Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পটলা সমগ্র – শক্তিপদ রাজগুরু (দুই খণ্ড একত্রে)

    শক্তিপদ রাজগুরু এক পাতা গল্প816 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পিকনিক

    হোঁৎকা বেশ গম্ভীরভাবে বলে, নাঃ, এবার পিকনিক হইব না ।

    কথাটা শুনে আমরা তো হতবাক। পটলার বাক্যি অবশ্য মাঝে মাঝে থমকে যায়, কারণ তার জিবটা বিনা নোটিশে আলটাকরায় আটকে যায়। এ হেন পটলাও বলে, ক-কেন হবে না পিকনিক, বল ?

    পঞ্চপাণ্ডব ক্লাবের বাৎসরিক ক্লাবের জন্মের আগে থেকেই হয়ে আসছে। অবশ্য আমাদের ক্লাবের মেম্বার এই পাঁচজনই—হোঁৎকা, পটলা, গোবর্ধন, ফটিক আর এই অধম। আমরা পিকনিকে গিয়েই প্রতিষ্ঠা করি এই ক্লাব। সুতরাং এবার পিকনিক হবে না শুনে ঘাবড়ে গেছি। হোঁৎকা এবারের কোষাধ্যক্ষ। অবশ্য কোষাগারে টাকা কখনই থাকে না। আমরা, পঞ্চপাণ্ডব ক্লাবের সভ্যরা, দিন আনি দিন খাই। আর পটলাই সেটা মূলত আনয়ন করে। হোঁৎকা বলে দেশজ ভাষায়, ফন্ডে ট্যাকা নাই! পিকনিক হইব ক্যামনে?

    গোবর্ধনের মামার পাইকেরি কুমড়ো, চালকুমড়ো আর গুড়ের আড়ত। পটলার বাবা কাকার মত দু’হাতে আমদানি তার নেই, তবু গোবর্ধন মামার ওনলি ভাগ্নে। গোবর্ধন বলে, কুমড়া, নলেন গুড় যা লাগে দেব।

    হোঁৎকা বলে, কুমড়া সিদ্ধ গুড় দিই খাই পিকনিক হইব? স্রেফ কুমড়ো? কুমড়ো বিচ্যা তরও কুমড়োমার্কা বুদ্ধি হইছে দেহি। মিনিমাম দেড় হাজার টাকা চাই পিকনিকে। ওই ম্যাটাডোর ভ্যান ভাড়া নিব আটশো টাকা, কই পামু?

    পটলাই আমাদের বিপদতারণ। সে বলে, ট-টাকার ব্যবস্থা হবে। গাড়ি? মা-ম্যাটাডোর? ফটিক আমাদের ক্লাবের মধ্যে শিল্পী মানুষ। কালোয়াতি গান গায়, এর মধ্যে দু’চারটে গানের টুইশানিও ধরেছে। ফটিকই বলে, ম্যাটাডোর ভ্যান হয়ে যাবে। আমার ছাত্রীর বাবা ওই সিমেন্টের আড়তদার ভুজঙ্গবাবুর একটা ভ্যান আছে, তেল মবিল দিলেই মিলবে।

    পয়সার ব্যবস্থা, গাড়ির ব্যবস্থা হতে দেখে এবার হোঁৎকা বলে, তয় চল। কিন্তু কবজিভোর মাংস চাই, নালি হোঁৎকা তগোর এই বাঁধাকপির ঘ্যাট আর মুলো চচ্চড়ি খাতি যাইব না। মাংস উইথ দই-সন্দেশ ।

    আমি বলে উঠি, এত জুটবে কী করে?

    তাহলে আমি নাই। তরাই যা গিয়া। হোঁৎকা জানিয়ে দেয়।

    হোঁৎকা ছাড়া পিকনিক ভাবা যায় না। বাজার করা, ওখানে গিয়ে টিফিন দেওয়া, রান্না করা সব ওই-ই করে। অবশ্য খায় একা তিনজনের খাবার, কিন্তু তবু ওকে চাই-ই।

    পটলা বলে, ত-তাই হবে।

    আমরা সমস্বরে জয়ধ্বনি দিই, থ্রি চিয়ার্স ফর পটলা…

    ট্যাঙ্কে পেট্রোল ঢাললেই যেমন অচল গাড়িও চালু হয়, তেনি টাকা আসতেই হোঁৎকা এবার চালু হয়। এর মধ্যে পিকনিকের জায়গাও ঠিক হয়ে গেছে। ওদিকে কানা দামোদরের ধারে গোবরার মামার বিরাট চাষবাড়ি, সেখানে কুমড়োর চাষই প্রধান। এ ছাড়াও অন্য ফল ফসলও হয়, আর বাগানঘেরা একটা বাড়িও আছে। সেটাতে বিশেষ কেউ থাকে না। তবে জল-কল-বিজলি এসব আছে। রান্নার উনুনও মিলবে। কাজের লোক আছে। সকালে গিয়ে সন্ধ্যার পর ফেরাও যাবে। পিকনিকের একেবারে নাকি আদর্শ নিরিবিলি জায়গা। ওখানেই যাব। ফটিক এসে জানায় ম্যাটাডোরও মিলে গেছে।

    হোঁৎকা তখন বাজারের ফর্দ নিয়ে বসেছে। মুরগির মাংস নেওয়া হবে এখান থেকেই । তরিতরকারি, তেল-মশলা, দই-সন্দেশ, মায় ব্রেকফাস্টের ডিম সেদ্ধ-টোস্ট-কলাও রেডি করে নিতে হবে।

    হোঁৎকা এসব ভালোই বোঝে। নিজের চাই সবই তিন গুণ পরিমাণে। হোঁৎকা একজন নয়—হিসেবে তিনজন, সেই মত সব নিতে হয় ।

    খুব সকালেই ক্লাবে এসে জুটেছি, তখনও সূর্য ওঠেনি। হোঁৎকা গজেনকে নিয়ে তার মালপত্র—টিফিন, লাঞ্চের জিনিস, মাটির ভাঁড় মাংস খাবার জন্য, প্লাস্টিকের গ্লাস, বঁটি, শালপাতা সব হিসাব মত রেডি করছে। ঘড়ি দেখে পটলা বলে, এখনও ফ-ফটিক গাড়ি নে এল না?

    গোবর্ধনও এসে হাজির উইথ্ দুটো নধর কুমড়ো। হোঁৎকা বলে, সক্কালেই ‘কুমড়ো’ যাত্রা-

    গোবরা বলে, কুমড়ো অযাত্রা নয়, অযাত্রা তোর ওই ডিম-কলা। এগুলো সামনে থেকে ওঠা।

    হোঁৎকা কি জবাব দিতে যাচ্ছিল, এমন সময় ফটিককে গাড়ি নিয়ে আসতে দেখে চাইলাম । ফটিক সেই ভুজঙ্গবাবুর একটা মাল-বওয়া খোলা ম্যাটাডোর ভ্যানই এনেছে।

    বলি, বসার জায়গা নেই, ভ্যানের মেঝেতে বসে যেতে হবে ?

    গোবরা বলে, শীতকাল, ফেরার সময় যে জমে বরফ হয়ে যাব রে ! পটলা বলে, ঠি-ঠিক কথা।

    হোঁৎকা খাবার-দাবার দেখে বেশি উৎসাহী হয়ে পড়েছে। তবে এর মধ্যে কিছু ‘ম্যানেজও’ হয়েছে। মাংসও নিয়েছে বেশি করে, দই-সন্দেশও। হোঁৎকা বলে, বেলা হই গ্যাছে, এহন রোদে যাবি। সকাল সকাল ফিরতি পারলি ঠান্ডা লাগবো না । চল ।

    ভ্যানটায় ভুজঙ্গবাবু সিমেন্ট আনা নেওয়া করে, ফলে ভ্যানে বেশ খানিক সিমেন্ট পড়ে আছে। আশপাশের খাঁজেও সিমেন্ট পুরু হয়ে লেগে আছে। হোঁৎকা ততক্ষণে ওর ওপরই ডেকোরেটারের শতরঞ্জি পেতে মালপত্র তুলেছে। কড়াই-হাঁড়ি-হাতা-বালতি-কাঠ-তেল- সবজি সহ উঠেছে গাড়িতে। তারপর উঠেছি আমরা। ভ্যান চালু হয় ৷

    কলকাতা ছাড়িয়ে বেশ কিছুদূরে গিয়ে, জি-টি রোড ছেড়ে এবার বাবার রাস্তায় চলেছি অর্থাৎ তারকেশ্বর যাবার পথ ধরে চলেছি আমরা। দু’দিকে ঘন সবুজ কলাবন-বাগান – ধানক্ষেত। মাঝে মাঝে ফুলকপি বাঁধাকপির ক্ষেতও রয়েছে, দু’-একটা গ্রাম-বসতও পড়ে।

    হোঁৎকা এর মধ্যে পথের ধারে গাড়ি থামিয়ে মেম্বারদের চায়ের দোকান থেকে চা-বিস্কুট খাইয়েছে। বলে, মেন টিফিন খাবি ক্যাম্পে গিয়া, এহন চা-বিস্কুট খাই ল। আর কতদূর রে গোবরা হেই তর মামার বাড়ি?

    গোবরা বলে, আর বড়জোর ঘন্টা খানেকের পথ।

    ভ্যান চলেছে ভাঙা রাস্তা ধরে নাচতে নাচতে। আমরা আনন্দে ভ্যানের মেঝেতে শতরঞ্জিতে বসেই কুলোয় গম আছড়ানোর মত নাচন-কোঁদন করছি। ফটিক কালোয়াতি গান গেয়ে চলেছে—মেরে সঁইয়া না ছোড় মোর—

    অবশ্য গানটা সে শুরু করেছে দক্ষিণেশ্বর ব্রিজ থেকে ঘণ্টা দেড়েক আগে। এখনও সঁইয়াকে নিয়ে লোফালুফি করে চলেছে, চলবে শেষ তক।

    হোঁৎকা দুটো কলা ম্যানেজ করে কামড়াচ্ছে খোসা ছাড়িয়ে। এমন সময় ঘটনাটা ঘটে যায় ৷ ঘটনা নয়, দুর্ঘটনাই ।

    কোনো গ্রামের মধ্য দিয়ে রাস্তাটা-দু’দিকে মাটির বাড়ি। কোনোটা দাঁড়িয়ে আছে, কোনোটার চালচুলো নেই, দু’-একটা জরাজীর্ণ গরু বাঁধা, পচা ডোবায় হাঁস চরছে, পথের ধারেই আধনেংটা ছেলে-বাচ্চারা ঘুরছে আর মুরগির পাল চরছে। হঠাৎ ভ্যানটাকে দেখে ক’টা মুরগি ডানা ঝাপটে এদিকে ওদিকে উড়ে যাচ্ছে, এইভাবে চলছিল। এবার একটা মুরগি উড়ে পালাতে গিয়ে এসে পড়েছে আমাদের ওই নৃত্যরত ভ্যানের চাকার নিচেই। মুরগিটার ওপর দিয়েই ভ্যানটা চলে যায় কিছু বোঝার আগেই। আর তক্ষুণিই ওই গ্রামের আকাশ-বাতাসে এত বড় সর্বনাশা দুর্ঘটনার খবরটা বিদ্যুৎ বেগে ছড়িয়ে পড়ে। কারা যেন নির্জন গ্রামের মাটি ফুঁড়ে উঠে পড়ে আর হৈ হৈ করে এসে ভ্যানটার সামনে রীতিমত খবরের কাগজে দেখা নেতাদের মত মানবশৃঙ্খল রচনা করে ধাবমান ভ্যানটাকে ধরে ফেলে।

    ধর—ধর ওদের, যেন পালাতি না পারে।

    আমরাও এবার নেমেছি ভ্যান থেকে। এর মধ্যে এদিক ওদিক থেকে আরও বেশ কিছু লোকজন মেয়েছেলে কৌতূহলী বাচ্চার দল এসে পড়ে। তারস্বরে কান্নার আওয়াজ ওঠে। রাস্তার ওপর মৃত এইটুকু মুরগির জন্যে বুক চাপড়ে কান্না জুড়েছে কোনো মহিলা। একজন শীর্ণ গামছাপরা লোক ক্ষেত থেকে এসে এবার গর্জে ওঠে, আমার মুরগি মেরেছ?

    কথাটা অস্বীকার করার উপায় নেই, বলি, চাকার তলে এসে পড়ল, ঘটে গেছে ব্যাপারটা । তা মুরগির জন্য কিছু টাকা দিচ্ছি আমরা। বাচ্চা মুরগি—ধরো ভাই, পঞ্চাশ টাকাই দিচ্ছি। ইচ্ছে করে তো ঘটাইনি এটা।

    লোকটা দেখছে টাকাগুলো। এইটুন মুরগির জন্য নগদ পঞ্চাশ টাকা সে আশা করেনি। বৌটাও কান্না ছেড়ে এসে পড়েছে, টাকা দেখে মুরগির শোক ভুলেছে সে। টাকা দিয়ে আমরা বের হতে চাই এখান থেকে।

    টাকাটা নিতে যাবে লোকটা, হঠাৎ ভিড় ঠেলে এবার এসে উদয় হয় গোলগাল প্যান্টপরা একটা লোক। সে বলে, টাকা নিবি না গোকুল।

    লোকটা থেমে যায়। সেই মূর্তি আমাদের ভ্যানে মালপত্র দেখে বলে, গরিবের সর্বনাশ করে নিজেরা আনন্দে পিকনিক করতে যাবেন? কারো সব্বোনাশ কারো পৌষ মাস! তা হবে না মশায়। শহুরে বাবুদের হাড়ে হাড়ে চিনি। গরিবকে কত আর ঠকাবেন?

    জানাই, ঠকাবো কেন? মুরগির দাম তো দিচ্ছি ভাই। পাঁচ-সাতশো গ্রাম মুরগির জন্য পঞ্চাশ টাকা দিচ্ছি। মুরগিটাও ওদের রইল, খেতে পারবেন।

    লোকটা এবার বলে, একটা মুরগি বেঁচে থাকলে কত ডিম দিত জানেন? নিদেন দুশো তার থেকে অন্তত পঞ্চাশটা মুরগির বাচ্চা বের হত। পঞ্চাশটা মুরগি থেকে কত ডিম, কত বাচ্চা হত, কত তার দাম, সেদিকে না ভেবে ওকে ভালো মানুষ পেয়ে পঞ্চাশ টাকা ধরিয়ে দিয়ে কেটে পড়ছিলেন, ঠকাননি ?

    ওর হিসাব এবং ভবিষ্যৎ দৃষ্টি দেখে এবার প্রমাদ গনি। লোকটার ওই অপূর্ব হিসাব এবার মুরগির মালিক-মালকিন তৎসহ গ্রামবাসীরাও মেনে নেয়, ঠিক বলেছিস পাঁচু !

    সেই পরোপকারী ভবিষ্যৎদ্রষ্টা তরুণের নাম যে পাঁচু সেটা বুঝে বলি, ঠিক আছে, পঁচাত্তর টাকাই দিচ্ছি ওকে।

    এবার সদ্যজ্ঞানপ্রাপ্ত জনতাও ওই হিসাব বুঝে বলে, না—ওতে হবে না ।

    লোকজনের সমাগম আরও বাড়ছে। ভ্যানটাকে তারা ঘিরে ফেলেছে, নীচে আমরা ক’টি অসহায় প্রাণী। গোবরা বলে, মুরগির একটা বাচ্চা চাপা দিয়ে এত ঝামেলা ?

    পাঁচু বলে, দেশে আইন নেই ভেবেছেন? হাজার টাকা দিতে হবে, তবেই ছাড়ব ভ্যান। হাজার টাকা! কন কি রে মুশয়? হোঁৎকা ঢোঁক গেলে।

    এত টাকা আমাদের কাছে নেই। তাই জানাই, এত টাকা কোথায় পাব?

    কে ধমকে ওঠে, ফুর্তি করতে বেইরেছেন, ট্যাকা নাই বললে তো ছাড়ব না! ওরে প্রধানমশাইয়ের কাছে নে চল এদের।

    অর্থাৎ এবার আরও কঠিন পাল্লাতেই পড়ব। মিনতি করে বলি, ঘটনাটা ঘটে গেছে, শ’খানেক টাকা আছে সঙ্গে, তাই নিয়ে ছেড়ে দিন ভাই। কিন্তু তখন ব্যাপারটা আমজনতার হাতে চলে গেছে। এমন বিনি পয়সায় মজার খোরাক পেয়ে তারাও মেতে উঠেছে। সকলেই রায় দেয়, তাই নে চল ওদের।

    হোঁৎকা কি বলতে যায়। একজন গর্জে ওঠে, এ গাঁয়ে ট্যাঁ ফু চলবে না, নাম জানো আমাদের গাঁয়ের? এ গাঁয়ের নাম ঠান্ডাপুর, ডাণ্ডা মেরে ঠান্ডা করে দেবো। কে শোনায়—আজ মুরগি মেরে পালাবে, কাল এসে মানুষ মারবে? এসব চলবে না। চলো। অ্যাই ভ্যানটাও নে চল ওখানে।

    মেঠো পথ ধরে ভ্যানটাকে নিয়ে চলেছে তারা হৈ হৈ করে। ওতে পাঁউরুটি-কলা- ডিমসেদ্ধ-সন্দেশ, ওপাশে চাল-ডাল-সবজি-মাংস, দই-সন্দেশের হাঁড়ি, প্যাকেট সব রয়েছে। কে যেন বলে ওঠে, কত খাবার রে বাবা !

    প্রধানের বাড়ি অবধি ভ্যান যায় না, সামনের পুকুরপাড়ে একটা ঝাঁকড়া আমগাছের নীচে মালসমেত ভ্যানটাকে রেখে আমাদের নিয়ে গেল পুকুরের ওদিকে প্রধানের বাড়ি-কাম- অফিসের সামনে।

    আজ রবিবার, অফিস ছুটি। প্রধানও বাড়িতে নেই। বেশ সঙ্গতিপন্ন গৃহস্থ। বিরাট বাড়ি। ওদিকের গোয়ালে বেশ কয়েকটা নধর বলদ আর জার্সি গাই রয়েছে। বাড়ির লাগোয়া বাগান । তারপর ঘন সবুজ আলুর ক্ষেত। খামারবাড়ির সামনে একটা ট্রাক্টরও রয়েছে অর্থাৎ পঞ্চায়েতের প্রধান বেশ ধনী ব্যক্তি।

    কিন্তু তিনি নেই, গোলমাল শুনে বের হয়ে আসেন প্রধানের ভাইপো। ঝকঝকে লুঙ্গি-পাঞ্জাবি পরা, হাতে সিগ্রেট। তিনি সব শুনে গর্জে ওঠেন, মগের মুলুক পেয়েছেন? হাজার নয়, দুহাজার টাকা দিলে তবে ছাড়ব।

    অর্থাৎ মিটার আরও চাপছে। বলি, কোথায় পাব এত টাকা !

    তিনিও গর্জে ওঠেন, না হলে আটকে রাখ ওদের। দিনভোর থাক এখানে, কাকা এলে থানায় পাঠাবেন।

    দাওয়ায় বসে আছি আমরা, ওদিকে দেখি তখন ভ্যান থেকে কে আমাদের পাঁউরুটি-কলা -ডিমসেদ্ধ-সন্দেশ বের করে দু-চারজনকে দু-চার পিস দিয়ে, বাকি নিয়ে সরে পড়েছে। ওরা খাচ্ছে কলা-ডিম-এদিকে আমরা নীরবে দেখছি। খিদে-তেষ্টাও ভুলে গেছি। তবু মনে হয়, ডিম কলা নিয়েই যদি ছাড়ে ছাড়ুক। টিফিন না হয় নাই হবে তবু ছাড়া পাবো তো!

    কিন্তু কে কার কথা শোনে!

    ঠায় বসে আছি ওই জনতার পাহারায়। প্রধানের ভাইপোমশায় এর মধ্যে বাড়ি থেকে স্নান সেরে এসেছেন। আর দেখি বাগানের ওদিকে পুকুরপাড়ে গিয়ে মাংস-মালপত্র মায় কড়াই হাঁড়ি দেখে ভ্যান থেকে সব নামানোর কাজ সেরে এবার তিনিই মহা উৎসাহে গাছতলায় পিকনিকের আয়োজন করছেন।

    এদিকে খিদেটা এবার জানান দিচ্ছে। বেলাও বাড়ছে। টিফিন তো সাফ, এখন ওদিকে বোধহয় ফুলকপির তরকারি চেপেছে।

    হোঁৎকা চুপ করে বসে আছে। পটলা বলে, এখানে ক-কেন আনলি গো-গোবরা, ড-ডাকাতের দেশে, দি-দিনে ডাকাতি করে এরা।

    ভাইপো এবার এদিকে এসে আমাদের ডেকে নিয়ে এদিক ওদিক চেয়ে বলেন, শ’ পাঁচেক টাকা আমাকে দেন, আমি ছেড়ে দিচ্ছি আপনাদের। অর্থাৎ ওঁকেই প্রণামী দিতে হবে পাঁচশ টাকা ।

    জানাই, এত টাকা তো নেই, কুড়িয়ে-বাড়িয়ে দেড়শ’ মত আছে।

    ভাইপো হেসে ওঠেন, ওতে হবে না, বসে থাকো, থানায় পাঠাব পরে।

    বলি, তাহলে আমাদের খাবার-দাবার লুঠ করলেন কেন?

    ভাইপো বলেন, ও তো পাবলিকে করছে, বলুন ওদের।

    অর্থাৎ বলার কিছুই নাই। দেখছি এদিকে বসে ওই পাবলিকের গণভোজনের উৎসব। এবার মাংস চড়েছে, বাতাসে খোশবু ওঠে। বেশ লোকজনও জুটেছে, এ যেন তাদেরই পিকনিক চলেছে। এর মধ্যে কে আবার মাইক এনে হিন্দি গানও শুরু করেছে, কিছু উৎসাহী ছেলে বিনি পয়সার ভোজের গন্ধ পেয়ে নাচানাচিও করছে। পুকুরের ওপারে চলেছে আনন্দের হাট, এপারে আমরা ক’জন বসে আছি। এদের লোকজন পাহারা তোলেনি। হাজার, দু’হাজার টাকার আমদানি হবে তাদের, ভোজ তো জুটেছে, ওটা উপরি। সুতরাং আমাদের ঘিরে রেখেছে যাতে পালাতে না পারি।

    খিদেটাও এবার জানান দিচ্ছে মাংসের গন্ধে। বেলা দুটো বেজে গেছে, দানাপানি পড়েনি পেটে। পিকনিক ঠিকই হচ্ছে তবে আমাদের নয়, ওদের। মুরগির বাচ্চার জন্য এত দাম দিতে হবে জানতাম না ৷

    তেষ্টাও পেয়েছে। বলতে কে একজন একটা ময়লা বিবর্ণ প্লাস্টিকের জগে টিউবওয়েল থেকে জল ধরে এনে দেয়। তাই খেতে থাকি, যেন জল দিয়ে তেষ্টাই নয়, খিদেও মেটাতে হবে আমাদের। ভয়ে হতাশায় অসহায় রাগে গলাও শুকিয়ে গেছে।

    ওদিকে তখন ভোজনপর্ব চলেছে। প্রধানের ভাইপোও বসেছেন, তার জন্য বিশেষ পরিমাণ মাংস, উৎকৃষ্ট দই, সন্দেশের ব্যবস্থা হয়েছে। এদিকে পাহারাদাররা গিয়ে পালা করে খেয়ে আসছে।

    হোঁৎকা, গোবরা খিদেয় জ্বলছে। আমাদের অবস্থাও তেমনি, কিন্তু খাবার কথা কেউ বলে না। এরাই এক কড়াই মাংস, দই, সন্দেশ সবই সাবাড় করে শূন্য হাঁড়ি কড়াই বালতি ফেলে রেখে এবার আমাদের ঘিরে জোরদার পাহারা শুরু করে। ওদিকে গাঁয়ের যত কুকুর এসে এঁটো পাতা-ভাত-হাঁড়ি-কড়াই-বালতি চাটছে।

    বেলা পড়ে আসছে। হঠাৎ দেখা যায় ধুলো উড়িয়ে মেঠো পথে একটা জিপ আসছে । প্রধানের জিপ। প্রধান মশায় শহরে কি মিটিং সেরে ফিরছেন।

    প্রধান মশায় জিপ থেকে নামতেই গ্রামের পাবলিক তখন মুরগি মারার কেসটা সবিস্তারে বর্ণনা করে চলেছে তাঁকে। দশাসই চেহারা প্রধানের, তিনি দেখছেন আমাদের অসহায় মূর্তিগুলোকে। ওদিকে পড়ে আছে শূন্য কড়াই-হাঁড়ি—

    হোঁৎকা বলে, মুরগির বাচ্চা চাপা দিইছি, আমাগো থানাতেই পাঠান, দিনভোর উপোসী রাখছে, আমাগো ভ্যানের সব খাবার লুঠ করছে, কয় দু’হাজার টাকা দিতে লাগবো এর পর ? জানাই, টাকা নাই, আপনার ভাইপোও চান পাঁচশো টাকা, এ কি বিচার আপনাদের ?

    প্রধানমশায় অবাক হন, সেকি! এইসব কাণ্ড ! ডাক নৃসিংহকে, কোথায় সে? নেতা সাজতে চায়? ডাক তাকে?

    কিন্তু এদিক খুঁজে আর ভাইপো সেই নৃসিংহকে পাওয়া যায় না। প্রধানমশায় বলেন, কে কে ছিল দলে? একটা মুরগির বাচ্চা চাপা দিয়েছে, তাই এই কাণ্ড! বল কে কে ছিল ? কারা ভ্যান লুঠ করেছে?

    জনতা তখন ধীরে ধীরে পাতলা হচ্ছে। দু-একজনকে ধরে চড়-থাপ্পড় লাগান প্রধানমশায়। মুরগির মালিক তো ব্যাপার দেখে কেটে পড়েছে।

    তখন সন্ধ্যার অন্ধকার নামছে, প্রধানমশায় কোথা থেকে মুড়ি গুড় আর ক্ষেতের কিছু মুলো তুলে আনিয়ে বলেন, এগুলো খাও, সত্যি খুব কষ্ট দিয়েছে তোমাদের। এর বিহিত আমি করবোই, তোমরা কিছু মনে করো না।

    ফিরছি ওই স্তোকবাক্য শুনে। গাড়িতে বসে শুকনো মুড়ি আর মুলো চিবোচ্ছি। খোলা ভ্যানে শীতের হিম হাওয়া সর্বাঙ্গে কাঁপুনি ধরিয়ে দেয়। খালি পেটে ঠান্ডাটা লাগেও বেশি। দিনভোর আজ উপোস দিয়ে আমাদের খরচায় ওই নিষ্ঠুর জনতার পিকনিক দেখে ফিরছি। কোনো পিকনিকে মুলো মুড়ি আর গুড় দিয়ে লাঞ্চ নিশ্চয়ই হয় না।

    পটলা বলে, আর পি-পিকনিকে কাজ নাই ।

    হোঁৎকা গর্জে ওঠে, সব ওই গোবরার জন্যি হইছে। কুমড়ো মামার বাগানে না এলি এই সব হইত না। একটা মুরগির বাচ্চার দাম কয় হাজার ট্যাকা ! ধ্যুস! মুলো খাতি আর পারছি না এই ঠান্ডায় ।

    হোঁৎকার মত পেটুক ভোজনরসিক শীতের ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে উৎকৃষ্ট লাল মুলোটাকে ছুড়ে ফেলে কি অসহায় রাগে !

    এবারে পিকনিকে সত্যিই এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি আমরা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅমানুষ – শক্তিপদ রাজগুরু
    Next Article মেঘে ঢাকা তারা – শক্তিপদ রাজগুরু

    Related Articles

    শক্তিপদ রাজগুরু

    শক্তিপদ রাজগুরু সাহিত্যের সেরা গল্প

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    মেঘে ঢাকা তারা – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    অমানুষ – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    জীবন কাহিনি – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    পরিক্রমা – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    তিল থেকে তাল – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }