Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পারুল ও তিনটি কুকুর – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প149 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৩. পারুল রান্না বসিয়েছে

    পারুল রান্না বসিয়েছে। যেহেতু সে স্টোভে রান্না করে তার রান্নাঘর চলমান। একেক সময় একেক জায়গায় থাকে। এখন সে রান্না করছে বারান্দায়। খোলামেলা বারান্দা, একদিকে গ্রীল দেয়া। বাতাস আসছে–স্টোভের আগুন ছড়িয়ে যাচ্ছে। রান্না হতে দেরি হবে। হোক। তার এমন কোন কাজকার্য নেই। সারাদিনে একবেলা রান্না। রান্নাটা তাড়াতাড়ি হয়ে গেলেই বরং তার সমস্যা–বাকি সময় কাটবে কিভাবে?

    তাহের সকাল বেলা ঢাকা চলে গেছে। মেসবাউল করিম সাহেবের অফিসে যাবে। তিনি ঠিক কবে আসবেন, কোন প্লেনে আসবেন জেনে আসবে। তাঁর ঢাকা এসে উপস্থিত হবার আগেই পারুলকে বাড়ি ছেড়ে যেতে হবে।

    এত বড় একটা বাড়িতে পারুল একা। বাড়ির বাইরে চারটি প্রাণী আছে–তিনটা এলসেসিয়ান কুকুর, একজন কুকুরের সর্দার। কুকুর তিনটার নাম আছে নিকি, মাইক, ফিবো। এর মধ্যে নিকি হল মেয়ে কুকুর। নিকির নাকে শাদা ফুটকি। মাইক এবং ফিবো দেখতে অবিকল এক রকম। কামরুল নামের কুকুরের সর্দার এদের আলাদা করে কি করে, সেই জানে। পারুলের ধারণা গন্ধ শুঁকে শুঁকে। কুকুরের সঙ্গে থেকে থেকে তারও নিশ্চয়ই ঘ্রাণশক্তি বেড়েছে।

    রান্না করতে করতে পারুল দেখল, কুকুরের সর্দারটা এখন কুকুর তিনটাকে খেলা দিচ্ছে। ক্রিকেট বলের মত একটা চামড়ার বল ছুঁড়ে ছুঁড়ে দিচ্ছে। দুটা কুকুর সেই বল নিয়ে খুব নাচানাচি করছে কিন্তু তিন নম্বর কুকুরটা করছে না। সে দূরে দাঁড়িয়ে আছে। যে দূরে দাঁড়িয়ে, তাকে বল খেলায় আকৃষ্ট করার অনেক চেষ্টা করা হচ্ছে, লাভ হচ্ছে না। আদুরে গলায় কামরুল বলছে–যাও নিকি, যাও। খেলটু কর, খেলটু।

    নিকি খেলটু করার দিকে আগ্রহী নয়, বরং তাকে দেখে মনে হচ্ছে অন্য দুজনের ছেলেমানুষী খেলা দেখে নিকি বিরক্ত। সে খুব ধীর লয়ে লেজ নাড়ছে। কুকুর তার বেশিরভাগ কথাই নাকি লেজ মারফত বলে। সাইন ল্যাংগুয়েজ। ধীরে ধীরে লেজ নাড়ার অর্থ কি কুকুরের সর্দার জানে? পারুল মনে মনে একটা অর্থ করল–ধীর গতিতে লেজ নাড়ার অর্থ আমি বিরক্ত হচ্ছি, আমি খুব বিরক্ত হচ্ছি। পারুল নিজের অজান্তেই ডাকল–নিকি, এই নিকি।

    নিকির লেজ নাড়ানো বন্ধ হয়ে গেল। সে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো। অন্য দুজনও খেলা বন্ধ করে তাকালো। কুকুরের চোখের ভাষা পড়া যায় না। পড়া গেলেও এতদূর থেকে নিশ্চয়ই যায় না। পারুল বলল, এই নিকি, কাছে আয়।

    বলমাত্র পারুলকে বিস্মিত করে নিকি ছুটে এল। গ্রীলের ফাঁক দিয়ে মুখ খানিকটা বের করে দিল। পারুলের ইচ্ছা হল–ও মাগো বলে বিকট একটা চিৎকার দেয়। নিজেকে সে চট করে সামলালো–যত ভয়ংকর কুকুরই হোক, গ্রীল ভেঙে নিশ্চয়ই আসতে পারবে না।

    কিরে নিকি, তুই খেলাট করছিস না কেন? লেটু করতে ভাল লাগে না?

    নিকি জবাব দিল না। মুখে তো কিছু বললই না, লেজ নেড়েও না। নিকির লেজ এখন স্থির হয়ে আছে। মাইক এবং ফিবো এসে দাঁড়াল নিকির কাছে। পারুলের মনে হল, অভিজাত কুকুরেরও আত্মসম্মানবোধ তেমন তীব্র না। এদের ডাকা হয়নি। তারপরেও এরা উপস্থিত হয়েছে।

    পারুল বলল, তারপর তোদের খবর কি? তোর এমন ভয়ংকর চেহারা করে রেগেছিস কেন? ভয় দেখাতে ভাল লাগে?

    ফিবি ও মাইক স্থির হয়ে আছে কিন্তু নিকি তার লেজ সামান্য নাড়ল। সাইন ল্যাংগুয়েজে এই সামান্য লেজ নাড়ার অর্থ কি?

    কামরুল দূর থেকে ডাকল–কাম অন, কাম অন। নিকি, মাইক, ফিবো কাম অন প্লে টাইম। প্লে টাইম।

    এরা ফিরেও তাকাল না। কামরুল বিরক্ত মুখে এগিয়ে আসছে। গ্রীলের কাছে এসে থু করে একদলা থুথু ফেলল। খুব সবটা পড়ল না, খানিকটা তার ঠোঁটের কাছে ঝুলে রইল। সে পারুলের দিকে তাকিয়ে চাপা সর্দি-বসা গলায় বলল, এদেরে ডাকলা কেন? কেন ডাকলা?

    পারুল লোকটির দুঃসাহসে অবাক হয়ে গেল। দারোয়ান শ্রেণীর একটা মানুষ, কুকুরের সর্দার, অথচ কত অবলীলায় পারুলকে সে তুমি করে বলছে। যে পারুল এবার জিওগ্রাফীতে অনার্স পরীক্ষা দিয়েছে, উপরের দিকে সেকেন্ড ক্লাস থাকার কথা। ফোর্থ পেপারটা ভাল হলে সে ফাস্ট ক্লাসের স্বপ্ন দেখতে পারত। ফোর্থ পেপারটা একেবারে যাচ্ছেতাই হয়ে গেল। ক্র্যাশ করলেও করতে পারে। ক্র্যাশ করুক বা না করুক, ইউনিভার্সিটিতে পড়া একটা মেয়েকে কি অবলীলায় লোকটা তুমি ডাকল। এই সাহস তাকে কে দিয়েছে? কুকর তিনটা, না-কি তাহেরের কারণে সে তাকে তুমি বলছে? দারোয়ান-টাইপ একজন মানুষের স্ত্রী, তাকে তো তুমি বলাই যায়।

    কামরুল বলল, খবর্দার, এদের ডাকাডাকি করব না।

    পারুল খুব দ্রুত চিন্তা করল–লোকটাকে তুমি বলার জন্যে প্রথমেই কড়া একটা ধমক দেবে কি না। যাকে বলে ডাইরেক্ট কনফ্রন্টেশান। অবশ্যি অনেকের অভ্যাস থাকে সবাইকে তুমি বলার। লোকটা হয়ত মেসবাউল করিমকেও তুমি বলে। কুকুর নিয়ে যার কাজ তার বোধ, জ্ঞান কুকুরের কাছাকাছি থাকারই কথা। তাই যদি হয় তাহলে তুমি বলার জন্যে তার উপর রাগ করা যায় না। পারুল রাগ মুছে ফেলে প্রায় হাসিমুখে বলল, কুকুরকে ডাকা কি নিষেধ?

    হ নিষেধ।

    কুকুর তিনটার নাম আছে। নাম দেয়া হয় ডাকার জন্য। কাজেই আমার মনে হয়। এদের ডাকা নিষেধ না।

    তুমি তোমার কাজ করা, কুকুর ডাকাডাকি করবা না।

    কামরুল আবার থুথু ফেলল এবং আবারও থুথুর খানিকটা ঠোঁটের কাছে ঝুলে রইল। পারুলের মনে হল লোকটার জিব খানিকটা বাঁকা এই জন্যে থুথু সরাসরি ফেলতে পারে না, বাঁকা করে ফেলে, বাঁকা করে ফেলার জন্যে খানিকটা ঠোঁটের কোণায় লেগে থাকে।

    কামরুল চলে যাচ্ছে। আগের জায়গায় গিয়ে চামড়ার বলটা হাতে নিয়ে বলল, কাম অন বেবী। কাম অন। প্লে টাইম।

    কুকুর তিনটা নড়ল না। গ্রিলের পাশে দাঁড়িয়ে রইল। পারুল ফিস ফিস করে বলল, তোরা নড়িস না, দাঁড়িয়ে থাক। তোরা দাঁড়িয়ে থাকলে লোকটার একটা উচিত শিক্ষা হবে। তুই বলায় আবার রাগ করছিস না তো? তোদের সর্দার আমাকে তুমি বলায় আমি রাগ করিনি। কাজেই তোদেরও রাগ করা উচিত না।

    পারুলের এই কথায় ফিবো খুব লেজ নাড়তে লাগল। ফিবোর দেখাদেখি অন্য দুজনও লেজ নাড়া শুরু করল। ব্যাপারটা স্নায়ুযুদ্ধের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। একদিকে কুকুরের সর্দার, অন্যদিকে সে, মাঝখানে তিনটা ভয়াবহ দর্শন গ্রে হাউন্ড।

    পারুল বলল, কিরে, তোরা কিছু খাবি? চাল খাবি, চাল?

    কুকুর কি চাল খায়? গরু ভেড়া এরা খায়। মুঠি ভর্তি চাল ধরলে খুব আগ্রহ করে খায়। পারুল কুকুরকে কখনো চাল খেতে দেখেনি তবে ভাত খেতে দেখেছে। চাল আর ভাতে তফাৎ তো তেমন নেই। দেবে না কি খানিকটা চাল?

    কামরুল আবার ডাকল–কাম অন। কাম অন।

    এরা তিনজন নড়ল না। পারুল মুঠি ভর্তি চাল এদের সামনে ধরল। তিনজনই একসঙ্গে চাল শুঁকে আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেল। মনে হচ্ছে এরা চাল খায় না।

    কিরে ভাত খাবি? ভাত খেলে অপেক্ষা করতে হবে। এখন গোশত রান্না হচ্ছে। ও কোত্থেকে হাফ কেজি গরুর গোশত নিয়ে এসেছে। খুবই এক্সপেরিয়েন্সড বুড়ো গরুর গোশত বলে সিদ্ধ হচ্ছে না। গোশত নেমে গেলেই ভাত চড়াব। তখন তোদের গরম গরম খেতে দেব।

    মাইক ঘরঘর ধরনের শব্দ করল। কুকুরের ভাষায় কিছু বলল। পারুলের ধারণা, মাইক বলল, আপনাকে ধন্যবাদ। আমরা অপেক্ষা করছি। রান্না হোক, তারপর গরম গরম খাব।

    আধা সেদ্ধ গোশত খানিকটা খাবি না কি? খেতে চাইলে তিনজনকে তিন টুকরা দিতে পারি। তোদের সর্দার আবার রাগ না করলে হয়। কি বিশ্রী করে সে তাকাচ্ছে। তোদের সঙ্গে গল্প করছি তো, ওর সহ্য হচ্ছে না।

    পারুল তিন টুকরা গোশত বের করল। পানিতে ডুবিয়ে ঠাণ্ডা করল। মেঝেতে ফেলে দিলে ওরা হয়ত খাবে না। সাহেব কুকুর–এদের খাবার দিতে হবে প্লেটে করে, আদবের সঙ্গে। পলি গোশত হাতে করেই ওদের সামনে ধরল। একজনের জন্য এক টুকরা। সবার প্রথম মাইক। মাইকের সামনে ধরতেই সে একটু পিছিয়ে গেল। পারুল বলল, কিরে খাবি না? না কি এখন তোদের লাঞ্চ টাইম না? মাইক এগিয়ে এল। গোশতের টুকরা মুখে নিয়ে নিল। নিকি এবং ফিবো কোন আপত্তি করল না।

    কামরুল আসছে। তার মুখ থমথম করছে। রাগের কারণেই কুঁজো হয়ে গেছে। বেশি রেগে গেলে মানুষ সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। খানিকটা কুঁজো হয়ে পড়ে।

    তুমি এরারে কি খাওয়াইতেছ?

    গরুর গোশত। বী।

    তুমি পাইছ কি? এরর খাওয়ার নিয়ম আছে, তুমি জান না?

    না জানি না। আমি তো আর কুকুরের সর্দার না।

    তুমি এই বাড়িতে থাকতে পারবা না।

    সে তো আর বলে দিতে হবে না। আমি জানি থাকতে পারব না। বাড়ি তো আর আমার না।

    আইজ দিনে দিনে বিদায় হইবা।

    পারুল অবাক হয়ে লক্ষ্য করল, রাণে মানুষটা কাঁপছে। থর থর করে কাঁপছে, মুখে ফেনা জমে গেছে–একটা মানুষ এত দ্রুত এতটা রাগতে পারে?

    তোমার কত বড় সাহস। কুকুর নষ্ট কর। দাম জান? এই কুকুরগুলার দাম জান?

    না, দাম জানি না। শুধু মরা হাতির দাম জানি। মরা হাতির দাম হচ্ছে লাখ টাকা। মরা কুকুরের দাম কত?

    চুপ, চুপ। চুপ বললাম…

    পারুল লক্ষ্য করল লোকটা আরো কিছু কঠিন কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ নিজেকে সামলাল।  মুহূর্তের মধ্যে তার চেহারা পাল্টে গেল। তার রাগী মুখ মুহূর্তের মধ্যে হয়ে গেল ভীত সংকুচিত একজন মানুষের মুখ। এখনো সে কাঁপছে তবে রাগে নয়, আতংকে। হঠাৎ লোকটা এত ভয় পেল কেন?

    কারণটা পারুলের কাছে স্পষ্ট হল। সে অবাক হয়ে দেখল, তিনটি কুকুরই এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে কামরুলের দিকে। তাদের শরীর স্থির হয়ে আছে। তিনজনেরই লেজ নামানো এবং তিনজনেই এক ধরনের গম্ভীর শব্দ করছে। কামরুল নামের মানুষটা আতংকে শাদা হয়ে গেছে কুকুরের এই মূর্তি দেখে। সে এদের জানে। জানে বলেই ভয় পাচ্ছে। পারুল ভেবে পেল না, সামান্য তিন টুকরা মাংস দিয়ে সে কি কুকুরগুলির কর্তৃত্ব তার হাতে নিয়ে নিয়েছে্রর? তাকে অপমান করা হচ্ছে এটা বুঝতে পেরে কুকুর তিনটা রুদ্র মূর্তি ধরেছে। আশ্চর্য তো!

    কামরুল অস্পষ্ট গলায় কি বলতে গিয়েও থেমে গেল। কয়েক পা পিছিয়ে গেল। তার ভয় দেখে পারুলেরই এখন মায়া লাগছে। সে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্যে সহজ গলায় কুকুরদের ডাকল–ফিবো, নিকি, মাইক। তিনজন চট করে ফিরল তার দিকে। পারুল হাসল। কুকুররা কি হাসি বুঝতে পারে?

    তোরা মানুষদের ভয় দেখাস কেন? যে তোদের এত দিন আদর-যত্ন করে বড় করল তাকেই ভয় দেখাচ্ছিস–এটা কোন কাজের কথা হল? দেখি গলাটা আরেকটু লম্বা কর–আদর করে দি।

    পারুল রেলিঙের ভেতর দিয়ে হাত চালিয়ে ফিবোর গায়ে রাখল। না, পারুলের মোটেই ভয় লাগছে না। এদের খুব আপন লাগছে। আদর করা হচ্ছে একজনকে কিন্তু তিনজনই প্রবল বেগে লেজ নাড়ছে। কামরুল দূরে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে। তার চোঙ্গভতি বিস্ময়।

     

    তাহেরের দুপুরের আগেই চলে আসার কথা। সে ফিরলে দুজন এক সঙ্গে খেতে বসবে। খাবার সময় গল্পগুজব করে খেতে পারুলের ভাল লাগে। তাহের অবশ্যি নিঃশব্দে খায়। প্লেট থেকে চোখ পর্যন্ত তুলে না। কথা না বলার পারুল একাই বলে। কথা বলার জন্যেও তো কাউকে দরকার।

    দুপুর গড়িয়ে গেল, তাহের এল না। একা একা ভাত নিয়ে বসতে পারুলের ইচ্ছা করছে না। যদিও সময় মত তার খেতে বসা দরকার। তার নিজের জন্যে না, যে শিশুটি তার শরীরে বড় হচ্ছে তার জন্যে।

    পারুল বিছানায় শুয়ে আছে। খিদে ভালই লেগেছিল–এখন খিদে মরে যাচ্ছে। জানালা দিয়ে আসা রোদের দিকে তাকিয়ে বোঝা যাচ্ছে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকলেই বকেল হয়ে যাবে। বিকেলে তাহের যদি ফিরে তখন কি করবে? অবেলায় খাবে? না কি কয়েকটা লুচি ভেজে দেবে? তাহের লুচি খুব পছন্দ করে। ঘরে ময়দা আছে, ডালডা আছে। লুচির জন্যে ময়দা ছেনে রাখা উচিত–পারুলের বিছানা ছেড়ে নামতে ইচ্ছা করছে না। ক্লান্ত লাগছে। ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসছে।

    একা একা শুয়ে থাকতে ভাল লাগে না। কথা বলার জন্যে একজন কেউ যদি থাকত, কোন প্রিয় বান্ধবী। পারুল মনে মনে তার শিশুটির সঙ্গেই কথা বলা শুরু করল।

     

    কিরে, তুই কি করছিস? তোর কি খিদে লেগেছে। আমার খিদে লাগলে কি তোরও খিদে লাগে? না কি আমার খিদের সঙ্গে তোর খিদের সম্পর্ক নেই? আমি তোর বাবার জন্যে অপেক্ষা করছি। সে এলেই খেতে বসব।

    আচ্ছা বড় হয়ে তুই কাকে বেশি পছন্দ করবি? আমাকে, না তোর বাবাকে? আমার মনে হয় তোর বাবাকেই তুই বেশি পছন্দ করবি। বোকা হলেও মানটা পছন্দ কবার মত। বাবাকে বোকা বলায় রাগ করিসনি তো? মে বোকা তাকে তো আর জোর করে বুদ্ধিমান বলা যায় না। বলা উচিত না।

    যত দিন যাচ্ছে তোর বাবার বোকা ভাব ততই বাড়ছে। কেন বল তো? অভাবের কারণে। তুই দেখবি বোকা লোক বেশির ভাগই অভাবী। বোকার সঙ্গে টাকাপয়সার একটা সম্পর্ক আছে। হঠাৎ কোন কারণে আমরা যদি কোটি কোটি টাকা পেয়ে যাই তখন দেখবি তোর বাবাকে আর বোকা বোকা লাগছে না, বরং বেশ বুদ্ধিমান মনে হবে।

    না না শোন, তোর বাবা কিন্তু বোকা না। ও চুপচাপ থাকে। নিজের মত করে ভাবে বলে একে বোকা লাগে।

    আচ্ছা, তুই ছেলে না মেয়ে বল তো? আমার ধারণা, মেয়ে। এবং আমার ধারণা তুই অসম্ভব বুদ্ধিমতী হবি। মেয়েদের বেশি বুদ্ধি না হওয়াই ভাল। মেয়েদের বেশি বুদ্ধি হলে পদে পদে সমস্যা। বুদ্ধিমতী মেয়ে কখনোই জীবনে সুখী হয় না। কেন হয় না? এখন না, তুই বড় হ, তখন তোকে বুঝিয়ে দেব। অবশ্যি ততদিন যদি আমি টিকে থাকি তবেই। আমার মন বলছে, তোকে জন্ম দিতে গিয়েই আমি মারা যাব। আমার আবার এক ধরনের ক্ষমতা আছে। আমি আগে ভাগে সব কিছু বুঝতে পারি। আমার মনে হচ্ছে, তোর জন্ম হবে এই বাড়িতে। কেন এ রকম মনে হচ্ছে তা বলতে পারছি না। মনে হবার কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। মেসবাউল করিম সাহেব, যার এই বাড়ি, তিনি যে কোনদিন চলে আসবেন। তোর বাবা গেছে কবে আসবেন তাই জানতে। তিনি এলেই আমাদের এ বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে। তখন আমরা কোথায় যাব কিছুই জানি না। আমাদের যাবার জায়গা নেই, বুঝলি? ঘর নেই, বাড়ি নেই, তোর বাবার চাকরি নেই–কিছুই নেই। থাক, এসব নিয়ে তোকে চিন্তা করতে হবে না। তুই থাক তোর মত। গুটিশুটি মেরে শুয়ে থাক আমার পেটে। তোর ঘরটা তো খুব সুন্দর। এয়ার কন্ডিশান্ড ঘর। এই ঘরের তাপ বাড়ে না, কমেও না। তোর বিছানাও তো খুব মজার। পানির ওপর ভাসছে–এমন বিছনা। মেসবাউল করিম সাহেবের ওয়াটার বেডের চেয়েও ভাল।

    পারুল মুমিয়ে পড়ল। তার ঘুম ভাঙল সন্ধ্যায়। ঘরের ভেতর কেমন ছমছমে অন্ধকার। জানালা দিয়ে ঠাণ্ডা হাওয়া দিচ্ছে–শরীরে কাঁপন লাগছে। পারুল ঘর ছেড়ে বারান্দায় এসে দাঁড়াল, দেখল–গেটের ফোকর দিয়ে তাহের ঢুকছে। অন্ধকার পরিষ্কার কিছু দেখা যাচ্ছে না, তবু তাহেরের মুখটা মনে হচ্ছে ভয়ে ও আতংকে এতটুকু হয়ে আছে। গেটের পাশে কামরুল দাঁড়িয়ে। তাহের তাকে ফিস ফিস করে কি বলল। কামরুল মাথা নাড়ছে। কুকুর তিনটা কোথায়? এদের কি চেইন দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়েছে। তাহের ক্লান্ত পায়ে এগুচ্ছে। তার হাতে পলিথিনের একটা প্যাকেট। পারুল দরজা খুলে দাঁড়াল।

    পারুল বলল এত দেরি করলে যে?

    তাহের ফ্যাকাসে ভঙ্গিতে হাসল।

    দুপুরে কিছু খেয়েছ?

    একটা সিঙ্গারা খেয়েছি।

    শুধু সিঙ্গারা?

    একটা সিঙ্গারা আর এক কাপ চা।

    এখন কিছু খাবে? লুচি ভেজে দেব? লছি আর ডিম।

    দাও, খুব খিদে লেগেছে।

    হাত-মুখ ধুয়ে আস–লুচি ভেজে দিচ্ছি। এত দেরি হল কেন?

    তাহের কিছু বলল না। হাত-মুখ ধুতে গেল। পারুল লুচি বেলতে বসল। তাহেরের মস্যাটা সে ধরতে পারছে না। খুব বড় কোন সমস্যা না। যারা সারাক্ষণ সমস্যার ভতর বাস করে তাদের ভেতর এক সময় না এক সময় এক ধরনের নির্বিকার ভঙ্গি চলে আসে। তাহেরের ভেতরও এসেছে। তাকে সব সময় মোটামুটি নির্বিকারই মনে হয়। তবে আজ তাকে কেমন যেন চিন্তিত মনে হচ্ছে।

    লুচির সঙ্গে ডিম ভেজে দেয়া গেল না। একটাই ডিম ছিল, সেটা পচা বেরুল। পারুল বলল, কুকুরের সর্দারকে বল না চট করে দোকান থেকে একটা ডিম নিয়ে আসুক। ওকে টাকা দিয়ে দাও।

    তাহের বিস্মিত হয়ে বলল, কুকুরের সর্দার আবার কে?

    কামরুল নামের লোকটা।

    ওকে ডিম আনতে বললে ও শুনবে কেন? উল্টা ধমকধামক দেবে। আর শোন, কুকুরের সর্দার-ফর্দার এইসব বলার দরকার নেই—শুনে-টুনে ফেলবে।

    শুনে ফেললে কি করবে? আমাকে মারবে?

    আহা, কি দরকার।

    তাহের শুধু লুচি ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে। খাওয়া দেখেই মনে হচ্ছে সে খুব ক্ষুধার্ত।

    শুধু শুধু লুচি খাচ্ছ কেন? চিনি দেই? চিনি দিয়ে খাও। দেব?

    দাও।

    চায়ের পানি চাপাতে চাপাতে পারুল বলল, তোমার মন-টন খারাপ কেন? কোন দুঃসংবাদ আছে?

    হুঁ।

    দুঃসংবাদটা কি?

    করিম সাহেব পরশু আসছেন। কালকের মধ্যে তোমাকে চলে যেতে হবে।

    পরশু এসেই তো তিনি এই বাড়িতে ছুটে আসবেন না। কাজেই তোমার এত চিন্তিত হবার কিছু নেই। এখনো আমাদের হাতে কয়েক দিন সময় আছে। তাছাড়া আমার মনে হয় না তিনি পরশুই আসবেন। আমরা অনেকদিন থাকতে পারব। অহনা না আসা পর্যন্ত আমাদের নাড়তে হবে না।

    অহনা কে?

    অহনা হচ্ছে আমাদের মেয়ের নাম।

    তোমার কথাবার্তা তো আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।

    বুঝতে না পারার মত জটিল করে তো কিছু বলছি না। আমার ধারণা এই বাড়িতে আমরা অনেক দিন থাকতে পারব। আমার ইনট্যুইশন তাই বলছে।

    ম্যানেজার সাহেবের কাছে ফ্যাক্স এসেছে, পরশু সন্ধ্যা সাতটা তিরিশ মিনিটে বৃটিশ এয়ারওয়েজে আসছেন।

    আসলে আসুক। তোমার এত চিন্তিত হবার কিছু নেই।

    তোমাকে নিয়ে তুলব কোথায়?

    কোথাও তুলতে হবে না–আমি এই বাড়িরই কোন এক ফাঁক-ফোকরে লুকিয়ে থাকব। খাটের নিচে কিংবা আলমারির ভেতর…হি হি হি।

    তাহের বিষণ্ণ মুখে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছে। পারুলের সঙ্গে তর্কে-বিতকে যাওয়া অর্থহীন। বলুক তার যা ইচ্ছা। যে মেয়ে নিজের সমস্যা বুঝে না, হি হি করে হাসে, তাকে তো জোর করে কিছু বুঝানো যাবে না। পারুল বলল, আরেক কাপ চা দেব?

    তাহের বিরক্ত গলায় বলল, এই তো খেলাম এক কাপ। আরেক কাপ কেন?

    প্রথম কাপটা তাড়াহুড়া করে খেয়েছ। দ্বিতীয় কাশটা আরাম করে খাও। আমি করে চা খেতে খেতে হাসিমুখে কিছুক্ষণ আমার সঙ্গে গল্প কর।

    তাহের তাকিয়ে আছে–পারুল মিটিমিটি হাসতে হাসতে বলল, এত চিন্তা করে তো কিছু হবে না। আমরা বাস করি বর্তমানে। আমরা বর্তমানটাই দেখব। ভবিষ্যতে কি হবে বা না হবে তা নিয়ে মাথা ঘামাব না। বর্তমানে আমি কোন সমস্যা দেখছি না। অন্তত আগামী পরশু পর্যন্ত আমাদের কোন সমস্যা নেই। বানাব চা?

    বানাও।

    চায়ের কাপে চিনি ঢালতে ঢালতে পারুল বলল, একটা মজা দেখবে?

    কি মজা?

    দেখবে কি না বল।

    তাহের মজা দেখবে কি না সে বিষয়ে পুরোপুরি সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। মজা দেখাতে গিয়ে পারুল কি করে কে জানে। উদ্ভট কিছু করে বসবে, বলাই বাহুল্য। তখন মজা আর মজা থাকবে না।

    কি, কথা বলছ না কেন? দেখবে?

    হুঁ।

    পারুল তাহেরের হাতে চায়ের কাপ দিয়ে রহস্যময় ভঙ্গিতে হাসল। হেসেই ঠোঁট সরু করে ডাকল–মিকি, নিকি, কিবো।

    তৎক্ষণাৎ তিনটি গ্রে হাউন্ড ছুটে এসে গ্রীলের ভেতর দিয়ে তাদের সরু মুখ বের করে দিল। তাহের এমন আঁতকে উঠল যে, তার চায়ের কাপ থেকে চা ছলকে গায়ে পড়ে গেল।

    পারুল হাত বাড়িয়ে কুকুরগুলির গলায় হাত বুলাচ্ছে। তারা প্রবল বেগে লেজ নাড়ছে। তাহেরের বিস্ময়ের কোন সীমা রইল না। পারুল খুশি খুশি গলায় বলল, এদের আমি পুরোপুরি কনট্রোলে নিয়ে এসেছি। ইচ্ছা করলে তুমি এখন অমিকে কুকুরের দারুনী ডাকতে পার।

    তাহের ক্ষীণ স্বরে বলল, এদের বশ করলে কি করে?

    আমাকে কিছু করতে হয়নি, ওরা নিজে নিজেই বশ হয়েছে। নিম্নস্তরের বুদ্ধিবৃত্তির প্রাণীদের বশ করতে আমার নিজের কিছু করতে হয় না। তোমাকে বশ করতে কি আমার কিছু করতে হয়েছে?

    তাহের তাকিয়ে আছে। পারুল বলল, আমার কথায় রাগ করনি তো?

    রাগ করব কেন?

    তোমাকে নিম্নস্তরের বুদ্ধিবৃত্তির প্রাণী বললাম এই জন্যে…

    তোমার অদ্ভুত অদ্ভুত কথায় আমি অভ্যস্ত। অভ্যস্ত না হলে রাগ করতাম। তবে কুকুরের সঙ্গে তুলনা দেয়াটা ঠিক হয়নি। এটা অভদ্রতা।

    সরি।

    থাক, সরি বলতে হবে না। ওদের বিদেয় কর। বিদেয় করে সাবান দিয়ে হাত ধোও। ভাল করে ধুবে। কুকুর নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি আমার পছন্দ না।

    আমারও পছন্দ না। বাধ্য হয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করছি।

    বাধ্য হয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করচ্ছ মানে?

    পারুল চাপা গলায় বলল, এই কুকুরগুলি নিয়ে আমার একটা পরিকল্পনা আছে।

    কি পরিকল্পনা?

    এখন কিছুই বলব না। যথাসময়ে জানবে।

    পারুল কুকুরের গা থেকে হাত সরিয়ে নিয়েছে। ওরা চলে যাচ্ছে না। আগে জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে।

    কামরুল দূর থেকে কয়েকবার ডাকল, কাম অন, কাম অন। ওরা নড়ল না। তারা তীব্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে পারুলের দিকে। তাহেরও তাকিয়ে আছে। তার দৃষ্টিতে গভীর বিস্ময়।

     

    ঘুমুতে যাবার আগে দিনের শেষ সিগারেট ধরালো তাহেরের অনেক দিনের অভ্যাস। সিগারেট শেষ করে সে এক গ্লাস পানি খাবে। পানি খাবার পর পর বিশ্রী ভঙ্গিতে কয়েকবার হাই তুলে বিছানায় যাবে এবং সঙ্গে সঙ্গে ঘুম। অভাবী মানুষেরা চট করে ঘুমুতে পারে না। বিছানায় শুয়ে অনেকক্ষণ এপাশ-ওপাশ করে। তাহেরের সেই সমস্যা নেই।

    তাহের দিনের শেষ সিগারেট ধরিয়েছে, তবে তেমন মজা পাচ্ছে না। ঠিক তার সামনেই পারুল বসে আছে। পারুল তাকিয়ে আছে তার দিকে। চোখ দেখে মনে হচ্ছে কিছু বলবে। কিন্তু কিছু বলছে না। যতবারই পারুলের দিকে চোখ যাচ্ছে ততবারই তাহের অস্বস্তিতে নড়ে চড়ে উঠছে।

    কিছু বলবে পারুল?

    পারুল না-সূচক মাথা নাড়ল। মাথার সঙ্গে সঙ্গে হাতও নাড়ল। হাতের কাচের চুড়ি ঝনঝন করে শব্দ করল। তাহের চমকে উঠল শব্দ শুনে, যদিও চমকানোর কোন কারণ নেই। তাহের সিগারেট শেষ করে বলল, পানি দাও।

    উহুঁ।

    উই মানে, পানি খাব না?

    খাবে, তবে এখানে না। আজ আমরা এ ঘরে ঘুমুব না।

    কোথায় ঘুমুব?

    মাস্টার বেডরুমে।

    তাহের চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল। পারুল তার দিকে খানিকটা ঝুঁকে এসে স্বাভাবিক গলায় বলল, এ বাড়ির মাস্টার বেডরুমের তালা আমি খুলে ফেলেছি। তুমি দুপুরে এলে না। আমার কিছু করার ছিল না। তখনি কাজটা করলাম। চুলের কাটা দিয়ে খুললাম।

    মাস্টার বেডরুমের তালা খুলে ফেলেছ?

    হুঁ।

    কেন?

    ওখানে ঘুমুব। ওয়াটার বেডে শুয়ে দেখি কেমন লাগে। বাড়ি তো কাল ছেড়েই দিতে হবে—শখ মিটিয়ে যাই।

    তোমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে পারুল।

    মাথা মোটেই খারাপ হয়নি। আমার মাথা ঠিক আছে।

    উহুঁ। তুমি যে সব কাণ্ডকারখানা করছ–কোন সুস্থ মানুষ তা করবে না–অন্যের ঘর, অন্যের বাড়ি…

    অন্যের বাড়ি খানিকক্ষণের জন্যে নিজের হয়ে যায়। তাতে দোষের হয় না। মেসবাউল করিম সাহেব এই বাড়ি দেখাশোনার জন্যে যখন তোমার কাছে দিয়েছেন তখন নিশ্চয়ই বলেছেন, নিজের বাড়ি মনে করে এই বাড়ির যত্ন করবে। বলেননি?

    হুঁ।

    কাজেই আমরা এক রাতের জন্যে এই বাড়িটাকে নিজের বাড়ি মনে করছি।

    তাহের চিন্তিত গলায় বলল, কামরুল স্যারের কাছে লাগাবে।

    লাগালে লাগবে। স্যার কি করবেন? তোমাকে মারধোর করবেন? ভদ্রলোকরা কখনো মারধোর করেন না। বকাঝকা হয়ত করবেন। বকাঝকায় কি যায় আসে? তুমি এসো তো আমার সঙ্গে।

    তাহের যন্ত্রের মত উঠে দাঁড়াল। পারুল দোতলার সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে বলল, আমার ভাল কোন শাড়ি নেই। ভাল শাড়ি থাকলে সুন্দর করে সাজতাম। তাহের বলল, হুঁ। পারুল বলল, তুমি শুকনো গলায় বললে, হুঁ। পৃথিবীর অন্য যে কোন স্বামী হলে কি করত জান? বলত–না সাজলেও তোমাকে পরীর মত লাগে।

    তাহের বিড় বিড় করে বলল, কাৰ্জিটা ঠিক হচ্ছে না পারুল, অন্যায় হচ্ছে।

    অন্যায় হলে হোক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তো আমাদের অন্যায় করতে বলে গেছেন।

    অন্যায় করতে বলেছেন!

    অবশ্যই বলেছেন। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন–ন্যায় অন্যায় জানিনে জানিনে, শুধু তোমারে জানি।

    পারুল মাস্টার বেডরুমের দরজা খুলে বাতি জ্বালাল–বিশাল রুম, চারদিক আলোয় আলোয় ঝলমল করে উঠল। পারুল বলল, দেখলে কত সুন্দর।

    তাহের হতভম্ব চোখে তাকিয়ে আছে। তার চোখে পলক পড়ছে না। বিশাল ঘরের ঠিক মাঝখানে একটা খাট। ঘরের মেঝে ধবধবে শাদা। খাটটা কুচকুচে কালো রঙের। মনে হচ্ছে–শাদা মেঘের উপর কালো গোলাপ ফুটে আছে। খাটের দুপাশের সাইড টেবিলে দুটি টেবিল ল্যাম্প। স্বচ্ছ শাদা কাচের টেবিল ল্যাম্প। ঘরে আর কোন আসবাব নেই। চারপাশের দেয়ালে সুন্দর সুন্দর পেইন্টিং। পারুল বলল, মাস্টার বেডরুমের সঙ্গের বাথরুমটা কত সুন্দর দেখতে চাও?

    না।

    মাস্টার বেডরুমের সঙ্গের বারান্দাটায় একটু অস। আমার ধারণা, ঐ বারান্দা পৃথিবীর সবচে সুন্দর বারান্দা। এসো, বারান্দায় একটু দাঁড়াই।

    না।

    কথায় কথায় না বলবে না। এসো।

    পারুল তাহেরের হাত ধরে প্রায় টেনে বারান্দায় নিয়ে গেলে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে আতংকে তাহের প্রায় জমে গেল। কারণ লনে কামরুল দাঁড়িয়ে আছে। সে তাকিয়ে আছে তাদের দিকেই। কামরুলের পাশে তিনটা কুকুর। এরাও কৌতূহলী চোখে দেখছে। চাঁদের আলোয় কুকুর তিনটার চোখ জ্বল জ্বল করছে। মনে হচ্ছে ছটি আগুনের ফুলকি।

    পারুল খিলখিল করে হাসছে। তাহের বিরক্ত গলায় বলল, হাসছ কেন? পারুল হাসতে হাসতে বলল, কুকুরের সর্দার কি রকম অবাক হচ্ছে এই ভেবে হাসছি। তুমিও একটু হাস তো। দুজনে মিলে হাসলে ও পুরোপুরি ভড়কে মাবে। হি হি হি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপাখি আমার একলা পাখি – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article প্রথম প্রহর – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }