Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চাশটি ভূতের গল্প – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প437 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    লালুমিঞার মাঠ

    লম্বায় ছ’ ফুটেরও বেশি। চওড়াতেও তদুপযুক্ত। শক্তসমর্থ বলিষ্ঠ চেহারা। কপালের একপাশে বীভৎস রকমের একটা দাগ আছে। মাথায় ঝাঁকড়া চুল। চুলগুলি কপালের ওপর লুটিয়ে থাকে সবসময়। বুনো শুয়োরের মতো কুতকুতে চোখে যার দিকে তাকায় তার বুকের রক্ত হিম হয়ে আসে। ওর নাম লালুমিঞা।

    হিংস্র জন্তুর চেয়েও মারাত্মক ওই মানুষটির ভয়ে অঞ্চলের লোকেরা সদাই তটস্থ। অনেকের ধারণা, ভিনগাঁয়ে লালুমিঞার ডাকাতের দল আছে। সচরাচর কারও ক্ষতি সে করে না। তবে রাগলে কিন্তু রক্ষে নেই। তাই লালুমিঞার শারীরিক শক্তির সঙ্গে যাদের পরিচয় আছে তারা ওকে ঘাঁটায় না।

    একদিন দুপুরবেলা লালু তার ছোট ছেলেটিকে নিয়ে দাওয়ায় শুয়ে ঘুমোচ্ছিল, এমন সময় জমিদারের পাইক এসে হাজির।

    পাইক বাবাজি লালুকে হাড়ে হাড়ে চেনে। একবার সদরঘাটে দামোদরের জাত-এ (মেলা) লালু এমন ধাতানি দিয়েছিল ওকে যে, সে-কথা আজও ভোলেনি সে। অথচ জমিদারের হুকুম লালুকে ধরে নিয়ে যেতেই হবে। তাই সে ভয়ে ভয়ে এসে ডাকল, “লালুমিঞা আছ নাকি? ও লালুভাই?”

    পাইকের ডাকে ঘুম ভাঙল লালুর। সে অত্যন্ত বিরক্তির সঙ্গে পাইককে পত্নীর ভাই সম্বোধন করে মুখিয়ে উঠল, “কেন রে শা—?”

    “বড়কর্তা তোমাকে একবার হুকুম করেছেন গো।”

    “তাই নাকি? তোদের বড়কর্তাকে বোলগে যা লালুমিঞা কারও বাপের চাকর নয় যে, ডাকলেই যাবে।”

    পাইক বলল, “আঃ চটছ কেন লালুভাই? এই তোমার এক দোষ। আমাকে হুকুম করেছেন, আমি হুকুমনামা নিয়ে এসেছি। একবার চলো না ভাই কাছারিতে।”

    লালু ভেংচে বলল, “এই ভরদুপুরে লালুমিঞা যাবে জমিদারের কাছারিতে? আস্পর্ধা তো কম নয়! যা ভাগ এখান থেকে। নাহলে আস্ত একটা কাঁচা বাঁশ তোর পিঠে আমি ভাঙব।”

    পাইক আর কী করে? ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে কোনওরকমে পালিয়ে এল সেখান থেকে। তারপর ফিরে এসে বড়কর্তাকে বলল, “ওকে ধরে আনতে পারলাম না হুজুর।”

    বড়কর্তা গম্ভীরভাবে বললেন, “এল না তা হলে?”

    “না হুজুর। মিঞাসাহেব বলে ডাকতেই তেড়ে যেন মারতে এল। বাবাঃ। কী তম্বি তার। ওকে ধরে আনা আমার কম্ম নয়।”

    “একটু বুঝিয়েসুঝিয়ে বলেছিলি?”

    “হ্যাঁ কৰ্তা।”

    বড়কর্তা আরও একটু গম্ভীর হয়ে কী যেন ভাবতে লাগলেন।

    গাঁয়ে ষোলোআনার সকলেই মান্য করেন বড়কর্তাকে। একে রাশভারী লোক, তায় জমিদার। প্রজাদের ওপর খুব যে একটা অত্যাচার করেন তা নয়, তবে কোনওমতেই কারও ঔদ্ধত্য সহ্য করেন না। রেগে গেলেই তাঁর জমিদারি রক্ত টগবগিয়ে ফোটে। কড়া মেজাজে কাজ করে যান। লালুর বেয়াদবি অনেক সহ্য করেছেন তিনি। আর নয়!

    এদিকে লালুরও জেদ, জমিদারই হোক বা রাজা-মহারাজাই হোক, একদম ওপরওয়ালা ছাড়া আর কাউকেই মানবে না সে। লালু বলে, “তোদের বড়কর্তা তোদের কাছেই থাক। ওকে আবার মানব কী রে? তোরা ব্যাটারা যেমন চাষা। তেল মাখানো তোদের স্বভাব, তেল মাখাগে যা। আমার কাছে বড়কর্তা দ্যাখাতে আসিস না, বুঝলি? যত্তসব।”

    পাইকের মুখে সব শুনে তাই মনে মনে খেপে ব্যোম হয়ে উঠলেন বড়কর্তা। বর্ধমানের এই ছোট্ট গ্রামখানির জমিদার তিনি। প্রতিটি প্রজা তাঁকে মান্য করে। একমাত্র লালু ছাড়া। লালুমিঞা সামান্য একজন প্রজা। তার এই মাত্রাছাড়া ঔদ্ধত্যে কার না রাগ হবে? তাই নিষ্ফল আক্রোশে অনেকটা স্বগতোক্তির মতোই তিনি বললেন, “ওর ব্যবস্থা আমি করছি।”

    সন্ধের সময় বড়কর্তা কয়েকজন সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে মজলিসে বসেছিলেন। এই সময়টায় একটু জোর আড্ডা হয়। গ্রামের বিশিষ্ট কয়েকজন তোষামুদে লোক বসে বসে তাঁর চাটুকারি করে মন জোগায়। কোনওদিন গানবাজনাও হয়। আজকের মজলিসটা অবশ্য অন্য ধরনের হচ্ছিল। বিষয় লালুমিঞা।

    লালুমিঞা কারও ক্ষতি না করলেও তার হাতে দু’-একটা চড়-চাপড় খায়নি এমন লোক এ গাঁয়ে খুব কমই আছে। কাজেই লালুর বেপরোয়া স্বভাবের জন্য অনেক দুষ্ট লোকেরই রাগ ছিল তার ওপর। কুচক্রী সুদখোর ও মহাজনরা তো প্রায়ই হেনস্থা ভোগ করত লালুর হাতে। সেইসব অভিযোগ শুনতে শুনতেও বড়কর্তার মন বিষিয়ে ছিল লালুর ওপর। যাই হোক, লালুমিঞাকে নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে তেমন সময় হঠাৎই অপ্রত্যাশিতভাবে লালুমিঞার আবির্ভাব হল সেখানে।

    লালু এসে বুক ফুলিয়ে কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়াল সকলের সামনে।

    অন্যান্য প্রজারা এসে নমস্কার করে সসম্ভ্রমে ভয়ে ভয়ে কথা বলে। লালু কিন্তু ওসবের ধার ধারে না। বেশ রাগত গলায় বলল, “অমন দিনদুপুরে আমাকে ডাকতে পাঠিয়েছিলেন কেন? জানেন না সে সময় মানুষ একটু বিশ্রাম করে?”

    বড়কর্তা লালুর আপাদমস্তক একবার নিরীক্ষণ করে বললেন, “গলার স্বরটা একটু নামিয়ে আর মাথাটা অল্প হেঁট করে কথা বলো। মনে রেখো তুমি হলে আমার সামান্য একজন প্রজা, আর আমি হলাম এ গাঁয়ের জমিদার।”

    লালু বলল, “তাতে কী হয়েছে? সেই গরমে আপনি যখন-তখন ডাকবেন আর আমাকে ভয়ে ভয়ে ছুটে আসতে হবে নাকি?”

    “সবাই তো তাই আসে।”

    “সবাই-এর কথা ছেড়ে দিন। আমার নাম লালুমিঞা। আমি রাজা-উজিরও মানি না, জমিদারেরও পরোয়া করি না। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পেটের ভাত জোটাই, ধামায় করে কেউ আমার ঘরে ক্ষুধার খাদ্য ধরে দিয়ে যায় না। অতএব—।”

    “এত ঔদ্ধত্য তোমার?”

    “এতে ঔদ্ধত্যের কী দেখলেন? থাক, ওইসব বাজে কথা রেখে এখন বলুন কেন ডেকেছেন?”

    “তুমি বছরের পর বছর খাজনা দিচ্ছ না, তাই ডেকেছি।”

    “খাজনা! কীসের খাজনা?”

    “জমির খাজনা। আমার গ্রামে বাস করছ, জমি চষে ফসল ফলাচ্ছ, তার খাজনা।

    “খাজনা আমি দেব না, বুঝেছেন? লালুমিঞার কোনও খাজনা নেই। তার খাজনা খোদাতালার কাছে, জমিদারের কাছে নয়। দুনিয়ার মাটি খোদার দান। খোদার সম্পত্তি সবার সম্পত্তি। কাজেই খোদার সম্পত্তির কোনও জমিদারও নেই, খাজনাও নেই।”

    বড়কর্তার সমস্ত মুখখানি রাগে লাল হয়ে উঠল। কুটিলতায় ভরে উঠল যেন। প্রচণ্ড ধমকের সুরে দাবড়ে উঠলেন, “লালুমিঞা!”

    লালু হেসে বলল, “ওতে কোনও লাভ হবে না কতামশাই। যতই চ্যাঁচান, খাজনা আমি দিচ্ছি না।”

    বড়কর্তা সিংহনাদ করে উঠলেন, “এই কে আছিস?”

    সঙ্গে সঙ্গে আশপাশ থেকে জনাকয়েক শক্তিমান লোক অতর্কিতে ঘিরে ফেলল লালুমিঞাকে।

    “বেঁধে ফ্যাল ব্যাটাকে। চাবকে ওর পিঠের চামড়া আমি ছাড়িয়ে নেব। আমার চাবুকটা কোথায় গেল?” বলেই দেওয়ালের হুকে ঝোলানো শঙ্কর মাছের চাবুকটা পেড়ে আনলেন বড়কর্তা।

    এই অতর্কিত আক্রমণের জন্য লালু একটুও প্রস্তুত ছিল না। তাকে লেঠেল দিয়ে আটক করিয়ে বেঁধে ফেলার ব্যবস্থা হয়েছে জানলে আসতই না সে। তবুও লালুমিঞা বোধ হয় আসুরিক শক্তির অধীশ্বর ছিল। তাই ‘হাঃ হাঃ’ করে একবার ঘর ফাটিয়ে হেসে উঠেই সহসা তিন হাত লাফিয়ে দাপটের সঙ্গে দু’জনের পেটে প্রবল বেগে দু’ পায়ে লাথি মেরে এবং দু’ বাহুর প্রচণ্ড ঘুর্ণিতে নিজেকে ছিনিয়ে নিয়ে নিমেষে উধাও হয়ে গেল উল্কার মতো।

    ঘটনাটা যে কী ঘটল তা টের পেতে বেশ কিছুক্ষণ সময় লাগল। লাথি খাওয়া লোক দুটি দু’হাতে পেট ধরে গড়াগড়ি খাচ্ছে মেঝেতে। সকলে মিলে ধরাধরি করে তাদের শুশ্রূষার জন্য নিয়ে গেল।

    চাবুকটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে বড়কর্তা গুম হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। তারপর সাপের চোখের মতো ক্রুদ্ধ ও তীক্ষ্ণ চোখে লালুর চলে যাওয়া পথের দিকে তাকিয়ে ডাকলেন, “নায়েবমশাই?”

    শয়তান নায়েব সশব্যস্ত হয়ে আদেশ প্রার্থনা করলেন, “বলুন হুজুর।”

    “আমার সমস্ত লেঠেলদের গোপনে তৈরি হতে বলুন। লালুমিঞা খেপে গেছে। নিশ্চয়ই একটা ভয়ানক কাণ্ড কিছু করে বসবে সে। যেমন করেই হোক এর একটা বিহিত করতেই হবে।”

    “কী বিহিত করবেন?”

    বড়কর্তা নায়েবমশাইয়ের কানে ফিসফিস করে কী যেন বললেন। শুনে নায়েব মশাইয়ের হিংস্ৰ মুখ কুটিল আনন্দে ভরে উঠল।

    গভীর রাত। কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী। চারদিক আবিল অন্ধকারে ঢাকা।

    বড়কর্তা লেঠেলদের নিয়ে সেই ঘন অন্ধকারেই পা টিপে টিপে এসে উপস্থিত হলেন লালুমিঞার বাসায়। লাঠি, সড়কি, ভোজালি, তীর, কাঁড়, সবরকম অস্ত্রই সঙ্গে ছিল ওদের। গরমের দিন। লালু নিশ্চয়ই দাওয়াতেই শুয়ে থাকবে। কাজেই এক কোপে ওর মাথাটা ধড় থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে একটুও সময় লাগবে না। কিন্তু কোথায় লালু? শূন্য দাওয়ায় একটা কুকুর শুয়ে ছিল। ওদের দেখেই পালাল।

    নায়েবমশাই তবুও দাওয়ায় উঠে ঘরের ভেতর উঁকি মারতেই দেখলেন লালুমিঞা তার বউ ও ছেলেকে নিয়ে পরম নিশ্চিন্তে ঘরের ভেতর শুয়ে আছে। ঘরের কোণে টিমটিম করে একটি রেড়ির তেলের পিদিম জ্বলছে। মাথার কাছে একটি দা রাখা আছে। সম্ভবত আকস্মিক কোনও বিপদের ভয়েই লালুর সাবধানতা।

    নায়েবের ইশারায় বড়কর্তা উঠে এলেন দাওয়ায়। জানলার ফাঁক দিয়ে একবার ঘুমন্ত লালুকে দেখলেন। তারপর চাপা গলায় লেঠেলদের আদেশ দিলেন বাড়িটা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলতে। একজনকে তীর কাঁড় নিয়ে এগিয়ে আসতে বললেন। নিজে সরে এলেন জানলার ধার থেকে।

    বড়কর্তার আদেশে তীর কাঁড় নিয়ে এগিয়ে এল একজন। এসে একবার বেশ ভাল করে দেখে নিল তার লক্ষ্যবস্তুকে। তারপর দরজায় শিকল তুলে দিয়েই অব্যর্থ লক্ষ্যভেদে তীরনিক্ষেপ করল লালুর বুকে।

    যন্ত্রণায় আর্তনাদ করে উঠল লালু। ওর বউ এবং ছেলেটিও ঘুম ভেঙে জেগে উঠল। তাদের কাতর কান্নায় সাড়া দিতে এগিয়ে এল না কেউই।

    এতেও ক্ষান্ত হল না জমিদারের লোকরা। বড়কর্তার নির্দেশেই ফিরে আসবার সময় শুধু একটি দেশলাই কাঠি ধরিয়ে দিয়ে এল লালুমিঞার ঘরের চালায়। রাতের অন্ধকারে লালু ও তার বউ-ছেলের একই সঙ্গে আসমান ও জমিন এক হয়ে গেল।

    বড়কর্তার একমাত্র ছেলে বিমল কলকাতায় হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করত। ছেলে বড় হয়েছে। তাই তার বিয়ে দিয়ে তাকে সংসারী করে জমিদারিতে বসাবেন মনে করে বড়কর্তা চিঠি পাঠালেন ছেলের কাছে। চিঠিতে এও লিখে দিলেন, “সামনের মাসে অমুক তারিখে বাবাজীবনের বিয়ের ঠিক হয়েছে। অতএব কোনওরকমেই যেন গ্রামে আসতে বিলম্ব না হয়।”

    বিমল চিঠি পেয়ে খুবই আনন্দিত হল। পত্রপাঠ কলেজে মাসখানেকের ছুটি নিয়ে দেশে ফিরল সে। তবে আসবার আগে নির্দিষ্ট দিনক্ষণের কথা কিছু না জানিয়ে আসায় বড়কর্তা ছেলের জন্য গাড়িঘোড়া পাঠাবার কোনও ব্যবস্থাই করেননি।

    রাত খুব বেশি নয়। সেয়ারাবাজারে এসে মাঠে মাঠে মাইল তিনেক যেতে পারলেই গ্রামে পৌঁছনো যাবে। পথে চোর-ডাকাতের ভয় আছে। কেননা যে সময়কার কথা বলছি তখন এতদঞ্চলে দুর্ধর্ষ সব ডাকাতরা বাস করত। এইসব ডাকাতদের মোকাবিলা করতে কালঘাম ছুটে যেত ইংরেজ সরকারের। বিমল তাই সতর্ক হয়েই গ্রাম অভিমুখে রওনা হল।

    আকাশ জুড়ে মেঘ করেছে। একটু পরেই বৃষ্টি নামবে হয়তো। তা নামুক। ভালয় ভালয় বাড়ি পৌঁছতে পারলে হয়! বিমলের হাতে টর্চ ছিল। তবু সে পাছে চোর-ডাকাতের হাতে পড়ে, এই ভয়ে চর্ট জ্বালল না। বিমল নিজেও খুব শক্তিমান ছিল, তাই সে সাহস করে খুব সতর্কতার সঙ্গে অন্ধকারে সাবধানে পথ চলতে লাগল।

    আকাশে বর্ষার মেঘ ঘন হচ্ছিল অনেকক্ষণ থেকেই। বিমল কিছুটা পথ আসার পরই সেই মেঘের পরিণতি দেখতে পেল। সে কী প্রচণ্ড বৃষ্টি। সঙ্গে ঝড়। প্রবল বর্ষণে দুর্যোগ যেন ঘনতর হয়ে উঠল। একটি গাছতলায় দাঁড়িয়ে একা বিমল বৃষ্টিতে ভিজে কাঁপতে লাগল ঠকঠক করে। এই ঝড়বৃষ্টিতে বিমলের এমনি অসুবিধে হলেও অনেকটা নির্ভয় হল এই ভেবে যে, এই দুর্যোগে আর যাই হোক, চোর-ডাকাতের হাতে পড়তে হবে না। কারণ তারাও এবার আশ্রয় খুঁজবে।

    বৃষ্টির দাপট একটু কমলে আবার চলা শুরু করল বিমল। একটা মাঠ পার হয়ে আর এক মাঠে এসে পড়ল সে। এমন সময় সে দেখতে পেল হঠাৎ কোথা থেকে যেন একটা অতিকায় চেহারার তেজি ষাঁড় রণং দেহি মূর্তিতে পথরোধ করে দাঁড়াল ওর। সামনের দু’ পায়ের খুরের সাহায্যে কাদামাটি আঁচড়াতে আঁচড়াতে ঘন ঘন শিং নাড়া দিতে লাগল।

    বিমল দেখল মহাবিপদ। ষাঁড়টা এমনভাবে পথ আটকেছে যে, পাশ কাটাবার উপায় পর্যন্ত নেই।

    কিন্তু এ কী! এ কী ভয়ানক কাণ্ড! ষাঁড়টা যে ক্রমশ বড় হচ্ছে। বড় হতে হতে ষাঁড়টা ক্রমশ পর্বতাকার ধারণ করল।

    বিমল জমিদারের ছেলে। ভাল খেয়ে মেখে নিয়মিত ব্যায়াম করে সেও কম বলিষ্ঠ ছিল না। এই অলৌকিক দৃশ্যে তাই রীতিমতো ভীত হয়েও সে ভাব চেপে রেখে সে বলল, “কে তুমি? কেন এমন জাদু দ্যাখাচ্ছো?”

    ষাঁড়টা তার ককুধ ঝাঁকিয়ে ‘হোগ ঘোঁৎ’ করে একটা শব্দ করল।

    বিমল বলল, “তুমি তো ষাঁড় নও। তুমি কোনও অলৌকিক শক্তির ধারক। বলো তুমি কে?”

    ষাঁড়টি এবার পর্বতাকার ছেড়ে আস্তে আস্তে ছোট হতে লাগল। তারপর হঠাৎ মাঠময় প্রচণ্ড দাপাদাপি করে আবার ওর সামনে এসে দাঁড়াল।

    প্রবল বর্ষণ থেমে গেলেও টিপটিপ করে তখনও বৃষ্টি পড়ছে। বিদ্যুৎও চমকাচ্ছে
    মাঝে মাঝে।

    সেই আলোয় বিমল দেখতে পেল বৃষ্টির জল ষাঁড়ের গায়ে লাগছে না। ষাঁড়টা একবার থমকে দাঁড়াল। তারপর আবার বড় হতে লাগল একটু একটু করে।

    বিমল বলল, “কেন তুমি আমাকে পথ চলতে দিচ্ছ না?”

    বিমল আবার বলল, “আমি তো তোমার কোনও ক্ষতি করিনি। তবে কেন তুমি এইভাবে পথরোধ করছ আমার?”

    প্রত্যুত্তরে বিশাল ষাঁড় ঘন ঘন শিং নাড়ল।

    ষাঁড় মানুষের গলায় বলল, “তুই না করলেও তোর বাবা করেছে।”

    “আমার বাবা কী ক্ষতি করেছে তোমার? তুমি কে?”

    একটি প্রচণ্ড অট্টহাসির সঙ্গে উত্তর এল, “আমি তোর যম। আমার নাম লালুমিঞাচমকে উঠল বিমল। লালুমিঞা! পত্র মারফত সে জেনেছিল লালুর মৃত্যুর খবর। কিন্তু কে, কেন এবং কীভাবে তাকে মেরেছিল তা সে জানত না। তাই বলল, “তোমার মৃত্যু সংবাদ আমি পেয়েছি। তবে তোমার ব্যাপারে কিছুমাত্র আমি জানি না। আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। অতএব আমাকে ভয় না দেখিয়ে পথ ছাড়ো।” এসেছি। আমি।”

    “আমি তোকে ভয় দ্যাখাতে আসিনি রে নির্বোধ। তোকে মারতে প্রতিশোধ নিতে চাই।”

    “আমার অপরাধ?

    “তোর অপরাধ তুই ওই নিষ্ঠুর জমিদারের ছেলে। তোর বাবা নৃশংসভাবে কাপুরুষের মতো হত্যা করেছে আমাকে। শুধু আমাকে নয়, আমার নিরপরাধ বউ, আমার বড় আদরের সন্তান হাসানকেও রেহাই দেয়নি সে। আমার বুকের মানিক আমার চোখের সামনে ঝলসে গেল। রাতের অন্ধকারে আমার সুখের ঘরে আগুন দিয়ে সবাইকে পুড়িয়ে মারল তোর বাবা। ওই দ্যাখ সেই আগুন। এই আগুনে তোকেও পুড়িয়ে মারব বলে আমি বড় আশায় দিন গুনছিলুম।”

    বিমলের চোখের সামনে হঠাৎ মাঠের মাঝখানে এক জায়গায় দাউদাউ করে আগুন জ্বলে উঠল। সেই আগুনে একটা কুঁড়েঘর পুড়ছে। আর ঘরের মধ্যে প্রাণান্ত চিৎকার করে অগ্নিদগ্ধ হচ্ছে তিনটি মানুষ। কী ভয়ঙ্কর সেই দৃশ্য। মানুষগুলো বাঁচবার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে। কিন্তু পারছে না। একটি পুরুষ, একটি নারী ও একটি শিশু দগ্ধ হচ্ছে সেই আগুনে। বিমল জ্ঞান হারাল।

    একটু পরেই আবার জোর বৃষ্টি নামল। সেই বৃষ্টির জল চোখেমুখে যেতেই সংবিৎ ফিরে পেয়ে আবার উঠে বসল বিমল।

    চারদিক সেই ঘন অন্ধকারেই ঢাকা।

    একটু আগের দ্যাখা ঘটনার দৃশ্যটা ওর দুঃস্বপ্ন বলেই মনে হল। আবার পূর্ণ উদ্যমে এগিয়ে চলল সে গ্রামের দিকে। এই মাঠ পেরোলে আর একটি মাঠ। তারপরই ওদের গ্রাম। কিন্তু না। কিছু পথ যাওয়ার পর আবার সেই ভয়ঙ্কর ষাঁড় এসে পথরোধ করে দাঁড়াল ওর। রক্তচক্ষুতে বলল, “যাবি কোথায় বাছাধন? মৃত্যুর জন্য তৈরি হ।”

    বিমল বলল, “বেশ, হলাম। তবে একটা কথা, তুমি বলছ আমার বাবা তোমাকে এবং তোমার বউ-ছেলেকে কাপুরুষের মতো হত্যা করেছে। কিন্তু তুমি নিজেও কি আজ সেই কাজ করছ না?”

    “না। আমি তো অতর্কিত আক্রমণে হত্যা করতে চাইছি না। তোকে জানিয়েই এই কাজ করছি।”

    “মানলাম। কিন্তু সত্যিই যদি তুমি নিজেকে কাপুরুষ প্রমাণ করতে না চাও তা হলে অমন সাংঘাতিক রূপ ধারণ না করে সমমূর্তিতে দ্যাখা দিয়ে আমার মোকাবিলা করো।”

    “তাতে লাভ? আমি অসুরের শক্তি নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলাম। এখন প্রেতযোনি প্রাপ্ত হয়ে আরও অনেক বেশি ক্ষমতার অধিকারী হয়েছি।’

    “ওসব বাজে কথা রেখে তুমি তোমার আসল রূপ ধরো।”

    বলার সঙ্গে-সঙ্গেই যেন ভোজবাজি হয়ে গেল। লালুমিঞা পূর্ব রূপ ধারণ করে আবির্ভূত হল বিমলের সামনে। মানুষের কলেবরে অর্থাৎ আগে যেমন দেখতে ছিল ঠিক তেমনই চেহারায় দেখা গেল তাকে।

    এর পর শুরু হল ভূতে-মানুষে তুমুল লড়াই।

    সারারাত ধরে দু’জনে ভীষণ লড়াই করতে লাগল। সে এক রোমাঞ্চকর দৃশ্য ! এইভাবেই ভোর হয়ে এল। আকাশে শুকতারা উজ্জ্বল হয়ে উঠল ক্রমশ।

    এই অশরীরী অলৌকিক শক্তির সঙ্গে লড়াই করে বিমল ক্লান্ত হয়ে পড়ল। বেশিক্ষণ বুঝতে পারল না সে। অবসন্ন দেহে মাটিতে পড়ে গেল। লালুমিঞা ভয়ঙ্কর রূপ ধরে দু’হাতে তুলে নিল তাকে।

    বিমল কাতর গলায় বলল, “না না, আমাকে মেরো না। আমাকে ক্ষমা করো লালুভাই।” লালুমিঞা বলল, “অনেক আগেই তোকে শেষ করে দিতাম, শুধুমাত্র তোকে আমি তিল তিল করে মারব প্রতিজ্ঞা করেছিলাম বলেই লড়াই করার ছলে অনেকক্ষণ বেঁচে থাকবার সুযোগ করে দিয়েছিলাম। এখন ভোর হয়ে আসছে। দিনের আলো ফুটে উঠলে আমার শক্তি আর কাজ করবে না। তাই তোকে শেষ করেই আমি বিদায় নেব এবার।” বলে বিমলের বুক চিরে চোঁ-চোঁ করে ওর সমস্ত রক্তটুকু শুষে নিয়ে ওকে ওর বাড়ির দেউড়িতে শুইয়ে দিয়ে এল।

    সকালবেলা চাকর ও দরোয়ানের চিৎকারে ছুটে এল সবাই। বড়কর্তা, বিমলের মা, ছেলেকে বুকে নিয়ে হাউহাউ করে কেঁদে উঠলেন। গ্রামের লোকজনও ছুটে এল। রক্তাক্ত ও কর্দমাক্ত বিমলের চোখেমুখে জল দিয়ে পাখার বাতাস করতে লাগল সকলে।

    কেউ ভেবেই পেল না বিমলের এইরকম দশা কী করে হল।

    একটু পরে জ্ঞান ফিরল বিমলের। তবে কিনা ওর প্রাণবায়ু শেষ হয়ে আসছে তখন। তবুও অতিকষ্টে গতরাতের ঘটনাটা সকলকে বলে মা-বাবার পায়ের ধুলো মাথায় নিয়ে চিরনিদ্রায় ঢলে পড়ল সে।

    সারা বাড়িতে কান্নার রোল উঠল।

    বিমলের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই নিভে গেল এই বংশের শেষ প্রদীপটি।

    এই গল্পের এখানেই শেষ। ঘটনাকাল পুরনো হলেও যে মাঠে লালুমিঞার সঙ্গে বিমলের ওই রোমহর্ষক ব্যাপারটি ঘটেছিল, সেই মাঠকে আজও লোকেরা লালুমিঞার মাঠ বলে। অনেকে বলে, কালোমতো একটা ষাঁড় নাকি এখনও মাঝেমধ্যে গভীর রাতে ওই মাঠের মাটিতে ধুলোর ঝড় উড়িয়ে উন্মাদের মতো ছুটোছুটি করে। তাই হাজার কাজ থাকলেও রাতভিতে ওই মাঠের ধারেকাছে যায় না কেউ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদশটি কিশোর উপন্যাস – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    Next Article দুয়ে শূন্য বিষ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    পাণ্ডব গোয়েন্দা সমগ্র ১ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    দুয়ে শূন্য বিষ – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    দশটি কিশোর উপন্যাস – ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }