Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পরমপদকমলে – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প809 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    “খণ্ডন-ভব-বন্ধন জগ-বন্দন বন্দি তোমায়” – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    “খণ্ডন-ভব-বন্ধন জগ-বন্দন বন্দি তোমায়”

    কথামৃতের শেষ পরিচ্ছেদে এসে প্রাণটা হুহু করে ওঠে। ঠাকুরের ঘরের দেওয়ালে টাঙানো গৌর নিতাইয়ের ছবি একখানা বেশি ছিল। গৌর নিতাই সপার্ষদ নবদ্বীপে সঙ্কীর্তন করছেন। রামলাল শ্রীরামকৃষ্ণকে বলছেন : “তাহলে ছবিখানি এই এঁকে মাস্টারকেই দিলাম।”

    শ্রীরামকৃষ্ণ বললেন : “আচ্ছা, তা বেশ।”

    সব ছাড়ার পালা। যাকে যা দেবার আছে সব দিয়ে যাচ্ছেন একে একে। যা বলার আছে সব বলে যাচ্ছেন।

    ঠাকুর হঠাৎ একদিন মৌনী হলেন। সকাল ৮টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত। সেদিন ছিল মঙ্গলবার। ১১ আগস্ট ১৮৮৫ খ্রীস্টাব্দ। আগের দিন গেছে অমাবস্যা। শ্রীম লিখছেন : “শ্রীরামকৃষ্ণের অসুখের সঞ্চার হইয়াছে। তিনি কি জানিতে পারিয়াছেন যে, শীঘ্র তিনি ইহলোক পরিত্যাগ করিবেন। জগন্মাতার ক্রোড়ে আবার গিয়া বসিবেন? তাই কি মৌনাবলম্বন করিয়া রহিয়াছেন? তিনি কথা কহিতেছেন না দেখিয়া শ্ৰীশ্ৰীমা কাঁদিতেছেন। রাখাল ও লাটু কাঁদিতেছেন। বাগবাজারের ব্রাহ্মণী এইসময় আসিয়াছিলেন, তিনিও কাঁদিতেছেন। ভক্তেরা মাঝে মাঝে জিজ্ঞাসা করিতেছেন, ‘আপনি কি বরাবর চুপ করিয়া থাকিবেন?”

    শ্রীরামকৃষ্ণকে ঘিরে যে লীলা শুরু হয়েছিল তা শেষ হয়ে আসছে। এইবার প্রদীপ একদিন নিভবে। কাল চলে যাবে ইতিহাসের গর্ভে। তারই ইঙ্গিত সর্বত্র। শ্রীম লিখছেন : “শ্রীরামকৃষ্ণ-রোগ সারাবার কথা বলতে পারি না। আবার ইদানীং সেব্য-সেবক ভাব কম পড়ে যাচ্ছে। একবার বলি মা তরবারির খাপটা একটু মেরামত করে দাও; কিন্তু ওরূপ প্রার্থনা কম পড়ে যাচ্ছে, আজকাল ‘আমি’টা খুঁজে পাচ্ছি না। দেখছি তিনিই এই খোলটার ভিতরে রয়েছেন।”

    এই কথার পর ঠাকুরের অনুমতি নিয়ে গোস্বামীজীর কীর্তন শুরু হলো। অনুমতি নেওয়ার কারণ, ঠাকুর অসুস্থ। কীর্তন হলেই ভাবাবেশ হবে। ভাবাবেশ হলেই গলায় চাপ পড়বে। কীর্তন শুনতে শুনতে ঠাকুর যথারীতি ভাবাবিষ্ট হলেন। দাঁড়িয়ে উঠে শুরু করে দিলেন ভক্তসঙ্গে নৃত্য। বাখাল ডাক্তার শ্রীময়ের সঙ্গে এসেছিলেন ঠাকুরের চিকিৎসার জন্যে। তাঁরা ঠাকুরের ভাবাবেশ দেখলেন। তাঁর ভাড়াটিয়া গাড়ি অপেক্ষা করছে বাইরে। কলকাতায় ফিরতে হবে। উঠে পড়লেন। একে একে প্রণাম সেরে বিদায়ের পালা।

    শ্রীরামকৃষ্ণ সস্নেহে মাস্টারকে বললেন : “তুমি কি খেয়েছ?”

    এ হলো ১৮৮৫ খ্রীস্টাব্দের ২৩ সেপ্টেম্বরের কথা। এরপর আর মাত্র একটি দিন। বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর। পূর্ণিমার রাত। শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর ঘরের ছোট খাটটির উপর বসে আছেন। মাস্টার প্রভৃতি ভক্তেরা বসে আছেন মেঝেতে। গলার জন্যে ঠাকুর কিছুটা কাতর।

    শ্রীরামকৃষ্ণ মাস্টারকে বলছেন : “এক একবার ভাবি দেহটা খোল মাত্ৰ। সেই অখণ্ড (সচ্চিদানন্দ) বই আর কিছু নেই।”

    কথামৃতের মূলপর্ব শেষ হচ্ছে এইভাবে—”তাহলে ছবিখানি এঁকেই (মাস্টারকে) দিলাম”–রামলাল এইকথা বলতে বলতে দেওয়ালে টাঙানো ঠাকুরের অতি প্রিয় ছবিখানি খুলে নিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণের ঘরে গৌর নিতাইয়ের ছবি একখানা বেশি ছিল, গৌর নিতাই সপার্ষদ নবদ্বীপে সঙ্কীর্তন করছেন।

    ঠাকুর বললেন : “আচ্ছা তা বেশ।”

    এরপর সামান্য একটু সংযোজন—”ঠাকুর কয়েকদিন প্রতাপের ঔষধ খাইতেছেন। গভীর রাত্রে উঠিয়া পড়িয়াছেন, প্রাণ আই-ঢাই করিতেছে। হরিশ সেবা করেন, ঐ ঘরেই ছিলেন; রাখালও আছেন; শ্রীযুক্ত রামলাল বাহিরে বারান্দায় শুইয়া আছেন। ঠাকুর পরে বলিলেন, মধ্যম নারায়ণ তেল দেওয়াতে ভাল হলাম, তখন আবার নাচতে লাগলাম।

    ‘সমাপ্ত’ লেখায় অপূর্ব এক লীলার সমাপ্তি। এরপরেই পরিশিষ্ট। “বরানগর মঠ। শ্রীযুক্ত নরেন্দ্র, রাখাল প্রভৃতি আজ শিবরাত্রির উপবাস করিয়া আছেন। দুইদিন পরে ঠাকুরের জন্মতিথি পূজা হইবে। বরানগর মঠ সবে পাঁচ মাস স্থাপিত হইয়াছে। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ নিত্যধামে বেশিদিন যান নাই।… আজ সোমবার শিবরাত্রি, ২১ ফেব্রুয়ারি ১৮৮৭।… পূজা হইয়া গেল। শরৎ তানপুরা লইয়া গান গাইতেছেন —

    “শিব শঙ্কর বম্ বম্ (ভোলা)
    কৈলাসপতি মহারাজরাজ! …

    ‘নরেন্দ্র কলিকাতা হইতে এইমাত্র আসিয়াছেন। এখনো স্নান করেন নাই। কালী নরেন্দ্রকে জিজ্ঞাসা করিলেন, ‘মকদ্দমার কি খবর?

    “নরেন্দ্র (বিরক্ত হইয়া)—’তোদের ওসব কথায় কাজ কি? ‘

    “নরেন্দ্র তামাক খাইতেছেন ও মাস্টার প্রভৃতির সহিত কথা কহিতেছেন– ‘কামিনী-কাঞ্চন ত্যাগ না করলে হবে না। কামিনী নরকস্য দ্বারম্। যত লোক স্ত্রীলোকের বশ। শিব আর কৃষ্ণ—এঁদের আলাদা কথা। শক্তিকে শিব দাসী করে রেখেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণ সংসার করেছিলেন বটে, কিন্তু কেমন নির্লিপ্ত। ফস করে বৃন্দাবন কেমন ত্যাগ করলেন!“

    কথামৃতের এই পর্যায়টি উল্লেখ করলাম দুটি কারণে। প্রথম কারণ—আমরা যে লীলায় প্রত্যক্ষ অংশ নিতে পারিনি বা নিলেও দেহরূপ বদলাতে বদলাতে বর্তমানের নামরূপে এসে বিস্মৃত, সেই লীলার অমৃত স্বাদে কথামৃত জমজমাট। ঠাকুর, পরম ভক্ত শ্রীম-র মাধ্যমে অক্ষরের মালায় স্তব্ধ করে রেখে গেছেন, সেই কাল, সেই ভাব, সেই আন্দোলনকে। ঠাকুরের হাঁটাচলা, ওঠাবসা, ফিরে তাকানো, কথা বলা, হাত নাড়া, ক্ষণে ক্ষণে ভক্তদের আসা-যাওয়া, নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে কাষ্ঠপাদুকার শব্দ তুলে মা ভবতারিণীর মন্দিরে গিয়ে ঘণ্টাবাদন, পঞ্চবটীতে ঘুরে বেড়ানো, ভক্তসঙ্গে লীলাপ্রসঙ্গ, আরতির কাঁসর ঘণ্টা, কথামৃতের দুই মলাটে চিরকালের জন্যে বন্দী হয়ে আছে। আজও জীবন্ত।

    দ্বিতীয় কারণ—ঠাকুর যেই নিত্যধামে আরোহণ করলেন দক্ষিণেশ্বর যেন ফাঁকা হয়ে গেল। ‘নন্দকূল চন্দ্র বিনা বৃন্দাবন অন্ধকার।’ পদব্ৰজে অথবা নৌকাপথে কি ফিটনে চড়ে, দূর থেকে ভক্তরা আর আসেন না। মা আছেন; কিন্তু সেই পঞ্চবটীর সাধনপীঠের প্রাণপুরুষ ফিরে গেছেন অমর্ত্যলোকে। দেবী আছেন; কিন্তু তাঁকে জাগ্রত করার সাধকপ্রবর নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। তীর্থ আছে, স্মৃতি আছে, লীলা নেই। অন্তরঙ্গ পার্ষদ যাঁরা ছিলেন, তাঁদের সেই মুহূর্তের শূন্যতা দুঃসহ। সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছেন। কোথায় তাঁরা দানা বাঁধবেন। বরানগরের জীর্ণ কুঠিতে তাঁরা সমবেত হয়েছেন, ঠাকুরের পট প্রতিষ্ঠা হয়েছে, পূজার্চনাদিও হচ্ছে, সাধন-ভজনেরও কমতি নেই; কিন্তু কারুরই মন বসছে না। যিনি চলে গেলেন তাঁর তো কোন দ্বিতীয় হয় না। কথামৃতের পরিশিষ্টাংশ যেন দীর্ঘ একটি বিলাপের মতো। সন্তানদের অনেকটা দিশাহারা অবস্থা।

    ঠাকুর রামকৃষ্ণের ‘টাকা মাটি আর মাটি টাকা’ ভাবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল আত্মদর্শন, ‘যা পাবি তা বসে পাবি, খোঁজ নিজ অন্তঃপুরে।’ ‘গয়া গঙ্গা প্রভাসাদি কাশী কাঞ্চী কেবা চায়।’ তিনি কিছু প্রতিষ্ঠা করে যাননি। বিশেষ কোন মত, বিশেষ কোন পথ, বিশিষ্ট কোন অর্ডার। বেছে বেছে, আধার বুঝে, দশ-বারটি বৈরাগ্যবান যুবকের অন্তরে বীজ ফেলে গিয়েছিলেন। এ যেন তাঁর নিজেরই ‘প্যার্য‍্যাবলস’-এর ধারা অনুসরণ। পাখি ঠোঁটে করে বীজ নিয়ে যেখানে সেখানে ফেলে। কোনটা পাথরে পড়ল, কোনটা পড়ল জলে, কোনটা মরুভূমিতে। ঠিক জায়গায় যেটি পড়ল, সেইটিই অঙ্কুরিত হলো, ধীরে ধীরে পরিণত হলো বিশাল বৃক্ষে। মঠ, মন্দির, মসজিদ অথবা কোন অর্ডারে ঠাকুর নিজেকে জড়াতে চাননি। তাঁর অসাধারণ মতবাদ—”যত মত তত পথ।”

    “যথা নদীনাং বহুবোহম্বুবেগাঃ
    সমুদ্রমেবাভিমুখা দ্রবন্তি।”

    আমার মত, আমার পথ বলে যাঁরা দম্ভ করতেন, ঠাকুর মুচকি হেসে বলতেন : “ওরে ও যে মতুয়ার বুদ্ধি।”

    “যদি হৃদয়-মন্দিরে মাধব প্রতিষ্ঠা করতে চাও, যদি ভগবান লাভ করতে চাও, শুধু ভোঁ ভোঁ করে শাঁখ ফুঁকলে কি হবে! আগে চিত্তশুদ্ধি কর, মন শুদ্ধ হলে ভগবান পবিত্র আসনে এসে বসবেন। চামচিকার বিষ্ঠা থাকলে মাধবকে আনা যায় না। এগারজন চামচিকে একাদশ ইন্দ্রিয়—পাঁচ জ্ঞানেন্দ্রিয়, পাঁচ কর্মেন্দ্রিয় আর মন। আগে মাধব প্রতিষ্ঠা—তারপর ইচ্ছা হয় বক্তৃতা লেকচার দাও! আগে ডুব দাও। ডুব দিয়ে রত্ন তোল, তারপর অন্য কাজ। কেহ ডুব দিতে চায় না। সাধন নাই, ভজন নাই, বিবেক-বৈরাগ্য নাই, দু-চারটে কথা শিখেই অমনি লেকচার! লোকশিক্ষা দেওয়া কঠিন। ভগবানকে দর্শনের পর যদি কেউ তাঁর আদেশ পায় তাহলে লোকশিক্ষা দিতে পারে।”

    “তত্রৈবং সতি কর্তারমাত্মানং কেবলন্ত যঃ।
    পশ্যত্যকৃতবুদ্ধিত্বাৎ ন স পশ্যতি দুর্মতিঃ।।”

    তিনি নিজে দন্তশূন্য, সাধারণের থেকেও সাধারণ মানুষ ছিলেন। বুঝতেই দিতেন না, তিনি অবতার। দক্ষিণেশ্বরে এসে কেউ ধর্মকথা, তত্ত্বকথা শুনতে চাইলে লহমায় দেখে নিতেন আধারটি কেমন। যেই দেখতেন মতুয়া, অমনি বলতেন : “যাও না যাও, ঐ মন্দিরে মা-ভবতারিণী আছেন, পঞ্চবটী, বেলতলা, গঙ্গা, বিল্ডিং দেখ, সিনারি দেখ।”

    ঠাকুরের পক্ষে সম্ভব ছিল না, টাটে বসে গুরুগিরি করার। তিনি সার জানতেন, ঈশ্বর মন দেখেন। মুখে এক, মনে আরেক, ও চলবে না।

    “লভন্তে ব্রহ্মনির্বাণমূষয়ঃ ক্ষীণকল্মষাঃ।
    ছিন্নদ্বৈধা যতাত্মানঃ সর্বভূতহিতে রতাঃ।।
    কামক্রোধবিযুক্তানাং যতীনাং যতচেতসাম্।
    অভিতো ব্রহ্মনির্বাণং বর্ততে বিদিতাত্মনাম্।।”

    তাঁর কাছে অনেকে এসেছেন, একবার, দুবার, বহুবার দর্শন হয়েছে, শ্রবণ হয়েছে। এঁদের মধ্যে মাত্র কয়েকজনই ‘ইনার-অর্ডার’-এ স্থান পেয়েছিলেন। মায়ের পায়ে দেবার জন্যে বেছে বেছে তুলে নিয়েছিলেন মাত্র কয়েকজনকে। তাঁদের তিন টানকে এক টান করে দিয়েছিলেন। ঠাকুর বলতেন : “তিন টান একত্র হলে তবে তিনি দেখা দেন—বিষয়ীর বিষয়ের ওপর, মায়ের সন্তানের ওপর আর সতীর পতির ওপর টান। এই তিন টান যদি কারো একসঙ্গে হয়, সেই টানের জোরে ঈশ্বরকে লাভ করতে পারে।”

    ঠাকুর যাঁদের তুলে নিয়েছিলেন, তাঁদের তিনটান এক হয়ে শ্রীরামকৃষ্ণের দিকেই ধাবিত হয়েছিল।

    “তেজস্তরন্তি তরসা ত্বয়ি তৃপ্ততৃষ্ণাঃ
    রাগে কৃতে ঋতপথে তুয়ি রামকৃষ্ণে।
    মর্ত্যামৃতং তব পদং মরণোর্মিনাশং
    তস্মাত্ত্বমেব শরণং মম দীনবন্ধো!”

    ঠাকুর একদিন শ্রীমকে বলেছিলেন : “দেখ, চাষারা হাটে গরু কিনতে যায়; তারা ভাল গরু, মন্দ গরু বেশ চেনে। লেজের নিচে হাত দিয়ে দেখে। কোন গরু লেজে হাত দিলে শুয়ে পড়ে, সে গরু কেনে না। যে গরু ল্যাজে হাত দিলে তিড়িং-মিড়িং করে লাফিয়ে উঠে সেই গরুকেই পছন্দ করে। নরেন্দ্র সেই গরুর জাত; ভিতরে খুব তেজ।” ঠাকুর হাসছেন আর বলছেন : “আবার কেউ কেউ লোক আছে, যেন চিঁড়ের ফলার, আঁট নাই, জোর নাই, ভ্যাৎ ভ্যাৎ করছে।”

    ঠাকুরের ভাব আর স্বামীজীর তেজ দুয়ে মিলে সারা বিশ্বে যে ভাবান্দোলন হয়ে গেল তার কি কোন তুলনা আছে? অবতার পুরুষরা এইভাবেই একটা প্লাবন সৃষ্টি করে দিয়ে যান। গৌতম বুদ্ধ করেছিলেন। শ্রীচৈতন্য করেছিলেন। করেছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ

    “অযুত কণ্ঠে বন্দনা-গীতি ভুবন ভরিয়া উঠিছে,
    (তব) অমিয় বারতা দেশ দেশান্তরে
    হৃদয়ে হৃদয়ে পশিছে।”

    গীতায় ভগবান বলছেন :

    “নাসতো বিদ্যতে ভাবো নাভাবো বিদ্যতে সতঃ।
    উভয়োরপি দৃষ্টোহন্তস্ত্বনয়োস্তত্ত্বদশিভিঃ।।”

    শ্রীরামকৃষ্ণ এই সত্যেই স্থিত হয়েছিলেন—

    “যা নাই—তা হতে কিছু হয় না প্রকাশ
    থাকে যদি—কিছুতেই নাই তার নাশ।”

    তিনি ছিলেন। তিনি আছেন। তিনি সত্য অবিনাশী। ঠাকুরের সার কথা ছিল, ঈশ্বরের জন্যে ব্যাকুলতা। “এই ব্যাকুলতা। যে পথেই যাও, হিন্দু, মুসলমান, খ্রীস্টান, শাক্ত, ব্রহ্মজ্ঞানী—যে পথেই যাও, ঐ ব্যাকুলতা নিয়েই কথা। তিনি তো অন্তর্যামী, ভুল পথে গিয়ে পড়লেও দোষ নাই—যদি ব্যাকুলতা থাকে। তিনি আবার ভাল পথে তুলে লন। আর সব পথেই ভুল আছে। সব্বাই মনে করে আমার ঘড়ি ঠিক যাচ্ছে, কিন্তু কারো ঘড়ি ঠিক যায় না। তা বলে কারু কাজ আটকায় না। ব্যাকুলতা থাকলে সাধুসঙ্গ জুটে যায়, সাধুসঙ্গে নিজের ঘড়ি অনেকটা ঠিক করে লওয়া যায়।”

    ঠাকুর বড় আয়োজন করে দেহধারণ করেছিলেন। ঠাকুরের কথায় : “মা, আমি কি যেতে পারি! গেলে কার সঙ্গে কথা কব? মা, কামিনী-কাঞ্চনত্যাগী শুদ্ধ ভক্ত না পেলে কেমন করে পৃথিবীতে থাকব!

    একান্তে দক্ষিণেশ্বরে নরেন্দ্রের সঙ্গে ঠাকুরের এইসব কথা হয়েছিল। এরপর শ্রীরামকৃষ্ণ নরেন্দ্রকে বলছেন : “তুই রাত্রে এসে আমায় তুললি, আর আমায় বললি, ‘আমি এসেছি।”

    শ্রীরামকৃষ্ণ স্বামীজীকে তকমা দিয়ে গিয়েছিলেন। শ্রীমকে একদিন একখানা কাগজে লিখে বলেছিলেন : “নরেন শিক্ষে দিবে।

    নরেন্দ্র পরে শুনে ঠাকুরকে বলেছিলেন : “আমি ওসব পারব না। “ ঠাকুর বলেছিলেন : “তোর হাড় করবে।”

    তিরোধানের পর সন্তানেরা যে একটু বিপদে পড়বে ঠাকুর মানসচক্ষে তা দেখেছিলেন। দেখে শ্রীমকে একদিন বলেছিলেন : “তোমরা রাস্তায় কেঁদে কেঁদে বেড়াবে, তাই শরীর ত্যাগ করতে একটু কষ্ট হচ্ছে।”

    তিরোধানের অব্যবহিত পরের অবস্থা শ্রীম লিখে গেছেন। নরেন্দ্রনাথ তখনো বিশ্বজয়ী হননি। বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলায় দুলছেন। গুরুভ্রাতাদের দায়িত্ব নিয়ে কখনো বরানগর মঠে, কখনো কলকাতায়। অর্থকষ্ট, নানা সংশয়। ঠাকুরের অনন্ত পরীক্ষা চলেছে। “তুই পারবি না, তোর হাড় পারবে।”

    “যোগ-ভোগ, গার্হস্থ্য-সন্ন্যাস, জপ-তপ, ধন-উপার্জন,
    ব্ৰত ত্যাগ তপস্যা কঠোর, সব মর্ম দেখেছি এবার;
    জেনেছি সুখের নাহি লেশ, শরীরধারণ বিড়ম্বন;
    যত উচ্চ তোমার হৃদয়, তত দুঃখ জানিই নিশ্চয়!”

    শ্রীম লিখছেন : “দু-তিন জনের ফিরিয়া যাইবার বাড়ি ছিল না। সুরেন্দ্র তাঁহাদের বলিলেন, ‘ভাই তোমরা আর কোথা যাবে; একটা বাসা করা যাক। তোমরাও থাকবে আর আমাদেরও জুড়াবার একটা স্থান চাই। তা নাহলে সংসারে এরকম করে রাতদিন কেমন করে থাকব। সেইখানে তোমরা গিয়ে থাক। আমি কাশীপুরের বাগানে ঠাকুরের সেবার জন্য যৎকিঞ্চিৎ দিতাম। এক্ষণে তাহাতে বাসা খরচা চলিবে।’ সুরেন্দ্র প্রথম প্রথম দুই-এক মাস টাকা ত্রিশ করে দিতেন। ক্রমে যেমন মঠে অন্যান্য ভাইরা যোগ দিতে লাগলেন, পঞ্চাশ, ষাট করিয়া দিতে লাগিলেন। শেষে ১০০ টাকা পর্যন্ত দিতেন। বরানগরে যে বাড়ি লওয়া হইল, তাহার ভাড়া ও ট্যাক্স ১১ টাকা। পাচক ব্রাহ্মণের মাহিনা ৬ টাকা আর বাকি ডালভাতের খরচ।”

    শ্রীরামকৃষ্ণ অর্ডারের এই শুরু। শ্রীম লিখছেন : “ধন্য সুরেন্দ্র! এই প্রথম মঠ তোমারি হাতে গড়া। তোমার সাধু ইচ্ছায় এই আশ্রম হইল। তোমাকে যন্ত্রস্বরূপ করিয়া ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁহার মূলমন্ত্র কামিনী-কাঞ্চনত্যাগ মূর্তিমান করিলেন। কৌমার-বৈরাগ্যবান শুদ্ধাত্মা নরেন্দ্রাদি ভক্তের দ্বারা আবার সনাতন হিন্দুধর্মকে জীবের সম্মুখে প্রকাশ করিলেন। ভাই, তোমার ঋণ কে ভুলিবে? মঠের ভাইরা মাতৃহীন বালকের ন্যায় থাকিতেন—তোমার অপেক্ষা করিতেন, তুমি কখন আসিবে। আজ বাড়িভাড়া দিতে সব টাকা গিয়াছে—আজ খাবার কিছু নাই—কখন তুমি আসিবে—আসিয়া ভাইদের খাবার বন্দোবস্ত করিয়া দিবে! তোমার অকৃত্রিম স্নেহ স্মরণ করিলে কে না অশ্রুবারি বিসর্জন করিবে!”

    রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দলীলা পাঠকের সামনে ঠাকুরের তিরোধান আর নরেন্দ্রের স্বামী বিবেকানন্দ হবার মাঝখানের কয়েকটি বছর যেন শূন্যতায় ভরা। শ্রীম প্রথম দিকের সংগ্রামের চিত্র যখন যেমন সুবিধে কথামৃতের পরিশিষ্টাংশে লিপিবদ্ধ করেছেন ঠিকই, তবে বেশ বোঝা যায় প্রাণপুরুষের প্রয়াণে তিনিও ধীরে ধীরে অন্তর্মুখী হয়ে আসছেন। অন্তরে তাঁকে আসন দিয়ে মগ্ন হয়ে পড়েছেন। তখন তাঁর ভাব—” you must find your rest in the Lord, for He is the eternal rest of the Saints.”

    যাঁর কাজ তিনি ঠিকই করিয়ে নেন। অল্প ব্যবধান, তারপরেই অনবদ্য আরেকটি লীলাকাহিনী—’স্বামি-শিষ্য-সংবাদ’। লিপিকার আরেক গৃহী-সাধক, শ্রীযুক্ত শরচ্চন্দ্র চক্রবর্তী। ঠাকুর কৃপা করেছিলেন শ্রীমকে। স্বামীজী কৃপা করলেন শরচ্চন্দ্রকে। শ্রীমর প্রথম দর্শনের কাহিনী বড় অপূর্ব। ‘বসন্তকাল, ইংরেজী ১৮৮২ খ্রীস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাস।

    “মাস্টার সিধু [ বরানগরের সিদ্ধেশ্বর মজুমদার]-র সঙ্গে বরানগরের এ বাগানে ও বাগানে বেড়াইতে বেড়াইতে এখানে [দক্ষিণেশ্বরে] আসিয়া পড়িয়াছেন।”

    শ্রীম অবাক হয়ে দেখছেন, এক ঘর লোক সম্পূর্ণ নিস্তব্ধ। তাঁরা ঠাকুরের কথামৃত পান করছেন। “ঠাকুর তক্তপোশে বসিয়া পূর্বাস্য হইয়া সহাস্য বদনে হরিকথা কহিতেছেন।”

    দ্বিতীয় দর্শনে, ঠাকুরের ঘর বন্ধ ছিল। রাস্তায় দাঁড়িয়ে বৃন্দে।

    শ্রীম প্রশ্ন করলেন : “হাঁগা, সাধুটি কি এখন এর ভিতর আছেন?“

    বৃন্দে : “হাঁ, এই ঘরের ভিতর আছেন।”

    মাস্টার : “ইনি এখানে কতদিন আছেন?”

    বৃন্দে : “তা অনেকদিন আছেন।”

    মাস্টার : “আচ্ছা, ইনি কি খুব বই-টই পড়েন?“

    বৃন্দে : “আরে বাবা বই-টই! সব ওঁর মুখে!“

    ১৮৮২ আর ১৮৯৭, পনের বছরের ব্যবধান। স্থান নির্জন, নিরালা দক্ষিণেশ্বর নয়, খাস কলকাতা। বাগবাজারে প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়ের ঘর। আর সেই বসন্তকাল। ফেব্রুয়ারি মাস। নরেন্দ্রনাথ স্বামী বিবেকানন্দ। বিলেত থেকে সবে কয়েকদিন হলো ফিরেছেন। প্রিয়নাথবাবুর বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজের নিমন্ত্রণ। স্বামী তুরীয়ানন্দ শরচ্চন্দ্রকে স্বামীজীর সামনে উপস্থিত করলেন। শরচ্চন্দ্র স্বামীজীর সেই দিব্যকান্তির কোন বর্ণনা দেননি। ঠাকুর যাঁকে বলতেন, “নরেনের অখণ্ডের ঘর।”

    স্বামীজী ছিলেন ‘অল ফোর্স’, দীপ্ত অগ্নিশিখা। সংস্কৃতে সম্ভাষণ করলেন। সাধু নাগমহাশয়ের কুশলাদি জিজ্ঞেস করলেন। স্বামীজী কিষ্ট-ফিষ্টর চেয়ে প্রকৃত মানুষ চাইতেন। কামিনী-কাঞ্চনত্যাগী, সবিবেক কর্মী। শিষ্যকে বললেন :

    “মা ভৈষ্ট বিদ্বংস্তব নাস্ত্যপায়ঃ
    সংসারসিন্ধোস্তরণেহস্ত্যপায়ঃ
    যেনৈব যাতা যতয়োঽস্য পারং
    তমেব মার্গং তব নিৰ্দিশামি।।”

    —হে বিদ্বন! ভয় পেও না, তোমার বিনাশ নেই, সংসার-সাগর পার হবার উপায় আছে। যে পথ অবলম্বন করে শুদ্ধসত্ত্ব যোগী এই সংসার-সাগর পার হয়েছেন সেই পথের নির্দেশ তোমায় আমি দিচ্ছি।

    ঠাকুর শ্রীমকে অন্যভাবে বলেছিলেন, অনেক নরম করে সহজ করে। প্রথমে জিজ্ঞেস করেছিলেন, বিয়ে করেছিস? শ্রীম যেই বললেন, হ্যাঁ, ঠাকুর হতাশ হয়ে বললেন, যাঃ। প্রথম ধাক্কা। ছেলে হয়েছে শুনে, দ্বিতীয় ধাক্কা। শ্রীম বুঝতে পারছেন, ধীরে ধীরে ঠাকুর তাঁর অহঙ্কার চূর্ণ করে দিচ্ছেন। শেষ পথও বাতলে দিলেন কৃপা করে—”তেল হাতে মেখে তবে কাঁঠাল ভাঙতে হয়। তা নাহলে হাতে আঠা জড়িয়ে যায়। ঈশ্বরে ভক্তিরূপ তেল লাভ করে তবে সংসারের কাজে হাত দিতে হয়।”

    স্বামীজী শরচ্চন্দ্রকে শঙ্করাচার্যের ‘বিবেকচূড়ামণি’ পাঠ করতে বললেন। দেখিয়ে দিলেন বেদান্তের পথ। ঠাকুর বলতেন রসেবশে, স্বামীজী বলতেন, “আমাদের ভিতর অনন্ত শক্তি, অপার জ্ঞান, অদম্য উৎসাহ।” আর “চেতনের লক্ষণ কি?” “প্রকৃতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ।” “যেখানে struggle, যেখানে rebellion, সেখানেই জীবনের চিহ্ন, সেখানেই চৈতন্যের বিকাশ।” রস বশ নয়। একেবারে বিদ্রোহ।

    স্বামীজী শিষ্যকে বললেন : “সকলকে গিয়ে বল——ওঠ, জাগো, আর ঘুমিও না; সকল অভাব, সকল দুঃখ ঘুচাবার শক্তি তোমাদের নিজের ভিতর রয়েছে, একথা বিশ্বাস কর, তাহলেই ঐ শক্তি জেগে উঠবে। ঐকথা সকলকে বল্ এবং সেইসঙ্গে সাদা কথায় বিজ্ঞান, দর্শন, ভূগোল ও ইতিহাসের মূল কথাগুলি mass-এর ভিতর ছড়িয়ে দে। আমি অবিবাহিত যুবকদের নিয়ে একটি Centre তৈয়ার করব—প্রথম তাদের শেখাব, তারপর তাদের দিয়ে এই কাজ করাব, মতলব করেছি।’

    দক্ষিণেশ্বরে মা-ভবতারিণী, ধূপ, ধুনো, আরতি, ধ্যান, প্রাণায়াম। প্রাণপুরুষ ঠাকুর মিত্যধামে। সময় এগিয়ে গেছে পনের বছর। স্বামীজী পাশ্চাত্য কাঁপিয়ে এসেছেন। মেটিরিয়ালিস্টদের কাছে চাইতে যাননি, দিতে গিয়েছিলেন— বেদান্তধর্ম।

    “আমাদের দেশে আছে মাত্র এই বেদান্তধর্ম। পাশ্চাত্য সভ্যতার তুলনায় আমাদের এখন আর কিছু নেই বললেই হয়।” স্বামীজী ‘মিরর’ পত্রিকার সম্পাদককে বলছেন : “ধর্মের চর্চায় ও বেদান্তধর্মের বহুল প্রচারে এদেশ ও পাশ্চাত্যদেশ—উভয়েরই বিশেষ লাভ। রাজনীতিচর্চা এর তুলনায় আমার কাছে গৌণ উপায় বলে বোধ হয়।”

    দক্ষিণেশ্বর ছেড়ে ঠাকুর বেরিয়ে এসেছেন বিশ্বমঞ্চে। একদিকে ভোগবাদী পাশ্চাত্য, আরেক দিকে দরিদ্র প্রাচ্য। মাঝখানে প্রকৃত সাম্যকার বিবেকানন্দ। ক্লাসকে নয় জাগাতে চাইছেন মাসকে। মঠ তখনো বেলুড়ে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মঠ আলমবাজারের ভাড়াবাড়িতে। স্বামীজী কখনো বাগবাজারে, কখনো আলমবাজারে, কখনো কাশীপুরে। যখন যেখানে, সেইখানেই ভক্ত ও বিদ্বজ্জন সমাগম। কেউ আসছেন বিশ্বমানবকে চোখের দেখা দেখতে। কেউ আসছেন প্রাণের টানে পথের সন্ধান পেতে।

    যিনি যেভাবেই আসুন, বৈদান্তিক, কর্মযোগী, তেজোময় স্বামীজীকে ঘিরে দক্ষিণেশ্বরের মতো শান্ত, একান্ত লীলা জমছে না। জমতে পারে না। কারণ, “বহুরূপে সম্মুখে তোমা ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর।” মন্দিরে, মসজিদে নয়, কণ্ঠের প্রাণায়াম, ধ্যান জপে নয়, পথ অন্য, কর্ম অন্য।

    “একটি জীবের মধ্যে ব্রহ্মবিকাশ হলে হাজার হাজার লোক সেই আলোকে পথ পেয়ে অগ্রসর হয়। ব্রহ্মজ্ঞ পুরুষেরাই একমাত্র লোকগুরু। একথা সর্বশাস্ত্র ও যুক্তি দ্বারা সমর্থিত হয়। অবৈদিক, অশাস্ত্রীয় কুলগুরুপ্রথা স্বার্থপর ব্রাহ্মণেরাই এদেশে প্রচলন করেছে। সেসব সাধন করেও লোক এখন সিদ্ধ বা ব্রহ্মজ্ঞ হতে পাচ্ছে না। ধর্মের এসকল গ্লানি দূর করতেই ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ শরীর ধারণ করে বর্তমান যুগে জগতে অবতীর্ণ হয়েছেন। তাঁর প্রদর্শিত সার্বভৌম মত জগতে প্রচারিত হলে জগতের এবং জীবের মঙ্গল হবে।”

    স্বামীজীর পরিকল্পনা “মাদ্রাজ ও কলিকাতায় দুইটি কেন্দ্র করে সর্ববিধ লোক-কল্যাণের জন্য নতুন ধরনের সাধু-সন্ন্যাসী তৈরি করতে হবে।”

    স্বামীজী মা-ভবতারিণীর কাছে ঐহিক কিছু প্রার্থনা করতে পারেননি। চেয়েছিলেন শুদ্ধাভক্তি, বিবেক বৈরাগ্য। ১৮৯৭ খ্রীস্টাব্দের মার্চ মাসে গোপাললাল শীলের বাগানে বসে শিষ্যকে বললেন : “তুই কি বলছিস? মানুষেই তো টাকা করে। টাকায় মানুষ করে, একথা কবে কোথায় শুনেছিস? তুই যদি মন মুখ এক করতে পারিস, কথায় ও কাজে এক হতে পারিস তো জলের মতো টাকা আপনা-আপনি তোর পায়ে এসে পড়বে।

    মা কালীকে তিনি আবাহন করেছিলেন, রক্ষাকারিণী শ্যামা হিসেবে নয়।

    “করালি! করাল তোর নাম, মৃত্যু তোর নিঃশ্বাসে প্রশ্বাসে,
    তোর ভীম চরণ-নিক্ষেপ প্রতিপদে ব্রহ্মাণ্ড বিনাশে!
    কালি, তুই প্রলয়রূপিণী, আয় মাগো আয় মোর পাশে।
    সাহসে যে দুঃখ-দৈন্য চায়, মৃত্যুরে যে বাঁধে বাহুপাশে,
    কাল-নৃত্য করে উপভোগ, মাতৃরূপা তারি কাছে আসে।”

    ঠাকুর আর স্বামীজীতে এই তফাত। গৃহী, জ্ঞানী, ভোগী, ত্যাগী—সকলকে নিয়েই ছিল ঠাকুরের মহতী পরিবার। তাঁর দৃষ্টি সকলের উপরেই ছিল। তিনি ছিলেন—ভবরোগবৈদ্যম্। তিনি বলতেন : “মা রাঁধেন ছেলেদের পেট বুঝে। একই মাছ কাউকে দিচ্ছেন ভাজা, কোন ছেলেকে ঝোল, কোন ছেলেকে ঝাল।” ঠাকুর কোন প্রার্থীকে বললেন : “কামিনী-কাঞ্চন ত্যাগ। বৈরাগ্য। তিনটান এক কর। সংসারে থাক দাসীর মতো।” কাউকে বললেন : “না হয় স্বদারা সহবাস হলো। দিনান্তে না হয় একবারই তাঁর নাম নিলে। শিবের সংসার কর। আর সত্ত্ব গুণের সাধনা চালা। মা, তুমি আছ, আর আমি আছি। বিষয়ীর সঙ্গ বেশি করিসনি। আঁশটে গন্ধ সংসারী নাই বা হলি। অহঙ্কার বিসর্জন দে। তুহুঁ তুহুঁ-তেই হাম্বার মুক্তি। রাজার ছেলের মাসোহারার অভাব হয় না।” ঠাকুরের সবকিছুর মধ্যে একটা Personal সম্পর্ক ছিল। তাঁর কথামতো তিনি ছিলেন ধর্মবৈদ্য। রোগীকে ওষুধ দিতেন না, খাইয়ে তার পাশে বসে থাকতেন, সেবা করতেন। শ্রীমকে প্রথম সাক্ষাতেই বলেছিলেন : “একটু বেশি বেশি এখানে আসবে। কাজলের ঘরে থাকলে গায়ে কালি লাগবেই

    স্বামীজী ছিলেন Wide, ব্যাপক। তাঁর সব পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল Mass. একজন নয়, বহুজন। বহুজনহিতায়। ঠাকুর তাঁকে বলেছিলেন : “তুই নিজের মোক্ষ চাইছিস? তুই স্বার্থপর হবি কেন? তুই হবি বিশাল বটবৃক্ষের মতো। তোর ছায়ায় এসে কত মানুষ বসবে।

    শরচ্চন্দ্র সেই স্বামী বিবেকানন্দকে পেয়েছিলেন। প্রদীপ্ত মুখমণ্ডল। অসীম তেজ। শরচ্চন্দ্রকে একদিন বলছেন : “বহুজনহিতায় বহুজনসুখায় সন্ন্যাসীর জন্ম। সন্ন্যাস গ্রহণ করে যে এই ideal ভুলে যায়, ‘বৃথৈব তস্য জীবনম্’। পরের জন্য প্রাণ দিতে, জীবের গগনভেদী ক্রন্দন নিবারণ করতে, বিধবার অশ্রু মুছাতে, পুত্রবিয়োগ-বিধূরার প্রাণে শান্তি দান করতে, অজ্ঞ ইতরসাধারণকে জীবন-সংগ্রামের উপযোগী করতে, শাস্ত্রোপদেশ-বিস্তারের দ্বারা সকলের ঐহিক ও পারমার্থিক মঙ্গল করতে এবং জ্ঞানালোক দিয়ে সকলের মধ্যে প্রসুপ্ত ব্রহ্ম- সিংহকে জাগরিত করতে জগতে সন্ন্যাসীর জন্ম হয়েছে।”

    “‘আত্মনো মোক্ষার্থং জগদ্ধিতায় চ’ আমাদের জন্ম; কি করছিস সব বসে বসে? ওঠ—জাগ, নিজে জেগে অপর সকলকে জাগ্রত কর, নরজন্ম সার্থক করে চলে যা। ‘উত্তিষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বরান্ নিবোধত’।”

    ‘স্বামি-শিষ্য-সংবাদ’ একটি প্রজ্বলিত হোমকুণ্ড। বিবেকানন্দ অগ্নি, রামকৃষ্ণ দ্যুতি। প্রায় পাঁচটি বছরের একটি দিনলিপি। স্বামীজী বলতেন : “Practical Religion.” শিষ্যকে একদিন বলছেন—মঠ প্রতিষ্ঠার পুণ্য দিনে। বহু পরিকল্পনা তাঁর। একটা International Religious Centre হবে। শিষ্য বললেনঃ “মহাশয়, আপনার এ অদ্ভুত কল্পনা।” স্বামীজী বললেন : “কল্পনা কিরে? সময়ে সব হবে। আমি তো পত্তনমাত্র করে দিচ্ছি—এরপর আরো কত কি হবে! আমি কতক করে যাব। আর তোদের ভিতর নানা idea দিয়ে যাব। তোরা পরে সেসব workout করবি। বড় বড় Principle কেবল শুনলে কি হবে? সেগুলিকে practical field-এ দাঁড় করাতে-প্রতিনিয়ত কাজে লাগাতে হবে। শাস্ত্রের লম্বা লম্বা কথাগুলি কেবল পড়লে কি হবে? শাস্ত্রের কথাগুলি আগে বুঝতে হবে। তারপর জীবনে সেগুলিকে ফলাতে হবে। বুঝলি? একেই বলে Practical Religion.“

    স্বামীজী তাঁর স্বল্প জীবনকালে ঝটিকার মতো বয়ে গেছেন। স্বদেশ-বিদেশ, বিদেশ-স্বদেশ, পরিব্রাজক সন্ন্যাসী। শরচ্চন্দ্র অসীম নিষ্ঠায়, গুরু-কৃপায় সেই মহাজীবনকে চিরস্পন্দমান করে রেখে গেছেন। অক্লান্ত নদী, সাগর মোহনায় বিশাল হয়েছে, চলার ছন্দে কিছু ক্লান্তি এসেছে। যা চেয়েছেন তা হয়নি। শিষ্যের জীবনের হতাশা কাটাতে প্রয়াণের কয়েকদিন আগে বলছেন : “হবে বৈকি। আকীট-ব্রহ্ম সব কালে মুক্ত হয়ে যাবে—আর তুই হবিনি! ওসব weakness মনেও স্থান দিবিনি। শ্রদ্ধাবান হ, বীর্যবান হ, আত্মজ্ঞান লাভ কর, আর ‘পরহিতায়’ জীবনপাত কর—এই আমার ইচ্ছা ও আশীর্বাদ।”

    শিষ্য শরচ্চন্দ্র জানতেন না গুরুর সঙ্গে এই হবে তাঁর শেষ কথা। স্বামীজী বলছেন : “আগামী রবিবার আসবি তো?”

    শিষ্য বললেন : “নিশ্চয়।”

    স্বামীজী : “তবে আয়; ঐ একখানি চলতি নৌকাও আসছে। রবিবারে আসিস।” শরচ্চন্দ্র নৌকা ধরার জন্যে ছুটছেন। স্বামী সারদানন্দ বলছেন : “ওরে কলার দুটো নিয়ে যা। নইলে স্বামীজীর বকুনি খেতে হবে।” শিষ্য বললেন : “আজ বড়ই তাড়াতাড়ি, আরেক দিন লইয়া যাইব—আপনি স্বামীজীকে এইকথা বলিবেন।”

    ‘স্বামি-শিষ্য-সংবাদ’ শেষ হচ্ছে এইভাবে—”চলতি নৌকার মাঝি ডাকাডাকি করিতেছে সুতরাং শিষ্য ঐ কথাগুলি বলিতে বলিতেই নৌকায় উঠিবার জন্য ছুটিল। শিষ্য নৌকায় উঠিয়াই দেখিতে পাইল, স্বামীজী উপরের বারান্দায় পায়চারি করিতেছেন। সে তাঁহার উদ্দেশ্যে প্রণাম করিয়া নৌকার ভিতরে প্রবেশ করিল। নৌকা ভাটার টানে আধঘণ্টার মধ্যেই আহিরিটোলার ঘাটে পঁহুছিল।”

    নদীর টান। আর সময়ের টানে আমরা ১৯০২ থেকে চলে এসেছি ২০০০ খ্রীস্টাব্দে। জীবনের দুই সঙ্গী—’কথামৃত’ আর ‘স্বামি-শিষ্য-সংবাদ’। ঐহিক কিছু সঙ্গে যাবে না। কি হলো আর কি হলো না, সে বিচারেও কাজ নেই। পরমপ্রাপ্তি হলো কৃপা। স্বামীজীর সেই কথা—

    “তাঁর কৃপা যারা পেয়েছে, তাদের মন-বুদ্ধি কিছুতেই আর সংসারে আসক্ত হতে পারে না। কৃপার test কিন্তু হচ্ছে কাম-কাঞ্চনে অনাসক্তি। সেটা যদি কারো না হয়ে থাকে, তবে সে ঠাকুরের কৃপা কখনোই ঠিক ঠিক লাভ করেনি।”

    ‘স্বামি-শিষ্য-সংবাদ’ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই কানে বাজে মঠের প্রার্থনা সঙ্গীত—”খণ্ডন-ভব-বন্ধন জগ-বন্দন বন্দি তোমায়।” যেখানেই থাকি হুহু গঙ্গার বাতাস এসে লাগে গায়ে। আমার নিজের অনুভূতি, ‘কথামৃত’ আর ‘স্বামি-শিষ্য-সংবাদ’–অনুপম, অনাবিল এক জ্যোতির্ময় জগতে প্রবেশের দুই বিশাল স্তম্ভ। ঢুকে যাও, ঢুকে যাও, সব ভুলে যাও। স্বামীজীর আদর্শে দাও নিজেকে নাড়া—সব weakness ঝরে যাক, আর ঠাকুরের আদর্শে বসে পড়– মনে, বনে, কোণে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124 125 126 127 128 129 130 131 132 133 134 135
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article২৫টি দমফাটা হাসি – সম্পাদনা : সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article শ্বেতপাথরের টেবিল – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }