Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পরার্থপরতার অর্থনীতি – আকবর আলি খান

    লেখক এক পাতা গল্প270 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সংস্কারের রাজনৈতিক অর্থনীতি

    সংস্কারকে ব্যভিচারের সাথে তুলনা করে জনৈক রসিক ব্যক্তি বলেছেন : “যারা ব্যভিচার করে তারা কখনও এ সম্পর্কে উচ্চবাচ্য করে না, যারা পারে না তারাই এ নিয়ে ফরফর করে। যারা সংস্কার করে তারাও এ সম্পর্কে বড়াই করে না, যারা সংস্কার করতে পারে না তারাই এ সম্পর্কে হইচই করে।” নৈতিক দিক থেকে অবশ্যই সংস্কার ও ব্যভিচারের মধ্যে কোন সাদৃশ্য নেই। ব্যভিচার গর্হিত আর সংস্কার হল বাঞ্ছিত। তবু ব্যভিচার ও সংস্কার দুটোই হল সামাজিক দিক থেকে অত্যন্ত অপ্রিয়। এ ধরনের অপ্রিয় কাজ অতি দ্রুত সারতে হয়, ঢাকঢোল পিটিয়ে করতে গেলেই বিপত্তি দেখা দেয়।

    সংস্কার শব্দের আভিধানিক অর্থ হল, “পতিত অবস্থা হতে মুক্তি।” বিবর্তনের সাথে সাথে যে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় পরিবর্তন হয় না সেখানেই অধঃপতন দেখা দেয়। প্রখ্যাত দার্শনিক এডমুন্ড বার্ক যথার্থই বলেছেন, “A state without the means of some change is without its means of conservation” (যে রাষ্ট্রে কোন পরিবর্তনের ব্যবস্থা নেই তার সংরক্ষণের কোন উপায় নেই।)[১] যে কোন রাষ্ট্রকাঠামোতেই সময়ে সময়ে পরিবর্তন অত্যাবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এ সব পরিবর্তনের অনিবার্যতা অগ্রাহ্য করে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়। পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যর্থতাকে মার্কিন অর্থনীতিবিদ্ মনসুর অলসন (Mancur Olson) একটি সামাজিক ব্যাধি হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। এ রোগের তিনি নাম দিয়েছেন “institutional sclerosis” বা প্রাতিষ্ঠানিক কঠিনীভবন।[২] কঠিনীভবন বা স্ক্লরৌসীস রোগে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কঠিন হওয়ার ফলে বিকল হয়ে যায়। তেমনি প্রাতিষ্ঠানিক কঠিনীভবন হলে রাষ্ট্র ব্যবস্থাতে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড অচল হয়ে পড়ে। অলসনের ভাষায়, প্রাতিষ্ঠানিক কঠিনীভবনের চিহ্ন হল: “that slows its adoption to changing circumstances and technologies.” (যা পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি ও প্রযুক্তির সাথে রাষ্ট্র কাঠামোর সমন্বয় বিলম্বিত করে।)

    ব্যক্তির জীবনে স্ক্লরৌসীস বিধাতার অভিশাপ, সমাজের ক্ষেত্রে “প্রাতিষ্ঠানিক কঠিনীভবন” মানুষের সৃষ্টি। তবে সংস্কার প্রবর্তনে নিছক অনিচ্ছাকৃত ব্যর্থতা হতে “প্রাতিষ্ঠানিক কঠিনীভবনের” জন্ম হয় না। অনেক সময় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে দীর্ঘ সময় লাগে। আবার অনেক সময় সমস্যার প্রকৃত সমাধান নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। বিশেষ করে রাজনীতিবিদ্রা নতুন কোন ধারণা সহজে গ্রহণ করতে চায় না। একজন মার্কিন রাজনীতিবিদ্ এ সন্দেহ সুন্দরভাবে প্রকাশ করেছেন :

    There are two areas where new ideas are terribly dangerous economics and sex. By and large it’s all been tried, and if it’s new, it’s probably illegal or dangerous or unhealthy.
    (দুটি ক্ষেত্রে নতুন ধারণা অত্যন্ত বিপজ্জনক – অর্থনীতি ও যৌন জীবন। মোটামুটি সবই করে দেখা হয়েছে। যদি ধারণাটি নতুন হয় তবে তা বেআইনি অথবা বিপজ্জনক অথবা অস্বাস্থ্যকর)।

    তবে সংস্কারের সকল প্রস্তাবই অভিনব নয়। তাই অনিচ্ছাকৃত ব্যর্থতা দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে না। যারা জ্ঞানী তারা নিজেরা ভুল করার আগেই অন্যের ত্রুটি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। এমনকি যারা নির্বোধ তারাও নিজেদের ভুল হতেই জ্ঞান লাভ করে। বিশেষ করে যখন রাষ্ট্রব্যবস্থাতে বিপর্যয় দেখা দেয় তখন সংস্কার প্রবর্তনে অনিচ্ছাকৃত ব্যর্থতার কোন সুযোগ থাকে না।

    প্রাতিষ্ঠানিক কঠিনীভবন ইচ্ছাকৃতভাবে সৃষ্টি করে কায়েমী স্বার্থবাদীরা। আধুনিক রাষ্ট্রের ভাগ্যবিধাতা শাসকরাও নয়, জনগণও নয়। এ রাষ্ট্রযন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে বিশেষ স্বার্থের গোষ্ঠীসমূহ। অর্থনীতিবিদ্ অলসন এ সব গোষ্ঠীকে আখ্যায়িত করেছেন “বণ্টনমূলক জোট” (distributional coalition)।[৩] এদের উদ্দেশ্য সমাজের কল্যাণ নয়, আত্ম—কল্যাণ; এরা উৎপাদন বাড়াতে চায় না, বণ্টন ব্যবস্থায় নিজেদের বখরা বড় করতে চায়। এ ধরনের স্বার্থগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের জোট, পেশাদারদের সমিতি এবং কর্মচারি ও শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন। যে কোন সংস্কার প্রবর্তিত হলেই কোন না কোন বণ্টনমূলক জোটের স্বার্থ হুমকির সম্মুখীন হয়। কোন গোষ্ঠীই তাদের স্বার্থের ব্যাপারে আদৌ কোন আপোষ করতে রাজি নয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় লেনিনগ্রাডের রণক্ষেত্রে রুশ সৈন্যরা দেশমাতৃকার জন্য যে আবেগ ও ঐকান্তিকতা নিয়ে যুদ্ধ করেছিল তার চেয়েও অনেক বেশি হিংস্রতা নিয়ে সংস্কারের বিরুদ্ধে লড়ে চলেছে কায়েমী স্বার্থবাদীরা।

    গত পঞ্চাশ বছর ধরে একদিকে রাষ্ট্রের কর্মপরিধি সম্প্রসারিত হয়েছে, অন্য দিকে বণ্টনমূলক জোটের সংখ্যা বেড়েছে। সরকারী কর্মকর্তাদের সমিতি থেকে বণিক সমিতি, পেশাদারী সংগঠন হতে শ্রমিক ইউনিয়ন—সর্বত্রই বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠীর কালো হাত থাবা বাড়িয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রের সংস্কার বাস্তবায়নের ক্ষমতা হয়েছে অত্যন্ত সীমিত। অন্যদিকে সংস্কারের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। প্রথমত, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ব্যবস্থাতে ঘটছে আমূল পরিবর্তন। স্নায়ুযুদ্ধে কোন বিজয়ী বা বিজিত নেই। স্নায়ুযুদ্ধের অবসানে শুধু তথাকথিত সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থাই তিরোহিত হয়নি, সাথে সাথে ধ্রুপদী পুঁজিবাদী ব্যবস্থাও বাতিল হয়ে গেছে। পুঁজি নয়, জ্ঞানই হচ্ছে নতুন বিশ্বায়িত ব্যবস্থায় ক্ষমতার মাপকাঠি। এই নতুন ব্যবস্থায় পুরানো দিনের নীতিসমূহ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কাজেই প্রচলিত অর্থ-ব্যবস্থাতে ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিশ্বের বেশি ভাগ রাষ্ট্রেই আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রের আর্থিক ঘাটতি অবশ্যই নতুন কোন ঘটনা নয়। বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ্ স্যার জন হিকস যথার্থই লিখেছেন [৪]:

    If there is one thing about kings if there is one general thing about them which we seem to learn from history books it is that more often than not they were hard up.

    (রাজাদের একটি প্রবণতা … ইতিহাস থেকে আমরা যদি একটিও শিক্ষা গ্রহণ করি তা হল রাজাদের সব সময়ে অর্থের টানাটানি ছিল)।

    আধুনিক রাষ্ট্রসমূহে আর্থিক সংকটের একটি বড় কারণ হল এই যে, সবাই কর হ্রাস করতে চায় কিন্তু কেউই খরচ কমাতে চায় না। এর ফলে ক্ষুদ্র অর্থনীতির ক্ষেত্রে অনুসৃত নীতিমালা সার্বিক আর্থিক নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। সরকারের বাজেট ঘাটতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করেছে। তৃতীয়ত, গত দুই শতক ধরে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা প্রকট হয়ে উঠেছে। অর্থনীতিবিদ্ এ্যান্ড ক্রুগার এ ধরনের ব্যর্থতাকে দু ভাগে বিভক্ত করেছেন [৫] : করার ত্রুটি (errors of commission) আর না করার ত্রুটি (errors of omission)। সরকারের অপচয় প্রথম ধরনের ত্রুটির প্রকৃষ্ট নজির। দ্বিতীয়ত, না করার ত্রুটির মধ্যে রয়েছে অদক্ষ পরিচালনার ফলে সামাজিক ও ভৌত অবকাঠামোর অকার্যকরতা এবং সার্বিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অনুপযোগী নীতি (যথা, অবাস্তব বিনিময় হার, সুদের হার ইত্যাদি) অনুসরণ। সরকার শুধু যা করছে তা ভালভাবে করলেই চলবে না, যা করছে না তাও করতে হবে।

    সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করাই যথেষ্ট নয়। সংস্কারের জন্য প্রয়োজন সুদৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার। কিন্তু ভাল অর্থনীতি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভাল রাজনীতি নয়। যে ধরনের সংস্কার ভোটারদের আকৃষ্ট করে না, সে ধরনের সংস্কার রাজনীতিবিদদেরও আশীর্বাদ লাভ করে না। রাজনীতিবিদদের পক্ষে সংস্কার সম্ভব নয়, সংস্কারের জন্য প্রয়োজন বিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়কের। রাজনীতিবিদদের চিন্তা আগামী নির্বাচনে সীমাবদ্ধ, একমাত্র বিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়করাই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে চিন্তা করতে অভ্যস্ত।

    রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার অন্ধকারে ঝাঁপ দেওয়ার মত অনিশ্চিত। সংস্কারের নিশ্চিত সাফল্যের কোন অব্যর্থ দাওয়াই নেই। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনাচার ও অব্যবস্থা রাতারাতি দূর করার কোন উপায় নেই। তাই সংস্কারের পক্ষে জনমত সৃষ্টির জন্য বিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়কদের স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসতে হবে। যেখানে বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর মধ্যে অবিশ্বাস ও সংঘাত বেশি সেখানেই প্রয়োজন সৃজনশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের। অর্থনীতিবিদ্ আর্নল্ড সি হারবারগার (Arnold C. Harberger) এ ধরনের নেতৃত্বকে “অর্থনৈতিক নীতিবীর” (economic policy heroes) বলে আখ্যায়িত করেছেন।[৬] এই ধরনের বীরগণ তাঁদের বিশ্বাস, সংকল্প ও সাহসিকতায় উজ্জীবিত হন। এঁরা রাজনৈতিক আত্মহত্যাকে ভয় করেন না। এঁরা জানেন যে, সংস্কারের ক্ষেত্রে যারা বীজ বপন করে তারা সব সময়ে ফলভোগ করতে পারে না। কাজেই ফল ভোগ করা বড় কথা নয়, গাছ লাগানোই হল সবচেয়ে পবিত্র দায়িত্ব। যুক্তিশীল লোকের পক্ষে এ ধরনের সংস্কারক হওয়া সম্ভব নয়, একমাত্র দুঃসাহসী লোকদের পক্ষেই সংস্কার করা সম্ভব। জর্জ বার্নাড শ ঠিকই বলেছেন[৭] :

    The reasonable man adapts himself to the world, the unreasonable one persists in trying to adapt the world to himself. Therefore all progress depends on the unreasonable man. (যুক্তিবাদী লোক নিজেকে বিশ্বের সাথে খাপ খাইয়ে নেয় কিন্তু অযৌক্তিক লোক বিশ্বকে তার সাথে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করে। সুতরাং সকল প্রগতি অযৌক্তিক লোকের উপর নির্ভরশীল)।

    স্বাভাবিক পরিবেশে এ ধরনের নেতৃত্ব পাওয়া যায় না। সাধারণত বৈদেশিক আক্রমণ ও মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটের পরই এ ধরনের নেতৃত্বের উদ্ভব হয়।

    অবশ্যই সনাতন আমলাতন্ত্রের পক্ষে সংস্কারের নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব নয়। আমলাতন্ত্রের কোথাও কোথাও অর্থনৈতিক নীতিবীর লুকিয়ে থাকলেও, সামগ্রিকভাবে আমলাতন্ত্র নিজেই প্রচলিত ব্যবস্থার সুবিধাভোগী। অনেক ক্ষেত্রে এরাই ইচ্ছা করে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জীবনে অব্যবস্থার সৃষ্টি করেছে। এরা নিজেদের উদ্যোগে এ সব অব্যবস্থা দূর করতে চাইবে না। তবে শুধু আমলাতন্ত্রই সংস্কারের প্রধান প্রতিবন্ধক নয়। প্রতিটি সংস্কারেই কেউ না কেউ লাভবান হয় আবার কেউ না কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু সংস্কার সম্পূর্ণ হওয়ার আগে কার মুনাফা হবে আর কার লোকসান হবে তা নির্ণয় করা সম্ভব নয়। তাই সংস্কার সম্পর্কে সকলেরই মনে থাকে সন্দেহ। যেখানেই লাভ ও ক্ষতির প্রশ্ন রয়েছে সেখানেই সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে এক পক্ষ অপর পক্ষকে ধ্বংস করার জন্য সংগ্রাম শুরু করে। এ ধরনের সংগ্রামে কোন কোন সময় এক পক্ষ অপর পক্ষকে পর্যুদস্ত করে, আবার কোথাও কোথাও দু’পক্ষের মধ্যে আপোষ হয়। কিন্তু পরস্পরবিরোধী স্বার্থের মধ্যে সংঘর্ষের ফয়সালা হওয়ার আগে সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না।

    সংস্কার যত বিলম্বিত হয় সংস্কারের পরিধি হয় তত ব্যাপক। উন্নয়নশীল দেশসমূহে সংস্কারের মূল ক্ষেত্রসমূহ নিম্নরূপ :

    ক. সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের লক্ষ্যে ভর্তুকিসহ ব্যয় হ্রাস ও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি;

    খ. সরকারের আয়তন হ্রাস এবং প্রশাসনিক সংস্কার;

    গ. আর্থিক খাত সংস্কারের মাধ্যমে ব্যাংক ও অব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরকারের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে এই সব প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু তত্ত্বাবধান;

    ঘ. রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের বেসরকারীকরণ এবং পণ্য ও সেবার মূল্যের উপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া;

    ঙ. বাণিজ্য উদারকরণ, অশুল্ক বাধা তুলে দেওয়া এবং শুল্কের হার হ্রাস করা;

    চ. বেসরকারী খাত বিকাশের লক্ষ্যে সরকারের নিয়ন্ত্রণ হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার সংস্কার।

    সংস্কারের কৌশল সম্পর্কে দু’ধরনের মতবাদ দেখা যায়। এক ঘরানার অর্থনীতিবিদ্রা মনে করেন যে, সংস্কারের প্রকৃত সুফল পেতে হলে সকল ক্ষেত্রে সংস্কার একই সাথে বাস্তবায়ন করতে হবে। এ ধরনের মতবাদ প্রচণ্ড আঘাত পন্থা (big bang approach) নামে পরিচিত। দ্বিতীয় ঘরানার অর্থনীতিবিদ্রা পর্যায়ক্রমে সংস্কারের পক্ষে। এ ধরনের মতবাদকে ধীর পন্থা (gradualism) রূপে চিহ্নিত করা যেতে পারে।

    “প্রচণ্ড-আঘাত পন্থার” সমর্থকদের মধ্যে রয়েছেন ডেভিড লিপটন (David Lipton), জেফরি স্যাকস[৮] (Jeffrey Sachs), এন্ডারস এ্যাসল্যান্ড[৯] (Anders Aslund), এন্ড্রু বার্গ[১০] (Andrew Berg) প্রমুখ। এঁরা বিশ্বাস করেন যে, বিচ্ছিন্ন সংস্কার কখনও ফলপ্রসূ হয় না। সকল ক্ষেত্রে সংস্কার একই সাথে শুরু করতে হবে এবং স্বল্পতম সময়ে সম্পূর্ণ করতে হবে। এঁরা মনে করেন যে, উপর থেকে অতর্কিতে ক্ষিপ্রতার সাথে সংস্কার চাপিয়ে দিতে হবে। অর্থনীতিবিদ্ জোয়ন রবিনসনের মত এঁরাও বিশ্বাস করেন যে, অর্থনীতির প্রথম সবক হল, অর্থনীতিতে সব কিছুই অন্য সবকিছুর উপর নির্ভর করে। এঁরা বিশ্বাস করেন যে, এক খাতের সংস্কার অন্য খাতের সংস্কারের পরিপূরক। তাই অর্থনীতির এক খাতের সাফল্য অন্য খাতকে উজ্জীবিত করে এবং এক খাতের ব্যর্থতা অন্য খাতে সংক্রমিত হয়। এই ঘরানার অর্থনীতিবিদদের দ্বিতীয় যুক্তি হল, সংস্কারের সাফল্যের একটি আবশ্যিক শর্ত এই যে, জনগণকে সরকারের সংস্কার বাস্তবায়নের অঙ্গীকার সম্পর্কে আস্থাশীল হতে হবে। যদি এ ধরনের ধারণা জন্মে যে, গৃহীত সংস্কারসমূহ পরিত্যক্ত হতে পারে তবে কেউই সংস্কারকে সমর্থন করতে চাইবে না। শুধুমাত্র ব্যাপক ও দ্রুত সংস্কারই জনমনে আস্থা সৃষ্টি করে। তৃতীয়ত, এ মতবাদের সমর্থকরা মনে করেন যে, সংস্কার প্রক্রিয়া যত বিলম্বিত হবে সংস্কারের শত্রুরা ততই মরিয়া হয়ে সংস্কার প্রতিহত করার চেষ্টা করবে। একমাত্র প্রচণ্ড আঘাতের মাধ্যমেই সংস্কারের বিপক্ষে রাজনৈতিক বিরোধিতা নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব।

    প্রচণ্ড-আঘাতপন্থীদের বক্তব্য পড়লে মোল্লা নসরুদ্দীনের একটি গল্প মনে পড়ে যায়। মোল্লা নসরুদ্দীন এক বাড়িতে কিছুদিন চাকরের কাজ করেছিলেন। মনিব তাঁকে একদিন ডেকে বললেন, “দেখ বাপু তুমি একবারের কাজ একবারে কর না। তোমাকে তিনটি ডিম আনতে বললে তিন বার বাজারে যাও। এতে অযথা সময় নষ্ট হয়। এবার থেকে একবারে সব কাজ সেরে আসবে।”

    একদিন মনিবের অসুখ করলো। তিনি নসরুদ্দীনকে ডেকে বললেন, “হেকিম ডাক।” নসরুদ্দীন গেলেন, কিন্তু ফিরলেন অনেক রাতে। আর সঙ্গে নিয়ে আসলেন এক দঙ্গল লোক।

    মনিব ক্ষেপে বললেন, “হেকিম কই? এত সময় লাগল কেন?”

    নসরুদ্দীন বললেন, “আপনি ‘যেভাবে হুকুম করেছেন সেভাবেই’ কাজ করেছি। হেকিম নিয়ে এসেছি। কিন্তু হেকিম যদি আপনার অসুখ দেখে বলেন পুলটিস লাগবে, তার জন্য লোক নিয়ে এসেছি। হেকিম যদি বলেন গরম জল চাই, তবে কয়লা লাগবে। তাই কয়লাওয়ালা নিয়ে এসেছি। এর মধ্যে যদি আপনার শ্বাস ওঠে তবে কোরান শরীফ পড়ার জন্য মৌলভী লাগবে। তাই মৌলভী সাহেবকে নিয়ে এসেছি। আর আপনি যদি মরে যান তবে লাশ বইবার লোক চাই। সে জন্যও লোক নিয়ে এসেছি।”

    মোল্লা নসরুদ্দীনের কপাল ভাল এতসব লোক জোগাড় করে ফিরে আসা পর্যন্ত তাঁর মনিব জীবিত ছিলেন। কিন্তু এত সব সম্পন্ন করার বহু আগেই বেশির ভাগ রোগী মরে যাবে। একসাথে এত সংস্কার করতে গেলে আঁতুড়ঘরেই সংস্কার অক্কা পাবে।

    ধীর পন্থার সমর্থকগণ মনে করেন যে, সংস্কার উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। এ মতবাদের সমর্থকদের মধ্যে রয়েছেন রিচার্ড পোর্টেস[১১] (Richard Portes), রোনাল্ড ম্যাকিনন[১২] (Ronald Mckinnon), ম্যাথিয়াস ডিউয়াট্রিপন্ট (Mathias Dewatripont) এবং রোনাল্ড জেরার্ড[১৩] (Ronald Gerard)। তাঁরা মনে করেন যে, সংস্কার জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। প্রচণ্ড আঘাত জনগণের কষ্ট বাড়ায় এবং জনগণকে সংস্কার প্রক্রিয়া হতে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ধীরপন্থীরা মনে করে যে, আস্তে আস্তে সংস্কার বাস্তবায়নে জনগণের যন্ত্রণা লাঘব হবে এবং সংস্কার প্রক্রিয়ার পক্ষে ধীরে ধীরে জনসমর্থন সৃষ্টি হবে। ধীর পন্থায় সংস্কারের সাফল্যের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। দ্বিতীয়ত, সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতার ফল বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শূন্য নয়, ঋণাত্মক। ব্যর্থ সংস্কার উপকারী নয়, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপকারী। এ সম্পর্কে বিশ্ব ব্যাংকের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে যথার্থই বলা হয়েছে[১৪]:

    Failed reform attempts could be very costly. For example, money spent to restructure state enterprises and pay off their debts is wasted if the enterprises fail to improve. More difficult to quantify, but not less important are the costs in wasted human and political capital. (ব্যর্থ সংস্কার প্রচেষ্টা অত্যন্ত ক্ষতিসাধক। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে যে, যদি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসমূহে কোন উন্নতি না দেখা দেয় তবে এ প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনর্গঠন ও মন্দ দেনা পরিশোধের জন্য ব্যয়িত অর্থের অপচয় হয়। মানবিক ও রাজনৈতিক পুঁজির ক্ষতিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়)।

    ধীর পন্থার সমালোচকগণ মনে করেন যে, কায়েমী স্বার্থের বিরোধিতার ফলে সংস্কারের পক্ষে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জনসমর্থন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। ধীর পন্থার সংস্কার প্রক্রিয়াকে তাই মোল্লা নসরুদ্দীনের ভালুক শিকারের সাথে তুলনা করা হয়ে থাকে। কথিত আছে যে, সুলতান একবার মোল্লা নসরুদ্দীনকে তাঁর সাথে ভালুক শিকারে যাওয়ার জন্য তলব করলেন। নসরুদ্দীন ছিলেন খুবই ভীরু। তবু সুলতানের আদেশ পেয়ে কাঁপতে কাঁপতে তিনি ভালুক শিকারে গেলেন। পরদিন নসরুদ্দীন খুবই খোশ মেজাজে বাড়ি ফিরে এলেন। মোল্লার স্ত্রী জানতে চাইলেন, ভালুক শিকার কেমন হয়েছিল। মোল্লা জবাব দিলেন, “চমৎকার”।

    মোল্লার স্ত্রী প্রশ্ন করলেন, “কয়টি ভালুক মেরেছেন?”

    মোল্লা বললেন, “একটিও না।”

    আবার প্রশ্ন হল, “কয়টি ভালুক দেখেছেন?”

    মোল্লা উত্তর দিলেন : “একটিও না।”

    মোল্লার স্ত্রী আবার জিজ্ঞেস করলেন, “শিকার তা হলে চমৎকার হল কিভাবে?”

    মোল্লা বললেন, “আহা, বেগম। তুমি বুঝতে পারছো না। ভালুক শিকারে ‘একটিও না’ যথেষ্টের চেয়ে বেশি।” ভীরুরা ভালুক শিকার করতে পারে না; তাদের পক্ষে সংস্কার করাও সম্ভব নয়।

    আসলে প্রচণ্ড আঘাতপন্থী ও ধীরপন্থীদের বিতর্ক বিভ্রান্তিমূলক। কোথাও সকল সংস্কার এক সাথে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। অনেক ক্ষেত্রে এক পর্যায়ের সংস্কার সম্পন্ন না হলে পরবর্তী পর্যায়ের সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। সংস্কার সব ক্ষেত্রে রাতারাতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সংস্কার করতে সময় লাগবেই। পক্ষান্তরে ধীর পন্থার লক্ষ্য সংস্কারের ক্ষেত্র সীমাবদ্ধ করে রাখা নয়। প্রয়োজনীয় সকল ক্ষেত্রে যথাসময়ে সংস্কার না করলে সংস্কারের সুফল কখনও পাওয়া সম্ভব নয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে সংস্কারের মূল সমস্যা হল কোন্ সংস্কার আগে বাস্তবায়ন করা হবে এবং কোন্ সংস্কার পরে বাস্তবায়ন করা হবে তার পরম্পরা (sequence) নির্ণয় করা।[১৫] পরম্পরা নির্ধারণের পদ্ধতি সম্পর্কে দুটো মতবাদ দেখা যায়। একটি মতবাদের বক্তব্য হল সহজ সংস্কার হতে শুরু করে দুরূহ সংস্কার করতে হবে। এ মতবাদ কৌশলগত ছিট-মহল ( strategic enclave ) পদ্ধতি হিসাবে পরিচিত। দ্বিতীয় মতবাদের বক্তব্য হল এই যে, যে খাতে সংস্কার করলে বেশি লাভ হবে সে খাতেই সংস্কার শুরু করতে হবে। বাস্তবায়নের সুবিধা বড় কথা নয় অর্থনৈতিক গুরুত্বই হবে সংস্কারের খাত নির্বাচনের মাপকাঠি। এ মতবাদ সম্ভবশ্রেষ্ঠ পরম্পরাভিত্তিক (optimum sequencing) পদ্ধতি নামে পরিচিত।

    কৌশলগত ছিট-মহল পদ্ধতিতে সংস্কারের মূল বক্তব্য হল এই যে, উন্নয়নশীল দেশসমূহে প্রশাসনিক ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। এ ধরনের প্রশাসনের পক্ষে সব এলাকায় এক সাথে সংস্কার সম্পূর্ণ করা সম্ভব নয়। তাই যেখানে বাস্তবায়ন সহজ সেখানেই সংস্কার শুরু করতে হবে। এ কৌশলের দুটো সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, নির্বাচিত এলাকাতে সংস্কার শুরু করলে সংস্কারের সাফল্যের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সংস্কারে সাফল্য আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করে এবং ভবিষ্যতে সংস্কারের পথ সুগম করে। দ্বিতীয়ত, কৌশলগত ছিট-মহলে সংস্কার শুরু করলে সংস্কার বাস্তবায়নে যে সব ত্রুটি দেখা যায় তা দূর করা সহজ হয়। এক সাথে বেশি ভুল করলে শুধরানো সহজ হয় না। এই পন্থার দুর্বলতা দুটো। প্রথমত, এ পন্থা অনুসারে সংস্কার বাস্তবায়ন যে সব এলাকাতে সহজ সে সব এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকে। এর ফলে প্রথম প্রজন্মের সংস্কারের পর দ্বিতীয় বা পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কারের জন্য আদৌ কোন উদ্যোগ নেওয়া হয় না। সংস্কার শুধু কৌশলগত ছিট-মহলে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, সংস্কারকে সমগ্র ভূখণ্ডে ছড়িয়ে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক দিক থেকে যে সব সংস্কার প্রয়োজন সে সব সংস্কার আগে বাস্তবায়ন করতে হবে। শুধু মাত্র রাজনৈতিক সুবিধার কথা চিন্তা করে সংস্কারের কৌশল নির্ধারণ করা সঠিক হবে না।

    সম্ভবশ্রেষ্ঠ পরম্পরা-ভিত্তিক সংস্কারের সমর্থক হল অর্থনীতিবিদ্রা। এই কৌশলের মূল বক্তব্য হল, বিভিন্ন খাতের সংস্কার পরিপূরক। অর্থনৈতিক দিক থেকে আগে যে সব খাতে সংস্কার প্রয়োজন সে সব খাতে সংস্কার শুরু করতে হবে। এ মতবাদের প্রবক্তারা মনে করেন যে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের আগে অর্থনীতির উদারকরণ সঠিক হবে না। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে, বাজেট ঘাটতি হ্রাস করার আগে বাণিজ্য উদারকরণ করা হলে শুল্ক খাতে রাজস্ব কমে যেতে পারে। এর ফলে বাজেট ঘাটতি আরো বাড়তে পারে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের আগে সুদের হারের উপর সকল বিধিনিষেধ তুলে দিলে সরকারের ঋণ বাবদ সুদের ব্যয় বেড়ে যাবে। এর ফলে বাজেট ঘাটতির সমস্যা প্রকট হবে। সম্ভবশ্রেষ্ঠ পরম্পরা-ভিত্তিক সংস্কারের সমর্থকগণ সংস্কারের ক্ষেত্রে নিম্নরূপ অনুক্রম সমর্থন করেন : সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন, অভ্যন্তরীণ আর্থিক খাত সংস্কার, শ্রম বাজারসহ বিভিন্ন উৎপাদনের উপাদানের বাজার সংস্কার, পণ্যের বাজার সংস্কার, বৈদেশিক বাণিজ্যের সংস্কার এবং পুঁজি বাজার সংস্কার। অবশ্য সকল দেশের বাস্তব পরিস্থিতি অভিন্ন নয়। কাজেই প্রতিটি দেশকেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করে সংস্কারের সম্ভবশ্রেষ্ঠ পরম্পরা নির্ধারণ করতে হবে।

    প্রখ্যাত ইতালীয় দার্শনিক নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি যথার্থই বলেছেন[১৬]:

    The innovator makes enemies of all those who prospered under the old order and only lukewarm support is forthcoming from them who would prosper under the new. (যারা পুরানো ব্যবস্থাতে সমৃদ্ধি অর্জন করেছে তারা নতুন ব্যবস্থার প্রবর্তকদের শত্রু হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি যারা নতুন ব্যবস্থায় লাভবান হবে তারাও সংস্কারকে অত্যন্ত হালকা সমর্থন প্রদান করে)।

    সংস্কারের শত্রুর অভাব নেই, কিন্তু সংস্কারের বন্ধু খুবই কম। এর দুটো কারণ রয়েছে। প্রথমত, সংস্কারের ফলাফল নিশ্চিত নয়। তাই সংস্কারের ফলে যাদের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তারাও সরাসরি লাভবান না হওয়া পর্যন্ত সংস্কার সমর্থন করে না। দ্বিতীয়ত, অনেক ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রথম পর্যায়ে কারো লাভ হয় না বরং সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই অনেক অর্থনীতিবিদ্ বলে থাকেন যে,সংস্কারের ফল ইংরাজি J অক্ষরের মত। প্রথম দিকে J অক্ষর নীচের দিকে নামে। সংস্কারের ফল প্রথম দিকে তাই ঋণাত্মক থাকে। J অক্ষর অল্প ব্যবধানে উপরের দিকে উঠতে থাকে। অতি অল্প সময়ের জন্য ঋণাত্মক প্রভাবের পর সংস্কারে সুফল দেখা যায়। যতক্ষণ পর্যন্ত সংস্কারের ফলাফল ঋণাত্মক থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সংস্কারের জন্য সমর্থন লাভ সম্ভব হয় না।

    সংস্কার বাস্তবায়নে যে সব বাধা আসে তাদের সম্বন্ধে দু’ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। প্রথমত, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ ধরনের ক্ষতিপূরণ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে অতি সহজে প্রদান করা সম্ভব। স্বল্প মেয়াদে এ ধরনের ক্ষতিপূরণ ব্যয়বহুল হলেও দীর্ঘ মেয়াদে এর সুফল অনেক বেশি লাভজনক হতে পারে। কিন্তু ক্ষতির খেসারত তাদেরই দেওয়া সম্ভব যাদের ক্ষতি প্রত্যক্ষ ও আইনসঙ্গত। কিন্তু সংস্কারের ক্ষেত্রে সবচাইতে বেশি প্রতিরোধ আসে তাদের কাছ থেকে যারা প্রচলিত ব্যবস্থা হতে অনুপার্জিত মুনাফা অর্জন করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে যে, একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে শ্রমিকদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিলেই তারা সন্তুষ্ট হবে। কিন্তু শ্রমিকদের নামে যে সব ট্রেড ইউনিয়ন নেতা বেআইনীভাবে অর্থ আত্মসাৎ করছে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া শক্ত। তাই অনুপার্জিত মুনাফাখোরদের না তাড়িয়ে সংস্কার বাস্তবায়ন করা যাবে না। সংস্কারকে জয়যুক্ত করতে হলে কায়েমী স্বার্থের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে। সংস্কারের পক্ষে সুদৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিশ্চিত করতে হবে।

    কোন্ ধরনের সরকার সংস্কারের পক্ষে অধিকতর উপযোগী সে সম্পর্কে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন যে, একনায়কদের পক্ষে সংস্কার ত্বরান্বিত করা সহজ; কেননা একনায়কদের ভোটারদের খুশি করার কোন বালাই নেই এবং তাদের পক্ষে রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন করা সম্ভব। পক্ষান্তরে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতে কায়েমী স্বার্থবাদীরা সংস্কারের বিপক্ষে অতি সহজেই প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তবু একনায়করা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সংস্কারের সপক্ষের শক্তি নন। বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, স্বৈরাচারী সরকার অনেক ক্ষেত্রেই দস্যু-সরকারে পরিণত হয়। হাইতিতে ডুভালিয়র, উগান্ডাতে ইদি আমিন ও জায়ারে মবুতু সরকার এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, গণতান্ত্রিক সরকারও (যেমন স্পেনে) সাফল্যের সাথে সংস্কার বাস্তবায়ন করেছে। বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন, ১৯৯৭-এর বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায় যে, এ সম্পর্কে কোন সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত সম্ভব নয়। শতকরা বিশ ভাগ ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সংস্কারের সহায়তা করেছে, অন্যদিকে শতকরা বিশ ভাগ ক্ষেত্রে একনায়কত্ব সাফল্যের সাথে সংস্কার বাস্তবায়ন করেছে। বাকি ষাট ভাগ ক্ষেত্রে কোন সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত সম্ভব নয়। তবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতে সকল ক্ষেত্রে সংস্কার সম্ভব নাও হতে পারে। কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতে দস্যু সরকার কখনও টিকে থাকতে পারবে না।[১৭]

    সংস্কার হল এক ধরনের যুদ্ধ। সকল যুদ্ধেই রণনায়কদের মনে রাখতে হয় যে, শত্রুর বিরুদ্ধে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনাই যথেষ্ট নয়, সব সময়েই পেছনে হটে যাওয়ার জন্য আপৎকালীন পরিকল্পনা থাকতে হবে। সংস্কারকে শুধু সাফল্যের জন্য প্রস্তুত থাকলেই চলবে না, ব্যর্থতার জন্যও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সংস্কার হল প্রণয়ঘটিত সম্পর্কের মত জটিল। প্রণয়ঘটিত সম্পর্ক যে কোন আহাম্মকও শুরু করতে পারে। কিন্তু এ ধরনের সম্পর্কের সাফল্যজনক পরিসমাপ্তি টানতে পারে একমাত্র পাকা খেলোয়াড়রাই। সংস্কারও যে কোন আহাম্মক শুরু করতে পারে কিন্তু সবাই সংস্কার শেষ করতে পারে না। যারা সংস্কার করে তারা বাঘের পিঠে চড়ে বসে। যারা সংস্কার শেষ করতে পারে না, তাদের অবস্থা নীচের ছড়ার নায়িকার মত হয়ে দাঁড়াবে :

    There was a young lady of Niger
    Who smiles as she rode on a tiger
    They returned from the ride
    With the lady inside
    And the smile on the face of the tiger.

    (নাইজারের একজন যুবতী মহিলা একটি বাঘের পিঠে চড়ে হাসছিল। যখন ভ্রমণ শেষে তারা ফিরল তখন মহিলাটি ভেতরে আর হাসি বাঘের মুখে)।

    সংস্কার করতে গেলে বাঘের পিঠে চড়তেই হবে। উন্নয়নশীল দেশসমূহ গহন অরণ্যের চেয়েও অনেক বেশি শ্বাপদ-সঙ্কুল। এখানে কায়েমী স্বার্থবাদী বণ্টনমূলক জোটসমূহ (যারা ট্রেড ইউনিয়ন ও বিভিন্ন সমিতি নামে পরিচিত) বনের বাঘের চেয়েও হিংস্র ও ক্ষিপ্র। বাঘকে এড়ানোর স্বাধীনতা সংস্কারকের নেই। তবে সব বাঘের বিরুদ্ধে এক সাথে লড়াইয়ের প্রয়োজনও তার নেই। তার পক্ষে বাঘ নির্বাচন সম্ভব। প্ৰথম লড়াইয়ের জন্য সংস্কারককে তাই এমন বাঘ বেছে নিতে হবে যাকে সে সাফল্যের সাথে সম্পূর্ণ পরাভূত করতে পারবে। পারস্যের কাহিনীকার নতুন বিবাহিত স্বামীদের যে পরামর্শ দিয়েছে সংস্কারকদের ক্ষেত্রেও তা সমভাবে প্রযোজ্য: “গুরবা কুশতান শব-ই-আউওয়াল” (বিড়াল মারো প্রথম রাতে)।

    .

    তথ্যসূত্র 

    ১. Burke, Edmund, Reflections on the Revolution in France (New York: Doubleday & Co. Inc., 1961), p. 33

    ২. Olson, Mancur, The Rise and Decline of Nations (New Haven: Yale University Press, 1982)

    ৩. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা 58

    ৪. Hicks, Sir John, A Theory of Economic History (London: Oxford University Press, 1969), p. 81

    ৫. Krueger, Anne O., “Government Failures in Development”, The Journal of Economic Perspectives, 1990. vol. 4. No. 3, pp. 25-40

    ৬. Harberger, Arnold C., “Secrets of Success: A Handful of Heroes”, American Economic Review, 1993. vol. 83. No. 2. pp. 343-350

    ৭. Partington, Angela, ed., The Concise Oxford Dictionary of Quotations (Oxford: Oxford University Press, 1997), p. 302

    ৮. Lipton, David and Sachs, Jeffrey, “Creating a Market Economy in Eastern Europe: The Case of Poland”, Brookings Papers on Economic Activity, 1990 (1), pp. 75-137

    ৯. Anders, Aslund, “Principles of Privatization” in Laszio Casba, ed., Systematic Change and Stabilization in Eastern Europe (Dartmouth : Aldershot, 1991), pp 17-31

    ১০. Berg, Andrew and Jeffrey, Sachs, “Structural Adjustment and International Trade in Eastern Europe: The Case of Poland”, Economic Policy, April 1992, pp. 117-73

    ১১. Portes, Richard, “The Path of Reform in Central and Eastern Europe : An Introduction, European Economy, 1991, special issue, pp. 3-15

    ১২. Mckinnon, Ronald, The Order of Economic Liberalization (Baltimore: Johns Hopkins University Press, 1999)

    ১৩. Dewatripont, Mathias and Ronald, G., “The Design of Reform Packages Under Uncertainty”, American Economic Review, 1995, vol. 85. pp. 1207-1223

    ১৪. World Bank, Bureaucrats in Business (New York: Oxford University Press, 1955), p. 16

    ১৫. World Bank, World Development Report, 1997 (New York: Oxford University Press, 1997), pp. 151-154

    ১৬. Machiavelli, Niccolo, The Prince, Ball, George, tr., (London : Penguin Books, 1991)

    ১৭. World Bank (1997), প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা 144-150

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅবাক বাংলাদেশ : বিচিত্র ছলনাজালে রাজনীতি – আকবর আলি খান
    Next Article পুরানো সেই দিনের কথা – আকবর আলি খান

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }