Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পটলা সমগ্র – শক্তিপদ রাজগুরু (দুই খণ্ড একত্রে)

    শক্তিপদ রাজগুরু এক পাতা গল্প816 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পটলার অদৃশ্য বন্ধু

    পটলা খবরের কাগজটা কিছুক্ষণ পড়ার পরই সেটাকে আশমানে ছুড়ে দিয়ে গর্জে ওঠে—ধ্যাৎ তে তে রি কা। সব ফোন টোয়েনটি! ই-ইন্ডিয়ার কী হল বল তো !

    পটলা ইদানীং ইন্ডিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে খুবই চিন্তিত। মাঝে মাঝে পটলার মাথায় এক-একটা চিন্তা এসে সেঁদিয়ে যায়। আর তখন কিছুদিন পটলা সেইটার পিছনেই পড়ে। একটা হেস্তনেস্ত না করে ছাড়ে না ।

    ইদানীং পটলার মাথায় ঢুকেছে অন্যায়ের প্রতিকার করতেই হবে। তাই নিয়ে সে মায় রবীন্দ্রনাথের কবিতাও আওড়ায় ।

    “অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে,

    তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে।”

    এই নিয়ে স্কুলের পরীক্ষাতেও এবার দারুণ ‘এসে’ লিখেছে। বাংলার টিচার মদনবাবুও বলেন, দারুণ লিখেছ বিদ্যুৎ (পটলার ওইটা নাকি ইস্কুলের নাম) এবার তোমাদের ক্লাব থেকেও সমাজের কোণে কোণে জমে ওঠা অন্যায়গুলোকেই দূর করার চেষ্টা কর।

    পঞ্চপাণ্ডব ক্লাবের আমরা ক’জন সভ্যই ক্লাবের মাথা। হোঁৎকা, গোবর্ধন অবশ্য আমাদের বাহু। অর্থাৎ শক্তি, বুদ্ধি দেয় ওরাই। ফটিক গাইয়ে-টাইপের ছেলে, স্কুলের পরীক্ষাটা কোনোমতে টপকায় মাত্র। তার ধ্যান জ্ঞান ওই সঙ্গীত। তাও আজকের কিছুই না জেনে হেলেদুলে গিটার বাজিয়ে জীবনমুখী টাইপের গান নয়। ওকে বলে ফটিক—ফক্কিবাজি রে। গান হচ্ছে কালোয়াতি গান। ভারতের রাগসঙ্গীতই আসল ।

    তাই ভোর থেকেই ক্লাবের ঘরে এসে গলা সাধতে থাকে, বিকট স্বরে এমন সাপট তান মারেই যে, কাক চিলও এমুখো হয় না।

    হোঁৎকা অবশ্য খেতে পেলেই খুশি, ‘সব করে দেবে’ পটলার বাবা-কাকার বিরাট কারখানা; ঠাকুমার তো অনেক সম্পত্তি, একটা বাজারই ওদের। টাকার অভাব নেই। আর পটলা ওই বনেদি বাড়ির একমাত্র কুলপ্রদীপ।

    সুতরাং সেই আমাদের ক্লাবের কামধেনু কাম ট্রেজারার। আর হোঁৎকা এবার সেক্রেটারি; গোবর্ধনের মামার বিরাট কুমড়োর ব্যবসা। কুমড়ো, চালকুমড়ো এসবের ওরা হোলসেলার । তারকেশ্বর, বর্ধমান, বনগাঁ অঞ্চলের সব কুমড়ো ট্রাকবন্দী হয়ে আসে ওদের গুদামে এক-একটা খোলের সাইজ, কোনোটা ফুটবলের মতও। ওই কুমড়োর সংস্পর্শে থেকে গোবর্ধনও কুমড়োর মত ফুলে উঠছে। ওদের পাশে পটলা, আমি আর ফটকে তো স্রেফ এইটুকু।

    কিন্তু পটলার কর্তৃত্বই বেশি। তাই পটলার ওই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে এখন আমরাও যোগ দিয়েছি। আর করার মত একটা কাজও হাতের কাছে পাকা ফলের মত টপ করে খসে পড়েছে।

    এদিকে বেশ কিছু তেলকল গজিয়ে উঠেছে। ছোট বড় মাঝারি সাইজের তেলকল এখন এদিকে-ওদিকে চলছে।

    হরষিতবাবু এই অঞ্চলের লিডার। লোকটা কয়েক বছর আগে রাসমণি বাজারে একটা মনোহারি দোকান দিত। দোকান ওই নামেই। বাজারের ফড়ে, ব্যাপারীদের নিয়ে মাঝে মাঝে মিটিং মিছিল করত।

    আর এদিকের নেতা বসন্তবাবুর বয়স হয়েছে, ওই বসন্তবাবুর সঙ্গেই ঘুরত। সৎ মানুষ বসন্তবাবু। তিনি এখানের পথঘাট, জল নিকাশি ব্যবস্থা এসবের অনেক উন্নতি করেছেন। জনসাধারণের সঙ্গে দেখা করে তাদের সুখদুঃখের খবর নিতেন; হরষিত তখন বসন্তবাবুর ছায়া ।

    তারপরের বারেই কোনো জাদুমন্ত্রবলে হরষিতবাবুই ভোটে জিতে বসন্তবাবুকে হটিয়ে নিজেই এখানের এম-এল-এ হয়ে গেল। আর বাজারের ফড়েদের, স্থানীয় কিছু মস্তানকেও দেখা গেল তার মিছিলে। তেলিয়া মস্তান হরষিতের পাশে এসে ফিট হয়ে গেল।

    হরষিতবাবু নেতা হয়ে বসল। পরের বার ভোটের সময় দেখা গেল তার বুথে ওই তেলিয়ার দলই সর্বেসর্বা। বীরদর্পে মোটরবাইক হাঁকিয়ে ঘুরছে তেলিয়া। তার দলবল সাধারণ ভোটারদের ভোটের বাক্সের ধারে কাছে এগোতে দিল না, জিতলেন হরষিতবাবুই।

    এখন হরষিতবাবুর বিশাল বাড়ি, দু-তিনটে গাড়ি। সর্বদাই ব্যস্ত, দেখা মেলে না তাঁর। গাড়িতে চড়ে ঘোরেন। এলাকার পথঘাট-এর কাজও হয় না। বর্ষার চার মাস এলাকার বেশিটা জলে ডুবে থাকে ।

    সারা বাজারের বাইরে রাস্তাতেও বাজার এসে বসেছে। পুলিশ দেখে মাত্র। তেলিয়ার দলের দৈনিক রোজগার এখন কয়েক হাজার টাকা, এর অর্ধেক নাকি হরষিতবাবুর। বাকি ভাগ করে নেয় তেলিয়ার দল। পুলিশদেরও প্রণামী ঠিক দেয়। সাধারণ মানুষ ওদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

    বাজারের দোকানদার সাহুজির ছিল একটা রেশনের দোকান। কোনো রন্ধ্রপথে সেই সাহুজি এখন হরষিতবাবুর খুব কাছের লোক হয়ে গেছে। তার ছেলে এখন হরষিতের সেক্রেটারি। ব্রিজভূষণ সাহুর কনট্রাকটারি ব্যবসা। পথঘাট মেরামতের কনট্রাক্ট সেই-ই পায়। লাখ লাখ টাকার কাজ। পথেঘাটে দু-চার ঝুড়ি খোয়া পড়ে মাত্র। ড্রেনের নর্দমার পাঁক দু-একদিন তোলা হয়। মানুষজন আশান্বিত হয়। এবার পথঘাট মেরামত হবে। জলনিকাশি ড্রেনও তৈরি হবে। কিন্তু কোথায় কী? আর কিছুই হয় না।

    সেদিন বৃদ্ধ প্রমথবাবু রিকশা উলটে পড়ে হাত ভাঙলেন। আমরাই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম; হরষিতবাবুর কাছে আমরাই ক্লাবের পক্ষ থেকে রাস্তার ব্যাপারে বলতে গেলাম। তিনি বলেন, সে কী! রাস্তা তো নতুন হয়ে গেছে। বারো লাখ টাকা পেমেন্টও হয়ে গেছে। আমি তদন্ত করছি।

    ওই পর্যন্তই। পটলা বলে দ্-দ্যাখ দুর্নীতি ক্-কাকে বলে! উত্তেজিত হলে পটলার জিভের ব্রেক ফেল করে আলটাকরায় সেট হয়ে যায়। উত্তেজিত হওয়ারই কথা।

    হোঁৎকা তার দেশজ ভাষায় বলে—হালা চোরের দুনিয়া হইগেছে গিয়া। পটলা বলে, এখনও কিছু করবি না! সায়লেন্ট থাকবি? প্রতিবাদ করতেই হবে।

    আমরাও ভাবছি কথাটা। তাই সেদিন বেশ কিছু ছেলেদের নিয়ে খেলার মাঠের দাবিতে মিছিল করতে জনসাধারণও এগিয়ে আসে।

    প্রমথবাবু, বাংলার টিচার মদনবাবু, কুলেপাড়ার কিছু ছেলেও আমাদের পাশে আসে। একটা মাঠ বেওয়ারিশ পড়ে ছিল, সেখানেই সকলে খেলত। হঠাৎ ওই ব্রিজমোহনের লোক এসে ইট-এর লরি খালাস করতে গেলে সকলে বাধা দিই ।

    সেই রাতেই আমাদের ক্লাবঘরটাই জ্বালিয়ে দেয় কারা। দরমার ঘর পুড়ে ছাই। ফুটবল, ক্যারামবোর্ড সব সাফ। আর তেলিয়াই এসে বলে, ওসব আন্দোলন করলে ফিনিশ করে দেব।

    অর্থাৎ ওই হরষিতের দল চায় না আমরা কিছু করি। ওদের সব অন্যায় জুলুম আমাদের মুখ বুজে সহ্য করতে হবে। হোঁৎকা গর্জে ওঠে—মাঠ জবর দখল করবা? মগের মুলুক ? তেলিয়া জিন্স-এর প্যান্টের পকেট থেকে চেম্বার বের করে বলে, এটা দেখেছিস! বাঁচতে যদি চাস, মুখ বুজে থাকবি। না হলে কড়াক্ পিং–ব্যস, খেল খতম।

    আমরা চমকে উঠি। ওই শয়তানের দল যে সমাজের এত গভীরে গেড়ে বসেছে তা জানা ছিল না। তবু মনের অতলে একটা যন্ত্রণাই ফুটে ওঠে।

    এরপর দেখা যায় ওই তেলকলের ব্যবসা। শোনা যায় ও সবই নাকি হরষিতবাবু আর ব্রিজভূষণেরই। ট্রাক, ঠেলাগাড়িতে সরষের তেলের ড্রাম চালান যায়

    আর ওই সাহুজির দোকান থেকেও মিলের এক নম্বর পবিত্র সরষের তেলও বিক্রি হয়। সেবার, হঠাৎ সাত নম্বর বস্তি, ওদিকের পাড়ার বেশ কিছু লোক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ল। বমি দাস্তু জ্বর, নানা উপসর্গ। একেবারে মড়ক লাগার মত অবস্থাই। ক্লাব থেকে আমরাই তাদের হাসপাতালে নিয়ে গেলাম, পাড়ার মানুষরাও এগিয়ে এলেন। তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা

    হল।

    কারণও ধরা পড়ল, বিষাক্ত সরষের তেল থেকেই এসব হয়েছে। আর ওরা সেই তেল কিনেছে ওই সাহুজির দোকান থেকেই।

    সারা এলাকার মানুষকে নিয়ে দোকানে গেলাম আমরা। পটলা বলে, প্রতিকার চাই। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলবে না। দোকান বন্ধ করে সাহুজি নাকি বর্ধমান চলে গেছে। পুলিশ এসে লাঠি চালায় শান্তিরক্ষার জন্য। আমাদেরও হাতে মাথায় লেগেছে। হরষিতবাবুও এসে বলে, পুলিশ তদন্ত করছে। দোষীর শাস্তি হবেই।

    পটলা বলে—কিছুই হবে না।

    হোঁৎকা শোনায়—রাস্তার লাখ লাখ টাকা চুরি হইল, কী তদন্ত করছেন?

    —চোপ! গর্জে ওঠে হরষিতবাবু।

    তেলিয়া বলে—দেবো ফিনিশ করে!

    সরে আসি। আজ মনে হয় সমাজের সর্বত্র এই অন্যায়, চুরি-অবিচারই চালাবে ওরা গায়ের জোরে, আর তাই মুখ বুজে দেখতে হবে আমাদের।

    রাত নেমেছে। এদিকে এখনও গাছগাছালি কিছু আছে। ক্লাবঘরটা নেই, ধ্বংসস্তূপ আমাদেরও আজ পুলিশ দিয়ে পিটিয়েছে হরষিত। সাহুজির ছেলে ব্রিজমোহনের দল, তেলিয়া
    তো শেষ করতেই চায় আমাদের। পটলা বলে, তবু থামব না। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেই

    হবে।

    হঠাৎ একটা পিক্‌ পিক্‌ শব্দ শুনে চাইলাম সকলে। ঝোপের বুকে জোনাকি জ্বলছে, হঠাৎ ওই ম্লান আলোগুলো যেন একটি দেহের রূপ নেয়। চোখের সামনে দেখি একটা মূর্তি স্পষ্ট হয়ে ফুটে ওঠে। আমরা হতবাক! মূর্তিটা বলে, ভয় পেয়েছ, না?

    পরনে বিচিত্র আকারের পোশাক। মাথায় একটা টুপির মত, তাতে একটা টিকির মত কী উঠে আছে।

    সে-ই বলে, তোমাদের ক’দিন ধরেই দেখছি সকলের ভালো করতে চাও, অন্যায়ের প্রতিকার করতে চাও। তবে এত সহজে ভেঙে পড়লে তো চলবে না !

    আমাদের দিকে নীলাভ চোখ মেলে বন্ধুর মতই চেয়ে থাকে সে। শুধোই, তোমার নাম কী? আমাদের দেখেছ বলছ, এখানে কোথায় থাক? তোমাকে তো দেখিনি কখনও ? হাসে সে। বলে, আমি নিজে দেখা না দিলে আমাকে কেউ দেখতে পায় না। তোমাদের খুব ভালো লেগেছে। সত্যিই ভালো ছেলে তোমরা, তাই নিজে থেকে দেখা দিয়ে পরিচয় করতে এলাম।

    বললাম—তুমি কোথায় থাক?

    আমার কথায় বলে সে, সর্বত্র। সব জায়গাতেই আমার গতি অবাধ। আমি তোমাদের পাশের গ্রহেরই মানুষ, তোমাদের ভালো লাগল, এসে গেলাম।

    হোঁৎকা বলে, আর কী হইব। আমাগোর করনের আর কিছুই নাই। পটলা বলে, ক্লাবঘর তো জ্বালিয়ে দিয়েছে ওই তেলিয়ার দল। ওদের বিরুদ্ধে কথা বলি তাই ৷

    পিক্ পিক্ করে বলে অচেনা বন্ধু—আরও বলবে, ওদের সকলের মুখোশই খুলে দেবে। আমি জানাই—ওরা শেষ করে দেবে অচিন মানুষ ।

    সে বলে, ধ্যুস। আমিও এখন থেকে তোমাদের ক্লাবের সভ্য হয়ে গেলাম। কাল সকালে এসো—ঠান্ডা মাথায় আলোচনা করে যা করার করব। রাজি?

    হঠাৎ এমনি একজনকে পেয়ে যাব, ভাবিনি। এটা তেলিয়াদের কোনো প্ল্যান কি না বুঝতেও পারি না। বন্ধুটিকে আর দেখাও যায় না। চারদিক শুনশান, সে কোথায় হাওয়া হয়ে গেছে। হোঁৎকা বলে, কেসখান কী রে?

    পটলা আশাবাদী। তাই সে বলে—নিশ্চয়ই কোনো মহান আত্মা। দেখবি এবার, একটা কিছু হবেই।

    গোবর্ধন-এর দেহটাই বড়, বুদ্ধি সেই অনুপাতে বেশ কমই। বলে সে, ম্যাজিক ট্যাজিক নয় তো রে !

    পরদিন ভোরেই এসেছি সবাই ক্লাবের মাঠে। ভোরের আলো তখনও ফোটেনি। গাছগাছালি ঘেরা মাঠে পাখিদের কলরব ওঠে। দেখে চমকে উঠি-পোড়া দরমার ঘরখানার চিহ্নমাত্র নেই, রাতারাতি সেখানে গড়ে উঠেছে সুন্দর ক্লাবঘর। আগের থেকেও সুন্দর । ফুটবল, ক্যারাম সবই এসেছে। মায় ফটিকের হারমোনিয়ামটাও এসে গেছে একেবারে নতুন হয়ে।

    হোঁৎকা বলে, এ কী রে ?

    পটলার তোলামি বেড়ে গেছে। বলে সে, ম-ম্যাজিক নাকি রে?

    ফটিক নতুন হারমোনিয়াম পেয়ে খুশিতে ফেটে পড়ে। হারমোনিয়ামে বাজাতে থাকে খুশির সুর।

    পিক্‌ পিক্! সেই বিচিত্র শব্দে চাইল ওরা। হলঘরের কোণে হঠাৎ তার ছবিটা ফুটে ওঠে। দেখা যায় সেই মূর্তিটাকে।

    কী গো, খুশি ? চমকে উঠি—তুমি!

    হাসে সে, তোমাদের দুঃখ দেখে করে দিলাম এসব।

    তুমি অনেক কিছুই করতে পারো? আমার কথায় সেই অচিন মানুষ বলে–তা ঠিক পারি না, তবে তোমাদের ইচ্ছা যদি সত্যিই থাকে কিছু করার, সেটা আমি করতে পারি। আসলে মানুষের ইচ্ছা হলেই আর তাতে অনেকের ভালো হলে তবেই সে কাজ করা যায়।

    হোঁৎকা কী ভাবছে। পটলা বলে, তাহলে সমাজের বুকে লোভী মানুষদের অন্যায়ের প্রতিকার করা যায় ?

    নিশ্চয়ই যায়। তবে আন্তরিকতা চাই-ই। পিক্ পিক্ করে জানায় কথাটা সেই বন্ধু।

    হঠাৎ কাদের গর্জনে চাইলাম আমরা। তেলিয়া মস্তানের দল ভেবেছিল জায়গাটার দখল তারা পেয়ে যাবে। ব্রিজমোহন সাহু আর হরষিতবাবু এখানে বিল্ডিং কমপ্লেক্স করে কোটি কোটি টাকা মুনাফা করবে আর তেলিয়ার দলও পাবে লাখকয়েক টাকা। কিন্তু মাঠে ঘর উঠতে দেখে তারাও এবার শাবল, গাঁইতি, লোক লশকর নিয়ে এসে হাজির।

    তেলিয়া গর্জে ওঠে—ঘর কে বানিয়েছে এখানে? অ্যাই পটলা—

    দেখছি ওদের! গর্জে ওঠে তেলিয়া—ভেঙে দে, জ্বালিয়ে দে এসব। পটলা বলে, না, একদম এগোবে না।

    তেলিয়া সপাটে একটা চড় মারে পটলার গালে। ছিটকে পড়ে সে। হোঁৎকাও এবার একটা ঘুষি মারে তেলিয়াকে। শীর্ণ তেলিয়ার জোর নেই, তবু সেই মস্তানের সর্দার। হোঁৎকার ঘুষিতে সে ঘুরে পড়ে, আর তেলিয়ার অন্য একটা চ্যালাকে তখন ধরেছে গোবর্ধন। ছেলেটা কোমর থেকে ছুরি বের করে গোবরার হাতেই মেরেছে। রক্ত ঝরছে-এবার তেলিয়ার দল ঘিরে ফেলে আমাদের। তেলিয়া পকেট থেকে চেম্বার বের করে বলে—এতে পাঁচটা গুলি আছে, তোদের পাঁচটাকে খতম করে আগুন জ্বালিয়ে ক্লাবঘরের সঙ্গে তোদের পুড়িয়ে ছাই করে দেব। ব্রিজমোহনবাবু, হরষিতদার দলের সঙ্গে টক্কর দিবি পিঁপড়ের দল?

    আমরা সামনে ওই মৃত্যুদূতকে দেখছি। এবার গুলিই চালাবে হয়তো ওই শয়তানরা। হঠাৎ দেখি তেলিয়ার পিছনে সেই অদৃশ্য বন্ধুকে। সে এসে একটা লাথি কষে তেলিয়ার পিছনে । আর ছোট ওই অদৃশ্য মানুষের লাথির যে এত জোর, তা জানা ছিল না। তেলিয়া কর্নার কিক্ করা বলের মত কাত মেরে শূন্যে উঠে গিয়ে ওপাশের দেওয়ালে প্রচণ্ড বেগে মাথা ঠুকে চিৎপাত হয়ে কাটা কলাগাছের মত ছিটকে পড়ে, হাত থেকে ছিটকে পড়েছে রিভলভারটি। হোঁৎকা সেটা তুলে নিয়েছে। তেলিয়ার দলের মধ্যে মন্টার চেহারাটা বুনো মোষের মত, তেমনি শক্তিশালী সে। তার নেতার ওই অবস্থা দেখে পটলার টুটিই ধরতে আসে, শেষ করবে পটলাকেই। কিন্তু নিমেষের মধ্যে আমাদের অদৃশ্য বন্ধু এবার মন্টার গালে লাফ দিয়ে উঠে একটা চড় কষাতে ওই মোষের মত দেহটা ক্লাবঘরের মাঝে বোঁ বোঁ করে দুটো পাক দিয়ে বসে পড়ে, আর ফুঁ দিতে একটা দাঁতই ছিটকে পড়ে। যন্ত্রণায় ককিয়ে ওঠে মন্টা।

    আমরা অবাক! তেলিয়া ততক্ষণে ঝেড়েঝুড়ে উঠেছে, তার ইজ্জতের সওয়াল—এবার তেড়ে আসছে, হঠাৎ অদৃশ্য বন্ধু রিভলভারটা তুলে নেয়, আর তেলিয়া শূন্যপথে ওই ভাসমান রিভলভারটাই দেখে তার দিকে তাক করা। মানুষজন নেই। রিভলভারটা সজীব হয়ে উঠেছে।

    আঁতকে ওঠে সে। আর তারপরেই সিধে দৌড় দেয়। মন্টার সামনের দুটো দাঁত ভেঙে গেছে। দলের বাকিরাও তাদের দলপতিকে ওইভাবে ল্যাজ তুলে দৌড়তে দেখে তারাও দৌড়লো। পিছু পিছু অন্যরা।

    আমরা তো হাসছি।

    এবার অদৃশ্য বন্ধু বলে ওঠে—কী, নমুনা দেখলে তো? অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে সাহস হবে এবার?

    আমরাও বুঝেছি আমাদের অদৃশ্য বন্ধুর শক্তির পরিমাণ। আজ তেলিয়াদের ওই দুর্দশা দেখে আমরা বলি—এইবার হবে বন্ধু।

    —তাহলে কাজে নেমে পড়ো। আমি তোমাদের সঙ্গে থাকব ।

    ওদিকে ব্রিজমোহন তখন তেলিয়াদের ওই দুর্দশা দেখে গর্জাচ্ছে—এই তোদের মুরোদ! ক’টা ছেলেকে সাপ্‌টে নিতে পারলি না?

    তেলিয়া বলে—সাংঘাতিক কাণ্ড ।

    মণ্টার দাঁত ভেঙে মুখটা ছোট হাঁড়ির মত ফুলে উঠেছে। ব্রিজমোহনের ঘরে বসে আছে হরষিতবাবু আর থানার দারোগা ভুজঙ্গবাবু। ইয়া বিড়ালের ল্যাজের মত একজোড়া পুরুষ্টু গোঁফ।

    ব্রিজমোহন বলে—হরষিতদা, কুছু করেন। ওদিকে পিতাজি তো বাড়ি থেকে নিকালতে পারছে না। বলছে বৃন্দাবন গেছে। পাবলিক লোক মিলের দু’নম্বরী পোড়া মোবিল মেশানো তেল খেয়েছে—

    ভুজঙ্গ দারোগা বলে—ওসব রিপোর্ট হামি সামলে লিবে। হাসপাতালের ডাক্তারদের সাথে বন্দোবস্ত করিয়ে লিন। উরা রিপোর্ট বদলে দেবে।

    ব্রিজমোহন এবার সিন্দুক খুলে কয়েক তাড়া নোট বের করে দেয় হরষিতবাবুকে। এক বাণ্ডিল নোট দেয় দারোগাবাবুকেও। বলে, যা করার করেন আপনারা। পিতাজিকে অ্যারেস্ট করবেন না।

    দারোগা বলে—আরও কিছু চাই। তাহলেই সব ব্যবস্থা পাক্কা হয়ে যাবে। কোনো ভয় নেই । হরষিতবাবুও টাকাটা ব্যাগে পুরে বলে, তাই করো ব্রিজমোহন। সব কাজ ঠিকঠাক হয়ে যাবে।

    সারা এলাকার মানুষ মিছিল করে প্রতিবাদ জানায়। সরষের তেলের দাম এক লাফে পঞ্চাশ টাকা থেকে আশি টাকায় উঠল কেন? ভেজাল তেল বিক্রি করে এত মানুষকে মেরেছে, পঙ্গু করেছে সাহুজি। তার বিচার চাই। আমরা এই মিছিল করছি, প্রতিবাদ মিছিল। দেখি নেতা হরষিতবাবুও এসেছে দলবল নিয়ে। তিনিও বলেন, দারুণ কাজ করেছ। এত বড় নিষ্ঠুর কাজের বিচার চাই। দোষীকে শাস্তি দিতেই হবে ।

    হরষিতবাবুও দারুণ ওজস্বিনী ভাষায় লেকচার দেয়, নিদারুণ অমানবিক কাজ এই তেলে ভেজাল দেওয়া, খাদ্যে ভেজাল-এর তদন্ত করতেই হবে। তোমরা এসো আমার ওখানে, এ নিয়ে কথা হবে।

    ওদিকে হরষিতবাবুই এবার হাসপাতালের কোনো কর্তাকে তুষ্ট করে আগেকার রিপোর্টও বদলে ফেলেছে। ওই লোকগুলো ভেজাল তেল খেয়ে অসুস্থ হয়নি। অপুষ্টির জন্যই এটা হয়েছে।

    আর করপোরেশনের টেস্ট যেখানে হয়, এর মধ্যে সেখানে সাহুজির দোকানের তেলের আসল নমুনার শিশি বদলে ভালো তেলের নমুনাই দেওয়া হয়েছে। সেই ভেজাল তেলের সিল করা শিশি হরষিতবাবু এনে নিজের ঘরেই লুকিয়ে রেখেছে।

    হরষিতবাবুর দু’দিকে দুই মূর্তি। আমাদের সামনে জনদরদি সমাজসেবী, আর সাহুজির ছেলে ব্রিজমোহনের কাছে অন্য মানুষ। ভেজাল তেল-এর ব্যাপারে সেদিন আমরা গেছি হরষিতবাবুর কাছে।

    ব্রিজমোহনও রয়েছে। পটলা বলে,—সাহুজিকে অ্যারেস্ট করার কী হল? এত বড় অন্যায় করে লোকটা পার পেয়ে যাবে?

    হরষিত জানে আমরাই এই ব্যাপার নিয়ে জোর আন্দোলন শুরু করেছি। খবরের কাগজের সহকারী সম্পাদক নরেনবাবু থাকেন আমাদের পাড়াতেই, তাঁকে বলে সব কাগজে খবরটা ছাপানো হয়েছে। দু-একজন রিপোর্টারও এর মধ্যে খবর সংগ্রহ করেছে যে, সাহুজি—বৃন্দাবন যায়নি। তার খালধারের নতুন বিশাল বাড়িতেই রয়েছে।

    পুলিশের দারোগাও নাকি সেটা জানে। তাই আমরা তাকে অ্যারেস্ট করবার জন্যই বলি হরষিতবাবুকে। হরষিতবাবু বলে, সে তো এখানে নেই ।

    পটলা বলে, ওই নতুন বাড়িতেই আছে। পুলিশের দারোগাও জানে, তবু ধরছে না। হরষিতবাবু বলেন, শোনো পটল, তোমাদের ক্লাব ওখানেই থাকবে, তোমরা এ নিয়ে আর গোলমাল করো না ।

    পটলা বলে, কী বলছেন স্যার! এত বড় ক্রিমিন্যাল-সমাজবিরোধী সে।

    ব্রিজমোহন গর্জে ওঠে—চোপ! হরষিতদা যা বলছেন তাই করো। না হলে—

    না হলে? আমিই শুধোই।

    এবার তেলিয়া মণ্টাদের দেখা যায়। ওরা সেদিনের অপমানটাকে ভোলেনি। ব্রিজমোহন বলে ওদের—

    ওদের সবকটাকে আটকে রাখ। রাতের অন্ধকারে মুখ বেঁধে গাড়িতে তুলে নে গিয়ে, খতম করে মাঝ গাং-এ ফেলে দিবি। খুব বেড়েছে।

    ওরাও তৈরি ছিল।

    আমরাও প্রমাদ গনি। অবশ্য ফটিক এর মধ্যে বাথরুমে গিয়েছিল। সেখানে র‍্যাকের ওপর রাখা সেই করপোরেশনের ধরা ভেজাল শিশিটা দেখে সে জামার তলে নিয়ে এসেছে।

    ফটিকও ভয় পায়! ওটা ধরতে পারলে ব্রিজমোহন তাদের শেষ করে দেবে।

    আমরাও অবাক হই। হরষিতবাবু যে কতবড় শয়তান, সেটাও বুঝেছি এবার। কিন্তু এবার ওর জালেই পা দিয়েছি আমরা।

    ওরা ধরবে এইবার। আমি বলি—

    হরষিতবাবু, এবারের মত ছেড়ে দেন।

    হরষিত বলে, শত্রুর শেষ রাখতে নেই, তাই তোমাদের ছেড়ে দেওয়ার উপায় আর নেই নিয়ে যা ওদের।

    আমাদের করার কিছুই নেই, আমরা পাঁচজন। ওদিকে ব্রিজমোহনের টেবিলে ডাক্তারের নতুন রিপোর্ট যেটা আদালতে হাজির করতে পারলে সাহুজি এতগুলো মানুষকে মারার পরও বিনা দোষে বেঁচে যাবে

    কিন্তু ওসব প্রমাণ হাতে পাওয়ার উপায় নেই। এবার ওদের সব জেনে ফেলেছি বলেই ওরা আমাদেরও শেষ করে দেবে।

    দাঁতভাঙা মণ্টা এবার ধরে ফেলেছে আমাদের দলের সর্দার হোঁৎকাকে। গোবর্ধনকে ধরেছে দু’জন, সে তবু ছাড়াবার চেষ্টা করছে। হরষিতবাবুই রিভলভারের বাঁট দিয়ে গোবর্ধনের কপালে মারতে রক্ত পড়তে থাকে।

    আমি ফটকে পটলাও এবার প্রমাদ গনি, বাঁচাবার কেউ নেই। হঠাৎ দেখি মণ্টার মোষের মত দেহটাকে আমাদের সেই অদৃশ্য বন্ধু এসে একটা লাথিতে ভলিবলের মত শূন্যে তুলে টেবিলের ওদিকে আস্ফালনরত হরষিতবাবুর ঘাড়েই ছিটকে ফেলেছে, আর ওই বিশাল দেহের ওজনে ছিটকে পড়ে হরষিতবাবু মণ্টার দেহের নীচে। আর্তনাদ করে, পরক্ষণেই তেলিয়ার দুটি হাত ধরে শূন্যে তুলে ওকে নিক্ষেপ করেছে ব্রিজমোহনের ঘাড়ে। দু’জনে মেঝেতে ছিটকে পড়ে। তেলিয়ার আর একটা চ্যালা ব্যাপারটা বুঝতে না পেরেই পটলার দিকে ছেড়ে আসে হাতের ন্যাপলাটা বের করে। অদৃশ্য বন্ধু সেটাকে তুলে সোজা দরজা পার করে বাগানের জলের চৌবাচ্চায় ছুঁড়ে ফেলে।

    হরষিত, মন্টা কিন্তু এর মধ্যে ঠেলে উঠে হোঁৎকার দিকে রিভলভার তাক করেছে, কিন্তু একটা অদৃশ্য লাথিতে হরষিতবাবু ছিটকে পড়ে, রিভলভার গেল কোনদিকে, হরষিতের বাঁ হাতটাই নড়বড় করছে।

    এবার ব্রিজমোহন ভয়ে ঠক্‌ঠক্ করে কাঁপছে। দেখে তারা, টেবিলে রাখা সেই মূল্যবান মিথ্যা রিপোর্টখানা যেন হাওয়ায় উড়ে উড়ে যাচ্ছে। ওরা এখন ওটার জন্যই ছুটছে ওই উড়ন্ত কাগজের পিছনে। হাওয়া নেই—তবু এদিক-ওদিকে উপরে-নীচে উঠছে-নামছে রিপোর্টটা। ব্রিজমোহন চিৎকার করে দৌড়য় তার দলবল নিয়ে, ‘পাকড়ো, পাকড়ো।’ কিন্তু সেটা ঘর থেকে বারান্দা, সেখান থেকে বাগানে যায়। ওরাও ছুটছে ওর পিছনে। তারপর দূরে বিলীন হয়ে যায় । ওরা হতাশ হয়ে বসে পড়ে। হরষিতবাবু নড়বড়ে হাত নিয়েই দৌড়য়—‘ধর’।

    এই অবস্থায় আমরাও কেটে পড়ি। ওদের নজর তখন ওই নৃত্যরত কাগজের দিকে। পটলাদের বাড়িতে এবার এসে হাজির হয়েছি আমরা। পটলাও এর মধ্যে দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক নরেশবাবুকেও খবর দিয়েছে। পটলার কাকার বন্ধু নরেনবাবু, তিনিও এসেছেন। তিনি এলাকার মানুষ, জানেন ওই ভেজাল তেলের ব্যাপারটা, তাই কাগজে বিশদভাবেই রিপোর্ট করেছেন, আর তাই উপর মহলে এ নিয়ে জল ঘোলা হয়েছে। আজ নরেনবাবু ফটিকের আনা সেই ভেজাল তেলের সরানো নমুনা আর অদৃশ্য বন্ধুর আনা সেই মিথ্যা রিপোর্টটা দেখে চমকে ওঠেন।

    এত বড় জাল জোচ্চুরি ঘটতে চলেছে? সর্বনাশ!

    এসব আলমারিতে রেখে দাও, আর সাহুজি এখানেই আছেন?

    হ্যাঁ।

    নরেনবাবু বলেন—আজই পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করছি। ওই দারোগারও ব্যবস্থা করতে হবে। পুলিশ বিভাগের কলঙ্ক ওরা, ওদের মুখোশ খুলে দিতেই হবে। সাবধানে থাকবে।

    এবার চাকা গড়িয়েছে ওই অদৃশ্য বন্ধুর জন্যই। সেও এসে জুটেছে। পটলা বলে, অন্যায়ের প্রতিকার হবেই।

    কিন্তু এমনি হবে, তা ভাবিনি ।

    হরষিতবাবু, ব্রিজমোহনের দলের হাত অনেক লম্বা। পুলিশ ওদের হাতে। তাই এবার ওদের রিপোর্টটা উড়ে গায়েব হয়ে যেতে ওরা ভেবেছে এসব আমাদেরই কাজ। তাই নিজেরা বাঁচার জন্য এবার থানায় আমাদের নামেই কড়া করে ডায়েরি করিয়েছে। আমরা ওদের বাড়ি গিয়ে ওদের উপর চড়াও হয়ে মারপিট করে ওদের মালপত্র লুট করে এনেছি। ভুজঙ্গ দারোগাবাবু এবার সেই ডায়েরি পেয়ে দলবল নিয়ে এসেছে।

    নরেনবাবু অবাক হন—সে কী! এই ছেলেরা যাবে ব্রিজমোহনবাবুর বাড়িতে ডাকাতি করতে?’

    পটলার বাবা-কাকারা এখন নেই। তাঁরা ব্যবসার কাজে বাইরে।

    দারোগা বলে—ডাকাতিই নয়, জখমও করেছে। চলো থানায়। এখন থেকেই এতবড় সাহস তোমাদের? চলো।

    নরেনবাবুর কোনো কথাই শোনে না ভুজঙ্গ। আমাদের ক’জনকে হাতে পেয়ে নিয়ে গিয়ে থানায় আটকে রেখেছে।

    হোঁৎকা বলে—দ্যাখ পটলা, পরোপকার করার ঠ্যালা এখন বোঝ !

    ফটিক বলে—শেষে জেলে যেতে না হয় !

    গোবরার কুমড়ো মামা, পটলার কাকা সকলেই এসেছে। দারোগা বলে, ছাড়ব না। হঠাৎ দেখা যায় আমাদের সেই অদৃশ্য বন্ধুকে। হাসছে সে পিক্‌ পিক্ করে। পটলা বলে—হাসছ তুমি?

    বন্ধু বলে-ভয় নেই। একটু সবুর করো।

    ওদিকে খেতেও দেয়নি কিছু। হোঁৎকার খিদে পেলে মাথাখারাপ হয়ে যায় বন্ধু বলে, তোমরা ওইদিকে বসো। ওদিকে কেউ নেই, দেখি খাবার কী পাই?

    তারপরেই আর দেখা যায় না তাকে। ওদিকে ব্রিজমোহন, হরষিতবাবু এসে এবার শাসায়—

    ছাড়বেন না ওদের। মার্ডার করত আমাদের।

    ওদের তড়পানি চলছে। দেখি অদৃশ্য বন্ধু এর মধ্যে আমাদের জন্য খাবারও এনেছে। গরম পুরি-তরকারি-সন্দেশ। বলে, চট্ করে খেয়ে নাও ।

    হঠাৎ ওর সেই মাথার খাড়া করা ছোট এরিয়ালে আলো জ্বলে ওঠে। বলে, আসছি।

    তার কিছুক্ষণ পরই দেখি বিরাট কাণ্ড ঘটে যায় থানায়। নরেনবাবুর সঙ্গে খোদ পুলিশ কমিশনার সাহেবই এসে হাজির। সঙ্গে হাতকড়া বাঁধা সাহুজি। যাকে পুলিশ এতদিন ধরে খুঁজেই পায়নি।

    সাহুজি এতদিন ওই বড় বাড়িটাতে নিরাপদেই ছিল। ভুজঙ্গের পুলিশ তাকে বিরক্ত করেনি। তারা রিপোর্ট দিয়েছে, সাহুজি এখানে নেই ।

    কিন্তু আমাদের হামলার পর ব্রিজমোহন, হরষিত দু’জনেই সাবধান হতে চেয়েছিল। ওরা টের পেয়েছে আমরা সাহুজির খবর জানি। আর সেটা কাগজে তো বের হয়ে যাবে। তখন সাহুজিকে পুলিশ অ্যারেস্ট করতে বাধ্য হবে। তাই ওরাই এবার সাহুজিকে গাড়িতে করে পাচার করেছিল। দিল্লির ফ্লাইটের টিকিটও কাটা ওর নামে। একবার বের করে নিয়ে যেতে পারলেই ব্যস !

    নিয়ে যেতেও পারত, কিন্তু তার আগেই নরেনবাবু গিয়ে খোদ পুলিশ কমিশনারকেই সব কথা বলেন, আর নির্দোষ ছেলেরা যারা সমাজের এই ক্রিমিন্যালদের কাজে বাধা দিতে চায়, পুলিশ ওই দোষীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাদেরই গুণ্ডা মস্তান বদনাম দিয়ে জেলে পাঠাতে চায়।

    তাই সাহুজিকে অ্যারেস্ট করতেই হবে। তেলিয়াই গাড়িতে তুলে মালিককে নিয়ে চলেছে। হঠাৎ দেখে গাড়ির চাকায় হাওয়া নেই। অবশ্য অদৃশ্য বন্ধুটিই সেখানে হাজির হয়ে চাকার হাওয়া খুলে দেয় ৷

    তেলিয়া ড্রাইভারকেই মারতে যায়। কী করিস! জলদি চাকা লাগা। প্লেনের দেরি হয়ে যাবে।

    ড্রাইভার চাকা লাগাচ্ছে। গাড়িতে কাচ তুলে বসে আছে সাহুজি। দেরি হলে বিপদ হতে পারে। চাকা লাগিয়েছে—এদিকে অদৃশ্য বন্ধু ব্যাটারির কানেকশানই খুলে রেখে দেয়। আবার ঝামেলা—তেলিয়া গর্জাচ্ছে। সেটা ঠিক করে গাড়ি স্টার্ট দেবে আবার একটা চাকার হাওয়া সশব্দে বের করছে। তেলিয়াও ভীত সন্ত্রস্ত।

    এমন সময়েই এসে হাজির হয় পুলিশ ভ্যান। তেলিয়া জানে তাদের হাতের পুলিশ। কিন্তু চমক ভাঙে, এরা ভুজঙ্গের পুলিশ নয়। ওদের ঘিরে ফেলে, আর পালাবার পথ নেই। সাহুজিকে ধরে ফেলে ওরা। তেলিয়াকেও। তেলিয়াও বুঝেছে, এবার কড়া পাল্লায় পড়েছে তারা।

    পুলিশ কমিশনারও বুঝেছেন; ভুজঙ্গবাবু এতদিন এতবড় একটা অপরাধীকে জেনেশুনেই ছেড়ে রেখেছিল আর মিথ্যা রিপোর্ট দিয়েছিল হেডকোয়ার্টারে। ওই ছেলেগুলোই জেনেছিল ওদের অন্যায়ের খবরগুলো। একটা দুষ্টু চক্রের অংশীদার।

    তাই নিজেই এসেছেন থানায়। ভুজঙ্গ, ব্রিজমোহন হরষিতবাবু এবার সাহুজিকে দেখে চমকে ওঠে। কমিশনার সাহেব শুধোন, সেই ছেলেরা কোথায়?

    —লক-আপে।

    গর্জে ওঠেন কমিশনার—আসল দোষীকে লক আপে না পুরে, ছেলেরা যারা আপনাদের শয়তানির প্রতিবাদ করতে চায়, তাদেরই ধরেছেন? ছেড়ে দিন ওদের।

    এর মধ্যে ছাড়া পেয়ে ফটিকই বলে, ওদের নমুনা পালটানো আর মিথ্যা রিপোর্টের কথাও। সেগুলোও এনে দেয় পটলা। আর সাহুজির গুদামেও পাওয়া যায় প্রচুর ভেজাল তেল।

    ঘণ্টাকয়েকের মধ্যেই ভুজঙ্গবাবুকে ধরে ব্রিজমোহনকেও তার বাবার সঙ্গে হাজতে পোরা হল। আসামি করা হল হরষিতবাবুকেও।

    সারা এলাকায় খবরটা ছড়িয়ে পড়ে। এতদিনের জমা রাগটা আজ মিছিলে ফেটে পড়ে। মিছিলের পুরোভাগে রয়েছি আমরা। গলায় মালা—যেন বীরের ভূমিকাতে নেমেছি। সঙ্গে চলেছে আর একজনও, আমাদের সেই অদৃশ্য বন্ধুও। পিক্ পিক্ করে বলে—

    –কি গো কেমন লাগছে ?

    —ভালোই। পটলাও আজ খুশি।

    বন্ধু বলে, অন্যায়ের প্রতিবাদ প্রতিকার করো। দেখবে সত্যিই ভালো লাগবে ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅমানুষ – শক্তিপদ রাজগুরু
    Next Article মেঘে ঢাকা তারা – শক্তিপদ রাজগুরু

    Related Articles

    শক্তিপদ রাজগুরু

    শক্তিপদ রাজগুরু সাহিত্যের সেরা গল্প

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    মেঘে ঢাকা তারা – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    অমানুষ – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    জীবন কাহিনি – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    পরিক্রমা – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    তিল থেকে তাল – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }