Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পারুল ও তিনটি কুকুর – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প149 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০২. বাড়ির নাম নীলা হাউস

    বাড়ির নাম নীলা হাউস।

    বিনয় করে নাম রাখা হয়েছে হাউস। প্যালেস হলে মানাত। না, প্যালেস মানাত না। প্যালেসে প্রকাশ্য ব্যাপার থাকে। প্যালেস মানে দর্শনীয় কিছু। লোকজন দেখবে, অভিভূত হবে। এ বাড়ি বাইরে থেকে দেখা যায় না। তের ফুট উঁচু পাঁচিল দিয়ে বাড়ি ঘেরা। পাঁচিলের উপর আরো দুই ফুট ঘন করে কাটাতারের বেড়া। বাড়ির গেট লোহার। সাধারণত গেটের ফোঁকর দিয়ে বাড়ির খানিকটা দেখা যায়। এ বাড়ি গেটটি নিশ্চিদ্র লোহার। লখিন্দরের সূতা-সাপের ঢোকার ব্যবস্থাও নেই।

    গেট পেরিয়ে কোনক্রমে ঢুকতে পারলে–কি সুন্দর বলে একটা চিৎকার দিতেই হবে। কারণ দোতলা বাড়ির ঠিক সামনেই নকল ঝিল করা হয়েছে। ঝিলে বাড়ির ছায়া পড়ে। আকাশের ছায়া পড়ে। বাড়িটাকে তখন মনে হয় আকাশ-মহল।

    পারুল প্রথম দিনে বাড়ি দেখে চিৎকার দিতে গিয়েও থেমে গেল–কারণ তার চোখে পড়ল তিনটা কুকুর। লাইন বেঁধে বসার মত এরা বসে আছে। গানের কালো পশম চিকচিক করে জ্বলছে। কুকুরের চোখ সাধারণত অন্ধকারে জ্বলে–এদের দিনেও জ্বলছে। তাহের বলল–কোন ভয় নেই।

    পারুল প্রায় ফিস ফিস করে বলল, ভয় নেই কেন? এরা কি অতি ভদ্র কুকুর?

    এরা মোটেই ভদ্ৰ না। ভয়ংকর কুকুর গ্রে হাউন্ড। নিমিষের মধ্যে তোমাকে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলবে।

    করছে না কেন?

    বিচার-বিবেচনা করছে।

    তাহের স্ত্রীর কাঁধে সান্ত্বনার হাত রেখে ডাকল, কামরুল, এই কামরুল।

    বাড়ির পেছন থেকে লুঙ্গি পরা খালি গায়ের একটা লোক বের হয়ে এল। তার নাম কামরুল। কুকুর তিনটার দেখাশোনার দায়িত্ব তার। পারুল বিস্মিত হয়ে দেখল কামরুল নামের এই লোকটাও কুকুরগুলির মতই ছিপছিপে। গায়ের রঙ কুচকুচে কালো। তার চেয়ে আশ্চর্য ব্যাপার, লোকটার চোখও কুকুরের চোখের মতই জ্বল জ্বল করছে। পারুলের মনে হল–এই মানুষটা যদি হামাগুড়ি দিয়ে মার্টিতে হাঁটে, তাকে গ্রে হাউন্ডদের মতই দেখাবে।

    তাহের হড়বড় করে বলল, শোন কামরুল, এ হল পারুল, আমার স্ত্রী, ও কয়েকদিন আমার সঙ্গে থাকবে। কুকুরগুলির সঙ্গে ওর পরিচয় করিয়ে দাও।

    কামরুল নামের লোকটা হুম করে শব্দ করতেই একসঙ্গে তিনটা কুকুর জুটে এল। পারুল কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তিনটি কুকুরই তার গা শুকছে। তাদের গরম নিঃশ্বাস এসে গায়ে লাগছে। অস্বস্তিকর অবস্থা। পারুলের শরীর শিরশির করছে।

    তাহের হাসিমুখে কলল, এরা তোমার গায়ের গন্ধ জেনে গেল। তোমাকে এরা আর কখনোই কিছু বলবে না।

    ভুলে যদি কিছু বলে ফেলে? মানুষেরই ভুল হয় আর কুকুবের হবে না?

    কুকুরের কখনো ভুল হবে না। ভয়ে শক্ত হয়ে যাবার কোন দরকার নেই। গায়ে হাত দাও–কিছু বলবে না।

    পারুল তীক্ষ্ণ গলায় বলল, এই শয়তানগুলির গায়ে হাত দেবার আমার কোন ইচ্ছা নেই। এরা যে গা শোঁকাশুঁকি করছে তাও আমার অসহ্য লাগছে। লোকটাকে বল কুকুর সরিয়ে নিয়ে যাক।

    গন্ধ নেয়া হয়ে গেলে এরা আপনাতেই চলে যাবে এদের কিছু বলতে হবে না।

    তাহেরের কথা শেষ হবার আগেই কুকুররা সরে গেল। ঠিক আগের জায়গায় গিয়ে মূর্তির মত বসে রইল। পারুল বলল, মরে গেলেও কুকুরগুলির সঙ্গে এই বাড়িতে আমি থাকতে পারব না।

    তোমার কোন ভয় নেই। এরা হাইলি ট্রেইন্ড কুকুর। কখনো বাড়িতে ঢুকবে না। দরজা খোলা থাকলেও ঢুকবে না। এদের দায়িত্ব হচ্ছে বাড়ির চারপাশে ঘোরা। বাড়িতে ঢোকা নয়।

    কই, এখন তো ঘুরছে না।

    রাত নটার পর থেকে ঘোরা শুরু করে। খুব ইন্টারেস্টিং।

    পারুল ব্যাপারটায় ইন্টারেস্টিং কিছু দেখল না। তার মনটা খারাপ হয়ে গেল। সে কুকুর খুবই ভয় পায়। ছেলেবেলায় তাকে কুকুর কামড়ে ছিল। চৌদ্দটা ইনজেকশন নিতে হয়েছে নাভিতে। ইনজেকশনের পর নাভি ফুলে গেল। সেই ফোলা এখনো আছে। এখনকার মেয়েরা কত কায়দা করে নাভির নিচে শাড়ি পরে। সে তার ফোলা নাভির জন্যে পরতে পারে না। কুকুরের কামড় খাবার পর থেকে তার কুকুর-ভীতি তাও একটা কুকুর হলে কথা ছিল–তিন তিনটা কুকুর। লোকটাও প্রায় কুকুরের মতই। এতক্ষণ একটা কথাও বলেনি। শুধু তাহের যখন বলেছে–আমার স্ত্রীকে কুকুরগুলির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দাও–তখন ঘেউ জাতীয় একটা শব্দ করেছে–যে শব্দ শুনে কুকুর তার গা শোঁকার জন্যে ছুটে এসেছে। লোকটা নিশ্চই কুকুরদের ভাষাতেই কথা বলেছে নয়ত কুকুরগুলি বুঝল কি করে?

    পারুল নীলা হাউসে ঢুকল মন খারাপ করে। যত সুন্দর বাড়িই হোক, পরের বাড়ি। পরের বাড়ি পাহারা দেবার মধ্যে অনিন্দজনক কিছু নেই। পারুল লক্ষ্য করল–তাহের আনন্দিত। বাড়ির খুঁটিনাটি বলে সে খুব আরাম পায়।

    পারুল, দেখো–পুরো বাড়ি মার্বেলের। ইটালীয়ান মার্কেল, তাজমহল ইন্ডিয়ান মার্বেলের তৈরি। ইন্ডিয়ান মার্বেলের চেয়ে ইটালীয়ান মার্বেল দশগুণ দামী।

    তোমার ধারণা–নীলা হাউস তাজমহলের চেয়েও দশগুণ দামী?

    তা বলছি না। মার্বেলের কথা বলছি। এ বাড়ির মাস্টার বেডরুমে যে বাথরুম ফিটিংস আছে সব আঠারো ক্যারেট গোল্ডের।

    আমরা তাহলে আঠারো ক্যারেট গোলেডর কমোডে বসে বাথরুম করতে পারব?

    না–তা পারবে না। সব তালা দেয়া। বাড়িটা কেমন বল।

    আছে মন্দ না।

    তাহের বিস্মিত হয়ে বলল, মন্দ না বলছ কেন? তোমার বাড়ি পছন্দ হয়নি?

    পছন্দ হলে কি করবে? কিনে দেবে?

    তাহের বিরক্ত হয়ে বলল, এটা কি রকম কথা? পছন্দ হলেই কি কিনে দিতে হবে? আমাদের কত কিছুই তো পছন্দ হয়। পছন্দ হলেই কি আমরা কিনে ফেলি?

    তাহের অতক্ষণ বিরক্ত থাকে ততক্ষণই তাহেরের কপালের চামড়া কুঁচকে থাকে। চোখ জাপানিদের মত ছোট ছোট হয়ে যায়। এরকম মুখ বেশিক্ষণ দেখতে ভাল লাগে না। কাজেই পারুল তাহেরকে খুশি করার চেষ্টা করল। অকারণ উচ্ছ্বাসের বন্যা বইয়ে দিল। বারান্দায় টবের সারির দিকে তাকিয়ে বলল, ও আল্লা, বারান্দায় এত ফুলের গাছ? মনে হচ্ছে কয়েক লক্ষ গাছ।

    তাহের হৃষ্ট গলায় বলল, কয়েক লক্ষ না, মোট দুশি তেতত্রিশটা চারা গাছ আছে।

    তুমি বসে বসে নেছ না কি?

    এটাই তো আমার কাজ।

    গাছ গোনা তোমার কাজ?

    গাছে পানি দেয়া। স্যার বাইরে যথন যান তখন আমাকে রেখে যান গাছে পানি দেয়ার জন্যে।

    কেন, কামরুল যে সে পানি দিতে পারে না?

    এক এক জনের এক এক কাজ। কামরুলের কাজ হচ্ছে করে দেখা–সব কাজ তো আর সবকে দিয়ে হয় না?

    পারুল হাসি মুখে বলল, গাছে পানি দেয়ার মত জটিল কাজে বুঝি তোমার মত জ্ঞানী মানুষ দরকার?

    তাহের আবার বিষণ্ণ হয়ে পড়ল। অর্থাৎ সে রাগ করেছে। পারুলকে বলতে হল–সে ঠাট্টা করছে। বলার পর তাহের স্বাভাবিক হল। তার মুখে কোমল ভাব ফিরে এল। পারুলের ধারণা, এই পথিবীর শ্রেষ্ঠ দশজন মানুষের মধ্যে তাহের একজন। তাহেরের সমস্যা একটাই–সে ঠাট্টা বুঝতে পারে না। রাগ করলে এখনও শিশুদের মত খাওয়া বন্ধ করে দেয়।

     

    প্রথম দিন এ বাড়িতে এসে পারুলকে কোন রান্নাবান্না করতে হয়নি। তাহের প্যাকেটে করে খাবার নিয়েয়ে এসেছিল। শিক কাবাব—তন্দুর রুটি। শিক কাবাব কতদিনের বাসি কে জানে–শুকিয়ে চিমসা হয়ে গেছে। টক টক স্বাদ। পারুল বলল, মাংসটা মনে হয় নষ্ট হয়ে গেছে। টক লাগছে।

    তাহে বলল, মোটেও নষ্ট হয়নি। এরা কাবাবের উপর লেবুর রস চিপে দেয়, এজন্য টক টক লাগে। আরাম করে খাও তে।

    পারুল খেতে পারেনি, তবে তাহের মহানন্দে বাসি মাংস চিবিয়েছে। আনন্দে এক একবার তার চোখ বুজে যাচ্ছে। তাহের বলল–এত বড় বাড়িটার বলতে গেলে আমরাই এখন মালিক, তাই না? দারুণ লাগছে না? পারুলের মোটেই দারুণ লাগছে না। তবু হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ল।

    তাহের বলল, মেয়েরা এবং শিশুরা হল বাড়ির শোভা। একটা বাড়িতে যদি কোন মহিলা বা কোন শিশু না থাকে তাহলে সেটা আর বাড়ি থাকে না–হোটেল হয়ে যায়। তুমি আসার আগ পর্যন্ত এই বাড়ি হোটেল ছিল–এখন বাড়ি হয়েছে।

    পারুল অন্যদিকে তাকিয়ে বলল, আরও সাত মাস এ বাড়িতে থাকতে পারলে শিশুও চলে আসবে। তখন এটা হবে পুরোপুরি বাড়ি–তাই না?

    তাহের তাকাচ্ছে, কিছু বলছে না–পারুল ঠাট্টা করছে কি না তা সে বুঝতে পারছে না। পারুল কখন ঠাট্টা করে, কখন করে না সে বুঝতে পারে না বলে পারুল কিছু বললেই সে কিছু সময়ের জন্যে হলেও অস্বস্তির মধ্যে থাকে।

    পারুল বলল, এ বাড়ির যিনি মালিক তিনি কি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে এখানে থাকেন?

    না। এটা বাগানবাড়ি।

    পারুল কৌতূহলী গলায় বলল, তার বান্ধবীদের নিয়ে মজা করতে আসেন? এজন্যই এতো নিরিবিলিতে বাড়ি?

    তাহের বিরক্ত মুখে বলল, মানুষকে এত ছোট ভেবো না তো। সুখী মানুষ বলতে যা বোঝায় করিম সাহেব তাই। এ বাড়িতে একটা নামাজ-ঘর আছে, সেটা জান?

    তিনি এখানে তাহলে নামাজ পড়বার জন্য আসেন?

    বিশ্রাম করার জন্যে আসেন। একনাগাড়ে কয়েকদিন থেকে চলে যান। একা আসেন, একা চলে যান।

    একা আসেন কেন? স্ত্রীকে আনতে অসুবিধা কি?

    তার স্ত্রীর প্যারালাইসিস। আঙুল পর্যন্ত নাড়াতে পারেন না। নার্সিং হোমে আছেন গত ছয় বছর ধরে।

    এদের বাচ্চাকাচ্চা কি?

    কোন বাচ্চা-কাচ্চা নেই।

    পারল বিস্মিত গলায় বলল, কোন বাচ্চা-কাচ্চা নেই, তাহলে টাকাপয়সা কে উড়াবে? ধনী বাবার সম্পদ নষ্ট করার জন্যে পুত্র-কন্যা দরকার।

    একবার একটা ছেলেকে পালক নিয়েছিলেন। বার তের বছর বয়স হবার পর ঘাড় ধরে সেই ছেলেক বের করে দিলেন।

    কেন?

    জানি না কেন। পছন্দ হয়নি আর কি। যতই হোক পরের ছেলে–পরের ছেলের উপর কি আর মায়া হয়?

    হবে না কেন? তুমি তো পরের ছেলে, তোমার উপর আমার মায়া হচ্ছে না?

    সব সময় কেন ঠাট্টা কর?

    ঠাট্টা করছি না। সত্যি কথা বলছি।

    সত্যি কথা বলা দরকার নেই।

    পারুল হালকা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, ঐ ভদ্রলোক পালক ছেলে হিসেবে তোমাকে নিয়ে নিলে খুব ভাল করতেন। এক সঙ্গে ছেলে, ছেলের বউ দুটাই পেয়ে যেতেন। কিছুদিন পরই নাতি বা নাতনী। এক ঢিলে তিন পাখি।

    তাহের বিরক্ত মুখে বলল, তুমি সব সময় বাঁকা বাঁকা কথা বল তার কি মানে সেটাই বুঝি না।

    পারুল গম্ভীর গলায় বলল, তুমি একটা কাজ করো না, ভদ্রলোক এলে তাঁর কাছে পালকপুত্র হবার জন্যে একটা দরখাস্ত দাও। দরখাস্তের শেষে বায়োডাটা।

    পারুল। একটু আগে কি বললাম? আমার সঙ্গে ঠাট্টা করবে না। আমার অসহ্য বোধ হয়।

    আমি তো কখনো ঠাট্টা করি না। সিরিয়াস কথাগুলি হালকাভাবে বলি বলে ঠাট্টা মনে হয়।

    হালকাভাবে কথা তাহলে বলো না।

    আচ্ছা যাও, এখন থেকে খুব ভারি ভারি কথা বলব। হে স্বামী, রাত্রি গাভীর হইয়াছে–আপনি কি এখন শয্যা গ্রহণ করিবেন, না গল্প করিয়া কালক্ষেপণ করিবেন?

    পারুল হেসে গড়িয়ে পড়ছে। তাহের রাগ করে উঠে গেল। মনে হচ্ছে এই রাগ অনেকক্ষণ থাকবে। রাগ ভাঙানোর জন্যে সাধ্যসাধনা করতে হবে। রাগ ভাঙানোর সাধ্যসাধনা করতে পারুলের খারাপ লাগে না, ভালই লাগে। তবে এই মুহূর্তে রাগ ভাঙানোর দরকার নেই। থাকুক মুখ ভোতা করে। রাতে রাগ ভাঙ্গানো যাবে। পারুল একা একা বাড়ি দেখে বেড়াতে লাগল। এত বড় বাড়ি, মনে হচ্ছে সারাদিন হাঁটলেও দেখা হবে না। তবে বেশির ভাগ ঘরই তালাবন্ধ। চাবি থাকলে ঘরগুলি দেখা যেত।

     

    রাতে ঘুমূবার সময় তাহের অন্যদিকে পাশ ফিরে শুয়ে রইল। রাগ দেখানো হচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যে কপট ঘুমের ভানও করা হবে। পারুল বলল, এই, ঘুমিয়ে পড়েছ না কি?

    তাহের জবাব দিল না। জবাব দেবে না জানা কথা। পারুলকে কথাবার্তা এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে যেন নিজের অজান্তেই তাহের অংশ গ্রহণ করে ফেলে। পারুল বলল, কি শক্ত খটখটে বিছানা। মনে হচ্ছে ইটের উপর শুয়ে আছি। এদের শোবার ঘরের বিছানাও কি এমন না কি?

    তাহের বলল–কি পাগলের মত কথা! এদের শোবার ঘরের বিছানা এরকম হবে কেন? ওয়াটার বেড।

    সেটা কি রকম?

    তোষকের ভেতর তুলার বদলে পানি ভরা।

    সে কি?

    বিছানায় শোয়ামাত্র চোখে ঘুম চলে আসবে। মনে হবে পানির উপর ভাসছ।

    পারুল উঠে বসে আগ্রহের সঙ্গে বলল–চল ঐখানে শুয়ে থাকি। করাত ধরেই আমার ঘুম আসছে না। ঐ ঘরে আরাম করে ঘুমাই।

    বললাম না ঐ ঘর তালাবন্ধ। তাছাড়া তালা না থাকলেও এখানে শোব কেন?

    বাড়িটাই যখন আমাদের, সব কিছুই আমাদের।

    বাড়িটা আমাদের তোমাকে বলল কে?

    তুমি তো বললে। তুমি বললে না ওদের অনুপস্থিতিতে আমরাই বাড়ির মালিক।

    কখন বললাম এরকম কথা?

    বলেছ, এখন ভুলে গেছ। চল যাই।

    তুমি কি যে বিরক্ত কর!

    আচ্ছা যাও। শুধু ঘরটা দেখে চলে আসি। ঘরটা দেখব আর সোনার বাখরুমে গোসল করব। আমার গা কুটকুট করছে।

    সোনার বাথরুম তো না। বাথরুমের ফিটিংসগুলি সোনার। আঠারো ক্যারেট।

    পারুল অন্ধকারেই হাসল। তাহেরের রাগ জলে ভেসে গেছে। সে মনের কথা আনন্দে বলে যাচ্ছে। তাহেরকে আবারো রাগিয়ে দিতে ইচ্ছা করছে। এমন কিছু বলতে ইচ্ছা করছে যাতে তাহের রেগে আগুন হয়ে যায়–। রেগে যাবে, সে আবার রাগ ভাঙাবে।

    পারুল নিচু গলায় বলল, এই, একটা কথা শোন।

    শুনছি তো।

    কাছে এসে শোন। গোপন কথা। আচ্ছা, একটা কাজ করলে কেমন হয়।

    কি কাজ? চল আমরা বাথরুমের ফিটিংসগুলি খুলে নিয়ে পালিয়ে যাই। সব জড় করলে দুই-তিন সে সোনা তো নিশ্চয়ই হবে। হবে না? সোনার ভরি এখন ছ হাজার টাকা। তিন সের সোনা বিক্রি করলে আমরা পাব–আচ্ছা, কত ভরিতে এক সের হয় তুমি জান?

    তাহের গম্ভীর গলায় বলল–শোন পারুল, এক কথা কতবার বলব? আজেবাজে। তুমি একেবারেই পছন্দ করি না।

    ঠাট্টা করছি না তো। সোনার বাথরুম এই খবরটা জানার পর থেকে আমার মাথার মধ্যে ব্যাপারটা ঘুরছে। আমরা কি করব শোন…

    কিচ্ছু শুনব না। আর একটা কথা না। ঘুমাও।

    তোমার বাথরুম পাচ্ছে না? বড়টা?

    তাহের রাগী গলায় বলল–বাথরুম পাবে কেন?

    পচা গোসতের কাবাব কপ কপ করে সবটা খেয়ে ফেললে এই জন্যে। স্ট্রং ডাইরিয়া তো ইতিমধ্যে শুরু হবার কথা…।

    পারুল খিলখিল করে হসিছে। তাহেরের রাগ করা উচিত। রাগ করতে পারছে না। মায়া লাগছে। হাসি শুনতে ভাল লাগছে। মেয়েটা এত সুন্দর করে হাসে। হাসি শুনলে মনে হয় এই মেয়ের জীবনে কোন দুঃখ কষ্ট নেই। শুধুই সুখ। অথচ তাহে জানে পারুল কত দুঃখী মেয়ে। মাত্র সাত মাস পর তার কোলে শিশু আসবে–অথচ কোন আয়োজন নেই। পারুলকে ক্লিনিকে ভর্তি করাবার টাকাও নেই। ক্লিনিক তো দূরের ব্যাপার–এখন পর্যন্ত সে তাকে ডাক্তারের কাছেও নিতে পারেনি।

    গর্ভবতী মেয়েদের ভাল ভাল খাবার খেতে হয়। দুধ, ডিম, ফল-মূল কত কি! কিছুই করা যাচ্ছে না। তাহের অবশ্যি পকেটে করে প্রায়ই পেয়ারা, কলা কিনে নিয়ে যাচ্ছে। দোকান থেকে কলা কেনাও অস্বস্তির ব্যাপার। মানুষ কলা কেনে ডজন হিসেবে, সে কেনে একটা। একটামাত্র কলা পাঞ্জাবির পকেটে নিয়ে ফিরলে পারুলও খুব হাসাহাসি করে। উল্টা-পাল্টা কথা বলে।

    আচ্ছা শোন, এই যে এত কলা খাচ্ছি সমস্যা হবে না তো?

    কি সমস্যা?

    বাচ্চা হলে দেখা যাবে বাচ্চার আধ হাত লম্বা লেজ। অতিরিক্ত কলা খাওয়ায় পেটের বাচ্চা বানর হয়ে গেছে।

    উদ্ভট কথা তুমি কেন যে বল!

    তুমি উদ্ভট কাজ কর এই জন্যে আমি উদ্ভট কথা বলি।।

    উদ্ভট কাজ কি করলাম?

    এই যে পকেটে একটা করে কলা নিয়ে আস। প্লীজ আর কখনো আনবে না। এক সঙ্গে বেশি করে নিয়ে এসো। রোজ একটা করে খাব।

    এক সঙ্গে বেশি করে আনবে কোত্থেকে? মাঝে মধ্যে একটা দুটা আনছে তাই অনেক বেশি। তাহেরকে বিয়ে করে পারুল যে ভয়াবহ কষ্টের মধ্যে পড়েছে তার জন্যে তাহের নিজেকে অপরাধী মনে করছে না। কারণ এই বিপদ পারুল নিজে ডেকে এনেছে। তাহের তাকে কখনো বলেনি আমাকে বিয়ে কর। বিয়ের চিন্তাই তার মাথায় ছিল না। নিজে খেতে পায় না–তার আবার বিয়ে কি? পারুলের বিয়ে যখন ঠিকঠাক হয়ে গেল তখন সে বরং হাঁপ ছেড়ে বাঁচল। যাক, দুঃশ্চিন্তা দূর হল। খুব ভাল সম্বন্ধ। মেয়েটা সুখে থাকবে। মাঝে মধ্যে সে পারুলের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে টা-টা খেয়ে আসবে। সেটাও তো কম না। সম্বন্ধও খুব ভাল। ছেলের বাবা ডাক্তার। মুগদাপাড়ায়। চারতলা বাড়ি। তিনি নিজে একতলা দুতলা নিয়ে থাকেন। দুই ছেলের জন্যে ওপরের তিনতলা আর চারতলা।

    তাহের নিজেই একদিন বাড়িঘর দেখে এল। সে মুগ্ধ। বাড়ির সামনে অনেকখানি জায়গা। সেখানে বাগান করা হয়েছে। বাড়ির পেছনে অনেক জায়গা। আম গাছ, কাঠাল গাছ। ছেলের সঙ্গে কথা বলেও সে খুশি। ছেলে বিজনেস করছে। শাড়ির দোকান আছে, চায়নীজ রেস্টুরেন্টে শেয়ার আছে। পারুলকে সে উৎসাহের সঙ্গেই খবরাখবর দিল। পারুল বিরক্ত হয়ে বলল, আশ্চর্য কাণ্ড! তুমি ঐ বাড়িতে কি পরিচয় দিয়ে উঠলে?

    বললাম, আমি পারুলের দূর সম্পর্কের মামা।

    মামা? মামা বললে কেন?

    প্রথমে ভেবেছিলাম দূর সম্পর্কের ভাই বলব–এতে সন্দেহ করতে পারে। কি দরকার, এরচে মামাই ভাল।

    তোমাকে খুব খাতির-যত্ন করেছে?

    হ্যাঁ, করেছে। ছেলের বাবা বাড়িঘর ঘুরে ঘুরে দেখালেন। তাদের একটা গাছে এবার ছিয়াত্তরটা নারকেল হয়েছে।

    তুমি গাছে উঠে নাকেল গুনলে?

    না, উনিই বললেন। নিতাই ভদ্রলোক। ছেলের সঙ্গেও কথা হয়েছে। বেশিক্ষণ কথা হয়নি। অল্প কিছুক্ষণ কথা হয়েছে, তার আবার একটা চায়নীজ রেস্টুরেন্টে। শেয়ার আছে–সন্ধ্যাবেলা খানিক বসতে হয়।

    তুমি তাহলে আমার শ্বশুরবাড়ি দেখে মুগ্ধ?

    মুগ হব না কেন?

    চা-নাসতা খেলে?

    হু। পাপড় ভাজা, সেমাই, নিমকপাড়া…

    থাক, মেনু শুনতে চাচ্ছি না। যথেষ্ট শুনেছি।

    তোমার শ্বশুরের একটা গাড়ি আছে। ওল্ড মডেলের টয়োটা, নতুন একটা কিনবেন। বাজেটের জন্যে অপেক্ষা করছেন। বাজেটে গাড়ির দাম কমার কথা।

    সব দেখেশুনে তোমার কি মনে হচ্ছে আমার বিয়ে করে ফেলা উচিত?

    অবশ্যই।

    তুমি যখন বলছ, করে ফেলব।

    আজকাল ভাল ছেলে পাওয়া আসমানের চাঁদ পাওয়ার মত। একজন যখন পাওয়া গেছে।

    পারুল শীতল গলায় বলল, তার উপর ওদের চায়নীজ রেস্টুরেন্ট আছে। এটা একটা  প্লাস পয়েন্ট। যখন-তখন চাননীজ খাওয়া যাবে। ধর, তুমি বিকেলে বেড়াতে এলে, ঘরে কোন খাবার নেই, একটা স্লীপ লিখে তোমাকে চাইনীজ রেস্টুরেন্টে পাঠিয়ে দিলাম। আচ্ছা, এদের রেস্টুরেন্টের নাম কি?

    নিউ সিচুয়ান। খুব চলি রেস্টুকেন্ট।

    চল, ওদের রেস্টুরেন্ট থেকে একটু স্যুপ খেয়ে আসি।

    তাহের হকচকিয়ে গেল। পারুলের কথাবার্তার ঠিক-ঠিকানা নেই। কাজকর্মেরও ঠিক-ঠিকানা নেই। হয়তো সত্যি সত্যি স্যুপ খেতে চাচ্ছে।

    পারুল বলল, তোমার কাছে কি এক বাটি স্যুপ কেনার টাকা আছে? এক বাটি স্যুপের দাম একশ টাকার বেশি হবে না। একশ টাকা সুপ, পাঁচ টাকা টিপস। যেতে আসতে রিকশাভাড়া পনের–একশ কুড়ি টাকা হলেই আমাদের চলে। আছে তোমার কাছে, একশ কুড়ি টাকা?

    তাহেরের কাছে তেত্রিশ টাকা ছিল। একশ কুড়ি টাকা থাকলেও যে সে পারুলকে নিয়ে যেত তা না। অকারণে টাকা নষ্ট করার কোন মানে হয় না। তাছাড়া যে মেয়ের বিয়ের কথাবার্তা হচ্ছে সেই মেয়েকে নিয়ে চায়নীজ রেস্টুরেন্টে ঘোরাঘুরি করা যায় না। কখন কে দেখে ফেলবে!

    কি, কথা বলছ না কেন? আছে এক কুড়ি টাকা?

    না, তেত্রিশ টাকা আছে।

    তাহলে তো বিরাট সমস্যা হয়ে গেল। চল না বাকিতে খেয়ে আসি। খাওয়া দাওয়ার পর তুমি রেস্টুরেন্টের ম্যানেজারকে বলবে–এই যে মেয়েটি খাওয়া-দাওয়া করল তার সঙ্গেই আপনাদের মালিকের বিয়ের কথা পাকা হয়ে গেছে। এখন বিবেচনা করুন, তার কাছ থেকে কি স্যুপের দাম রাখা ঠিক হবে?

    তাহের বিরক্ত মুখে বলল, তোমার ব্রেইনে কোন সমস্যা আছে। তুমি সবসময়। আজেবাজে কথা বল। একজন স্বাভাবিক মানুষ তো আর সারাক্ষণ ঠাট্টা করে না। তোমাকে বোঝা খুবই মুসকিল।

    পারুল উদাস গলায় বলল, মেয়েদের বোঝা এত সহজ না। তুমি যদি আমাকে বুঝতে তাহলে চিন্তায় তোমার ব্রহ্মতালু শুকিয়ে যেত।

    কেন?

    কারণ আমি অনেক আগেই ঠিক করে রেখেছি তোমাকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করব না। এবং বিয়েটা হবে সামনের মাসের প্রথম সপ্তাহে।

    সত্যি সত্যি দুশ্চিন্তায় তাহেরের গলা-টলা শুকিয়ে গেল। বিয়ে কোন ছেলেখেলা না। তার নিজের রাতে শোবার জায়গা নেই। জসিমের মেসে এতদিন থাকত। খাটে ডাবলিং করত। গত সপ্তাহেই জসিম বলেছে, অন্য কোথাও একটু থাকার ব্যবস্থা কর দোস্ত। গরমের মধ্যে এক খাটে দুজন–চাপাচাপি হয়–। তারপরও তাহের জসিমের সঙ্গেই আছে, যাবে কোথায়?

    বিয়ে করে সে বউকে কোথায় নিয়ে তুলবে? জসিমের মেসে?

    অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, পরের মাসের প্রথম সপ্তাহেই তাদের বিয়ে হবে গেল। কাজী অফিসে নাম সই করতে গিয়ে তাহেরের হাত কাঁপতে লাগল। অথচ পারুল কি স্বাভাবিক–যেন কিছুই হয়নি। সে রুমালে মুখ মুছে বলল, খুব গরম এক কাপ চা খেতে ইচ্ছা করছে। কোথায় পাওয়া যায় বল তো?

    এই প্রশ্নের জবাবে তাহের বলল–এখন তোমাকে নিয়ে আমি কী করব? কোথায় যাব?

    পারুল বলল, আমাকে নিয়ে তোমাকে কিছু করতে হবে না, কোথাও যেতে হবে। তুমি যেমন আছি তেমন খাক। চাকরির চেষ্টা করতে থাক।

    চাকরি পাব কোথায়?

    এখন হয়ত পাবে। স্ত্রী-ভাগ্যে কিছু নিশ্চয়ই জুটে যাবে।

    তোমার কোন টেনশন হচ্ছে না, পারল?

    বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত হচ্ছিল–এখন হচ্ছে না।

    চাকরি-বাকরি কিছুই যদি না পাই তখন কি হবে?

    পাবে। অবশ্যই পাবে। আমি খুব ভাগ্যবতী মেয়ে।

    তুমি ভাগ্যবতী মেয়ে?

    অবশ্যই–যাকে বিয়ে করতে চেয়েছি তাকে বিয়ে করতে পেরেছি। কটা মেয়ের এরকম সৌভাগ্য হয়? টাকাপয়সার ভাগ্য হল ছোট ধরনের ভাগ্য। ভালবাসার ভাগ্য অনেক বড়। অনেক দিন ধরেই আমি রাতে ঘুমাতে পারছিলাম না। আজ রাতে আমার খুব ভাল ঘুম হবে।

    সেই রাতে তাহেরের একেবারেই ঘুম হয়নি। কি যন্ত্রণায় পড়া গেল। গোদের উপর মানুষের হয় বিষ ফোড়া, তার হয়েছে ক্যানসার। বিয়ে করা বৌ থাকে এক জায়গায়, সে থাকে আরেক জায়গায়। বন্ধুর খাটের অর্ধেকটা শেয়ার করে। পারুলকে নিয়ে কোনদিন সংসার করা যাবে তা মনে হয় না।

    বিয়ের ব্যাপারটা জানাজানি হবার পর পারুলকে তার বড় চাচা বাড়ি থেকে বের করে দিলেন। মধুর গলায় বললেন–যাও, স্বামীর সঙ্গে সুখে ঘর-সংসার কর। ভুলেও এদিকে আসবে না। যদি কোনদিন তোমাকে কিংবা তোমার গুণবান স্বামীকে এ বাড়িতে দখি তাহলে স্পঞ্জের স্যান্ডেল দিয়ে পিটাব। আল্লাহর কসম।

    স্যান্ডেলের পিটা খাবার জন্যে না–চাচীর সঙ্গে তার কিছু গয়না ছিল, গয়নাগুলির জন্যে পারুল একাই একদিন গিয়েছিল। তার মায়ের গয়না–চাচীর কাছে গচ্ছিত। মেয়ের বিয়ের সময় যেন দেয়া হয় এরকম কথা। পারুলের চাচী বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে বললেন, গয়না! কিসের গয়না?

    পারুল বাল, মার মায়া চাচী।

    তোমার মা তো রাজরাণী ছিলেন, গাদা গাদা গয়না বানিয়ে মেয়ের জন্যে রেখে গেছেন!

    গাদা গাদা গয়না না চাচী–গলার একটা চন্দ্রহার।

    ওরে বাপরে, হারের নামও জান–চন্দ্রহার?

    মার একটা স্মৃতিচিহ্ন। দিয়ে দিন না চাচী।

    তুমি কি বলতে চাচ্ছি–তোমার মায়ের গয়না আমরা চুরি করেছি? আমরা চোর? এতদিন খাইয়ে পরিয়ে এই জুটল কপালে! চোর বানালে আমাদের? তুমি যেও না বস, তোমার চাচা আসুক অফিস থেকে। তারপর ফয়সালা হবে।

    পারুল বসেনি, চাচার জন্য অপেক্ষা করে লাভ হত না। মার স্মৃতি রক্ষার জন্যে পারুল যে খুব ব্যস্ত ছিল তাও না। গয়নাটা পেলে তার লাভ হত–চার ভরি ওজনের হার। খাদ কেটেও সাড়ে তিন ভরির দাম পাওয়া যেত… টাকাটা কাজে লাগত।

    তাহের বৌকে দিয়ে তার মার এক দূর সম্পর্কের এক ভাইয়ের বাসায় গেল। তিনি দীর্ঘ সময় চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকলেন। এক সময় চোখ স্বাভাবিক করে বললেন, তোমাকে তো চিনতে পারলাম না। তাহের তার নাম, তার মায়ের নাম, গ্রামের নাম সব বলল। ভদ্রলোক বললেন, ও আচ্ছা আচ্ছা। বলার ভঙ্গি থেকে মনে হল এখনো চিনতে পারেননি।

    তাহের বিড় বিড় করে বলল, মামা, কয়েকটা দিন আমি আপনার বাড়িতে। থাকব। বিপদে পড়ে গেছি–হঠাৎ বিয়ে হয়ে গেলক…

    কয়েকটা দিন মানে কতদিন?

    ধরেন দশ-পনেরো দিন। এর মধ্যে একটা কিছু ব্যবস্থা করে ফেলব।

    ভদ্রলোক বললেন—ও।

    এই ও-র মানে কি? থাকতে দিচ্ছেন, না দিচ্ছেন না তাহের ধরতে পারল না। তাহের রাস্তায় রিকশা দাঁড় করিয়ে রেখেছে। পলি দুটি স্যটকেস আর একটা বেতের ঝুড়ি নিয়ে রিকশায় চুপচাপ বসে আছে। তাকে অবশ্যি তেমন চিন্তিত মনে হচ্ছে না। তাহের বলল–মামা, আমি এমন বিপদে পড়েছি ..

    ভদ্রলোক বললেন, বিপদে যে পড়েছ তা তো বুঝতেই পারছি। চিনি না জানি না, সম্পর্ক ধরে উপস্থিত হয়েছ..।

    মামা, পারুলকে কি রিকশা থেকে নামতে বলব?

    পারুলটা কে?

    আমার স্ত্রী। রিকশা থেকে নামতে বলব?

    বল।

    তাহেরের সেই দূর সম্পর্কের মামার নাম সিরাজউদ্দিন। প্যারালিসিস হয়ে ঘরে পড়ে আছেন। ঢাকায় নিজের বাড়িতে থাকেন। ঢাকা শহরের সবচে নোংরা বাড়িটা তাঁর। বাড়ি নোংরা, আসবাবপত্র নোংরা, সবই নোংরা। বাড়ি প্রথম তৈরির সময় যে চুনকাম হয়েছিল, তারপর সম্ভবত আর চুনকাম হয়নি। দোতলা বাড়ির দোতলা এবং একতলার অর্ধেকটা ভাড়া দেয়। ভাড়ার টাকাতেই সম্ভবত সংসার চলে।

    সিরাজউদ্দিন সাহেব তাহেরকে চিনতে না পারলেও তার থাকার জন্যে একটা কামরা ছেড়ে দিলেন। কামরার সামনে এক চিলতে বারান্দা আছে।বারান্দার টবে বকমভিলিয়া গাছে লাল লাল পাতা। বারান্দা আলো হয়ে আছে। এটাচড্‌ বাথরুম। বাড়ি নোংরা হলেও বাথরুমটা পরিচ্ছন্ন। সিরাজউদ্দিন সাহেব তার স্ত্রীকে ডেকে বলেছিলেন–আমার খালাতো বোনের ছেলে, নতুন বৌ নিয়ে এসেছে, দেখবে কোন অযত্ন যেন না হয় …।

    তাদের বাসর হল সিরাজউদ্দিন সাহেবের বাসায়। এতটুকু একটা খাট, তার ওপর ময়লা খয়েরি রঙের একটা চাদর। দুটি বালিশ আছে। একটায় ওয়ার নেই। পারুল বলল, মাগো! এত ছোট বিছানা হয়। একজনও তো আরাম করে শুতে পারবে না।

    তাহের বলল, তুমি বিছানায় ঘুমাও। আমি মেঝেতে চাদর পেতে শুয়ে থাকব। আমার কোন অসুবিধা হবে না। আমার অভ্যাস আছে।

    পারল বলল, আজি আমাদের বাসর রাত। আমরা দুজন বুঝি দু জায়গায় শুয়ে থাকব? তুমি যাও তো, কয়েকটা জিনিস কিনে আন। একটা সুন্দর চাদর, দুটা বালিশের কভার, আর কয়েকটা গোলাপ ফুল। যদি পাও সাত আটটা বেলী ফুলের মালা।

    তাহের ইতঃস্তত করছে। পারুল বলল, কিছু টাকা অকারণে রাত হলে। হোক না।

    সামান্য জিনিস দিয়ে পারুল কি সুন্দর করেই না ঘরটা সাজাল। তাহেরের চোখ প্রায় ভিজে এল। পারুল বলল, আজ রাতে আমরা খুব আনন্দ করব। কষ্টে কষ্টে আমার জীবন কেটেছে তোমারও তাই। আজ রাতে যেন আমাদের মনে কোন কষ্ট না থাকে। বলতে বলতে পারুল চোখ মুছল। চোখ মুছতেই থাকল। কিছুতেই সে কান্না থামাতে পারছে না। তাহের তাকিয়ে আছে বিষণ্ণ চোখে। সে যে স্ত্রীকে সান্তনা দেবে সে সাহস তার হচ্ছে না। তার শুধুই মনে হচ্ছে, এত কাছে বসে থাকা মেয়েটি আসলে এ্ত কাছের না–অনেক দূরের কেউ। ধরা-ছোঁয়ার বাইরের একজন।

    দিন সাতেক থাকার কথা বলে তাহের এ বাড়িতে উঠেছিল। ছ মাস পার করে দিল। সিরাজউদ্দিন এই ছ মাসে একবারও বলেননি–আর কত? এবার বিদেয় হও।

    ভাল মানুষ পৃথিবীতে আছে। সিরাজউদ্দিন নামের রাগী-রাগী চেহারার এই মানুষটা না থাকলে কি ভয়াবহ অবস্থাই হত তাদের। লোকটা পুরোপুরি আবেগশূন্য। যখন তাহের তাদের বাড়িতে থাকতে গেল তখন তিনি যন্ত্রের মত মুখ করেছিলেন। দিন চলে আসে সেদিনও তেমন।

    তাহের বলল, আপনার উপকার আমি জীবনে ভুলব না।

    ভদ্রলোক বললেন, ও আচ্ছা।

    আপনাকে আমরা অনেক যন্ত্রণা করেছি .দয়া করে ক্ষমা করে দেবেন।

    আচ্ছা।

    ভদ্রলোক জানতেও চাননি তাহেররা কোথায় যাচ্ছে। যে মানুষের কোন কৌতূহল নেই সেও জিজ্ঞেস করবে–তোমরা যাচ্ছ কোথায়? ভদ্রতা করে হলেও করবে। তিনি তাও করলেন না। হাই তুললেন। তাহের নিজ থেকে বলল–মামা, আমরা যাচ্ছি নীলা হাউসে–শহরের বাইরে এক ভদ্রলোক একটা বাড়ি বানিয়েছেন–ঐ বাড়ির দেখাশোনা…

    আচ্ছা আচ্ছা।

    ভদ্রলোক আবেগশূন্য হলেও তাহেরের চোখ ভিজে আসছে। সে ধরা গলায় বলল, যদি কোনদিন আপনার কোন কাজে আসতে পারি, বলবেন।

    আচ্ছা আচ্ছা।

    মাঝে মাঝে এসে আপনাকে দেখে যাব।

    আচ্ছা আচ্ছা।

    তাহের কদমবুসি করার জন্যে নিচু হতেই তিনি বললেন, পায়ে হাত দিও না। পায়ে হাত দিলে ব্যথা লাগে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপাখি আমার একলা পাখি – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article প্রথম প্রহর – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }