Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পারুল ও তিনটি কুকুর – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প149 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৭. ভদ্র হও নিকি

    নিকি, তুমি কিন্তু দুষ্টামি করছ। ভদ্র হও নিকি। অন্যদের খেতে দাও। দেখ, তোমার জন্যে ফিবো খেতে পারছে না। এই তো লক্ষ্মী মেয়ে। মেয়েদের লক্ষ্মী হতে হয়। তুমি মেয়ে হয়ে ছেলে দুটিকে খেতে দিচ্ছ না, এটা ঠিক হচ্ছে না। আমরা মেয়ে কি করি জান না? পুরুদের খাওয়া হয়ে গেলে তারপর খেতে বসি! ভাল ভাল খাবার পুরুষদের প্লেটে তুলে দিয়ে তারপর যা থাকে তাই সোনামুখ করে খেয়ে ফেলি। এটাই সাধারণ নিয়ম। মাইক, তোমার আর কি হল? দাঁত বের করে কাকে ভয় দেখাচ্ছ? লেজ মুলে দেব?

    পারুল বড় একটা গামলায় কুকুরদের খেতে দিয়েছে। গরম গরম ভাত ডাল দিয়ে মাখানো। গোশত ছাড়া এরা কিছু খায় না। সারা দিনে এক বেলা খায়–হলুদ দিয়ে সেদ্ধ করা মাংস। পুরোপুরি সেদ্ধ না–আধাসেদ্ধ। ঘরে মাংস নেই, তাহেরকে দিয়ে আনতে হবে।

    ফিবো। তোমার সারা গায়ে কাদা লেগে আছে এটা কেমন কথা। নিকি আর মাইকের গায়ে তো কাদা লাগেনি। তুমি বুঝি কাদায় গড়াগড়ি করেছ? এখন যদি এক বালতি পানি তোমার গায়ে ঢেলে দি তাহলে ভাল হবে? কাল দুপুরে তোমাদের গোসল। করিয়ে দেব। সাবান মেখে ব্রাস ঢেলে দেব। বুঝেছ? আরেকটা কাজ করব–তোমাদের নাম বদলে দেব। ইংরেজি নাম আমার ভাল লাগে না। সুন্দর বাংলা নাম দেব। নামের বই ও আজ নিয়ে আসবে–সেই বই দেখে নাম রাখব। আচ্ছা, এই যে আমি এত কথা বলছি–ফিবো আর মাইক শুনছে–কিন্তু নিকি, তুমি কিছুই শুনছ না। এটা অভদ্রতা না?

    নিকি মুখ তুলে তাকাল। চাপা শব্দ করল। পারুল বলল, এই তো লক্ষ্মী মেয়ে। আদব-কায়দা জানে। এখন থেকে তোমাদের আমি আদব-কায়দাও শেখাব। গান গাইতে পারলে গান গেয়ে শুনতাম। গান জানি না। কবিতা জানি না। একটা শুধু জানি–দুই বিঘে জমি–রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। সেই কবিতা তো তোমাদের আগে একবার শুনিয়েছি। এই কবিতাটি ছোটবেলায় মুখস্থ করেছিলাম। আমাদের পাড়ায় একবার রবীন্দ্র জয়ন্তী হবে। আমার সেখানে দুই বিঘে জমি কবিতা আবৃত্তি করার কথা। রোজ পল্টু ভাইদের বাড়িতে বিহার্সেল হত। চা-সিঙ্গারা খাওয়া হত। খুব মজা হত। আমার এত ভাল লাগত। শেষ পর্যন্ত আমি অবশ্যি রবীন্দ্র জয়ন্তীতে কবিতা আবৃত্তি করিনি। কেন শুনবে? আচ্ছা শোন–খবর্দার, কাউকে বলবে না। মানুষদের তোমরা বলতে পারবে না তা তো জানি, অন্য কুকুরদেরও বলবে না, কারণ খুব লজ্জার ব্যাপার। যেদিন রবীন্দ্র জয়ন্তী হবে তার আগের দিন রাতে স্টেজ রিহার্সেল হবে। সেদিন আবার খুব ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। ইলেকট্রিসিটি চলে গেছে। হারিকেন জ্বালিয়ে রিহার্সেল হল। রিহাসেলের পর সবাই চলে যাচ্ছে, পল্টু ভাই আমাকে বললেন–পারুল, ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে তুই একা যাবি কি করে? তুই থাক, আমি পৌঁছে দেব। ড্রাইভার এক্ষুণি আসবে, তোকে নামিয়ে দেবে। আমি থেকে গেলাম–সবাই চলে গেল। পল্টু ভাই তখন একটা ভয়ঙ্কর কাণ্ড করল। মানুষেরা যে কি ভয়ঙ্কর কাণ্ড করতে পারে তোরা জানিস না, কারণ তোরা হলি পশু। মানুষের কত ভয়ঙ্কর তোরা জানবি কি করে? আশ্চর্যের ব্যাপার কি জানিস? ঐ ভয়ঙ্কর কাণ্ডের পর পল্টু ভাই গাড়ি করে আমাকে বাসায় পোঁছে দিলেন। সহজ গলায় বললেন–কবিতা আবৃত্তির সময় তুই মাঝে মাঝে ফাম্বল করিস। কথা জড়িয়ে যায়। পরিষ্কার করে আবৃত্তি করবি। নো ফাম্বলিং।

    তোদের সঙ্গে তো তখন পরিচয় হয়নি। তোদের বোধহয় তখন জন্মও হয়নি। তোরা যদি তখন আমার সঙ্গে থাকতি তাহলে অবশ্যই পলটু ভাইকে বুঝিয়ে দিতাম–দুই বিঘে জমি আসলে কতটুকু জমি।

    পল্টু ভাই এখনো রবীন্দ্র শতবার্ষিকী, নজরুল জয়ন্তী এসব করে বেড়াচ্ছে। বিরাট ফার্মেসী দিয়েছে। ফার্মেসিীর নাম–উপশম। এইবার আমি তাকে উপশম শিখিয়ে ছাড়ব। সুন্দর করে পল ভাইকে একটা চিঠি লিখে এ বাড়িতে আসার নিমন্ত্রণ করব। উনি চিঠি পেয়ে দেরি করবেন না, সঙ্গে সঙ্গে চলে আসবেন। এই সব লোক কখনো কোন সুযোগ নষ্ট করে না। আমি গেট খুলে উনাকে ঢুকাব। হাসিমুখে বলব, কেমন আছেন পল্টু ভাই?

    উনি বলবেন, ভাল। আরে, তুই এত বড় হয়ে গেছিস। বিয়ে-টিয়ে করে একেবারে ঘরণী হয়ে গেছিস। তোকে তো দারুন লাগছেরে।

    আমি বলব, সুন্দর হয়েছি, তাই না? ছোটবেলায় তো আর এত সুন্দর ছিলাম না। আমি যখন ছোট ছিলাম সেই সময়ের কথা কি আপনার মনে আছে?

    উনি একটু চিন্তিত ভঙ্গিতে বলবেন, কিসের কথা বলছিস?

    ঐ যে রবীন্দ্র জয়ন্তী হবে, ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছিল–আপনি আমাকে থেকে যেতে বললেন, তখন ছোট ছিলাম, কিছু বুঝতাম না–এখন আপনাকে সব জেনেশুনে ডেকেছি। আর আপনাকে ফিরে যেতে দেব না।

    উনি অস্বস্তির সঙ্গে কথা ঘুরাবার জন্যে বলবেন–এত বড় বাড়ি, এটা কার?

    তখন আমি বলব, আমার বাড়ি। আবার কার? ঐ মে কুকুর লি দেখছেন ওরাও আমার। গায়ে শাদা ফুটকি সেটার তার নাম–নিকি। ও হল মেয়ে। ও সবচে ভয়ংকর। মেয়েরা মাঝে মাঝে দারুণ ভয়ংকর হতে পারে, জানেন তো? নাকি জানেন না?

    পল্টু ভাই ততক্ষণে পুরো ব্যাপারটা আঁচ করে ফেলবেন। বুদ্ধিমান মানুষ তো। আঁচ করতে দেরি হবে না। আঁচ করে ফেললেও লাভ হবে না। ততক্ষণে আমি গেট বন্ধ করে দিয়েছি। হি হি হি।

    তোদের তখন আমি ডেকে পাঠাব। তোরা এক সঙ্গে ঝাঁপ দিয়ে পড়বি। পারবি না? কিংবা একজন ঝাঁপ দিয়ে পড়বি। বাকি দুজন তাকে ঘিরে চক্কর লাগাবি। নিকি তুই ঝাঁপ দিবি। তুই তো মেয়ে, তোর দায়িত্ব বেশি।

    নিকি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মাইক এবং কিবো লেজ নাড়ছে।

    পারুল চাপা গলায় বলল, কাজটা শেষ হবার পর–তোদের আমি খুব সুন্দর করে দুই বিঘে জমি আবৃত্তি করে শোনাবো। নাকি এখনই শুনতে চাস?

    নিকি, মাইক, কিবো তিনজনই একসঙ্গে লেজ নাড়ল। মনে হচ্ছে তারা শুনতে চায়। পারুল চাপা গলায় শুরু করল–

    শুধু বিঘে দুই ছিল মোর ভুঁই, আর সব গেছে ঋণে
    বাবু কহিলেন, বুঝেছ উপেন? এ জমি লইব কিনে।
    কহিলাম আমি, তুমি ভূস্বামী, ভুমির অন্ত নাই
    চেয়ে দেখো মোর আছে বড়োজোর মরিবার মত ঠাঁই।

     

    গেটে শব্দ হচ্ছে। তিনটি ককর এক সঙ্গে গেটের দিকে তাকিয়ে স্থির হয়ে গেল। পারুল বলল–ও এসেছে। যা, তোরা খেলা কর গিয়ে। বাকি কবিতাটা অন্যদিন শুনাব। যা বললাম।

    পারুল চাবি হাতে গেটের দিকে রওনা হল। গেটের শব্দ শুনে বোঝা যাচ্ছে না কে এসেছে। অন্য কেউও হতে পারে। পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে গেট খোলা যাবে না। তাহেরকে গেটে ধাক্কা দেবার একটা কৌশল শিখিয়ে দিতে হবে। পরপর তিনবার ধাক্কা দেবে থামবে তারপর দুবার দেবে।

    তাহেরের গলা শোনা গেল, সে কাঁপা কাঁপা গলায় ডাকছে–পারুল। এই পারুল! গেট খোল।

    পারুল গেট খুলল। তাহের বিব্রত গলায় বলল, দেরি করে ফেললাম।

    না, দেরি কোথায়! এসো। আমার বই এনেই?

    হুঁ।

    চা আর চিনি?

    ভুলে গেছি।

    থাক। ভুলে গেলে কি আর করা–এসো, ঘরে চল। দাঁড়িয়ে আছ কেন?

    তাহের হাত তুলে দেখাল। নিকি, ফিবো আর মাইক–এক লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। অন্ধকারে তাদের চোখ জ্বল জ্বল করছে। পরুল বলল–ওরা তাকিয়ে আছে তো কি হয়েছে? এসো। পারুল তাহেরের হাত ধরল।

    তোমার গা গরম। জ্বর এসেছে?

    বোধ হয়।

    পারুল বলল, জ্বরের আমি একটা খুব ভাল চিকিৎসা জানি। এক্ষুণি সেই চিকিৎসা করা হবে– দেখলে কোথায় পালিয়েছে জ্বর।

    পারুল সহজ স্বাভাবিক গলায় কথা বলছে। যেন কিছুই হয়নি, সব আগের মত আছে। তাহের পারুলের পেছনে পেছনে ঘরে ঢুকল। কুকুর তিনটা এখনো তাকিয়ে আছে।

    বাথরুমে তোমার জন্যে গরম পানি দিচ্ছি। আরাম করে গা ডলে গোসল কর।

    জ্বর-গায়ে গোসল করব?

    জ্বর-গায়ে গোসলই হচ্ছে জ্বরের অষুধ। একে বলে জল-চিকিত্সা। তুমি কি তোমাদের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলেছ?

    হুঁ।

    উনি কিছু বলেছেন

    না।

    কিছুই বলেননি?

    কি কি যেন বলেছেন–ভুলে গেছি।

    ভুলে যাওয়াই ভাল। পৃথিবীতে সবচে সুখী মানুষ কারা জান? যারা দ্রুত সব ভুলে যেতে পারে তারা। যারা কিছুই ভুলতে পারে না তারা দারুণ অসুখী। আজ রাতের খাওয়া কিন্তু খুব সাধারণ–শুধু ডাল আর ভাত। ঘরে যে কোন বাজার নেই তোমাকে বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। কাল বাজার করে দেবে।

    আচ্ছা।

    নিকি, ফিরো, মাইক এদের মাংস আনতে হবে।

    আচ্ছা।

    আজ সারাদিন কি করলে? মনে আছে না ভুলে গেছ?

    পার্কের বেঞ্চিতে ঘুমিয়েছি।

    এই তো একটা কাজের কাজ করছে। বেঞ্চিতে না ঘুমিয়ে গাছের নিচে ঘুমালে আরো মজা হত। ছেলে হয়ে জন্মানোর অনেক সুবিধা। যেখানে-সেখানে ঘুমিয়ে পড়তে পার। তুমি কি গোসলের পর এক কাপ চা খাবে? ঘরে সামান্য চা-চিনি আছে।

    গোসল করব না।

    অবশ্যই করবে। গোসলের পর পর দেখবে শরীরের জং পরা ভাব সেরে যাবে।

     

    পারুলের কথাই ঠিক। গোসলের পর তাহেরের শরীর ঝরঝরে হয়ে গেল। মাথায় চাপা যন্ত্রণা ছিল, সেটিও সেরে গেল। আরাম করে ভাত খেল। ডালভাতি তবে তার সদে শুকনো মরিচ পড়িয়ে পেয়াজ মেখে একটা ভতার মত বানিয়েছে। আগুনের মত ঝাল–কিন্তু খেতে অসাধারণ। পারুল খাওয়ার মাঝখানে হঠাৎ বলল, তুমি কি কাল আমাকে একটা কাজ করে দেবে?

    -কি কাজ?

    আমি একটা চিঠি লিখে রেখেছি–একজনকে পৌঁছে দিতে হবে। পারবে না?

    হুঁ, পারব।

    কি লিখেছি সেই চিঠিতে জানতে চাও না?

    তাহের কিছু বলল না। পারুল চোখ বড় বড় করে বলল, কার কাছে চিঠি লিখলাম, কি ব্যাপার কিছুই জানতে চাও না?

    তুমি বললেই জানব। না বললে জানব কিভাবে?।

    পল্টু ভাইকে একটা চিঠি লিখেছি। ভাল নাম মনে নেই। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি এই সব নিয়ে তিনি সব সময় খুব ব্যস্ত থাকেন। বাচ্চাদের নিয়ে তার একটা সংগঠন আছে–কিশোর মেলা।

    ও অচ্ছি।

    বিরাট একটা ফার্মেসী আছে। টুকটাক ব্যবসা আছে। ফার্মেসীটা কোথায় আমি জানি–তোমাকে বলে দেব–খুঁজে বের করে তাকে চিঠিটা দেবে।

    আচ্ছা।

    তোমার মাথা ধরা কমেছে, না?

    হুঁ।

    চল, খাওয়া-দাওয়ার পর আমরা এই বাড়ির ছাদে ঘুরে বেড়াব।

    কেন?

    কেন আবার কি? মানুষ বেড়ায় কেন? আজ জোছনা আছে–ছাদ থেকে জোছনা দেখতে খুব ভাল লাগবে।

    ঘুম পাচ্ছে তো।

    ঘুম পেলে স্থানে ঘুমিয়ে পড়বে। সঙ্গে করে চাদর নিয়ে যাব, বালিশ নিয়ে যাব। চল এক কাজ করি–দুজনেই ছাদে ঘুমুব।

     

    তাহের ছাদের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখ পড়ল বাড়ির পেছনের বাগানে–বেশ বড়সড় একটা গর্ত। গর্ত নতুন করা হয়েছে। মাড়ি স্তূপ হয়ে আছে। মাটির পাশে কোদাল পড়ে আছে।

    পারুল বলল, এত মন দিয়ে কি দেখছ?

    তাহেরের বুক ধ্বক ধ্বক করছিল। সে আতংকিত গলায় বলল, ঐ খানে গর্ত কে করল?

    আমি করেছি।

    আমি করেছি মানে কি?

    সারাদিন কিছু করার ছিল না–ভাবলাম, দেখি তো আমি গর্ত করতে পারি কি না। কোদাল দিয়ে কোপ দিয়ে দেখি মাটি মাখনের মতো নরম।

    এই গর্ত তুমি করেছ?

    এম্নি করেছি। গর্ত খোঁড়া তো অপরাধ না। বাংলাদেশের সংবিধানে কি কোথাও লেখা আছে গর্ত খোঁড়া যাবে না?

    অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে তাহের প্রায় কাদো কাঁদো গলায় বলল, পারুল, তোমার কিছু একটা হয়েছে। আমি তোমার পায়ে ধরছি–চল আমরা এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাই।

    পারুল হালকা গলায় বলল, চলে তো যাবই। চির জীবনের জন্যে তো এখানে থাকতে আসিনি। যে অল্প কদিন আছি–ভালমত থাকি। দেখ কি সুন্দর চাঁদ।

    তাহের চাঁদ দেখছে না, সদ্য খোঁড়া গর্তের দিকে ভয় ও বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে আছে।

    তুমি একা একা এত বড় গর্ত খুঁড়েছ?

    বললাম না মাটি খুব নরম। ফ্লাওয়ার বেড় করার জন্যে আগেই বোধহয় কেউ মাটি খুঁড়ে রেখেছিল।

    তাহের মন্ত্রমুগ্ধের মত তাকিয়ে আছে। কুকুর তিনটাকে আসতে দেখা যাচ্ছে। এর গর্তের চারপাশে একটা চক্কর দিল। থমকে দাঁড়িয়ে গর্তের দিকে তাকালো। তিনজন এক সঙ্গে উপরের দিকে তাকালো–কিছু খুঁজল, আবার হাঁটতে শুরু করল। পারুল বলল, কুকুর যে জোছনা পছন্দ করে না সেটা কি তুমি জান?

    তাহের বলল, না।

    ওরা জোছনা একেবারেই পছন্দ করে না। আজ পূর্ণিমা তো, দেখবে ওরা কি রকম ছটফট করবে। মাঝরাতে কি করবে জান?

    না।

    মাঝরাতে তিনজনই চাঁদের দিকে তাকিয়ে কাঁদতে শুরু করবে। কুকুরের কান্না তুমি কখনো মন দিয়ে শুনেছ?

    না।

    ভয়ংকর। না শোনাই ভাল। হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে আসে।

    তাহের পকেটে হাত দিল। তার গা ঝিমঝিম করছে। একটা সিগারেট ধরাতে পারলে ঝিমঝিমানি হয়ত দূর হবে। পকেটে সিগারেট নেই। নিচে ফেলে এসেছে। পারুল বলল, আমি ঠিক করেছিলাম কুকুর তিনটার নাম বদলে বাঙালী ধরনের নাম রাখব। এখন ভাবছি সেটা ঠিক হবে না। ওরা তো আর দিশি কুকুর না। দিশি নাম ওদের পছন্দ হবে না। ঠিক না?

    হুঁ।

    ওদের বিদিশী নামই ভাল–নিকি, মাইক, ফিবো…।

    তাহের এখনো নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। কুকুর তিনটি গর্তের চারপাশে আবার ঘুরছে! ওরা কি কিছু আঁচ করতে পারছে?।

    পারুল বলল, তোমার কি ঘুম পাচ্ছে নাকি?

    হুঁ।

    তাহলে চল শুয়ে পড়ি। বিছানায় শুয়ে শুয়ে আনিকক্ষণ গল্প করি। তোমার তো আবার বিশ্রী অভ্যাস–বিছানায় শোয়ামাত্র ঘুম। আজ কিন্তু অনেক রাত পর্যন্ত আমরা গল্প করব। দুজনে মিলে আমাদের বাবুর নাম ঠিক করব।

    কুকুর তিনটা গর্তের চারপাশে ঘুরছে কেন?

    কে জানে কেন? নতুন কিছু দেখেছে–কাজেই ঘুরে ঘুরে দেখছে। কুকুরের মনের কথা তো জানার উপায় নেই। চল ঘুমুতে যাই।

    তাহের নিঃশব্দে নেমে এল।

    বিছানায় শোয়ামাত্র ঘুমে তাহেরের চোখ জড়িয়ে আসে–আজ আসছে না। খাটের পাশে সাইড টেবিলে পারুল টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়েছে। ল্যাম্পের আলো চোখে লাগছে। পারুলের হাতে নাম-এর বই। পারুল শান্ত গলায় বলল, আমি নামগুলি পড়ে যাব–প্রথম পড়ব মেয়েদের নাম, কারণ আমার ধারণা আমাদের প্রথম বাচ্চাটি হবে মেয়ে। তুমি চুপচাপ শুনে যাবে। যখনই কোন নাম পছন্দ হবে তখনি বলবে, স্টপ। নামের সঙ্গে সঙ্গে আমি অর্থও বলব। ঠিক আছে?

    তাহের কোন উত্তর দিল না। তারা আজ আবার মেসবাউল করিম সাহেবের মূল শোবার ঘরে শুয়েছে। এই ঘরটার ভেতর দম বন্ধ করা কিছু আছে। তাহেরের দম বন্ধ হয়ে আসছে। শ্বাসকষ্টের মত হচ্ছে।

    পারুল বলল, প্রথম শুরু করছি আ দিয়ে–

    আজরা–কুমারী
    আতিয়া—দানশীল
    আসিয়া—স্তম্ভ
    আদিবা—শিষ্টাচারী
    আতিকা–সুন্দরী
    আরজু–ইচ্ছা
    আনান—মেঘ
    আনিকা–রূপসী
    আসমা–অতুলনীয়।

    কি ব্যাপার, এর মধ্যে একটাও তোমার পছন্দ হল না? আমার তো এর মধ্যে একটা পছন্দ হয়ে গেছে–আনান। আনান মানে কি বল তো? একটু আগে বলেছিলাম। কি, বলতে পারছ না?

    না।

    আনান মানে হচ্ছে–মেঘ। সুন্দর না নামটা?

    তাহের বলল, আমার কেন জানি দম বন্ধ লাগছে। মনে হচ্ছে নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।

    নিঃশ্বাস নিতে পারবে না কেন? নিঃশ্বাস নিতে পারছ। জব ভালভাবেই পালছ। তুমি নানা কিছু ভেবে অস্থির হয়ে পড়ে। অস্থির হবার কিছু নেই। মানুষ বর্তমানে বাস করে–অতীতেও না, ভবিষ্যতেও না। এই কথাটা তো তোমাকে আগেও বলেছি। বলিনি? আমাদের বর্তমানটা কি খারাপ যাচ্ছে? না, খারাপ যাচ্ছে না, ভালই যাচ্ছে। আরাম করে কত বড় একটা বিছানায় শুয়ে আছি। আমাদের পাহারা দিচ্ছে তিনটি ককল। এরা কাউকে আমাদের কাছে আসতে দেবে না। এরচে ভাল আর কি হতে পারে বল?

    আমার সত্যি সত্যি দম বন্ধ হয়ে আসছে।

    কি কালে তোমার বন্ধ দম খুলবে?

    জানি না।

    যখন জান না তখন চুপ করে শুয়ে থাক–আমি নাম পড়ে যাচ্ছি–তুমি নাম সিলেক্ট কর। প্রাথমিকভাবে আমরা কিন্তু একটা নাম সিলেক্ট করে ফেলেছি–আনান। আনান মানে কি বল তো?

    জানি না।

    ওমা–একটু আগে না কললাম–মেঘ।

    তাহের হঠাৎ ভয়ংকর রকম চমকে উঠল। বাইরে থেকে বিশ্রী বিকট রক্ত জমাট করা শব্দ আসছে। তাহের বিছানায় উঠে বসল। সে থর থর করে কাঁপছে। তার কপালে ঘাম জমেছে। সে আতংকিত গলায় বলল, কি হচ্ছে পারুল?

    কুকুর কাঁদছে। জোছনা দেখে কাঁদছে।

    আলো তে কখনো কাঁদত না।

    এরকম জোছনা আগে তো কখনো হয়নি–এ জন্যে কাঁদেনি। কিংবা হয়ত কেঁদেছে, তুমি ঘুমুচ্ছিলে বলে শুনতে পাওনি।

    কামরুলের জন্যে কাঁদছে না?

    তার জন্যেও কাঁদতে পারে। এতদিন একটা মানুষ তাদের সঙ্গে ছিল, এখন নেই।

    আমার প্রচণ্ড ভয় লাগছে।

    ভয়ের কিছু নেই। এক কাজ কর–আমাকে জড়িয়ে ধরে থাক। আমি তোমার পিঠে হাত বুলিয়ে দেব।

    তাহের লরা গলায় বলল, পানি খাব।

    সাইড টেবিলে পানির গ্লাস, ছগ ছিল। পারুল পানির গ্লাস এগিয়ে দিল। কুকুর রক্ত হিম করা শব্দে ডেকেই যাচ্ছে। এখন তাদের কান্না–মানুষের কান্নার মত শুনাচ্ছে। যেন শত বছর বয়েসী তিন খুনখুনে বুড়ো হাপড়ের মত শ্বাস টানতে টানতে কেঁদে যাচ্ছে। তাহের বলল, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আমি মরে যাচ্ছি। জানালা খুলে দাও।

    জানালা খোলাই আছে।

    খুব খারাপ লাগছে।

    পারুল বলল, তুমি চুপচাপ শুয়ে থাক। ফ্যান ছেড়ে দিচ্ছি। গায়ের উপর চাদর টেনে শুয়ে থাক। শীত শীত ভাব থাকলে ভাল ঘুম হয়। আজ হঠাৎ করে একটু ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা লাগছে না?

    হুঁ।

    দূরে কোথাও বৃষ্টি হচ্ছে। দূরে বৃষ্টি হলে–যেখানে বৃষ্টি হয় সেখানটা ঠাণ্ডা হয় না, কিন্তু আশেপাশের জায়গাগুলি ঠাণ্ডা হয়ে যায়।

    আনান নামটা কি পছন্দ হয়েছে?

    তাহের তার জবাব না দিয়ে বলল, কুকুরগুলি কতক্ষণ কাঁদবে?

    যতক্ষণ চাঁদ দেখা যায় ততক্ষণই কাঁদবে।

    তাহের শুয়েছে। পারুল বলল, মাথায় হাত বুলিয়ে দেব?

    হুঁ।

    হুঁ আবার কি? দেব কি দেব না সেটা বল।

    তাহের পাশ ফিরল। কুকুর তিনটা এখনো ডাকছে। কুকুরের ডাক শুনতে শুনতেই তাহের ঘুমিয়ে পড়ল। গাঢ় ঘুম। প্রচণ্ড দুঃশ্চিন্তায় কিছু কিছু মানুষের গাঢ় নিদ্রা হয়।

    পারুল উঠে দাঁড়াল। চিঠিটা লিখে ফেলা দরকার। কাগজ এবং কলম খুঁজে বের করতে হবে। এ বাড়িতে কোথাও না কোথাও কাগজ-কলম নিশ্চয়ই আছে। সবগুলি ঘর পারুল খুলে দেখতে পারেনি। তার কাছে চাবির গোছ আছে। চাবিগুলির নম্বর—টম্বর কিছু দেয়া নেই। ট্রায়াল ও এরার মেথডে ঘর খুলতে হয়। প্রতিবারই অনেক সময় লাগে। এখন থেকে সে একটা কাজ করবে–যে ঘর খুলবে, সে ঘর আর বন্ধ করবে না। ঘর খোলাই থাকবে।

    কাগজ-কলম পাওয়া গেছে। শুধু কাগজ-কলম না, থাম, পোস্টাল ট্রাম্প, গাম, কাঁচি! বড়লোকের সবকিছু খুব গোছানো থাকে। আর গরীবদের থাকে সব এলোমেলো। খাম পাওয়া গেলে কাগজ পাওয়া যায় না। কাগজ পাওয়া গেলে কলম পাওয়া যায় না।

    চিঠি কোথায় বসে লিখবে পারুল বুঝতে পারছে না। তাহেরের কাছে বসেই লেখা উচিত। হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে তাকে না দেখে চমকে উঠতে পারে। চিঠি লিখতে হবে গুছিয়ে খুব সুন্দর করে, যেন পল্টু ভাই চিঠি পড়ে বিভ্রান্ত হয়ে যান। এত গুছিয়ে সে কি লিখতে পারবে? তারাই গুছিয়ে চিঠি লিখে যাদের চিঠি লিখে অভ্যাস আছে। তার অভ্যাস নেই। চিঠি লেখার মত মানুষ তার কখনো ছিল না। একজন ছিল, সব সময় ছিল। এখনো আছে। সে এত কাছে যে তাকে চিঠি লেখা হয়নি। আজ তাকেও একটা চিঠি লিখবে। পারুল তাহেরের মাথার কাছে বসল। হাঁটুর উপর কাগজ রেখে সে লিখছে। কাগজের নিচে শক্ত মলাটের একটা বই। বই ভর্তি মেয়েদের ছবি। চিঠি লেখা শেষ। সে ছবিগুলি দেখবে। ফ্যাশানের বই। মেসবাউল করিম সাহেবের ঘরে ফ্যাশানের বই কেন কে জানে!

    পারুল লিখতে শুরু করেছে। তার হাতের লেখা সুন্দর, আজ তত সুন্দর হচ্ছে না।

     

    শ্রদ্ধেয় পল্টু ভাই,

    আপনি কি আমাকে চিনতে পারছো? আমার নাম পারুল। এক সময় আপনি আমাকে খুব স্নেহ করতেন। দুই বিঘে জমি কবিতাটি আপনি আমাকে খুব সুন্দর করে শিখিয়ে দিয়েছিলেন। এখন কি মনে পড়ছে?

    কতজনের সঙ্গে আপনার পরিচয়! হয়ত মনে করতে পারছেন না। মনে করিয়ে দেবার জন্যে অনেকটা ঘটনা বলি। কবিতাটি শেষ পর্যন্তু আমি আবৃত্তি করতে পারিনি। যেদিন অনুষ্ঠান হবার কথা তার আগের রাতে আপনার বাসায় একটা ঘটনা ঘটে গেল। এখন কি মনে পড়েছে?

    সে রাতে আপনার উপর আমি খুব রাগ করেছিলাম। কিন্তু মনে মনে আপনাকে আমি এত শ্রদ্ধা করতাম, এত ভালবাসতাম যে পুরোপুরি রাগ করতে পারিনি। এক সময় মনে হল, যা হবার হয়েছে। ভালই হয়েছে। দু একটা ইন্টারেস্টিং ঘটনা সব মেয়ের জীবনেই থাকা উচিত। এখন আমার খবর বলি। আমার বিয়ে হয়েছে। আমি স্বামীর সঙ্গে বিরাট এক বড়লোকের বাগানবাড়িতে একা থাকি। একা, কারণ আমার স্বামী বেচারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাইয়ে চাকরির সন্ধানে ঘুর ঘুর করে। আমি থাকি একা। আমার সময় আর কাটে না। পুরোনো দিনের কথা ভাবি। তখন আপনার কথাও মনে। হয়। আপনি কি একদিন এসে আমাকে দেখে যাবেন? আমার বানানো এক কাপ চা খেয়ে যাবেন? আমাদের বাড়িটা শহর থেকে দুরে। বাড়ির নাম নীলা হাউস। আপনার একটু কষ্ট হবে। দোহাই আপনার। যদি আসেন, গাড়ি নিয়ে আসবেন না। আমি চাই না লোকজন জানুক। বিশেষ করে আমার স্বামী জানুক। সব কিছু সবার জানতে নেই। চিঠির উল্টো পিঠে বাড়ির ঠিকানা দিয়ে দিলাম।

    বিনীতা–
    পারুল

    চিঠি শেষ করে করে পারুলের মনে হল–চিঠি পড়ে পল্টু ভাই নাও আসতে পাবেন। একবার যদি সামান্যতম সন্দেহ জাগে তাহলে তিনি আসবেন না। বুদ্ধিমান মানুষেরা কখনো চান্স নেয় না। পল্টু ভাইকে পুরোপুরি সন্দেহমুক্ত করতে হবে। কাজেই পাল পুনশ্চ দিয়ে আবার লিখল—

    পল্টু ভাই, আপনার কাছে আমার সামান্য আবদার আছে। আমার স্বামীর জন্যে একটা চাকরি জোগাড় করে দিন। আমরা খুব কষ্টে আছি।

    এবারে পারুল নিশ্চিত হল। এখন আর সমস্যা হবে না। পল্টু ভাই ধরে নেবেন পারুল তাকে ডাকছে। ভালবাসায় অভিভূত হয়ে না, ডাকছে বিপদে পড়ে। এই সুযোগ তিনি নষ্ট করবেন না।

    পারুল দ্বিতীয় চিঠি লিখতে বসল। ভেবেছিল দ্বিতীয় চিঠিটা তাহেরকে লিখবে। লিখতে গিয়েও লিখল না। দ্বিতীয় চিঠিটা তাহেরের অফিসের ম্যানেজার সাহেবকে লেখা যাক। শেষ চিঠিটা লিখবে তাহেরকে। সেই চিঠি তাহেরের মাথার কাছে বসে লিখবে না। অন্য ঘরে লিখবে। পারুল লিখছে–

    ম্যানেজার সাহেব,
    শ্রদ্ধাস্পদেষু।

    আপনি আমাকে চিনবেন না। আমি আপনাদের নীলা হাউসের সাময়িক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব যার হাতে–তাহের, তার স্ত্রী। আপনাকে আমার কিছু কথা বলা দরকার। আমার সেই সুযোগ নেই বলে চিঠির আশ্রয় নিচ্ছি। এতে কোন বেয়াদবি হলে ক্ষমা করবেন।

    আমার স্বামী ভীতু প্রকৃতির মানুষ। এত বড় একটা বাড়িতে ভয়ে অস্থির হয়ে সে বাস করে। তিনটি কুকুর এবং দারোয়ান কামরুল অবশ্যি আচ্ছে। সমস্যা হচ্ছে সে এদেরও ভয় পায়। প্রায় সারারাত সে জেগে বলে থাকে। ভয়ে অস্থির হয়ে সে আমাকে নিয়ে এসেছিল। আমি আপনাদের বিনা অনুমতিতে কয়েকদিন থাকলাম। তারপর যখন শুনলাম আপনি খুব রাগ করেছেন, তখন সে আবার আমাকে আমার বড় চাচার বাড়িতে রেখে এল। কারণ সে আপনাকে ভয় পায়।

    আমি তো আপনাদের কোন সমস্যা করছিলাম না। ভীতু স্বামীকে সঙ্গ দেবার জন্যে তার পাশে ছিলাম। আমাদের যে ছোট্ট ঘর দেয়া হয়েছিল আমি সেখানেই থাকতাম। আপনাদের ইন্দ্রপুরী আমি নোংরা করিনি বরং সাধ্যমত তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করেছি। আমাদের দুজনকে আলাদা করে দিয়ে আপনার কি কোন লাভ হয়েছে? কোন লাভ হয়নি। মাঝখান থেকে আমরা দুজন কষ্ট পাচ্ছি।

    ও আপনার খুব প্রশংসা করে। এর ধারণা আপনি একজন সৎ, নিষ্ঠাবান কর্মযোগী পুরুষ। এমন একজন মানুষ অনেক কষ্ট বুঝবেন না তা তো হয় না। আপনি কি আপনার সিদ্ধান্ত নিয়ে আরেকটু ভাববেন? আমাদের দুজনকে কিছুদিনের জন্যে একসঙ্গে থাকতে দেবেন?

    বিনীতা–
    পারুল

    চিঠি দুটি সে আমে বন্ধ করল। তারপর সাবধানে খাট থেকে নামল। শেষ চিঠিটা সে এখন লিখবে। তাহেরের কাছে চিঠি। স্বামীর কাছে লেখা স্ত্রীর প্রথম পত্র। কি লিখবে সে এখনো জানে না। যা মনে আসে তাই লিখবে। শুরুটা কি করে করবে? প্রিয়তমেষু দিয়ে। না, তা ঠিক হবে না। যার অনেক প্রিয়জন থাকে, তারই থাকতে পারে একজন–প্রিয়তম। পারুলের একজনই প্রিয় মানুষ। এটা কি খুবই আশ্চর্যজনক ব্যাপার না সে পুরো পৃথিবীতে একজন তার প্রিয় মানুষ?

    না না–আরেকজন প্রিয় মানুষ আছে। সে বড় হচ্ছে। এদিন সে মায়ের পেটে কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘুমুছে। বাইরের ভয়াবহ ভয়ংকর পৃথিবী সম্পর্কে সে কিছুই জানে না।

    পৃথিবীর সমস্ত বাবা-মা চায় তাদের সন্তানের ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে। তারা তা পারছে না। শিশুর জন্মের আগে বাবা-মারা তাদের জন্যে কত কি জোগার করে রাখেন। ছোট্ট বিছানা, ছোট্ট বালিশ, একটা ছোট্ট সার্টিনের লেপ। তুলতুলে মাখনের মত জুতা। তারা কোন কিছুই জোগার করতে পারেনি। মনে হয় পারবে না। তারা শুধু সুন্দর একটা নাম জোগার করে অপেক্ষা করবে। আনান–মেঘ।

    জল ভরা দিন কালো মেঘ।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপাখি আমার একলা পাখি – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article প্রথম প্রহর – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }