Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পটলা সমগ্র – শক্তিপদ রাজগুরু (দুই খণ্ড একত্রে)

    শক্তিপদ রাজগুরু এক পাতা গল্প816 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শ্ৰী কামড় বাবা

    আমাদের হোঁৎকা ওরফে মিহির কুমার সরখেল এবারও পরীক্ষায় লাট খেয়েছে। অবশ্য আমাদের পঞ্চপাণ্ডব ক্লাবের শ্রীমান হোঁৎকা দু একটা সাবজেক্টে বিশেষ করে অঙ্কে একটু কাঁচা আর ইংরাজিতেও একটু নড়বড়ে। তবে অন্য বার নাম্বার কিছু কম থাকলেও টেনেটুনে উৎরে যায়। কারণ স্কুল টিমের সে-ই ক্যাপ্টেন। খেলাধুলায় সুনামের মূলেও হোঁৎকা। তাই স্যাররাও ওকে একটু নেক নজরেই দেখেন।

    কিন্তু এবার হোঁৎকা একেবারে ভোঁ কাট্টা ঘুড়ির মতো জব্বর ভাবে ফেল করেছে তিনটে সাবজেক্টে। অঙ্ক, ইংরাজি আবার বিজ্ঞান। হেডস্যার বলেছেন—“এবার নো চান্স মিহির কুমার।”

    হোঁৎকা মাঠের ক্লাবে একাই বসে আছে। তার রাগটা এবার ফেল করার জন্য যতটা, তার চেয়ে অনেক বেশি ওই নবীন পাল লেনের হাঁকডাকওয়ালা শ্রী কামড় বাবার উপর। ব্যাপারটা আমরাও জানতাম না। তবে শ্রী কামড় বাবার নাম আমরা কেন এই চত্বরের সবাই জানে। প্রত্যেক শনি-মঙ্গলবার নাকি তাঁর উপর বাবা মহাদেব ভর করেন। বেশ ক’বছর হল ওখানে কামড় বাবার আবির্ভাব হয়েছে।

    ওদিকে এখনও শহরের ছোঁয়া তেমন লাগেনি। এখনও ওই অঞ্চলে বাঁশবন, কিছু গাছপালা আর পুরানো বাসিন্দাদের টালির ঘরও রয়েছে। একটা বটগাছের নীচে বেশ খানিকটা জায়গাতে কামড় বাবার আশ্রম, মন্দির। এখন সেই মন্দিরের বেশ রমরমা। শ্ৰী কামড় বাবা বলেন—বাবা মহাদেব শ্মশানে ঘুরে বেড়ান। তিনি পাকা মন্দির চান না।

    তাই তাঁর মন্দির এখনও মাটির চালাই রয়েছে। ওদিকে গড়ে উঠেছে কামড় বাবার পাকা দালান ঘর। ভক্তদের অনেকেই টাকা পয়সা দিয়ে বাবার জন্য ঘর, আসবাবপত্র, কার্পেট, চেয়ার সব এনে দিয়েছে। শনি, মঙ্গলবার বাবার নাকি ভর হয় আর কৈলাস থেকে বাবা মহাদেব এসে কামড় বাবার ঘাড়ে চাপেন। আর সিল্কের গেরুয়া পাঞ্জাবী পরা কামড় বাবা তখন মহাদেব হয়ে সবার ভূত ভবিষ্যৎ বলে দেন। বহু দুরারোগ্য রোগীকে যা যা বলেন তা নাকি বর্ণে বর্ণে ফলে যায়। ওঁর বাতলানো ওষুধ খেয়ে নাকি মৃত্যুপ্রায় রোগী, ডাক্তার যাদের আশা ছেড়ে দিয়েছেন, তারা নাকি চাঙ্গা হয়ে ওঠে। অবশ্য এসব ভবিষ্যৎবাণী শোনার জন্য আগে থেকে ভক্তদের গিয়ে ভালো টাকা দিয়ে নাম লেখাতে হয়। বাবা ভরের সময় নামের তালিকা ধরে তাকে দক্ষিণার পরিমাণ দেখে নির্দেশ দেন জনে জনে। আর যদি বাবা পাতাল ভৈরবের মুখের কথা শুনতে হয় তাহলে আরও বেশি প্রণামী দিলে বাবার নির্দেশ আসে তাঁর ঘর থেকে। কামড় বাবা ঘটে ফুল চাপিয়ে বাবার পূজা করেন প্রার্থীর নামে। ভক্তরাও একদৃষ্টে ঘটের দিকে তাকিয়ে থাকে। কামড় বাবাও হুঙ্কার দেন—-জয় বাবা পাতাল ভৈরব, দয়া করো বাবা। জয় বাবা-

    পাতাল ভৈরবের জয়ধ্বনিতে আকাশ বাতাস কেঁপে ওঠে। আর কামড় বাবার হুঙ্কারে যেন স্বয়ং মহাদেব ঘট থেকে আশ্চর্যজনকভাবে ফুল ফেলে দেয়। ভক্তের প্রার্থনা নাকি নির্ঘাৎ পূরণ হবে, হয়ও। বাবা পাতাল ভৈরবের জয়ধ্বনি ওঠে। জয়ধ্বনি ওঠে—জয় শ্রী কামড় বাবা-

    আর বাবা যদি একবার কাউকে কামড়ান তাহলে তার সব বিপদই নাকি কেটে যায়। তার থেকেই ওর নাম হয়েছে শ্রী কামড় বাবা। তবে সেটা নাকি খুব কঠিন সাধনার কাজ। ব্যয়সাধ্যও। তাই কামড়টা কমই হয়। তবে নামটা বহাল রয়ে গেছে।

    হোঁৎকা এমনিতে বিশেষ দেবদেবী মানে না। তবে দেখেছে এত লোক আসে। শতশত ভক্ত। বাবার দয়ায় তাদের অনেক কাজই হয়েছে। সব বিপদই কেটেছে। তাই হোঁৎকার হঠাৎ মনে হয় পরীক্ষার ব্যাপারে যদি বাবার শরণ নিতে পারে, হয়তো কামড় বাবার দয়ায় আর পাতাল ফোঁড় শিবের দয়ায় নির্ঘাৎ পাস হয়ে যাবে। অবশ্য হোঁৎকা আমাদের এসব কথা জানায়নি ।

    আমাদের পাড়ার নেত্যদা কামড় বাবার একনিষ্ঠ ভক্ত। বাবার দয়াতেই নাকি তার চিটেগুড়ের ব্যবসা রমরম করে চলছে। হোঁৎকা সেই নেত্যদার সাথে বাবার কাছে আছে। বাবার চ্যালা হোঁৎকাকে বলে,

    —বাবার প্রণামী একশো এক টাকা। তবে বাবার দয়া হলে তোমার সব বিপদ কেটে যাবে । বাবা তো দেবদেবীদের সাথে কথা বলেন, মা সরস্বতীর সাথে কথা বলে তুমি যাতে পরীক্ষায় ভালোভাবে পাস করো সে ব্যবস্থা করে দেবেন। চাই কি ফার্স্টও করে দিতে পারেন কামড় বাবা। হোঁৎকা বিপদে পড়ে। বলে,

    —একশো এক টাকা! কিছু কম হইব না?

    ভক্ত তার খেরো খাতা দেখিয়ে বলে–দ্যাখো বাবার রেট, পাঁচশো এক টাকা। তোমাকে কনসেশন করছি নিত্যদার জন্য। ভেবো না, বাবার দয়ায় লোকে ভরা নদী পার হয়ে যায়, আর পরীক্ষা তো তুচ্ছ! হোঁৎকা এতদিন ধরে কিছু সঞ্চয় করেছিল টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে। বাজার থেকে ম্যানেজ করে। সব নিঃশেষ করে বাবার চরণে দিয়ে এল। ভক্ত বলে,

    —বাবা তোমার হয়ে বাবা পাতাল ভৈরবকে ফুল চড়াবেন। যদি ফুল পড়ে জানবে কেল্লা ফতে। ফার্স্ট-সেকেন্ডই হয়ে যাবে।

    হোঁৎকা স্বপ্ন দেখে যে পটলা তাকে টপকে ফার্স্ট হয়েছে। তাই পরদিনই কিছু না খেয়ে শীতের সকালে স্নান সেরে বের হয়। মা জিজ্ঞাসা করে,

    —ব্যাপার কি রে? এত ভোরে চান্ করস্ ক্যান্?

    হোঁৎকা বলে—কাম আছে গিয়া। পরে কমু।

    হোঁৎকার সকাল বেলাতেই খাওয়া অভ্যেস। আজ উপোস দিয়েই বাবার আশ্রমে এসেছে। রয়েছে ভক্তের ভিড়। তার মাঝে তার নাম করেও ডাক আসে। বাবার ডাক। কামড় বাবা তখন ভরে শিরনম্র হয়ে পাতাল ফোঁড় শিবের ঘটের সামনে উপবিষ্ট। বাবা পাতাল ভৈরব নাকি স্বয়ং মাটির তল থেকে এখানে উঠেছেন নিজেই। কামড় বাবার আহ্বানে তিনি ধরাধামে এসেছেন। ঘটের উপর ফুল চাপানো। হোঁৎকার ভাগ্য তাতে নির্ধারিত হতে চলেছে। ফুল যদি পড়ে যায়, দয়া হয়েছে জানতে হবে। না পড়লেই সর্বনাশ। হোঁৎকাও কামড় বাবার মত হাঁক পাড়ে, “জয় বাবা পাতাল ভৈরব, জয় শ্রী কামড় বাবা!

    ভক্তদের ডাকে দেখা যায় ঘটে আম্রপল্লব নড়ে ওঠে আর ফুল পড়ে যায় বাবার শ্রীচরণে। হোঁৎকাও নিশ্চিন্ত হয়। কামড় বাবা বলেন, – যা তোর প্রার্থনা বাবা শুনেছেন রে! আর ভয় নেই। বাবার চরণামৃত নিয়ে নিশ্চিন্তে বাড়ি যা। আর সেই ফুল মাদুলি করে লাল সুতোয় বেঁধে ডান হাতে ধারণ করবি। জয় বাবা পাতাল ভৈরব।

    তারপর বাড়ি ফিরে রোজ মাদুলি ধোয়া জল খেয়েছে। পরীক্ষার দিন একশো আটবার কামড় বাবার নাম করেছে। তারপরও তিনটে সাবজেক্টে ফেল। পাসের নামগন্ধ নেই। টাকা জলে গেল। আর ভক্তিও যেন তার উবে গেছে।

    সেই খবরটা আমরাও জেনে গেছি। হোঁৎকা গর্জে ওঠে—সব ফক্কিবাজী! ব্যাটা নাম্বার ওয়ান ভণ্ড। লোককে ঠকাইত্যাছে—আমারেও ঠকাইছে—

    পটলা বলে-জ্ঞান হয়েছে তাহলে? পড়বি না—আর কামড় বাবা কেন স্বয়ং মহাদেব ও তোকে পাস করাতে পারবে না।

    গোবরা বলে—তুই গেলি ওই ঠকবাজদের কাছে! গেল তো টাকাটা? হোঁৎকা বলে, —ওই কামড় বাবার সব জারিজুরি খতমই করুম। ওর ধর্মের নামে লোক ঠকানো বন্ধই করুম। আমার মত আর কেউ যেন না ঠকে।

    কথাটা অবশ্য এখানের অনেকেই বলে। তবে বাবার চ্যালাদের দাপটও কম নয়। আমাদেরও জেদ চাপে। বেশ কিছু মানুষও চান বাবার এসব খেলা বন্ধ হোক। কিন্তু তারা তাদের ভয়ে জোর গলায় কথা বলতে পারে না। থানা পুলিশও কোনো অভিযোগ পায়নি। তাই সব দেখেও তারা না দেখার ভান করে।

    সেদিন আশ্রমে কিসের উৎসব। বহু লোকসমাগম হয়েছে। কামড় বাবা বেশ সেজেগুজে পূজায় বসেছেন। শিবলিঙ্গ বলতে পাথরের একটা চাঁই। কালো সিঁদুর মাখা। তার সামনে একটা ঘটি। উপরে আম্রপল্লব, তার উপর ফুলের স্তূপ। সেই ঘট থেকে ফুল ফেলার জন্য বাবা তারস্বরে চিৎকার করছে।

    —জয় বাবা পাতাল ভৈরব।

    হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে সেই মাটির কলসিতে এসে লাগে গুলতি দিয়ে ছোড়া কাচের গুলি। আর তার আঘাতে মাটির ঘটি দু’ আধখানা হয়ে যায় আর জল সব বেরিয়ে যায়। দেখা যায় তার ভিতর থেকে বের হচ্ছে দু’তিনটে কাঁকড়া। ওই কাঁকড়াগুলোই ঘটির মধ্যে নড়াচড়া করলে আম্রপল্লবের ডগায় নড়া লাগে আর ফুল পড়ে যায়।

    ঘটনাটা দেখে সকলেই হতবাক। এইভাবে পুরো ব্যাপারটা যে সাজানো, কামড় বাবার ভণ্ডামি তা ধরা পড়ে গেছে। বাবা গর্জে ওঠে—এসব কি?

    হোঁৎকাই আজ গুলতি মেরে হাটে হাঁড়ি ভেঙেছে। কামড় বাবাও এবার মরিয়া হয়ে ওঠে। ত্রিশূল নিয়ে সে লাফ দিয়ে ওঠে। হোঁৎকাকে সে নিধন করবেই। অবশ্য পুলিশে বলা ছিল আগে থেকেই। পুলিশ তাই ছদ্মবেশে ছিল ওই উৎসবে। তারাও কামড় বাবাকে হাতে নাতে ধরে ফেলে। বন্দি কামড় বাবা শুধু গর্জনই করে। বাবার সব জারিজুরি আজ হোঁৎকাই ধরে ফেলেছে।

     কেঁচো খুঁড়তে কেউটে

    শত্রু যে কত রকমের হয় তার সম্বন্ধে কোনো বই-এ বিশদ ভাবে লেখা না থাকলেও তারা যে নানা প্রকারের, নানা রূপের হয় এটা এবার আমরা, অর্থাৎ পঞ্চপাণ্ডব ক্লাবের সভ্যবৃন্দ বেশ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।

    আর ওই শত্রুদের কাজকর্মের নমুনা যত টের পাচ্ছি, মনে মনে ততই শিউরে উঠছি। এক এক সময়ে ক্লাবের ময়দানে সন্ধ্যার পর ঘাসের উপর বসে ঘোষণা করি,—পটলা, ক্লাব তুলে দে। এত শত্রু! উঃ !

    হোঁৎকা গর্জে ওঠে,—ওগোর সব প্ল্যান, শত্রুতা বানচাল কইরা দিমু। চুপ মাইরা দ্যাখ।

    ফটিক বলে,—আর কত দেখবো র‍্যা? ওই কুলেপাড়ার ইলেভেন বুলেটস্ আমাদের গুলি করে ফুটিয়ে দেবে! সেদিন দেখলি আমাদের ক্লাবের জমাটি বসন্তোৎসবটাকে ক্যামন করে ফাঁসিয়ে দিল! বাজারের দু’তিনটে ধর্মের ষাঁড়কে খাবারের লোভ দেখিয়ে এনে কিভাবে ক্লাবের মাঠে ঢুকিয়ে দিল !

    সে এক কাণ্ড। ফটিক তখন সবে তার কালোয়াতি গানের মুখটা ধরেছে, চোখ বুজে শূন্যে হাত তুলে। ঠিক তখনই, একটা ষাঁড় উত্তেজিত হয়ে প্যাণ্ডেলে ঢুকে শিং দিয়ে, খান তিনেক চেয়ার এদিক ওদিক ছুঁড়তেই, দর্শকরা উঠে পড়ে প্রাণভয়ে কে যে কোনদিকে যাবে ঠিক করতে পারে না। ফটিকের তবলচিও কাট মেরেছে। তানপুরাওয়ালাও গদা ঘাড়ে করে সটকেছে। ফটিক চোখ খুলতেই দেখে সামনে ওই বিশাল বপু ষণ্ড মহারাজকে। অজান্তেই তখন গান ছেড়ে একেবারে তারস্বরে চেল্লাতে শুরু করে,—বাঁচাও -ও—! —বাঁচাও—ও—!

    আমরা অবশ্য তখন লাঠি বাঁশ হাতে যণ্ড মহারাজদের যুদ্ধ থামাবার চেষ্টা করছি। পটলা দৌড়েছে ফায়ার ব্রিগেডে ফোন করতে।

    কোনোমতে ফটিককে তুলে আনি দুই যণ্ডের মাঝখান থেকে।

    পরে জানা গিয়েছিল, এ ওই ইলেভেন বুলেটস্-এর নেতা গুপিনাথ বাঘ-এর কীর্তি। ওরা আমাদের ক্লাবের পিছনে আদানুন খেয়ে লেগেছে।

    অবশ্য তার কারণ আছে। আমরা, পঞ্চপাণ্ডব ক্লাব এলাকার মানুষদের কাছ থেকে কোনো চাঁদা আদায় করি না। পটলার বাবা-কাকারাই ক্লাবের জমি দিয়েছেন। আর পটলাই তার হাতখরচা থেকে মাসে শ’তিনেক টাকা দেয় ক্লাবকে। আর আছেন পটলার ঠাকুমা।

    আমরা পটলার দিনরাতের সঙ্গী। ওর পাশে থাকি। বহুবার ওই ওলি বংশধরকে বাঁচাবার জন্য ঠাকুমা আমাদের ক্লাবের উপর খুবই খুশি। তাই দায়ে-অদায়ে ঠাকুমা ক্লাবকে দু’পাঁচ হাজার টাকা দেন ।

    ফলে আমরা ক্লাবের, ফুটবল টিম, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—এগুলো অনায়াসেই করে থাকি এলাকার কাউকে চাপ না দিয়ে। সকলেই আসে আমাদের অনুষ্ঠানে।

    নিজস্ব খেলার মাঠ—অনুষ্ঠানের জায়গাও আছে আমাদের। অন্য ক্লাবের তা নেই। আর ওদের কোনো অনুষ্ঠান করতে হলে টাকা চাই। তাই পাড়ার লোকের কাছে হাত পাততে হয়। তাছাড়া মোটা টাকা চাঁদা আদায় করে দোকানদারদের কাছ থেকে, বাজারের ফড়েদেরও নিস্তার নেই। সোজা কথায় না দিলে চমকায়। কারো দোকানের সাইনবোর্ডই খুলে ফেলে।

    ফলে লোকে চাঁদা দেয় ওদের, কিন্তু বলে,—ক্লাব তো ওই পঞ্চপাণ্ডব। ভদ্দরলোকের ছেলেদের ক্লাব। ওদের খানদানই আলাদা। তোদের মত ছ্যাঁচড়ামি করে না।

    এতে ওই ইলেভেন বুলেটস্-এর সভ্যরা হাড়ে হাড়ে চটে ওঠে। কিন্তু কিছুই করার নেই । তাই ওরা আমাদের ক্লাবের পিছনে লেগেছে। নানা ভাবে আমাদের ক্লাবের সুনাম তারা মাটিতে মিশিয়ে দিতে চায় ।

    ফুটবল খেলায় ওরাই গোলমাল করে, খেলা পণ্ড করে দেয়। ওরাই রেফারি—এখানকার হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার গজেনবাবুকে শাসায়,—পাড়ায় প্র্যাকটিস করতে দেব না।

    ওদের ক্লাবের নন্টে বলে,—ওই লবেনচুষ মার্কা ওষুধ সব গিলে খেয়ে ডাক্তারি লাটে তুলে দেব। ইলেভেন বুলেটকে জিতিয়ে দিতে হবে।

    গজেন ডাক্তার নিরীহ ছাপোষা গৃহস্থ মানুষ। খেলাধুলো ভালোবাসে। তাই কেউ ডাকলে গলায় বাঁশি নিয়ে হাফপ্যান্ট কেইডস্ পরে মাঠে নেমে রেফারিগিরি করে। কিন্তু এমন বিপদে পড়তে হবে সে ভাবেনি। গজেন ডাক্তার ইলেভেন বুলেটস্-এর বুলেটদের চেনে। নন্টে কথায় বলে,—তা কি করে হয়? ওদের টিম তো খেলা ভণ্ডুল করেনি। করেছ তোমরা ।

    নন্টে বলে,—ওসব বুঝি না, ভালো কথায়, যা বললাম তাই করুন ডাক্তারবাবু, না হলে কাল থেকে বাজারে আপনার ডাক্তারখানার ঝাঁপ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।

    গজেন ভয়ে ভয়েই তাই পঞ্চপাণ্ডবকে হারিয়ে দিল। ব্যবসাপত্র বজায় রাখতে হবে তো ? পঞ্চপাণ্ডব ক্লাব এবার শিল্ড পেল না। শিল্ড জিতলো ওই ইলেভেন বুলেটস্। ওরা বিজয়ী হয়ে বিরাট শোভাযাত্রা করে শিল্ড নিয়ে গেল আমাদের ক্লাবের সামনে দিয়ে।

    প্রতিবার এই বিজয় উৎসব করি আমরাই, এবার হতাশ হয়ে দেখলাম ওদের নৃত্য। — পটলা বলে বিমর্ষ কণ্ঠে!

    –এর পরেও বাঁ…ব…বাঁচতে বলিস ?

    পটলার ওই এক দোষ। উত্তেজিত হলে তার জিবটা আলটাকরায় সেঁটে যায়। যাবারই কথা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে গেছে। এতদিনের জেতা শিল্ড থেকে জোর করে ছিকে আউট করে দিল আমাদের। পঞ্চপাণ্ডব ক্লাবের আর কত সর্বনাশ করবে ওরা জানি না !

    এবার সত্যিই আমরাই বিপদে পড়েছি।

    খবরটা আনে আমাদের ক্লাবের গোবরা নিজে। ওর মামার বিরাট হোলসেল কুমড়ো, চালকুমড়োর ব্যবসা। খালের ধারে বিরাট গুদামে টাল করে রকমারি সাইজের কুমড়ো সাজানো। দেড় দু’কেজি থেকে উৎকৃষ্ট তারকেশ্বরের আট-দশ কেজি সাইজের কুমড়োও মেলে। আর ওদিকে গাদা করা চালকুমড়ো।

    কচি, বুড়ো, ছোকরা সব কিসিমের চালকুমড়োই আছে। ট্রাকে মাল আসে, গুদাম ভরে যায়। আবার কলকাতার বিভিন্ন বাজারে ওসব মাল বিলি হয়ে যায়। এসটক্ ক্লিয়ার। আবার মাল আসে দূর দূরান্তের বিভিন্ন জায়গা থেকে ট্রাক বোঝাই হয়ে।

    গোবরা ওইসব কাজ দেখাশোনা করে। ইলেভেন বুলেটস্ ক্লাবের ওই গুপিনাথের বাজারে কুমড়োর দোকান। চালকুমড়োর মোরব্বার কারখানা। মামার এখান থেকে ছাতা পচা দুনম্বরী চালকুমড়োগুলো কিনে দোকানে লোক দিয়ে পিস্ পিস্ করে কাটায়। সেই চালকুমড়োর পিগুলোকে কাঠি দিয়ে ফুটো ফুটো করিয়ে কড়াই-এ রাত ভোর সেদ্ধ করে। তারপর সেই সেদ্ধ চালকুমড়োর পিসগুলোকে শুকিয়ে তারপর চিনির রসে সেদ্ধ করে চালকুমড়োর মিঠাই বা মোরব্বা বানানো হয়।

    গুপিনাথ তাই বিরুদ্ধ ক্লাবের হলেও গোবরাকে কিছুটা বিশ্বাস করে। অবশ্য ওই মাল কেনাবেচায় গোবর্ধনেরও কিঞ্চিৎ অবদান থাকে, তাই গুপিনাথ গোবরাকে আড়ালে কিঞ্চিৎ কমিশনও দেয়।

    এহেন গোবর্ধনকে ওই ইলেভেন বুলেটস্-এর গুপিনাথ গোপনে কথাটা জানায়। এবার তারা নাকি পটলার পিতৃদেবকেই ক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক করবে। আর পটলার বাবার সামনে ইলেভেন বুলেটস্ প্রমাণ করবে যে তারাই আসল কাজের লোক, ওই পঞ্চপাণ্ডবদের তুলনায় । ফলে খেলার মাঠটা তাদের ক্লাবকে দিলে তারাই এই অঞ্চলে খেলাধুলোর বিকাশ ঘটিয়ে এই ঊষর প্লেয়ারহীন মাটিতে প্লেয়ারের ফুল ফুটিয়ে দেবে।

    পটলার বাবাও নাকি নিমরাজি হয়েছেন ।

    এবার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে আমাদের।

    পটলা বলে, আর কিছু বাকি থাকল ই-ই-ন্ সাল্টের? মাঠ চলে গেলে ক্লাবও গন্ ফট ! হোঁৎকা বলে,—ঠামারে ক’, একটা ব্যবস্থা করণের লাগবো।

    গোবর্ধন বলে,–না হলে ওরা এই সিজিনেই মাঠের দখল নেবে বলল ।

    ফটিক দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাহাকার ভরা কণ্ঠে বলে,–একে একে নিভিছে দেউটি।

    জবাব কি দেব জানি না। তাই চুপ করেই থাকি। হোঁৎকা বলে, ওগোর ব্যবস্থা করনের লাগবোই।

    এর মধ্যে বর্ষা নেমেছে। বর্ষা নামলে এদিকের চেহারা একেবারে বদলে যায়। এককালে এই এলাকা ছিল কলকাতার পূর্ব সীমান্ত। তারপরই খাল–ওপারে ছিল ভেড়ি, নলখাগড়ার বন, মাঝে মাঝে দু-চার ঘর বসতি তারপরই ভেড়ি।

    এখন সেসব অঞ্চলই সল্টলেক, বাইপাস রোডে পরিণত হয়েছে। তখন এসবের চিহ্ন ছিল না। কুলেপাড়া বলতে নিচু জলা জমি, বাঁশ, আশশ্যাওড়া আর ঘেঁটুবন।

    গ্রীষ্মে ছায়াময়, আর বর্ষায় জলে ডুবে যেত ওই অঞ্চল। ঘরবাড়ি যাদের ওদিকে ছিল, তারা এসে ঠাঁই নিত স্কুলবাড়িতে। আর ওই অঞ্চল তখন জলে থৈ থৈ করছে।

    ওই জলবন্দী মানুষদের উদ্ধারের কাজে আমরাও নামতাম। বেশ কিছু লোককে এনে তুললাম পাড়ার মাতঙ্গিনী বিদ্যামন্দিরে। আমরাই চাল ডাল সংগ্রহ করে ওদের খিচুড়ি বিতরণ করতাম।

    এবার ইলেভেন বুলেটস্ যেন জনসেবায় আত্মোৎসর্গ করেছে একাগ্রভাবে। বৃষ্টি নামার পরদিন থেকেই ওসব অঞ্চলে জল জমতে শুরু হবার মুখেই তারা কুলেপাড়া, শীলপাড়া, খালধার বস্তি থেকে লোকজনদের আগাম তুলে এনে ওদের পাড়ার চারুশীলা বালিকা বিদ্যালয়-এর বিল্ডিং ভরে তুলেছে।

    পরের দিন সকালে আমরা জলবন্দী মানুষদের উদ্ধারের কাজে বের হবার মুখে গোবরাই খবর দেয়,আর যেতে হবে না।

    ক্যান? একরাতেই সব ডুইবা গেছে গিয়া?—হোঁৎকা বলে।

    গোবর্ধন বলে, – না, না ওই ইলেভেন বুলেটস্ কাল থেকেই ওসব অঞ্চলের লোকদের তুলে এনে চারুশীলা বিদ্যালয়ে গ্যারেজ করেছে। কাল রাতেই মামার গুদাম থেকে দুশো মণ কুমড়ো, কয়েক বস্তা পিঁয়াজ, আলুও এনেছে, জোর লঙ্গরখানা চালু করেছে দেখলাম, বড় বড় ডেকে খিচুড়ি চেপেছে ।

    অবাক হই,—সেকি! তাহলে আমাদের রিলিফ ওয়ার্কের কি হবে?

    হোঁৎকা বলে,—তাই দেখছি। সৎকাজও করতি দিবে না ওই গুপিনাথের দল।

    পটলা বলে,—ক্-ক্লাব এবার তুলেই দিতে হবে।

    ফটিক বলে,—এবার মাঠই না কেড়ে নেয়। এই ঘরও! তাহলে কি করে এলাকায় মুখ দেখাবি হোঁৎকা?

    পটলা বলে,—ওই গুপিনাথকে দেখি বাবার কাছেও যায় টায়।

    হোঁৎকা বলে,—এই জমি ওর বাবার নয়, এ জমির মালিক সুভাষিণী দেব্যা—তর ঠাকুমা। ঠাকুমারেই গিয়া কই চল। যেন জমি না দেয়।

    আমি বলি, ইলেভেন বুলেটকে ঘা না দিলে সর্বনাশ হবে। এখন কি করে মোক্ষম ঘা-টা ওদের দেওয়া যায় তাই ভাব।

    ইলেভেন বুলেটস্-এর কর্ণধার গুপিনাথ খুব ঘোড়েল ব্যক্তি। বাজারে একটা মুদিখানার দোকান চালায়—আর কর্তাদের ধরে করে সেই সঙ্গে রেশন শপ্-ও চালু করেছে। এখন সেই দোকান রমরমিয়ে চলছে। খালধারে একটা গুদামও ভাড়া নিয়ে সবরকম মালপত্র রাখছে। ক’মাসের মধ্যেই গুপিনাথ বেশ ফেঁপে উঠেছে। একটা মোটর বাইক হাঁকিয়ে তার আদি নিবাস বনগাঁ থেকে সীমান্তের দিকে কোনো অজ পাড়াগাঁয়েও যাতায়াত করে।

    আর ক্লাব করে এখানকার এম.এল.এ সুধীরবাবুরও খুব কাছের মানুষ হয়ে গেছে। ফলে থানার বড়বাবু, মেজবাবু, মায়বিটের কনস্টেবলরাও ওকে ভালো করে চেনে। দেখা হলে সেলাম জানিয়ে কুশল সংবাদ নেয়।

    সুধীরবাবুও জানে সামনে ইলেকশন আসছে। ভোটে জিততে হলে ওই ক্লাবকে হাতে রাখতেই হবে। ওরাই এদিকের সব বস্তির ভোট নিয়ন্ত্রণ করে। তাই সুধীরবাবুও গুপিনাথকে তার গাড়িতে নিয়ে ঘোরে যখন তখন। সারা এলাকার মানুষও জানে এম.এল.এ-কে দিয়ে কোনো কাজ করাতে হলে গুপিনাথবাবুকেই ধরতে হবে। তাই পারমিট্, লোনের জন্য আসে তারা গুপিনাথের কাছেই। গুপিনাথও ক্রমশ বুঝেছে এই লাইনের ব্যাপারটা।

    কিছু পেতে গেলে কিঞ্চিৎ দিতে হবে। গুপিনাথ সেই থেকে আমদানিও শুরু করে। আর সেই টাকা ব্যবসাতে ঢালে। ক্রমশ গুপিনাথ পটলার কাকার সঙ্গেও পরিচিত হয়ে ওঠে। পটলার কাকার কারখানায় রকমারি সাবান, সুগন্ধি কেশতৈল, আয়ুর্বেদিক মলম—এসব তৈরি হয়। আর গুপিনাথ ওসবের এজেন্সি নিয়ে বেআইনি পথে সেইসব মাল বাংলাদেশে পাচার করে বিরাট মুনাফা গড়ে তুলেছে।

    ফটে পটলার কাকা এখন ব্যবসা করছে ভালোই, আর সেই সুবাদে গুপিনাথও উপরে উঠছে। এবার পটলার বাবা অর্থাৎ ও বাড়ির বড়বাবুর বিশ্বাসভাজন হতে পারলে ওই বিঘে তিনেক খেলার মাঠটাও নিশ্চিত দখলে এসে যাবে।

    ওই মাঠ হাতে এলে বছর কয়েক খেলার নামে কিছু খরচ করে তারপর রাতারাতি ওখানে ফ্ল্যাটবাড়ি তুললে কোটি টাকা আমদানি হবে। বাকিটা সামলে দেবে নেতা—ওই সুধীরবাবুই। সেই মতলবটা অবশ্য এখন প্রকাশ করে না গুপিনাথ। এ বাড়িতে আসে যায় ৷

    ঠাকুমা গুপিনাথকে চেনে। আগে গুপিনাথ লাড়ে সাইকেল চেপে ঘুরত। এখন জিপ নিয়ে ঘোরে।

    ঠাকুমা বলে পটলার বাবা গোবিন্দবাবুকে,—ওই লগার মত লোকটা তোর কাছে আসে কেন? মদনও দেখি ওর সঙ্গে ঘোরে।

    মদন পটলার কাকা। গোবিন্দবাবু বলে,—ও এলাকার সেবামূলক কাজ করে। দেশপ্রেমিক গুপিনাথ ।

    ঠাকুমা বলে,—ওই কাকতাড়ুয়ে হল দেশপ্রেমিক! রেশনের মাল দেয় না, সব ব্ল্যাক করে। ওর সঙ্গে মিশবি না, ও বাজে লোক।

    মায়ের উপর কথা বলার সাহস নেই গোবিন্দবাবুর। চুপ করে থেকে বলে,—এখানে খেলার জন্যে সরকারি টাকা এনে স্টেডিয়াম করবে, তাই বলছিল ওই মাঠটা যদি ওদের দেওয়া যায়—!

    ঠাকুমা অবশ্য আগেই শুনেছে কথাটা। হোঁৎকার দল সবই বলেছে তাকে। ঠাকুমা বলে, —সরকার ইস্‌টেডিয়াম করবে—নিজেরা মাঠ দেখে নিক। আমার জমি আমি দেব না। পটলারা খেলছে—খেলবে ওখানে।

    গোবিন্দবাবু আপাতত চুপ করে যান। কিন্তু খবরটা হোঁৎকাদের কাছে ঠিক পৌঁছে যায়। এবার আমরাও জরুরি মিটিং ডাকি। বেশ বুঝেছি যে ওই গুপিনাথ এবার আমাদের হঠিয়ে এই মাঠের দখল নিতে চায় ৷

    এদিকে আমরাও গোপনে ক’জন মিলে ওই গুপিনাথের হাল হকিকত-এর খবর নিতে শুরু করেছি। ফটিকের মামার বাড়ি বনগাঁয়ের ওদিকে। গুপিনাথের গ্রামটা ফটিক চেনে। সেও তার মামার বাড়িতে চারপাঁচ দিন থেকে গুপিনাথের সম্বন্ধে যা সব খবর এনেছে তা একেবারে চমকপ্রদ।

    আমরা অবাক হই। শুধোই ফটিককে,—ঠিক খবর তো রে ফটিক?

    এবারে ফটিক যেন গুপিনাথকে বধ করার মত ব্রহ্মাস্ত্র হাতে পেয়েছে। বলে সে—ঠিক মানে? একেবারে ঠিক। ওরা রাতের অন্ধকারে মোটা টাকা দিয়ে, লাইন করে ওদিক থেকে লাখলাখ টাকার বিদেশি মালপত্র আনে, আর এদিক থেকে ট্রাকে চাল, ডাল, চিনি, টিনটিন সরষের তেল, আলু—এদেশের লোকের মুখের গ্রাস টাকার জন্যে ওদেশে পাচার করে। আর মালপত্র কখন আসে, কোথায় আসে—তাও খবর এনেছি।

    পটলা বলে,—চুপ করে থাক। কালই তোকে নন্দ মেসোর কাছে নিয়ে যাব।

    নন্দদুলালবাবু পটলার আপন মেসোমশাই। লালবাজারের বিরাট পুলিশ অফিসার। ফটিক ঢোক গিলে বলে,–কোনো গোলমাল হবে না তো রে?

    হোঁৎকা বলে,–না-না। কাল যা ওরে লই’ সব রিপোর্ট কইরা আয়। এদিকে আমরাও দেখছি, ওই দ্যাশসেবক গুপিনাথেরে এবার শিক্ষাই দিমু একখান।

    হোঁৎকা তার পরিকল্পনাটা আমাদের বলেছে।

    ফটিক বলে,এদিককার সঠিক খবর আমি এনে দেবো, সেইমত অ্যাকশন করতে হবে।

    ব্যাপারটা খুবই গোপনে ঘটিয়ে চলেছি আমরা। পটলার সেই পুলিশের কর্তা মেসোমশাইও পটলাকে দিয়ে ফটিককে ডাকিয়ে এনে নিজে থেকে কি সব জেরা করে সীমান্তের ধারে ওই গ্রামটার সম্বন্ধেও সব খবর নিয়ে বলেন,–এবার নজর রাখো ফটিক। খবর যা শুনবে বা পাবে আমাকে জানাবে ।

    এদিকে গুপিনাথও থেমে নেই। সারা এলাকায় একজন দরদি সমাজসেবক বলে পরিচিত হয়ে উঠেছে সে। এবার বর্ষায় ওই বানডুবি অঞ্চলের মানুষদের জন্য একেবারে পার্মানেন্ট ক্যাম্পই বানিয়েছে ওই চারুশীলা বালিকা বিদ্যালয়ের দুখানা তিনতলা বিল্ডিং-এ ।

    আর এম.এল.এ মন্ত্রীরাও যখন ওর হাতের লোক, সুতরাং ফুড ডিপার্টমেন্ট থেকে ওই ক্যাম্পের চাল, ডাল এসবের পার্মানেন্ট কোটাও বের করেছে। প্রায় হাজার বস্তা চাল, দুশো বস্তা ডাল এসবও আসছে রিলিফের জন্য।

    আমরাও এবার ওদের দলে ভিড়েছি। অর্থাৎ ইঁদুর যেমন ডুবন্ত নৌকা ছেড়ে নদীতে লাফ দিয়ে পালাবার চেষ্টা করে, আমরাও তেমনি কৌশল করে পঞ্চপাণ্ডব ক্লাব ছেড়ে ওই ভাসমান তরী ইলেভেন বুলেটস্-এ সভ্যপদ পাবার জন্য দরখাস্ত করেছি।

    >

    গুপিদাই বলে,—কিছুদিন ট্রায়ালে থাকতে হবে তোদের, তারপর কমিটি মিটিং-এ তোদের মেম্বার করে নেবো। তবে তোদের ক্লাবঘর তুলে দিতে হবেই হবে।

    অর্থাৎ তাহলেই ওরা পটলার বাবাকে এনে দখল নেবে মাঠের। হোঁৎকা বলে, – আমরা তো ছাইড়াই দিছি ক্লাব। অন্য মেম্বারদের কন তো প্যাঁদাইয়া দিমু। বাপ্ বাপ্ কইতি কইতি মাঠ ক্যান হেই কুলেপাড়া ছাইড়া পলাইব।

    গুপিনাথ বলে,—দেখি ভালো কথায় যদি কাজ না হয় তাহলে আঙুল বাঁকাতে হবে। মোট কথা, আমার মাঠের দখল চাই।

    আমরা এখন পঞ্চপাণ্ডব ক্লাবের বিপক্ষ ইলেভেন বুলেট্সে। গুপিদাই আমাদের আপনজন। তাই বলি,–অর্ডার করবেন অ্যাকশন ঠিক হয়ে যাবে। মাঠও আসবে আমাদের কব্জায়। ওরা আর কজন? কি করে ক্লাবকে বাঁচাবে?

    হোঁৎকা বলে,—আমরা রেজিনেশন দিছি পঞ্চপাণ্ডব খনে।

    তাই গুপিদা আমাদের উপর এখন ভরসা করে এগোচ্ছে। আমরাও এখানকার রিলিফ ক্যাম্পের বিশ্বস্ত কর্মী। হিসাবপত্র রাখি। ওই গুদামে অবশ্য আমাদের যেতে দেয় না গুপিনাথ । সেখানে তার একান্ত বিশ্বস্ত কিছু ছেলে কাজ করে।

    গুপিনাথ মাঝে মাঝে রাতে উধাও হয়ে যায়। সারারাত কোথায় থাকে, কি করে কেউ জানে না। ফেরে পরদিন, আর কর্মব্যস্ততাও বেড়ে যায় তখন। গুদামে মাল আসা যাওয়া করে রাতের অন্ধকারে।

    এদিকে নেতা মন্ত্রীরাও আসছে। এখানে খেলার স্টেডিয়াম হবে। সুধীরবাবুদের নিয়ে গুপিনাথ এবার পটলার বাবাকেই ধরে,—ওই মাঠটা দেন। পটলাদের ক্লাব উঠেই যাবে। ওখানে পাকা স্টেডিয়াম হবে।

    অবশ্য এর আগে নশুবাবু নেতা থাকাকালীন একটা মাঠে কোনো মন্ত্রীকে দিয়ে একটা পাথরের ফলক লাগিয়ে ছিলেন। সেটা এখন ঝোপজঙ্গলে ঢাকা পড়ে আছে।

    পটলার ঠাকমাকে খবরটা আমরাই দিয়েছি। ঠাকুমা সব শুনে বলে,–গোবিন্দ তোর ওই ন্যাতাদের বল মাসির মাঠে যে শীল পুঁতেছিল মন্ত্রী, ওই মাঠেই কাজ হোক। এখানে কেন? গুপিনাথ বলে,—ওখানে জলা। এই মাঠটা হলে দারুণ হত—আপনার স্বামীর নামে পাকা মাঠ হবে।

    এর মধ্যেই হঠাৎ খবর আসে, ক্যাম্পে নাকি আন্ত্রিক না হয় ফুড পয়জন হয়েছে কয়েকজনের। কাতরাচ্ছে তারা। আমরা অ্যাম্বুলেন্স আনিয়ে ক্যাম্পের সাতজনকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠিয়েছি।

    আরও অনেকে অসুস্থ। গোবরার মামার কুমড়ো বওয়া গাড়িকেই অ্যাম্বুলেন্স বানিয়ে রোগীদের পাচার করছি।

    সারা এলাকার মানুষ ক্ষেপে উঠেছে। খারাপ খাবার খাইয়ে ক্যাম্পের লোকদের মারতে চায় এই ইলেভেন বুলেটস্। ভাগ্যিস পঞ্চপাণ্ডব ক্লাব ছিল তাই ওদের হাসপাতালে পাঠিয়ে বাঁচিয়ে তুলেছে।

    পুলিশেও খবর যায়।

    গুপিনাথ সেদিন তার বিশেষ কাজে ব্যস্ত। সে তখন সীমান্তের গ্রামে। সে জানে না তার দুর্গে এবার আক্রমণ শুরু হয়েছে। পচা ভেজাল চাল ডাল, ভোজ্য তেল-এর অভিযোগ উঠতে পুলিশ ও জনতা ওই গুদামেই হানা দেয়। এর মধ্যে ফটিকও গিয়ে হাজির হয়েছে পটলের সঙ্গে তার পুলিশ মেসোমশায়ের কাছে। সব জেনে তিনিও ফোর্স নিয়ে এসে গুদামে হানা দেন ৷ আর দেখেন রাশি রাশি ভালো চাল, ডাল, তেল ট্রাকে উঠে চলেছে সীমান্তের দিকে। আর এদিকে ক্যাম্পের লোকেদের খাওয়ানো হচ্ছে ধানকল থেকে সংগৃহীত বাতিল খুদ্, পচা চাল ডাল ৷

    গুদাম থেকে বের হয় হরেকরকমের দামি বিদেশি মালপত্র। কয়েক লক্ষ টাকার জিনিস। এদিকে তখন গুপিনাথ নতুন চালানের মাল নিয়ে বিজয়ীর মত ঢুকছে। এক একটা চালানের মাল ঠিকমত আনতে পারলে দিয়ে-থুয়েও লাখখানেক টাকা থাকে। প্রতি মাসে এরকম দুতিনটে চালান তার হাতে আসে।

    —হল্ট।

    চমকে ওঠে গুপিনাথ ।

    পথের মাঝে অন্ধকারে চারিদিক থেকে পুলিশ ঘিরে ফেলেছে তাকে। তিন চার লরি মালসমেত। বের হবার পথ নেই। পুলিশের ইমার্জেন্সি আলো—ওদিকে দুচারটে সার্চলাইট রাতকে দিন করে তুলেছে।

    হাতে-নাতে ধরে ফেলে পুলিশ, গুপিনাথ আর ওই এলাকার নেতাকে। এতদিন ওরা দেশসেবক, সমাজ সেবকের মুখোশ পরে ছিল, আজ সেই মুখোশ তাদের খুলে পড়েছে। সকালে সারা কুলেপাড়ার মানুষ ভেঙে পড়ে। তারা দেখছে গুদামে পুলিশ ভর্তি। কয়েকশো বস্তা ভালো চাল ডাল ও ক্যাম্পের মাল পাচার করছিল গুপিনাথের দলবল।

    এবার ইলেভেন বুলেটস্-এর বেলুন চুপসে গেছে। নেতা ও তাদের দলবলকে পুলিশ এবার জুলুম করে টাকা তোলা, লোকের ক্ষতি করা ইত্যাদি নানা চার্জে ধরেছে।

    আর গুপিনাথও দেখেছে পুলিশ সাহেব পটলা, ফটিকদের স্টেটমেন্ট রেকর্ড করছে। হোঁৎকাই ওই ক্যাম্পের আন্ত্রিকের ব্যাপারটা ঘটিয়েছিল তার চেনাজানা কজনকে দিয়ে। তারপরই কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হয়।

    এবার আমাদের মাঠ আবার জমে ওঠে। ইলেভেন বুলেটস্ দু’দিন মাথা তুলেই একেবারে ঠান্ডা! আবার নব উদ্যমে লেগে পড়েছি আমরা। ক্লাবকে বিপদে ফেলার মত আর কেউ নেই ৷

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅমানুষ – শক্তিপদ রাজগুরু
    Next Article মেঘে ঢাকা তারা – শক্তিপদ রাজগুরু

    Related Articles

    শক্তিপদ রাজগুরু

    শক্তিপদ রাজগুরু সাহিত্যের সেরা গল্প

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    মেঘে ঢাকা তারা – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    অমানুষ – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    জীবন কাহিনি – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    পরিক্রমা – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    তিল থেকে তাল – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }