Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পটলা সমগ্র – শক্তিপদ রাজগুরু (দুই খণ্ড একত্রে)

    শক্তিপদ রাজগুরু এক পাতা গল্প816 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    হোঁৎকাদার সেবাব্রত

    হোঁৎকাদা বলে—তালে ওই কথাই রইল। ঝুলনের মেলায় এবার সেবা-টেবার কাজে ফোর স্কোয়ার ক্লাবকে রেকর্ড করতেই হবে।

    গুপিনাথ তখনও হুস-হাস শব্দে বৈঠকি দিয়ে চলেছে। এবার দল ফেলে হাঁকে—আড়াই শো!

    অর্থাৎ নিদেন আড়াই শো বৈঠকি না দিয়ে ওর ব্যায়াম শেষ হয় না। ওদিকে পটলা ক্লাব-ঘরে তখনও হারমোনিয়ামে পোঁ-পোঁ শব্দ তুলে ক্লাবের উৎসবের জন্যে গান তুলছে। –কি গাব আজি কি শুনাব-

    হোঁৎকাদা ধমকে ওঠে—ওই সব থামা দিকি! এখন কাজের কথায় আয়। অ্যাই শ্রীমতি তোর একটো থামা দিকি !

    মতিলাল আমাদের ক্লাবের নাট্য-পরিচালক কাম হিরো। সামনের মাসে ক্লাবের নাটক, তারই মকশো করছিল। হোঁৎকাদার কথায় ওরাও এসে জুটেছে। হোঁৎকাদা বলে—সামনে এত বড় কাজ, এখন ক্লাবের প-প্রেটিজ বলে কথা! পঞ্চপাণ্ডব ক্লাব তো উঠে পড়ে লেগেছে। আমরা বসে থাকব ?

    মতিলাল বলে—কি করতে হবে? ফাইটিং ?

    হোঁৎকাদা জানায়—সেবা! জনসেবা! মানে ভিড়ে কে কোথায় ছিটকে পড়ল, হারিয়ে গেল, খুঁজে আনতে হবে। কেউ পথ হারিয়েছে, অফিসে আনতে হবে। কেউ অসুস্থ তাকে ফার্স্ট-এড দিতে হবে। কোনো দুষ্টু লোক, মানে চোর পকেটমারকে বাধা দিতে হবে।

    গুপি বলে—শেষের কাজটা আমিই করব।

    হোঁৎকাদা বলে—সব অর্গানাইজ করতে হবে বুঝলে, জনসেবাই আসল কাজ বি–বিবেকানন্দ বলেছেন—জ-জীবে –

    মতিলাল পাদপূরণ করে দেয় বাকিটা।

    আমাদের গ্রামটা বিরাটই বলা যায়। এখনও অনেক ধসে পড়া জমিদার বাড়ি, খালবিল, গজিয়ে ওঠা আদকদের কাচের ঠাকুরবাড়ি, মোহান্ত মহারাজের বিরাট মন্দির, আরও অনেক ছোটবড় মন্দির, ঠাকুরবাড়ি আছে। ইদানীং বিজলিবাতির দৌলতে মন্দিরের বোল-বোলাও সাজ-গোজও বেড়েছে। ঝুলনের সময় তাই প্রতি ঠাকুরবাড়িতেই ঠাকুর সাজানো হয়। ধুমধাম করে মেলা বসে। আদকদের চত্বরে কলকাতার যাত্রাগানও হয়। নামী কীর্তনীয়ারাও আসেন। ক’দিনের জন্য গ্রামটা জমে ওঠে। আর আশপাশের গ্রাম থেকে আসে হাজার হাজার মানুষ । পথঘাট, বাজার, মেলার জায়গায় লোক ধরে না।

    তাই হোঁৎকাদা এই সুযোগে জনসেবা করে কিছু পুণ্যি অর্জন, আর ক্লাবের নাম ফাটাবার সুযোগটা ছাড়তে চায় না। হোঁৎকাদা এর মধ্যে সব ব্যবস্থা করে ফেলেছে। কালীতলার মাঠে একটা তেরপলের ছাউনি বানিয়ে নিজের হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারখানা থেকে হাতল-ভাঙা চেয়ার, নড়বড়ে বেঞ্চ, আর কোত্থেকে একটা ফোল্ডিং টেবিল পেতেছে। লাল শালু দিয়ে ফোর স্কোয়ার ক্লাবের সেবা বিভাগের প্রচার করা হয়েছে। হোঁৎকাদা গ্রামের অনেক কিছুতেই থাকে । ফুটবল মাঠের রেফারি, প্রসেশনের লিডার, ব্যান্ড-পার্টির ম্যানেজার ইত্যাদি নানারকমে সে জনসেবা করে চলেছে। আজ খাকি হাফ-প্যান্ট, শার্ট আর মাথায় টুপি, বেল্টে হুইশেল ঝুলিয়ে প্যামসু পায়ে হোঁৎকাদা গোল দেহটাকে আরও গোলাকার বানিয়ে চেয়ার জাঁকিয়ে কম্যান্ডার সেজে বসেছে।

    আর সেবকদেরও অভাব নেই। আমি, গুপি, মতি, পটলা ছাড়া পাড়ার ক্ষুদিরাম, দুকড়ি, দেড় ঠেঙে হরিপদ, কানা শশী, নুলো তারণ ইত্যাদি অনেকেই হোঁৎকাদার সেবাব্রতে সাড়া দিয়ে জমায়েত হয়েছি তার পতাকা তলে ।

    পঞ্চপাণ্ডব ক্লাবের টেন্ট ওদিকেই। তাদেরও বাহার কম নয়। পশুপতিদা মাথায় ব্যান্ড-পার্টির পালক গোঁজা টুপি পরে বিউগিল নিয়ে সেজেছে। ওদের দলের পোশাকও জমকালো। ওদের ক্লাবের গদাই বলে—ভালো মানিয়েছে রে তোদের পিপেটিকে, গড়িয়ে দিলেই—

    গুপি গর্জে ওঠে হোঁৎকাদার প্রতি এই মন্তব্যে। তাই গর্জে ওঠে—কথা বলবি না গদাই, তোকেই সেবা করে দেবে এক রদ্দায়। অবশ্য গুপির হাতের রদ্দা খেলে গদাইকে লাশ হয়ে যেতে হবে। তাই আমি থামাই ওদের—এই, সেবাদলের নিজেদের মধ্যে সেবা শুরু করবি নাকি?

    পঞ্চপাণ্ডব ক্লাবের তাঁবুতে ব্যান্ড বাজছে। ভিড় জমেছে ওখানেই। হোঁৎকাদাও হুইশেল বাজিয়ে দেড় ঠেঙে হরিপদ, কানা শশী, নুলো তারণ, লিকলিকে কার্তিকদের নিয়ে রীতিমত প্যারেড শুরু করিয়ে তালিম দিয়ে সেবাব্রতী করে ছাড়বে।

    সন্ধ্যার পর থেকে ভিড় শুরু হয়। কাতারে কাতারে ছেলে মেয়ে, বুড়ো-বুড়ির দল চাল চিঁড়ে বেঁধে এসেছে। মন্দিরগুলোর দরজায় ঠেলাঠেলি হুড়োহুড়ি চলেছে। বাঁশ পুঁতে দড়ি-দড়া বেঁধে ভিড় সামলাবার চেষ্টা করা হচ্ছে, কিন্তু জনস্রোতের চাপে, সব বানের মুখে খড়কুটো হয়ে ভেসে যাচ্ছে ।

    হোঁৎকাদার গলা শোনা যায়—রেডি, স্টেডি বয়েজ। মহিলারা এদিকে—ওয়ান বাই ওয়ান । পুরুষদের গেট বন্ধ করে রাখো। হুঁশিয়ার-

    আদকমশাইও রয়েছেন। ভিড় সামলাতে গিয়ে নুলো, তারণ ছিটকে পড়েছে, লিকলিকে কার্তিক চাপের চোটে কোনো দর্শনার্থীর ঘাড়ে উঠে ভিড় থেকে আত্মরক্ষা করছে।

    আমরাও স্ট্রেচার নিয়ে তৈরি। দু-একটা বোধ হয় জখম হবেই। তবু সেবা করার সুযোগ পাব। কিন্তু মানুষগুলো যেন ইস্পাতের তৈরি! এত ভিড়েও কারো কিছু হয় না ! কলরব ওঠে—পুঁটু, কোথায় গেলি র‍্যা! অ-কুসুম-

    –ছেলে হারিয়ে গেছে মা? হোঁৎকা এগিয়ে যায় ব্যগ্রভাবে।

    বুড়ি দাঁত পড়া লালচে মাড়ি বের করে খিঁচিয়ে ওঠে—পুঁটু আমার হারাবে কেন র‍্যা মুখপোড়া? তুই হারা গে না!

    পুঁটু, বঁচু কেউই হারায় না। কেউ আহতও হয় না। মেলার পর্বও ঠিক চলেছে। আদকমশাই বলেন—দারোয়ানদের বলে রেখেছি।

    হোঁৎকাদা বলে—আমার সেবাদলও রেডি আছে আদকবাবু, মানে এবার ফোর স্কোয়ার ক্লাবের পেট্রন হতেই হবে। আপনার এখানেই তাই সেবাদলকে রেখেছি।

    আদকমশাই জবাব দেয়—সেবাদল! ওরা কি করবে হে? যাক গে, এবার ডেকরেশনটা কেমন হয়েছে বল হোঁৎকা ? ফোকাস্, স্পষ্ট লাইট ওই ঠাকুরের ভ্যানিস-ট্যানিস সবই কলকাতার মিস্ত্রি এনে করিয়েছি।

    আবার ভিড় আসছে জনস্রোতের মত। আমরাও ক্ষুণ্ন হয়েছি। আদকমশাই কেন মোহান্ত মহারাজের ঠাকুরবাড়িও ম্যানেজ করছি, কিন্তু ওরা যেন আমাদের চেনে না !

    —রেডি বয়েজ। পুরুষদের গেট খুলে দাও। ওরা বের হয়ে গেলে মেয়েরা ঢুকবে আস্তে-

    কোনরকমে সেবা করার সুযোগ খুঁজছি। রাত হয়েছে। হোঁৎকাদা বলে–চারিদিকে সাবধানী দৃষ্টি রাখবি। শুনছি, দু-একটা ছেনতাইও হয়ে গেছে।

    ক্যাম্পের নড়বড়ে বেঞ্চে বসে আছে কয়েকটা বুড়োবুড়ি—দুটো ছেলে। হোঁৎকাদা বলে—আপনাদের নাম বলুন।

    বুড়ো গর্জে ওঠে—আমরা কি চুরির আসামি যে নাম-ধাম গাঁ-গোত্তর বলতে হবে? —আপনারা তো হারিয়ে গেছেন?

    হোঁৎকাদার কথায় বুড়ি গর্জে ওঠে—সদাব্রত খুলেছ, খেতে থাকতে দেবে শোনলাম, আর যাত্রীদের চোর ঠাওরেছে!

    মতিলাল বলে—সেবাব্রত নিইছি আমরা—সদাব্রত নয়।

    —ঝ্যাটা মারি তোদের মুয়ে, আঁটকুড়োর ব্যাটারা! মশকরা করতে এসেছ! ওঠ রে মদনা, অ্যাই কালী, চত্বরে পড়ে ঘুমোবি চল।

    ঘুমন্ত কিল্লিবিল্লিদের নিয়ে ওরা চলে গেল ।

    রাত হয়ে গেছে। খিদেতে পেট জ্বলছে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গা-গতর টাটিয়ে গেছে, তবু সেবাদলের নামও কেউ করে না। আদকমশাইকে ধরে কিছু মোটা টাকার ডোনেশন তোলার স্বপ্ন দেখেছিলাম। তাও হল না। ওদিকে পঞ্চপাণ্ডব ক্লাবের তাঁবুর সামনে বেঞ্চ পেতে ভলেনটিয়ারদের লুচি, আলুর দম আর মিহিদানা ভোগ চলছে।

    নুলো তারণ ওর ছেঁড়া জামা থেকে ব্যাচটা খুলে হোঁৎকাদার টেবিলে রেখে বলে—লুচি-ফুচি নাই, এতে আমিও নাই। কাল থেকে ওদের দলেই সেবা করব।

    দেড় ঠেঙে হরিপদের ছোট এক ঠ্যাং-এর হাঁটুটা ছড়ে গেছে। ও বলে—আমোও নাই কাল থেকে।

    হোঁৎকাদা বলে—সেবা মানেই নিঃস্বার্থ সেবা। দই লুচি আলুর দম মিহিদানা তো তুচ্ছ। যে কারণেই হোক পরদিন ফোর স্কোয়ার ক্লাবের অবস্থা সত্যই করুণ। মাত্র ক’জন টিম-টিম করছে। ওদিকে পঞ্চপাণ্ডব ক্লাবের সামনে ভলেনটিয়ার আর ধরে না। নুলো তারণ, কানা শশী, লিকলিকে কার্তিকও চলে গেছে ওই ক্যাম্পে। বুকে ওদের ব্যাজ এঁটে সেবাধর্ম নিয়েছে। আর দেড় ঠেঙে হরিপদও যেত, কিন্তু এক ঠ্যাং জখম হওয়ায় আসতে পারেনি।

    এদিকে আমরা মাত্র ক’জন। হোঁৎকাদা বলে—নীরবে নিঃস্বার্থে সেবা করবি। জ-জানিস

    য-যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে

    তবে একলা চল রে।।

    লোকজনের ভিড় আজ অনেক বেশি। শহর থেকে রিজার্ভ বাসে লোকজন মেয়েরা আসছে। আজ আদকমশাই বলে—গেটে আমার দারোয়ানরাই থাকুক। তোমরা আশেপাশে থাক, অর্থাৎ তার দেউড়িতে তার ইউনিফর্ম পরা লোকজনই থাকবে, ওদিকে মোহান্ত মহারাজের মন্দিরের ভার আজ পঞ্চপাণ্ডব ক্লাবের, আর আদকমশাইয়ের মন্দিরের ভিতরেও পঞ্চপাণ্ডব ক্লাবের নেতা পশুপতিবাবু দলবল নিয়ে রয়েছেন। অর্থাৎ এবার আদক-কোম্পানির দরাজ টাকা ওরাই পাবে।

    আমি বলি—এসব তুলে দাও হোঁৎকাদা। কি হবে ?

    —মানে! হোঁৎকাদা গর্জে ওঠে—যদি ভালো না লাগে চলে যা তোরাও। আমি একাই সেবাব্রত নিয়ে থাকব।

    মতিলাল থামায়—চুপ কর দিকি। কিন্তু কাজটা কি করব বল?

    গোপীনাথ বলে—করার তো কিছু নেই। আদকমশাই, মোহান্ত মহারাজও জবাব দিলেন। হোঁৎকাদা বলে—পথেঘাটে ঘুরবি, কত বিপন্ন মানুষ রয়েছে তাদের সেবা কর।

    মনের রাগ চেপে ভিড়ের মধ্যে পথে এদিক ওদিক ঘুরছি। হোঁৎকাদাও বের হচ্ছে মাঝে মাঝে। ওদিকে পঞ্চপাণ্ডব ক্লাবের ডিউটিতে রয়েছে ভলেনটিয়ার দল। গদাইও ব্যাচ পরে ভিড় ম্যানেজ করছে গেটে। আমাদের যেন চিনতেই পারে না।

    ওদের লিডার পশুপতিবাবু ভিতরে যাবার মুখে শোনায়—বাজে ভিড় হটিয়ে দে গদাই, গেটের কাছ থেকে।

    গুপিনাথ গজরাতে থাকে, পশুর বাবার জায়গা এটা! ঠিক আছে ।

    গুপিকে টেনে নিয়ে আসি, কারণ রাগের মাথায় ওর জ্ঞানগম্যি থাকে না।

    হঠাৎ খবরটা হাওয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। সারা মেলায় ওই ভিড়ের মধ্যে চাঞ্চল্য পড়ে যায়। আর খবরের মূল ওই হোঁৎকাদা।

    রাত হয়ে গেছে। দত্তদের রকে একটা লোক মরে পড়ে আছে। হইচই পড়ে যায়। হোঁৎকাদা বলে—কুইক। এখনও মরেনি, পালস্ আছে। স্ট্রেচারে নিয়ে চল।

    ভিড় জমে গেছে পথের দু’ধারে। তার মধ্য দিয়ে আমি, মতিলাল, পটলা স্ট্রেচারে তুলে আনছি দশাসই দেহটাকে। জ্ঞান নেই। হোঁৎকাদা হাঁক পাড়ে ভিড় করো না কেউ, পথ দাও সেবাদলকে। ধীরে-নো জার্ক বয়েজ।

    পঞ্চপাণ্ডব ক্লাবের ছেলেরাও ঘাবড়ে যায়। তারা কেবল লোকই ঠেলেছে, ফাঁক থেকে আমাদের ক্লাব একটা মারাত্মক কেসকে তুলে এনেছে হাসপাতালে পাঠাবার জন্যে। এর মধ্যে ওই অজ্ঞান লোকটার আত্মীয়দের কাছেও খবর গেছে। ওর বৌ হবে বোধ হয়—ইয়া লম্বা চওড়া একটি কালো মহিলা গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে আসছে, পিছনে আসছে বেঁটেখাটো একটি তরুণ—ওর ছেলে বোধহয়।

    হোঁৎকাদা বলে—ওকে ডিস্টার্ব করবেন না। এখুনি হাসপাতালে পাঠাতে হবে। বোধ হয় হার্ট অ্যাটাক্—সাংঘাতিক ব্যাপার।

    —বাঁচবে তো গো? ও বাবু! মেয়েটি চিৎকার করে চলেছে।

    কোনরকমে ওই দশাসই দেহখানাকে নড়বড়ে টেবিলে শুইয়ে দম নিচ্ছি। এতখানি পথ ওই পর্বতকে বয়ে আনা কম কথা নয় ! আমাদের ক্যাম্পের আশপাশে লোকের ভিড় আর ধরে না । নিমেষের মধ্যে ফোর স্কোয়ার দলের সেবাব্রতের নাম ছড়িয়ে পড়েছে। হোঁৎকাদা লোকটার পালস দেখছে।

    হঠাৎ কাণ্ডটা ঘটে যায়। বিরাট মুষকো লোকটা সটান টেবিলের উপর আড়িমুড়ি ছেড়ে সিধে হয়ে উঠে বসে চোখ কচলে নিজেকে তেরপলের ছাউনির মধ্যে এই অবস্থায় দেখে হকচকিয়ে যায়। ওপাশে বৌটা তখন চিৎকার করছে দেখে লোকটা গর্জে ওঠে—অ্যাই থামবি! তা এখানে কি করে এলাম রে? যাত্রা শুরু হবার আগে একটু ঘুমিয়ে নিচ্ছিলাম দত্তদের রকে বৌটা গর্জে ওঠে—তুমি নাকি মরে গেছলে গো।

    লোকটা অবাক হয়—মরে গেছলাম! কোন্ ব্যাটা বলে ?

    মেয়েটা হোঁৎকাকে দেখিয়ে বলে, ওই ছোঁড়াটা! ওমা কি মুখ গো ওটার? অ্যা! জলজ্যান্ত লোকটাকে মেরে ফেলছিল গো। ওরে আঁটকুড়ির ব্যাটা, ওই ছোঁড়াগুলো আবার খাটিয়ায় করে বয়ে আনছে।

    —অ্যা! মরে গেছলাম! দেখাচ্ছি মজা! ইয়ার্কির জায়গা পাওনি? মোটা লোকটা গর্জে ওঠে বুনো মোষের মত ।

    পায়ের দিকে ছিলাম আমি। লোকটা সজোরে আমার দিকেই লাথি ছুঁড়েছে। লাথি নয়, যেন একটা শালের গুঁড়িই এগিয়ে আসে। লাগলে থেঁৎলে যাব, তাই মাথা নিচু করে প্রাণ বাঁচিয়ে বেরুবার পথ খুঁজছি। সেবা করার পর যে এমনি কাণ্ড ঘটবে ভাবিনি। লোকটা হাত বাড়িয়ে ঠ্যাঙ ধরে ফেলেছে হোঁৎকাদারই। এবার বোধহয় হাসপাতালেই যেতে হবে হোঁৎকাদাকে। এমন সময় দাপাদাপিতে নড়বড়ে টেবিলটা মচমচ করে ওঠে। একটা পায়া মড়মড় করে ভাঙছে। মোটা লোকটা পড়বার আগেই সামলে নেবার জন্য লম্বা হাত বাড়িয়ে তেরপলের নীচেকার ছাউনির বাঁশটাকে ধরে ফেলেছে। কিন্তু ওই বিরাট দেহের চাপে টেবিলটা আছড়ে পড়ে, আর তেরপল সমেত বাঁশ ভেঙে ওই লোকটা, হোঁৎকাদা, সেই মেয়ে লোকজনই চাপা পড়ে গেছে। ওই ফাঁকে আমি তেরপলের তলা গলে কোনোরকমে হড়কে বের হয়ে মতিলালের হাত ধরে ভিড়ে মিশে যাই। বুকের ব্যাজটা এক টানে ছিঁড়ে ফেলে ওদের দলে মিশে কেটে পড়ার পথ দেখছি। ততক্ষণে বিরাট কাণ্ড বেধে গেছে। লোকজন, যাত্রীরা চিৎকার করছে। কোরাস শোনা যায়—মার! মার! সেবাব্রতের ব্যাটাদের হাড় গুঁড়িয়ে দে মেরে

    দম বন্ধ করে দৌড়চ্ছি বড় রাস্তা ছেড়ে। বড় বড় বাড়িগুলোর পেছনে একটা পুকুরের ধারে গাছ-গাছালির অন্ধকারে জায়গাটা থমথম করছে। ওইখানে এসে দাঁড়ালাম। লোকজন কেউ বিশেষ নেই এদিকে। আদকমশায়দের বিরাট বাড়িটার পেছনে বাগানে এসে পড়েছি। মতিলাল তখনও হাঁপাচ্ছে। গুপিনাথ রেডি আছে। আড়াইশো বৈঠকি দেওয়া ওর অভ্যাস। গুপিনাথ গুম হয়ে বলে—ঢের হয়েছে। এবার মানে মানে ঘরে ফিরে চল।

    মতিলাল বলে—একটু দম নিতে দে। আর ওপথে নেই বাবা, ধরলে লাশ বানিয়ে দেবে। আকাশ বাতাসে ওঠে আনন্দের সুর। ওদিক থেকে মাইকে গানের সুর শোনা যায় । পঞ্চপাণ্ডব ক্লাবের মাইকে ভলেনটিয়ারদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে-ভিড় সরিয়ে দাও । গেটে সারবন্দী যাত্রীদের যেতে সাহায্য করো ।

    ওরাই এবার টেক্কা দিয়ে গেল। আর হোঁৎকাদার বোকামিতে ফোর স্কোয়ার ক্লাব এবার পথে বসে গেল ৷

    মতিলাল বলে-সামনের মাসে ফাংশন-নাটক এসব হবে না ?

    গুপি ধমকে ওঠে—যে নাটক করলি তাই সামলা এবার !

    —হোঁৎকাদাকে রেসকিউ করবি না?

    আমি ভয়ে ভয়ে বলি–মোটা লোকটা নির্ঘাৎ জোর ধোলাই দিয়েছে ক্যাপটেনকে। গুপিনাথ বলে–আপনি বাঁচলে বাপের নাম। এখন বাড়ি চল। এখন আমার হাতে ক্লাবের ফেস্টুনটা। রডে বাঁধা ওই লাল শালুর ফেস্টুনটা হাতিয়ে দৌড়েছিলাম।

    অন্ধকারে হঠাৎ কিসের শব্দে চমকে উঠি। কে জানে কেউ বোধ হয় টের পেয়ে গেছে, তাই ধরতেই এসেছে আমাদের। কিন্তু ব্যাপার দেখে অবাক হই। আদক-বাড়ির দোতলার মহল থেকে দড়ি ধরে একটা লোক এসে ঝুপ করে পড়েছে ওই জঙ্গলে। আর একজনও নামছে। তার হাতে একটা ছোট বাক্স। বলিষ্ঠ গাঁট্টাগোট্টা লোকটার পরনে কালো হাফ-প্যান্ট আর কালো গেঞ্জি। চমকে উঠে ঝোপের আড়ালে বসে আছি। ওদের কথাগুলো শোনা যায়। একজন বলছে—জোর হাতিয়েছি মাইরি! দু’দুটো গয়নার বাক্স। কর্তা গিন্নিরা ঝুলনের যাত্রা শুনছে। শুনুক যাত্রা! চল, হাজার তিরিশ টাকা তো হবেই। হীরের গহনা জড়োয়া সেট, চুনি পান্না, সোনা দানা। তা বড়লোক বটে।

    গায়ে ঘাম দিচ্ছে। সামনেই বিরাট একটা কাণ্ড ঘটে গেছে। আর দুটো লোকের হাতে হাজার হাজার টাকার চোরাই গহনা ।

    গুপির মুখটা কঠিন হয়ে উঠেছে, অন্ধকারে দু’চোখ জ্বলছে। আমিও ওর হাতের চাপে সজাগ হয়ে উঠেছি। আমার হাতে ফেস্টুনের একটা রড, অন্যটা গুপি টেনে নিয়ে তৈরি হয়েছে।

    ঝোপের মধ্যে বসে আছি আমরা, মশায়, কামড়াচ্ছে খেয়াল নেই। লোক দুটো ওই ঝোপের পাশে সরু পথ দিয়ে এগিয়ে আসছে। কাছাকাছি আসতেই আমি সজোরে আগের লোকটার মাথাতেই রডের এক ঘা বসাতেই লোকটা সামনের দিকে ছিটকে পড়ল, আর গুপি পিছনের লোকটার পায়ে মারতে সে ছিটকে পড়েছে, তার উপর দুমদাম শব্দে আঘাত করছে গুপি।

    মতিলাল ওর ভরাটি নাটুকে গলায় চিৎকার করে – চোর চোর! – চোওর।

    কয়েক মিনিটের মধ্যেই টর্চ, হ্যাজাক, লোকজন এসে পড়ে। ততক্ষণে ওই ফোর স্কোয়ারের ফেস্টুন-ফালা দিয়েই লোকদুটোকে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলেছি। বাক্স দুটোও খুঁজে পাওয়া যায় হেজাকের আলোতে।

    আদকমশাইও নিজে এসেছেন গোলমাল শুনে। দোতলার বারান্দা থেকে দড়িটা তখনও ঝুলছে। গহনার বাক্স দুটো দেখে চমকে ওঠেন তিনি। সর্বনাশ! এ যে সর্বস্বান্ত করে দিয়েছিল ব্যাটারা !

    আহত লোকদুটোকে আমরাই টেনে এনেছি। পুলিশ অফিসার এসে অবাক হল-আরে, একটা তো দাগি ডাকাত! আর রহমৎ তো খুনের ফেরারি আসামি! তোমাদের এই কাজ? লোকদুটো মারের চোটে ধুঁকছে। গুপি বলে—আরও দুঘা দিই স্যার।

    বাধা দেন দারোগাবাবু—ঢের হয়েছে! আর থাক গুপিনাথ। উঃ! বিরাট একটা কেস ধরেছ তোমরা।

    পঞ্চপাণ্ডব ক্লাবের ক্যাপটেন পশুপতিবাবুকে ধড়াচুড়ো পরে আসতে দেখে আদকমশাই বলেন—আপনার ছেলেরা কি করে পশুপতিবাবু? ধড়াচূড়া পরে লুচি আলুর দমই খায় কেবল । দুটো লোক এদিক থেকে গিয়ে ভিতরের মহলে ঢুকে সর্বস্ব নিয়ে চলে যাচ্ছিল, দেখেনি?

    ভিড় ঠেলে কাকে ঢুকতে দেখে চমকে উঠি। চেনা যায় না হোঁৎকাদাকে। সেই লোকটা বোধহয় আচ্ছাসে মেরামত করে গেছে সেবাব্রতী হোঁৎকাদাকে। গালে প্লাস্টার, কপালে আব গজিয়ে চোখ ঢেকে গেছে, বাঁ হাতটা গলার সঙ্গে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে ব্যান্ডেজ করা। খাকি শার্টটা ফেটে ছেঁড়া ময়লা গেঞ্জিও ঝুলছে। হোঁৎকাদা বলে ওঠে আদকমশাইয়ের কথায়—আমার সেবাদলের ছেলেরা স্যার অন্য ধাতুতে গড়া। নিঃস্বার্থ সেবাই তাদের ব্রত। আপনারা চাননি, তবু ওরা নীরবে সেবা করে গেছে আপনাদের।

    আদকমশাইও কথাটা স্বীকার করেন এবার।

    তাই এবার ফোর স্কোয়ার ক্লাবের বার্ষিক উৎসব বেশ জাঁকিয়ে করছি। লৌহ-ভীম গুপিনাথের ফিজিক্যাল ফিটস্, পটলার কণ্ঠ সংগীত, আর শ্রীমতিলালের পরিচালনায় নাটকও হচ্ছে। হোঁৎকাদা আপাতত ওই নিয়েই ব্যস্ত।

    তোমাদেরও নেমন্তন্ন রইল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅমানুষ – শক্তিপদ রাজগুরু
    Next Article মেঘে ঢাকা তারা – শক্তিপদ রাজগুরু

    Related Articles

    শক্তিপদ রাজগুরু

    শক্তিপদ রাজগুরু সাহিত্যের সেরা গল্প

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    মেঘে ঢাকা তারা – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    অমানুষ – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    জীবন কাহিনি – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    পরিক্রমা – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    তিল থেকে তাল – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }