকে বেরিয়েছি। এখন ভয়ে পিছোলে কী করে হবে? অতএব আর দেরি না করে রওনা দিই চল।”

    চল তো চল। একটা দোকানে শেষবারের মতো দু’জনে দু’ কাপ চা খেয়ে চলা শুরু করলাম। আগের বৃষ্টির কাদা এখনও শুকোয়নি। তার ওপর আকাশে এই মেঘের ঘনঘটা। কী যে কপালে আছে কে জানে?

    আমরা নিজেদের মধ্যেই কথা বলতে বলতে পথচলা শুরু করলাম। লোকালয় ছেড়ে যখন আমরা ফাঁকা মাঠের মাঝখানে এসেছি, তখনই শুরু হল বৃষ্টিপাত। প্রথমে বড়-বড় ফোঁটা। তারপরই মুষলধারায়। ছাতা মানল না। সেই দারুণ বৃষ্টিতে স্নান করে গেলাম দু’জনে।

    বলাই বলল, “আমরা বোধ হয় দু’ মাইল পথও আসিনি। এখনই কত পথ বাকি। কী করে  যাব রে ভাই?”

    আমিও তখন চুপসে গেছি। বললাম, “তাই তো রে! বলগনাতে বলে কয়ে কারও বাড়িতে থেকে গেলেই হত। এখন তো দেখছি আর এগোনোই যাচ্ছে না।”

    শুধু যে বৃষ্টি, তা নয়। সেইসঙ্গে কড়কড় করে বাজ পড়ার শব্দ। সন্ধ্যার ঘন অন্ধকার এবং মেঘের কালিমায় এক হাত দূরের পথও দেখা যাচ্ছে না। কালো কুটিল যাকে বলে, তাই। পথে এমন কোনও জন-মানুষ নেই, যার কাছে একটু আশ্রয় প্রার্থনা করি, বা পথনির্দেশ পাই। সে যে কী বিপজ্জনক পরিস্থিতি, তা বলে বোঝানো যাবে না।

    এইভাবে জলে-কাদায় টালমাটাল হতে-হতে কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ একসময় মনে হল আমাদের পিছু-পিছু কেউ যেন আসছে। কে আসে? এই অন্ধকার নির্জন রাতে কে ও? কেমন এক অশরীরী আতঙ্কে বুকের ভেতরটা ধড়াস করে উঠল। আমরা দু’জনেই ভয় পেয়ে থমকে দাঁড়ালাম।

    অমনই শুনতে পেলাম, “এ-পথে নতুন মনে হচ্ছে।”

    আমি বললাম, “হ্যাঁ, একেবারেই নতুন।”

    “আসা হচ্ছে কোথা থেকে?”

    “আমরা কলকাতা থেকে আসছি।”

    “যাওয়া হবে কোথায়?”

    আমরা গ্রামের নাম বললাম।

    বলার সঙ্গে-সঙ্গেই একটি বজ্রপাত। আর সেইসঙ্গে বিদ্যুতের চমক। তারই ক্ষণপ্রভায় মুহূর্তের জন্য দেখলাম লোকটিকে। কালো বর্ষাতিতে ঢাকা দীর্ঘ উন্নত বলিষ্ঠ চেহারা। গায়ের রং এত কালো যে, ছাতার কাপড়কে হার মানায়। ভদ্রলোক বললেন, “ওরে বাবা। ও তো অনেকদূর। এই দুর্যোগে যাবেন কী করে?”

    “তাই তো ভাবছি।”

    “লগনসার বাজার। বিয়েবাড়ি বুঝি?”

    “আজ্ঞে হ্যাঁ। আমাদের বন্ধুর বোনের বিয়ে।”

    “তা ওঁরা একটা গোরুর গাড়ির ব্যবস্থা করে রাখেননি কেন?”

    “সে দোষ ওঁদের নয়। আসলে আমাদেরই আসবার কোনও ঠিক ছিল না।” “এইভাবে রাতদুপুরে গ্রামে-ঘরে কেউ আসে? বিয়েটা কবে?” “আগামীকাল।”

    “হুঁ। তা হলে কাল ভোরে গেলেও চলবে।”

    “কিন্তু আজকের রাত্রিটা কাটাই কোথায় বলুন তো?” “ব্যবস্থা একটা করছি। এখন আসুন তো আমার সঙ্গে।”

    আমি বলাইয়ের দিকে তাকালাম। বলাই আমার দিকে। যা আছে কপালে! আর যখন এগনো সম্ভব নয়, তখন এঁর আশ্রয় কিছুতেই ছাড়া নয়।

    আমরা সেই ভদ্রলোকের পিছু-পিছু এক বিশাল বটগাছের নীচে এসে দাঁড়ালাম। তারপর বাঁধা রাস্তার ঢাল বেয়ে ছোট্ট একটি গ্রামে। মাটির দেওয়াল, খড়ের চাল, ঘন বসতির গ্রাম। গোয়ালে গোরুর চোখ জ্বলছে। বৃষ্টিও সমানে চলছে। ভদ্রলোক একটি মেটে ঘরের দরজা খুলে আমাদের ঢুকতে বললেন। তারপর বললেন, “একটু বসুন। এখনই আলোর ব্যবস্থা হচ্ছে।”

    আমরা ভিজে পোশাকেই কাদামাখা পা নিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকলাম। তারপর অন্ধকারে হাতড়ে একটি তক্তাপোশ পেয়ে তাতে পা ঝুলিয়ে বসলাম। কিন্তু ভদ্রলোক সেই যে গেলেন আর আসার নাম নেই।

    অনেক পরে ক্ষীণ একটু আলো দেখা গেল। মনে হল লণ্ঠন দুলিয়ে কেউ আসছে। সত্যিই তাই। টোকা মাথায় বেঁটেখাটো একজন গ্রামের লোক এক বালতি জল, একটা গামছা আর হারিকেন নিয়ে ঘরে ঢুকল। লোকটি বলল, “নিন, পা ধুয়ে ভাল করে বসুন। বাবু এখনই আসবেন।” বলেই চলে গেল লোকটি।

    ঘরের সামনে দাওয়া ছিল। আমরা সেখানে পা ধুয়ে কিট-ব্যাগ থেকে শুকনো জামাকাপড় বের করে নিলাম। তারপর আলোটা একটা টেবিলের ওপর রেখে তক্তাপোশের বিছানায় বসলাম গুছিয়ে। এই ভয়ঙ্কর দুর্যোগের রাতে এমন একটি আশ্রয় প্রত্যাশারও বাইরে।

    অনেক পরে ভদ্রলোক এলেন। সঙ্গে সেই লোকটি। হাতে বাটিভর্তি মুড়ি আর গরম তেলেভাজা। লোকটির হাতে চা।

    ভদ্রলোক বললেন, “আপনাদের অনেকক্ষণ বসিয়ে রাখলাম ভাই, কিছু মনে করবেন না। আসলে ঘরে কেরোসিন একফোঁটাও ছিল না। জোগাড় করতে দেরি হয়ে গেল।”

    বলাই বলল, “কিন্তু এই দুর্যোগে গরম তেলেভাজা আপনি পেলেন কোথায়?” “কেন? ঘরেই ভাজা হল। কুমড়ো, পোস্ত আর বেসন বর্ষাকালে গ্রামের মানুষদের ঘরে

    সবসময়ই মজুত থাকে। যাক, জুড়িয়ে যাওয়ার আগে খেয়ে নিন।” আমরা বিনা বাক্যব্যয়ে খেতে লাগলাম।

    ভদ্রলোক বললেন, “আশা করি আমার এই ঘরে রাত কাটাতে আপনাদের কোনও অসুবিধে হবে না। কাল খুব ভোরে বৃষ্টি থামুক আর না থামুক, আপনাদের রওনা করিয়ে দেব। এই জনা’ই গোরুর গাড়িতে করে এগিয়ে দেবে আপনাদের।”

    আমি বললাম, “তা হলে তো খুব ভাল হয়।”

    কথা বলতে বলতেই ভদ্রলোকের মুখের দিকে তাকালাম আমরা। এমন মিষ্টি কথার লোক অথচ চেহারা দেখলে মনে হয় কী রাশভারী। বুকের ভেতরটা যেন ছাঁত করে ওঠে। ভদ্রলোক বললেন, “বৃষ্টি কমলে আজ রাত্রেই পাঠাতাম আপনাদের, তবে কিনা এসব জায়গা তো ভাল নয়। তাই কাল ভোরেই যাবেন।”

    আমি বললাম, “ভোরে যাওয়াই ভাল। কেননা আমার আবার ভূতের ভয় খুব। এই গ্রামে অন্ধকার রাতে পথের মাঝখানে যদি কেউ দেখা দেন, তা হলেই তো গেছি!”

    ভদ্রলোক হেসে বললেন, “আপনি ভূত বিশ্বাস করেন? আমিও করি। আগে করতাম না, এখন করি। আর সেইজন্যই তো পথেঘাটে যাতে কারও পাল্লায় না পড়েন তাই টেনে আনলাম এখানে।”

    বলাই বলল, “ঠিকই করেছেন। ওই যে আপনি বললেন আগে ভূতে বিশ্বাস করতেন না, এখন করেন, এর মানেটা কী? সেরকম কোনও অভিজ্ঞতা আপনার হয়েছিল?” ভদ্রলোক একটু সময় চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন, “হয়েছিল বইকী! আমার জীবনে ভূত দেখার অভিজ্ঞতা যা ঘটেছে তা শুনলে ভয় পেয়ে যাবেন।”

    আমি বললাম, “তবু শুনিই না? এই বর্ষার রাতে তেলেভাজা-মুড়ির সঙ্গে ভূতের গল্প ভালই জমবে।”

    ভদ্রলোক আমাদের দু’জনের দিকেই একবার ভাল করে তাকিয়ে বললেন, “ওই যে দেওয়ালে ছবিটা ঝুলছে, ওই ছবিটা কার বলুন দেখি?”

    এতক্ষণ লক্ষ করিনি। এবার ভাল করে তাকিয়ে দেখে বললাম, “একজন দারোগার।” “ওই দারোগার সঙ্গে আমার চেহারা মেলে?”

    দু’জনেই বিস্ময় প্রকাশ করে বললাম, “আরে! তাই তো! এ তো আপনারই ছবি দেখছি।”

    “হ্যাঁ, আমারই ছবি। তবে যৌবনের।”

    আমরা দু’জনে ভদ্রলোকের মুখের দিকে চেয়ে রইলাম চমকপ্রদ কিছু শোনার আশায়। ভদ্রলোক বলতে শুরু করলেন। তিনি যা বললেন তা এইরকম:

    আমার নাম জলধর দত্ত। জলভরা মেঘের মতনই চেহারা আমার। আমায় দেখলে অনেক খুনের আসামিরও বুকের রক্ত জল হয়ে যেত। কাল ভোরে যে গ্রামের দিকে রওনা হবেন আপনারা, অনেকদিন আগে সেই গ্রামের একটি ঘটনার কথা আপনাদের বলব।

    আমি তখন এই অঞ্চলে নতুন এসেছি। একদিন সন্ধেবেলা থানায় বসে এক প্রবীণ ভদ্রলোকের সঙ্গে গল্প করছি, এমন সময় দু’জন লোক এসে খবর দিল ওদের গ্রামে বিষয়সম্পত্তির ব্যাপার নিয়ে দু’ ভাই নাকি নিজেদের মধ্যে মারামারি করে অবশেষে দু’জনেই আত্মঘাতী হয়েছে।

    শুনেই মেজাজটা গেল খারাপ হয়ে। এই ধরনের কেস এলে কোনও পুলিশ অফিসারই শান্তিরক্ষার দায় এড়াতে পারেন না। আদৌ এটা আত্মহত্যা, না কেউ খুন করে ঘটনা সাজাচ্ছে, তাই বা কে বলতে পারে? অতএব যেতেই হল।

    এইভাবে রাতদুপুরে যাওয়ার ব্যাপারে প্রবীণ ভদ্রলোক আমাকে অনেক বাধা দিলেন। বললেন, “গেলে কাল সকালে যাবেন, এই রাতদুপুরে কখনও না। একে এই সমস্ত অঞ্চল ভাল নয়, তার ওপর আপনি পুলিশের লোক। কার মনে কী আছে কে জানে।”

    আমি তাঁর কথা না শুনেই রওনা দিলাম। বললাম, “পুলিশের লোকের প্রাণের ভয় থাকলে কি চাকরি করা চলে? তা ছাড়া আমার নাম জলধর। জলভরা মেঘ আমি। কেউ কিছু করতে এলে ভাসিয়ে দেব তাকে।” এই বলে আমার কনস্টেবল জনাকে নিয়ে ওদেরই গোরুর গাড়িতে চেপে রওনা হলাম ওদের সঙ্গে।

    তখন গ্রীষ্মকাল। তাই পথযাত্রায় কোনও অসুবিধে হল না।

    যাই হোক, গ্রামে পৌঁছতে রাত অনেক হয়ে গেল। গিয়ে দেখলাম ছেলেমেয়ে বৃদ্ধ-বৃদ্ধার একটি দল একটি ঘরের সামনে ভিড় করে আছে।

    আমি গিয়ে ঘরের শিকল খুলে ভেতরে তাকিয়ে শিউরে উঠলাম। রক্তমাখা দুটো দেহ ঘরের ভেতর গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে। লোক দুটোকে আমার খুবই চেনা বলে মনে হল। কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পারলাম না কোথায় এদের দেখেছি। যাই হোক, এই ধরনের লাশকে তো পোস্টমর্টেম করতেই হবে, তাই গ্রামবাসীদের সাহায্য নিয়ে লাশ দুটোকে নামিয়ে আর-একটি গোরুর গাড়িতে চাপিয়ে আবার ফিরে আসার প্রস্তুতি নিলাম। ওদের পরিবারের দু’জন লোককেও সঙ্গে নিলাম লাশের পাহারায়।

    ফিরে আসছি আর বারবার মনে করবার চেষ্টা করছি কোথায় যেন দেখেছি লোক দুটোকে।

    এমন সময় জনা বলল, “আমি কিন্তু চিনেছি বাবু। আমার খুব ভয় করছে। এই রাতদুপুরে না এলেই পারতেন!”

    আমি বিস্মিত হয়ে বললাম, “তুই চিনেছিস? এরা কারা?”

    “ভুলে যাচ্ছেন কেন? সন্ধেবেলা এরাই তো আমাদের থানা থেকে ডেকে আনল।” এইবার মনে পড়েছে। সত্যিই তো! কিন্তু এমন বিস্মরণ আমার কেন হল? আমার মতন লোকেরও শিরদাঁড়ায় তখন ঠাণ্ডা স্রোত বয়ে গেল একটা। লোক দুটোকে গোরুর গাড়ি থেকে নামার পর আর তো দেখিনি!

    আমাদের এই চাপা কথাবার্তা গাড়োয়ানের কানে গেল কিনা কে জানে? হঠাৎ গাড়ির গতি থেমে গেল।

    বললাম, “কী হল! থামলে কেন, চালাও?”

    “একটু চা-তেষ্টা পেয়েছে বাবু। গলাটা একটু ভিজিয়ে নিই।”

    “এখানে চা কোথায় পাবে? এই ফাঁকা মাঠে এত রাতে?”

    “এখানেই তো চা পাব বাবু। ওই দেখুন।”

    চেয়ে দেখলাম, দূরের একটা চালাঘরে টিমটিম করে আলো জ্বলছে। গাড়োয়ান পেছনের গাড়ির লোক দু’জনকে ডেকে নিয়ে চা খেতে গেল। যাওয়ার আগে বলল, “আপনারা খাবেন নাকি বাবু?”

    বললাম, “না। তোমরাই খাও। আর একটু তাড়াতাড়ি করো।”

    ওরা চলে গেল। পরক্ষণেই যা দেখলাম তা সত্যিই ভয় পাওয়ার মতন। দেখলাম পেছনের গোরুর গাড়ি থেকে সেই লাশ দুটো দড়ির বাঁধন খুলে দিব্যি উঠে ওদের সঙ্গে চা খেতে চলে গেল। সে-গাড়িতে কোনও গাড়োয়ান ছিল না। এই গাড়ির সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল সেটা। সে যাই হোক, ভয়ে আমাদের অন্তরাত্মা খাঁচাছাড়া হওয়ার জোগাড় হল! তখন আমরা সবিস্ময়ে ভাল করে তাকিয়ে দেখলাম, সেই দু’জনই। দিব্যি হেসে-হেসে গল্প করতে-করতে চা খাচ্ছে। এই দৃশ্য দেখার পর আর গোরুর গাড়িতে থাকা নয়! আমি ইশারায় জনাকে নামতে বলে নিজেও নামলাম। তারপর ওদের নজর এড়িয়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে চললাম মাঠের ওপর দিয়ে। একটু পরেই দেখি গোরুর গাড়ি দুটোও লরির গতিতে ছুটে আসছে আমাদের দিকে। গোরু দুটোর চোখ জ্বলছে। কী ভয়ঙ্কর দৃশ্য!

    জলধরবাবু তাঁর গল্প এই পর্যন্ত বলেছেন, এমন সময় জনা এল। ভাতের থালা হাতে। বলল, “ওসব গল্প আর নয়। এখন খেয়ে নিন দেখি। নিয়ে শুয়ে পড়ুন তাড়াতাড়ি। কাল খুব ভোরে উঠতে হবে।”

    বৃষ্টি তখন থেমে গেছে।

    আমরা জলধরবাবুকে বললাম, “তারপর”

    জলধরবাবু বললেন, “তারপর আর কী? নিন, খেয়ে নিন। ওই গল্প কাউকে বললে জনাটা খুব ভয় পায়।”

    গল্প শুনে ভয় আমাদেরও যে পায়নি, তা নয়। তবু কৌতূহল হচ্ছিল। যাই হোক, আমরা চটপট খেয়ে নিয়ে শুয়ে পড়লাম।

    জলধরবাবু বললেন, “আপনাদের ভয়ের কোনও কারণ নেই। জনা আপনাদের পাহারায় থাকবে। কোনও প্রয়োজন হলে ডাকবেন। বাইরেটায় থাকবে ও।”

    আমরা শুয়ে পড়লাম এবং সারাদিনের ক্লান্তির জেরে ঘুমিয়েও পড়লাম।

    পরদিন খুব ভোরে অন্ধকার থাকতেই জনা এসে ডেকে তুলল আমাদের। জলধরবাবুও এলেন। আমরা তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে জনার গোরুর গাড়িতে চেপে রওনা হলাম গন্তব্যস্থলের দিকে।

    ভোরের আলো যখন আরও স্পষ্ট হয়ে আসছে তখনই একটা গাছতলায় গাড়ি থামিয়ে জনা বলল, “এটুকু পথ এবার আপনাদের হেঁটেই যেতে হবে বাবু। ওই দেখা যাচ্ছে গ্রাম। ওই গ্রামে আমি আর যাব না।”

    কেন যাবে না তা জানি। আসলে ওই গ্রামের সেই অভিশপ্ত রাতকে আজও ভুলতে পারছে না ও।

    আমরা দু’জনেই গাড়ি থেকে নেমে বললাম, “বেশ তো, অসুবিধে থাকে যেয়ো না। এটুকু পথ হেঁটেই চলে যাব আমরা। কিন্তু সে-রাতে শেষপর্যন্ত কী যে হল, সেটুকু জানার দরকার ছিল যে!”

    জনা বলল, “শুনলে ভয় পাবেন না তো?”

    “না। কাল রাতে জলধরবাবুর মুখে অত কিছু শুনেও কি ভয় পেলাম?” “সে-রাতে আমরা ওদের হাতেই প্রাণ হারিয়েছিলাম।”

    আমাদের দু’জনের গায়েই কাঁটা দিয়ে উঠল এবার। সর্বনাশ! এ কী শুনছি? জলধরবাবু, জনা, এরা তা হলে কারা? আমরা নড়াচড়া ভুলেও দাঁড়িয়ে রইলাম তাই। আমাদের বিস্ময়ের ঘোর কাটল যখন, তখন জনাও নেই, গোরুর গাড়িরও চিহ্ন নেই। কী ভাগ্যিস, একটু একটু করে দিনের আলো ফুটে উঠছিল তখন! না হলে এই অন্ধকার গাছতলায় কী যে হত, কে জানে?

    এর পর আমরা নিরাপদেই গ্রামে পৌঁছলাম এবং বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে যোগ দিলাম ওদের অনুষ্ঠানে। বন্ধু তো বেজায় খুশি আমাদের পেয়ে। তবে গত রাতের ওই চরম অভিজ্ঞতার কথা আমরা ভুলেও বলিনি ওদের।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদশটি কিশোর উপন্যাস – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    Next Article দুয়ে শূন্য বিষ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    পাণ্ডব গোয়েন্দা সমগ্র ১ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    দুয়ে শূন্য বিষ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    দশটি কিশোর উপন্যাস – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }