Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পারিবারিক – মহাশ্বেতা দেবী

    মহাশ্বেতা দেবী এক পাতা গল্প222 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পারিবারিক : পুত্র

    না, ভয় পাবেন না। লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিভলবার তাঁর আছে। ব্যবহার করার দরকার পড়ে নি। আর জীবন তো তাঁর একেবারে অপচিত নয়। কত ঘুরেছেন, কত জায়গায় বনের সীমানা বাড়িয়েছেন, কত পশুপাখিকে নিরাপত্তা দিয়েছেন, স্ত্রী সঙ্গে কত ছুটি কাটিয়েছেন কত বন বিভাগের বাংলোয়। সে সব বন, সে সব গাছ, সে সব পাখি, আজ থাক বা না থাক, তাঁর মনে তো বেঁচে আছে।

    সুপ্রভাত শান্ত হয়ে যান। খুব শান্ত।

    পরদিন সকালেই কেডিয়া দম্পতি এসে পড়েন। অন্তত দ্রুত বাড়ি বন্ধ করে ছেলেমেয়েকে নিয়ে আবার চলে যান কোথায়। দুপুরে নিজেরা ফিরে আসেন।

    বাহাদুর বলে, মেয়ের জন্যে ভয় পাচ্ছে।

    —কেন?

    —ওর মেয়েই তো সেই বদমাসের নাম বলে দিয়েছিল। তাতেই তো সে ধরা পড়ে। সে যখন বেরোবে, তখন তো ওই বদমাস লেড়কির মুখ অ্যাসিডে জ্বালিয়ে দেবে।

    —তোকে কে বলল?

    —ওদের চাকর, আবার কে!

    তবে তিনিও র‍্যাট, মুনও র‍্যাট। তাঁর র‍্যাটিংয়ে পুলিশ এসেছে (ওদের বিশ্বাস) মুনের র‍্যাটিংয়ে সেই বদমাস ধরা পড়েছে।

    সুপ্রভাত নিজেকে নিরাপদ বোধ করেন।

    —তুই এসব নিয়ে কোনো কথা বলিস না।

    —না না। আমি হাওয়া বুঝি।

    .

    এখন হাওয়া কেমন তা বোঝা আবহাওয়া দপ্তরের একার দরকার নয়। মানুষদেরও চলার জন্যে অন্যদের মেজাজের হাওয়া বোঝা দরকার।

    তোতার কথা মালিনী মেজখোকাকে বলবে, অনুরোধ করবে, ”কাজ দিতে পারো না পারো, খেঁকিয়ে উঠো না”, সে সময় তোতা দেয় না।

    বকুলবাগানের ”বিপিন স্মৃতি” থেকে আলিপুরের ”সৈকত” লক্ষ যোজন মাইল দূরে। সভয়ে তোতা এসে ঢোকে। ভীষণ বড়লোকদের ওর ভীষণ ভয়ভক্তি। খুব অনন্যসাধারণ না হলে কেউ এত বৈভব করতে পারে না। মেজখোকা সম্পর্কে ওর কাকা হতে পারে কিন্তু নিশ্চয় সে নমস্য ব্যক্তি।

    মেজখোকা বিদেশে গেলে স্টেটসম্যানে ব্যক্তিগত খবরাখবরে সে খবর থাকে। পার্সোনাল কলামের খবর যে পয়সা দিয়ে ছাপাতে হয় তা তোতা জানে। তাই সে কাকার নাম দেখলেই ক্লাবে গিয়ে হামবড়াই করে।

    ফলে ওর অবস্থা সঙিন, সঙিন। সবাই বলে, কাকার মতো কাকা হলে চাকরি করে দিত।

    সেদিন মালিনীও গেল, ঠাকুমাও তোতার কথা বলল, কাগজের রাশিফলে তোতার সময়টাও ভালো, তোতা অনেক আশা নিয়ে ঢোকে।

    ঢুকেই মেজখোকাকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে, মালিনীকেও, বিশ্বনাথকে তো বটেই।

    বহুকাল পরে মেজখোকা বাপের ঘরে ঢুকেছে এবং সোদপুরের বাড়ি বিক্রি করার দরকার বোঝাচ্ছে। ক্রেতা বেনামে মেজখোকা! ওখানেও এখন আট—দশতলা বাড়ি তুলে ফ্ল্যাট বিক্রি করলে…অতটা জমি…সনকাবাস ভেঙে ফেললে…

    বিশ্বনাথ শুনে যাচ্ছিলেন।

    এ ঘরেই ঢোকে তোতা। কথায় বাধা পড়ে। মেজখোকা বলে, কে? একেবারে ভেতরে?

    সেদিন স্বামী—স্ত্রীর কথাবার্তা শোনার পর থেকে বিশ্বনাথ যেন অন্যরকম হয়ে গেছেন। কি যেন ভেবে নিয়েছেন এবং কথা—বার্তার ধরণ বদলে গেছে।

    বিশ্বনাথ বলেন, তোমার বড়মাসিমার নাতি। প্রমথেশের ছেলে, তোমার ভাইপো তোতা।

    —অ! তা হঠাৎ?

    —হঠাৎ নয়। আমরা সেদিন গিয়েছিলাম…

    —বড়মাসিমার বাড়ি?

    —হ্যাঁ।

    —তুমি, আর কে?

    —বউমা। আমিই নিয়ে গেলাম।

    —তা…এ ছেলেটি?

    —কমার্সে এম এ…টাইপ জানে…

    —চাকরি?

    —হ্যাঁ।

    —প্রথমত আমার হাতে কোনো চাকরি নেই। আর কাজের কথাবার্তা আমি বাড়িতে বলি না।

    —মেজখোকা।

    —তোমার নাম কি?

    —অ…অনিমেষ।

    —কোন, স্কুল, কোন কলেজ?

    —মিত্র ইনস্টিটিউশন, শ্যামাপ্রসাদ।

    —ছি ছি ছি! এ সব স্কুল কলেজে এখন কেউ পড়ে? একটা ভালো স্কুল…ভালো কলেজ…

    —তুমি তো সোদপুর স্কুল, আর রিপনের ছাত্র মেজখোকা!

    বাংলা স্কুলেও অনেকে পড়ে।

    —সে সময় আর এ সময়ে অনেক পার্থক্য বাবা…যাক, আর কি করেছ? কোনো সেক্রেটারিয়াল কোর্স? বিজনেস ম্যানেজমেন্ট? কস্টিং?

    —টা…টাইপ শিখেছি।

    —দেখ, তোমার মতো ছেলেকে…পার্ক স্ট্রীটে আপিসে এসো একদিন, দেখব কোথাও বলা যায় কি না…বাড়িতে নয়, বাড়িতে নয়!

    —কবে আসব?

    —যে কোনো দিন। লাঞ্চের আগে।

    —তবু…

    —বিষ্যুৎবার এসো।

    —আচ্ছা।

    মালিনী বলে, চলো তোতা! প্রথম এলে, একটু মিষ্টি খেয়ে যেতে হয়।

    ওরা বেরিয়ে যায়।

    —মেজখোকা!

    —বলো।

    —বিষ্যুৎবার তো তুমি বম্বে যাচ্ছ।

    —হ্যাঁ, যাচ্ছি।

    —ওকে আসতে বললে?

    —তুমি ভেবো না তো। ওর দরকার, ও আসবে, ঘুরবে, তুমি ভেবো না।

    —সোজাসুজি বললেও পারতে।

    —দেখাই যাক না।

    মেজাখোকা বলে, আসছি।

    মালিনী তোতাকে নিয়ে ঢোকে। বিশ্বনাথ বলেন, তোতা। তুমি পরীক্ষায় বস না?

    —কয়েকটা দিয়েছি।

    —আমার মনে হয়…ওগুলোতেই বোস। পরীক্ষার খাতা না কি কমপ্যুটারে দেখা হয়… মানুষের কোনো ব্যাপার নেই…

    —আগেও দিয়েছি, এবারও বসছি।

    —ঠাকুমা ভালো আছেন?

    —আছেন। আপনাকে আবার যেতে বলেছেন।

    —যাব।

    আরেকটু বসে তোতা উঠে পড়ে। মালিনী বেরিয়ে যায়। বিশ্বনাথ বলেন, দরজাটা খোলা থাক মা।

    —বাবা…

    —খোলাই থাক।

    মেজখোকা বেরোবার জন্য তৈরি। মালিনী আসবে বলে ও বেরোতে পারছে না।

    —তুমি বাবাকে নিয়ে ও বাড়ি গিয়েছিলে?

    —শুনলেই তো।

    —তুমি জানো আমি কোনো আত্মীয়স্বজনের বাড়ি যাওয়া পছন্দ করি না?

    —উনি হয়তো করেন।

    —না! তুমি…বাবা…

    মেজখোকা এ ঘরে ঢোকে।

    —বাবা!

    —বলো।

    —তুমি এখানে থাকবে…একশোবার থাকবে…কিন্তু দোহাই তোমার, ওই সব আত্মীয়স্বজনের বাড়ি যেও না। তুমি যাবে…ওরা আসবে…

    —সেটা তুমি চাও না।

    —না বাবা। এ সব আত্মীয়রা কাজ বাগাতে আসে, মনে মনে হিংসে করে…আমাদের সঙ্গে মেলেও না কিছুতে…

    —ছেলেটি কাজের জন্যেই এসেছিল বটে।

    —কে বলল আসতে?

    —আমিই বললাম।

    —বাবা! আমার যা ব্যবসা, তাতে কোনো আত্মীয় ঢোকানো আমার নীতিবিরোধী। আমি চাই না, আমার ব্যবসা নিয়ে কথা হোক।

    —আমার কোথাও যাওয়াও…

    —যাবে কেন? ওরা কারা? এখানে তোমার অসুবিধে কি? ঘর বিছানা, টেবিল…বিকেলে হাঁটছ…বেড়াতে চাইলে ময়দানে যাও…গঙ্গার ধারে…

    —না, সকলই সুবিধা।

    —সোদপুরের ব্যাপারটা ভেবো।

    —আরেকবার বলো।

    —ধরো আমিই কিনলাম…

    —কিনবে কেন? বাড়ি তো সকলের।

    —বাড়িটার দাম কষলাম, প্রত্যেকের শেয়ার কিনলাম, টাকাটা তুমিই তো পেলে…

    —কেমন করে? তুমি তো ওদের দিচ্ছ।

    —আমি তোমার কাছেই কিনছি, তুমি ওদের যা দেবার দিও, নিজেরও রেখো…

    —এত জটিলতা করবে কেন?

    —কি করে বোঝাই! এখন জমি, বাড়ি, এ সবে যা টাকা…ও বাড়ি ভেঙে ফেললে…

    —অনেক ফ্ল্যাট উঠবে।

    —নিশ্চয়ই। সর্বত্র হচ্ছে। ফ্ল্যাট বাড়ির প্রোমোটার হলে এখন ঢেলে টাকা আসবে…

    —অনেক টাকা?

    —অনেক।

    —বেশ, ভাবব।

    —ভাবো, ভাবো। ঝটপট করো।

    —ধরো, তুমি এটা করলে।

    —কলকাতাতেও করছি।

    —ভালো। কোথায়?

    —গড়িয়া, চেতলা…

    —ধরো অনেক টাকা হল।

    —হবেই, হতেই হবে।

    —তখন তুমি কি করবে?

    —আমি? আমি এখানেই থাকব। প্রতি বাড়িতে ফ্ল্যাট রাখব একটা ভাড়া দেব।

    বিশ্বনাথ বলেন, ভেবে দেখব? কি বলে বউমা? ভাবব না? বয়স পঁচাশি, ছেলেকে বাড়ি বেচে টাকা পাব…

    —বাবা! ওখানে তো কেউ থাকবে না। তোমার যা আছে না আছে, তাতে তোমাদের কোনো দরকারও নেই। তোমাকে আমার আগেই…

    —এ সব ভেবেছিলে?

    —মনে হয়েছিল।

    —সে জন্যেই আননি তো?

    —না না…হে হে…তুমি ঠাট্টা করছ।

    —ভালো, খুব ভালো।

    মেজখোকা বেরিয়ে যায়। মালিনী ওঁর দিকে চেয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।

    —বউমা!

    —বাবা!

    —কোথায় কোথায় যাব বলেছিলাম…

    —যাবেন। আমি আপনাকে নিয়ে যাব।

    —না মা, তা হয় না। হুকুম হুকুমই।

    —ও আপনাকে হুকুম দেবার কে?

    —মা! আমরা গেলেই তারাও আসবে। তোমাদের বৈভব দেখে কারো হয়তো চোখ টাটাবে, কেউ হয়তো এমনিতেই বেশি বেশি যাবে আসবে…ধরো কেউ যদি অপমানই হয়ে যায়…তুমি আমি কি করব?

    —আমার…আমার যে কেমন লাগে। মন খারাপ কোর না।

    —রবিবার দিলীপ আসবে।

    —হ্যাঁ, ওটা ঠেকাবার উপায় নেই।

    —আমি আপনার কাছে অপরাধী হয়ে থাকলাম।

    —না, তোমার কোন দোষ নেই। একটা জিনিস শুনবে? শোনো।

    কি বাবা?

    —শোনোই না।

    এক বাক্স ক্যাসেট। ক্যাসেটের ওপর তারিখ ও বিষয় লেখা। বেছে বেছে বের করেন বিশ্বনাথ।

    —ও কি?

    —শোনো, বুঝবে।

    মালিনী শোনে।

    —বলো তো দিনটা কেমন কাটল?

    —খুব ভালো। মেজখোকা বউমা বাবি…সারাদিন কি ভালো লাগলো।

    —ভালই তো লাগে সনকা।

    —মেজখোকা ঠিক তেমনি আছে তাই না? মাছ কিনে আনবে ফরমাশ করে রাখবে, মেজবউমাও এতটুকু বদলায় নি। ওই চুলটা যা কেটেছে।

    —মেজবউমা মানুষটা ভারি ঠাণ্ডা।

    —আমার পছন্দ করা মেয়ে, হবে না? মেজখোকা কেমন সাদাসিধে, বউও তেমনি। আমি তো ছবি দেখেই বললাম, আর কোনো কথা নয়। এখানেই বিয়ে হবে।

    —আমি কি বললাম?

    —তুমি বললে, তুমি লক্ষ্মী, তোমার পছন্দে লক্ষ্মীই আসবে। তোমার তো আমার কথা বলতে…

    —মেজবউমা কাছে থাকত যখন…

    —বড় ভাল লাগত গো! বউ নয় তো, মেয়ে!

    বিশ্বনাথ বন্ধ করে দেন।

    —বন্ধ করে দিলেন?

    —এরপর শুধু আমাদের কথা।

    —আপনার কাছে এরকম ক্যাসেট ক’টা আছে বাবা? অনেক?

    —অনেক। আমাদের তো শর্তই ছিল, যে আগে যাবে, তার কথা আরেকজন শুনবে।

    শস্তার রেকর্ডার, শস্তার ক্যাসেট, বড্ড দামী জিনিস। মালিনী বলে, ভালো ক্যাসেটে রি—রেকর্ড করিয়ে দেব, ভালো রেকর্ডার দেব, শুনবেন।

    বিশ্বনাথ বলেন, ও বাবা! অত টাকা তোমাদের আছে, যে ওঁর কেনা শস্তার রেকর্ডার, শস্তার ক্যাসেটকে টেক্কা দিতে পারে এমন মেশিন কিনবে? এর দাম কত জানো?

    মালিনী জলভরা চোখে তাকায়। ঘাড় নাড়ে। এমন ক্যাসেটের দাম ও জানে না।

    আজকাল কেউই জানে না।

    ৫

    ক্যাসেটটা শোনার পর মালিনীর মন যেন পূর্ণ হয়ে ওঠে। শান্তি পায় ও। মনে হয় না গুরুদেবের ধ্যান করি, তাঁর ছবি দেখি, ক্যাসেটে শুনি গুরুবাণী।

    মনে যেন জোরও পায় ও।

    এ বাড়িতে পাশাপাশি বাস করলেও কেউ কারো আপন নয়, তেমন হওয়াটা নিয়মও নয়। জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, লাঞ্চ, ডিনার, ককটেইল (আজকাল কেউ চা খেতে ডাকে না) এ সবে ডাকলে যেতে পারো।

    তেমন ডাকাও সকলকে ডাকা চলে না। যে—যার সে—তার মতো থাকো।

    এ বাড়িতে খবর চালাচালি হয় দাসদাসী—জমাদার—ড্রাইভার মারফত।

    গোপালও বলে যায়, কেডিয়াদের ছেলেমেয়ে এখন বাইরে, অন্য এলাকায়। কেন না বিগ জনি খুব মস্তান ছেলে। মুন ওর নাম পুলিশকে বলেছে, ওর শোধ ও নেবেই নেবে। মুন বলেছে যে পুলিশকে খবর দিয়েছে সেই বুড়োবাবু কি ছাড় পাবে।

    বাবি নিবিষ্ট মনে সকালে জগিং ও তিনটে থেকে জিমন্যাশিয়াম চালিয়ে যায়। মা বলেছে, পাশ করলেই সকালে সেন্ট জেভিয়ার্সে কমার্স পড়বে, দুপুরে বিশ্রাম, তিনটে থেকে জিমন্যাশিয়াম।

    মালিনী এখন নিশ্চিন্ত। মুনরা নেই। বাবি কথা শুনছে। মেজখোকা বাড়িতে এমন কিছু করছে না যাতে বিশ্বনাথ বিরূপ হন।

    বরঞ্চ বলেছে, তোমার সঙ্গেই তো বনে বেশি বাবার। ওঁকে নিয়ে বেড়াও, ঘোরো, আর মাঝে মাঝেই বোলো সোদপুরের বাড়িটার কথা।

    —আমি কেন বলব?

    —কি আশ্চর্য, টাকাটা কার হবে?

    —তোমার।

    —বাঃ. মালিনী, বাঃ।

    —টাকার হিসেব আমি রাখি, না জানি! তুমি যখন বলো, কাগজে সই করি। কিসে সই করছি তাও জানি না।

    —তোমারই তো সব।

    —এক সময়ে এত ছিল না। যা দিয়েছ তাতেই চালিয়েছি। এখন এত হয়েছে যা দিচ্ছ তাতেই চালাচ্ছি।

    —সোদপুরে আজ ফ্ল্যাট তোলা মানে জনসেবা করা। মানুষের বসবাসের একটু জায়গা…

    —বাবার ওই বাড়ি বাদ দিলে সোদপুরে আর জায়গা কি নেই?

    —সর্বত্র ফাটকাবাজ।

    —বাবার যা বয়স…

    —হ্যাঁ, কদ্দিন বাঁচবেন।

    —জানোই যখন, সবুর করো না।

    —সবুর করলে বাড়ি পাঁচ ভাগ। তখন সকলকে রাজী করানো কাজে এগোনো…বাবির ভবিষ্যৎটাও ভাবো।

    —বাবির ভবিষ্যৎ কি খুব অনিশ্চিত। জানি না তুমি এত নিশ্চিন্ত হয়ে থাকো কেমন করে। আমি তো ভাবলে কূল পাই না…

    এই ফ্ল্যাট তিন হাজার বর্গফুট, অন্যটি বড্ড ছোট, আঠারো শো বর্গফুট। পার্ক স্ট্রীট, ডালহৌসিতে নামী—বেনামী দুটি অফিস গোলডিলক ম্যানসনে লীজ নেয়া ফ্ল্যাট (উদ্দেশ্য এনটারইনমেন্ট। সব মক্কেলকে বাড়িতে আনা যায় না), দুটি আপিসে ছয়টি গাড়ি বাড়িতে দুটি…

    এই সব কিছুর মালিক মেজখোকা ভাবলে কূল পায় না কিছুতে মালিনী, স্বামীর দিকে চেয়ে থাকে। তারপর বলে, দেখব।

    —দেরি কোর না।

    —সে আমি বলতে পারি না।

    আঁচল উড়িয়ে চলে যায় মালিনী। মেজখোকা দেখে, যেন বদলে যাচ্ছে মালিনী।

    দুপুরে ছেলে ও শ্বশুরের সঙ্গে খাচ্ছে। ডায়েট ছেড়ে দিয়েছে। আবার সুতির শাড়ি পরছে। চুল টেনে দেখছে কতটা লম্বা হল।

    সেদিন বেশ জোর দিয়েই বলল, গোপালকে চাকরি করে দেবে বলেছিলে, কবে দেবে।

    —দেব, দেব।

    —ও তো অফিসার হবে না। হবে পিওন বা বেয়ারা। —সেটা করে দাও।

    —এত তাড়া কিসের।

    —চার বছর হল, ও আর থাকবে।

    —দেখছি, দেখছি।

    —লোক গেলে লোক আমি খুঁজতে যাব না।

    —আমি যাব।

    —এদিকে লোকজন পাওয়া, রাখা, খুব বিপজ্জনক। ওই তো কপোত কমপ্লেক্সের মালীটা সবাইকে লোক দেয়। পোর্ট এলাকার লোক যত। জাল সার্টিফিকেট দেখায় সব। ও বাড়িতে কতগুলো বড় চুরি—ডাকাতি হল বল তো। গোপালের মত লোক গেলে পাব।

    —এবার ওকে করে দেব।

    —টাকা আনছ, রাখছ লকারে, ও বোঝে না।

    —দেব, বলছি তো!

    বিশ্বনাথ যেন বদলে যাচ্ছেন। সোদপুরের কথা বললেই বলেন, ভাবছি মেজখোকা।

    সত্যি বলতে কি, ছোটখোকা, বেবি, কাউকে বিশ্বাস পাচ্ছে না মেজখোকা। ”বাবা এসে ক’দিন থাকুন” এ হেন সন্তানোচিত প্রস্তাবকে ও নাকচ করে দিচ্ছে।

    —না না, আমার ওখানে উনি চমৎকার আছেন। মালিনী সর্বদা দেখছে পার্কে বন্ধু হয়েছে কিছু…

    —বাঃ, আমরা ওঁকে কাছে পাব না।

    —তোমরাই এসো না ঘন ঘন।

    দীপক বলে, অযথা উদ্যম খরচে আমি নেই ভাই। সামনে তোমার বিবাহবার্ষিকী…কত বছর হল। আঠারো না উনিশ।

    —আঠারো।

    —শ্বশুরমশাই যেমন আছেন থাকুন না। উনি ঠিক সেঞ্চুরি করবেন। পাঁচ বছর তুমি, পাঁচ বছর ছোটখোকা, শেষ পাঁচ বছর বেবি।

    বেবি বলে, বাবা জামাই বাড়িতে থাকবেন না।

    দুটি গোলমেলে টেন্ডার ধরিয়ে দীপক এখন খোসমেজাজে। দীপক বলে, আরে দশ বছর বাদে জামাই কোথায়। উনি তো মেয়ের কাছেই থাকবেন।

    —তুমি কোথায় থাকবে।

    —মরদ কা বাৎ হাতি কা দাঁত প্রেয়সী! তখন আমি ”আশ্রয়” হোমে থাকব। মোটা টাকা ফেলব, আলাদা কটেজ নেব, ভিডিও থাকবে। ওয়েস্টার্ণ ছবির ক্যাসেট আর পাঁচশো ডিটেকটিভ বই, ব্যস। টা টা গুড বাই!

    —ছেলে—মেয়ে।

    —তখন তোমার আটচল্লিশ, ছেলে—মেয়ের ত্রিশ—একত্রিশ। আমি ভাবব কেন। মেয়েকে তো কুড়ি না হতে বিয়ে দেব, তখন তুমি হয়তো দিদিমা!

    —দীপকদা! কুড়ি না হ’তে।

    —শিপ্রা! সবাই তুমি নয় ভাই। আমার কন্যা ও পুত্রের পেছনে যা খরচ করি তাতে দশটা ছেলে মানুষ করা যায়। কিন্তু কন্যাটি কোনমতে পাশ করে।

    কৃতজ্ঞ মেজখোকা দীপকের কাছে। বাবা প্রসঙ্গটি ঘুরিয়ে দেবার জন্যে।

    দীপক বলে, মালিনী এল না।

    —না। ওর খুব স্বাধীন মতামত হয়েছে।

    শিপ্রা ঈষৎ হেসে বলে, ভালো।

    —ভালো নিশ্চয়, তবে বাড়াবাড়ি ভালো নয়। আমাদের ক্লাবের বসে আঁকো প্রতিযোগিতায় কিছুতে জজ হল না। বলল, তোমার বউ বলেই এতদিন হয়েছি! আর না। আঁকার কিছু জানিই না যখন…অথচ একসময়ে মালিনী বেশ আঁকত…

    ছোটখোকা ঈষৎ হাসে। বলে, আঁকত বড়বউদি। মেজবউদি সেলাই—টেলাই করত এক সময়ে…খুব গোছালো সংসারী ছিল।

    বেবি বলে, সে এখনো আছে।

    দীপক বলে, তোমরা এমনভাবে বলছ যেন গোছানো সংসারী হওয়াটা কিছু নয়। ওটা খুব বড় গুণ। মালিনীকে আমি খুব তারিফ করি।

    এখানেই কথাটা ফুরোয়।

    বিবাহবার্ষিকীর কথা বলতে মালিনী বলে, থাকুক এবার।

    —কেন।

    —মা গেছেন আজ সাত মাস…

    —তা ব’লে আমরা কেন…।

    —মা—বাবা কোনদিন বিবাহবার্ষিকী করেননি। আমরাই ষাট বছর হতে…সুখী দম্পতিদের বিজ্ঞাপন দেবার দরকার করে না।

    —এ সবের সামাজিক দিকও তো আছে।

    —দেরি তো আছে, দেখা যাক।

    —এই রবিবার বেবিদের ডাকবে।

    —না, এ রবিবারটা থাক।

    —বেবি বলছিল।

    —তা তুমিই যাও না। বাবিকেও নিয়ে যাও। ও তো সোনা রূপার সঙ্গে ভালই থাকে। ওখানে গেলে তোমরাও বিয়ার খেতে পারবে।

    —ব্যাপারটা কি বলো তো।

    —কিছুই না। সোদপুর থেকে বাবার কাছে দিলীপ আসবে বাড়ির খবর নিয়ে।

    —দিলীপ কে।

    —আশ্চর্য! মীরার বর।

    —মীরা!

    —বাবা—মার কাছে থাকত, ও বাড়িতে থাকে।

    —ও!

    —আমি না থাকলে…

    —হ্যাঁ…আমি না থাকলে চলবে। কিন্তু তুমি না থাকলে…সে কি খবর আনবে।

    —বাড়িটার খবর, আর কি!

    —তা আসুক। বেশিক্ষণ যেন না থাকে। আসলে বাবাকে আমার কথাটা বুঝতেই হবে।

    —কি কথা।

    —সোদপুরের বাড়ির কথা। তখন বাবা উদার হলেন, গোবরডাঙার বাড়ি বেহাত হল।

    —সে তো তোমাদের পিসীমার মেয়ে…সে সময়ে তার কিছু ছিল না…তোমাদের তো অনেক আছে…

    —তুমি বুঝবে না।

    —কেমন করে বুঝব। আমার মা—বাবাকেও কতজনের ভার নিতে দেখেছি…

    —দেখ মালিনী, গোবরডাঙার বাড়ি মায়ের ভোগে গেছে। সে যাক। কিন্তু জমি মানে সোনা। সে বাড়ি তো আমাদেরই প্রাপ্য ছিল, তাই না।

    —জানি না।

    —সোদপুরের বাড়িও মায়ের ভোগে যাবে, দেখো। ওই সব মীরা, দিলীপ! ওপরের ভাড়াটেরা…

    —কাকে কি বলছ? ওঁরা ডাক্তার। তোমার মা যেটুকু চিকিৎসা পেলেন, ওঁরাই করেন। মীরার মা, মীরা, দিলীপ, এরা বাবা—মাকে কিভাবে আগলে রাখত। মাইনে তো ওঁরা ভাড়ার থেকেই দিতেন, দেন।

    —মাইনে, কতভাবে বাগাত, বাগাচ্ছে…

    —দেখ! সোদপুরের চিঠি পান না বলে বাবাই ওকে আসতে লিখেছেন। তাই তুমি যদি থাকো, তাহলেও কোনভাবে অশান্তি কোরো না।

    —ঠিক আছে, ঠিক আছে। …কি জানো…আমারই ভুল! চিঠি বোধ হয় এসেছিল…

    মালিনী ফ্যাকাসে হয়ে যায়।

    —ওদের চিঠি এসেছিল?

    —বোধহয়।

    —কোথায় গেল?

    —আমিই কোথাও…দেখব…

    হতাশ গলায় মালিনী বলে, না। এখন দিও না। বরঞ্চ চিঠি আসে নি, বাবা তাই জানুন। চিঠি যদি দিতে, তাহলে হয়তো উনি ওকে আসতে লিখতেন না। কিন্তু…সে চিঠিতে কি ছিল যে তুমি বাবাকে দাও নি।

    —গেঁয়ো লোকদের কৌশল যত। বাবাকে ওখানে নিয়ে যাবার চেষ্টা। ওঁকে না দেখে মন কত খারাপ হচ্ছে, মায়ের নামে ওরা তুলসী দিচ্ছে! রাবিশ! তোরা, তোরা দেবার কে? বাবার ছেলে, না নাতি?

    —তোমরা তো কিছু করছ না। ওরা যদি…

    —আরে যত ননসেনস। কোন গাছে কি ফুল ফুটছে, পাম্পটা তুহিন সারিয়ে নিয়েছে…বাৎসরিক যেন ওখানে করা হয়…

    —এগুলো তো খুব নির্দোষ কথা।

    —না। প্যাঁচ কষে বাবার মন গলিয়ে ওঁকে নিয়ে যাবার চেষ্টা। সেজন্যেই দিই নি। আমি চাইনি যে বাবার সঙ্গে সোদপুরের কোনো যোগাযোগ থাকুক।

    —আমার কিছু বলার নেই। শুধু দোহাই তোমার, এ সব নিয়ে মাথার জট পাকিয়ে রবিবার বিয়ার—টিয়ার খেয়ে অসময়ে এসে পোড় না।

    —এলে আসব।

    —বাবার সামনে!

    —আমি বাবার বাড়িতে নেই। বাবা আমার বাড়িতে আছেন। আমার জীবন যেমন তা জানলে জানবেন। আমি তো পাপ করছি না।

    —আমার কিছু বলার নেই।

    রবিবার এসে পড়ে। মালিনী যন্ত্রচালিত, যন্ত্রচালিত। মেজখোকা বাবিকে নিয়ে বেরিয়ে যায়। বিশ্বনাথ মালিনীকে বলেন, দিলীপ ভাত একটু বেশি খায় মা, খাটাপেটা মানুষ।

    —হ্যাঁ বাবা। ভাববেন না।

    —তুমি কি ভাবছ বল তো?

    —কই কিছু না তো।

    —কোনো আড়ম্বর কোর না।

    —না না, মাছ দু’রকম…

    —ওরা তো মাছ পায়ও না। খায়ও না বলতে গেলে। দু’রকম মাছ। দিলীপের মহাভোজ।

    বিশ্বনাথ আজ অসম্ভব খুশি। ছোট ছেলের মতো। বলেন, তোমাকে তো বলাই হয় নি একটা কথা।

    —কি, বাবা?

    —আজকের দিনটা কি, তা জানো?

    —না, বাবা।

    —আজ ওঁর জন্মদিন। যদি থাকতেন, আজ পঁচাত্তর পুরে ছিয়াত্তরে পড়তেন। দেখ কি যোগাযোগ। আজকের দিনেই দিলীপ আসছে।

    —দিলীপ তো মাকে খুব ভালবাসত।

    —খুব। ছেলেটা এমন সৎ! এটা ওটা কেনা—বেচা করে পেট চালায় তা বাজারে কোন ফড়ের ব্যাগ পড়ে যায়। ও সেটা খুলেও দেখে নি। ঠিক তাকে পৌঁছে দিয়েছিল। কতজন বলল। নিয়ে নে।

    —ও নেয় নি?

    —সে ছেলেই নয়। ফড়ে তো অবাক। বাজারিয়া একটা ছেলে। দেড় হাজার টাকা। ছোট ব্রিফ ব্যাগ, তা একটা নোট সরায় নি? সে ওকে দুশো টাকা দেয়। তাই নিয়ে ও কারবার শুরু করে।

    —কিসের কারবার?

    —শস্তার লাইটার…টর্চ…হাতের কাজও জানে নানা রকম। আমরা তো কোনোদিন ইলেকট্রিকের কোন ব্যাপারে ছোটখাট মেরামতিতে কারিগর মিস্ত্রিকে পয়সা দিই নি।

    স—ব দিলীপ!

    —বাবা! মার সন্তান বেশি বয়সে হয়েছিল। তাই না? আজ ভাবছিলাম। বড়দার তো আটচল্লিশ।

    —হ্যাঁ মা! প্রথম দিকে তিনবার হয়েই মরে যায়। অনেক চিকিৎসার পর…বড়খোকা হয় যখন, ওঁর প্রায় সাতাশ।

    —সাতাশ!

    —হ্যাঁ…সবাই আশা ছেড়ে দিয়েছিল। সেই জন্যেই তো উনি বলতেন। ওরা আমার তপস্যার ফল, বিধাতার আশীর্বাদ!

    —অত্যধিক আদর দিতেন?

    —না না। বেশ শাসন করতেন। মারেননি কখনো, তবে রাগ ছিল।

    কারা তপস্যার ফল, বিধাতার আশীর্বাদ? নির্লিপ্ত বড় ছেলে। টাকার নেশায় নির্লজ্জ মেজ ছেলে। অত্যন্ত আত্মকেন্দ্রিক ছোট ছেলে। কখনো অস্থির কখনো শান্ত স্বার্থপর বড় মেয়ে। বিদেশে নিজের জীবন গড়তে ব্যস্ত ছোট মেয়ে?

    —মারো না মারো, রাগটা দরকার।

    —হ্যাঁ, বাবা।

    —বাবি তো বেশ শান্ত হয়ে গেছে।

    —হ্যাঁ।

    —না চাইতে সব পেয়ে যায় তো। তাই এখনকার বড়লোকের ছেলে—মেয়েরা কোনো কিছুর মূল্য বোঝে না।

    —আমরাও তো মন দিতে পারি না বাবা। তাই সর্বদা যা চায় দিয়ে…

    —ওই ভুল কোর না। ঘুষ দিও না।

    —বড় ভাবনা হয়। দেখি, কতদূর পারি।

    —তোমার মা ছিলেন সম্রাজ্ঞী। আমি ওঁর সংসার সাম্রাজ্যে একটি কথাও বলতাম না।

    —ওরা সোদপুরে পড়ল কেন? বাড়ি তো করলেন অনেক পরে।

    —ঘোরার চাকরি। ওখানে জমি কিনলাম…জায়গাটাও ভালো লাগল…বাড়ি ভাড়া নিয়ে ওঁকে রাখলাম…আমারও রিটায়ার করার সময় হলো…এক্সটেনশান আরো ক’বছর তারপর…

    —কলকাতায় ওরা?

    —হস্টেলে থাকত।

    —আপনাদের নিজেদের খুব মিল ছিল।

    —তা ছিল। কোনো কাজেই উনি বা আমি, যেন সঙ্গে আছি, যেন একলা নই, এরকম একটা…কলকাতায় ছোট খোকার জন্যে ঘর ভাড়া…সে অনেক ইতিহাস। বললে ফুরোবে না।

    —তারপরেও তো বাড়ি করলেন!

    —উনি ছিলেন ব’লে। কত টেনে চলতেন। সংসারে কিসে সাশ্রয় হয়…সব উনি!

    আর মালিনী নিঃসঙ্গ, নিঃসঙ্গ। এমন একাকিত্ব বড় দুঃসহ।

    দিলীপ এসে পড়ে।

    দিলীপ, তুহিন, বিদিশা।

    —আসুন আসুন। এসো দিলীপ।

    বিদিশা বলে, মেসোমশাই আছেন। লিখেছেন, ও আসবে। তা ও তো ভয়ে সারা।

    —কিসের ভয়?

    —এ সব বাড়িতে ঢুকতে আমাদেরই একটু সাহস লাগে, ওর তো লাগবেই।

    —চলুন বাবার ঘরে।

    ঘরদোর দেখতে দেখতে ওরা ঢোকে বিশ্বনাথের ঘরে।

    দিলীপ আড়ষ্ট, বিশ্বনাথ খুশিতে উচ্ছল।

    —এ যে সবাই মিলে!…বউমা!

    —সব ঠিক আছে বাবা।

    —বিদিশা বলে, আমরা খেয়ে এসেছি।

    মালিনী বলে, শুনছে কে? আবার খাবেন। দিলীপ এত চুপচাপ কেন?

    তুহিন বলে, ও ওর দাদুর সঙ্গে গল্প করবে।

    —বিশ্বনাথ বলেন, দিলীপ চিঠি লিখেছিল বলছে?

    —লিখেছি দাদু। তিনটে চিঠি।

    —পাই নি তো। ঠিকানা ঠিক ছিল?

    —ডাক্তার মামী লিখে দিয়েছিলেন।

    —কি জানি ডাকের তো গোলমাল হয়। থাক, বাড়ির খবর বলো।

    মালিনী বলে, আমরা ও ঘরে যাই?

    —না না, তুমি থাকো। বুঝলে তুহিন। কলকাতায় বাস, সে আমার পক্ষে…এই বউমা আমাকে ভুলিয়ে রাখে। সব সময়ে আগলায়।

    —বাবার যেমন কথা।

    —যেন আমি ওর ছেলে।

    বিদিশা বলে, সে তো হবেই। আপনার ছেলে বউয়ের কাছে থাকবেন…মীরার মা, ওরাও তা মানে কিন্তু আপনাকে দেখতেও…আমাদেরও ইচ্ছে হয়।

    —আসেন না কেন? কলকাতায় তো আসেন।

    —কাজ নিয়ে আসি তো…

    দিলীপ বলে, বাড়ি যেমন ছিল তেমনই আছে দাদু। বাতাপি লেবুর গাছের গোড়ায় উই লেগেছিল, ওষুধ দিয়েছি। নারকেল গাছ ছাড়াতে হবে, ফল পাড়তে হবে…

    —সে তো ভাদ্র মাসে রে!

    —এই সাত মাস মা দিদিমার নামে তুলসী দিয়েছে। তা বছুরকির কাজ কোথায় হবে!

    —বাৎসরিক! দেখি কোথায় হয়।

    রব উঠে গেছে, বাড়ি ভাড়া দেবেন। সামনে লোক আসছে, খোঁজ নিচ্ছে। তা আমি বলি, আমি কিছু জানি না।

    —তোরা কোন ঘরে আছিস?

    —আছি রান্নাঘরের বারান্দায়! তবে রাতে আমরা বাইরের ঘরে শুই, মা ওদিকে দুটো দিকেই পাহারায় থাকে। মীরা একটা নেড়ি কুকুর পুষছে, সে বাগানে…

    —বাগানের আলো তো জ্বালা থাকে?

    —হ্যাঁ, হ্যাঁ।

    তুহিন বলে, আপনি বলেছিলেন নিচের ইলেকট্রিক বিল, বাড়ির ট্যাক্স ভাড়া থেকে কাটান করে ব্যাঙ্কে জমা দিচ্ছি।

    —কি রকম বোঝ? মিস্ত্রি লাগানো দরকার।

    —একবার লাগলে ভালই হত…

    —হ্যাঁ, পাঁচিলটা…বাইরের কলতলা…

    —এই থলিটা কোথায় রাখব মামীমা?

    —কি আছে?

    —এই…

    ডাঁটা, লেবু, লঙ্কা, বেগুন, হলুদ, জবা ফুল সেলোফেন মোড়কে বিশ্বনাথ হাত বোলান বারবার ফুলে।

    বউমা! এখন নীল জবা, সাদা জবা, হলুদ জবা, রক্তজবা, গোলাপী জবা…ওঁর হাতে লাগানো।

    —আমি সাজিয়ে রাখি আপনার ঘরে। দিলীপ, তরকারি নিয়ে এসো ভাই।

    —এ সব জিনিসের স্বাদই আলাদা। আর কিচেন গার্ডেন তো মীরার মায়ের। উনি আর মীরার মা পরামর্শ করে করে…

    আগে আগে আমিও কত এনেছি।

    মালিনী বেরিয়ে যায়। বিদিশা ওর পেছন পেছন আসে। বলে, একটু দেখি। বিজ্ঞাপন ছাড়া তো দেখতে পাই না। এ সব।

    নিকিতাশা ওভেন, কতরকম বাসন, ডীপ ফ্রিজ, এমনি ফ্রিজ। রান্নার ঘর বিদিশার শোবার ঘরের সমান।

    মালিনী বলে, আমি অত কিছু সব সময়ে ব্যবহার করি না। গ্যাসেই কাজ চালাই। সুবিধে বোধ করি।

    —বউদি! একটা কথা ছিল।

    —বলুন না।

    —কোথাও বসি।

    —আমার ঘরে চলুন।

    —চলুন।

    মালিনীর ঘরে বিশাল আলমারি, বিশাল খাট, ড্রেসিং টেবিল, সবই পুরনো আসবাব।

    —ওর সখ। নিলাম থেকে পুরনো জিনিস কিনবে, পুরনো ডিজাইন হবে, সে শুধু আমার ঘরে।

    —একেক ঘরে একেক রকম?

    —বলো কেন?

    মালিনী কি যেন ভাবে। বলে, বিয়ের ফার্নিচার তো ফেলেই দিল। এ বাড়ির ঘর—দোর কারা যেন…নবীনা ইনটেরিয়ার ডেকোরেটর্স সাজিয়ে দিয়েছে!

    —খুব সুন্দর তো।

    —ওর শখ!

    বিদিশা দেখে নেয় ঘরে ঘরে টিভি, ভি সি আর। না, বিলাসের উপকরণ অঢেল।

    —কি বলছিলেন?

    —মেসোমশায়ের সামনে বলা ঠিক হত না…একটু ডেলিকেট ও একদিন নন্দন (মেজখোকা) বাবুর আপিসে গিয়েছিল, ওদিকে কাজ ছিল ওর…

    —ও কিছু বলেছে?

    —বলেছিলেন—বাড়ি বেচে দেবেন…ওপর—নিচ খালি করবেন…মানে…

    —কবে? সময় দিয়েছে?

    —ওই বলেছে, মানে তুহিন, অন্তত তিন মাস সময় দিতে। উনি বলেছেন, সে সময় পাবেন আর এ কথা মেসোমশাই যেন না জানেন।

    মালিনী বলে, কতদিন আগে?

    —মাস চারেক তো বটেই।

    মেজখোকা! ওর স্বামী!

    —আপনাকেই বললাম।

    —দিলীপরা জানে?

    —না, ওদের বলি নি। আমরা বলার কে? আপনাদের বাড়ি, আপনারা যা কিছু করবেন তাই হবে। আমরা কেন বলব?

    —এ কথা আমার—আপনার মধ্যেই থাকুক ভাই। এখনি এ কথা উঠছে না। বাবাকে বললে বাবা মনে ভীষণ আঘাত পাবেন।

    —মাসীমার কাজ?

    মালিনী অনেক দূরে চলে যায়। বেদনার্ত ওর হাসি। ও বলে আমার কথায় তো কিছু হবে না। ছোটছেলে বোধ হয়…সে ওরা ভাইবোনে যা ঠিক করবে…মা বাবা বিশ্বাস করতেন, আমিও করি, কিন্তু বিশ্বাস করুন আমার কোন কথাই খাটবে না।

    —আপনি তো স্ত্রী।

    —ওদের মা, ওদের বাবা, ওর বাড়ি।

    —এসব খাওয়াটাওয়া…

    —বাবা কত খুশি হয়েছেন! বাবাকে তো এই কাছে পেলাম! ওঁর জন্যে কি বা করতে পারি…

    —ওঁর প্রাণটা সনকাবাসে পড়ে আছে।

    —একেবারে।

    —ওঁদের মতো সুখী…

    —দেখা যায় না।

    —চলুন, ও ঘরে যাই।

    —হ্যাঁ, আমি খাওয়ার ব্যবস্থা দেখি।

    —আমরা চারটের মধ্যে পৌঁছতে চাই।

    আজ বিশ্বনাথের পছন্দমতো সব রান্না। মোচার ঘন্ট, মটর ডাল, সুক্তনি, রুইমাছ ভাজা, রুইমাছের ঝোল। টক, দই, মিষ্টি বিশ্বনাথ খাবেন না ওরা খাবে।

    টেবিলে ওঁরাই বসেন। দিলীপ এখানে বসে খাবে না। ওকে রান্নাঘরে বসিয়ে খাওয়ায় মালিনী। ও শুধু বলে, এত পারব না মাসীমা। অভ্যেস নেই।

    তুহিন হেঁকে বলে, সব খাও দিলীপ। অসুখ হলে আমি দেখব। আর মাদুলি নয়।

    বিদিশা বলে, বলেন কেন! আমাদের দেখাবে, ওষুধ খাবে, সব করবে। কিন্তু মীরার মা টোটকা—তাগা—মাদুলি ঠিক আনবে। বিশ্বনাথ বলেন, আমাদের কম জ্বালাত?

    মালিনী মনে মনে বলে, চলে যাক, চলে যাক ওরা। ও আসার আগে চলে যাক।

    যাবার সময় হয়ে আসে। বিশ্বনাথ দিলীপের ঘাড়ে হাত রেখে বলেন, আবার আসবি। তোর চিঠি আমি এবার যেন পাই।

    এবং মেজখোকা ঢুকে পড়ে।

    ওকে দেখেই বোঝে মালিনী, ও বেশ তৈরি হয়ে এসেছে। শুধু বিয়ারে মেজখোকা এমন প্রমত্ত হয় না।

    —এই তো! ফুল হাউস।

    —তুমি ঘরে চলো।

    —চুপ করো।

    —বাবি কোথায়?

    —পরে আসবে।

    —তুমি ঘরে চলো।

    —কেন?

    —তুমি এখন…

    —না, মাতাল নই। সরে যাও।

    মালিনীকে ঠেলে দেয় ও।

    বিশ্বনাথ বসে পড়েন ডিভানে। ছেলের দিকে তাকান।

    —এই যে! তুহিন ডাক্তার এবং বিদিশা এবং দিলীপ। তোমরা ভেবেছ কি?

    —ছি ছি ছি। চুপ করো।

    —এটা কি হোটেল?

    —নন্দনবাবু!

    —ওখানে তো জেঁকে বসেছ। ভেবেছ ওপরে তিন পয়সা ভাড়া দেবে, নিচে বিনা পয়সায় কয়েকটা বস্তির লোক…না, তা হবে না।

    —আমরা চলে যাচ্ছি।

    —হ্যাঁ, এখান থেকেও, সোদপুর থেকেও। ওপর নিচ সবটা খালি চাই আমার।

    —বাড়ি তোমার নয়। বাড়ি বাবার। বাবা যা বলবেন তাই হবে। তুমি বলার কে?

    —চুপ করো। বাবা…বাবা…বাবা…বাবা আছেন এটা কোর না, বাবা আছেন ওটা কোর না…বাবাকেও বলে দিচ্ছি এ বাড়িতে তুমি আমার লাইফপ্যাটার্ন মেনে নেবে…বাবা!

    —নইলে কি আমাকেও চলে যেতে হবে মেজখোকা? সেটাও বলো।

    —ভেবো না ওখানে ফিরছ। এখানে না রাখি, তুমি ”আশ্রয়” হোমে যাবে। তোমার জন্যে আমার জীবন যাত্রা আপসেট…

    মালিনী বলে, চুপ করো।

    —করব না।

    —বেশ। তাহলে জেনে রাখো…

    কি জানবে তুমি?

    মেজখোকা মাতালের পক্ষে স্বাভাবিক, এমন ধূর্ত হাসি হাসে, আমিই বলছি। ওই দিলীপ বদমাশ তোমায় চিঠি লিখেছিল…

    —লিখেছিল।

    —আমি ছিঁড়ে ফেলি। আমি চাই না ওরা তোমার সেন্টু—মেন্টুতে সুড়সুড়ি দিয়ে তোমাকে নিয়ে যাক। ও সব বদমাশিয়ে আমার জানা আছে। তুলসী দিচ্ছি! মার বাৎসরিক!

    যত্তো সব…

    —চলো বিদিশা।

    —নিয়ে গিয়ে, তুমি চোখ বুজলে বাড়িটি ওপর—নিচে মিলে হাতিয়ে নিয়ে…নো! তা হবে না। এ বাড়িতে থাকতে হবে বাবা!

    —বলো বলো। বিশ্বনাথের বিশ্বদর্শন হচ্ছে।

    —নো আত্মীয়স্বজন, নো যোগাযোগ উইথ সোদপুর, ওরা তোমাদের দেড়েমুশে অনেক খেয়েছে। এখন আর অতীতের সঙ্গে…

    —কোনো যোগাযোগ নয়।

    —না। তোমার সময়ও হয়ে এসেছে। একটা বাড়ি ভিখিরিদের দিয়ে এসেছ, এ বাড়িটা আমি চাই। এরা ফুটে যাক।

    —মেসোমশাই! কাঁপছেন কেন?

    মালিনী বলে, বাবা!

    বিশ্বনাথকে ওরা শুইয়ে দেয়। তুহিন নাড়ী দেখে।

    বিদিশা বলে, ঠান্ডা জল! তোয়ালে!

    মালিনী বলে, বাবার ঘরে নিয়ে চলুন।

    বিশ্বনাথকে ওরা ঘরে এনে শোয়ায়। তুহিন বলে, না নার্ভাস হবেন না বউদি।

    বিশ্বনাথ চোখ খোলেন। আস্তে বলেন, ব্যস্ত হয়ো না। হঠাৎ মাথাটা ঘুরে গেল।

    তুহিন বলে, বউদি! এ ফ্ল্যাটে কোনো ডাক্তার নেই? আমাদের সঙ্গে তো…

    বিদিশা বলে, নাড়ী ভালো…তবু একটা কোরামিন ড্রপ দিলে ভালো হত।

    মালিনী বলে, আমি আসছি।

    ফ্ল্যাটের ডাক্তার গাইনি। রবিবার ওঁরা ভীষণ ব্যস্ত।

    মালিনী বলে, একবার আসুন। বাবার প্রেসারটা…

    মেজখোকা এখন ডিভানে চিৎ। ওর চোখ বোজা। ও বলে, ওসব বাবার অভিনয় মালিনী! তোমার সেন্টুমেন্টু…

    মালিনী বলে, গোপাল! ভুবন! সায়েবকে তার ঘরে নিয়ে যা।

    —আমার ঘরে? বেশ? প্যারাসাইটগুলো গেছে? ওদের তাড়াও, তবে তো যাবো।

    মালিনী ঝুঁকে পড়ে বলে, এখনি যাবে। না গেলে তোমাকে আমি কি করি…

    —বড্ড বেশি মারদাঙ্গা ফিলম দেখ…

    ওর কথা জড়িয়ে আসে। নাক ডাকে।

    ডাক্তার রুদ্র ঢোকেন। বিশ্বনাথকে দেখেন। না, তেমন কোনো ব্যাপার নয়। প্রেসারটা যৎসামান্য…এই সব ওষুধ…

    তুহিনই চলে যায় আনতে। দিলীপ নীরবে কাঁদে। বিদিশার মুখ অপমানে লাল।

    মালিনী বলে, ওর কোনো কথা আমল দেবেন না। বাড়ি বাবার। আপনারা থাকবেন।

    বিশ্বনাথ বলেন, হ্যাঁ।

    —চিঠির ব্যাপার আমি দেখব।

    বিশ্বনাথ ক্ষীণ হাসেন। বলেন, তুমি!

    —কথা বলবেন না মেসোমশাই। বিশ্রাম করুন।

    —তোমরা তো জানো, আমার কোনো…

    —অসুখ নেই, জানি।

    তুহিন ফিরে আসে। ওষুধ পড়ে। বিশ্বনাথ ঘুমোন।

    বিদিশা বলে, ওঁকে আজ…

    —কেউ ঘরে ঢুকবে না। আমি থাকব।

    —আমরা চলি।

    —আসুন। আমার তো আর কোন ক্ষমতা নেই। আমি শুধু ক্ষমা চাইতে পারি।

    —আপনি কেন ক্ষমা চাইবেন?

    —আপনাদের শেয়ালদায় পৌঁছে দিই?

    বিদিশা হাসে! বলে, আপনার গাড়ি হলে ‘হ্যাঁ’ বলতাম। ভাববেন না, চলে যাব।

    দিলীপ হঠাৎ কেঁদে মালিনীর পা ধরে। বলে, যেদিন বলবেন, ও বাড়ি ছেড়ে চলে যাব মামীমা। আমাদের দাদুকে শুধু দেখবেন।

    —ওঠো দিলীপ। দেখব।

    —কোথায় পাঠাবে বলল।

    —আমার কাছ থেকে?

    মালিনী বেরিয়ে আসে। ঈষৎ হাসে। বলে, ওকে আমি জানি। তবু ওর হয়ে বাবার কাছেও ক্ষমা চেয়েছি সেদিন। মনে করতাম…কিছু মনুষ্যত্ব ওর তবু আছে…

    বিদিশা বলে, ভাববেন না। আপনার তো কিছু করার নেই।

    —আমি বাবাকে আনতে চাইনি। জানতাম একদিন না একদিন…আমার মতের কোনো দাম তো নেই। কি করব বলুন? আজ আপনারা যা দেখলেন…

    —এটা আপনার প্রত্যহের অভিজ্ঞতা! চলি।

    ওরা বেরিয়ে যায়। মালিনী পাথর, পাথর। বিশ্বনাথের ঘরের দু’টি দরজা বন্ধ করে। তারপর গোপালকে বলে, তোরা খেয়ে নে। কেউ এলে, যদি আমি ঘুমিয়েও পড়ি আমাকে ডাকবি।

    —হ্যাঁ মা।

    —সায়েব?

    —ঘুমোচ্ছেন।

    মালিনী বিশ্বনাথকে দেখে আসে। ঘুমোচ্ছেন। তারপর ডিভানে শুয়ে পড়ে। ঘুম আসে না, ঘুম এলে হবে না। এখন ওকে জেগে থাকতে হবে।

    —মা!

    —কি গোপাল?

    —আমি দাদুর ঘরে শোব?

    —না না। শুলে তো ঘুমোবি।

    —মা!

    —আবার কি?

    —দিলীপদা বলছিল…

    —কি?

    —সোদপুরে গেলে ও মাদুলি দিতে পারে।

    —মাদুলি!

    —হ্যাঁ গো মা। খুব তেজী মাদুলি। বেকারের চাকরি হয়, আপাই ক্ষেতি দোষ কেটে যায়…

    —যাস একদিন।

    —আচ্ছা।

    মালিনী জেগে থাকে। বিশ্বনাথকে সে কার হাত থেকে আড়াল করবে? ”আশ্রয়” হোম! নিশ্চয় এ বিষয়ে ওখানে কোনো কথা হয়েছে। বেবির কথায় যত বিষই থাক, দাদারা ওর মতামত ছাড়া কোনো কাজ করবে না। দীপক কিছু বলতে যাবে না, খানিক বাঁকা পথ বলবে। ছোটখোকা ”হ্যাঁ” বলবে। শিপ্রা কি বলবে?

    বিকেলের অনেক পর, সন্ধ্যা হলে ওরা আসে। দীপক, বেবি, ছোটখোকা, বাবি।

    —শিপ্রা?

    —সে কথা কাটাকাটি করে বাড়ি চলে গেছে।

    ছোটখোকা বলে, আমিও যাই।

    —বাবার সঙ্গে দেখা করে যাও।

    মালিনী বলে, আমার ঘরে চলো।

    —কেন?

    —বাবার শরীর ভালো নয়। ওঁর ঘরে আজকে কেউ যেও না। বাবার…

    —মেজদা কিছু বলেছে?

    —আমার ঘরে চলো।

    —মেজদা কোথায়?

    —নিজের ঘরে ঘুমোচ্ছে।

    —বাবাকে দেখব না, এ কেমন কথা। উনিই বা কি ভাববেন?

    —এক ছেলে ওঁকে আজ…ওরা এ—ওর দিকে তাকায়। মালিনী ঘরে যায়। না, কফি, আতিথ্য, সৌজন্যের দরকার নেই। বেবির বাড়ি রবিবার মানে ছেলে—মেয়েরা দোতলায়।

    বড়রা একতলায়। বিয়ার, রাম, স্কচ, মাংস, ভাত। এরা প্রত্যেকেই যথেষ্ট তৃপ্ত।

    দীপক বলে, মালিনী!

    —বলো।

    —কালো কফি।

    —বলছি, তোমরা?

    —না, নাথিং।

    —গোপাল! একটা কালো কফি।

    —বউদি! মেজদা এসে কি…

    —তাকে আসতে দিলে কেন?

    —সে শুনল কারো কথা?

    —ভালো।

    সবাই আবার চুপ। মালিনী ওদের দেখছে।

    —মেজদা এসে কি খুব…

    —ওখানে বাবার বিষয়ে তোমরা কি কিছু ঠিক করেছ? কোন আলোচনা হয়েছিল?

    —কথা তো মেজদাই বলছিল।

    —আমি সঠিক জবাব চাই বেবি।

    —ছোড়দা বলুক।

    —বলছি মেজদা খুব হাই হয়ে যায়…

    —সেটা তো তোমরা জানো। যখন ও বাড়িতেই ফিরবে, বাবা বাড়িতেই থাকবেন, সেটা তোমাদের দেখা দরকার ছিল।

    —মেজদা কি খুব…

    —আজ বাড়িতে দিলীপ, তুহিন আর বিদিশা এসেছিল। বাবা দিলীপকে আসতে লেখেন। কেন না, উনি লিখেছেন, ওর জবাব পাননি, উদ্বেগ হয়েছিল।

    দীপক বলে, স্বাভাবিক।

    —আজ সকালেই আমি ওকে বলি, দিলীপ আসবে। তখন ও ক্ষেপে যায়। তখন জানতে পারি চিঠি ঠিকই এসেছে ও বাবাকে দেয়নি।

    —কারণ? দীপকই কথা বলছে।

    —কারণ হল, ও চায় না সোদপুরের সঙ্গে বাবার কোনো সম্পর্ক থাকুক।

    —তারপর?

    —ফিরে এসে কদর্য ভাষায় ও ওদের তিনজনকে বেরিয়ে যেতে বলে। ওরা নাকি বাড়ি দখল করবে বলে ব’সে আছে! প্রথমেই বলে, এটা হোটেল নয়। যেহেতু ওরা খেয়েছে। তারপর ওদের যথেচ্ছ অপমান! বাবাকে বলে এ বাড়ি ওর। এ বাড়ির জীবনযাত্রা মেনে নিতে উনি বাধ্য। সোদপুরের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা ওর টার্মসে। নইলে ওঁকে ”আশ্রয়” হোমে পাঠাবে।

    —তারপর?

    —বাবার মাথা ঘুরে যায়। প্রেসার সামান্য হাই। ডাক্তার দেখেছে, ওষুধ পড়েছে, বাবা ঘুমোচ্ছেন। বাবার ঘরে আজ কেউ যাবে না।

    বেবি বলে, তুমি বড় মাসীমার বাড়ি…

    —হ্যাঁ, সেটা ও বাবাকেই বলেছে। এখানে থাকতে হলে কোনো আত্মীয়—স্বজন নয়।

    দীপক বলে, ”কেন না তারা ভিখিরি।” মেজখোকার ভাষা আমি জানি।

    —আমাদের কাছে কি জানতে চাও?

    —ওঁকে হোমে পাঠানোর বিষয়ে কোনো আলোচনা করেছ?

    বেবি বলল, মেজদা যখন বলল, বাবাকে রাখার জন্যে তোমার স্ট্রেইন হচ্ছে, তখন অবশ্য ও কথাটা আমি বলি। ছোড়দাও সায় দেয়।

    দীপক বলে, শিপ্রা ক্ষেপে যায়। বলে, মালিনী এ কথা বলতে পারে না। তোমরা সবাই অমানুষ। তোমার হয়ে ঝগড়া করে ও চলে যায়। এটা হল পাদটীকা বা ফুটনোট, যাই বলো।

    মালিনী বলে, আমার দোহাই দেয়! ছি—ছি, কোথায় নেমে গেছে ও, কোথায়।

    বেবি বলে, তোমার অসুবিধে না হলে তো চুকেই গেল। আর কথা কি?

    মালিনী জীবনে প্রথম তিক্ত ও তির্যক হাসে। বলে, কথা আছে বই কি? বাবাকে আনার সময়ে আমার সম্মতি ছিল না। কেন না, আমি জানতাম দূরে থাকেন, সব জানেন না। কাছে থাকলে…

    মালিনী উঠে যায়, জল খায়, ফিরে আসে।

    —এ বাড়িতে ওঁকে আনার পর হুকুম হল, বাবা যেন কিছু না জানতে পারেন। মদের পার্টি, অমন ফ্ল্যাট, কল গার্ল! সন্ধ্যে থেকে ওকে ও ঘরে বন্ধ করে রাখো। ও—সব চেষ্টা করেছি, পারিনি। দু’দিন রাখতেই কি শুধু স্ট্রেইন আমার? বাবিকে কুসঙ্গ থেকে আগলানো, এ বাড়ির জীবন—পদ্ধতি থেকে বাবা আর বাবিকে রক্ষা করা…স—ব করে গেছি।

    —খুব কষ্টকর।

    —এ রকম হবে তোমরা জানতে। তবু…যাক, ওঁর ছেলেই ওঁর সামনে নিজেকে নগ্ন করে দিল। আমার লাভ কোথায় জানো? বাবাকে কাছে পেয়ে তবে আমি বুঝলাম তোমাদের মেজদার এই উন্মত্ত জীবনে তালে তাল দিয়ে আমার কি দুঃসহ ক্লান্তি বলো, ঘৃণা বলো, এসে গেছে। আজ সবাই ঠিক করেছ ওঁকে হোমে দেবে? তা বেবি, না ছোটখোকা, তা আমি হতে দেব না।

    —কি করবে?

    —দরকার যেমন বুঝব, তাই করব।

    —বাবার বিষয়ে অবশ্য সকলেরই কর্তব্য আছে, কিন্তু তোমার বাড়িটাই বড় বলে…

    —বাড়িতে তিন জনেরই জায়গা আছে। মনের দিকে…যেমন লাইফ প্যাটার্ন, সেখানে স্থানাভাব। কার স্থানাভাব? যিনি সকলের বাবা। যাঁর জীবন সম্পর্কে ধ্যানধারণা খুব অন্য রকম। যাঁর কোনো চাহিদা নেই। যিনি রাতে শুয়ে ওঁর আর মার কথাবার্তার কাসেট শোনেন। সেই লোকটাকেই তোমাদের মেজদা…

    ওরা অবাক হয়ে চেয়ে থাকে। এ কি সেই মালিনী? ওরা তো যে—যার মতো তেমনি আছে। একা মালিনী এত বদলে গেল?

    দীপক বলে, ও সব কথা থাক।

    —না সবটাই শোনো। বাবার বিষয়ে এই হুকুম কেন? কেন না মেজদা চায়, সোদপুরের বাড়ি ভেঙ্গে ফেলে ফ্ল্যাটের ওপর ফ্ল্যাট তুলবে। কই! অবাক হলে না? তাহলে এ বিষয়েও কথা হয়েছে।

    —আমি ও কথার মধ্যে যাই নি।

    —তুমি না গেলে। বেবি? ছোটখোকা?

    —কথাটা তো…

    —খারাপ নয়…

    —বাবার পঁচাশি। আর ক’বছর বাঁচবেন? যদি বা বাঁচতেন, ছেলে—মেয়েদের এ সব সিদ্ধান্তের ফলেই আগে মারা যাবেন।

    দীপক বলে, ও সব কথা থাক। কিছু অন্য রকম হোক। তোমাদের বিবাহবার্ষিকীটা এবার…

    মালিনী হাসে। বলে, আর তো হবে না দীপক। হলে তোমরা কোর। আমি তাতে থাকব না। হবেই না। যে সম্পর্কে…আমার এত চেষ্টার পর…এমন অপমান…আমার বাড়িতে ক’টা লোক ভাত খেয়েছে বলে…না আর নয়।

    ওরা চেয়ে থাকে, চেয়ে থাকে।

    —আর কোনো কথা আছে?

    না, ওদের আর কোনো কথা নেই। ওরা বেরিয়ে যায়। বেবি বলে, কাল খবর নেব বাবা কেমন আছেন।

    —বাবার কাছে যে আসবে, দয়া করে ও’কে আর আঘাত দিও না।

    ওরা নিরুত্তর।

    মালিনীর মনে মুক্তির বোধ, শান্তি। জীবনেও ও ভাবেনি এসব কথা ওদের বলতে পারবে।

    ও বিশ্বনাথের ঘরে ঢোকে।

    —বাবা।

    —ওরা চলে গেছে?

    —আপনি কতক্ষণ জেগেছেন?

    —খানিকক্ষণ।

    —ওরা চলে গেছে।

    —তোমার শাশুড়ির তপস্যালব্ধ তিনটি রত্ন।

    —আপনি শুনেছেন কোন কথা?

    —উঠেছিলাম। তোমার কথা শুনছিলাম।

    —আমার কথা…

    —হ্যাঁ। এখন তোমার অনেক কাজ।

    —উঠেছেন কেন?

    —বারান্দায় বসি একটু।

    —চলুন।

    বিশ্বনাথ আর মালিনী বারান্দায় বসেন।

    —বউমা।

    —বলুন?

    —তোমার সাহায্য চাই।

    —যা সাধ্য সব করব।

    —তবে শোনো।

    বিশ্বনাথ বলতে থাকেন। মালিনী শুনে যায়। ঘাড় নাড়ে বারবার।

    —আর দেরি নয়।

    —না, দেরির কি?

    ৬

    শুক্রবার সকালে সৈকত বাড়ি আরেকবার চমকে ওঠে। এবারে আর পুলিশকে ঠেকিয়ে রাখা যায় না। কেন না বাহাদুর থানায় গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে।

    —মেরা সাব…মেরা সাব…

    —মালিনী বলে, বাবা যেন না শোনেন।

    —না না, কে বলবে? কি ডেঞ্জারাস!

    সেদিনের পর মেজখোকা খুব সংযত। মালিনী খুব স্বাভাবিক।

    অবশ্য আজকের সকালটা অন্য রকম।

    বিশ্বনাথই বলেন, কি তোমরা লুকোচ্ছ বলো তো? কি এমন কথা?

    —কিছু না বাবা…

    —আমি শুনেছি।

    —শুনেছেন?

    —হ্যাঁ। কেডিয়া গৃহিণীর মুখে অ্যাসিড বালব। পার্কের পেছনে সুপ্রভাত দত্তের মৃতদেহ।

    —কে বলল? ছি ছি ছি…

    —যতটা বিচলিত হব ভেবেছিলাম…তা হইনি মা! যা প্রত্যাশিত তাই ঘটেছে।

    —আপনি তো ওঁর ঘরে গেছেন।

    —হ্যাঁ। নিজের মনে নিজে থাকেন, গাছের ছবি দেখেন, নিঃসঙ্গ লোক।

    —বাহাদুরকে ধরে নিয়ে গেল।

    —সেটাও প্রত্যাশিত। আসল অপরাধীকে তো ধরা যাবে না, ধরলেও ধরে রাখা যাবে না…

    মালিনী ভয়ে বিবশ হয়ে থাকে।

    কোন সমাজে বাস করছে ওরা, কোন ব্যবস্থায়? বলে বাহাদুর কাল সন্ধ্যার পর থেকে ওঁকে খুঁজছে আর খুঁজছে। ও নিজেও তো ভালো দেখে না।

    —শুনলাম। সকালে পেয়েছে।

    —আর মিসেস কেডিয়া…

    —উনি এখন তো…

    —বাঁচবেন?

    —জানি না।

    —তুমি এখন কি করবে?

    —আমি বাবিকে আমার মায়ের কাছে রেখে আসি বাবা। এ বাড়িতে রাখতে ভয় লাগছে।

    —মেজখোকা?

    —ওকে বলেছি।

    —রাজী হল?

    —খুশি হল না, রাজী হল।

    —তা হলে তো…

    —আমাদের কথা ঠিকই থাকছে।

    —চিঠি লিখেছ?

    —পরদিনই।

    —ভালো। খুব ভালো।

    মালিনী বাবিকে নিয়ে চলে যায়। বিশ্বনাথ একটি নতুন ক্যাসেট বের করেন। মানুষ কোথায় নিরাপদ? নিজের ঘরে নয়, নিজের নৈঃসঙ্গ নয়। সর্বত্র শান্তিকামী মানুষ বিপন্ন, বড় বিপন্ন।

    আজকের দিনটা খুব দরকারী। নিজের গলা নিজে রেকর্ড করবেন।

    সুপ্রভাত দত্তের হত্যা ও মিসেস কেডিয়ার ঘটনা নিয়ে সৈকত গুজবে ফেটে পড়ে।

    ওঁদের মধ্যে কোনো গোপন সম্পর্ক ছিল।

    সুপ্রভাত পার্ক থেকে ড্রাগ আনতেন।

    এর মধ্যে কেডিয়ার মেয়ে…

    বাহাদুর কিছু জানে।

    সুপ্রভাত কিছু জানতেন।

    ভদ্রমহিলার একটা চোখ গেছে।

    আসলে কে কোন ফ্ল্যাট কিনছে…

    ফ্ল্যাট মালিকরা সৈকতের জন্যে সিকিউরিটি এজেন্সিকে খবর দেয়।

    প্রেসের লোকেরা ভিড় করে থাকে।

    এসব নিয়ে মেজখোকাও বিব্রত, বিব্রত। প্রেসের লোকজনকে বিশ্বাস নেই। সৈকত বাড়ির আদ্যোপান্ত ইতিহাস লিখে বসে থাকবে।

    কার ক’টা ফ্ল্যাট, কে কি করে…

    —প্রেস এলে ঢুকতে দিও না।

    —না না, তাই দিই?

    —বাবা ওকে চিনতেন না জানলে তা থেকেই একটা গল্প বানাবে।

    —বানাবে না।

    —আমি যাচ্ছি, তাড়াতাড়ি ফিরব।

    —বিকেলে!

    —হ্যাঁ, হ্যাঁ।

    —আমিও বেরোব।

    —কোথায়!

    —মার্কেটিংয়ে।

    —দেরি কোর না।

    —তাই করি!

    মেজখোকা বেরিয়ে যায়। না, মালিনী খুব শান্ত আছে। যথেষ্ট সহযোগিতা করছে। বাবাও চুপচাপ হয়ে গেছেন খুব।

    বেরোবার সময় মেজখোকা বাবাকে বলে যায়, বাবা আসছি।

    —এসো।

    এ রকম কয়েকদিন ধরেই বলছে ও।

    এক উত্তরই পাচ্ছে।

    বিকেলে ফিরে এসে তবে মেজখোকার মনে হয়েছিল বাড়ি যেন বড় বেশি চুপচাপ।

    —ভুবন! গোপাল! রাজু!

    —সায়েব!

    —সব গেল কোথায়?

    —মা তো সকালেই দাদুকে নিয়ে…

    —গোপাল!

    —গোপালও সঙ্গে গেছে।

    —কোথায় গেছেন!

    —দাদুর জিনিসপত্র নিয়ে…

    —কি!

    বাবার ঘর শূন্য, শূন্য। মায়ের ছবি…ওঁর ওষুধ…চটি…মেজোখোকা টেলিফোনের কাছে ছুটে যায়। ছোটখোকা! শিপ্রা! বেবি! দীপক! এটা এস ও এস!

    দীপকের গড়ানো গলা, কি হল! আবার কাউকে খুন করলে না কি!

    —ঠাট্টা—তামাসা নয় দীপক।

    —কি হল!

    —বাবা…বাবা…

    —মারা গেছেন!

    —ও, নো নো নো। পালিয়েছেন।

    —পালিয়েছেন!

    —সঙ্গে মালিনী।

    —মালিনী।

    তোমরা এসো।

    সবাই ছুটে আসে। সবাই কৌতূহলী। মেজখোকা চুল খামচাতে থাকে। দীপক বলে, হ্যাভ ওয়ান। মেজখোকা ক্ষেপে যায়।

    —এটা ইয়ার্কির সময় নয়। বুঝতে পারছ বাবা সোদপুরে গেছেন…মালিনী নিয়ে গেছে…

    দীপক হাসতে শুরু করে। বলে, বুড়োর হাড়ে হাড়ে ভেলকি ভাই। কোনো কিছু না জানিয়ে…

    ছোটখোকা বলে, পরিষ্কার।

    —কি পরিষ্কার।

    —খুনটুন দেখে…

    —ভয় পেয়েছেন।

    —তা ছাড়া কি!

    বেবি বলে, তোমারই দোষ মেজদা। সেদিন ওরকম কাণ্ড না করলে…

    —তা বলে চলে যাবেন।

    —যাবেন নয়, গেছেন।

    —কোনো চিঠি নয়…কিছু নয়…

    —দাঁড়াও দেখে আসি।

    দীপক দেখতে যায়। তারপর হো—হো করে হাসতে হাসতে ঢোকে। বলে, ভাই। শ্বশুরমশাই যে এরকম মডার্ন, কে জানত। ভাবতে পারো ওঁর ছেলেমেয়েদের জন্যে…একটি ক্যাসেট। উপরে লেখা চিলড্রেন্স।

    বেবি বলে, গুরুবাণী তো শোনো। এবারে বাবার বাণী শোনো। তুমি মেজদা। হড়বড়িয়ে সব করতে গিয়েই সব গোল পাকালে।

    —মালিনীর আস্পর্ধাটা দেখলে! ওকে…

    ছোটখোকা বলে, বউদি সে বউদি নেই আর।

    —কি বলেছেন উনি!

    বাবির ঘর থেকে প্লেয়ার আনে দীপক। বলে, শোন তোমরা।

    —তুমিও শোনো।

    —হ্যাঁ হ্যাঁ…ওঃ ক্লাবে যখন গল্পটা ছাড়ব, যা জমবে না?

    —খবরদার!

    —চোখ পাকিও না বেবি।

    এতক্ষণ নিশ্চুপ থেকে এখন শিপ্রা বলে, চালাচ্ছি।

    মেজখোকা, ছোটখোকা, বেবি।

    আমি বেশ কিছুদিন আগেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

    সেদিন মেজখোকা আমাকে সাহায্যই করেছে। বেশ পরিষ্কার হয়ে গেছে সব।

    চলে যাব বলে আসি নি। হয়তো চলে যেতাম না। কিন্তু এখানে এসে পরিষ্কার বুঝলাম, তোমাদের বাড়ি যত বড়ই হোক, তোমাদের জীবনে আমার জন্য কোনো জায়গা নেই।

    দোষ দিই না। তোমাদের জীবনযাত্রা অন্য রকম, মূল্যবোধ অন্য রকম, সেখানে আমি খুবই বেমানান।

    সেদিন বৌমার সঙ্গে তোমাদের কথা বাইরে দাঁড়িয়ে শুনলাম। শেষ অবধি হোমের কথাও ভেবেছ।

    তোমাদের মা বলতেন, তাঁর তপস্যার ফল পাঁচ সন্তান, পাঁচটি রত্ন। তাই জেনেই গেছেন।

    যার কেউ নেই সে হোমে যায়। আমি কেন যাব? আমার বাড়ি আছে, চিরকাল আমাদের দেখেছে, সে সব লোকজন আছে। উপরে ডাক্তার আছে, নীচে আমার ঘর, আমার বাগান, তোমার মায়ের লাগানো গাছ…

    না, মেজখোকা, ছ’মাস বাঁচি, ছ’বছর বাঁচি, ”সনকাবাস” ছেড়ে কোথাও যাব না। আমার মৃত্যুর পর এ বাড়িতে আমার ও তোমার মায়ের নামে নার্সিং হোম হবে। তেমন লেখাপড়াই করব। শর্ত দিলীপ, মীরা ও মীরার মা থাকবে কর্মী হিসবে। তোমাদের প্রত্যেকের যথেষ্ট আছে, আরো হবে। আমার স্বোপার্জিত যা তার ব্যবস্থা আমি ইচ্ছামতো করব। ”সনকাবাস”—এ আমাকে নিয়ে কেউ লজ্জায় পড়বে না, কারো জীবন এমন নয়, যে আমার চোখ থেকে লুকোতে হবে। লুকোতে তোমরা পারনি। বাপের চোখে এড়ানো কি যায়?

    ইচ্ছা হলে দেখতে এসো। ইচ্ছা না হলে এস না আমি কোনো রাগ রাখিনি মনে। তোমার মায়ের কাজ। সে আমিই যেভাবে হয় করব। মেজখোকা। বৌমাকে কোনো অপমান কোর না। আমার বার্ধক্য ও বয়সের কারণে তাঁর সাহায্য নিয়ে এসেছি, এই মাত্র। পারলে তাকে মর‍্যাদা দিও, না পারলে অপমান কোর না, এটা অনুরোধ মাত্র। সকলে আমার আশীর্বাদ জেনো। ইতি, তোমাদের বাবা বিশ্বনাথ চৌধুরী। প্রার্থনা করি, তোমাদের সন্তানরা যেন আমাদের সন্তানদের মতো না হয়।

    ঘস ঘস শব্দ। শিপ্রা রেকর্ডার বন্ধ করে।

    মালিনী ঘরে ঢোকে।

    বলে, সবাই এসেছ? বাবা, সোদপুর কি এখানে? ভালই হল। এত এত বেগুন লঙ্কা, ডাঁটা এনেছি।

    —বাবা?

    —আবার বাবার কথা কেন?

    সহাস্য মালিনী বলে, বাবার অধ্যায় তো শেষ।

    মালিনী ওদের দিকে তাকায়, ওরা মালিনীর দিকে। মেজখোকা মালিনীকে যেন প্রথম দেখে।

    ”বাবার অধ্যায় তো শেষ।”

    কথাটাতে যেন কোনো ইংগিত থাকে। আর কোন অধ্যায়ের কি শুরু?

    মালিনী কিছু বলে না। কিন্তু ঘরের হাওয়া যেন কোনো ছিলা—টান—টান উত্তেজনায় বিদ্যুৎতাড়িত হয়ে ওঠে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমুখ – মহাশ্বেতা দেবী
    Next Article প্রতি চুয়ান্ন মিনিটে – মহাশ্বেতা দেবী

    Related Articles

    মহাশ্বেতা দেবী

    হাজার চুরাশির মা – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    মিলুর জন্য – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    প্রস্থানপর্ব – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    আই. পি. সি. ৩৭৫ – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    প্রতি চুয়ান্ন মিনিটে – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    মহাশ্বেতা দেবী

    মুখ – মহাশ্বেতা দেবী

    November 27, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }