Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পরমপদকমলে – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প809 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    “মন্মনা ভব মদ্ভক্তো” – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    “মন্মনা ভব মদ্ভতো”

    সন্ধ্যা হয়ে আসছে। দিনের পাখি এইবার ডানা মুড়ে রাতের কোলে বসতে চলেছে। গঙ্গার পশ্চিম আকাশে দিনের সাধনার হোমকুণ্ডের নির্বাপিত শেষ আভা। সৌম্য একটি নৌকার মন্থর কালো ছায়া ধীরে ধীরে ভেসে চলেছে উত্তর থেকে দক্ষিণে। সব কোলাহল ক্রমে স্তব্ধ হয়ে আসছে। একটি-দুটি আলোর বিন্দু লাফিয়ে উঠছে এখানে ওখানে। পুবের আকাশে দীপ-হাতে এসেছেন বৃহস্পতি। চিংচিং ছোট ঘণ্টার শব্দ। শিবমন্দিরে মহাদেবের আরতি শুরু হলো। মা ভবতারিণী সন্ধ্যার সাজে সাজছেন। রাসমণির মন্দিরপ্রাঙ্গণে ব্যস্ত কর্মচারিরা সেজ-হাতে আসা-যাওয়া করছেন। ঝাড়ের প্রদীপ একে একে জ্বলছে। দীপমালায় আরতি শুরু হবে ক্ষণপরেই।

    দক্ষিণের বারান্দায় ফরাস আলো জ্বালা শেষ করে পশ্চিমের গোলবারান্দায় আলোটি জ্বেলে দিল। ঠাকুরের ঘরের প্রদীপটি জ্বালা হলো। ধুনুচির টিকেয় ফুঁ পড়ল। আগুনের হাসি। ধুনোর ধোঁয়া ধূমাবতীর এলোচুলের মতো উড়ছে।

    দেওয়ালে দীর্ঘ হয়ে আছে উপবিষ্ট এক মহামানবের ছায়া। সেই ছায়া আজো আছে। যদিও সময় চলে গেছে শতাধিক বর্ষ অতীতে। ছায়ার নশ্বর কায়াটি লীন হয়ে গেছে মহাকালের মহানিলয়ে। তবু ভক্ত যদি ভক্তির ভাবে ধ্যানস্থ হয়ে থাকেন কিছুক্ষণ, ছায়া আবার কায়া হবে। সময় আবার ফিরে আসবে। ফিরে আসবেন সব চরিত্র, ধ্বনি, দীপের আলো, আলুলায়িত ধুনোর ধোঁয়া।

    ঐ তো খাটো ধুতি-পরা ফরাস দক্ষিণের দীর্ঘ সোপানশ্রেণী বেয়ে নেমে চলেছে রাধাগোবিন্দের মন্দিরের দিকে। সেরেস্তার দিক থেকে আসছেন হৃদয়। হাজরামশাই পুজোয় বসেছেন।

    দীপের শিখা মৃদুমৃদু কাঁপছে। আসনে সোনার বরণ এক সাধক। দৃষ্টি অর্ধনিমিলিত, নাসিকাগ্রে নিবিষ্ট। মৃদুস্বরে মায়ের নাম করছেন, মাতৃচিন্তায় বিভোর। অদূরে স্থাণু হয়ে আছেন আরো কয়েকটি মূর্তি—মাস্টারমশাই, প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর আত্মীয় যুবক হরি। একপাশে আমিও নাহয় বসলাম।

    কালের ছবি মহাকালে ভেসে গেলেও মনের ছবির কালাকাল নেই।

    ঠাকুর এই মুহূর্তেই মুখ তুলে তাকালেন। আলো দেখলেন। অনুমান করে নিলেন, ভবতারিণীর মন্দিরে আরতির এখনো কিছু বিলম্ব আছে। ভক্তদের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন। আমার মনে হচ্ছে, আসনে বসে আছেন শীতল এক মহাদেব। মাস্টারমশাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন : “যে নিশিদিন তাঁর চিন্তা করছে, তার সন্ধ্যার কি দরকার!”

    বাতাসে যেন বাঁশির সুর-

    “ত্রিসন্ধ্যা যে বলে কালী, পূজা-সন্ধ্যা সে কি চায়।
    সন্ধ্যা তার সন্ধানে ফেরে, কভু সন্ধি নাহি পায়।।
    দয়া ব্রত, দান আদি আর কিছু না মনে লয়।
    মদনেরই যাগযজ্ঞ ব্রহ্মময়ীর রাঙা পায়।।”

    সেই সঙ্গীতে ধুনোর ধোঁয়া পর্যন্ত থমকে গেছে। গঙ্গার অবিরল স্রোতোধারা সেই সঙ্গীতে নিস্তরঙ্গ হয়েছে। গান শেষ করে অল্পক্ষণ ভাবস্থ রইলেন ঠাকুর। ঘর এতটাই নিস্তব্ধ যে, গঙ্গার স্রোতোধারার শব্দ কানে আসছে। কানে আসছে ধুনুচিতে টিকে পোড়ার পুটপুট শব্দ। বাতাসে আগুনের আভা বাড়ছে কমছে। ঘরে যাঁরা বসে আছেন তাঁরা যেন ভাবসমুদ্রের গভীরে ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছেন। ঠাকুর বলছেন : “সন্ধ্যা গায়ত্রীতে লয় হয়, গায়ত্রী ওঁকারে লয় হয়।”

    উত্তরণের কথা, সাধকের ক্রমপ্রবেশের কথা। এগিয়ে যাও কাঠুরে। প্রয়াস। একটি আরেকটিতে মিশে যাবে। সন্ধ্যা নিয়ে এগোও, গায়ত্রীকে পাবে। তিনি হাত ধরে ওঁকারে তুলে দেবেন।

    ঠাকুর পরক্ষণেই বলছেন : “একবার ওঁ বললে যখন সমাধি হয়, তখন পাকা।”[১]

    [১. কথামৃত, উদ্বোধন সং, ১৯৮৬, পৃঃ ৭২৫]

    নিমেষে এঘর থেকে ওঘর। প্রণবের এক ঝঙ্কারে আরোহণ। তখন পথ খুলে গেছে। সংসারের অভ্যাসে মরচে-ধরা তালায় তেল পড়েছে। অবিচ্ছিন্ন তৈলধারার মতো ধ্যানে, নিবাত নিষ্কম্প দীপশিখার মতো অচঞ্চল মনে একটিমাত্র অনুরণনে মহাসংযোগ।

    এ তো মুণ্ডক উপনিষদ্-এর তত্ত্ব। একালের উন্নাসিক বুদ্ধিজীবীরা ঠাকুর সম্পর্কে কোন প্রসঙ্গ করার সময় অবশ্যই একটি গৌরচন্দ্রিকা করবেন— ‘কামারপুকুরের সেই নিরক্ষর ব্রাহ্মণ’, যা শুনলে গাত্রদাহ হয়। ঠাকুর কি জ্ঞানী? জ্ঞান তো অতি নিচের তলার অবস্থা। ঠাকুর যে বিজ্ঞানী। টমাস আ কেম্পিস তাঁর ‘দ্য ইমিটেশন অফ ক্রাইস্ট’-এ সারকথাটি বলেছেন, যা আমাদের ঠাকুর সম্পর্কে প্রযোজ্য—”How happy a man is when the Truth teaches him directly, not through symbols and words that are soon forgotten, but by contact with itself.” কেম্পিস আরো বলছেন : “As a man grows in inward unity and simplicity, he finds that more and more deep truths are made plain to him without any effort, because a heaven-sent light brings him understanding.”

    কলেজে পড়া বিপুল শিক্ষিতদের বৃথা অহঙ্কার ঠাকুর নিমেষে চূর্ণ করে দিতেন তাদের মঙ্গলের জন্যই। শ্রীম-র কলেজী জ্ঞানের অহঙ্কার দর্শনের দ্বিতীয় দিনেই চুরমার করে দিয়েছিলেন। প্রশ্ন করলেন : “তোমার পরিবার কেমন? বিদ্যাশক্তি না অবিদ্যাশক্তি?”

    মাস্টারমশাই বললেন : “আজ্ঞা ভাল, কিন্তু অজ্ঞান।

    ঠাকুর অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে বললেন : “আর তুমি জ্ঞানী?”

    মাস্টারমশাই ধন্দে পড়ে গেলেন—”তিনি (নিজে) জ্ঞান কাহাকে বলে, অজ্ঞান কাহাকে বলে, এখনো জানেন না। এখনো পর্যন্ত জানিতেন যে, লেখাপড়া শিখিলে ও বই পড়িতে পারিলে জ্ঞান হয়। এই ভ্রম পরে দূর হইয়াছিল। তখন শুনিলেন যে, ঈশ্বরকে জানার নাম জ্ঞান, ঈশ্বরকে না জানার নামই অজ্ঞান। ঠাকুর বলিলেন, ‘তুমি কি জ্ঞানী!’ মাস্টারের অহঙ্কারে আবার আঘাত লাগিল।”

    এই যে সত্য, যার অপর নাম বিশেষ জ্ঞান, তা যুগে যুগে সব দেশের সব মানুষের কাছেই সত্য। সূর্য স্পেনেও সূর্য, ঘুঘুডাঙাতেও সূর্য! দ্যাট ওয়ান ওয়ার্ড—ওঁ! কেম্পিস তা নাহলে কেমন করে ঠাকুরের কথারই প্রতিধ্বনি করেন : “If the eternal Word speaks to a man he is delivered from many conjectures. That one Word is the source of all things and all things speak of that Word. That Word is the Beginning, and that Word speaks to us.”

    ঠাকুর বসে আছেন তাঁর ছোট্ট তক্তপোশে। ভক্তদের বোঝাচ্ছেন : “সন্ধ্যা গায়ত্রীতে লয় হয়, গায়ত্রী ওঁকারে লয় হয়।”

    এ তো সেই উপনিষদের দর্শন, অনুভূতি, সত্য, পথ, লয়, বিলয়—

    “প্রণবো ধনুঃ শরো হ্যাত্মা ব্রহ্ম তল্লক্ষ্যমুচ্যতে।
    অপ্রমত্তেন বেদ্ধব্যং শরবত্তন্ময়ো ভবেৎ।।” (মুণ্ডক উপনিষদ্, ২।214) —ওঙ্কারই ধনু, জীবাত্মাই বাণ এবং ব্রহ্ম উক্ত বাণের লক্ষ্য। অপ্রমত্ত হয়ে সেই লক্ষ্যকে ভেদ করতে হবে। লক্ষ্যভেদের পর শরের মতোই তন্ময় হবে অর্থাৎ ব্রহ্মের সঙ্গে একীভূত হবে। ব্রহ্মের অনুভূতি, ব্রাহ্মীস্থিতি হলে কি হবে! দুটো শিং বেরবে কি! না। দুটো নতুন চোখ হবে—প্রেমের চোখ, একটা নতুন হৃদয় হবে—প্রেমের হৃদয়, একটা নতুন শরীর হবে—আনন্দের শরীর। বিশ্বের সঙ্গে যোগ হবে। ভেঙে মোর ঘরের চাবি, অনন্ত আমাকে ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে উদার মুক্তিতে। তখন আমি বুঝতে পারব, আনন্দই ব্রহ্ম, ব্ৰহ্মই আনন্দ।

    তখন রবীন্দ্রনাথ—

    “আনন্দধারা বহিছে ভুবনে,
    দিনরজনী কত অমৃতরস উথলি যায় অনন্তগগনে।।”

    ঠাকুর উদাহরণ দিচ্ছেন ভক্তদের : “হৃষীকেশে একজন সাধু সকালবেলায় উঠে ভারী একটা ঝরনা তার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। সমস্ত দিন সেই ঝরনা দেখে আর ঈশ্বরকে বলে—’বাঃ বেশ করেছ! বাঃ বেশ করেছ! কি আশ্চর্য!’ তার অন্য জপতপ নাই। আবার রাত্রি হলে কুটিরে ফিরে যায়।”[২]

    [২. কথামৃত, উদ্বোধন সং, ১৯৮৬, পৃঃ ৭২৫]

    ঠাকুর এইবার উপনিষদের জগৎ থেকে ভক্তির ঘরে ফিরছেন। সেখানে যোগ নেই, আছে ভক্তির অশ্রুজল। তোমাদের একটা কথা বলি : “তিনি নিরাকার কি সাকার সেসব কথা ভাববারই বা কি দরকার? নির্জনে গোপনে ব্যাকুল হয়ে কেঁদে কেঁদে তাঁকে বললেই হয়—হে ঈশ্বর, তুমি যে কেমন, তাই আমায় দেখা দাও!”

    ভক্তি এলে বিশ্বাস আসবে, বিশ্বাস এলে ভক্তি আসবে। এ এক অদ্ভুত বৃত্ত! অতীত থেকে একটি সুন্দর কথা চয়ন করি—”In faith Columbus found a path across untried waters.” কথাটি মার্টিন ফারকুহার টাপারের।

    সেই বিশ্বাসকে আজ সন্ধ্যায় জোরদার করতে চাইছেন ঠাকুর। কারণ, “Faith lights us through the dark to deity.” ঠাকুর বলছেন : “তিনি অন্তরে বাহিরে আছেন।”

    সে কেমন? বাতাসের মতো! নাকি জলে বসানো পাত্রের মতো। বাইরেও জল ভিতরেও জল। ভক্তি ও বেদান্ত মিশিয়ে ঠাকুর অনবদ্য এক ব্যাখ্যা দিচ্ছেন : “অন্তরে তিনিই আছেন। তাই বেদে বলে ‘তত্ত্বমসি’ (সেই তুমি)। আর বাহিরেও তিনি। মায়াতে দেখাচ্ছে, নানা রূপ; কিন্তু বস্তুত তিনিই রয়েছেন।”[৪]

    [৪. কথামৃত, উদ্বোধন সং, ১৯৮৬, পৃঃ ৭২৬]

    কিরকম জান! ঠাকুর তাঁর নিজের জীবনের অভিজ্ঞতার কথা বলছেন :

    “একটি বেদান্তবাদী সাধু এসেছিল। মেঘ দেখে নাচত, ঝড়বৃষ্টিতে খুব আনন্দ। ধ্যানের সময় কেউ কাছে গেলে বড় চটে যেত। আমি একদিন গিছলুম। যাওয়াতে ভারী বিরক্ত। সর্বদাই বিচার করত, ‘ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা’। মায়াতে নানারূপ দেখাচ্ছে, তাই ঝাড়ের কলম লয়ে বেড়াত। ঝাড়ের কলম দিয়ে দেখলে নানা রঙ দেখা যায়—বস্তুত কোন রঙ নাই। তেমনি বস্তুত ব্রহ্ম বই আর কিছু নাই, কিন্তু মায়াতে, অহঙ্কারেতে নানা বস্তু দেখাচ্ছে।”[৫]

    “তাই সব নাম রূপ বর্ণনা করবার আগে, বলতে হয় ওঁ তৎ সৎ।”[৬]

    [৫. ঐ, পৃঃ ৩২৬-৩২৭
    ৬. ঐ, পৃঃ ৭২৬ ৭ ঐ]

    ঠাকুর এইবার কঠিন ছেড়ে সহজে আসছেন। মায়াকে নাহয় সত্যই ধরলাম, কিন্তু সেই মায়া থেকে আমাকে ব্রহ্মে যেতেই হবে। সেইটাই জীবের শেষ আকাঙ্ক্ষা হওয়া উচিত। তা নাহলে আমি মারের পর মার খাব। সংসার আমাকে খাবলে খুবলে শেষ করে দেবে। ঘরে যাঁরা বসে আছেন, সকলেই পড়াশোনা- করা যুবক। ঠাকুর জানেন সে-কথা; আবার এও জানেন, কলকাতার লোক তর্ক করতে ভালবাসে। মৃদু হেসে সকলের দিকে তাকিয়ে বলছেন : “দর্শন করলে একরকম, শাস্ত্র পড়ে আরেক রকম। শাস্ত্রে আভাস মাত্র পাওয়া যায়। তাই কতকগুলো শাস্ত্র পড়বার কোন প্রয়োজন নাই। তার চেয়ে নির্জনে তাঁকে ডাকা ভাল।”

    কি কি চাই! পাহাড়ে উঠতে গেলে সাজসরঞ্জাম চাই। সমুদ্র পাড়ি দিতে হলে জাহাজ চাই। শুধু জাহাজে হবে না, সামুদ্রিক ম্যাপ চাই, কম্পাস চাই। সত্যস্বরূপ ঈশ্বরকে পেতে হলে কিচ্ছু চাই না, চাই ব্যাকুলতা। ব্যাকুলতা না এলে কিছুই হয় না। ব্যাকুলতা আসবে কি করে! সাধুসঙ্গে। সাধুসঙ্গ করতে করতে ঈশ্বরের জন্য প্রাণ ব্যাকুল হয়। যেমন বাড়িতে কারো অসুখ হলে সর্বদাই মন ব্যাকুল হয়ে থাকে—কিসে রোগী ভাল হয়। আবার কারো যদি কর্ম যায়, সে-ব্যক্তি যেমন অফিসে অফিসে ঘুরে বেড়ায়, ব্যাকুল হতে হয়— সেইরূপ। যদি কোন অফিসে বলে—কর্ম খালি নেই, আবার তার পরদিন এসে জিজ্ঞাসা করে—আজ কি কর্ম খালি হয়েছে?

    আরেকটি উপায় আছে-ব্যাকুল হয়ে প্রার্থনা।

    “I do not ask for any crown
    But that which all may win;
    Nor try to conquer any world
    Except the one within.
    Be thy my guide until I find
    Led by a tender hand.
    The happy kingdom in myself
    And dare to take command.” [Louisa May Alcott]

    ডাকতে হবে। আঁকুপাঁকু করে ডাকতে হবে। ভিতরে যেন গামছা নিংড়ায়।

    কী সুন্দরভাবে ঠাকুর বলছেন : “তিনি যে আপনার লোক, তাঁকে বলতে হয়—তুমি কেমন, দেখা দাও। দেখা দিতেই হবে—তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ কেন? শিখরা বলেছিল, ‘ঈশ্বর দয়াময়’; আমি তাঁদের বলেছিলাম, দয়াময় কেন বলব? তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে আমাদের মঙ্গল হয় তা যদি করেন সে কি আর আশ্চর্য! মা-বাপ ছেলেকে পালন করবে, সে আবার দয়া কি? সে তো করতেই হবে, তাই তাঁকে জোর করে প্রার্থনা করতে হয়। তিনি যে আপনার মা, আপনার বাপ! ছেলে যদি খাওয়া ত্যাগ করে, বাপ-মা তিন বৎসর আগেই হিস্যা ফেলে দেয়। আবার যখন ছেলে পয়সা চায়, আর পুনঃপুনঃ বলে, ‘মা, তোর দুটি পায়ে পড়ি, আমাকে দুটি পয়সা দে,’ তখন মা ব্যাজার হয়ে তার ব্যাকুলতা দেখে পয়সা ফেলে দেয়।”[৮]

    [৮. কথামৃত, উদ্বোধন সং, ১৯৮৬, পৃঃ ৩৮]

    তৃতীয় পথ, তৃতীয় অস্ত্র কি? সাধুসঙ্গ। তাঁর দিকে যেতে হলে, তাঁকে পেতে হলে অস্ত্র-শস্ত্র বিশেষ কিছুরই প্রয়োজন নেই; কিন্তু ভয়ঙ্কর তিনটি সূক্ষ্ম অস্ত্রের প্রয়োজন, সেই অস্ত্রের অস্ত্রাগার আমাদের অন্তরেই আছে। প্রকোষ্ঠটির নাম ইচ্ছা। সেই ইচ্ছার লৌহকপাট কে খুলবে! নিজেকেই খুলতে হবে। চাবি যার যার নিজের কাছেই আছে। সমস্যা একটাই, ইচ্ছার দিকে ইচ্ছাই যেতে দেবে না। ইচ্ছাই করবে না ইচ্ছা করতে। পারস্যের সুফি কবি রুমি যা বলেছেন : “You are the unconditioned spirit trapped in conditions, like the Sun in eclipse.”

    কেম্পিস বলছেন : “We must lay the axe to the root of the Tree. So that we may be cleansed from our passions and possess a mind at peace.” তিনি আরো বলছেন : “If we were utterly dead to self, and if our hearts were stripped of encumbrance, then we could get a glimpse of the things of God, and experience something of heavenly contemplation.”

    রাজা যেখানে যায়, রাজছত্রটিও সেখানে যায়। আদর্শ বাইরে না-ই বা রইল, নিজেকে আদর্শ করে তোলাই তো মূলকথা। আমার ছাতার তলায় আমি আছি। কলের মুখে ফিল্টার লাগাই পরিশ্রুত জল পাব বলে। মনেও তেমনি সদসৎ বিচারের ফিল্টার লাগাই। পাব কোথায়? সাধুসঙ্গ।

    ঠাকুর বলছেন : “সাধুসঙ্গ করলে আরেকটি উপকার হয়। সদসৎ বিচার। সৎ—নিত্য পদার্থ অর্থাৎ ঈশ্বর। অসৎ অর্থাৎ অনিত্য। অসৎ পথে মন গেলেই বিচার করতে হয়। হাতি পরের কলাগাছ খেতে শুঁড় বাড়ালে সেইসময় মাহুত ডাঙশ মারে।”

    জেনে রাখ—”তাঁর জগতে সকল রকম আছে। সাধু লোকও তিনি করেছেন, দুষ্ট লোকও তিনি করেছেন, সদ্ধি তিনিই দেন, অসদ্বদ্ধিও তিনিই দেন।”[৯]

    [৯. কথামৃত, উদ্বোধন সং, ১৯৮৬, পৃঃ ৩৮]

    “Help yourself and Heaven will help you.
    Everyone should sweep before his own door.”

    এইবার মা ভবতারিণীর মন্দিরে শুরু হবে আরতি। বাইরে অন্ধকার আরো ঘন হয়েছে। পঞ্চবটী, বেলতলা আঁধারে রহস্যময় হয়েছে। গঙ্গার জল আর দেখা যাচ্ছে না, শুধু স্রোতের শব্দ। দূরে কার উদাত্ত আহ্বান—মা!

    ঠাকুর উঠছেন, উঠতে উঠতে বলছেন : “গীতা সমস্ত না পড়লেও হয়। দশবার গীতা গীতা বললে যা হয় তাই গীতার সার। অর্থাৎ ‘ত্যাগী’। হে জীব, সব ত্যাগ করে ঈশ্বরের আরাধনা কর—এই গীতার সার কথা।[১০]

    [১০. ঐ, পূঃ ৭২৬]

    “মন্মনা ভব মদ্ভক্তো মদ্যাজী মাং নমস্কুরু।
    মামেবৈষ্যসি সত্যং তে প্রতিজানে প্ৰিয়োঽসি মে।।” (গীতা, ১৮।৬৫)

    -–আমাতে হৃদয় অর্পণ কর, আমার ভক্ত হও, আমার পূজনশীল হও, আমাকেই নমস্কার কর। আমি সত্য প্রতিজ্ঞা করে বলছি, তাহলে তুমি আমাকেই পাবে, কেননা তুমি আমার প্রিয়।

    উঠানের পথ ধরে ভক্তদের সঙ্গে নিয়ে ঠাকুর চলেছেন মন্দিরে। আরতি দর্শন করবেন। ধাপে ধাপে উঠছেন। শঙ্খ-ঘণ্টা-বাদ্য-বাজনার ঐকতান। পঞ্চপ্রদীপ মহাদেবের মতো মায়ের সামনে ঘুরে ঘুরে নৃত্য করছে। ধূপ আর ধুনোর সৌরভ। মায়ের সামনে জোড়হস্তে ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ। সাপের ফণার মতো ঈষৎ দুলছেন। সুরা নয়, সুধা। মাতাল হয়েছেন। ভূমিষ্ঠ হয়ে প্রণাম আর সম্ভব নয়। ভক্তদের ওপর দেহভার রেখে নামছেন। কোথায় পা পড়ছে দিশা নেই। যেন বলছেন—তোমার বিশ্বাসের পাথরটি যেন এত ভারী হয় যে, তুমি শ্রদ্ধার সমুদ্রে একেবারে তলিয়ে যাও।

    ঐ যে চলে যাচ্ছেন তিনি সপার্ষদ নিজের ছোট্ট ঘরটির দিকে। কে বলেছে তিনি নেই। এই টালমাটালের বিপন্ন সময়ে তিনি আরো নিবিড় হয়ে আছেন—

    “মন্মনা ভব মদ্ভক্তো মদ্যাজী মাং নমস্কুরু।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102 103 104 105 106 107 108 109 110 111 112 113 114 115 116 117 118 119 120 121 122 123 124 125 126 127 128 129 130 131 132 133 134 135
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Article২৫টি দমফাটা হাসি – সম্পাদনা : সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article শ্বেতপাথরের টেবিল – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }