Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পাখসাট – বুদ্ধদেব গুহ

    বুদ্ধদেব গুহ এক পাতা গল্প16 Mins Read0

    ৫-৬. গণদেবতা এক্সপ্রেস

    ‘গণদেবতা’ এক্সপ্রেস নতুন গাড়ি। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বীরভূম-এর ওপরে এক বিশেষ দুর্বলতা ছিল। তাঁর প্রজন্মের অনেক দুষ্টলোক তারাশঙ্করের এই বীরভূমপ্রীতির জন্যে তাঁকে আড়ালে ডাকতেন ‘ট্যারাশংকর’ বলে। শুনেছিল নীলকমল তার জ্যাঠামশায়ের লাভপুরের জমিদার এক মক্কেলের কাছ থেকে। ভদ্রলোক নিজে জমিদার হয়েও ভিখিরিরও অধম ছিলেন আর মিথ্যাচারী। গরিব মানুষদের মামলায় মামলায় উত্যক্ত করাই ছিল তাঁর কাজ। অধিকাংশ উকিলদের কাজ-ই ভালো নয়। তার জ্যাঠামশাইকে দেখেই নীলকমল উকিল হয়নি। হলে নিঃসন্তান জ্যাঠামশায়ের সেরেস্তা ও মক্কেলও পেয়ে যেত। অনেকই আয় করতে পারত।

    ভাবছিল, নীলকমল।

    রাঢ় বাংলার মানুষদের নিয়েই বেশি লিখেছেন। বলল নীলকমল। ‘গণদেবতা’, ধাত্রীদেবতা’, কালিন্দী’, আরও কত বই।

    জানি। ‘গণদেবতা’, ধাত্রীদেবতা’, কালিন্দী’, ‘দুই পুরুষ’ আরও কত বই! আমার তো ওঁর লেখা খুব-ই ভালো লাগে। সল্লি বলল।

    এই ট্রেনের নামকরণটি ভালো হয়নি?

    হুঁ। দেশে কিছু কিছু ভালো কাজ তো নিশ্চয়ই হয়। শক্তিপুঞ্জ এক্সপ্রেস-এর নাম করে দেওয়া উচিত কোয়েলের কাছে বা কোয়েল এক্সপ্রেস অথবা একটু উষ্ণতার জন্যে এক্সপ্রেস।

    হ্যাঁ। বলে, হাসল নীলকমল। বলল, বুদ্ধদেব গুহর কু-প্রভাব এখনও কাটিয়ে উঠতে পারলে না।

    না। পারলাম আর কই? সত্যি! কু-প্রভাবই বটে!

    শান্তিনিকেতনে কখন পৌঁছোব আমরা? শান্তিনিকেতন হয়েই যেতে বললেন কেন ধরসাহেব?

    কথা ঘুরিয়ে বলল, সল্লি।

    এয়ার-কণ্ডিশানড কোচ আছে বলে। চেয়ার কার। শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস-এও যেতে পারতাম, সে গাড়িতেও তো এসি কোচ আছে। কিন্তু সাড়ে বারোটা নাগাদ পৌঁছে এ.সি. কোচ থেকে নামলেই গায়ে ফোঁসকা পড়বে। গতসপ্তাহে বেয়াল্লিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। এখন হয়তো আরও বেড়েছে। শ্রীনিকেতনের হিসেব। দুবরাজপুরে আরও কয়েক ডিগ্রি বেশিই হবে। তার ওপর লোডশেডিং হলে তো কথাই নেই।

    কতক্ষণ লাগবে শান্তিনিকেতন থেকে দুবরাজপুর যেতে? আমি তো যাইনি কখনো।

    শান্তিনিকেতন থেকে দুবরাজপুর পঁয়তাল্লিশ কিমি মত। গাড়িতে যেতে ঘণ্টা দেড়েক মতো লাগবে। পথে চা-টা খেয়ে।

    আমরা তো পানাগড় বা দুর্গাপুর হয়েও যেতে পারতাম।

    তা পারতাম। তবে গ্র্যাণ্ড-ট্রাঙ্ক রোডের যা-অবস্থা তা দেখে শেরশাহ বেঁচে থাকলে আত্মহত্যাকরতেন। ও-পথ দিয়ে গেলে অনেক বেশি সময় লাগত। ধরসাহেব জানেন বলেই হয়তো…

    শান্তিনিকেতনে পৌঁছোবে কখন ‘গণদেবতা’?

    সাড়ে নটাতে বোধ হয়। এই গাড়িতে আমি কখনো যাইনি। তবে ঠিক সময়ে পৌঁছেলে রোদ চড়া হওয়ার আগেই দুবরাজপুরে পৌঁছে যাব।

    ভেস্টিবিউল গাড়ি। কিছুক্ষণ পরেই একটি ছেলে ‘লেবু চা’ ‘লেবু চা’ করতে করতে ওদের কামরাতে এল অন্য কামরা থেকে।

    খাবে?

    নীলকমল জিজ্ঞেস করল সল্লিকে।

    ট্রেনের লেবু চা কি ভালো হবে?

    লেবু চা, তারমধ্যে গোলমরিচের গুঁড়ো। চিনি-দুধ-এর চা-এর চেয়ে ভালো। খেয়ে দেখতে পারো।

    আপনিই খাওয়াবেন?

    এর চেয়ে, বেশিকিছু করি এমন সাধ্য কী আমার আছে?

    সল্লির চোখে চোখ পড়লেই নীলকমলের সব গোলমাল হয়ে যায়। হাত-পা অবশ হয়ে আসে। অবশ্য সেই ভাব গোপন করার চেষ্টা করে খুব-ই।

    সল্লি মুখে কথা না বলে, দু-টি গাঢ় গভীর কালো চোখ তুলে তাকাল নীলকমলের দিকে।

    নীলকমল লক্ষ করেছিল, বড়োঘড়ির নীচেই, যে, সল্লি একটা সাদা জমি আর সবুজ পাড়ের শাড়ি পরেছে। সবুজ ব্লাউজ। হালকা কোনো পারফিউম মেখেছে। সাদা আর সবুজ চৌখুপি চামড়ার চৌখুপি ব্যাগ একটা। স্নান করে উঠে চুলটা পনিটেইল করে বেঁধেছে। মাথার তেলের সুগন্ধ উড়ছে বাতানুকূল কামরাতে ওপরের পাখার হাওয়ায়। তখনও ভিজে আছে চুল। সল্লির ডান হাতের কনুই নীলকমলের বাঁ-হাতের কনুই-এর সঙ্গে লেগে রয়েছে। প্রথমবার ইলেকট্রিক শক লাগার মতন মনে হয়েছিল নীলকমলের। লাগতেই, হাত তুলে নিয়েছিল। তারপরে আবার সাহস করে আস্তে আস্তে সইয়ে সইয়ে চুঁইয়েছে। যেন অনবধানেই ঠেকে গেল, এমন করে! খুব ভালো লাগছে নীলকমলের সল্লির এতকাছে, গা ঘেসে বসে। এইরকম বুদ্ধিমতী, ছিপছিপে, সুন্দরী, সুগায়িকা একজন স্ত্রী যদি তারও থাকত, বেশ হত। সল্লিকে প্রথমবার দেখেছিল নীলকমল দূরদর্শনের একটি প্রভাতি অনুষ্ঠানে। সাদা খোলের ওপর হলুদ ফুল ভোলা এবং হলুদ পাড়ের একটি ঢাকাই শাড়ি পরে সে তাদের গানের স্কুলের একটি ব্লক-প্রোগ্রামে গান গাইছিল গানের স্কুলের হয়ে। রবীন্দ্র জন্মোৎসবে। গান-ই শুনবে, না ঢাকাই শাড়িই দেখবে, না দেখবে গায়িকাকে, তা বুঝতেই পারছিল না নীলকমল। বসন্তের বিকেলের মতন, বৈশাখের ভোরের মতন, শ্রাবণের দুপুরের মতন এমন সৌন্দর্য কোনো নারীর মধ্যে আগে দেখেনি নীলকমল। তার সর্বনাশ হয়েছিল সেই নাম-না জানা মেয়েটিকে দেখামাত্র। টিভির সামনে-বসা, ওর গাইয়ে সহোদরা রুমা বলেছিল, দাদা কী চমৎকার গায় রে মেয়েটি আর তেমন-ই ব্যক্তিত্ব! সুন্দরী তো অবশ্যই। তোর জন্যে বউ আনলে এইরকম বউদিই আনব।’

    নীলকমল করুণ হাসি হেসে বলেছিল শাড়িটা দেখেছিস? আমাকে বিক্রি করলেও কী অমন একটা শাড়ি হবে? কত দাম হবে রে?

    তা ঠিক জানি না। আমিও তো রোজ রোজ এমন শাড়িই পরি কিনা! তবে মনে হয় হাজার দু-তিন তো হবেই।

    হাজার দু-তিন! বলিস কী রে! এই কন্যার জন্যে কত রাজপুত্র অপেক্ষা করে আছে অর্ধেক রাজত্ব নিয়ে। অমন ফুলকে তুলে এনে ঘর সাজাই এমন ফুলদানি কী আমার আছে? না কোনোদিন হবে! তা ছাড়া, আমার বিদ্যা-বুদ্ধি এবং যোগ্যতাই বা কতটুকু যে, এমন মেয়ে আমাকে মানুষ বলে গণ্য করবে! আমি একটা যা-তা। দূরদর্শনে সেই প্রভাতি অনুষ্ঠান দেখার বছর দুয়েক পরে সেই মেয়েটিকেই যখন নববধূর বেশে বাজ-এর বিয়ের রাতে সুবেশা, সালংকারা দেখল বাজ-এর সঙ্গে মালাবদল করতে তখন বরযাত্রী নীলকমলের বুকের মধ্যে কে যেন, ছুরি আমূল বিদ্ধ করে দিয়েছিল।

    বিয়ের পর পর যখন, বরযাত্রীদের মধ্যে ফিরে এল বর তখন, বাজ তার কলেজের সতীর্থ এবং সহকর্মী নীলকমলকে বলেছিল, কিরে নীল, আমার বউকে পছন্দ হয়নি তোর? মুখটা অমন ব্যাজার করে আছিস কেন?

    নীলকমল মাথা নীচু করে বলেছিল, খুউব, খুউব।

    মুখে বলেছিল বটে সে-কথা, কিন্তু এক অদ্ভুত অপরাধবোধে আচ্ছন্ন হয়েছিল ও। বাজ-এর মুখে তাকাতে পর্যন্ত পারেনি।

    সপ্রতিভ বাজ বলেছিল, আরে আমার বউ তো পালাচ্ছে না। আর তুইও তো আমার কলিগ-ই। পরে তোর সঙ্গে ভালো করে আলাপ করিয়ে দেব। রুমার সঙ্গেও। তোরাই তো রবীন্দ্রসংগীত-টংগীত করিস। ওকে অ্যাপ্রিশিয়েট করবি তোরা। আমার তো ওসব একেবারেই আসে না। গান-ফান ওসব মেয়েলি ব্যাপার! আমার কোনোই ইন্টারেস্ট নেই।

    তারপর দেখতে দেখতে ছ-বছর কেটে গেল। জলপিপি জন্মাল। তারও বয়স হল চার বছর। ওদের দুজনেরই চাকরিতে অনেক উন্নতি হল।

    সল্লির সঙ্গে বাজ যেদিন আলাদা করে নীলকমল-এর আলাপ করিয়ে দিয়েছিল সেদিন সল্লিরও মনে হয়েছিল যে বলে, এতদিন কোথায় ছিলেন? ভেবেছিল, এতবড়ো পৃথিবীতে, কে আর কাকে চেনে? একজনকে পছন্দ করে জীবনসাথি করার পর কতজনের সঙ্গে চেনাজানা হয় আর তখন মনে হয়, ইশ এর সঙ্গে আগে যদি দেখা হত! এই তো আমার স্বপ্নের মানুষ! অথবা মানুষী।

    বিয়ের পরে, মা হওয়ার পরে, সল্লি যেন, আরও সুন্দরী হয়ে উঠল। আরও ব্যক্তিত্বময়ী। নীলকমলের কষ্ট আরও বাড়ল। সে কষ্টের কথা মুখ ফুটে কাউকে বলতেও পারেনি। বললেও সল্লি কি বুঝতে পারত? কে জানে! Love at firstsight বলে একটা কথা শোনা ছিল ওর। কিন্তু তা যে, এমন সত্যি হবে ওর নিজের জীবনে আর এমন কষ্টেরও, তা ও দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি। বাজ-এর বিয়ের রাতের দিন থেকেই শয়নে-স্বপনে-জাগরণে ও শুধু, সল্লিকেই দেখেছে। সল্লির কথাই ভেবেছে। কত নিদ্রাহীন বাসন্তী ও, বর্ষার রাতে তাকে কল্পনাতে কতরকম করে আদর করেছে। কোনো রাতে কল্পনাতে আদর করার পরেই যেদিন প্রথম দেখা হয়েছে সল্লির সঙ্গে, ভারি লজ্জিত হয়েছে ও। সল্লির চোখের দিকে তাকাতে পর্যন্ত পারেনি।

    সপ্রতিভ, রসিকা সল্লি হেসে বলেছে, কী হলটা আপনার নীলকমলবাবু? আমার প্রেমে পড়লেন নাকি?

    সল্লির এই নিষ্ঠুরতাতে মরমে মরে গিয়ে, নীলকমল বোকা-বোকা মুখ করে বলেছে, কী যে বলো।

    কেন? আমাকে ভালো লাগে না আপনার? আমি কি প্রেমের অযোগ্যা?

    লাগে, লাগে, খুব-ই লাগে।

    মুখ নীচু করে বলত নীলকমল।

    তারপরে বলত, কিন্তু তুমি তো বাজ-এর স্ত্রী। আমার বন্ধুপত্নী। তা ছাড়া…

    তা ছাড়া কী?

    প্রেমের কতরকম হয় সল্লি!

    সল্লি হেসে বলেছে, কী জানি বাবা। আমি তো একরকম-ই জানি। একরকমেই অস্থির। আবার কতরকম! তারপর কপট দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছে, প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে…কে কোথা ধরা পড়ে কে জানে!

    নীলকমলের চোখ সল্লির পোশাকের ওপরে পড়ল। হঠাৎ-ই। সল্লি তা লক্ষ করে স্বগতোক্তির মতন বলল, আমাদের গানের স্কুলের এই পোশাক। সবুজ পাড় সাদা শাড়ি। সঙ্গে সবুজ ব্লাউজ। অনেকদিন পরে পরলাম। স্কুলের সঙ্গে সম্পর্ক তো চুকে গেছে কবেই। তা ছাড়া আগের মতন আর নেইও স্কুল। হয়তো আমিও বদলে গেছি।

    আর হলুদ টিপটা?

    সেটা ইচ্ছে হয়েছে বলে পরেছি।

    তারপর বলল, জানেন, ভাবছি গান আবার শুরু করব নতুন করে। বাড়িতেও শেখাব। সপ্তাহে দু-দিন মেয়েদের।

    নীলকমল হেসে বলল, এমন করছ তুমি যেন, বাজ-এর সঙ্গে তোমার সম্পর্ক সব চুকেবুকেই গেছে। বাতিল করার আগে বিচার তো করতে হবে। বেচারি আদৌ অপরাধী কি না তা না জেনেই দন্ড ধার্য করছ? Ex-parte order! এটা ঠিক নয়। ধৈর্য ধরো। ধৈর্যর মতন। বড়োগুণ আর নেই।

    হঠাৎ-ই সল্লি বলল, আমার সঙ্গে বাজ-এর যদি সব, চুকেবুকেই যায়, আপনি আমার জন্যে, মানে, সসম্মানে আমাকে বেঁচে থাকতে দেওয়ার জন্যে কিছু কি সাহায্য করতে পারবেন?

    সাহায্য? হাসালে তুমি? আগে থাকতেই আজেবাজে ভাবছ যে, কেন তা আমি বুঝতে পারছি না।

    বুঝেছি। আপনি প্রশ্নটা এড়িয়ে যেতে চান।

    নীলকমল সল্লির দু-চোখে নিজের দু-চোখকে কানায় কানায় ভরিয়ে বলল, কী চাও তুমি বলো? কোন সাহায্য…কতখানি সাহায্য?

    আপনি কী দিতে পারেন, কতটুকু পারেন, তা না-জেনে বলি কী করে?

    সল্লি একনিশ্বাসে কথাটা বলে তাকিয়ে রইল নীলকমলের চোখে।

    নীলকমল বলল, সব, সব দিতে পারি, আমার সর্বস্ব। তোমাকে অদেয় আমার কিছুমাত্রই নেই।

    বাক্য দু-টি বাক্যবাগীশের মতন বলে ফেলেই নীলকমল ভাবল, বানিয়ে বলল না তো! ও কি নিজেই বলল কথাগুলো?

    সল্লি নীরবে হাসছিল। শুধু ঠোঁট নয়। ওর দুটি চোখ, ওর চিবুক, ওর মুখের শান্তশ্রী সব ই যেন ধীরে ধীরে হেসে উঠল, শুক্লপক্ষের রাতে চাঁদের আলো যেমন, ধীরে ধীরে ফোটে। চাঁদের আলোয় যেমন, ধীরে ধীরে ফোটে কুমুদিনী।

    নীলকমল-এর মনে হল ও ভালো লাগাতে অজ্ঞান হয়ে যাবে।

    সল্লি অস্ফুটে বলল, আমি জানতাম। আপনি মানুষটা খুব ভালো। খাঁটি মানুষ। এই যুগে, এই সময়ে আপনার মতন মানুষ বেশি দেখা যায় না।

    ভালো নই, ভালো নই, খাঁটিও নই…

    বলতে গিয়ে, নীলকমলের কথাগুলি মুখের মধ্যেই ভিজে গিয়ে নেতিয়ে গেল। সম্পূর্ণ করতে পারল না বাক্যটা।

    .

    ০৬.

    শান্তিনিকেতন থেকে ফেরার ‘গণদেবতা’ ছটা-কুড়ি নাগাদ বোলপুর স্টেশনে আসে এবং মিনিট দু-তিন দাঁড়িয়েই ছেড়ে যায়। ওরা যখন দুবরাজপুর থেকে ফেরার সময়ে বোলপুরে ঢুকেছে বোলপুর স্টেশনে পৌঁছোবে বলে, বোলপুর কোর্টের সামনে এসেছে, ঠিক তখন-ই ট্রেন-এর সময় হয়ে গেল।

    ধরসাহেবের ড্রাইভার বদরুদ্দিন-এর হাত খুব-ই ভালো। শেষ পনেরো মিনিট গাড়ি চালাল না হেলিকপ্টার-ই চালাল তা বোঝা যাচ্ছিল না। তবে ভয়ও করছিল। রুদ্ধশ্বাসে বসেছিল ওরা দু-জনে। এই ট্রেনটা ফেল করলে ওদের হয় সিউড়ি বা দুবরাজপুর ফিরে যেতে হবে নয়তো শান্তিনিকেতনের কোনো, হোটেলে বা টুরিস্ট লজ-এ রাত কাটাতে হবে। পরস্ত্রীর সঙ্গে রাত কাটালেই, আলাদা ঘরেই যদিও, যুধিষ্ঠিরেরও চরিত্রদোষ খুঁজে বের করবেন আত্মীয় পরিচিতরা, বিশেষ করে সল্লির বিয়েটাই যখন নড়বড়ে হয়ে গেছে।

    একথা ভেবেই টেনশান হচ্ছিল নীলকমলের।

    সল্লির তো হচ্ছিলই!

    ফ্যাকাশে মুখে সল্লি একবার বলল, পাব তো ট্রেন নীলকমল?

    দেখি।

    নীলকমল বলল।

    বদরুদ্দিন বলল, এগারো বছর গাড়ি চালাচ্ছি স্যার, আজপর্যন্ত আমার একজন প্যাসেঞ্জারও কখনো কোনো গাড়ি ফেল করেননি। নিশ্চিন্তে থাকুন স্যার। আমি নিজে আপনাদের ট্রেনে তুলে দেব। এ.সি. চেয়ারকার প্ল্যাটফর্মের কোথায় দাঁড়ায় তা আমি জানি। একটাই অসুবিধা এই যে, ওদিকের প্ল্যাটফর্মে আসবে ট্রেনটা। ওভারব্রিজ পেরুতে হবে।

    ওভারব্রিজ পেরুতে হবে? সেকী! তবে আর পেয়েছি ট্রেন!

    এবারে একেবারে হতাশ গলাতে বলল, নীলকমল।

    তাতে কী? মাল তো আপনাদের কিছুই নেই। ওই দুটো হালকা স্যুটকেস আমিই নিয়ে নেব। দৌড়োতে হবে কিন্তু।

    ওরা জবাব দিল না। উদবেগে ওদের দুজনেরই গলা শুকিয়ে গেছিল। তেষ্টাও পাচ্ছিল ভীষণ। মিনারেল ওয়াটারের বোতল দুটোও শেষ হয়ে গেছে। গরমও পড়েছে কিছু। সমস্ত শরীর জ্বলছে। যেন লঙ্কাবাটা লাগিয়ে দিয়েছে কেউ।

    গাড়িটা স্টেশনের কার পার্কে রেখেই অন্য একটি পার্ক করা গাড়ির ড্রাইভারকে বলল, বদরু, এই যতীন, গাড়ি দেখিস, গাড়ি খোলা রইল–আসছি এখুনি।

    বলেই, সামনের সিট থেকে ওদের স্যুটকেস দুটো তুলে নিয়েই বলল, আসুন স্যার।

    তারপর দৌড় লাগাল।

    সল্লি স্কুল-কলেজের স্পোর্টস-এর অনেক ইভেন্টে ফাস্ট হত। তারপরে নাচতও। শ্যামা হয়েছিল একবার। কিন্তু দৌড়োনোর অভ্যেস বহুদিন চলে গেছে। তবুও দৌড়োল। রাত নেমে আসছে। রাত নেমে আসার ভয়টা এক এক জন নারীর বুকে, এক এক সময়ে এক একরকম হয়ে জাগে। এ-কথার সত্যতা শুধু নারীরাই জানে।

    হাঁফাতে হাঁফাতে ওরা যখন, সামনের যে-দরজা পেল, তা দিয়েই উঠে পড়ল কম্পার্টমেন্টে, বদরু বলল, কনডাক্টর গার্ড ওই দিকে আছেন। কোনো চিন্তা নেই মেমসাহেব, গাড়ি উইকডেইজ-এ ফাঁকাই থাকে।

    ভুলেই গিয়েছিল সল্লি। কম্পার্টমেন্টে উঠেই দাঁড়িয়ে পড়ে ওর কাঁধে ঝোলানো ব্যাগটি খুলে একটি পঞ্চাশ টাকার নোট বের করে বদরুর হাতে দিতে গেল। সকাল আটটা থেকে, যে-মুহূর্তে ওরা ‘গণদেবতা এক্সপ্রেস থেকে নেমেছিল শান্তিনিকেতনে, বদরু ওদের খিদমগারি করছে এই অসহ্য গরমে।

    সল্লি হাত বাড়িয়ে বলল, এই যে, এইটে রাখো।

    বদরু বলল, না মেমসাহেব।

    কেন?

    অপ্রতিভ হয়ে বলল সল্লি।

    এরপরের বারেই নেব। তখন বড়োপাত্তি দেবেন মেমসাহেব। এবারে থাক।

    সল্লির মুখটা কালো হয়ে গেল।

    বদরুদ্দিন জানে না যে, সল্লির দুবরাজপুরে এই শেষবার আসা।

    ও বলল, পরেরবার আবারও দেব। এখন এটা রাখো।

    বদরু এবারে নিল, হাসিমুখেই। তারপর হাত তুলে সেলাম করল।

    পশ্চিমবঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এখনও সহবত, ভদ্রতা ইত্যাদি বেঁচে আছে। সরকারি, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের ড্রাইভারদের অনেকেই যেমন অসভ্য-অভব্য হয়, বদরু তেমন নয়। তেলও চুরি করবে, ওভারটাইমও নেবে, আবার অসভ্য ব্যবহারও করবে তারা।

    ট্রেনটা নিঃশব্দে ছেড়ে দিল। কখন যে, ছাড়ল বোঝা পর্যন্ত গেল না।

    নীলকমল হাতঘড়ির দিকে চেয়ে বলল, একেবারে অন ডট। হল কী আমাদের দেশের? এ-যে, জাপান হয়ে গেল দেখছি।

    অফিস থেকে ওকে মাস ছয়েক আগে জাপানে পাঠিয়েছিল পনেরো দিনের জন্যে। এখন কিছুদিন কথায় কথায় জাপানের প্রসঙ্গ এসেই যায় অসাবধানে।

    তারপর ওরা ভেতরে ঢুকল সুইং-ডোর খুলে। নীলকমল বলল, তুমি এখানে বোসো একসেকেণ্ড আমি কনডাক্টর গার্ডকে বলে আসি।

    কোথায় বসব?

    যেখানে খুশি, সব-ই তো ফাঁকা। তবুও আমি জিজ্ঞেস করে আসছি।

    কনডাক্টর গার্ডও এসে পড়লেন। বললেন, সব-ই তো ফাঁকা। যেখানে খুশি বসুন।

    দু-চারজন প্যাসেঞ্জার ছিলেন মাত্র পুরো কম্পার্টমেন্টে তবে বগির সামনের কম্পার্টমেন্টটাতে কিছু বেশি যাত্রী।

    ফাঁকাই ভালো। সল্লি ভাবছিল। এখন অনেক-ই জায়গা দরকার সল্লির। Space-এর দরকার ট্রেনে তো বটেই, জীবনেও। নীলকমলও যেন, স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল কম্পার্টমেন্টটা ফাঁকা পেয়ে। সল্লির মনের অবস্থাও ও বুঝতে পারছিল।

    বদরুকে দেখা গেল, এরইমধ্যে একদৌড়ে ওভারব্রিজ পার হয়ে উলটোদিকের প্ল্যাটফর্মে নেমে পার্কিং লট-এর দিকে যাচ্ছে। ওকে দেখে সল্লির মনটাও খারাপ হয়ে গেল। সল্লি জানে, আর এখানে আসা হবে না। ওকে এক-শো টাকার একটা নোট দিলেই হত। পরক্ষণেই ভাবল, টাকা তো ওর নয়, বাজ-এর। ওই টাকা ছুঁতে ঘেন্না হবে এবার থেকে। ছুঁতে যাতে না-হয়, তার একটা বন্দোবস্তও করতে হবে যত, তাড়াতাড়ি সম্ভব। এ-কথা ভাবতে ভাবতে সল্লির চোয়াল শক্ত হয়ে এল।

    দুবরাজপুরে ও আর আসবে না কখনো না কখনোই নয়। শান্তিনিকেতনে আসতে পারে। বসন্তোৎসবে, পৌষমেলাতে, বৃক্ষরোপণ উৎসবে, বা হলকর্ষণ উৎসবে।

    নীলকমল-এর এক উদবেগ গেল তো অন্য উদবেগ জাগল।

    ধরসাহেব নিজে সল্লিকে নিয়ে গিয়েছিলেন মেঝেন-এর বাড়িতে। এখন যার সঙ্গে থাকে বাজ। ওই গ্রামে আগে বাজ-এর সঙ্গে নীলকমলও গেছে। একাধিকবার গেছে। মেয়েটিকে দেখেওছে। সুন্দর ঝকঝকে তকতকে গ্রাম। গোবর নিকোনো। ঘুঘু ডাকছে পেয়ারা গাছে। মোরগ ডাকছে। ধান ভাঙছে কেউ কেঁকিতে। সুন্দর চিত্র-বিচিত্র করা। পোড়া-মাটির রঙা বা কালো-রঙা দেওয়ালে। সাঁওতালেরা ভারি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সুরুচিসম্পন্ন। বাজ নাকি তিনদিনের ছুটিতে আছে এখন। বিয়ে করবে কয়নাকে। দেনা-পাওনার কথাও হয়ে গেছে। আগামীকাল পূর্ণিমা। নাচ-গান হবে। শুয়োরের মাংস আর ভাত রান্না হবে। হাঁড়িয়া খাবে সকলে। তারপর সারারাত মাদল আর ধামসার সঙ্গে কাঁচভাঙা কণ্ঠস্বরের গান শোনা যাবে।

    কয়না মেয়েটি খুবই প্রাণোচ্ছল। অত্যন্তই সুন্দরী। যেমন মুখ-চোখ, তেমন-ই ফিগার। সিনেমাতে নামলে মুম্বইতে হিরোইন হতে পারত। তা ছাড়া খুব ভদ্রসভ্যও। লেখাপড়া জানে। সম্ভবত ক্লাস ফাইভ-সিক্স অবধি পড়েছিল মিশনারি স্কুলে। বাংলা তো পড়তে পারেই, ইংরেজিও পড়তে পারে। বলতেও পারে একটু-আধটু।

    নীলকমলের সহপাঠী বিবাহিত বাজ প্রথম যেদিন, এখানে আসে সেদিন নীলকমলকেও নিয়ে এসেছিল। এক পূর্ণিমার রাতে। ওই মেয়েকে দেখিয়ে বলেছিল, এই কয়না শোন, আমার তো বিয়ে হয়েই গেছে, তুই বিয়ে কর নীলকমলকে। তাহলে মাঝেমধ্যে তোকে দেখতে পাব।

    নীলকমল মুখে কিছু বলেনি। মনে মনে বলেছিল, তোর জন্যে আমি যেমন, মাঝে মাঝে সল্লিকে দেখতে পাই।

    কয়না দারুণ শরীরিণী। কিন্তু মেয়েদের শরীর-ই কি সব? সল্লির শরীরও তো কিছু খারাপ নয়। শুধু শরীরের প্রতিযোগিতা হলেও দু-জনে সমান নম্বর-ই পাবে। সল্লির পারিবারিক পটভূমি, অধ্যাপক বাবা, স্কুল-শিক্ষিকা মা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি, সাহিত্য-মনস্কতা, অমন সুন্দর রবীন্দ্রসংগীত সব-ই কি শুধু, ওই কৃষ্ণাঙ্গীর শরীরের কাছে তুচ্ছ হয়ে যাবে? কে জানে! বাজ চিরদিন-ই দুর্বোধ্য ছিল নীলকমলের কাছে, সেই কলেজের দিন থেকেই। আজ বাজ আরও বেশি দুর্বোধ্য হয়েছে।

    সল্লি যতবার-ই বাজ-এর লেখা চিঠিটির কথা মনে করছিল ততবার-ই হতবাক হয়ে যাচ্ছিল। যে, মানুষটা তার স্ত্রী আর শিশুকন্যা সম্বন্ধে এমন সংবেদনশীল, সেই কী করে এমন হয়? তবে কী সল্লি ওকে বুঝতে পারেনি? বাজ কী একজন তঞ্চক? এতবড়ো মারাত্মক ভুল যে, কী করে করল সল্লি, যে-ভুলের মাশুল দিতে হবে সমস্ত জীবন দিয়ে, তা ভেবে পর্যন্ত পাচ্ছিল না ও। বড়ো অসহায় লাগছিল সল্লির। আজকালকার ছেলেরা সকলেই কী এমন-ই তঞ্চক, ভন্ড, মিথ্যাচারী? লেখাপড়া শেখা উচ্চশিক্ষিত পুরুষমানুষদের চরিত্রও যদি এমন-ই হয় তবে আর কী বলার থাকতে পারে? কিন্তু নীলকমল-এর মতো পুরুষেরাও তো পুরুষ! আশ্চর্য! পুরুষের কত্তরকম হয়। কে জানে! হয়তো নারীরও হয়। ও একরকম, কয়না একরকম। তুলনা করতেও ঘেন্না হচ্ছিল ওর। শরীর! শরীর কী এতই বড়ো? নীলকমল পাশে থাকাতে মনে হচ্ছিল, সল্লির তার শেষ অবলম্বন হয়তো সেই হবে, কিন্তু তাকেই বা বিশ্বাস কী? সেও তো আর একজন পুরুষ-ই!

    এই মুহূর্তে সল্লির মনের মধ্যে কী হচ্ছে তা নীলকমল বুঝতে পারছে। কতখানি অপমানিত হয়েছে সল্লি, যে-অপমান, এই শরীরে জ্বালা-ধরানো গরমের চেয়েও অসহ্য, তা নীলকমল বুঝতে পারছে। কিন্তু, করার তো কিছুই নেই।

    বদরু যখন ট্রেন থেকে নেমে যাচ্ছিল তখন হঠাৎ পকেট থেকে বের করে নীলকমলকে একটা মুখবন্ধ লেফাফা দিয়েছিল। বলেছিল, সাহেব দিয়েছেন।

    কোন সাহেব? ধরসাহেব?

    না না।

    তবে। বাজ?

    হ্যাঁ।

    কাকে?

    আপনাকে।

    নীলকমল অবিশ্বাসী গলাতে বলল, ঠিক জানো, আমাকেই?

    হ্যাঁ স্যার। আপনার নাম-ই তো লেখা।

    ঠিক আছে।

    বলেছিল, নীলকমল।

    সল্লি তাকাল একবার চিঠিটার দিকে কিন্তু কোনো ঔৎসুক্য ফুটল না তার চোখে-মুখে। সব ঔৎসুক্যই যেন মরে গেছে ওর।

    ও চিঠি এখন পড়তে পারবে না। নীলকমল ওর মুখের ভাব গোপন করতে পারে না। কী লিখেছে? কে জানে বাজ। জলপিপির কথাও কী মনে পড়ল না! চার বছরের অমন সুন্দরী বুদ্ধিমতী একমাত্র মেয়েকেও অন্য নারীর শরীরের জন্য ত্যাগ করতে পারে এমন নিষ্ঠুর মানুষ যে, সংসারে থাকতে পারে এবং সে-মানুষ যে, তার সহপাঠী ছিল, তার ‘বন্ধু’ বলে পরিচিত ছিল এত দীর্ঘদিন, এ-কথা বিশ্বাস পর্যন্ত করতে পারছিল না নীলকমল। ভালোবেসে, বাড়ির এবং শ্বশুরবাড়িরও অমতে বিয়ে করেছিল যে-স্ত্রীকে, নিজেদের পরিবারের সব নিরাপত্তার দেওয়ালকে অগ্রাহ্য করে নিজস্ব নীড় করে তুলেছিল বাসা-বাড়িকে, অমন সুন্দর আধো আধো কথা বলা মেয়ে জলপিপিকে যে, এত ভালোবাসত, সে কী-এমন দেখল, এই নিকষ কালো সাঁওতাল মেয়ে কয়নার মধ্যে, কে জানে!

    এই ভাবনাটাই বিধ্বস্ত করে দিচ্ছে নীলকমলকে। আর সল্লির বুকের মধ্যে যে, কী হচ্ছে তা কে জানে! কোন মুখে সে, কলকাতা পৌঁছে তার মা-বাবাকে বলবে যে, বাজ তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে, এমনকী জলপিপিকেও সে ত্যাগ করেছে। কী করে বলবে সে-কথা?

    শিরীষবাবু হয়তো বলবেন, কেস করব। ডিভোের্স চাইব, খোরপোশ চাইব। টাইট করে ছেড়ে দেব ছোকরাকে। শিক্ষিত, সংযত, অধ্যাপক শিরীষবাবু হয়তো মুখ খারাপও করবেন। কখন যে, কোন আঘাতে, কোন নির্মোক ছিঁড়ে যায়, তা আগের মুহূর্তেও জানা যায় না। শিক্ষা, সংস্কৃতি, আভিজাত্য–এইসব মোড়কের কোনোটাই যথেষ্ট মজবুত নয়। মুহূর্তের মধ্যে ঝড়ে উড়ে যেতে পারে এইসব রঙিন র‍্যাপিং-পেপার।

    সল্লির মুখের দিকে সরাসরি তাকাতে পারছে না নীলকমল। চুপ করে বসেছিল ও। বাতানুকূল কামরা থেকে রাতের বেলাতে বাইরে ছাই কিছু দেখাও যায় না। দৃষ্টি যখন অস্বচ্ছতাতে বাধা পেয়ে প্রতিহত হয় তখন, মস্তিষ্কে তা বোবা ধাক্কা মারে। কোথায় যেন, পড়েছিল অনেকদিন আগে, “When there is nothing to be done, there is no point in trying to do something.”

    ঠিক এমন সময়ে প্রায় নিস্তব্ধ কামরার মধ্যে মা-আ-আ-আ করে জোরে চিৎকার করে উঠল একটি শিশুকন্যা। একেবারে জলপিপির-ই বয়সি। তবে চিৎকার করল দুঃখে নয়, আনন্দে। আনন্দের আতিশয্যে তার মা সম্ভবত পাশের কম্পার্টমেন্টে কারো সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। বাচ্চাটি যে, উঁচু পিঠ-অলা সিটের মধ্যে কোথায় ডুবে বসেছিল, তা পেছন থেকে বোঝা পর্যন্ত যায়নি আগে। পাশ থেকে তার ছোট্টখাট্ট বাবা রাশভারী গলাতে শিশুটিকে শাসন করে বললেন, শ-শ-শ। এটা কি আমাদের বসবার ঘর? ছিঃ। আস্তে মৌ।

    পাশের কামরা থেকে হেঁটে আসা মহিলার মুখে কিন্তু এক আশ্চর্য উজ্জ্বল হাসি জ্বলজ্বল করছিল, যেমন হাসি শুধুমাত্র সন্তান-গর্বে গর্বিতা অল্পবয়েসি মায়েদের মুখেই দেখা যায়। মায়ের বয়েসও সল্লির-ই মতো। মৌ-এর মা কিন্তু মৌকে বকলেন না বরং তাকে তার সিট থেকে তুলে বুকে জড়িয়ে কোলে টেনে নিয়ে নিজের সিটে বসালেন।

    একপাশে বাবা অন্যপাশে মা আর মায়ের কোলে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, সুন্দরী শিশুকন্যা। কী সুন্দর নিটোল একটি ছবি। এইরকম সব টুকরো-টাকরা ছবিই বোধ হয় নীলকমলের-ই মতন অগণ্য অবিবাহিত পুরুষ ও নারীকেও নীড়-এর স্বপ্ন দেখায়। আবার যেমন, সেই স্বপ্ন ভাঙায় আজকের রাতের সল্লির ছবির মতো ছবিও।

    সল্লির জন্যে নীলকমলের বুকটা নতুন করে হু হু করে উঠল। ওর কপালটাই এমন। পৃথিবীর যত দুঃখ সব-ই যেন, নীলকমল চুম্বকের মতন আকর্ষণ করে নিয়ে আসে তার নিজের বুকে অথচ সেইসব দুঃখের অধিকাংশই প্রতিকার করে এমন সাধ্য তার নেই। একেবারেই নেই।

    নীলকমল পকেট থেকে চিঠিটা বের করে সল্লিকে দেখিয়ে বলল, চিঠিটা কি তুমি পড়তে চাও?

    না। আপনাকে লেখা চিঠি আমি পড়ব কেন?

    আমি পড়েই বা কী করব?

    সে আপনি জানেন। না পড়বেন তো ছিঁড়ে ফেলুন।

    ফেলব?

    ফেলুন। নীলকমল বাজ-এর চিঠিটাকে কুচি কুচি করে ছিঁড়ে সামনের সিট-এর পেছনে যে-পকেট ছিল, তাতে ফেলে দিল। চিঠিটা তাকে বড়োঔৎসুক্য ও অস্বস্তিতে ফেলেছিল। হাঁফ ছেড়ে বাঁচল নীলকমল। সেই পকেটের দিকে একবার চেয়ে মুখটা জানলার দিকে ফেরাল সল্লি। কিন্তু রঙিন কাঁচের মধ্যে দিয়ে কিছু দেখা গেল না। সল্লি জানত যে, দেখা যাবে না। অথচ আশ্চর্য! তবু চেয়েছিল।

    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপাখসাট – বুদ্ধদেব গুহ
    Next Article পাখসাট – বুদ্ধদেব গুহ

    Related Articles

    বুদ্ধদেব গুহ

    বাবলি – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্ৰ ১ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ২ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৩ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    ঋজুদা সমগ্র ৪ – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    বুদ্ধদেব গুহ

    অবেলায় – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    দোকানির বউ

    January 5, 2025
    Our Picks

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026

    তালদিঘিতে ভাসিয়ে দেব – সায়ক আমান

    March 23, 2026

    কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য – সৌমিক দে

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }